বাংলাদেশ
বরগুনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও এক নারীর মৃত্যু
বরগুনায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৮ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হয়। তবে সরকারের নিয়মিত প্রকাশিত আজকের প্রতিবেদনে মৃত্যুর সংখ্যাটি যুক্ত করা হয়নি।
ডেঙ্গুতে মৃত্যু নারী বরগুনা সদর উপজেলার ৪ নম্বর কেওরাবুনীয়া ইউনিয়নের লতাবাড়িয়া এলাকার মৃত নূর মোহাম্মদ’র স্ত্রী আলেয়া বেগম (৬০)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আলেয়া জ্বরে আক্রান্ত হলে গত সোমবার তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে পরীক্ষায় ডেঙ্গু পজিটিভ হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়। এরপর চিকিৎসারত অবস্থায় আলেয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং রক্তে প্লাটিলেট কমে যায়।
পরে দায়িত্বরত চিকিৎসক ৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার আলেয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। তবে তাকে বরিশাল না নিয়ে বরগুনা হাসপাতালেই ভর্তি রাখা হয়। আলেয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্স হাওয়া বলেন, আলেয়া বেগমের হঠাৎ করেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। আমরা দ্রুতই তাকে ইনজেকশনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেই। তবে কিছুক্ষণ পর তার কোনো সাড়া না পেয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বরগুনায় ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করলেও একমাস ধরে কমতে শুরু করেছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেলে হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১৯ জন। বর্তমানে এই হাসপাতালে মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৭০ জন।
এ বছর এখন পর্যন্ত বরগুনার বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ হাজার ২২২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে এ বছর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে বরগুনা জেলার আরও ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বরগুনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ৫ হাজার ১১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন।
৪৪৫ দিন আগে
অন্তর্বর্তী সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: শফিকুল আলম
গত বছর থেকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার দায়ী—এমন ইঙ্গিতকে তারা ‘দৃঢ় ও দ্ব্যর্থহীনভাবে’ প্রত্যাখান করে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, তারা(সরকার) স্বচ্ছতা, সুরক্ষা ও স্বাধীনতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে এই মৌলিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ ও বৃদ্ধির জন্য সকল অংশীজনদের একসঙ্গে কাজ করার আমন্ত্রণ জানান তারা।
তবে তিনি বলেন, তারা সংবাদপত্র মালিক সমিতির (নোয়াব) সাম্প্রতিক বিবৃতিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং তথ্যের সুবিধাপ্রাপ্তির অবস্থা সম্পর্কে উত্থাপিত উদ্বেগকে স্বীকার করেন।
আলম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো গণমাধ্যম সংস্থার সম্পাদকীয়, পরিচালনাগত বা ব্যবসায়িক দিকগুলোতে হস্তক্ষেপ করেনি।
তিনি নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘রেসপন্স টু নোয়াব: সেটিং দ্য রেকর্ড স্ট্রেইট' শিরোনামে দেওয়া একটি পোস্টে বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, আমরা ভুল তথ্য এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সম্প্রচারের মুখেও ব্যতিক্রমী সংযম ব্যবহার করেছি।’
প্রেস সচিব বলেন, টেলিভিশন টক শো এবং কলামগুলোতে প্রায়শই এই সরকার সম্পর্কে মিথ্যা এবং উসকানিমূলক দাবি প্রকাশিত হয়েছে।
আলম বলেন, ‘তবুও, আমরা সেন্সর করিনি বা প্রতিশোধও নেইনি। আমরা অভিযোগ করিনি, এমনকি উসকানি দেওয়ার পরেও লাইসেন্স স্থগিত করিনি, বরং অতীতের শাসনামলে জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া কিছু গণমাধ্যমের পুনঃপ্রকাশ বা সম্প্রচারে ফিরে আসার পথ প্রশস্ত করেছি।’ আলম বলেন, এটি স্পষ্টতই বাকস্বাধীনতা এবং মুক্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরে।
সরকারে প্রবেশাধিকার অবাধ রয়েছে
