সারাদেশ
সুনামগঞ্জের গ্রামবাসীর উদ্যোগে নদীর ওপর বাঁশের সেতু নির্মাণ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও তা পূরণ না হওয়ার কয়েকটি গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এক ব্যবসায়ীর উদ্যোগে নদী পারাপারের জন্য বাঁশের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এতে করে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ভাঙারখাল নদীর ওপর বাদাঘাট বাজার (সবজি ও মাছ মহল) ও পৈলনপুর মাদরাসা অংশে টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু দিয়ে চলাচলের জন্য তা উদ্বোধন করেন উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক ও সেতুটির জন্য বিনিয়োগদাতা ব্যবসায়ী মানিক মিয়া। এ সময় বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য বক্তি ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
সেতুটি নির্মাণ করায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী বলছে, ভাঙারখাল নদী বাদাঘাট ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নকে আলাদা করেছে। নদীটির ওপর বাদাঘাট বাজার (সবজি ও মাছ মহল) ও পৈলনপুর অংশে সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও কেউ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। অথচ পৈলানপুর গ্রামসহ ৫-৬ টি গ্রামের বাসিন্দা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবী ও ব্যবসায়ীদের শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটে আর বর্ষায় নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়েছে অনেককেই, শিক্ষার্থীদের বইখাতা পানিতে ডুবে যায়। পৈলানপুর গ্রামে মাদরাসা আছে; এখানেও শিক্ষার্থীরা আসা-যাওয়া করছে। তাই সহজে যাতায়াতের জন্য সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখানে সেতু নির্মাণের দাবি জানানোর পরও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ আমলেই নেয়নি।
তারা বলেন, বাঁশের সেতুটি তৈরি করায় বর্ষায় ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় করে নদী পারাপারের দীর্ঘদিনের বিড়ম্বনার অবসান ঘটেছে। গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা আর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক মিয়ার আন্তরিকতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মানিকের উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন এটি। সরকারিভাবে সেতু নির্মাণের দাবি জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকারিভাবে কোনো কিছু পাওয়ার আশা না করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসলে এবং সবাই সহযোগিতা করলে বড় কাজও সহজ হয়ে যায়। তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনস্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।
পৈলানপুর গ্রামেরে শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের কয়েকটি গ্রামে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে এই নদী দিয়ে বর্ষায় ছোট্ট নৌকা দিয়ে পার হতে হয়। অনেক সময় নৌকা ডুবে বইখাতা পানি ভিজে যায়, আর শুকনো মৌসুমে নদীর মধ্যে বাঁধ সাকো দিয়ে পার হতে গিয়ে অনেকেই দুর্ভোগে পড়ি। বাঁশের সেতুটি হওয়ায় আমরা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেলাম। এখানে যদি স্থায়ী একটি সেতু নির্মাণ করা হতো, তাহলে ভালো হতো।
সমাজসেবক আবুল হোসেন জানান, সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় পৈলনপুর মাদরাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজারো ছাত্র-ছাত্রী এবং দুপাড়ের প্রায় পাঁচ হাজার সাধারণ জনগণের কোনো টাকা ছাড়াই নির্বিঘ্নে যাতায়াত করার সুযোগ সৃষ্টি হলো।
ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, আমাদের যেহেতু টাকা নেই, তার জন্য জনগণের সুবিধার্থে বাঁশের সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী। সবাই সহযোগিতা করায় সেতুটি দৃশ্যমান হয়েছে। এখন সবাই সহজে চলাচল করতে পারবে।
সেখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া জানান, বর্ষায় নৌকায় পারাপার করতে করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এই বাঁশের সেতুটি তৈরি করে চালু করার জন্য যারা সহযোগিতা করছেন, তাদের জন্য শুভকামনা রইল। আমি জনগণের স্বার্থে সবসময় পাশে আছি; আগামী দিনগুলোতেও থাকব।
৩ দিন আগে
রাজধানীর রাস্তায় পড়েছিল এক ব্যক্তির মরদেহ, মেলেনি পরিচয়
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর জনপথ মোড়ে হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের ফুটপাত থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার বয়স আনুমানিক ৫০ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২ মে) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফরহাদ আলী জানান, খবর পেয়ে অচেতন অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, তিনি আর বেঁচে নেই।
এসআই ফরহাদ বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকদের জিজ্ঞেস করে আমরা ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানতে পারিনি। সিআইডির ক্রাইম সিনের প্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
