রংপুর
রংপুরে চার খুন: আলামতে অস্তিত্ব মিলল দুই আসামির ডিএনএর
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আলামতে পাওয়া জৈবিক নমুনার সঙ্গে গ্রেপ্তার দুই আসামির ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
তিনি জানান, নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া খেজুর, শসা, সিগারেটের ফিল্টারসহ কয়েকটি আলামতে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। ডিএনএ পরীক্ষায় এসব আলামতে পাওয়া জৈবিক নমুনার সঙ্গে তাদের ডিএনএ মিলে গেছে। এতে হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে দুই আসামির অবস্থানের বিষয়ে তদন্তে নতুন ফরেনসিক তথ্য যুক্ত হলো।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে ওদের (সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ) যে আমরা ডিএনএ স্যাম্পলিং করাইছি, সেখানে আলামতে পাওয়া ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ম্যাচ করেছে।’
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা বাড়িতে অবস্থান করে খেজুর ও শসা খেয়েছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খেজুরের বিচি, কামড় দেওয়া শসার অংশ ও সিগারেটের ফিল্টারে পুরুষের ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। তখন এসব নমুনা কার, তা শনাক্ত হয়নি। আসামিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে এসব আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয় তদন্তকারী সংস্থা।
ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরদিন ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করার কথা জানায় পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টির বেশি আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের ফয়েল, সিগারেটের শেষাংশ, নানরুটি, শসা, খেজুর, বেসিনের দাগ, নিহত শিশুর খাতায় পাওয়া একটি লেখাসহ বিভিন্ন আলামত ছিল। এসব আলামত কয়েক দফায় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরে ২০ সেপ্টেম্বর দুই আসামিকে ঢাকায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় গত ২২ আগস্ট রাতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলাটি বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে।
৩ দিন আগে
বেরোবিতে পদোন্নতির দাবিতে কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি (আপগ্রেডেশন) না দেওয়ার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতি পালন করছেন বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের কর্মচারীরা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেটে অবস্থান নিয়ে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এ বিষয়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সেমিনার সহকারী মো. মাহফুজার রহমান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে পদবঞ্চিত। কেউ দশ বছর, কেউ সাত বছর। আমাদের নীতিমালা অনুযায়ী পাঁচ বছর পরপর পদোন্নতি দেওয়ার কথা। কিন্তু প্রশাসনকে বারবার জানানোর পরও তারা আমাদের জন্য আপগ্রেডেশন বোর্ডের আয়োজন করেননি। এ জন্য আমরা উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে চিঠি দিয়েছি। আমরা প্রথমে ২ ঘণ্টা করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করব। এরপর দাবি আদায় না হলে আমরা সবাই অনশনে যাব।’
কর্মচারীদের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে গনিত বিভাগের সেমিনার সহকারী মোছা. কাকলী বেগম বলেন, ‘আমরা খুব অল্প টাকা বেতন পাই। এই অল্প টাকা দিয়ে আমাদের পরিবার চালাতে খুব কষ্ট হয়। যার কারণে আমাদের বেশির ভাগ কর্মচারী ভাই-বোন ঋণে জর্জরিত। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ইতোমধ্যে অনেক কর্মচারী মারা গেছেন।’
দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সেমিনার সহকারী মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যেহেতু আমরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে কম বেতনভোগী, সেহেতু সময়মতো পদোন্নতি হলে আমরা আর্থিকভাবে কিছুটা উপকৃত হতাম। অথচ আমরাই গত ১০ বছর ধরে কোনো পদোন্নতি পাচ্ছি না। এতে আমরা আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত। উপাচার্য মহোদয়ের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, আমাদের যৌক্তিক দাবিদাওয়া মেনে নিয়ে আমাদের পদোন্নতি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’
কর্মসূচিতে দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হুমায়ুন কবির সাগর, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর রাফি আক্তার, দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সেমিনার অ্যাটেনডেন্ট মোছা. ফারজানা বেগমসহ আরও অনেকে যোগ দেন।
৫ দিন আগে
পঞ্চগড়ে ৭ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা বিএসএফের, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ
পঞ্চগড় জেলার মালকাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে সাতজনকে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত তাদের ভারতে ফিরে যেতে হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের মালকাডাঙ্গা সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে ফেরত যান তারা। পুশ-ইনের চেষ্টার শিকার সাতজনের মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন।
নীলফামারী (বিজিবি-৫৬) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে মালকাডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় সাতজনকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখা যায়। এ সময় সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যরা তাদের বাধা দেন। পরে তারা সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান নেন।
