বাংলাদেশ
এসএসসি পরীক্ষার ফল ২০ জুলাই: শিক্ষামন্ত্রী
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সরকারের তিন মাসের কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের এসএসসির রেজাল্ট ২০ জুলাই আউট করবে, সেই নির্দেশনা আমরা দিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাব্যবস্থার চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি জানান, শিক্ষাক্রম (কারিকুলাম) পরিমার্জনের জন্য ব্যাপক কার্যক্রম চলছে। আগামী বছর চারটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১ এপ্রিল। গত ২০ মে এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয়েছে। দাখিল এবং এসএসসি ও ভোকেশনালের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।
এ বছর মাধ্যমিক স্তর উত্তীর্ণ হওয়ার এ পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।
মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছেলে এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন মেয়ে। দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় তারা।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩১৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন ছেলে এবং ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন মেয়ে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৩ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ জন ছেলে এবং ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন মেয়ে। এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৭৪২টি কেন্দ্রে।
অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ জন ছেলে এবং ৩৩ হাজার ১৫১ জন মেয়ে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৬৫৩টি কেন্দ্রে।
১১ দিন আগে
টিআইবির প্রতিবেদন পত্রিকার কাটিংনির্ভর, তারা তদন্ত করে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে ‘পত্রিকার কাটিংনির্ভর’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, টিআইবি কোনো তদন্ত করে না; তাই প্রকৃত তথ্য জানতে পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ-পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করা উচিত।
সম্প্রতি আলোচিত তিনটি মামলার তদন্তে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরস্কার প্রদান উপলক্ষে রবিবার (৮ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, সরকারের ১০০ দিন পূর্তির পর পুলিশ জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে কি না এবং টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে ৬ শতাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে; এই অবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সন্তোষজনক মনে করেন কি না।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে সেই রিপোর্টটা সামনে নাই। আমরা মাসভিত্তিক অপরাধের পরিসংখ্যান প্রস্তুত করি। ডাকাতি, খুন, হত্যা, ধর্ষণ—এসব অপরাধ জাতীয়ভাবে প্রতি মাসে এবং বছরওয়ারী কতটা ঘটছে, তার হিসাব আমাদের কাছে থাকে। এরপর আগের বছরের একই সময়ের সঙ্গে তা তুলনা করি।
বর্তমান সরকারের মেয়াদ এক বছর হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে একটি পরিসংখ্যান দেখেছি, সেখানে ২০২৫ সালের তুলনায় আমাদের সময়ে অপরাধ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। প্রায় সব ক্যাটাগরিতেই অপরাধ কমেছে। ২০২৫ সাল বা ২০২৪ সালের সঙ্গে যদি মাসিক হিসাব করি, তাহলে তো তুলনাই চলে না। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা আপনি যেটা বললেন, সেটা আমার সামনে নাই। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না।
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, জনগণই এ বিষয়ে চূড়ান্ত বিচার করবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব বাহিনীতে রূপান্তর করতে পেরেছি বলে আমার মনে হয়। তাদেরকে মানসিকভাবে উৎসাহিত করা দরকার, যাতে তারা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী এবং আইনের শাসন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করতে পারে।’
সরকারের নীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা ‘রিওয়ার্ড অ্যান্ড পানিশমেন্ট’ (পুরস্কার ও শাস্তি) নীতিতে বিশ্বাস করি। ভালো কাজের জন্য স্বীকৃতি এবং মন্দ কাজের জন্য শাস্তি। শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন—এটাই আমাদের নীতি। আমরা বাস্তবে সেটা ইনশাআল্লাহ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি, সামনের দিনে দেখা যাবে যে আমরা কতটুক সফল হয়েছি।’
টিআইবির মূল্যায়ন সরকার গ্রহণ করছে নাকি প্রত্যাখ্যান করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবি তো সরকারি সংস্থা নয়। আপনারা পরিসংখ্যান নেবেন পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। তারপর আপনারাই বিচার করবেন, জনগণ বিচার করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘টিআইবি রিপোর্ট করে পত্রিকার কাটিংয়ের ভিত্তিতে। টিআইবি কোনো তদন্ত করে না। প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে তারপর কোনো স্টেটমেন্ট দেয় না।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের সামনে যেটা আছে, সেটা হলো পুলিশের অপরাধ চিত্র; সেটি আমরা জেলা পর্যায় থেকে নিয়মিত সংগ্রহ করি, সেটা আমাদের রুটিন ওয়ার্ক এবং সেটাই প্রকৃত তথ্য।
তিনি বলেন, পত্রিকান্তরে অনেক খবর প্রকাশিত হয়, সেগুলো আমরা অবশ্যই নজরে আনি এবং খোঁজখবর নেই। প্রত্যেকটা ঘটনা যে সঠিক, সেরকম বলা যাবে না। তবে যেহেতু পত্রিকার লেখার স্বাধীনতা আছে, আমরা সেগুলো যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য পাঠাই।
