বাংলাদেশ
হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ইরান
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নিজেদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে ইরান। পাশাপাশি আজারবাইজান হয়ে মাধ্যমে ইরান থেকে ১৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে নিতেও সহায়তা করেছে দেশটি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো কর্মকাণ্ড বা বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সেই সঙ্গে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক শ্রদ্ধার চেতনা বজায় রাখতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারের নির্বাচিত অংশ বিশেষভাবে প্রচার করার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দূতাবাস। এই সাক্ষাৎকারগুলো নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে পুনঃপ্রকাশিত হয়েছে।
দূতাবাস বলেছে, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।’ তারা আরও উল্লেখ করেছে, এ ধরনের ভুল ও খণ্ডিত বক্তব্য উপস্থাপন দুঃখজনক এবং দায়িত্বশীল সংবাদপত্রের নীতির পরিপন্থী।
দূতাবাস বলেছে, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করছে। সেই সঙ্গে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতি তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।
আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের সাইডলাইনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খতিবজাদেহর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে দূতাবাস।
তারা জানিয়েছে, দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যকার গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ উদ্যোগগুলো তারা আন্তরিকভাবে এগিয়ে নেবে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করবে।
সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক অবস্থানের প্রশংসা করেছে ইরান। এ অঞ্চল এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য এই পথটি অপরিহার্য বলে মনে করে দেশটি।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে ‘ইসলামি বিপ্লবের নেতা’ ও ‘মুসলিম উম্মাহর নেতা’ উল্লেখ করে তিনি নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো শোকবার্তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে দূতাবাস। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়টিকে একটি উল্লেখযোগ্য ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশংসা করা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকার ইরান দূতাবাসে রক্ষিত শোকবইয়ে স্বাক্ষর করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতির জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছে ইরান।
বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সমর্থনের প্রশংসা করে ইরান বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী শাসকের অবৈধ আগ্রাসনের’ ফলে সৃষ্ট যুদ্ধে যে সব বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের জন্য তারা গভীর শোক প্রকাশ করছে। সেই সঙ্গে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে দেশটি।
১৪ দিন আগে
নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ ও ইইউ: রাষ্ট্রদূত মিলার
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা একটি সংজ্ঞায়িত ইস্যু। আর এই কারণেই একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করতে কাজ করছে ইইউ ও বাংলাদেশ।
সেমাবার (২০ এপ্রিল) ঢাকায় আয়োজিত ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, নকশা থেকে বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার তিনি এ কথা বলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যাংক, ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, ঢাকাস্থ ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদল এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের যৌথ অংশীদারত্বে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এতে বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, টিম ইউরোপ, অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, আজ আমরা যা দেখছি তা হলো বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সম্মিলিত সংকল্প।
তিনি জানান, বাংলাদেশ রিনিউয়েবল এনার্জি ফ্যাসিলিটি (বিআরইএফ) হলো ইইউর গ্লোবাল গেটওয়ের একটি অন্যতম উদ্যোগ, যা বিশ্বজুড়ে আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে নিরাপদ, টেকসই এবং বিশ্বস্ত নেটওয়ার্ক ও সংযোগের উন্নয়নকে উৎসাহিত করে।
