সিলেট
বুধবার সিলেট নগরীর যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না
বৈদ্যুতিক লাইন ও ট্রান্সফরমারের জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের কারণে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এতে সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে পারেন সেসব এলাকার গ্রাহকরা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিলেট বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মু. তানভীর হায়দাদের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৩৩/১১ কেভি আম্বরখানা ফিডার ও লাক্কাতুড়া ফিডারের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
আম্বরখানা ফিডারের আওতায় রয়েছে: আম্বরখানা মসজিদ, দত্তপাড়া, আম্বরখানা সরকারি কলোনি, মজুমদারী, কমলা বাগান, পূর্ব পীরমহল্লা ও হাউজিং এস্টেট ফরিদাবাদ আবাসিক এলাকা।
এছাড়া লাক্কাতুড়া ফিডারের আওতায় বাদাম বাগিচা, বড়বাজার, চৌকিদেখী, আনার মিয়ার গলি, সৈয়দ মূগনী, ইলাশকান্দি, উদয়ন, পাহাড়িকা, বড়বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দারুস সালাম মাদ্রাসা, দবির মিয়ার গলি, শেভরন এলাকা, লাক্কাতুড়া চা বাগান, বনশ্রী আবাসিক এলাকা ও আশপাশের এলাকায়ও বিদ্যুৎ থাকবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুর রাজ্জাকের সই করা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১১ কেভি রায়নগর ফিডারের আওতাধীন সেনারপাড়া, মজুমদারপাড়া, দর্জিপাড়া, পূর্ব মিরাবাজার, খারপাড়া ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
সেইসঙ্গে সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১১ কেভি নাইওরপুল ফিডারের আওতাধীন কাজী জালাল উদ্দিন স্কুল এলাকা, নাইওরপুল পয়েন্ট, ওসমানী জাদুঘর, ধোপাদিঘীর উত্তরপাড়, অনাবিল, হোটেল অনুরাগ, ঝরণারপাড়, কুমারপাড়া পয়েন্ট, শাহী ঈদগাহসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না।
নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)।
১৯ ঘণ্টা আগে
দুপুর থেকে গ্যাস থাকবে না সিলেটের যেসব এলাকায়
জরুরি সংস্কার কাজের কারণে আজ সোমবার সিলেট মহানগরীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আব্দুল মুকিতের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাদিম ডিআরএস থেকে চামেলিবাগ, নূরপুর, মোহাম্মদপুর, পূরবী আবাসিক এলাকা, ইসলামপুর, শ্যামলি আবাসিক এলাকা, টেক্সটাইল রোড, রাজপাড়া, মেজরটিলা, টিলাগড় পয়েন্ট, লামাপাড়া ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কারিগরি কারণে কাজ শেষ হওয়ার সময় কিছুটা কম বা বাড়তে পারে।
মো. আব্দুল মুকিত গ্রাহকদের সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
১ দিন আগে
রাতভর নাটকীয়তার পর সকালে জামিনে মুক্ত হবিগঞ্জের সেই বৈষম্যবিরোধী নেতা
রাতভর নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে আজ রবিবার সকালে জামিন পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব মাহদী হাসান।
গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে তাকে হবিগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়। তবে কী অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানতে গতকালই সংবাদকর্মীরা যোগাযোগ করলেও, হবিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার, কেউই মুখ খোলেননি।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে মাহদীকে হবিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মাহদীর আইনজীবী আব্দুল মালেক হৃদয় মাহদির জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
এই নেতার বিরুদ্ধে বেআইনি লোকজন মিলিত হয়ে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দেখানো হয়েছে।
এদিকে, মাহদীর মুক্তির দাবিতে রাতভর হবিগঞ্জ থানার ফটকের সামনে অবস্থান নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। তারা মাহদীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে স্লোগান দেন। থানা এলাকার পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, সেজন্য পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। এছাড়া গতরাতে রাজধানীর শাহবাগে জড়ো হয়েও মাহদীর মুক্তির দাবি জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে রাত সোয়া ১টার দিকে পুলিশ একটি মাইক্রোবাসে করে মাহদীকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই তাকে আদালতের মাধ্যমে জামিন দেওয়ার প্রস্তুতির কথা শোনা গেলেও বিচারক না আসায় তাকে কোর্ট হাজতে রাখা হয়।
উল্লেখ্য, শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হাসান নয়নকে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।
নয়নকে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার নেতা-কর্মীরা তার মুক্তির দাবিতে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানা ঘেরাও করেন। এ সময় জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র অধিকার আন্দোলনের সদস্যসচিব মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী ওসির কক্ষে অবস্থান নেন। তারা দাবি করেন, নয়ন একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরে তিনি জুলাই আন্দোলনে জড়িত হন। তারা নয়নকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি করেন।
আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে একপর্যায়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ওসির সঙ্গে তর্কে জড়ান মাহদী হাসান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাহদী ওসিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই জায়গায় আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আপনারা আমাদের ছেলেদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন। আবার আমাদের সঙ্গে বার্গেনিং করছেন। আপনি (ওসি) বলেছেন, “আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে?”’ একপর্যায়ে মাহদী হাসান ওসিকে বলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম; এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে উনি (ওসি) কোন সাহসে এটা (আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে) বললেন। আমি স্ট্রিকলি এখানে আসছি। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছে নাকি?’
খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ছুটে যান। তার মধ্যস্থতায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এনামুল হাসানকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এ বিষয়ে মাহদী হাসান বলেন, ‘আটক হওয়া ছাত্রনেতা একসময় ছাত্রলীগ করলেও তিনি জুলাই আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। শুধু তার অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে আসে।’
মাহদী প্রশ্ন তোলেন, ‘আমাদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে মূল সমন্বয়কারীদের একজন সারজিস আলম। তিনিও তো একসময় ছাত্রলীগ করেছেন। তাহলে তিনিও কি অপরাধী?’ তিনি দাবি করেন, তাদের তিন নেতা-কর্মীকে আটক করে শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ আগেও ‘অপরাধ’ করেছে।
বানিয়াচং থানা জ্বালিয়ে দেওয়া ও পুলিশকে পুড়িয়ে ফেলার মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি স্লিপ অব টাং (মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে)।’
তবে, ওই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মাহদীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুস্পষ্ট জবাব দিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের সই করা একটি শোকজ নোটিশ গতকাল বিকেলে প্রকাশিত হয়। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংগঠনের কার্যক্রম থেকে তাকে বিরত থাকতেও নোটিশে বলা হয়েছে। কারণ দর্শনোর নোটিশ মাহদী পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, ‘আমরা তাকে (এনামুল) বৈষম্যবিরোধী একটি মামলায় সন্দেহভাজন ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আটক করি। ওই দিন রাত বেশি হওয়ায় আমরা যাচাই-বাছাই করতে পারিনি। পরদিন নানাভাবে তথ্য নিয়ে আমরা জানতে পেরেছি, আটক হওয়া ব্যক্তি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
২ দিন আগে
সিলেটে তাপমাত্রা নেমেছে ১২ ডিগ্রিতে
সিলেটে শীত আরও বেড়েছে। কমেছে তাপমাত্রা। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সিলেটের তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রিতে নেমে গেছে।
শীতের সঙ্গে দেখা দিয়েছে ঘন কুয়াশা। আজ (বুধবার) দুপুর ১২টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে কনকনে ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েছে নগরবাসী।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের উপ-সহকারী আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার জানান, সিলেটে আজ সকালে তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
৬ দিন আগে
সুনামগঞ্জের শতবর্ষী হিজল বাগান দখলদারদের ইউএনওর হুঁশিয়ারি
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের রংচী গ্রামের শতবর্ষী হিজল বাগান দখল ও ধ্বংসের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায়।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) উপজেলা উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান সিদ্দিকীসহ গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে রংচী গ্রামের ঐতিহ্যবাহী হিজল বাগান পরিদর্শন করেন ইউএনও।
অভিযানকালে বাগানের ভেতরে অবৈধভাবে মাটি অপসারণ, গাছ কাটার চিহ্ন ও কৃষিকাজের প্রস্তুতির আলামত দেখতে পান তিনি। তারপর বনের ভেতরে জায়গা নির্ধারণ করে চাষাবাদের জন্য সমতল করা জমিতে চলমান কাজ বন্ধ করে দেন এবং সংশ্লিষ্টদের কড়া ভাষায় সতর্ক করেন তিনি।
একইসঙ্গে বাগানের ভেতরে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের কৃষিকাজ বা গাছ কাটার ঘটনা ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
ইউএনও বলেন, রংচী গ্রামের শতবর্ষী হিজল বাগান শুধু একটি বন নয়; এটি এই এলাকার প্রাকৃতিক ঢাল ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে অবৈধভাবে গাছ কাটা, মাটি তোলা কিংবা চাষাবাদ করার কোনো সুযোগ নেই। যারা এই বাগান দখলের চেষ্টা করবে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উজ্জ্বল রায় আরও জানান, হিজল বাগানটি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে বাগানটি ঘিরে সীমানা চিহ্নিতকরণ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নতুন হিজল চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় স্থানীয়রা ইউএনওর এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের দ্রত পদক্ষেপ না এলে ঐতিহ্যবাহী হিজল বাগানটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যেত। বাগানটি সংরক্ষণে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা।
৭ দিন আগে
‘প্রবাসীদের করমুক্ত বিনিয়োগসহ নানা সুবিধা প্রদান করবে সরকার’
