সিলেট
‘প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়’ স্কুলছাত্রী অপহরণ, যুবক গ্রেপ্তার
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে তৌকির রহমান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)-১৩। অভিযানে অপহৃত শিক্ষার্থীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেপ্তার তৌকির নগরীর পূর্ব বোতলা এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী সপ্তম শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্রী। স্কুলে যাতায়াতের সময় দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্যক্ত করাসহ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত তৌকির রহমান। বিষয়টি ভুক্তভোগী তার পরিবারকে জানালে পরিবারের পক্ষ থেকে তৌকিরকে অনুরোধের পর সতর্কও করা হয়। কিন্তু তাদের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করার হুমকি দেন তৌকির।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ এপ্রিল সকালে ভুক্তভোগী ইউনিফর্ম পরে স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়। সে সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৌকির রহমান ও তার ৩-৪ জন সহযোগী মিলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার একাধিকবার মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে তারা রংপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা করেন।
এদিকে, মামলার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ ও র্যাব-১১ যৌথভাবে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে কুমিল্লা জেলার লালমাই থানার পূর্ব অশোকতলা গ্রামের অভিযান চালায়। অভিযানে ওই গ্রামের জনৈক ক্বারী আজিজের বাড়ি থেকে তৌকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকেই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তার তৌকির রহমানকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
সুনামগঞ্জে আগাম বন্যার আশঙ্কা, দ্রুত ধান কাটার আহ্বান পাউবোর
উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সুনামগঞ্জের সুরমা, কুশিয়ারা, বাউলাই নদীসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আগাম বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এমন পরিস্থিতিতে জমির ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলে দ্রুত তা কাটার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত সুরমা, কুশিয়ারা ও বাউলাইসহ অন্যান্য নদীর উজান অববাহিকায় বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী কয়েকদিন নদ-নদীর পানি সমতলে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, এমনকি যেকোনো সময় আগাম বন্যা পরিস্থিতি উদ্ভব হতে পারে। এছাড়া হাওরের অভ্যন্তরে বৃষ্টিপাতের ফলে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।
সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে হাওরের বোরো ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কৃষকগণকে যেসব জমির ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে, সেসব জমির ধান দ্রুত কাটার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী।
৪ ঘণ্টা আগে
হবিগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ৯ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে বিথঙ্গল আখড়া বাজারের সঞ্জিত রায়ের মালিকানাধীন একটি রেস্টুরেন্টে এ আগুনের সূত্রপাত হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে হঠাৎ রেস্টুরেন্টটিতে আগুন জ্বলে ওঠে। এ সময় মসজিদের মাইকে আগুন লাগার ঘোষণা দিলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। একপর্যায়ে রেস্টুরেন্টে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৩টি মুদি দোকান, একটি ইলেকট্রনিক্স দোকানসহ মোট ৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় কোনো মালামাল সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে বাজারের ৯টি দোকান পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, এ অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, মসজিদের মাইকে ঘোষণা শুনে বাজারে গিয়ে তারা দেখেন দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।
বানিয়াচং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার রিয়াজ উদ্দিন জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর রাতে পেলেও সড়ক ভালো না থাকার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারিনি। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে।
৮ ঘণ্টা আগে
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে এক দিনে ৪ কৃষক নিহত
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার ব্যস্ত মৌসুমে পৃথক তিনটি বজ্রপাতের ঘটনায় চার কৃষক নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮), জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের নুরুজ্জামান (৪০) এবং ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান (৪৫)। এছাড়া দিরাই উপজেলায় বজ্রপাতে লিটন মিয়া (৩৮) নামে আরও এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার পরপরই বজ্রপাত শুরু হয়। এর মধ্যে হাওরে কর্মরত কৃষকরা আক্রান্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে হাঁসের খামারে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আবুল কালাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় তার সহকর্মী নূর মোহাম্মদ গুরুতর আহত হন।
