বৈদেশিক-সম্পর্ক
বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে আরও কর্মী নিতে আগ্রহী ইতালি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে আরও বেশি হারে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী নিতে আগ্রহী ইতালি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (৫ মে) বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইতালি ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান।
বৈঠকে ইতালির পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশে সফররত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ম্যাথু পিয়ান্তেডোসি।
উপদেষ্টা বলেন, ইতালির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শ্রমিকরা খুব পরিশ্রমী ও দেশটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দেশটি নতুন করে বৈধ পথে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী। তবে অন্য দেশের ভিসা নিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে যাওয়ার প্রবণতাকে তারা সম্পূর্ণরূপে নিরুৎসাহিত করেছে।
তিনি বলেন, ইতালি অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছে ও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা নিরাপত্তা খাতেও সহায়তা বৃদ্ধি করার কথা জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইতোমধ্যে যেসকল বাংলাদেশি অবৈধভাবে ইতালিতে গিয়েছেন, তাদের যেন উপযুক্ত প্রক্রিয়ায় বৈধতা দেওয়া হয়- সে বিষয়েও ইতালিকে অনুরোধ করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ইতালির পুলিশ মাফিয়া চক্রসহ সংগঠিত ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে পারদর্শী। সেজন্য তারা এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করতে চায়। তিনি বলেন, বৈঠকে আমরা পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও কোস্টগার্ডের দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে ইতালির সহায়তা কামনা করেছি।
আরও পড়ুন: আলজেরিয়ার সঙ্গে দ্রুত পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি করা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সম্প্রতি এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এ ঘটনায় ৫৪ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটানোর চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, অভিবাসন সংক্রান্ত অপরাধ নেটওয়ার্ক দমনে বাংলাদেশের গৃহীত নীতি ও কর্মপন্থা, অপরাধ দমন ও বিচার প্রক্রিয়ায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার এবং নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে ইতালির পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিপ্লোমেটিক অ্যাডভাইজার ম্যাক্রো ভিলানি ও ডেপুটি হেড অভ কেবিনেট সাবিনা মাদারো, ইমিগ্রেশন ও বর্ডার পুলিশের সেন্ট্রাল ডিরেক্টর ক্লডিও গালজেরানো প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয়ে পৌঁছালে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
৩০৫ দিন আগে
নির্বাচনের সময় নির্ধারণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়: ইইউ রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে সংস্কারমূলক এজেন্ডা বাস্তবায়নে সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেছেন, ‘নির্বাচন কবে হবে—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ নেই কোনো নির্দিষ্ট তারিখে নির্বাচন আয়োজনের।’
সোমবার (৫ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ‘নির্বাচনের সময় নির্ধারণ বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত। আমরা এই রাজনৈতিক রূপান্তরকে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পথে অগ্রগতি হিসেবে দেখি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে মতামত নেই।‘
ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে ডিক্যাব সভাপতি একেএম মঈনুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুজ্জামান মামুনও বক্তব্য রাখেন।
মিলার বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি, রাজনৈতিক দলগুলো এবং অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুস্পষ্ট ও অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার তালিকায় একমত হবে। আমাদের কাছে সেই অভিজ্ঞতা আছে, আর্থিক সহায়তা আছে, এবং আছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা।’
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস সম্প্রতি বলেছেন, ‘মানুষ এখনো মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই সঠিক উত্তর। তবে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে দেশের ইতিহাসে সর্বোত্তম নির্বাচন আয়োজন করতেই হবে।’
রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ‘এই সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত যেন তারা প্রতিশ্রুত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে।’
জুলাই-আগস্টের সহিংসতা প্রসঙ্গে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রায় এক হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার আহত হয়েছেন।
এসব বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ‘জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের কাজকে আমরা সমর্থন করি। এসব ভয়াবহ অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের সাথে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার যেন যথাযথভাবে প্রক্রিয়ায় সুরক্ষিত হয় - সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
