সিলেট
সিলেটে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ৩
সিলেটের জৈন্তাপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট-তামাবিল সড়কের পৃথক স্থানে দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার বিরাইমারা সেতুর পাশে সিলেট-তামাবিল সড়কে দুটি প্রাইভেটকারের সংঘর্ষ হয়। এতে দুই গাড়ির চার যাত্রী আহত হয়।
জৈন্তাপুর থানা পুলিশ ও তামাবিল হাইওয়ে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পরে সেখান থেকে কয়েকজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক এক শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত তিন মাস বয়সী আয়াত গোয়াইনঘাট উপজেরার পশ্চিম মাখেরপাড়া গ্রামের হাসানুজ্জামানের ছেলে।
এ দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে মারজানা আক্তার (৩৫) নামের একজন পথচারীও রয়েছেন। তিনি পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়ে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জৈন্তাপুরের ফেরিঘাট কাটাগাং এলাকায় সিলেট-তামাবিল সড়কে জাফলংগামী পর্যটকবাহী বাসের সঙ্গে সিলেটগামী পাথরবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়।
এতে বাসের কয়েকজন যাত্রী আহত হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় তামাবিল হাইওয়ে পুলিশ ও জৈন্তাপুর থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তামাবিল সড়কে পর্যটকবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাসচালক ও এক নারী যাত্রী রয়েছেন। হাসপাতালে আরও পাঁচজন ভর্তি রয়েছেন। তবে নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট কোতয়ালী থানাধীন পল্লবী রোড এলাকার আলী আহমদের ছেলে কাওসার (৪৮) এবং তার মেয়ে আতিশা (১০) ও ছেলে আলিফ (১৬)।
আহতদের স্বজনরা জানান, রাজবাড়ী জেলা থেকে ছয় দিনের সফরে সিলেট ভ্রমণে এসেছিলেন একদল পর্যটক। আজ দুপুরে বাসে করে তারা জাফলংয়ের উদ্দেশে রওনা হন। পথে ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের কাদায় পড়ে যায়।
১ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে গুলিতে নিহত যুবকের মরদেহ দেশে ফিরল
সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তের ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে গুলিতে নিহত যুবক খালেদ আহমদের (২৩) মরদেহ দেশে এনেছেন তার স্বজনরা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ভারতের আকুয়া সীমান্ত এলাকা থেকে তার মরদেহ নিয়ে আসেন।
নিহত খালেদ কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের এরালীগুল গ্রামের মৃত ফজলু মিয়ার ছেলে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টার দিকে ভারতের অভ্যন্তরে আকুয়া সীমান্ত এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ১০ জনের একটি দলের সঙ্গে দনা সীমান্তের ১৩৩৩ নম্বর মেইন পিলার-সংলগ্ন মিকিরপাড়া এলাকা দিয়ে ভারতের আকুয়া এলাকায় যান খালেদ। সেখানে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এ সময় দলের অন্য সদস্যরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
আহত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাজিম উদ্দিন জানান, ভারতের অভ্যন্তরে গুলিবিদ্ধ হয়ে খালেদের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় বাসিন্দারা ভারতের অভ্যন্তর থেকে খালেদের মরদেহ দেশে নিয়ে আসেন।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ভারতের অভ্যন্তরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া এক যুবকের মরদেহ দেশে এনেছেন তার স্বজনরা। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর কানাইঘাট উপজেলার সোনারখেওড় সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শাহিন আহমদ নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়।
১ দিন আগে
হবিগঞ্জে সিঁধ কেটে চুরি করা শিশু উদ্ধার, দুলাভাই আটক
হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ঘরের সিঁধ কেটে চুরি করা এক শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির দুলাভাই জিসানকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে বানিয়াচং উপজেলার মকরমপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে জিসানের ভাগনে বিজয়ের বাড়ি থেকে সানি মাহমুদ ইয়াসিনকে (৫) উদ্ধার করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সদর উপজেলার পশ্চিম ভাদৈ গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর মিয়ার বাড়ি থেকে সানিকে চুরি করা হয়।
ঘরের সিঁধ কেটে ঘুমন্ত শিশুটিকে মায়ের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার ও জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু করে। আটক জিসানের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বিজয়ের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রায় এক বছর আগে জিসানের সঙ্গে শিশুটির বড় বোন শাকিলার বিয়ে হয়। শাকিলা সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। বিয়ের কিছুদিন পর তিনি কর্মস্থলে ফিরে যান।
