রংপুর
লালমনিরহাটে তুচ্ছ ঘটনার জেরে কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিয়াকত আলী লাদেন (১৬) নামে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৮ জুন) রাতে উপজেলার সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লিয়াকত আলী লাদেন উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের বালাটারী গ্রামের আশরাফুলের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের রাব্বি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিতর্কের জেরে লিয়াকত আলী লাদেনকে গাঁজাখোর বলে গালি দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে লাদেন রাব্বিকে চড়-থাপ্পড় মারেন। বিষয়টি রাব্বি তার পরিবারকে জানালে তার বাবা ও বড় ভাই রকি লাদেনকে আক্রমণের চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেন। এর পরেও রাব্বির পরিবারের লাদেনের প্রতি ক্ষোভ থেকে যায়।
সোমবার রাত ৮টার দিকে লিয়াকত আলী লাদেন তার বাড়ির পাশের সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একা বসে ছিলেন। এ সময় রাব্বির বড় ভাই রকি পেছন দিক থেকে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে স্থানীয়রা লাদেনকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা অভিযুক্ত রকিদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
খবর পেয়ে আদিতমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
২ দিন আগে
ভারত থেকে ‘পুশইন’ শঙ্কায় কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা
ভারত থেকে বাংলা ভাষাভাষী লোকজনকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করার অভিযোগকে ঘিরে দেশজুড়ে উদ্বেগের মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
রবিবার (৮ জুন) কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে লোকজনকে বাংলাদেশে পুশইনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সীমান্তজুড়ে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ কৌশলগত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্তের প্রতিটি বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) থেকে দিনরাত টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে যৌথ টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গতিবিধি পরিলক্ষিত হলে দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সতর্কতা দেখা গেছে। বিজিবির পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে অবৈধ প্রবেশ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। এ পরিস্থিতিতে কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির বাড়তি সতর্কতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
৩ দিন আগে
গাইবান্ধায় ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র খুন
গাইবান্ধা সদরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে জেরে ছুরিকাঘাতে প্রতিপক্ষের ছোট ভাই রুমন (১৮) নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। আহত বড় ভাই রুহিতের অবস্থাও (২০) আশঙ্কাজনক।
রবিবার (৭ জুন) রাত ৯টার দিকে সদরের বোয়ালী ইউনিয়নের পূর্ব পিয়ারাপুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রুমন ওই এলাকার মৃত ফারুকের ছোট ছেলে। তিনি গাইবান্ধা সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামের ছানা হাজীর ছেলে রাকিবের সঙ্গে মৃত ফারুকের বড় ছেলে রুহিতের দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে গতকাল (রবিবার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উভয়ের মধ্য বাগবিতণ্ডা শুরু হলে রাকিব ধারালো ছুরি দিয়ে রুহিতকে আঘাত করে। এ সময় রুহিতের ছোট ভাই রুমন এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে রাকিব। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় রুহিত ও রুমনকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রুহিত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ (সোমবার) সকালে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খুনের ঘটনার পর পুলিশ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাকিবের মা বেবি বেগম ও তার স্ত্রী ইতি বেগমকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৩ দিন আগে
৪৮ ঘণ্টা পর ঠাকুরগাঁও সীমান্ত থেকে ১১ জনকে সরিয়ে নিল বিএসএফ
প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুসহ ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ। দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটানোর পর গতকাল (রবিবার) গভীর রাতে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সোমবার (৮ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দিবাগত রাত ৩টার পর বিএসএফ শূন্যরেখায় অবস্থানরত ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী এবং ৪ জন শিশুসহ মোট ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। এর ফলে বর্তমানে তারা আর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছেন না।
