বিশেষ সংবাদ
কুড়িগ্রামে বিদেশি আঙুর চাষে দুই উদ্যোক্তার সাফল্য দেশব্যাপী সাড়া ফেলেছে
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিদেশি প্রজাতির (বাইকুনুর) লাল আঙুর চাষ করে সফলতা পেয়েছেন দুই কৃষি উদ্যোক্তা রুহুল আমীন ও হাসেম আলী। তাদের এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, কৃষকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার আশা জাগিয়েছে।
উপজেলার গংগাহাট বাজারসংলগ্ন আজোয়াটারী এলাকায় দুই বিঘা জমিতে প্রায় এক দশকের পরিশ্রমে গড়ে উঠেছে তাদের আঙুর বাগান। বর্তমানে সেখানে ৪৬০টি বাইকুনুর জাতের আঙুরলতা রয়েছে।
উদ্যোক্তারা জানান, ২০১৭ সালে মাত্র ৪০টি চারা দিয়ে তারা যাত্রা শুরু করেন। শুরুতে সামান্য ফলন এলেও ২০২২ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর বিক্রি শুরু করেন তারা। ওই বছর ৫০টি গাছ থেকে প্রায় ৫ মণ আঙুর বিক্রি হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ১০ মণ, ২০২৪ সালে ১৫ মণ এবং ২০২৫ সালে ২০ মণ আঙুর বিক্রি করা হয়। চলতি বছর ৬০টি গাছ থেকে ৪০ থেকে ৪৫ মণ আঙুর উৎপাদনের আশা করছেন তারা, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা হবে বলে ধারণা তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগানে বাইকুনুর ছাড়াও বিভিন্ন বিদেশি জাতের আঙুরের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক ফলজ গাছ রয়েছে। বাগানটি এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের মানুষের কাছেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আগ্রহীরা এখান থেকে আঙুরের চারা সংগ্রহ করছেন।
৫৯ দিন আগে
রংপুরের কৃষিতে সৌর বিপ্লব, মৌসুমে সাশ্রয় ৭৫ লাখ লিটার ডিজেল
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা, সরবরাহ শঙ্কা এবং দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির আশঙ্কার মধ্যে বাংলাদেশের কৃষিখাতেও চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে সেচ মৌসুমে ডিজেলনির্ভর কৃষকদের উদ্বেগ এখন চরমে।
এমন বাস্তবতায় রংপুর অঞ্চলে আশার আলো হয়ে উঠেছে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচব্যবস্থা। সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৫ দশমিক ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এতে একেকটি সেচ মৌসুমে প্রায় ৭৫ লাখ লিটার ডিজেল সাশ্রয় সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষকেরা বলছেন, ডিজেল সংকট, মূল্যবৃদ্ধি কিংবা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ভোগান্তি ছাড়াই এখন সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ কমছে, বাড়ছে আবাদও।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের দোয়ানী গ্রামে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) পরিচালিত একটি ডাগওয়েলের দায়িত্বে আছেন আতিয়ার রহমান।
তিনি বলেন, এলাকায় ব্যাপকভাবে ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজি চাষ হয়। এই সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র দিয়ে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে নিয়মিত পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
তিনি জানান, ‘ডিজেল পাওয়া না গেলে বা দাম বাড়লেও কৃষকদের এখন আর চিন্তা করতে হয় না। কারণ এই সেচযন্ত্র চলে সৌরবিদ্যুতে।’
পাশাপাশি তিনি একটি বড় সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, বছরে মাত্র চার মাস সেচকার্যে ব্যবহারের পর বাকি আট মাস সৌর বিদ্যুতের প্যানেলগুলো প্রায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। এই সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে কৃষক, প্রতিষ্ঠান ও সরকার—সবাই লাভবান হতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সৌর বিদ্যুতের প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি পাম্প চালিয়ে কৃষিজমিতে পানি পৌঁছে দিচ্ছে। কোথাও ডিজেলের ধোঁয়া নেই, নেই জ্বালানি সংগ্রহের দৌড়ঝাঁপ, নেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার উৎকণ্ঠা।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর গ্রামের কৃষক সুধাম চন্দ্র সেন বলেন, তেলের চিন্তা নাই। সোলার থেকে বিদ্যুৎ হয়, পানি পাই। ফসলও ভালো হয়, খরচও কম লাগে।
তিনি আরও বলেন, আগে বিদ্যুৎ থাকত, আবার থাকত না। অনেক সময় জমিতে পানি দিতে দেরি হতো। এখন সোলারে সবসময় পানি পাওয়া যায়।
নদী বাঁচাও তিস্তা বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের লালমনিরহাট জেলা ইউনিটের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষিকে আধুনিক করার জন্য এ ধরনের প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সৌরচালিত সেচ প্রকল্প আরও বাড়ানো দরকার।
বিএডিসি রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (নির্মাণ) হুসাইন মোহাম্মদ আলতাফ জানান, ২০২২ সালের পর নতুন কোনো সৌর সেচ প্রকল্প চালু হয়নি। তবে আগের স্থাপনাগুলো এখনও সচল রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত সেচ মৌসুমে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ৫৯৬টি সৌরচালিত সেচযন্ত্র সচল ছিল। প্রতিটি যন্ত্রে গড়ে ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরা হলে মোট উৎপাদন দাঁড়ায় ৫ হাজার ৯৬০ কিলোওয়াট বা ৫ দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার ফ্যান চালানো সম্ভব। একইসঙ্গে চার মাসের সেচ মৌসুমে প্রায় ৭৫ লাখ লিটার ডিজেল সাশ্রয় হয়।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) রংপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান খান বলেন, তাদের আওতায় নতুন প্রকল্প না এলেও পুরোনো প্রকল্প চালু আছে। মাঠ পর্যায়ে দুটি নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এছাড়া অফিস ভবনের সৌর বিদ্যুৎও নেট মিটারিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে।
