সংসদ-সচিবালয়
১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় এ ঘোষণা দেন তিনি।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’য় আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সকল ধরনের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে মেধা, সততা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ যোগ্যতাই অন্যতম মাপকাঠি হিসাবে বিবেচনা করা হবে। আমি উল্লেখ করতে চাই, সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবত একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই ধারাবাহিক সংস্কার কেবল দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সহজ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর মধ্য দিয়ে ব্যবসা পরিবেশ উন্নত হবে, দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ—সব স্তরের উদ্যোগে নতুন গতি আসবে, উৎপাদন ও রপ্তানির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থানের পরিসর বিস্তৃত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ, সুশাসন, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রবৃদ্ধির যে পথ আমরা গ্রহণ করেছি, এই অধ্যায়ে বর্ণিত পদক্ষেপসমূহ তারই বাস্তব ভিত্তি নির্মাণ করবে।’
১০ দিন আগে
সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাজেটে ১০ অগ্রাধিকার
সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে আগামী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার বা কর্মপথ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশকালে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির মন্দার পাশাপাশি বৈশ্বিক অস্থিরতায় তৈরি হওয়া নতুন ঝুঁকিসমূহ মোকাবিলার প্রত্যয়কে কেন্দ্রে রেখেই আমরা এবারের বাজেটে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সর্বোপরি ন্যায্যতাকে মূল বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করেছি, সামগ্রিক কৌশল নির্ধারণ করেছি।
তিনি বলেন, আশা করি, এই পরিকল্পনা ও কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে জনমিতিক লভ্যাংশ ও দীর্ঘজীবিতা লভ্যাংশের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক লভ্যাংশও অর্জন করবে।
আমির খসরু বলেন, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে চাই। এ জন্য সরকার ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে বাজেট প্রস্তাব দাঁড় করিয়েছে।
সবার জন্য উন্নয়ন
আমাদের লক্ষ্য সর্বজনের, সব শ্রেণির, সব খাতের, সকল অঞ্চলের সুষম অংশগ্রহণ ও অংশীদারত্ব নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা।
সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা
সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে বাস্তবমুখী দক্ষতানির্ভর ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে যোগ্য মানব সম্পদে পরিণত করা।
দ্বিতীয়ত, মৌলিক অধিকার হিসেবে সবার জন্য মানসম্পন্নত সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা
সর্বজনীন জীবনচক্রভিত্তিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে সকল বয়সের, সকল স্তরের নাগরিকের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি মজবুত করা।
বিনিয়োগ-নির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি
পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি এবং যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান ও আয়বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করা। কৃষিকে উৎপাদন, জীবিকা ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
বিনিয়ন্ত্রণকরণ এবং সাশ্রয়ী ও সহজীকৃত ব্যবসার পরিবেশ
বিনিয়ন্ত্রণকরণের মাধ্যমে সরকারি কাজে বিলম্ব ও অপ্রয়োজনীয় ধাপ পরিহার করে একটি স্বচ্ছ, সহজ ও সাশ্রয়ী ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা।
আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা
ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করে আমানতকারীদের আস্থা ও দায়বদ্ধতা ফিরিয়ে আনা। পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহ প্রদান।
জ্বালানি নিরাপত্তা
উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ-জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি নিরাপত্তা গড়ে তোলা।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ
একটি ও ভবিষ্যৎমুখী, গতিশীল ও প্রকৃত অর্থে প্রযুক্তিগতভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তর করা।
প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে দেশকে রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় জনগণের অংশগ্রহণে বনায়নকে একটি সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিবেশগত বিবেচনার পাশাপাশি, নদীসমূহের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার মাধ্যমে একটি টেকসই, সবুজ ও পরিবেশ-সহনশীল বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।
স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা
টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেধাতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়ন দক্ষ ও কার্যকর করে তোলা।
নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই ব্যয় ছিল ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের (৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা) চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের গতি সচল রাখতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ (এডিপি) মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।
১০ দিন আগে
২০২৮ সালের মধ্যে সবাইকে ই-হেলথ কার্ডের আওতায় আনা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশের সকল নাগরিককে ২০২৮ সালের মধ্যে ই-হেলথ কার্ডের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান ।
বুধবার (১০ জুন ) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নুরুন্নেসা সিদ্দিকার (সংরক্ষিত নারী আসন-৩৭) লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে সব নাগরিককে ই-হেলথ কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সে কারণে সরকার ধীরে ধীরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার অঙ্গীকার করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া।
ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা সম্প্রসারণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার ই-হেলথ কার্ড প্রদান করবে। পাশাপাশি, জেলা হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
