বৈদেশিক-সম্পর্ক
ভারতের আমদানি নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা
বাংলাদেশি কিছু পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের স্থলবন্দর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশি তৈরি পোশাক ও কিছু খাদ্যপণ্য। ভারতের এ সিদ্ধান্তের ফলে বিপাকে পড়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো।
প্রতিষ্ঠানগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও খারাপের দিকে ঠেলে দেবে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল ইউএনবিকে বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের পোশাক ভারতে পৌঁছাতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগবে। এতে খরচও বাড়বে। অর্থাৎ, (ভারতে পোশাক) রপ্তানি কিছুটা কমে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য যখন নানা সমস্যায় জর্জরিত, তখন এমন পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্ত উভয় পক্ষের ক্ষতির পরিমাণ বাড়াবে।’
আরও পড়ুন: দুই সমুদ্রবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিল ভারত
বাংলাদেশ প্রতি বছর গড়ে ৫০ কোটি ডলারের পণ্য ভারতে রপ্তানি করে বলে জানান বিজিএমইএর সাবেক এই পরিচালক। বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের বড় ক্রেতা দেশ এবং সেখানে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের বাজার বড় হচ্ছিল। এখন এই সিদ্ধান্ত নতুন করে আমাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াল।’
ভারতের এই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে ভুটান বা নেপালের ট্রানজিট পণ্য প্রভাবিত না হলেও সামগ্রিকভাবে ব্যবসায়িক সম্পর্কের ওপর এটি একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, রপ্তানিকারকরা বলছেন, শুধু তৈরি পোশাক নয়; ফলমূল, কার্বনেটেড বেভারেজ, প্লাস্টিক ও পিভিসি পণ্য, কাঠের আসবাবপত্রসহ বেশ কিছু পণ্যের ওপরও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় স্থলবন্দরগুলোতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় সার্বিকভাবে ব্যবসা ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকছেই।
শনিবার ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তর (ডিজিএফটি) এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ থেকে কিছু পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট বন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এক কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানায়, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর দিয়ে ভারতীয় তুলা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং স্থলবন্দরগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর ভারত এই সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে ভারত সরকারের ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভারতের বন্দর ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।
ডিজিএফটির বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে কোনো স্থলবন্দর দিয়ে তৈরি পোশাক আমদানি করা যাবে না। তবে ভারতের ব্যবসায়ীরা কেবল কলকাতা ও মুম্বাইয়ের নবসেবা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: আমরা কূটনীতিতে বিশ্বাসী, পুশ-ইন করি না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, অবিলম্বে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
পাশাপাশি ভারতের আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন (এলসিএস)/ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (আইসিপি) এবং পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা ও ফুলবাড়ী শুল্ক স্টেশন দিয়ে ফল এবং ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক পণ্য ইত্যাদি রপ্তানি করা যাবে না।
তবে মাছ, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), ভোজ্যতেল ও ভাঙা পাথর নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখেনি ভারত।
৩৮৩ দিন আগে
বন্দর দিয়ে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিল ভারত
বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য সামগ্রীসহ কিছু পণ্য বন্দর দিয়ে আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। শনিবার (১৭ মে) দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তর (ডিজিএফটি) এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে।
বাংলাদেশ সমুদ্রবন্দর ও স্থল বন্দর দিয়ে ভারতীয় তুলা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ভারত এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানিয়েছে।আরও পড়ুন: আমরা কূটনীতিতে বিশ্বাসী, পুশ-ইন করি না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
তবে, ভারত সরকার জানিয়েছে, এই ধরনের বন্দর নিষেধাজ্ঞা ভারতের মধ্য দিয়ে পরিবহনকারী বাংলাদেশি পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যা নেপাল ও ভুটানের উদ্দেশে পাঠানো হয়। এই নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
