জামায়াত
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে হবে সমতার, সমমর্যাদার ও বন্ধুত্বের: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে হবে সমতার, সমমর্যাদার ও বন্ধুত্বের।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রোকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্বই সফর করতে পারেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সফর করতেও আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। তবে সেই সফর হতে হবে সমতার, সমমর্যাদার, বন্ধুত্বের। এখন এই দেশের মানুষ আর কারও আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না। এ দেশের মানুষ চায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হোক বন্ধুত্বের, সমমর্যাদার, সমতার ভিত্তিতে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একইসঙ্গে সরকারপ্রধান ও দলীয় প্রধান। তিনি চাইলেই দেশে চলমান চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্যের টুঁটি চেপে ধরতে পারেন। তিনি চাইলেই এসব বন্ধ হবে। তিনি চাচ্ছেন কি না, এটাই বড় বিষয়।’
সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই দেশের মানুষের কাছে একটি আদর্শিক সংগঠনের নাম। এই আস্থা অর্জন করতে এই সংগঠন দীর্ঘ সময় ধরে এ দেশের মানুষের মাঝে ইসলামের দাওয়াত ও আদর্শ সমাজ এবং রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।’
আগামী স্থানীয় নির্বাচনে নেতা-কর্মীদের জনমানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোট যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে ব্যাপারে আমাদের নেতা-কর্মীদের সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।’
রাজশাহী মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলের সঞ্চালনায় সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. মাওলানা কেরামত আলী এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।
সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ মহানগরীর শূরা ও বিভিন্ন থানার নেতারা।
সম্মেলনে রাজশাহী মহানগরীর সহস্রাধিক (রোকন) সদস্য (নারী-পুরুষ) উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে সংকীর্ণ দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করছে সরকার: হামিদুর রহমান আযাদ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে সরকার উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিতে না দেখে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে সরকার উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিতে না দেখে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে। সরকারের একজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য বলেছেন, ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় বিরোধীদলের সংবিধান সংস্কার পরিষদে নেওয়া শপথ আর টেকে না।
‘আমরা জানতে চাই, এই যুক্তি যদি গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে নেওয়া শপথ কীভাবে বৈধ থাকে? কারণ ২০২৬ সালে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কোনো সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণ ছিল সরকারের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ এবং গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন উদ্যোগ। নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা আমরা আগেই জানতাম। তবুও আমরা অংশ নিয়েছি জনগণের সামনে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং গণতন্ত্রের দাবি জোরালো করতে।
আযাদ বলেন, জনগণ নতুন করে উপলব্ধি করেছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই করতে সংবিধান সংস্কার কেন অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অংশগ্রহণকে সংকীর্ণভাবে ব্যাখ্যা না করে এর অন্তর্নিহিত গণতান্ত্রিক বার্তা উপলব্ধি করার আহ্বান জানাই। জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে কোনো সরকারই দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে না।
৭ দিন আগে
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে জামায়াত আমিরের অভিনন্দন
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক অভিনন্দন বার্তায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজ ২০ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এই নির্বাচনে জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।’
আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জামায়াত আমির নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
আজ দুপুর ২টা ১০ মিনিটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয় যা চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে গণনা শেষে ফল ঘোষণা করেন এই নির্বাচনের কর্তা সিইসি এ এমএম নাসির উদ্দিন।
ঘোষিত ফল অনুসারে, ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
সিইসির ঘোষণার পর টেবিল চাপড়ে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান সংসদ সদস্যরা। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ আসন থেকে উঠে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে করমর্দন করেন। এ সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা।
এরপর নিজ আসন থেকে উঠে যান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান উঠে এসে তার সঙ্গে করমর্দন ও আলিঙ্গন করেন। একে একে অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও তার সঙ্গে করমর্দন ও আলিঙ্গন করেন।
এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন, এর মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দিয়েছেন। ছয়জন সংসদ সদস্য ভোট দেননি।
৮ দিন আগে
৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ সফল করার আহ্বান জামায়াতের
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লং মার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গত ৬ আগস্ট ১১ দলীয় ঐক্যের পূর্বঘোষণায় দেশব্যাপী ৪টি লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম, রংপুর ও খুলনার লং মার্চ সড়কপথে এবং সিলেটের লং মার্চ রেলপথে অনুষ্ঠিত হবে। লং মার্চ কর্মসূচি শেষে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে লং মার্চগুলো শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বস্তরের জনশক্তি ও দেশবাসীর প্রতি লং মার্চ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করার আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মো. রেজাউল করিম।
এছাড়া কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের প্রতিনিধি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মো. ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান আতিক এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাও উপস্থিত ছিলেন।
১১ দিন আগে
সচিবালয়ে বিএনপির বৈঠক নিয়ে জামায়াতের প্রশ্ন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই করতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির বৈঠক আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, সচিবালয়ের মতো নির্বাহী জায়গায় রাজনৈতিক দলের বৈঠকের ইতিহাস তাদের জানা নেই।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সচিবালয় হলো একটা নির্বাহী জায়গা। এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে, শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে—এটার অতীতের রেকর্ড আমাদের জানা নাই। এই কাজটি উনারা করছেন। তাহলে উনারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন? আমার দলের মতো হলে গণতন্ত্র, না হলে স্বৈরতন্ত্র!’
সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার পরও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষা ও গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার স্বার্থে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলে জানান হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চায় একটি নতুন ধারা তৈরি করতে চাই। তবে ১৯৯১ সালে (রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে) যদিও একটা সম্ভাবনা ছিল বিএনপির আসন কম থাকাতে। এখানে তো সেই সম্ভাবনাও নাই। বিএনপিতে আগেই নিজেদের মেজোরিটি (সংখ্যাগরিষ্ঠতা) সুনিশ্চিত কলাকৌশল করে করে নিয়েছে। সেই কারণে তাদের ‘সেফ সাইড’ আছে।
আযাদ বলেন, ‘এখানে জিতব কি হারব—এটা নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক—এটা আমরা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই আমরা এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।’
অলি আহমদকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে এই নেতা বলেন, তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং জাতীয়ভাবে সমালোচনা-বিতর্কের ঊর্ধ্বে। দেশের জন্য অনেক অবদান রেখে আসছেন দীর্ঘ সময় ধরে। একসময় তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। আবার আলাদা দল করেছেন। এখন আবার আমাদের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে উনি রাজনীতি করে যাচ্ছেন। জাতি এটাকে অবশ্যই ইতিবাচক দেখছে এবং আমাদের ১১ দলের সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করছে।
তবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রে একটি বাধা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য তার দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না।
বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গোপন ব্যালটে ভোটের বিধান চালু করতে পারত বলেও দাবি করেন আযাদ। তিনি বলেন, সবাই মিলে যখন একমত (জুলাই সনদ) হয়েছি একটা অধ্যাদেশ জারি করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র উচ্চ পর্যায়ে থেকে চর্চা শুরু করার সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা করলেন না।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধিত হতো এবং এমপিরা স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট দিতে পারতেন। তবে গণভোটে এটা পাস হওয়ার পরও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপির ‘একগুঁয়েমি’ ও ‘দলীয় সংকীর্ণতা’র কারণে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে না পারায় এই সংস্কার বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের এই নেতা।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের বহিষ্কৃত জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আযাদ বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অবিকলভাবে বহাল আছে ততক্ষণ সেই অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোট দিতে হবে।
আজ বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটে এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে অলি আহমেদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়।
মনোনয়নপত্রে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করেন এবং এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন তার প্রার্থিতা সমর্থন করেন।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, নাজিবুর রহমান মোমেন ও মারদিয়া মমতাজ; এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন ও মাহমুদা মিতু; লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ।
১৫ দিন আগে
সরকারের নিজ দায়িত্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারের নিজ দায়িত্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত। তার ওপর যে রায় হয়েছে এবং যেসব বিচারিক প্রক্রিয়া অপেক্ষমাণ রয়েছে, সেগুলোর মুখোমুখি তাকে হতে দেওয়া উচিত।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বাগেরহাট সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গী-সাথীদের তাদের দলে (জামায়াতে) নিতে গেলে অবশ্যই কেন্দ্রের অনুমতি নিতে হবে। কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া কাউকে দলে নেওয়া যাবে না। আমাদের কাছে কেউ অনুমতি চায়নি। অতএব কাউকে তাদের দলে নেওয়া হয়নি। আমরা মনে করি না, এখনই আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে আসার উপযুক্ত।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতি হত্যা করেছে। তারা দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, অসংখ্য মায়ের বুক খালি করেছে। অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছে। গুম হওয়া মানুষদের সবাই এখনও ফিরে আসেনি। এ অবস্থায় খোলস বদল করে আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে চলে আসবে। এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ দুঃখ প্রকাশ করেনি। তাদের মধ্যে অনুশোচনা নেই। পাশের দেশ থেকে উসকানি অব্যাহত রেখেছে। দল ভারী করার জন্য তাদের (আওয়ামী লীগকে) রাজনীতিতে সামিল করলে তা হবে অন্যায়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, সরকারের নিজ দায়িত্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত। তার ওপর যে রায় হয়েছে এবং যেসব বিচারিক প্রক্রিয়া অপেক্ষমাণ রয়েছে, সেগুলো তাকে ফেস করতে দেওয়া উচিত। বিচার হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে। আমরা অন্যায্য বিচার চাই না।