সীমিত প্রবেশাধিকারের অভিযোগের উত্তরে আলম বলেন, সাংবাদিকদের আমাদের উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীদের কাছে উন্মুক্ত ও সরাসরি পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিককে তাদের আউটলেট বা সম্পাদকীয় অবস্থানের কারণে সাক্ষাৎকার বা ব্রিফিং থেকে বঞ্চিত করা হয়নি। ‘আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি এবং আমাদের আচরণ তা প্রতিফলিত করে।’
সচিবালয় প্রবেশ প্রক্রিয়ার সংস্কার
সংশোধিত প্রবেশাধিকার ব্যবস্থার সমালোচনা কেবল ভুলভাবে উপস্থাপন করা নয় বরং ভুল তথ্যও, প্রেস সচিব বলেন।
তিনি বলেন, আগের ব্যবস্থাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। যার ফলে প্রবেশাধিকারপত্রগুলো এমন ব্যক্তিদের হাতে চলে যায়, যাদের কোনো বৈধ সাংবাদিকতার কাজ নেই। তাদের মধ্যে কিছু রাজনীতিবিদ, লবিস্ট এবং সুবিধাবাদী ছিলেন—যারা বিশেষভাবে প্রাপ্ত প্রবেশাধিকার ব্যবহার করে নীতিকে অন্যায়ভাবে প্রভাবিত করেছিলেন।
আলম বলেন, ‘আমরা সেই ভাঙ্গুর কাঠামো ভেঙে দিয়েছি এবং এটিকে একটি অস্থায়ী পাস ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছি, যা প্রতিটি প্রকৃত সাংবাদিকের সচিবালয়ে প্রবেশাধিকার অব্যাহত থাকা নিশ্চিত করবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এই সংস্কার প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধ করার জন্য নয়, বরং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রক্রিয়ার স্থলে সততা স্থাপন করার জন্য ছিল।’
প্রেস সচিব বলেন, আগের প্রবেশাধিকার নীতিতে স্বীকৃত সাংবাদিকদের সরকারের সুরে গান গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আগের নীতিমালায় সাংবাদিকদের সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু অপমানজনক ধারা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা অন্তর্বর্তী সরকার সংশোধন করেছে।
‘বর্ধিত নবায়ন সময়সীমার সঙ্গে নতুন স্বীকৃতিপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে,’ উল্লেখ করেন আলম।
চাকরির নিরাপত্তা
আলম বলেন, ‘এটি স্পষ্টভাবে বলা উচিত, যেসব সাংবাদিককে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তারা সরকারি নির্দেশে নয়। বরং গণমাধ্যম মালিকদের নেওয়া সম্পাদকীয় এবং কৌশলগত করপোরেট পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্তের ফলে তা করেছেন।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘এগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্দেশ বা চাপ নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এবং ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশের প্রতিফলন ঘটায়।’
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা: একটি পারস্পরিক দায়িত্ব
আলম বলেন, তারা সাংবাদিকসহ সকল নাগরিকের শারীরিক নিরাপত্তা এবং মর্যাদার প্রতি সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা একটি অগ্রাধিকার। তবে এই দায়িত্ব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং সরকার ও এর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে ভাগ করা হয়েছে।
নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশের প্রতি তাদের অব্যাহত প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে আলম বলেন, এই বছরের শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন একটি নতুন ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন’ সহ সংস্কারের প্রস্তাব করেছে, যাতে আইনি সুরক্ষা বৃদ্ধি করা যায় এবং সরকার বা নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়ের কারণে সৃষ্ট স্ব-সেন্সরশিপ কমানো যায়।
প্রেস সচিব বলেন, ‘সরকার প্রস্তাবিত আইনটি জারি করার কথা বিবেচনা করছে।’
শিল্পের মধ্যে প্রতিফলনের আহ্বান
আলম বলেন, ‘যদিও আমরা গঠনমূলক সমালোচনার জন্য উন্মুক্ত, তবে আমরা পরামর্শ দিচ্ছি নোয়াব দোষারোপ করার আগে নিজেরাই দেখুক।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘তাদের অবশ্যই তার নিজস্ব সদস্যদের কর্মকাণ্ড যাচাই করতে হবে এবং সাংবাদিকদের উপর নির্যাতনের জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে। বিশেষ করে যখন মজুরি শোষণ, শ্রম অধিকার অস্বীকার, পর্যাপ্ত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ছাড়া প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করা এবং অসহনীয় কর্মপরিবেশের অভিযোগের ক্ষেত্রে।’
পড়ুন: রাষ্ট্রীয় সংকটময় পরিস্থিতিতে ড. ইউনূসের নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক সমর্থন পেয়েছিল: শফিকুল আলম
