বিশেষ সংবাদ
হঠাৎ বৃষ্টিতে কপাল পুড়ল উত্তরের আলু চাষিদের
উত্তরের জেলাগুলোতে আলুর দামে ধস নামার মধ্যেই অকাল বৃষ্টিতে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে আলুখেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় বৃষ্টির পানিতে খেত তলিয়ে যাওয়ায় আলুতে পচন ধরার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। দরপতনের হাহাকারের মাঝেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আলুচাষিরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এবং শুক্রবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হওয়া বৃষ্টিতে রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জ, আমাশু কুকরুল, সদরের পালিচড়া ও পীরগাছা উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর, ছাওলা, অন্নদানগর ও কান্দি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ আলুখেত পানিতে তলিয়ে আছে। ফসল রক্ষায় খেত থেকে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন কৃষকরা।
উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘১০ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করছি, ফলনও ভালো হইছে। কিন্তু হঠাৎ করে ঝড়বৃষ্টিতে আলুর অনেক ক্ষতি হইল। সকালে এসে দেখি আলুখেতে অনেক পানি জমে গেছে। এখন পানি কমানোর চেষ্টা করতেছি।’
তিনি বলেন, ‘বাজারে আলুর দাম নাই, কেজি মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকা। এখন বৃষ্টির কারণে কেজিপ্রতি আরও দুই টাকা কমে যাবে। এ অবস্থায় মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে গেল এই বৃষ্টি।’
আলুচাষি এমদাদুল হক বাবু বলেন, সারের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ধারদেনা করে আলু চাষ করে এখন বিপাকে আছি। বাজারে দাম নেই। কোল্ড স্টোরে রাখতে হলে বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে। না হয় কালোবাজারি ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কাছে অল্প দামে আলু বিক্রি করতে হবে। এ কারণে খেতের মধ্যেই আলু রেখেছিলাম। দাম ভালো মিললে বিক্রি করব। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল।
৯৭ দিন আগে
এক ট্রেনেই চলছে ঢাকা–নড়াইল–খুলনা ও ঢাকা–নড়াইল–বেনাপোল রুট, ট্রেন বাড়ানোর দাবি
একটি মাত্র ট্রেন দিয়ে চলছে ঢাকা–নড়াইল–খুলনা ও ঢাকা–নড়াইল–বেনাপোল রেলপথের যাত্রীসেবা। একই ট্রেন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন নামে চলাচল করায় দিনে নির্দিষ্ট সময় ছাড়া যাতায়াতের সুযোগ নেই। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো রেলপথের সঙ্গে যুক্ত হয় নড়াইল জেলা। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর এই রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে একটি মাত্র ট্রেন ‘রূপসী বাংলা’ ও ‘জাহানাবাদ’—এই দুই নামে ঢাকা থেকে যশোরের বেনাপোল এবং খুলনা রুটে চলাচল করছে।
‘জাহানাবাদ এক্সপ্রেস’ নামে ট্রেনটি সকাল ৬টায় খুলনা থেকে ছেড়ে সকাল সোয়া ৭টায় নড়াইলে পৌঁছায়। একই ট্রেন বেনাপোল থেকে ‘রূপসী বাংলা’ নামে বিকেল ৩টায় ছেড়ে নড়াইলে আসে বিকেল পৌনে ৫টায়। নড়াইল থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টায় ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছানো যায়। তবে রাতে রাজধানীতে যাওয়ার কোনো ট্রেন না থাকায় অনেক যাত্রীকে পরদিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
রেলযাত্রী রেজাউল করিম বলেন, ‘নড়াইল থেকে স্বল্প সময়ে ঢাকায় যাতায়াতের সবচেয়ে আরামদায়ক মাধ্যম এখন রেলপথ। কিন্তু সকাল ও বিকেল ছাড়া অন্য সময়ে ট্রেনে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই দ্রুত ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।’
আরেক যাত্রী আ. আল-মারজান বলেন, ‘কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে যোগাযোগের সুবিধা হয়েছে ঠিকই, তবে মাত্র একটি ট্রেন দুটি নামে চলায় আমরা পুরো সুবিধা পাচ্ছি না। নতুন সরকার এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।’
আমেনা বেগম বলেন, ‘রেল চালু হওয়ায় অনেক সুবিধা হয়েছে। সকালে নড়াইল থেকে ঢাকায় গিয়ে অফিস করতে পারি, আবার রাতে বাড়ি ফিরি। তবে ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে যাতায়াত আরও সহজ হবে।’
নড়াইল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার উজ্জ্বল বিশ্বাস জানান, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ট্রেন চালুর ফলে এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ভবিষ্যতে ট্রেনের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, ‘ঢাকা–নড়াইল–খুলনা রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’
নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘নড়াইলবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে ট্রেন চালুর মাধ্যমে। তবে চাহিদা অনুযায়ী রেলসেবা এখনও পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেললাইন নির্মাণসহ পুরো প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করেছে ১৮ হাজার ২১০ কোটি টাকা এবং বাকি ২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা দিয়েছে চীন।
৯৮ দিন আগে
ঈদযাত্রা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ৪ বড় চ্যালেঞ্জ
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য বাড়তে পারে ভোগান্তি। প্রায় ১০৫ কিলোমিটারজুড়ে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত ও সড়ক দখল, এলোমেলো পার্কিং, মহাসড়কের ওপর বাজার বসা এবং সড়ক সংস্কার কাজ—এই চারটি বিষয়কে সম্ভাব্য যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন যাত্রী ও পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর এলাকায় দুই লেনের মহাসড়কের ওপরই গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে। একই চিত্র দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ, চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া, কুটুম্বপুর ও চান্দিনা সদর, বুড়িচংয়ের নিমসার, সদর দক্ষিণের পদুয়ার বাজার ও সুয়াগাজী, এবং চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার ও চৌদ্দগ্রাম সদরে।
পদুয়ার বাজার, মিয়াবাজার ও চৌদ্দগ্রাম সদরে ফুটপাত দখলের প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। আবার নিমসার, মিয়াবাজার ও চৌদ্দগ্রাম সদরে মহাসড়কের ওপরই বাজার বসে। অন্যদিকে, কুমিল্লা সদর উপজেলার আমতলী ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংস্কার কাজ চলছে। ফলে ওই অংশে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে।
পদুয়ার বাজার এলাকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মহাসড়কের ওপর দিয়ে কুমিল্লা–নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়ক অতিক্রম করেছে। এই পথ দিয়ে লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরের পরিবহনও চলাচল করে।
স্থানীয়রা জানান, পদুয়ার বাজার এলাকায় চট্টগ্রামগামী লেনে ফুটওভার ব্রিজের নিচে এলোপাতাড়ি বাস পার্কিং করে রাখা হয়। এর প্রভাব পড়ে সামনের ইউটার্নে, ফলে দ্রুত যানজট তৈরি হয়। ফুটপাত ও সড়কের পাশে ভ্রাম্যমাণ হকার বসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
নোয়াখালী সড়কের মুখে ফুটওভার ব্রিজের নিচে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হয়, এতে ওই এলাকায় প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। এছাড়া মোড়ের একটি মসজিদের সামনে বাসের কাউন্টার স্থাপন করা হয়েছে। অধিকাংশ সময় বাস সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
যাত্রী মেঘদাত হোসেন, ফখরুল ইসলাম ও আলাউদ্দিন বলেন, ফুটপাত দখল, এলোপাতাড়ি পার্কিং ও মহাসড়কের ওপর বাজার বসার কারণে প্রায়ই যানজট হয়। প্রশাসনের নজরদারি না বাড়ালে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের দক্ষিণ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম মজুমদার বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি বাসের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের জায়গা তৈরি করা জরুরি। বিশেষ করে মোড়ের ওপর বাস না দাঁড় করিয়ে সামনে বা পেছনে থামানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলেন, মহাসড়কের এসব সমস্যা আমাদের জানা আছে। কয়েকদিন আগেও আমরা ফুটপাতের দখল উচ্ছেদ করেছি। এ বিষয়ে পরিবহন মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথাও বলা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সবার সহযোগিতায় পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৯৯ দিন আগে
ঈদের আগে জমজমাট শাহজাদপুর কাপড়ের হাট
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে জমে উঠেছে বেচাকেনা। গত বছরের তুলনায় এবার হাটে লেনদেন বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বর্তমানে প্রতি হাটে গড়ে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার শাড়ি, লুঙ্গি ও অন্যান্য কাপড়ের বেচাকেনা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শাহজাদপুর কাপড়ের হাট সপ্তাহে দুই দিন—রবিবার ও বুধবার বসে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা সাধারণত আগের দিনই হাট এলাকায় এসে অবস্থান নেন। রমজান শুরুর পর থেকেই হাটে পাইকার ও খদ্দেরদের ভিড় বেড়েছে। হাটজুড়ে শোনা যাচ্ছে দরদামের হাঁকডাক, আর চারদিকে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে নানা রঙের কাপড়ের গাঁট।
