সিলেট
সিলেট সীমান্ত দিয়ে ৪ নারীকে ভারতে পাচার, আটক ২
কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ৪ নারীকে ভারতে পাচারের ঘটনায় সিলেটের গোয়াইনঘাট থেকে দুইজনকে আটক করেছে র্যাব-৯।
শনিবার (১৪ মার্চ) ভোরে উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন— সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার খাসিয়া খাওড় এলাকার মৃত রূপ মিয়ার ছেলে আব্দুল হান্নান (২৯) এবং একই এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আলমগীর (২৫)।
র্যাব জানায়, গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া থানার পাটগাতী এলাকার এক নারী গার্মেন্টসে কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকায় গেলে এক অজ্ঞাতনামা নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে ওই নারী তাকে ভারতে গিয়ে কাজ করার প্রস্তাব দিলে তিনি সরল বিশ্বাসে রাজি হন। পরে গত বছরের ১১ অক্টোবর ওই নারী তাকে সিলেটে নিয়ে আসেন।
পরে হাসান নামের এক ব্যক্তি প্রাইভেটকারে করে তাকে জাফলং এলাকায় নিয়ে গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তারা জানান, অনেক মানুষকে তারা ভারতে পাঠান এবং সেখানে ভালো কোম্পানিতে কাজের ব্যবস্থা করে দেন। ভুক্তভোগী পাসপোর্ট ও ভিসা না থাকার কথা জানালে তাকে বলা হয়, ভারতে যেতে এসবের প্রয়োজন নেই।
একপর্যায়ে ওই নারী জানতে পারেন, তার সঙ্গে আরও তিনজন নারী ভারতে যাবেন। এরপর গত বছরের ১১ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে তাদের অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে ভারতে প্রবেশ করানো হয়।
পরদিন ১২ অক্টোবর রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ অনুপ্রবেশের দায়ে তাদের আটক করে। পরে ১৩ অক্টোবর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ তাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা করেন। পরে আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৯ সদর কোম্পানির একটি দল আজ ভোরে গোয়াইনঘাট উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার পলাতক দুই আসামিকে আটক করে।
র্যাব জানায়, আটকদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গোয়াইনঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৮২ দিন আগে
সিলেটে দায়িত্বরত পুলিশের ওপর হামলা, এসআই আহত
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের একজন উপপরিদর্শক (এসআই) আহত হয়েছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) রাতে নগরীর দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্ট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে বাবনা পয়েন্টে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিল দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের একটি দল। এসময় অতর্কিতভাবে সংঘবদ্ধ একদল যুবক পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং দায়িত্বরত একজন এসআইকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় পুলিশ আরও জানায়, এর আগে বুধবার রাতে একটি পিকআপ ভ্যান অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে মদিনা মার্কেট এলাকা থেকে সুবিদবাজারের দিকে আসছিল। দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সন্তোষ গাড়িটিকে থামার সংকেত দিলেও চালক তা অমান্য করে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সার্জেন্ট সন্তোষ একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে পিকআপটির পিছু নেন। পিকআপটি সুবিদবাজার, লালাবাজার, জিতু মিয়া পয়েন্ট এবং সেলফি ব্রিজ হয়ে অত্যন্ত বিপদজনকভাবে পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বাবনা পয়েন্টে গিয়ে পিকআপটি একটি সিএনজিকে ধাক্কা দিলে স্থানীয় চালকরা গাড়িটিকে থামিয়ে ফেলে। পিকআপটি থামানোর পর স্থানীয়রা ও সিএনজি চালকরা ওই পিকআপ চালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর শুরু করে। এসময় সার্জেন্ট সন্তোষ সেখানে পৌঁছে পিকআপ চালক ‘ছিনতাইকারী হতে পারে’ এমন সন্দেহ প্রকাশ করলে উপস্থিত জনতা আরও উত্তেজিত হয়ে তাকে গণপিটুনি দেয়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় চালক মাটিতে পড়ে গেলে পুলিশ তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। সে সময় আহত পিকআপ ভ্যানচালক মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। পুলিশ যখন তাকে উদ্ধার করতে যায়, তখন সে হঠাৎ শোয়া থেকে উঠে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে (এসআই) সজোরে ঘুষি মারেন। এরপর তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান এবং বমি করতে থাকেন।
