জামায়াত
সিঙ্গাপুর গেলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. তাহের
ব্যক্তিগত সফরে সিঙ্গাপুর পৌঁছেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের নির্বাচিত এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী প্রফেসর ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরী সুইটি।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় তাদের বহনকারী বিমানটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. তাহের। ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি সংসদ সদস্য ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
আজ (বুধবার) ব্যক্তিগত সফরে তিনি সিঙ্গাপুর পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
তিনি চৌদ্দগ্রামবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে।
১ দিন আগে
৩২ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জামায়াত জোটের
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ এনে ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানী আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ, তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
হামিদুর রহমান অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বিভিন্ন উপাদান সক্রিয় ছিল। যেমন: অবৈধ অস্ত্র, কালো টাকা, হুমকি-ধমকি ও জাল ভোটের মতো ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, আমরা লক্ষ করেছি। কিছু কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিল মারার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি বারবার কমিশনকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘৩২টি আসন চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে আমরা পরাজিত হয়েছি। আমরা এসব আসনের তালিকা কমিশনে জমা দিয়ে সেখানে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছি।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ভোট গণনার সময় অনেক কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থীদের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি গণনাকক্ষে উপস্থিত এজেন্টরা অনিয়মের অভিযোগ তুলতে গেলে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখে পড়েছেন।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু ভোট গণনার জন্য যে অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন, তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে গণনা প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল হলে তা সরাসরি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে, এটাই স্বাভাবিক। একইসঙ্গে অনেক স্থানে ফলাফল শিটে ঘষামাজা, কাটাকাটি, ওভাররাইটিং এবং আমাদের প্রার্থীর মূল এজেন্টের স্বাক্ষর না থাকার মতো বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নবনির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশ হলেও তাদের জন্য আইনি পথ খোলা রয়েছে। তিনটি আইনি ধাপ রয়েছে—নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল এবং হাইকোর্ট।
গেজেট প্রকাশের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এ জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায়, অর্থাৎ নির্বাচনের মাত্র এক দিন পরই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। দূরবর্তী এলাকার প্রার্থীরা অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ পাননি। আমরা কমিশনকে অভিযোগগুলো তদন্তের আহ্বান জানিয়েছি। আইনি পথ খোলা থাকলেও আমাদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে।
ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ১১ দলীয় জোটের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হয়েছে বিকেল সাড়ে ৪টায়। কিন্তু কিছু কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এক ধরনের ভোটের হার দেখা গেছে। আবার ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই কেন্দ্রগুলোতে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়ার তথ্য দেখা যায়।’
বৈঠক শেষে হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের পর জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। এসব হামলার প্রতিবাদে সোমবার ঢাকার বায়তুল মোকাররম থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করবে ১১ দলীয় জোট।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি নোয়াখালীর হাতিয়ার মতো ঘটনার উদাহরণ দেন। ২০১৮ সালের মতো ঘটনা আবারও ঘটছে কি না, সে প্রশ্ন উঠছে। আমার নিজ আসনেই তিনজন নারী আহত হয়েছেন। আমরা ৫৪ জেলার প্রতিবেদন জমা দিয়েছি বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, সহিংসতা বন্ধ না হলে জোট রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাশাপাশি সংসদে গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।
