সংসদ-সচিবালয়
রামিসা হত্যা মামলায় দ্রুত বিচার হওয়ায় আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জন্য আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (৭ জুন) দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্তকরণ, গ্রেপ্তার এবং তদন্ত কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, একটি নৃশংস ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত পরিচালনা, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং দোষী ব্যক্তিরা প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তি পাবে। তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একই ধরনের পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বৈঠকে উপস্থিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির অন্য সদস্যরাও ঘটনাটির পর সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে, আজ দুপুরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মাত্র ১৭ দিনের বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হয়েছে।
বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এত কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।
অবশ্য এর আগে তিন কার্যদিবসে মাদক মামলা নিষ্পত্তির নজির রয়েছে। আর গত বছর মাগুরায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয় ১৪ কার্যদিবসে। ওই মামলায়ও আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় আসে।
১৭ ঘণ্টা আগে
সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (২০২৬ সালের বাজেট অধিবেশন) শুরু হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) বিকাল ৩টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রথম বাজেট অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।
অধিবেশনের প্রথম দিনে সংসদে একটি শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়। এতে তোফায়েল আহমেদসহ ১৬ জন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক দিলারা হাফিজ (স্পিকারের স্ত্রী), পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।
আগামী ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করবেন।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করার পর এটিই হবে প্রথম বাজেট।
এর আগে, গত ৭ মে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেন। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয় গত ৩০ এপ্রিল। ওই অধিবেশনে ২৫ কার্যদিবসে মোট ৯৪টি বিল পাস হয়।
১৯ ঘণ্টা আগে
সরকারদলীয় এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সংসদীয় সভা শুরু হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে এ সভা শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।
সংসদীয় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।
১ দিন আগে
২৩ হাজার ৮৬৫টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার হয়েছে: আইনমন্ত্রী
এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংসদে পাবনা-৩ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের নামে কতটি মামলা দায়ের হয়েছে, সে–সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। তবে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা এ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগার আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নামে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় হয়রানিমূলক কতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলো প্রত্যাহার করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়ের করার সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো মিথ্যা ও হরানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এ–সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের সুপারিশ করার জন্য চলতি বছরের ৫ মার্চ প্রতিটি জেলায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি জেলা পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।
এই কমিটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদনপত্রের পাশাপাশি এজাহার, চার্জশিটের সার্টিফাইড কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং পাবলিক প্রসিকিউটরদের মতামত পর্যালোচনা করে।
আসাদুজ্জামান বলেন, যদি দেখা যায় যে কোনো মামলা রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে, জনস্বার্থে এর প্রয়োজন নেই এবং এটি চালিয়ে গেলে রাষ্ট্রের ক্ষতি হতে পারে, তবে কমিটি সেই মামলাটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করবে।
তিনি জানান, এই প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে জেলা পর্যায়ের সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গত ৮ মার্চ একটি ছয় সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে।
৩৮ দিন আগে
সংবিধান সংশোধনীর বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল থেকে ৫ জনকে চেয়েছেন আইনমন্ত্রী
সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল থেকে ৫ জনের নাম চেয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার আগে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি এ কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত যে সাংবিধানিক চর্চা চলে আসছে, সেটিই এখানে অনুসরণ করতে চান তারা। সেই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে তিনি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন, যা সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত হবে।
তিনি জানান, সংসদের রুল ২৬৬ অনুযায়ী ১২ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা ঠিক করা হয়েছে। এতে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ১২ জনের মধ্যে বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্যান্য দল থেকে পাঁচজন রাখা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিরোধী দলের অনুপাত প্রায় ২৬ শতাংশ হওয়ায় তাদের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়েছে। বিরোধী দল যদি এই পাঁচজনের নাম দেয়, তাহলে মোট ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে।
