বিএনপি
এক যুগ পর তারিক চয়নের বই ‘অবিসংবাদিত তারেক রহমান’ প্রকাশিত
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে গুণীজনদের লেখা প্রবন্ধ নিয়ে ১৩ বছর আগে একটি বই সম্পাদনা করেছিলেন তখনকার সাংবাদিক ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং বর্তমানে ভারতের কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রেস সচিব তারিক চয়ন। নানা প্রতিকূলতায় দীর্ঘদিন বইটি অপ্রকাশিত থাকলেও অবশেষে সেটি আলোর মুখ দেখেছে। ‘অবিসংবাদিত তারেক রহমান’ নামের বইটির মুখবন্ধ লিখেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে তারিক চয়ন নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিজের ফেরিফাইড আইডিতে তিনি লিখেছেন, ‘মোড়ক উন্মোচনের ইচ্ছে ছিল প্রিয় সুধীজনদের সম্মিলনে, অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। কিন্তু, ঘটনাপ্রবাহ সব সময় পরিকল্পনামতো যায় না।
‘এক যুগেরও আগে (২০১৩ সাল) তারেক রহমানের ওপর বেশ কয়জন লেখক-চিন্তক-রাজনীতিবিদদের লেখা প্রবন্ধ সংগ্রহ করেছিলাম। সেই সময়ের বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশের মাঝেই প্রকাশের তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল। উদ্দেশ্য ছিল অবদমন, নিগ্রহ, নিষ্পেষণ ও মিথ্যাচারের সংস্কৃতি ছাপিয়ে তারেক রহমান যে সার্বিক উন্নয়নমুখী রাজনীতি অব্যাহত রেখেছেন, তা জনপরিসরে তুলে ধরা। বছরের পর বছর ধরে চলা দুঃশাসনের মাঝে তার অহিংস ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও চর্চার বিশ্লেষণ বাংলাভাষী পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা।
‘বহু বাধার সম্মুখীন প্রবন্ধ সংকলনটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অপ্রকাশিত ছিল। ফ্যাসিস্ট রেজিমের বিদায়ের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এই বেলা নির্বাচনের আয়োজন করছেন। তারেক রহমানও ১৭ বছর পর দেশে ফিরলেন। লাখো-কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন।’
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বইটি পাঠকের হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও কেন সেটি তাৎক্ষণিকভাবে পারেননি তার কারণ ব্যাখ্যা করে তারিক চয়ন লিখেছেন, ‘তিনি এসেই মাকে হারালেন। শোকের সাগরে নিমজ্জিত জাতি। এমন সময়ে বিগত প্রায় ছয় মাস ধরে কাজ করে এগিয়ে নেওয়া বইটি আত্মপ্রকাশ করার মন-মানস রইল না।
‘দুইদিন বাদে নির্বাচন। ব্যস্ত সময়ের মাঝেই প্রকাশনাযজ্ঞ শেষ করে বইটি হাতে এসেছে এমন এক সময়ে যখন সমগ্র জাতি উন্মুখ হয়ে আছে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে। কিন্তু, তারেক রহমান আবেগের স্রোতে ভেসে যাননি। তিনি জানাচ্ছেন দেশ নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা। বইটির লেখা ১৩ বছর আগের হলেও তার পরিকল্পনা এবং সদিচ্ছাগুলো যে এতদিন ধরে লালিত, সেটির প্রামাণ্য দলিল এই বইটির বিভিন্ন প্রবন্ধ।
‘এই প্রাসঙ্গিক সময়ে তাই জনপরিসরে উন্মুক্ত করার চিন্তায় হাজির হলাম অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের কাছে। শত ব্যস্ততার মাঝেও রিজভী ভাই বইটির মুখবন্ধ লিখে দিয়েছেন, দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’
খুব শিগগিরই একটি প্রকাশনা অনুষ্ঠান ও সেমিনারে বইটির লেখক-চিন্তক-রাজনীতিকদের সঙ্গে সংযোগ ও মতবিনিময়ের আয়োজন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কলকাতায় বাংলাদেশের প্রেস সচিব।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে লেখা বই ‘লুণ্ঠিত ভবিষ্যৎ’-এর সাড়া জাগানো অনুসন্ধানী নিবন্ধ ‘অর্থ পাচার’-এর লেখকও তারিক চয়ন। সেখানে তিনি ওই আমলে দেশ থেকে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের চিত্র তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তিসহ তুলে ধরেছিলেন।
১১৪ দিন আগে
বিএনপিই একমাত্র দল যারা দেশ পুনর্গঠন করতে পারবে: তারেক রহমান
দেশ পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা ও বাস্তব পরিকল্পনা আছে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপিই একমাত্র দল যারা দেশ পুনর্গঠন করতে পারবে।
সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচার হবে। জনগণই রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত উৎস এই বিশ্বাস থেকেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনার সমন্বয়ে দেশ পুনর্গঠন করবে। নির্বাচন ঘিরে মানুষের মধ্যে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়। বিএনপির প্রতি জনগণের প্রত্যাশা থাকে বেশি। সেভাবেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই।
এ সময় তিনি স্বাধীনতার পর দেশের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেখানে লাখো মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। যে দেশ একসময় দুর্ভিক্ষে জর্জরিত ছিল, সেই দেশ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে, এমনকি খাদ্য রপ্তানিও করে।
