রাজশাহী
রাজশাহীতে বাসচাপায় শিক্ষার্থীসহ নিহত ৩
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় বাসচাপায় ব্যাটারিচালিত রিকশার যাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার পোল্লাপুকুর এলাকায় রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ট্রিপল-ই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম। তিনি পুঠিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারইপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে। এছাড়া একজন নারী ও পুরুষের লাশ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে জানান পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন- মুকুল হোসেন (৩৫), মোজাম্মেল হক (৫০), রিফাত হোসেন (৩০), আমিন (৪০) ও দুই শিশু। রামেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মেডিকেলের ৮ ও ৩১ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘পুঠিয়া থেকে হাসপাতালে দুজনকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ছয়জন আহত অবস্থায় এসেছেন। তাদের হাসপাতালের ৮ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। এছাড়া নারী ও পুরুষের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।’
ওসি মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, দুর্ঘটনায়কবলিত অটোরিকশাটি পুঠিয়ার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শান্ত নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন পুরুষ ও একজন নারী মারা যান। তবে প্রাথমিক অবস্থায় তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করলে কয়েক কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়। দুই দিকে যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা। এ ছাড়াও এ দুর্ঘটনার পর বাস চালককে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপপরিদর্শককে (এসআই) অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় জনতা। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে তারা অবরুদ্ধ থাকে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেনাবাহিনী গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
৩৯ দিন আগে
চালক-সহকারীর হাত-পা বেঁধে ধানবোঝাই ট্রাক ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৬
নওগাঁয় ধানবোঝাই একটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতি হওয়া ট্রাকটি উদ্ধার করার পাশাপাশি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার জব্দ করা হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন— গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের রফিকুলের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০), বড় বাতাইল গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে রফিকুল ইসলাম অপু (৩১), একই উপজেলার রাজা মিয়ার ছেলে সাজিদুল ইসলাম সবুজ (২৩), পলুপাড়া গ্রামের হাসেন আলীর ছেলে গোলাপ (২৪), সদুল্যাপুর উপজেলার বলিদহ গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে লাভলু (২৮) এবং বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরকাকাটা চানপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন শরীফের ছেলে রাকিব হোসেন শরীফ (২৭)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২২ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলার বদরগঞ্জ থেকে একটি ট্রাক ২৫০ বস্তা (৫০০ মন) ধান নিয়ে নওগাঁয় আসছিল। এরপর রাত দেড়টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের ফাঁকা রাস্তায় ট্রাকটি পৌছাঁলে সামনে ব্যারিকেড দেয় ডাকাতদল। পরে ট্রাকের চালক মারুফ ও সহকারী শামীমকে মারধর করে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে তারা ধানবোঝাই ট্রাকটি নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা হলে ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশ। একপর্যায়ে শিবগঞ্জ থানার মোকামতলা তদন্তকেন্দ্রে একটি ট্রাক ও সন্দেহজনক আরিফুল ইসলাম আরিফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি তাকে নিয়ে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গোলাপ ও লাভলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে নিয়ে দলের সর্দার সামিউল ইসলামকে ধরতে গাজিপুরে অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান।
পরবর্তী সময়ে আশুলিয়া, সাভার, কামরাঙ্গীরচর এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে শরীফ, অপু ও সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় অন্য ডাকাতদলটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং ডাকাতির মালামাল উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার তারিকুল।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