প্রবাসীদের কারণেই অর্থনৈতিকভাবে অনেক শক্তিশালী বাংলাদেশ। এ দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবাসীদের অবদান রয়েছে। তাই সরকার প্রবাসীদের করমুক্ত বিনিয়োগসহ নানা সুবিধা প্রদান করবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল নাসের খান।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেট নগরীর রিকাবীবাজারের কবি নজরুল অডিটরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত প্রবাসী সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আব্দুল নাসের খান বলেন, নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য সিলেটে এনআরবি বিনিয়োগ জোন হতে পারে। পাশাপাশি সিলেটে একটি এনআরবি স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার আহ্ববান জানান তিনি। সেজন্য জমি, কাগজপত্র, নিরাপত্তাসহ সকল ভোগান্তি দূর করার বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
জানা যায়, গত ১৭ নভেম্বর সিলেট জেলা প্রশাসন সিলেটের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ছয় ক্যাটাগরিতে আবেদন আহ্বান করে। ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হয়। গত ২০ দিনে ৫৮২টি আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে ১০৩ জনকে সম্মাননা প্রদান করেছে।
১০ দিন আগে
সিলেট থেকে উড়াল দিয়েছে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান
সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজটি।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪ মিনিটে উড়োজাহাজটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। দুপুর পৌনে ১২টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অবতরণ করার সময় নির্ধারিত রয়েছে।
এর আগে, যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে রওনা হয়ে আজ সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে উড়োজাহাজটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে কিছু সময় যাত্রাবিরতি দেওয়া হয়।
তারেক রহমানকে বহনকারী বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিজি-২০২ ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। প্রায় ১৭ বছর পর তারেক রহমানের দেশে ফেরার এই যাত্রায় তার সঙ্গে আছেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
তারেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানও যুক্তরাজ্য থেক দেশে ফিরেছেন।
২০০৭ সালের জানুয়ারিতে দেশের ক্ষমতা নেওয়া সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন বিএনপির তৎকালীন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান। ঢাকা সেনানিবাসে শহীদ মইনুল সড়কের বাসা থেকে যৌথ বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে দেওয়া হয় এক ডজনের বেশি মামলা। যৌথ বাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে ভর্তি করা হয় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে।
১৮ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে জামিনে মুক্তি পান তিনি। এরপর চিকিৎসার জন্য ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা ছাড়েন তারেক রহমান।
সে সময়ের সরকারের বিধিনিষেধ আরোপের কারণে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে তার নির্বাসন জীবন শুরু হয়। দেড় যুগের এই নির্বাসনে লন্ডন থেকে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন, দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান।
সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ১৩টি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে ৭২টি মামলা হয়। এর মধ্যে অন্তত পাঁচটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় তাকে। গণমাধ্যমেও তার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় আদালতের মাধ্যমে। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একে একে সব মামলা থেকে খালাস পান তারেক রহমান।
এভিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, আজ তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি ১৯২ জন যাত্রী নিয়ে লন্ডন থেকে দেশে আসে। এর মধ্যে ৮৫ জন যাত্রীকে সিলেটে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ১০৭ জন যাত্রী নিয়ে বিমানটি ঢাকায় অবতরণ করবে।
১২ দিন আগে
সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
সিলেটে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় কৃষক দলের এক নেতা এবং এক মসজিদের ইমাম নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধা সাড়ে ৬টার দিকে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার নাজিরবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ইরন মিয়া (৫০) নিহত হয়েছেন। ওসমানীনগর থেকে মোটরসাইকেলযোগে বিশ্বনাথ ফেরার পথে একটি কাভার্ড ভ্যান তাকে চাপা দেয়।