জোটের নির্বাচিত এমপিরা শপথ নেবেন জানিয়ে আজাদ বলেন, শপথ নেওয়ার বিষয়ে আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা শপথ নিয়ে সংসদে যাব এবং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করব। একইসঙ্গে রাজপথও আমাদের জন্য খোলা থাকবে।
৪ দিন আগে
জামায়াত আমিরকে প্রধান উপদেষ্টার বার্তা
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরের উদ্দেশে বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারপর্ব থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত আপনার রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার দল যে গঠনমূলক সমর্থন, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেছে, তার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
প্রধান উপদেষ্টার ভাষ্যে, বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমাদের সামনে বহু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী, অংশগ্রহণমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েরই দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়নে পরামর্শ, জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে—এমনটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে আপনি অতীতে যে ভূমিকা রেখেছেন ভবিষ্যতের দিনগুলোতে তা অব্যাহত রাখবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আপনার ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।
৫ দিন আগে
ফল ঘোষণায় অনিয়ম হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াতের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল গণনা ও ঘোষণায় অস্বাভাবিক বিলম্ব এবং অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। জনগণের মতামতকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হলে কঠোর আন্দোলনে যাব।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জনগণের মতামতকে যদি ম্যানিপুলেশন (ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা) করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা আমাদের কর্মসূচি এবং সেটা বাস্তবায়নের জন্য যে ধরনের কর্মসূচি নিতে হয়, আমরা সেটা করব। এছাড়া, আমরা প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যাব।
তার দাবি, বিকেল ৫টা থেকে ভোট গণনা শুরু হলেও গভীর রাত পর্যন্ত অনেক আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। তাদের এজেন্টদের দেওয়া শিট অনুযায়ী রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যেই ফলাফল ঘোষণার কথা ছিল, কিন্তু ভোর ৪টা পর্যন্ত তা হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত ফলাফলের শিট পরে পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-১৭ আসনে অন্তত ৮টি শিটে ‘ওভাররাইটিং’ করে প্রায় ৫ হাজার ভোট কমানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটি বিশেষ দলের প্রধানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এ কাজ করা হয়েছে এবং আমাদের এজেন্টদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। ঢাকার প্রায় সবগুলো আসনে আমাদের যারা আছেন সবার ফলাফল দিতেই এ ধরনের গড়িমসি করা হয়েছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিশেষ দলকে সুবিধা দিতে ইসি ও তার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত আছে তারা এটার সঙ্গে জড়িত। একই অবস্থা ১১ দলের অন্যান্য আসনে। সারাদেশে আসনগুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। একই ধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত দেখতে পাচ্ছি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মানুষ রক্ত দিয়েছে এই ধরনের আরেকটি নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েমের জন্য না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই এই ধরনের প্রক্রিয়া যে তারা করছেন, গণনা করা, রেজাল্ট দেওয়া, রেজাল্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের কলাকৌশল করা। ইচ্ছাকৃতভাবে মনে হচ্ছে কোনো একটা বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তারা এ কাজটি করছেন। আমরা ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করবো না। দেশবাসীকে নিয়ে আমরা এই চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলব।
তিনি বলেন, এই জাতির যে ভয়ঙ্কর ট্রমা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এ যেটা আমরা দেখেছি এবং যারা এই ধরনের নির্বাচন করেছিলেন তারা এখন কোথায় আছে সেটা আপনারা জানেন। আমরা আশা করব, এই নির্বাচন কমিশনকেও যেন সেই পরিণতি ভোগ করতে না হয়।
৬ দিন আগে
চূড়ান্ত ফল ঘোষণা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারার আহ্বান জামায়াত আমিরের
আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করতে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির বলেন, পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত কেউ ভোটকেন্দ্র ছাড়বেন না।
তিনি আরও বলেন, মহান রাব্বুল ইজ্জত তাঁর একান্ত মেহেরবানীতে মজলুমদেরকে বিজয় দান করলে মিছিল নয়, স্লোগান নয়, উচ্ছ্বাসও নয়—আমরা সবাই সিজদায় পড়ব। মন ভরে আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করব এবং জাতির সেবার জন্য মহান রবের একান্ত সাহায্য কামনা করব।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গতকাল থেকেই আপনারা সকল গুজবকে পরাজিত করেছেন এবং ভোটকেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রকে প্রতিরোধ করেছেন। আজ সকাল থেকেই আপনারা উৎসবের মতো করে ভোট দিয়েছেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর হয়ে।
‘কিন্তু আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে লক্ষ করছি, দেশের বিভিন্ন জায়গায় জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় পোলিং এজেন্টদের ওপর হামলা করে জখম করা হচ্ছে। নারীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। বেশ কিছু জায়গায় কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টাও চালানো হচ্ছে।
‘আমরা দেশবাসীকে অনুরোধ করব, যেভাবে আপনারা এখন পর্যন্ত ভোট চুরি ও কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টাকে প্রতিরোধ করেছেন, সেভাবেই ফলাফল আসার আগ পর্যন্ত আপনারা আপনাদের ভোটকে রক্ষা করুন। আপনার মূল্যবান ভোটটি যাতে কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে জন্য আপনারা ভোটকেন্দ্রগুলোর পাহারাদার হয়ে যান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করুন।’
আজ (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জাতীয় সংস্কারের জন্য শক্তিশালী জনমত পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সকাল সড়ে ৭টায় শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৪২ হাজার ৬৫৯টি। এতে প্রায় ১০ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং আরও প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করেন।
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধানের কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাবের বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে মতামত জানাতে গণভোটেও অংশ নেন ভোটাররা।
৭ দিন আগে
রাজনীতিকে পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে নিয়েছি: শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, রাজনীতিকে আমরা কর্তব্য হিসেবে নিয়েছি। যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে, তারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, লুণ্ঠন ও মামলাবাজি করে। গত ১৫ বছর এদেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এসব টাকার মালিক এ দেশের জনগণ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কপালে ভালো পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে না। চাঁদাবাজ, মামলাবাজদের ভয়ে সাধারণ মানুষ অস্থির। বংশানুক্রমিকভাবে রাজার ছেলে রাজা হবে—এ ধারণা পরিবর্তন করতে চাই।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতি আমাদের আগাগোড়া খেয়ে ফেলেছে। এর জন্য সাধারণ মানুষ নয়, যারা বিগত দিনে দেশ শাসন করেছেন, মূলত তারাই এর জন্য দায়ী। আমাদের দেশের মানুষের হাতের ছোঁয়ায় অন্য দেশের কপাল বদলে যায়, কিন্তু এ দেশের কপাল বদলায়নি শুধুমাত্র অসৎ নেতৃত্বের কারণে। ভোটের সময় এরা জনগণের কাছে যায় পীর-দরবেশ সেজে, বসন্তের কোকিল হয়ে সুবাতাস উপভোগ করার জন্য। উন্নয়নের গঙ্গা বইয়ে দেয়। পরে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য ময়দানে নেমেছি। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করে দেব। ব্যবসায়ীদের রাতের ঘুম হারাম হবে না, ফুটপাতের হকারদের চোখের পানি ফেলতে হবে না। আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনগণের সম্পদের পাহারাদার হব। জনগণের তহবিলের অপব্যবহার করব না। প্রত্যেক সাংসদ প্রতি বছর নিজের এবং পরিবারের সকল সদস্যের সম্পদের হিসাব দেবেন। সরকারি প্লট ও ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেব না। প্রয়োজনে রিকশায় বা পায়ে হাঁটব।
এই রাজনীতিক আরও বলেন, তরুণরা বেকার ভাতা চায় না, মর্যাদার কাজ চায়। এজন্য গ্রামে কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা তৈরি হয়ে যাও, আগামী দিনের বাংলাদেশ তোমাদের হাতে তুলে দিতে চাই।
