বিএনপি
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া ৫ সেপ্টেম্বর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।
সেপ্টেম্বরের উপযুক্ত সময়ে আরও দুটি কর্মসূচি পালন করা হবে। এর মধ্যে একটি উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ। এতে নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। আরেকটি কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপণে নেতৃত্ব দেবেন যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
রিজভী জানান, এসবের বাইরে আরও বেশ কিছু কর্মসূচি থাকবে। এসব কর্মসূচির খসড়া দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত করা হবে।
যৌথ সভায় বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আব্দুস সালাম আজাদ, পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১১ ঘণ্টা আগে
এত অপপ্রচারের পরও প্রধানমন্ত্রী-বিএনপির জনপ্রিয়তা অনেক বেশি: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এত অপপ্রচার, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের পরও জরিপে বিএনপির জনপ্রিয়তা ৫৪, ৫৫ বা ৫৬ শতাংশের মতো রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আরও বেশি—৬৫ থেকে ৬৬ শতাংশ।
তিনি বলেছেন, জনগণের পক্ষে, জনগণের স্বার্থে এবং জনগণের জন্য কাজ করলে সেই দলের সরকার কোনো দিনই ব্যর্থ হবে না। সেই সরকার জনগণের সমাদৃত সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি একথা বলেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি দুই নেতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।
রিজভী বলেন, তার প্রধান দায়িত্ব হবে দলকে সুশৃঙ্খল ও সুসমন্বিতভাবে পরিচালনা করা। দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেই তিনি কাজ করবেন।
তিনি বলেন, জনগণের শুভেচ্ছা ও সমর্থন নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে। তার ঘোষিত কর্মসূচিগুলো জনগণের স্বার্থ, মানবকল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করতে হবে এবং সরকারের পদক্ষেপগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।
দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে না জড়াতে নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ৫ আগস্টের পর দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই নেতাকর্মীদের গঠনমূলক কাজে যুক্ত থেকে দলকে শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীরা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে কেউ অনৈতিক চিন্তা করার সুযোগ পাবে না। সরকারের প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, জনস্বার্থের বাইরে বিএনপি কোনো কাজ করবে না।
বিএনপির জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া জনকল্যাণে কাজ করেছেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও দেশের আর্থিক উন্নয়নে তাদের নেওয়া পদক্ষেপ বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান নতুন কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন যেগুলো জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দলের নেতাকর্মীরা এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন এবং জনগণের কাছে তা তুলে ধরবেন। এর মাধ্যমে বিএনপির জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সারা দেশে হয়তো দুয়েকজন বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে থাকতে পারেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দলের নাম ভাঙিয়ে যারা নানা ধরনের অপকর্মে যুক্ত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই কেউ অনৈতিক কাজ করবেন না, গঠনমূলক কাজে থাকবেন এবং দলকে শক্তিশালী করবেন। নেতাকর্মীরা যাতে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারেন, সেই চেষ্টা করতে হবে।
ইউপি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ইউপি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন। কারণ এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না।
তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর পাশে থাকবেন এবং একজন দলীয় সমর্থিত ব্যক্তি অবশ্যই নির্বাচিত হবেন।
বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, এত অপপ্রচার, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের পরও জরিপে বিএনপির জনপ্রিয়তা ৫৪, ৫৫ বা ৫৬ শতাংশের মতো রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আরও বেশি—৬৫ থেকে ৬৬ শতাংশ।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম, পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
এ ছাড়াও বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
