বিএনপি
অসহায় মুক্তা বেগম ও তার সন্তানের দায়িত্ব নিলেন লুৎফুজ্জামান বাবর
রাজধানীর পল্টনে ফুটপাতে থাকা অসহায় মুক্তা ও তার আড়াই বছরের শিশু মেহেদির দায়িত্ব নিয়েছেন নেত্রকোনা-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে আকস্মিকভাবে পুরানা পল্টনে এসে মুক্তাকে দেখে তার সঙ্গে কথা বলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। শুনেন তার অজানা গল্প। তার জন্য নতুন ঠিকানার ব্যবস্থা করবেন বলে আশস্ত করেন।
সংসস সদস্য বাবর বলেন, ‘মোহনগঞ্জে তার বাড়ি, আমার নির্বাচনি এলাকা। যখন শুনলাম রাস্তায় এই অসহায় নারী তার ছোট সন্তানদের নিয়ে বসে থাকেন, অভুক্ত দিন কাটান— সেজন্য তার আছে ছুটে এসেছি। আফটার অল (যাইহোক), তিনি আমার এলাকার মানুষ।’
তিনি বলেন, তাকে বলেছি, আমি মোহনগঞ্জে তাকে একটি ছোট জায়গা দিয়ে বাড়ি বানিয়ে ঠিকানা করে দেব, ইনশাল্লাহ। সেখানেই তিনি থাকবেন। আর ভিক্ষাবৃত্তি করতে হবে না। তার ছোট ছেলেরও দায়িত্ব নিয়েছি আমি। এখন মুক্তা বেগমের জরুরি দরকার একটি চাকরির। তাকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া আমার প্রথম কাজ।
মুক্তা বেগম বলেন, ‘আমি এই দুনিয়ায় অসহায়। ছেলে-পেলে নিয়ে বছরের পর বছর এখানেই বসে থাকি।’
তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে এক মেয়ে। ছোট বাচ্চাটাকে দেখার মতো কেউ নাই। অনেক সময় আমি ঘুমাইয়া যাই, সেজন্য পোলাডাকে পায়ে দড়ি দিয়ে বাইন্দা ঘুমাই। যাতে কেউ নিয়ে না যায়। আজকে এমপি সাহেব আইছেন, কইছেন আমারে দেখব। আল্লাহ উনারে ভালো করুক।’
মুক্তা বেগমের বাড়ি মোহনগঞ্জ। তার দুই ছেলে এক মেয়ে। এক মাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। দুই ছেলে সন্তান নিয়ে এখন তার পথচলা। এর মধ্যে বড় ছেলেটা মাদকে আসক্ত হয়ে আলাদা। এখন মূলত ছোট ছেলে মেহেদিকে নিয়েই তার সংসার।
১ দিন আগে
এইচএসসি পরীক্ষা ইস্যু: সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান ছাত্রদলের
এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের সমাধানে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জেসিডি)। সংগঠনটি বলেছে, সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে এবং সড়ক অবরোধ করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আলাপ-আলোচনার সুযোগ রয়েছে। ছাত্রদল মনে করেছে, সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে; সেজন্য আমরা প্রেস রিলিজ দিয়েছি। সুতরাং বিষয়টি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুযোগ রয়েছে। কোনোভাবে সড়ক অবরোধ করে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না।’
নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে সেজন্য সরকার চট্টগ্রাম বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত করেছে। এর বাইরে উত্তরাঞ্চলসহ কয়েকটি জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে পরীক্ষা দিয়েছে। এটি আমরা সকলেই অবগত হয়েছি। শিক্ষার্থীদের সাময়িক সময়ের জন্য পরীক্ষা স্থগিতকরণের দাবির সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও একই দাবি করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদেরকে বলেছি, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার কোনো দাবি করলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সেটির পক্ষে থাকত। কিন্তু ছাত্রদল সরকারের বিপক্ষে গিয়ে বলেছে, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য এবং আমরা শুনেছি সরকার সিদ্ধান্ত বিবেচনের বিষয়ে আলাপ আলোচনা করছে।’
২ দিন আগে
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িক স্থগিতের দাবি ছাত্রদলের
আকস্মিক বন্যা, দেশব্যাপী অতিবর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। একই সঙ্গে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মানবিক বিবেচনা কামনা করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৩ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সারা দেশে চলমান অতিবর্ষণ, সাত জেলায় পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার কারণে লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর প্রস্তুতিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি, মানসিক ও মানবিক বিপর্যয় এবং চরম যাতায়াত প্রতিকূলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চলমান উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসমূহ সাময়িকভাবে স্থগিত করা প্রয়োজন।
এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি ও সহমর্মিতাপূর্ণ পদক্ষেপও প্রত্যাশা করেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, দেশের ৭ জেলায় বন্যায় ইতোমধ্যে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি উপদ্রুত এলাকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের পক্ষে কেন্দ্রে যাতায়াত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য।
এমতাবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আমাদের পর্যবেক্ষণ ও অনুরোধ হলো, বন্যা কবলিত অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে পরীক্ষা সাময়িক পিছিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত হবে। এছাড়া, যে দুর্যোগে ১০ লক্ষাধিক মানুষ বিপর্যস্ত, সেখানে অসংখ্য শিক্ষার্থীর বইখাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পরীক্ষায় বসলে বন্যা উপদ্রুত এলাকার শিক্ষার্থীরা মনস্তাত্ত্বিকভাবে পিছিয়ে পড়বে, যা তাদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে দেশের একটি বিরাট অংশের পরীক্ষার্থীদের সংকটে রেখে পরীক্ষা চালু রাখলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং সুযোগের সমতা নষ্ট হবে। তাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি, পরীক্ষাকেন্দ্রসমূহ পরীক্ষার উপযোগী হওয়া, পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখাই হবে যৌক্তিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত।
তারা বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত বর্তমান জনবান্ধব সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের জীবন, নিরাপত্তা এবং সুন্দর ভবিষ্যতের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ছাত্রদল সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক অধিকার ও কল্যাণের পক্ষে কাজ করে। তাই পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে মানবিক সহায়তা প্রদান এবং স্থানীয় প্রশাসনের পাশে থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৩ দিন আগে
লুটপাটের উদ্দেশ্যে আ.লীগ আমলের অপরিকল্পিত উন্নয়নেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েছে: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, লুটপাট ও অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণেই দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা, খরা ও ভয়াবহ বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বন্যা পরিস্থিতিসহ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, যেকোনো উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার জলবায়ু, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তা না করে লুটপাট ও টাকা পাচারের উদ্দেশ্যে অপরিকল্পিত উন্নয়ন করেছে। এর ফলেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা, খরা ও ভয়াবহ বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক সরকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশ, নদী-নালা ও খাল-বিলের ওপর এর প্রভাব বিবেচনা করে। কিন্তু গত সরকার এসব বিষয়কে উপেক্ষা করেছে।
প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে বাধা দিলে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার অভিযোগ, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য হাওরের মাঝ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে, যা প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, ‘মানুষের শরীরে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে যেমন শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে, তেমনি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে পরিবেশও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।’
রিজভীর দাবি, বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ মানুষ পানিবন্দি এবং বন্যায় ইতোমধ্যে ৫২ থেকে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেন তিনি। তার মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ন পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৭ বছর ক্ষমতায় থেকে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থে। হাওরের মাঝ দিয়ে সড়ক নির্মাণের পেছনেও দলীয় লোকদের ঠিকাদারি সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল।
এই রাজনীতিক বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সময় শুধু বিরোধী দল নয়, পরিবেশ বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করেছিলেন যে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর হবে। কিন্তু সরকার একটি বিশেষ দেশকে খুশি করার জন্য সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে সরকারের সমালোচনা করলে গুম, কারাবরণ কিংবা ক্রসফায়ারের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু এখন মানুষ নির্বিঘ্নে সরকারের সমালোচনা করতে পারছে এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও স্বাধীনভাবে কথা বলছেন।
বর্তমানে টানা অতিবৃষ্টিতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রিজভী। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশের সব সচ্ছল মানুষের প্রতি বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
৩ দিন আগে
দলীয় কার্যক্রম জোরদারে বিএনপির সব ইউনিটকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় দলীয় কার্যক্রম আরও সক্রিয় ও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ দলের সব পর্যায়ের ইউনিটকে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ রবিবার এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় দলীয় ইউনিটগুলোকে সাংগঠনিক তৎপরতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে যথাসম্ভব দ্রুত জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব মহাসচিবকে দেওয়া হয়।
