সিলেট
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত, হাওরে ধান কাটার সময় সতর্কতা জারি
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বজ্রপাতে পৃথক ঘটনায় দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জ উপজেলায় আরও তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে জেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটার সময় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েন তারা।
নিহতরা হলেন— সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আব্দুর কাদিরের ছেলে জমির উদ্দিন (৪০) এবং একই উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের কায়িদ হোসেনের ছেলে জমির হোসেন (৪২)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ (সোমবার) দুপুরে আকাশ যখন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আসে, জমির উদ্দিন তখন অন্যান্য কৃষকদের সঙ্গে আব্দুল্লাহপুর গ্রামের দেখার হাওরে ধান কাটছিলেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, প্রায় একই সময়ে গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের বাসিন্দা জমির হোসেন বাড়ি থেকে বের হয়ে গ্রামের নদীঘাটে দোকান খুলতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতের কবলে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকেও উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শফিকুর রহমান দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ছাড়াও, সুনামগঞ্জের পার্শ্ববর্তী শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আরও তিনজন কৃষক আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন।
হাওরাঞ্চলে ধান কাটার ভরা মৌসুমে বজ্রপাতে প্রাণহানির এমন ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও প্রশাসন হাওরে কর্মরত কৃষকদের দুর্যোগের পূর্বাভাস মেনে সতর্ক থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। দুর্যোগের সময় খোলা জায়গা বা হাওর থেকে দ্রুত নিরাপদ পাকা স্থাপনায় আশ্রয় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
৩৮ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসে সিলেট বিভাগে এই রোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু দুটির মৃত্যু হয়। এর আগে, গত শুক্রবার সিলেটে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়।
আজ (রবিবার) দুই শিশু মারা যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, সকাল ৯টা ও ১০টায় শিশু দুটির মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ ছাড়াও নানা রোগে আক্রান্ত ছিল তারা।
এদিকে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ১৯০ রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে কোনো হাম রোগী শনাক্ত না হলেও এই সময়ে ৬৪ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ল্যাবে পরীক্ষায় সিলেট বিভাগে মোট ৮০ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে।
সন্দেহভাজন ১৯০ জন রোগীর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১০৭ জন এবং এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন চিকিৎসাধীন আছেন। বাকিরা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
৩৯ দিন আগে
বন্যার ঝুঁকিতে সুনামগঞ্জের হাওরজুড়ে দ্রুত ধান কাটার তাড়া
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরজুড়ে ২৮ এপ্রিল থেকে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলের পূর্বাভাসে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে দ্রুত পাকা বোরো ধান কেটে ঘরে তোলার তাগিদ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর আগামী ৭ দিনের (২৩ এপ্রিল হতে ৩০ এপ্রিল) বৃষ্টিপাতের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন উজানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। সেক্ষেত্রে ২৪-২৬ এপ্রিল হালকা থেকে মাঝারি, ২৭ এপ্রিল মাঝারি হতে ভারী এবং ২৮ থেকে ৩০ এপ্রিল ভারী হতে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
উক্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হাওর অববাহিকার প্রধান নদীগুলো (সুরমা-কুশিয়ারা, ধনু-বৌলাই ও ভুগাই-কংস) এবং অন্যান্য উপ-নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে এবং ২৮ এপ্রিল থেকে নদীগুলোর কোথাও কোথাও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
পাউবোর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি সমতল বিপদসীমার ১ দশমিক ৭৬ মিটার বা ৫ দশমিক ৭৭ ফুট নিচে রয়েছে। ফলে ২৮ এপ্রিল থেকে সুনামগঞ্জ জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে। আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ফসল ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ফলে কৃষকদের যেসব জমির ৮০ শতাংশ ধান পাকা সেসব জমির ধান দ্রুত কাটার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন হাওরে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে ধান কেটে বাড়িতে এনে মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা, শ্রমিক সংকট, ধানের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির বিষয়গুলো তাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছরই সময়মতো বাঁধ নির্মাণ শেষ না হওয়া ও অনিয়মের কারণে ঝুঁকি থেকে যায়। ‘হাওর বাঁচাও’ আন্দোলনের নেতারাও একই অভিযোগ তুলে বলেছেন, বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ হলেও কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে না। জেলার ১২টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রায় ১৪ লাখ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে পাউবো জানিয়েছে, চলতি বছর ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০৩ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।
কৃষকরা জানান, ধান ভালো হলেও এখন সবচেয়ে বড় শঙ্কা বাঁধের স্থায়িত্ব।
আঙ্গারুলি হাওরের কৃষক জমির মিয়া বলেন, ‘ফসল ভালো, কিন্তু বাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না।’
খরচার হাওরের কৃষক লতিফ মিয়া বলেন, ‘ধান কাটছি, তবে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ না ভাঙলেই বাঁচি।’