হাট-সংশ্লিষ্টরা জানান, রমজানের আগে প্রতি হাটে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার লেনদেন হতো। রমজান শুরু হওয়ার পর তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ কোটি টাকায়। আর ঈদের আগ মুহূর্তে এসে প্রতি হাটে বেচাকেনা প্রায় ৬০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিপুল এই লেনদেনের কারণে শাহজাদপুরের হাটকে দেশের অন্যতম বৃহৎ কাপড়ের পাইকারি হাট হিসেবে ধরা হয়।
হাটের পশ্চিম পাশে বগুড়া–নগরবাড়ি মহাসড়ক এবং আশপাশের আঞ্চলিক সড়কে সারি সারি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। শ্রমিকরা ব্যবসায়ীদের কেনা কাপড়ের গাঁট ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনে তুলে ট্রাকভর্তি করছেন। পরে এসব কাপড়বোঝাই ট্রাক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
এই হাটকে কেন্দ্র করে আশপাশে ছোটবড় আবাসিক ও অনাবাসিক হোটেল, খাবারের দোকানও গড়ে উঠেছে। এসব হোটেলে থাকার ও খাওয়ার খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দ্যে অবস্থান করতে পারেন।
১০০ দিন আগে
নড়াইলে নবগঙ্গার ভাঙনে হুমকিতে তীর রক্ষা বাঁধ, আতঙ্কে ৫ শতাধিক পরিবার
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় নবগঙ্গা নদীর তীব্র ভাঙনে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তীর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কয়েকশ বছরের পুরোনো বাণিজ্যিক কেন্দ্র মহাজন বাজারসহ অন্তত পাঁচটি গ্রাম। বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় নদীপাড়ের পাঁচ শতাধিক পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার আবেদন এবং মানববন্ধন করেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, কালিয়া উপজেলার প্রাচীন বাণিজ্যিক এলাকা মহাজন বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ধর্মীয় স্থাপনা এবং হাজারো পরিবারের বসতি রক্ষায় তিন দশক আগে স্থায়ী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
২০০৫ সালে মহাজন উত্তরপাড়া থেকে ঘষিবাড়িয়া পর্যন্ত নবগঙ্গা নদীর প্রায় ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার অংশে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করে পাউবো। ২০১১ সালের শুরুতে প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় ২৫ কোটি টাকা।
তবে গত চার বছর ধরে ওই বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ধীরে ধীরে বাঁধের কিছু অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে তীরবর্তী অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার চরম উদ্বেগে রয়েছে।
১০১ দিন আগে
৫ বছরেই বেহাল চুয়াডাঙ্গা জেলা মডেল মসজিদ
নির্মাণের পাঁচ বছরের মধ্যেই অবকাঠামোগত ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতায় বেহাল অবস্থায় পড়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা মডেল মসজিদ।
২০২১ সালের ১৭ জুন প্রায় ১৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় মসজিদটির। তবে বর্তমানে মসজিদের বিভিন্ন স্থানে টাইলস খুলে পড়া, দেওয়ালের পলেস্তারা খসে যাওয়া এবং পাইপলাইনে লিকেজের মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে।
মুসল্লিদের অভিযোগ, অজুখানার পানির লাইনে লিকেজ থাকায় দেওয়ালের টাইলস ও পলেস্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় এক বছর ধরে মসজিদে স্থাপিত ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরা অচল থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও বেড়েছে। পরে চারটি নতুন ক্যামেরা বসানো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় বাথরুমের ট্যাপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ৯ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। উদ্বোধনের পর একবার মাত্র ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। দ্রুত বকেয়া পরিশোধ না করলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. মনজুর রহমান বলেন, পাঁচ বছর না যেতেই মসজিদের বিভিন্ন সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাথরুমের অধিকাংশ ট্যাপ চুরি হয়ে গেছে। নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় সবকিছু দেখভাল করা কঠিন। অজুখানার পাইপলাইনের লিকেজের কারণে দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। কিছুদিন আগে নিজ উদ্যোগে কয়েকটি পাইপ সংস্কার করেছি।
