সংসদ-সচিবালয়
স্বল্প সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তিকরণ সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ’ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য রাখেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ববর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশগুলো নিষ্পত্তির আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও শবে বরাতের দীর্ঘ ছুটির কারণে কার্যদিবস কম থাকলেও সংসদ সচিবালয়, আইন মন্ত্রণালয়, বিজি প্রেস ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিনরাত পরিশ্রমে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে।
সময়ের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিধি মোতাবেক জাতীয় সংসদের স্পিকারের বিশেষ এখতিয়ারে বিলগুলো উত্থাপন ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, স্থায়ী কমিটিগুলো এখনও গঠিত না হওয়ায় একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’র মাধ্যমে এই ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা হয়েছে।
কমিটির সুপারিশ ও পাসের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, ৯৮টি অধ্যাদেশ অবিকল অবস্থায় সর্বসম্মতিক্রমে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অবশিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংশোধিত আকারে অথবা রহিত ও হেফাজতকরণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বিল সংখ্যা নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার প্রশ্ন ও ভুল বোঝাবুঝির জবাবে মন্ত্রী বলেন, আইনমন্ত্রী ফ্লোরে জবাব দিয়েছেন যে ৯১টার মধ্যেই কিন্তু বাকি ১৭টা অন্তর্ভুক্ত। কারণ কোনো কোনো অধ্যাদেশ জারি হওয়ার ১৫-২০ দিন, এক মাস, দুই মাস পরে দ্বিতীয় সংশোধনী আনা হয়েছে, কোথাও কোথাও তৃতীয় সংশোধনীও আনা হয়েছে। মূলত অধ্যাদেশ একটাই। যখন বিল আকারে উত্থাপন করা হয় জাতীয় সংসদে, সব অধ্যাদেশগুলোকে এক করে একটা বিল আকারেই উত্থাপন করা হয়েছে। এটা হয়তো বিরোধী দলীয় নেতা খেয়াল করেননি।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর' বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উদার। কিউরেটর নিয়োগ ও পদত্যাগ-সংক্রান্ত বিধিগুলো আরও স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার সুযোগ রয়েছে।
আগামী অধিবেশনে এটি আরও আলোচনা ও সংশোধনের মাধ্যমে পুনরায় উপস্থাপন করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও আইসিটি আইন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমি নিজে গুমের শিকার। আমরা চাই না, তাড়াহুড়ো করে কোনো ত্রুটিপূর্ণ আইন পাস হোক, যাতে অপরাধীরা আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যায়। কিছু অসঙ্গতি দূর করে সকল অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই আইনগুলোকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা হবে যাতে ভুক্তভোগীদের জন্য সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
তিনি আরও বলেন, সংসদীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী বিরোধী দল বিধি মোতাবেক ওয়াকআউট করতেই পারে। তবে সংসদের বাইরে গিয়ে অসত্য তথ্য বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হলে তা জাতির সামনে পরিষ্কার করা সরকারের দায়িত্ব।
তিনি উল্লেখ করেন, স্পিকার বিরোধী দলীয় সদস্যদের নজিরবিহীনভাবে দীর্ঘ সময় কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন এবং তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তিগুলোও রিপোর্টে হুবহু সংরক্ষণ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ওয়াকআউট করা যৌক্তিক হয়নি বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
২ দিন আগে
শপথ নিলেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য
শপথ নিয়েছেন বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা এবং মাহমুদুল হাসান রুবেল।
রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় সংসদের নিজ কার্যালয়ে তাদের শপথ পাঠ করান স্পিকার মেজার (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
শপথগ্রহণের পর দুই সংসদ সদস্য শপথ নিবন্ধনে সই করেন এবং স্পিকারের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিসহ অন্যান্য হুইপ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওস সময় ৩০০টির মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়।
বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, তারেক রহমান আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় বগুড়া-৬ আসন শূন্য হয়। ফলে সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই দুই আসনে গত ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
২ দিন আগে
স্থায়ী আইনে রূপ নিল ৯১ অধ্যাদেশ, আজই পাস হলো ২৪টি
জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা মোট ৯১টি অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে পরিণত করতে বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে আজকের অধিবেশনে ২৪টি বিল পাস হয়।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’, ‘সাইবার নিরাপত্তা বিল, ২০২৬’, ‘জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ এবং ‘জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’সহ মোট ২৪টি বিল পাস হয়।
এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপ দিতে ৬৭টি বিল পাস করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৫ এপ্রিল ২টি, ৬ এপ্রিল ৭টি, ৭ এপ্রিল ১৪টি, ৮ এপ্রিল ১৩টি এবং ৯ এপ্রিল ৩১টি বিল পাস হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি ৯৮টি বিলকে তাদের মূল আকারে এবং ১৫টি বিল সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল। এই ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি গত ২ এপ্রিল সংসদে তাদের প্রতিবেদন পেশ করে।
বাকি ২০টি অধ্যাদেশের মধ্যে বিশেষ কমিটি ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করে এবং ১৬টি নতুন বিল শক্তিশালী আকারে পুনরায় ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে মোট ৯১টি বিল সংসদে পাস করে অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে পরিণত করা হয়।
আজ (শুক্রবার) পাস হওয়া ২৪টি বিলের মধ্যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’সহ কয়েকটি বাদে বাকি সবগুলোই সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। কারণ এসব বিলের ধারার ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে কোনো আলোচনার প্রয়োজন পড়েনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন এবং পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পাস হওয়া ২৪টি বিলের মধ্যে রয়েছে— নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) বিল, জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন বিল এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিল।
অন্যান্য বিলের মধ্যে রয়েছে— আমানত সুরক্ষা বিল, আবগারি ও লবণ বিল, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, অর্থ (অর্থবছর ২০২৫-২৬) বিল, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) বিল এবং জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল।
বাকি বিলগুলো হলো— সাইবার নিরাপত্তা বিল, মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬।
৪ দিন আগে
জামায়াতের এমপি সাইফুলকে ‘আরও মনোযোগী’ হওয়ার পরামর্শ স্পিকারের
সংসদ অধিবেশনে বর্তমানে উত্থাপিত নয় এমন একটি বিল নিয়ে ভুলবশত আলোচনার সূত্রপাত করায় জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলমকে ‘আরও মনোযোগী’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এভাবে আইন প্রণয়ন কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের সকালের অধিবেশনে এই ঘটনা ঘটে। তখন অধিবেশনে ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ অবিলম্বে বিবেচনার জন্য উত্থাপন করা হচ্ছিল।
শুরুতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপনের অনুমতি চান। স্পিকারের অনুমতির পর মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বিলটি পেশ করেন এবং এটি অবিলম্বে বিবেচনার জন্য প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দেওয়ার ঠিক আগে ঢাকা-১২ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. সাইফুল আলম কথা বলার জন্য সুযোগ চান।
স্পিকার জানতে চান তিনি নির্দিষ্ট কোন বিলটি নিয়ে কথা বলতে চান।
জবাবে ওই সংসদ সদস্য বলেন, আমি ‘ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংরক্ষণের পক্ষে কথা বলছি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপ করে জানান যে, ওই মুহূর্তে এই ধরনের কোনো বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি তো পেশ করা হয়নি; এই নামে কোনো বিল এখন নেই।
নিজের ভুল বুঝতে পেরে সংসদ সদস্য স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিজ আসনে ফিরে যান। তবে এই অসতর্কতার জন্য স্পিকার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মাননীয় সদস্য আরও মনোযোগী হবেন। আইন প্রণয়ন কর্মসূচির মধ্যে আপনি বাধা দিচ্ছেন।
এই আলোচনার পর স্পিকার সংসদীয় প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখেন। পরবর্তীতে ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ সর্বসম্মতিক্রমে কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পরে অধিবেশন মুলতবি হওয়ার আগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রথমে যে কার্যতালিকা তাদের দেওয়া হয়েছিল, সেখানে ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন’ ছিল। সেটি আলাদাভাবে আসবে কি না, তা নিয়ে তারা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।
জবাবে স্পিকার সংসদকে আশ্বস্ত করেন যে, উল্লিখিত আইনটি পরবর্তী কোনো সময়ে অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে।
৪ দিন আগে
চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত: আমীর খসরু
