বিএনপি
ছাত্রদলে যোগ দিলেন এনসিপির শতাধিক নেতা-কর্মী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফেনী জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু শতাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ফুলগাজী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন।
এর আগে, আব্দুর রহমান বাবু ফুলগাজী পাইলট হাই স্কুল মাঠে তার অনুসারীদের জড়ো করেন। এরপর সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন, যুগ্ম-আহ্বায়ক গোলাপ রসুল মজুমদার, যুগ্ম আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম স্বপনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী।
সদ্য ছাত্রদলে যোগ দেওয়া আব্দুর রহিম বাবু বলেন, আমি জুলাই আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে ছিলাম। গত ১৬ মাস ধরে ফুলগাজী উপজেলায় ছাত্র সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এরপর আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে এনসিপি আমাকে ফেনী জেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল।
তিনি বলেন, তারা আমাদের কমিটমেন্ট দিয়েছিল যে, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারা কাজ করবেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, তারা সেই কমিটমেন্ট রাখতে পারেনি। কিন্তু যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে এনসিপি।
তিনি আরও বলেন, আমি আগে থেকেই খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করি। বিএনপির রাজনীতি আমার কাছে ভালো লাগে। তাই আমি ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।
ফেনী-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু জানান, বাবু ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতা ছিলেন। আমি তাকে করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানাই। বাবু মনে করেছেন, তিনি যাদের সঙ্গে আগে কাজ করেছেন তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তাই তিনি প্রথমে পদত্যাগ করেছেন, এরপর শহিদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন।
১৭ ঘণ্টা আগে
খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন মঈন খান
সাবেক মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার মতো সজ্জন ও ন্যায়পরায়ণ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আর আসবে না।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোডে উল্কাসেমি প্রাইভেট লিমিটেড কার্যালয়ে সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এসএবিসিসিআই) উদ্যোগে খালেদা জিয়ার স্মৃতির স্মরণে আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। স্মরণসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএবিসিসিআই সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী।
বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আব্দুল মঈন খান বলেন, তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া ছিল আমার জীবনের সেরা অর্জন। একবার সচিব নিয়োগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমাকে ডেকে পাঠান প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী। একজন কর্মকর্তার নাম বলে তিনি জানতে চান সচিব হিসেবে তাকে নিয়োগ দিলে আমার কোনো আপত্তি আছে কিনা? ঘটনাটি বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মঈন খান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা আমি যতটা পরিবর্তন করেছিলাম তার সব কৃতিত্ব বেগম খালেদা জিয়ার। তার রেখে যাওয়া আদর্শ বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশনেত্রীর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী, সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব শামসুল আলম এবং অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন।
অনুষ্ঠানে এসএবিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি জেনারেল প্রকৌশলী এনায়েতুর রহমান সভায় উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আলোচনা শেষে খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
২ দিন আগে
আমাদের দেশকে অপমান করা হয়েছে: মোস্তাফিজ ইস্যুতে ফখরুল
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ক্রিকেটের ব্যাপারে রাজনৈতিক প্রশ্ন জড়িত আছে। আমাদের দেশের সম্মান জড়িত আছে। নিঃসন্দেহে আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে। আমরা মনে করি, আমাদের দেশকেই অপমান করা হয়েছে।’
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মোস্তাফিজ ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি বহু আগে ক্রিকেট খেলতাম। ক্রিকেট কট্রোল বোর্ডের (বিসিবি) সদস্যও ছিলাম। এখন ক্রিকেট খেলি না; রাজনীতি করি। এই ক্রিকেটের ব্যাপারে রাজনৈতিক প্রশ্ন জড়িত আছে। আমাদের দেশের সম্মান জড়িত আছে। নিঃসন্দেহে আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে। আমরা মনে করি আমাদের দেশকে অপমান করা হয়েছে।