নেসকো রংপুরের প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) মিজানুর রহমান বলেন, ডিজেলনির্ভর সেচ থেকে সৌরচালিত সেচে দ্রুত রূপান্তর ঘটাতে পারলে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণও কমবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটি হতে পারে টেকসই কৃষির কার্যকর পথ।
তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ সৌরচালিত সেচযন্ত্র পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায় রয়েছে। তাই এসব স্থাপনায় নেট মিটারিং চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে বাস্তবায়ন সম্ভব।
কৃষকদের দাবি, নতুন করে সৌর সেচ প্রকল্প চালু হোক, পুরোনো প্রকল্প সংস্কার হোক আর অব্যবহৃত সময়ের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হোক।
৬০ দিন আগে
সুনামগঞ্জের হাওরে চলছে না হারভেস্টার, ধান কাটা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কৃষকরা
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে কৃষক ও মেশিনমালিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার মেশিনে ডিজেল সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংগ্রহের জটিল প্রক্রিয়াও সমস্যাকে আরও বাড়িয়েছে। ফলে অনেক এলাকায় ধান কাটা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে হাজারো কৃষকের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটা শুরু হলেও পর্যাপ্ত হারভেস্টার মেশিন সচল না থাকায় অনেক কৃষক শ্রমিক সংকট ও সময়মতো ফসল কাটার অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। অনেক এলাকায় ধান কাটা থেমে গেছে বা ধীরগতিতে চলছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মদনপুর এলাকার কৃষক আবদুল্লাহ মিয়া জানান, তিনি প্রায় ৯০ কেয়ার (৩০ একর) জমিতে ধান চাষ করেছেন। তিনি বলেন, গত দুই দিনে কষ্ট করে কিছু ধান কাটতে পেরেছি। এখনও অনেক জমি বাকি। ধান পাকলেও কীভাবে কাটব চিন্তায় আছি।
একই এলাকার গোবিন্দপুরের কৃষক সাবেক ইউপি সদস্য ইকবাল আহমদ বললেন, হারভেস্টার মেশিনের মালিক-চালকরা বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) অনেকেই তেল নিতে এসে না পেয়ে ঘুরে গেছেন। পাম্পের লোকজন বলে দিয়েছে কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রত্যয়ন আনতে হবে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের হারভেস্টার মালিক আবদুল হক পাম্পে বিকেলে তেল নিতে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বলেন, বুধবার থেকে করচার হাওরে ধান কাটা শুরু করেছি। মেশিনে তেল ছিল। প্রথম দিন কেয়ারে (তিন কেয়ারে এক একর) ১৯০০ টাকা হিসাবে কাজ করেছি, দুই কেয়ার ধান কাটতে পেরেছি। বৃহস্পতিবার চার–পাঁচ কেয়ার কাটা হয়েছে। শুক্রবার আর মেশিনে তেল থাকবে না।
তিনি বলেন, তেল কিনতে পাম্পে গেলে তারা জানায় কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনওর স্বাক্ষরযুক্ত স্লিপ লাগবে। বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটা থেকে এক ঘণ্টায় প্রথমে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার শনাক্তকরণ স্লিপ, পরে কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনওর স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়ন নিয়ে ২০০ লিটার তেলের অনুমতি পাই। এরপর শহরের ওয়েজখালির পাম্পে গেলে তারা জানায় ১০০ লিটারের বেশি তেল দেওয়া যাবে না। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সেখানে তেল না পেয়ে ২১ কিলোমিটার দূরের দিরাই সড়কমোড়ের পাম্পে গিয়ে তেল নিতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এভাবে ঘুরে ঘুরে তেল নিলে কীভাবে মেশিন চালাব, আর কীভাবে ধান কাটব।
শুধু আবদুল হক নন, বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তেলের স্লিপ নেওয়া আটজন হারভেস্টার মালিককেই একইভাবে একাধিক পাম্পে ঘুরতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
মালিক ও কৃষকরা জানান, এভাবে অফিস থেকে স্লিপ সংগ্রহের ঝামেলার কারণে অনেকেই আর তেল নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না, ফলে ধান কাটায় বিলম্ব হচ্ছে এবং কৃষকরা বিপাকে পড়ছেন। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ে পাম্প বা ডিলার পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থেকে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা উচিত।
এদিকে, তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন জানান, তিনি দুটি হারভেস্টার মেশিন দিয়ে স্থানীয় কৃষকদের ধান কাটার কাজ করেন, যা থেকেই তার জীবিকা নির্বাহ হয় এবং অনেক কৃষকও নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মৌসুমে তীব্র ডিজেল সংকটে তার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একটি মেশিন পুরোপুরি বন্ধ এবং অন্যটি পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। এতে তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং কৃষকরাও সময়মতো ধান কাটতে না পারায় উদ্বেগে রয়েছেন।
জামাল বলেন, আমার দুটি হারভেস্টার আছে। ডিজেলের কারণে একটি বন্ধ, আরেকটি সচল থাকলেও পুরো দিন চালাতে পারছি না। যা পাওয়া যায় তা অপ্রতুল। খোলা বাজারে ডিজেল পাওয়া যায় না, লুকিয়ে বিক্রি হলেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তিনি জানান, ১০০ টাকার ডিজেল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বালিজুরি বাজারের ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলা হয় তেল নেই। ফলে বাধ্য হয়ে অন্য বাজার থেকে বেশি দামে তেল আনতে হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষকের ধান কাটা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
