অন্যান্য
বিএনপির মন্ত্রিসভায় থাকার প্রশ্নই আসে না: আসিফ নজরুল
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় নিজের থাকার প্রশ্নই আসে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আসিফ নজরুল আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবশালী এই উপদেষ্টা বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায়ও জায়গা পেতে যাচ্ছেন বলে গত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল।
এ বিষয়ে আজ সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন, আপনি পরবর্তী মন্ত্রিসভায় থাকছেন বলে শোনা যাচ্ছে; এ বিষয়ে কী বলবেন? উত্তরে আসিফ নজরুল বলেন, ‘প্রশ্নই আসে না।’
৪ দিন আগে
গণভোট ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে গণভোটের ফলাফলের গেজেটও প্রকাশ করা হয়।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এই গেজেট দুটি ইস্যু করেন।
গেজেটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামের পাশাপাশি তাদের পিতা বা স্বামীর নাম, মাতার নাম এবং ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। এখন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনে নির্বাচন আগেই স্থগিত করা হয়েছিল।
গতকাল (শুক্রবার) ইসি ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফল স্থগিত রাখে।
নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এছাড়া যে দুইটি আসনের (চট্টগ্রাম-২ ও ৪) ফলাফল স্থগিত আছে, সেখানেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপির জোটসঙ্গীদের মধ্যে বিজেপি (আন্দালিব রহমান পার্থ), গণঅধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলন ৩টি আসনে জয়ী হয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী জিতেছে ৬৮টি আসনে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের অন্য শরিকরা ৯টি আসনে জয় পেয়েছে, যার মধ্যে এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসন পেয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের পৃথক গেজেট অনুযায়ী, গণভোটে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন ভোটার সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। অপরদিকে, ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন। গণভোটে বাতিল হওয়া ব্যালটের সংখ্যাও ছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি।
সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। তবে দ্বাদশ সংসদের স্পিকারের অনুপস্থিতি বা পদত্যাগের কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) অথবা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি এই শপথ পাঠ করাবেন।
সংবিধানের ১৪৮ (২) (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে যদি স্পিকার শপথ পাঠ করাতে না পারেন, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সেই শপথ পাঠ করাবেন।
৫ দিন আগে
তারেক রহমানকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অভিনন্দন বার্তায় তারেক রহমানের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় জনগণের এই সুস্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনার প্রজ্ঞা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনকল্যাণমুখী চেতনার আলোকে আপনি দেশকে একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আমি স্মরণ করছি আপনার পিতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাষ্ট্রদর্শন এবং আপনার মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের কথা। তাদের আদর্শ ও মহান কর্ম আপনার আগামী দিনের চলার পথকে আলোকিত করবে বলে আমি একান্তভাবে আশা করি।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক রূপান্তর, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জলবায়ু সহনশীলতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ—এসব ক্ষেত্রে সুসমন্বিত মেধা, মননশীলতা ও প্রজ্ঞার প্রয়োগ অপরিহার্য। আশা করি, আপনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার মূল্যবান সহযোগিতা ও গঠনমূলক ভূমিকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পরিবর্তনের এই সংবেদনশীল সময়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা, সহনশীলতা প্রদর্শন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ক্ষেত্রে আপনার ইতিবাচক অবস্থান জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আপনার সকল উদ্যোগ সফল হোক, এই কামনা করি। মহান আল্লাহ্ আপনাকে দেশ ও জাতির সেবায় প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও দৃঢ়তা দান করুন।
৫ দিন আগে
মায়ের দেখানো পথ ধরেই দেশকে এগিয়ে নেবেন তারেক রহমান: রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মায়ের দেখানো পথ ধরেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন তারেক রহমান। তার দেখানো পথ দিয়ে এগিয়ে গেলেই আমরা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে পারব। ধরে রাখতে পারব দেশের পতাকা ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের নেতত্বে এ সময় বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
রিজভী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার যে আদর্শ, যে নৈতিকতা, যে অঙ্গীকার জনগণের কাছে দিয়েছিলেন, তার যে রেখে যাওয়া আদর্শ, সেই আদর্শ এত উঁচু মাত্রার নৈতিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে…আমরা সেই পথ ধরে, তার দেখানো পথ ধরেই আমরা এগিয়ে যাব। জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এগিয়ে যাবে, বিএনপি এগিয়ে যাবে, সকল অঙ্গ সংগঠন এবং এদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি এগিয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘তার দেখানো পথ দিয়ে এগিয়ে গেলেই আমরা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে পারব, আমরা দেশের পতাকাকে ধরে রাখতে পারব, স্বাধীনতাকে ধরে রাখতে পারব, সার্বভৌমত্বকে ধরে রাখতে পারব। সুতরাং তিনি যে প্রেরণা, যে যন্ত্রণা সহ্য করে, অত্যাচার সহ্য করে তিনি তার পতাকাকে উড্ডীন রেখেছিলেন, সেই দৃষ্টান্তই আমরা অনুসরণ করে আমরা এগিয়ে যাব।’