গ্যাসের চাপ আবার বেড়েছে, লোডশেডিং অনেক কমে গেছে: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসের যে চাপ কমে গিয়েছিল, তা আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের ত্রুটি সম্পূর্ণরূপে ঠিক হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেছেন, এলএনজি-ভর্তি কারগো ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছে। ফলে লোডশেডিং অনেক কমে গেছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, মহেশখালীতে ভাসমান টার্মিনালের যে ত্রুটি হয়েছিল সেটা সম্পূর্ণরূপে গতকাল সারাই করা হয়েছে, ঠিক হয়ে গেছে। এছাড়া, এলএনজি-ভর্তি কারগো ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছে এবং সরবরাহ চলছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসের যে চাপ কমে গিয়েছিল, তা আবার বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ ও আন্তরিকতার কারণে লোডশেডিং এবং গ্যাসের চাপ-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকারের ভাবমূর্তি তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমান সরকার একটি জনকল্যাণমুখী ও সামাজিক সুরক্ষাবান্ধব সরকার। অতীতে ফ্যাসিস্ট আমলে মেগা প্রজেক্টের নামে যে ভয়াবহ মেগা দুর্নীতি হয়েছে, সেখান থেকে বের হয়ে বর্তমান সরকার দুর্নীতিমুক্ত পরিকাঠামো গড়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি কাজ ও সিদ্ধান্তের জবাবদিহি জাতীয় সংসদ, দলের নেতাকর্মী এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে।
এ সময় দেশের চলমান ধারা অব্যাহত রাখতে ও সব ধরনের চক্রান্ত প্রতিহত করতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান রিজভী।
৩ দিন আগে
জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) জুমার নামাজের পর তিনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে তাদের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা জানান।
মির্জা ফখরুল জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন, ফাতেহা পাঠ করেন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় নিরাপত্তাবেষ্টনীর বাইরে দাঁড়িয়ে দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মির্জা ফখরুল হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিএনপি মহাসচিব হিসেবে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে বহুবার নেতা-কর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তিনি।
এদিকে, এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন।
বঙ্গভবনের দরবার হলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্যরা এবং বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
মোট ৩৪৩টি ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ২৫৫টি ভোট পান এবং অলি আহমদ পান ৮৮টি ভোট।
মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ছয়জন সংসদ সদস্য এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানে বিরত ছিলেন।
ভোট দিতে না আসা এই ছয়জন ভোটার হলেন— বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, মোস্তফা কামাল পাশা ও ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মো. অলি উল্লাহ।
ওই দিন রাতেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) মির্জা ফখরুলকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে গেজেট জারি করে।
৫ দিন আগে
জামায়াত সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে: প্রতিমন্ত্রী নূর
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেছেন, জামায়াতে ইসলাম থেকে ‘ইসলাম’ শব্দটি বাদ দিতে হবে। সেই সঙ্গে জামায়াত সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চাইতেও বড় ফ্যাসিস্ট হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুরাতন ভবনের কেবিনে কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবির ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানকে দেখতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
নুরুল হক নূর বলেন, জামায়াতে ইসলাম থেকে ‘ইসলাম’ শব্দটি বাদ দিতে হবে। জামায়াত সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে। জামায়াতের নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় হয়েছে। কুষ্টিয়ার এমপি জামায়াত নেতা আমির হামজা ও গাজী নজরুল তারই বড় উদাহরণ।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামের সরকারে যাওয়ার খায়েশ হয়েছে এবং এই সরকারের ছয় মাস যেতে না যেতেই তারা সরকারকে নিয়ে বিরক্তিকর বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, উন্মাদ এমপি আমির হামজা বিভিন্ন সময় আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও ফারজানা পুতুলসহ অন্যান্য নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন। এই উন্মাদ আমির হামজা আমাদের প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমানকে (কোকো) নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমির হামজার এসব নোংরা ভণ্ডামিপূর্ণ কথাবার্তা জামায়াত সাপোর্ট করছে। এছাড়াও সাতক্ষীরার এমপি নজরুল ইসলামের কর্মকাণ্ডের পরও জামায়াত যদি নিজেদের ইসলামী দল হিসেবে দাবি করে, তাহলে সেটা ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমি তাদের বলব, জামায়াতে ইসলামী থেকে ইসলামী নাম বাদ দিতে। কারণ তারা ইসলামী নামটি ব্যবহার করে ইসলামের লেবাস ধরে ইসলামেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে।
৬ দিন আগে
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলেন রুহুল কবীর রিজভী
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর (খ) ৬ ধারা অনুযায়ী দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
অবিলম্বে এই মনোনয়ন কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রুহুল কবির রিজভী। এর আগে তিনি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যও হয়েছেন এই প্রবীণ রাজনীতিক।