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রাথমিক উদ্দেশ্য কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, বরং একটি টেকসই, স্বচ্ছ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি বিনির্মাণ করা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী গণম্যান্ডেট নিয়ে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি ফিরিয়ে আনতে এবং সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে এবং আমাদের দায়িত্ব হলো একটি উন্নত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার মাধ্যমে সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটানো।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে এমন এক অর্থনীতি পেয়েছে যা কাঠামোগত দুর্বলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক খাতের চাপ, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং সুশাসনের চ্যালেঞ্জে জর্জরিত। এর জন্য জরুরি সংস্কার প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা জ্বালানি বাজার, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।
আমীর খসরু বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। তা সত্ত্বেও, নাগরিকদের কষ্ট লাঘব করতে সরকার জ্বালানির দাম বাড়ায়নি। ফলে চলতি অর্থবছরে মূল বাজেটের বাইরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হবে। তিনি সতর্ক করেন যে, এই অপ্রত্যাশিত ব্যয় বাজেট ঘাটতি বাড়াবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এই অতিরিক্ত আমদানির জন্য প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বাজেট সহায়তা ও পেমেন্ট ব্যালেন্স স্থিতিশীল রাখতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থায়নের চেষ্টা করছে।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক যাত্রার ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আর্থিক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ কমানো এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনতে করপোরেট বন্ড, সুকুক এবং গ্রিন বন্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে খসরু বলেন, ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে। প্রকৃত কৃষক ও খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড চালু এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া আইসিটি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে শক্তিশালী করার কাজ চলছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে, যেখানে বিভিন্ন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে এবং সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে।
৪ দিন আগে
সংসদ থেকে আবারও বিরোধী দলের ওয়াকআউট
যৌক্তিক বাধা সত্ত্বেও সংসদে পাস হওয়া গণবিরোধী বিলের দায় এড়াতে ফের জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছে বিরোধী দল।
ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ৫টা ৫৬ মিনিটে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।
বিলগুলো পাস হওয়ার পর সংসদে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, বিরোধীদলের যৌক্তিক বাধা স্বত্ত্বেও যে কয়টি গণবিরোধী বিল আজকে পাস হয়েছে। আমরা তার দায় নিতে চাই না। এই জন্য আমরা এখন সংসদ থেকে ওয়াকাআউট করছি।’ এরপরই জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে অধিবেশন থেকে বের হয়ে যান তিনি।
বিরোধীদের এ পদক্ষেপের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি ধন্যবাদ জানানোর জন্য উঠছি। আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ফাস্ট রিডিং, সেকেন্ড রিডিং, থার্ড রিডিং, সব রিডিংয়ে উনারা সহায়তা করেছেন। কেউ কেউ হাত তুলে সমর্থনও দিয়েছেন। সমস্ত প্রক্রিয়া অংশগ্রহণের পরে ওয়াকআউটের কোনো মানে আছে কিনা এটা জানার জন্য। সমস্ত প্রক্রিয়া তারা অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি মাগরিবের নামাজের পর তারা আবার অংশ নেবেন।
এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিরোধিতা করে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের প্রশ্নে সংসদে আলোচনা হলেও তা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ওয়াকআউট করেছিল বিরোধী দল।
৫ দিন আগে
অধ্যাদেশ অনুমোদন ও বাতিলে সংসদে ১২টি বিল পাস
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশ অনুমোদন এবং কিছু ক্ষেত্রে বাতিলের উদ্দেশ্যে জাতীয় সংসদে ১২টি বিল পাস করা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি অধ্যাদেশ অবিকল রেখে বিল হিসেবে পাস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিলগুলো পাস হয়।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে ৯টি বিলের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আনা বিধানগুলো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, তিনটি বিল পাস করা হয়েছে আগের অধ্যাদেশগুলো পুরোপুরি বাতিলের মাধ্যমে। যে ৩টি বিল অধ্যাদেশ বাতিলের জন্য পাস করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রবর্তন) বিল, ২০২৬’। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারিকৃত সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশটি বাতিল করে ২০০৯ সালের মূল ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’ পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো সংসদে উত্থাপন করেন। স্পিকার বিলগুলো ভোটের জন্য পেশ করলে সংসদ সদস্যরা কণ্ঠভোটে সেগুলো পাস করেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশ বহাল রেখে পাস হওয়া ৯টি বিলের মধ্যে রয়েছে— জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধন) বিল, শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) বিল, সরকারি ক্রয় (সংশোধন) বিল, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) বিল এবং আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) বিল।