সভায় মহাসচিব বিগত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন সম্পর্কে সদস্যদের অবহিত করেন।
এছাড়া বর্তমান বিএনপি সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, মন্দিরের পুরোহিত, চার্চের ফাদার এবং বৌদ্ধ মন্দিরের সেবায়েতদের ভাতা প্রদানের কর্মসূচিসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
সভায় দলের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইশতেহারে বর্ণিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টার নিন্দা জানানো হয়। এ বিষয়ে দলীয় অবস্থান জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার কার্যক্রম আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভায় ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর এবং ওই দুই দেশের সঙ্গে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তি সম্পর্কেও সভাকে অবহিত করা হয়। পারস্পরিক উন্নয়ন, সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় দুই দেশের অংশগ্রহণের প্রশংসা করা হয়। সভার মতে, পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে এ সফরের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সফল সফরের জন্য তাকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই দেশকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। সভার মতে, এ সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সভায় সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ অর্জন বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
দেশে মাদক সমস্যার বিস্তার নিয়েও সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং এ বিষয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সভায় দলের সাবেক কোষাধ্যক্ষ, মুন্সিগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক চিফ হুইপ ও সাবেক মন্ত্রী হারুন-অর-রশীদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
সভা শেষে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বৈঠকের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বেগম সেলিমা রহমান। মির্জা আব্বাস বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
৪ দিন আগে
স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রহরী হিসেবে কাজ করছে সরকার: রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান সরকার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রহরী হিসেবে কাজ করছে, গণতন্ত্রের নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কাজ করছে। তাই, এই সরকারের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত আছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, অনেক রক্ত, আত্মত্যাগ ও ব্যাপক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এই সরকার স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রহরী হিসেবে কাজ করছে এবং গণতন্ত্রের নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কাজ করছে। সুতরাং এই সরকারের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত আছে। পরাজিত শক্তিরা নানা চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করতে পারে, ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করতে পারে। সেটা যাতে করতে না পারে, সেই কারণে আমরা আগে থেকেই সবাইকে সচেতন করছি এবং আমাদের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যাতে একেবারে পাহারাদারের মতো কাজ করেন। তাদের বলা হয়েছে, হিন্দু ধর্মের ভাইবোনদের সঙ্গে তারা যেন একযোগে দুর্গাপূজায় প্রহরীর কাজ করেন। শুধু এবারেই নয়, আমরা গত দুর্গাপূজা, তার আগের দুর্গাপূজাসহ সমস্ত পূজাতে একইভাবে দলের নেতাকর্মীদের এই নির্দেশ দিয়েছিলাম। প্রত্যেকেই বিভিন্ন পূজা মন্ডপে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং সেখানে বক্তব্য দিয়েছি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের পূজাপার্বণে আমরা দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের পাশে থাকার, তাদের নিরাপত্তাবিধানের জন্য যে কাজগুলো করেছি, এবারও তাদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা এবং উল্টো রথের এই আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একইভাবে তাদের পাশে থাকবে।
তবে এটি নিয়ে কেউ যাতে আবার কোনো রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়েও দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ অন্যান্য যে সমস্ত নৃগোষ্ঠীরা আছেন, সবাই এখন ঐক্যবদ্ধ। বিভিন্ন সময়ে এই জাতির মধ্যে বিভাজন-বিভক্তি কারা করত, এটা তারা বুঝে গেছেন। গত নির্বাচনে প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, কোনো ধরনের অপশক্তি আর আমাদের ঐক্য ভাঙতে পারবে না।