নব্বইয়ের দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তারেক বলেন, দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পর জনগণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব বিএনপির হাতে তুলে দেন। বিভিন্ন সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ তখন একটি উদীয়মান টাইগারে পরিণত হয় এবং হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটাররা যদি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেন, তাহলে বিএনপি অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশ পুনর্গঠন করবে এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে। এখন আমাদের প্রধান কাজ রাষ্ট্র পুনর্গঠন। আমরা স্বৈরতন্ত্রকে বিদায় করেছি। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য দেশ গড়া।
তিনি বলেন, ‘আর দুই দিন পরে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের বহু প্রত্যাশিত সেই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যে নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের বহু মানুষ গত ১৬ বছরে হত্যার শিকার হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখেছি, কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে…।’
ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই এলাকায় প্রার্থী ছিলেন খালেদা জিয়া। আমি এবার প্রার্থী। এই এলাকায় আমার বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে আমি এই এলাকাতেই বড় হয়েছি, আমার ভাই এই এলাকাতেই বড় হয়েছে, আমাদের পরিবার, আমাদের সন্তানেরা এই এলাকাটিতে জন্মগ্রহণ করেছে।’
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে করণীয় ও পরিকল্পনা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়। স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ করে বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দলের কাছে সারা বাংলাদেশের মানুষ শুধু ঢাকা শহরে নয়, সারা বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা।
‘আমাদের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। প্রায় ২০ কোটি মানুষের এই দেশ, এই দেশের যারা সন্তান আছে, আমাদের যুবক আছে, তরুণ আছে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এই দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানদের জন্য আমাদেরকে সুন্দরভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সমগ্র বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় যানজট আছে, রাস্তাঘাট সংস্কার করতে হবে। আমরা শুধু গত ১৫ বছরে দেখেছি মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। মেগা মেগা দুর্নীতি হয়েছে…এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। সেজন্য আমরা জনগণের সমর্থন চাই।’
১১৫ দিন আগে
যশোর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ তৃপ্তি-হাসান
যশোর-১ (শার্শা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটনকে বিজয়ী করতে শেষ সময়ের নির্বাচনি প্রচারণায় ‘ধানের শীষের’ পক্ষে ভোট চাইলেন দলটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুর হাসান তৃপ্তি ও শার্শা উপজেলা সভাপতি হাসান জহির।
রবিবার (৮ ফেবরুয়ারি) সকালে যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে এক বিশাল নির্বাচনি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাগআঁচড়া ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এএইচএম আসানুজ্জামান মিঠুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন।
জনসভায় নুরুজ্জামান লিটন বলেন, দেশের মানুষ আজ দুঃশাসন, দুর্নীতি ও ভোটাধিকার হরণের রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। বিএনপি জনগণের সেই মুক্তির সংগ্রামের প্রতীক। ধানের শীষ মানেই মানুষের ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়া।
জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দপ্তর-সম্পাদক মফিকুল হাসান বৃদ্ধি, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির উপদেষ্টা খাইরুজ্জামান মধু, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান জহির, বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মহসিন কবীর, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু, যুগ্ম-সম্পাদক আশরাফুল আলম বাবু, মো. সালাহউদ্দিন, মো. মেহেরুল্লাহ, একরামুল কদর বাবলু, উপজেলা সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন, বেনাপোল বিএনপির সহ-সভাপতি ইদ্রিস মালেক, শার্শা উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সেলিম হোসেন আশা, বেনাপোল পৌর যুবদলের সভাপতি মফিজুর রহমান বাবু, ছাত্রদলের সভাপতি মোহামেনুর সাগর, ও সাধারন সম্পাদক সবুজ হোসেন।
১১৬ দিন আগে
এটা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নয়, দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন: তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১২ তারিখে নির্বাচন। এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার নির্বাচন নয়, এই নির্বাচন হবে দেশকে পুনর্গঠিত করার নির্বাচন। গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের যেমন রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে নাই, কথা বলার স্বাধীনতা পায় নাই, একইভাবে তারা অর্থনৈতিকভাবে অনেক পিছিয়ে পড়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে এক বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আজ বহু বছর পর আমি ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে আসতে পেরেছি। আগে প্রতি বছর শীতের সময় ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় এলাকায় আসতাম, গ্রামে যেতাম। শীতের সময় আসতাম গরম কাপড় ও কম্বল নিয়ে। আজ আপনাদের কাছে এসেছি ভিন্ন এক পরিস্থিতিতে। ১২ তারিখ নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ তাদের যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই অধিকার তারা প্রয়োগ করবে।
