খুলনা
কুষ্টিয়ার সাবেক পৌর মেয়রসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
পৌর তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কুষ্টিয়া পৌরসভার আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র আনোয়ার আলীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বিজন কুমার রায় মামলাটি করেন।
মামলার আসামিরা হলেন— আনোয়ার আলী, সাবেক পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন ও সাবেক হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২৬ জুলাই কোনো রেকর্ডপত্র বা রেজুলেশন ছাড়াই অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির থানাপাড়া শাখায় ‘দরিদ্র তহবিল’ নামে একটি চলতি হিসাব একক সইয়ে খোলা হয়। পরে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভবনের নকশা অনুমোদন ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে সরকারি ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আদায়কৃত অর্থ ব্যাংকে জমা দিয়ে যথাযথ রেকর্ড বা রেজুলেশন ছাড়াই বিভিন্ন খাতে ব্যয় দেখিয়ে পরস্পর যোগসাজস ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে মোট ৫ কোটি ২১ লাখ ৭ হাজার ৫৬৯ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মইনুল আহসান রওশনী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
২৫ দিন আগে
মাগুরায় বাড়ির পাশের ঝোপ থেকে দুটি পিস্তল উদ্ধার
মাগুরা সদর উপজেলার রাউতাড়া গ্রামে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুটি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ দল।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে সদর থানাধীর রাউতাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে পিস্তল দুটি উদ্ধার করা হয়।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, ওই গ্রামে মৃত প্রদ্যুৎ কুমারের একটি বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অভিযানের সময় ওই বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া দুটি পিস্তলের মধ্যে একটির সঙ্গে ম্যাগাজিন ছিল, অপরটি ছিল ম্যাগাজিনবিহীন। তবে অস্ত্র জব্দ করা হলেও ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা যায়নি।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রমে জব্দকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাগুরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাফিজুর রহমান।
এ বিষয়ে র্যাব জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো কীভাবে সেখানে এলো এবং এর সঙ্গে কোনো অপরাধচক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
২৫ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে মেডিকেল শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম সামিয়া নিঝুম (২০)। তিনি কলেজের পাশে একটি ভাড়া বাসায় একটি রুম নিয়ে একাই থাকতেন।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সদর থানার হাউজিং ই-ব্লক এলাকার একটি সাততলা ভবনের চারতলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানালার সঙ্গে দড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত সামিয়া নিঝুম পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার ছোট শালিখা এলাকার মো. আব্দুস সালামের মেয়ে। পড়াশোনার সুবাদে তিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের কাছে ওই বাসার একটি কক্ষে একাই বসবাস করতেন।
বাসার কেয়ারটেকার রিয়াজ উদ্দিন জানান, সন্ধ্যার দিকে নিঝুমের বাবা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে মেয়ের খোঁজ নিতে বলেন। পরে পাশের কক্ষের এক ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিঝুমের কক্ষে গিয়ে একাধিকবার ডাকাডাকি করলেও তার কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের অনুমতিতে দরজা ভাঙার চেষ্টা করলে ভেতরে জানলার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখা যায়। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পাশের কক্ষে থাকা এক মেডিকেল শিক্ষার্থী জানান, নিঝুম প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ওই কক্ষে ওঠেন। ঘটনার সময় তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, নিঝুম খুব ভালো ছাত্রী ছিলেন। তিনি চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন। আর এক বছর পরই তার এমবিবিএস কোর্স শেষ হওয়ার কথা ছিল।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
২৬ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২ কিশোর নিহত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রাইভেট পড়া শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে নিজেদের মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দৌলতখালী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো— দৌলতখালী চৌহদ্দিপাড়া গ্রামের হেকমত আলীর ছেলে রহমত (১৪) এবং একই গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে সাহাবি (১৪)। আর আহত শিক্ষার্থীর নাম সাইফ আলী (১৪)। তারা তিনজনই দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ (শনিবার) সকালে মোটরসাইকেলে করে দৌলতখালী মাদরাসা মোড়ে প্রাইভেট পড়তে যায় ওই তিন কিশোর। পড়া শেষ করে কিশোরীনগর সড়ক দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর সড়কের পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহীই গুরুতর আহত হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত তাদের দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রহমত ও সাহাবিকে মৃত ঘোষণা করেন। সেইসঙ্গে সাইফ আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত এবং একজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