ইরন মিয়া বিশ্বনাথ উপজেলার নোয়াগাঁওয়ের বাসিন্দা ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি ওসমানীনগরে একটি দলীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে মোটরসাইকেলে চড়ে বিশ্বনাথ ফেরার পথে নাজিরবাজারে একটি কাভার্ড ভ্যান তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতাল নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির বরেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা গেলেও এর চালক পালিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, জকিগঞ্জে প্রায় একই সময়ে দ্রুতগতির ট্রলির ধাক্কায় এক মসজিদের ইমাম নিহত হয়েছেন। উপজেলার আটগ্রাম স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মাওলানা বদরুল ইসলাম (৫৫) কাজলসার ইউনিয়নের কাজিরপাতন গ্রামের মৃত ইলিয়াস আলীর ছেলে। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাওলানা বদরুল ইসলাম বাড়ি থেকে বের হয়ে জকিগঞ্জ–সিলেট সড়কে উঠলে দ্রুতগতির একটি ট্রলি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তিনি আর জীবিত নেই। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
জকিগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. সুজন মিয়া জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘাতক ট্রলিটি জব্দের চেষ্টা চালাচ্ছে। নিহতের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের প্রক্রিয়া চলছে।
১৩ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে সবজি খেতের নিচে মিলল ভারতীয় অস্ত্র
সিলেটের সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধীনস্থ পান্থুমাই বিওপির একটি বিশেষ টহলদল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় দলটি গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী শূন্য লাইন থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের ভেতরে পান্থুমাই এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, কয়েকজন অস্ত্র চোরাকারবারী ভারত থেকে অবৈধভাবে অস্ত্র এনে অন্য একটি চোরাকারবারী গ্রুপের কাছে হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে স্থানীয় একটি সবজি খেতে মাটির নিচে চাপা দিয়ে রেখেছিল। পরে অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করলে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। এরপর ঘটনাস্থল তল্লাশি করে একটি ভারতীয় অবৈধ এয়ার গান উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে একই এলাকা থেকে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ২৫টি ভারতীয় অবৈধ এয়ার রাইফেলের স্প্রিং উদ্ধার করা হয়েছিল।
বিজিবির ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এম নাজমুল হক জানান, সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে যেন কোনোভাবেই অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করা না যায়, সে বিষয়ে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। উদ্ধারকৃত অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
১৬ দিন আগে
অপহরণের পর বিবস্ত্র করে মুক্তিপণ আদায়, সিলেটে গ্রেপ্তার ২
সিলেটে এক ব্যক্তিকে অপহরণ পরবর্তীতে বিবস্ত্র করে শারীরিক নির্যাতন এবং ভিডিও ধারণের পর মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব-৯।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে র্যাবের একটি দল সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা থানাধীন ভার্থখলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন— ওই এলাকার বাসিন্দা আহমদ হোসেন মাহিন (৩০) এবং শরীয়তপুর জেলার নাড়িয়া থানার হালইসার এলাকার বাসিন্দা সুহেল আহমদ (২৪)। আর ভুক্তভোগী সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সোনারখেওড় এলাকার বাসিন্দা।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, গত ৩০ নভেম্বর দুপুরে ভুক্তভোগী সিলেট আদালতে একটি মামলায় হাজিরা শেষে বাসে চড়ে নিজের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। অপহরণকারীরা দক্ষিণ সুরমা থানার কদমতলী ওভার ব্রিজের পূর্ব পাশে রাস্তার ওপর চলন্ত বাসের গতিরোধ করে একটি মাইক্রোবাসে করে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। মাইক্রোবাসে তুলে তারা তার দুই চোখ কাপড় দিয়ে এবং দুই হাত পেছনের দিকে বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তারা ভুক্তভোগীকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারপিট করেন। পরে নির্যাতনের ভিডিও তার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর স্বজনরা তাকে বাঁচানোর জন্য ৮ লাখ টাকার মধ্যে পৃথকভাবে ৫ লাখ টাকা ও ৩ লাখ টাকা অপহরণকারী চক্রকে পাঠান। এরপর গত ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সিলেটের তালতলা এলাকায় ভুক্তভোগীকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
১৯ দিন আগে