রংপুর
রংপুরে পুকুরে গোসলে নেমে প্রাণ গেল দুই কিশোরের
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে উপজেলার চতরা ইউনিয়নের কাঠালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাতে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন— উপজেলার কাঠালপাড়া গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে তামিম (১৩) ও সুরুজ মিয়ার ছেলে সাদমান (১৪)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে চার বন্ধু একসঙ্গে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। তাদের মধ্যে তামিম ও সাদমান সাঁতার না জানায় একপর্যায়ে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় সঙ্গে থাকা অপর দুই বন্ধু চিৎকার শুরু করে।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই কিশোরকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রায়হান বলেন, ‘তারা সব সময় একসঙ্গে খেলাধুলা করত। বিকেলে গোসল করতে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি।’
চতরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহিন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। দুই কিশোরের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।’
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক ঘটনার বলেন, তাদের মৃত্যু নিয়ে পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
রংপুরে কালবৈশাখীতে লণ্ডভণ্ড ধানখেত, বিপাকে কৃষক
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখীতে মাঠের পর মাঠ পাকা বোরো ধানখেত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিতে ধানগাছ মাটিতে নুয়ে পড়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে উপজেলার কাবিলপুর, রায়পুর, চতরা, বড় আলমপুর, টুকুরিয়া, মদনখালী, ভেন্ডাবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ মাঠের পাকা ধান মাটিতে নুয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও জমিতে পানি জমে যাওয়ায় ধান কাটতে আরও দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা।
বছরের প্রধান ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে এমন দুর্যোগে অনেক কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ উপজেলার অন্তত ২৩ হেক্টর জমির পাকা ধান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে আছে। অনেক কৃষক পরিবার নিয়ে মাঠে নেমে ধান রক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে শ্রমিক সংকট ও বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত ধান কেটে না তুলতে পারলে পানিতে ভিজে ধানের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাবে। এতে করে ফলন কমার পাশাপাশি ধানের প্রত্যাশিত দামও পাওয়া যাবে না।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ঋণ করে সার, বীজ ও কীটনাশক সংগ্রহ করে তারা বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিক কালবৈশাখীতে সব হিসাব-নিকাশ এলোমেলো হয়ে গেছে।
কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সারা বছর কষ্ট করে ধান চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছিল। ভাবছিলাম ধান বিক্রি করে ঋণ শোধ করব। কিন্তু ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেল। এখন শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না, কীভাবে ধান ঘরে তুলব বুঝতে পারছি না।’
আরেক কৃষক নুর ইসলাম বলেন, ‘ধান মাটিতে পড়ে থাকলে দ্রুত পচে যাবে। বৃষ্টি আরও হলে ক্ষতি বাড়বে। সরকারিভাবে সহায়তা না পেলে আমরা বড় বিপদে পড়ব।’
এদিকে ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং বেশ কয়েকটি কাঁচা ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় কয়েক ঘণ্টা দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান, আকস্মিক ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাকা বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
১ দিন আগে
রংপুরে নারীকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আটক ৪
রংপুর নগরীর ধাপ কটকিপাড়া এলাকায় কর্মজীবী এক নারীকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে জমি বিক্রির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ৪ যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন— মিনহাজ আহমেদ (২৮), মহিম হাসান (২৫), শাহরিয়ার সরকার (২৮) ও আব্দুল মজিদ (২০)। তাদের সবার বাড়ি নগরীর ধাপ কটকিপাড়া এলাকায়।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ওই নারী নগরীর একটি কারুপণ্য প্রতিষ্ঠানের আলমনগর কারখানায় কর্মরত। সম্প্রতি তিনি তিন লাখ ৬০ হাজার টাকায় একটি জমি বিক্রি করেছেন। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে সেই টাকা ব্যাংকে জমা রেখে তিনি তার ধাপ কটকিপাড়ার ভাড়া বাসায় ফেরেন।
