খুলনা
মুরগির দাম বেড়েছে, গিলা-কলিজায় সাধ মেটাচ্ছেন খুলনার নিম্ন আয়ের মানুষেরা
খুলনার বাজারগুলোতে শাকসবজির দাম কমলেও সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে। দাম বাড়ায় নিম্ন আয়ের অনেকে ঝুঁকছেন মুরগির গলা, গিলা, কলিজা ও পা কেনার দিকে।
খুলনার কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক ধরেই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রোটিনের সস্তা উৎস ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়তি। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি এখন ১৭০ টাকা, সাদা লেয়ার মুরগি ২৫০ টাকা এবং সোনালী ২৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ২০ টাকা। অন্যদিকে দেশি মুরগি ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাঝেমধ্যেই দাম বাড়ার কারণে নগরীর কয়েকটি বাজারে গত দুই-তিন বছরে জনপ্রিয়তা বেড়েছে মুরগির গলা, গিলা, কলিজা ও পায়ের। দামে তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় নগরীর নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের নজর এখন এগুলোর দিকে।
মিস্ত্রীপাড়া বাজারে কথা হয় শিউলী বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে। তিনি জানান, তার স্বামী একজন দিনমজুর। প্রতিদিন আয় করেন ৪০০ টাকা। ঘরভাড়া ও অনুসঙ্গিক খরচের কারণে সঞ্চয় বলতে কিছুই থাকে না। তাছাড়া অনেকদিন ভালোমন্দও খাওয়া হয় না তাদের। এদিন তিনি বাজার-সদাই শেষে যান মুরগির গিলা, গলা, কলিজা ও পা (সেট) কেনার জন্য।
তিনি বলেন, ‘প্রতি কেজি সেটের দাম একমাস আগেও ১০০ টাকা ছিল। বর্তমানে এর দামও বেড়ে গিয়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আজকে দোকানদারের সাথে ঝগড়া করে ১১০ টাকায় কিনেছি।’
শিউলী বেগম বলেন, ‘এক বছরের বেশি হয়ে গেল, গরুর মাংস তো দূরের কথা, মুরগিই কিনতে পারি না। গরুর মাংসের দাম বর্তমানে ৭৫০ টাকা। আমাদের মতো গরীব মানুষের পক্ষে কিনে খাওয়া সম্ভব না।’
রিকশাচালক হামিদ আলী বলেন, ‘আগে কখনো গিলা-কলিজা কিনতাম না। মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় মুরগির স্বাদ এখন গিলা-কলিজা দিয়ে পূরণ করছি।’
ওই বাজারের গিলা-কলিজা ব্যবসায়ী ইয়াসিন হাওলাদার বলেন, গত কয়েক বছর ধরে তিনি এ ব্যাবসা করেন। করোনা মহামারীর পর থেকে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে মুরগির সেটের প্রতি চাহিদা বেড়েছে। প্রতিদিন ‘একশ থেকে দেড়শ’ মুরগির সেট বিক্রি করেন তিনি।
সাধারণ ক্রেতারা বলেন, বর্তমানে শাকসবজির দাম নিম্নমুখি হলেও মাছ, মাংসসহ অন্যান্য পণ্য ঊর্ধ্বমুখী। এতে এক ধরনের অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভোক্তা অধিকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খুব একটা তদারকিমূলক অভিযান নেই বলে জানান সাধারণ ক্রেতারা।
৪৭ দিন আগে
নড়াইলে ঘোড়দৌড় দেখে বাড়ি ফেরা হলো না স্কুলছাত্রের
নড়াইলে ঘোড়দৌড় দেখে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে স্কুলছাত্র ফাহিম মোল্যা (১৬) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে নড়াইল ও যশোর জেলার সীমান্তবর্তী অভয়নগর থানার লেবুগাতি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফাহিম মোল্যা কালিয়া উপজেলার পেড়োলী ইউনিয়নের খড়রিয়া গ্রামের মনিরুল মোল্যার ছেলে। খড়রিয়া এ জি এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল সে।
ফাহিমের চাচা জাহাঙ্গীর মোল্যা বলেন, গতকাল (বুধবার) নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের চাকই এলাকায় ঘোড়দৌড় দেখতে যায় ফাহিম। পরে বিকেলে ঘোড়দৌড় দেখে মোটরসাইকেল চড়ে নিজ বাড়িতে ফিরছিল সে। পথের মধ্যে অভয়নগর থানার লেবুগাতি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা এক ট্রাকের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ফাহিম ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেন। পরে পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে সেখান পৌঁছে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যায় ফাহিম।
কালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনাটি আমাদের থানার মধ্যে ঘটেনি। যেহেতু ঘটনাটি পাশের যশোর জেলায় ঘটেছে, সে কারণে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
৫০ দিন আগে
নড়াইলে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৪
নড়াইলের লোহাগড়ায় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল পর্যন্ত উপজেলার দিঘলিয়া ও আগ্রাহাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— লোহাগড়া উপজেলার তোফায়েল মণ্ডল (২৫), মো. রাসেল বিশ্বাস (১৯), সাতক্ষীরা শ্যামনগরের ইসমাইল হোসেন ওরফে পিন্টু (৫০) এবং একই গ্রামের আমিনুর গাজী (৪৫)।
পুলিশ জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকার তোফায়েল মণ্ডলের বাড়িতে রাতে অভিযান চালায় ওই উপজেলার সেনা ক্যাম্প ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল। তার দেওয়া স্বীকারোক্তিতে বসতঘরের ওয়ারড্রোব থেকে একটি চাইনিজ পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। পরে অভিযুক্ত তোফায়েলকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার আগ্রাহাটি এলাকার ছোটন মোল্যার মাছের ঘেরে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। এ সময় পিন্টুসহ আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘেরের বিভিন্ন স্থান থেকে ১টি এয়ারগান, ৮০০টি গুলি, মাদক, চাপাতি, দা, রামদাসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে যৌথবাহিনী।
এ বিষয়ে ওসি আব্দুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দিঘলিয়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় চারজনকে আটক করা হয়। পরে নিয়মিত মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।
৫০ দিন আগে
খুলনায় অপহৃত স্কুলছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার কায়স্তরাইল এলাকা থেকে অপহৃত এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব। এ সময় অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে র্যাবের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করেছে বলে জানান র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া উইং) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