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, এবার জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আবাদ হয়েছে। আশা করছি, কৃষকরা তাদের কষ্টে ফলানো ফসল কেটে গোলায় তুলতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলে তারা যেন দ্রুত কেটে ফেলেন। আমরা সার্বক্ষণিক তাদের পরামর্শ দিচ্ছি।
৪০ দিন আগে
‘প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়’ স্কুলছাত্রী অপহরণ, যুবক গ্রেপ্তার
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে তৌকির রহমান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)-১৩। অভিযানে অপহৃত শিক্ষার্থীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেপ্তার তৌকির নগরীর পূর্ব বোতলা এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী সপ্তম শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্রী। স্কুলে যাতায়াতের সময় দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্যক্ত করাসহ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত তৌকির রহমান। বিষয়টি ভুক্তভোগী তার পরিবারকে জানালে পরিবারের পক্ষ থেকে তৌকিরকে অনুরোধের পর সতর্কও করা হয়। কিন্তু তাদের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করার হুমকি দেন তৌকির।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ এপ্রিল সকালে ভুক্তভোগী ইউনিফর্ম পরে স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়। সে সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৌকির রহমান ও তার ৩-৪ জন সহযোগী মিলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার একাধিকবার মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে তারা রংপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা করেন।
এদিকে, মামলার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ ও র্যাব-১১ যৌথভাবে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে কুমিল্লা জেলার লালমাই থানার পূর্ব অশোকতলা গ্রামের অভিযান চালায়। অভিযানে ওই গ্রামের জনৈক ক্বারী আজিজের বাড়ি থেকে তৌকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকেই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তার তৌকির রহমানকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৪৩ দিন আগে
সুনামগঞ্জে আগাম বন্যার আশঙ্কা, দ্রুত ধান কাটার আহ্বান পাউবোর
উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সুনামগঞ্জের সুরমা, কুশিয়ারা, বাউলাই নদীসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আগাম বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এমন পরিস্থিতিতে জমির ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলে দ্রুত তা কাটার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত সুরমা, কুশিয়ারা ও বাউলাইসহ অন্যান্য নদীর উজান অববাহিকায় বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী কয়েকদিন নদ-নদীর পানি সমতলে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, এমনকি যেকোনো সময় আগাম বন্যা পরিস্থিতি উদ্ভব হতে পারে। এছাড়া হাওরের অভ্যন্তরে বৃষ্টিপাতের ফলে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।
সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে হাওরের বোরো ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কৃষকগণকে যেসব জমির ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে, সেসব জমির ধান দ্রুত কাটার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী।
৪৩ দিন আগে
হবিগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ৯ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে বিথঙ্গল আখড়া বাজারের সঞ্জিত রায়ের মালিকানাধীন একটি রেস্টুরেন্টে এ আগুনের সূত্রপাত হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে হঠাৎ রেস্টুরেন্টটিতে আগুন জ্বলে ওঠে। এ সময় মসজিদের মাইকে আগুন লাগার ঘোষণা দিলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। একপর্যায়ে রেস্টুরেন্টে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৩টি মুদি দোকান, একটি ইলেকট্রনিক্স দোকানসহ মোট ৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় কোনো মালামাল সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে বাজারের ৯টি দোকান পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, এ অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, মসজিদের মাইকে ঘোষণা শুনে বাজারে গিয়ে তারা দেখেন দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।
বানিয়াচং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার রিয়াজ উদ্দিন জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর রাতে পেলেও সড়ক ভালো না থাকার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারিনি। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে।
৪৩ দিন আগে
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে এক দিনে ৪ কৃষক নিহত
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার ব্যস্ত মৌসুমে পৃথক তিনটি বজ্রপাতের ঘটনায় চার কৃষক নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮), জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের নুরুজ্জামান (৪০) এবং ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান (৪৫)। এছাড়া দিরাই উপজেলায় বজ্রপাতে লিটন মিয়া (৩৮) নামে আরও এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার পরপরই বজ্রপাত শুরু হয়। এর মধ্যে হাওরে কর্মরত কৃষকরা আক্রান্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে হাঁসের খামারে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আবুল কালাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় তার সহকর্মী নূর মোহাম্মদ গুরুতর আহত হন।
জামালগঞ্জের পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নুরুজ্জামান এবং তার চাচাতো ভাই তোফাজ্জল হোসেন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন।
ধর্মপাশার টগার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন হাবিবুর রহমান।
