কৃষি
শখের ময়ূরই বদলে দিয়েছে কুমিল্লার শাহ আলীর জীবন
ময়ূরের পেখম মেলে নাচ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের বাবরকান্দি গ্রামের যুবক মো. শাহ আলী। সেই মুগ্ধতা থেকেই শখের বসে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে এক জোড়া ময়ূর কিনেছিলেন তিনি। এরপর আরও পাঁচটি ময়ূর সংগ্রহ করেন।
সেই সাতটি ময়ূর থেকেই বংশবিস্তার করে গড়ে তোলেন ময়ূরের খামার। আর এই খামারি তার ভাগ্য বদলে দিয়েছে।
শাহ আলীর খামারে বর্তমানে ৮৫টি ময়ূর রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি বড় ময়ূরসহ খামারের ময়ূরগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত প্রায় ২৪ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করেছেন তিনি। ময়ূর পালনের পাশাপাশি গরু, ছাগল, ভেড়া, তিতির ও কোয়েল পাখিও পালন করছেন তিনি।
বাবরকান্দি গ্রামে ময়ূরের খামারি বলতেই সবাই শাহ আলীকে চেনেন। অনেকে তাকে ‘ময়ূর শাহ আলী’ নামেও ডাকেন।
সরেজমিনে তার খামারে গিয়ে দেখা যায়, খামারের ভেতর মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে রঙিন ময়ূর। কেউ কেউ পেখম মেলে নাচছে। ময়ূরের সৌন্দর্য দেখতে এবং কিনতে তার বাড়িতে দেখা যায় মানুষের ভিড়।
শাহ আলী বলেন, আমি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। ঢাকার বাড্ডায় থাকার সময় বাবা গরুর খামার করেছিলেন। আমি গরুর জন্য ঘাস কেটে দিতাম। পাশাপাশি মিরপুর এলাকায় পাখি কেনাবেচা করতাম। সেখানেই দুটি ময়ূর দেখে ভালো লেগে যায়।
তিনি জানান, পাখি ও গরু বিক্রি করে জমানো টাকা দিয়ে প্রথমে এক জোড়া ময়ূর কেনেন। ওই জোড়া ১৮টি ডিম দেয়। সেখান থেকে ১২টি বাচ্চা ফোটে। পরে গ্রামে ফিরে দুই লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি টিনশেড ঘর তৈরি করেন। এরপর আরও আড়াই লাখ টাকা দিয়ে চারটি নারী ও একটি পুরুষ ময়ূর কেনেন তিনি। সাতটি ময়ূর ১৪০টি ডিম দেওয়ার পর সেখান থেকে ১২৮টি বাচ্চা ফোটে।
শাহ আলী বলেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ময়ূর কেনা, খাবার, পরিচর্যা ও টিনশেড ঘর নির্মাণসহ এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ২৪ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করেছি। বর্তমানে খামারে প্রায় ২৮ লাখ টাকা মূল্যের ৮৫টি ময়ূর রয়েছে।
ময়ূরের বয়স ও আকারভেদে প্রতি জোড়া ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি করেন তিনি। বড় এক জোড়া ময়ূর সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। ময়ূরের একেকটি পালক ২০ থেকে ৫০ টাকা এবং ডিম একেক হালি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
ময়ূরের খাবার সম্পর্কে শাহ আলী বলেন, মুরগির খাবারের পাশাপাশি লালশাক, পালং শাক, বাঁধাকপি ও কলমিশাক খাওয়াই। আগে আমি একাই দেখাশোনা করতাম। এখন মাসে ৫ হাজার টাকা বেতনে একজন নারী কর্মী রেখেছি। কর্মীর বেতনসহ খামারে মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানান তিনি।
শাহ আলীর পরামর্শ, শুরুতেই বড় পরিসরে ময়ূরের খামার করা উচিত নয়। প্রথমে এক-দুই জোড়া পালন করে অভিজ্ঞতা নেওয়ার পর খামার করার উদ্যোগ নেওয়া ভালো। কারণ ময়ূর যখন-তখন বিক্রি করা যায় না। তাই পাশাপাশি অন্য আয়ের উৎস থাকা প্রয়োজন।
বাবরকান্দি গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, ময়ূরের খামারের কারণে আমাদের গ্রামটিও এখন জেলা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচিতি পেয়েছে।
হোমনা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল আলম বলেন, হোমনা উপজেলায় শাহ আলীরই ময়ূরের খামার রয়েছে। আমরা নিয়মিত তার খামার পরিদর্শন করি এবং সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।
শখের বসে এক জোড়া ময়ূর দিয়ে শুরু করা শাহ আলীর উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে খামারে। ময়ূরের সৌন্দর্য যেমন দর্শনার্থীদের টানছে, তেমনি এর বিক্রিও এনে দিয়েছে আয়। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে খামার করার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।
১ দিন আগে
উত্তরাঞ্চলে আমন চাষ বেড়েছে, ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন কৃষকদের
