সংসদ-সচিবালয়
সারা দেশে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা স্থগিত না করার কারণ জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখেও চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত না করার সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, জেলা প্রশাসন এবং মাঠ প্রশাসনের মতামতের ভিত্তিতেই চলতি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সারাদেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে কেবল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থাপনায় সেখানে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সম্পূরক প্রশ্নে রুমিন ফারহানা বলেন, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহর জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা এক বা দুদিন পেছানোর দাবি জানালেও তা করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পেছাতে কী ধরনের সমস্যা ছিল—জানতে চান তিনি।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ৬৪টি জেলায় প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
তিনি বলেন, পরীক্ষা হওয়ার আগের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সবাই তখন জানিয়েছিলেন যে আবহাওয়ার উন্নতি হবে এবং পরীক্ষা নিতে কোনো সমস্যা হবে না। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, পরদিন সকালে দেখা যায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠে পানি জমে গেছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কলেজের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, একজন পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে পোশাক এনে পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়। ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা এক ঘণ্টা বিলম্বে শুরু করা হয় এবং পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করতে পরীক্ষার সময়ও এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও পরীক্ষা নিতে কোনো ধরনের দুর্যোগজনিত সমস্যা হয়নি বলে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন।
পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার দুটি প্রশ্নে ত্রুটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের প্রক্রিয়া প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয়। ফলে এবারের প্রশ্নপত্র আগের সরকারের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশন কমিটির মাধ্যমেই প্রস্তুত হয়েছে। তারপরও সরকার ভুল শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় প্রশাসন-জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। কোনো এলাকায় দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে।
তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সম্পর্কে সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সার্বক্ষণিক মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা আবারও পর্যালোচনা করছি। যদি কোথাও আমাদের প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠার পর যদি পরীক্ষা না দিতে পেরে থাকে, এই জরিপটা আমাদের কাছে আসার পরে সেভাবে প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষাও নিতে পারি। আমরা চিটাগাং বোর্ডে এই ব্যবস্থাটি করেছি এবং সেই অবস্থান আমাদের রয়েছে। সেজন্য আবারও অনুরোধ করব, শিক্ষার্থীরা যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, তাদের চেয়ে আমরাই উদ্বিগ্ন। তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন যে কীভাবে আমরা তাদের পরীক্ষা সঠিকভাবে নেব। এই দুর্যোগ মোকাবিলা করব।
তিনি আরও বলেন, আমি আবারও আশ্বাস দিচ্ছি যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ধরনের ভুলত্রুটি হয়েছে, সেখানে পুনারায় পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। এরা আমাদের ভবিষ্যৎ। এদের আমরা কোনো অবস্থায় বঞ্চিত করতে পারি না, করব না। সেটাই আমি মহান সংসদের মাধ্যমে জাতিকে জানাতে চাচ্ছি।
১৮ দিন আগে
জমির উদ্দিন সরকারের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের প্রতি সংসদে শ্রদ্ধা
জাতীয় সংসদে সদ্যপ্রয়াত সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা।
আলোচনা শেষে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদ সদস্যরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
মোনাজাত শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দিনের কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত করে সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন। এরপর দক্ষিণ প্লাজায় বাদ আছর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জমিরউদ্দিন সরকার এমন একটা জনপদের মানুষ, যে জনপদটির অত্যন্ত দরিদ্র লোকের বাস, কিন্তু এই মানুষগুলোর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তারা এখনও তাকে তাদের অভিভাবক মনে করে। তিনি কোনোদিন কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি।’
তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের অতি প্রিয় মানুষটি শুধু উত্তরবঙ্গেই নয়, ঢাকাতেও জনপ্রিয় ছিলেন। সারা জীবনে তিনি যখন যেখানে কাজ করেছেন, পরম নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আইনের ও আইনের শাসনের প্রতি তার যে অবিচল আস্থা, গণতন্ত্রের প্রতি তার যে অবিচল আস্থা—এটা আমরা খুব কম দেখেছি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি একদিকে ইতিহাসের ছাত্র ছিলেন, সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন, পরে আইনের পেশাকে বেছে নিয়েছিলেন। যেকোনো বিষয়ে তিনি অবলীলায় অনেকক্ষণ কথা বলতে পারতেন এবং জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য রাখতে পারতেন। আমাদের সকলের কাছে তিনি অনুসরণীয়।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দলের প্রতি তার যে আনুগত্য, রাজনীতির প্রতি যে আনুগত্য, উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি তার যে আনুগত্য—এ ব্যাপারে তিনি অবিচল ছিলেন। আমাকে সবসময় একটা কথা বলতেন, “ইলেকশন করবে, ইলেকশনের মধ্যে দিয়ে যাবে। ইলেকশন ছাড়া কিন্তু কখনও গণতন্ত্রে পৌঁছানো যায় না।”’
শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার পেশাগত জীবনে এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে সফল ও বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। ব্যক্তি এবং দল হিসেবে আমি এবং আমরা তার ক্লায়েন্ট ছিলাম, বিশেষ করে আমাদের কষ্টের দিনগুলোতে, ফ্যাসিবাদী আমলে।’
তিনি বলেন, ‘আইনের যাঁতাকলে যখন আমরা পিষ্ট, তখন প্রায়ই আমরা তার কাছে যেতাম। তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েই শুধু আমাদের কাজ সারেননি, বরং আমাদের মজলুম নেতৃবৃন্দের পক্ষে আদালতে বারবার দাঁড়িয়েছেন।’
ডা. শফিকুর বলেন, ‘প্রথমবার থেকেই আমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাকে কিছু ফি দিতে চেয়েছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হইনি। তিনি বলতেন, “এটা আমার নৈতিক দায়িত্ব। এটি আমার জন্য সুযোগ।” একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। তার এই অবদান স্মরণ করে আমার চোখে পানি আসছে। আমরা তার ঋণ পরিশোধ করতে পারব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি স্পিকার হিসেবে সংসদকে প্রাণবন্ত করে রেখেছিলেন। আইনের অঙ্গনে তিনি অনেকের গুরু। তার চলন-বলনসহ সবকিছুই ছিল শিক্ষণীয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন, আইনজীবী ছিলেন। তিনি আইন প্রণয়নকারী ছিলেন, স্পিকার ছিলেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ছিলেন। এরকম একজন সফল মানুষ আমাদের জন্য ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।’
তিনি বলেন, ‘উনার যে কর্মজীবন, আমার বয়সের সমান উনার কর্মজীবনের পরিধি। এই কর্মজীবনে তার সুনাম ছাড়া কোনো ব্যক্তি, কোনো ক্লায়েন্ট কিংবা আইনজীবী হিসেবে তার বিরুদ্ধে কোনোদিন কোনো সমালোচনা করেননি।’
প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মরহুম জমিরউদ্দিন সরকার একজন অত্যন্ত সফল আইনজীবী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সিরিয়াসভাবে তার ক্লায়েন্টদের জন্য কাজ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘তিনি একজন সফল আইনজীবী, একজন সফল রাজনীতিবিদ। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেও বিভিন্ন পদে অবদান রেখেছেন এবং এই সংসদে স্পিকার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।’
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, ‘১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পঞ্চম জাতীয় সংসদকে যারা প্রাণবন্ত করে রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জনাব জমিরউদ্দিন সরকার।’
তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন। সেই সময় দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। বিশেষ করে তখন একটি ফ্যাসিবাদী দল বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল। আমরা দেখেছি, তিনি অত্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে শান্তভাবে সেই দায়িত্ব পালন করে গেছেন।’
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, ‘তিনি শুধুমাত্র একজন আইনজীবী ছিলেন না। আজকের রাজনীতিবিদদের জন্যও তিনি শিক্ষণীয়। তিনি ১২টি বই লিখেছেন। আইনজীবী ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে লেখালেখির সেই চর্চা এখন কমে গেছে। এ ক্ষেত্রে তিনি আমাদের জন্য উদাহরণ।’
সরকারি দলের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘আইন পেশায় সুনাম অর্জনের কারণে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত পাঁচবার তাকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান।’
এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ‘যারা নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, সেই স্বপ্নের সঙ্গে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের যে স্বপ্নের আবহ ছিল, সেটাকে মিলিয়ে নিয়ে সামনের দিনে আমরা যেন সেই স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়ন করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে তার অতীত জীবনের কর্মকাণ্ড, বক্তব্য এবং অনুপ্রেরণাদায়ী ভূমিকা ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে সংরক্ষণ করতে পারলে সেটি বাংলাদেশের জন্য আরও ভালো একটি উদাহরণ হবে।’
সংসদ সদস্যরা তাদের বক্তব্যে মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
সবশেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ‘জাতি একজন আইনজ্ঞ এবং একজন সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে। আপনাদের বক্তব্য শুনে আমিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। আমিও কয়েকটি সংসদে তার সহকর্মী ছিলাম। আপনাদের ওখানে বসেই (সংসদ সদস্যের আসনে) এই চেয়ার থেকে তিনি যখন অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই সংসদ পরিচালনা করতেন, সেটি দেখে মুগ্ধ হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘তিনি একজন বিশিষ্ট আইনজীবী ছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ, যার সম্পর্কে কখনো কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ শুনতে পাইনি। জাতি এক মহান সন্তানকে হারাল।’
শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে মরহুমের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতনের পরিচালনায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা অতীতে দেখেছি, সংসদ চলাকালে কোনো সাবেক স্পিকার মারা গেলে তার ওপর শোক প্রস্তাব এনে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলোচনা করে ওই দিনের জন্য সংসদের কার্যক্রম মুলতবি করা হয়। এটা তাকে সম্মান জানানোর জন্য করা হয়। সুতরাং আর কোনো আলোচনা না করে এই বিষয়ে প্রস্তাব এনে সংসদের কার্যক্রম মুলতবি করার আহ্বান জানাই।’
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার যেটুকু অভিজ্ঞতা, কোনো বর্তমান সংসদ সদস্য মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে সংসদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। আজ পর্যন্ত কর্মরত অবস্থায় কোনো স্পিকার মারা গেছেন বলে আমার জানা নেই। আগে কখনও এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো সদস্য, এমনকি স্পিকার মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে সংসদ মুলতবি হয়ে যায়। আজ যেহেতু একজন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্পিকার ইন্তেকাল করেছেন, সে কারণে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সংসদ মুলতবি করিনি।’
তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আলোচনা করব। আলোচনা করার পরেই আজকে সংসদের বাকি কার্যক্রম অনিষ্পন্ন রেখে মূলতবি করা হবে।’
সাবেক স্পিকার, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আজ রবিবার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
২০ দিন আগে
পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুঁজিবাজারে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও কারসাজির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে সরকার বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেছেন, সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়।
সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারীর পক্ষে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতনের প্রধান কারণগুলো কী কী ছিল, শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির অভিযোগ দুদকের মাধ্যমে অনুসন্ধান ও কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির সঙ্গে আরও অন্যান্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত কিনা তা উদঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ার বাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদঘাটনে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। পরিচালিত কার্যক্রমে শেয়ার বাজারের ধারাবাহিক পতনের পেছনে নিম্নোক্ত কারণগুলো সক্রিয় ছিল।
সংসদ নেতা বলেন, বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো, কিছু কোম্পানির আইপিও, বন্ড ও অন্যান্য ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বল তদারকি এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া, কর্পোরেট সুশাসনের ঘাটতি ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং বাজারে আস্থার সংকট, নীতিগত অসঙ্গতি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও পুঁজিবাজার বান্ধব করনীতির অভাব ইত্যাদি কারণ রয়েছে।
তিনি বলেন, শেয়ার মার্কেট কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এক হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া দায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণে গঠিত তদন্ত কমিটির গঠন ও প্রদত্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরপর তিনি পুঁজিবাজার সংস্কারে সরকারের ১৭টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
পুঁজিবাজার সংস্কারে সরকারের পদক্ষেপ
১. বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকার ৪ জুন পুঁজিবাজার বিষয়ে দক্ষ এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনারকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে নিয়োগ প্রদান করেছে।
২. নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বাজারে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করেছে।
৩. লাভজনক সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিসমূহের শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণে উদ্বুদ্ধ করা। এ ছাড়াও, বহুজাতিক কোম্পানিসহ উচ্চ মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিসমূহের শেয়ারও স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা।
