এনসিপি
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা নাহিদ ইসলামের
নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের দলীয়করণের অভিযোগ তুলে বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হবে, আমাদের এমনটা মনে হচ্ছে না। সরকারদলীয় অন্তর্কোন্দলে কয়েক শ মানুষ মারা গেছেন, আহত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন দলীয়করণ হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনও দলীয়করণ হয়েছে। এখন যে অবস্থা আছে, সে অবস্থা থেকে স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘১১ দলীয় জোট থেকে আমরা নির্বাচন কমিশনকে সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা দেব। সেই প্রস্তাবনার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে।’
আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি বাংলাদেশ থেকে চিরতরে বন্ধ হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ, ছাত্র-তরুণরা জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করেছে। আওয়ামী লীগের যে তৎপরতা, এটি পাশের দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা। তারা বাংলাদেশকে চাপে রাখার জন্য এ ধরনের কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই আদর্শিক। আওয়ামী লীগ তো পরাজিত হয়েছে, কিন্তু এখনও ফ্যাসিবাদের দোসর বিভিন্ন জায়গায় আছে। তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই চলমান। আমরা মনে করি, এই ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার আর নতুন চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ শক্তি মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে।’
পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বক্তব্যের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিকের কাজ সাংবাদিক করেছে, সঠিক তথ্য প্রকাশ করেছে। সেটি যদি ভুল হয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার উপায় আছে। পুলিশপ্রধান বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি এ ধরনের কথা বলতে পারেন না।’
মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে পুলিশ, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা জড়িত বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এই সিন্ডিকেটকে যদি আমরা ভাঙতে না পারি, জবাবদিহিতার আওতায় আনতে না পারি, তাহলে মাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব না।’
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারজিস আলম।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংগঠনিক কাজ করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের কারণে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রশাসন চাইলেও সরকারদলীয় বাধার কারণে কিছু করতে পারছে না।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, ঢাকা বিভাগ-দক্ষিণের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুর রহমান অপু এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইয়েদ জামিল।
২ দিন আগে
এনসিপির পুনর্গঠিত আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে৷ কমিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। আর সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে করা হয়েছে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব৷
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে আব্দুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, সারোয়ার তুষার, নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, দিলশানা পারুল, সামান্তা শারমিন এবং এ কে ফ্লোরাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ (আন্তর্জাতিক সেল), এস এম সাইফ মুস্তাফিজ (কোষাধ্যক্ষ), মো. নিজামউদ্দিন, নাহিদা সারোয়ার নিভা, ফরিদুল হক এবং মো. আতাউল্লাহকে যুগ্ম সদস্য সচিব করা হয়েছে।
তবে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেনের পদ অপরিবর্তিত রয়েছে।
৭ দিন আগে
মালয়েশিয়ায় যেতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ৮ লাখ টাকা খরচ অন্যায্য: আসিফ মাহমুদ
মালয়েশিয়ায় কাজ করতে যেতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রায় ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হওয়াকে কোনোভাবেই ন্যায্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি প্রবাসী শ্রমবাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্যান্য দেশের কর্মীদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় যেতে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। প্রায় ৮ লাখ টাকা খরচ করে একজন কর্মীকে বিদেশে যেতে হলে সেটি কোনোভাবেই ন্যায্য বা সমান সুযোগের পরিস্থিতি হতে পারে না।
প্রবাসী শ্রমবাজারের অনিয়মের পাশাপাশি বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা।
তার ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সৌদি আরবের বিমান টিকিটের দাম প্রায় ৩৫০ ডলার বা ৪০ হাজার টাকায় নেমে এসেছিল। এখন একই টিকিটের দাম সিন্ডিকেটের কারণে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা, এমনকি ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
দেশের বিভিন্ন খাতে নতুন করে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।’
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত স্বাধীনতা ও ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন এনসিপির এই মুখপাত্র।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার দরজা খোলা রাখা উচিত। তবে কোনো বাণিজ্যিক বা সামরিক চুক্তিতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে গিয়ে অন্য কোনো রাষ্ট্র বা অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, পররাষ্ট্রনীতি সেভাবেই পরিচালনা করা প্রয়োজন।