উত্তরাঞ্চলের মাঠে মাঠে আমন ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে এবার স্বস্তিতে রয়েছেন তারা। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ জমিতে চারা রোপণ শেষ হয়েছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন চাষ এবং ভালো ফলনের আশা রয়েছে।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭১৪ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ লাখ ৩৩ হাজার টন ধান।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, অধিকাংশ জমিতে ইতোমধ্যে আমনের চারা রোপণ শেষ হয়েছে। বাকি জমিগুলোতে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে রোপণ শেষ হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে কৃষক-কৃষাণীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ, কোদাল দিয়ে জমির আইল ঠিক করা এবং মই দিয়ে জমি সমান করার কাজ চলছে। কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, আবার কেউ সারিবদ্ধভাবে জমিতে চারা রোপণ করছেন। কেউ কেউ জমিতে সার দেওয়ার কাজেও ব্যস্ত।
রংপুর সদর এলাকার কৃষক আব্দুল বারী বলেন, ‘চলতি মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। প্রকৃতি এবার অনেকটাই সহায় হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানি পাওয়ায় চাষাবাদে কোনো অসুবিধা হয়নি। সেচের খরচও করতে হয়নি। ফলে ব্যয় আগের তুলনায় কম হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ভালো ফলন হবে।’
১০ দিন আগে
উত্তরে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা
উত্তরের জেলাগুলোতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। সবজির জন্য বিখ্যাত এ অঞ্চলের কৃষকরা এবার আগাম সবজি চাষে ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ার আশায় স্বপ্ন বুনছেন।
গত বছরের ক্ষতকে পিছনে ফেলে মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, টমেটো, লালশাকসহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজির চাষ হয়েছে উত্তরের এলাকাজুড়ে। খেতের পরিচর্যা, রোগবালাই দমন ও অধিক ফলনের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।
ইতোমধ্যে বাজারেও শীতকালীন সবজি উঠেছে। পাওয়া যাচ্ছে শিম ও বাঁধাকপি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার বেশি লাভ ও বাম্পার ফলন হবে—এমনটাই আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উত্তরের আট জেলা—রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে—চলতি মৌসুমে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে। এতে ৩ লাখ ১৪ হাজার টন আগাম শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
১১ দিন আগে
ডিজেল সংকটে বেড়েছে হারভেস্টারের ভাড়া, বিপাকে হাওরাঞ্চলের কৃষক
সিলেট বিভাগের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হলেও ডিজেল সংকট ও নতুন করে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। সময়মতো ধান কাটতে না পারার আশঙ্কার পাশাপাশি বাড়তি খরচের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।
দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে কম্বাইন হারভেস্টারের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও ভাড়ার হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
কৃষকদের দাবি, এক বছর আগেও প্রতি একর জমির ধান কাটতে যেখানে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হতো, বর্তমানে তা বেড়ে সাড়ে ৭ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। কোথাও কোথাও এর চেয়েও বেশি ভাড়া দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেলেও ধানের বাজারমূল্য সে অনুপাতে না বাড়ায় কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের চার জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৪৭৩টি কম্বাইন হারভেস্টার সক্রিয় রয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় এ সংখ্যা এখনও অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের কৃষক সেলিম রেজা চৌধুরী বলেন, এবার ধান ভালো হয়েছে, কিন্তু কাটার সময় এসে আমরা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছি। এক একর জমি কাটতে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে চাইলেও অনেক সময় হারভেস্টার পাওয়া যাচ্ছে না। দিন যত যাচ্ছে, খরচ তত বাড়ছে। বৃষ্টি হলে বা আগাম বন্যা এলে ফসল নষ্ট হওয়ার ভয় তো আছেই।
তিনি বলেন, ধানের দাম এখনও তেমন বাড়েনি। একদিকে সার, বীজ, সেচ—সবকিছুর খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে কাটাই ও মাড়াইয়ের খরচও দ্বিগুণ। সব মিলিয়ে হিসাব করলে লোকসান ছাড়া কিছুই থাকছে না।
অনেক কৃষক ঋণ করে চাষ করেছেন, এখন সেই ঋণ পরিশোধ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বলে জানান তিনি।
