খুলনা
সুন্দরবনে অপহৃত ৪ জেলে উদ্ধার, অস্ত্র-গুলিসহ ২ দস্যু গ্রেপ্তার
সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে দস্যুদের হাতে অপহৃত চার জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ ‘ডাকাত’ করিম-শরীফ বাহিনীর দুইজন সদস্যকে আটক করা হয়।
রবিবার (১৭ মে) ভোরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলাধীন ঢাংমারী খাল এলাকায় ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালে তারা ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করেন এবং অস্ত্র ও গুলিসহ ডাকাত দলের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার মো. রবিউল শেখ (৩০) এবং জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার রাজন শরীফ (২০)। এদের মধ্যে রাজন ‘করিম-শরীফ বাহিনীর’ সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বলে জানায় কোস্ট গার্ড।
জব্দ করা অস্ত্র ও গুলির মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুইটি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবনের ‘কুখ্যাত ডাকাত’ করিম-শরীফ বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছেন—গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে আজ (রবিবার) ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড সদস্যরা সেখানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় কোস্ট গার্ড সদস্যরা ধাওয়া করে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ডাকাত দলের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেন। পরে ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আরও জানান, আটক রাজন-করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে।
জব্দ করা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও গ্রেপ্তার ডাকাতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উদ্ধার করা জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
১৮ দিন আগে
সাতক্ষীরায় গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরায় তাছলিমা খাতুন (৩৫) নামে এক গৃহবধুকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তারই স্বামীর বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীদাড়ি গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকে স্বামী সাদ্দাম হোসেন নিখোঁজ রয়েছেন।
নিহতের বড় মেয়ে সাদিয়া সুলতানা (১২) বলেন, আমার বাবা নেশা করে প্রায়ই মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করতেন। ঘটনার দিন আমার দাদি, আমি ও আমার ছোট ভাই নুর হোসেন (৯) পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। এর মধ্যে মায়ের গোঙ্গানির শব্দ শুনে আমার দাদি আমাদের ডেকে দ্রুত মায়ের ঘরে যান। সেখানে গিয়ে দেখি মায়ের গলা কাটা মরদেহ। ঘরের ভেতর তখন রক্ত আর রক্ত। আমাদের প্রতিবেশীরা দ্রুত এসে আমার মাকে নিয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক বলেন, আমার মা মারা গেছেন।
নিহত গৃহবধূর বাবা নুরুজ্জামান জানান, বিয়ের পর থেকে আমার মেয়ের ওপর শারিরীক নির্যাতন করত আমার জামাই। নেশার টাকা জোগাড় করতে না পারলে আমার মেয়ের ওপর বেশি নির্যাতন চলত। তবে এভাবে আমার মেয়েকে হত্যা করবে, আমি ভাবতে পারিনি। আমি এই পাষণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। সেটি ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ঘাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১৮ দিন আগে
ভবদহের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান রাজনৈতিক অঙ্গীকার: প্রতিমন্ত্রী অমিত
যশোরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু ভবদহ অঞ্চলের স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, ভবদহ অঞ্চলের মানুষকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
শনিবার (১৬ মে) সকালে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালার বিষয়বস্তু ছিল, যশোর জেলার ভবদহ এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিবসা ও পশুর নদীর অববাহিকায় পলি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন।
প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভবদহ সমস্যা সমাধানে অর্থ বরাদ্দ হলেও তা লুটপাটের শিকার হয়েছে। সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি, যার ফলে জনগণের মধ্যে গভীর আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থার সংকট দূর করতে চাই।
প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি নিজে ভবদহের সমস্যা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেছেন এবং সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন।
ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর জোয়ারাধীন নদী ব্যবস্থাপনা (টিআরএম) প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবদহপাড়ের মানুষকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছিল এবং ভুক্তভোগীরা ২০১৩ সাল পর্যন্ত তার সুফল ভোগ করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী নির্মোহভাবে ভবদহের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ প্রদান করেন, যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যথাযথ ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে নদীতে অতিরিক্ত পলি জমা, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অতীতে টিআরএম কার্যক্রম ইতিবাচক ফল দিলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ২০২১ সালে ভবদহ রেগুলেটরে ২০টি পাম্প স্থাপন করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়।
বর্তমান সমীক্ষার আওতায় যশোর জেলার মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও সদর উপজেলা এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর এলাকায় নদী, খাল ও বিলের জরিপ, গাণিতিক মডেলিং, কৃষি, সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা হয়েছে।
সমীক্ষায় ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া এলাকার জন্য স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নদী খনন, অতিরিক্ত পাম্প স্থাপন, পাইলট চ্যানেল খনন, টিআরএম কার্যক্রম পুনরায় চালু, নদীর প্লাবনভূমি দখলমুক্ত করা এবং ভবদহ রেগুলেটরকে সেতু দ্বারা প্রতিস্থাপন করে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ নিশ্চিত করা।
এ ছাড়াও বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের জন্য নতুন সংযোগ খাল নির্মাণ, রেগুলেটর মেরামত ও নতুন অবকাঠামো স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, পানি ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সমীক্ষার সুপারিশসমূহ আরও পরিমার্জন করা হবে বলে জানানো হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রছুল, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোক্তার আলী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার আজিম আহমেদ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রুহুল আমিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাছরিন আক্তার খান।
১৯ দিন আগে
মাগুরায় নকল শিশুখাদ্য বিক্রি করায় দোকানিকে লাখ টাকা জরিমানা
মাগুরা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক অভিযানে অননুমোদিত শিশুখাদ্য বিক্রির অভিযোগে শহরের এক প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ মে) বিকেলে অভিযান চালিয়ে শহরের জামরুলতলা এলাকার সুভাষ স্টোরকে এই অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এ অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সজল আহমেদ এবং অভিযানে সহায়তা করে মাগুরা জেলা পুলিশ।
সজল আহম্মদ জানান, অভিযানকালে ওই দোকানে বিপুল পরিমাণ নকল নমুনা টাকা, ভেজাল শিশুখাদ্য, মূল্য তালিকার অনুপস্থিতি, শিশুদের আচার, চকলেটসহ বিভিন্ন নিম্নমানের ও নকল ব্র্যান্ডের পণ্য পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের কারণে সুভাষ স্টোরের বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
১৯ দিন আগে
ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরল ২০ শিশু
ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছে ২০ বাংলাদেশি শিশু।
বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করে। এদের মধ্যে ১৩ জন মেয়ে শিশু ও ৭ জন ছেলে শিশু রয়েছে।
ফেরত আসা শিশুরা যশোর,নড়াইল, খুলনা ও বাগেরহাট জেলার বাসিন্দা।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন জানান, ২০২৪ সালের প্রথম দিকে তারা অবৈধপথে দালালের মাধ্যমে তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতের পশ্চিবঙ্গে গিয়েছিল। সেখানে তাদের বাবা-মা বাসা বাড়িতে ও মাঠে কাজ করতেন। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে পুলিশের হাতে আটক হয় তারা। এরপর অনুপ্রবেশের দায়ে দেশটির আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়।
তিনি আরও বলেন, কারাভোগ শেষে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থার আবেদনে পশ্চিমবঙ্গের কিশোলয়-সুরকন্যাসহ ৭টি শেল্টারহোমে তাদের রাখা হয়। পরে উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় তারা দেশে ফিরে।
ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে তিনটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের গ্রহণ করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে বলে জানান ওসি শাখাওয়াত হোসেন।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, মহিলা আইনজীবী সমিতি ও রাইটস যশোর নামে তিনটি মানবাধিকার সংস্থার কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে। ভারত ফেরত শিশুদের আজ (বৃহস্পতিবার) নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর।