কোনো স্থল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে সকল ধরণের তৈরি পোশাক আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে, বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেবল নাভা শেভা এবং কলকাতা সমুদ্রবন্দর দিয়েই আমদানির অনুমতি থাকবে।
ফল/ফলের স্বাদযুক্ত ও কার্বনেটেড পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য সামগ্রী, তুলা ও সুতির সুতার বর্জ্য, প্লাস্টিক ও পিভিসি তৈরি পণ্য আমদানি, নিজস্ব শিল্পের জন্য ইনপুট তৈরি করে এমন রঙিন পদার্থ, রঙ, প্লাস্টিসাইজার, কাঠের আসবাবপত্র এবং অন্যান্য পণ্য আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামের কোনো স্থল কাস্টমস স্টেশন (এলসিএস)/ ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট (আইসিপি) ও পশ্চিমবঙ্গের (এলসিএস) চ্যাংড়াবান্ধা ও ফুলবাড়ি দিয়ে আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ থেকে মাছ, এলপিজি, ভোজ্যতেল এবং চূর্ণ পাথর আমদানির ক্ষেত্রে বন্দরের নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।
ভারতে বাংলাদেশি রপ্তানির একটি বড় অংশ হলো তৈরি পোশাক।
বর্তমানে তাদের মূলত চট্টগ্রাম হয়ে কলকাতা ও মুম্বাই- দুটি ভারতীয় বন্দরে আসতে হয়। এতে খরচ বেড়ে যায়।
গত মাসে তৎকালীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি স্থগিত করেছে।
এতে বলা হয়েছে, বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থল বন্দর দিয়ে সুতা আমদানির আর অনুমতি দেওয়া হবে না।
ভারত থেকে সুতা আমদানির জন্য এই বন্দরগুলোই ছিল সহজ প্রবেশপথ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে বস্ত্র শিল্প মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি বন্ধের দাবি জানায়।
৩৮৩ দিন আগে
আমরা কূটনীতিতে বিশ্বাসী, পুশ-ইন করি না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আমরা কূটনৈতিক সমাধানে বিশ্বাসী, ভারতের মতো কাউকে পুশ-ইন করি না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
শনিবার (১৭ মে) সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রায়মঙ্গল নদী ও বয়েসিং খালের সংযোগস্থলে ‘বয়েসিং ভাসমান বিওপি’ উদ্বোধন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।‘বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতের পুশ-ইন সমস্যা প্রতিরোধে বাংলাদেশ কূটনৈতিক সমাধানে বিশ্বাসী। বাংলাদেশ সবসময় আন্তর্জাতিক আইন ও প্রটোকল অনুসরণ করে আসছে। আমরা এরইমধ্যে এ সমস্যা সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতকে চিঠি লিখেছি,’ বলেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান এ সমস্যার সমাধানে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।’
‘বাংলাদেশি কেউ অবৈধভাবে ভারতে থাকলে তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পাঠানোর বিষয়ে ভারতীয় কতৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে অবৈধ ভারতীয় নাগরিক থাকলেও তাদেরকে আমরা যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে ফেরত পাঠাবো। সেজন্য ভারতীয় পক্ষকে বলা হয়েছে, তারাও যেন পুশ-ইন না করে যথাযথ চ্যানেলে ফেরত পাঠায়।’
তিনি জানান, ‘গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ভারত পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে, যা বিজিবি, আনসার এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় প্রতিহত করা হয়েছে।’
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় সবাই সতর্ক থাকলে ভারত পুশ-ইন করতে পারবে না। ভারত গুজরাটে অবস্থিত একটি বাঙালি বস্তি ভেঙে দিয়েছে। সেখানে আমাদের দেশেরও কিছু রোহিঙ্গা গিয়েছিলো। ওই বস্তি ভেঙে দেওয়ার পরই মূলত পুশ-ইন শুরু হয়েছে।’
‘বাংলাদেশে পুশ-ইন করা ব্যক্তিদের মধ্যে জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) কার্ডধারী কিছু রোহিঙ্গাও রয়েছেন। আবার যারা ভারতীয় রোহিঙ্গা তাদেরও পুশ-ইন করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। সেজন্য আমরা একটা প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছি’, যোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: টেকসই সংস্কারে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস জাতিসংঘের
উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এই ভাসমান বিওপি একটি অপারেশনাল প্লাটফর্ম, যা জলপথে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করবে। বয়েসিং ভাসমান বিওপি শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি একটি কৌশলগত নিরাপত্তা পদক্ষেপ। এটি সীমান্ত এলাকায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিজিবির অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই উদ্যোগ সীমান্তে নতুন নিরাপত্তা সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সীমান্তে কার্যকর জলভিত্তিক নজরদারি নিশ্চিত করতে বিজিবির অধীনে একটি বিশেষ রিভারাইন বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন গঠনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা ভবিষ্যতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।উপদেষ্টা বলেন, সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও নদীঘেরা সীমান্ত এলাকাগুলোতে স্থলপথে নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা বজায় রাখা কঠিন। এই ভাসমান বিওপি চোরাচালান, মানবপাচার, বনজসম্পদ লুণ্ঠন এবং সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবিকে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
৩৮৩ দিন আগে
টেকসই সংস্কারে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস জাতিসংঘের
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে টেকসই সংস্কারে সহযোগিতা করতে জাতিসংঘ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে সংস্থাটির আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ কান্ট্রি টিমের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) দ্বিবার্ষিক সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।
সভায় যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং গোয়েন লুইস। এতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
লুইস বলেন, ‘বাংলাদেশের এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে টেকসই সংস্কার, জলবায়ু সহনশীলতা, অর্থনৈতিক রূপান্তর, জেন্ডার সমতা ও সমাজের কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য সহযোগিতা করতে জাতিসংঘ প্রস্তুত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য বিগত বছরটি চ্যালেঞ্জিং ছিল, যদিও এই সময়ে বাংলাদেশের মানুষ আত্মমর্যাদাবোধ ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে।’ এই সময়ে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের অংশীদারত্বের জন্য তিনি গর্ববোধ করেন উল্লেখ করে বলেন, ‘এই অংশীদারত্ব আমাদের যৌথ মূল্যবোধ ও আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম বাণিজ্য চুক্তি সই, শুল্কবাধা দূর করার পরামর্শ
বৈঠকে জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন সহযোগিতা কাঠামোর (ইউএনএসডিসিএফ) বাস্তবায়ন মূল্যায়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৪ সালের বাংলাদেশের জাতিসংঘ কান্ট্রি রেজাল্ট রিপোর্ট প্রকাশ এবং আগামী বছরের জন্য কৌশলগত অগ্রাধিকার অনুমোদন করা হয়।
জাতিসংঘ ২০২৪ সালে উন্নয়ন কর্মসূচিতে ২১ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিয়েছে বাংলাদেশকে। এই অর্থায়নের আওতায় উল্লেখযোগ্য কাজগুলো হচ্ছে— বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মসৃণ উত্তরণ কৌশল তৈরিতে সহায়তা, বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্বে ৪ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ১১৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার উন্নত করতে সহায়তা এবং ১১ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণীকে ডিজিটাল দক্ষতা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
জাতিসংঘের এ সহায়তার আওতায় অন্তত ৪ কোটি মানুষ সামাজিক সুরক্ষা সেবা পেয়েছেন। এর মধ্যে শিশু সুরক্ষা কর্মসূচি থেকে উপকৃত হয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার। এ ছাড়া সারা দেশে ৫৬ লাখ কিশোরীকে জরায়ুমুখের ক্যান্সার থেকে রক্ষা করার জন্য হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে। এতে দেশে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের অন্তত ৯৩ শতাংশ টিকা পেয়েছে।
তাছাড়া জলবায়ু দুর্যোগে চিহ্নিত বছরে ৪ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় সহায়তা সমন্বয় করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি প্রায় ১৭ লাখ ২০ হাজার দুর্যোগকবলিত মানুষকে মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ২০ লাখ মানুষের মধ্যে জলবায়ু ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা হয়েছে।
অর্থ সহায়তার পাশাপাশি শাসনব্যবস্থা ও লিঙ্গ সমতার কাজের মাধ্যমে জাতিসংঘ গ্রামীণ এলাকার ৬৬ শতাংশ গ্রাম্য আদালত কার্যকর করতে সহায়তা করেছে। প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ মানুষের কাছে এই সেবা পৌঁছে গেছে। এ ছাড়া, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা বিলকে সমর্থনের পাশাপাশি গার্হস্থ্য সহিংসতা আইন সংশোধনের পক্ষেও প্রচার চালিয়েছে জাতিসংঘ।
আরও পড়ুন: আলী রীয়াজের সঙ্গে হিউম্যান রাইটস প্রেসিডেন্টের বৈঠক
বৈঠকে সরকার অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনএসডিসিএফ (২০২২-২০২৬) এক বছরের সম্প্রসারণের অনুমোদন দেয় জেএসসি।