একই এলাকার হারভেস্টার মালিক মো. রফিক উদ্দিন বলেন, এবার মেশিন নিয়ে আমরা চরম বিপদে আছি।
এদিকে দিরাই ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার কৃষকরাও একই ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, শ্রমিক ও যন্ত্র দুটোই সংকটে পড়ায় ধান কাটার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
শান্তিগঞ্জের হারভেস্টার মালিক আবিদুর রহমান টিপু বলেন, আমাদের চারটি মেশিন আছে। কিন্তু ডিজেল সংকটে সেগুলো ঠিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে ৬০২টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ১৫৫টি রিপার মেশিন রয়েছে। তবে জ্বালানি সমস্যার কারণে এসব যন্ত্রের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, জেলায় প্রকৃত কোনো জ্বালানি সংকট নেই। তবে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার কারণে জ্বালানি বিতরণে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে পাম্প থেকে তেল দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনিক সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। আগাম বৃষ্টিপাতে ইতোমধ্যে এক হাজার ৩৩১ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১৫ মে’র মধ্যে পুরো জেলায় ধান কাটা সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
৬১ দিন আগে
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কবলে সিলেট, ভোগান্তিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা
হঠাৎ করেই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে সিলেট। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদামতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শিগগিরই এর উন্নতির সম্ভাবনা নেই বলেও জানান সিলেটের বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। এই সময়ে লোডশেডিং বৃদ্ধি শিক্ষার্থীদের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো।
লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীদের। তারা বলছেন, এমনিতেই সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকানপাট। এর মধ্যে দিনভর ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনমনে নাভিশ্বাস উঠছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাবের মধ্যে দিনব্যাপী ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের কারণে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে লোডশেডিং।
উৎপাদন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হচ্ছে। তবে এর কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সিলেট জেলায় পিডিবির ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলেছে ১৩০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ৪০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং হয়েছে ২৫ শতাংশ।
যদিও পিডিবির এই হিসাবের সঙ্গে বাস্তবতার তেমন মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৭ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ মেলেনি। সেই হিসাবে লোডশেডিং হয়েছে কম হলেও ৫০ শতাংশ। কিন্তু পিডিবির হিসাব বলছে ২৫ শতাংশ লোডশেডিংয়ের কথা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, হঠাৎ চাহিদা বেড়েছে, সেই তুলনায় উৎপাদন বাড়েনি। ফলে সরবরাহ কম থাকায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আপাতত এই অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা নেই। কারণ জাতীয়ভাবে উৎপাদন না বাড়লে লোডশেডিং কমার সম্ভাবনা নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং শুরু হয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে লোডশেডিং। নগরীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক রাখা হলেও গ্রাম অঞ্চলে সারা দিনে গড়ে ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না।
এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধসহ বেশ কিছু কৃচ্ছ্রসাধনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে আনা হয় পরিবর্তন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আংশিকভাবে অনলাইনে পরিচালনার কথাও বিবেচনায় আছে। এতকিছুর পরেও লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলছে না।
জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে সিলেটে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় গরমে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছায় ঘরে বাইরে কোথাও একটু স্বস্তি মিলছে না। দিনের বেলায় ১ ঘণ্টা পরপর থাকছে না বিদ্যুৎ। এমনকি রাতেও একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের তীব্রতা ও লোডশেডিংয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থরা পড়েছেন বিপাকে। তীব্র গরমে অতিরিক্ত ঘেমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। অফিস-আদালতে কাজে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণের তেমন আশার বাণী শুনাতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে গরমে চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু সেই আলোকে উৎপাদন বাড়েনি। তাই সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। শহরে লোডশেডিং ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হলেও উপজেলা পর্যায়ে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। গ্রামীণ এলাকায় দিনে গড়ে ৬-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না।
সিলেটের ব্যবসায়ী মতিউর রহমান জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু ডিজেলও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে খরচ বৃদ্ধি পেলেও বাড়ছেনা উৎপাদন।
সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লোডশেডিংয়ে জনজীবন এখন বিপর্যস্ত। উপজেলা পর্যায়ে প্রতিদিন কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর লোডশেডিং বেশি হয়। শহর থেকে গ্রাম, সবখানে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে রাত-দিন সমানতালে চলে লোডশেডিং।
এদিকে, নগরীর বিভিন্ন এলাকাগুলো পিডিবির অধীনে থাকায় অনেকটা রুটিন করে লোডশেডিং করা হয়। তবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে থাকা গ্রামীণ জনপদের মানুষকে কঠিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গ্রামে ২৪ ঘণ্টার বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎহীন থাকে বলে অভিযোগ করেন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দারা। গত রবিবার (১২ এপ্রিল) থেকে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়ে গেছে বলেও জানিয়েছেন গ্রামীণ জনপদের লোকজন।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা জাকারিয়া তালুকদার বলেন, এক সপ্তাহেরও কম সময় পর অর্থাৎ ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু। এখন যেভাবে বিদ্যুৎ যন্ত্রণা আছে, এক ঘণ্টা পাওয়া গেলে দুই ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হয়। এভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে।
সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি বিপণি বিতানের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন বলেন, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে। সকালে খুলতে খুলতে ১১টা বেজে যায়। এর মধ্যে সারা দিনের অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ থাকে না। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
৬২ দিন আগে
রংপুরে সেতুর অভাবে দুর্ভোগে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হারিয়ারকুটি ও সয়ার ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে যমুনেশ্বরী নদী। এর দুই পাশের চিলাপাক ও কালুরঘাটে স্থায়ী একটি সেতুর অভাবে ২৫ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষকে। বিপাকে পড়ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, তারাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চিলাপাক-কালুরঘাট দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, বছরের পর বছর ধরে তারা খেয়াঘাটের ওপর নির্ভর করে চলাচল করছেন। শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে নদী পার হন গ্রামবাসী। কিন্তু বর্ষায় সেই সাঁকো তলিয়ে যায়। নদীর পানি বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন নৌকায় পার হতে হয় যা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। রাতে জরুরি প্রয়োজনেও নদী পার হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষার সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও নৌকা পাওয়া যায় না। নদীর স্রোত বেশি থাকলে মাঝিরাও পারাপারে অনীহা প্রকাশ করেন। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
সেতুর অভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা। এ অঞ্চলে ধান, আলু, ভুট্টা ও শাকসবজি উৎপাদন হলেও সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে লোকসানে পড়তে হয় তাদের। ফলে কৃষির ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো পড়েন আর্থিক সংকটে।
এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন নদী পার হয়ে স্কুল-কলেজে ও মাদরাসায় যেতে হয়। বর্ষায় ঝুঁকির কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না। ফলে পড়াশোনায়ও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
তারাগঞ্জের কুর্শা ইউনিয়নে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মতিনুজামান বলেন, আমার বাড়ি নদীর ওপারে। এখানে একটি স্থায়ী সেতু না থাকায় এ এলাকার লোকজনের চলাচলে চরম কষ্ট করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ কষ্ট আরও বেড়ে যায়। তখন এ এলাকার লোকজনের চলাচল ভীষণ কষ্টকর । অসুস্থ রোগীদের জন্যও ঘাট যেন এক দুঃস্বপ্ন। হঠাৎ অসুস্থ হলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা শহরে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। দেরিতে চিকিৎসা পাওয়ায় রোগীর অবস্থা আরও জটিল হয়ে যায়।
চাকরিজীবী ও ছোট ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়ছেন। নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারায় পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যবসায়ীরা সময়মতো পণ্য পরিবহন করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
হারিয়ারকুটি ও সয়ার ইউনিয়নের চিলাপাক, পাটানিপাড়া, দোলাপাড়া, বানিয়াপাড়া, উজিয়াল, মামুনপাড়া, মেনানগর, কালুরঘাট, ডাঙ্গাপাড়া, প্রামাণিক পাড়া, মণ্ডলপাড়া, মাসুয়াপাড়াসহ প্রায় ২৫ গ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি এ ঘাটের ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে একাধিক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
হারিয়ারকুটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুমারেশ রায় এবং সয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল ইবাদাত হোসেন পাইলট জানান, কালুরঘাটে স্থায়ী সেতু নির্মাণের বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই না হওয়ায় আমরাও হতাশ।
এলাকাবাসীর দাবি, কালুরঘাটে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে, এখানে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে না, বরং এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।
এ ব্যাপারে রংপুর এলজিইডির নিবার্হী প্রকৌশলী আবু মুসা বলেন, ওই সেতু নির্মানের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে । আশা করছি দ্রুত একটা ব্যবস্থা হবে।
৬৩ দিন আগে
৪৫ বছরের পুরোনো সেতু ভেঙ্গে ৯ মাস ধরে চলাচল বন্ধ, জনদুর্ভোগ চরমে