৪. এসএমই কোম্পানিসহ ভাল মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা।
৫. পুঁজিবাজার কারসাজি বন্ধে অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ ও প্রদানকারীর (হুইসেলব্লোয়ার) প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও উৎসাহ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৬. তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের হিসাব নিরীক্ষা, উপর্যুক্ত অডিটরের মাধ্যমে নিরীক্ষার নিমিত্ত ‘এনলিস্টমেন্ট অব প্যানেল অব অডিটরস অ্যান্ড অডিট ফার্মস’ নীতিমালা প্রণয়ন করা।
৭. ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট (এফপিআই) অনবোর্ডিং পোর্টাল চালু, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান সংস্কার, ওয়ান স্টপ সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান সার্ভিস চালু, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাসকরণ, লভ্যাংশ আয়ে দ্বৈত কর বাতিল এবং বিও অ্যাকাউন্ট খোলা ও মূলধন প্রত্যাবসান প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা।
৮. পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়ের সংক্রান্ত বিধান সিকিউরিটিজ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা।
৯. পুঁজিবাজারের সংস্কারকল্পে একটি 'পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন' এবং অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা।
১০. পুঁজিবাজারে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কেট ও পণ্য উভয়ই সম্প্রসারিত করা।
১১. ই-কেওয়াইসি-এর মাধ্যমে অনলাইন ও মোবাইল ভিত্তিক বিও হিসাব খোলা ও ট্রেডিং সুবিধা চালু করা।
১২. বিনিয়োগবান্ধব ও যুক্তিসঙ্গত করনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া।
১৩. ব্যাংক ও এমএফএসের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা প্রদান করা।
১৪. এআইভিত্তিক শক্তিশালী নজরদারির মাধ্যমে বাজারের অনিয়ম ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রাখা।
১৫. তালিকাভুক্ত ইস্যুয়ার কোম্পানিসমূহে সুশাসন জোরদারকরণে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে অর্জিত সুদ আয়ের অংশ বিশেষ বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলে জমা করার বিধান প্রণয়ন করা।
১৬. আইনকানুন যুগোপযোগী করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ আরও সুরক্ষিত করা।
১৭. সরকারি সিকিউরিটিজসমূহের (ট্রেজারি বন্ড, ট্রেজারি বিল ও সরকারি সুকুক) লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে নিষ্পন্ন করার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা ইত্যাদি।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।
২৪ দিন আগে
প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক কৃষি খাত গড়তে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে দেশের কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তরে একগুচ্ছ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার।
এ লক্ষ্যে ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা, স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, কৃষিযন্ত্রের সম্প্রসারণ এবং জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষি উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৮ জুলাই) সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
এ সময় গবেষণা, প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষিকে আধুনিকায়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান আবুল কালাম।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই কৃষি খাত গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষিতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তি যেমন: রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ড্রোন, জিপিএস, স্যাটেলাইট তথ্য ও বিগ ডাটাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ, রোগবালাই শনাক্তকরণ, সুনির্দিষ্ট সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন পরিকল্পনা আরও কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক হবে।
তারেক রহমান বলেন, তথ্যনির্ভর ‘প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার’ বা নির্ভুল কৃষি ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষকের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুষম, নিরাপদ ও পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কৃষি খাতকে পুনর্বিন্যাস ও বিকশিত করা হবে।
তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য ‘খামারি অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের কোন এলাকায় কোন সময়ে কোন ফসল ভালো হবে, কী পরিমাণ সার প্রয়োজন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসসহ বিভিন্ন পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে।
সংসদ নেতা বলেন, রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জৈব সার, বায়োফার্টিলাইজার এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিকে জলবায়ু-স্মার্ট ও অভিযোজনক্ষম খাতে রূপান্তরের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে দেশের কৃষি আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই খাতে পরিণত হবে, যা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২৪ দিন আগে