গ্রেপ্তার সোহাগ মিয়া (২৯) সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার ছনখাইর এলাকার বাসিন্দা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ওই ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার পর সে আর বাড়ি ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মেয়েটির পরিবার জানতে পারে, অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন যুবক তাকে খুলনা শহরের খানজাহান আলী থানাধীন ফুলবাড়ি গেইট বাসস্ট্যান্ড থেকে জোর করে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে খুলনার খানজাহান আলী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা করেন। মামলার সূত্র ধরে র্যাবের একটি দল তাকে উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্র্রী খুলনার খানজাহান আলী থানাধীন একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
৫১ দিন আগে
নড়াইলে মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় কিশোরের আত্মহত্যা
নড়াইলের কালিয়ায় মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় মো. বাদল মোল্যা (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি ইউনিয়নের কালডাঙ্গা গ্রামে নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করে ওই কিশোর। আজ (বুধবার) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী।
বাদল কালডাঙ্গা গ্রামের মিঠু মোল্যার একমাত্র ছেলে এবং স্থানীয় পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
স্থানীয়রা জানান, বাদল মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য তার পরিবারের সদস্যদের জানায়। তবে তার পরিবার মোটরসাইকেল কিনে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে ছেলেটি বাড়ির পাশে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করে। এরপর বাড়ি ফিরে কোনো একপর্যায়ে নিজের ঘরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস নেয়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে ওই ঘরে গেলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিনি জানান, বাদল আর বেঁচে নেই।
পরে কালিয়া থানা পুলিশ খবর পেয়ে গতকাল রাতেই মরদেহটি হেফাজতে নেয়। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পরবর্তী সময়ে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
ওসি ইদ্রিস আলী জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৫১ দিন আগে
যশোরে সন্ত্রাসী গোল্ডেন সাব্বির আটক, অস্ত্র ও ককটেল উদ্ধার
যশোরে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাব্বির হোসেন ওরফে গোল্ডেন সাব্বিরকে আটক করেছে র্যাব-৬ যশোরের সদস্যরা। অভিযানে তার ব্যবহৃত ফ্ল্যাট থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন ও ১৫টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের একটি চারতলা ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র্যাব। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি।
আটক সাব্বির যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে গোল্ডেন সাব্বির ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন এবং সেখান থেকেই তিনি তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও পরিচালনা করতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র্যাব সদস্যরা ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে তাকে আটক করেন। এ সময় ফ্ল্যাটের রান্নাঘর কার্নিশের ওপর বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১৫টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও ঘরের মধ্যে থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, গোল্ডেন সাব্বিরের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরকসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যশোরের অপরাধ জগতের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। এর আগেও ২০২০ সালে তাকে অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় তার সঙ্গে আরও দুই সহযোগীকেও আটক করা হয়েছিল।
র্যাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আটক সাব্বিরের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা অস্ত্র ও ককটেল ব্যবহার করে যেকোনো সময় গুরুতর সহিংসতা ঘটানোর প্রস্তুতি ছিল তার। তাকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দিয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৫১ দিন আগে
আলমগীর হত্যা মামলা: জামাই ও শুটারের স্বীকারোক্তিতে আরও একজন গ্রেপ্তার
যশোরের বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শাহিন কাজী (২৫) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে শহরের লোন অফিস পাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে শাহিনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম তার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আটক শাহিন যশোর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁচড়া রায়পাড়া (তুলোতলা মোড়) এলাকার কিসলু কাজীর ছেলে। তিনি যশোর শহরের লোন অফিস পাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী (নিহতের জামাই) বাসেদ আলী পরশ ও তার সহযোগী আসাবুল ইসলাম সাগর রিমান্ডে থাকাকালীন শাহিন কাজীর নাম উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুক আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও শাহিননের নাম প্রকাশ করেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) অলক কুমার দে সোমবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে লোন অফিস পাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাহিন কাজী এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। ভাড়াটে খুনী ও পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে সমন্বয় এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে তথ্য রয়েছে। শাহিন কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাদিসহ তিনটি মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের জামাই পরশ, সহযোগী সাগর, মূল শুটার ত্রিদিব এবং সর্বশেষ শাহিন কাজীসহ মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অলক কুমার দে জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকিদের ধরতে এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৫২ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু, নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা হেফাজতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৫০) মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহতের পরিবার ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের দাবি, নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী বলছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত ডাবলু জীবননগর উপজেলা শহরের হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (সোমবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সেনাক্যাম্পের সদস্যরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালান। ডাবলু ওই সময় একটি ওষুধের দোকানে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর আসে।
