বাংলাদেশ
সরকারি হাসপাতালে দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে টেস্ট বাণিজ্য, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা, টেন্ডার কারসাজি ও অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
বুধবার (২৯ জুলাই) ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব রেখে বাইরে পাশের ক্লিনিক খুলবেন, সরকারি দায়িত্ব রেখে সেখানে সার্জারি করবেন, কমিশন খাবেন, রোগী এলে বলবেন পাশের ক্লিনিকে গিয়ে টেস্ট করতে—এসব বন্ধ করতে হবে। এগুলো আমরা মনিটর করব।
টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, পছন্দের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে এমন অবাস্তব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পাঁচ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার লেনদেনের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়, যা প্রতিযোগিতা সীমিত করারই কৌশল।
স্বাস্থ্য খাতে সরকারি অর্থ অপচয়ের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১১ কোটি টাকার রেডিওথেরাপি মেশিন ১৮ কোটি টাকা দিয়ে দুটি কেনা হয়েছিল। কিন্তু যেখানে সেগুলো স্থাপন করা হয়েছে, সেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোই প্রস্তুত ছিল না। ফলে একটি মেশিন ফরিদপুরে এবং অন্যটি খুলনায় অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। একইভাবে প্রয়োজনীয় কারিগরি জনবল ছাড়াই দেশের বিভিন্ন স্থানে এক্স-রে ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে ফেলে রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, একটি বিদেশি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডায়ালাইসিস সেবার বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। নভেম্বরে তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হবে না। সরকার নিজস্ব উদ্যোগে ডায়ালাইসিস মেশিন কিনবে। এর ফলে আগামী ডিসেম্বর থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি কম খরচে ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশে স্তন ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়লেও মানুষের সচেতনতা কম উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাইকেল, স্মার্টফোন ও এআই-সমৃদ্ধ ‘কিট বক্স’ দেওয়া হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু হবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে উচ্চতা, ওজন, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তের লিপিড প্রোফাইল, আরবিসি ও সিবিসি পরীক্ষা করবেন। পুরুষদের কাছে পুরুষ এবং নারীদের কাছে নারী স্বাস্থ্যকর্মী যাবেন।
মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজে অডিটের নামে এক টাকাও ঘুষ দেওয়া যাবে না। সৎ থাকলে কাউকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। অডিটে কেউ অনৈতিক টাকা চাইলে সরাসরি আমার কাছে আসবেন।
হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভয় দেখিয়ে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন করানোর প্রবণতা বন্ধে কঠোর তদারকি শুরু হয়েছে। সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে সারা দেশে বেসরকারি ক্লিনিকে আকস্মিক পরিদর্শন জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় লেবার রুম, লেবার চেয়ার ও নবজাতকের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়া পরিচালিত অনেক ক্লিনিক ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক।
গবেষণায় দেশের আটটি বিভাগের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় পর্যায়ের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া, প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্ষমতা এবং ৯৫ জন কর্মকর্তার জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি ও পেশাগত চর্চা মূল্যায়ন করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপক, জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারক, সরবরাহকারী, শিক্ষাবিদ ও রোগীদের সঙ্গে ৩২টি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জরিপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ৮৫ শতাংশ। মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে এ হার ছিল সবচেয়ে কম, ৭৮ শতাংশ। অর্থবছর শেষে ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দের অর্থ অব্যয়িত থাকলেও মাত্র ১১ শতাংশ উত্তরদাতা আর্থিক অব্যবস্থাপনাকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গবেষণায় বলা হয়, অব্যয়িত অর্থের প্রধান কারণ আর্থিক অনিয়মের চেয়ে বাজেট ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রশাসনিক জটিলতা।
এছাড়া সাধারণ সরঞ্জাম খাতে বরাদ্দের মাত্র ২৭ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। ভ্রমণ ও স্থানান্তর খাতে ব্যয়ের হার ছিল ৬৮ শতাংশ এবং পেশাগত সেবা ও সম্মানী খাতে ৫৯ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
সিআইডির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মোশাররফ হোছাইন
বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অ্যাডিশনাল আইজিপি (অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক) মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন।
বুধবার (২৯ জুলাই) সিআইডি সদর দপ্তরে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
গত ২৮ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সিআইডির প্রধান হিসেবে পদায়ন করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি প্রেষণে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এনএসআইতে কর্মরত অবস্থায় তিনি অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।
১৯৯৫ সালে পঞ্চদশ বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। প্রায় তিন দশকের কর্মজীবনে তিনি পেশাদারত্ব, দক্ষতা ও সততার সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও কারিকুলাম উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া সিআইডির সদর দপ্তর, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা ইউনিটে বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। মাঠ পর্যায়ে পিরোজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর, খুলনা ও ঢাকা রেঞ্জের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করে তিনি তদন্ত, গোয়েন্দা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
শিক্ষাগত জীবনে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর (এমএস) ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের সিটি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন।
দেশ-বিদেশে বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি আধুনিক পুলিশিং, তদন্ত ও ফরেনসিক বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছেন। উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়ায় ফরেনসিক ল্যাবরেটরি কোর্স, পাকিস্তানে বিশেষ আঞ্চলিক কর্মশালা এবং তুরস্কে অনুষ্ঠিত দশম ইন্টারপা সম্মেলনে অংশগ্রহণ।
দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে সিআইডির ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত সিআইডি প্রধানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
৫ দিন আগে
নগদকে আরও লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে: ডাক ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী
নগদকে আরও লাভজনক, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে নির্দেশ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, সরকারের প্রতিষ্ঠান হওয়ায় নগদের প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে সেবার মান, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়াতে হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁও ডাক ভবনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নগদ কর্তৃক ডাক অধিদপ্তরকে রাজস্ব আয় হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এই নির্দেশ দেন। অনুষ্ঠানে নগদ কর্তৃক ডাক অধিদপ্তরকে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ রাজস্ব আয়ের চেক হস্তান্তর করা হয়।
নগদ প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহর সভাপতিত্বে রাজস্ব আয় হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, আজকে নগদের এই অনুষ্ঠানে আমরা টাকা পাচ্ছি। সরকার তো শুধু খরচই করে, কিন্তু আজকে সত্যিই সরকারের জন্য এটি একটি আনন্দের দিন। কারণ কোথাও না কোথাও থেকে আমরা টাকা পাচ্ছি, মুনাফা পাচ্ছি।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমাদের সরকার প্রায় ছয় মাস পূর্ণ করতে যাচ্ছে। আগামী আগস্টে ছয় মাস হবে। এই ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় আমরা প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ে কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচনের সময় যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অনেকগুলোই ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আজকে নগদের এই মুনাফাও আমি মনে করি আমাদের সরকারের একটি সফলতা ও বাস্তবতার প্রতিফলন।
তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। আর সেই প্রযুক্তি তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবারের সদস্য, শিক্ষার্থী কিংবা নারী উদ্যোক্তা, সবার জন্য সহজ ও নিরাপদ আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। এই খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা, উদ্ভাবন এবং গ্রাহকবান্ধব সেবার বিস্তার ঘটলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি উপকৃত হবে।
তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডাক বিভাগের এই পরিবর্তন অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রচলিত ডাকসেবার পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা, আর্থিক সেবা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নানা উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি কার্যক্রম চালু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ডাকের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তে খুবই সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে, যা মানুষের জীবনকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করে তুলবে। একটু আগে বলা হয়েছে, অন্যান্য পার্সেল সেবাদাতাদের তুলনায় আমরা এক-তৃতীয়াংশ দামে সেবা দিচ্ছি। আমরা ডাক বিভাগকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছি।
