সংসদ-সচিবালয়
২৩ হাজার ৮৬৫টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার হয়েছে: আইনমন্ত্রী
এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংসদে পাবনা-৩ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের নামে কতটি মামলা দায়ের হয়েছে, সে–সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। তবে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা এ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগার আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নামে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় হয়রানিমূলক কতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলো প্রত্যাহার করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়ের করার সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো মিথ্যা ও হরানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এ–সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের সুপারিশ করার জন্য চলতি বছরের ৫ মার্চ প্রতিটি জেলায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি জেলা পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।
এই কমিটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদনপত্রের পাশাপাশি এজাহার, চার্জশিটের সার্টিফাইড কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং পাবলিক প্রসিকিউটরদের মতামত পর্যালোচনা করে।
আসাদুজ্জামান বলেন, যদি দেখা যায় যে কোনো মামলা রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে, জনস্বার্থে এর প্রয়োজন নেই এবং এটি চালিয়ে গেলে রাষ্ট্রের ক্ষতি হতে পারে, তবে কমিটি সেই মামলাটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করবে।
তিনি জানান, এই প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে জেলা পর্যায়ের সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গত ৮ মার্চ একটি ছয় সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে।
১২ দিন আগে
সংবিধান সংশোধনীর বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল থেকে ৫ জনকে চেয়েছেন আইনমন্ত্রী
সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল থেকে ৫ জনের নাম চেয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার আগে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি এ কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত যে সাংবিধানিক চর্চা চলে আসছে, সেটিই এখানে অনুসরণ করতে চান তারা। সেই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে তিনি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন, যা সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত হবে।
তিনি জানান, সংসদের রুল ২৬৬ অনুযায়ী ১২ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা ঠিক করা হয়েছে। এতে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ১২ জনের মধ্যে বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্যান্য দল থেকে পাঁচজন রাখা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিরোধী দলের অনুপাত প্রায় ২৬ শতাংশ হওয়ায় তাদের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়েছে। বিরোধী দল যদি এই পাঁচজনের নাম দেয়, তাহলে মোট ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে।
বিরোধী দল নাম দিলে পরদিনই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা যাবে এবং সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদের আলোকে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় স্পিকার বলেন, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ সদস্যের একটি তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বিরোধী দলের কাছ থেকে পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়েছে। এভাবে ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। বিরোধী দল দ্রুত তালিকা দিলে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগোবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে চিফ হুইপ তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে তাদের মধ্যে ধারণাগত পার্থক্য রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের দল ‘সংস্কার’ চায়, কিন্তু এখানে ‘সংশোধন’-এর প্রস্তাব এসেছে। এ জায়গায় আগেও মতপার্থক্য ছিল, এখনও রয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরে মতামত জানাবেন বলে জানান তিনি।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের অবস্থানে তাদের কোনও আপত্তি নেই। তারা অপেক্ষা করতে প্রস্তুত এবং জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাবেন। প্রয়োজনে পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেও তাদের আপত্তি নেই।
১২ দিন আগে
পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়তে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
রাজধানী ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকারের ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আবুল কালামের (কুমিল্লা-৯) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর রূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নাগরিক সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোর (বর্জ্য ফেলার স্থান) আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন সচেতনতামূলক গ্রাফিতি কাজ অন্তর্ভুক্ত করে পরিবেশসম্মতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃক কোরিয়াভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার মাধ্যমে সকল বর্জ্যকে জিরো বর্জ্যতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি, এ সকল কার্যক্রম ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা শহর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এদিন বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর জন্য মোট আটটি প্রশ্ন ছিল, যার মধ্যে তিনি নির্ধারিত সময়ে সম্পূরক প্রশ্নসহ দুটির উত্তর দেন।