ঢাকাস্থ ইইউ দূতাবাস আজ (মঙ্গলবার) জানিয়েছে, জ্বালানি খাতে ইইউ গ্লোবাল গেটওয়ের একটি প্রধান উদ্যোগ বিআরইএফের অধীনে এটি আয়োজন করা হয়েছিল। এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা এবং পরিবেশবান্ধব রূপান্তরকে এগিয়ে নিতে বৃহৎ পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করছে।
সরকারি খাতের জন্য ইইউর আর্থিক অবদানের পরিমাণ ৩৯৫ মিলিয়ন ইউরো। এর মধ্যে রয়েছে ৩৫০ মিলিয়ন ইউরোর সার্বভৌম ইইউ-গ্যারান্টিযুক্ত ইআইবি ঋণ এবং ৪৫ মিলিয়ন ইউরোর ইইউ ব্লেন্ডিং গ্রান্ট (অনুদান)। এই অনুদানের মধ্যে ৬ মিলিয়ন ইউরো রাখা হয়েছে প্রকল্পের ব্যাংকযোগ্যতা নিশ্চিত করতে এবং ঝুঁকি কমাতে।
এছাড়া জার্মানি ৫০ মিলিয়ন ইউরো অর্থায়ন করছে। সেই সঙ্গে ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইউরোর কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।
বিআরইএফের মাধ্যমে বায়ু ও সৌরশক্তিতে মোট প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিয়োগ করা হবে। এর ফলে ৭৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত নতুন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হবে, গ্রিডের সক্ষমতা ও বিকেন্দ্রীকরণ উন্নত হবে এবং একই জমিতে শক্তি ও কৃষি এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের মতো উদ্ভাবনী ক্ষেত্রগুলোকে উৎসাহিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের কো-অপারেশন প্রধান মিশাল ক্রেজা স্বাগত বক্তব্য দেন।
এ সময় বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) নূর আহমেদ উল্লেখ করেন, সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এবং টিম ইউরোপের মধ্যকার এই সহযোগিতা একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং শক্তিশালী জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার সম্মিলিত অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, বিশেষজ্ঞ জ্ঞান এবং কারিগরি সহায়তা জোগাড় করতে এই ধরনের সহযোগিতা অপরিহার্য।
ইআইবির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি মাইকেল স্টিডল বলেন, বাংলাদেশের স্বল্প-কার্বন জ্বালানি ভবিষ্যতের যাত্রায় সমর্থন দিতে পেরে ইআইবি গর্বিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রিনিউয়েবল এনার্জি ফ্যাসিলিটি হলো দেশের গ্রিন এনার্জি রূপান্তরের একটি ভিত্তিপ্রস্তর। এর কারিগরি সহায়তা অংশটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ; এটি নিশ্চিত করে যে প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে প্রস্তুত, বিনিয়োগযোগ্য এবং উচ্চতর কারিগরি, পরিবেশগত ও সামাজিক মানদণ্ডসম্পন্ন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুয়েডিগার লোটস বলেন, বাংলাদেশ রিনিউয়েবল এনার্জি ফ্যাসিলিটি হলো বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে, বিশেষ করে জার্মানির জন্য জ্বালানি খাতে একটি যুগান্তকারী সহযোগিতা।
তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সৌর, বায়ু এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসগুলোর শক্তি কাজে লাগাতে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে উৎসাহিত করি।’
অনুষ্ঠানে বিআরইএফ এবং এর কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের ওপর একটি উপস্থাপনা পেশ করা হয়। এটি বৃহৎ পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে এবং বাংলাদেশের জলবায়ু বিষয়ক অঙ্গীকারগুলো পূরণে সহায়তা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
জিওপিএ টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং কারিগরি সহায়তা কনসালটেন্ট কনসোর্টিয়ামের লিড পার্টনার ড. আন্দ্রেয়াস ওয়াইস বলেন, বিআরইএফের কারিগরি সহায়তা প্রদানকারী কনসোর্টিয়ামের লিড পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের উচ্চাভিলাষী যাত্রায় সহায়তা করতে পেরে জিওপিএ টেক গর্বিত।
তিনি বলেন, বিআরইএফ-টিএ-এর মাধ্যমে আমরা হাতেকলমে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান এবং ব্যবহারিক সমাধান প্রদান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা প্রকল্পগুলোকে বিনিয়োগযোগ্য করতে, উদ্ভাবন বাড়াতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
১৪ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষিবিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে কৃষি ও শিক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে কৃষি, বনজ সম্পদ এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর আলোকপাত করে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, পরিবেশ রক্ষায় বনায়ন এবং শিক্ষা খাতে দক্ষতা উন্নয়নে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে।