২৮ দিন আগে
মাটি কাটতে গিয়ে পরিত্যক্ত বোমায় কোদালের আঘাত, বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক আহত
যশোরের শার্শা উপজেলায় মাটি কাটার সময় পরিত্যক্ত বোমা বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের বালুন্ডা দক্ষিণ পাড়ার গনি ঢালির ভিটে নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— বালুন্ডা গ্রামের আব্দুল বারীকের ছেলে জাকির হোসেন (৪৮) এবং একই গ্রামের মৃত নুজ্জাকের ছেলে আব্দুল কাদের (৪৫)। তারা পেশায় মাটি কাটার শ্রমিক।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুরিশ জানায়, সকালে জাকির ও কাদের ওই ভিটায় মাটি কাটছিলেন। একপর্যায়ে মাটির আনুমানিক দেড় হাত গভীরে কোদাল দিয়ে আঘাত করলে সেখানে পুঁতে রাখা একটি বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জাকিরের শরীরের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তারা দুজনেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। খবর পেয়ে শার্শা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাটির নিচে বোমাগুলো অনেক আগে থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। তবে এটি পরিকল্পিত কোনো নাশকতার অংশ কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেইসঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৩০ দিন আগে
খুলনায় ট্রিপল মার্ডারের মূল আসামি গ্রেপ্তার
খুলনার লবণচরা থানার আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের অন্যতম আসামি বিসমিল্লাহ ওরফে বিসমিল্লাহ শেখকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে টুটপাড়া দারোগার বস্তি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে খুলনা থানার পুলিশ। তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানা ছিল।
বিসমিল্লাহ টুটপাড়া ২ নম্বর ক্রস রোড কবি নজরুল সড়কের বাসিন্দা।
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমরা জানতে পারি আসামি বিসমিল্লাহ টুটপাড়া দারোগার বস্তিতে অবস্থান করছেন। এরপর সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আজ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিসমিল্লাহ দরবেশ মোল্লা গলির আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের আসামি ছিলেন বলেও জানান ওসি।
ট্রিপল মার্ডারের তদন্ত কর্মকর্তা ও লবণচার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মো. ইউসুফ আলী জানান, তিন খুনের মূল পরিকল্পনাকারী শামীম আহমেদসহ আরও কয়েকজন আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বিসমিল্লাহর নাম বলেছেন। তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হবে। এর আগে তিনি খুলনা থানায় জিজ্ঞাসাবাদে ট্রিপল মার্ডারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই এ মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৩১ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ট্রেন থামিয়ে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দশম গ্রেডে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের চাকরিতে প্রবেশের অনুমতির প্রতিবাদে পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সব শ্রেণি পাঠ ও পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মজমপুর গেটে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করলে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি থামিয়ে নানা স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, কারিগরি শিক্ষায় ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করার পর দীর্ঘ সময় ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা যে যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তা উপেক্ষা করে সাধারণ বিএসসি ডিগ্রিধারীদের দশম গ্রেডে চাকরির সুযোগ দেওয়া সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক। এতে করে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হবে এবং কারিগরি শিক্ষার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে।
তারা জানান, আগে কারিগরি খাতে দশম গ্রেডের পদগুলো ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য নির্ধারিত ছিল। হঠাৎ করে নীতিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের একই গ্রেডে নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হলে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল না করা হলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে প্রায় ৩০ মিনিট খুলনার সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে সড়কপথের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে কর্মসূচি প্রত্যাহার হলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
৩১ দিন আগে
মাগুরায় সৎ ছেলের হাতুড়ির আঘাতে নারী নিহত
মাগুরায় পারিবারিক বিরোধের জেরে সৎ ছেলের হাতুড়ির আঘাতে গুরুতর আহত আমেনা বেগম (৫০) নামের এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
