জামায়াত
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠি ঘিরে বিভ্রান্তি: জামায়াতের ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠি ঘিরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পর জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাটি মূলত প্রায় দুই সপ্তাহ আগের। সে সময় প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান আমিরে জামায়াতের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং দলের পক্ষ থেকে দেশের পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত কিছু অবস্থান স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি পাঠানোর দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত ছিল।
তবে তিনি আমিরের নির্দেশিত বিষয়াবলির বাইরে কিছু বিষয় যুক্ত করে চিঠিটি মন্ত্রণালয়ে পাঠান বলে জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ করে চিঠিতে মন্ত্রীর পদমর্যাদা-সংক্রান্ত যে অংশ উল্লেখ করা হয়, তা জামায়াত আমিরের নির্দেশনায় ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিষয়টি দলের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত আমির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসানকে গত ২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
একইসঙ্গে ঢাকা–১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেমকে (আরমান) বিরোধীদলীয় নেতার নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাসী। কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সংশোধনের নীতিতে দল বিশ্বাস করে।
তিনি আরও বলেন, আলোচ্য ঘটনার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। ফলে এ বিষয়ে আর কোনো ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঠিক তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
৩ দিন আগে
চুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াতের সঙ্গে পরামর্শ করেনি: ডা. শফিকুর রহমান
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সই করা চুক্তিগুলোর বিষয়ে জামায়াতের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জামায়াত আমির তার পোস্টে বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরকার কয়েকটি চুক্তি সম্পাদন করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ ধরনের কোনও চুক্তি নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনা করা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছিলাম যে, সংসদ না থাকার কারণে সরকার বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছে, ঠিক সেভাবেই আন্তর্জাতিক চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতেও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।’
শফিকুর রহমান তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ‘কিন্তু তৎকালীন সরকার আমাদের সেই দাবিগুলোকে আমলে নেয়নি। অতএব, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট এবং এখানে কোনও ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করার সুযোগ নেই।’
এর আগে, গত বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিটি জাতীয় নির্বাচনের ঠিক কয়েকদিন আগে আকস্মিকভাবে সই হওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের সঙ্গে আগেভাগেই আলোচনা করা হয়েছিল এবং উভয় দলই চুক্তি সইয়ের বিষয়ে একমত পোষণ করেছিল।
৭ দিন আগে
দুই সাবেক উপদেষ্টাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে’ জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (০৬ মার্চ) দুপুরে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনে সারাদিন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তারা ভেবেছে তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং জনগণ বুঝতে পারবে না। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী তিন সপ্তাহের ব্যবধানে তারা নিজেরাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা স্বীকার করেছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান মিডিয়ার সামনে স্বীকার করেছেন, তারা জামায়াতে ইসলামীকে মেইনস্ট্রিম হতে দেয়নি। সাংবাদিকের পাল্টা প্রশ্নে রিজওয়ানা হাসান বলেন, তারা সংসদে বিরোধী দলে থাকলেও তাদের আমরা মেইনস্ট্রিমে আসতে দেইনি। রিজওয়ানা হাসান তার বক্তব্য ভুল স্বীকার না করলে প্রমাণ হবে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সহযোগিতায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে।
সাবেক উপদেষ্টাকে বিএনপি সরকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার ঘটনাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সবচেয়ে বড় উদাহরণ উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে অপসারণের দাবি জানিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু পরবর্তীতে খলিলুর রহমান নিজের চেয়ার ধরে রাখতে ‘লন্ডন মেকানিজম’-এর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিএনপি খলিলুর রহমানের সার্ভিসে এত বেশি খুশি হয়েছে, যার কারণে বিএনপি সরকার গঠন করেই তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছে। অথচ অতীতের কোনো নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কোনো উপদেষ্টা নির্বাচন-পরবর্তী সরকারে যুক্ত হননি।
রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য এবং খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার ঘটনা স্পষ্ট প্রমাণ করে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অন্তর্বর্তী সরকার ও ডিপস্টেটের ইঞ্জিনিয়ারিং করা নির্বাচন। সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং ড. খলিলুর রহমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আদালতের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ বন্ধ করতে সরকার ষড়যন্ত্র করছে। জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে স্বাক্ষরকারী দলগুলো স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। সেই আলোকে গণভোটেও জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। জনগণের সেই রায় উপেক্ষা করে আদালতের দিকে দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সরকারের একটি ষড়যন্ত্র। সরকার তখন জুলাই সনদ নিয়ে সংসদে আলোচনা না করে বলবে, আদালতের আদেশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আদালতকে সরকার নিজের স্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
গোলাম পরওয়ার বিএনপির উদ্দেশে বলেন, আপনারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংবিধানে নেই, এই যুক্তি দেখিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। কিন্তু কোন সংবিধান মেনে আপনারা সরকার গঠন করেছেন? যে সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন, সেই সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা নেই। তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার অবৈধ, সেই সরকারের অধীনে নির্বাচনও অবৈধ।
জনগণকে বোকা বানিয়ে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা না করে বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জামায়াতে ইসলামী মবের রাজনীতি করে না, মবতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক, আদর্শিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যারা আমাদের চরম বিরোধী, তারাও একবাক্যে স্বীকার করে, জামায়াতে ইসলামী শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে নিয়োজিত।
৭ দিন আগে
নির্বাচনে আমাদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছে: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনে আমাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি। এই নির্বাচনের মধ্যমে আমাদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এটি আমাদের কাছে পরিষ্কার।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সিলেট জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবির’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ১০ থেকে ১২ হাজার পর্যন্ত ভোটের ব্যবধানে যাদের হারানো হয়েছে এটা ইচ্ছাকৃত। দুয়েক জায়গায় ঘোষণা দিয়েও তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিছু স্পর্শকাতর জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে হারানো হয়েছে। যেখানেই যাচ্ছি লোকে আমাদের বলে, আপনারা হারেননি, আপনাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসে সংসদীয় রাজনীতিতে এবারই সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আমাদের তিনটি লাভ হয়েছে। এক. এই প্রথম জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে একটা অর্থবহ ঐক্য হয়েছে। এর আগে, আমরা অন্যের নেতৃত্বে ঐক্য করেছিলাম। এবার আমাদের নেতৃত্বে হয়েছে। দুই. এই প্রথম আল্লাহ আমাদের প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। তৃতীয় লাভ হলো এবার আমরা ৬টা শক্তির বিরুদ্ধে সমান্তরালে লড়াই করেছি। আমি তাদের নাম বলছি না, আপনারা সকলেই তা জানেন। এই ছয় শক্তির সম্মিলিত শক্তি কতটুকু তা আমরা বুঝে গেছি।’
তিনি আরও বলেন, এই ছয় শক্তি নিয়ে তারা আমাদের সাথে পারত না, যদি অন্যকিছুর আশ্রয় না নিত। এই অন্য কিছুর আশ্রয়ের কথা এখন কেবল আমরা বলছি না, টিআইবি বলেছে, সুজনও এ কথা বলছে, আরও অনেকে বলতে শুরু করেছে। এই সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের আবার লড়তে হবে। এখন থেকেই আমাদের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ঢাকার বস্তিগুলোতে গিয়ে বড় বড় ওয়াদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব বস্তিতে টাকা, ওয়াদা সন্ত্রাস কোনো কিছুই কাজ করেনি, ফলাফলে তা দেখা গেছে। এসবের মাধ্যমে বার্তা দিচ্ছে বাংলাদেশে, আগামীর বাংলাদেশ ইসলামীর বাংলাদেশ হবে, মুক্তি পাগল মানুষের বাংলাদেশ হবে।
তিনি বলেন, আমরা থামব না ইনশাআল্লাহ, কেউ আমাদের থামাতে পারবেও না।
দলীয় নেতা-কর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে এ সময় জামায়াত আমির বলেন, আমাদের প্রথম লড়াই ছিল জাতীয় নির্বাচন। আর দ্বিতীয় লড়াই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। এই লড়াইয়ে একটি জায়গাও যেন আমাদের খালি না থাকে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচনে যারা জীবন বাজি রেখে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলো, সমাজের সে সমস্ত জায়গাগুলো থেকে ভালো লোকদের বের করে তাদের হাতে ওই জায়গাগুলোকে (স্থানীয় সরকারের) তুলে দিতে চাই। আমাদের এই জায়গায় অনেক কনসিডারেট (বিবেচনাশীল) ও সেক্রিফাইসিং (আত্মত্যাগী) হতে হবে।