আপিল বিচারাধীন থাকলে মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই: সংসদে আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরকার মামলা প্রত্যাহার করতে পারে না। দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি শাস্তি মওকুফ বা ক্ষমা প্রার্থনা করলে তা আইন ও সংবিধানে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই করতে হবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বাগেরহাট-৪ আসনের বিরোধী দলের সদস্য (জামায়াতে ইসলামী) মো. আব্দুল আলীমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সরকারের আমল’ দায়ের হওয়া মামলার রায় প্রত্যাহার বা দণ্ড মওকুফের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান মো. আব্দুল আলীম। জবাবে আইনমন্ত্রী মামলা প্রত্যাহার ও দণ্ড মওকুফ-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি বিধান তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরকার মামলা প্রত্যাহার করতে পারে না। কোনো মামলায় আপিল বিচারাধীন থাকলে প্রথমে সেই আপিলের নিষ্পত্তি হতে হবে। আপিল নিষ্পত্তির পর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবেন। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য পাঠানো হবে এবং রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সাজার মওকুফ বা ক্ষমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।’
এ সময় সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদেও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাবে এবং আইন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় মতামত প্রদান করবে। ফলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মামলা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই; তবে আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সাজার মওকুফ বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা লাভের সুযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আরেকটি কমিটির কাছে আসে। সেখানে প্রতিটি মামলা আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহারের বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলোর বিষয়ে আইনসম্মত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে, যাতে প্রকৃত রাজনৈতিক মামলাগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
আদালতে ৪৬,৩৯,৪৭৬টি মামলা বিচারাধীন
দেশে কত মামলা এখন বিচারাধীন রয়েছে—যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রছুলের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের আদালতগুলোয় বর্তমানে ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ লাখ ১৩ হাজার ২৬৩টি দেওয়ানি এবং ২৮ লাখ ২৬ হাজার ২১৩টি ফৌজদারি। এক বছরে উচ্চ আদালতে ৬৩ হাজার ৩০৯টি এবং অধস্তন আদালতে দুই লাখ ৭৫ হাজার ৮৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
তিনি জানান, গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ২১ হাজার ৬৫২টি দেওয়ানি ও ১৭ হাজার ৬১টি ফৌজদারি মামলাসহ মোট ৩৮ হাজার ৭১৩টি মামলা বিচারাধীন ছিল। হাইকোর্ট বিভাগে ১ লাখ ১ হাজার ১৬৮ দেওয়ানি ও ৪ লাখ ২১ হাজার ১৬৩ ফৌজদারি মামলাসহ মোট ৫ লাখ ২২ হাজার ৩৩১ টি মামলা বিচারাধীন। সেই সঙ্গে ২০২৫ সালে আপিল বিভাগে ৭ হাজার ৫৫৩টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৫৫ হাজার ৭৫৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত অধস্তন আদালতে ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি মামলা বিচারাধীন ছিল, যার মধ্যে দেওয়ানি মামলার সংখ্যা ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩টি এবং ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৯টি। গত এক বছরে মোট ২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যার মধ্যে দেওয়ানি মামলা ৪৯ হাজার ৭৩টি এবং ফৌজদারি মামলা ২ লাখ ২৬ হাজার ১১টি।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বর্তমানে (গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত) ২১ হাজার ৬৫২টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১ লাখ ১ হাজার ১৬৮টি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন। দেশের অধস্তন আদালতে বর্তমানে দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩টি। এ মামলার মধ্যে ৫ বছরের অধিক পুরোনো মামলার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৪টি।
ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমানে দেশের ২০টি জেলায় বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু থাকায় ওই জেলাগুলোয় উল্লেখযোগ্যভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি হচ্ছে। এই জেলাগুলোর আদালতে নিয়মিত মামলা দায়ের করার হার ৬২ দশমিক শূন্য ৮৩ শতাংশ কমেছে। এই উদ্যোগ সফল হওয়ায় বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার আইনি বাধ্যবাধকতা পর্যায়ক্রমে ঢাকাসহ দেশের সব জেলায় কার্যকর হবে।