দিনভর সীমান্ত এলাকায় অবস্থানের পর রাতে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে ওই সাতজন একই সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ পারাপার, পুশ-ইনসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
৫ দিন আগে
ধানক্ষেত থেকে ভ্যানচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
রংপুরের পীরগঞ্জে বিপুল চন্দ্র বর্মন (৪২) নামের এক ভ্যানচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বড় মজিদপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিপুল চন্দ্র বর্মন উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মহান চন্দ্র বর্মনের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিজস্ব জমিজমা না থাকায় বিপুল অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদের পাশাপাশি দিনমজুরির কাজ করতেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে রাতে ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালান তিনি।
প্রতিদিনের মতো গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন বিপুল। এরপর রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে আজ (মঙ্গলবার) সকালে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান।
স্থানীয়রা জানান, এদিন সকালে বড় মজিদপুর মৌজায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পশ্চিম পাশে একটি ধানক্ষেতে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশে একটি ভ্যানও পড়ে ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে ধানক্ষেতের বেশ কিছু ধানগাছ ভাঙা ছিল। এ থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে বিপুলের ধস্তাধস্তি হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পীরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের আটকে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৬ দিন আগে
লালমনিরহাটে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
লালমনিরহাটে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীকে আতিকুল ইসলামেদিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী এ রায় দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের দাড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকায় বসতঘর থেকে মিতু আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার দুই বছর আগে মিতু আক্তারের সঙ্গে আতিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে রয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আতিকুল স্ত্রী মিতুকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। পরে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরদিন সকালে পাঁচ মাস বয়সী মেয়ের কান্নাকাটির শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে মিতুর মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশে খবর দেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
রায় ঘোষণাকালে আদালত উল্লেখ করেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। এছাড়া জব্দ করা আলামত ধ্বংসের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও বাদীর পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
৬ দিন আগে
পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের’ শিকার নারী, গ্রেপ্তার ২
দিনাজপুরের হাকিমপুরে পাওনা টাকা চাইতে যাওয়া এক নারীকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মায়ের করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাদশা আলম।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (রবিবার) সকালে ভুক্তভোগীর মা হাকিমপুর থানায় অভিযোগ করেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলার পালপাড়া গ্রামের রুহুল আমিনের বাড়িতে তার মেয়ে পাওনা টাকা চাইতে যান। এ সময় রুহুল আমিন, শুকুর আলী ও ফেরদৌস হোসেন তার মেয়েকে আটক রেখে ধর্ষণ করেন। এ সময় আসামিরা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতিও দেখান।
পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে ওই বাড়ি থেকে রুহুল আমিন ও শুকুর আলীকে আটক করেন। খবর পেয়ে হাকিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে হেফাজতে নেয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে। ভুক্তভোগীর মায়ের এজাহারের ভিত্তিতে থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
মামলার পর রুহুল আমিন ও শুকুর আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর এক আসামি ফেরদৌস মিয়া পলাতক রয়েছেন।
ওসি বাদশা আলম বলেন, এ ঘটনায় গতকাল দুপুরে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
৭ দিন আগে
৮৩২ পিস ইয়াবাসহ ২ মোটরসাইকেলআরোহী গ্রেপ্তার
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ৮৩২ পিস ইয়াবা ও নগদ আট হাজার ৯০ টাকাসহ দুই মোটরসাইকেলআরোহীকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
রবিবার (৪ অক্টোবর) এসআরবি-১৩ ক্যাম্পের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন সুন্দরগঞ্জ থানার পূর্ব হাতিয়া গ্রামের মমতাজ আলীর ছেলে সুজা মিয়া (৩২) ও কুড়িগ্রামের রৌমারী থানার নওদাপাড়া গ্রামের জবেদ আলীর ছেলে নুরুজ্জমান মিয়া (৪২)।
গতকাল (শনিবার) রাত ৯টার দিকে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বালারছিড়া মোড় এলাকায় চেকপোস্ট বসায় এসআরবি-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি দল।
এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তিকে তল্লাশি করে ৮৩২ পিস ইয়াবা ও নগদ আট হাজার ৯০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে মোটরসাইকেলটি জব্দ করে এসআরবি।
ইয়াবা ও মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সুন্দরগঞ্জ থানায় সোপর্দ করে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
৮ দিন আগে
সীমান্তে পিস্তল, গুলি ও ‘আইস’ উদ্ধার
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা সীমান্তে অভিযান চালিয়ে একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি ও ক্রিস্টাল মেথ (আইস) বলে সন্দেহ করা এক কেজি পদার্থ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) আওতাধীন রামখানা বিওপির পূর্ব রামখানা আশকোন নগর এলাকায় এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে ভারত থেকে অস্ত্র ও মাদকের একটি চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে বিশেষ টহল পরিচালনা করেন।
টহল চলাকালে পূর্ব রামখানা আশকোন নগর এলাকায় কয়েকজন চোরাকারবারিকে ভারতের দিক থেকে আসতে দেখেন বিজিবি সদস্যরা। এ সময় বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা হাতের মালামাল ফেলে দৌড়ে ভারতে পালিয়ে যান।
পরে ঘটনাস্থল থেকে পলিথিনে মোড়ানো একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি ও ক্রিস্টাল মেথ (আইস) বলে সন্দেহ করা এক কেজি পদার্থ উদ্ধার করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ নাগেশ্বরী থানায় হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া উদ্ধার করা পদার্থগুলো ক্রিস্টাল মেথ (আইস) কি না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে।
এ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
৯ দিন আগে
কাশফুলে সেজেছে উত্তরের চর
শরতের মায়াবী বিকেলে উত্তরাঞ্চলে নদ-নদীর চরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কাশফুলের শুভ্রতা। তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রের বুকে জেগে ওঠা চরগুলোতে কাশফুলের দোল খাওয়া সৌন্দর্য প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করছে। দূর থেকে মনে হয়, শিল্পীর তুলিতে আঁকা কোনো জীবন্ত ছবি।
নদ-নদীর বুক চিরে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা কাশের গুচ্ছ বাতাসে দুলছে। সবুজ ঘাসের মধ্যে পালকের মতো নরম ধবধবে সাদা কাশফুলের সারি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে টানছে, একই সঙ্গে ভ্রমণপিপাসুদের জানাচ্ছে উষ্ণ অভ্যর্থনা। কাশফুলের ঘ্রাণ ও শুভ্রতা উপভোগ করতে ছুটে আসছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
শরতের আকাশে পড়ন্ত বিকেলে নদীর পাড়জুড়ে কাশফুল যেন সাদার মায়াবী চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। কাছে গেলে দেখা যায়, সবুজের বুক চিরে মাথা উঁচু করে থাকা কাশফুল হিমেল বাতাসে দুলছে। প্রকৃতির এই অপরূপ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।
স্থানীয়রা জানান, নদীর পাড়ে জেগে ওঠা চরগুলোর শত শত বিঘা জমিতে বেড়ে উঠেছে কাশ। পড়ন্ত বিকেল থেকে এসব চরে বাড়তে থাকে মানুষের আনাগোনা। কেউ আসেন প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে, কেউবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে কিছুটা সময় কাটাতে।
সরেজমিনে ইসলামপুর চরে গিয়ে দেখা যায় দর্শনার্থীদের মিলনমেলা। এ সুযোগে অনেকে ফুচকাসহ নানা রকমের খাবারের দোকান বসিয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই বিক্রেতা জানান, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ কাশফুলের বন দেখতে আসেন। চরে সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকায় তারা একটি ক্যাফে দিয়েছেন। সেখানে বোতলজাত পানি, কোমল পানীয়, ফুচকাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পাওয়া যায়। বেচাকেনাও ভালো। দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের আনাগোনা থাকে।
৯ দিন আগে
ভুট্টা চত্বর হবে লালমনিরহাটের প্রতীক: ত্রাণমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, ভুট্টা চত্বর হবে লালমনিরহাটের প্রতীক।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) লালমনিরহাট শহরে ভুট্টা চত্বরের নির্মাণকাজ উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ইন্ডিয়া গেইট যেমন দিল্লীর প্রতীক, ফয়সল মসজিদ যেমন ইসলামাবাদের প্রতীক তেমনি ভুট্টা চত্বর হবে লালমনিরহাটের প্রতীক।
তিনি আরও বলেন, উত্তরাঞ্চলের জেলা লালমনিরহাটের ব্র্যান্ডিং ফসলে পরিণত হয়েছে ভুট্টা। বর্তমানে এই জেলায় ভুট্টার চাষ বেড়েছে। ভুট্টা এখন জেলার প্রধান অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। ভুট্টা চাষে বদলে গেছে এ অঞ্চলের চাষিদের জীবন। হাসি ফুটেছে তাদের মুখে। এজন্য জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রকে ভুট্টা চত্বর হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। আইকনিক স্থাপত্যশৈলিতে একে সাজানো হবে।
১৯৯১ সাল থেকে জেলার হাতীবান্ধার আবুল কাসেম ভুট্টা চাষ করছেন। ওই সময় ভুট্টার ফলন ছিল কম। তাই চাষিদের তেমন আগ্রহ ছিল না। তবে, গত তিন দশকে সেখানকার দৃশ্য পাল্টে গেছে। ওই গ্রামের সব কৃষক এখন ভুট্টা চাষ করছেন।
এ জেলার মাটি ভুট্টা চাষের উপযোগী, ফলনও সন্তোষজনক। দামও ভালো পাচ্ছেন কৃষকেরা। ভুট্টাকে ঘিরে এখানে কৃষিভিত্তিক ছোট ছোট শিল্প কারখানা গড়ে উঠছে, যা পিছিয়ে পড়া এ জনপদকে এগিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হকসহ সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
১০ দিন আগে