নারীর অধিকার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ‘পুরুষ ও নারীর সমতা ইউরোপের মৌলিক মূল্যবোধ। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা উচিত। আমরা চাই, রাজনৈতিক দলগুলো এই সুপারিশগুলো বাস্তবে রূপ দিক।’
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এক প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশ অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু সীমান্তের ওপারে এখনো সহিংসতা চলছে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সংকট।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় বাংলাদেশের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছেছি—রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া অবশ্যই নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক হতে হবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়ন রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ২০২৫ সালে ৩২ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ দিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ইইউ এবং এর সদস্য দেশগুলো মিলে প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা দিয়েছে।
৩০৫ দিন আগে
বাংলাদেশিদের জন্য আরব আমিরাতের ভিসা প্রাক্রিয়া জোরদার
বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনার ফলস্বরূপ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) আবারও বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কার্যক্রমে গতি বাড়িয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, এরইমধ্যে আমিরাতের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল চলতি মাসেই বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এই সফরের লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
রবিবার (৪ মে) ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএই’র রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলি আল হমুদি। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত জানান, ‘ইউএই দূতাবাস এখন প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০টি ভিজিট ভিসা ইস্যু করছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের জন্য দলগত ভিসা প্রক্রিয়াও দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হচ্ছে, যা বাণিজ্য ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।’
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘ইউএই’র মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় দক্ষ কর্মীদের জন্য অনলাইন ভিসা সিস্টেমও আবার চালু করেছে।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশেষ দূতের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে উভয় দেশের মধ্যে অর্ধডজনের বেশি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ভিসা সহজীকরণ থেকে শুরু করে বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সোমবার দুপুরের মধ্যে ভিসা আবেদন না করলে হজে যাওয়া অনিশ্চিত
এরই মধ্যে বিপণন ব্যবস্থাপক ও হোটেল কর্মীদের মতো পেশাজীবীদের জন্য ভিসা প্রদান শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য ৫০০টি ভিসা এরইমধ্যে ইস্যু হয়েছে এবং আরও এক হাজার ভিসা অনুমোদিত হয়েছে, যা খুব শিগগিরই দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে ভিসা নীতিতে আরও শিথিলতা আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।
তিনি আরও জানান, মানবিক বা বিশেষ প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলে সেসব ক্ষেত্রেও নমনীয়তা দেখানো হবে।
লুৎফে সিদ্দিকী এসব অগ্রগতিকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ও আমিরাত এরইমধ্যে একটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।
৩০৬ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকট সমাধান না হলে পুরো অঞ্চলের সমস্যা হবে: তৌহিদ হোসেন
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি হুঁশিয়ারি করে বলেন, ‘যদি ওই সংকটের সমাধান করা না হয়, তাহলে এটা কেবল বাংলাদেশ না, পুরো অঞ্চলের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।’
রবিবার (৪ মে) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) ‘বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন: আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এমন কথা বলেন।
রোহিঙ্গারা যাতে প্রত্যাশিত অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে নিজভূমিতে ফিরে যেতে পারেন, সেই উপায় খুঁজে বের করার প্রতি জোর দেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা ফিরে যাবেন।’
‘মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ, দেশটির অভ্যন্তরে বিভক্তি এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তার অব্যাহত অনুপস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা এখন সুদূরপরাহত,’ যোগ করেন তৌহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘এই সংকটের আমরা এখনো একটি কার্যকর সমাধান খুঁজে পাইনি। রোহিঙ্গাদের ফেরানোর দুটি দিক রয়েছে, একটি হলো অধিকার, অন্যটি নিরাপত্তা। এই বিষয়গুলো নিশ্চিত না হলে রোহিঙ্গারা ফিরে যাবে না।’
