রংপুর
রংপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত
রংপুরে আইডিয়াল মোড়-সংলগ্ন মহাসড়কে বাসচাপায় জুয়েল হোসেন নামে এক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। অপরদিকে, নগরীর পীরগঞ্জে ট্রাকচাপায় আব্দুর রহিম নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে এই সড়ক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান ও পীরগঞ্জ থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, জুয়েল হোসেন মোটরসাইকেল নিয়ে টার্মিনাল থেকে মহাসড়ক ধরে মেডিকেল কলেজ মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার মোটরসাইকেলটি সড়ক বিভাজকে ধাক্কা লেগে সড়কের মাঝে পড়ে যায়। এরই মধ্যে একটি চলন্ত বাস তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
নিহত জুয়েল হোসেন নগরীর কেল্লাবন্দ এলাকার মৃত জহুরুল হকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন। কেল্লাবন্দ এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে শাপলা আদর্শপাড়ায় বসবাস করতেন তিনি।
অপরদিকে, পীরগঞ্জ থেকে মিঠাপুকুরের দিকে যাচ্ছিলেন আব্দুর রহিম। এ সময় পেছন থেকে একটি ট্রাক তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
নিহত আব্দুর রহিম পীরগঞ্জের চতরা গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
৪৬ দিন আগে
রংপুরে পাম্পে হামলা চালিয়ে ১৬৭ লিটার পেট্রোল লুটের অভিযোগ
রংপুরের পীরগঞ্জে একটি ফিলিং স্টেশনে হামলা চালিয়ে জোরপূর্বক পেট্রোল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা।
লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ মেসার্স উজ্জ্বল ফিলিং স্টেশনে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা স্টেশনে কর্মরত মিটারম্যান ফরহাদ মিয়াকে মারধর করে এবং গলায় ছুরি ধরে প্রাণনাশের ভয় দেখায়। তখন ফরহাদ আত্মরক্ষার্থে ভেতরে আশ্রয় নেন। এ সুযোগে হামলাকারীরা পাম্পের সুইচ চালু করে নিজেদের আনা জারিকেন ও মোটরসাইকেলে প্রায় ১৬৭ লিটার পেট্রোল ভরে নিয়ে যান। পরে মিটারম্যান মোবাইলে ম্যানেজারকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনেন এবং ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর ফিলিং স্টেশনের মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ।
এ ঘটনায় হানিফুল ইসলাম (৪২), রাজু মিয়া (৩৫), সোহেল মিয়া (২৮), নাহিদ মিয়া (২১) ও রাসেল মিয়াসহ (২৬) অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পাম্পের ম্যানেজার রুহুল আমিন বলেন, হামলাকারীরা ফিল্মি স্টাইলে সংঘবদ্ধভাবে এসে দ্রুত তেল নিয়ে চলে যায়। পুরো ঘটনাটি ফিলিং স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা আছে।
পীরগঞ্জ থানার ওসি সোহেল রানা জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৪৭ দিন আগে
রংপুরের মিঠাপুকুরে বজ্রপাতে ২ কৃষক নিহত, আহত ১০
রংপুরের মিঠাপুকুরে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের পাগলারবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার সখীপুর গ্রামের তালেব উদ্দিন (৬০) ও মিলন (৩৫)।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্থানীয় একটি পুকুরে সখীপুর গ্রামের তালেব উদ্দিন ও মিলন মাছ ধরতে যান। এরই মধ্যে আকাশ খারাপ হয়ে আসলে পুকুরের পাশে একটি টিনের ছাউনিতে আশ্রয় নেন তারা। এ সময় বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে ছাউনির নিচে থাকা ওই দুই কৃষকসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা সেখানে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তালেব উদ্দিন ও মিলনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকিদের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মিঠাপুকুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আহতদের হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখান থেকে আমরা উপজেলা হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ২ জনের মৃত্যুর খবর দেন।
তিনি আরও জানান, ওই হাসপাতালে আরও তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যান্য আহতদের রংপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জেনেছি, তবে তাদের শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে কোনো তথ্য পাইনি।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো এলাকা।
৪৭ দিন আগে
রংপুরে জ্বালানি সংকট, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না তেল
রংপুর জেলা ও মহানগরীতে তীব্র জ্বালানি সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকেরা। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি না পাওয়ায় দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে। নগরজুড়ে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুরে প্রায় সাড়ে তিনশ পেট্রোল পাম্প থাকলেও অর্ধেকের বেশি পাম্পে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে না।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্পেই পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট চলছে। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে। যেসব পাম্পে সীমিত পরিসরে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, সেখানে প্রতি গ্রাহককে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক চালকই শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
রংপুরের আট উপজেলাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, পীরগাছা, কাউনিয়া, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ ও গঙ্গাচড়ায় তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই জ্বালানি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী চালকেরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় তাদের জরুরি কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, ব্যবসায়ী এবং রোগী বহনকারী যানবাহন সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে।
