বাংলাদেশ
সন্তানদের জন্য ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে নগর কর্মকর্তাদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
অন্তত নিজেদের সন্তানদের কথা ভেবে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্জ্য ও অপরিচ্ছন্নতা ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।’
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভাঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সয় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানিয়েছেন, সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কেউ নিশ্চয়ই চান না তার সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হোক।
তিনি আরও বলেন, সন্তান শুধু নিজের বাসার আশপাশে থাকে না; স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে। তাই শুধু নিজের এলাকা নয়, পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না। সে সারা ঢাকা শহরে বিচরণ করবে। কাজেই আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে আমরা পারব।’
তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা। এই সমস্যা এক দিনে বা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই সমস্যার সমাধানের সঙ্গে জড়িত। হয়তো সময় লাগবে, কিন্তু চেষ্টা করে গেলে পরিবর্তন আসবেই। আপনাদের মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ইচ্ছা।’
কর্মকর্তাদেরও একইভাবে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘আমি যখন যেখানে যাই, দেখতে থাকি কোথায় কী সমস্যা আছে। তারপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করি। আপনারাও যদি এভাবে সমস্যাগুলো দেখেন এবং সমাধানে পদক্ষেপ নেন, তাহলে পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব।’
যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষাট বা সত্তরের দশকে লন্ডনের অনেক জায়গায়ও ময়লা-আবর্জনা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে তারা পরিস্থিতির পরিবর্তন করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা অনেকেই হয়তো বিদেশের সুন্দর, পরিচ্ছন্ন শহর দেখেছেন। দেশে ফিরে নিশ্চয়ই আফসোস হয়েছে, আমাদের শহরটা যদি এমন হতো! কিন্তু সেই আফসোস করে বসে থাকলে হবে না। নিজেদের দায়িত্বও পালন করতে হবে।’
ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক কথোপকথনের কথাও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ ব্যক্তি সম্প্রতি তার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় ঢাকার পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, শহরের পরিচ্ছন্নতা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি কিন্তু বলেননি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বলেছেন, কিছুটা ভালো হয়েছে। তার মানে পরিবর্তন সম্ভব। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আরও ভালো করা যাবে।’
নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কোথাও সড়ক বিভাজক নতুন করে তৈরি হচ্ছে, কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি আমার সমালোচনা করতেই পারেন। কিন্তু নিজের ভেতরেও নিজের সমালোচনা করতে হবে। ভাবতে হবে, আমি আমার দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে পালন করছি, কতটুকু চেষ্টা করছি।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্প-সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস ও বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেন।
এসব তথ্য কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে কীভাবে জানা যায়, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও চিত্রও দেখেন তিনি।
এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ১,২০০ ছাড়াল
দেশে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৪২টি শিশু।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ১ হাজার ৯৭ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০৪ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ১ হাজার ২০১ শিশু মারা গেছে।
এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩০৭। এই সময়ে ১ হাজার ১৭৯ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ২৮৬ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৫১, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ১৫৭। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৩ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪২ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
৯ দিন আগে
স্বৈরাচারের পথ তৈরি ও শহিদদের সঙ্গে গাদ্দারি নিয়ে বিরোধীদের সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী
অযৌক্তিকভাবে সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার ফিরে আসার পথ তৈরি হলে তা জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সচিবালয়ের পাশে আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যান ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের পর আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে যদি স্বৈরাচার আসার পথ উন্মুক্ত করে দেন, তাহলে তা অবশ্যই দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। এটি জুলাইয়ের শহিদদের সঙ্গে গাদ্দারি করা হবে, একইভাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গেও গাদ্দারি করা হবে।