হামলাকারী চালককে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চালক অসুস্থ থাকায় পুলিশ বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে, তবে পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান জানান, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই হঠাৎ করে একদল লোক পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের একজন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এ বিষয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৮৪ দিন আগে
অপরাধ দমনে সিলেট নগরীকে আইপি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজের গতি আরও বাড়াতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। তিনি বলেছেন, সারা দেশের মধ্যে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সিলেটকে গড়ে তুলতে চান। অপরাধ দমনে শিগগিরই সিলেট নগরীকে অত্যাধুনিক আইপি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশ এখনও সম্পদে সীমিত। তবুও যে সম্পদ ও সক্ষমতা রয়েছে, তা দিয়েই সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
এসএমপি কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাসমুক্ত ও শান্তির নগর হিসেবে সিলেটকে গড়ে তুলতে চাই। সেই লক্ষ্যেই সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সন্ত্রাসমুক্ত সিলেট গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভায় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে পর্যাপ্ত যানবাহনের ব্যবস্থা, আবাসন সুবিধাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (উত্তর ও দক্ষিণ), সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় উপকমিশনারবৃন্দ, বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত র্কমকর্তাসহ (ওসি) পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮৬ দিন আগে
সিলেটে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা পাম্প মালিকদের
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিপণন নীতি পরিবর্তন না করলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন সিলেটের পেট্রোল পাম্প ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, নতুন নীতিমালার কারণে প্রয়োজনের তুলনায় কম তেল সরবরাহ হওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতি ও পাম্পগুলোতে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় শাখার নেতারা জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিনে সিলেটের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মালিক ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ একটি পাম্পে এক শ্রমিককে ছুরিকাঘাত করা হয়। আহত শ্রমিক বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন।
সংগঠনের নেতারা বলেন, সারাদিন রোজা রেখে হাজার হাজার মানুষকে সেবা দেওয়ার পরও যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে শ্রমিকদের আবেগ ও ক্ষোভ থেকে মঙ্গলবার এক শিফট কর্মবিরতি পালন করা হয়। তবে বিকেল থেকে যেসব পাম্পে তেল মজুত ছিল, সেগুলোতে আবার বিক্রি শুরু হয়।
পেট্রোল পাম্প মালিকদের দাবি, বিপিসি হঠাৎ করে একটি নতুন বিপণন নীতিমালা চালু করেছে। যেখানে গত বছর মার্চ থেকে জুন মাসে একটি পাম্প যত তেল উত্তোলন করেছে, ওই গড়ের ২৫ শতাংশ কম তেল সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ৩০ দিনে মাস ধরে এই গড় নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে অনেক পাম্প মাসে ২০/২২ দিন তেল উত্তোলন করে। পাশাপাশি বিপণন কোম্পানিগুলোকে কোটা বেঁধে দেওয়া হযেছে, ফলে তারা পাম্পগুলোতে সীমিত পরিমাণ তেল দিতে পারছে। এতে ডিপো থেকে পাম্পে তেল আনতে পরিবহন ব্যয় একই রয়েছে, কিন্তু তেল কম আসছে।
সিলেটেই গ্যাস ফিল্ডের কন্ডেনসেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদিত হয় জানিয়ে সংগঠনের নেতারা আরও বলেন, দেশে অকটেন–পেট্রোলের ঘাটতি নেই। কিন্তু বিপণন নীতিমালার কারণে ডিপোতে মজুত থাকলেও পাম্পে সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে করা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ পাম্প মালিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
পাম্প মালিকদের মতে,‘ আমরা কোনো ধরনের মজুতদারি বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নই। কেউ নির্ধারিত দামের বেশি দামে তেল বিক্রি করলে সংগঠন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেবে।’
তাদের দাবি, বিপিসিকে দ্রুত নীতিমালা সংশোধন করে মাঠের বাস্তবতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে তেল বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে।