১৪ দিন আগে
সিঙ্গাপুর গেলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. তাহের
ব্যক্তিগত সফরে সিঙ্গাপুর পৌঁছেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের নির্বাচিত এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী প্রফেসর ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরী সুইটি।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় তাদের বহনকারী বিমানটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. তাহের। ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি সংসদ সদস্য ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
আজ (বুধবার) ব্যক্তিগত সফরে তিনি সিঙ্গাপুর পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
তিনি চৌদ্দগ্রামবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে।
২৩ দিন আগে
৩২ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জামায়াত জোটের
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ এনে ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানী আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ, তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
হামিদুর রহমান অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বিভিন্ন উপাদান সক্রিয় ছিল। যেমন: অবৈধ অস্ত্র, কালো টাকা, হুমকি-ধমকি ও জাল ভোটের মতো ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, আমরা লক্ষ করেছি। কিছু কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিল মারার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি বারবার কমিশনকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘৩২টি আসন চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে আমরা পরাজিত হয়েছি। আমরা এসব আসনের তালিকা কমিশনে জমা দিয়ে সেখানে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছি।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ভোট গণনার সময় অনেক কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থীদের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি গণনাকক্ষে উপস্থিত এজেন্টরা অনিয়মের অভিযোগ তুলতে গেলে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখে পড়েছেন।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু ভোট গণনার জন্য যে অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন, তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে গণনা প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল হলে তা সরাসরি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে, এটাই স্বাভাবিক। একইসঙ্গে অনেক স্থানে ফলাফল শিটে ঘষামাজা, কাটাকাটি, ওভাররাইটিং এবং আমাদের প্রার্থীর মূল এজেন্টের স্বাক্ষর না থাকার মতো বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নবনির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশ হলেও তাদের জন্য আইনি পথ খোলা রয়েছে। তিনটি আইনি ধাপ রয়েছে—নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল এবং হাইকোর্ট।
গেজেট প্রকাশের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এ জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায়, অর্থাৎ নির্বাচনের মাত্র এক দিন পরই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। দূরবর্তী এলাকার প্রার্থীরা অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ পাননি। আমরা কমিশনকে অভিযোগগুলো তদন্তের আহ্বান জানিয়েছি। আইনি পথ খোলা থাকলেও আমাদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে।
ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ১১ দলীয় জোটের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হয়েছে বিকেল সাড়ে ৪টায়। কিন্তু কিছু কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এক ধরনের ভোটের হার দেখা গেছে। আবার ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই কেন্দ্রগুলোতে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়ার তথ্য দেখা যায়।’
বৈঠক শেষে হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের পর জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। এসব হামলার প্রতিবাদে সোমবার ঢাকার বায়তুল মোকাররম থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করবে ১১ দলীয় জোট।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি নোয়াখালীর হাতিয়ার মতো ঘটনার উদাহরণ দেন। ২০১৮ সালের মতো ঘটনা আবারও ঘটছে কি না, সে প্রশ্ন উঠছে। আমার নিজ আসনেই তিনজন নারী আহত হয়েছেন। আমরা ৫৪ জেলার প্রতিবেদন জমা দিয়েছি বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, সহিংসতা বন্ধ না হলে জোট রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাশাপাশি সংসদে গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।