দেশের অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রীর নিরলস প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে বিএনপির এ শীর্ষ নেতা বলেন, সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। বর্ষায় পানি সংরক্ষণ এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও মৎস্যচাষের সুবিধা নিশ্চিত করতে খাল খননের বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি দিনরাত দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন। এ অগ্রযাত্রায় কোনো অপশক্তি বা এজেন্ট যেন উস্কানি দিয়ে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য জনগণ এবং বিএনপিসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে রিজভী বলেন, কর্মসূচির অগ্রগতির বিষয়ে যদি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সঠিক তথ্য না দেন, তাহলে সরকার যতই চেষ্টা করুক না কেন, কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। মাঠপর্যায়ে গতিশীলতা বজায় রাখা এবং কর্মকর্তারা যেন কোনো প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারের কর্মসূচিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেন, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিকে একটি মহৎ ও মানবিক উদ্যোগ উল্লেখ করে এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, প্রায় ১৫০টি উপজেলায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিফিন সরবরাহ করা হচ্ছে। এটি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
তবে যেসব এলাকায় স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, সেসব এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল ইসলাম এবং ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ অন্যান্য নেতারা।
৭ দিন আগে
শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে যুবদলের ৩০০ নেতাকর্মী বহিষ্কার, অনেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা
সংগঠনের আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সারা দেশে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। সংগঠনটির সুনাম ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অনেকের বিরুদ্ধে থানায় ফৌজদারি মামলাও করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর নয়া পল্টনের হোটেল ভিক্টোরির সাঙ্গু ব্যাঙ্কুয়েট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না।
তিনি বলেন, আলোচিত কিছু ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আবার অধিকতর তদন্তের পর কয়েকজনের বিরুদ্ধে নেওয়া সাংগঠনিক শাস্তি প্রত্যাহারও করা হয়েছে।
যুবদল সভাপতি বলেন, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে যুবদলের নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে পরিচালিত আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে জনমত গঠন, মিছিল, সমাবেশ, গণসংযোগ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এসব আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী গুম, খুন ও পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, মামলা ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন, যার ক্ষত অনেকেই এখনও বহন করছেন।
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে দেশব্যাপী যুবদলের ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাকর্মীরা জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন সফল করেছেন। আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে উন্নীত করতে যুবদলের ৭৮ জন নেতাকর্মী শহিদ হয়েছেন। শত শত নেতাকর্মী পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী রক্তাক্ত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাতীয়তাবাদী যুবদল সবসময় সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাসী এবং কোনো ধরনের বেআইনি, অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বেআইনি কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাবে না। ভবিষ্যতে যাতে কেউ সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সেজন্য কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এ সময় বিগত সময়ে যুবদলের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি।
তিনি জানান, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ৭৮ পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তা ও সম্মাননা প্রদান, আন্দোলনে নিহত নেতাকর্মীদের পরিবারের জন্য এফডিআর ও নগদ সহায়তা, নদী-খাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সেতু নির্মাণ, কৃষকদের ধান কেটে ঘরে পৌঁছে দেওয়া, অসহায় ও রোগাক্রান্ত নেতাকর্মীদের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা এবং গৃহহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক সহায়তায়ও ভূমিকা রেখে আসছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার
গত ৪ জুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর যুবদল দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে আবদুল মোনায়েম মুন্না।