৬ দিন আগে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে বৈঠকে সরকারদলীয় এমপিরা
আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে চলা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা (এমপি) বৈঠকে বসেছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সদস্যদের সভাকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৯১ সালের পর প্রায় ৩৫ বছরে এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থী নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোট দেওয়ার জন্য যোগ্য।
সর্বশেষ সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করে দেশের ১১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস। সেই নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট এবং বদরুল হায়দার চৌধুরী ৯২ ভোট পেয়েছিলেন।
৭ দিন আগে
ভগ্নস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ করছে সরকার: রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি ভগ্নস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার বা তার জোটের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই ভগ্নস্তুপের ওপর দাঁড়িয়েই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ চলছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকালে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, গুম, খুন ও নজিরবিহীন দুর্নীতির এক চরম বিধ্বস্ত অবস্থার মধ্যে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে।
বিগত সরকারের সময় দেশের সার্বিক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চারদিকে ছিল অরাজকতা-নৈরাজ্যের এক ধূসর পরিবেশ। কে কখন গুম হয়ে যাবে, কে কখন অদৃশ্য হয়ে যাবে, তার কোনো ইয়ত্তা ছিল না। বিচারবহির্ভূত হত্যা লেগেই ছিল এবং প্রত্যেকটি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
তিনি আরও বলেন, কেউ খালের ধারে, কেউ নদীর ধারে, কেউ পুকুরের ধারে—প্রতিদিন একটার পর একটা মরদেহ পাওয়া যেত। সে মরদেহ উপজেলা চেয়ারম্যানের হতে পারে, সাবেক এমপির হতে পারে, কোনো ছাত্রনেতার হতে পারে কিংবা কোনো যুবনেতার হতে পারে। যারা গত সরকারের রাজনৈতিক মতামতের ভিন্নমত পোষণ করত, তাদের ওপরও নির্যাতন হয়েছে। একজন সাবেক এমপিকে নৌকার মধ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রিজভী বলেন, ‘এই নৈরাজ্যের ঘন অন্ধকারের মধ্যে একটি বিপুল তরঙ্গের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা ৫ আগস্ট পেলাম এবং একটি পরিবর্তন ঘটল। কিন্তু যে লিগ্যাসি বা ধারাবাহিকতা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছিল, সেটি রাতারাতি নির্মাণ বা পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮৫০ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেল, উড়ে গেল এবং সেটা উড়ে বেড়াল কোথায়? ফিলিপাইনের জুয়ার আসরের ক্যাসিনোর মধ্যে। সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক—একটার পর একটা ব্যাংক লোপাট হয়ে গেল। অর্থনীতিতে এক কঠিন অবস্থা তৈরি হয়েছিল।
রিজভীর ভাষায়, লোক দেখানো কিছু মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুটপাট, মেগা দুর্নীতির রূপকথার সমস্ত গল্প আমরা সেই সময় শুনে এসেছি। সেই পরিস্থিতির পর আজকে নতুন একটি সরকার এসেছে। যে সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে সরকারপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেসব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার করেছিলেন, ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় প্রথম দিন বা দ্বিতীয় দিন থেকেই সেগুলো বাস্তবায়নের কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণসহ নানাবিধ কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, সেই কর্মকাণ্ডগুলো অব্যাহত রেখেছেন। দিনরাত নিরন্তর প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি কোনো ধরনের কমতি করছেন না।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনা সরকারের উন্নয়নের গতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে বিভিন্ন দুর্যোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ আমাদের সুষ্ঠ উন্নয়নের যে গতি, সেখানে অনেকটা বাধা হয়েছে। কিন্তু সে বাধা থাকার পরেও সেটাকে অতিক্রম করে এই সরকার জনগণের স্বস্তির জন্য এবং জনগণের কল্যাণের জন্য তার কাজ অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
রিজভীর ভাষ্য, আজকে বিভিন্ন সেক্টরে যে সমস্ত সংকট আমরা দেখি, সেই সংকটগুলো উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় যে নির্দেশনা, সে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, একটা দেশে মহামারি আসতে পারে, নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসতে পারে, বন্যা আসতে পারে, ভূমিকম্প হতে পারে। কিন্তু জনগণের একটি সরকার সেগুলোকে মোকাবিলা করে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়াই হচ্ছে সেই সরকারের ব্রত। কারণ এই সরকার নির্বাচিত সরকার। আর নির্বাচিত সরকার হওয়ার কারণেই প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। আজকের অনুষ্ঠানটি সেই জবাবদিহিতারই একটি অংশ।
