সিলেট
সুনামগঞ্জে ৫১ নদী-খালের ২০০ কিলোমিটার খননের পরিকল্পনা
সুনামগঞ্জের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হাওরের বোরো ফসল রক্ষা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত পানি নিষ্কাশন, নৌপথের প্রবহমানতা বৃদ্ধি ও সেচ সুবিধা বাড়াতে ১১ উপজেলার ৫১টি নদী ও খালের প্রায় ২০০ কিলোমিটার খননের পরিকল্পনা করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পাউবো কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বালু ও পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে চর পড়ে নাব্যতা হারানো নদী ও খালগুলো খননের মাধ্যমে হাওরাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের পাঁচটি নির্বাচনি এলাকার সংসদ সদস্যরা নদ-নদী ও খাল খননের তালিকা পাউবোতে পাঠিয়েছেন। সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রায় ১৯৮ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার নদী-খাল খননের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হয়েছে। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাউবো আরও জানায়, চলতি বছরই সংস্থাটির বিশেষজ্ঞ দল নদী-খাল খননের ডিপিপি তৈরি করেছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই শেষে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। বর্তমানে ডিপিপিটি পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। ২০২৭-২০২৮ অর্থবছর থেকে খননকাজ শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
নদী-খাল খননের কাজে সমন্বয়ের জন্য পাউবো সুনামগঞ্জ কৃষি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকেও চিঠি দিয়েছে। সংস্থাগুলো নিজেদের উদ্যোগে যেসব নদী ও খাল খনন করছে, সেগুলোর তালিকা চাওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় তাহিরপুরে মরা যাদুকাটা, বীরনগর খাল, কেন্দুয়া খালসহ ৯টি; ধর্মপাশায় কালিজানা খাল, চুনাই নদী, সুন্দরপুর খালসহ ১১টি; মধ্যনগরে পাশোয়া খালসহ দুটি এবং দিরাইয়ে বেতই নদী, হেরা চাপতি নদী, টেংরাখালী খালসহ আটটি নদী-খাল খনন করা হবে।
এছাড়া জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জে দুটি, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় নৌকাখালি, তেঘরিয়া খাল, জিরাগ নদীসহ সাতটি, বিশ্বম্ভরপুরে ধামালিয়া, করচার খালসহ পাঁচটি, দোয়ারাবাজারে মরা খাশিয়ামারা নদীসহ তিনটি এবং ছাতকে বটের খাল, মাছুখালসহ তিনটি নদী-খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
পাউবো ঠিকাদারদের মাধ্যমে এসব নদী-খাল খনন করবে। তবে খননকাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন হাওর বাঁচাতে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাদের অভিযোগ, অতীতে নদী-খাল খননে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং বিপুল অর্থ লোপাট হয়েছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহসভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, হাওর এলাকার বৈশিষ্ট্যই হলো অসংখ্য নদ-নদী ও খাল। নানা কারণে এগুলো ভরাট হয়ে গেছে, বদলে গেছে গতি-প্রকৃতি। দখল ও দূষণে অনেক নদী-খালের চিহ্নও মুছে গেছে। এ কারণে বন্যায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জেলাবাসীকে। একদিকে সেচ সুবিধা সংকুচিত হয়েছে, অন্যদিকে আগাম বন্যায় ফসলডুবির ঘটনা ঘটছে। মাছ উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়েছে।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সহসভাপতি শাহ কামাল বলেন, নদী ও খাল খনন করা হলে হাওরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, ফসল উৎপাদন ও মৎস্য উৎপাদনে বিরাট প্রভাব পড়বে। তবে খনন হতে হবে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ও প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে। না হলে খননের নামে সরকারের অর্থ অপচয় হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা চলতি বছরই ১৫১টি খাল ও নদী খননের ডিপিপি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এখন পরিকল্পনা কমিশনে আছে। খাল ও নদী খননে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। খনন হলে এই এলাকার ফসল রক্ষা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার সময় বিভিন্ন অবকাঠামো সুরক্ষা, কৃষি ও সেচ সুবিধা বৃদ্ধিসহ নানা ক্ষেত্রে বিরাট উপকার নিয়ে আসবে। আমরা আশা করি ২০২৭-২০২৮ অর্থবছর থেকেই কাজ শুরু হবে।’
১ দিন আগে
সিলেটে বিমানবন্দরে আনসারের গুলিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত
সিলেটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে পাখি তাড়ানোর উদ্দেশ্যে ছোড়া গুলিতে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহত রুবেল আহমদকে তাৎক্ষণিকভাবে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সকালে টহলরত আনসার সদস্য মোজাম্মেল পাখি তাড়াতে তার কাছে থাকা শটগান থেকে গুলি ছোড়েন। তবে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশে থাকা পরিচ্ছন্নতাকর্মী রুবেলের কোমরে লাগে।
এদিকে পাখি তাড়াতে সাধারণত গাড়ি থেকে নেমে গুলি ছোড়ার নিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্য গাড়িতে বসে গুলি ছোড়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। আহত কর্মীর অবস্থা গুরুতর নয়।
তবে এ ঘটনায় কোনো গাফিলতি বা নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক।
২ দিন আগে
হবিগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২ জন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুরাতন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চান্দপুর চা বাগান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— চুনারুঘাট উপজেলার হলহলিয়া গ্রামের মোহাদ্দিস খান (২০) ও সতং গ্রামের শেখ নয়ন মিয়া (২০)।
