বাংলাদেশ
শিশুদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
শিশুদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে খেলাধুলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সময় কাটান এবং তাদের সঙ্গে সহজ-সরল আলাপচারিতায় অংশ নেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি তোমাদের বেশি করে খেলাধুলাও করতে হবে। খেলাধুলা করলে বুদ্ধি বাড়ে।
প্রধানমন্ত্রীর এই অঘোষিত সফর স্কুলটিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। শিক্ষার্থীরা তাকে অভিবাদন জানাতে সামনের দিকে ছুটে আসে। অনেকে তার সাথে করমর্দন করে, আবার কেউ কেউ অটোগ্রাফ চায়; তার উপস্থিতিতে শিশুদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।
তারেক রহমানকেও বেশ আনন্দিত দেখাচ্ছিল এবং তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বেশ প্রাণবন্ত সময় কাটান। একটি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে তিনি অত্যন্ত উষ্ণভাবে জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কেমন আছো? তোমাদের পড়ালেখা কেমন চলছে?— মুহূর্তেই শিশুরা হাসিমুখে এর জবাব দেয়।
তিনি যখন খেলাধুলার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলছিলেন, তখন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার কথায় সায় দেয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আদর করে কয়েকজনের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন, যা তাদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়।
প্রধানমন্ত্রী এবং শিশুদের মধ্যকার এই স্বতঃস্ফূর্ত আলাপচারিতা দেখে উপস্থিত শিক্ষকরাও উৎফুল্ল হন।
কিছু সময় কাটানোর পর তারেক রহমান ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলে হাত নেড়ে বিদায় জানান। শিক্ষার্থীরাও দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে তাকে বিদায় জানায়।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশনের নবনির্মিত প্রশিক্ষণ কাম ডরমিটরি ভবনের উদ্বোধন করেন। পরে বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি।
১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিয়াম প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০০২ সালের নভেম্বরে বিয়াম ফাউন্ডেশনে রূপান্তরিত হয়।
১০ দিন আগে
হাতিরঝিলে অনুষ্ঠিত হলো ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ রান সিজন-২’
প্রায় এক হাজার দৌড়বিদ নিয়ে রাজধানীর হাতিরঝিলে অনুষ্ঠিত হলো ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ রান ২০২৬ (সিজন-২)’। এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) এই প্রতিযোগিতার আয়োজন বরে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে হাতিরঝিলে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৬টায় পুলিশ প্লাজা পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনে ছিল ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার প্রতিযোগিতামূলক রান এবং ২ কিলোমিটার ফান রান। দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষ, বিশেষ করে এভিয়েশন ও ট্যুরিজম খাতের সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। প্রায় এক হাজারের বেশি দৌড়বিদ এতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটিজেএফবির এই আয়োজন একদিকে যেমন স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এই ধরনের আয়োজন আমাকে ব্যক্তিগতভাবেও উদ্বুদ্ধ করেছে এবং ভবিষ্যতেও এতে অংশ নেওয়ার আগ্রহ রয়েছে।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইমারের মতো (ইমার প্রোপার্টিজ) বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। তারা বুর্জ খালিফা নির্মাণ করেছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন স্থাপনার উন্নয়নে তাদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইভেন্টটির টাইটেল স্পন্সর ছিল রিদম গ্রুপ। গ্রুপটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবির হোসেন বলেন, বড় থেকে ছোট—সব বয়সের মানুষের স্বাস্থ্য সচেতন অংশগ্রহণ দেখে আমি সত্যিই অভিভূত। এ ধরনের আয়োজন আমাদের সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। আগামী বছর আমরা এই আয়োজনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে যেতে চাই। এ উদ্যোগে আমরা সবসময় পাশে থাকব এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেব।
এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে এমন আয়োজন হয়। এটিজেএফবির পক্ষ থেকে আমরা বিশেষভাবে বাংলাদেশের পর্যটনকে প্রমোট করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। এটি আমাদের একটি ফ্ল্যাগশিপ ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা এই আয়োজনকে ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে দিতে চাই। আগামীবছর আমরা কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে এ ধরনের আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে। আশা করছি আপনাদের সবাইকে পাশে পাবো।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন রিদম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহাগ হোসেন, এটিজেএফবির সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লব, এবং বিউটিফুল বাংলাদেশ রানের রেস পরিচালক সফিউল্লাহ সুমন।
আয়োজনে ২ কিলোমিটার দৌড়ে ছেলেদের মধ্যে প্রথম হয়েছে মহিবুর রহমান, দ্বিতীয় মো. আনিমুল হাসান এবং তৃতীয় হয়েছেন এফ এ সেলিম। মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন নূর-এ-সাবা, দ্বিতীয় সুবহানা মাহদিয়া সিদ্দিকী এবং তৃতীয় হয়েছেন পারভিন মিতু।
৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৌড়ে ছেলেদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন মো. এলাহী সরদার, দ্বিতীয় আশরাফুল আলম এবং তৃতীয় পলাশ শেখ। মেয়েদের মধ্যে প্রথম হামিদা আক্তার জেবা, দ্বিতীয় সাদিয়া শাওলিন সিগমা এবং তৃতীয় হয়েছেন তেরেসা কচি।
দৌড় শেষে বিজয়ীদের পোডিয়াম এবং বিভিন্ন গন্তব্যের এয়ার টিকেট এবং র্যাফেল ড্রয়ের পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
১০ দিন আগে
জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের সেবক ও বন্ধু হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা পরিহার করে জনগণের সেবক ও বন্ধু হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ-কাম- ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাই নীতি নির্ধারণ এবং নীতি বাস্তবায়নের মধ্যে সেতুবন্ধন। আপনাদের সততা, কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতাই সরকারের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।’
কর্মকর্তাদের আরও বেশি জনবান্ধব মানসিকতা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, নিজেদেরকে শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নয়, বরং জনগণের সেবক এবং বন্ধু হিসেবে ভাবুন।’
প্রশাসনকে আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব এখন আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) যুগে প্রবেশ করেছে। সুতরাং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও সময়ের সঙ্গে মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক গড়ে তুলবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যতে সকল সরকারি সেবা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিয়ামের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার বিয়ামকে আরও যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত।
অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব ব্যবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং সহজীকরণে সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রতিষ্ঠা এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল কর্মপ্রবাহ তৈরি করে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে সরকারি কর্ম সম্পাদন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এবং মানবিক। আমরা একটি বাংলাদেশ করতে চাই, যেখানে উন্নয়নের সফল সমাজের প্রতিটি স্তরে ধীরে ধীরে পৌঁছাবে, বৈষম্য কমে আসবে; একপর্যায়ে ইনশাআল্লাহ থাকবে না। নারী এবং যুব সমাজ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অবশ্যই পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা আমাদের প্রতিটি নীতির অংশ হবে।’
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘স্বচ্ছ, দক্ষ, জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। আমরা যদি প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই— আমি আশা করি, বিয়ামের কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ পরিবেশ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা সমস্যার সমাধানের ক্ষমতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রশাসনের দক্ষতা মানে শুধু নিয়ম জানা নয়, বরং প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জনসেবায় সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি। সেই লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ফলাফলমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। মৌলিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উন্নত কোর্স, গবেষণা এবং নীতি নির্ধারণমূলক শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে আপনারা যথাযথভাবে সেই দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলেন কিনা কিংবা পালন করতে সক্ষম হয়েছিলেন কিনা— এই মুহূর্তে সেই প্রশ্ন না তুলে আমি আপনাদের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে একটি বার্তা দিতে চাই এবং তা হলো দেশ এবং জনগণের কাছে আমাদের যেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছি। এসব স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং জনগণের সঙ্গে করা আমাদের চুক্তি। জনগণ আমাদের ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে।
‘সুতরাং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনে ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি তফা প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আমি আশা করি, আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে ভূমিকা রাখবেন। জনগণ আমাদের উপর যে আস্থা রেখেছে, সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা এবং নৈতিকতার দৃঢ় চর্চা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে অবস্থান করছেন। আপনারা যে দায়িত্ব পালন করেন, তা কেবল নথিপত্র পরিচালনা বা প্রশাসনিক তদারকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় অবশ্যই। বরং আপনার রাষ্ট্রযন্ত্রের কার্যকারিতা, ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার প্রধান ভিত্তি।
‘একটি শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক আইনসম্মত এবং জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনারাই হচ্ছেন সেই মূল চালিকাশক্তি। যাদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা, নৈতিক দৃঢ়তা ও প্রশাসনিক প্রজ্ঞার উপরে একটি জাতির উন্নয়ন বা ভাগ্য নির্ভর করছে। আপনাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রভাব কখনও একটি পরিবারে, কখনও একটি অঞ্চলে কিংবা কখনও পুরো জাতির ওপরে পড়ে। সেই কারণে আপনাদের দায়িত্ব স্রেফ প্রশাসক নয়, বরং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়োগ বদলি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা এগুলোকেই আমরা প্রধান বিবেচ্য হিসেবে গ্রহণ করতে চাই।
‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে শূন্য পদে সরকারি কর্মচারী নিয়োগ, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন এবং বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশের মুক্তিকামী ও গণতন্ত্রকামী মানুষ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত করেছে। বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, যারা দীর্ঘদিন ধরে একটি দায়বদ্ধ, ন্যায়পরায়ণ এবং জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে জনগণই এই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক।’
১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত বিয়াম প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০০২ সালের নভেম্বরে বিয়াম ফাউন্ডেশনে রূপান্তরিত হয়।
বিয়াম ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নবউদ্বোধিত ভবনটি তাদের প্রশিক্ষণ সক্ষমতা এবং আবাসন সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।