‘সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি যে, ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের যে সিদ্ধান্ত, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা এটাও মনে করি, ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই বেটার।’
এ সময় সরকার গঠন করতে পারলে ভারতের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কটা প্রস্তুত করবেন—সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটা স্বাধীন দেশ হিসেবে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে আমরা দাবি আদায়ের চেষ্টা করব।’
ভারতের সঙ্গে চলমান যে উত্তেজনা, সে বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি সঠিকভাবে কুটনৈতিক আচরণ করতে পারি, তাহলে এটা কমে যাবে।
ক্ষমতায় গেলে তিস্তা, পদ্মা ও অভিন্ন নদী যেগুলো আছে, সেগুলোর ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে পানির হিস্যা আদায় করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের ভোটারদের বড় দুটি দল নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা সবার বেলা প্রযোজ্য নয়। এই দেশে যা কিছু ভালো সবকিছুই কিন্তু বিএনপির অর্জন! যে সংস্কার একদলীয় গণতন্ত্র থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে আসা, প্রেসিডেনশিয়াল ফরম থেকে পার্লামেন্টারি ফরমে আসা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা—সবই বিএনপি করেছে। বিএনপি ৩১ দফার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করেছে।
‘এখন যে সংস্কার কমিটির মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে তা সবই বিএনপির প্রস্তাবের মধ্যে আছে। সুতরাং আমরা মনে করি, বিএনপি নিঃসন্দেহে সেলফ সাফিশিয়েন্ট (স্বয়ংসম্পূর্ণ) একটি রাজনৈতিক দল, যে অতীতে এককভাবে সরকার চালিয়েছে, সরকারে ছিল এবং সব ভালো কাজগুলো করতে সক্ষম হয়েছে।’
নির্বাচনি পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে, তবে নির্বাচনের পরিস্থিতি বোঝা যাবে যখন প্রচারণা শুরু হবে তখন, তার আগে বোঝা যাবে না। প্রকৃত অবস্থা আপনি বুঝতে পারবেন যখন প্রচার শুরু হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সেই রকম উন্নত হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। তবে আমি আশাবাদি যে নির্বাচন চলাকালীন উন্নতি করবে এবং একটা ভালো অবস্থায় আসবে।’
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ বিএনপি নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার স্মরণসভা আজ
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মরণে সোমবার (১২ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে একটি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে ওয়াশিংটনভিত্তিক কূটনীতিক, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক এবং সাংবাদিক প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।
স্মরণসভাটির আয়োজক ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের সদস্য এবং মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সহকারী প্রেস-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্মরণসভায় খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে তার অবদান গভীর শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।
২ দিন আগে
গণতন্ত্র ও জবাবদিহির চর্চা চালু রাখতে হবে: তারেক রহমান
যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘গণতন্ত্র ও জবাবদিহির চর্চা চালু রাখতে হবে। জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার বা ট্রেড বডি—সবখানেই নির্বাচন হতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে দেশের সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বনানীর হোটেল শেরাটনে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, অতিথিদের বক্তব্য থেকে কয়েকটি বিষয় ফুটে উঠেছে।… একজন বক্তা বলেছেন যে আগামী দিন, অর্থাৎ আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে। আমরা অবশ্যই আর ৫ আগস্টের আগে (আগের পরিস্থিতিতে) ফিরে যেতে চাই না। আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই আমাদের।
তিনি বলেন, হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার কারণে একটি মানুষ, একটি দলের কী পরিণতি হতে পারে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তা আমরা দেখেছি। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সেটিকে পাশে রেখে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব।
সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সংস্কারের তিনটি অংশ রয়েছে—সাংবিধানিক, আইনগত এবং মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তা। তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্কার নিয়ে আমরা অনেক আলোচনা করেছি। কিন্তু মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও সন্তানদের শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা কিছুটা কম হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম বা তর্কবিতর্ক করছি, যার প্রয়োজন অবশ্যই আছে। কিন্তু একই সঙ্গে মানুষের প্রাত্যহিক চাওয়া-পাওয়া ও প্রয়োজনগুলো নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর আরও বেশি আলোচনা করা উচিত। এসব বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা ও কর্মসূচি আরও সুনির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক রেজাউল করিম রনি, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদুর রহমান, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই সিকদার, সাংবাদিক মমতাজ বিলকিস, ঢাকা স্ট্রিম এর সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, বর্ষীয়ান সাংবাদিক শফিক রেহমান এবং বিএনপি বিটের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক।