মোটরসাইকেলচালক সোহেল মিয়া বলেন, সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর জানানো হলো তেল শেষ। এখন আবার অন্য পাম্পে যেতে হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন প্রাইভেটকার চালকেরাও।
পাম্প ম্যানেজার ও সংশ্লিষ্টরা জানান, একেকটি পাম্পে এক দিন পরপর মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার লিটার পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। ফলে বাধ্য হয়ে সীমিত পরিসরে জ্বালানি বিক্রি করতে হচ্ছে।
যানবাহন মালিকদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তারা দ্রুত পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে মোটরযান পরিদর্শক ও ট্যাক্স অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
৪৮ দিন আগে
কুড়িগ্রামে দুই দিনে দুই বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় পরপর দুই দিনে পৃথক ঘটনায় দুই বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ও মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) উপজেলার পান্ডুল ও গুনাইগাছ ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— গুনাইগাছ ইউনিয়নের পূর্ব কালুডাঙ্গা গ্রামের মৃত মেহের আলীর ছেলে মো. আব্দুল জব্বার (৬৫) এবং উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের ঢেঁকিয়ারাম গ্রামের মৃত বানছার আলীর ছেলে আব্দুল আখের ওরফে ফাকের (৬০)।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) সকালে বসতঘর থেকে আব্দুল জব্বারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জব্বারের পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল (সোমবার) রাত ৯টার দিকে প্রতিদিনের মতো খাওয়া-দাওয়া শেষে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান জব্বার। আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার বোনের স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম বকস খোঁজ নিতে গিয়ে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে ঘরে ঢুকে তাকে ঘরের ধরনার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয়রা জানান, জব্বারের পারিবারিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা বেগমের নামে জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথম পক্ষের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত তার। গত ১২ এপ্রিল এ নিয়ে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান।
অন্যদিকে, গতকাল (সোমবার) উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের ঢেঁকিয়ারাম গ্রাম থেকে আব্দুল আখের ওরফে ফাকেরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ভোরে বাড়ির আঙিনায় একটি কূলগাছ ও বাঁশের সঙ্গে বাঁধা দোলনার প্লাস্টিকের রশিতে তিনি গলায় ফাঁস দেন। সকালে তার পুত্রবধূ মাজেদা বেগম তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় সেখানে দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেন তিনি।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, দুটি ঘটনায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনাগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
৫১ দিন আগে
দিনাজপুর মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত সমঝোতা সভায় তারা অংশ নেননি। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া কাজে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান জানান, কর্মবিরতি অবসানের আশায় সোমবার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বিভাগীয় প্রধান, চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়ে একটি বৈঠকের আহ্বান করেন তিনি। বৈঠকে প্রশাসনের প্রতিনিধি, কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিএনপির জেলা কমিটির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলালসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। তবে কর্মবিরতিতে থাকা প্রায় ২০০ ইন্টার্ন চিকিৎসকের কেউ আলোচনায় অংশ নেননি। আগে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাবি করছেন তারা।
কর্মবিরতি অব্যাহত থাকায় চিকিৎসকরা অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালন করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলা, হট্টগোল ও চিকিৎসক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে রাত ৩টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে আকস্মিক কর্মবিরতি শুরু করেন। এর ফলে আজ সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আগত রোগীরা জরুরি বিভাগে ভর্তি বা চিকিৎসাসেবা নিতে পারেননি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শহরের রামনগর মহল্লা থেকে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ৬৫ বছর বয়সী আব্দুস সামাদকে গুরুতর অবস্থায় জরুরি বিভাগের মাধ্যমে ভর্তি করে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউ ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসা চলার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে রাত দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। এ সময় রোগীর স্বজনরা মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মুইনকে লাঞ্ছিত করেন। স্বজনদের গালাগালি ও হট্টগোলে ওয়ার্ডের অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসাও ব্যাহত হয়েছে।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে চলে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে এর আগেই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় তালা ভেঙে নতুন রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
চিকিৎসক লাঞ্ছনার ঘটনায় রোগীর স্বজন ইয়াকুব আলীকে আটক করেছে কোতয়ালি থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ নুর নবী জানান, আটক ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে কেউ মামলা করেননি। তার শ্যালক আব্দুস সামাদের জানাজায় অংশগ্রহণের সুবিধার্থে তাকে স্বজনদের হেফাজতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হলে তাকে হাজির করা হবে বলে সম্মতি দিয়েছেন স্বজনরা।