মন্ত্রী বলেন, ডাক বিভাগের প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের আস্থা রয়েছে। তাই ডাক বিভাগের নামে প্রতিষ্ঠিত মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবা নগদও দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে নগদের কিছু কার্যক্রমের কারণে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। আমি ডাক বিভাগকে বলব, চুক্তি অনুযায়ী মনিটরিং জোরদার করতে হবে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং নগদকে একটি আস্থাশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। ডাক বিভাগের মতো নগদকেও সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবাকে আস্থা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রতীক হতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতকে পারস্পরিক আস্থা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন উৎসাহিত হবে এবং জনগণ আরও উন্নত সেবা পাবে।
তিনি আরও বলেন, আজকে ডাক বিভাগের সঙ্গে নগদ যে রাজস্ব ভাগাভাগি করছে, ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, সেবার মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে তা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। আমি শুনেছি নগদের প্রায় নয় কোটি গ্রাহক রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় তিন কোটি নিয়মিত সক্রিয় গ্রাহক। এটি একটি বিশাল বিষয়।
তিনি বলেন, নগদ যেহেতু সরকারের প্রতিষ্ঠান, তাই মানুষের মধ্যে এর প্রতি একটা আস্থা রয়েছে। এজন্যই দিন দিন এর গ্রাহক বাড়ছে। প্রশাসক বলেছেন, সফটওয়্যারের আরও উন্নয়ন করা গেলে গ্রাহকসংখ্যা আরও বাড়বে। আমি, সচিব মহোদয়, ডিজি সাহেব এবং সংশ্লিষ্টদের বলব, আমরা বসে দেখি কীভাবে নগদের সেবা আরও উন্নত করা যায়। এখানে প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। এটিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। জনগণের আস্থা রয়েছে, কারণ এটি সরকারের প্রতিষ্ঠান। আমরা যদি আরও ভালো সেবা দিতে পারি এবং সফটওয়্যারকে আধুনিক করতে পারি, তাহলে নিশ্চয়ই নগদকে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
ডাক বিভাগের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে আমাদের প্রায় নয় হাজারের বেশি ডাকঘর রয়েছে। কীভাবে এসব ডাকঘরের আধুনিকায়ন করা যায়, তা নিয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি। গ্রামে যেখানে অন্য কেউ পৌঁছাতে পারে না, সেখানে ডাকঘর রয়েছে। যদি আমরা এগুলোকে উন্নত করতে পারি, তাহলে মানুষের দোরগোড়ায় আরও কার্যকর সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, আজ নগদ সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ প্রায় ৩১৩ কোটি টাকা দিয়েছে। এটি বড় অঙ্ক। যেখানে বস্ত্র, পাটসহ অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান লোকসানে রয়েছে, সেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো, বন্ধ শিল্পগুলো চালু করতে হবে এবং লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।
সম্প্রতি নগদ বিক্রির গুঞ্জনের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, কয়েকদিন আগে দেখলাম একটি সংবাদে বলা হয়েছে, ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় নাকি নগদ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। অথচ আমরা কখনোই এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। যারা এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেন, তাদের বলব, গুজবে কান দেবেন না। আমি আছি, সচিব মহোদয় আছেন, ডিজি সাহেব আছেন, প্রশাসক আছেন। আমাদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন, তারপর সংবাদ প্রকাশ করুন।
তিনি বলেন, আমরা একটি স্বচ্ছ সরকার। সাংবাদিক ভাইদের জন্য আমাদের দরজা সবসময় খোলা। আপনারা কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন। তাহলে জনগণ বিভ্রান্ত হবে না। কারণ আপনাদের সংবাদ থেকেই মানুষের ধারণা তৈরি হয়। তাই সঠিক সংবাদ প্রকাশ করুন, যাতে মানুষ সঠিক তথ্য জানতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নগদকে আরও এগিয়ে নিতে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। খুব শিগগিরই আমরা আবার বসবো, কীভাবে নগদের সেবা আরও উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করবো। সামনে আরও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবা আসতে চাইছে। আসুক, প্রতিযোগিতামূলক বাজার থাকুক। যত বেশি প্রতিযোগিতা হবে, তত বেশি জনগণ উপকৃত হবে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, আমরা সবাই সরকারের কাছ থেকে উন্নত সেবা চাই। আমরা চাই প্রশস্ত রাস্তা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, দ্রুতগতির ইন্টারনেট এবং উন্নত নাগরিক সেবা। কিন্তু সরকার তখনই এসব সেবা নিশ্চিত করতে পারবে, যখন সরকারের পর্যাপ্ত রাজস্ব থাকবে। কারণ সরকারের কোনো সেবাই বিনামূল্যে দেওয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি সেবার পেছনেই রাজস্ব প্রয়োজন। রাজস্ব পর্যাপ্ত না হলে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