আলম বলেন, একটি সূক্ষ্ম সংকটকালীন সময় তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসন হিসেবে তারা গণমাধ্যম যাতে ভয় বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই কাজ করতে পারে—তা নিশ্চিত করার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়ানো বজায় রেখেছে।
প্রেস সচিব বলেন, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা আমাদের কাছে কেবল একটি স্লোগান নয়; এটি এমন একটি নীতি, যা আমরা মেনে চলি।’
তিনি বলেন, নোয়াবের উদ্বেগগুলো যদি তথ্যের উপর ভিত্তি করে সঠিক পক্ষগুলোকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়, তাহলে তা আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।
আলম বলেন, ‘ঘটনার ত্রুটিপূর্ণ ব্যাখ্যার ভিত্তিতে করা অভিযোগগুলো সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে এগিয়ে নেয় না, তারা কেবল বাংলাদেশের গণমাধ্যমের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়।’
৪৪৬ দিন আগে
কাপ্তাই লেকের পানি বেড়ে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
খাগড়াছড়িতে বৃষ্টিপাত না থাকলেও কাপ্তাই লেকের পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলার মহালছড়ির চেঙ্গী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
এতে দুটি ইউনিয়নের ২০০টির বেশি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। পানিবন্দী গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে, সিলেটি পাড়া, চিটাংগাপাড়া, ব্রীজ পাড়া ও কাপ্তাই পাড়া।
মহালছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান জানান, উপজেলার চার গ্রামের কয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ফলে ঐসব এলাকার বহু পরিবার পানিবন্দী।
এদিকে শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালে চিটাগাংপাড়া ও সিলেটিপাড়ায় পানিবন্দী পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে সেনাবাহিনী।
মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে বন্যার্ত অর্ধশতাধিক পরিবারকে ত্রাণ হিসেবে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও খাবার স্যালাইন দেওয়া হয়।
এ সময় সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাফিজ ইমতিয়াজ ও জোনের মেজর মোস্তাফিজ উপস্থিত ছিলেন।
৪৪৬ দিন আগে
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, জনভোগান্তি
শেবাচিম হাসপাতালসহ সারাদেশের স্বাস্থ্যখাতে অব্যবস্থাপনা, রোগীদের ভোগান্তি ও হয়রানির সিন্ডিকেট ভাঙতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছে ছাত্র-জনতা। এর ফলে বন্ধ হয়ে গেছে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার যানবাহন চলাচল।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মহাসড়ক আটকে রেখেছিল আন্দোলনকারীরা। এসময় মহাসড়কের দুইপাশে অসংখ্য যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকে চরম জনভোগান্তির সৃষ্টি করে।
একই দাবিতে গত ১২ দিন ধরে বরিশাল শের ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের সামনের বান্দ রোড, সদর রোডে মানববন্ধন ও ব্লকেড কর্মসূচি করে আসছেন তারা।
আন্দোলনের সংগঠক মহিউদ্দিন রনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে সিন্ডিকেটের কারণে মানুষ চিকিৎসা পায় না। স্বাস্থ্যখাতের এই সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। দশ দিনের আন্দোলনের পর আজ আমরা বরিশাল ব্লক করতে বাধ্য হয়েছি। মন্ত্রণালয় বরিশালের কথা শুনছে না, এটা আর চলতে দেওয়া হবে না।
আরেক আন্দোলনকারী ব্লগার কাফি বলেন, আমরা রাস্তায় নেমেছি, স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার ছাড়া আমরা ঘরে ফিরব না। আন্দোলনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, হাতেম আলী কলেজ, বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা, ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনরা অংশ নিয়ে তাদের দাবির কথা তুলে ধরেছে।
অবরোধের কারণে আটকে পড়া একাধিক যাত্রী বলেন, ঢাকা থেকে নির্বিঘ্নে বরিশাল পর্যন্ত এসেও নথুল্লাবাদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে আছি। এ কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছি। জনগণকে ভোগান্তিতে না ফেলে দাবি আদায়ে কৌশলী আন্দোলনের আহ্বান জানান তিনি।
৪৪৬ দিন আগে
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা দিতে চায় কুনমিং চক্ষু হাসপাতাল