তিনি বলেন, ‘এ সময়ে কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক জরুরি সভা, ঢাকা বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি পালন করা হয়।’
যুবদল সভাপতি বলেন, ‘সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অপপ্রচার ও পেশীশক্তিনির্ভর রাজনীতির বিরুদ্ধে “সাংগঠনিক সপ্তাহ” ঘোষণা করে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও ঢাকা জেলা যুবদলের উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিগুলোতে কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন অংশ নেন।
‘কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশব্যাপী ১০ বিভাগে ৩১টি টিম গঠন করা হয়। পরে বিভাগীয় টিমগুলোর প্রতিবেদন পর্যালোচনায় ৫ ও ৬ জুলাই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৪ জুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর ৮ জুন নয়াপল্টনের হোটেল ভিক্টোরিতে টানা ১২ ঘণ্টাব্যাপী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১১ জুন ঢাকা বিভাগের জেলা ও মহানগর যুবদলের সঙ্গে জরুরি সভা এবং ১২ জুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
১৩ জুন নবনির্বাচিত নেতারা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া-মোনাজাত করেন।
অপপ্রচার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সপ্তাহ ঘোষণা করা হয়। এর অংশ হিসেবে ১৭ জুন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের উদ্যোগে সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে নয়াপল্টন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০ জুন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের উদ্যোগে মহাখালী কাঁচাবাজার থেকে নাবিস্কো হয়ে সাতরাস্তা মোড় পর্যন্ত আরেকটি প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ করছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে সাংগঠনিক টিম গঠন করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা পাওয়া গেলে যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সম্প্রসারণে সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে একযোগে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে রক্তদান কর্মসূচি, অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণ ও শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন, সহ-সভাপতি রেজাউল কবীর পল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল।
৮ দিন আগে
১৮ বছর নির্যাতনের পর অস্থিরতা স্বাভাবিক, ধৈর্য ধরুন: নেতাকর্মীদের দুদু
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্দোলন–সংগ্রাম ও নির্যাতনের কারণে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা থাকতেই পারে, তবে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারকে দক্ষতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রবিবার (৫ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের উদ্যোগে অসুস্থ তিন প্রবীণ নেতা—মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং জুলাই আগস্ট আন্দোলনের আহতদের আরোগ্য কামনায় আয়োজিত এক দোয়া অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আমাদের তিনজন প্রবীণ জননেতা মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান এবং ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন। তাদের আরোগ্য লাভের জন্য আপনারা আজকের দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। আমরা আপনাদের সঙ্গে শরিক হয়েছি। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, বিএনপির ছোট, বড় নেতাকর্মীরা ১৮ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের প্রাপ্তির খাতা ছিল শূন্য। শুধু নেতাকর্মীরাই নন, তাদের পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যাদের চাকরি পাওয়ার কথা ছিল, শেখ হাসিনার আমলে তারা সেই সুযোগ পাননি। এ কারণে একধরনের অস্থিরতা থাকতেই পারে। তবে নেতা কর্মীদের ধৈর্য ধরতে হবে।
দুদু বলেন, শেখ হাসিনার আমলে যারা অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, বর্তমান সরকার তাদের বিষয়ে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। তার দাবি, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শহিদ জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার। তার মধ্যে কোনো প্রতিহিংসা নেই। অথচ এই পরিবারই সবচেয়ে বেশি প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে।’
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি সেই নেতৃত্ব অর্জন করেছিলেন। একইভাবে ১৮ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেছেন।
কৃষক দলের সাবেক এই আহ্বায়ক বলেন, অনেকে অনেক ধরনের জনপ্রিয়তার দাবি করেন। আমি কাউকে ছোট করছি না। কিন্তু দেশবাসী গণ–অভ্যুত্থানের প্রধান শক্তি হিসেবে বিএনপিকেই গ্রহণ করেছে। কারণ, ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা বিএনপিকেই ভোট দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এক ১১ এর নির্যাতনে তারেক রহমান নিহতও হতে পারতেন, তবে আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন। আর বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, এমনকি চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ এমন একটি হিংস্র নেতৃত্বের অধীনে ছিল। সেই বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রূপান্তরিত করতে হবে।