সচিব বলেন, তিন বছর আগেও শ্রীলঙ্কা বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিল। তারপরও দেশটির কর-জিডিপি অনুপাত ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আর আমরা এখনো ৭ শতাংশেরও নিচে। তাই সরকারের সেবা চাইলে আমাদের সবাইকে যথাযথভাবে রাজস্ব প্রদান করতে হবে।
ডাক বিভাগের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় ডাক বিভাগের প্রধান সেবা ছিল মানি অর্ডার। নতুন প্রজন্মের অনেকেই হয়তো মানি অর্ডারের সঙ্গে পরিচিত নয়। প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার চালু হয়। তখন ডাক অধিদপ্তর চিন্তা করে, কৌশলগত অংশীদারের মাধ্যমে কীভাবে এই সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব করা যায়। সেই ভাবনা থেকেই ডাক অধিদপ্তর ও নগদের এই অংশীদারিত্বের সূচনা।
তিনি আরও বলেন, নগদ ডাক অধিদপ্তরের লোগো ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। বর্তমানে নগদের গ্রাহক প্রায় ৯ কোটি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পর মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই আস্থার কারণেই ব্যবসা বেড়েছে, রাজস্ব বেড়েছে এবং সরকারের আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিলকিস জাহান রিমি বলেন, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত নগদ ডাক অধিদপ্তরের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি করেছে মাত্র ১৩ কোটি টাকা। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১৪ কোটি টাকা হয়েছে। আর সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এখানে দুটি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, গ্রাহকের আস্থা বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, বর্তমান ব্যবস্থাপনার দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। এজন্য প্রশাসকসহ নগদের বর্তমান টপ ম্যানেজমেন্টকে শীর্ষ ব্যবস্থাপনাকে আমি ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিক সেবাকে কীভাবে আরও সহজ, দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করা যায়, সে লক্ষ্যেও বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ডাক বিভাগের বর্তমান কার্যক্রম তুলে ধরে সচিব বলেন, অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, এখন ডাক বিভাগের কাজ কী? আগে ডাক বিভাগ মানেই ছিল লাল রঙের পোস্টবক্স আর চিঠি আদান-প্রদান। কিন্তু এখন সেই ধারণা বদলে গেছে। সারা বিশ্বেই ডাকসেবাকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এখন চিঠির পরিবর্তে মানুষ মোবাইল, টেক্সট মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে যোগাযোগ করছে। তবে লজিস্টিকস (সরবরাহব্যবস্থা) সেবার গুরুত্ব অনেক বেড়েছে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন কি না, দেশের বাইরে এক কেজি পণ্য ফেডএক্স বা ডিএইচএলের মাধ্যমে পাঠাতে যে খরচ হয়, ডাক বিভাগ প্রায় তার এক-তৃতীয়াংশ খরচে একই ধরনের সেবা দিতে পারে। একই সময়ের মধ্যে নিরাপদভাবে পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করব, ডাক বিভাগের আধুনিক সেবাগুলো গ্রহণ করুন।
ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আসাদুল ইসলাম বলেন, আজকে আসলেই আমাদের জন্য একটি খুশির দিন। নগদ যে পরিস্থিতিতে ছিল, দিনে দিনে আলহামদুলিল্লাহ সেটার ভালো ধরনের উন্নতি হচ্ছে। এটা একটা স্থিতিশীল উন্নতি। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেভাবে আমাদের সহযোগিতা করছেন, ইনশাল্লাহ আমরা সরকারের একটি সফল প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের আরও প্রতিষ্ঠিত করতে পারব।
তিনি বলেন, সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান লাভ করতে পারে না বা রাজস্ব আয় করতে পারে না, এমন একটি ধারণা রয়েছে। আমরা সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করতে চাই। সরকারের অধীন ডাক অধিদপ্তর এবং নগদ একসঙ্গে সেই সক্ষমতা দেখাতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। সরকারের একটি অংশ হতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করি।
তিনি আরও বলেন, ২০১৭-১৮ সালে নগদের যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে চলতি বছরে প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ ৩১৩ কোটি টাকা দিয়েছে। শুধু চলতি বছরেই সরকার নগদের কাছ থেকে মোট ৩৫০ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে।
আসাদুল ইসলাম বলেন, জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত নগদ সরকারকে মোট ৯৪৬ কোটি টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ করেছে। এছাড়া ডাক অধিদপ্তরের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির আওতায় দিয়েছে ৪৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে গেছে। অল্প কিছু টাকা হলেই এই অঙ্ক ১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। ২০১৮ সালে কার্যক্রম শুরু করার পর মাত্র আট বছরে সরকারকে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন।