এর আগে, বিএসএফ গত শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে ওই ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সতর্ক নজরদারির কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেয় এবং সেখানেই টানা প্রায় ৪৮ ঘণ্টা কাটায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শূন্যরেখায় অবস্থানকালে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। প্রচণ্ড গরম, খোলা আকাশ, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের মধ্যে দিন-রাত কাটাতে হয় তাদের। বিশেষ করে তাদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং কয়েকজন শিশু থাকায় মানবিক সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে। শিশুদের কান্না, তীব্র রোদ ও রাতের অনিশ্চয়তা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
৩ দিন আগে
গাইবান্ধার মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার অব্যাহত হুমকি: ঐক্য পরিষদের উদ্বেগ
গাইবান্ধার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুর হাঁসবাড়ী গ্রামে অবস্থিত রাধাগোবিন্দ মন্দিরে হামলা চালিয়ে তা গুঁড়িয়ে দেওয়ার মহলবিশেষের সাম্প্রদায়িক হুমকির অব্যাহত ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
রবিবার (৭ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিষদ।
বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, হামলার হুমকিসম্বলিত এক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ার ফলে স্থানীয় জনগণসহ সারা দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী গভীরভাবে শঙ্কিত ও সন্ত্রস্ত। তারা যেকোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটানোর মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের আশঙ্কা করছে।
এই অবস্থায় ঐক্য পরিষদ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার তাগিদে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে সরকার, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে জোর আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক উস্কানিদাতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মন্দিরে দেবদেবীর বিগ্রহ ছাড়াও বৃদ্ধাশ্রম, চিকিৎসাকেন্দ্রসহ নানা জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানা রয়েছে। এ ছাড়াও বেশ কিছু কাল ধরে মন্দিরের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
৪ দিন আগে
ঠাকুরগাঁও সীমান্তের ওপারে বিএসএফের হাতে দুই বাংলাদেশি আটক
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক আটক হয়েছেন। ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় সীমান্তের ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে কাকরমনি ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করেন।
শনিবার (৬ জুন) সকালে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)-এর হাবিলদার (আইপি) মো. খায়রুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটকরা হলেন— হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের মো. আলিমুল ইসলাম (৪৬) এবং কাদিরসুখা গ্রামের মো. করিম (৩৪)।
গত বৃহস্পতিবার রাতে হরিপুর বিওপির সীমান্তবর্তী দনগাঁও গ্রামের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত কাকরমনি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের আটক করেন বলে জানিয়েছে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি।
বিজিবি সূত্র জানায়, আটকদের মধ্যে মো. করিম ভারতের একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তারা দুজনেই ভারত থেকে অবৈধ পথে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় হরিপুর বিওপির (বর্ডার আউটপোস্ট) বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে কাকরমনি বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহল দল তাদের হাতেনাতে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কমান্ডিং কর্মকর্তা মেজর আহসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে ও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
৫ দিন আগে
নদীভাঙনে ১০ বছরে গৃহহীন এক লাখ মানুষ, পৃথক মন্ত্রণালয় ও বাজেট চায় চরাঞ্চলের মানুষ
বর্ষা এলেই নদীর পাড়ে বসবাসকারী হাজারো মানুষের জীবনে ফিরে আসে পুরোনো আতঙ্ক। এক রাতে নদী গিলে নেয় বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা; কখনও আবার পুরো একটি গ্রাম। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো নতুন আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে বেড়ায়, আবার কেউ কেউ বাধ্য হয় শহরমুখী হতে। কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে এমন বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার গল্প বহু বছরের।
এই প্রেক্ষাপটে চরাঞ্চলের মানুষের টেকসই উন্নয়ন, পুনর্বাসন ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে চর বিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন এবং জাতীয় বাজেটে চরাঞ্চলের জন্য আলাদা ও স্থায়ী বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ। একই সঙ্গে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম বৃহৎ চরাঞ্চল অধ্যুষিত জেলা। জেলায় প্রায় ৪০০টি চর রয়েছে, যার মধ্যে আড়াই শতাধিক চরে মানুষের বসবাস। এসব চরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, দারিদ্র্য, যোগাযোগ সংকট এবং মৌলিক নাগরিক সুবিধার অভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত জীবনযাপন করছে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে কুড়িগ্রামে প্রায় এক লাখ মানুষ নদীভাঙনের