তিনি আরও বলেন, মসজিদের সামনে পৌরসভার ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে এবং মুসল্লিদের চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।
১০২ দিন আগে
‘কুপিয়া’ টুপি তৈরিতে নওগাঁয় অর্ধলাখ নারীর কর্মসংস্থান, আসছে বৈদেশিক মুদ্রা
নওগাঁয় টুপি বুনন শিল্পকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানের পরিধি দ্রুত বাড়ছে। এ শিল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ নারী শ্রমিক। জেলায় বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার নারী এ পেশায় নিয়োজিত। বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, রপ্তানিযোগ্য টুপি বুনন শিল্পে নওগাঁয় প্রায় অর্ধলাখ নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
এ শিল্প থেকে প্রতি বছর অন্তত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। অবসর সময়ে টুপি তৈরি করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে অনেক নারীর। তাদের তৈরি এসব টুপি রপ্তানি হচ্ছে ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চান্দাশ, মহাদেবপুর সদর ও উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামসহ জেলার মান্দা ও নিয়ামতপুর উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার নারী টুপিতে নকশা তৈরির কাজের সঙ্গে জড়িত। তাদের হাতে তৈরি নকশাদার টুপি যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, ফলে দেশে আসছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্ভাবনাময় এ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি নারী কারিগরদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
নওগাঁর নারীদের তৈরি এসব টুপির প্রধান বাজার মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান। উদ্যোক্তারা জানান, নির্দিষ্ট নকশার ওপর নওগাঁর নারীরা নানা রঙের সুতায় যে টুপি বুনছেন, তা ওমানের জাতীয় টুপি হিসেবে স্বীকৃত। দেশটিতে এই টুপি ‘কুপিয়া’ নামে পরিচিত। সাধারণত ‘কেন্দুয়া’ নামের এক ধরনের পাঞ্জাবির সঙ্গে বিশেষ ধরনের এই টুপি পরেন সেখানকার পুরুষেরা।
এ ছাড়া সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও কাতার এবং আফ্রিকার তানজানিয়া ও মরক্কোতেও রপ্তানি হয় এসব টুপি। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, চলতি বছর কেবল নওগাঁ থেকেই প্রায় ৮০০ কোটি টাকার টুপি রপ্তানি হবে।
বছরের দুই ঈদে এই টুপির চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। সারা বছর টুপি সেলাইয়ের কিছু কাজ থাকলেও রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে স্থানীয় কারিগর ও ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। সুঁই-সুতা দিয়ে তৈরি এসব টুপির কারিগর মূলত গ্রামীণ নারীরা। সংসারের কাজের পাশাপাশি টুপি সেলাইকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে অনেকেই পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা এনেছেন।
১০৪ দিন আগে
ভরা মৌসুমেও চাষির আলু নিয়ে দুশ্চিন্তা
চলতি মৌসুমের শুরুতেই উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে আলুর দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। নতুন আলু বিক্রি করেও উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ন্যায্য দাম না পেয়ে গত বছরের মতো এ বছরও বড় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকদের অভিযোগ, গত বছরের অবিক্রিত আলু এখনও বাজারে রয়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাব। ফলে পাইকারি বাজারে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
খুচরা বাজারেও একই চিত্র। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে পাইকারি বাজারে এক কেজি আলু বিক্রি করে মিলছে না এক কাপ চায়ের দাম। এতে হতাশায় ভেঙে পড়েছেন চাষিরা। তাদের ভাষ্য, ‘আলু আবাদ করে বিপদ, না করেও বিপদ।’
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে রংপুর সিটি বাজারসহ উত্তরের বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকা দরে। অথচ প্রতি কেজি আলু উৎপাদনেই খরচ হয়ে গেছে প্রায় ১৪ টাকা। এতে কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ১ কোটি ১৫ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছিল। এর মধ্যে ৮৭ লাখ টন উৎপাদন হয়েছে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৮৪ লাখ টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
১০৫ দিন আগে
সেতুটি ভেঙেছে ১৭ বছর আগে, নতুন সেতু হবে কবে?