মঞ্চের পাশে বসা কিছু মানুষের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এই মানুষগুলোর স্বজনেরা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। গত এক যুগ থেকে তাদের স্বজনেরা অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। নিজেরাও বিভিন্নভাবে অত্যাচারিত, নির্যাতিত হয়েছেন। আজ মানুষের সেই হারিয়ে যাওয়া অধিকার প্রয়োগ করার সময় এসেছে।
যুবক ও তরুণদের উদ্দেশে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, যুবক ও তরুণদের যেভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথা ছিল, তা হয়নি। দেশের যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে গড়ে তোলা উচিত ছিল, সেই কাজটিও হয় নাই।
তারেক রহমান আরও বলেন, মা-বোনদের, নারীদের মূল্যায়ন করার জন্য স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার কথা ছিল সেটিও হয় নাই। দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা হচ্ছে নারী। এই নারীদের যদি আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারি, তাহলে কোনোভাবেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সেই জন্যই খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা বিনামূল্যে করে দিয়েছিলেন। আজ দেশের লাখ লাখ নারী শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছেন।
কৃষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে যে সহযোগিতা করা উচিত ছিল, সেই কাজটিও করে নাই বিগত স্বৈরাচারী সরকার। আজ সময় এসেছে, ১২ তারিখের নির্বাচনে আমরা জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন করব, একই সঙ্গে আমরা দেশ পুণর্গঠনেও হাত দেব।
এই রাজনীতিক বলেন, দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ দেশের মালিক জনগণ। তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষে ভোট চাই।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, চিনিকলসহ এই অঞ্চলের শিল্প কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। ঠাকুরগাঁও ক্যাডেট কলেজ করার চেষ্টা করবে বিএনপি। এছাড়া হিমাগার তৈরি করা হবে, যেন কৃষক তাদের পণ্য সংরক্ষণ করতে পারেন। পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আইটি সেক্টর হাব তৈরি করা হবে। পাশাপাশি সরকার গঠন করলে যত দ্রুত সম্ভব এই এলাকার বিমানবন্দর চালু করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।
তিনি আরও বলেন, দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে, প্রতিটি মানুষকে বিচার করা হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়।
নিরাপদ দেশ গড়ার শপথ নিয়ে তিনি বলেন, সবাই একসঙ্গে দেশকে গড়ে তুলবো। শেষে তিনি এই এলাকার উন্নয়নসহ দেশের উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।
সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে বাঁচাতে গোটা দেশ তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে। কঠিন সময়ে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাকে শতভাগ সমর্থন দিতে হবে।
সমাবেশে ঠাকুরগাঁও-১, ২, ৩, পঞ্চগড়-২ এবং দিনাজপুর- ১ আসনের বিএনপির প্রার্থীরাও বক্তব্য দেন।
১১৭ দিন আগে
বিএনপিতে যোগ দিলেন জাকসু ভিপি জিতু
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ জিতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল সংসদের একাধিক নেতা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করেছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাকসু ভিপি জিতুর বিএনপিতে যোগদানের পাশাপাশি ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন আরও কয়েকজন নেতা।
ছাত্রদলে যোগ দেওয়া হল সংসদের নেতারা হলেন নবাব সলিমুল্লাহ হলের ভিপি ইবনে শিহাব, আল বেরুনী হলের ভিপি রিফাত আহমেদ শাকিল, এ এফ এম কামালউদ্দিন হলের ভিপি জি এম এম রায়হান কবীর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ভিপি অমিত বণিক, নওয়াব ফয়জুননেসা হলের ভিপি বুবলি আহমেদ, বেগম খালেদা জিয়া হলের ভিপি ফারহানা রহমান বিথি, মীর মোশাররফ হোসেন হলের জিএস শাহরিয়া নাজিম রিয়াদ এবং শহীদ রফিক জব্বার হলের জিএস শরীফুল ইসলামও ছাত্রদলে যোগ দেন।
এর আগে, গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর আয়োজিত সর্বশেষ জাকসু নির্বাচনে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আবদুর রশিদ জিতু ভিপি পদে নির্বাচিত হন।
নির্বাচনে মোট ২৫টি পদের মধ্যে ২০টিতে শিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হলেও শীর্ষ পদ ভিপিতে জিতুর বিজয় বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