৫২ দিন আগে
রংপুরে পুলিশ হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড
রংপুরে হারাগাছ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পিয়ারুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি পারভেজ রহমান পলাশকে (২৬) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রংপুরের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মার্জিয়া খাতুন এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাশ হারাগাছ থানার বাহারকাছনার তেলিপারার জাহিদুল ইসলামের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নগরীর সাহেবগঞ্জ এলাকায় মাদকসেবী পলাশের ছুরিকাঘাতে এএসআই পিয়ারুল গুরুতর আহত হন। পরে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলাসহ আসামি পারভেজ রহমান পলাশকে গ্রেপ্তার করে। ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণসহ উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আজ আদালত আসামি পলাশের মৃত্যুদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দেন।
এছাড়া আরও দুটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এ এস এম মাহামুদুল করিম (লিটন) জানান, অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় আদালত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। এ রায়ে বাদীপক্ষ পুরোপুরি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
৫২ দিন আগে
দিনাজপুর মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আকস্মিক ধর্মঘটে আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় ৯ ঘণ্টা জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তি ও চিকসা কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১২টার দিকে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউ ইউনিটে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলা, হৈচৈ ও চিকিৎসককে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে রাত ৩টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে ধর্মঘট শুরু করেন। ফলে জরুরি বিভাগে আসা রোগীরা সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভর্তি বা চিকিৎসা সেবা নিতে পারেননি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল রাতে শহরের রামনগর মহল্লা থেকে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ৬৫ বছর বয়সী আব্দুস সামাদকে গুরুতর অবস্থায় জরুরি বিভাগের মাধ্যমে ভর্তি করে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউতে নেওয়া হয়। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্বজনদের জানানো হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত দেড়টার দিকে ওই রোগী মারা যান।
এ সময় রোগীর স্বজনরা মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লা আল মুইনকে লাঞ্ছিত করেন। তাদের অশ্লীল ভাষায় গালাগালি ও হৈচৈয়ের কারণে ওয়ার্ডের অন্যান্য রোগীর চিকিৎসাও ব্যাহত হয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অবশ্য তারা তালা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এরপর আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গেটের তালা ভেঙে নতুন রোগী ভর্তি শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চিকিৎসককে লাঞ্ছনার ঘটনায় রোগীর স্বজন ইয়াকুব আলী নামে রোগীর এক স্বজনকে আটক করেছে কোতয়ালি থানা পুলিশ।
অন্যদিকে, বারবার হামলা এবং চিকিৎসককে লাঞ্ছনার ঘটনার প্রতিবাদে কাজে যোগ দেয়নি ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। কর্মবিরতি পালন করছেন তারা। অচলাবস্থা অবসানে দুপুর ১২টার দিকে বিভাগীয় প্রধানসহ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আলোচনায় ডেকেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান।
৫২ দিন আগে
রংপুরে তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে হার্ট অ্যাটাকে শিক্ষকের মৃত্যু
রংপুরে পাম্পে তেল নিতে এসে হার্ট অ্যাটাক করে মেহেদী হাসান নামে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে নগরীর পর্যটন মোড় এলাকার সুরমা ফিলিং স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে।
মেহেদী নগরীর নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়ার মতিউর রহমানের ছেলে। কর্মজীবনে তিনি বালাকুয়ার চওড়ার হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সুরমা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে লাইনে দাঁড়ান মেহেদী হাসান। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তার হার্ট অ্যাটাক হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একজন মারা গেছেন, আমরা এমন তথ্য পেয়েছি। তিনি লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় হার্ট অ্যাটাক করেন।
৫৪ দিন আগে
রংপুরে যুবককে গলা কেটে হত্যা
রংপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে রাকিব (২০) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মো. মমিন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তাতিপাড়া মাছুয়াপাড়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাকিব নগরীর বৈরাগী পাড়ার বাসিন্দা আব্দুস সামাদের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রাকিব মাদক ব্যবসায়ী মো. মমিনের (৪২) সঙ্গে মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। তবে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরে রাকিবের বাবা আব্দুস সামাদ গত বছরের ১৪ নভেম্বর মমিনসহ কয়েকজনের নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছিলেন।মামলা ও পূর্ব শত্রুতার জেরে গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে নগরীর তাতিপাড়া মাছুয়াপাড়া মোড়ে রাকিবকে একা পেয়ে মমিন ও তার সহযোগীরা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করেন। এরপর তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ‘ক্রাইম সিন’ হিসেবে চিহ্নিত করে ঘিরে রাখে।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৫৫ দিন আগে