নগদ প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সঙ্গে নগদের রাজস্ব ভাগাভাগির চুক্তি অনুযায়ী ডাক বিভাগকে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা হস্তান্তর করা হচ্ছে। এ অর্থ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রীর হাতে তুলে দিতেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সমন্বয়ে নগদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাক বিভাগের একটি টিমের সহায়তায় কোনো নতুন সরকারি বা অন্য কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সংকটের সময় অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলেও নগদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং গত দুই বছরে নগদের লেনদেন, রাজস্ব এবং সরকারের কাছে প্রদেয় রাজস্বের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নগদ প্রশাসক বলেন, গত বছর বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে ১৮ মাসের রাজস্ব বাবদ প্রায় ১৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। আর এ বছর মাত্র এক বছরের জন্যই ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে সংকট কাটিয়ে উঠে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব।
নগদের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রায় এক কোটি লেনদেন সম্পন্ন হয়। বর্তমানে সক্রিয় গ্রাহক তিন কোটির বেশি এবং মোট গ্রাহক সংখ্যা নয় কোটিরও বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। মে মাসে সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকায়। বর্তমানে প্রতি মাসেই ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে।
মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, নগদের প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো : বিনিয়োগের অভাব এবং পুরোনো সফটওয়্যার। সফটওয়্যার আধুনিকায়নে বিনিয়োগ করা গেলে নগদ দেশের শীর্ষ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবা (এমএফএস) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে নগদ ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে।
৫ দিন আগে
২১ নতুন উড়োজাহাজ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন গ্রুপ হওয়ার পথে ইউএস-বাংলা
বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের লিজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন বহরে থাকবে ১৫টি অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ, যা ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে যুক্ত হবে।
রাজধানীর শেরাটন ঢাকায় বুধবার (২৯ জুলাই) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি বলেন, ‘একটি অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন হিসেবে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা আজ বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবার প্রতি তাদের অঙ্গীকারই এ সাফল্যের ভিত্তি।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। ক্রমবর্ধমান এই চাহিদা পূরণে ইউএস-বাংলার ২১টি নতুন বোয়িং বিমান যুক্ত করার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও পর্যায়ক্রমে ১৪টি নতুন বোয়িং বিমান বহরে যুক্ত করছে। এতে দেশের এভিয়েশন খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশি-বিদেশি যাত্রীদের ভ্রমণসেবা উন্নত হবে।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বোয়িং ৭৩৭ বিমান লিজ নেওয়ার এই চুক্তি শুধু একটি এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, পর্যটন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি উচ্চমানের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগিহ বলেন, ‘ইউএস-বাংলা আধুনিক ও জ্বালানিসাশ্রয়ী বোয়িং বিমান যুক্ত করে প্রবৃদ্ধির নতুন ধাপে প্রবেশ করছে। এটি বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের আস্থা এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।’
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউএস-বাংলা গ্রুপ ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথের বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ যাত্রী এখনও বিদেশি এয়ারলাইন্স বহন করছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে দেশীয় এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে রাখা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি সফল এয়ারলাইন্স পরিচালনা করা নয়; বরং ইউএস-বাংলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক এভিয়েশন গ্রুপে পরিণত করা। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, দক্ষ জনবল তৈরি, কার্গো, এমআরও, ফ্লাইট ক্যাটারিং এবং এভিয়েশন প্রশিক্ষণসহ একটি সমন্বিত এভিয়েশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে।’