তিনি বলেন, সংসদে কৌশলগত বিষয় এলে সরকার বিরোধী দলকে সহজে কথা বলতে দেয় না। সংসদে পদ্ধতিগতভাবে কথা বলতে গেলে মাঝে মধ্যে বাধাগ্রস্ত হতে হয়। তবে সে দাঁড়িয়ে গেলে স্পিকার তাকে বাধা দেন না। তিনি আশা করেন, সরকার এই বাধা তুলে নেবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে নানান সমস্যা আছে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে দেশের জনগণ সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। জনগণ পাঁচ বছর সরকারি দল এবং বিরোধী দলের কার্যক্রম বিবেচনায় নেবে। পাঁচ বছর পরে জনগণ বিচারের রায় প্রদান করবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনীতিতে আসলে শারীরিক ব্যায়ামের জায়গা নেই। দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে রাজনীতিতে মাসল পাওয়ারের ব্যবহার দেখে আসছি। রাজনীতি হচ্ছে নীতির রাজা, এখানে শারীরিক কসরতের জায়গা নেই। বুদ্ধি-বিবেচনা করে রাজনীতি করতে হয়। রাজনীতির উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে সেবা দেওয়া।
তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের পর দেশে জামায়াতের চারজন খুন হয়েছেন। সুন্দর বাংলাদেশ আমাদের পেতেই হবে। তা না হলে রাজনীতিতে আমাদের ব্যর্থতাই প্রমাণিত হবে। দেশে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সরকারি দলের। দায়িত্বশীল ভূমিকা তাদেরকেই পালন করতে হবে। সরকারি দল যত আন্তরিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেবে, দেশ তত সুন্দরভাবে চলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে যেখানে সহযোগিতা করা দরকার সেখানে সহযোগিতা করে থাকি। আর যেখানে বিরোধিতা করা দরকার সেখানে বিরোধিতা করি।
জামায়াত আমির বলেন, সরকারি দল সরকার পরিচালনা করলেও দেশের সমস্ত মানুষ সরকারকে ভোট দেয় না। মানুষ তার পছন্দমতো ভোট দেয়। এটাই গণতন্ত্রের ভাষা। এ সময় মিডিয়া পুরোপুরি স্বাধীন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিডিয়া পুরোপুরি স্বাধীন হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগেরহাট জেলা শাখা এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিমি এতে সভাপতিত্ব করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, খুলনা অঞ্চল পরিচালক ও সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, জামায়াত নেতা বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম প্রমুখ।
২১ দিন আগে
এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও সিইসিকে জামায়াতের চিঠি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে গতকাল বুধবার দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়ে জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে নির্বাচন কমিশনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই চিঠিটি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত ২২ জুলাই জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এতে আরও বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাখিল করা হলো।
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের অনুলিপি জাতীয় সংসদের স্পিকারের দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩৬ দিন আগে
এমপি নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার
নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাংগঠনিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সংগঠনের আমীর ডা. শফিকুর রহমানেরর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়গুলো সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করা হয়। তদন্তে তার ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে রাজধানীর মগবাজার এলাকার একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় গাজী নজরুল ইসলামকে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়।
এ ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে ওই কিশোরীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে তার ওই বিয়ের দাবিও বিতর্কের জন্ম দেয়। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে।
এদিকে, গাজী নজরুল ইসলামকে তার নির্বাচনি এলাকা সাতক্ষীরা-৪, অর্থাৎ শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার পদত্যাগের দাবিতে আজ বুধবার অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