রাত ৮টার পর স্থানীয় কয়েকজন যুবক জোরপূর্বক তার বাসায় প্রবেশ করে ঘরে মাদক আছে এমন দাবি করে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে তারা বিছানার তোষকের নিচে ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন। এরপর তারা বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হলে ওই নারীকে মারধর করেন তারা। পাশাপাশি তার ব্যাংকের চেক বইয়ের পাতাও নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জমি বিক্রির টাকার সন্ধানে তারা ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তছনছ করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বাড়ির মালিক গোপনে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ও ধাপ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে তদন্তে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা-সদৃশ বস্তুগুলো ভুয়া বলে প্রতীয়মান হয়। এ ঘটনায় ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ বলেন, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, মাদক দিয়ে ফাঁসানোর নাটক সাজিয়ে কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার বিরুদ্ধে আরএমপি সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নগরবাসীকে যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দ্রুত পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
২ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু নিহত
ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ঋত্বিক (২৫) ও আশিক (২৫) নামে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। সম্পর্কে তারা বন্ধু ছিলেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২০ মে) সকালে পৌর শহরের গোবিন্দনগর মুন্সিরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা আইল্যান্ডে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর অপরজনের মৃত্যু হয়।
নিহত ঋত্বিক ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের লিটনের ছেলে এবং আশিক একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (বুধবার) সকালে দুই বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে করে দ্রুতগতিতে ঠাকুরগাঁও শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে গোবিন্দনগর মুন্সিরহাট এলাকায় পৌঁছালে একটি মোড় অতিক্রম করার সময় মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালক। পরে মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশে থাকা আইল্যান্ডের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলেই ঋত্বিকের মৃত্যু হয়। আহত আশিককে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণ পর তিনিও মারা যান বলে জানায় পুলিশ।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। অপরজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
২ দিন আগে
রংপুরে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে ধরা ইউএনও অফিসের কর্মচারী
জন্মনিবন্ধন সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে এক কলেজ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ঘুষের টাকা নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরায় হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনি। নিজেকে বাঁচাতে এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান এই কর্মচারী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাঈম ইসলামের দাবি, তার মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ব্যবহার করে অন্য কেউ জন্মনিবন্ধন করায় তিনি তা সংশোধনের জন্য ইউএনও কার্যালয়ে আবেদন করেন। কিন্তু গত চার-পাঁচ মাস ধরে তাকে ঘোরানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে অফিস সহায়ক মমিনুল কাজটি করে দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ৩ হাজার টাকায় রফা হয়।
তিনি আরও বলেন, কথা অনুযায়ী মমিনুল টাকা নেওয়ার জন্য নাঈমকে বারবার ফোন দিতে থাকেন। অফিসের ভেতরে টাকা না নিয়ে তিনি নাঈমকে উপজেলা পরিষদের ফটক এবং পরে রেলওয়ে স্টেশনের পাশে ‘শিমুলতলা’ নামক নির্জন জায়গায় ডাকেন। সেখানে টাকা নেওয়ার সময় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত হয়ে পরিচয় জানতে চাইলে মমিনুল নিজেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারী ‘মমিন’ বলে দাবি করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই মাইমুনা খাতুন নামে অন্য এক ভুক্তভোগী সেখানে উপস্থিত হয়ে মমিনুলের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার সরাসরি অভিযোগ তোলেন। তখন আর কোনো উপায় না দেখে ‘টাকা ফেরত দেব’ বলে মমিনুল দৌড়ে পালিয়ে যান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য ভুক্তভোগীরা জানান, মমিনুলের ঘুষ বাণিজ্য এখন ‘ওপেন সিক্রেট’।