৪০ দিন আগে
নাটোরে জিয়া পরিষদ সদস্যকে হত্যা, সন্দেভাজনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগে এক বৃদ্ধা নিহত
নাটোরের সিংড়ায় জিয়া পরিষদ সদস্য ও কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিমকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একই এলাকার এক ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ক্ষুব্ধ জনতা। অগ্নিকাণ্ডে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ১১টার পরে উপজেলার কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়া এলাকার এ ঘটনা ঘটে।
রেজাউল করিম উপজেলার বিল হালতি ত্রিমোহনী কলেজের সহকারি অধ্যাপক এবং উপজেলা জিয়া পরিষদের সদস্য ছিলেন।
রেজাউলের পরিবার জানায়, রাতে মোটরসাইকেলে একদল ব্যক্তি বাড়ির সামনে গিয়ে রেজাউলকে ডাক দেয়। বাড়ি থেকে বের হতেই তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে তারা চলে যায়।
স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একই এলাকার আব্দুল ওহাব নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে ঘরের ভেতরে আগুনে পুড়ে আব্দুল ওহাবের বৃদ্ধা মা সাবিহা নিহত হন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুড়ে যাওয়া ঘর থেকে মরহেদ উদ্ধার করে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুর নূর বলেন, দুই মৃত্যুর ঘটনারই রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। দুজনের মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৪৩ দিন আগে
নওগাঁয় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী মা-মেয়ে নিহত
নওগাঁর পত্নীতলায় ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী মা-মেয়ে নিহত হয়েছে। এ সময় ট্রাক ভাঙচুর ও ট্রাকচালককে উৎসুক জনতা মারধর করে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার নজিপুর পৌরসভা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন পত্নীতলা উপজেলা আকবরপুর ইউনিয়নের উষ্ঠি গ্রামের কাউসার রহমানের স্ত্রী খাদিজা আক্তার (২৮) ও তার মেয়ে ফাতেমা জান্নাত (৯)।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যায় নজিপুর বাজার থেকে মোটরসাইকেলে চড়ে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন কাউসার রহমান। পথে মোটরসাইকেলটি পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যায়। এ সময় সাপাহার থেকে নজিপুর অভিমুখী কাঠবোঝাই একটি ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে মা ও মেয়ে নিহত হন।
পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাকটি জব্দ ও চালককে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
৪৫ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে মানব পাচারকারীসহ আটক ৪
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বকচর সীমান্ত এলাকা থেকে এক মানব পাচারকারীসহ চারজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটকদের মধ্যে একজন সক্রিয় মানব পাচারকারী বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে বিজিবির ৫৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে বকচর বিওপির একটি টহলদল বকচর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের ভেতরে অভিযান চালায়। এ সময় পাচারকারী শাহিন আলীসহ চারজনকে আটক করা হয়।
আটক মানব পাচারকারী হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শাহিন আলী। অপর তিনজন হলেন— রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার তারাজুল ইসলাম, রাজশাহী জেলার শফিকুল ইসলাম মুন্না এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের মিজানুর রহমান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানান, শাহিন আলীর সহায়তায় তারা রাজমিস্ত্রির কাজ করার উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ভারতের চেন্নাই প্রদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমান।
৫০ দিন আগে
রেলওয়ের অবহেলায় ধুঁকছে আমনুরা জংশন, যাত্রী দুর্ভোগ চরমে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আমনুরা রেলওয়ে জংশন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়ে আছে। ১৯০৯ সালে আব্দুলপুর–মালদা রেললাইনের অংশ হিসেবে নির্মিত এই জংশনের যাত্রী ছাউনি প্রায় দেড় দশক আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে খোলা আকাশের নিচেই ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