তিনি আরও বলেন, ‘বৃহত্তর জবাবদিহিতা কার কাছে? জনগণের কাছে। আর জনগণের কাছে জবাবদিহিতা কীভাবে হয়? একটি সরকারের পার্লামেন্টের মাধ্যমে এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের মাধ্যমে।’
রিজভী বলেন, ছয় মাসে সরকারের অগ্রগতি, অর্জন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানানো হবে।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।
৯ দিন আগে
ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে। দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় থাকা এই কমিটি যেকোনো মুহূর্তে ঘোষণা হতে পারে।
এরই মধ্যে ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বিদায়ী বার্তা দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ‘রাকিব-নাছির’ কমিটির অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং নতুন নেতৃত্বের আগমনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বিএনপির সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান ইতোমধ্যে ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতার কাছ থেকে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে মতামত নিয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তাদের মতামতসহ বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করে নতুন কমিটি চূড়ান্ত করবেন তিনি।
গেল বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ছাত্রদলের বিদায়ী কমিটির শীর্ষ পাঁচ নেতার সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান অংশ নেন।
বৈঠকে বিদায়ী নেতাদের বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগের প্রশংসা করে নিয়ম অনুযায়ী নতুন প্রজন্মের হাতে ছাত্রদলের নেতৃত্ব হস্তান্তরের বার্তা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা ইউএনবিকে বলেন, বিগত বৈষম্যবিরোধী ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের অবদান এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পেশাদারত্ব বজায় রাখার বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান আলোচনা করেছেন।
বৈঠকে বিদায়ী নেতাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে তোমরা অসামান্য আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছ। রাজপথের এই লড়াই ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে নিয়ম অনুযায়ী এখন ছাত্রদলে তোমাদের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়েছে। এখন সময় এসেছে নতুনদের সুযোগ করে দেওয়ার এবং তোমাদের মূল দলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার।’
গোপন ব্যালটে নতুন নেতৃত্বের মতামত
বৈঠকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে মতামত নেওয়া।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নেতা বলেন, ‘চেয়ারম্যান আমাদের কাছে নতুন নেতৃত্বের পছন্দের তালিকা চেয়েছেন। গোপন ব্যালটে আমরা তা উনাকে জানিয়েছি। তিনি তা গ্রহণ করেছেন। এগুলোসহ সবকিছু যাচাই-বাছাই করে যেকোনো মুহূর্তে তিনি ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করতে পারেন।’
ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক হিসেবে তারেক রহমানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছে বর্তমান ‘রাকিব-নাছির’ নেতৃত্ব। ফলে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব এখন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদায়ী বার্তা রাকিব-নাছিরের
তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট দেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তাদের পোস্টে বর্তমান নেতৃত্বের অধ্যায় শেষ হওয়ার বিষয়টি কার্যত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পোস্টে রাকিব লিখেছেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ছাত্রদলে আমাদের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়েছে—এখন সময় এসেছে নতুনদের সুযোগ করে দেওয়ার এবং মূল দলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার।’
তিনি বলেন, অত্যন্ত সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে। ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দায়িত্ব পালনের সময়ে নিজের ভুলত্রুটির কথাও তিনি স্বীকার করেন। একইসঙ্গে ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে, নাছির উদ্দীন নাছির তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আজ শেষ দিন। একটি দীর্ঘ, কঠিন, ঘটনাবহুল এবং একই সঙ্গে গৌরবের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে।’
তিনি লেখেন, ‘বিদায়ের এই মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবেই চোখের সামনে ভেসে উঠছে অসংখ্য স্মৃতি—সংগ্রাম, সাফল্য, ব্যর্থতা, আনন্দ, বেদনা এবং সবচেয়ে বেশি করে আমার সহযোদ্ধাদের ভালোবাসা।’
২০২৪ সালের ১ মার্চ দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের সময়ের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় ছিল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বলে উল্লেখ করেন নাছির। ওই সময়ে নেতাকর্মীদের রাজপথে সক্রিয় রাখা, তাদের সাহস জোগানো এবং সংগঠনের প্রতিটি স্তরকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