পরবর্তীতে জিসানের ও শাকিলার মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। একপর্যায়ে শাকিলা তাকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন জিসান। পরে তিনি ভাগনে বিজয়, প্রতিবেশী কাজল ও বাবলুকে সঙ্গে নিয়ে শিশুটিকে চুরি করেন।
হবিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, তালাকের সিদ্ধান্ত থেকে স্ত্রীকে সরিয়ে আনতে শ্যালককে চুরি করেন জিসান। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে চেষ্টা চলছে।
৩ দিন আগে
নীলফামারীর হত্যা মামলার ৩ আসামি সিলেটে গ্রেপ্তার
নীলফামারীর ডোমারে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা মামলার পলাতক তিন আসামিকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআরবি-৯-এর মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রাতে সিলেটের জালালাবাদ থানার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা বাজার এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন নীলফামারীর ডোমার থানার হংসরাজ গ্রামের মৃত চাঁদ মিয়ার ছেলে মো. আবুল হোসেন (৪০) ও তার স্ত্রী মোসা. আমেনা বেগম (৩৫) এবং তাদের ছেলে মো. হৃদয় ইসলাম (১৯)।
এসআরবি জানায়, ডোমারের হংসরাজ গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের (৪০) সঙ্গে তার ভাই-বোন ও ভাতিজাদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ৫ জুন সকালে দেলোয়ারের আবাদি জমির আইল কেটে নিজেদের সীমানায় নেওয়ার চেষ্টা করেন আসামিরা।
এ সময় তাদের বাধা দিলে এক নম্বর আসামি আবুল হোসেনের নির্দেশ ও নেতৃত্বে অন্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্র ও কোদাল দিয়ে দেলোয়ারের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
স্থানীয়রা দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রীকে প্রথমে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেলোয়ারকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত ১৪ জুন তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় দেলোয়ারের স্ত্রী বাদী হয়ে ডোমার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তারদের ডোমার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৯।
৪ দিন আগে
সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেটের ওসমানীনগরে অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া গ্রামের সুহেল আহমদ (৪৭) ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার খায়রুল ইসলাম (৪৭)।
স্থানীয়রা ও পুলিশ জানান, সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সিলেটগামী একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসের এবং শেরপুরগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়।
এতে মাইক্রোবাসের যাত্রী সুহেল ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক খায়রুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
৯ দিন আগে
সিলেটে শব্দদূষণের দায়ে ৮ ব্যক্তি ও যানবাহনকে জরিমানা
সিলেট সদর উপজেলার মুরাদপুর এলাকায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আট ব্যক্তি ও যানবাহনকে মোট সাড়ে চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় অবৈধ ও উচ্চ শব্দযুক্ত ১০টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তারের নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, শব্দদূষণকারী ও অবৈধ উচ্চ শব্দযুক্ত হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বায়ুদূষণ, পাহাড়-টিলা কর্তন, অবৈধ ইটভাটা ও নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ টেকনিশিয়ান আল মামুন প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ সময় পুলিশ সদস্য ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।
১০ দিন আগে
সৌদি আরবে নিহত দুই প্রবাসীর দাফন সিলেটে সম্পন্ন
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের দুই প্রবাসী আবদুল করিম ও খালিদ আহমদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি আকুনি মাদরাসায় জানাজা শেষে নিজ গ্রামে তাদের দাফন করা হয়। দুজনেরই বাড়ি কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের লামার তালুক গ্রামে।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২৩৬ ফ্লাইটে তাদের মরদেহ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বলে জানান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন।
তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে বিমানবন্দরের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। স্বজনরা জানান, দীর্ঘ তিন বছর পর দেশে ফেরার কথা ছিল তাদের। অবশেষে তারা ফিরলেন, তবে নিথর দেহে ।
গত ৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে আল-খুরমা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন এই দুই প্রতিবেশী।
১০ দিন আগে
সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর প্রাণহানি, মৃত্যু বেড়ে ১৮৫
সিলেটে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৫ জনে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া দুই শিশুর একজনের বাড়ি সিলেটের গোয়াইনঘাটে এবং অন্যজনের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায়। দুজনেরই বয়স এক বছরের কম।