সংগঠনের তথ্যমতে, সিলেট বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ লিটার ডিজেল, প্রায় ২ লাখ লিটার পেট্রোল এবং দেড় লাখ লিটার অকটেনের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে এর তুলনায় অনেক কম। নীতিমালা সংশোধন না হলে পাম্প খোলা থাকলেও ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করা হবে না। এতে বিপণন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শিগগিরই বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করার চেষ্টা করা হবে।
এদিন সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান। এ সময় সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধা ৭টার দিকে সিলেট নগরীর চৌকিদেখীর উত্তরা পেট্রোলিয়াম পাম্পে তেল না পেয়ে কর্মী মিঠু গোয়ালাকে ছুরিকাঘাত করেন এক গ্রাহক। এতে ওই কর্মী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি মঙ্গলবার আধাবেলা ধর্মঘটের ডাক দেয়।
৮৬ দিন আগে
বিয়ানীবাজারে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাসাইতলা হাওর এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) রাতে সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
গত ৫ মার্চ রাতে নিজ মালিকানাধীন অটোরিকশায় গ্যাস নিতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন গাড়ির মালিক শাহাদাত হোসেন সামাদ। তার বাড়ি জকিগঞ্জ উপজেলায়।
যাত্রী নিয়ে অন্যত্র যাওয়ার কথা বলে ছিনতাইকারীরা তার অটোরিকশা মুল্লাপুর ইউনিয়নের লাসাইতলা হাওর এলাকায় নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে সেটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এ সময় অটোরিকশাচালককে হাত-পা বেঁধে তারা মারপিট করে। পরে সেখানকার স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। একপর্যায়ে পুলিশ ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বিয়ানীবাজারের মাথিউরা পূর্বপাড় গ্রামের রাজন আহমদ (৩৫), খায়রুল ইসলাম সরোয়ার (২৮), শাহগলী নিদনপুর এলাকার সালেহ আহমদ সুলতান (৩৫) ও চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ গ্রামের মাহমুদ হোসেন জাহিদকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
৮৬ দিন আগে
সিলেটে খাল ভরাট করায় কারাদণ্ড, ৫ লাখ টাকা জরিমানা
সিলেট সদর উপজেলার কল্লাগ্রাম এলাকায় অবৈধভাবে খাল ভরাট করে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করায় এক ব্যক্তিকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ দণ্ড দেয়। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আবদুল হান্নান।
স্থানীয়রা জানান, হান্নান অবৈধভাবে কৃষিজমির উপরের মাটি কেটে পাশের হৈরখাল ভরাট করছিলেন। এতে কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। খাল ভরাটের কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে স্থানীয় পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছিল।
এ সময় জমির কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তির নামে ওই স্থানে কোনো বৈধ মালিকানা নেই এবং মাটি কাটার বা ভরাটেরও কোনো অনুমতিপত্র নেই। এছাড়া তিনি পাশের মালিকানাধীন জমির সীমানা পিলারও অপসারণ করেছেন বলে জানা যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
অভিযানকালে দুটি ড্রেজার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে একটি সিলেট সিটি করপোরেশন এবং অপরটি সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকার মামুনুর রশীদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও খোশনূর রুবাইয়াত জানান, খালটি ভরাটের কারণে প্রায় ২০০ একর কৃষি জমিতে বোরো আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। অভিযান শেষে সিটি করপোরেশনকে দ্রুত খালটি পুনঃখননের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষিজমি রক্ষা এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৮৭ দিন আগে
সিলেটে পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে কর্মীকে ছুরিকাঘাত, আজ অর্ধদিবস ধর্মঘট
সিলেট নগরীতে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল না পাওয়াকে কেন্দ্র করে এক গ্রাহকের ছুরিকাঘাতে মিঠু গোয়ালা নামে পাম্পটির এক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর চৌকিদেখী এলাকার উত্তরা পেট্রোল পাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বিকেলে ইফতারের আগে ওই পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসেন এক গ্রাহক। সেখানে তেল না পেলে পাম্পটির কর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় তার। তখন তাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ইফতার শেষে ওই গ্রাহক আবার পাম্পে এসে কর্মী মিঠুকে ছুরিকাঘাত করেন।
