সিলেট
সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় খাসিয়াদের ছররা বন্দুকের গুলিতে সালেহ আহমেদ জয়ধর (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে ভারতের প্রায় ১ কিলোমিটার ভেতরে একটি সুপারি বাগানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সালেহ আহমেদ কোম্পানীগঞ্জের দয়ারবাজার-সংলগ্ন কারবালার টুক গ্রামের বাসিন্দা।
আজ (শুক্রবার) দুপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সালেহ আহমেদ ও তার আরও দুই সহযোগী মিলে মাদকের চালান আনার উদ্দেশ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা চংকেটের বাগান ও মারকানের বাগানের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় ভারতীয় খাসিয়া সম্প্রদায় তাদের ‘সুপারি চোর’ সন্দেহে ছররা বন্দুক দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে সালেহ আহমেদ জয়ধর গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
পরে সালেহর সঙ্গে থাকা নাজিরগাঁও গ্রামের মো. সুমন মিয়া (২৫) এবং কারবালার টুক গ্রামের মো. মাসুম আহম্মদ (২০) তার মরদেহ বহন করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিজিবি জানিয়েছে, ওই তিনজনই এর আগে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আনা-নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
১০ ঘণ্টা আগে
সুনামগঞ্জে গ্যারেজে অটোরিকশা রাখা নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশ-পথচারীসহ আহত শতাধিক
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় গ্যারেজে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও পথচারীসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জের ছাতক রোডে দিঘলী খোজার পাড়ার জাবেদ মিয়ার গ্যারেজে অটোরিকশা রাখতে গেলে তার সঙ্গে চালক ছাদিক মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এরপর মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গ্যারেজের বাইরে। পরে গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে দীঘলী ও তিকপুরের শতাধিক লোকজন জড়ো হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ছাতক থানা, জাউয়া তদন্তকেন্দ্র ও জয়কলস হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লেও দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়নি। তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে পুলিশ, পথচারীসহ শতাধিক লোক আহত হয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত কমপক্ষে ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, সহিংসতার কারণে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। তিনটি সড়কের দুইপাশে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে থাকে। রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং বিদেশগামী যাত্রীদের সে সময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাবলু দাশের ওয়ার্কশপে রাখা সাতটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তবে দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করেন। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং আটকে থাকা সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে এসআইসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে এবং নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ টহল জোরদার রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
১ দিন আগে
হবিগঞ্জে সার্টিফিকেট জালিয়াতি চক্রের এক সদস্য আটক
হবিগঞ্জে সার্টিফিকেট জালিয়াতি চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর এলাকায় এক অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের একটি আভিযানিক দল। এ সময় সার্টিফিকেট জালিয়াতি চক্রের সদস্য আব্দুল বাছিত রিয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জেলার বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ যাত্রাপাশা গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ভুয়া শিক্ষাগত সনদ তৈরি করে প্রতারণা করে আসছিল। অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ ও সনদের পিডিএফ কপি তৈরি করে বিক্রি করতেন আটক ওই যুবক। মুল সনদ রাজশাহী থেকে প্রিন্ট করে কুরিয়ারে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হতো।
র্যাব-৯-এর সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোশাররফ হোসেন সাগর বলেন, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান চলছে।
২ দিন আগে
সুনামগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মমিনের বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল ও ছাউনি ভেঙে ব্যক্তিগত মার্কেটের জন্য রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন পাথারিয়া এলাকার পথচারী, যাত্রীসহ স্থানীয় সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন পাথারিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আঙ্গুর মিয়া।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, পাথারিয়া এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল মমিন তার বাড়ির সামনের পূর্ব দিকের মার্কেটে যাতায়াতের রাস্তার জন্য পাথারিয়া বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার পথচারী ও শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল যাত্রী ছাউনি গত ডিসেম্বর থেকে দখলে নিয়েছেন। ছাউনি দখলের পর পর্যায়ক্রমে ছাউনি ভেঙে তার ব্যক্তিগত মার্কেটের রাস্তা নির্মাণ করেন। এই ঘটনায় পাথারিয়া বাজারের অনেকেই বাধা দিলেও তার তোয়াক্কা করেননি আব্দুল মমিন। ফলে রোদ-বৃষ্টির সময় আশ্রয় নেওয়া এবং গাড়িতে উঠার জন্য অপেক্ষা করা যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের বসার জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন পথচারী, যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা।
এই অবস্থায় ঘটনাস্থল সরজমিন পরিদর্শন করে যাত্রী ছাউনি পুনরুদ্ধার করে সেটি জনগণের জন্য পুনরায় স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছেন অভিযোগকারী আঙ্গুর মিয়া।
স্থানীয় পাথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য নুর মিয়া বলেন, ৩৯ নম্বর পাথারিয়া বাসস্ট্যান্ডে সরকারি যাত্রী ছাউনি ছিল। সেখানে এলাকার শিক্ষার্থী, পথচারী, দূর পথের যাত্রীরা বিশ্রাম নিতেন, কিন্তু মমিন মিয়া সেটি দখল করে ভেঙে শেষ করে দিয়েছেন।
