বাংলাদেশ
কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের নতুন প্রেস সচিব উম্মে মারুফা
বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরের বিশেষ প্রতিনিধি উম্মে মারুফাকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
তাকে নিয়োগ দিয়ে সোমবার (২৭ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাকে এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর তারিক চয়নকে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বতী সরকার।
এরপর তার দায়িত্বের মেয়াদ আরও এক বছর, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণ দেখিয়ে গত বুধবার (২২ জুলাই) পদত্যাগ করেন তারিক চয়ন।
৭ দিন আগে
সার্ভেয়ার ও কানুনগোদের কমপক্ষে দুই বছর এক কর্মস্থলে রাখার নির্দেশ
ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাঠ প্রশাসনে কর্মরত সার্ভেয়ার ও কানুনগোদের প্রশাসনিক বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত ঘন ঘন বদলি বা পদায়ন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কমপক্ষে দুই বছর একই কর্মস্থলে রাখার জন্য বলা হয়েছে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, সকল বিভাগীয় কমিশনার ও দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসনে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায়ে সার্ভেয়ার ও কানুনগো পদে কর্মরত জনবল রয়েছে। এ দুটি পদ রাজস্ব প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ। কিন্তু লক্ষ করা যায়, সার্ভেয়ার ও কানুনগোদের ঘন ঘন কর্মস্থল বদলির কারণে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই সার্ভেয়ার ও কানুনগো পদে কর্মরতদের কমপক্ষে দুই বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে একই কর্মস্থলে থাকা প্রয়োজন।
এতে আরও বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বদলির তদবির করা চাকুরির বিধিবিধানের পরিপন্থী কাজ। তাই প্রশাসনিক বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া স্ব-স্ব কর্মস্থল বা পদায়ন করা স্থান থেকে অন্যত্র বদলি বা পদায়ন না করার জন্য চিঠিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৭ দিন আগে
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনা-আজিজসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা (জেনোসাইড)’ আখ্যা দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক বিজিবি মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (২৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে তৎকালীন সরকারের পুলিশ, বিজিবি, র্যাব এবং আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালান। কিন্তু তৎকালীন সরকারের আমলে এ ঘটনায় কোনো তদন্ত বা বিচার হয়নি। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হলে একজন ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় এবং তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আলেম-ওলামাদের ওপর ওই হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। একটি ধর্মীয় সংগঠনকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তিনি জানান, তদন্তে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার, হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সূত্রের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মোট ৬১ জন নিহতের তথ্য পেয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, অভিযোগপত্রে দুটি পৃথক ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটি হলো ৫ মে মধ্যরাতে শাপলা চত্বরে ৩২ জন নিহত হওয়ার ঘটনা এবং অন্যটি পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনকে হত্যার ঘটনা। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ৩(সি) ধারায় এ দুটি ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিকৃত তথ্য প্রচারও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ঘটনার পর বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন হত্যাযজ্ঞকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে। তদন্তে এসব কর্মকাণ্ডকে অপরাধে সহায়তা (অ্যাবেটমেন্ট) হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ‘সমীকরণ’ নামে একটি সম্প্রচার এবং একাত্তর টেলিভিশনের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগে এ ধরনের ভূমিকার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
অভিযোগে আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, সাংবাদিক ফারজানা রুপা, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী।
শেখ হাসিনার পরিকল্পনায় হামলা হয়েছে দাবি করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা বৈঠক করে হেফাজতের সমাবেশ ভণ্ডুলের পরিকল্পনা করেছিলেন। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয় এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মধ্যরাতে চারদিক থেকে অভিযান চালানো হয়।
তার দাবি, হামলার সময় সাউন্ড গ্রেনেড, গ্রেনেড ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩২ জন নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হন। পরে সিদ্ধিরগঞ্জে আরও ২০ জন নিহত হন।
তিনি বলেন, তদন্তে যতটুকু নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতেই ৪১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, তবে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় অভিযোগে তা অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেওয়ার পাশাপাশি পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আগামী ১৬ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।
তিনি বলেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে ট্রাইব্যুনালের কাছে স্পিডি ট্রায়ালের (দ্রুত বিচার আদালত) আবেদন করা হয়েছে।
৭ দিন আগে