কুনমিং চক্ষু হাসপাতাল চীনের ইউনান প্রদেশের একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতাল। বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে হাসপাতালটি।
কুনমিং চক্ষু হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝাং মিন বলেন, ‘আপনাদের দেশে জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের চোখের চিকিৎসা নিয়ে আপনার উদ্বেগ থাকতে পারে। আমাদের হাসপাতাল সাশ্রয়ী খরচে তাদের জন্য মানসম্পন্ন চোখের চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে।’
শুক্রবার (৮ আগস্ট) হাসপাতাল পরিদর্শনকারী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একটি দলের সঙ্গে আলাপকালে ঝাং মিন এই মন্তব্য করেন।
কুনমিং হাসপাতালের প্রস্তাব ও জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসায় সহায়তা করার এবং চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে চিকিৎসা সহযোগিতা জোরদারের ইঙ্গিত দেয়।
পড়ুন: ইউনানে বাংলাদেশিদের জন্য উচ্চমানের চিকিৎসাসেবার প্রতিশ্রুতি চীনের
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, যদিও এটি একটি বেসরকারি হাসপাতাল, এটি কম খরচে খুব ভালো চিকিৎসা এবং পরিষেবা দেয়। ‘চোখের চিকিৎসার জন্য আমাদের হাসপাতালটি ইউনানের সেরা হাসপাতালগুলোর মধ্যে একটি।’
তিনি বলেন, তারা গুরুতর চোখের সমস্যা এবং আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও কর্নিয়া প্রতিস্থাপনসহ বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয় আমাদের হাসপাতালে।
ঝাং বলেন, দক্ষ চিকিৎসক, চিকিৎসা কর্মী এবং অত্যন্ত উন্নত সরঞ্জামসহ উন্নতমানের চক্ষু সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আমাদের হাসপাতাল ২৮ বছর ধরে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসকরা বিদেশি রোগীদের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ এবং তারা সাবলীলভাবে ইংরেজি বলতে পারেন। তাই, বাংলাদেশি রোগীদের ভাষার বাধা নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই।’
ঝাং আরও বলেন, কুনমিং চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিরা তাদের চোখের সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত ইমেল পাঠিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। ‘আমরা আপনাদের পরে প্রতিক্রিয়া জানাব।’
তিনি বলেন, ভারত, রাশিয়া, কোরিয়া, জাপান এবং কিছু প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা গুরুতর চোখের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা সবসময়ই তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।
পড়ুন: বাংলাদেশে ‘সুশৃঙ্খল, সফল ও অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচন চায় চীন
চীন সরকার চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে ২৩ সদস্যের গণমাধ্যমকর্মীদের একটি প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
৪৪৬ দিন আগে
ডেঙ্গুতে দেশে আক্রান্ত আরও ১৯০
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে এই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৯০ জন রোগী।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এসব আক্রান্ত হয়েছে বলে আজ (বৃহস্পতিবার) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
পড়ুন: ডেঙ্গু: দেশে আরও দুইজনের মৃত্যু
নতুন করে আক্রান্তের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৩ জন। আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১২৭ জন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছর আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫৭ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৪২ দশমিক ১ শতাংশ নারী।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২৩ হাজার ৪১০ জন। এর মধ্যে ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ নারী।
৪৪৬ দিন আগে
গভীর রাতে নওগাঁ সীমান্তে ১৪ জনকে পুশইন
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার কালুপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১৪ বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ধামইরহাট উপজেলার কালুপাড়া সীমান্তের ২৭১/১ এস পিলার কাছে তাদের ঠেলে দেওয়া হয়।
পত্নীতলা ১৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন আজ (শুক্রবার) বেলা ১১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ১৪ বিজিবির কালুপাড়া বিওপির হাবিলদার রুপম চাকমার নেতৃত্বে একটি টহল দল বাংলাদেশের ৫০ গজ অভ্যন্তরে সাতনাপাড়া আমবাগানে তাদের ঘোরাফেরা করতে দেখে আটক করে।