ঢাকাকে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন করার অন্যান্য উদ্যোগ ও পরিকল্পনা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন রাস্তার মিডিয়ান (বিভাজক), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার রোড মিডিয়ান, সড়ক দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানে সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশনের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় নগর বনায়ন (মিয়াওয়াকি ফরেস্ট) এবং উন্মুক্ত মাটি সবুজে আবৃত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় আগামী পাঁচ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মেট্রোরেলের নিচের খালি অংশে (মিরপুর-১২ থেকে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (আব্দুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশের) নিচে খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হবে।
লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সমন্বিতভাবে আধুনিক বাস সার্ভিস ও ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে।
তিনি জানান, ঢাকার বায়ুদূষণের উল্লেখযোগ্য উৎসগুলো বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। যানবাহনের কালো ধোঁয়া নির্গমন, কনস্ট্রাকশন কার্যক্রম ও নির্মাণ সামগ্রীর কারণে বায়ুদূষণ বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
সরকারপ্রধান বলেন, রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধে ঢাকার চারদিকের অবৈধ দূষণকারী ইটভাটাগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীর বায়ুদূষণ কমাতে ঢাকার সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছে এবং ওই এলাকায় ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা ও আশপাশের নদী, খাল ও জলাশয়ে দূষণ রোধে তরল বর্জ্য নির্গমনকারী কারখানায় ইটিপি (বর্জ্য পানি পরিশোধনাগার) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৪৮টি কারখানায় ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে এবং ইটিপি ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ নদীর দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করেছে। সেই সঙ্গে ঢাকা মহানগরে প্রবাহিত ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস এবং প্রকৃতিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা শহরকে সবুজে আচ্ছাদিত করা, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন অধিদপ্তর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে রাস্তার মিডিয়ান, ইউলুপ, পন্ডিং এরিয়া এবং খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ এবং জিরো সয়েল (মাটিবিহীন চাষাবাদ) কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির ৪১ হাজার ৫৬৫টি ফলদ, বনজ, ওষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছে চারা রোপণ করা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ঢাকা শহরের দূষণ কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রজাতির লতা, গুল্ম ও ঘাস দিয়ে মাটি আবৃত করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বনায়নযোগ্য খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
১৩ দিন আগে
বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চলের কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
তিন হাওর জেলা এবং ময়মনসিংহের একাংশে চলমান ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাস সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ পদক্ষেপের কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ সকালে অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে আলোচনা করেছেন।
তিনি জানান, তিন দিন আগের আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পরপরই তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বৃষ্টির কারণে যেসব কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে, তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে আগামী তিন মাস প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষক যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে সরকার কঠোর নজরদারি রাখছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহসহ তিনটি নির্দিষ্ট জেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে আগামী তিন মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে এই সরকারি সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
১৩ দিন আগে
অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে নামছে সরকার
জুয়া, অনলাইন জুয়া এবং মাদকের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ এপ্রিলের পর সারা দেশে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেই সঙ্গে অবৈধ সিসা বার ও লাউঞ্জ বন্ধে পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ বিভাগ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জয়নুল আবদিন ফারুকের ৭১ বিধিতে দেওয়া নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অধিবেশনে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফের আড়ালে গড়ে ওঠা অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধে বন্ধের বিষয়ে নোটিশ দেন জয়নাল আবদিন ফারুক।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত) অনুযায়ী সিসা ‘খ’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য হিসেবে তফসিলভুক্ত। বর্তমান সরকার মাদককে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে নির্বাচনি ইশতেহারে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অবৈধ সিসা লাউঞ্জ পরিচালনা বন্ধে রাষ্ট্রপক্ষের বিরুদ্ধে কিছু মালিক রিট মামলা করলেও আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বাতিল করেছেন।
তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমোদনবিহীন সিসা লাউঞ্জ বন্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ সিসা বার থেকে সিসা ও হুক্কা জব্দ করা হয়েছে। একই ধরনের আরও অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন লাউঞ্জ থেকে মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।
অবৈধ সিসা লাউঞ্জগুলো যাতে নাম-ঠিকানা পরিবর্তন করে পুনরায় কার্যক্রম চালাতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফের আড়ালে অবৈধ সিসা লাউঞ্জ পরিচালনার বিষয়টি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নজরেও এসেছে। এ ধরনের কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য, নগর শৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে অবৈধ সিসা লাউঞ্জ স্থাপন করে যাতে কেউ ব্যবসা করতে না পারে সে বিষয়ে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে ভবন মালিকদেরকে সচেতন করা হচ্ছে। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এই ব্যবসায় মদদ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া মাত্রই তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে জুয়া, অনলাইন জুয়া এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিলের পরে আমরা সারা দেশে একটি সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করব। এদেশের যুব সমাজকে রক্ষা করার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।