একই উপজেলার আরেক কৃষক আবদুল করিম বলেন, আমরা বাধ্য হয়ে অপেক্ষা করছি, কখন হারভেস্টার পাওয়া যাবে। অনেকেই আবার দলবেঁধে মেশিন বুকিং দিচ্ছেন, কিন্তু সংকট এত বেশি যে সময়মতো ধান কাটা যাচ্ছে না। এতে জমিতে পাকা ধান পড়ে থাকার ঝুঁকি বাড়ছে।
তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ি এলাকার হারভেস্টার মালিক মঈনুল ইসলাম বলেন, আমাদেরও পরিস্থিতি ভালো নয়। ডিজেল ছাড়া মেশিন চালানো সম্ভব নয়, কিন্তু ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে ছাড়পত্র নিয়েও পর্যাপ্ত জ্বালানি মিলছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। আগে যেখানে নির্দিষ্ট দামে ডিজেল পাওয়া যেত, এখন সেখানে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে ভাড়া না বাড়িয়ে আমাদের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব না।
হারভেস্টারচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দিনরাত কাজ করেও চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। অনেক জায়গা থেকে ফোন আসে, কিন্তু সময় মেলানো যায় না। ডিজেল সংকট থাকায় একটানা কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, জেলায় প্রকৃতপক্ষে কোনো জ্বালানি সংকট নেই, তবে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার কারণে বিতরণে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
১৫০ দিন আগে
তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে লোকসানের আশঙ্কায় নড়াইলের মধুচাষিরা
বেশ কিছুদিন ধরেই নড়াইলে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। হিমেল হাওয়ার সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন কুয়াশা। এতে মানুষের জীবনযাত্রার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। অতিরিক্ত শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে জেলায় মধু চাষে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
মধুচাষিরা জানান, দিনের বেলাতেও কুয়াশা থাকায় মৌমাছি বাক্স থেকে বের হচ্ছে না। ফলে বাইরে থেকে মধু সংগ্রহ বন্ধ হয়ে গেছে। উল্টো আগে থেকে সংগ্রহ করা মধু মৌমাছিরাই খেয়ে ফেলছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে লোকসান আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
সরেজমিন নড়াইল সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিলে গিয়ে দেখা গেছে, সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য শত শত মধুর বাক্স বসানো রয়েছে। তবে বাক্সগুলোর বাইরে মৌমাছির তেমন আনাগোনা নেই।
মধুচাষি মো. শম্পি সরদার বলেন, ‘দিনে কুয়াশা থাকায় বাক্সগুলো থেকে মৌমাছি বের হচ্ছে না। বেশি মধু সংগ্রহের জন্য রাতে কুয়াশা আর দিনে রোদ দরকার। কিন্তু এখন দিনে কুয়াশা থাকায় মধু সংগ্রহ কমে গেছে।’
আরেক খামারি মো. ইনামুল হক বলেন, ‘দিনে কুয়াশা থাকায় খামারের মৌমাছি বাক্স থেকে বের হয় না। বের হলেও খুব অল্পসংখ্যক বের হয়। এতে করে মৌমাছিরা জমিয়ে রাখা মধু খেয়ে ফেলছে। এ বছর অতিরিক্ত শীত ও কুয়াশার কারণে অনেক মৌমাছিও মারা যাচ্ছে।’
মধুচাষি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ বছর মধু উৎপাদন কম হবে বলে মনে হচ্ছে। সামনে যদি আবহাওয়া অনুকূল হয়, তাহলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তা না হলে উৎপাদন আরও কমে যাবে।’
নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আরিফুর রহমান বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে মধু উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে তাঁরা আশা করছেন, এ বছর ১০ মেট্রিক টন বা তার বেশি মধু উৎপাদন হবে। তিনি বলেন, মধুচাষিদের খাঁটি মধু উৎপাদনে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
২৫৫ দিন আগে
উদ্বোধনের ৩ সপ্তাহেও শুরু হয়নি কাজ, হাওরের বাঁধ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা
সুনামগঞ্জে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ এখনও শুরু হয়নি। গত ১৫ ডিসেম্বর নিয়মরক্ষার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলেও তারপর পেরিয়ে গেছে ২২ দিন। অথচ, মাঠপর্যায়ে কাজ শুরুর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি চোখে পড়ে না।