দেশের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতিরিক্ত দাম ও বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধ করার পরও নাগরিকেরা পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। এতে দেশের পরিস্থিতি আবার সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।
এ সময় তিনি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কথাও জানান তিনি।
১১ দলীয় জোট ঘোষিত লংমার্চ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসিফ বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক শক্তি মূলত তাদের প্রতিবাদ করার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।
লংমার্চের মাধ্যমে জনগণের দুর্ভোগের বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি শুধু সংস্কারের প্রতিশ্রুতির অংশ নয়, বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধেও একটি প্রতিবাদ।’
ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে দেশবাসী, সহযোদ্ধা, প্রবাসী বাংলাদেশি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এনসিপির মুখপাত্র।
৬০ দিন আগে
গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারলে সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া হবে না: নাহিদ
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারলে সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি এবং বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, পুরো বাংলাদেশ তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে এই মুহূর্তে। সরকারের অপরিকল্পনা, সরকারের নজিরবিহীন লুটপাট দুর্নীতি এর জন্য দায়ী। এই সরকার যদি গ্যাস সরবাহ করতে না পারে, গ্যাসের দাম যদি না কমায়, বিদ্যুৎ যদি সরবাহ করতে না পারে, চাঁদাবাজির কারণে কেউ ব্যবসা করতে পারছে না— এই সকল পরিস্থিতির যদি পরিবর্তন করতে না পারে, আমরা এই সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেব না।
তিনি আরও বলেন, তারা বলেছিল এই বাজেট হওয়ার পরে কোনো কিছুর দাম বাড়ে নাই। কোনো কিছুর দাম নাকি বাড়বে না। এইরকম একের পর এক মিথ্যা কথা তারা বলে যাচ্ছে। তারা সংবিধান সংশোধন কমিটির নামে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, প্রতারণা করেছে। ফলে এই সরকারকে আমরা একটা প্রতারক সরকার বলতে পারি। একটা বিশ্বাসঘাতক সরকার বলতে পারি। যাদের টাকা নিয়ে তারা নির্বাচন করেছিল এখন তাদের হাতে দেশের সম্পদকে তুলে দিচ্ছে বিএনপির সরকার।
সরকার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারছে না অভিযোগ করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘ভারতের কাছ থেকে যদি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে তারেক রহমানের ভারত সফর কোনোভাবেই এ দেশের জনগণ মেনে নেবে না। দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এসেছে। দেশের গণতন্ত্র, বিচার ব্যবস্থার ওপর আঘাত এসেছে।
‘আমরা দেখতে পেলাম এই সরকার একটা প্রেস রিলিজ দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারে নাই। ফলে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, তারেক রহমানের হাতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন থাকতে পারছে না। তারা যেই জাতীয়তাবাদের কথা বলে সেই জাতীয়তাবাদ দিয়ে তারা সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে পারে নাই।’
সমাবেশে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন এমপি, আরিফুল ইসলাম আদীব, এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতারা বক্তব্য দেন।
৭৭ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘মানহানিকর’ পোস্ট, অব্যহতিপ্রাপ্ত এনসিপি নেতা সালাউদ্দিন গ্রেপ্তার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য অব্যহতিপ্রাপ্ত যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে ঢাকার পূর্ব মনিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই বিকেলে বগুড়া জেলা বিএনপির কার্যালয়ে অবস্থানকালে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল দেখতে পান গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের ফেসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি আপত্তিকর ও উস্কানিমূলক পোস্ট দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তীব্র সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত ব্যক্তি পোস্টটি মুছে ফেলেন। এই ঘটনায় তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বগুড়া ডিবির ওসি ইকবাল বাহার জানান, আজ (বুধবার) দুপুরে আসামি সালাউদ্দিন তানভীরকে বগুড়া সদর আমলী আদালতে হাজির করা হলে জামিন না মঞ্জুর করেন। এরপর তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদী মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বলেন, ওই পোস্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবমাননা করা হয়েছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়েছে। বিষয়টি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অবগতির পর সিদ্ধান্ত নিয়ে গত রবিবার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তা এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে আজ ভোরে ঢাকার পূর্ব মনিপুর থেকে গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
৮৬ দিন আগে
বাধা পেয়ে কানাইঘাটে না গিয়ে সার্কিট হাউজে উঠেছেন এনসিপির নেতারা