গত ২৭ জানুয়ারি সকালে সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আমুড়িয়া চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তারপর থেকেই চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই নারী। তবে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত আমেনা বেগম ওই গ্রামের কামরুজ্জামানের স্ত্রী ছিলেন। কামরুজ্জামান স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন সকালে পারিবারিক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আমেনা বেগমের সঙ্গে তার সৎ ছেলে খালিদের (১৮) কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খালিদ তার হাতে থাকা একটি হাতুড়ি দিয়ে আমেনা বেগমের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মাগুরা হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা নড়ে অবশেষে তিনি গতকাল (রবিবার) মারা যান।
মাগুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মাগুরা থানায় মামলা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কারও গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
৩২ দিন আগে
যশোরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১০ গ্রেনেডসহ অস্ত্র উদ্ধার
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মুহূর্তে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০টি শক্তিশালী গ্রেনেড ও ৩টি বিদেশি পিস্তল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যেই এসব অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা-এনএসআইয়ের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনা করা হয় উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের দড়িআগ্রা গ্রামে চুন্নু মোল্লার বাড়িতে।
সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন আকিবের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ওই বাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ১০টি গ্রেনেড, ৩টি বিদেশি পিস্তল, ১৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১টি চাপাতি, ১টি ছুরি ও ১টি খুর।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযান শুরু হওয়ার আগেই বাড়ির সদস্যরা পালিয়ে যায়। অভিযানে মূল সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে চুন্নু মোল্লার ছেলে রায়হান মোল্লাকে (২৮)। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার অস্ত্র ও বিস্ফোরকগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এগুলো দিয়ে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানো সম্ভব ছিল। বিশেষ করে সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় এসব অস্ত্র জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারত।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রায়হান মোল্লাকে আটকে অভিযান চলছে।
৩৪ দিন আগে
ঝিনাইদহে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ নারী গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে চরমপন্থি নেতা হানেফ বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হোসেন আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে ঝিনাইদহ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৬। এ সময় মাদক ও বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্ত্রসহ তাছলিমা আক্তার (৩৫) নামে এক নারী গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ঝিনাইদহ র্যাবের একটি দল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ভোরে ওই পৌরসভার চটকাবাড়িয়া গ্রামে হোসেন আলীর বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় তিনি বাড়ি না থাকলেও আটক করা হয় তার প্রথম স্ত্রী তাছলিমা আক্তারকে।
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) অসিত কুমার রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ সময় দুই কেজি গাঁজা ও ৮টি রাম দা ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র জব্দ করে র্যাব-৬।
স্থানীয়রা জানান, হোসেন আলী চরমপন্থি সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সন্ত্রাসী হানেফ আলী নিহত হওয়ার পর তার বাহিনীর হাল ধরেন হোসেন আলী। তার কাছে হানেফ আলীর বেআইনি অস্ত্র ভান্ডার রক্ষিত আছে। এই অস্ত্র দিয়ে তিনি এখনও অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, হোসেন আলী ‘দেশি’ নামে ভুয়া ও জাল ব্যান্ডরোলের একটি সিগারেট হরিণাকুণ্ডু এলাকায় বিক্রি করেন। তার সঙ্গে রয়েছে দিগনগর গ্রামের জিয়া ও পিটার। অবৈধভাবে নিম্নমানের দেশি সিগারটে বিক্রি করে হোসেন আলী লাখ লাখ টাকা কামালেও হরিণাকুণ্ডুর পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে জানান স্থানীয়রা।
র্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হোসেন আলীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
র্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হোসেন আলী পলাতক রয়েছেন। তিনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় মামলা করা হয়েছে।
হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার রায় বলেন, র্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে হরিণাকুণ্ডু থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার নারীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
৩৬ দিন আগে