৪ দিন আগে
৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরতে চাই না: তারেক রহমান
স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করলে জাতিকে সঠিক পথে নেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মতপার্থক্য যেন মতবিভেদে পরিণত না হয়। মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। আমরা ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরতে চাই না।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বনানীর হোটেল শেরাটনে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যেন সেগুলোর সমাধানে মনোযোগ দেয়, সে বিষয়ে নিজেদের বক্তব্যে তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সম্পাদকেরা।
নিজের বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, অতিথিদের বক্তব্য থেকে কয়েকটি বিষয় ফুটে উঠেছে।… একজন বক্তা বলেছেন যে আগামী দিন, অর্থাৎ আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে। আমরা অবশ্যই আর ৫ আগস্টের আগে (আগের পরিস্থিতিতে) ফিরে যেতে চাই না। আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই আমাদের।
তিনি বলেন, হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার কারণে একটি মানুষ, একটি দলের কী পরিণতি হতে পারে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তা আমরা দেখেছি। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সেটিকে পাশে রেখে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব।
কোনোভাবেই মতপার্থক্য যেন মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। বিভেদের মাধ্যমে জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে, আমরা দেখেছি। আজকে আমরা অনেক বিভেদ, হতাশার কথা শুনি। তবে হতাশা থাকলেও অনেক পরিকল্পনাও কিন্তু আছে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দেশে ফিরে আমি যতটুকু যে কয়টি জায়গায় গিয়েছি, আমার মনে হয়েছে, নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স (দিকনির্দেশনা) চাইছে, একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম কেন, আসলে সবাই একটি গাইডেন্স চাইছে বলে মনে হয়েছে। আমরা যারা রাজনীতি করি, তাদের কাছে সবার অনেক প্রত্যাশা। সব প্রত্যাশা হয়তো পূরণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু আমরা রাজনীতিকরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০, ২০০৪, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—এই সবগুলোকে সমানে রেখে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার আছে মনে হয়, আমরা জাতিকে একটি সঠিক পথে পরিচালিত করতে সক্ষম হব।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক রেজাউল করিম রনি, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদুর রহমান, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই সিকদার, সাংবাদিক মমতাজ বিলকিস, ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, বর্ষীয়ান সাংবাদিক শফিক রেহমান এবং বিএনপি বিটের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক।
৪ দিন আগে
তরুণদের কর্মসংস্থান করতে না পারলে ৫ আগস্ট, একাত্তরের প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে: তারেক
দেশের মোট জনসংখ্যার একটা বড় অংশ তরুণ উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই তরুণদের জন্য যদি আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারি, তাহলে ৫ আগস্ট হোক, কিংবা ৯০ বা ৭১, সব প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বনানীর হোটেল শেরাটনে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, এ দেশে ২০ কোটির মতো মানুষ, যার মধ্যে একটি বড় অংশ তরুণ সমাজের সদস্য। এই তরুণ সমাজের জন্য কীভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, দেশের ভেতরে হোক কিংবা বাইরে, তা আমাদের ভাবতে হবে। আমরা যদি কাজটি করতে সক্ষম না হই, তাহলে আমরা ৫ আগস্ট বলি, ৯০ বলি আর ৭১, আমাদের প্রত্যেকটি প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে।