৯ মাস বয়সী গোয়াইনঘাটের শিশুটি সিলেটের শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। অন্যদিকে ৬ মাস বয়সী দিরাইয়ের শিশুটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিল।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২২৯ জন ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৮ জন ভর্তি হয়েছে শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৬৬, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৬, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ১২ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে সাতজন ভর্তি হয়েছে।
এছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে চারজন ও ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন করে নতুন ভর্তি হয়েছে।
নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে ৫৫২ শিশু। তাদের মধ্যে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০৩ জন ভর্তি রয়েছে। এছাড়া শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৭০ ও সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭৭ জন রয়েছে।
পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ২৮, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৭, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১০ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ জন ভর্তি আছে।
এছাড়া গোলাপগঞ্জে ৭, বিশ্বনাথে ৫, কোম্পানীগঞ্জে ৪, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৩, উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে ৩, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৩, ফেঞ্চুগঞ্জে ২ ও ধর্মপাশায় ২ জন চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৯৫ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৪২২, সুনামগঞ্জে ৩৫৭, হবিগঞ্জে ১৫৮ ও মৌলভীবাজারের ১৫৮ জন। হবিগঞ্জের সংখ্যার মধ্যে দুজন রুবেলা রোগীও রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে মোট ১৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে হামের উপসর্গে মৃত্যু ১৭৫ জনের ও নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।
১০ দিন আগে
ঘুষ নিয়ে বক্তব্য ভাইরালের পর এএসআই ক্লোজড
ঘুষ নিয়ে বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াসকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাাইনে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সার্কেল এএসপিকে এ ব্যাপারে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াসের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ভিডিওটিতে ইলিয়াস বলেন, ‘কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে! কথা বুঝছ না? আমি যদি বলি, আমি পুলিশের দারোগা, আমি ঘুষ খাই না, আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব, হইব নাকি? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’
পরে জানা যায়, সম্প্রতি চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে একটি মামলার তদন্তে গিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন এসব কথা বলেছেন। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। এটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।’
১২ দিন আগে
হবিগঞ্জে চিকিৎসক-নার্সদের মারধরের অভিযোগ
রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের মারধর এবং হাসপাতালের আসবাব ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, তানজিলা (২১) নামের এক রোগী স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি ছিলেন। সেখান থেকে তাকে সিলেটে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে রোগীর স্বজনরা তাকে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
তিনি আরও জানান, রোগীর শ্বাসকষ্ট থাকায় তাকে প্রথমে অক্সিজেন দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার জন্য আরও দুটি ওষুধের ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয় এবং একটি ওষুধ হাসপাতালে না থাকায় তার স্বজনদের বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়। কিন্তু ওষুধ কিনে নিয়ে আসার আগেই রোগী মারা যান।
ডা. মোজাম্মেল জানান, রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে তার স্বজনরা আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মেডিকেল অফিসার ডা. মো. তরিকুল ইসলাম ও নার্সদের মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। এ সময় তারা হাসপাতালের আসবাবও ভাঙচুর করেন।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানায় মৌখিকভাবে জানানো হলেও কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। ওই রোগী চার মাস আগে সন্তান প্রসব করেছিলেন। চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি হৃদযন্ত্রের জটিলতায় ভুগছিলেন।
হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৩ দিন আগে