৩ দিন আগে
সুনামগঞ্জে বাঁধ ভেঙে ডুবছে ফসল, কাঁদছে কৃষক
গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার কাইল্যানীতে বাঁধের ওপর দিয়ে পানি উপচে পড়া শুরু হয়েছে। এর ফলে শালদিঘা হাওরের হাজারো কৃষক এখন চরম দুশ্চিন্তা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
শুক্রবার (১ মে) ভোর থেকে উপচে পড়া পানির প্রবল চাপে ধীরে ধীরে বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে যেতে শুরু করে, ফলে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও কৃষকরা বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাঁধটি রক্ষায় কাজ করছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাইল্যানী উপপ্রকল্পের ২০ নম্বর পিআইসির (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শালদিঘা হাওরের কৃষক নিরঞ্জন সরকার বলেন, ‘হাওরের অর্ধেকের বেশি জমির ধান এখনও কাটা হয়নি। যদি বাঁধটি আটকানো না যায়, তাহলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।’
একই এলাকার কৃষক রনি তালুকদার বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে পারছি না, কাটলেও শুকাতে পারছি না। এর মধ্যে আবার বাঁধ রক্ষার কাজ করতে হচ্ছে। আমরা এখন চরম বিপদে আছি।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পাউবোর এসও ও পিআইসি সভাপতির যোগসাজশে বাঁধে দুর্নীতি হয়েছে। বাঁধের উচ্চতা কম হয়েছে, স্লোপ কম ছিল। এ কারণে হাওরের সর্বনাশ ঘটেছে।
তিনি বলেন, এই বাঁধের অন্য অংশের চেয়ে এই অংশ নিচু হয়েছে। এ কারণে সোমেশ্বরী নদীর পানি বাড়তেই এদিক দিয়ে পানি উপচে পড়ছে। একপর্যায়ে বাঁধটি ভেঙে গেছে।
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার বলেন, সকালে বাঁধের ভাঙনের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ৩০-৩৫ জন শ্রমিককে কাজে লাগিয়েছি। স্থানীয় কৃষকরাও চেষ্টা করছেন। পিআইসির সভাপতি লাল মিয়াকে কমপক্ষে ১০০টি ফোন দেওয়ার পরে রিসিভ করে বলেন, সাড়ে ৯টায় আসবেন। কিন্তু বিকেল ৪টা পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ নেই।
পিআইসির সভাপতি মো. লাল মিয়া চামরদানি ইউনিয়ন বিএনপির চার নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি। তিনি জানান, টানা বৃষ্টির কারণে মাটি ক্ষয় হয়ে বাঁধটি নিচু হয়ে যায়। বাঁধ রক্ষার জন্য সারা রাত ঘটনাস্থলে ছিলাম। সকাল থেকে অন্য পাশে কাজ করতে হচ্ছে। এজন্য সেখানে যেতে পারিনি।
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, শালদিঘা হাওরে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হেক্টর জমির ধান পাকার আগেই জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ১৬০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে যাই। বাঁধ রক্ষায় ভোর থেকেই কাজ করছি। আশা করছি, বাঁধটি পুরোপুরি রক্ষা করা সম্ভব হবে।
৩ দিন আগে
ময়মনসিংহের পাঁচবারের সাবেক এমপি মোসলেম উদ্দিন আর নেই
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের আওয়ামী লীগ নেতা ও দলটি থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য হওয়া অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মোসলেম উদ্দিন ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, গণপরিষদের সাবেক সদস্য, জাতীয় সংসদ সদস্য ও ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে, দুই মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজন ও বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে মোসলেম উদ্দিনকে জাপান- বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
তার ছেলে ইমদাদুল হক সেলিম বলেন, ঢাকার ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে বাদ যোহর তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া আগামীকাল (রবিবার) সকাল ১০টায় ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতিতে, বিকেল ৩টায় ফুলবাড়ীয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, বিকেল ৫টায় আলহাজ্ব মো. মোসলেম উদ্দিন এতিমখানা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে নিউগী কুশমাইলের নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-৬ থেকে ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এই নেতা।
৩ দিন আগে
নরসিংদীতে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন, আটক ২
নরসিংদীতে আল আমিন (৩০) নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে তারই ছোট ভাই হাসান (২৬)।
শনিবার (২ মে) সকালে শহরের সাটিরপাড়া এলাকার পেট্রোল পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বড় ভাই আল আমিন ও ঘাতক হাসান নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের আতশআলি বাজারের বাসিন্দা নুর ইসলামের ছেলে। তারা শহরের চৌয়ালা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, হাসান ও আল আমিনরা ৫ ভাই ও ২ বোন। তারা নরসিংদী শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