তিন শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাতিল হওয়া রাজধানীর বড় মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স পুনর্বহাল করেছে সরকার। তবে তিনটি শর্তে হাসপাতালটিকে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদের বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটিকে গত ১৫ জুলাই তিন কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তদন্ত কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তা সন্তোষজনক হওয়ায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে হাসপাতালটিকে তিনটি শর্ত মানতে হবে। শর্তগুলো হলো—
· দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর নির্দেশনা প্রতিপালন অব্যাহত রাখতে হবে।
· লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডিউটি চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
· লাইসেন্সের শর্তাবলি প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ যে কোনো সময় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে।
গত ১১ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনা জারি করেছিল। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে হাসপাতালটির লাইসেন্স পুনর্বহাল করা হলো।
৭ দিন আগে
কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যা: ২৫ লাখ টাকায় খুনি ভাড়া করেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা
রাজধানীর কাফরুলে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নতুন তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। তাদের দাবি, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে চারজন পেশাদার খুনিকে ভাড়া করা হয়েছিল। তবে হামলার সময় ভুলবশত গুলিতে নিহত হন ইউসুফ।
সোমবার (২৭ জুলাই) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু। তবে পরিকল্পিত হামলার সময় গুলিতে নিহত হন ইউসুফ। এ ঘটনায় পথচারী সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মো. মনির হোসেন গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন— চঞ্চল, জিহাদ মোল্লা (৩০), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মাসুম বিল্লাহ (২৮), নাহিদ হাসান (২১), আবির হাওলাদার (২৫), আলী হোসেন (৪৫) ও শাফিন আহমেদ (২২)।
ডিবিপ্রধান জানান, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ এবং হাফিজুল ইসলাম বাবুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা সংগ্রহের টেন্ডার, ফুটপাতের ব্যবসা এবং একটি টিনশেড ঘরের দখল নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
তিনি বলেন, বাবুকে হত্যার জন্য মাগুরা ও ঝিনাইদহের চারজন পেশাদার খুনিকে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ভাড়া করা হয়।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় গত ২৯ জুন হত্যাচেষ্টা ব্যর্থ হয়। অস্ত্রে গুলি ভরার সময় তা বিকল হয়ে যাওয়ায় হামলা চালানো সম্ভব হয়নি। পরে ২২ জুলাই অভিযুক্তরা আবার ঢাকায় এসে মিরপুর-২-এর একটি হোটেলে ওঠে এবং ২৩ জুলাই রাতে হামলার প্রস্তুতি নেয়।
শফিকুল ইসলাম বলেন, হামলার আগে বাবুর কার্যালয়ের কাছে স্থানীয় লোকজন তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের মিরপুর-১০-এর বাসিন্দা বলে দাবি করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের তল্লাশি করতে চাইলে এক হামলাকারী গুলি চালান। এতে ইউসুফ নিহত হন এবং আরও দুজন আহত হন।
তিনি জানান, কাফরুল থানার তদন্তের পাশাপাশি ডিবিও পৃথক তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন জেলা থেকে জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা ও মাসুম বিল্লাহকে আটক করা হয়। অন্যদিকে চঞ্চল ও আবির হাওলাদারকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, অপরাধীদের অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, হাফিজুর রহমান হাফিজ তাদের এ হামলা চালানোর জন্য ভাড়া করেছিলেন।
তদন্তকারীদের ধারণা, আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে। হাফিজুর রহমান হাফিজকে এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি অস্ত্রগুলোর উৎস শনাক্তে অভিযান চলছে। কাফরুল থানায় একটি হত্যা এবং একটি অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। হত্যা মামলার তদন্ত করছে ডিবি এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৭ দিন আগে
বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্প বিপ্লব ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে ‘চায়না অর্থনৈতিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাতে এক নতুন ও ঐতিহাসিক যুগের সূচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীন সরকারের (জি-টু-জি) যৌথ উদ্যোগে এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর নীতিমালার আলোকে গৃহীত এই প্রকল্পটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, বৈচিত্র্যময় শিল্পায়ন এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সিইআইজেড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সহজীকরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এরই অংশ হিসেবে চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে সরকারের নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনে প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের বিশাল বিনিয়োগ অর্জিত হতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের দ্রুত ও সহজ সেবা প্রদান নিশ্চিতে সরকার খুব শিগগিরই শতভাগ কার্যকর ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিস’ চালুর পাশাপাশি পুঁজিবাজার ও মূলধনি খাতে কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পায়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসন, আধুনিক জীবনযাত্রার মান এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি আনোয়ারা শিল্পাঞ্চলে দেশীয় শিল্পের বিকাশ, সাপ্লাই চেইন জোরদারকরণ এবং দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে একটি আধুনিক ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ স্থাপনে চায়নিজ অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আনোয়ারার এই উর্বর মাটিতে সিইআইজেড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে আমরা কেবল এক কোদাল মাটিই তুলছি না, বরং বাংলাদেশের শিল্প রূপান্তরের এক নতুন অধ্যায়ের শুভ সূচনা করছি।’
তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস, গভীর বন্ধুত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি এবং যৌথ সনদের আলোকে গৃহীত এই জি-টু-জি প্রকল্পটির মাধ্যমে দুদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছালো।
প্রকল্পটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রায় ৭৭৬ একর (৩১৪.৩৯ হেক্টর) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে কেবল চট্টগ্রাম অঞ্চলেই ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে, যা স্থানীয় যুবসমাজের ভাগ্যোন্নয়নে এক অভূতপূর্ব প্রভাব ফেলবে। তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের পাশাপাশি এই অঞ্চলে বায়ো-ফার্মাসিউটিক্যালস, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রসেসিং এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো উচ্চ-মূল্যের শিল্প প্রতিষ্ঠিত হবে—যা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে আরও বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী করবে।
ভৌগোলিক ও লজিস্টিক দিক থেকে সিইআইজেড অত্যন্ত সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি কর্ণফুলী টানেল থেকে মাত্র ৭০০ মিটার, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এন-১ জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় এর পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা হবে অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত।
তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এখানে আন্তর্জাতিক মানের সেন্ট্রাল এফলুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে, যা টেকসই শিল্পায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
বিনিয়োগকারীদের সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সিইআইজেড-এর সার্বিক নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন করিডোর এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। একই সাথে বেজা-এর ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (ওএসএস)’-এর মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত অনুমোদন ও গ্যাস-বিদ্যুতের মতো পরিষেবা নিশ্চিত করে একটি সহজ ও সমৃদ্ধ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বেজা, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি), ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এবং বিশেষ করে আনোয়ার ও চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই শিল্প অঞ্চলটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার স্থায়ী অর্থনৈতিক ও বন্ধুত্বের এক টেকসই সেতু হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সারোয়ার জামাল নিজাম এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান লি চাংগুই।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তৃতা দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সভাপতির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিসিএলের চেয়ারম্যান ওয়ানং পেইন-ছিয়েন। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও তুলে ধরতে সম্পাদকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এতে সাধারণ মানুষ সরকারের ভালো উদ্যোগগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈঠকে স্বাধীন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্য যে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, সে বিষয়ে সম্পাদকদের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
৭ দিন আগে
পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার মতো কোনো কাঠামো না থাকায়ে চ্যালেঞ্জের মুখে সাংবাদিকতা: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকতা পেশাকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার মতো কোনো কাঠামো এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। আর সে কারণে সাংবাদিকতা পেশা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তথ্যের অবাধ প্রবাহের এই সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ খুঁজে বের করে জনগণের সামনে তুলে ধরা সাংবাদিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সোমবার (২৭ জুলাই) বরিশাল সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে বরিশাল বিভাগের সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণ, নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও বেগবান করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য এখনও শক্তিশালী কোনো কাঠামো গড়ে উঠেনি। অথচ এই পেশার অস্তিত্ব ছাড়া একটি সভ্য সমাজ কল্পনা করা যায় না। বর্তমান সরকারের সময়ে সাংবাদিকরা অনেক বেশি চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারছেন। এজন্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজকে প্রতিনিয়ত আয়নার সামনে দাঁড় করায় গণমাধ্যম। তাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে টিকিয়ে রাখা রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। গণমাধ্যমের কল্যাণ মানেই দেশের কল্যাণ। সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় বরিশাল বিভাগের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধা সম্প্রসারণ, চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক অনুদান, দক্ষতা উন্নয়নসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। এসব পরামর্শ বাস্তবায়নযোগ্য উল্লেখ করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এরপর বরিশাল, ঝালকাঠী ও পটুয়াখালী জেলার ৪৯ জন সাংবাদিকের মাঝে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খোন্দকার, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাওছার হোসেন খোন্দকার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দীন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