১৪ দিন আগে
জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জ্বালানি তেলের রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
পুলিশসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীর ওপর আরোপিত জ্বালানি তেলের সীমাবদ্ধতা বা রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দুই দিন আগেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে সংসদকে অবহিত করেন তিনি।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্লোর নিয়ে এসব কথা জানান।
এদিন কুমিল্লার একজন কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার ঘটনা ও পুলিশের টহল কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তেল সংকট ও রেশনিংয়ের বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেন মনিরুল হক চৌধুরী।
তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি তেলের রেশনিংয়ের অজুহাতে পুলিশ রাতে টহল কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। কুমিল্লার একজন কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বলছে, জ্বালানি তেলের কারণে তারা ঠিকমতো টহল দিতে পারছেন না।
এরপর ফ্লোর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিষয়টি আমরা এরই মধ্যে অ্যাড্রেস করেছি। পুলিশসহ ইমার্জেন্সি বাহিনী যারা আছে—পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার ব্রিগেড, তাদের ওপর থেকে যে এমবার্গো (নিষেধাজ্ঞা) ছিল, তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুই দিন আগেই এ সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করেছি এবং বিষয়টি ক্লিয়ার করে দেওয়া হয়েছে। আশা করি এ সমস্যা আর হবে না।
১৫ দিন আগে
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১০ সদস্যের যৌথ কমিটির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কমিটির সভাপতিসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম প্রস্তাব করে বিরোধী দলের কাছ থেকে পাঁচজনের নাম চেয়েছেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২০তম দিন বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী। কমিটির সভাপতি হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নাম প্রস্তাব করেন তিনি।
গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত আলোচনা প্রস্তাবের ওপর সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় যৌথভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের অভিমত উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন।
সংসদ নেতা বলেন, গতকাল বিরোধীদলীয় নেতা দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা, যার তাপ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা জানিয়েছিলেন, তাদের কাছে কিছু পরামর্শ আছে এবং সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে পারে। আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় দেশের ও মানুষের স্বার্থে যে কারও সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত।
এই প্রেক্ষাপটে সরকারি দলের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটির নাম ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তারা হলেন— বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, মানিকগঞ্জ-২ আসনের মঈনুল ইসলাম খান শান্ত এবং শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন অপু।
এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আশা করি, এই সংসদ জাতীয় সব সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে ইনশাআল্লাহ। এটি এই সংসদের জন্য একটি নবযাত্রা। আমরা শিগগিরই আমাদের নামগুলো পেশ করব।
সরকার ও বিরোধী দলের এই সমঝোতাকে সাধুবাদ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, এই মাসের শেষেই সংসদ বিরতিতে যাবে। তাই আশা করি অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা তাদের পাঁচজন সদস্যের নাম দেবেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার এবং বিরোধী দল এভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে অগ্রসর হলে দেশের যেকোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। আপনাদের এই বক্তব্যের ফলে জনগণের মনে অনেক আশার সঞ্চার হয়েছে।
১৮ দিন আগে
পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মো. কামরুজ্জামান জানতে চান, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলে বিভিন্ন উপায়ে বা প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে। ওই টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা বা হবে কিনা।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলার, যা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১.৮ লাখ কোটি টাকা। পাচার হওয়া এ অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) সম্পাদন এবং আইনগত সহায়তা অনুরোধ (এমএলএআর) বিনিময় প্রক্রিয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য দেশগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ১০টি দেশের (কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও হংকং) মধ্যে ৩টি দেশ (মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাত) চুক্তি সইয়ের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। বাকি ৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সরকারপ্রধান বলেন, শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের মন্ত্রী ও অন্যান্য সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্সের চিহ্নিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কেসগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে এবং বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম-জেআইটি) গঠন করা হয়েছে।
