সিলেট
সিলেটে ‘দায়ের কোপে’ বাবার মৃত্যুর অভিযোগ, ছেলে আটক
সিলেটের গোলাপগঞ্জে ছেলে সুলতান আহমদের দায়ের কোপে দুলু মিয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তি খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার লক্ষিপাশা ইউনিয়নের জাঙ্গালহাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুলু মিয়া ওই গ্রামের মৃত কুটু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, দুলু মিয়ার ছেলে প্রবাস (ফ্রান্স) ফেরত সুলতান সাত মাস আগে দেশে ফেরেন। ফেরার পর থেকে তার বাবার সঙ্গে ঝামেলা লেগেছিল। এই ঝামেলার জেরে নিজ বাড়িতে বাবাকে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন ছেলে সুলতান।
আরও পড়ুন: সাভারে ট্রাকচাপায় পুলিশের উপপরিদর্শকের মৃত্যু, চালক আটক
পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে তারা লাশ উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান। এ সময় ছেলেকে আটক করে নিয়ে যায়।
গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, ‘পরিবার সূত্রে জানা গেছে—সুলতানের মানসিক সমস্যা রয়েছে। তাই এমন হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছেন।’
১১ ঘণ্টা আগে
ভারতীয় পোশাক কম থাকলেও সুনামগঞ্জে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা
আর কটা দিন পর ঈদুল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে কেনাকাটা। জেলা শহর ছাড়া গ্রামগঞ্জের বাজারগুলোতেও চলছে কেনাকাটার ধুম। নতুন ফ্যাশনের জামা কিনতে এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে চলছে ছোটাছুটি। তরুণ-তরুণী ও শিশুরা ঈদের বাজার জমে তুলেছেন। শাড়ি, গহনা, ড্রেস, পাঞ্জাবি, পায়জামা, শিশুদের পোষাক কিনতে দোকানে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা দেশীয় পোষাক তুলেছেন বেশি। নতুন নতুন ডিজাইন নিয়ে ছেলে মেয়েদের আকৃষ্ট করছেন তারা। ক্রেতারাও দেশি পোষাক কিনতে আগ্রহী আছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে এবার ভারতীয় নায়ক নায়িকাদের নামে পোষাকের সমারোহ চোখে পড়েনি। পাকিস্তানি পোষাক পছন্দের তালিকায় স্থান পেয়েছে ক্রেতাদের। এদিকে আফগান টুপি, নারীদের ফারসী ড্রেস বেশি বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিন মধ্যবাজার সোহানাজ ক্লথিং শপে দেখা যায়, পাকিস্তানি সারারা গারারা ড্রেস বিক্রি হচ্ছে বেশি। এছাড়া বিক্রি হচ্ছে ফারসী নামের ড্রেস।
দোকান মালিক মতিউর রহমান খোকন জানান, দেশি কাপড়, ভারতীয় এবং পাকিস্তানি কাপড় বেশি কিনছেন ক্রেতারা। ভারতীয় কাপড় এবার মার্কেটে কম এসেছে। ক্রেতারাও তেমন কিনছেন না।
শাওন বস্ত্রালয়ের প্রোপাইটার শাওন জানান, দেশি কাপড়ের চাহিদা বেশি। এরপরে পাকিস্তানি ড্রেসের দিকে নজর বেশি।
ভারতীয় কাপড়ের চাহিদা কম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় কাপড় আগের মতো আসছে না। এসব কাপড়ই ঢাকার ব্যবসায়ীরা নায়ক নায়িকার নাম দিয়ে বাজারে ছেড়ে দিতেন। এবার ঈদে ভারতীয় ড্রেস নায়ক নায়িকার নামে আসে নাই। একই অবস্থা শহরের দোজা, সুরমা মার্কেটে।
আরও পড়ুন: ১২ বছরেও শেষ হয়নি ফেলানী হত্যার বিচার
ক্রেতা হাজেরা খাতুন বলেন, মার্কেটে শপিং করতে গিয়েছিলাম। পথে পথে ভিড় বেশি। তবুও কয়েকটি শপিং মল ঘুরে দেশীয় ও পাকিস্তানি কয়েকটি ড্রেস কিনে এনেছি। দাম খুব বেশি। ভারতীয় ড্রেস এবার মার্কেটে চোখে পড়েনি। তাই কেনা হয়ে উঠেনি।
ক্রেতা সুমন বলেন, আমি পরিবারের সবার জন্য দেশীয় কাপড় কিনেছি। দেশি ড্রেসে ডিজাইন ও গুনগত মান ভালো। দাম একটু বেশি হলেও মন্দ না।
আবু বক্কর নামের এক ক্রেতা জানান, এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেট যেতে যানজটের বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। যানজট নিরসনে ট্রাফিকের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। যানজট পোহাতে পোহাতে ঈদের শপিং করতে হচ্ছে। ঈদের বাজারে সবকিছুর দাম বেশি বলেও জানান তিনি।
১ দিন আগে
বিয়ানীবাজারে শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে উঠছেন ‘শেষ ঠিকানা’র কারিগররা