হাওর থেকে পানি নামতে দেরি হওয়ায় কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন দাবি করলেও কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতারা বলছেন ভিন্ন বাস্তবতার কথা।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ উপজেলার একাধিক হাওর ঘুরে দেখা যায়, বাঁধের ভাঙা অংশ বন্ধ করা ও মেরামতের জন্য হাওরের অধিকাংশ এলাকাই কাজ শুরুর উপযোগী অবস্থায় রয়েছে। ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল হাওরের একাংশ এবং তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার হালি, শনি ও মহালিয়া হাওরের প্রায় অর্ধশত প্রকল্প এলাকায় কাজ শুরুর কোনো প্রস্তুতি চোখে পড়েনি। যদিও এসব হাওরের কয়েকটি অংশ দিয়ে পানি নামছে, তবে প্রাক্কলিত বাঁধের অধিকাংশ স্থানেই কাজ করার মতো পরিবেশ বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) অধ্যুষিত শাল্লা ও ধর্মপাশা ছাড়াও মধ্যনগর, তাহিরপুর, দিরাই ও শান্তিগঞ্জসহ একাধিক উপজেলায় এখনও বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। কোথাও কোথাও এখনো পিআইসি গঠন প্রক্রিয়াই শেষ হয়নি। এতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতারা।
নীতিমালা অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু কাজ শুরু তো দূরের কথা, অনেক উপজেলায় এখনো পিআইসি গঠনই শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে কৃষকসহ হাওরাঞ্চলের সচেতন মানুষের মাঝে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, জেলায় এ বছর প্রায় ৫৩টি হাওরে ৭০২টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৪৫ কোটি টাকা। চলতি মৌসুমে ৫৮৫ কিলোমিটার প্রাক্কলিত বাঁধের মধ্যে ১০৪টি স্থানে ভাঙা অংশ (ক্লোজার) রয়েছে। হাওরের কৃষক ও ফসলের নিরাপত্তায় সরকার প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ দিয়ে আসছে। তবে অন্যান্য বছরের মতো এবারও যথাসময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তবে পানি নামার কারণে কাজে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাউবো।
অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল একফসলি এলাকা। বছরে একবারই এখানে বোরো ধান উৎপাদন হয়। এই একমাত্র ফসল উৎপাদন ব্যাহত হলে হাওরাঞ্চলের মানুষের দুর্দশার শেষ থাকে না। এখানকার বোরো ফসল দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সে কারণেই সরকার প্রতি বছর ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে থাকে। কিন্তু গাফিলতির কারণে কাজ পিছিয়ে পড়লে বড় ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা কৃষকদের।
ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল হাওরপাড়ের কৃষক চন্দন তালুকদার বলেন, ‘আমরার হাওরে বান্ধের কাজটাজ এখনও শুরু হইছে না। ঠিক টাইমে কাজ করলে মাডি বয় ভালা (বসে ভালো), বাঁনও (বাঁধও) শক্তিশালী হয়। শেষ সময়ে আইয়া তাড়াহুড়া কইরা মাটি কাটব, বাঁন থাকব দুর্বল, পানির ধাক্কা খাইলেই বাঁন ভাইঙা যে শ্রম-ঘাম দিছি সব তলাইয়া যাইব।’
তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের দুই পিআইসি সভাপতি সোহেল মিয়া ও নূর মিয়া জানান, বাঁধ নির্মাণের কাজ কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে তারা নিজেরাও নিশ্চিত নন। তাদের ভাষ্য, এখনও বাঁধের কাজের সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। এমনকি নিজেদের পিআইসি নম্বরও তারা জানেন না।
শাল্লা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত সেন বলেন, ‘১৫ ডিসেম্বর উদ্বোধনের পর এখানকার কোনো বাঁধেই এখনও কাজ শুরু হয়নি। ছয়টি হাওরে শতাধিক প্রকল্প রয়েছে। এখনও পিআইসি গঠন প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। পিআইসি নেওয়ার জন্য তদবির চলছে। এ অবস্থায় সময়মতো কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’
হাওর পরিদর্শন শেষে হাওর বাঁচাও আন্দোলন জামালগঞ্জ উপজেলা সভাপতি রফিকুল বিন বারী বলেন, ‘গত রবিবার হালির হাওর ঘুরেও পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক মনে হয়েছে। কাজ কখন শুরু হবে, কখন শেষ হবে—তা বলা মুশকিল। এভাবে চললে শেষ পর্যন্ত কৃষকরাই বিপদে পড়বে। তখন দৌড়ঝাঁপ করে কোনো লাভ হবে না। সময় থাকতে কাজে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।’
এ বিষয়ে কাবিটা প্রকল্প তদারক কমিটির সভাপতি ও শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, ‘অনেকগুলো বাঁধে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। বেশ কিছু মেশিন হাওরে ঢুকেছে। দু–একদিনের মধ্যেই পুরোপুরি কাজ শুরু হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চার-পাঁচটি পিআইসি এখনও গঠন হয়নি। সেগুলো সরেজমিনে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘হাওরের অনেক জায়গা দিয়ে এখনও নদীতে পানি নামছে। পানি নামার কারণেই কাজে বিলম্ব হচ্ছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।’
২৫৭ দিন আগে