তরুণদের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার ব্যাপারে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ভোকেশনাল (কারিগরি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আমরা আধুনিকায়ন করতে চাই। এসব প্রতিষ্ঠানে ২০০ থেকে ২৫০ বিষয়ে শিক্ষাদান করা হয়, যার সবগুলোর প্রয়োজন আমাদের নেই। দেশের বাইরে কর্মী পাঠাতে যেসব দক্ষতা অত্যাবশ্যক, সেগুলোর প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তারেক বলেন, সাধারণভাবে আমাদের দেশের মানুষ যেসব দেশে যেতে পারে বা পারবে, যেমন: মধ্যপ্রাচ্য। সেখানে বর্তমানে কী কী কাজের সুযোগ আছে বা আগামী ৫-১০ বছরে কী কী কাজের সুযোগ তৈরি হবে, সে বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিয়ে দেশের তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জাপান, ইউরোপ, এমনকি চীনেও দক্ষ কর্মী পাঠানোর একটি বড় বাজার তৈরি হচ্ছে। সেসব জায়গায় কোন কোন বিষয়ে দক্ষ মানুষের প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে আমরা রিসার্চ করে দেখেছি। সেই অনুযায়ীই আমরা আমাদের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন করতে চাই।
সম্প্রতি আমার সঙ্গে যেসব বিদেশি কূটনীতিকের সাক্ষাত হয়েছে, তাদের কাছেও আমি এ ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়েছি। তারা খুশি মনে সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছেন বলে তিনি জানান।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, কাজের উদ্দেশ্যে আমাদের দেশ থেকে যারা দেশের বাইরে যাচ্ছেন, তাদের যদি আমরা সেই দেশের ভাষাটা শিখিয়ে দিতে পারি, সেখানে যে কাজগুলোতে তারা যাচ্ছেন, তাদের যদি সেসব কাজে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠাতে পারি, তাহলে সেখানে গিয়ে আরও ভালো করতে সক্ষম হবে।
ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, আমরা গবেষণা করে শ্রমবাজারগুলো যদি বের করতে পারি, তাহলে এখন যে আট থেকে দশ লাখ মানুষ বিদেশে যাচ্ছে, সেটাকে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ লাখে উন্নীত করতে পারি। এর সঙ্গে যে মানুষগুলো যাচ্ছেন, তাদের যদি আমরা প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিখিয়ে পাঠাতে পারি, তাহলে আরও মূল্য বাড়বে। এখন যদি তারা মাসে ১০০ ডলার আয় করেন, তাহলে সেটাকে সহজেই ৩০০ ডলারে নিয়ে আসতে পারব। তাহলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও অনেক বাড়বে, যা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো যাবে।
এর আগে, দেশের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যেন সেগুলোর সমাধানে মনোযোগ দেয়, সে বিষয়ে নিজেদের বক্তব্যে তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সম্পাদকেরা।
নিজের বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, অতিথিদের বক্তব্য থেকে কয়েকটি বিষয় ফুটে উঠেছে। ভবিষ্যৎকে আমরা যদি দুই-তিনটি ভাগে ভাগ করি, তাহলে দেখতে পাচ্ছি, ব্যক্তি হিসেবে হোক কিংবা সংবাদকর্মী হিসেবে, আপনার স্বাধীনতা, আপনার নিরাপত্তা। আরেকটি বিষয় আমার চোখে যেটা পড়েছে, গণতান্ত্রিক অধিকারের ব্যাপারে আপনার, আমার, আমাদের সকলের উদ্বেগ বক্তারা প্রকাশ করেছেন। একজন বক্তা বলেছেন যে আগামী দিন, অর্থাৎ আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে।
তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন দেশে থাকতে না পারলেও দেশের সঙ্গে আমার সবসময় যোগাযোগ ছিল। আমরা অবশ্যই আর ৫ আগস্টের আগে (আগের পরিস্থিতিতে) ফিরে যেতে চাই না। আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই আমাদের।
হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার কারণে একটি মানুষ, একটি দলের কী পরিণতি হতে পারে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তা আমরা দেখেছি। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সেটিকে পাশে রেখে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব। কোনোভাবেই মতপার্থক্য যেন মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। বিভেদের মাধ্যমে জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে, আমরা দেখেছি। আজকে আমরা অনেক বিভেদ, হতাশার কথা শুনি। তবে হতাশা থাকলেও অনেক পরিকল্পনাও কিন্তু আছে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দেশে ফিরে আমি যতটুকু যে কয়টি জায়গায় গিয়েছি, আমার মনে হয়েছে, নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স (দিকনির্দেশনা) চাইছে, একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম কেন, আসলে সবাই একটি গাইডেন্স চাইছে বলে মনে হয়েছে। আমরা যারা রাজনীতি করি, তাদের কাছে সবার অনেক প্রত্যাশা। সব প্রত্যাশা হয়তো পূরণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু আমরা রাজনীতিকরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০, ২০০৪, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—এই সবগুলোকে সমানে রেখে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার আছে মনে হয়, আমরা জাতিকে একটি সঠিক পথে পরিচালিত করতে সক্ষম হব।
একজন সংবাদকর্মীর নারীর নিরাপত্তা বিষয়ে বলা বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, নিরাপত্তা শুধু নারীর নয়, নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে হওয়া উচিত। বাংলাদেশে গত বছর ৭ হাজারের মতো মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। বিষয়টি আপনার-আমার কাছে অস্বাভাবিক লাগলেও ঘটনাটি ঘটছে, কোনো বছর বেশি, কোনো বছর কম। এটি কেন ঘটবে?