২১ দিন আগে
বেনাপোলে যৌথ অভিযানে ২১৭ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ আটক ২
যশোরের বেনাপোলে র্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে ২১৭ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানাধীন ধান্যাখোলা এলাকায় এ অভিযান চালায় র্যাব-৬ (সিপিসি-৩, যশোর) ও ৪৯ বিজিবির সদস্যরা ।
আটকরা হলেন— বেনাপোল পোর্ট থানার পোড়াবাড়ি গ্রামের মিনহাজুল (৪৮) এবং একই এলাকার ইমরান হোসেন (৩৪)।
র্যাব সূত্র জানায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন অপরাধ দমনে র্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল (বুধবার) রাত সাড়ে ৩টার দিকে র্যাব-৬ ও ৪৯ বিজিবির একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল পোর্ট থানাধীন ধান্যাখোলা এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ২১৭ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স জানান, উদ্ধারকৃত ফেনসিডিল উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরপূর্বক তাদের জব্দকৃত আলামত বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদক নির্মূলে র্যাবের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
২১ দিন আগে
প্রেমের টানে বগুড়া থেকে কুষ্টিয়ায়, এরপর বিষ খেয়ে হাসপাতালে যুবক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণীর সঙ্গে পরিচয়। পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে প্রেম। প্রেমের পরিণতি দিতে বিয়ে করতে বগুড়া থেকে কুষ্টিয়ায় ছুটে এসে মেয়ের বাড়িতে অনশনে বসেন যুবক। মেয়ে এবং মেয়ের পরিবার একপর্যায়ে বিয়েতে রাজি হলেও ছেলের পরিবার রাজি না হওয়ায় অভিমানে বিষপান করে এখন হাসাপাতালে ভর্তি ওই যুবক।
চিকিৎসকরা তার শরীর থেকে বিষ উত্তোলন করেছেন। বর্তমানে ওই যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে এখন দুই পরিবারের কেউই ওই যুবকের আর কোনো খোঁজ খবর নিচ্ছে না। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের চৌদুয়ার এলাকায়।
যুবকের নাম ইলিয়াস সরদার। বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের নিচ্চুনপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর ধরে টিকটক এবং ফেসবুকের মাধ্যমে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ইলিয়াসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের চৌদুয়ার এলাকায় এক তরুণীর। দুজনের বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ইলিয়াস চলে আসেন মেয়ের বাড়িতে। এসে বিয়ের দাবি জানালে একপর্যায়ে মেয়ের পরিবার বিয়ে দিতে রাজি হলেও ছেলের পরিবার মানতে নারাজ। উল্টো তার বাবা-মা তাকে বকাবকি করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভিমানে ওই যুবক বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ইলিয়াস সরদার বলেন, মেয়ে রাজি, আমিও রাজি, মেয়ের পরিবারও রাজি, কিন্তু আমার পরিবার থেকে কেউ আসছে না, তাই বিয়েও হচ্ছে না। আমার বাবা-মা না আসায় আমাদের বিয়ে হচ্ছে না। এখন আমি এখানেই থেকে যাব।
বাবা-মা বকাবকি করার কারণেই যে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, সেকথাও অকপটে স্বীকার করেন তিনি।
মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পিযূষ কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত ১১ মে রাতে ইলিয়াস নামের এক যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকরা তার শরীর থেকে বিষ বের করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত, তবে পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
আজ (বুধবার) সকাল পর্যন্ত ওই যুবকের পরিবার থেকে কেউ হাসপাতালে আসেনি বলেও জানান এই চিকিৎসা কর্মকর্তা।
২২ দিন আগে
ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে ফিরলেন ২ নারী
ভারতে দুই বছর কারাভোগ শেষে বাংলাদেশি দুই নারীকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ৯টার দিকে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা নারীরা হলেন— হ্যাপি খান (৪৩) ও মারিয়া হাওলাদর (২৬)। তারা বাগেরহাট জেলার খেজুর বাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী জানান, জীবিকার সন্ধানে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তারা দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতের নয়া দিল্লিতে গিয়েছিলেন। সেখানে বাসা বাড়িতে কাজ করার সময় পুলিশের হাতে আটক হন তারা। এরপর অনুপ্রবেশের দায়ে সে দেশের আদালত তাদের দুই বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়।
তিনি আরও জানান, কারাভোগ শেষে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের দায়িত্ব নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখে। পরে উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে তারা দেশে ফেরেন।
ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা থানা থেকে তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার যশোরের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর শফিকুল ইসলাম জানান, ফেরত আসাদের বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে গ্রহণ করে আজ (বুধবার) নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
২২ দিন আগে
সুন্দরবনে দস্যুদের সঙ্গে বনকর্মীদের গোলাগুলি, অপহৃত ৪ জেলে উদ্ধার
সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনকর্মীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গোলাগুলির পরে ওই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অপহরণের শিকার হওয়া ৪ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কোকিলমনি এলাকার সিঙারটেকে এই ঘটনা ঘটে।
গোলাগুলির পরে ওই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অপহৃত ৪ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় বনদস্যুদের ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, একটি বন্ধুক ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছেন বনরক্ষীরা।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন— শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের আবদুল বারেক খান ও মো. হাসান এবং খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার নাছিম ও দাকোপ উপজেলার ইরাক শেখ।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সিঙারটেক এলাকায় শেলারচর টহল ফাঁড়ি এবং স্মার্টটিমের যৌথ টহল চলাকালীন ডাকাতের উপস্থিতি টের পেয়ে সেদিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ডাকাতরা গুলি ছুড়লে বনকর্মীরা পাল্টা গুলি চালান। তাদের দিক থেকে ৭ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। ডাকাতরা পরবর্তীতে তাদের ট্রলার এবং ৪ জন জিম্মিকে রেখে পালিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, এ সময় সেখান থেকে জেলেদের ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, জিম্মি থাকা ৪ জেলে, একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জেলেরা শেলারচর টহল ফাঁড়ির হেফাজতে আছেন। তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বনরক্ষীদের গুলি করা দস্যুরা শরীফ বাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে বলে জানান তিনি।
২২ দিন আগে
ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’
নিজের আপন ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে এক অভিনব ও লোমহর্ষক ‘ছিনতাই নাটক’ সাজিয়েছিলেন ভাতিজা লিটন শেখ। তবে সিসিটিভি ফুটেজ আর প্রযুক্তির দক্ষতায় পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন সেই ভাতিজাসহ ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য। উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া পুরো ৬ লাখ টাকা। এই কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, গতকাল (সোমবার) দুপুরে মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের সেলিনা বেগম চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের জনতা ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে আপন ভাতিজা লিটন শেখের মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দত্তনগর ফার্ম-সংলগ্ন মথুরা বীজ উৎপাদন খামারের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ছিনতাইকারীরা চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে টাকার ব্যাগটি হ্যাঁচকা টান দিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে সেলিনা বেগম আহত হন।
ওসির ভাষ্যমতে, ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী নারী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মহেশপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করে। এর সূত্র ধরেই একে একে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
পুলিশ সোমবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। আটকরা হলেন— ভুক্তভোগী সেলিনা বেগমের আপন ভাতিজা এবং ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী লিটন শেখ (৪০), জলিলপুর গ্রামের আমিনুর রহমান খান (২৪) ও একই গ্রামের মোস্তফা জামান ওরফে বরকত বিশ্বাস (৪৭)। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত শাওন বদ্দি (২৩) নামে আরও এক যুবক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
ওসি মেহেদি হাসান আরও জানান, সেলিনা বেগমের ভাতিজা লিটন শেখই ছিলেন এই সাজানো ছিনতাইয়ের ‘মাস্টারমাইন্ড’। তিনি শাওন বদ্দির সঙ্গে মিলে এই পরিকল্পনাটি করেছিলেন। পুলিশের তৎপরতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
২৩ দিন আগে