জিতু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন’-এর আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষের (৪৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী।
১১৮ দিন আগে
১৫ বছর পর সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ, জালিয়াতির আশঙ্কা নেই: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশে একটি ভালো ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এবার জনগণ প্রকৃত অর্থেই ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এই নির্বাচনে জালিয়াতির কোনো আশঙ্কা নেই।
তিনি বলেছেন, বর্তমানে যে সরকার দায়িত্বে আছে, তারা একটি নিরপেক্ষ সরকার। এই সরকার চায়, একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক। ভোটের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হবেন, তারাই সরকার গঠন করবেন—এটাই তাদের উদ্দেশ্য।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের ফারাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে এবং সবাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করলে এবারের নির্বাচন হবে একটি ঐতিহাসিক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, টেলিভিশন, অনলাইন ও পত্রিকায় জামায়াতের নেতারা এখন অনেক কথা বলছেন। কিন্তু তাদের আগে জিজ্ঞাসা করা উচিত—দেশের স্বাধীনতার সময় তাদের ভূমিকা কী ছিল?
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘১৯৭১ সালে আপনারা কোথায় ছিলেন? কাদের পক্ষে কাজ করেছিলেন? একাত্তরে জামায়াতে ইসলাম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করেছিল। তারা পাকিস্তান বাহিনীর পক্ষ নিয়ে আমাদের স্বাধীনতা রোধ করার চেষ্টা করেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেমন ২৪-কে ভুলব না, কারণ সেই সময় আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে পেয়েছি, ঠিক তেমনি ১৯৭১ সালকেও ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা এই দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছি।’
এর আগে রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনি সভায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৫ বছর কোনো সুযোগ পাইনি আপনাদের উন্নয়ন, ভাগ্যের পরিবর্তন করার। কারণ আমরা সেই সময়টাতে অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়নের মধ্যে ছিলাম। আমার ঠাকুরগাঁওয়ের ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ মূল দলের অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে এবং সবাই অনেক কষ্ট করেছেন। আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া, এই মামলাগুলো থেকে আমরা সবাই খালাস পেয়েছি।
তিনি বলেন, এবার নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে এয়ারপোর্ট ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করব। আমাদের মায়েদের তারেক রহমান প্রশিক্ষণ দেবেন যেন ঘরে বসেই তারা আয় করতে পারেন। ঠাকুরগাঁওয়ে অনেক উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের মা-বোন ও যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষিত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
নির্বাচনি সভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
১১৯ দিন আগে
বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা কাল, শেষ নির্বাচনি জনসভা রবিবার
জাতীয় নির্বাচনের আগে আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় শেষ নির্বাচনি জনসভা করবে বিএনপি। ওই দিন দুপুর ২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, শুক্রবার বিকাল ৩টায় হোটেলে সোনারগাঁওয়ে এ নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, রবিবার দুপুর ২টায় বিএনপির শেষ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শেষ নির্বাচনি জনসভা সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও আশেপাশের প্রার্থীরা জনসভা উপস্থিত থাকবেন।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশা প্রকাশ করে রিজভী বলেন, ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, সেটিই প্রত্যাশা।
বিএনপি সবসময় মানুষের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতো নিপীড়নও বিএনপিকে দমন করতে পারেনি, দেশের মানুষ ধানের শীষকে শুধু প্রতীক নয়, আবেগ মনে করে। তা ধারণ করেই মানুষ ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দেবে।
বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না, নিজে একটি কাজ করেও নানাভাবে ঢাকার চেষ্টার কারণে এই প্রবাদ; যা কিছু দেখছি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার নামান্তর।
১১৯ দিন আগে
ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো কখনোই সঠিক রাজনীতি হতে পারে না: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চরমোনাইসহ দেশের আলেম-ওলামারা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো ইসলামি দল নয়। তারা ইসলামের কথা বলে প্রতারণা করছে। তারা বলছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে, নাউজুবিল্লাহ। কোনো প্রকৃত মুসলমান এমন কথা বিশ্বাস করতে পারেন না। মুসলমান বিশ্বাস করে আমলের ওপর। আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাত দেবেন কি দেবেন না, তা আমলের ওপরই নির্ভর করে।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনি এলাকার নারগুণ ইউনিয়নের কিসমত দৌলতপুর দাখিল মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, মা-বোনদের ভুল বুঝিয়ে বলা হচ্ছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি জান্নাত পাওয়া যাবে। ধর্মের নামে এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো কখনোই সঠিক রাজনীতি হতে পারে না।