গাজীনগর গ্রামের জিয়াউদ্দিন তুহিন বলেন, পাথারিয়া বাজারের একমাত্র যাত্রী ছাউনি বাজারের যাত্রী, পথচারী ও সুরমা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনা দখলমুক্ত করে পুনরায় নির্মাণ করা অতি জরুরি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল মমিন বলেন, যাত্রী ছাউনি ভাঙার বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। যাত্রী ছাউনিটি সরকারিভাবে স্থাপন করা হলেও জায়গাটি আমার নিজের। কে বা কারা সেটি ভেঙেছে তা আমি জানি না। দীর্ঘদিন ধরে এটি পরিত্যক্ত ছিল।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জের ইউএনও মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ভূমি কর্মকর্তার (এসিল্যান্ড) নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে আটক ৯ বাংলাদেশিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর বিএসএফের
সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ৯ জন বাংলাদেশিকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে আটকদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রবিবার দুপুরে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষে বিকেলে তাদের গোয়াইনঘাট থানায় সোপর্দ করে বিজিবি।
আটকরা হলেন— বাগেরহাট জেলার কালিকা বাড়ি গ্রামের হাসান গাজি ও তার স্ত্রী আয়শা খাতুন, ছোট বাদুরা গ্রামের শুকুর আলী, হাসিনা আক্তার, কিশোরগঞ্জ জেলার ভেইয়ার কোন গ্রামের রোজিনা আক্তার, মুন্সিগঞ্জ জেলার ভাগ্যকুল গ্রামের পারুল রাজবংশী, সিলেটের জৈন্তাপুর থানার ডিবির হাওর গ্রামের নাহিদ আহমেদ নাঈম, হেলাল আহমেদ ও শিশু আবীর গাজি (১৫ মাস)।
বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টার দিকে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে তাদের আটক করে বিএসএফের ৪ ব্যাটালিয়নের মুক্তারপুর ক্যাম্পের টহলদল। পরদিন ৫ এপ্রিল দুপুরে তামাবিল সীমান্তের ১২৭৫ নম্বর পিলার এলাকায় বিএসএফের মুক্তারপুর ক্যাম্প ও বিজিবির তামাবিল ক্যাম্পের সদস্যদের উপস্থিতিতে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে ৪ জন নারী, ৪ জন পুরুষ ও এক শিশুকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বিকেলে তাদের গোয়াইনঘাট থানায় সোপর্দ করে বিজিবি।
এ ঘটনায় তামাবিল বিওপি ক্যাম্পের হাবিলদার হুমায়ুন কবীর বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় পাসপোর্ট আইনে একটি মামলা করেছেন।
গোয়াইনঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবীর হোসেন বলেন, ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে বিএসএফ নারী ও শিশুসহ আটক ৯ জনকে বিএসএফ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে রবিবার বিকেলে বিজিবি তাদের থানায় সোপর্দ করে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে আজ (সোমবার) সকালে সিলেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
৩ দিন আগে
সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা
সিলেটে এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা না গেলেও প্রাথমিকভাবে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (৫ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে বিমানবন্দরটির সার্ভার রুমে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় ৭ জন আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় সার্ভার রুমের কাঁচ ভেঙে বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও এপিবিএনের যৌথ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
সিলেট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার কুতুবউদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এরাইভাল ইমিগ্রেশনের (কাস্টমসের ওপরের তলা) সার্ভার রুমে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব না হলেও প্রাথমিকভাবে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে, এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানান ৭ এপিবিএন সিলেটের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) এ আর এম আলিফ।
বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, সার্ভার রুমে আগুন লাগলেও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এতে ফ্লাইট চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি। সব কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
৪ দিন আগে
সিলেটে চোরাচালানকারীদের ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক ছিনতাইচেষ্টার মামলায় যুবদল নেতা মনিজুল গ্রেপ্তার
সিলেটে চোরাচালানকারীদের ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক পুলিশের কাছ থেকে ছিনতাইচেষ্টার অভিযোগে মহানগর যুবদল নেতা মনিজুল আহমদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নগরীর আম্বরখানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মনিজুল আহমদ সিলেট মহানগর যুবদলের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। তিনি আম্বরখানা ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) এয়ারপোর্ট থানায় চোরাচালান-সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান বলেন, শনিবার মধ্যরাতে আম্বরখানা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। এ সময় পরোয়ানাভুক্ত আসামি মনিজুলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৮ জুলাই বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য নিয়ে একটি ট্রাক নগরীর চৌকিদেখি এলাকা দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ট্রাকটি আটকাতে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় চোরাকারবারীরা পুলিশের ব্যারিকেড উপেক্ষা করে ট্রাক নিয়ে মজুমদারি এলাকার একটি গলিতে ঢুকে পড়ে। সেখানে তারা ট্রাকটি রেখে পালিয়ে যায়।
ওই সময় মনিজুল আহমদ তার সহযোগীদের নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। তারা জব্দ করা ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকটি পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত তারা ট্রাকটি ফেলে পালিয়ে যান।
এই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এসএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মনজুরুল আলম জানান, আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে এবং অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে মনিজুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে রবিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