কারণে গৃহহীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো শুধু বসতভিটাই হারায়নি, হারিয়েছে জীবিকা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তাও। প্রতিবছর নতুন নতুন পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে অনিশ্চিত জীবনের মুখোমুখি হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে কুড়িগ্রাম জেলার অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের শিকার হয়। এছাড়া গত পাঁচ বছরে নদীভাঙনের কারণে প্রায় দুই হাজার পরিবার স্থায়ীভাবে ঢাকা, ঠাকুরগাঁও ও পার্বতীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে গেছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, শুধু কুড়িগ্রাম নয়, দেশের ৩২টি জেলার প্রায় ১০০টি উপজেলার চর ও নদীতীরবর্তী এলাকায় প্রায় দুই কোটি মানুষের বসবাস। এই বিপুল জনগোষ্ঠী কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও উন্নয়নের মূলধারা থেকে এখনও অনেকটাই বিচ্ছিন্ন।
৫ দিন আগে
রংপুরে পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে ৩ জনের মৃত্যু
রংপুরে পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে দুই শিশু ও এক কলেজ শিক্ষার্থীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) জেলার পীরগাছা উপজেলা এবং রংপুর নগরীর পানবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
নিহতরা হলেন—পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ী ইউনিয়নের নজর মাহমুদ গ্রামের সজিব মিয়ার ছেলে রাজীব মিয়া (৬), একই গ্রামের শাহজাহান মিয়ার মেয়ে সেনাতুল আক্তার (৪) এবং রংপুর নগরীর দর্শনা সূত্রাপুর এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী সিহাব (২৬)। নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো ভাইবোন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টার দিকে রাজীব ও সেনাতুল বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘক্ষণ তাদের না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার দুপুরে রংপুর নগরীর পানবাড়ি এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘাঘট নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন কলেজ শিক্ষার্থী সিহাব। পরে নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার আব্দুল মাবুদ নদী থেকে কলেজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
৬ দিন আগে
গাইবান্ধায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা, মাদ্রাসা শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
গাইবান্ধায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক মাদ্রাসার শিক্ষককে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ার জামিয়া কওমি দারুল উলুম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটেছে।
অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম ওই মাদ্রাসার শিক্ষক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক আজ সরকারি ছুটির দিনে মাদ্রাসায় কেউ না থাকার সুযোগে ওই ছাত্রকে ফোনে তার বাড়ি থেকে ডেকে আনে। পরে তাকে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। এ সময় ওই ছাত্রের সঙ্গে তার অনেকক্ষণ ধরে ধস্তাধস্তি চলে।
পরে ছাত্রের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত রবিউকে হাতেনাতে আটক করে মাদ্রাসা কক্ষ থেকে বের করে গণধোলাই দেয়। এরপর তাকে বোনারপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, রবিউল ইসলাম প্রায় এক মাস আগে মাদ্রাসাটিতে চাকরিতে যোগ দেন। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
মাদ্রাসাটি সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইড় গ্রামের রেলওয়ে বানমারি মাঠ-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।
এ ব্যাপারে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, আটক শিক্ষক রবিউলের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। তাকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
৬ দিন আগে
লালমনিরহাট সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা
লালমনিরহাট সীমান্তের পৃথক তিনটি পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি।
শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে জেলার হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি ও সীমান্তবাসী জানান, হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ১১ জন, পাটগ্রাম উপজেলার পয়ষট্টিবাড়ী বিওপি এলাকায় ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর দীঘলটারী সীমান্ত এলাকায় আরও ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
খবর পেয়ে বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সীমান্তে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। গ্রামবাসীর সহায়তায় বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি। তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।
বিজিবি জানিয়েছে, বর্তমানে পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে। সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিজিবির লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের মিডিয়া সেল এক বিজ্ঞাপ্তিতে জানায়, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
৬ দিন আগে