তার কথায়, ‘আমি সমস্ত পত্রিকার কাটিংগুলো সকালে না দেখতে পারলেও দেখি; সারা দিনের মধ্যেই দেখি। দেখে আমি কনসার্নড ডিপার্টমেন্টের (দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ) কাছে পাঠাই যে এ বিষয়ে আপনারা এক্সামিন করে (খতিয়ে দেখে) আমাকে মতামত দেন, প্রকৃত ঘটনা কী। তো টিআইবির রিপোর্টটা তো শুধু পেপার কাটিংয়ের ওপরে হয়ে থাকে। তাই সে বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশ সদস্যদের ভাতা ও আর্থিক বরাদ্দ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পুলিশের আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং সরকার সে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত।
তিনি বলেন, তদন্ত কার্যক্রম, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট কিংবা পুলিশ টহলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে যেন পর্যাপ্ত আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা যায়, সে জন্য আমরা চেষ্টা করব।
১১ দিন আগে
হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় গেছে আরও ৮টি প্রাণ, আক্রান্ত ১১৮৫
দেশে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৮৫টি শিশু।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৩৬টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯২টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৬২৮টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৯৩টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯২। এই সময়ে ৯৭৪টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ১৯৪টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৮০ হাজার ১০৪, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৭৭৯। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৬৫ হাজার ২৩৭ রোগী, যাদের মধ্যে ৬১ হাজার ২৭৮ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
১১ দিন আগে
৭১-এর বিরোধিতাকারী ও ‘ফ্যাসিবাদ’ এক হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তি এবং পরবর্তীতে দেশকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে পালিয়ে যাওয়া ‘ফ্যাসিবাদ’ এখন এক হয়েছে এবং তারা সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত ‘রাষ্ট্র বিনির্মাণে মুক্তিযোদ্ধাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশপ্রেমিক সরকারকে উৎখাতের জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। ৭১-এর বিরোধিতাকারী শক্তি এবং পরবর্তীতে দেশকে ধ্বংস করে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদী শক্তি এখন এক হয়েছে।’
তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে উস্কানিমূলক বক্তব্য ও বিক্ষোভের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে।
বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ নেই উল্লেখ করে আহমেদ আজম খান বলেন, সরকার উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে এবং দেশে ধীরে ধীরে সিস্টেম উন্নত হচ্ছে।
মুক্তিযদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, সিগন্যাল অটোমেশন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নগর ব্যবস্থার উন্নতি ঘটছে।
তিনি দাবি করেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশকে দাঁড় করাতে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত।
১২ দিন আগে
ডেঙ্গুর টিকাদান কর্মসূচি নিলে স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ডেঙ্গুর টিকা নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চার মাস পরপর টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হলে দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি হবে। তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
রবিবার (৭ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ড. মিলন হলে ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক একটি জাতীয় ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স কার্যক্রমের প্রথম ব্যাচের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো রোগ নয়, এটি পুরো জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলা কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের দায়িত্ব নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিককে এতে সম্পৃক্ত হতে হবে।
তিনি বলেন, আমি সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকদের ওপর চাপ দিতে পারি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে বলতে পারি। কিন্তু শতভাগ মশা বা লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত করতে পারি না। মশা ২০০ মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে, যেকোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ঘরে ঢুকে যেতে পারে। তাই এটি অত্যন্ত কঠিন একটি লড়াই।
ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে ‘টোটাল ফাইট’ আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নালা-নর্দমা, ডোবা, জলাবদ্ধ স্থান এবং কচুরিপানাযুক্ত এলাকা পরিষ্কার না করলে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পক্ষে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, প্রয়োজন সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ।
ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বাস্তবায়নও কঠিন। তিনি বলেন, যদি ব্যাপক ভ্যাকসিনেশনে যেতে হয়, তাহলে বিপুল বাজেটের প্রয়োজন হবে। চার মাস পরপর টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হলে দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি হবে। তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