৭ দিন আগে
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এ রিট দায়ের করেন।
রিটে স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বিবাদী করা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বাজারজাত ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সংখ্যা ছিল ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত। শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) ‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন টুথপেস্ট: সায়েন্টিফিক এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। রবিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় ইএসডিওর কার্যালয়ে গবেষণাটি প্রকাশ করা হয়।
গবেষকেরা বলছেন, কোনোভাবেই টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকা উচিত নয়। তাদের মতে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য সম্ভাব্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত ১৯টি প্রধান ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার ২২টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভিয়েতনামে উৎপাদিত দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৩৪টি নমুনার মধ্যে ছয়টি ছিল শিশুদের টুথপেস্ট। এর চারটিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে ইএসডিওর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি অ্যাসোসিয়েট ড. ফয়জুন নাহার জানান, খুচরা দোকান, সুপারমার্কেট ও পাইকারি বাজার থেকে নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজিতে সেগুলো পরীক্ষা করা হয়।
তিনি জানান, পরীক্ষা করা টুথপেস্টের ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
কোন টুথপেস্টে কত মাইক্রোপ্লাস্টিক
গবেষণায় সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেল’-এ। প্রতি ১০০ গ্রামে এতে ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ এ টুথপেস্ট ব্যবহার করেন, যা জরিপে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্র্যান্ড।
এছাড়া ‘ক্লোজ আপ রেড হট’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ’-এ প্রতি ১০০ গ্রামে ১৬০টি করে কণা পাওয়া গেছে। ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা (স্ট্রবেরি)’-তে ১৪০টি, ‘সিগন্যাল গ্রিন টি’-তে ১২০টি এবং ‘পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট’ ও ‘হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার’-এ ১০০টি করে কণা পাওয়া গেছে।
‘সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট’-এ পাওয়া গেছে ৮০টি কণা। ‘পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট’, ‘হোয়াইট প্লাস রেড’, ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল’, ‘সিগন্যাল হোয়াইটেনিং’, ‘মেরিল বেবি (স্ট্রবেরি)’ এবং ‘মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলা’-তে পাওয়া গেছে ৬০টি করে কণা।
এছাড়া ‘এএম.পিএম. হারবাল’, ‘মেডিপ্লাস ডিএস’, ‘পেপসোডেন্ট জার্মিচেক’, ‘মেরিল বেবি (অরেঞ্জ)’, ‘ম্যাজিক হারবাল’, ‘মেসওয়াক’ এবং ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশে’-তে ৪০টি করে কণা পাওয়া গেছে।
‘ডেন্টিন জেল’, ‘পেপসোডেন্ট কিডস (অরেঞ্জ)’, ‘ক্লোজআপ লেমন সি সল্ট’, ‘ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল’ এবং ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ’-এ প্রতি ১০০ গ্রামে ২০টি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া শিশুদের টুথপেস্টগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা (স্ট্রবেরি)’, ‘মেরিল বেবি (স্ট্রবেরি)’, ‘মেরিল বেবি (অরেঞ্জ)’ এবং ‘পেপসোডেন্ট কিডস (অরেঞ্জ)’।
যে আটটি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি
গবেষণায় আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো— ‘প্যারোডন্ট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার’, ‘জেনফ্রেশ’, ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো)’, ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল’, ‘কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ’, ‘ক্লোজআপ রেড হট জিঙ্ক ফ্রেশ টেকনোলজি’, ‘কোডোমো (অরেঞ্জ)’ এবং ‘কোলগেট অ্যাকটিভ সল্ট’।
এর মধ্যে ‘কোডোমো (অরেঞ্জ)’ এবং ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো)’ শিশুদের জন্য তৈরি টুথপেস্ট।
৭ দিন আগে
ঢাকা-মালে সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব
মালদ্বীপ সরকারের বিশেষ অতিথি হিসেবে দেশটির ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য প্যারেডে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সফরকালে তিনি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি দুই দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
সরকারি সফরে ২৫ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত মালদ্বীপে অবস্থান করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
সোমবার (২৭ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রবিবার মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে রিপাবলিক স্কয়ারে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে পৌঁছালে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের বিভিন্ন শাখার বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও সামরিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার ৬১তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ প্যারেডে দেশটির শৃঙ্খলা, ঐতিহ্য ও জাতীয় গৌরবের নানা দিক তুলে ধরা হয়।
৭ দিন আগে