সড়ক দুর্ঘটনায় যে মানুষটি মারা যাচ্ছে, তিনি হয়তো ওই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। তার মৃত্যুর পর তার পরিবারের কী হচ্ছে? বা যারা দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে যায়, তাদের পরিবারের কী হচ্ছে—এই বিষয়টি আমাদের নজরে আনা উচিত। এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তা করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর পাশাপাশি দেশের কৃষি ও কৃষকদের নিয়েও আলোচনা, চিন্তাভাবনা হওয়া উচিত বলে জানান এই নেতা।
নারীর উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া নারীর শিক্ষার জন্য আন্দোলন করেছিলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার ব্যাপারটা নিশ্চিত করেছিলেন। আগামী নির্বাচনে জিতে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে, যেসব নারী শিক্ষিত হয়েছে, তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা।
এ সময় নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশে ফিরে যে ‘প্লানের’ কথা আমি বলেছিলাম, তার একটি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। আমাদের দেশে গড়ে ৪ কোটি পরিবার রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা একটা পরিবারকে সারাজীবন সহায়তা করে যাব, এমনটি নয়। ৫ থেকে ৭ বছর আমরা ওই পরিবারটিকে সাপোর্ট দিয়ে যাব, সেটা টাকার হিসাবে কিংবা অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্যের মাধ্যমে। আমরা দেখেছি, একজন নারীকে যদি এই সাপোর্টটা দেওয়া যায়, তাহলে তিনি সেটি তার পরিবারের জন্য সঠিকভাবে খরচ করেন।
আমরা রিসার্চ করে দেখেছি, ৫-৭ বছর যদি এই সাপোর্টটা দেওয়া যায়, তাহলে যে অর্থটা তার (নারী) হাতে জমা হয়, সেটা তিনি মূলত তিনটি কাজে খরচ করেন: প্রথমত, তার পরিবারের স্বাস্থ্যের পেছনে, দ্বিতীয়ত, ছেলেমেয়েদের শিক্ষার পেছনে এবং তৃতীয়ত, জমা করা অর্থ তিনি ছোট ছোট খাতে বিনিয়োগ করেন। এভাবে বিনিয়োগের ফলে ধীরে ধীরে গ্রামের, সমাজের অর্থনীতি মজবুত হবে। এভাবে একটি উপজেলা, জেলার অর্থনীতি মজবুত হবে বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এভাবে পরিবার শিক্ষিত হলে, সুস্থ থাকলে গ্রামের জনস্বাস্থ্য, উপজেলা, জেলা, একসময় গিয়ে দেশের জনস্বাস্থ্যে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তারেক রহমান বলেন, চার কোটি পরিবারকে একবারে এই সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব নয়। যারা প্রান্তিক, যাদের জন্য এটি আগে দরকার, তাদের দিয়ে আমরা শুরু করব। দুর্নীতি এড়াতে এই পরিকল্পনাটি কোনো প্রকল্পের আওতায় রাখা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা সর্বজনীন রেখেছি। একজন কৃষকের স্ত্রী, ইমাম সাহেবের স্ত্রী যেমন পাবেন, একজন ডিসির স্ত্রীও পেতে পারেন। তবে ডিসির স্ত্রী এই সুবিধা গ্রহণ করবেন না বলে মনে করেন তিনি।
পাশাপাশি কৃষি কার্ড, এমনকি জনস্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি নিয়েও একইরকম পরিকল্পনার কথা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।
দেশের জনসংখ্যার বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সৌদি আরব-কুয়েতের সবগুলো তেলের খনিও এখানে নিয়ে আসি, তারপরও আমরা হয়তো এত রিসোর্স (সম্পদ) দিয়েও এত মানুষের সমস্যার সমাধান করতে পারব না। সেজন্য আমাদের অবশ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের দিকে যেতে হবে।
সরকার গঠন করতে পারলে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ১ লাখের মতো কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে ৮০-৮৫ শতাংশ আমরা নারী কর্মী নিয়োগ করতে চাই, যাতে তারা ঘরে ঘরে গিয়ে নারীদের বোঝাতে সক্ষম হন যে পরিবারের সদস্যসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা, সদস্যদের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা ইত্যাদি কী কারণে প্রয়োজন।
৪ দিন আগে
উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে: ফখরুল
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরায় একটি উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে তিনি দূর থেকে জাতির উদ্দেশে যেসব কথা বলেছেন, তাতেই গোটা জাতি আজ আশান্বিত হয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে বনানীর হোটেল শেরাটনে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের শুরুতে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে একটা কঠিন সময়ে আমাদের নেতা তারেক রহমান বিদেশ থেকে দেশে এসেছেন। সমগ্র দেশের মানুষ এক বুকভরা প্রত্যাশা নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। ইতোমধ্যে তিনি দূর থেকে, ডিজিটালি যে সমস্ত কথা আমাদের সামনে, জাতির সামনে বলেছেন, তাতে গোটা জাতি আজ আশান্বিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আশান্বিত হয়েছে এ জন্যেই যে এবার একটা সুযোগ সৃষ্টি হবে। সত্যিকার অর্থেই উদার একটা গণতন্ত্রপন্থী ব্যবস্থা আমরা এখানে সৃষ্টি করতে পারব। এই সুযোগ আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে।’