এছাড়া আগের অধ্যাদেশ বাতিল করতে পাস হওয়া অন্য দুটি বিল হলো— ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’। এই দুটি বিলের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারিকৃত সংশ্লিষ্ট দুটি অধ্যাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
৫ দিন আগে
সরকারি ক্রয় আইন সংস্কারে সংসদে বিল পাস
দেশের সরকারি ক্রয় কাঠামোকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ‘সরকারি ক্রয় (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট) (সংশোধন) অধ্যাদেশ- বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে এ বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এই প্রস্তাবিত আইনের লক্ষ্য হলো প্রায় দুই দশকের পুরনো আইনটি সংস্কার করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা; যেখানে টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং অর্থের সঠিক মূল্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বিলটির মাধ্যমে ‘সরকারি ক্রয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’কে আইনি রূপ দেওয়া হয়েছে যা আগে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারি করা হয়েছিল।
এই আইনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো এর মূল উদ্দেশ্যে। সংশোধনীতে শুধু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর নজর দেওয়ার পরিবর্তে একটি বিস্তৃত ম্যান্ডেট যুক্ত করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার, দক্ষতা, নৈতিকতা, গুণমান এবং টেকসই ক্রয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রথমবারের মতো এই আইনে টেকসই সরকারি ক্রয় ধারণাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে পণ্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারকে পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। নতুন ১৬ ধারা অনুযায়ী, দরপত্র নথিতে এমন কোনো শর্ত যুক্ত করা যাবে না যা পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে অথবা শ্রমিকের অধিকার (মজুরি, সামাজিক সুবিধা এবং শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণ) লঙ্ঘন করে।
বিলে ‘রিভার্স অকশন’ বা বিপরীত নিলামের মতো প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন করা হয়েছে। এটি একটি রিয়েল-টাইম ইলেকট্রনিক বিডিং প্রক্রিয়া, যেখানে সরবরাহকারীরা কাজ পাওয়ার জন্য ধীরে ধীরে তাদের দাম কমিয়ে প্রতিযোগিতা করেন। এর ফলে সাধারণ পণ্যের ক্ষেত্রে সরকারের খরচ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, সমস্ত সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টাল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়মের যেকোনো ব্যতিক্রমের জন্য এখন থেকে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) পূর্বানুমতি লাগবে।
কাঠামোগত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে বিপিপিএকে প্রাথমিক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান এবং ভৌত সেবাকে ক্রয়ের একটি আলাদা বিভাগ হিসেবে চিহ্নিত করা। আইনটি কাঠামোগত চুক্তি ব্যবহারকেও প্রসারিত করেছে, যার ফলে একাধিক সরকারি সংস্থা আগে থেকে নির্বাচিত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারবে।
বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনগুলোর জন্য সরকারি ক্রয় সহজ করতে বিলে বিধান রাখা হয়েছে যে, তারা সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় আইন বা আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে পারবে। তবে এর জন্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পূর্বানুমতি প্রয়োজন হবে। দেশীয় শিল্প রক্ষায় বিলে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রযুক্তি সেবার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দরপত্রে দেশীয় কোনো পরামর্শক সংস্থাকে যৌথ অংশীদার হিসেবে রাখতে হবে।
বিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমীর খসরু বলেন, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা, সময়ানুবর্তিতা এবং মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার আইনি কাঠামো হিসেবে সরকার ২০০৬ সালের ৬ জুলাই ‘সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬’ প্রণয়ন করেছিল।
প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও সংযোজনের মাধ্যমে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ ও সহজ করার লক্ষ্যে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই আইনটি মোট পাঁচবার সংশোধন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি ক্রয়ে দক্ষতা, নৈতিকতা ও গুণমান নিশ্চিত করা এবং অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহারকে প্রাসঙ্গিক মনে করায় এই বিষয়গুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