সহকর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নগরীর এয়ারপোর্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র বলেন, পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে এক গ্রাহক ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মীকে ছুরিকাঘাত করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে, সিলেট বিভাগে জ্বালানি তেল বিপণন খাতে বর্তমান সংকট নিরসন ও পাম্প সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ২টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের সকল ফিলিং স্টেশন ও পেট্রোল পাম্পে প্রতীকী ধর্মঘট পালন করা হবে। ধর্মঘট আহ্বান করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি।
সংগঠনের নেতারা বলেন, সোমবার বিকেলে নগরীর চৌকিদেখী এলাকায় উত্তরা পেট্রোলিয়াম নামক পাম্পে জ্বালানি তেল নিতে আসা এক ব্যক্তি পাম্পের ম্যানেজারের ওপর হামলা চালায়। ছুরিকাঘাতে তিনি মারাত্মক আহত হন। এ বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে নেতারা বৈঠকে বসেন।
বৈঠক শেষে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াশদ আজিম আদনান জানান, বিপিসির ত্রুটিপূর্ণ জ্বালানি তেল বিপণন নীতি সংশোধন করে সিলেট বিভাগে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতিতে স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার অর্ধদিবস ধর্মঘট পালন করা হবে।
৮৭ দিন আগে
সিলেটে ডিপো থেকেই কমেছে তেল সরবরাহ, সংকটে ফিলিং স্টেশনগুলো
সিলেটে জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি। পেট্রোল পাম্পগুলোতে এখনও চাহিদামাফিক পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। সঙ্কটের কারণে কিছু পেট্রোল পাম্প জ্বালানি তেল বিক্রিই বন্ধ করে দিয়েছে।
সিলেটের পেট্রোল পাম্প ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে তেল কম সরবরাহ করা হচ্ছে। এ কারণে সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদামাফিক সরবরাহ পেলে সংকট কেটে যাবে।
রবিবার (৮ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কোনো কোনো ফিলিং স্টেশন থেকে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি পাচ্ছেন যানবাহন চালকরা। আবার বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকার কথা বলে বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
সিলেট নগরীর বন্দরবাজার-সংলগ্ন জালাবাদ পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। সে সময় ওই পাম্পে মোটরসাইকেল নিয়ে তেল নিতে আসেন বিকাশের মার্চেন্ট এজেন্ট মিলন (২৮)। তিনি বলেন, শনিবার রাত থেকে তেল পাচ্ছি না, ডিউটি করব কীভাবে, আর যাতায়াত করব কীভাবে?
সন্ধ্যায় নগরীর পাঠানটুলার নর্থ ইস্ট পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, এই পাাম্পে সীমিত আকারে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।
নগরীর আম্বরখানার জালালাবাদ পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে ২০০ বা ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। অনেকে অকটেন নিতে চাইলেও অকটেন নেই বলে জানান পাম্পের কর্মচারীরা।
এ ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে জালালাবাদ পাম্পের ব্যবস্থাপক বা মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।
সিলেটের ফিলিং স্টেশনগুলোতে এ অবস্থা চলছে গত শক্রবার থেকেই। ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানান, গত বৃহস্পতিবার গ্রাহকদের তেল কেনার চাপ বেড়ে যাওয়ায় তেলে ঘাটতি দেখা দেয়। এ অবস্থায় গতকাল দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ফিলিং স্টেশন ব্যাবসায়ী সমিতির নেতারা।
বৈঠক শেষে সমিতির নেতাদের একজন জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নতুন নিয়মের নির্দেশনায় সিলেটের অনেক স্টেশনে তেল সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। আাশা করি, সোমবারের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
বৈঠকে তেলের সরবরাহ নিশ্চিতসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়ে সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করে ফিলিং স্টেশন ব্যবসায়ী নেতারা।
বৈঠক শেষে সিলেট পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াসাদ আজিম বলেন, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট নেই। দেশেই এগুলোর চাহিদামাফিক উৎপাদন হয়। কেবল ডিজেল আমদানি করতে হয়। কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যার কারণে সিলেটে সংকট দেখা দিয়েছে। ডিপো থেকে চাহিদামাফিক সরবরাহ মিলছে না।
তিনি বলেন, আজকে আমরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে।