মায়ের জাতিকে সম্মান করার অনুরোধ জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, কিছু কিছু রাজনৈতিক ভাই-বন্ধু কীভাবে বলেন— বোরকা, নেকাব, হিজাব পরে আসলে তা খুলে ফেলবেন? বলতে বলতে তারা একদিন পুরো কাপড়ই খুলে ফেলবেন। এরা কী কোনো মায়ের গর্ভ থেকে দুনিয়াতে আসেনি? যদি এসে থাকে, তবে তাদের বলব, মায়ের জাতিকে সম্মান দেওয়া শিখুন; আপনার মাকে সম্মান করুন; তা হলেই দেশের ৯ কোটি মাকে সম্মান করতে পারবেন।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াতের আমির বলেন, অনেক হয়েছে, এসব আর বরদাশত করা হবে না। প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু মায়ের ইজ্জত কেড়ে নিতে দেব না। হাদি, আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদসহ সকল শহিদের হত্যাকারীদের ন্যায়বিচার করা হবে।
সরকারি কর্মচারীদের প্রতি নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা কেবল জামায়াতের বিজয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।
জেলা জামায়াতের আমির মখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, কাজী মহসিন আহমেদ, ড. আহমদ আব্দুল কাদেরসহ স্থানীয় ও কেদ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
১২ দিন আগে
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে গোলাম পরওয়ারের উদ্বেগ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর সংশয় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, সরকারের হাতে এখনও ৭ দিন সময় রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার এবং কালো টাকার দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) খুলনা প্রেসক্লাবে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করতে গিয়ে এ শঙ্কার কথা জানান। মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসন (ডুমরিয়া-ফুলতলা) থেকে জামায়াত মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব পরিস্থিতি সেই আশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের এখনও ১ সপ্তাহ বাকি, অথচ এখনই প্রার্থী, কর্মী ও ভোটারদের ওপর হামলা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে জনগণ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে না।’
নির্বাচনের পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার দায়িত্ব সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন কমিশনের। এ বিষয়ে সরকার নির্লিপ্ত থাকলে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সুযোগ হাতছাড়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে, যেখানে একজন রাজনৈতিক নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাইতে গেলে নারীদের পোশাক খুলে নিতে হবে। এটা শুধু রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, এটি নারী মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত। যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই এ ধরনের হুমকি দেয়, তারা ক্ষমতায় গেলে কী করবে সেটা ভেবেই আমরা আতঙ্কিত।’
এ সময় সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, খুলনা-৫ আসনের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও মিটিং করতে গেলে তাদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, দাঁড়িপাল্লার সভায় গেলে খবর আছে। অন্যদিকে, কিছু এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাবেক জনপ্রতিনিধিদের জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তুলে এনে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটা ভোট নয়, জোর করে রাজনৈতিক অবস্থান চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।’
নিজের নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণা বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফুলতলা ও ডুমুরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তার নির্ধারিত সভা-সমাবেশে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। একাধিক স্থানে চেয়ার-টেবিল ভেঙে সভা ভন্ডুল করা হয়। একটি এলাকায় গণসংযোগ শেষে নির্ধারিত সভাস্থলে পৌঁছানোর আগেই প্রতিপক্ষের লোকজন গিয়ে চেয়ার সরিয়ে নেয় এবং সভা করতে বাধা দেয়। বিষয়টি থানাকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে আটক বা আইনি ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের বড় অংশজুড়ে ছিল কালো টাকা ও ভোট কেনার অভিযোগ। এ বিষয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, খুলনা-৫ আসনে সংগঠিতভাবে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ঢালছে একটি পক্ষ। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কোটা নির্ধারণ করে বাড়ি বাড়ি টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কালো টাকার দাপটে রাজনীতি কলুষিত হচ্ছে। প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এ জামায়াত নেতা বলেন, প্রত্যেক থানার কাছে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের তালিকা থাকা সত্ত্বেও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কিংবা পরিচিত সহিংসদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাইবার হামলার একটি বিস্তারিত অভিযোগও তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার দাবি, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং পরবর্তীতে তার নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে।