বৈঠক শেষে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঘোষণাপত্র এবং যুব সম্পৃক্ততা নিয়ে জাতিসংঘ কী কী কাজ করে থাকে, তা নিয়ে একটি সেশন হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা গত বছরের ‘সামিট অফ দ্য ফিউচারের’ ধারাবাহিকতায় তরুণদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেন এবং আন্তঃপ্রজন্ম সমতাকে জাতীয় নীতিমালার অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা করেন।
এ সময় জাতিসংঘের চলমান অংশীদারত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের। পাশাপাশি সম্প্রসারিত ইউএনএসডিসিএফ এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শাহরিয়ার কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপের মতো জলবায়ু অর্থায়ন প্ল্যাটফর্মের অগ্রগতিকে আমরা স্বাগত জানাই। এ ব্যাপারে জাতিসংঘ ও উন্নয়ন অংশীদারদের সমর্থন অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার ‘তিন শূন্য নীতির’ লক্ষ্য পূরণে যুবকদের কর্মসংস্থান, সামাজিক উদ্যোগ এবং প্রভাবভিত্তিক অর্থায়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় শাসনব্যবস্থা এবং আসন্ন সংস্কার ও নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের কার্যকর সহায়তা জরুরি।”
এদিন সভা শেষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী পদক্ষেপে সম্মতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে— চলতি বছেরের শেষ নাগাদ ইউএনএসডিসিএফের চূড়ান্ত বছর মূল্যায়নের সূচনা এবং এসডিজি বাস্তবায়ন ও এলডিসি উত্তরণে গতি আনার প্রতিশ্রুতি।
আরও পড়ুন: আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় দিল্লির উদ্বেগ প্রকাশ, দ্রুত নির্বাচনের প্রত্যাশা
ইউএনএসডিসিএফ কাঠামোটি এসডিজি অর্জনে জাতিসংঘের পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে। এর মধ্যে রয়েছে— অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন; সমতার ভিত্তিতে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কল্যাণ; টেকসই, সহনশীল ও উপযোগী পরিবেশ; রূপান্তর, অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সুশাসন এবং লিঙ্গ-সমতা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা নির্মূল।
জেএসসির পরবর্তী সভা চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের ঢাকা কার্যালয়।
৩৮৪ দিন আগে
বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম বাণিজ্য চুক্তি সই, শুল্কবাধা দূর করার পরামর্শ
বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে উচ্চ শুল্ক (ট্যারিফ) বাধা দূরী করাসহ দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সই ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভিয়েতনামের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক ডেপুটি মিনিস্টার ফ্যান থি থ্যাং।
বুধবার (১৪ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত ভিয়েতনাম-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম ২০২৫–এ তিনি এ কথা বলেন।
ফোরামে ভিয়েতনামের ১৬ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন। দলটির নেতৃত্ব দেন দেশটির ডেপুটি মিনিস্টার ফ্যান থি থ্যাং।
কৃষি, পর্যটন, ঔষধ, মৎস্য, তথ্য প্রযুক্তিসহ বেশকিছু শিল্পের বাণিজ্য সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ফ্যান থি থ্যাং বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম উভয় দেশই একে অপরের পণ্যে উচ্চ শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপ করে রেখেছে। দুদেশের মধ্যে ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাধা দূর করাসহ পরিবহন, যোগাযোগ ও লজিস্টিকস ব্যবস্থা সহজ করা গেলে অনাবিষ্কৃত খাতসমূহে বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এসময়, দু’দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সহযোগিতা দৃঢ় করার পরামর্শ দেন তিনি।
আরও পড়ুন: হেল্পলাইন চালু হচ্ছে দেশের সব আদালতে
উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য শুল্ক প্রতিবন্ধকতা দূর করার কথা বলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রহিম খান। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে লেনদেন ব্যবস্থা আরও সহজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে বিপুল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে। এর একটি বড় অংশই অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। এরপর অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন ঢাকায় নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত গুয়েন মান কোং। প্রযুক্তি স্থানান্তর ও কারিগরি সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশে শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুফল পেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এসময়, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে বাণিজ্য-ভিসা সহজ করার আহ্বান জানান ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমান।
দুদেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার গুরুত্ব তুলে ধরেন ভিয়েতনাম বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ডো ভ্যান থ্রং।
অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর, এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক আব্দুল হক, নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, ড. ফেরদৌসী রহমান, এফবিসিসিআই’র সহায়ক কমিটির সদস্য, সাধারণ পরিষদের সদস্য, ব্যবসায়ী নেতাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৩৮৬ দিন আগে
আলী রীয়াজের সঙ্গে হিউম্যান রাইটস প্রেসিডেন্টের বৈঠক
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের সঙ্গে রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট ক্যারি কেনেডির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ মে) সংসদ ভবনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ সময় আর এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটসের এশিয়া অঞ্চলের স্টাফ অ্যাটর্নি ক্যাথরিন কুপার এবং আন্তর্জাতিক পরামর্শ ও বিচারিক কার্যক্রমবিষয়ক ভাইস-প্রেসিডেন্ট অ্যাঞ্জেলিটা ব্যায়েন্স উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে কমিশনের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কমিশনের পক্ষ থেকে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে একটি জাতীয় সনদ প্রণয়নের জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ করতে চায়, যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা উপস্থাপন করবে।’
আরও পড়ুন: আলী রীয়াজের সঙ্গে দ্য কার্টার সেন্টারের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টরের বৈঠক
‘এ লক্ষ্যে শিগগিরই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা সম্পন্ন করে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপ শুরু করবে কমিশন।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রই নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীন বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে সক্ষম।’
বৈঠকে ক্যারি কেনেডি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কমিশনের সাফল্য কামনা করেন।
৩৮৬ দিন আগে
আ. লীগ নিষিদ্ধ: মুক্ত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের ব্যাপারটি যুক্তরাষ্ট্র অবগত বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপপ্রধান মুখপাত্র থমাস টমি পিগোট। সব দেশে মুক্ত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত আইনি প্রক্রিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ মে) ওয়াশিংটন ডিসিতে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতামত জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন।
পিগোট বলেন, ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনালে নেতাকর্মী ও দলের বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। এ বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি।’
বাংলাদেশে কোনো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করেনা বলেও জানান তিনি।
পিগোট আরও বলেন, বাংলাদেশসহ সব দেশকে আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানাই।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি
ভিন্ন আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দেই। এই অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
এদিকে, মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ নিষেধাজ্ঞা অপরিহার্য।
তিনি ইউএনবিকে বলেন, ‘আমরা দেখেছি কীভাবে আওয়ামী লীগ বিগত ১৫ বছরে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে, রাজনৈতিক পরিসরকে সংকুচিত করেছে এবং দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে।’
আওয়ামী লীগের সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সৃষ্ট ক্ষত এখনো তাজা বলে মন্তব্য করেছেন শফিকুল আলম।
৩৮৭ দিন আগে
নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণের সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকার আহ্বান
বাংলাদেশের নির্বাচন সম্পূর্ণরূপে অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ সংক্রান্ত বিষয়ে সকলকে তার জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
মঙ্গলবার (১৩ মে) বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শফিকুল আলম এই আহ্বান জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ইউএনবিকে বলেন, ‘নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমরা সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি।’
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ভারতের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে আলম বলেন, তারা প্রত্যক্ষ করেছেন যে, আওয়ামী লীগ ১৫ বছরের দীর্ঘ স্বৈরাচারী ও নির্মম শাসনামলে কী করেছে, কীভাবে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে, রাজনৈতিক অঙ্গনকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করেছে এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করেছে।