সরকারকে দক্ষতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দুদু বলেন, একটি মহল বিভিন্ন স্থানের ছোটখাটো ঘটনাকে বড় ঘটনায় রূপ দিতে চায়। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আমাদের নেতা মির্জা আব্বাস চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে রয়েছেন। নজরুল ইসলাম খান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ রয়েছেন প্রবীণ নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। তাদের লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। আমরা তাদের প্রতি সম্মান জানাব, আল্লাহর কাছে দোয়া করব। কারণ, তারা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন মানুষের জন্য, দেশের জন্য এবং গণতন্ত্রের জন্য।
তিনি বলেন, আজকের দোয়া অনুষ্ঠানে সবাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন, যেন এই তিন নেতা দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার মানুষের সেবায় ও দলের কর্মকাণ্ডে ফিরে আসতে পারেন।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সালাউদ্দিন খান পিপিএমের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন সরদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, কৃষকদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদি, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।
১১ দিন আগে
মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাসের শারীরিক খোঁজ নিলেন আলাল
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা–৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক খোঁজ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
শনিবার (৪ জুলাই) মালয়েশিয়ায় আলাল ও তার সহধর্মিণী মির্জা আব্বাসের সঙ্গে দেখা করেন।
সাক্ষাৎ শেষে আলাল বলেন, মির্জা আব্বাস বর্তমানে আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
মির্জা আব্বাস তার দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতার জন্য দলের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
১৩ দিন আগে
এমপি মনির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান ছাত্রদল সভাপতির
জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনির বক্তব্যকে ‘অযাচিত’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাকিব লেখেন, ‘প্রিয় নিলোফার চৌধুরী মনি আপা, এমপি, আপনি দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের সারথি ছিলেন। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনার অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি টেলিভিশন টকশোতে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আপনার অযাচিত বক্তব্যে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। আপনার বক্তব্য আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করলাম।’
নিলোফার চৌধুরী মনিকে উদ্দেশ করে রাকিব আরও লেখেন, ‘আমরা অবগত রয়েছি, আপনি জুলাইয়ের চেতনা ধারণকারী একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। তাই জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বক্তব্যে আপনি আরও বেশি সংযত ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন সেটাই প্রত্যাশা করি।’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এক টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি প্রশ্ন তোলেন, জুলাই আন্দোলনে স্নাইপার চালিয়েছিলেন কারা।
তিনি বলেন, ‘অনেক কিছুই আমি বলতে চেয়েও বলতে পারি না। কারণ অনেক কিছু বললে অনেকের কাপড়-চোপড় ঠিক থাকবে না। যারা আজ কথা বলে, তারা কখন কোথায় কীভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেখা করে এই কাজগুলো করেছিল? তাদের কতটা ভূমিকা ছিল? যাদের বলা হয় যে তারাই (আন্দোলনের) মেইন; এই আন্দোলনে কারা মেইন ছিল, কেউ জানে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলনে অংশ নেওয়াদের একজন আরেকজনকে চেনে নাই। পাশে হাঁটতে গেছে, আন্দোলন করতে গেছে; পাশের একজন পড়ে গেছে। মনে করছে যে নরমাল পড়েছে। আসলে সে মারা গিয়েছে। গুলিটা সামনে থেকে আসছে না পিছন থেকে আসছে, সেটাও জানে না। গুলির কোনো শব্দ হয় নাই, এটা স্নাইপারের গুলি ছিল। অনেকেই যারা পড়ে গেছে।’
তখন সঞ্চালক প্রশ্ন করেন, ‘তার মানে এটা কি কোনো ডিজাইন ছিল বা ষড়যন্ত্র?’ জবাবে নিলোফার চৌধুরী বলেন, ‘ডিজাইন তো অবশ্যই ছিল, ষড়যন্ত্র কিনা আমি বলতে পারবো না।’
জুলাই আন্দোলনে এমন নিঃশব্দে হত্যাযজ্ঞ কারা চালিয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘কারা মারল, কেউ জানে না। সামনে কোনো পুলিশও ছিল না। পুলিশের গুলি হলে তো সামনেই হতো। হতে পারে কোনো বাসা থেকে টার্গেট করে, ওপরতলা থেকে টার্গেট করে হয়তো গুলি করা হয়েছে। আমার নিজের কাছে অনেক প্রশ্নের উত্তর নাই।’
১৪ দিন আগে