নজরুল ইসলাম খান এসব ক্ষেত্রে চীনের আরও সক্রিয় সমর্থন কামনা করেন। অন্যদিকে, চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে চীনা দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সিলর লি শাওপেং এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইতালি সফরের আমন্ত্রণ রাষ্ট্রদূতের
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ইতালি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি বছরের সুবিধাজনক সময়ে ইতালি সফর করবেন বলে রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো সালাহউদ্দিন আহমেদকে এ আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। দেশটির সঙ্গে নিরাপদ অভিবাসনসহ সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র রয়েছে। ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেজন্য বাংলাদেশ ইতালির সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বজায় রাখাসহ অদূর ভবিষ্যতে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ।
বৈঠকে আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, ইতালি দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে চলমান রাখাসহ এটিকে বিস্তৃত করতে আগ্রহী। তিনি জানান, ইতালির বর্তমান সরকার নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে বদ্ধপরিকর। অভিবাসন ইস্যুটি দেশটির অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
তিনি বলেন, ইতালিতে আগামী জুন মাস থেকে নতুন অভিবাসন নীতি কার্যকর হবে। এটি চালু হলে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতসহ অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজতর হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে নিরাপদ অভিবাসন, দ্বিপাক্ষিক শ্রমবাজার, এবং দক্ষ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা গত বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের পরবর্তী সভা ইতালিতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান আলেসান্দ্রো।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিনন্দনপত্র সালাহউদ্দিন আহমদের হাতে তুলে দেন এবং মন্ত্রীকে ইতালি সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি এ বছরের সুবিধাজনক সময়ে ইতালি সফর করবেন বলে রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন।
বৈঠকে দুদেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, নিরাপদ অভিবাসন, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ বিষয়ক পরিচালক অনির্বাণ নিয়োগী এবং ইতালি দূতাবাসের হেড অভ কনসুলার চ্যান্সেরি লরা শেলা উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে
জ্বালানির মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ হবে: ডা. জাহেদ
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে পরিবহনের ভাড়া যৌক্তিকভাবে নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। এ সময়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
যানবাহনের ভাড়া নিয়ে একটা সংকট হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, যেহেতু জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, তাই এখন জ্বালানির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির আলোচনা চলছে। আমরা আশা করি এটা যৌক্তিকভাবে হবে। এটা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনে এসি বাসের ভাড়া দুই বা তিন স্তরে নির্ধারণ করা হবে এবং আসন্ন ঈদে সেটা কার্যকর করা হবে বলে জানান তিনি।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ঢাকার বাস টার্মিনালগুলোর পরিবেশ মানোন্নয়নে বিশেষ করে টয়লেট ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেটার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরপর ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভাড়া শুধু বাস নয়, আসলে জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর বেশি প্রভাব পড়বে ট্রাকের ভাড়ায়। একটা কথা মনে রাখতে হবে, সরকারের কাজ কিন্তু শুধু জনগণ বলতে যাদের বুঝি—ভোক্তার স্বার্থরক্ষা নয়, সরকার কিন্তু ব্যবসায়ীদেরও সরকার। যে মানুষটা বাস চালান, যে মানুষটা ট্রাক চালান, তিনিও এই রাষ্ট্রের নাগরিক, এই সরকার কিন্তু তারও সরকার। সুতরাং তার ওপরও এমন কিছু করা ঠিক হবে না যাতে তার ব্যবসা না হতে পারে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার কিন্তু কারো পক্ষ নয়, সরকার সবার। সরকার চেষ্টা করবে এমন একটা পয়েন্টে আসা যেখানে সবার কম ক্ষতি হয়। আমি আগে একদিন বলেছিলাম, এই সংকটে আমাদের প্রত্যেকের ক্ষতি হবে; এটা মেনে নিতে হবে। এটা সারা পৃথিবীতেই হচ্ছে।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, আমাদের একটা প্রবণতা আছে, যখনই তেলের দাম বাড়ছে, ভাড়া বাড়ছে, দ্রব্যমূল্য ওই অজুহাতে যতটুকু বাড়ার কথা তার চাইতে অনেক বেশি বাড়ছে। আমরা চেষ্টা করব আসলে এই জিনিসটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য।