তিনি বিরোধী দলগুলোকে সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালন এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধী দল কীভাবে সরকারের বিরোধিতা করছে, তা জনগণ দেখছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, অবশ্যই সরকারের বিরোধিতা করবেন। কিন্তু সেই বিরোধিতা হতে হবে গঠনমূলক। কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করার পুরোনো সংস্কৃতিতে আটকে থাকলে দেশকে কীভাবে এগিয়ে নেব?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের দেওয়া রায়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোটাররা বিএনপিকে দেশ পরিচালনা এবং অন্য দলগুলোকে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের দায়িত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল রাখার উদ্দেশ্য হলো জাতীয় ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা, মতবিনিময়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করা।
দোষারোপের রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বা বিরোধী দল, কোনো পক্ষেরই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার একক অধিকার নেই।
দোষারোপ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল, উভয়ই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে।
অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের সম্মান জানাতেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সরকার ও বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকারের এই মঞ্চে বসার দরকার ছিল না, কিন্তু সত্যিকারভাবে যদি আপনারা জুলাইকে ধারণ করেন, আপনারা তো এসে জুলাই শহিদদের মানুষগুলোর সঙ্গেও বসতে পারতেন, আমরা তো আজকে আপনাদেরকে দেখতে পাচ্ছি না।’
অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো, আহত হওয়া কিংবা দৃষ্টিশক্তি হারানো ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের কারণে বিরোধী দলের নেতা ও সংসদ সদস্যরা আজ পরিচিতি পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, শহিদ পরিবারের সদস্যদের পাশে তাদের উপস্থিতি প্রমাণ করতে পারত, তারাও জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেন।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রে সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার নিয়ে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে জননিরাপত্তা, জাতীয় স্বাধীনতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও দেশের শিশুদের ভবিষ্যতের মতো বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের ঐকমত্যে পৌঁছানো উচিত।
৯ দিন আগে
ফ্রাইং প্যান, সবজি গ্রেটার ও মলদ্বারে লুকানো প্রায় ৫ কোটি টাকার সোনা জব্দ
চট্টগ্রাম ও ঢাকার দুই বিমানবন্দরে পৃথক অভিযানে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের সোনার বার ও সোনার পেস্টভর্তি বস্তু জব্দ করেছেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
কামরুল ইসলাম নামের এক যাত্রী আবুধাবি থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে রবিবার সকাল ৭টায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা গ্রিন চ্যানেলে সতর্ক অবস্থান নেন।
কামরুল ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার সঙ্গে থাকার ঘোষণা দেন এবং অতিরিক্ত কোনো সোনা থাকার কথা অস্বীকার করেন। পরে অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তার ব্যাগ তল্লাশি করে ফ্রাইং প্যান ও সবজি কাটার গ্রেটারের ভেতরে লুকানো চারটি সোনার বার উদ্ধার করা হয়, যার ওজন ৪৬৬ গ্রাম।
ঘোষিত ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ মোট ৫৬৬ গ্রাম সোনা জব্দ করা হয়। শুল্ক, করসহ এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সিআইআইডি।
অন্যদিকে একই দিন সন্ধ্যায় মোহাম্মদ সোলায়মান ও জোবায়েদ আহমেদ নামের দুই যাত্রী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মালদ্বীপ থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
দুই যাত্রীর মলদ্বার থেকে সোনার পেস্টভর্তি ডিম্বাকৃতির ছয়টি বস্তু উদ্ধার করেন কর্মকর্তারা, যার মোট ওজন দুই কেজি ৭৩৪ গ্রাম। এগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং পেস্টের প্রকৃত সোনার পরিমাণ ও মূল্য জানতে উপযুক্ত পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে সিআইআইডি।
গোপন তথ্য, নিবিড় নজরদারি ও ঝুঁকিভিত্তিক যাত্রী তল্লাশির মাধ্যমে সোনা চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
৯ দিন আগে
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানীতে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ৮৩৪ জন শহিদের নামসংবলিত নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ ও আধুনিকায়নকৃত ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। এরপর তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি ও ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা এবং দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ প্রার্থনা করে মোনাজাত করা হয়। সেই সঙ্গে স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর তিনি আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি উদ্যান প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন ও উদ্যানে স্থাপিত গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও রাজধানীর নাগরিক পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ৮৩৪ শহিদের নাম
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মাণ করা হয়েছে ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’।
প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটির গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ জন শহিদের নাম। সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।
স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু এবং ভেতরে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে।
এতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের ধারাবাহিক আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
৯ দিন আগে
শেরেবাংলা নগরে যাচ্ছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদন
রাজধানীর আবদুল গণি রোড থেকে বাংলাদেশ সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন জায়গায় সচিবালয়ের কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
শেরেবাংলা নগরে আগে যে জায়গায় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজিত হতো, সেখানে নতুন সচিবালয় স্থাপন করা হবে।
নাসিমুল গনি বলেন, ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন জায়গায় দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগোচ্ছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
এদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ দশমিক ৫৭ একর জমির ওপর অবস্থিত বর্তমানে সচিবালয়ে ১৩টি ভবন রয়েছে, যার আটটি নির্মিত হয়েছে স্বাধীনতার আগে। এর মধ্যে চারটি ভবন ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে এবং আরেকটি ১৯৪৭ সালে নির্মিত।
ঢাকা শহর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এসব ভবনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ।
এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত দাপ্তরিক জায়গার (অফিস স্পেস) অভাব, অপর্যাপ্ত শৌচাগার এবং ভবনগুলোতে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে স্বাস্থ্যকর ও কাজের উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হচ্ছে।
বর্তমান সচিবালয়ে প্রায় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট দাপ্তরিক জায়গা রয়েছে। তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত জায়গার চাহিদা পূরণ এবং সচিবালয় চত্বরের বাইরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে একত্র করার জন্য আরও অন্তত ১০ লাখ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সিদ্ধান্তের পর স্থাপত্য অধিদপ্তর শেরেবাংলা নগরে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পুরোনো মাঠে নতুন সচিবালয়ের একটি প্রাথমিক নকশা তৈরি করে। লুই আই কানের মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নকশাটি করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী, প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে তিনটি বেজমেন্টসহ ১২ তলাবিশিষ্ট ১৪টি ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট জায়গা পাওয়া যাবে।
নতুন কমপ্লেক্সে তিন হাজার ৮০০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকবে, যার মধ্যে ২০০টি গাড়ি থাকবে ভূ-উপরস্থ পার্কিংয়ে। এছাড়া একটি মসজিদ, ৩৫০ জন করে ধারণক্ষমতার দুটি বহুমুখী হল, একটি ক্যাফেটেরিয়া ও একটি ডাকঘর থাকবে।
এছাড়া প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।
৯ দিন আগে
তৃণমূলে স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালু করতে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দ্রুত নতুন চিকিৎসক ও মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘ব্রেস্ট ক্যানসার সচেতনতা মাস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্য অধিদপ্তরের তথ্যবিবরণী অনুযায়ী, নারীদের মধ্যে স্তন ক্যানসার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
দেশে স্তন ক্যানসারের প্রকোপ বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও নারীরা এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সচেতনতা ও চিকিৎসার অভাবে অনেক নারী সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে পারেন না। ফলে যথাযথ চিকিৎসার সুযোগ থেকেও অনেকে বঞ্চিত হন।
স্তন ক্যানসার একজন নারীর শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় গভীর প্রভাব ফেলে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সভা-সেমিনার আয়োজন কিংবা টেলিভিশনে প্রচারের মাধ্যমে প্রকৃত সচেতনতা তৈরি সম্ভব নয়। এ জন্য চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’
এ সময় চিকিৎসকদের নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আপনারা দেশের সবচেয়ে মেধাবী সন্তান। বছরে অন্তত দুই-তিন দিন নিজের গ্রামে ফিরে যান। স্থানীয় নারীদের একত্র করে স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ এবং কীভাবে এ রোগ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয়, তা শেখান। এটি মানবতার সেবা এবং মহৎ কাজ।’
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
দেশে প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ১৫ জনের স্তন ক্যানসার শনাক্ত হয় বলে জানিয়ে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, আক্রান্ত নারীদের প্রায় ৬৩ শতাংশ কোনো ধরনের স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসেন না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হয়, যা চিকিৎসাকে জটিল করে তোলে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্ক্রিনিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
১০ দিন আগে
অমর একুশে বইমেলা শুরু জানুয়ারিতে, চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত
ভাষা শহিদদের স্মরণে প্রচলিতভাবে ফেব্রুয়ারি মাসে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা আয়োজিত হলেও ২০২৭ সালে এ মেলা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি। এর মধ্য দিয়ে মেলার প্রচলিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আসছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, মেলা চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
গত ১৩ অক্টোবর বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সম্মেলনকক্ষে প্রকাশকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ও সচিব ইয়াসমিন বেগমও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রকাশক ও প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মেলার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য উদযাপনে প্রতিবছর অমর একুশে বইমেলার আয়োজন করা হয়।
১০ দিন আগে
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাইলেন সচিব