রিজভী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের জ্যেষ্ঠ পুত্র দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে পতাকা হাতে নিয়েছেন, তার মায়ের প্রদর্শিত পথ ধরে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাবেন এই দেশকে নতুন সম্ভাবনার দিকে নতুন দিগন্তের দিকে। আমরা সেই দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাব, যার জন্য প্রায় ৪৫/৪৬ বছর লড়াই করে গেছেন, নিরন্তর লড়াই করে গেছেন, নিরন্তর সংগ্রাম করে গেছেন বেগম খালেদা জিয়া।’
আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিহিংসামূলক ‘মিথ্যা মামলায়’ সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিপীড়ন-নির্যাতন, চিকিৎসা না দেওয়া, ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এর মধ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার অশুভ চক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু তার যে অটুট মনোবল, তার যে ধৈর্য, আত্মসংগ্রাম, তার যে সাহস, তার যে দৃঢ় প্রত্যয়, যেকোনো হুমকির মুখে তাকে তার মাটি থেকে সরানো যায় না। তার জলন্ত এক প্রমাণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।’
তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে কত কুরুচিপূর্ণ কথা বলা হয়েছে, কত ধরনের নোংরা কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তার আত্মসংযমের মধ্যে তার সজ্জন এবং সুরুচিপূর্ণ কথার মধ্যে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, যারা কুরুচিপূর্ণ কথা বলে, তারা জনগণ থেকে ধিকৃত হয়, আর যারা সৌজন্য বোধপ্রিয়, যারা হাজার আক্রমণের মুখেও, হাজার বাজে কথা বলার পরেও যিনি একটি মাত্র খারাপ শব্দ, বাজে শব্দ উচ্চারণ করেন না, তাকেই আল্লাহ মহিমান্বিত করেন।’
বুধবার খালেদা জিয়ার জানায় জনসমুদ্রের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজকে দেখুন, পরশুদিন থেকে জনতার ঢাল নেমেছে এই কবর প্রাঙ্গণে। সারা বাংলাদেশের মানুষ আসছে, দোয়া করছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য।’
৪৭ দিন আগে
জানাজা দুপুর ২টায়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত হবেন খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজ আগামীকাল বুধবার দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুর সাড়ে ৩টায় তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন স্থানে বুধবার দুপুর ২টায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হবে।
খালেদা জিয়ার দাফনের সময় জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। সেইসঙ্গে দাফনে উপস্থিতদের কোনো ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী বহন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫১ দিন আগে
তারেক রহমানের জন্য শাহবাগ ছাড়ল ইনকিলাব মঞ্চ
ইনকিলাব মঞ্চের সদ্য প্রয়াত আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ-সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে সরে গেছে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীরা।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) আন্দোলনকারীরা শাহবাগ এলাকা থেকে সরে এসে আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।
এ বিষয়ে নিজেদের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, ঠিক দুপুর ১২টায় পুনরায় শাহবাগ মোড়ে শহিদ হাদি চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। বিচার আদায়ের দাবিতে সারা দেশের জনতাকে শহিদ হাদি চত্বরে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চ শুক্রবার রাত থেকে শাহবাগে রাতভর অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
৫৪ দিন আগে
জাতীয় কবির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত ওসমান হাদি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবির কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হন এই তরুণ নেতা।
এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা সম্পন্ন হয়। বড়ভাই আবুবকর সিদ্দিক হাদির জানাজা পড়ান। এরপর লাশবাহী ফ্রিজিং ভ্যানে করে তার মরদেহ ঢাবি ক্যাম্পাসে নেওয়া হয়। এ সময় ফ্রিজিং ভ্যানের সঙ্গে ঢাবি অভিমুখে রওনা হয় হাজারো মানুষের কাফেলা।
তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়।
৬১ দিন আগে
লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দুপুর আড়াইটার দিকে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধানরাও। এ ছাড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দলের নেতারাও জানাজায় অংশ নেন।
জানাজা শুরু হওয়ার আগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা এ এফ এম খালিদ হোসেন। এরপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষ করে জানাজা পড়ান হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।
এর আগে, হাদির জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লোকজন জড়ো হতে শুরু করে। ছোটবড় মিছিল নিয়ে শত শত মানুষ সংসদ ভবন এলাকায় ছুটে আসেন।
এ সময় তারা ‘হাদি মরল কেন’, ‘ইউনূস সরকার বিচার চাই’, ‘আমার ভাই, আমার ভাই-হাদি ভাই, হাদি ভাই’, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘হাদি ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই’, ‘বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