জনগণের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, কিছুটা কষ্ট করতে হবে, প্রত্যেকটা মানুষ কষ্ট করছে। তবে আমরা যে চেষ্টাটা করে যাব সেটা হচ্ছে, সবচেয়ে আর্থিকভাবে দুর্বল যে মানুষগুলো, কিছু কিছু চাপ কারও কারও জন্য, এই যে আমি বলে ফেললাম যে কষ্ট হবে সহ্য করা, এটা সহ্য করা সবার জন্য সোজা না।
উপদেষ্টা বলেন, ‘একটা ডিমের দাম যখন এক-দুই টাকা বেড়ে যায়, কিছু কিছু মানুষের জন্য দুই টাকা ডিমের দাম বৃদ্ধি তার শিশুকে একটার জায়গায় অর্ধেক ডিম দেবে কিনা—এই সিদ্ধান্তে নিয়ে যেতে পারে। তাই ওই শ্রেণির বা ওই মানুষগুলোর জন্যই আমরা প্রয়োজনে অন্য কর্মসূচি বাড়াব।’
এ সময় ফ্যামিলি কার্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের তো ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের একটা কর্মসূচি হয়েছে যেটা পাইলট। একটা কথা একটু বলে রাখি, এই বাজেটে আমরা ৪০ লাখ মানুষকে নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেব, যাতে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আপনারা কেউ কেউ পত্রিকায় হয়তো দেখেছেন, এই বরাদ্দ রাখার জন্য আইএমএফের সঙ্গে সম্ভবত আমাদের আলোচনার কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সরকার জনগণের, সবচেয়ে দুর্বল, সবচেয়ে দরিদ্র জনগণের পাশে থাকার জন্য এই সিদ্ধান্তে অটল থাকবে। শুধু সেটা নয়, প্রয়োজনে টিসিবির মাধ্যমে আরও অনেক বেশি মানুষকে তাদের খাদ্যসহ অন্যান্য সহযোগিতা দেবে। সুতরাং সরকার জনগণের পাশে নিশ্চয়ই থাকবে।
ফুটপাত হকারমুক্ত করতে ঢাকায় আটটি নৈশ মার্কেট চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এটা একটা কঠিন সিদ্ধান্ত। মানে আমরা যখন ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ করি, ফুটপাত আসলে হকারদের জন্য নয়, ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, এটা হাঁটার জন্য, নামই তো ফুটপাত। কিন্তু আমাদের এই সংকট যেহেতু আছে, তাদের কীভাবে আমরা কোনভাবে জোগান দিতে পারি, সেই চেষ্টাটা চলছে।
১৪ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীকে আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ইসলামি বক্তা আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতের বিচারক সুমন ভুঁইয়া এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার বাদী জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত এবং সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) তার সংসদীয় আসনে অসংখ্য মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি যথারীতি নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত পালন করে আসছেন। কিন্তু গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে আলোচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর দেওয়া এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মুফতি আমির হামজা এমপি বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী।’ পরবর্তীতে তার এ বক্তব্যের একটি ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। এতে জননেতা বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর সম্মানহানি হয়েছে।
অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর বলেন, এ ঘটনায় আমি নিজে বাদী হয়ে গত ২ এপ্রিল শত কোটি টাকার মানহানি মামলা করি। এরপর আদালতের বিচারক সুমন ভুঁইয়া মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি হাজির হননি। এতে বিজ্ঞ বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
এ ছাড়াও একই ঘটনায় গত ৩০ মার্চ সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে অ্যাডভোকেট এসএম নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন।
১৪ দিন আগে
পার্শ্ববর্তী দেশগুলো নিয়ে আঞ্চলিকভাবে নববর্ষ উদযাপনের চিন্তা করছে সরকার
সরকার আগামী বছর পার্শ্ববর্তী দেশগুলো নিয়ে আঞ্চলিকভাবে নববর্ষ উদযাপনের চিন্তা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পাঁচ দিনব্যাপী বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করেছে। পহেলা বৈশাখ ঘিরে অনেকে নানা রকম আশঙ্কা দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সবাই এই স্বীকৃতি দিয়েছে যে, এবারকার মতো স্বতঃস্ফূর্ত ও বর্ণাঢ্য বৈশাখী উৎসব খুব বেশি হয়নি।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এগুলো আমরা আরেকটু পরিকল্পনা করে করব। এবার সরকার দায়িত্বে আসার পর খুব বেশি সময় পাওয়া যায়নি। বৈশাখকে কেন্দ্র করে শুধু তিন-চার দিন নয়, পুরো মাসকে কেন্দ্র করে আমরা নানা রকম কর্মসূচি এবং উৎসব চালু করব।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এর চাইতেও জরুরি কথা হলো, আমরা অনেকেই হয়তো জানি যে ১৪ এপ্রিল শুধু আমাদের নববর্ষ নয়, আমাদের পূর্বের অনেক দেশেরও নববর্ষ। মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, ভারতের একটা অংশ, ভারতের দক্ষিণের একটা অংশেও এটা আছে। তাই আমরা আঞ্চলিকভাবে এই উৎসব পালন করা যায় কি না, সেটা আগামী উৎসবেই খতিয়ে দেখব। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করব।