আহত দুজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, দুটি মোটরসাইকেলে চড়ে চার যুবক চান্দপুর চা বাগান এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তারা। এতে ঘটনাস্থলেই মোহাদ্দিস ও শেখ নয়ন নিহত হন।
খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এ দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৩ দিন আগে
ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ, বিজিবির মামলা
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নলজুড়ি সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মো. বাবলা লিটন (২৮) নামের এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ঘটনাটি জানাজানি হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) তামাবিল ক্যাম্পের কমান্ডার মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা এ ঘটনায় বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করেন।
বাবলা লিটনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলার এজাহারে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে বিএসএফ গুলি করলে তা লিটনের হাতে লাগে।
বাবলা লিটন নলজুড়ি এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার সময় তার সঙ্গে আরও সাত থেকে আটজন ছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিজিবির মামলায় তাদের বিরুদ্ধে সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা ও বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে সীমান্তের ১২৭৮/৪ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে বাবলা লিটনসহ সাত থেকে আটজন ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন। তখন তারা বিএসএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়লে বিএসএফ সদস্যরা চারটি গুলি ছোড়েন। এতে বাবলা লিটন গুলিবিদ্ধ হন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও বাবলা লিটনসহ অন্যরা বিএসএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করেন। পরে খবর পেয়ে সিলেট বিজিবির তামাবিল ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের লক্ষ্য করেও ইট-পাথর ছোড়া হয়। এতে বিজিবির কয়েকজন সদস্য সামান্য আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা পাঁচটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন এবং অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হলে সতর্কতামূলকভাবে চার থেকে পাঁচটি গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
৪ দিন আগে
অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে সিলেটে আটক ৭
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুই নারীসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দালালদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অনুসন্ধান চলছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটকদের সিলেট আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নলজুরি বড়ইতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন বাগেরহাটের বকুলতলা গ্রামের মো. সাইফুল (২১), খুলনার দিগলদিয়া থানার বাগমারা গ্রামের মো. রাব্বি শিকদার (১৭), কাজিগঞ্জ মোগলা গ্রামের মো. কাউছার (১৬), বাগেরহাটের বকুলতলা গ্রামের মো. ওমর ফারুক (১৮), মোড়লগঞ্জ থানার নিশানবাড়িয়া গ্রামের মো. পারভেজ হাসান (২১), নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ভমবাগ গ্রামের শম্পা (২৪) ও ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মুন্নি (১৬)।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, অজ্ঞাত এক দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সিলেটের জাফলং এলাকায় নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে দুই নারীকে ভারতে বাসাবাড়িতে মাসিক ৫০ হাজার টাকা এবং পাঁচ যুবককে বিভিন্ন কোম্পানিতে মাসিক ৩৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়।
পরবর্তীতে মিজান নামের এক ব্যক্তি তাদের নলজুরি বড়ইতলা গ্রামের আব্দুল মান্নানের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থান করে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে গোয়াইনঘাট থানার তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় দুই নারীসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, উচ্চ বেতনের প্রলোভনে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের উদ্দেশ্যে ওই সাতজন নলজুরি বড়ইতলা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দালালদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
৫ দিন আগে
ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে নির্বাচন অফিসের কর্মচারী আটক
মৌলভীবাজারে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে উপজেলা নির্বাচন অফিসের এক কর্মচারীকে আটক করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৫ বিজিবি) সদস্যরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাকে আটকের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবি।
আটককৃত সুশান্ত চন্দ্র বিশ্বাস (৩৪) সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর। তিনি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাচাইল গ্রামের সত্যেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে।
বিজিবি জানায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার মোংলামবস্তি চা-বাগানের সীমান্ত পিলার ১৯৩৯/এম-এর কাছ দিয়ে শূন্যরেখা অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে বিজিবির টহলদল সুশান্ত চন্দ্রকে আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সুশান্ত ২০১৬ সাল থেকে চুক্তিভিত্তিকভাবে নির্বাচন অফিসে নিয়োজিত। বর্তমানে তিনি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কর্মরত।