বিজিবির হাবিলদার রুপম চাকমার নেতৃত্বে টহল দলের সদস্যরা তাদের বাংলাদেশের ৫০ অভ্যন্তরে সাতনা পাড়া আম বাগান নামক স্থানে ঘোরাঘুরি করতে দেখে এখান থেকে। আটকদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ, ৭ জন মহিলা ও ৩টি শিশু রয়েছে।
পড়ুন: গাজীপুরে সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, আটক ৫
আটক ব্যক্তিরা হলেন— খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর গ্রামের বাদশা মিয়া (২০), ইমরান গাজী (৩৪), নাজমুল হাসান (২৪), খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার মাধবপুর গ্রামের শিশু মোছা. সুমা মোল্লা (৪), শিশু রায়হান মোল্লা (৪), নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার মোছা. নুপুর খানম (২২), শিশু মোছা. আশিকা খানম (৪), মোছা. মনিরা খাতুন (১৮), মোছা. রাবেয়া শেখ (২৮), বাবু শিকদার ( ১৭), প্রিয়া শিকদার (২৬), শিশু ফাতেমা শেখ (৭), মোছা. ববিতা শিকদার (৩৫), যশোহর জেলার কোতোয়ালি থানার মোছা. দুলি বেগম (৪০)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পুশইন হওয়া ওই ১৪ জনের সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। কয়েক বছর আগে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা ও বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তারা ভারতের মুম্বাই শহরে যান। পরবর্তীতে ভারতীয় পুলিশ (সিআইডি) তাদের আটক করে।
পরে গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিমানযোগে পুনে বিমানবন্দর নিয়ে এসে পরবর্তীতে বালুরঘাট থানার মাধ্যমে ১২৩/সানারপাড়া বিএসএফের সদস্যরা ওই ১৪ জন বাংলাদেশিকে গাড়িযোগে সীমান্ত পিলার ২৭১/১-এস এর কাছ দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেন। শুক্রবার সকালে তাদের ধামইরহাট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
৪৪৬ দিন আগে
নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চতুর্থ ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’
আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিষয়াবলি নিয়ে বার্ষিক সম্মেলনের চতুর্থ আসর ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৫’ আগামী ২২ থেকে ২৪ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর গভার্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) এ ঘোষণা দেয় আয়োজক প্রতিষ্ঠান সিজিএস। তারা জানিয়েছে, এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘বিরোধ, বিভাজন ও পুনর্সমীকরণ’।
বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বঙ্গপোসাগরীয় অঞ্চল ও এর বাইরের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জলবায়ু নিয়ে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগের সম্মেলনগুলোর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এই বছর ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৫’-এ বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশের ২০০ জন বক্তা এবং ৮০০ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত থাকবেন।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থাকবেন রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বিশ্ব যখন ভূরাজনৈতিক ভাঙন ও প্রচলিত জোটের কাঠামো পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৫’ দক্ষিণ এশিয়ার নেতৃত্বাধীন সংলাপ, বিশ্লেষণ এবং সহযোগিতার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
পড়ুন: ইউনানে বাংলাদেশিদের জন্য উচ্চমানের চিকিৎসাসেবার প্রতিশ্রুতি চীনের
এই সম্মেলন ক্ষমতার পুনর্সজ্ঞা, প্রযুক্তিগত বিশৃঙ্খলা, জলবায়ু পরিবর্তন, সংঘাত ও সংযোগের ছেদবিন্দুতে গুরুত্বপূর্ণ সংলাপের সুযোগ করে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বছরের পাঁচটি মূল আলোচ্য বিষয় হলো— পরিবর্তনশীল মৈত্রী ও ক্ষমতার নতুন জ্যামিতি; সংকটের বহুমুখী বিস্তার: যুদ্ধ, ভঙ্গুরতা ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার অবসান; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিভ্রান্তি ও জ্ঞানের অস্ত্রায়ন; নিষেধাজ্ঞা, ঋণ ও ঝুঁকি হ্রাসের যুগে অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাস এবং উষ্ণায়নকালীন সময়ে জলবায়ু, সীমান্ত ও নিরাপত্তা।
সিজিএস জানিয়েছে, বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৫-এ আমন্ত্রিত সব বক্তা, প্রতিনিধি, অংশগ্রহণকারী ও সাংবাদিকের জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।