জেআইটি গঠনের পর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলাগুলোর অগ্রগতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত আদালত দেশে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক (অ্যাটাচমেন্ট) ও অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে বিদেশে মোট ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে দেশে-বিদেশে সর্বমোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আদালত ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে।
পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় হয়েছে। সার্বিকভাবে বর্তমান সরকার দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং আর্থিক অপরাধ দমনে বৃহত্তর কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিদেশে পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের অধীনে ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন’ গঠন করা হয়েছে।
এ ছাড়াও গত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
১৯ দিন আগে
আগের দুই সরকার হামের টিকা আমদানি করেনি, কিটের সংকটও আছে: প্রধানমন্ত্রী
আগের স্বৈরাচারী সরকার এবং পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও শিশুদের হামের টিকা আমদানি করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, হাম পরীক্ষার কিটের স্বল্পতাও আছে। দেশে হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সালাহ উদ্দিন বলেন, দেশের চিকিৎসা খাতে এটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—চট্টগ্রামে দেশের একমাত্র সংক্রামক রোগের চিকিৎসাকেন্দ্র ও বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে হাম শনাক্তকরণের ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, এ কারণে হাম শনাক্ত করতে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ঢাকার পাবলিক হেলথ সেন্টারের ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড রুবেলা ল্যাবরেটরিতে নমুনা পাঠাতে হচ্ছে। এতে টিকা পাওয়ার পরও রোগ শনাক্তে রোগীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে ‘খুব দুঃখজনক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর আগের দুই সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুঃখজনক ব্যাপার হলো, সেই স্বৈরাচারের সময় এবং আরও দুঃখজনক ব্যাপার হলো, দেশে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য আমরা যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন দিয়েছিলাম, তাদের সময়ও শিশুদের হামের টিকা আমদানি করা হয়নি।
তবে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এ ব্যাপারে ইউনিসেফ আমাদের, বাংলাদেশকে, অনেক সহযোগিতা করেছে। হামের ভ্যাকসিন খুব দ্রুততার সঙ্গে পাঠিয়েছে তারা, ফলে আমরা ওষুধগুলো পেয়েছি। প্রায় ২ কোটি শিশুকে এই হামের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।
এ সময় হাম পরীক্ষার কিট স্বল্পতার কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য টেস্ট (পরীক্ষা) করার কিট স্বল্পতার বিষয়ে যে প্রশ্নটি করেছেন, তা সঠিক। এটির ব্যাপারেও সরকার কাজ করছে। এরই মধ্যে অনেক কিট এসে পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, কিছু কিট এখনও ঢাকার কাস্টমসে আটকে আছে; এয়ারপোর্টে আছে। সেগুলো আমরা দ্রুত ছাড় করানোর ব্যবস্থা করছি।
হামে শিশুমৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অনেকগুলো শিশুর প্রাণ ঝরে গেছে, আমাদের মাঝ থেকে চলে গেছে, বিষয়টি দুঃখজনক!
তিনি বলেন, তবে সামনে যাতে আমরা এই পুরো পরিস্থিতিকে ‘ম্যানেজ’ করতে পারি, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার।
১৯ দিন আগে
জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু ব্যবসায়ীদের তেল মজুদে কৃত্রিম সংকট: জ্বালানিমন্ত্রী
দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারির কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নেত্রকোণা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
মাছুম মোস্তফা অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে সংকট নেই বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের ২০০ টাকার বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না এবং মোটরসাইকেলে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে পুনরায় তেল নেওয়া প্রতিরোধ করা হচ্ছে।
জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। গত বছরের মার্চ মাসের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ মাসেও সমপরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারির কারণে এই কৃত্রিম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া জনমনে ভীতি ও অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। একইসঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাম্পে মোটরসাইকেলে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দেওয়া বা রং লাগানোর বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশনা নেই।
সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম সংকট নিরসনে ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সারা দেশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বিপিসি কর্তৃক ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। অবৈধ মজুদকারীদের ধরতে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৯ হাজার ১১৬টি অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা করা হয়েছে। এতে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় এবং ৫ লাখ ৪২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। মজুদ ও কালোবাজারি প্রতিরোধে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, জ্বালানি তেল বিপণনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকদের জ্বালানি সংগ্রহের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এই উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
পাবনা-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দেশের এলপিজির বাজার প্রায় ৯৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ আমদানিনির্ভর।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলপিজি আমদানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম’ থেকে দেশের এলপিজি আমদানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া গেলে আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে অবহিত করা হচ্ছে।
২২ দিন আগে