৪ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে নিহতের চার দিন পরও ফেরেনি যুবকের মরদেহ
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে খাসিয়া সম্প্রদায়ের গুলিতে সাদ্দাম হোসেন নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তবে ঘটনার চার দিন পার হলেও তার মরদেহ এখনও দেশে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
বুধবার (১ এপ্রিল) সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তের নিকটবর্তী ভারতের রাজনটিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাদ্দাম হোসেন উপজেলার উত্তর রণীখাই ইউনিয়নের লামা উত্তমা গ্রামের বাসিন্দা এবং মুক্তিযোদ্ধা কুটু মিয়ার ছেলে।
নিহতের পরিবার জানায়, গত ১ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে সাদ্দামসহ চারজন সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই সাদ্দাম নিহত হন।
স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের ১২৪৭ নম্বর পিলারের প্রায় ৬০০ গজ ভেতরে ভারতের রাজনটিলা এলাকায় সুপারি আনতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। সে সময় গুলিতে সাদ্দাম নিহত হওয়ার পাশাপাশি ফরহাদ মিয়া নামে আরেকজন আহত হন। পরে অন্য সঙ্গীরা ফরহাদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। আহত ফরহাদ একই গ্রামের লিলু মিয়ার ছেলে। তাদের সঙ্গে আরও ছিলেন আবু বক্কর (৩০) ও জফির মিয়া (২৮)।
নিহতের বড় ভাই নাজীম উদ্দীন বলেন, ‘আমার ভাইসহ চারজন ভারতে যায়। সেখানে খাসিয়ারা তাকে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। চার দিন পার হয়ে গেলেও এখনও তার মরদেহ দেশে আনতে পারিনি।’
কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগৎ জ্যোতি দাস বলেন, ঘটনার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উত্তমা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার আবুল কালাম বলেন, বিএসএফের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নিহতের পরিবারকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
৫ দিন আগে
হবিগঞ্জে তেলবাহী ট্রেন দুর্ঘটনার পর ১০০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুরে মালবাহী ট্রেন দুর্ঘটনার পর সেখান থেকে ১ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পাশাপাশি দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সরকারি সম্পদ সুরক্ষা এবং উদ্ধার তৎপরতায় কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে বাহিনীটি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিজিবি হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটালিয়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ মনতলা বিওপি থেকে বিজিবির একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তেল লুটপাটের অপচেষ্টা প্রতিরোধ করে এবং সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে এক প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়, যারা বর্তমানে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চলমান উদ্ধার কার্যক্রমে বেসামরিক প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করেছে।
বর্তমানে ঘটনাস্থলে বেসামরিক প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। এ সমন্বিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিজিবি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সরকারি সম্পদ রক্ষা, জ্বালানি তেল উদ্ধারে সহায়তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা এবং রেলযোগাযোগ পুনর্প্রতিষ্ঠায় কার্যকর সহযোগিতা প্রদান করেছে বলে জানানো হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
উল্লেখ্য, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহপুর এলাকায় গতকাল (বুধবার) রাত পৌনে ১০টার দিকে তেলবাহী একটি ট্রেনের পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এর মধ্যে একটি বগি পাশের খাদে পড়ে যায়।
মনতলা স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান খাদেম জানান, লাইনচ্যুত পাঁচটি বগির মধ্যে ইতোমধ্যে দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি বগিগুলো উদ্ধারে কাজ চলছে।
৮ দিন আগে
১৭ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ১৭ ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকার পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত ও উদ্ধারকাজ শেষ হলে ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
নোয়াপাড়া স্টেশন মাস্টার মো. মনির হোসেন জানান, ‘বেলা সোয়া ৩টার দিকে মেরামত ও উদ্ধার কাজ শেষ হয়েছে। তার কিছুক্ষণ পর থেকেই ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।’
গতকাল (বুধবার) রাতের এ দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস, ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ও সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের নির্ধারিত যাত্রা বাতিল করা হয়।
দীর্ঘ সময় রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়ে এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পারাবত এক্সপ্রেস মাধবপুর উপজেলার হরষপুর স্টেশনে অবস্থান নেয়। একই সময়ের কাছাকাছি সিলেট থেকে ছেড়ে আসা কালনী এক্সপ্রেস শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশনে এবং সকাল সাড়ে ১০টার পাহাড়িকা এক্সপ্রেস শমসেরনগরে আটকা পড়ে বলে জানান শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশন মাস্টার লিটন দাস।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, বুধবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মাধবপুর উপজেলার মনতলা স্টেশন পার হয়ে সাহাপুর এলাকায় সিলেটগামী ৯৫১ নম্বর তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি ওয়াগন ও একটি গার্ডব্রেক লাইনচ্যুত হয়। প্রতিটি ওয়াগনে প্রায় ৪০ হাজার লিটার করে জ্বালানি তেল থাকায় মোট প্রায় ২ লাখ লিটার তেল পরিবহন করা হচ্ছিল বলে জানান ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান।
দুর্ঘটনার ফলে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত শেষে বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়া ট্রেনগুলো ছেড়ে দেওয়া শুরু হয় বলে নিশ্চিত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
৮ দিন আগে