কোনো মুসল্লির মৃত্যু হলে মৃতের গোসল, কাফন, জানাজা, লাশ বহন ও দাফন করা অপর মুসলমানের জন্য অবশ্যক হয়ে যায়। কেউ মারা গেলে যত দ্রুত সম্ভব এই কাজগুলো সম্পাদন করতে হয়।
সিলেটের বিয়ানীবাজারে কারও মৃত্যুর খবর পেলেই তড়িঘড়ি করে খুন্তি-কোদাল, দা, চাকু, স্কেল ও করাতসহ কবর খোঁড়ার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে মৃত ব্যক্তির বাড়িতে ছুটে যান ১০-১২ জন তরুণে একটি দল। কবর খোঁড়ার পর মৃত ব্যক্তির পরিবারের কারও কাছ থেকে নেন না কোনোরকম পারিশ্রমিক বা যাতায়াত খরচ।
এলাকার সবার কাছে বিশেষ সম্মানের পাত্র তারা। পরিচিতি পেয়েছেন ‘শেষ ঠিকানার কারিগর’ হিসেবে। কবর খোঁড়ার নিখুঁত, সুদক্ষ ও সুনিপুণ কারিগর হিসেবে তারা সর্বত্র পরিচিতি পেয়েছেন। এমন আত্মিক কাজে তৃপ্ত হয়ে তারা বিয়ানীবাজার পৌরশহরের কসবা-খাসা গ্রামে গড়ে তুলেছেন ‘শেষ ঠিকানা’ নামের একটি সংগঠন।
বর্তমানে এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৫০-এর কাছাকাছি। এক দিনে একাধিক কবর খোঁড়ার প্রয়োজন হলে তারা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে যান। মৃত ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে বাঁশ কাটা, কবর খোঁড়া শেষ করে দাফন পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন তারা।
সংগঠনের ডায়েরিতে লেখা তথ্য অনুযায়ী, তারা এ পর্যন্ত ৪ হাজারের ওপর কবর খুঁড়েছেন। শুধু দুই গ্রামেই নয়, পৌরশহরে কোথাও মৃত্যুর খবর শুনলেও ছুটে যান সংগঠনটির সদস্যরা।
নিজেদের কর্মকাণ্ডের প্রচারের জন্য সংগঠনের সদস্যদের নিয়মিত চাঁদায় তারা মাইক সেট কিনেছেন। দূর-দূরান্তে যেতে এখন একটি অটোরিকশাও কেনার স্বপ্ন তাদের।
গ্রামবাসী জানায়, শেষ ঠিকানার সদস্যরা এই অঞ্চলের মানুষর হৃদয় জয় করেছেন। তারা দৈনন্দিন কাজ ফেলে মৃত মানুষকে চিরশয্যায় শায়িত করার কাজ করছেন। চাহিদাবিহীন এই সংগঠনের সদস্যদের নীতি-নৈতিকতা এলাকার সবাইকে মুগ্ধ করে।
৩ দিন আগে
সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে নিষেধ করায় ওসমানী হাসপাতাল-কর্মীদের ওপর হামলা
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নার্স ও স্টাফদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। এ সময় পুলিশের নায়েক সুবাশীষ, হাসপাতালের স্টাফ মিটু ও এক নার্সসহ মোট চারজন আহত হন।
আরও পড়ুন: মসজিদে হামলা-চাঁদাবাজি মামলায় জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য গ্রেপ্তার
আটকরা হলেন— জকিগঞ্জ শাহজালালপুরের বাসিন্দা ও বর্তমানে নগরীর মীরবক্সটুলা ভাই ভাই রেস্তোরাঁর কর্মচারী গিয়াস উদ্দিন রানা, তার ভাই মোস্তাক হোসেন এবং একই রেস্তোরাঁর কর্মচারী জকিগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুর রহিম।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, (সোমবার) রাত ৮টার দিকে নগরের মীরবক্সটুলায় দোকানে বসে চা পান করছিলেন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের দুই (পুরুষ) নার্স। পাশেই সিগারেট খেয়ে ধোঁয়া ছাড়ছিলেন রেস্তোরাঁর কর্মীরা। এ সময় সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে নিষেধ করলে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রেস্তোরাঁ থেকে হাতুড়ি ও লোহার রড নিয়ে ১০-১২ জন কর্মী গিয়ে দুই নার্সের ওপর হামলা করেন। হামলায় আহতরা চিকিৎসা নিতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেলে সেখানে গিয়ে ফের তাদের ওপর হামলা করেন রেস্তারাঁর কর্মীরা।
এ সময় একটি কক্ষে নার্সদের তালাবদ্ধ করে রাখেন তারা। আহতরা নার্স ও চিকিৎসকের সংরক্ষিত কেবিনে গিয়ে আশ্রয় নিলে সেখানে গিয়েও চেয়ার তুলে হামলাকারীরা আঘাত করেন বলে অভিযোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালের ক্যাম্প পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তাদের ওপরও চড়াও হন রেস্তারাঁর উত্তেজিত কর্মীরা। পরে তাদের তিনজনকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায় পুলিশ, বাকিরা পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে ডাকাতের হামলায় মাটি ব্যবসায়ী নিহত
হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘সিগারেট ধোঁয়া ছাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যরা পালিয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘হামলাকারীরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফের আহতদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় নার্স ও পুলিশ সদস্যসহ চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
৩ দিন আগে
সুনামগঞ্জে কানাইখালী নদী দখল করে দালান নির্মাণের অভিযোগ
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের কানাইখালী নদীর তীর দখলে নিয়ে মাটি ভরাট করে দালান কোঠা নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী মোজাম্মেল খানের বিরুদ্ধে।
ফেনারবাঁক ইউনিয়নের এই নদী উপজেলার পাকনা হাওরের উজান অংশ ভীমখালি ইউনিয়ন ও নয় মৌজা এলাকার হাজার হাজার কৃষকের বোরো জমির পানি নিষ্কাশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এ পথে দালানকোঠা নির্মাণ করায় সংকুচিত হয়ে পড়ছে কানাইখালী নদী। ফলে সময়মতো পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। জমিতে পিছিয়ে ফসল রোপন করতে হয় কৃষকদের। ফলে আগাম বন্যার শঙ্কা তাড়া করে কৃষকের বুকে।
স্থানীয়রা জানান, জামালগঞ্জের এক সময়ের বিএনপি নেতা ছিলেন মোজাম্মেল খান। গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তিনি বনে যান আওয়ামী লীগ। সেখানকার সাবেক সংরক্ষিত মহিলা এমপি শামীমা আক্তার খানমের হাত ধরে ঘটে তার উত্থান। তার খুঁটির জোরেই কানাইখালী নদীর তীর দখল করে দানকোঠা নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন মোজাম্মেল খান। ভয়ে কেউ তখন প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। ৫ আগষ্টের পর পট পরিবর্তনের পর তিনি হয়ে উঠেন বিএনপি। ফেসবুকে বিএনপি’র প্রচারণা করতে দেখা যায়।
জানা গেছে, জায়গা দখলে রাখতে তিনি এখন বিএনপি’র পরিচয় তুলে ধরছেন। তিনি ফেনারবাঁক ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে আধিপত্য নিয়ে বিএনপি-ছাত্রদলের সংঘর্ষ, নিহত ১
ফেনারবাঁক গ্রামের কৃষক আক্কার হোসেন বলেন, মোজাম্মেল খান নদীর তীর দখল করে দালান কোঠা করেছেন। এতে নদীর পানি প্রবাহের পথ ছোট হয়ে আসছে। হাওরের কৃষকরা এখন সময় মতো কৃষি জমি রোপন করতে পারেন না। এটি আমাদের জন্য খুব ক্ষতি হয়েছে।
কৃষক জানু মিয়া বলেন, মোজাম্মেল তার ক্ষমতা দেখিয়ে নদীর পাড় দখল করে দালান কোঠা বানাচ্ছে। এটি অন্যায়। তার দখলের কারণে পায়ে চলার মূল রাস্তা ও নদী পথ ছোট হয়ে গেছে। এতে এলাকাবাসীর ক্ষতি করেছে সে। দ্রুত এটি ভেঙ্গে দিয়ে নদীর পাড় উন্মুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
ওই এলাকার তৌফিক চৌধুরী বলেন, মোজাম্মেল খান নদীর তীর দখল করায় কানাইখালী নদীর পথ পানি প্রবাহে বাধাঁ হয়েছে। যা চলতি বছর ভীমখালী ইউনিয়ন নয় মৌজা এলাকাসহ অনেক গ্রামের কৃষকদের কৃষি কাজ ব্যাহত হয়েছে। হাজার হাজার কৃষকের বোরো জমি রোপনে ক্ষতি করেছে। এই নদী দিয়ে পাকনা হাওরের উজানের পানি নিষ্কাশন হতো। শুধু তাই নয় দালান কোঠা নির্মাণ করে জানসাধারণের চলার রাস্তাও সে দখল করেছে। যা পথচারীরা যাবাহন নিয়ে স্বাভাবিক ভাবে চলা ফেরা করতে পারেনা।
জামালগঞ্জের পশ্চিম ফেনারবাঁক গ্রামের সামনে কানাইখালী নদীর তীর দখল করে দালান কোঠা নির্মাণের কারণ জানতে চাইলে মোজাম্মেল খান জানায়, নদীর তীর খালি আছে সে জন্য ঘর নির্মাণ করেছি। প্রয়োজন হলে ভেঙ্গে ফেলব।
এ ব্যাপারে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো কোন সুরাহ হয়নি।
জামালগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীনুর বলেন, নদীর তীর দখল করে দালানকোঠা নির্মাণের বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এরকম হয়ে থাকে দখল উচ্ছেদ করা হবে।
৩ দিন আগে
সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক গ্রেপ্তার