তিনি জানান, তদন্তে একটি সরকারি দপ্তরের একজন কর্মকর্তার ই-মেইল থেকে ভারতীয় উৎসের ভাইরাস ব্যবহার করে এই হ্যাকিং করা হয়েছে বলে তাদের সাইবার টিম শনাক্ত করেছে। এ ঘটনায় সাইবার আইনে মামলা করা হয়েছে এবং ডিবি পুলিশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ল্যাপটপসহ আটক করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই কর্মকর্তাকে ছাড়িয়ে নিতে উচ্চপর্যায়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাকে মুক্তি দিতে পারেনি।
১৪ দিন আগে
সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে: শফিকুর রহমান
সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, এই বাংলাদেশে যারা মাইনরিটির (সংখ্যালঘু) অধিকার নিয়ে বেশি হাল্লাচিল্লা করতেন, সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকার আপনাদের পাশে সাঁওতাল পল্লীতে (গাইবান্দার সাহেবগঞ্জ) কী করেছে, আপনারা কি দেখেন নাই? তারা কি আমাদের ভাইবোন না? তারা কি এ দেশের নাগরিক না? আমরা তাদের কথা দিচ্ছি, আমরা সবাইকে বুকে ধারণ করে সামনে আগাব। আমরা সকলের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করব।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের এটিম মাঠে নওগাঁ জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, কোনো পরিস্থিতি হলেই যারা মুসলমান নন, তারা ভয়ের সংস্কৃতিতে থাকবেন কেন? সেই ভয়ের সংস্কৃতিকে আমরা গুড়িয়ে একাকার করে দিতে চাই। সেই পরিবেশ আমরা রাখব না। এদেশ আমাদের সকলের। সবাইকে নিয়েই আমরা চলব।
নারীদের ঘরে ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘মায়েদের জন্য ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে—সব জায়গায় মর্যাদা আর নিরাপত্তা—এই দুইটা জিনিস নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম সাহস করবে না নারী জাতির কারও দিকে চোখ তুলে তাকানোর, সেই পরিবেশ তৈরি করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই অবস্থা দেখে অনেকে বেসামাল। ভাই, মাঘ মাসে মাথা গরম করবেন, চৈত্র মাস সামনে। এখনি যদি মাথা গরম করেন, চৈত্র মাসে কী করবেন? মাথা ঠান্ডা রাখেন। মানুষ কী ভাবছে, কান পেতে শোনেন। দেশ বাঁচলে আপনিও বাঁচবেন। এই ভোটটা আগামীতে হবে ইনশাআল্লাহ ইনসাফের প্রতীক।’
শফিকুর রহমান বলেন, নারীদের হুমকি-ধমকি, গায়ে হাত এগুলো যদি বন্ধ না রাখেন, তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, জুলাইয়ের ১৫ তারিখে মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়ার জন্য যেভাবে যুবক ভাইয়েরা গর্জে উঠেছিলেন। আবার বিস্ফোরিত হবে, গর্জে উঠবে। মায়ের অপমান সহ্য করবে না।
তিনি বলেন, ‘শুধু রাজার ছেলে রাজা নয়, বংশ পরম্পরায় নেতা নয়, বরং আজকে যিনি কঠোর পরিশ্রম করে রিকশা চালিয়ে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তার ছেলেরও যে মেধা আছে সেই মেধাকে বিকশিত করে আগামীর প্রধানমন্ত্রী যেন বের হয়ে আসে। তাহলে ওরা বুঝবে, দুঃখি মানুষের কষ্ট। আর এভাবেই জমিদারি প্রথার রাজনীতি ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।’
সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতবাজদের জামায়াত প্রশ্রয় দেবে না উল্লেখ করে দলটির আমির বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার চাঁদাবাজি আমরা করি না। চাঁদাবাজি আমরা কাউকে করতে দেব না। দুর্নীতি আমরা পছন্দ করি না। বগলের নিচে দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেব না। ব্যাংক ডাকাতি আমরা করি না। কোনো ব্যাংক ডাকাতের সঙ্গে আমাদের আপোষ হবে না। মামলাবাজি আমাদের খাসলত (স্বভাব) নয়। মামলা বাণিজ্য যারা করেছেন তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, ৫৪ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা নিজেদের পকেট পুরেছেন। ব্যাংক, বিমা লুট করেছেন। বড় বড় মেগা প্রকল্পের মেগা দুর্নীতি করেছেন। দুর্নীতির টাকা দেশে রাখতে পারে নাই। সেই টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। ক্ষমতায় এলে এই সব চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে আনা হবে।
উত্তরবঙ্গে কৃষির রাজধানী উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সারা দেশের মধ্যে নওগাঁ জেলায় দশ ভাগের এক ভাগ উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু এই জেলা তার ন্যায্য পাওনা পায়নি। নওগাঁ শহরের ভেতর দিয়ে চলা প্রধান সড়কটি চার লেন হওয়া দরকার। জামায়াত ক্ষমতায় এলে এই সড়কটি চার লেন করা হবে। এই জেলায় ব্যাপক পরিমাণে ধান ও ফল উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু কৃষকেরা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় না। উৎপাদিত ফল সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার তৈরি করা হবে। ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা হবে। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো সংরক্ষণ করে পর্যটন শিল্পকে আরও বিকশিত করা হবে।
নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন নওগাঁর বিভিন্ন আসনের প্রার্থীসহ অন্যান্য নেতারা।
১৪ দিন আগে
একটি দল তাইরে নাইরে বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তাদের বড় নেতারাও তাতে সায় দেয়: জামায়াত আমির
নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল হ্যাক করে তাকে বিব্রত অবস্থায় ফেলে একটি দল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, একটি দল তাইরে নাইরে বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। লজ্জাজনকভাবে তাদের চুনোপুঁটিসহ বড় বড় নেতারাও তাতে সায় দেয়। তবে সত্য কখনও ঢাকা থাকে না।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুড়িগ্রাম কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চার দিন আগে আমার এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছিল। একটি দল তাইরে নাইরে বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। লজ্জাজনকভাবে তাদের চুনোপুঁটিসহ বড় বড় নেতারাও তাতে সায় দেয়। তবে আমাদের সাইবার টিম দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছে এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। সত্য কখনো ঢাকা থাকে না।
তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এই যুগে সবচেয়ে বড় দল হলেও আমরা কোনো দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। আমরা পরিবারতন্ত্র বা গোষ্ঠীতন্ত্রও কায়েম করতে চাই না। এমনকি আমরা বাংলাদেশ ইসলামী কিংবা জামায়াতের বিজয়ও চাই না, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।
‘এই বিজয়ের সূচনা হয়েছে তিস্তাপাড় থেকে। সারা বাংলায় এখন মুক্তির গণজোয়ার শুরু হয়েছে। এ আন্দোলনে দেশের মেয়েরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি যুগিয়েছে। মা-বোনদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আমাদের সবকিছুর বিনিময়ে আপনাদের চলাচলে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’
১৫ দিন আগে
জামায়াতের নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। জামায়াতে ইসলামের বিজয়ও আমি চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে সে বিজয় আমাদের সবার।’
তিনি বলেছেন, ‘দল-গোষ্ঠী ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির বিজয় আমাদের কাছে নেই। এই ভোটে পুরোনো রাস্তায় যারা হাঁটতে চাইবে, অন্ধকার গলিতে তারা তাদের রাস্তায় তারা হাঁটুক। আমরা সদর রাস্তায়, আলোকিত রাস্তায় হাঁটব।’
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার কটিয়াদি সরকারি কলেজ মাঠে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত জনতার রায়কে আপনারা সম্মান করুন। সুষ্ঠু নির্বাচনে যিনি নির্বাচিত হয়ে আসবেন, আমরা তাকে অভিনন্দন জানানোর জন্য প্রস্তুত। কিন্তু চোরাই পথে আর কোনো নির্বাচন হবে না এবং দেওয়া হতে যাবে না। সমস্ত চোরাই পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এ দেশকে নিয়ে তোমরা সামনের দিকে এগোবে। এখন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। পেছন দিয়ে যারা কামড়াকামড়ি করে, তাদের আমরা কামড়াকামড়ি করতে দেব। ওরা কামড়াকামড়ি করুক, আমরা জাতিকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব।
জামায়াত আমির বলেন, যারা আমাদের দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পালিয়ে গেছে, ওদের পেটে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনব। এই টাকাগুলো রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। এ দিয়ে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের উন্নয়ন সাধন করা হবে।
জনসভায় কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে আমির অধ্যক্ষ রমজান আলীর সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ জি এস সাঈদ বিন হাবিবসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।
পরে তিনি কিশোরগঞ্জের পাঁচটি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে মার্কা তুলে দিয়ে ভোট চান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আমির অধ্যাপক রমজান আলী। ভোর হওয়ার আগ থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সভাস্থলে আসতে শুরু করেন। জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শরিক বিভিন্ন দলের জেলা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
১৬ দিন আগে