‘তবে আমরা কোনো অযৌক্তিক প্রত্যাশায় নেই। যে-ই নির্যাতন থেকে তারা বাঁচতে চেয়েছিলেন, আমরা কি তাদের সেই জায়গায় ফেরত পাঠাব,’ প্রশ্ন রাখেন উপদেষ্টা।
আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তান চাইলে মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
তবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান দেখছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় এ বিষয়ে বাস্তব কোনো ফল আসবে না। দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির ওপর বাংলাদেশের প্রাথমিক নির্ভরতা ছিল। আমিসহ অনেকেই সতর্ক করেছিলাম যে, এই ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।’
‘বছরের পর বছর ধরে চলা দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়াটি নিরর্থক, কেননা একজন রোহিঙ্গাকেও প্রত্যাবাসন করা যায়নি।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘মিয়ানমারে অবশ্যই বাস্তব পরিবর্তন আনতে হবে। সেই পরিবর্তন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হতে হবে। যদিও এটি কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। ঐক্যবদ্ধ না হলে এটা সম্ভব হবে না।’
‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অন্যান্য বৈশ্বিক সংঘাতের মধ্যে রোহিঙ্গা সংকটের ওপর থেকে মনোযোগ যেন সরে না যায়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার বিষয়ে একটি রোডম্যাপ থাকা দরকার।’
মিয়ানমারে কখনও গণতন্ত্র ছিল না বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশের এই শীর্ষ কূটনীতিক। তিনি বলেন, ‘অং সান সু চির অধীনেও এটি একটি আধা-সামরিক শাসনব্যবস্থা হিসেবে কাজ করেছিল। আমরা এখন যা দেখছি, তা হলো পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধ।’
‘মিয়ানমারের এখন মূল অংশীদার সামরিক জান্তা, আরাকান আর্মি এবং জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি)। যেকোনো স্থায়ী সমাধানে এই তিন পক্ষকেই যুক্ত হতে হবে। বিশেষ করে আরাকান আর্মিকে, যারা এখন রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ করছে,’ বলেন তৌহিদ হোসেন।
৩০৬ দিন আগে
প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় ‘ভুল সংবাদ’ প্রচারে প্রেস উইংয়ের নিন্দা
ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল আজ তাক বাংলায় প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যদেরকে প্রধান উপদেষ্টার পদক প্রদানের ছবিকে গোপন ছবি বলে প্রচার করা হয়েছে।
রবিবার (৪ মে) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ফেরিভায়েড ফেসবুক পেজের একটি পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ ঘটনাকে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ ও চরম নিন্দনীয় বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রচারিত ওই প্রতিবেদনে পুলিশের ইউনিফর্মকে পাকিস্তানের জেনারেলের পোশাকের সঙ্গে মিল রয়েছে রয়েছে এমন দাবি করে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস কাদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন এমন প্রশ্ন তোলা হয়।
মূলত গত ২৯ এপ্রিল পুলিশ লাইন্সে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের ৬২ জন সদস্যকে পদক প্রদান করা হয়।
আরও পড়ুন: শ্রমিকদের অবস্থার পরিবর্তন না হলে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠন সম্ভব নয়: প্রধান উপদেষ্টা
তাদের মধ্যে এই ছবিতে রয়েছেন, তিনজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম, মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও ছিবগাত উল্লাহ এবং উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক কাজী ফজলুল করিম। তারা প্রত্যেকেই নিজ দায়িত্বে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ পদক পেয়েছেন।
এটি কোন গোপন ছবি নয়। এই ছবিটি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছিলো। আজ তাক বাংলার এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে জড়িয়েও মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে।
এগুলো সবই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ এবং চরম নিন্দনীয়।
৩০৬ দিন আগে
সরকারি সফরে কাতার গেলেন সেনাপ্রধান
সরকারি সফরে কাতারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
শনিবার (৩ মে) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সফরকালে কাতারের সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন সেনাপ্রধান। সেইসঙ্গে সামরিক বাহিনী সংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার লক্ষ্যে মতবিনিময়ও করবেন তিনি।
সফর শেষে আগামী ৫ মে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল সরকারি সফরে রাশিয়া এবং পরবর্তীতে গত ১০ এপ্রিল ক্রোয়েশিয়া সফর করেছিলেন ওয়াকার-উজ-জামান।
সফরকালে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর প্রধান, উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এছাড়া ক্রোয়েশিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছিল তার।
৩০৭ দিন আগে
ভারত নিয়ে সাবেক সেনা কর্মকর্তার মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার
বিডিআর কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এএলএম ফজলুর রহমান তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে যে মন্তব্য করেছেন, তা একান্তই তার ব্যক্তিগত বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (২ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই মন্তব্যের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই মন্তব্য বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়। সরকার কোনোভাবেই এ ধরনের বক্তব্য সমর্থন করে না বা এর সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করে না।
এ ছাড়া মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এএলএম ফজলুর রহমানের ব্যক্তিগত মন্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকে সম্পৃক্ত করা থেকে বিরত থাকার জন্য বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ সব দেশের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা, পারস্পরিক সম্মান ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতির প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আরও পড়ুন: ফজলুর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে না সরকার: শফিকুল আলম
৩০৮ দিন আগে
আলজেরিয়ার সঙ্গে দ্রুত পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি করা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য আলজেরিয়ার সঙ্গে দ্রুত পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) বিকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুলওয়াব সাইদানির সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসলে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তিটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকটি মন্ত্রিপরিষদে ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। দু'পক্ষের সম্মতি সাপেক্ষে সুবিধাজনক দ্রুততম সময়ে এটি সই হবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ ছিল আলজেরিয়া। সেজন্য বাংলাদেশ আলজেরিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞ।
বৈঠকে দুদেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, পুলিশের প্রশিক্ষণ, আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস দমন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ, আলজেরিয়ায় কৃষি শ্রমিক রপ্তানির সম্ভাব্যতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আলজেরিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধুপ্রতিম দেশ। আমরা পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করতে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
এসময় রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা দু'দেশের মধ্যে একটি ফলপ্রসূ সম্পর্ক স্থাপন করতে চাই। কেননা, পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এক ধাপ উন্নীত হবে।
উপদেষ্টা বলেন, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ, আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস দমন, নিরাপত্তা ইস্যু, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয়ে দু'দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে মানবপাচার প্রতিরোধ ও পারস্পরিক আইনি সহায়তা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানোর অনুরোধ করেন।
আরও পড়ুন: পুলিশের সামর্থ্য বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করবে ইতালি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দু'দেশের পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতার অনেক সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে তিনি নিরাপত্তা ও পুলিশিং সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক উন্নত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপদেষ্টা বলেন, আয়তনে আলজেরিয়া আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে বড় দেশ। দেশটিতে অনেক ভূমি তথা চাষাবাদযোগ্য জমি রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল দেশ।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে কৃষকের সংখ্যা অনেক বেশি। দু'দেশ সম্মত হলে বাংলাদেশ আলজেরিয়াতে দক্ষ কৃষিশ্রমিক রপ্তানি করতে পারে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩১০ দিন আগে
পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে দেশে ফিরলেন প্রধান উপদেষ্টা
কাতার সফর ও সদ্য প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৩টার দিকে তাকে বহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এর আগে বাংলাদেশ সময় রবিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে প্রধান উপদেষ্টা ইতালির রোম ত্যাগ করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এমন তথ্য জানিয়েছেন।
শনিবার পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূসও পোপের শেষকৃত্যে যোগ দেন।
গত শুক্রবার (২৫ এপ্রিল )কাতারের দোহা থেকে রোমে যান প্রধান উপদেষ্টা । শনিবার রোমে পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ক্যাথলিক চার্চের শীর্ষস্থানীয় দুই নেতা কার্ডিনাল সিলভানো মারিয়া তোমাসি এবং কার্ডিনাল জ্যাকব কুভাকাড ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
দুই কার্ডিনাল পোপ ফ্রান্সিসের আজীবন দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, যুদ্ধ এবং পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন পৃথিবীর স্বপ্নের কথা স্মরণ করেন।