জামালপুর-৫ আসনের শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের আদালতগুলোয় (গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত) ৩ হাজার ৬২৫টি অর্থ ঋণ মামলা বিচারাধীন।
সংরক্ষিত আসনের মাহফুজা হান্নানের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগে ৫ জন, হাইকোর্ট বিভাগ ১০১ জন বিচারপতি কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া অধস্তন আদালতে ২ হাজার ৬২০ জন বিচারকের পদের বিপরীতে ১ হাজার ৯৬৪ জন কর্মরত আছেন।
২৫ দিন আগে
মামলা করতে বাধা নেই বলেই ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিগত ১০-১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধ কমলেও মামলা করতে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক বাধা না থাকায় এখন ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ এবং এর ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি গণমাধ্যমের খবর উদ্ধৃত করে গত এপ্রিল ও মার্চ মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘পুরো বাজেটের সবটাই যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া হয় বা এই মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তারপরও কতটুকু উন্নয়ন হবে, তা আমরা জানি না। তারপরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বক্তব্য দেন সারা দেশ মুগ্ধ হয়ে শোনে। আমি একজন আইনের শিক্ষার্থী, আমিও উনার ডিবেট মুগ্ধ হয়ে শুনি। কিন্তু উনার এই মুগ্ধতা যদি উনি উনার মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন এবং তার মন্ত্রণালয়ের কাজের মাধ্যমে, তাহলে এটি ছাঁটাই করার... প্রস্তাব আমি রাখতাম না।’
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এর আগেও তিনি সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়টি ডেটাসহ তুলে ধরেছেন। খুনের চিত্র, ধর্ষণের চিত্র, নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র, ডাকাতির সংখ্যা মাসওয়ারী দিয়েছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্বে আসার পর থেকে এই পর্যন্ত সমস্ত ডেটায় আমরা ঐতিহাসিকভাবে এগিয়ে আছি, উন্নত আছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ষণের কেস রেকর্ডের ক্ষেত্রে আমরা একটু বেশি ধর্ষণের চিত্র পেয়েছি। তার একটা কারণ আছে, আগে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিরা রেকর্ড করতে থানায় যেতেন না বা যেতে পারতেন না, সামাজিক বা রাজনৈতিক বিভিন্ন হস্তক্ষেপের কারণে। এখন থানায় গেলেই অথবা অনলাইনে জিডিসহ অন্যান্য কিছু দায়ের করতে পারেন। এফআইআর দাখিল করতে পারেন। এখানে কোনো ইন্টারফেয়ারেন্স নেই। যার কারণে সংখ্যাটা একটু বেড়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তবে সুখের কথা হলো, ধর্ষণ যেখানেই হোক, শিশু হোক, নারী হোক, যে অবস্থাতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বিভাগ গ্রেপ্তারসহ চার্জশিট প্রদানের জন্য এবং মামলায় সহযোগিতা করার জন্য সাক্ষী উপস্থাপনসহ ট্রায়েলের সমস্ত ক্ষেত্রে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা গেছে।
তিনি বলেন, পল্লবী শিশু হত্যার বিচার হয়েছে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে। এটা বাংলাদেশের রেকর্ড। তনু হত্যার আসামিদের ডিএনএ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গ্রেপ্তার করা সক্ষম। বাকিগুলোও হবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পুলিশ দলীয় পরিচয় দেখে কাউকে গ্রেপ্তার করে না; অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করে। বিরোধী দলের কোনো নেতা-কর্মী অপরাধে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলও দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে, যা তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়কে আমরা কখনও প্রাধান্য দেব না। দেশের শান্তি, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকা দরকার।
মন্ত্রী বলেন, গ্রাম পুলিশ থেকে শুরু করে আইজিপি পর্যন্ত সবাই কাজ করে। কিন্তু জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া কোনো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হয় না। এ সময় সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে ডগ স্কোয়াড, অস্ত্র ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলায় মাদক পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনলাইন ও অফলাইন জুয়া এবং সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হচ্ছে। ১৮৬৭ সালের পুরোনো জুয়া আইনের পরিবর্তে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে জুয়া ও বেটিং নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
৩২ দিন আগে
পাচার হওয়া অর্থ ও অপরাধীদের ফেরাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চান বিরোধী দলীয় নেতা
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ এবং এ অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, পাচার হওয়া অর্থের মাত্র এক-নবমাংশ উদ্ধার করা গেলেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
শফিকুর রহমান বলেন, গত ১৫ বছরে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। কিন্তু সেই অর্থ কীভাবে ফেরত আনা হবে, সে বিষয়ে বাজেটে কোনো দিকনির্দেশনা নেই।
