প্রধানমন্ত্রীর-কার্যালয়
হাটহাজারীর দুর্ঘটনায় নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণে শহিদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন। পাশাপাশি শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের পাশে সরকার ও সেনাবাহিনী সব সময় থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের সেনাসদস্যরা প্রাণ দিয়েছেন। তারা দেশের জন্য শহিদ হয়েছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘এই শোকের সময়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং পাশে থাকব। সরকার ও সেনাবাহিনী সব সময় আপনাদের পরিবারের পাশে থাকবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের দেখভালেও সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে।’
পরে প্রধানমন্ত্রী শহিদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।
১ দিন আগে
বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিতিশীলতা না করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সরকারের মেয়াদে কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।
এছাড়া শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তিন ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ সময়মতো ঠিক করবে, তারা কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকবে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে সরকারের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এটি পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগে যে অবস্থায় ছিল, সে রকম একটা অবস্থায় ফিরে আসবে।’
সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার পর গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়। এতে শিল্পসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট সমস্যাটি ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি গত এক মাসে মোটামুটি সম্পন্ন করা হয়েছে। শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে।
২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালটি গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাগুলোও দীর্ঘদিনের বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো কিছু পরিকল্পনা করা এবং তা বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।’
সভায় বিভিন্ন পরিকল্পিত উদ্যোগ কখন শেষ করা হবে, তার সম্ভাব্য সময়সীমাও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবায়নের সময় এসব সময়সীমায় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।
ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাতের কোনো ক্ষতি হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের স্বার্থের বিষয় নয়। এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
২ দিন আগে
কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো ও তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানিনির্ভরতা আমাদের ধীরে ধীরে কমাতে হবে। এ জন্য গবেষণার ফলাফল, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচসুবিধা ও যান্ত্রিকীকরণ দ্রুত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে দেশে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয় থেকে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান এবং লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পৌঁছান।
বৈঠকে কর্মকর্তারা কৃষি খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আমদানিনির্ভর ভোজ্যতেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সরিষার উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়। সরিষার উৎপাদন ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮ দশমিক ২৪ লাখ টন থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়, যার মধ্যে রয়েছে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে বায়ুপ্রবাহ প্রযুক্তি চালু এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণ।
মন্ত্রণালয় মাঠপর্যায়ে লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসলের জাত সম্প্রসারণেও কাজ করছে বলেও জানায়।
কৃষি গবেষণায় অগ্রগতির কথা তুলে ধরে কর্মকর্তারা জানান, এখন পর্যন্ত মোট এক হাজার ৯০টি ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫৫টি ধানের জাতও রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে।
শ্রম ও উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষির যান্ত্রিকীকরণের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সরকার কৃষি যন্ত্রপাতির দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও ধান রোপণযন্ত্রের মতো কৃষি সরঞ্জাম কৃষকদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে সহজলভ্য করতে কাজ করছে।
সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচের সম্প্রসারণ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে দেশে দুই হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক সেচ সম্প্রসারণ কৃষকদের সেচ খরচ ও প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
কৃষকদের সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া কৃষক কার্ড কর্মসূচির অগ্রগতিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। বৈঠকে জানানো হয়, প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।
এছাড়া খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
৩ দিন আগে
সমৃদ্ধ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যবসায়ী, তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমৃদ্ধ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নভো থিয়েটারে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬ উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ পরিচালনায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আসুন আমরা সবাই মিলে এ রকম একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে কাজ করি, যাতে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত সেই রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারি।
উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও গবেষকদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সব সময় সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে তাদের পাশে থাকবে।
এ সময় সরকার, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, গবেষক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তাদের দেওয়া বক্তব্য ও উপস্থাপনাগুলো আগামী দিনের জন্য দেশের করণীয়র একটি সামগ্রিক রূপরেখা তুলে ধরেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী বক্তারা, বিশেষ করে ড. আনিসুজ্জামানের উপস্থাপনা ও বক্তব্যে আগামী দিনের কর্মপন্থা মোটামুটিভাবে নির্ধারিত হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যদি এসব কর্মপন্থা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করতে পারি, তবেই আমরা আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হব।
দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান রাষ্ট্র ও সরকারের প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের সবার সহযোগিতা চাইছি। রাষ্ট্রের জন্য আপনাদের সহযোগিতা অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অন্যরা।