আহত তোফাজ্জল হোসেন ও নূর মোহাম্মদকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া দিরাই উপজেলার পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া শনিবার দুপুর ১টার দিকে কালিয়াগোটার (আতরার) হাওরের একটি বিলের পাশে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার লিটন মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মতিউর রহমান ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে প্রাণ হারানো কৃষকদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত আর্থিক অনুদান প্রদানের জন্য স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতি বছর বোরো মৌসুমে হাওর অঞ্চলে বজ্রপাত বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ায়। উন্মুক্ত হাওরে আশ্রয়ের অভাব এবং ধান কাটার তাগিদে কৃষকদের মাঠে অবস্থান করায় এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
৪৭ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে ওসমানী হাসপাতালে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
হাম-রুবেলার সংক্রমণে উদ্বেগ বাড়ছে সিলেটে। এই রোগের উপসর্গ নিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক দিনে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ৫ জনে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হাসপাতালের উপপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গতকাল (বুধবার) রাতে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু দুটি মারা যায়।
মারা যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে হুজাইফা (১০ মাস) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদুন এলাকার জাকির হোসেনের মেয়ে। অপর শিশু মো. আব্দুল্লাহর (১০ মাস) গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পলভাগে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুজাইফের মৃত্যু হয়। সে হৃদ্যন্ত্র বিকলতা ও ব্রঙ্কোনিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল এবং হামের সন্দেহও ছিল। অন্যদিকে, একই দিন বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়। তাকে গত ১৩ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, শক, হৃদ্যন্ত্র বিকলতা, ব্রঙ্কোনিউমোনিয়া এবং হামজনিত জটিলতায় তার মৃত্যু হয়েছে।
শহিদ সামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. মিজানুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৩ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন প্রাপ্ত বয়স্ক, বাকিরা শিশু। এ নিয়ে হাসপাতালে ৬৭ জন রোগি ভর্তি রয়েছেন বলে জানান তিনি।
৪৯ দিন আগে
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে, শত একর বোরো ধান হুমকিতে
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে আকস্মিকভাবে বাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতে পানি ঢুকছে। এতে শত শত একর জমির আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, হাওরের গুজাউনি বাঁধের একটি অংশ ভেঙে দ্রুতগতিতে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। ফলে ইতোমধ্যে বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে চলে যেতে শুরু করেছে। অসহায় কৃষকরা বাঁধের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করে দেশবাসীর কাছে সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধসংলগ্ন একটি বিলের ইজারাদার মাছ আহরণ শেষে বাঁধটি যথাযথভাবে মেরামত না করে দুর্বল অবস্থায় রেখে দেন। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধটি ভেঙে যায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং এলাকাবাসী বাঁশ, বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালান।
ওই এলাকার কৃষক সোলেমান মিয়া বলেন, এই হাওরে আমাদের কয়েক হাজার একর জমি রয়েছে। দ্রুত বাঁধ মেরামত করা না গেলে পুরো ফসল পানির নিচে চলে যাবে।
তিনি আরও জানান, উথারিয়া বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে ক্ষতি অনেকটা কমানো সম্ভব হতো।
আরেক কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, বিলের মালিক সঠিকভাবে বাঁধ সংস্কার না করায় পানির চাপে এটি ভেঙে গেছে। এখন পাউবো ও এলাকাবাসী মিলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছে।
পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ১০০টি জিও ব্যাগ ও বাঁশ ব্যবহার করে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার কাজ করা হচ্ছে। এখন পানি প্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে, আশা করি ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হবে না।
এদিকে, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, দেখার হাওরের এই বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন নয়। তবুও ফসল রক্ষায় বাঁধটি মেরামতের জন্য আমাদের একটি টিম এলাকায় কাজ করছেন।
৫২ দিন আগে
ভোক্তা-কৃষকের সরাসরি সংযোগে সিলেটে ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধন
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী দামে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে সিলেটে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু হয়েছে ‘কৃষকের হাট’।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট-সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ‘সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য’ স্লোগানে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রির সুযোগ পাবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সরকার নানা ধরনের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। অনেক সময় উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কৃষিপণ্য চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়, ফলে অযৌক্তিকভাবে দাম বেড়ে যায়। ‘কৃষকের হাট’ এই মধ্যবর্তী স্তর কমিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে। ভোক্তা-কৃষকের সরাসরি সংযোগে বাজারে স্বস্তি আসবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে, যেখানে কৃষকরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করবেন। প্রশাসনের নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
৫৪ দিন আগে