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের জামতলাপাড়া থেকে কচুয়ারপাড়া-মাদাইখাল সংযোগ সড়কে ডুবুরীরখাল এখন আর শুধু একটি খাল নয়, এটি দুই পাড়ের মানুষের বিচ্ছিন্ন জীবনের প্রতীক। একসময় যেখানে একটি সেতুর মাধ্যমে দুপাড়ের মানুষের মধ্যে সহজ যোগাযোগ ছিল, এখন সেখানে দেখা যায় কেবল ভাঙা কংক্রিটের চিহ্ন।
প্রায় দেড় দশক আগে ধ্বসে পড়া সেতুটির জায়গায় আজও নতুন কোনো স্থায়ী কাঠামো তৈরি হয়নি। ভাঙা সেতুর উপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন স্থানীয়রা। ফলে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। শিশুদের স্কুল, কৃষকের ফসল পরিবহন, রোগীর হাসপাতালে যাওয়া—সবকিছুই এখন একটি অস্থায়ী কাঠের পথের ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি উদ্যোগ না থাকায় গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় ভাঙা সেতুর ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে সাময়িক চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। শুরুতে সেটি কিছুটা স্বস্তি দিলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাঠ ক্ষয়ে গেছে, পাটাতন ঢিলা হয়ে গেছে, অনেক জায়গায় ফাঁক তৈরি হয়েছে। এখন সেটিই হয়ে উঠেছে নতুন ঝুঁকির কারণ।
জানা গেছে, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ডুবুরীরখালের ওপর আগে পরপর দুটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু স্বল্প বাজেট ও নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই বন্যার তীব্র স্রোতে সেগুলো দেবে যায়। সর্বশেষ ২০০৬ সালে নির্মিত সেতুটি ২০০৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। তারপর কেটে গেছে দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময়, কিন্তু সেতু পুনর্নির্মাণে আর কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
১০৮ দিন আগে
ঈদযাত্রায় ভোগান্তি এড়াতে দরকার পাটুরিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাট দ্রুত সংস্কার
ঈদকে সামনে রেখে দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পাটুরিয়া ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত বর্ষায় পদ্মার প্রবল স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত পাটুরিয়ার একাধিক ঘাট এখনো পুরোপুরি সংস্কার করা হয়নি। জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে কয়েকটি পন্টুন। ফলে আসন্ন ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা।
ফেরিঘাটে সীমিত সক্ষমতা
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পাঁচটি ফেরিঘাটের মধ্যে বর্তমানে ৩ ও ৫ নম্বর ঘাট দিয়ে কোনোমতে ফেরি চলাচল করছে। ৪ নম্বর ঘাট পুরোপুরি বন্ধ ছিল; সেখানে মেরামতের কাজ করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। ২ নম্বর ঘাটে ফেরি ভিড়তে না পারায় সেটিও কার্যত অকেজো হয়ে আছে। ১ নম্বর ঘাটও বন্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা যায়, স্বাভাবিক সময়ে পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া নৌরুটে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যান মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। ঈদের সময় এই সংখ্যা বেড়ে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজারে পৌঁছে। চাপ বাড়লে ফেরির সংখ্যাও বাড়ানো হয়।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা সেক্টরের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আবদুস সালাম বলেন, গত আগস্টে পদ্মার প্রবল স্রোতে পাঁচটি ঘাটই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ২, ৩ ও ৫ নম্বর ঘাট সংস্কার করে ফেরি চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। ১ ও ৪ নম্বর ঘাট এখনো পুরোপুরি সচল নয়। ৪ নম্বর ঘাট চালু করতে কাজ চলছে। তিনি স্বীকার করেন, ঘাট সংকটের কারণে ফেরিতে যানবাহন ওঠা–নামায় (লোড–আনলোড) সমস্যা হচ্ছে।
১০৯ দিন আগে