স্থানীয় উদ্ভাবনকে নীতিগত সহায়তা, শিল্প, বিনিয়োগ ও বাজারের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষক ও উন্নয়ন সহযোগীরা একত্রিত হয়েছেন। স্থানীয় উদ্ভাবক ও উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোর সঙ্গে টেকসই অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠাই এর লক্ষ্য।
সরকারি ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা মেলায় অংশ নিচ্ছেন।
মেলায় প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে।
আয়োজকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে অনেক সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি ও ধারণা তৈরি হলেও নীতিগত সহায়তা, প্রাথমিক অর্থায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাবে সেগুলো বাজারে পৌঁছাতে পারে না। এ ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক বাধা দূর করা, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা মেলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬ উদ্বোধনের পর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিকাশেরর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল কাদীর তুলে ধরেন, কীভাবে মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবা (এমএফএস) সাধারণ নাগরিকদের জন্য আর্থিক সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে সহজ ও উন্মুক্ত করেছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও প্রত্যক্ষ করেন, কীভাবে এমএফএস অ্যাপের জামানতহীন ডিজিটাল ঋণ ও বিভিন্ন ব্যাংকের সঞ্চয় সেবা প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে।
মেলার দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্যসেবায় উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়ে একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে সেখানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) এবং ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) এ মেলার কৌশলগত অংশীদার। আর জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এর কারিগরি অংশীদার।
৪ দিন আগে
ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের সপ্তাহে এক ঘণ্টা সময় দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশের তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রত্যেকে সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা নিজের বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে সময় দিলে পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তন সম্ভব।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’ উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে আপনি যদি আপনার নিজের বাসা হোক, স্কুল-কলেজ বা প্রতিষ্ঠান হোক—একটা ঘণ্টা করে প্রতি সপ্তাহে আমরা প্রত্যেকটা মানুষ সময় দিই... যে বাসায় থাকি আমরা, যে জায়গায় কাজ করি আমরা, যে প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করি আমরা, যেখানেই থাকি না কেন আমরা—একটা ঘণ্টা যদি আমরা সেই জায়গাটাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য কাজ করি, তাহলে অবশ্যই দ্রুততার সঙ্গে আমরা এই পরিবেশের পরিবর্তন করতে সক্ষম হব।’
তিনি বলেন, দেশে স্কাউটসের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ, বিএনসিসির সদস্য সংখ্যা ২২ হাজার। প্রাথমিক বিদ্যালয়-মাদরাসাসহ সারা দেশে হাইস্কুল, মাদরাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়-মাদরাসাসহ এ সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি।
‘এতগুলো মানুষ আমরা যদি দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, কেউ কি ঠেকিয়ে রাখতে পারবে? না, কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না,’ বলেন তিনি।
তরুণ সমাজকে দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণ সমাজ সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। কাজেই পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই তরুণ সমাজ করেছে।’
তিনি বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গুর সমস্যা সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। হয়তো আমরা ১০০ শতাংশ পারব না, কিন্তু অন্তত ৮০ শতাংশ আমরা পারব।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাঙাচোরা কাগজপত্র, প্লাস্টিক বা বিভিন্ন পাত্রে পানি জমে এডিস মশার লার্ভা তৈরি হয়। সবাই মিলে এসব জায়গা পরিষ্কার করলে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, কেউ হয়তো মনে করতে পারেন, ‘আমার কী হবে, আমি তো দূরে থাকি’। কিন্তু ওই ব্যক্তির কোনো আপনজন বা প্রিয়জন অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। ডেঙ্গু মশা বা অন্য কোনো রোগ ছড়িয়ে পড়ে পরিবারের সদস্যদেরও অসুস্থ করতে পারে।
‘কাজেই আসুন, নিজেকে সুস্থ রাখি আমরা, নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখি, নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি, নিজের দেশকে আমরা সুস্থ রাখার চেষ্টা করি,’ বলেন তিনি।
রাস্তাঘাটে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বন্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, যারা ময়লা ও আবর্জনা ফেলেন, তাদের নিরুৎসাহিত করতে হবে। তাদের বলতে হবে, ময়লা করবেন না।
তিনি বলেন, কয়েক কোটি তরুণ ও শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ যদি পরিচ্ছন্নতার কাজে এগিয়ে আসে, তাহলে দেশকে পরিবর্তন করা সম্ভব।
তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের তরুণ সমাজ দেখিয়ে দিয়েছে দেশকে কীভাবে পরিবর্তন করতে হয়। পরিবর্তন হয়েছে। তরুণ সমাজের কাছে আমার আহ্বান—আসুন এবার রাষ্ট্রকে, দেশকে আমরা পুনর্গঠন করি।’
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিন মাসব্যাপী এ অভিযান আজ ১২ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।
৪ দিন আগে
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৩ মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় রোগটি প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী তিন মাসের বিশেষ অভিযান উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
‘নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি’ ও ‘নিয়মিত প্রতিদিন জমা পানি ফেলে দিন’—এ দুটি স্লোগান সামনে রেখে এ অভিযান পরিচালিত হবে।
আয়োজকেরা জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইড, স্কাউট, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্য এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবী ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সচিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকির সময় বিবেচনায় নিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাস এ অভিযান চলবে।
সমন্বিতভাবে নগর, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অভিযানটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা যুক্ত থাকবেন।
মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলো কার্যক্রম সমন্বয় করবে। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকেরা এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) কর্মসূচির তদারকি করবেন।
পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ কর্মসূচিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবীদের পাশাপাশি স্কাউট, বিএনসিসি, গার্ল গাইড, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটি’র আহ্বায়ক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