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর এলাকায় ৪৫ বছরের পুরোনো একটি সেতু ভেঙ্গে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ৯ মাস আগে সেতুটি ধসে পড়লেও সেটি তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসি সাময়িকভাবে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করলেও তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম মিঞা জানান, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর ইউনিয়নের একমাত্র ব্যবহারযোগ্য ও সংযোগস্থাপনকারী সড়ক বিষয়খালী জিসি-নগরবাথান জিসি ভায়া ডেফলবাড়ী সড়কটি আনুমানিক ৪৫ বছর আগের তৈরি। সড়কের ভবানীপুর-ডেফলবাড়ী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের খালের ওপর এলজিইডি সেতুটি নির্মাণ করে।
কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালে অতি বৃষ্টিপাতের ফলে পানির তোড়ে সেতুটি ভেঙ্গে পড়ে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও সেতুটি গত ৯ মাসেও নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বেড়েছে স্থানীয় চলাচলকারী, পণ্য পরিবহনকারী ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির পাটাতন ভেঙ্গে খালের মাঝখানে পড়ে আছে। ভেঙ্গে যাওয়া সেতুর জায়গায় বসানো হয়েছে বাঁশের সাঁকো। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ সাঁকো তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে বাঁশের সাঁকোও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যান চলাচল।
স্থানীয় বাসিন্দা রাহাত হোসেন জানান, ৯ মাস আগে সেতুটি ভেঙ্গে গেছে। আমরা বারবার বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েছি, তারপরও কোনো সমাধান পাইনি। কবে সেতু হবে কেউ বলতে পারে না। সেতু ভেঙ্গে যাওয়ায় এই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
স্কুলশিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন বলেন, আমরা নিয়মিত এই সেতু পার হয়ে স্কুলে যেতাম। গত বছর সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার পরে সাঁকো বানানো হয়। এখন সাঁকোটিও ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম। নড়বড়ে সাঁকোর ওপর দিয়ে বাইসাইকেল নিয়ে পার হওয়ার সময় ভয় লাগে। এই সাঁকো ভেঙ্গে গেলে আমাদের স্কুলে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
ট্রাকচালক আলফাজ আলী বলেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে পণ্য সরবরাহ করার পরে আমরা এই সেতুটি ব্যবহার করে মহারাজপুর ইউনিয়নের বাজারগুলোতে যেতে পারতাম। এটি ভেঙ্গে যাওয়ার পরে এই সড়কে চলাচল করা বন্ধ হয়ে গেছে, যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর ইউনিয়নের সংযোগস্থাপনকারী ‘বিষয়খালী জিসি সড়ক টু নগরবাথান জিসি সড়ক ভায়া ডেফলবাড়ি’ সড়কটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কের ওপর দুটি সেতু ছিল। এগুলো অনেক বছরের পুরোনো। এর মধ্যে একটি সেতু পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। যে সেতুটি ভেঙ্গে পড়েছে, সেটি পুনর্নির্মাণের জন্য আমরা এরই মধ্যে দুটি পৃথক প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করেছি। আশা করছি, প্রকল্প অনুমোদন হয়ে যাবে। প্রকল্প অনুমোদন হয়ে গেলেই আমরা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করতে পারব।
৬৫ দিন আগে
আজ উচ্ছেদ অভিযান, কালই কেন দখল হচ্ছে রাজধানীর ফুটপাত
রাজধানী ঢাকার ফুটপাতগুলো হকারদের কবল থেকে মুক্ত করতে মাঝেমধ্যেই অভিযান চালাতে দেখা যায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানের দিন কয়েকের মধ্যেই ফুটপাতগুলোতে ফিরে আসে পুরনো সেই চিত্র—পণ্যের ডালি সাজিয়ে হকারদের হাঁকডাক, ফুটপাতের অর্ধেকের বেশি অংশ দখলে নেওয়ায় অতি সংকীর্ণ পথ ধরে গাদাগাদি করে পথচারীদের চলাচল এবং চলতি পথে নানাজনের প্রশাসনকে গালাগাল।
রাজধানীর নিউ মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি জায়গার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলো এক সপ্তাহও হয়নি, এরই মধ্যে নিউ মার্কেটে ফিরে এসেছে পুরনো জীর্ণ চেহারা। ডিএমপির অভিযানের পর এক সপ্তাহ তো দূর, ওই দিনই ফুটপাতে ফিরে আসতে শুরু করেন হকাররা; দিন দুয়েকের মধ্যে ফের দেখা যায় দোকানের সারি।
বারংবার অভিযানের পরও হকারদের কেন দমন করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
চলতি মাসের ১ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত ডিএমপির আটটি ট্রাফিক বিভাগের নেতৃত্বে এ সমন্বিত অভিযানে সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দোকান, ভ্রাম্যমাণ হকার এবং অননুমোদিত পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা এবং বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে মোট ৪০৫টি মামলা করা হয়েছে, জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এছাড়া ৫৭ জনকে সতর্ক করা হয়েছে এবং ৯৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এত কিছুর পরও দমানো যায়নি হকারদের।
গুলিস্তান, ধোলাইখাল, উত্তরা, শনির আখড়া ও ধানমণ্ডির কলাবাগানসহ বেশকিছু এলাকায় অল্প সময়ের জন্য নাগরিকরা স্বস্তি পেলেও অভিযান শেষ হওয়ার দুই দিনের মধ্যেই অধিকাংশ জায়গায় আবার ফুটপাত দখল হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, গুলিস্তানে হকাররা আগের মতোই ফুটপাত দখল করেছেন। অবশ্য কেউ কেউ এখন কিছুটা সতর্কতার সঙ্গে ব্যবসা করছেন। গোলাপ শাহ মাজারের সামনে আগে স্থায়ী দোকান বসানো অনেকেই এখন চট বিছিয়ে পণ্য বিক্রি করছেন, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত সরে যেতে পারেন। পল্টন, মতিঝিল ও নিউমার্কেট এলাকাতেও দেখা গেছে একই দৃশ্য।
সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে নীলক্ষেত মোড় পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে শত শত হকার বসে আছেন। ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে ব্যস্ত সড়কের ভেতর দিয়ে হাঁটছেন। এতে যেমন ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি যানজটও তীব্র হচ্ছে।
উচ্ছেদ আর ফেরার চক্রে আটকে রাজধানী
উচ্ছেদ অভিযানের পর অল্প সময়ের জন্য ফুটপাত খালি থাকলেও দ্রুতই আবার হকারদের দখলে চলে যাচ্ছে। এই চক্র এখন নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউমার্কেট ছাড়াও মোহাম্মদপুর, শ্যামলী রিং রোড, মগবাজার, বাংলামোটর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও গুলিস্তানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবারও হকারদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান ইউএনবিকে বলেন, ঘোষিত উচ্ছেদ অভিযান শেষ হয়েছে, তবে যেসব জায়গায় উচ্ছেদের পর পুনরায় ফুটপাতে হকাররা বসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ফলোআপ অভিযান চলমান রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ৬ এপ্রিলই ডিএমপি সায়েদাবাদ টার্মিনাল এলাকায় আবার অভিযান চালিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
যেসব জায়গায় ১ থেকে ৫ এপ্রিল অভিযান চালিয়েছে, সেসব জায়গায় আবারও ফুটপাত দখল হয়ে গেলে সেগুলোতে আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।
ফুটপাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন, দাবি হকারদের
বারবার ফুটপাত থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও কেন তারা আবারও সেখানে এসে বসছেন, এ বিষয়ে কথা হয় নিউ মার্কেট-নীলক্ষেত এলাকার কয়েকজন হকারের সঙ্গে। উত্তরে তারা যে কারণ ব্যাখ্যা করলেন, তাতে তাদের কর্মকাণ্ড আইনত বেঠিক হলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো নয়।
হকারদের দাবি, ফুটপাতের ওই দোকানটি তার ও তার পরিবারের জীবিকার একমাত্র উৎস। অনেকের আবার শহরে এবং গ্রামে একাধিক পরিবারের খরচ বহন করতে হয়। ফলে হঠাৎ করে তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে একটা বড় জনগোষ্ঠীর ওপর।
আবার ফুটপাত থেকে তাদের সরিয়ে দিলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নতুন কোনো জায়গায় ব্যবসা করার ব্যবস্থা তাদের করে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন তাদের কেউ কেউ। ফলে বাধ্য হয়ে আবার ফুটপাতেই ফিরতে হয় বলে জানান তারা।
নিউমার্কেট এলাকার হকার সবুজ আলী বলেন, আমাদের সরিয়ে দিলে আমরা কোথায় যাব? আমরা কারও ক্ষতি করছি না। যদি উচ্ছেদ করতেই হয়, তাহলে আমাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।
পথচারীদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন
মৌচাক এলাকায় ফুটপাত ছেড়ে রাস্তার ভেতর দিয়ে হাঁটছিলেন শহীদ আলী নামের এক পথচারী। তাকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলেন, ‘ফুটপাতে হাঁটার জায়গা আছে? পুরোটাই তো দখল হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে রাস্তায় হাঁটতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ বলেছে ফুটপাত পরিষ্কার করেছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন তো চোখে পড়ছে না!’
সমাধান কিসে
এর আগে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ফুটপাতে আর হকার বসতে দেওয়া হবে না এবং তাদের ‘হলিডে’ ও ‘নাইট’ মার্কেটের মাধ্যমে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাস্তবায়নের অভাবে এসব উদ্যোগের প্রভাব খুবই সীমিত পড়েছে।
নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, যথাযথ বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হকার বা অটোরিকশা হঠাৎ উচ্ছেদ করা সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘হকারদের হঠাৎ সরিয়ে দেওয়া কোনো সমাধান নয়, তাদের জন্য টেকসই বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও জানান, শহরে আটটি নাইট মার্কেট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চালু থাকবে, যাতে দিনের বেলা ফুটপাত দখল না হয়।
এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. ইশরাত ইসলাম বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শহরে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকা প্রয়োজন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ফুটপাত দখল হয়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই বারবার উচ্ছেদ অভিযান ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই অধ্যাপকের ভাষ্যে, ‘উচ্ছেদের আগে যাদের সরানো হবে, তাদের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে, না হলে এটি টেকসই হবে না।’
তিনি আরও বলেন, সমস্যাটির মূল কারণ বোঝার জন্য গভীর গবেষণা প্রয়োজন। শুধু হকার সরিয়ে দিলে হবে না, এর পেছনের বাস্তবতা না বুঝলে স্থায়ী সমাধান আসবে না।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পৃথিবীর বহু দেশেই হকাররা বৈধভাবে ব্যবসা করে থাকেন। সেজন্য ভারতসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই সরকারের আলাদা পলিসি থাকলেও আমাদের দেশে তা নেই। বাংলাদেশে এখনো এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করার জন্য অবশ্যই ফুটপাত দখলমুক্ত করা উচিত। কিন্তু তার আগেই বর্তমান হকাররা কীভাবে কাজ করছেন, সেগুলো বোঝা উচিত। পাশাপাশি তার পরিপ্রেক্ষিতে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নীতিমালা প্রস্তুত করে তার মাধ্যমে আমাদের কাজ করা উচিত। বিষয়টাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন এ পরিকল্পনাবিদ।
৬৯ দিন আগে
রংপুরে আম রক্ষায় মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
