বাংলাদেশ
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন সদস্যের ওপর হামলা, জবিতে মানববন্ধন
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ মে) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে জবি ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মিছিলটি ভাষ্কর্য চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর প্রদক্ষিণ করে আবার সেখানে এসে মানববন্ধনের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘মেহেদীর উপর হামলা কেন? প্রশাসনের জবাব চাই’, ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘গুন্ডালীগের কালো হাত গুঁড়িয়ে দাও’ —এমন নানা স্লোগানে তারা হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান।আরও পড়ুন: সচিবালয়ে আজ কোনো দর্শনার্থী ঢুকতে পারবেন না
মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন বলেন, ‘রাতে মেহেদীর ছেঁড়া শার্ট ও আহত অবস্থায় তাকে দেখে আমি হতভম্ব হয়েছিলাম। সে শান্ত স্বভাবের ছেলে এবং জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। তার ওপর হামলা ন্যক্কারজনক। আমরা শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানাই।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মাসুদ রানা বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, হাসিনার শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, কিন্তু এখনো ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থা বিরাজ করছে ‘
জবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মাঈন আল মুবাশ্বির বলেন, ‘মেহেদী হাসান সরকারের একটি অংশ। সরকার যদি নিজস্ব লোকদেরই নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
এর আগে গত ২৪ মে চাঁদপুর জেলার দক্ষিণ মতলব থানার মেহেদির নিজ এলাকায় মেহেদী হাসানের উপর হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা।এরপর তাঁকে চাঁদপুর স্থানীয় একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শাহজাহান নামে এক ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতিকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
৩৯০ দিন আগে
শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন গ্রেপ্তার
কুষ্টিয়া শহরের কালীশংকরপুর এলাকা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী সব্রত বাইনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ মে) তিন ঘণ্টার এক অভিযানে সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী।
ঢাকায় সেনাবাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র ইউএনবিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কথিত ‘সেভেন স্টার’ বাহিনীর প্রধান ছিলেন সুব্রত বাইন। পুলিশের খাতায় তার পুরো নাম ত্রিমাতি সুব্রত বাইন।
বহুদিন ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড কাঁপিয়ে ভারতের কারাগারে কিছু দিন বন্দি ছিলেন তিনি। সুব্রত বাইনের আদি নিবাস বরিশালের আগৈলঝাড়া থানার জোবারপাড় গ্রামে।আরও পড়ুন: সুব্রত বাইনের সহযোগী বিপু গ্রেপ্তার
তার বাবা বিপুল বাইন ছিলেন একটি এনজিওর গাড়িচালক। মা কুমুলিনি আর তিন বোন মেরি, চেরি ও পরীকে নিয়ে ঢাকার মগবাজারের ভাড়া বাসায় থাকতেন। সুব্রত বাইন বড় সন্তান।
৩৯০ দিন আগে
সীমান্ত সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুরক্ষিত রয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, দেশের সীমান্ত পুরোপুরি নিরাপদ ও সুরক্ষিত রয়েছে। সীমান্তে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ মে) দুপুরে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৪তম ব্যাচের ডেপুটি জেলার এবং ৬২তম ব্যাচের কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ বেড়েছে, বিষয়টি আমরা প্রতিবাদ করেছি। ভারতে যারা বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে বসবাস করছেন, তাদের যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে ফেরত পাঠাতে ভারতকে বলা হয়েছে।
‘একইসঙ্গে, ভারতসহ যেসব দেশের নাগরিক আমাদের দেশে অবৈধভাবে রয়েছেন, তাদের আমরা আইনগত প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠাচ্ছি। তেমনিভাবে, বাংলাদেশের নাগরিকদের ফেরত নিতে আমরা প্রস্তুত। এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে যোগাযোগ করছে।’
আরও পড়ুন: কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন ঈদ-উল-আযহায় নিরাপত্তা নিয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘গত ঈদ-উল-ফিতর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। সামনের ঈদেও যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভালো থাকে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
দ্রব্যমূল্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ধানের উৎপাদন প্রায় ১৫ লাখ টন বেড়েছে, আলুর দামও কমেছে। কিছু ক্ষেত্রে কৃষকরা হয়তো ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, তবে সংশ্লিষ্টরা সহযোগিতা করলে কৃষকরা সে মূল্য পাবে।’