মন্ত্রী আরও জানান, ২০০৬ সালের আইনের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ক্রয়ে মূল্যের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণের ফলে প্রতিযোগিতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। ফলে একটি বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রয় কৌশল প্রণয়ন, টেকসই সরকারি ক্রয় ধারণা প্রবর্তন, সম্পদ নিষ্পত্তি, বিপরীত নিলাম এবং অবকাঠামোগত সেবাকে আলাদা ক্রয় হিসেবে গণ্য করাসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ মে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘সরকারি ক্রয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল যা সরকার গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কার্যকর করেছে।
৫ দিন আগে
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে সংসদে বিল পাস
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকারীদের দায়মুক্তির বিধান রেখে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ বিল সংসদে পাস হয়েছে। এর ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা পাবেন।
বুধবার (৭ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের একাদশ দিনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যদেশের এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এই আইন পাসের ফলে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এবং আইনি কার্যধারা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহারের পথ প্রশস্ত হলো। পাস হওয়া বিলের বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট সকল অভিযোগ অবিলম্বে বাতিল করা হবে।
শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো মামলা দায়ের বা কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে তা আইনত বাধা বা বারিত হিসেবে গণ্য হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজপথের বিপ্লবীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলো।
এ বিলে বলা হয়েছে ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি কার্যকর হয়েছে বলিয়া গণ্য হবে এবং ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে বলবৎ হয়েছে বলে গণ্য হবে।
বিলের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’ অর্থ ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত অভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তি। আইনের বিশেষ তফসিলে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ বলতে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত সকল কার্যাবলিকে বোঝানো হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে ‘বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’ হিসেবে চিহ্নিত করে তা এই সুরক্ষার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন ওই অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নেবে।
সংসদে পাস হওয়া এই আইনের অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো এর শ্রেষ্ঠত্ব বা ওভাররাইডিং ক্ষমতা। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলিই প্রাধান্য পাবে। এর ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতীতে দায়েরকৃত সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা আইনি কার্যধারা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে।
একইসঙ্গে আইনের ৫ নম্বর ধারার বিধান সাপেক্ষে, অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনার জন্য অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা আইনত নিষিদ্ধ বা বারিত করা হয়েছে। এই আইনি রক্ষাকবচ মূলত বিপ্লবীদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আজীবনের জন্য মুক্তি প্রদান করল।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে অত্যন্ত জোরালোভাবে বলা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে সর্বাত্মক সংগ্রাম করেছে, তা রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ হিসেবে স্বীকৃত। ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধের সময় আত্মরক্ষা এবং জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের স্বার্থে আন্দোলনকারীরা যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তাকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
বিল উত্থাপনের সময় আপত্তি তুলে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিলে ‘কমিশন’ বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বোঝানো হয়েছে। আবার সংজ্ঞা অংশে ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ আলাদা করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এনসিপির এ সদস্যের প্রশ্ন ছিল, সঙ্কীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড আর রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে সংঘটিত কার্যাবলির মধ্যে পার্থক্য কে নির্ধারণ করবে?