তিনি জানান, নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান রুটে ফ্লাইট বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ব্যাঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, কলম্বো, কাঠমান্ডু, জহুর বাহরু, পেনাং, কুনমিং, শেনজেন, বেইজিং, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম ও সালালাসহ একাধিক নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ স্থায়ীভাবে মোতায়েন করে এসব অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য নতুন বিমানবন্দর, প্রতিযোগিতামূলক নীতিমালা, দক্ষ জনবল, আধুনিক এমআরও সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের এভিয়েশন প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইউএস-বাংলা নিজস্ব অর্থায়নে পাইলট ও এয়ারক্রাফট প্রকৌশলী তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক মানের একটি এভিয়েশন প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং দেশে অত্যাধুনিক ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে।
ইউএস-বাংলার মতে, এ বহর সম্প্রসারণ শুধু প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধিই নয়, দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন, পর্যটন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াসহ দূরপাল্লার গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যে নতুন প্রজন্মের ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনাও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
৫ দিন আগে
প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে গুণগত পরিবর্তন আনতে সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর তদারকি ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী অভিজ্ঞ শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পর্যালোচনা সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী এসব কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
সভায় শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, কার্যকর পাঠদান, শিক্ষকদের যুগোপযোগী ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।
এ সময় মাঠপর্যায়ে কর্মরত অভিজ্ঞ শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। তারা শিক্ষাক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে গুণগত পরিবর্তন আনতে সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর তদারকি এবং সময়োপযোগী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।
পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা, পেশাদারত্ব ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
৬ দিন আগে
১৭ বছর ধরে জুলাই অভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করেছে বিএনপি: পানিসম্পদমন্ত্রী
পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে আজকের বিরোধী দল কোথায় ছিল, গত ১৭ বছর কোথায় ছিল—এসব তো প্রশ্নের বিষয়। আমরা তো জোট করেছি, যুগপৎ আন্দোলন করেছি। আজকে ৫ আগস্টের পর তারা বলে যে, বিরোধী দল নাকি একাই আন্দোলন করেছে!
তিনি বলেন, এ কথা তো অনস্বীকার্য যে একটা অভ্যুত্থানের ভিত্তি লাগে। সেই ভিত্তি ছিল বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বিভাজন নয় ঐক্য’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘আমরা বাংলাদেশি’ নামের একটি সংগঠন।
সংগঠনটির সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে ও নির্বাহী সদস্য তমিজ উদ্দিন টিটুর পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দি ইকরাম, বিএনপি নেতা মোমিনুল আমিন, ইউনাইটেড লেবার পার্টির আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, সব আওয়ামী লীগ তো পালিয়ে যায়নি। সবার মামলা তো একরকম নয়। বিরোধী দল সংসদে বলছে, তারা নাকি ভালো আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নেবে। এটা নিয়ে তো বিভেদের শুরু। নির্বাচনের আগে আমরা শুনেছি যে তাদের অনেকে বহু টাকার মালিক হয়েছেন। কারও পিএস বা সহকারীর কাছ থেকে টাকা উদ্ধার হয়েছে। যারা বিগত দিনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজকে ৭১ সালের কথা বাদই দিলাম, কিন্তু ৮৬ সালে স্বৈরাচার এরশাদ থেকে শুরু করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলনে তারা ছিল। তারা ভেবেছিল যে এবার ক্ষমতায় আসবে, কিন্তু বাস্তবে দিল্লি বহুদূর।