এছাড়া আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এ অভিযান শুরু করা হলো। সম্প্রতি সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এ অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
৪ দিন আগে
বাকস্বাধীনতা যেন শালীনতার সীমা অতিক্রম না করে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গালাগালির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জনপরিসরে কথাবার্তায় দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন জনগণের সব গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, যার মধ্যে বাকস্বাধীনতাও ছিল। বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ রয়েছে এবং বাকস্বাধীনতা অবারিত। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, বাকস্বাধীনতা যেন শালীনতার সীমা অতিক্রম না করে।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণের কাঁধে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী শাসন আবারও চেপে বসুক, তা কেউই দেখতে চায় না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একইভাবে কোনো সচেতন মানুষ বা দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ চাইবেন না যে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গালাগালির সংস্কৃতিতে পরিণত হোক। এ কারণেই দল-মতনির্বিশেষে আমাদের সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, পারিবারিক পরিবেশে যে শব্দগুলো ব্যবহার করতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে না, সেগুলো জনপরিসরে কেন ব্যবহার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জনজীবনে আমরা কেন এমন শব্দ ব্যবহার করব? জনপরিসরে এমন শব্দ ব্যবহার থেকে আমরা কেন বিরত থাকতে পারি না? মাননীয় স্পিকার, আপনার মাধ্যমে আমি এই প্রশ্নটি এই সংসদের সব সদস্য এবং দেশের সব সচেতন নাগরিকের সামনে রেখে যেতে চাই।
তারেক রহমান বলেন, আমরা যদি সত্যিকার অর্থে এ বিষয়ে একমত হই, তাহলে আসুন আমরা সবাই গালাগালির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমর্থনে সংসদ সদস্যরা বারবার টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান।
তৃতীয় অধিবেশনের শেষ দিনের বৈঠক বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে শুরু হয়। মাগরিবের নামাজের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশন সমাপ্ত করে রাষ্ট্রপতির জারি করা আদেশ পাঠ করে শোনান।
সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুল রহমান প্রথমে বক্তব্য দেন। এরপর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন। তিনি সন্ধ্যা ৭টা ৪৪ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে রাত ৮টা ১৭ মিনিটে তা শেষ করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ২৭ আগস্ট শুরু হয়েছিল।
৬ দিন আগে
পাঁচ বছরে সব ডিজেলচালিত সেচ পাম্প সৌরবিদ্যুতে আনা হবে: প্রধানমন্ত্রী
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ডিজেলচালিত সেচ পাম্পগুলোকে সৌরবিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থার আওতায় নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের (মেহেরপুর-১) সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
পর্যায়ক্রমে সব ডিজেলচালিত পানির পাম্পকে সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের এ পরিকল্পনা রয়েছে। যেসব স্থানে ডিজেল দিয়ে পানির পাম্প চালানো হয় সবগুলোকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আমরা সৌর বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে যাব।
ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে সেচের জন্য কৃষকদের বিনা মূল্যে সৌরবিদ্যুৎ দেওয়ার সরকারের পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান এ কথা বলেন।
এছাড়া সংসদ সদস্যের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো নিয়ে সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
সেই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট, ভূমিতে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ থেকে সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াট এবং বায়ু, বর্জ্য থেকে জ্বালানি, জলবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, কৃষিজমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
সংরক্ষিত নারী আসন-১১-এর সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর আরেকটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে সরকার। এসব ব্যাটারি উৎপাদনকারী শিল্পকে সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারিতে এমন অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। অন্যদিকে লিথিয়াম ব্যাটারি পরিবেশের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ।
তিনি আরও জানান, সরকার লিথিয়াম ব্যাটারিকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে। লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনের জন্য যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, সরকার তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।
এ সময় ভবিষ্যতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। প্রথম আধা ঘণ্টা প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।
৭ দিন আগে
পলিথিন-প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।
সভায় পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ানো, বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম; মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি; প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার; ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শনিবার থেকে দেশব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতায় জোর দিয়ে শনিবার থেকে দেশব্যাপী তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সচিবালয়ে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক এক সভায় এ কর্মসূচি শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তার উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাসকে ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকির সময় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডেঙ্গু কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় সিটি করপোরেশনগুলো কার্যক্রম সমন্বয় করবে। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) কার্যক্রম সমন্বয় করবেন।
পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবক, স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে।
প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বাড়ি বাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবে। তারা এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলও চিহ্নিত করবে এবং ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে বাসিন্দাদের সচেতন করবে।
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচার চালানোরও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন প্রচার ও অনলাইনে নিয়মিত ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা প্রচারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ডা. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় যোগ দেন
৮ দিন আগে