রংপুরে গ্রামের পথে হাঁটলেই দেখা যায়, মুকুল ঝরে পড়ে গাছে দুলছে আমের গুটি। আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে লাভ-লোকসানের হিসাব কষা শুরু করেছেন। তবে এই হিসাব করতে গিয়ে গুটি আম রক্ষায় অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি একদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে আমের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর অঞ্চলে ৬০৪৯ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে ৮২ হাজার ৬৬২ টন হাঁড়িভাঙ্গাসহ অন্যান্য আম উৎপাদিত হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর উৎপাদন আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
আম মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গাছের পরিচর্যা শুরু হয়। অধিক ফলনের আশায় আম সংগ্রহের পর গাছের গোড়ায় হরমোন ব্যবহার করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ফলন ব্যাহত করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বদরগঞ্জ উপজেলার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তা সাদ্দাম হোসাইন বলেন, বর্তমানে আমে এত বেশি কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে যে তা বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না। বিশেষ করে হাঁড়িভাঙ্গা আমের আগের স্বাদও পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে বাইরের বাজারে চাহিদা কমে যাচ্ছে।
কৃষকরাও স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বলছেন। দীর্ঘদিন কীটনাশকের সংস্পর্শে থাকায় তারা নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।
ওই এলাকার কৃষক আবদুল বাতেন বলেন, ১৫ বছর ধরে আম চাষ করছি। নিয়মিত স্প্রে ও কীটনাশকের সংস্পর্শে থাকায় এখন এর প্রভাব শরীরে পড়ছে। মাঝে মাঝে চোখ ঝাপসা হয়ে আসে।
পদাগঞ্জের কৃষক ইয়াকুব আলী বলেন, আগে হাঁড়িভাঙ্গা আমে ২-৩ বার কীটনাশক স্প্রে করলেই চলত এবং স্বাদও ভালো ছিল। এখন ৩০-৩৫ বার স্প্রে করতে হয়। পাশাপাশি হরমোন ব্যবহার না করলে গাছে আম ধরে না। ফলে অতিরিক্ত স্প্রে ও হরমোন ব্যবহারে আগের মতো স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না।
চিকিৎসকদের মতে, অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। এতে শ্বাসকষ্ট, চোখের সমস্যা, ত্বকের রোগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সুলতানা আশরাফী বলেন, অতিরিক্ত হরমোন ব্যবহারে বিষক্রিয়া হতে পারে যা কিডনি জটিলতা ও রক্তকণিকার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া কীটনাশক ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ব্যবহার না করলে শ্বাসনালিতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে আমের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ কমে যাচ্ছে।
রংপুর আইডিয়াল হেলথ সিটির ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট ও ডায়েট কনসালটেন্ট ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ফলের গুণাগুণ ও স্বাদ নষ্ট করে। ফলে প্রত্যাশিত পুষ্টিগুণও থাকে না।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে, পরিমিত মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করলে কোনো সমস্যা হয় না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, মুকুল ফোটার আগেই ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হয়। এরপর গুটি মার্বেল আকার ধারণ করলে ৭ থেকে ১০ দিন পর আবার প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়। ফল পরিপক্ব হওয়ার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে স্প্রে বন্ধ রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্বেই হরমোন ব্যবহার করা হয় এবং পরিমিত ব্যবহারে এর কোনো ক্ষতি নেই।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর রংপুরের সহকারী বিপণন কর্মকর্তা শাহীন আহমেদ বলেন, এখনও বড় পরিসরে আম রপ্তানি সম্ভব হয়নি। তবে গত বছর কিছু প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নিয়েছিল। বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের মানদণ্ড, যেমন ‘ফিট ফর হিউম্যান কনজাম্পশন’ নিশ্চিত করতে হবে। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে।
৭২ দিন আগে
বিয়ানীবাজারে সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে জনজীবন
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার সড়ক ও গ্রামীণ সড়ক ভেঙেচুরে গেছে। এই অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। খানাখন্দ, পিচ-পাথর উঠে যাওয়া এবং ছোট-বড় গর্তে ভরা এসব সড়কে যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে, সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এতে যাতায়াতে সময়ও বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙা সড়কের কারণে বিয়ানীবাজার পৌরশহরে যাতায়াতে সময় আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ লাগছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নিম্নমানের নির্মাণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অতিরিক্ত ভার বহনকারী যানবাহন চলাচলের কারণে এসব সড়কের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বিয়ানীবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান জানান, চারখাই থেকে বারইগ্রাম এবং শেওলা থেকে সূতারকান্দি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ২৯ কিলোমিটার সড়ক সওজের আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১০ কিলোমিটার সড়ক জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