দীর্ঘদিন যাবৎ চৌয়ালার বাসিন্দা হাবিবের ছেলে নাইম তাদের বোন দুই সন্তানের মা তাসলিমা বেগমকে প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছিল। কিন্তু নাইমের প্রেমের প্রস্তাবে তাসলিমা রাজি হচ্ছিলেন না। এই নিয়ে দীর্ঘদিন নাইমের সঙ্গে বিরোধ চলছিল তার ভাইদের। এই বিরোধে নাইমের ভয়ে সম্প্রতি তারা গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছিল। তারপর ৩ দিন আগে আল-আমিন স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় নাইমের সঙ্গে এ ঘটনা মীমাংসা করে চৌয়ালার একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন, কিন্তু তার ছোট ভাই হাসান এটা মেনে নিতে পারেননি।
আজ সকালে আল আমিন বাজার করতে বের হলে সাটিরপাড়া এলাকায় আজাদ ফিলিং স্টেশনের সামনে ছোট ভাই হাসান তাকে কেঁচি দিয়ে পেটে একাধিক আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, ছোট দেবরের সঙ্গে নাইমের অনেক দিন ধরে দ্বন্দ্ব ছিল। পরে আমরা সবাই মিলে বিষয়টি মীমাংসা করি। কিন্তু নাইম আমার ননদ তাসলিমার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাকে বারবার ফোন দিয়ে বিরক্ত করতে শুরু করে। একপর্যায়ে বিয়ে না করলে আমার দেবরকে হত্যা করার হুমকি দেন। এ ঘটনার পর আমাদের নরসিংদী থেকে গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিন দিন আগে মীমাংসা করে আবার নরসিংদীতে আসি। কিন্তু আমার দেবর মীমাংসার পক্ষে ছিল না। এতে আমার স্বামী একাই মীমাংসা করে শহরে চলে আসেন। আর মীমাংসার পক্ষে না থাকায় হাসান শহরে আসতে পারবে না—এমন চিন্তা করে ক্ষোভে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে সে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার আগের রাতে হাসান আমার স্বামীকে ফোন করে হুমকি দিয়ে বলেছিল, ‘তোর রক্ত দিয়ে আমি গোসল করব। তুই যখন প্যাঁচ ভেঙে গেছিস, আমাদের চিন্তা করিস না। তোর মতো ভাইয়ের দরকার নাই। আমি যদি নুরুর সন্তান হয়ে থাকি, তাহলে তোর রক্ত দিয়ে গোসল করব।’ পরদিন সকালে আল আমিন বাজারে গেলে হাসান তাকে হত্যা করে।
শিল্পী বেগম বলেন, আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।
নিহতের বোন তাসলিমা বেগম বলেন, নাইম আমাকে প্রতিনিয়ত ফোন দিয়ে বিরক্ত করত। আমি কথা না বললে আমার ভাইদের মেরে ফেলার হুমকি দিত। কিছুদিন আগে লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলাও করে সে। এরপর ভয়ে আমরা গ্রামের বাড়িতে চলে যাই। পরে নাইমের সঙ্গে মীমাংসা করে আমরা আবার শহরে আসি। আর এই শহরে আসাই আমার ভাইয়ের জন্য কাল হলো। এক ভাই অন্য ভাইকে খুন করল।
নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির বলেন, সকালে আল আমিন নামে একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় আনা হলে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘাতক ছোট ভাই হাসান ও নাইমকে আটক করা হয়েছে। মামলা পর তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। নাইমের নামে বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।
৩ দিন আগে
সীতাকুণ্ডে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ১, আহত ৪
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভাঙারি দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।
শনিবার (২ মে) দুপুরে উপজেলার বড় কুমিরার মাজার গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম আরমান। কুমিল্লার বাসিন্দা এই ব্যক্তি ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল ইসলাম জানান, কুমিরার কামাল সওদাগরের ভাঙারি দোকানটিতে হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হলে ঘটনাস্থলেই সেখানে থাকা একটি ভ্যানের চালক নিহত হন। এছাড়া দোকানটির কামাল উদ্দিনসহ আশপাশে থাকা আরও ৪ জন আহত হন।
আহতদের উদ্ধার করে ২ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অপর দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৩ দিন আগে
রূপপুরে ব্যায়াম করার সময় রুশ নাগরিকের মৃত্যু
পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আবাসিক এলাকায় জিমে ব্যায়াম করার সময় চুরকিন ভ্লাদিমির (২৫) নামে এক রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) রাতে নতুনহাট গ্রিন সিটির আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
চুরকিন রুশ পরমাণু সংস্থা রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অটোমটেক ইনির্গতে কর্মরত ছিলেন। তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের একজন কর্মী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
পুলিশ ও প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (শুক্রবার) রাতে গ্রিন সিটির ভেতরে ব্যায়াম করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই যুবক। সহকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের ধারণা, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের তৈরি করা সুরতহাল প্রতিবেদনেও তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান বলেন, আজ (শনিবার) আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ তার নিজ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩ দিন আগে
নাটোরে ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন পয়েন্টে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ
উজানের পানি প্রবাহের কারণে নাটোরের সিংড়ায় আত্রাই নদীর পানি আকস্মিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। ফলে ওই এলাকায় আত্রাই অববাহিকার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে চলনবিলে পানি প্রবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন পয়েন্টে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করছেন স্থানীয় কৃষক ও উপজেলা প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলনবিলে পানি প্রবেশ করতে থাকায় পাকা বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা। কৃষকদের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যেই উপজেলার জোড় মল্লিকা সেতু পয়েন্টে নদীর পানি ঠেকাতে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করেছে।
এছাড়া হাঁসপুকুড়িয়া নষ্ট স্লুইস গেটে দিয়ে বিলে পানি প্রবেশ ঠেকাতে কৃষকরা নিজ উদ্যোগে মাটির বস্তা ফেলে স্লুইস গেট বন্ধ করে দিয়েছেন। আত্রাই নদীর পাটকোল বেইলি সেতু পয়েন্ট দিয়ে পানি প্রবেশ ঠেকাতে সেখানেও আস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দুই স্লুইস গেট।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, ইতোমধ্যেই চলনবিলের ৫০ শতাংশ ধান কেটে নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ধান কেটে ঘরে তোলার কাজ চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিলে পানি প্রবেশের সবগুলো পয়েন্টে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
৩ দিন আগে
মাগুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মসজিদের ভেতরে সংঘর্ষ, আহত ৫
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভেতর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১ মে) দুপুরে গয়েশপুর ইউনিয়নের চর-জোকা গ্রামে জোকা মসজিদের ভেতরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুর রহমান (দলু) এবং সাচ্চু মিয়ার নেতৃত্বে দুটি প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। উভয়েই স্থানীয়ভাবে একই রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ঘটনার শুরুতে সাচ্চুর সমর্থক লাল্টু (৪০) প্রতিপক্ষের মারধরে গুরুতর আহত হন। এর জেরে কিছুক্ষণ পর সাচ্চুর পক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মসজিদের ভেতরে হামলা চালান। এতে দলুর পক্ষের মুক্তার (৪৫), আনোয়ার (৬০), রেজাউল (৪০) ও দুলাল মন্ডল (৫০) গুরুতর আহত হন।
হামলার সময় মসজিদের ভেতরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুসল্লিরা প্রাণভয়ে দ্রুত সরে যান। পরে সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন তাদের স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মসজিদের ভেতরে এমন সহিংসতার ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া জানান, চর-জোকা পশ্চিম পাড়া বাইতুল মুকাররম জামে মসজিদের ভেতরে দুপুর দেড়টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
৩ দিন আগে
অচলাবস্থার অবসান, বড়পুকুরিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু
ছয় দিন বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট। এতে করে দৈনিক ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে।
শুক্রবার (১ মে) রাত ১০টা থেকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। এতে উত্তরাঞ্চলে লোডশেডিং কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩টি ইউনিটের মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি গতকাল (শুক্রবার) রাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে তা সরবরাহ করা হচ্ছে।
বয়লারের পাইপ ফেটে যাওয়ার কারণে ইউনিটটি গত ২৫ এপ্রিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
এই প্রকৌশলী আরও বলেন, বন্ধ থাকা ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটের ওভার হোলিংয়ের কাজ চলছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সেটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও বাড়ানো যাবে। এ ছাড়াও ৫ বছর ধরে অচল পড়ে থাকা ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটি মেরামত করে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাশ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা ব্যবহার নিশ্চিত এবং কৃষি প্রধান উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় সেচের সুবিধার্থে ২০০৬ সালে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল।
শুরুতে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। এরপর ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট যুক্ত করা হয়েছে। তবে ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে কেন্দ্রটি কখনো পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি।
৩ দিন আগে