স্টেশন এলাকায় নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা, নেই শৌচাগার কিংবা বসার উপযোগী অবকাঠামো। এতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। যাত্রীদের ভাষ্য, বর্ষা ও শীত মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাইপাস রেললাইন নির্মাণের পর থেকে আমনুরা জংশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে জেলা শহরের সঙ্গে রেল যোগাযোগে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে স্থানীয় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের চলাচলে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
আব্দুর রাকিব নামে এক যাত্রী বলেন, ‘এক সময় এই স্টেশন ছিল এলাকার মানুষের প্রধান ভরসা। এখন এখানে কোনো সুবিধা নেই। রোদ–বৃষ্টি মাথায় নিয়েই ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।’
৫১ দিন আগে
ঝিনাইদহে অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ২১ প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনা
ঝিনাইদহের ইতিহাস মানেই শুধু অতীত নয়, এটি এই জনপদের আত্মপরিচয়। সময়ের স্রোতে কালের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঝিনাইদহের শতাব্দী-প্রাচীন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনাগুলো আজ চরম অবহেলার শিকার। অযত্ন, অপরিকল্পিত ব্যবহারে ক্ষয় আর যথাযথ সংরক্ষণ ও তদারকির অভাবে জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের গর্ব বহনকারী ৬ উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা ২১টি প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনাই এখন অস্তিত্ব সংকটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে অমূল্য এসব স্থাপনার গল্প ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খুঁজতে হবে কেবল ইতিহাসের বইয়ের পাতায়।
জেলার মহেশপুর উপজেলার খালিশপুরে অবস্থিত ১৯ শতকে নির্মিত প্রাচীন নীলকুঠি ভবনটি এক সময় ঔপনিবেশিক শাসনামলের সাক্ষী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন ছিল। ২০১২ সালের ১৪ জুন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গেজেটে তালিকাভুক্ত হলেও বাস্তবে ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণে নেই কার্যকর কোনো উদ্যোগ।
এছাড়া ঝিনাইদহের মিয়ার দালান, শৈলকুপার ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ, নলডাঙ্গার রাজবাড়ি মন্দির, বারোবাজারের ঐতিহাসিক মসজিদ, কৃষক আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্র ও গণিতবিদ কেপি বসুর বসতভিটাসহ জেলার তালিকাভুক্ত ২১টি প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনার অধিকাংশই আজ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের পথে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৬টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ২১টি ঐতিহাসিক ও প্রত্নসম্পদসমৃদ্ধ স্থাপনা ‘হেরিটেজ’ তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে কাগজে-কলমে এসব স্থাপনা ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত’ বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
মাঠপর্যায়ে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ স্থাপনাই কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষার আওতায় নেই। গেজেটভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বাস্তব সংরক্ষণ কার্যত অনুপস্থিত। শতবর্ষী এসব স্থাপনার অনেকগুলোই আজ সময়ের সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছে। নিয়মিত সংস্কার, নিরাপত্তা বেষ্টনী, সাইনবোর্ড কিংবা পাহারাদার না থাকায় অনেক স্থাপনাই ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার পথে।
৫৩ দিন আগে
জয়পুরহাটে যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, ছোট ভাই আহত
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে পূর্ব শত্রুতার জেরে ইয়ানুল হোসেন (৩১) নামে এক যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার শালাইপুর বাজার- ঢাকারপাড়া সড়ক মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই আব্দুল মোমিন (২২) আহত হয়েছেন।
ইয়ানুল ও মোমিন পাঁচবিবি উপজেলার শালাইপুর গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত ১১টার দিকে উপজেলার শালাইপুর বাজার-ঢাকার পাড়া সড়ক মোড়ে যুবদল কর্মী ইয়ানুল ও তার ভাই মোমিনের ওপর প্রতিপক্ষরা হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত ইয়ানুলকে উদ্ধার করে পাঁচবিবির মহিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত মোমিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক গোলাম রব্বানী রাব্বি জানান, জেলায় বর্তমানে যুবদলের কোনো কমিটি নেই। তবে ইয়ানুল যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে ছিলেন।
পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজ মো. রায়হান জানান, প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ইয়ানুলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার কারণ জানতে পুলিশ কাজ করছে। ময়না তদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ জয়পুরহাট জেলা শহরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৫৬ দিন আগে
৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কাঁপছে নওগাঁ
পৌষের তৃতীয় সপ্তাহে এসে দেশের উত্তরের জেলা নওগাঁয় শুরু হয়েছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় শীতের দাপট স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। সেইসঙ্গে কমছে তাপমাত্রাও। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি ) সকাল ৮টায় নওগাঁ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র; যা চলতি বছর নওগাঁ জেলায় এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রার পারদ নেমেছে ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর থেকে ঘন কুয়াশার সঙ্গে তীব্র শীত অনুভূত হয়। রাতভর কুয়াশায় ঢেকে থাকে পথঘাট ও এলাকা। সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা কমে যায় ঠান্ডার অনুভূতি। আজ সকাল থেকে নিরুত্তাপ সূর্যের দেখা মিলেছে। সূর্য উঠলেও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন হয়ে ওঠেছে বিপর্যস্ত।
সদর উপলোর ডাক্তারের মোড় এলাকার আহসান হাবিব বলেন, দিনেরবেলা রোদ থাকায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম থাকে। কিন্তু সন্ধ্যা হলেই পরতে হয় শীতের কাপড়। ঘুমোতে গেলে ২-৩ টা লেপ-কম্বল ছাড়া উপায় থাকে না।
বরুনকান্দি এলাকার ভ্যানচালক আব্দুস সালাম বলেন, সন্ধ্যার পর ঠান্ডা বাতাস ও শীতের কারনে ভ্যান চালানো কষ্ট হয়ে যায়। আজ সূর্য উঠার আগ পর্যন্ত কুয়াশা ছিল। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত ভ্যান চালানোই কষ্ট। সকালে যাত্রীও পাওয়া যায় না।
নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু জার গাফফার জানান, গত কয়েকদিন ধরে ঠান্ডাজনিত রোগে শিশু, মধ্য বয়সী ও বয়স্ক মিলে কয়েক শতাধিক রোগীর চিকিৎসা করা হয়েছে। আজ সকাল পর্যন্ত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও টিওপিডি রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছে।
নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আজ সকাল ৮টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গতকালের তুলনায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রী কমে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
নওগাঁয় শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায়, গরিব ও দিনমজুরদের মধ্য শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করা হয়েছে।
নওগাঁ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আশেকুর রহমান জানান, প্রতিটি উপজেলায় অসহায়, ছিন্নমুল ও দিনমজুদের মাঝে গরমকাপড় বিতরণ করার জন্য ইতোমধ্যে ৬ লাখ টাকা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এ খাতে জেলার ১১টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ও জেলা পরিষদ থেকে ৩০ হাজার ৬০০ পিস কম্বল জেলায় বরাদ্দ এসেছে। ত্রাণ ও কম্বল বিতরণ এখনো চলছে।
৫৮ দিন আগে
চাঁপাই সীমান্তে বিএসএফের নির্যাতনে এক বাংলাদেশির ‘মৃত্যু’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের নির্যাতনে রবিউল ইসলাম (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সদর উপজেলার জহুরপুর টেক সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি রবিউলের মৃত্যুর বিষয়ে জানালেও কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
নিহত রবিউল ইসলাম সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সাতরশিয়া গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে।
রবিউলের পরিবারের দাবি, শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন রবিউল। পরে তারা জানতে পারেন, অবৈধভাবে ভারতে গেলে বিএসএফের হাতে তিনি ধরা পড়েন এবং তাদের নির্যাতনে মারা যান।
৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, রবিবার বিকেলে রবিউলের বাবা ঘটনাটি বিজিবিকে জানান। এরপর সন্ধ্যায় এ ব্যাপারে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিএসএফ জানায়, রবিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রবিউলসহ ৪-৫ জন ভারতে অনুপ্রবেশ করে। প্রায় দুই কিলোমিটার ভারতের ভেতরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলে অন্যরা পালিয়ে গেলেও রবিউল ইসলামকে ধরে ক্যাম্পে নিয়ে যান বিএসএফ সদস্যরা। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
কাজী মুস্তাফিজুর রহমান আরও জানান, ভারতে রবিউলের মরদেহ ময়নাতদন্ত হবে, এরপর তা ফেরত দেবে বলে জানিয়েছে বিএসএফ। তবে কীভাবে রবিউলের মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে জানা যাবে বলে জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।
৬০ দিন আগে