তিনি আরও জানান, এবার সংস্কারকাজে টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে, যেসব স্থানে পানি জমে বেশি ক্ষতি হয়, সেখানে কংক্রিট ব্যবহার করা হবে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজার পৌর এলাকায় প্রায় ৩৯ কিলোমিটার সড়ক এখনও কাঁচা। এছাড়া পাকা ও ইটের রাস্তা মিলিয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়কের বেশিরভাগই জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন। গত এক বছরে সীমিত আয় ও বরাদ্দ দিয়ে সব ওয়ার্ডে সমানভাবে উন্নয়ন কাজ চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বর্তমানে পৌরবাসীর প্রধান দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাঙা সড়ক। পৌর এলাকার প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার কার্পেটিং রাস্তার বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, বিয়ানীবাজারে তাদের অধীনে ৩৪৭টি সড়ক রয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ৬২৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩৭২ কিলোমিটার মাটির, ১০৫ কিলোমিটার পাকা এবং ১৮২ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক।
উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, এখানকার ১৬৫টি সড়কের প্রায় ২০২ কিলোমিটার অংশ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজন।
এদিকে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেও বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে মাটি ভরাট ও ছোট সেতু নির্মাণের কাজ করা হয়। এসব কাজ মূলত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের চাহিদার ভিত্তিতে কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হয়।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ভাঙা সড়কগুলোর সংস্কারকাজ ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে। আশা করি, ভবিষ্যতে সড়ক নিয়ে মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
৭৩ দিন আগে
সংস্কারের চার মাসেই নষ্ট রংপুর-সৈয়দপুর সড়ক, উঠছে কার্পেটিং
রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে গর্ত ও ছোট-বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের কাজটি ছিল দায়সারা ও নিম্নমানের। বড় গর্তগুলোতে সামান্য পাথর ও পিচ ব্যবহার করে নামমাত্র কাজ শেষ করা হয়েছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি পুনরায় সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
অধিকারকর্মীদের ভাষ্য, তদারকি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে জনগণের করের টাকা অপচয় হয়েছে। তবে সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচলের কারণেই সড়কের এমন অবস্থা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মোড় থেকে পাগলাপীর বাজার, তারাগঞ্জের শলেয়াশাহ বাজার থেকে বরাতি সেতু, তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তারাগঞ্জ সেতু এবং তারাগঞ্জ বাজার থেকে চিকলি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার সড়ক ডিবিএসটিসহ (ডাবল বিটুমিনাস সারফেস ট্রিটমেন্ট) সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬ টাকার কাজটি পায় রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডন এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটি একই বছরের নভেম্বরে কাজ শেষ করে। কিন্তু চার মাস না যেতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে ফাটল ও গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাগলাপীর থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও ফাটল, কোথাও উঁচু-নিচু অবস্থার কারণে পানি জমে থাকছে যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সিটির মোড় এলাকার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘সড়ক ও জনপদের কাজ শুধু সরকারের টাকা মেরে দেওয়া। এই সড়কে বড় বড় গর্ত ছিল। সেগুলো তুলে নামমাত্র পাথর আর পিচ দিয়ে সংস্কার করেছে। এ কারণে কার্পেটিং উঠে গর্ত তৈরি হচ্ছে। বর্ষা এলে আবারও বড় বড় গর্ত হবে। যে সংস্কার করছে, তা ওই জলে ধুয়ে-মুছে যাবে।’
পাগলাপীরের ব্যবসায়ী শাহিন মিয়া বলেন, ‘সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই আবার খারাপ হয়ে যায়। এসব দায়সারা কাজ করে মানুষকে বোঝানো হয়। এর আগে সংস্কারের সময় সেনাবাহিনী হাতেনাতে ভুল ধরেছিল। তবুও কাজের মান ভালো হয়নি।’
জানা গেছে, এই সড়কের সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। গত বছরের ২৩ জুলাই সেনাবাহিনীর একটি টহল দল কাজ চলাকালে অনিয়ম শনাক্ত করে। অভিযোগ রয়েছে, ১০ কিলোমিটার সড়কে প্রায় ৩৬৫ টন পাথর কম ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা সড়কের বর্তমান অবস্থার জন্য অতিরিক্ত ওজনের যানবাহনকে দায়ী করছেন। গত সোমবার সিটির মোড়ে সংস্কারকাজ চলাকালে সওজের গাড়িচালক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘এই রোডে ৮০-১০০ টনের গাড়ি চলে। এই ওভারলোডেড গাড়ি চললে সড়ক কোনো দিন ঠিক থাকবে না, গর্ত আর ফাটল ধরবেই। ৮০-১০০ টনের গাড়ি চললে অফিস কি করবে।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, ‘সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম কতটুকু মানা হচ্ছে, তা তদারকি করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রকৌশলীদের। বিটুমিনের মান ঠিক রাখা এবং ম্যানুয়াল অনুযায়ী কার্পেটিং করা হয়েছে কি না, সেটিও তাদের দেখতে হয়। অল্প সময়ের মধ্যে একই সড়ক বারবার মেরামত করতে হচ্ছে, এতে জনগণের করের টাকা অপচয় হচ্ছে। রংপুর-সৈয়দপুর সড়কের বর্তমান অবস্থা অবহেলার ফল।’
রংপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় বেইজ সমস্যা ছিল, সে অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়েছে। যদিও বেইজ তুলে ফেলে নতুন করে কার্পেটিং করা দরকার ছিল, সেটি করা সম্ভব হয়নি। খুব দ্রুত একটি প্রকল্প নিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে। দেশের সব জায়গায় ওভারলোডিংয়ের কারণে সড়ক দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। চাইলেও এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।’
৭৬ দিন আগে