সাধারণত বিভিন্ন সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, কূটনৈতিক মিশন, বহুজাতিক এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এ আয়োজন করে সিজিএস।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রাসঙ্গিক ও গতিশীল ভূরাজনৈতিক সম্মেলনগুলোর অন্যতম হিসেবে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৫’ হয়ে উঠবে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ, যেখানে চিন্তাবিদ, নেতৃত্বশীল ব্যক্তি এবং নীতিনির্ধারকেরা বর্তমান বিশ্বের জটিল বাস্তবতা নিয়ে মতবিনিময় করবেন এবং ভবিষ্যতের পথ খুঁজে বের করবেন।
৪৪৬ দিন আগে
সিলেটে ‘ছিনতাইকারীর’ ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল আরেক ছিনতাইকারীর
সিলেট নগরীতে এক ‘ছিনতাইকারীর’ ছুরিকাঘাতে ডালিম আহমদ (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানার মাত্র কয়েক শ’ গজ দূরে এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত যুবকও চিহ্নিত ছিনতাইকারী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর কিনব্রিজ এলাকার আলী আমজদের ঘড়িঘরের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ডালিম ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার মেরেঙ্গা গ্রামের লোকমান মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোতোয়ালি থানা থেকে মাত্র ৫০০ গজের ভেতর আলী আমজদের ঘড়িঘরের পাশে এক দুর্বৃক্ত যুবক ডালিমকে ছুরিকাঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার পায়ের রগও কেটে দেয়। এরপর নির্বিঘ্নে সবার সামনে দিয়ে হেঁটে চলে যায়। তার হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় কেউ এগিয়ে যেতে সাহস করেননি।
ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পড়ুন: গাজীপুরে সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, আটক ৫
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত ছিনতাইকারীকে পুলিশ গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।
কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত) সামছুল হাবিব জানান, যিনি নিহত হয়েছেন, সেও চিহ্নিত ছিনতাইকারী। এর আগে জেলও খেটেছেন। এ কারণে হত্যাকারীও ছিনতাইকারী বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছিনতাই সংক্রান্ত ইস্যুতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৪৪৬ দিন আগে
গাজীপুরে সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, আটক ৫
গাজীপুরের চৌরাস্তা এলাকায় সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানায় এ মামলা হয়। নিহত তুহিনের বড় ভাই মো. সেলিম মামলাটি করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন খান জানান, আজ (শুক্রবার) দুপুর পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহজনক পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, তুহিনের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিহত তুহিন (৩৮) দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের ছেলে। স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তুহিন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পড়ুন: গাজীপুরে সাংবাদিককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তা মসজিদ মার্কেট এলাকায় এক নারী ও পুরুষের বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এ সময় অস্ত্রধারী একদল দুর্বৃত্ত ওই লোককে হামলা করে। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন তুহিন। অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, একজন নারীকে কেন্দ্র করে বাদশা মিয়াকে আক্রমণ করা হয়। ওই নারীর পূর্বপরিচিত ৪-৫ জন চাপাতিসহ এসে যুবকটিকে কোপাতে থাকে। তখন তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এরপর কী ঘটেছে তা আর সিসি ক্যামেরায় পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি, হামলার ঘটনাটি সাংবাদিক তুহিন তার মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। এর ফলে ঘাতকরা তুহিনকে আক্রমণ করে। তিনি এই ভিডিও কেন করেছে তা জানতে চান এবং সেটি ডিলিট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এরপর তুহিন যখন ডিলিট করতে রাজি হননি কিংবা ভিডিওর বিষয়টি অস্বীকার করেন, তখন ওই অবস্থাতেই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং তাকে মেরে ফেলে হামলাকারীরা।’
৪৪৬ দিন আগে