ডাবলুর মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজন ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিক্ষোভস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়।
নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান অভিযোগ করেন, ‘অভিযানের নামে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে শামসুজ্জামান সহ্য করতে না পেরে মারা গেছেন।’
তবে সেনা ক্যাম্প সূত্র জানিয়েছে, ডাবলুকে নিয়মিত অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। এই সময়ে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, শামসুজ্জামানের মৃত্যুর পর সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান আমাকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তার (কর্নেল) ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদের সময় শামসুজ্জামান শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আজ (মঙ্গলবার) সকালে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীনের উপস্থিতিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জীবননগর শহরজুড়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। বিশেষ করে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ চলছে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।
৫২ দিন আগে
খুলনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক খুন
খুলনার রূপসায় আব্দুল রাশেদ পিকুল (২৬) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বাগমারা এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পিকুল রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আওয়ালের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার কদমতলা বালুর মাঠে পিকুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন।
রূপসা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সবুর বলেন, গতকাল রাতে পিকুলকে কয়েকজন ব্যক্তি গুলি করেন। এর মধ্যে দুইটি গুলি বুকে এবং একটি গুলি তার মাথায় বিদ্ধ হয়। এতে ঘটনাস্থলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দে স্থানীয়রা বের হয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয়রা খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যান।
হত্যার কারণ উদঘাটন এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
৫৫ দিন আগে
যশোরে কনকনে শীতে ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের মৃত্যু
যশোরে শীতের প্রকোপ দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। গত কয়েকদিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
তীব্র শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জেলাজুড়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগের প্রকোপ। সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। এতে চাপ বাড়ছে চিকিৎসাসেবায়।
চিকিৎসকদের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের শয্যা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ২৯০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে শতাধিক রোগী ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে ৫৪ জনই শিশু।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই যশোরের তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না। সেইসঙ্গে যুক্ত হওয়া উত্তরের ঠান্ডা বাতাস শীতের তীব্রতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় জেলাজুড়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর মা মিতা বেগম বলেন, আমার ছেলের বয়স ৫ মাস। গত কয়েকদিনের তীব্র শীতের কারণে ছেলের সর্দি ও জ্বর হয়েছে। চারদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি সে। ছেলেটা এখন কিছুটা সুস্থ।
আসমা নামে অপর এক শিশুর মা বলেন, শীতের কারণে ঠান্ডা লেগে আমার ছেলের নিউমোনিয়া হয়েছে। তিনদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ১০ জনের মৃত্য হয়েছে। এদের বয়স ৫৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।
মৃত মুন্সি মহিউদ্দিনের ছেলে শামছুজ্জামান বলেন, ঠান্ডার কারণে আমার বাবার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ভোর ৬টার দিকে বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
মৃত শেখ সদরুল আলমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আমার বাবার হার্টের সমস্যা ছিল। তবে গত কয়েকদিনের তীব্র শীতে তিনি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। গতকাল রাতে তাকে হাসাপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান তিনি বেঁচে নেই। তীব্র শীতের কারণেই তার বাবা মারা গেছেন বলে জানান তিনি।
মৃত মনিরা খাতুনের ছেলে শেখ মামুন বলেন, আমার মায়ের বয়স ৬৪ বছর। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে তিনি গত ১০ দিন অসুস্থ ছিলেন। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় গুরুতর অবস্থায় গতকাল রাতে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শেখ মামুনের বাড়ির অদূরে উম্মে হানি নামে ৬৫ বছর বয়সী একজন সাবেক শিক্ষিকা মারা গেছেন। তার ছেলে বনি জানান, তার মা এক সপ্তাহ ধরে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ফুসফুস সংক্রমিত হওয়ায় মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁচ্ছাছিল না।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ বলেন, আমরা ইদানীং মৃত্যুর হার বেশি দেখছি। এক্ষেত্রে ঠান্ডার প্রকোপ বেশি থাকার কারণে মৃত্যুর সংখ্যাটা আরও ব্যাপক হারে বেড়ে যাচ্ছে। বয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর প্রবণতা বেশি। ফুসফুস সংক্রমণ ও বিভিন্ন জটিলতার কারণে বয়স্কদের মধ্যেই মৃত্যুর প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হচ্ছে ঠান্ডার ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা—সেটা ঘরে হোক বা বাইরে। বাইরে চলাফেরার ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা এবং ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণগুলো রোধ করার জন্য নিজেকে সতর্ক রাখা উচিত বলে পরামর্শ দেন এ চিকিৎসক।
৫৬ দিন আগে