জাতীয় সংসদে বিরোধী দল কিছু আসন পেয়েছে উল্লেখ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, এক্ষেত্রে কিছু কিছু নির্বাচনি এলাকায় বিএনপির সমস্যা ছিল; একাধিক প্রার্থী ছিল। সেজন্যই তারা ভালো করেছে। অনেকগুলো আসনে প্রবাসী ভোটেও আমাদের দুর্বলতা ছিল। প্রবাসী ভোটকে প্রভাবিত করা হয়েছে। এসব আসনে যাতে ফ্রেশ ইলেকশন (সুষ্ঠু নির্বাচন) হয়, এখন থেকেই তার খবর রাখতে হবে।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, আমরা ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করেছি। মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশা আছে। তারা চায় স্বাভাবিক জীবন। সরকারের মাত্র পাঁচ মাস হলো। এখনও খুব বেশি সমাধান করতে পেরেছি, সেটা বলা যাবে না। তবে প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন। তিনি কিছু কর্মসূচি নিয়েছেন। আশা করি, আমরা সবাই তাকে সহযোগিতা করলে দেশে কোনো অভাব থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে চুরি ও লুটপাটের কারণে আমাদের নানামুখী সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। জমি কমছে, মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ছোট্ট একটি দেশে ২০ কোটির ওপর মানুষ। তবে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অসংখ্য প্রকল্প নিয়েছিলেন। আমরাও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনেকগুলো প্রকল্প নিয়েছি। এগুলোর জাগরণ তৈরি করতে চাই।
অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমরা বিভেদ নয় ঐক্য চাই।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি, তারা আজকে সংসদে বিরোধী দল হয়েছে। এটা দেশের জন্য লজ্জার। আজকে তাদের ১১ দলীয় জোটে ভাঙন শুরু হয়েছে। আদতে এটি এখন ৯ দলে পরিণত হয়েছে। তারা নাকি আবার বিএনপি সরকারের পতন ঘটাবে। আমি বলবো—নিজেদের পতন আগে ঠেকান। জনগণ আপনাদের প্রচারণা বুঝে গেছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কী করবে, তা তাদের এমপিদের কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠেছে।
রাশেদ খান বলেন, আজকে বাংলাদেশের মানুষ তারেক রহমানের জাদুতে মুগ্ধ। তিনি যেভাবে চলাফেরা করছেন, ব্যয় সংকোচন করছেন, তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। বিএনপি ঐক্যে বিশ্বাস করে, কিন্তু জামায়াত সেটি করে না।
তিনি বলেন, ড. ইউনূসের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, তবে তার তো মাইনাস ফর্মুলা ছিল। তিনি বিএনপিকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন। জামায়াত এনসিপিকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। সেজন্য তারা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায়নি। নির্বাচন আদায় করে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আজকে বিরোধী দল অভ্যুত্থানের হুমকি দেয়। এটা কী কখনও সম্ভব? গণঅভ্যুত্থানের নায়ক যে নাহিদ জামায়াতের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছিল, সে-ই আজকে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্ব মেনে নিয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, আমরা সবার আগে বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্লোগান ধারণ করে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেই লক্ষ্যেই আমরা বাংলাদেশি সংগঠনের সূচনা।
৬ দিন আগে
আমরা সবই করতে চাই, কিন্তু পর্যাপ্ত ফান্ড নেই: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেছেন, আমরা সবই করতে চাই, তবে আমাদের হাত-পা বাঁধা। আমাদের পর্যাপ্ত ফান্ড নেই। যেটুকু বরাদ্দ আছে, তা দিয়ে যতটুকু কাজ করা সম্ভব, ততটুকুই করা হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত মহারশি নদীর দুই তীরে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং পাহাড়ি জনপদে বন্যহাতির আক্রমণ থেকে জান-মাল রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবই করতে চাই, কিন্তু আমাদের হাত-পা বাঁধা। পর্যাপ্ত ফান্ড আমাদের নেই। যেটুকু বরাদ্দ আছে, তা দিয়ে যতটুকু কাজ করা সম্ভব, ততটুকুই করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। সমস্যাগুলো আমরা জানি। সময়মতো সব করা হবে। এ বছর না হলেও আগামী বছর দৃষ্টিনন্দন কিছু করতে পারব বলে আশা করছি।’
এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির (প্রথম পর্যায়) আওতায় নির্মিত সড়ক পরিদর্শনে ঝিনাইগাতী উপজেলায় যান প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে তিনি সদ্য নির্মিত ২২টি সড়কের মধ্যে হলদীগ্রাম, নওকুচি ও গান্ধীগাঁও এলাকার তিনটি সড়ক ঘুরে দেখেন।
প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াছমিন, নালিতাবাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আফরোজা নাজনীন, ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমিনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত, ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন হাইকমিশনার
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনের নিকটবর্তী সমো টাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশি নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের, একজন পাশের বক্তাবলী ইউনিয়নের এবং অপরজন মুন্সিগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সমো টাউনের একটি দোকানে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
প্রিটোরিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বিবৃতিতে ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা, শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা এবং গুরুতর আহত বাংলাদেশি নাগরিকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে।