তবে বিজিবি সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে জানতে পারে, সুশান্ত এক মাস ধরে অনুমোদিত ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার অবস্থান সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ খোঁজ নিচ্ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে সুশান্ত জানান, তিনি গত বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গলে এসে একটি হোটেলে অবস্থান করেন। পরে একজন দালালের সহায়তায় সুবিধাজনক সময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
এদিকে সুশান্তর কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, নগদ ১২ হাজার ১৮৫ টাকা, তার নামে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র, বিভিন্ন ধরনের আরও ছয়টি পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত দাপ্তরিক সিল ও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী পাওয়া যায়।
উদ্ধার করা পরিচয়পত্র, ডিজিটাল তথ্য ও অন্যান্য নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে জানিয়ে বিজিবি বলেছে, অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার অভিযোগে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
৭ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭০ জনে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হবিগঞ্জের ৫ মাস বয়সী রুপায়ন ও সুনামগঞ্জের ৩ মাস বয়সী অর্পনা—তারা দুজনই সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৬১ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫৬৯ জন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩ জনে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩৮৫ জন, সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন ও মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন আক্রান্ত হয়েছে।
এ পর্যন্ত বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭০ জনের।
৯ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে সিলেটে যুবক আটক
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গালিগালাজ ও কটূক্তিমূলক পোস্ট করার অভিযোগে মেহেদী আহমেদ (২১) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট কোতোয়ালী থানার তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) শিমুল চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মেহেদীকে তার বাসা থেকে আটক করে।
আটক মেহেদী আহমেদ সিলেট নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন নোয়াগাঁও সাদিপুর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার এবং গালিগালাজ করে আসছিলেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির চৌধুরী বলেন, ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।
৯ দিন আগে
হবিগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে যুবককে কুপিয়ে ‘হত্যা’
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে জায়দুল মিয়া (২৭) নামে এক যুবককে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মন্দরি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত জায়দুল ওই গ্রামের লোকমান মিয়ার পুত্র।
পুলিশ জানায়, জায়দুল মিয়ার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল একই গ্রামের আব্দুল মজিদের পরিবারের। আজ (শুক্রবার) সকালে জায়দুল তাদের গ্রামের বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে একা পেয়ে গতিরোধ করে কিছু লোক। এক পর্যায়ে কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই তাকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক বলেন, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তাদের মধ্যে গ্রাম্য আধিপত্য নিয়ে পূর্ব বিরোধ ছিল। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।
১০ দিন আগে
সাথী হত্যা: সাবেক স্বামীসহ ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড
সিলেটের জাফলংয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে পোশাককর্মী রুনা আক্তার সাথী (১৯) হত্যার ঘটনায় তার সাবেক স্বামীসহ দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক শেখ নাজমুন নাহার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. কবীর হোসেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: গাজীপুরের জয়দেবপুর বুরুলিয়া গ্রামের নাজমুল হাসান খান (২৩) এবং তার বন্ধু শেরপুর জেলার শ্রীবরদী লংপাড়া হাওলাচর গ্রামের সুজন মিয়া (২০)।
মামলার নথি অনুযায়ী, ময়মনসিংহের নান্দাইল আসারগাঁও এলাকার নাজমুল হকের মেয়ে রুনা আক্তার সাথী গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে বাসের সহকারী নাজমুল হাসান খানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং বিয়ে হয়। এরপর তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। পরবর্তীতে ওই সন্তানকে নাজমুল তার বন্ধু সুজন মিয়ার ফুফুর কাছে দত্তক দেন।
এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সন্তানকে ফিরে পেতে সাথী একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পরও নাজমুল গার্মেন্টেসে যাওয়া-আসার পথে সাথীকে বিরক্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ছেলের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে ২০১০ সালের ১২ মে সাথীকে সিলেটে নিয়ে যান তিনি।
পরদিন দুপুরে তাকে জাফলংয়ের সোনাটিলা ফরেস্ট এলাকায় নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর ১৫ মে নিহতের বাবা গোয়াইনঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে পুলিশ পরিদর্শক শহীদুল্লাহ নাজমুল হাসান খানকে গ্রেপ্তার করেন। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে নাজমুল জামিনে মুক্তি পান। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আল আসলাম মুমিন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন ফারহানা হাবিব চৌধুরী।
১১ দিন আগে