দুপুর ১২টার দিকে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ, শ্যামনগর’-এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নৈতিক স্থলন হওয়ায় গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতের দলীয় পদ ও এমপি পদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে। শ্যামনগরের মানুষকে কলঙ্কিত করেছেন তিনি। তাকে আমরা আর এমপি দেখতে চাই না। শ্যামনগরে তাকে আজ থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। মুখে ইসলামের কথা বলে অন্তরের বাস্তব চিত্র ভিডিওর মাধ্যমে দেশবাসী দেখেছে। আমরা কলঙ্কিত, লজ্জিত। আমরা আশা করব, জামায়াতে ইসলামী তার বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের কলঙ্কমুক্ত করবে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির, সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, জাতীয় মহিলা সংস্থার উপজেলা সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্নাসহ অন্যরা।
৩৭ দিন আগে
শ্যামনগরে এমপি নজরুলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগের দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ, শ্যামনগর’-এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির, সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, জাতীয় মহিলা সংস্থার উপজেলা সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্নাসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, নৈতিক স্থলন হওয়ায় গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতের দলীয় পদ ও এমপি পদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে। শ্যামনগরের মানুষকে কলঙ্কিত করেছেন তিনি। তাকে আমরা আর এমপি দেখতে চাই না। শ্যামনগরে তাকে আজ থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। মুখে ইসলামের কথা বলে অন্তরের বাস্তব চিত্র ভিডিওর মাধ্যমে দেশবাসী দেখেছে। আমরা কলঙ্কিত, লজ্জিত। আমরা আশা করব, জামায়াতে ইসলামী তার বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের কলঙ্কমুক্ত করবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে রাজধানীর মগবাজার এলাকার একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় গাজী নজরুল ইসলামকে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়।
এ ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে ওই কিশোরীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে তার ওই বিয়ের দাবিও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
৩৭ দিন আগে
দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকুন: গোলাম পরওয়ার
দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে দলের সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্য যে গণভোট হয়েছে, সেই গণভোটের রায় মেনে নিয়ে এটা কার্যকর করে সংবিধানের সেই সংস্কারটা করেন। তাহলেই সংকটটা নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। আর তা যদি না করেন, তাহলে রাজপথে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প পথ থাকবে না।
শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আইনি ব্যাপার, সরকারের ব্যাপার। সরকারই তার দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেছে। সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী সরকার জুলাই-আগস্টের সময় সাধারণ মানুষের ওপর যে নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা, হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, মৃতদেহকে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। এমনকি হ্যালিকপ্টারে করে দেশের মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে— সে ক্ষত চিহ্ন এখনও শুকায়নি। তারা যে অন্যায় করেছে তাদের বিচার হতে হবে, শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, স্বৈরাচারী সরকার সংবিধান মানেনি, তাদের মধ্যে মানবিকতা ছিল না। স্বৈরাচারী সরকারকে জনগণ দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক অধিকার হবে কি হবে না, এটা এখন জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। এটা কোনো দলের একার সিদ্ধান্ত না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানই বলে, ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অস্তিত্ব এ দেশের মানুষ আর মানে না। গণভোটের রায় এটাই প্রমাণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দিল্লিতে আশ্রয় পেয়েছেন, এ দেশের রাজনীতির যত গণ্ডগোল পাকানো, জুলুম করানো, কে ক্ষমতায় যাবে আর যাবে না, অর্থনীতি, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতি— সব কিছুর রিমোট কন্ট্রোল তো ওনারাই করেছেন। সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন, বন্দি বিনিময় আইন, জেনেভা কনভেনশন, সমস্ত কিছুকে লঙ্ঘন করে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে সব ধরণের প্রযুক্তিগত সুযোগসুবিধা ব্যবহারসহ আরাম আয়েশে দিল্লিতে থাকার সুযোগ দিয়েছে। এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মনে করা যাবে না।
নরসিংদী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সংগঠক মো. ইব্রাহিম ভূঞার সভাপতিত্বে সদস্য সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আ ফ ম আব্দুস সাত্তার, কর্মপরিষদ সদস্য মশিউল আলমসহ প্রমুখ।
৪২ দিন আগে