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিলেট জেলার আহ্বায়ক আখতার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।রবিবার (২৩ মার্চ) ভোরে সিলেট জালালাবাদ থানার আউশা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আখতার হোসেন ওই এলাকার আব্দুল মুনিরের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহপরান (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় মেছো বিড়াল হত্যার দায়ে মামলা, গ্রেপ্তার ১
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সিলেট জেলা শাখা নগরীর একটি কনভেনশন হলে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মাহবুবুর রহমান শান্ত নামের সিলেটের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহত হন। রাতে এই ঘটনায় শাহপরান (রহ.) থানায় শান্ত বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সিলেট জেলার আহ্বায়ক আখতার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শাহপরান (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, এনসিপির ইফতার মাহফিলে হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী মাহবুবুর রহমান শান্ত নামের একজন মামলা দায়ের করেছেন। এরই প্রেক্ষিতে আজ ভোরে আখতার নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই মামলার তিন নাম্বার আসামি। আক্তার ছাড়াও মামলায় আরও একাধিক এজাহারভুক্ত আসামি রয়েছেন। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
৫ দিন আগে
নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
সুনামগঞ্জের পৌর শহরের একটি পাঁচতলা ভবন থেকে পড়ে মনোয়ার নামে এক নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) দুপুরে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে পানসী রেস্টুরেন্টের নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মনোয়ার সদর উপজেলার ব্রাহ্মণগাও গ্রামের সাবির আলীর ছেলে।
আরও পড়ুন: কুয়েটে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
ভবনে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, রেস্টুরেন্টের ওপরে একটি আবাসিক হোটেলে নির্মাণের কাজ করার সময় অসাবধাণতাবশত নিচে পড়ে আহত হন। পরে শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে।’
৭ দিন আগে
ফিলিস্তিনিদের হত্যার প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ফিলিস্তিনিদের নির্বিচারে হত্যার প্রতিবাদে ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর শাখা। এ সময় ইসরায়েলি সকল পণ্য বর্জনের আহ্বান জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।
বুধবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এই কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। এতে মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
মানবিবন্ধনে বক্তারা বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপরে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালাচ্ছে। তারা আমাদের হাজার হাজার ভাই-বোনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে।
তারা বলেন, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা, বিদ্যুৎ ও পানিসহ সবদিক থেকে নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে আমাদের ভাইয়েরা। এছাড়া খাদ্যের অভাবে ফিলিস্তিনিরা হাহাকার করছে, মৃত্যুবরণ করছে। এই অবস্থায় একজন মুসলিম হিসেবে আমরা নিশ্চুপ থাকতে পারি না।
তারা আরও বলেন, দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী ও তার দোসর আমেরিকা ও ভারতের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে তাদের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। ইসরায়েলের সকল পণ্য বর্জন করতে হবে।
আরও পড়ুন: ধর্ষকদের শাস্তি ও নারীদের নিরাপত্তার দাবিতে জাবিতে মানববন্ধন
আমাদের প্রতিটি স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান নেতারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) সভাপতি তারেক মনোয়ার, সিলেট জেলা পূর্ব সভাপতি মারুফ আহমদ, সিলেট জেলা পশ্চিম সভাপতি মনিরুজ্জামান পিয়াস।
মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন সিলেট মহানগর সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম সাজু। এছাড়াও মানববন্ধনে সিলেট মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
সিলেটে যুবককে খুন করে টাকা ও মোটরসাইকেল ‘ছিনতাই’
সিলেটের গোয়াইনঘাটে সাহেল শাহরিয়ার নামে এক যুবক খুন হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে না পারলেও পুলিশের ধারণা, টাকা ও মোটরসাইকেল ছিনতাই করতেই তাকে খুন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার রাধানগর বাজারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
সাহেল (২০) উপজেলার পশ্চিম আলিরগাঁও ইউনিয়নের পুর্নানগর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোরে মোটরসাইকেল করে গোয়াইনঘাট থেকে জাফলংয়ে যাওয়ার পথে দুষ্কৃতিকারীদের কবলে পড়ি শাহরিয়ার। এ সময় তাকে আঘাত করে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে তার মোটরসাইকেল ও নগদ টাকা নিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। লাশে একাধিক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ছিনতাই নাকি পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
১০ দিন আগে
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার
বহুল আলোচিত সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা বদলি করতে হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। ফলে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ২০২০ সালে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় দুই অভিযোগের বিচার চলবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে।
সোমবার (১৭ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ খারিজ করে এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ। রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, ব্যারিস্টার কামারুন মাহমুদ দীপা।
২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে শাহ পরান থানায় মামলা করেন।
মামলায় আটজনকে অভিযুক্ত করে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
আইনজীবী এম আব্দুল কাইয়ুম লিটন জানান, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর চেয়ে রিট করেছিলেন ভিকটিমের স্বামী। প্রায় দুই বছর পরে সোমবার মামলার শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষ নিজেদের আপিল প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর মাধ্যমে হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকল। এখন এ বিচারকাজ দ্রুততার সঙ্গে ত্বরান্বিত হবে এবং যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত হবে বলে আশা করি। মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে ছিল। তারপর এটি আর এগোয়নি বলে জানান আইনজীবী।
এ ধর্ষণ মামলায় ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক চৌধুরী।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সৎ বাবা গ্রেপ্তার
অভিযোগপত্রে আসামিরা হলেন- সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম।
এছাড়া এ ঘটনায় চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়রা আদালতে পৃথক অভিযোগ পত্র দেওয়া হয়। পরে বাদীপক্ষ হাইকোর্টে আসলে দুটি মামলা এক আদালতে চলবে বলে আদেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর ২০২২ সালের ১১ মে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনায় অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন আদালত।
২০২১ সালের জানুয়ারিতে ধর্ষণ মামলায় এবং চাঁদাবাজির মামলায় ২০২২ সালের মে মাসে অভিযোগ গঠন করা হয়। কিন্তু সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি। এ কারণে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার চেয়ে মামলার বাদী হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি শেষে ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। রায়ে ৩০ দিনের মধ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বদলির জন্য প্রজ্ঞাপন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল।
১০ দিন আগে