গোলাপ মিয়া নামে এক ব্যক্তি জানান, ইউএনওর সই নেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে টাকা নিলেও কাজ করে দেননি মমিনুল।
মাইমুনা খাতুন জানান, তিনি ৫০০ টাকা দিলেও মমিনুল আরও টাকা দাবি করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তার মোবাইল নম্বরটি ব্লক করে দেন।
সেবাগ্রহীতাদের দাবি, মমিনুল প্রায়ই এভাবে টাকা হাতিয়ে নেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মমিনুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, জন্মনিবন্ধনের কোনো কাজ সরাসরি মমিনুলের হাতে নেই। সে মানুষকে বিভ্রান্ত করে টাকা নিয়েছে। কোনো অবস্থাতেই দুর্নীতি বা হয়রানি সহ্য করা হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ দিন আগে
গাইবান্ধায় অগ্নিকাণ্ডে ৮ দোকান ভস্মীভূত
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে ৮টি দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে দোকানগুলোর মালামাল, আসবাবপত্র ও ব্যবসায়িক সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।
বুধবার (২০ মে) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফুলছড়ি হাটে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে হাটের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই দাউ দাউ করে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। পরে খবর পেয়ে ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে সাঘাটার দুইটি ও গাইবান্ধার একটি ইউনিট মিলে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, আগুনে ওষুধ, মুদি পণ্য, কাপড়, কসমেটিকস ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল পুড়ে গেছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসেবে, অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৩৮ লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে আরও প্রায় ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জেহাদ আলী বলেন, ‘ভোরে হঠাৎ খবর পাই, হাটে আগুন লেগেছে। ছুটে এসে দেখি, আমার দোকানসহ কয়েকটি দোকান আগুনে ছাই হয়ে গেছে। দোকানের সব মালামাল পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। অনেক কষ্ট করে ব্যবসাটা দাঁড় করিয়েছিলাম, এখন কীভাবে আবার শুরু করব বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য জিহাদুর রহমান মওলা বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে ব্যবসায়ীদের অনেক বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের পরিদর্শক নুর মোহাম্মদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আরও ইউনিট যুক্ত করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় পাঁচটি ইউনিটের সমন্বিত অভিযানে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি দোকান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
২ দিন আগে
অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সংকটে মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ
অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটসহ বিস্ফোরক উপকরণের সংকটে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ কঠিন শিলা খনি মধ্যপাড়ায় আবারও পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে থাইল্যান্ড থেকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট খনিতে পৌঁছালে পুনরায় পাথর উত্তোলন শুরু করা সম্ভব হবে।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ডি এম জোবায়েদ হোসেন জানান, থাইল্যান্ড থেকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট আমদানি করা হচ্ছে। তবে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এসব উপকরণ আসতে বিলম্ব হচ্ছে।
তিনি বলেন, খনির অভ্যন্তরে পাথরের স্তর ভাঙতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক প্রয়োজন হয়। খনিতে বছরে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার বিস্ফোরক লাগে, যার পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সরকারি নানা নিয়মনীতি অনুসরণ করায় আমদানি প্রক্রিয়াও দীর্ঘ হয়।
তিনি আরও জানান, অতীতেও বিস্ফোরক সংকটে একাধিকবার খনিতে উৎপাদন বন্ধ ছিল। এর আগে ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে দুই মাস এবং ২০১৮ সালে সাত দিন পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
তবে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাথর উত্তোলনের স্বার্থে আগে বিস্ফোরক আমদানির দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসিকে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করে এবং ওই সময়ে বিস্ফোরকের অভাবে এক দিনও উৎপাদন বন্ধ হয়নি।