তিনি বলেন, ‘বাজেট ঘাটতি খুব বেশি নয়। পাচারকৃত অর্থের নয় ভাগের এক ভাগও যদি আগামী অর্থবছরে ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে আমাদের কোনো বাজেট–ঘাটতি থাকবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্পদের সঙ্গে কালপ্রিটদেরও (অপরাধী) ফিরিয়ে আনতে হবে। সম্পদ এল, আর কালপ্রিটরা থেকে গেল, তাহলে সঠিক শিক্ষা হবে না।’ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করে দ্রুততম সময়ে অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের আমীর বলেন, সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, সবার চিন্তাধারা এক হওয়া সম্ভব নয়। সবার চিন্তা একই রকম হলে এত লোকের বক্তৃতা বা এত সময় খরচের প্রয়োজন হতো না, দুই পক্ষ থেকে একজন করে কথা বললেই চলত। আমরা জনগণের ভালোবাসা এবং ভোটে নির্বাচিত হয়ে মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এই সংসদে আসার সুযোগ পেয়েছি। তাই প্রত্যেকেই নিজের বিবেক, মহান আল্লাহ এবং প্রিয় জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।
বাজেট অধিবেশনকে বছরের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সেশন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এর ভিত্তির ওপরই পুরো বছরটি কেমন যাবে তা নির্ভরশীল এবং সব সদস্য সেই দায়িত্ববোধ থেকেই বক্তব্য দিয়েছেন।
এ সময় তিনি প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্বদানকারী জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী এবং স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আবদুর রবের অবদানের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি ৯০-এর গণআন্দোলন, ২৮ অক্টোবর, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর এবং সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহিদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
নিজের দলকে একটি ‘কষ্টে ভোগা দল’ হিসেবে বর্ণনা করে শফিকুর রহমান বলেন, তাদের বুক থেকে এক এক করে ১১ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ১২ নম্বর জন হিসেবে কেবল তিনিই এখন জীবিত আছেন। ড. শফিকুর রহমান ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সব শহিদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী এবং ফ্যাসিবাদী আমলের ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান।
পিলখানায় বীর সেনাদের নির্মম হত্যাকাণ্ডকে জাতির সূর্য-বীর্যের জায়গায় আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তাদের শাহাদত কবুলের জন্য দোয়া করেন। সীমাহীন ত্যাগের মধ্য দিয়ে গঠিত এই সংসদকে ‘মজলুমের পার্লামেন্ট’ আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদ এমন কোনও আচরণ করবে না যা মজলুম দেশবাসীকে আঘাত করে, বরং এটি জাতিকে স্বপ্ন দেখাবে, ঐক্যবদ্ধ করবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।
তোষামোদের নয়, দায়িত্ব পালনের জায়গা
স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতা আপনার আছে; আমার নেই। এখানে আরও কয়েকজন আছেন যারা অতীতেও ছিলেন। আমরা বেশিরভাগই নবীন, আর নবীনদের অধিকার থাকে প্রবীণদের কাছ থেকে শেখার। কিন্তু আমরা মন্দটা শিখতে চাই না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শিখতে চাই ভালোটা। অতীতে এই সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিকে তোষামোদ করার জন্য গান হয়েছে, কবিতা হয়েছে, স্বপ্নবিলাস হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে এই সংসদে এটা হওয়া উচিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা তোষামোদের জায়গা নয়, এটা দায়িত্ব পালনের জায়গা। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জায়গা। দায়িত্ব পালন করা জায়গা। অনেক সময় ব্যক্তিকে খুশি করতে গিয়ে অন্যকে আমরা বেশি করে আঘাত করি। আমি প্রথম দিন অনুরোধ করেছিলাম, অতীতের ব্যাড কালচারকে (খারাপ সংস্কৃতি) আমরা চর্চা না করি; এই সংসদে দাঁড়িয়ে চরিত্র হনন যেন না হয়।’
বিরোধী দলের বক্তব্য ‘কুচি কুচি করে কাটার যন্ত্র’ ফেলে দেওয়ার আহ্বান
সংসদে বিরোধী দলের ওপর বারবার আক্রমণের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা চমৎকার টেনডেন্সি (প্রবণতা) আমি লক্ষ করেছি—সরকারি দলের প্রায় সব বক্তা বিরোধী দলের বক্তব্য কুচি কুচি করে কাটার পরে বলেন, এগুলো ছাড়েন। আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা দেশটা চালাই। ওই কুচি কুচি করার যন্ত্রটা আসুন আমরা ফেলে দিই। আমরা একটা বিউটিফুল, ওয়ানডারফুল কম্বিনেশন নিয়ে চলি।’
৩৩ দিন আগে
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোসহ বাজেটের বেশকিছু বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটের কয়েকটি বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহারের জন্য অর্থমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার সংশোধনীর প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সামনে তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নরমালি দাবিটা বিরোধী দল থেকে হয়ে থাকে। আমি আপাতত ফিজিক্যালি না হলেও মানসিকভাবে ওনাদের পাশে গিয়ে কথা বলতে চাই।’
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে ৪ লাখ এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই সীমা যথাক্রমে ৪ লাখ, সাড়ে ৪ লাখ এবং ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখেন সংসদ নেতা।