জোটের নির্বাচিত এমপিরা শপথ নেবেন জানিয়ে আজাদ বলেন, শপথ নেওয়ার বিষয়ে আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা শপথ নিয়ে সংসদে যাব এবং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করব। একইসঙ্গে রাজপথও আমাদের জন্য খোলা থাকবে।
২৬ দিন আগে
জামায়াত আমিরকে প্রধান উপদেষ্টার বার্তা
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরের উদ্দেশে বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারপর্ব থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত আপনার রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার দল যে গঠনমূলক সমর্থন, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেছে, তার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
প্রধান উপদেষ্টার ভাষ্যে, বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমাদের সামনে বহু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী, অংশগ্রহণমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েরই দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়নে পরামর্শ, জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে—এমনটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে আপনি অতীতে যে ভূমিকা রেখেছেন ভবিষ্যতের দিনগুলোতে তা অব্যাহত রাখবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আপনার ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।
২৭ দিন আগে
ফল ঘোষণায় অনিয়ম হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াতের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল গণনা ও ঘোষণায় অস্বাভাবিক বিলম্ব এবং অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। জনগণের মতামতকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হলে কঠোর আন্দোলনে যাব।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জনগণের মতামতকে যদি ম্যানিপুলেশন (ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা) করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা আমাদের কর্মসূচি এবং সেটা বাস্তবায়নের জন্য যে ধরনের কর্মসূচি নিতে হয়, আমরা সেটা করব। এছাড়া, আমরা প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যাব।
তার দাবি, বিকেল ৫টা থেকে ভোট গণনা শুরু হলেও গভীর রাত পর্যন্ত অনেক আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। তাদের এজেন্টদের দেওয়া শিট অনুযায়ী রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যেই ফলাফল ঘোষণার কথা ছিল, কিন্তু ভোর ৪টা পর্যন্ত তা হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত ফলাফলের শিট পরে পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-১৭ আসনে অন্তত ৮টি শিটে ‘ওভাররাইটিং’ করে প্রায় ৫ হাজার ভোট কমানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটি বিশেষ দলের প্রধানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এ কাজ করা হয়েছে এবং আমাদের এজেন্টদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। ঢাকার প্রায় সবগুলো আসনে আমাদের যারা আছেন সবার ফলাফল দিতেই এ ধরনের গড়িমসি করা হয়েছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিশেষ দলকে সুবিধা দিতে ইসি ও তার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত আছে তারা এটার সঙ্গে জড়িত। একই অবস্থা ১১ দলের অন্যান্য আসনে। সারাদেশে আসনগুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। একই ধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত দেখতে পাচ্ছি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মানুষ রক্ত দিয়েছে এই ধরনের আরেকটি নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েমের জন্য না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই এই ধরনের প্রক্রিয়া যে তারা করছেন, গণনা করা, রেজাল্ট দেওয়া, রেজাল্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের কলাকৌশল করা। ইচ্ছাকৃতভাবে মনে হচ্ছে কোনো একটা বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তারা এ কাজটি করছেন। আমরা ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করবো না। দেশবাসীকে নিয়ে আমরা এই চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলব।
তিনি বলেন, এই জাতির যে ভয়ঙ্কর ট্রমা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এ যেটা আমরা দেখেছি এবং যারা এই ধরনের নির্বাচন করেছিলেন তারা এখন কোথায় আছে সেটা আপনারা জানেন। আমরা আশা করব, এই নির্বাচন কমিশনকেও যেন সেই পরিণতি ভোগ করতে না হয়।
২৮ দিন আগে
চূড়ান্ত ফল ঘোষণা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারার আহ্বান জামায়াত আমিরের
আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করতে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির বলেন, পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত কেউ ভোটকেন্দ্র ছাড়বেন না।
তিনি আরও বলেন, মহান রাব্বুল ইজ্জত তাঁর একান্ত মেহেরবানীতে মজলুমদেরকে বিজয় দান করলে মিছিল নয়, স্লোগান নয়, উচ্ছ্বাসও নয়—আমরা সবাই সিজদায় পড়ব। মন ভরে আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করব এবং জাতির সেবার জন্য মহান রবের একান্ত সাহায্য কামনা করব।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গতকাল থেকেই আপনারা সকল গুজবকে পরাজিত করেছেন এবং ভোটকেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রকে প্রতিরোধ করেছেন। আজ সকাল থেকেই আপনারা উৎসবের মতো করে ভোট দিয়েছেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর হয়ে।