এ ছাড়াও নতুন হাসপাতাল স্থাপন, বিদ্যমান অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বিনামূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মা ও শিশুর জন্য পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, ওষুধ ও টিকার সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, সমন্বিত ও আধুনিক পুষ্টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং তামাক ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি ডিজিটাল হেলথ আইডি চালুর পরিকল্পনা করেছে। এর আওতায় প্রতিটি নাগরিককে ই-হেলথ কার্ড প্রদান করা হবে, যার মাধ্যমে দেশব্যাপী একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য ডেটাবেইস তৈরি করা সম্ভব হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই উদ্যোগের ফলে একই ওষুধ বারবার ব্যবহারের প্রবণতা রোধ করা যাবে, চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কার্যকর হবে, অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ব্যয় কমবে এবং আরও দক্ষ, নিরাপদ ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
এছাড়া বর্তমান সরকার আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রতিটি জেলায় আধুনিক মাধ্যমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন, জনবল সংকট মোকাবিলায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ।
সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, স্যানিটেশন ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করা, জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জাতীয় ই-প্রেসক্রিপশন ও প্রেসক্রিপশন অডিট চালু করা, স্বাস্থ্য খাতের জন্য জাতীয় অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল গঠন এবং চিকিৎসা শিক্ষা আরও শক্তিশালী করা।
১১ দিন আগে
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু: প্রধানমন্ত্রী
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে ৫ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮০ দিনের মধ্যে ৫টি জেলা যথাক্রমে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার জনসাধারণকে ই-হেলথ কার্ড সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ই-হেলথ কার্ড ইলেক্ট্রনিক রিফারেল সিষ্টেম এবং ইলেক্ট্রনিক পেসেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিষ্টেম এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ১৮০ দিনের কর্মসূচি অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন।
কর্মসূচিগুলো হচ্ছে—
নারী প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিং পর্যায়ে এ পর্যন্ত ৩৬টি ইউনিটের ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।
কৃষক কার্ড এর প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৪৮ জনকে কৃষক কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।
৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার-প্যাগোডা এবং ৩৯৬টি গির্জায় কর্মরত ব্যক্তিবর্গকে মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এ সুবিধা সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৬৬৬টি খাল খনন, পুনঃখনন কার্যক্রম চলমান। খনন/পুনঃখননকৃত খালের মোট দৈঘ্য ৯৬৫ দশমিক ০৪ কিলোমিটার।
২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বনায়ন সৃজনের অংশ হিসেবে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ চারা রোপণ করা হবে।
আগামী অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণ সীমা ৩ লাখ হতে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তির পূর্বেই সার্টিফিকেট অফ ইলিজিবেলিটির ভিত্তিতে এ ঋণ প্রদান সহজীকরণ করা হয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিং এর মাধ্যমে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।
১২-১৪ বছরের শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট ৮টি খেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
১১ দিন আগে
সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ শুরু হবে শীঘ্রই: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করবে সরকার।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আবুল কালামের সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ সংক্রান্ত এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সংসদকে জানাতে চাই, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেশ কিছু শূন্য পদ রয়েছে। সরকারি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এবং মানুষের কাছে সেবা আরও সহজে ও দক্ষতার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে এই পদগুলো পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি জানান, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা ও পর্যালোচনা করছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আমরা যত দ্রুত সম্ভব এই শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করব।’
পাবনা-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের অনুপস্থিতিতে তার তারকা চিহ্নিত অপর এক প্রশ্ন উত্থাপন করেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবিব। জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ৫ লাখ সরকারি কর্মচারি নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তারমধ্যে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থাসমূহে শূন্য পদের বিপরীতে ২ হাজার ৮৭৯ জন লোক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রশ্নোত্তরের জন্য বরাদ্দ ছিল। তার জন্য তালিকাভুক্ত পাঁচটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের মধ্যে তারেক রহমান তিনটির উত্তর দেন এবং সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নেরও জবাব দেন।
সরকার সম উন্নয়নে বিশ্বাসী
মাদারীপুর-২ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, রাজনৈতিক অধিভুক্তি নির্বিশেষে সারা দেশে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতিতে সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির সাম্প্রতিক একটি বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঈদুল ফিতরের আগে বিতরণ করা সরকারি কিছু সহায়তা বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য পাননি বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৈঠকের পর আমি অবিলম্বে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশ দিই যেন কোনো বিরোধী দলীয় এমপি সহায়তা না পেয়ে থাকলে তাদের বিলম্ব না করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’
এই নির্দেশনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করতে চান যে, বর্তমান সরকার দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী।
তিনি বলেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা যেভাবে তাদের নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করেন, ঠিক তেমনি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও সরকারের কাছ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন। আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব যেন তাদের এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।
১১ দিন আগে
বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে আধুনিক প্রযুক্তির দিকে যাচ্ছে সরকার: সংসদে ত্রাণমন্ত্রী
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিদ্যমান জাতীয় নীতিমালা আধুনিকায়ন এবং বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে সরকার মাঠপর্যায়ে নানা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