১০ দিন আগে
রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১৩ বছর: শ্রদ্ধা নিবেদন, ক্ষোভ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সাভারে শ্রমিক সমাবেশ
সাভারে বহুল আলোচিত রানা প্লাজা ধসের ত্রয়োদশ বর্ষপূর্তিতে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন স্বজন, আহত শ্রমিক এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। একইসঙ্গে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল থেকে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ধসে পড়া রানা প্লাজার জমিতে স্থাপিত অস্থায়ী স্মৃতিবেদিতে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় নিহতদের স্মরণে নীরবতা পালন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ তৃণমূল গার্মেন্টস শ্রমিককর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি সাভারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় জড়িতদের বিচার এখনও শেষ হয়নি, যা নিহতদের পরিবার ও আহত শ্রমিকদের জন্য গভীর হতাশার বিষয়।
সংগঠনের সাভার থানা কমিটির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বেপারীর নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে ভবন মালিক সোহেল রানার ফাঁসি এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছে রানা প্লাজার জমি ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে পুনর্বাসন, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, এক জীবনের আয়ের ক্ষতিপূরণ প্রদান, ২৪ এপ্রিলকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা এবং দুর্ঘটনাস্থলে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ। একইসঙ্গে দেশের সকল কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, এই দিনটি নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য এক গভীর বেদনার স্মারক। তাদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
এ সময় গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল-গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশ, ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টার, গ্রামীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধসে দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এতে ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক নিহত হন এবং আহত হন কয়েক হাজার শ্রমিক।
১১ দিন আগে
সংস্কৃতি ও খেলাধুলাকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে: ত্রাণমন্ত্রী
অন্যান্য পেশার মতো খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকেও একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে লালমনিরহাটের সদর উপজেলার বড়বাড়ী শহিদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বৈশাখী মেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরিতে ‘নতুন কুঁড়ি’ খেলোয়াড় সংগ্রহের একটি কর্মসূচি সারা দেশে চালু করেছে সরকার। এর মাধ্যমে প্রতিভাবান তরুণদের খুঁজে বের করে তাদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের সুযোগ দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে তরুণরা খেলাকেই জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, বিদেশি আগ্রাসনে সংস্কৃতির মতো গ্রামীণ খেলাধুলাও হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলাকে মাঠে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সে লক্ষ্যেই শুধু খেলাধুলা নয়, গ্রামবাংলার সংস্কৃতিও পুনরুজ্জীবিত করতে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দুই দিনব্যাপী এ বৈশাখী উৎসবের প্রথম দিনে বিলুপ্তির পথে হারাতে বসা বিভিন্ন ধরনের গ্রামীণ খেলাধুলার প্রতিযোগিতা, ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হক প্রমুখ।
১১ দিন আগে
দেশে তেলের সংকট নেই, এটি সৃষ্টি করা হয়েছে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে তেলের সংকট নেই। তবে কিছু মানুষ অনৈতিক ব্যবসা করছে বলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে মির্জা রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন আয়োজিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন এবং এলজিইডি ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকল্পে ঢেউটিন, চেক ও বরাদ্দপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ সমগ্র বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দেশে সরবরাহের জন্য তেলের সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। এ সমস্যাটা তৈরি করা হয়েছে। কিছু মানুষ এখানে অনৈতিক ব্যবসা শুরু করেছে। যে ব্যবসাটা দেশের জন্য জাতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু মানুষ তেল নিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করছে, এটা করতে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের কৃষকরা সবসময়ই মার খায়। এবারও তারা আলুতে বিশাল মার খেয়েছে। তারা দাম পায়নি। তাদের উৎপাদন খরচটাও ওঠেনি। আমরা আমাদের এসব কৃষক ভাইদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছি। ইতোমধ্যেই তাদের কৃষক কার্ড দেওয়ার কাজ চলছে। এছাড়াও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য যাতে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারেন সেজন্য কৃষিভিত্তিক এলাকাগুলোতে আমরা কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য কৃষি জোন ও কৃষি হিমাগার তৈরি করব। কৃষক বাঁচলে তবেই আমরা বাঁচব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন করে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছে দেশ। অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
পরে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারকে ১ বান্ডিল টিন ও ৩ হাজার টাকা করে এবং ৮০ পরিবারকে ৬ হাজার ২৫০ টাকা করে প্রদান করেন।