‘কিন্তু আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে লক্ষ করছি, দেশের বিভিন্ন জায়গায় জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় পোলিং এজেন্টদের ওপর হামলা করে জখম করা হচ্ছে। নারীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। বেশ কিছু জায়গায় কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টাও চালানো হচ্ছে।
‘আমরা দেশবাসীকে অনুরোধ করব, যেভাবে আপনারা এখন পর্যন্ত ভোট চুরি ও কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টাকে প্রতিরোধ করেছেন, সেভাবেই ফলাফল আসার আগ পর্যন্ত আপনারা আপনাদের ভোটকে রক্ষা করুন। আপনার মূল্যবান ভোটটি যাতে কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে জন্য আপনারা ভোটকেন্দ্রগুলোর পাহারাদার হয়ে যান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করুন।’
আজ (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জাতীয় সংস্কারের জন্য শক্তিশালী জনমত পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সকাল সড়ে ৭টায় শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৪২ হাজার ৬৫৯টি। এতে প্রায় ১০ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং আরও প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করেন।
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধানের কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাবের বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে মতামত জানাতে গণভোটেও অংশ নেন ভোটাররা।
২৯ দিন আগে
রাজনীতিকে পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে নিয়েছি: শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, রাজনীতিকে আমরা কর্তব্য হিসেবে নিয়েছি। যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে, তারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, লুণ্ঠন ও মামলাবাজি করে। গত ১৫ বছর এদেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এসব টাকার মালিক এ দেশের জনগণ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কপালে ভালো পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে না। চাঁদাবাজ, মামলাবাজদের ভয়ে সাধারণ মানুষ অস্থির। বংশানুক্রমিকভাবে রাজার ছেলে রাজা হবে—এ ধারণা পরিবর্তন করতে চাই।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতি আমাদের আগাগোড়া খেয়ে ফেলেছে। এর জন্য সাধারণ মানুষ নয়, যারা বিগত দিনে দেশ শাসন করেছেন, মূলত তারাই এর জন্য দায়ী। আমাদের দেশের মানুষের হাতের ছোঁয়ায় অন্য দেশের কপাল বদলে যায়, কিন্তু এ দেশের কপাল বদলায়নি শুধুমাত্র অসৎ নেতৃত্বের কারণে। ভোটের সময় এরা জনগণের কাছে যায় পীর-দরবেশ সেজে, বসন্তের কোকিল হয়ে সুবাতাস উপভোগ করার জন্য। উন্নয়নের গঙ্গা বইয়ে দেয়। পরে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য ময়দানে নেমেছি। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করে দেব। ব্যবসায়ীদের রাতের ঘুম হারাম হবে না, ফুটপাতের হকারদের চোখের পানি ফেলতে হবে না। আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনগণের সম্পদের পাহারাদার হব। জনগণের তহবিলের অপব্যবহার করব না। প্রত্যেক সাংসদ প্রতি বছর নিজের এবং পরিবারের সকল সদস্যের সম্পদের হিসাব দেবেন। সরকারি প্লট ও ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেব না। প্রয়োজনে রিকশায় বা পায়ে হাঁটব।
এই রাজনীতিক আরও বলেন, তরুণরা বেকার ভাতা চায় না, মর্যাদার কাজ চায়। এজন্য গ্রামে কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা তৈরি হয়ে যাও, আগামী দিনের বাংলাদেশ তোমাদের হাতে তুলে দিতে চাই।
মায়ের জাতিকে সম্মান করার অনুরোধ জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, কিছু কিছু রাজনৈতিক ভাই-বন্ধু কীভাবে বলেন— বোরকা, নেকাব, হিজাব পরে আসলে তা খুলে ফেলবেন? বলতে বলতে তারা একদিন পুরো কাপড়ই খুলে ফেলবেন। এরা কী কোনো মায়ের গর্ভ থেকে দুনিয়াতে আসেনি? যদি এসে থাকে, তবে তাদের বলব, মায়ের জাতিকে সম্মান দেওয়া শিখুন; আপনার মাকে সম্মান করুন; তা হলেই দেশের ৯ কোটি মাকে সম্মান করতে পারবেন।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াতের আমির বলেন, অনেক হয়েছে, এসব আর বরদাশত করা হবে না। প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু মায়ের ইজ্জত কেড়ে নিতে দেব না। হাদি, আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদসহ সকল শহিদের হত্যাকারীদের ন্যায়বিচার করা হবে।
সরকারি কর্মচারীদের প্রতি নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা কেবল জামায়াতের বিজয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।
জেলা জামায়াতের আমির মখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, কাজী মহসিন আহমেদ, ড. আহমদ আব্দুল কাদেরসহ স্থানীয় ও কেদ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
৩৪ দিন আগে