অনুষ্ঠানে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন, আরএমপি কমিশনার আবু সুফিয়ানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩৯০ দিন আগে
কড়া নিরাপত্তায় মমতাজের মানিকগঞ্জ আদালতে হাজিরা
সাবেক সংসদ সদস্য ও সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগমকে কড়া পাহারার মধ্যে দিয়ে মানিকগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে সাড়ে ৮টার দিকে কেন্দ্রীয় কাশিমপুর কারাগার থেকে পুলিশি পাহারায় তাকে আদালতে নিয়ে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত চত্বরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জ আদালতে মমতাজকে ডিম নিক্ষেপ
সিংগাইর থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলাসহ দুটি মামলার নিয়মিত হাজিরা দিতে আজ (মঙ্গলবার) তাকে আদালতে আনা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়।
কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. আবুল খায়ের জানান, ‘মমতাজ বেগমকে নিয়মিত হাজিরা হিসেবে আদালতে আনা হয়েছে। হাজিরা শেষে ছয় দিনের রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।’এরআগে, মামলার প্রথম দিন আদালত চত্বরে মমতাজ বেগমকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এর পর থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে আদালত এলাকায়।
৩৯০ দিন আগে
জয়কে অপহরণের ষড়যন্ত্র মামলা: সাংবাদিক শফিক রেহমান খালাস
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রের মামলায় সাংবাদিক শফিক রেহমানকে খালাস দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ মে) ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তারিক এজাজ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় শফিক রেহমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, ২৭ এপ্রিল শুনানিতে শফিক রেহমানের খালাস চান আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেসবাহ। রাষ্ট্রপক্ষও এতে আপত্তি না থাকার কথা জানায়।
শুনানিতে সৈয়দ জয়নুল বলেন, ‘হাসিনাপুত্র জয়কে কথিত অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা এটি। ভিকটিম নিজেই মামলা করেননি, পুলিশ অতিরিক্ত আগ্রহ দেখিয়ে মামলা করেছে। ৯০ বছর বয়সী শফিক রেহমানকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। মামলায় কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেই। ১২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন, জয় নিজেও সাক্ষ্য দিয়েছেন। সেদিন বিচারক তার পেছনে দৌড়াচ্ছিলেন—এমন দৃশ্য দেখা গেছে। বিচার নিয়ে আপনি বুঝতেই পারছেন।’
রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পিপি মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘এটা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা। তিনি প্রথিতযশা সাংবাদিক। খালাস দিলে আপত্তি নেই।’
মামলার নথি অনুযায়ী, জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গত বছরের ১৭ আগস্ট ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মাহমুদুর রহমান, শফিক রেহমানসহ পাঁচজনকে পৃথক দুই ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন—জাসাস নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ, রিজভী আহমেদ সিজার ও মিজানুর রহমান ভূঁইয়া।
আসামিদের দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় (অপহরণ) পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই আইনের ১২০-খ ধারায় (ষড়যন্ত্র) দুই বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড। দুই ধারার সাজা একত্রে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: আপিল বিভাগের রায়ে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেলেন জামায়াত নেতা আজহার
২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর শফিক রেহমান ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মিজানুর রহমান ভূঁইয়ার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরদিন জামিনে মুক্তি পান শফিক রেহমান।
পরে গত ১০ ফেব্রুয়ারি একই মামলায় মাহমুদুর রহমান খালাস পান। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের আগে যেকোনো সময় থেকে বিএনপি ও এর জোটভুক্ত নেতারা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রে যুক্ত হন।
২০১৫ সালের ৩ আগস্ট ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান পল্টন থানায় মামলাটি করেন। ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
৩৯১ দিন আগে
সাম্য হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি ডিএমপির
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যা মামলায় রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে কথা বলতে মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকাল পৌনে ৫টায় ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী সংবাদ সম্মেলনে আসছেন বলে এক বার্তায় জানানো হয়েছে।