সিলেটের ফিলিং স্টেশন ও পেট্রোল পাম্প ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সরকার আগেই ভেবেছে, যার কারণে একটু সমস্যা হয়েছে। মানুষ সম্ভাব্য সঙ্কটের কথা শুনেই ২ লিটারের জায়গায় ১০ লিটার কিনে নিচ্ছে বলে এ কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের সিলেটের ডিপোগুলো থেকে যেভাবে তেল সাপ্লাই দেওয়ার কথা, তা এখন চার ভাগের এক ভাগে চলে এসেছে। এটি মারাত্মক একটি বির্পযয়।
অতিরিক্ত তেল কিনে মজুদ না করার অনুরোধ জানিয়ে জনগণের উদ্দেশে এমদাদ হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে জাহাজ আসছে। সরকার ডিজেল পেট্রলের দাম বাড়াচ্ছে না। হঠাৎ সারা দেশে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সিলেটে এই সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আপনারা দয়া করে বাড়তি তেল কিনে কৃত্রিম সংকট করবেন না।
সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, তেলের ঘাটতি এখনও শুরু হয়নি দেশে। যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। তবে সম্ভাব্য ঘাটতির কথা বিবেচনায় রেখে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে প্রশাসন। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছে, সিলেটের এই সংকট আশা করি দুয়েক দিনের মধ্যে সমাধান হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার (৬ মার্চ) বিপিসির নির্দেশনায় জ্বালানি তেল সরবরাহে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রোল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লিটার তেল দেওয়া হবে। স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি) বা জিপ ও মাইক্রোবাসের জন্য দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া পিকআপ বা স্থানীয় বাস প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান বা কনটেইনার ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৮৭ দিন আগে
সিলেটে সুপার শপে অগ্নিকাণ্ড
সিলেট নগরীর মজুমদারি এলাকায় একটি সুপার শপে অগ্নিকান্ড ঘটেছে।
রবিবার (৮ মার্চ) রাত ৯টার দিকে মজুমদারি এলাকার মেহজাবিন সুপার শপে আগুন লাগে। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
মেহজাবিন সুপার শপটির স্বত্বাধিকারী মো. ফরিদ উদ্দিন তাপাদার জানান, তার দোকানের সকল মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সিলেট ফায়ার সার্ভিসের তালতলা কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার কুতুব উদ্দিনের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট।
এ বিষয়ে কুতুব উদ্দিন জানান, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়ে জানানো হবে।
৮৮ দিন আগে
শ্যালিকার আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ, দুলাভাই গ্রেপ্তার
সিলেটের মোগলাবাজার এলাকায় এক নারীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে রুকন মিয়া (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯।
শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে মোগলাবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আজ (রবিবার) সকালে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
গ্রেপ্তার রুকন মিয়া সিলেট মহানগর মোগলাবাজার থানা এলাকার বীরমঙ্গল গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী মোগলাবাজার থানার সিকন্দরপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি প্রায়ই তার বোনের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। সেই সুযোগে রুকন মিয়া গোপনে তার কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও নিজের মোবাইলে ধারণ করে রাখেন। পরে এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
পরবর্তীতে রুকন মিয়ার অনৈতিক আচরণ বাড়তে থাকলে ভুক্তভোগী বিষয়টি তার বোনকে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রুকন মিয়া গত বছরের ১৭ জুন তার স্ত্রীকে মৌখিকভাবে তালাক দেন। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে।
তারপরও থেমে থাকেননি তিনি। শ্যালিকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে মেয়েটিকে চাপ দেন এবং ১০ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। তবে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওগুলো প্রকাশ করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পর্নোগ্রাফি আইনে মোগলাবাজার থানায় একটি মামলা করেন। তবে তার মধ্যেই পর থেকেই রুকন মিয়া আত্মগোপনে চলে যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৯-এর মিডিয়া কর্মকর্তা কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রুকন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৮৮ দিন আগে