এটা এক ধরনের সাংস্কৃতিক কূটনীতি তৈরি করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলব। তাদের প্রতিনিধিরা, সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিরা আমাদের দেশে আসবেন, আমাদের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিরা ওই দেশগুলোতে যাবেন। এ ধরনের একটা আঞ্চলিক নববর্ষকে কেন্দ্র করে আমরা আয়োজনের চেষ্টা করব।’
উপদেষ্টা বলেন, আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন যে ইরানি বা পারস্যের যে নববর্ষ ‘নওরোজ’, নওরোজ অনেকগুলো দেশে পালিত হয়। তারা সমন্বিতভাবে সেটা করার চেষ্টা করেন। আমরা সেরকম একটা চেষ্টা করব।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই উৎসবটাকে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছেন, কারণ আমরা সব রকম জাতিগোষ্ঠীকে একত্র করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কথা বলি। সেই কারণে এই উৎসবটা সবাইকে চমৎকারভাবে একত্রিত করতে পারে।
১৪ দিন আগে
পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৬ কর্মকর্তাকে বদলি
পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ছয় কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলামকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেমপি) উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে খুলনায় এবং খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এ কে এম জহিরুল ইসলামকে শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। আর নাটোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) এবং পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হককে নাটোরের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
১৪ দিন আগে
জ্বালানিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে আরও জাপানি বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, অবকাঠামো, ওষুধ শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, শ্রমবাজার এবং উৎপাদনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানি বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২০ এপ্রিল সেনেগালের ডাকারে অনুষ্ঠিত ‘শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক ডাকার আন্তর্জাতিক ফোরামে’র একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল বৈঠকের পর জাপানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওনিশি ইয়োহেইয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এ আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াসহ দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করে।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাপানের অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মিয়ানমারে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন সহজতর করতে জাপানের আরও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
১৪ দিন আগে
এলএনজি টার্মিনাল বিকল, রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি
বাংলাদেশে থাকা দুটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) বা এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাসের সরবরাহ প্রায় ৪০০ এমএমসিএফডি হ্রাস পেয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) তিতাস গ্যাসের মিডিয়া ও জনসংযোগ শাখার ব্যবস্থাপক মো. আল আমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্যাসের সরবরাহ হ্রাসের ফলে গজারিয়া, মেঘনা ঘাট, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা দক্ষিণসহ সমগ্র তিতাস গ্যাস-অধিভুক্ত এলাকায় স্বল্পচাপ বিরাজ করবে।
এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং তা পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের (রিগ্যাসিফিকেশন) জন্য বাংলাদেশে দুটি এফএসআরইউ পরিচালিত হয়, যা দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি ইউনিট বিকল হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো দৈনিক গ্যাস সরবরাহে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্রাস পাওয়া।
১৪ দিন আগে