এ সময় সম্পাদকমণ্ডলীর উদ্দেশে তিনি মন খুলে কথা বলার আহ্বান জানান। তারেক রহমানও যে তাদের সঙ্গে কথা বলতে উৎসুক, সে কথাও জানান মির্জা ফখরুল।
৪ দিন আগে
রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত ৯টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি হবে বলে
জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খান।
তিনি জানান, বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, আজকের বৈঠকটি নির্ধারিত শিডিউলের বৈঠক নয়। তাই নির্দিষ্ট এজেন্ডাও থাকছে না। তবে এটি অবশ্যই গুরত্বপূর্ণ। কারণ, এ বৈঠকেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হতে পারে।
তিনি জানান, বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের সাংগঠনিক বিষয় এবং নির্বাচন ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
গত ৪ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, কয়েকদিনের মধ্যেই তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হবে।
২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দী হওয়ার পর তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়।
৫ দিন আগে
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট নই: মির্জা ফখরুল
নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দলের নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষ অপেক্ষা করছে নির্বাচনের জন্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিস্থিতি যেভাবে দাঁড়িয়েছে সেটাতে আমি সন্তুষ্ট হতে পারছি না। যে হারে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে খুন করা হচ্ছে, বিশেষ করে আমাদের দলের কয়েকজন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। আমরা আশা করব সরকার এ ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন এবং এবং নির্বাচনের সময় এই ঘটনাগুলোর যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে তারা আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
তারেক রহমানের সফর সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তার এটা একটা ব্যক্তিগত সফরই বলা যাবে। কারণ ওনি আসছেন নিজের গ্রামে বগুড়ায়। সেখান থেকে তিনি রংপুরে জুলাই শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি দিনাজপুরে যাবেন তার নানির কবর জিয়ারত করতে। সেখান থেকে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে আসবেন, আমাদের এখানে কয়েকজন শহীদ আছেন, তার মধ্যে একজন শহীদের কবর তিনি জিয়ারত করবেন এবং পরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় বড় একটি দোয়া মাহফিল হবে, সেখানে অংশগ্রহণ করবেন এবং সেখান থেকে তিনি পঞ্চগড় যাবেন।’
তিনি বলেন, তিনি যখন দেশে আসলেন তখন ঢাকাতে লক্ষ লক্ষ মানুষ জমায়েত হয়েছিল। তাকে সংবর্ধনা জানাতে। এখন জেলাগুলোতে আসছেন। সাধারণভাবেই নেতা কর্মীরা উজ্জ্বীবিত হবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটের প্রভাব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরবে না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আরেকটি বিষয়ট যেটা আমি জোড় দিয়ে বলতে চাই-বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন এটা আপনার জাতীয় নির্বাচনে কখনো বা কোনদিনই প্রভাব ফেলেনি। আমরা আশা করি সেভাবে এবারও কোনো প্রভাব ফেলবে না।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আমাদের অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলো বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাজ করার কোনো সুযোগ পায়নি। বিশেষ করে আমাদের ছাত্রদল, তাদেরকে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। আর যে বিষয়টা আমি জোর দিয়ে বলতে চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন, এটা জাতীয় নির্বাচনে কখনোই কোনদিনও প্রভাব ফেলে নাই। আশা করি এবারও ফেলবে না।
গণভোট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, গণভোটে আমরা নিজেরাই-একইদিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ ভোট চেয়েছিলাম, সেভাবেই হয়েছে এবং এই সংসদ নির্বাচনে যে সমস্ত সংস্কারগুলো নিয়ে গণভোট হচ্ছে, সেই সংস্কারগুলো আমরাই বহু আগে ২০১৬ সালে এবং ২০২৩ সালে ৩১ দফার মাধ্যমে সেটা জাতির সামনে প্রস্তাব তুলে ধরেছি।
‘সুতরাং সংস্কার তো একটা চলমান প্রক্রিয়া সেটা থাকবে। সেখানে না বলার কোনো কারণ আছে, সেটা আমার মনে হয়না।’
৫ দিন আগে