স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগের তথ্য প্রদর্শনসংক্রান্ত বিধান নিয়ে জনমনে ‘প্রশ্ন ও উদ্বেগ’ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জমি প্রকৃত মূল্যে নিবন্ধন না হওয়ার কারণে করদাতাদের হয়রানি কমাতেই এ বিধান আনা হয়েছিল। তবে অনেকেই এটিকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাই প্রস্তাবিত এই বিধান প্রত্যাহার করার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
করের আওতা বাড়াতে ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন ও সম্পত্তি নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবেও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলে এ প্রস্তাবও প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান সরকারপ্রধান।
৩৩ দিন আগে
যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এটিকে ‘দেশের পানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে’ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সংসদ নেতা বলেন, নদী, খাল ও সেচ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় পানি। সংসদ সদস্যরা নিয়মিত পদ্মা ও তিস্তা নদী নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি।
সারা বছর কৃষির জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা হবে। যেন পুরো শুষ্ক মৌসুম এবং বছরের অন্যান্য সময় কৃষি ও প্রয়োজনীয় খাতে সেই পানি সরবরাহ করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তঃনদী সংযোগের অভাবে বাংলাদেশ ভুগছে। এর ফলে অনেক নদীর নাব্যতা হারিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সেচ ও পানির সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি এমন এলাকা পরিদর্শন করেছি, যেখানে বর্ষায় চারদিকে পানি থাকলেও অল্প দূরের কৃষকরা পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারেন না। তবে এই সমস্যা সমাধানে দেশব্যাপী নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, পানি প্রবাহ, সেচব্যবস্থা এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা যাতে উন্নত করা যায়, এ লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি চলছে। গত তিন মাসে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন করা হয়েছে।
কৃষকদের জন্য সরকারের সহায়তার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের অন্যতম প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ এবং তার সুদ মওকুফ করা। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা এবং অন্তত ১০টি অতিরিক্ত সেবা পাবেন।
তার ভাষ্য, ‘আমরা কৃষকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি।’
যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সেবার পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা সহজলভ্য করতে এবং বিদেশে তাদের ভোগান্তি কমাতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট এ অধিবেশনে প্রথমে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন।
৩৩ দিন আগে
সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বস্তির কথা ভেবে ‘জীবনবান্ধব’ বাজেট করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ নামে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এমন একটি বাজেট আমরা উপস্থাপন করতে চেষ্টা করেছি, যাতে করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ কিছুটা হলেও যাতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে।
সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টাদশ দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আজ সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতেই বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা তারেক রহমান বক্তৃতা করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে বাজেট উপস্থাপন করছি, এই বাজেটকে আমি একটি নামকরণ দিতে চাই। সেটি হচ্ছে জীবনবান্ধব বাজেট।’
এবার সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পরে নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি দাবি করে তারেক রহমান বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় যেসব জিনিস আছে, এরকম ৬১টি পণ্যের ওপর বলা যায় সম্পূর্ণভাবে আগে যা ট্যাক্স ছিল, সেগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা অতীতে খেয়াল করেছি যে বাজেট উপস্থাপনের আগে এবং পরে অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়া বেড়ে যেত। তবে আল্লাহর রহমতে এ বছর আমরা সেরকম কোনো দৃশ্য দেখিনি। একটি রাজনৈতিক সরকার হিসেবে আমরা মনে করি, আমাদের জনগণের প্রতি যে দায়িত্ব, তার একটু হলেও আমরা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি; কিছুটা হলেও জনগণকে স্বস্তি দিতে পেরেছি।
সংসদ নেতা বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ার পর আমরা বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করেছি। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, কোথাও ঐকমত্য হয়েছে, কোথাও মতভেদ হয়েছে। কিন্তু তারপরও আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা দেশের মানুষের সামনে একটি আশার আলো তুলে ধরতে পেরেছি।
৩৩ দিন আগে