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় এনসিপির গাড়িবহরে একাধিক জায়গায় ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর কানাইঘাট উপজেলার পদযাত্রা কর্মসূচিতে না গিয়ে সরাসরি সিলেট সার্কিট হাউজে চলে গিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তারা সিলেট সার্কিট হাউজে পৌঁছান।
তবে কানাইঘাট উপজেলায় পদযাত্রা কর্মসূচিতে তারা যাবেন কি না, সে ব্যাপারে এনসিপির পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে, কানাইঘাট উপজেলায় বিকেল ৩টা থেকেই পদযাত্রা কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান এনসিপির কানাইঘাট উপজেলার দায়িত্বশীল বোরহান উদ্দিন ইউসুফ।
তিনি বলেন, গোলাপগঞ্জে হামলা হয়েছে শুনেছি। আমাদের অনুষ্ঠান এখনও স্থগিত করা হয়নি। কেন্দ্রীয় নেতারা আসবেন কি না, এ ব্যাপারেও জানানো হয়নি। আমরা জানি, সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা আসবেন।
এর আগে, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর গোলাপগঞ্জ উপজেলায় প্রবেশ করলেই ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন স্থানীয়রা। একইভাবে অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার সময়ও ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা গেইটস্থ নূর ম্যানশনের সামনে এনসিপির গাড়িবহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এরপর আবার এনসিপির গাড়িবহর হেতিমগঞ্জের পাঁচ মাইল এলাকায় পৌঁছালে সেখানেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। তবে এ সময় কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এনসিপির দাবি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন।
তবে যারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছেন তাদের মধ্য থেকে কাউকে কোনো দলের স্লোগান দিতে শোনা যায়নি।
৯২ দিন আগে
সিলেটে দুই দফায় সারজিস আলমের গাড়িতে হামলা
সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলমের গাড়িবহরে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে। এতে একটি গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে গোলাপগঞ্জে এবং পরে ৩টার দিকে উপজেলার পাঁচ মাইল বাজারে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়।
হামলাকারীরা ‘বিএনপির সন্ত্রাসী’ বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
তিনি জানান, গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে এনসিপির নেতাকর্মীরা শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠান শেষ করে কানাইঘাটের উদ্দেশে রওনা দেন। অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হয়ে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা ফটকের নূর ম্যানশনের সামনে পৌঁছালে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়।
সে সময় এনসিপির গাড়িবহর ঘিরে একদল যুবক ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানও দিয়েছেন। তারাও ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর সারজিস আলম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। তারা গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’
এর ১৫ মিনিট পরে গাড়িবহরটি পাঁচ মাইল বাজারে পৌঁছালে সেখানে আরেকদফা হামলার কবলে পড়ে। এ বিষয়ে পরে আরেকটি স্ট্যাটাসে সারজিস লিখেছেন, ‘দ্বিতীয় দফায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের উপরে আবার আক্রমণ করেছে সিলেটের পাঁচ মাইল বাজারে। তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চায়?’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ আলম। তিনি জানান, নির্ধারিত এক বাসায় দুপুরের খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে এনসিপির গাড়িবহর পাঁচ মাইল বাজার এলাকায় পৌঁছালে হামলার মুখে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে গোলাপগঞ্জে শহিদ হওয়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতনিবিনিময় করতে গতকাল (বুধবার) দুপুরে গোলাপগঞ্জে যান এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মূখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। তার আগেই গোলাপগঞ্জ চৌমহনী এলাকায় জড়ো হন স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। সারজিস আলমদের গাড়িবহর গোলাপগঞ্জে পৌঁছালে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘এনসিপি ভুয়া’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শুরু করেন।
এরপর এনসিপি নেতারা গোলাপগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে শহিদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে পৌরসভা অডিটরিয়াম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও সারজিস আলমদের গাড়ি ঘিরে ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘এনসিপি ভুয়া’ স্লোগান দেন। এ সময় গাড়ির দিকে কয়েকজন তেড়ে গিয়ে একটি গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা শুরু করে। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়ে এনসিপির গাড়িবহর নিরাপদে চলে যেতে সহযোগিতা করে।
তবে এতে কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছেন গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছবেদ আলী। তিনি বলেন, এনসিপি নেতারা নিরাপদে গোলাপগঞ্জ ছেড়ে গেছেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করে অভিযোগ করেন দলটির নেতারা। এর প্রতিবাদে গতকাল (বুধবার) হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হলেও মৌলভীবাজার থেকে সেখানে যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গল ও বাহুবল এলাকায় একাধিকবার পুলিশের বাধার মুখে পড়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর।