এছাড়া জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৭০ পরিবারকে ১ বান্ডিল টিন ও ৬০ পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়। ৮৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৯০ লাখ টাকার বরাদ্দপত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় মোট প্রায় ২০ কোটি টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। এর মধ্যে আরও রয়েছে ১৯৫টি মসজিদ, ৮৯টি মন্দির, ৫টি কবরস্থান, ৪টি ঈদগাহ এবং ১টি শ্মশান সহ মোট ২৯৪টি প্রতিষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদা দাদ, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খাইরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ অন্যান্য নেতারা।
১১ দিন আগে
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু
দেশে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২১৫ শিশু।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ১৯৮টি শিশুর।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৭২টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২১৫। এ সময়ে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৬০টি শিশু।
গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে মোট ২৯ হাজার ৫৪৯টি শিশুর মধ্যে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ১৯ হাজার ৭০৫। সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন ১৬ হাজার ৫২৭ জন।
১১ দিন আগে
জাতিসংঘ ফোরামে ন্যায্য বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো ও টেকসই এলডিসি উত্তরণের আহ্বান বাংলাদেশের
বৈশ্বিক এসডিজি অর্থায়ন ঘাটতি মোকাবিলা এবং একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ইকোসক ফাইন্যান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, ২০২৬-এর সাধারণ বিতর্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া, জলবায়ুজনিত অভিঘাত, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা এবং জ্বালানি খাতের অনিশ্চয়তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিগত পরিসর ক্রমেই সংকুচিত করছে। এ প্রেক্ষাপটে টেকসই ও মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, ব্যবসায়িক আস্থা পুনর্গঠন, ব্যাংকিং খাত শক্তিশালীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সরাসরি সহায়তা সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঋণের ব্যয় হ্রাস, অকার্যকর অবকাঠামো-সম্পর্কিত ঋণ পরিহার এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে উৎপাদনশীল ও কর্মসংস্থানমুখী খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। একইসঙ্গে একটি অধিক প্রতিনিধিত্বশীল বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং পাচারকৃত সম্পদ যথাযথ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
১১ দিন আগে
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজারে ঐতিহাসিক ‘বাসিয়া খাল’ খনন প্রকল্পের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বাড়তি মূল্যে জ্বালানি আমদানি করলেও তার অভিঘাত জনগণের ওপর পড়বে না, সরকার তার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে ডিজেলের দাম মাত্র ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে যা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। এই সামান্য বৃদ্ধির ফলে পণ্যমূল্যে কেজি প্রতি মাত্র ৩০ পয়সার মতো প্রভাব পড়তে পারে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
সিলেটে সাম্প্রতিক লোডশেডিং বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস। আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে অনেক অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা লাভ করেছি, যা এখন মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনও অনেকাংশে গ্যাস নির্ভর। দেশে বর্তমানে ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হলেও চাহিদা মেটাতে আরও ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করতে হয়। অর্থের সংস্থান থাকলেও কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে চাহিদামাফিক গ্যাস আমদানি ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। তবে সরকার দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে এবং এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে।
আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই খনন কাজের উদ্বোধন করবেন জানিয়ে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের ২৩ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে শুরু হয়ে ওসমানীনগর হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত এই খনন কাজ চলবে। এর ফলে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।
সৌদি আরব থেকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মজুদ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশ যাতে জিম্মি না হয়ে পড়ে, সে লক্ষ্যে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন স্টোরেজ বা সংরক্ষণাগার নির্মাণ করবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াৎ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান।
১১ দিন আগে
মে মাসে বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাওয়ার আশা
আগামী মে মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা এ তথ্য জানান।
উম্মে রেহানা বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন সেই তুলনায় পিছিয়ে থাকায় দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের চাপ বেড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার চাহিদা প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকলেও উৎপাদন ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমিত থাকতে পারে। ফলে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গরমের তীব্রতা, শিল্পাঞ্চলে বাড়তি ব্যবহার এবং জ্বালানি সংকট—সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, গতকাল বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৬৮১ মেগাওয়াট, ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিং হয়েছে। পূর্বাভাস হিসেবে দেখেছি, আজ চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটের মতো। বিভিন্ন শিল্প এলাকায় চাহিদা বেড়েছে, বেড়েছে গরমও। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ চাহিদা অনেক বেড়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি সংকটও অনেক বেশি অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে।
১২ দিন আগে