‘আজ বিদায় নিচ্ছি একটি দায়িত্ব থেকে। কিন্তু সম্পর্ক থেকে নয়, সংগ্রাম থেকে নয়, আদর্শ থেকে নয়। দেখা হবে অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে, অন্য কোনো দায়িত্বে, অন্য কোনো সময়ে,’ লেখেন নাছির।
পরবর্তী নেতৃত্বের হাতে ছাত্রদল আরও শক্তিশালী হবে এবং সংগঠনটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র শক্তিশালী করার লড়াইয়ে অবিচল থাকবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
কঠিন সময়ে দায়িত্বে রাকিব-নাছির
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ছাত্রদলের দায়িত্ব পান রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির। পুরো মেয়াদেই তাদের কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।
২০২৪ সালের ১ মার্চ তৎকালীন আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব পান রাকিব ও নাছির। পরে একই বছরের ১৫ জুন ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর। সেই হিসাবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিদায়ী কমিটির স্বাভাবিক মেয়াদ পূর্ণ হয়। তারপর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।
বিদায়ী কমিটির সময়ে ছাত্রদলের ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক সাংগঠনিক ইউনিটে নতুন কমিটি দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনটির নেতারা জানান। একই সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজপথের কর্মসূচিতেও সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল।
সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা
নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা জোরালো হওয়ার পর পদপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। দলীয় আলোচনা ও সংগঠনের মাঠপর্যায়ের হিসাব-নিকাশে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি শীর্ষ পদের জন্য বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম (২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষ)। এছাড়া খোরশেদ আলম সোহেল, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান, সাফি ইসলাম ও এজাজুল কবির রুয়েলের (২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষ) নামও শোনা যাচ্ছে।
সভাপতি পদে আরও আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন (২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ)।
দলীয় সূত্র জানায়, আমান উল্লাহ আমান শীর্ষ নেতৃত্বের অংশ হলেও রাজপথে ধারাবাহিক উপস্থিতি, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তা এবং তরুণ নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার কারণে নতুন কমিটিতে সভাপতি পদের অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিক, সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক ও মাসুম বিল্লাহর (২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ) নাম আলোচনায় রয়েছে।
বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ আদনানের নামও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্দোলনে মাঠে সক্রিয় থাকা আদনান ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও রাজপথে ভূমিকা রাখেন বলে দলীয় নেতারা জানান।
এছাড়া ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, শামীম আখতার শুভ, গাজী সাদ্দাম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল ও তারেক হাসান মামুনের (২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ) নামও আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে, ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আজকে আমার কাছে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা আসেনি। যদি সেরকম (নতুন কমিটি) কোনো সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই আসবে।’
‘রাকিব-নাছির’ কমিটির বিদায় প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে দলের হাইকমান্ড তাদের সঙ্গে কথা বলছে। তাদের সঙ্গে কী কথা হয়েছে, কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, এটা আমি এই মুহূর্তে বলতে পারব না। আর যদি চূড়ান্ত পর্যায়ের কিছু হয়, নতুন কিছু হয়, তো সেটা নিঃসন্দেহে আমরা প্রেস রিলিজ আকারে আপনাদের বলে দেব। এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি।’
বিএনপি ও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি সাধারণত রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে প্রকাশ করা হয়। ফলে নতুন ছাত্রদল কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় রয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
১১ দিন আগে
বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভীসহ চার নেতা
সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে চার নেতাকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছে দলটি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দলটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্যরা হলেন: অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
বিএনপি আশা প্রকাশ করেছে, নতুন সদস্যরা তাদের মেধা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে সুচিন্তিত পরামর্শ দিয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখবেন।
১১ দিন আগে