তিনি বলেন, বর্তমানে একটি দল রাজনীতিতে সামনে আসছে যাদের আমরা আগে কখনো দেখিনি। আমাদের সঙ্গেই ছিল, একসঙ্গে চলেছে, এখন নির্বাচনে অংশ নিতে আসছে। এতে আপত্তি নেই, তবে রাজনীতিতে দয়া করে মিথ্যা কথা বলবেন না, গিবতকারীদের মতো গিবত গাইবেন না এবং অন্যের কুৎসা রটাবেন না।
তিনি আরও বলেন, টেলিভিশন ও পত্রিকায় এসেছে, জামায়াতের আমির সাহেব নারীদের নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। যে দলের একজন নেতা মা-বোনদের ইজ্জত দিতে ও সম্মান করতে পারেন না, তাদের সম্পর্কে কটু কথা বলে, তারা কখনো বেহেশতে যেতে পারবে? তারা কি ভালো কাজ করতে পারবে?
বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার ইনশাআল্লাহ জনগণ ভোট দিতে পারবে এবং একটি ভালো ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি কাজে বিশ্বাস করে, সমালোচনার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা দেশের উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার রাজনীতি করি।
তিনি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান একেবারেই জিয়ার মতো হয়ে উঠেছেন। দেশে ফিরেই তারেক রহমান বলেছেন— ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’, অর্থাৎ তার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ১ কোটি ছেলেমেয়ের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। এছাড়া যারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেই ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব সরকার নেবে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বপ্রথম ভুট্টা চাষের সূচনা হয়েছে বিএনপির হাত ধরেই। কাজী ফার্মস আনার মাধ্যমে জেলায় ভুট্টা চাষ বেড়েছে, কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় আগামী ১২ তারিখ সকালে কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
১২০ দিন আগে
সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে আবার বিপদে পড়বে দেশ: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি গোষ্ঠী ধর্মকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে দেশ ও জাতি আবারও বড় বিপদের মুখে পড়বে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি গোষ্ঠী একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পেছনে ফেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ সময় নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার আগে আমি কখনও আদালতের বারান্দায় যাইনি। কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলার কারণে আমাকে বারবার হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভালো মানুষ ও ভালো দলকে ভোট দিয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।
সভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১২১ দিন আগে
যারা নারীদের অসম্মান করে, তারা কখনও দেশপ্রেমিক হতে পারে না: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি দল প্রকাশ্যে নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি ওই দলের এক নেতা কর্মসংস্থানে নিয়োজিত মা-বোনদের উদ্দেশে এমন কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন যা বলতেও লজ্জা লাগে। এটি শুধু নারীদের নয়, পুরো দেশের জন্যই কলঙ্ক।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) খুলনার খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের প্রভাতী স্কুল মাঠে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ে তারেক রহমান বলেন, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ওই রাজনৈতিক দল আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাত দিয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে মিথ্যাচার করে তারা নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করছে।
তিনি বলেন, যারা নারীদের অসম্মান করে, যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং যারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে, তারা কখনও দেশপ্রেমিক বা জনদরদি হতে পারে না।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। এর মধ্যে অন্তত ১০ কোটি নারী। এই বিশাল নারীসমাজকে পেছনে রেখে যত বড় পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, দেশকে সামনে নেওয়া সম্ভব নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্কুল থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন যাতে তারা শিক্ষিত হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের লক্ষাধিক নারী পোশাকশিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করছেন, অথচ তাদেরই আজ অপমান করা হচ্ছে।
১২২ দিন আগে