৯২ দিন আগে
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপিকে লাল কার্ড দেখানোর আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপিকে লালকার্ড দেখানোর জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে আয়োজিত জুলাই জাগরণ কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করেছে এবং সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কার্যকর অবস্থান নেয়নি।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে বিএনপি শুধু ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। এ কারণে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণকে বিএনপিকে লাল কার্ড দেখাতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক, হবিগঞ্জ জেলা এনসিপির আহবায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সদস্য সচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে এনসিপির চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল আহমেদ প্রমূখ।
৯৪ দিন আগে
গণভোট অবৈধ হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপি সরকারও অবৈধ: সারজিস
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘জনাব সালাহ উদ্দিন আহমেদ দেশে-বিদেশে যেখানেই থাকেন, এই গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও অবৈধ, বিএনপি সরকারও অবৈধ।’
বুধবার (২২ জুলাই) রাতে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বানিনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘জুলাই পথযাত্রা’ শেষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময় মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুটপাট হয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পেই ১০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। বিএনপিও খাল খননের মেগা প্রকল্প নিয়ে লুটপাট করছে। শ্রমিক দিয়ে খাল খননের কথা বলে বিএনপির নেতাকর্মীদের এবং যারা ১০ বছর আগে মারা গেছেন, তাদের নামও দেওয়া হয়েছে। পরে সেই খাল তারা ড্রেজার দিয়ে খনন করেছে। সেই বালু-পাথরও তারা লুটপাট করেছে। বিএনপির নেতা-খেতাদের টাকা না দিলে কোনো ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বা সদস্য হতে চাইলে বিএনপির নেতা-খেতা হতে হবে। চাঁদাবাজ হোক, দুর্নীতিবাজ বা লম্পট যাই হোক, বিএনপির পদে থাকতে হবে। নয়তো সম্ভব নয়।
‘রাতের নির্বাচন, ডামি নির্বাচন করা ডিসি-এসপিরা ভেবেছিলেন যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সচিব হবেন, উপদেষ্টা হবেন, বড় বড় পদ বাগিয়ে নেবেন। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, আজকে একজনেরও চাকরি নেই।’
এ সময় দলটির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘হাসপাতালে নার্স থাকলে ডাক্তার নেই, ডাক্তার থাকলে নার্স নেই। নার্স থাকলে ওষুধ নেই। এ জেলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঠিক নেই। শিক্ষা ব্যবস্থারও ঠিক নেই। জেলায় একজন মাফিয়া আছেন। তিনি সারা দেশে ত্রাণ বিতরণ করে বেড়াচ্ছেন, অথচ লালমনিরহাট জেলায় ত্রাণ নেই।’
এনসিপির লালমনিরহাট জেলা কমিটির সদস্যসচিব শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
৯৯ দিন আগে
জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা, যা বললেন কাফি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমি দখল, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এ বি এম হাবিবুর রহমান এবং বড় ভাই মো. মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা ও ভাই মাটি কাটার ভেকু মেশিন, ভ্যান, কোদাল ও নির্মাণসামগ্রী নিয়ে বিদ্যালয়ের দাবি করা জমিতে প্রবেশ করেন। সেখানে মাটি কেটে জোরপূর্বক চলাচলের রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করেন তারা।
খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কয়েকজন সহকারী শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং অশালীন আচরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, পরে অভিযুক্তরা প্রায় ৬ শতক জমির মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, বিদ্যালয়ের জমি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকলেও জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। তিনি বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে, প্রশাসন ও আদালত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত তার করুক। তদন্তে যা সত্য প্রমাণিত হবে, দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি সেই রায় মেনে নেব।’
কাফি দাবি করেন, আমার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি ও জমি দখলের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আমার কখনও সামনাসামনি কথাও হয়নি। স্থানীয় লোকজনই বলতে পারবেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
তিনি আরও বলেন, যাদের কাছ থেকে আমি জমি কিনেছি, তারা উচ্চ আদালতসহ তিনটি আদালতে রায় পেয়েছেন। তারাই আমাকে প্রায় ছয় শতক জমি চলাচলের রাস্তা নির্মাণের জন্য বুঝিয়ে দিয়েছেন। তাদের উপস্থিতিতেই আমি রাস্তা নির্মাণ করেছি। আমি কোনো জমি দখল করিনি।
পরিবারের সদস্যদের আসামি করার বিষয়ে কাফি বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি আমার নামে। সেখানে আমার বাবা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের কোনো মালিকানা বা সংশ্লিষ্টতা নেই। তারপরও তাদের আসামি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া বলেন, আদালত মামলাটি নথিভুক্ত করে কলাপাড়া থানার ওসিকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত শেষে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
১০০ দিন আগে