ডেঙ্গুর বিস্তারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, শহর ও গ্রামে অসংখ্য ছোট ছোট স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে, যা এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়। গ্যারেজে গাড়ি ধোয়ার পর জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত টায়ার, অব্যবহৃত ক্যান, ছোট গর্ত কিংবা বড় ড্রেন ও খালে জমে থাকা ময়লাযুক্ত পানি সবখানেই লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে।
১২ দিন আগে
ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন ৯১ মৎস্যজীবী
সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগে ভারতে আটক থাকা ৯১ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) বঙ্গোপসাগরে দুই দেশের আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ভারতীয় কোস্ট গার্ডের কাছ থেকে বাংলাদেশের মালিকানাধীন চারটি মাছ ধরার ট্রলারসহ ৯১ জন মৎস্যজীবীকে গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যথাযথ দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকার সবসময় সহায়তা দিয়ে থাকে।
মৎস্যজীবীদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
১২ দিন আগে
প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান-প্রযুক্তির দক্ষতার ভিত্তি শক্তিশালী করা প্রয়োজন: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, তুরস্ক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, বাংলাদেশও ভবিষ্যতে সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে চায়। এজন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, গণিত, প্রযুক্তি ও সমস্যা সমাধানমূলক দক্ষতার ভিত্তি শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
রবিবার (৭ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তার দপ্তরে তুর্কি কোঅপারেশন অ্যান্ড কোঅরডিনেশন এজেন্সির (টিকা) ভাইস-প্রেসিডেন্ট ড. আলি এরজানের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্যে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিকুলাম আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তুরস্ক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, বাংলাদেশও ভবিষ্যতে সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে চায়। এজন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, গণিত, প্রযুক্তি ও সমস্যা সমাধানমূলক দক্ষতার ভিত্তি শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে একজন ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রবেশের সময় আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, সরকার বর্তমানে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
ববি হাজ্জাজ আরও জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসন, কারিকুলাম উন্নয়ন, অবকাঠামো পরিকল্পনা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বিষয়ে জ্ঞান বিনিময় কর্মসূচি শুরু করেছে। একই ধরনের সহযোগিতা তুরস্কের সঙ্গেও গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
ভাইস-প্রেসিডেন্ট ড. আলি এরজান বলেন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের নেতৃত্ব, কর্মস্পৃহা এবং প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে তার উদ্যোগ ও সংস্কার ভাবনা বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় উভয় পক্ষ প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সম্ভাব্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা, মডেল স্কুল উন্নয়ন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষাবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ এবং জাতীয় শিক্ষা দর্শন ও শিক্ষাদান পদ্ধতি বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে শিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করে উভয়পক্ষ।
১২ দিন আগে
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ সাতক্ষীরায় পৌঁছেছে
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি প্রবাসী শফিকুল ইসলাম (৪৩) ও নাহিদুল ইসলামের (২২) মরদেহ সাতক্ষীরায় নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে।
রবিবার (৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। শোকের ছায়া নেমে আসে দুই পরিবারসহ পুরো এলাকারা জুড়ে।
নিহত শফিকুল ইসলামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর পূর্বপাড়া গ্রামে এবং নাহিদুল ইসলামের বাড়ি আশাশুনি উপজেলার কাঁদাকাঠি গ্রামে।
এর আগে, গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলার জিবদিন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়।
স্বজনরা জানান, জীবিকার সন্ধানে মাত্র কয়েক মাস আগে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন শফিকুল ও নাহিদ ইসলাম। পরিবারের স্বপ্ন পূরণে নিরলস পরিশ্রম করলেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের নির্মমতায় প্রাণ হারাতে হয়েছে তাদের।
এদিকে, দুই প্রবাসীর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর শেষবারের মতো তাদের একনজর দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। স্বজনদের কান্না আর শোকে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
কফিন দেখেই ডুকরে কেঁদে ওঠেন নিহত শফিকুলের স্ত্রী রুমা খাতুন (৩৭)। পরিবারের একমাত্র ভরসা স্বামীকে হারিয়ে দুই মেয়েকে নিয়ে কীভাবে চলবে সংসার, কেমন করে কাটবে দিন—তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। বারবার বিলাপ করে বলছেন, ‘স্বামীহারা স্ত্রী যে কতটা অসহায় অভিভাবকহীন, সেটি বোঝানো যাবে না।’
নিহতদের নিজ বাড়িতে স্থানীয়ভাবে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