জামালগঞ্জের পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নুরুজ্জামান এবং তার চাচাতো ভাই তোফাজ্জল হোসেন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন।
ধর্মপাশার টগার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন হাবিবুর রহমান।
আহত তোফাজ্জল হোসেন ও নূর মোহাম্মদকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া দিরাই উপজেলার পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া শনিবার দুপুর ১টার দিকে কালিয়াগোটার (আতরার) হাওরের একটি বিলের পাশে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার লিটন মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মতিউর রহমান ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে প্রাণ হারানো কৃষকদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত আর্থিক অনুদান প্রদানের জন্য স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতি বছর বোরো মৌসুমে হাওর অঞ্চলে বজ্রপাত বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ায়। উন্মুক্ত হাওরে আশ্রয়ের অভাব এবং ধান কাটার তাগিদে কৃষকদের মাঠে অবস্থান করায় এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
৪ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে ওসমানী হাসপাতালে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
হাম-রুবেলার সংক্রমণে উদ্বেগ বাড়ছে সিলেটে। এই রোগের উপসর্গ নিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক দিনে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ৫ জনে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হাসপাতালের উপপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গতকাল (বুধবার) রাতে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু দুটি মারা যায়।
মারা যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে হুজাইফা (১০ মাস) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদুন এলাকার জাকির হোসেনের মেয়ে। অপর শিশু মো. আব্দুল্লাহর (১০ মাস) গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পলভাগে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুজাইফের মৃত্যু হয়। সে হৃদ্যন্ত্র বিকলতা ও ব্রঙ্কোনিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল এবং হামের সন্দেহও ছিল। অন্যদিকে, একই দিন বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়। তাকে গত ১৩ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, শক, হৃদ্যন্ত্র বিকলতা, ব্রঙ্কোনিউমোনিয়া এবং হামজনিত জটিলতায় তার মৃত্যু হয়েছে।
শহিদ সামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. মিজানুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৩ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন প্রাপ্ত বয়স্ক, বাকিরা শিশু। এ নিয়ে হাসপাতালে ৬৭ জন রোগি ভর্তি রয়েছেন বলে জানান তিনি।
৬ দিন আগে
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে, শত একর বোরো ধান হুমকিতে
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে আকস্মিকভাবে বাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতে পানি ঢুকছে। এতে শত শত একর জমির আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, হাওরের গুজাউনি বাঁধের একটি অংশ ভেঙে দ্রুতগতিতে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। ফলে ইতোমধ্যে বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে চলে যেতে শুরু করেছে। অসহায় কৃষকরা বাঁধের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করে দেশবাসীর কাছে সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধসংলগ্ন একটি বিলের ইজারাদার মাছ আহরণ শেষে বাঁধটি যথাযথভাবে মেরামত না করে দুর্বল অবস্থায় রেখে দেন। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধটি ভেঙে যায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং এলাকাবাসী বাঁশ, বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালান।
ওই এলাকার কৃষক সোলেমান মিয়া বলেন, এই হাওরে আমাদের কয়েক হাজার একর জমি রয়েছে। দ্রুত বাঁধ মেরামত করা না গেলে পুরো ফসল পানির নিচে চলে যাবে।
তিনি আরও জানান, উথারিয়া বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে ক্ষতি অনেকটা কমানো সম্ভব হতো।
আরেক কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, বিলের মালিক সঠিকভাবে বাঁধ সংস্কার না করায় পানির চাপে এটি ভেঙে গেছে। এখন পাউবো ও এলাকাবাসী মিলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছে।
পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ১০০টি জিও ব্যাগ ও বাঁশ ব্যবহার করে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার কাজ করা হচ্ছে। এখন পানি প্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে, আশা করি ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হবে না।
এদিকে, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, দেখার হাওরের এই বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন নয়। তবুও ফসল রক্ষায় বাঁধটি মেরামতের জন্য আমাদের একটি টিম এলাকায় কাজ করছেন।
৯ দিন আগে
ভোক্তা-কৃষকের সরাসরি সংযোগে সিলেটে ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধন
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী দামে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে সিলেটে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু হয়েছে ‘কৃষকের হাট’।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট-সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ‘সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য’ স্লোগানে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রির সুযোগ পাবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সরকার নানা ধরনের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। অনেক সময় উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কৃষিপণ্য চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়, ফলে অযৌক্তিকভাবে দাম বেড়ে যায়। ‘কৃষকের হাট’ এই মধ্যবর্তী স্তর কমিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে। ভোক্তা-কৃষকের সরাসরি সংযোগে বাজারে স্বস্তি আসবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে, যেখানে কৃষকরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করবেন। প্রশাসনের নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
১১ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় খাসিয়াদের ছররা বন্দুকের গুলিতে সালেহ আহমেদ জয়ধর (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে ভারতের প্রায় ১ কিলোমিটার ভেতরে একটি সুপারি বাগানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সালেহ আহমেদ কোম্পানীগঞ্জের দয়ারবাজার-সংলগ্ন কারবালার টুক গ্রামের বাসিন্দা।
আজ (শুক্রবার) দুপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সালেহ আহমেদ ও তার আরও দুই সহযোগী মিলে মাদকের চালান আনার উদ্দেশ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা চংকেটের বাগান ও মারকানের বাগানের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় ভারতীয় খাসিয়া সম্প্রদায় তাদের ‘সুপারি চোর’ সন্দেহে ছররা বন্দুক দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে সালেহ আহমেদ জয়ধর গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
পরে সালেহর সঙ্গে থাকা নাজিরগাঁও গ্রামের মো. সুমন মিয়া (২৫) এবং কারবালার টুক গ্রামের মো. মাসুম আহম্মদ (২০) তার মরদেহ বহন করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিজিবি জানিয়েছে, ওই তিনজনই এর আগে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আনা-নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
১২ দিন আগে
সুনামগঞ্জে গ্যারেজে অটোরিকশা রাখা নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশ-পথচারীসহ আহত শতাধিক
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় গ্যারেজে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও পথচারীসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জের ছাতক রোডে দিঘলী খোজার পাড়ার জাবেদ মিয়ার গ্যারেজে অটোরিকশা রাখতে গেলে তার সঙ্গে চালক ছাদিক মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এরপর মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গ্যারেজের বাইরে। পরে গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে দীঘলী ও তিকপুরের শতাধিক লোকজন জড়ো হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ছাতক থানা, জাউয়া তদন্তকেন্দ্র ও জয়কলস হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লেও দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়নি। তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে পুলিশ, পথচারীসহ শতাধিক লোক আহত হয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত কমপক্ষে ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, সহিংসতার কারণে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। তিনটি সড়কের দুইপাশে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে থাকে। রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং বিদেশগামী যাত্রীদের সে সময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাবলু দাশের ওয়ার্কশপে রাখা সাতটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তবে দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করেন। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং আটকে থাকা সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে এসআইসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে এবং নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ টহল জোরদার রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
১৩ দিন আগে
হবিগঞ্জে সার্টিফিকেট জালিয়াতি চক্রের এক সদস্য আটক
হবিগঞ্জে সার্টিফিকেট জালিয়াতি চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর এলাকায় এক অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের একটি আভিযানিক দল। এ সময় সার্টিফিকেট জালিয়াতি চক্রের সদস্য আব্দুল বাছিত রিয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জেলার বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ যাত্রাপাশা গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ভুয়া শিক্ষাগত সনদ তৈরি করে প্রতারণা করে আসছিল। অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ ও সনদের পিডিএফ কপি তৈরি করে বিক্রি করতেন আটক ওই যুবক। মুল সনদ রাজশাহী থেকে প্রিন্ট করে কুরিয়ারে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হতো।
র্যাব-৯-এর সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোশাররফ হোসেন সাগর বলেন, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান চলছে।
১৪ দিন আগে