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী এটি নির্ধারণের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপরই পড়ছে। কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের বর্তমান কাঠামো যদি সরকারনিয়ন্ত্রিত থাকে, তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেখে এ ধরনের সংবেদনশীল অনুসন্ধানের দায়িত্ব দিলে তা নিয়ে আস্থা তৈরি হবে না। কমিশনকে স্বতন্ত্র ও স্বশাসিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে এই আইন কাগজে থাকলেও বাস্তবে এর কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাবে।
তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের অভিযোগ যখন উঠছে, তখন মানবাধিকার কমিশনও একইভাবে প্রভাবিত হবে না, সেই নিশ্চয়তা নেই। তার ভাষায়, ‘কমিশন স্বাধীন না হলে জুলাই-সংক্রান্ত সুরক্ষার এই কাঠামোও কার্যকর হবে না।’
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা দেওয়া এখন জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। এ বিসয়ে তার ভাষ্য, ‘জুলাই যোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এ উদ্যোগ এসেছে এবং জুলাই জাতীয় সনদেও এ বিষয়ে অঙ্গীকার রয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার ওপর ‘গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ এবং তাদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ নিপীড়ন চালিয়েছিল। প্রতিরোধের মুখে অনেকে প্রাণও হারিয়েছেন। সেই বাস্তবতায় তাদের জন্য আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দরকার বলেই সরকার এই অধ্যাদেশ জারি করেছিল।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বিল নিয়ে কারও সংশোধনী থাকলে তা আগের ধাপে আনা যেত। এই পর্যায়ে এসে মূল নীতিগত প্রশ্ন তুলে বিল উত্থাপন ‘ঠেকানোর’ সুযোগ নেই।
মানবাধিকার কমিশন বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন করতে চায়। তবে গুমবিরোধী আইন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত আইন এবং মানবাধিকার কমিশনের কাঠামোর মধ্যে কিছু মিল ও ‘ওভারল্যাপ’ আছে। সে কারণে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ কাঠামো চূড়ান্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। সেই কারণেই বিলটি আনা হয়েছে।
৬ দিন আগে
হাম মোকাবিলায় ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, ২.১৯ কোটি ডোজ টিকা নিশ্চিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় অব্যবহৃত মহামারি তহবিল থেকে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তায় প্রায় ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রোমিন ফারহানার করা হাম নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
স্বাস্থমন্ত্রী বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অব্যবহৃত মহামারি তহবিল থেকে ৬০৪ কোটি টাকা জরুরি কেনাকাটার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। গ্যাভির সহায়তায় ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪১৯ কোটি টাকার অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং বিলম্ব এড়াতে সরকার প্রচলিত টেন্ডার প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরাসরি ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করছে।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যুকে সরাসরি হামের কারণে হয়েছে বলে যাচাই করে নিশ্চিত করেছে।
টিকাদান কর্মসূচির পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ৫ এপ্রিল থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান শুরু হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রাথমিক তালিকায় ঢাকা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ না থাকলেও সরকার আগাম পদক্ষেপ হিসেবে রাজধানীজুড়ে এই কর্মসূচি চালাচ্ছে।
পূর্ববর্তী অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমান প্রশাসন প্রায় শূন্য টিকার মজুদ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল উল্লেখ করে সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে নেওয়া জরুরি আর্থিক পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, স্টোরেজ বা মজুদ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘কোল্ড চেইন’ মান বজায় রাখতে এখন মাল্টি-ডোজ ভায়াল (একই শিশিতে একাধিক ডোজ) ব্যবহারের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের সব বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে হামে আরও বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেন। তিনি বেশ কিছু রুটিন টিকার ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জবাবে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। টিকার মজুত এখন স্থিতিশীল হচ্ছে এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
৬ দিন আগে