৬১ দিন আগে
পদ বাঁচাতে তিন উপদেষ্টাকে তিন দাবি পূরণের আল্টিমেটাম ডাকসুর
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ৩ দফা দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে স্বরাষ্ট্র, আইন ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বৈঠকে এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
ডাকসুর পক্ষ থেকে প্রথম দাবিতে বলা হয়, ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ হামলাকারী, পরিকল্পনাকারী ও সহায়তাকারী সব সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। একইসঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাসহ রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সব অর্গানকে (অঙ্গ সংস্থাকে) দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। যাদের গাফিলতি প্রমাণিত হবে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জানানো হয়। পাশাপাশি এই হামলাকে সমর্থন ও উসকানি দেওয়া ‘কালচারাল ফ্যাসিস্টদের’ সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ বয়কটের আহ্বান জানানো হয়। এসব পদক্ষেপ দ্রুত দৃশ্যমান করার দাবি করে ডাকসু।
দ্বিতীয় দাবিতে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এলাকাভিত্তিক চিরুনি অভিযান শুরুর আহ্বান জানানো হয়। নিষিদ্ধ সংগঠনের সব স্তরের নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়ে বলা হয়, এ বিষয়ে সরকারের অবহেলা আর মেনে নেওয়া হবে না।
তৃতীয় দাবিতে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে মানবতাবিরোধী অপরাধে দেওয়া রায় কার্যকরের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গণহত্যাকারী ও অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার প্রতিবাদে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। অভিযুক্তদের ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা যাবে না বলেও দাবি জানানো হয়।
গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে করে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
কিন্তু সেখানে অবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন না হওয়ায় আজ (সোমবার) দুপুরে হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। দুপুর ২টার দিকে হাদিকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
৬৬ দিন আগে
দেশের রাজনীতিকে মেধাশূন্য করতেই হাদির ওপর গুলি: বাংলাদেশ ন্যাপ
বাঙ্গালি জাতিকে মেধাশূন্য করতেই স্বাধীনতার উষালগ্নে দেশের শ্রেষ্ঠসন্তান শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ হাজারো বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করেছে পরাজিত অপশক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী-আধিপত্যবাদী অপশক্তি। ঠিক তেমনিভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাহসী সেনানী, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার লক্ষ্যে গুলি করা হয়েছে। এটি শুধু একটি দুঘর্টনা নয়, এর পেছনের প্রকৃত রহস্য অত্যন্ত গভীর, যা সরকারকে খুজে বের করতে হবে।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ‘১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এসব কথা বলেছেন।
শহিদ বুদ্ধিজীবীদের অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা বলেন, ‘দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গকারীদের অবদান কোনো দিন ম্লান হবে না। শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আকাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে আমাদের জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি করা সময়ের দাবি।’
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, ‘ওসমান হাদির ওপর এই সশস্ত্র হামলা জুলাই অভুত্থান, গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিকদের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য দাঁড়িয়েছিল বলেই জুলাই অভ্যুত্থানের সাহসী সেনাদের ১৪ ডিসেম্বরের মতো দেশকে ব্যর্থ করার সুদূরপ্রসারী অশুভ পরিকল্পনার অংশ বলেই প্রতিয়মান হচ্ছে। এই আক্রমণ নিঃসন্দেহে নির্বাচনি পরিবেশ বানচাল করে গণতন্ত্রকেই অকার্যকর করার নীলনকশা।’
তারা বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৪ ডিসেম্বর এক কালো অধ্যায়। রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ গণতন্ত্রের প্রশ্নে কোনো আপস চলবে না। বহুদলীয় গণতন্ত্রের জন্যেই স্বাধীনতার সংগ্রাম আর শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ। সুতরাং স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জুলাই চেতনার ভিত্তিতেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আকাঙ্ক্ষিত জনগণের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের কোনো বিকল্প নাই।’
হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তারা আরও বলেন, ‘কেউ যদি দেশে আবার নতুন করে ফ্যাসিবাদ বা সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়, তাহলে খুব দেরি হবে না, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে এবং রুখে দাঁড়াবে। জুলাইয়ে আমাদের সন্তানরা আত্মত্যাগ করেছে ক্ষমতা কিংবা পদ-পদবির জন্য নয়। দেশকে সংস্কার, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া ও ফ্যাসিবাদের চির অবসানের লক্ষ্যে তারা গুলির মুখে বুক পেতে দিয়েছিল ও ফ্যাসিবাদকে চ্যালেঞ্জ করেছিল এবং বিশ্বাস করেছিল বাংলাদেশ ভিন্ন হতে পারে। দেশকে সঠিক পথের সন্ধান দেওয়ার জন্য এই লড়াই আমাদের চালিয়ে যেতে হবে।’
৬৮ দিন আগে