সুনামগঞ্জে সরিষায় স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠ এখন যেন এক বিশাল হলুদের চাদর। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই সরিষা ফুলের মনকাড়া দৃশ্য। শীতের সকালের নরম রোদে ঝলমল করছে হলদে ফসলের মাঠ। আর সেই হলুদের আভা নতুন প্রাণের স্পন্দন নিয়ে এসেছে স্থানীয় চাষিদের মনে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলি মাঠ ও হাওর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ সরিষা ফুলের সুবাসে মুখরিত। বাতাসে দুলতে থাকা ফুলের সাথে মৌমাছির অবিরাম গুঞ্জন এক নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করেছে। কেবল কৃষি উৎপাদনই নয়, এই দৃশ্য এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও এক অনন্য আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
অনেকেই এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করছেন মাঠের ধারে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগবালাই কম হওয়ায় দোয়ারাবাজারে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় চাষিদের চোখে-মুখে এখন কেবলই প্রত্যাশার ছাপ।
মাঠের আইলে দাঁড়িয়ে থাকা চাষিরা জানান, সরিষা চাষ যেমন সাশ্রয়ী, তেমনি এটি অল্প সময়ে ঘরে তোলা যায়। বোরো ধান চাষের আগে এই মধ্যবর্তী ফসলটি চাষিদের কাছে বাড়তি আয়ের এক বড় মাধ্যম।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দোয়ারাবাজারে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতি ও সঠিক রোগ দমনের পরামর্শ দিয়ে মাঠ পর্যায়ে সহযোগিতা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে সরিষার এই হলুদ বিপ্লব স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
দোয়ারাবাজারের এই হলুদ রাজ্য কেবল কৃষি সমৃদ্ধির কথা বলে না, বরং তা বাংলার গ্রামীণ শাশ্বত রূপ ও মেহনতি মানুষের স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। প্রকৃতি আর পরিশ্রমের এই মেলবন্ধনে এবার দোয়ারাবাজারের কৃষকদের গোলা ভরে উঠবে সরিষায় - এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
২৫৮ দিন আগে
মাটি পরীক্ষার সুফল অধরা, কাঙ্ক্ষিত পরামর্শ পাচ্ছেন না সুনামগঞ্জের কৃষকেরা
সুনামগঞ্জে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট হাওরের কৃষি উন্নয়নে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের নানা পরামর্শ দেওয়ার কথা থাকলেও কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত পরামর্শ পাচ্ছেন না। মাটি পরীক্ষার পর সংশ্লিষ্টরা পরামর্শ দিলেও অনেক ক্ষেত্রে কৃষক তা মানছেন না। তাছাড়া মাটি পরীক্ষা করে কৃষির উন্নয়নে কৃষকেরা উদ্যোগী হবেন—এই কার্যক্রমের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায়ও স্বাভাবিক গতি কমতে দেখা গেছে।
চাষবাসের উন্নয়নে ফসল ফলানোর লক্ষ্যে কোন মাটিতে কীভাবে পরিচর্যা করতে হয়, এ বিষয়ে প্রশিক্ষণসহ মাটির গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার কথা রয়েছে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের।
সংস্থাটির একটি সূত্র জানিয়েছে, হাওরের কৃষক ও অন্যান্য উপকারভোগীদের মাটি, পানি, উদ্ভিদ ও সার বিশ্লেষণ সেবা এবং মৃত্তিকা নমুনা বিশ্লেষণের ফলাফল অনুসারে স্থানভিত্তিক ফসল চাষের জন্য সার প্রয়োগের সুপারিশ করার কথা প্রতিষ্ঠানটির। এছাড়া জেলার মাটির উর্বরতা এবং ভূমির উৎপাদন কার্যক্রম প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করে ফলাফলও যথাযথভাবে প্রয়োগ করার কথা।
মৃত্তিকা বিশ্লেষণের ফলাফল, মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং মৃত্তিকা বিশ্লেষণের ফলাফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন ফসল চাষে সার প্রয়োগের বিশেষ সুপারিশ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়াও মাটির উর্বরতা অবক্ষয় সমস্যা, ফসলের পুষ্টি উপাদানের সমস্যা, মৃত্তিকা রসের অভাব এবং ফসল উৎপাদনে বাধা ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় পৌনে চার লাখ কৃষক পরিবার রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই হাওরের বোরো জমির ওপর নির্ভরশীল। সনাতন পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন ধরে তারা চাষবাস করে আসছেন। এখনো আধুনিক কৃষির সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়নি। তাই কৃষির ফলনে তারা পিছিয়ে আছেন।