নিহদের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে আসা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের খুলনা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক খালেদুর রহমান জানান, মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে নিহত শফিকুল ইসলাম ও নাহিদ ইসলামের পরিবারের সদস্যদের হাতে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ৩৫ হাজার টাকা ও ৫০ হাজার টাকার দুটি চেক প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং জীবন বীমা করপোরেশনের পক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
১২ দিন আগে
দেশে ফিরেছেন ৩৭৪৩৫ জন হাজি
গতকাল শনিবার পর্যন্ত পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন ৩৭ হাজার ৪৩৫ জন হাজি।
রবিবার (৭ জুন) ৯টি ফ্লাইটে আরও ৩ হাজার ৬৪৬ জন হজযাত্রীর দেশে প্রত্যাবর্তনের কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে অর্ধেকেরও বেশি হাজি দেশে পৌঁছে যাবেন। বাকি হাজিরা পর্যায়ক্রমে ফ্লাইট শিডিউল অনুসারে দেশে ফিরবেন। আগামী ১ জুলাই হজের ফিরতি ফ্লাইট শেষ হবে।
দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন অনেক হাজি। জানিয়েছেন তাদের হজের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার কথা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সৌদি সরকারের সার্বিক হজ ব্যবস্থাপনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন হাজিরা। সরকারি মাধ্যমে হজ পালনকারী হাজিরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং মানুষকে সরকারি মাধ্যমে হজ পালনের পরামর্শ দিয়েছেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (শনিবার) পর্যন্ত মক্কা ও মদিনার বাংলাদেশ হজ মিশন মেডিকেল সেন্টার হতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে ৫৮ হাজার ৪৯টি। এছাড়া সৌদি আরবের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৯৮ জন।
এ বছর হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৮ জন। বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২২ জন হজযাত্রী।
১২ দিন আগে
রামিসা হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরে সহায়তা করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার বহুল আলোচিত মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি আইনানুগভাবে দ্রুত এগিয়ে আনতে সরকার সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (৭ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও এই বিষয়টা সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনব এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে বলব, যাতে রামিসা হত্যার এই ডেথ রেফারেন্স শুনানিটা আইনানুগভাবে কিছুটা এগিয়ে আনা যায়।’
আজ (রবিবার) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মাত্র ১৭ দিনের বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী বলেন, সরকারের নীতি হলো ভালো কাজের জন্য পুলিশকে পুরস্কৃত করা এবং ব্যর্থতার ক্ষেত্রে তিরস্কার করা। তবে বর্তমানে পুলিশ বাহিনীর অর্জন প্রশংসার দাবি রাখে।
তিনি বলেন, সমস্ত অগ্রগতিগুলো আমরা যেমন পুলিশকে পুরস্কৃত করব তাদের ভালো কাজের জন্য, তিরস্কারের সময় তিরস্কৃত করব। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের পুলিশ বাহিনীর যে অ্যাচিভমেন্ট (অর্জন), এগুলো প্রশংসার দাবি রাখে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার নৃশংস ঘটনায় সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং চার্জশিট আদালতে দাখিল করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে সারা দেশে একটা তোলপাড় অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দ্রুততার সঙ্গে ডিএনএ টেস্ট করে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছি। খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এই বিচারকার্য পরিচালনায় সহযোগিতা করেছি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঈদের ছুটির মধ্যেও আদালত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। আদালত তাদের ছুটি বাতিল করে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তারা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সেটা করেছেন।
তিনি জানান, বিচার প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো অবিচার না হয়, সে জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর পাশাপাশি আসামিপক্ষের জন্যও আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল। এছাড়া চিকিৎসক ও পুলিশ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা সাক্ষ্য দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে আসামি দুইজন, ১৬৪ ধারায় তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে, ডিএনএ টেস্ট এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে মামলাটি প্রমাণ করা খুব বেশি কঠিন ছিল না। আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালত ন্যায়বিচার করেছেন, আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এবং পুলিশের গ্রেপ্তার ও তদন্ত কার্যক্রমের ইতিহাসে এটা একটি মাইলফলক। এভাবেই আমরা ইনশাআল্লাহ জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আশা করি, আমরা সকলের সহযোগিতা পাব।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে সেটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে শুনানি হতে হয়। সাধারণত পুরোনো মামলার শুনানি আগে এবং নতুন মামলার শুনানি পরে হয়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও দেখা গেছে।
তিনি আরও বলেন, ডেথ রেফারেন্স শুনানির পর যদি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে, তাহলে কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব হবে না।
১২ দিন আগে