হাইকমিশন থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফী আজ মঙ্গলবার দুপুরে কুইন্সটাউনের সমো টাউনের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। সফরকালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন, নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এছাড়া তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। বৈঠকে ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি, তদন্তের অগ্রগতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে আলোচনা হবে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছে হাইকমিশন।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রওশন আলী জানান, নিহত ছয়জনের মধ্যে চারজন তার ইউনিয়নের বাসিন্দা।
তিনি বলেন, ‘খবরটি শুনে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের মধ্যে চারজন আলীরটেক ইউনিয়নের, একজন পাশের ইউনিয়ন বক্তাবলীর এবং আরেকজন মুন্সিগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকার বাসিন্দা। সবাই একে অপরের আত্মীয়।’
তবে এ ঘটনায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনও কোনো বার্তা পাইনি। এমনকি ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকেও কেউ যোগাযোগ করেননি। আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছি।’
একই তথ্য জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
৬ দিন আগে
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী রাশিয়া
বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে রাশিয়া। রাশিয়া থেকে কম দামে ইউরিয়া সার দিতে এবং প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য আমদানির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিনের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি সহযোগিতা, সার সরবরাহ এবং দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে (জি টু জি) বাণিজ্য সম্প্রসারণ।
বৈঠকে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গম ও মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার সরবরাহে রাশিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু। আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাশিয়ার প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের কাছে জেএসসি এফইসি প্রোডিনটর্গের মাধ্যমে জি টু জি-ভিত্তিতে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টন ইউরিয়া সার সরবরাহের আগ্রহের কথা জানায়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বর্তমানে যেসব দেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে, তার তুলনায় প্রতি টনে ১০ ডলার কম দামে সার সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। এ সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন নির্ভরযোগ্য সার সরবরাহ নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে আমদানি ব্যয় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং রাশিয়ার জেএসসি এফইসি প্রোডিনটর্গের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সূর্যমুখী তেল, হলুদ মটরশুঁটি, ছোলা, লাল মসুর ডাল, সবুজ মসুর ডালসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। তারা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেয়।
মন্ত্রী রাশিয়ার বাণিজ্য সম্প্রসারণের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করা হবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়।
৬ দিন আগে
বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতায় বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে চায় চীন
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সুফল যাতে দুই দেশের জনগণ সরাসরি ভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই চীন প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চীনের সহায়তায় নির্মাণাধীন বার্ন ইউনিট প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা জানান।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘চীন প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত রাখবে, যাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ফলাফল দুই দেশের জনগণের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে আনে।’
তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পকে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার আরেকটি মাইলফলক হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায় চীন।’
প্রকল্পটির বাস্তবায়নকে চীন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত ওয়েন।
পরিদর্শনকালে তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানায়, রাষ্ট্রদূত ওয়েন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে গঠনমূলক পরামর্শ দেন এবং প্রকল্পে নিয়োজিত চীনা ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ডা. শাহাদাত হোসেনসহ বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে চীনের বাস্তব সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক ফল অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
৬ দিন আগে