এদিকে ২০২১ সালে হাওর জেলা সুনামগঞ্জে কার্যক্রম শুরুর পর সুনামগঞ্জ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট ৪ হাজার ৪৬০ জন কৃষককে সার প্রয়োগের সুপারিশ করেছে বলে জানা গেছে। কখনো মাঠ থেকে, কখনো কৃষকরা মাটির নমুনা অফিসে নিয়ে এসে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করাচ্ছেন। এই পরীক্ষার আলোকে ফসল উৎপাদনে কাঙ্ক্ষিত ফলনের জন্য সংশ্লিষ্টরা কৃষকদের সার প্রয়োগের সুপারিশ করছেন। এজন্য তাদের বিশেষ কার্ডও দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি অনলাইনেও কৃষকরা পূর্ণ ঠিকানা নিবন্ধন করলে অফিসের লোকজন মাঠে গিয়ে মাটির নমুনা এনে পরীক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও কৃষি অফিসের মাধ্যমে জেলার সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, জগন্নাথপুর, দিরাই, জামালগঞ্জ ও শান্তিগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ গবেষণাগারে প্রশিক্ষণ ও মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব উপজেলায় ৫০ জন করে কৃষককে গবেষণাগার পরিদর্শন করিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউট সংশ্লিষ্টরা।
তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কার্যক্রম চালুর পর ২০২১-২০২২ অর্থবছরে কৃষকদের সার সুপারিশ সেবার পরিসংখ্যান বেশি দেওয়া হলেও এখন এই গতি কমে এসেছে। চলতি বছর মাত্র ৪৬০ জন কৃষককে সার সুপারিশ কার্ড প্রদান করা হয়েছে।
তালিকা ধরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যারা উপজেলা কৃষি অফিসে মাটির নমুনা দিয়ে মাটি পরীক্ষা করিয়েছিলেন, তারা কোনো পরামর্শ পাননি। তাই পরীক্ষার পর তাদের কী করতে হবে, এ বিষয়ে তারা ওয়াকিবহাল নন।
দিরাই উপজেলার শরিফপুর গ্রামের কৃষক জামাল হোসেন বলেন, আমি বছরখানেক আগে দিরাই কৃষি অফিসে খেতের মাটি দিয়ে এসেছিলাম। তারপরও আমাকে তারা কিছুই জানায়নি। আমি আগে যেভাবে চাষ করতাম, এখনও একইভাবে চাষ করতেছি।
ধর্মপাশা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, আমি দুই বছর আগে মাটি দিয়ে আসছিলাম। পরে আমাকে কিছু জানায়নি। আমি আমার মতো করে চাষ করি।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেন বলেন, আমি মাটি পরীক্ষা করিয়েছিলাম, কিন্তু তারা জমিতে যে পরিমাণ সার প্রয়োগ করার কথা বলেছে, তা দিলে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
প্রতি শতাংশে ১ কেজি ৪০০ গ্রাম সার প্রয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের হিসাব মানলে প্রতি কেয়ারে (প্রতি ৩০ শতাংশে এক কেয়ার) ৪০ কেজির ওপর সার প্রয়োগ করতে হবে। এতে খরচ দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। তাই তাদের সুপারিশ না মেনে নিজের মতো করে চাষ করছি।
সুনামগঞ্জ মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাটি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আমরা সার প্রয়োগ সুপারিশ করে থাকি। এটা মানলে ফলন বেড়ে যাবে এবং রোগবালাইও প্রতিরোধ হবে। তবে কেউ না মানলে তো আমাদের কিছু করার নেই।
তবে পরীক্ষা করার পরও যারা সুপারিশ কার্ড পাননি, তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
২৬৩ দিন আগে
চাষের আওতায় আসছে হাওরের ১৭ হাজার ১৯ হেক্টর পতিত জমি
সুনামগঞ্জসহ সিলেট বিভাগের চার জেলায় কৃষির উন্নয়নে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে পতিত জমি চাষাবাদ, খাল-পাহাড়ি নালা খনন, হাওরের গোপাট পাকাকরণ, কৃষক প্রশিক্ষণ প্রদানসহ নানা কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম শেষ হবে ২০২৯ সালে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) প্রায় ৫শ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় ১৭ হাজার ১৯ হেক্টর পতিত জমির সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। এর ফলে প্রায় ৫১ হাজার ৫৮ টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদিত হবে।
প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ বছর মেয়াদী এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জলবায়ু প্রভাব মোকাবিলা করে পানি সংরক্ষণ ও এর সঠিক ব্যবহার করে কীভাবে চাষাবাদ করতে হয়, তা শিখবেন স্থানীয় কৃষকেরা। এতে করে ধান এবং অন্যান্য ফসলের উৎপাদনও বাড়বে। বাস্তবায়িত প্রকল্পে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি খাল ও পাহাড়ি নালা খননের ফলে মাছেরও উৎপাদন বৃদ্ধি হবে। কৃষকের আয় ও জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়িয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানো ও পানির সঠিক ও টেকসই ব্যবহারও নিশ্চিত করবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, প্রকল্পের আওতায় ১৫ হাজার ৩৩৯ হেক্টর ভূ-উপরিস্থ জমির পানি এবং ১ হাজার ৬৮০ হেক্টর ভূগর্ভস্থ জমির পানিতে সেচ সরবরাহে জুন মাস থেকে কাজ শুরু হয়েছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, কৃষক সক্ষমতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও শুকনো মৌসুমে সেচ সুবিধা বাড়াতে খাল খনন, রাবার ড্যাম, রেগুলেটর সংস্কার, কালভার্ট নির্মাণে বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পের কাজ চলছে। এর পাশাপাশি গভীর নলকূপ স্থাপন ও কৃষক সক্ষমতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে, প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরসিসি গোপাট নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় খুশি কৃষকরা। গোপাট নির্মিত হলে কৃষকরা সহজে বোরো মওসুমে নৌপথে ও গাড়িতে করে হাওর থেকে ধান বাড়িতে নিয়ে আসতে পারবেন। এতে তাদের সময় ও অর্থ অপচয় কম হবে।
সুনামগঞ্জ বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, ৫ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে হাওর জেলা সুনামগঞ্জে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর পতিত জমি চাষের আওতায় আসবে। পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে খনন করা হবে ৭০ কিলোমিটার খাল ও পাহাড়ি নালা, ১০টি গভীর নলকূপ স্থাপন, ৩০টি পুরাতন স্কিম সংস্কার, ১৫টি কালভার্ট নির্মাণ, দুটি স্লুইসগেট নির্মাণ, ৪টি গোপাট নির্মাণ এবং প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করা হবে।
প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রকল্পে চার জেলায় ২২১ কিলোমিটার খাল ও পাহাড়ি নালা খনন এবং ১০৫ কিলোমিটার খাল ও পাহাড়ি ছড়া সংস্কার করা হবে। খননের ফলে খালের পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং বন্যা ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে সঞ্চিত পানি দিয়ে আমন ও রবি মৌসুমে সম্পূরক সেচের ব্যবহার করা হবে। এতে ২ হাজার ৬৮১ হেক্টর জমি ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার হবে।
উজান থেকে হঠাৎ নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত হাওর এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা খাল, নালা, পাহাড়ি ছড়া পুনর্খনন ও সংস্কারের মাধ্যমে আগাম বন্যা থেকে প্রায় ৭ হাজার ৯০০ হেক্টর জমি রক্ষা পাবে এবং ৫ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পাইপ লাইন নির্মাণের ফলে ১৬৭ হেক্টর জমির স্থায়ী জলাবদ্ধতা দূর হবে। এতে ৮ হাজার ৬৭ হেক্টর বোরো জমির প্রায় ২৪ হাজার ২০০ মে.টন ফসল সুরক্ষা পাবে।
এ ছাড়াও প্রকল্পে ১১০টি ৫-কিউসেক এলএলপি, ৪০টি ২-কিউসেক এলএলপি, ৮টি ১-কিউসেক এলএলপি, ৪০টি ১.৫-কিউসেক ফোর্সমোড পাম্প স্থাপনসহ ৩৬৭.৬ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণ, ০.৫-কিউসেক উচ্চ হেডের পাম্পের সাহায্যে ২০টি স্প্রিঙ্কলার সেচ পদ্ধতি প্রয়োগ, ৪০টি আর্টেশিয়ান নলকূপ স্থাপন এবং ৫টি ফোর্সমোড নলকূপ পুনর্বাসন করে ১০ হাজার ৩২ হেক্টর কৃষি জমি আধুনিক সেচের আওতায় চলে আসবে। প্রকল্পে ৮০টি ওয়াটার পাস, ক্যাটল ক্রসিং, ফুট ব্রিজ, পাইপ স্লুইসসহ ক্ষুদ্রাকার সেচ অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। ১০টি রেগুলেটর, সাবমার্জড ওয়ার, ক্রস ড্যাম, সাইফন, কনডুইট নির্মাণের মাধ্যমে মধ্যমাকার সেচ অবকাঠামো করে প্রায় ১ হাজার হেক্টর কৃষি জমি আধুনিক সেচের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তাছাড়া বৃষ্টি ও বন্যার পানি সংরক্ষণ, নিষ্কাশন, চলাচলে ৯০টি অবকাঠামো ব্যবহার করে কৃষকরা সহজে হাওর থেকে ফসল পরিবহন করতে পারবেন।
কৃষকদের ফসল পরিবহনে অন্তত ১০ কিলোমিটার গোপাট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পে ৯শ মেকানিক, ম্যানেজার, অপারেটর, ফিল্ডসম্যান, কৃষক ও কৃষাণীকে সেচ ব্যবস্থাপনা, সেচযন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ, খাদ্যশস্য ও বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সবজি উৎপাদন বিষয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে কৃষিতে বিশেষ দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
কঠোর নজরদারির দাবি হাওর আন্দোলনের