তারা অধ্যাপক ইউনূসের কাজের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাকে পোপের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে জীবন উৎসর্গ করার জন্য ধন্যবাদ জানান।
আরও পড়ুন: পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ইউনূস পোপ ফ্রান্সিসের সাথে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘পোপ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে আপন করে নিতে পারতেন। তিনি একজন অসাধারণ মানুষ ছিলেন।’
এদিকে, শনিবার পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে যোগদানের পর রোমের একটি হোটেলে প্রধান উপদেষ্টা সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন উরুগুয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিও লুবেটকিন। তিনি পারস্পরিক সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ করে ঢাকা ও মার্কোসুর সদস্য(দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য ব্লক) দেশগুলোর মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
বৈঠকে উভয় নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বর্তমান বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতি, ল্যাটিন আমেরিকা ও এশিয়ার মধ্যে সহযোগিতার সেতুবন্ধনের বিষয়টিও তাদের আলোচনায় স্থান পায়।
৩১২ দিন আগে
ভারত-পাকিস্তান চাইলে মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি চায় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে বাংলাদেশ। দেশদুটি চাইলে বাংলাদেশ তাদের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে তার আগে আগবাড়িয়ে কিছু করার পক্ষে নয় ঢাকা।’
রোববার (২৭ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। ‘আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, আমরা শান্তি চাই দক্ষিণ এশিয়ায়। আমরা জানি, বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতময় সম্পর্ক আছে,’ বলেন উপদেষ্টা।
‘কিন্তু আমরা চাই না এখানে বড় কোনো সংঘাত সৃষ্টি হোক, যাতে এটা এ অঞ্চলের মানুষের কোনো বিপদের কারণ হয়ে উঠতে না পারে। ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের সঙ্গেই আমাদের সুসম্পর্ক বিদ্যমান।’
আারও পড়ুন: যেকেউ সরকারের সমালোচনা করতে পারছেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা চাইব, তারা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাদের সমস্যার সমাধান করে ফেলুক। এরইমধ্যে, দুয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতার প্রস্তাব এসেছে। যেভাবেই হোক, মধ্যস্থতার মাধ্যমে বা দ্বিপক্ষীয় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে, আমরা চাই উত্তেজনা প্রশমিত হোক এবং শান্তি বজায় থাকুক।’
ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব ও ইরান। এক্ষেত্রে বাংলাদেশও মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করতে পারি কি না, প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমি মনে করি না এই মুহূর্তে আমাদের মধ্যস্থতা করার মতো কোনো ভূমিকা নেওয়া উচিত।’
‘আমরা চাইব, তারা নিজেরা সমস্যার সমাধান করুক। তারা যদি আমাদের সহায়তা চায়, আপনারা মধ্যস্থতা করুন তাহলে হয়ত আমরা যাব। কিন্তু তার আগে আমরা আগবাড়িয়ে কিছু করতে চাই না।
ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে কি না– জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আধুনিক জামানায় সবকিছু সবাইকে কমবেশি প্রভাবিত করে। কাজেই কোনো কিছু আমাদের একটুও প্রভাবিত করবে না, সেটা আমি বলি না। তাদের যেই সংঘাত সেটা আমাদের সরাসরি প্রভাবিত করার কিছু নাই। কারণ, আমরা এতে কোনো পক্ষ নিইনি। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেকোনো সংঘাত বা সম্পর্ক খারাপ হলে প্রভাব পড়ে।
‘তবে তাদের কাছ থেকে আমাদের যদি কোনো স্বার্থ থাকে আমদানি করার, আমরা করব,’ বলেন তিনি।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে উপদেষ্টা জানান, ‘এটা হয়ত নিরাপত্তা নিয়ে যারা সরাসরি কাজ করেন তারা বলতে পারবেন। এই মুহূর্তে আমার কাছে এরকম কোনো তথ্য নেই।’
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই পর্যটক ছিলেন। এ ঘটনায় পাকিস্তান জড়িত বলে অভিযোগ করেছে চিরবৈরী ভারত। যদিও হামলার সঙ্গে কোনোরকম সংশ্লিষ্টতার দায় অস্বীকার করেছে পাকিস্তান।
পহেলগামের ভয়াবহ ওই হামলার জেরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। জবাবে সিমলা চুক্তি স্থগিত ও ভারতীয় বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান।
আারও পড়ুন: দুই মাসের মধ্যে তুলাকে কৃষি পণ্য ঘোষণা করা হবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
তাছাড়া, হামলার পরে দুই দেশই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের ভিসা বাতিল করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এতে ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকেরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে শুরু করেন।
চলমান উত্তেজনা নিরসনে দুই দেশকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে মিত্র দেশ সৌদি আরব ও ইরান। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দেশদুটির মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। পাশাপাশি দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার এই উত্তেজনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনে তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
৩১৩ দিন আগে