বিরোধী দল নাম দিলে পরদিনই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা যাবে এবং সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদের আলোকে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় স্পিকার বলেন, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ সদস্যের একটি তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বিরোধী দলের কাছ থেকে পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়েছে। এভাবে ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। বিরোধী দল দ্রুত তালিকা দিলে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগোবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে চিফ হুইপ তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে তাদের মধ্যে ধারণাগত পার্থক্য রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের দল ‘সংস্কার’ চায়, কিন্তু এখানে ‘সংশোধন’-এর প্রস্তাব এসেছে। এ জায়গায় আগেও মতপার্থক্য ছিল, এখনও রয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরে মতামত জানাবেন বলে জানান তিনি।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের অবস্থানে তাদের কোনও আপত্তি নেই। তারা অপেক্ষা করতে প্রস্তুত এবং জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাবেন। প্রয়োজনে পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেও তাদের আপত্তি নেই।
৩৯ দিন আগে
পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়তে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
রাজধানী ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকারের ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আবুল কালামের (কুমিল্লা-৯) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর রূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নাগরিক সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোর (বর্জ্য ফেলার স্থান) আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন সচেতনতামূলক গ্রাফিতি কাজ অন্তর্ভুক্ত করে পরিবেশসম্মতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃক কোরিয়াভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার মাধ্যমে সকল বর্জ্যকে জিরো বর্জ্যতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি, এ সকল কার্যক্রম ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা শহর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এদিন বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর জন্য মোট আটটি প্রশ্ন ছিল, যার মধ্যে তিনি নির্ধারিত সময়ে সম্পূরক প্রশ্নসহ দুটির উত্তর দেন।
ঢাকাকে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন করার অন্যান্য উদ্যোগ ও পরিকল্পনা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন রাস্তার মিডিয়ান (বিভাজক), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার রোড মিডিয়ান, সড়ক দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানে সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশনের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় নগর বনায়ন (মিয়াওয়াকি ফরেস্ট) এবং উন্মুক্ত মাটি সবুজে আবৃত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় আগামী পাঁচ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মেট্রোরেলের নিচের খালি অংশে (মিরপুর-১২ থেকে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (আব্দুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশের) নিচে খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হবে।
লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সমন্বিতভাবে আধুনিক বাস সার্ভিস ও ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে।
তিনি জানান, ঢাকার বায়ুদূষণের উল্লেখযোগ্য উৎসগুলো বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। যানবাহনের কালো ধোঁয়া নির্গমন, কনস্ট্রাকশন কার্যক্রম ও নির্মাণ সামগ্রীর কারণে বায়ুদূষণ বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
সরকারপ্রধান বলেন, রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধে ঢাকার চারদিকের অবৈধ দূষণকারী ইটভাটাগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীর বায়ুদূষণ কমাতে ঢাকার সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছে এবং ওই এলাকায় ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা ও আশপাশের নদী, খাল ও জলাশয়ে দূষণ রোধে তরল বর্জ্য নির্গমনকারী কারখানায় ইটিপি (বর্জ্য পানি পরিশোধনাগার) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৪৮টি কারখানায় ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে এবং ইটিপি ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ নদীর দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করেছে। সেই সঙ্গে ঢাকা মহানগরে প্রবাহিত ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস এবং প্রকৃতিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা শহরকে সবুজে আচ্ছাদিত করা, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন অধিদপ্তর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে রাস্তার মিডিয়ান, ইউলুপ, পন্ডিং এরিয়া এবং খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ এবং জিরো সয়েল (মাটিবিহীন চাষাবাদ) কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির ৪১ হাজার ৫৬৫টি ফলদ, বনজ, ওষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছে চারা রোপণ করা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ঢাকা শহরের দূষণ কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রজাতির লতা, গুল্ম ও ঘাস দিয়ে মাটি আবৃত করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বনায়নযোগ্য খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
৩৯ দিন আগে
বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চলের কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
তিন হাওর জেলা এবং ময়মনসিংহের একাংশে চলমান ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাস সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ পদক্ষেপের কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ সকালে অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে আলোচনা করেছেন।
তিনি জানান, তিন দিন আগের আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পরপরই তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বৃষ্টির কারণে যেসব কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে, তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে আগামী তিন মাস প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষক যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে সরকার কঠোর নজরদারি রাখছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহসহ তিনটি নির্দিষ্ট জেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে আগামী তিন মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে এই সরকারি সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
৩৯ দিন আগে
অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে নামছে সরকার