প্রেস সচিব বলেন, ‘এই দলটির সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ফলে সৃষ্ট ক্ষত এখনও তাজা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি যে, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য এই দলের কার্যকলাপের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা জরুরি।’
নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নে আলম বলেন তারা স্মরণ করিয়ে করুক কীভাবে আওয়ামী লীগ বারবার চরম প্রহসনমূলক নির্বাচন করেছে এবং আমাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানগুলোর অপূরণীয় ক্ষতি করেছে।
পড়ুন: আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় দিল্লির উদ্বেগ প্রকাশ, দ্রুত নির্বাচনের প্রত্যাশা
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের জন্য একটি সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি।’
এর আগে, মঙ্গলবার (১৩ মে) নয়া দিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যকলাপের উপর অন্তর্বর্তী সরকারের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা একটি উদ্বেগজনক ঘটনা।’
জয়সওয়াল বলেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত স্বাভাবিকভাবেই ‘গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক স্বাধীনতা হরণ ও সংকোচন হওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন।’
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের দ্রুত আয়োজনকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দলের নেতা-কর্মীদের বিচার চলমান অবস্থায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সমস্ত কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সরকার।
৩৮৭ দিন আগে
আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় দিল্লির উদ্বেগ প্রকাশ, দ্রুত নির্বাচনের প্রত্যাশা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের উপর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রতিবেশী দেশ ভারত।
মঙ্গলবার (১৩ মে) নয়া দিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা একটি উদ্বেগজনক ঘটনা।’
পড়ুন: আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধে অন্যদের বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে না, সরকারের আশ্বাস
জয়সওয়াল বলেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত স্বাভাবিকভাবেই ‘গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক স্বাধীনতা হরণ ও সংকোচন হওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন।’
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের দ্রুত আয়োজনকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দলের নেতা-কর্মীদের বিচার চলমান অবস্থায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সমস্ত কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সরকার।
৩৮৭ দিন আগে
আলী রীয়াজের সঙ্গে দ্য কার্টার সেন্টারের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টরের বৈঠক
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের সঙ্গে দ্য কার্টার সেন্টারের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর জনাথন স্টোনস্ট্রিট বৈঠক করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ মে) ঢাকায় সংসদ ভবনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় দ্য কার্টার সেন্টারের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর সাইরাহ জাইদি ও লোকাল সহকারী বিশেষজ্ঞ কাজী শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ঐকমত্য কমিশনের কার্য অগ্রগতি এবং লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন: দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এই রাষ্ট্র পুনর্গঠন আলোচনা: আলী রীয়াজ
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সংস্কার সংক্রান্ত ৫টি কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলোর সুনির্দিষ্ট মতামত জানতে ইতোমধ্যে সুপারিশমালা স্প্রেডশিট আকারে তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে আমরা মতামত পেয়েছি এবং তার ভিত্তিতে ৩২টি দলের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে আলোচনা করেছে কমিশন। শিগগিরই প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শেষ করে দ্বিতীয় ধাপে আলোচনা শুরু করবে কমিশন।
তিনি আরও বলেন, সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি জাতীয় সনদ তৈরি করতে চায় কমিশন, যা ভবিষ্যত বাংলাদেশের পথরেখা নির্দেশ করবে। একটি গণতান্ত্রিক এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে এই জাতীয় সনদ ভূমিকা রাখবে। যা দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত রাখার নিশ্চয়তা দেবে।
৩৮৭ দিন আগে