তবে গত বছর থেকে খনি কর্তৃপক্ষ সরাসরি বিস্ফোরক আমদানি শুরু করে। সময়মতো আমদানি করতে না পারায় গত ৯ মাসে এ নিয়ে দুই দফা পাথর উত্তোলন বন্ধ হলো।
২ দিন আগে
গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় রিকশাচালকসহ নিহত ২
গাইবান্ধা-দাড়িয়াপুর সড়কে পিকআপের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছে আরও ৪ যাত্রী।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সড়কের ঠাকুরের দীঘি নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সুন্দরগঞ্জ থেকে একটি মুরগিবাহী পিকআপ ঠাকুরের দীঘি নামক স্থানে পৌঁছালে একটি চাকা নষ্ট হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয় পিকআপটি। এতে রিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই রিকশাচালক ফরিদ হোসেন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে রুস্তম আলী নামের ওই রিকশার যাত্রী মারা যান। অপর আহত ৪ যাত্রীকে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন ।
নিহত রিকশাচালক গাইবান্ধা সদর উপজেলার আনালেরতাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আর রোস্তম আলীর বাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ছাতনাবাড়ি গ্রামে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৩ দিন আগে
মাদক কারবারে জড়িয়ে চাকরি খুইয়েও থামেননি পুলিশ কর্মকর্তা
গাইবান্ধায় পুলিশের চাকরিচ্যুত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মনির হোসেন ও তার গাড়ি চালককে আবারও বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক করেছে ডিবি পুলিশ। অপরদিকে, মিন্টু মিয়া নামের এক মোটরসাইকেল আরোহীকে ৬৬৫ ইয়াবাসহ আটক করেছেন গাইবান্ধা র্যাব-৩-এর সদস্যরা।
শুক্রবার (১৫ মে) রাতে বোয়ালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ফলিয়ার বাড়ি থেকে মনির হোসেনকে ৯২০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
গাইবান্ধা থানা পুলিশ জানায়, গাইবান্ধার বাাসিন্দা মনির হোসেন পুলিশের এএসআই হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। চাকরিকালীন তিনি কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাট, ঢাকা ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ছিলেন। ২০১৬ ও ২০২২ সালে মাদকের বড় চালান বহন করার সময় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হাতে তিনি দুই দফায় গ্রেপ্তার হন। এ ব্যাপারে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় মামলাও হয়। বিভাগীয় তদন্তের পর পুলিশের চাকরি থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
পুলিশ আরও জানায়, দীর্ঘদিন কারাভোগের পর তিনি গাইবান্ধায় বাড়িতে চলে আসেন। এরপর পুলিশের পরিচয় দিয়ে তিনি আবারও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। গোয়েন্দা পুলিশ খবর পেয়ে ওরিন কাউন্টারের সামনে থেকে ইয়াবাসহ তার গাড়ি চালককে আটক করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, গতকাল (শুক্রবার) রাতে ডিবি পুলিশ মনির হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৯২০ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়।
অপরদিকে, গাইবান্ধা র্যাব-৩-এর সদস্যরা পলাশবাড়িতে মোটরসাইকেলআরোহী মিন্টু মিয়াকে ৬৬৫ ইয়াবাসহ আটক করেন। তার বাড়ি পলাশবাড়ি উপজেলার রাইতি গ্রামে।
এ ব্যাপারে গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকার জানান, আটক হওয়া মনির হোসেন পুলিশের এএসআই ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চাকরির সুযোগ নিয়ে তিনি ইয়াবার ব্যবসা করে আসছিলেন। এ কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। আবারও তিনি একই ঘটনায় আটক হয়েছেন।
৬ দিন আগে
লালমনিরহাটে পানিতে ডুবে আপন দুই ভাই নিহত
লালমনিরহাটে তিস্তা নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের সলেডি স্প্যার বাঁধ এলাকায় তিস্তা নদীতে ডুবে তারা নিহত হন।
নিহতরা হলেন— লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের খলাইঘাট নিম্ন মাধ্যমিকের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলামের ছেলে কলেজছাত্র সিফাত আহমেদ (১৮) ও নবম শ্রেণির ছাত্র স্বচ্ছ আহমেদ (১৪)। তারা দুই ভাই লালমনিরহাট ক্যান্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বাড়ির পাশে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে অন্যান্য দিনের মতো আজ (শনিবার) সকালে গ্রামের সহপাঠীদের সঙ্গে খেলতে যান দুই ভাই সিফাত ও স্বচ্ছ। খেলা শেষে স্বচ্ছ তিস্তা নদীতে গোসলে নেমে গভীর পানিতে ডুবে যায়। ছোট ভাইকে বাঁচাতে নদীতে লাফ দিলে বড় ভাই সিফাতও ডুবে যান। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
রাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ডাব্লু অধিকারী তাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬ দিন আগে