রংপুর
কুড়িগ্রামে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ থেকে খুলতে গিয়ে চালকের মৃত্যু
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ থেকে খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. গোলাম রব্বানী (৩৮) নামের এক চালক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চান্দামারী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খামারপাড়া গ্রামে চালকের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত গোলাম রব্বানী ওই গ্রামের মো. আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন।
স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) সকালে গোলাম রব্বানী নিজ বাড়িতে চার্জে বসানো অটোরিকশার ব্যাটারির সংযোগ খুলতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
দুর্ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পাননি উল্লেখ করে ওই এলাকার বাসিন্দা মাসুদ ইসলাম বলেন, সকালে ঘটনাটি ঘটলেও পরিবারের সদস্যরা শুরুতে জানতে পারেননি। পরে দুপুরের দিকে অটোরিকশা রাখার ঘরে গিয়ে তারা গোলাম রব্বানীর মরদেহ দেখতে পান। এরপর প্রতিবেশীদের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ থেকে খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল-সংক্রান্ত খোঁজখবর নিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
৪ ঘণ্টা আগে
গাইবান্ধায় নেশার টাকা জোগাতে সন্তান বিক্রি, বাবাসহ গ্রেপ্তার ৪
গাইবান্ধায় নেশার টাকা জোগাড় করতে ১১ মাস বয়সী মেয়েসন্তানকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগে বাবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সেই সঙ্গে প্রায় দুই মাস পর শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া গ্রামের সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন: শিশুর বাবা হামিদুল ইসলাম, আব্দুল মজিদ, মোরশেদা খাতুন ও জেসমিন আকতার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা পৌর এলাকার দক্ষিণ ধানঘরা গ্রামের বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম মাদকাসক্ত। নেশার টাকা জোগাড় করতে গত ২২ জুলাই শিশুসন্তান জান্নাতিকে বিস্কুট দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান। পরে স্ত্রী রোমানা আকতার গাইবান্ধায় আদালতের কাছে তার শিশু সন্তান উদ্ধারের আবেদন করেন। এরপর গত ১৪ আগস্ট বিচারক নিশাত তাজনীন বিষয়টি আমলে নিয়ে ওই শিশুকে উদ্ধারের জন্য গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশকে নিদের্শ দেন।
আদালতের আদেশের সূত্র ধরে গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে নামে। পরে তারা গতকাল (রবিবার) রাতে ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া গ্রামের সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ সময় শিশু বিক্রির সঙ্গে জড়িত শিশুটির বাবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশ আজ (সোমবার) সংবাদ সম্মেলনের পর সকালে শিশুটিকে তার মা রোমানার কোলে তুলে দেয়।
মা তার মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে বলেন, ‘আমি এমন বর্বর স্বামীকে চাই না। তার শাস্তি চাই। যে স্বামী তার নিজের কোলের শিশুকে বিক্রি করতে পারে সে অনেক কিছু করতে পারে। সে এখন আমাদের জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে। তাই প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, আমাদের নিরাপত্তা দেওয়া হোক।’
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরিফ আল রাজিব জানান, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে শিশু জান্নাতিকে উদ্ধার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়।
১ দিন আগে
গাইবান্ধার পৃথক স্থানে দুই গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বজনদের মারপিটের দুটি পৃথক ঘটনায় দুই গৃহবধু নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতদের স্বামীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পূর্ব শিবরাম গ্রামে এ ঘটনা দুটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শিবরাম গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে আয়সা সিদ্দিকার সঙ্গে ৪ বছর আগে বিয়ে হয় পাশের গ্রামের প্রবাসী মোশারফ হোসেনের।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে এসে আয়সা বুঝতে পারেন, তার ভাসুরের স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত। এই বিষয়ে আয়সা বাধা দিলে গতকাল (রবিবার) গভীর রাতে ভাড়াটে লোক দিয়ে তাকে তার ঘরের মধ্যে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বাঁশের সঙ্গে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে মীমাংসার কথা বলে ফিরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেছেন সিরাজুল ইসলাম।
অন্যদিকে, ওই গ্রামেই গতকাল গভীর রাতে পারিবারিক কলহের জেরে আব্দুল আউয়াল খান তার স্ত্রী সাজেদা বেগমকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্যমতে, নিহতের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এরপর নিহতের বাবা সাহিব উদ্দিনের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘাতক স্বামী আউয়াল খানসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ।
এ ব্যাপারে আজ (সোমবার) সকালে সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ কর্মকর্তা শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ ঘটনার সত্যতা স্বীকার বলেন, নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
১ দিন আগে
রংপুরে ৪ খুন: ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিদ্ধার্থ-মুগ্ধকে নেওয়া হলো ঢাকায়
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করার জন্য তাদের ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে তাদের ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত ও নিহত ব্যক্তিদের নমুনার সঙ্গে আসামিদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য দুই আসামির নমুনা সিআইডিতে দেওয়া হবে। সেখানে নমুনা সংগ্রহের পর তাদের রংপুরে ফেরত আনা হবে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেসব আলামত ও নিহত ব্যক্তিদের নমুনার সঙ্গে দুই আসামির ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে। এর মাধ্যমে ঘটনাস্থলে আসামিদের উপস্থিতির সঙ্গে কোনো জৈবিক আলামতের সম্পর্ক আছে কি না, তা যাচাই করার চেষ্টা করা হবে।
তদন্তের এই ধাপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার কারণ হলো, ডিএনএ পরীক্ষার ফল কোনো ব্যক্তির সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া জৈবিক আলামতের সম্পর্ক নির্ণয়ে সহায়ক হতে পারে। তবে পরীক্ষার ফল পাওয়া না পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তারা।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, কারাগার থেকে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
গত ২২ আগস্ট রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১ দিন আগে
কুড়িগ্রামে ধর্ষণের চার মামলায় গ্রেপ্তার ৫
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ধর্ষণের পৃথক চার ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট রাতে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে এক নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আজিজুল হক, ওবায়দুল হক ও খোতেজা বেগমকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে ওই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
অন্যদিকে গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে সদর ইউনিয়নে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী নিজ বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলেও ১৫ সেপ্টেম্বর ফুলবাড়ী থানায় শাহজালাল মিয়ার (৩৫) বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই দিনই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আউয়াল।
এছাড়া উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সিআর মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর ফুলবাড়ী থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইকবাল হোসেন জানান, প্রধান আসামি কামরুল ইসলামসহ অভিযুক্ত তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।
শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে গত ১৫ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে হাসেন আলীর (৪৫) বিরুদ্ধে ফুলবাড়ী থানায় মামলা করা হয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার ওসি মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, ‘ঘটনাগুলোতে থানায় পৃথক চারটি মামলা রুজু হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য মামলায় অভিযুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
২ দিন আগে
লালমনিরহাটে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে আফাজ উদ্দিন (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে মো. হবিবর রহমান ওরফে গোদা (৪০) নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক এস এম শফিকুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হবিবর রহমান পাটগ্রাম উপজেলার উফারমারা (প্রধানপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৯ মার্চ রাতে পাটগ্রাম উপজেলার রহমানপুর এলাকায় আফাজ উদ্দিন স্থানীয় বাজার থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কাঁচা রাস্তায় ওঁৎ পেতে ছিলেন আসামি হবিবর রহমান। এ সময় আকস্মিকভাবে তিনি হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে আফাজ উদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. রমজান আলী বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট শামসুল আলম মিলন সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এই ন্যায়বিচার সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমাতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
৬ দিন আগে
গাইবান্ধায় শিয়ালের কামড়ে আহত ৫
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে লোকালয়ে ঢুকে শিয়ালের আক্রমণে এক দম্পতিসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মনজু মিয়া নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের জামুডাঙ্গা গ্রামের সোনারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন: জামুডাঙ্গা গ্রামের সোনারপাড়ার মৃত আব্দুল জলিল আকেন্দরের ছেলে মনজু মিয়া, তার স্ত্রী তানসি বেগম, ভাই রনজু মিয়া, তার স্ত্রী রিক্তা বেগম ও শহিদুল ইসলাম।
আহতদের স্বজনরা জানান, দুপুরে মনজু মিয়া তার ধানখেত দেখতে গেলে হঠাৎ একটি শিয়াল তাকে আক্রমণ করে। শিয়ালটি তাকে কামড় ও আঁচড় দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। সে সময় তার চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে শিয়ালটি তাদেরও আক্রমণ করে। এতে স্বামী-স্ত্রীসহ আরও চারজন আহত হন। পরে স্থানীয়দের তৎপরতা চালালে শিয়ালটি পালিয়ে যায়।
মনজু মিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হওয়ায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাদুল্লাপুরের দামোদরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম তিতু বলেন, ‘হঠাৎ করে লোকালয়ে শিয়ালের আক্রমণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
৬ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে জুয়ার আসর থেকে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার
ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পাশের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে জুয়ার আসর থেকে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ সময় পুলিশের অভিযানে বাধা দেওয়ার ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পুলিশের পক্ষ থেকে এ ব্যপারে সদর থানায় একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
গেল সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়া এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন: ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), কনস্টেবল আলমগীর কবির (৩৩) এবং সদর ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)।
ওই আসরে থাকা আরও দুই সদস্য অভিযানের সময় পালিয়ে যান। তারা হলেন: পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮)। তাদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে কার্যালয়ের উত্তর পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে পুলিশ সদস্যদের জুয়া খেলার তথ্য পাচ্ছিল পুলিশ। সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পারে সদর থানার টহল দল।
পরে রাত দেড়টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. আলমগীর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই ঘরে অভিযান চালায়। সে সময় ঘরটিতে তাস খেলার সঙ্গে টাকার লেনদেন চলছিল।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের আটক করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের পেছনে ধাওয়া করে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানা আহত হন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে তাস, জুয়ার বোর্ডে থাকা নগদ টাকা ও কয়েকটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশে চারটি মোটরসাইকেলও পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। মঙ্গলবার মামলাটি সদর থানায় নথিভুক্ত করা হয়। এতে ২০২৬ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইনের ১৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৩২৫ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত করছেন সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুজিত কুমার পাল। তিনি বলেন, অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক দুজনকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, আমরা নিয়মিত মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছি। কয়েক দিন ধরে আমাদের পুলিশের কিছু বিপথগামী সদস্য জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাচ্ছিলাম। পরে বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। সাধারণ অপরাধীদের বিরুদ্ধে যেভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাদের বিরুদ্ধেও একইভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আটক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় জুয়া আইনে মামলা করা হয়েছে। তারা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। আজ (বুধবার) আসামিদের আদালতে নেওয়ার কথা রয়েছে।
৬ দিন আগে
আমন উৎপাদন বাড়াতে কুড়িগ্রামে ৫০০ টন ইউরিয়া সারের বিশেষ বরাদ্দ
চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলায় সার সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে অতিরিক্ত আরও ৫০০ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) থেকে এই বিশেষ বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত এই সার প্রান্তিক কৃষকদের কাছে দ্রুত ও সুষমভাবে পৌঁছে দিতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণ দেবনাথ ইউএনবিকে বলেন, ‘চলতি আমন মৌসুমে জেলার কৃষকদের সারের চাহিদা পূরণ ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেপ্টেম্বরের নিয়মিত বরাদ্দের বাইরেও নতুন করে ৫০০ টন ইউরিয়া সার পাওয়া গেছে। বিসিআইসি ও বিএডিসির অনুমোদিত ডিলারদের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের হাত অবধি সার পৌঁছানো নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় সারের মোট বরাদ্দ লক্ষণীয়ভাবে বাড়ানো হয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতি ও পর্যাপ্ত মজুত থাকায় কুড়িগ্রামে কোনো ধরনের সারসংকটের সুযোগ নেই। কোথাও যাতে সার নিয়ে অসাধু চক্র কোনো সুযোগ নিতে না পারে, সে জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কঠোর তদারকি চালু রেখেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে কুড়িগ্রাম জেলার জন্য মোট ১২ হাজার ৪৮৩ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ৪ হাজার ৬৪৪ টন সার বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের (৩,৮৯৪ টন) তুলনায় প্রায় সাড়ে ৭০০ টন বেশি। অতিরিক্ত ৫০০ টন যুক্ত হওয়ায় চলতি মাসে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় হলো।
প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের মাঝে। নির্ধারিত সরকারি মূল্যে পর্যাপ্ত সার মেলায় তারা আমন ধানের সুষম বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন তারা।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে মাঠে ধানের যে বৃদ্ধিপর্যায় রয়েছে, তাতে পরিমিত পরিমাণ সারই যথেষ্ট। অতিরিক্ত সার ব্যবহার রোধ এবং সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘জেলায় সারের সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। কৃষকদের চাহিদা বিবেচনা করে পর্যাপ্ত সার মজুত করা হয়েছে। পরিমিত ও সঠিক নিয়মে ইউরিয়া ও ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার ব্যবহারের জন্য আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে ফসলের মান উন্নত হয় এবং উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকে।’
জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকায় চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামে বাম্পার ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৬ দিন আগে
লালমনিরহাটে মন্ত্রীদের সামনে বিএনপির ২ গ্রুপের মারামারি
লালমনিরহাটে দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি হয়েছে। এ সময় একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং দুজন আহত হন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত দেড়টার দিকে জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জেলা বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে।
জেলা বিএনপির সভাপতি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এছাড়া লালমনিরহাট-১ ও ২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান ও রোকন উদ্দিন বাবুলও উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, রোকন উদ্দিন বাবুল ও তার চাচাতো ভাই কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার পর তাদের দুজনের অনুসারীদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে এবং এ আসনের বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
নির্বাচনের সময় ধানের শীষের পক্ষে কাজ না করে গোপনে বিরোধিতা করার অভিযোগও ওঠে বিএনপির একটি অংশের বিরুদ্ধে। ওই অংশের নীরব বিরোধিতার পরও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রোকন উদ্দিন বাবুল। এতে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট আকার ধারণ করে। তার পর থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিও পৃথকভাবে পালন করে আসছেন দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা।
গতকাল (রবিবার) জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দিতে লালমনিরহাট আসেন। রাত ১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে তিনি জেলা বিএনপির আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
সভায় কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের দলীয় কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত রোকন উদ্দিন বাবুলের অনুসারী ও সমর্থকরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ওই নেতার বিরুদ্ধে ধানের শীষের বিরোধিতা করার অভিযোগ তোলেন।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। প্রধান অতিথি সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর উপস্থিতিতেই অডিটরিয়ামজুড়ে হট্টগোল ও মারামারি শুরু হয়।
পরে আসাদুল হাবিব দুলুর দীর্ঘ চেষ্টা এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার পর থেকে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে থমথমে অবস্থা ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে এ ঘটনার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন পলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান। আহত হন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামছুজ্জামান সবুজ ও একই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আখেরুজ্জামান স্বাধীন। হামিদুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী এক নেতা বলেন, পঞ্চগড়ের চেয়ে হাজারগুণ বড় হট্টগোল এখানে হয়েছে। যারা ধানের শীষে ভোট না দিয়ে বিরোধিতা করেছে তারা আজও দলীয় পদ নিয়ে সংসদ সদস্যের বিরোধিতা তথা উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করছে। এদের কারণে দলীয় শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। যারা সংসদ সদস্যের বিরোধিতা করছে তারা নির্বাচনের সময়ও ধানের শীষের বিরোধিতা করেছে।
হামিদুর রহমানের ছেলে নাসির ইমতিয়াজ নিলয় বলেন, আমার বাবা অনেক অসুস্থ। তাকে কার্ডিওলজি বিভাগের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি মধ্যরাতে দলীয় কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় গিয়ে ধাক্কাধাক্কিতে অসুস্থ হয়েছেন। তিনি তার বাবার সুস্থতায় সবার কাছে দোয়া চান।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, জেলা বিএনপির মতবিনিময় সভায় উত্তেজনা হয়েছিল। তবে কী কারণে হয়েছে এ বিষয়ে আমাদের জানা নেই। খবর পেয়েই গিয়ে দেখি পরিবেশ শান্ত হয়ে গেছে। হামিদুর নামের একজন ধাক্কাধাক্কি আর চিৎকার-চেঁচামেচিতে অসুস্থ হলে আমাদের গাড়িতে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হককে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
৮ দিন আগে