কৃষি উন্নয়নে যুগান্তকারী এই পদক্ষেপকে হাওর আন্দোলনের নেতাসহ কৃষকরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময় কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে তারা জানিয়েছেন যে ড্রেন, কালভার্ট ও রেগুলেটর নির্মাণ এবং খাল খননে যেসব ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়, তারা দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে নিম্নমানের কাজ করেন। খাল খনন না করেই বরাদ্দ লোপাট করার ঘটনাও অতীতে ঘটেছে। ড্রেন নির্মাণের পর ১ বছর না যেতেই ধসে পড়েছে। কালভার্ট ও রেগুলেটর নির্মাণেও অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা হয়েছে। তাই এসব কাজ যাতে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সুনামগঞ্জের শ্রমিক আন্দোলনের নেতা সাইফুল আলম সদরুল বলেন, বিএডিসি সরকারের কৃষি উন্নয়নের আদি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নে যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে, তা যুগান্তকারী। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে, নাহলে সরকারি বরাদ্দের যাচ্ছেতাই ব্যবহার হবে এবং কৃষিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা ও হাওরের গোপাট নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে কথা বলা অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, হাওরের গোপাট পাকা করা হলে কৃষক সহজে নৌপথে ও সড়কপথে ধান পরিবহন করতে পারবে। এতে খরচ ও সময় বাঁচবে। তবে প্রকল্পের খাল, পাহাড়ি নালা খনন ও সংস্কার, রেগুলেটর ও কালভার্ট নির্মাণে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এসব কাজে প্রচুর অনিয়ম হয়।
তিনি বলেন, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সুনামগঞ্জসহ চার জেলায় কৃষিতে বিরাট পরিবর্তন আসবে।
সিলেট বিভাগে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী প্রনজিত কুমার দেব বলেন, প্রায় ৫ বছরের চেষ্টার পর প্রকল্পটি চলতি অর্থবছর থেকে শুরু হয়েছে। প্রকল্পে খাল-পাহাড়ি নালা খনন, পতিত জমি চাষের আওতায় আনা, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, গোপাট নির্মাণ, পুরাতন প্রকল্প সংস্কার, গভীর নলকূপ স্থাপনসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। ইতোমধ্যে কাজও শুরু হয়ে গেছে। প্রকল্পে যাতে কোনো অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা না হয়, সেদিকে আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে।
২৬৫ দিন আগে
পেঁয়াজ রোপণের ভরা মৌসুমে ঝিনাইদহে শ্রমিক সংকট, মাঠে নেমেছে শিক্ষার্থীরা
ঝিনাইদহের গ্রামে গ্রামে পেঁয়াজের চারা রোপণে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিক সংকট কাটাতে কনকনে শীত আর কুয়াশাকে উপেক্ষা করে কৃষকের পাশাপাশি মাঠে নেমেছে স্কুল কলেজের তরুণ শিক্ষার্থীরা।
বার্ষিক পরীক্ষার পর অবসর সময়টুকু কাজে লাগাতে পরিবারের সম্মতিতে অনেক শিক্ষার্থী পেঁয়াজের খেতে কাজ করছেন। এতে প্রতিদিন তারা পাচ্ছেন ৫০০ টাকা মজুরি।
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
শৈলকুপার হাজরামিনা গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বড়দের পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীরাও পেঁয়াজ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে পড়াশোনার চাপ না থাকায় বন্ধুরাও দল বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে।
শৈলকুপার গোবিন্দপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিন বন্ধু সনেট, রবিণ ও আরিফ ভোর ৭টার আগেই ৮ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে পৌঁছে গেছে মনোহরপুর ইউনিয়নের বিজুলিয়া মাঠে।
সেখানে কাজ করা আরিফ হোসেন জানায়, বাড়িতে অলস বসে থাকার চেয়ে কিছু টাকা রোজগার হলে পরিবারের উপকার হবে। এ জন্য সে ৫০০ টাকা হাজিরায় মাঠে পেঁয়াজ লাগাতে এসেছে।
দামুকদিয়া গ্রামের কৃষক মিন্টু মিয়া বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণে ১৫/২০ জন শ্রমিক দরকার হয়। হঠাৎ একসঙ্গে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে রোপণ শুরু হওয়ায় শৈলকুপা উপজেলায় শ্রমিক সংকট তীব্র হয়েছে।
তার ভাষ্য, ‘বাড়তি মজুরি দিলেও শ্রমিক মিলছে না। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীরাই ভরসা। তারা মাঠে না নামলে পেঁয়াজ রোপনের কাজ শেষ করা যেত না।’
শৈলকূপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান খান জানান, পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের অন্যতম এলাকা শৈলকূপা। চলতি মৌসুমে এখানে ১২ হাজার ৩২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টরে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উৎপাদন বাড়াতে ৫০০ কৃষককে এবার বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
শ্রমিক সংকটে শিক্ষার্থীদের মাঠে কাজ করা কৃষকদের বাড়তি সহায়ক শক্তি বলেও মনে করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
২৭৫ দিন আগে