বজ্রপাতে প্রাণহানি প্রসঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসন-২-এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানার প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দেশের বজ্রপাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে প্রাণহানি কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাস ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বজ্রপাতের পূর্বাভাস তৈরি করে তা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি ‘ইন্টিগ্রেটেড ভয়েস রেসপন্স (আইভিআর)’ প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া মাঠপর্যায়ে লিফলেট বিতরণ, পোস্টার প্রচার এবং বিশেষ মহড়ার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় কৃষক ছাউনি-কাম-বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন এবং ব্যাপক হারে তালগাছ রোপণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, সংরক্ষিত নারী আসন-১০-এর সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী, টর্নেডো, বন্যা, খরা ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার ইতোমধ্যে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২’, ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০১৫’, ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (২০২১-২০২৫)’ এবং ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডারস অন ডিজাস্টার (এসওডি)’ প্রণয়ন করেছে।
তিনি বলেন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিদ্যমান পরিকল্পনাগুলোকে আরও সময়োপযোগী ও হালনাগাদ করতে কাজ করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে এসওডি সংশোধন এবং ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের নতুন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষিত জনবল গঠন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও গবেষণা কার্যক্রম গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করেছেন। এর ফলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১৩ দিন আগে
রামিসা হত্যা মামলায় দ্রুত বিচার হওয়ায় আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জন্য আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (৭ জুন) দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্তকরণ, গ্রেপ্তার এবং তদন্ত কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, একটি নৃশংস ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত পরিচালনা, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং দোষী ব্যক্তিরা প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তি পাবে। তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একই ধরনের পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বৈঠকে উপস্থিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির অন্য সদস্যরাও ঘটনাটির পর সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে, আজ দুপুরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মাত্র ১৭ দিনের বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হয়েছে।
বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এত কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।
অবশ্য এর আগে তিন কার্যদিবসে মাদক মামলা নিষ্পত্তির নজির রয়েছে। আর গত বছর মাগুরায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয় ১৪ কার্যদিবসে। ওই মামলায়ও আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় আসে।
১৪ দিন আগে
সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (২০২৬ সালের বাজেট অধিবেশন) শুরু হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) বিকাল ৩টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রথম বাজেট অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।
অধিবেশনের প্রথম দিনে সংসদে একটি শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়। এতে তোফায়েল আহমেদসহ ১৬ জন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক দিলারা হাফিজ (স্পিকারের স্ত্রী), পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।
আগামী ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করবেন।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করার পর এটিই হবে প্রথম বাজেট।
এর আগে, গত ৭ মে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেন। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয় গত ৩০ এপ্রিল। ওই অধিবেশনে ২৫ কার্যদিবসে মোট ৯৪টি বিল পাস হয়।
১৪ দিন আগে
সরকারদলীয় এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সংসদীয় সভা শুরু হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে এ সভা শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।
সংসদীয় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।
১৫ দিন আগে
২৩ হাজার ৮৬৫টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার হয়েছে: আইনমন্ত্রী
এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংসদে পাবনা-৩ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের নামে কতটি মামলা দায়ের হয়েছে, সে–সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। তবে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা এ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগার আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নামে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় হয়রানিমূলক কতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলো প্রত্যাহার করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়ের করার সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো মিথ্যা ও হরানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এ–সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের সুপারিশ করার জন্য চলতি বছরের ৫ মার্চ প্রতিটি জেলায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি জেলা পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।
এই কমিটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদনপত্রের পাশাপাশি এজাহার, চার্জশিটের সার্টিফাইড কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং পাবলিক প্রসিকিউটরদের মতামত পর্যালোচনা করে।
আসাদুজ্জামান বলেন, যদি দেখা যায় যে কোনো মামলা রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে, জনস্বার্থে এর প্রয়োজন নেই এবং এটি চালিয়ে গেলে রাষ্ট্রের ক্ষতি হতে পারে, তবে কমিটি সেই মামলাটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করবে।
তিনি জানান, এই প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে জেলা পর্যায়ের সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গত ৮ মার্চ একটি ছয় সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে।
৫২ দিন আগে