জুয়া, অনলাইন জুয়া এবং মাদকের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ এপ্রিলের পর সারা দেশে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেই সঙ্গে অবৈধ সিসা বার ও লাউঞ্জ বন্ধে পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ বিভাগ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জয়নুল আবদিন ফারুকের ৭১ বিধিতে দেওয়া নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অধিবেশনে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফের আড়ালে গড়ে ওঠা অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধে বন্ধের বিষয়ে নোটিশ দেন জয়নাল আবদিন ফারুক।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত) অনুযায়ী সিসা ‘খ’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য হিসেবে তফসিলভুক্ত। বর্তমান সরকার মাদককে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে নির্বাচনি ইশতেহারে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অবৈধ সিসা লাউঞ্জ পরিচালনা বন্ধে রাষ্ট্রপক্ষের বিরুদ্ধে কিছু মালিক রিট মামলা করলেও আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বাতিল করেছেন।
তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমোদনবিহীন সিসা লাউঞ্জ বন্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ সিসা বার থেকে সিসা ও হুক্কা জব্দ করা হয়েছে। একই ধরনের আরও অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন লাউঞ্জ থেকে মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।
অবৈধ সিসা লাউঞ্জগুলো যাতে নাম-ঠিকানা পরিবর্তন করে পুনরায় কার্যক্রম চালাতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফের আড়ালে অবৈধ সিসা লাউঞ্জ পরিচালনার বিষয়টি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নজরেও এসেছে। এ ধরনের কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য, নগর শৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে অবৈধ সিসা লাউঞ্জ স্থাপন করে যাতে কেউ ব্যবসা করতে না পারে সে বিষয়ে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে ভবন মালিকদেরকে সচেতন করা হচ্ছে। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এই ব্যবসায় মদদ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া মাত্রই তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে জুয়া, অনলাইন জুয়া এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিলের পরে আমরা সারা দেশে একটি সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করব। এদেশের যুব সমাজকে রক্ষা করার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।
৪১ দিন আগে
জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জ্বালানি তেলের রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
পুলিশসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীর ওপর আরোপিত জ্বালানি তেলের সীমাবদ্ধতা বা রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দুই দিন আগেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে সংসদকে অবহিত করেন তিনি।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্লোর নিয়ে এসব কথা জানান।
এদিন কুমিল্লার একজন কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার ঘটনা ও পুলিশের টহল কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তেল সংকট ও রেশনিংয়ের বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেন মনিরুল হক চৌধুরী।
তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি তেলের রেশনিংয়ের অজুহাতে পুলিশ রাতে টহল কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। কুমিল্লার একজন কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বলছে, জ্বালানি তেলের কারণে তারা ঠিকমতো টহল দিতে পারছেন না।
এরপর ফ্লোর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিষয়টি আমরা এরই মধ্যে অ্যাড্রেস করেছি। পুলিশসহ ইমার্জেন্সি বাহিনী যারা আছে—পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার ব্রিগেড, তাদের ওপর থেকে যে এমবার্গো (নিষেধাজ্ঞা) ছিল, তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুই দিন আগেই এ সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করেছি এবং বিষয়টি ক্লিয়ার করে দেওয়া হয়েছে। আশা করি এ সমস্যা আর হবে না।
৪২ দিন আগে
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১০ সদস্যের যৌথ কমিটির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কমিটির সভাপতিসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম প্রস্তাব করে বিরোধী দলের কাছ থেকে পাঁচজনের নাম চেয়েছেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২০তম দিন বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী। কমিটির সভাপতি হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নাম প্রস্তাব করেন তিনি।
গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত আলোচনা প্রস্তাবের ওপর সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় যৌথভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের অভিমত উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন।
সংসদ নেতা বলেন, গতকাল বিরোধীদলীয় নেতা দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা, যার তাপ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা জানিয়েছিলেন, তাদের কাছে কিছু পরামর্শ আছে এবং সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে পারে। আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় দেশের ও মানুষের স্বার্থে যে কারও সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত।
এই প্রেক্ষাপটে সরকারি দলের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটির নাম ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তারা হলেন— বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, মানিকগঞ্জ-২ আসনের মঈনুল ইসলাম খান শান্ত এবং শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন অপু।
এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আশা করি, এই সংসদ জাতীয় সব সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে ইনশাআল্লাহ। এটি এই সংসদের জন্য একটি নবযাত্রা। আমরা শিগগিরই আমাদের নামগুলো পেশ করব।
সরকার ও বিরোধী দলের এই সমঝোতাকে সাধুবাদ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, এই মাসের শেষেই সংসদ বিরতিতে যাবে। তাই আশা করি অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা তাদের পাঁচজন সদস্যের নাম দেবেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার এবং বিরোধী দল এভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে অগ্রসর হলে দেশের যেকোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। আপনাদের এই বক্তব্যের ফলে জনগণের মনে অনেক আশার সঞ্চার হয়েছে।
৪৫ দিন আগে