সম্প্রতি সৌদি আরবে কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছে ঢাকা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলাম সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
তবে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকটি তাকে তলবের অংশ ছিল না বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা।
সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে বিষয়টি তুললেও দুই দেশের শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ঢাকা।
আলোচনায় স্বাগতিক দেশের আইন সম্পর্কে ‘সচেতন’ থাকার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতিতে উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শনিবার প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সৌদি আরবে এক বাংলাদেশি পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সরকার এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি।
এ ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিস্তারিত তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ সৌদি সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে।
সম্প্রতি সৌদি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানিয়েছে নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সিথি আক্তার হিসেবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ জানতে পারে, সৌদি আরবের আইনে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকরও করা হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে আগাম কিছু জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য না পাওয়ায় ঘটনাটির বিস্তারিত নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে চাননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের যা যা জানার প্রয়োজন, সবকিছুই সৌদি সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে দেশটির জবাব পাওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের মনে রাখতে হবে, তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলতে হবে। একইভাবে বাংলাদেশে কোনো বিদেশি নাগরিক অপরাধ করলে তাকেও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এটাও আমাদের জন্য একটা শিক্ষা হতে পারে। তবে এটি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এ ধরনের খবর আমরা পেতে চাই না।’
সৌদি সরকারের জবাব পাওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ও সময় নিয়ে আলোচনা করা যাবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
১০ দিন আগে
পাট খাতে অর্থের চেয়ে চীনের প্রযুক্তি বেশি প্রয়োজন: মন্ত্রী
বাংলাদেশের পাট খাতের উন্নয়নে আর্থিক বিনিয়োগের চেয়ে উন্নত প্রযুক্তি ও গবেষণা সহযোগিতা বেশি প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব বিনিয়োগ সক্ষমতা রয়েছে। তবে পাটের বীজ উৎপাদন, আঁশের ফলন বৃদ্ধি ও উচ্চমূল্যের বহুমুখী পণ্য তৈরিতে চীনের আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণা সহায়তা প্রয়োজন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) ও চীনের জিয়াংনান ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের পক্ষে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. জাহিদ হোসেন ও চীনের পক্ষে জিয়াংনান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক মা পিবো স্মারকটিতে সই করেন। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় পাটমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শুধু কাঁচা পাট কিংবা সুতা রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। পাটের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজনের প্রতিটি ধাপে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানিই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, পাটের সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ কাজে লাগাতে হলে বীজ উৎপাদন থেকে শুরু করে উন্নত আঁশ, আধুনিক কাপড় ও বহুমুখী পণ্য উদ্ভাবনে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
এ ক্ষেত্রে চীনের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এই সমঝোতা স্মারকের অধীনে পাটের বহুমুখী ব্যবহার সম্প্রসারণ, উন্নত বীজ উৎপাদন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও বস্ত্র খাতে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তির প্রয়োগে যৌথভাবে কাজ করবে জেডিপিসি ও জিয়াংনান ইউনিভার্সিটি।
অনুষ্ঠানে জিয়াংনান ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের ডিন বাংলাদেশে পাট ও বস্ত্র খাতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে সফর করে মাঠপর্যায়ের চাহিদা ও শিল্প খাতের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
গবেষণার ফল শিল্প খাতে কার্যকরভাবে প্রয়োগের লক্ষ্যে যৌথ গবেষণাগার (জয়েন্ট ল্যাব) প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বিত গবেষণা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করে চীনা প্রতিনিধিদল।
এর মাধ্যমে পাট ও তৈরি পোশাক খাতে নতুন ধরনের পণ্য উদ্ভাবন এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো সম্ভব হবে বলে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) ও জেডিপিসিকে জিয়াংনান ইউনিভার্সিটির গবেষণাগারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
এতে দুই দেশের গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ সহযোগিতার মাধ্যমে পাটভিত্তিক বিকল্প ফাইবার, উন্নতমানের কাপড় ও বহুমুখী টেক্সটাইল পণ্য উদ্ভাবনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে কাঁচামালনির্ভর রপ্তানি থেকে উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পাট খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
১০ দিন আগে