সাম্য হত্যা মামলায় রবিবার পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা ডিবি। তাদের মধ্যে তিনজনকে পরদিন রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। ওই তিনজন হলেন—সোহাগ, হৃদয় ইসলাম ও রবিন।
পুলিশ জানিয়েছে, সুজন সরকার নামে আরেক আসামিকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে। আর রিপন নামে গ্রেপ্তার আরেকজন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত মোট আট আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, ১৩ মে রাতেই তামিম হাওলাদার, পলাশ সরদার ও সম্রাট মল্লিককে গ্রেপ্তার করে শাহবাগ থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার ডিএমপি কমিশনারের সংবাদ সম্মেলনের বার্তায় ডিবির হাতে আটজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়।
নতুন করে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, সাম্য হত্যায় সব মিলিয়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রথমে তিনজন এবং পরে ডিবির হাতে আটজনসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’
গত ১৩ মে রাত ১১টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছুরিকাঘাতে আহত হন শাহরিয়ার আলম সাম্য। রাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি এ এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায়।
এদিকে সাম্য হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার (২৬ মে) সকালে উপাচার্য ভবনে এ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাম্য হত্যা: ঢাবির তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান প্রতিবেদনটি উপাচার্যের হাতে জমা দেন। এ সময় প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ এবং কমিটির সদস্য সচিব সহকারী প্রক্টর শারমীন কবির উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ জানান, ‘উপাচার্য স্যার আজ (সোমবার) প্রতিবেদনটি রিসিভ করেছেন। আগামীকাল (মঙ্গলবার) সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
৩৯১ দিন আগে
কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কারা অধিদপ্তরের ১৪তম ব্যাচের ডেপুটি জেলার ও ৬২তম ব্যাচের কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি সংস্কারমুখী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার কাজ করছে কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে। এ উদ্দেশ্যে কারেকশনাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গঠনের মাধ্যমে বন্দিদের প্রশিক্ষণ ও আয়ের সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে তারা পরিবারকে আর্থিক সহায়তাও দিতে পারবেন।
কারারক্ষীদের মাঠপর্যায়ে কারা ব্যবস্থাপনার চালিকাশক্তি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, তাদেরকেই বন্দিদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে হয়, শৃঙ্খলা রক্ষা ও মানবিক আচরণ বজায় রাখতে হয়। এ দায়িত্ব পালনে ধৈর্য, সাহস ও পেশাদারিত্বের প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ পেশাগত দক্ষতা ছাড়াও সততা, দেশপ্রেম ও নৈতিক গুণাবলী অর্জনের পথ।
নবীন ডেপুটি জেলার ও কারারক্ষীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ছাত্র জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ডেপুটি জেলারদের কারাগারের নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বশীল উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বৈষম্যহীন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কারা প্রশাসন গঠনে তারাই মূল ভূমিকা রাখবেন। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে দুর্নীতিমুক্তভাবে কাজ করার নির্দেশও দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক মানের কারা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার মোবাইল জ্যামার, পৃথক ইন্টারনেট, বডি স্ক্যানার, লাগেজ স্ক্যানার ও সার্কিট ডিটেক্টরসহ আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি স্থাপন করছে। পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ জেল মেডেল’ প্রবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারা সদস্যদের আজীবন রেশন দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে কৃতী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় শপথ পাঠ করানো হয় নবীন ডেপুটি জেলার ও কারারক্ষীদের।
আরও পড়ুন: গরু বহনকারী গাড়ি মাঝপথে থামানো যাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম ও কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট মো. কামাল হোসেন।
১৪তম ব্যাচের ডেপুটি জেলারদের মধ্যে মোছাঃ খাদিজা খাতুন লিমা সর্ব বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং ডিএম নুসরাত আল ইসলাম ‘বেস্ট ফায়ারার’ নির্বাচিত হন। ৬২তম ব্যাচের কারারক্ষীদের মধ্যে সুব্রত চন্দ্র সরকার প্রথম এবং রায়হান মিয়া ‘বেস্ট ফায়ারার’ খ্যাতি অর্জন করেন।
পরে উপদেষ্টা রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করেন।
৩৯১ দিন আগে
চতুর্থ দিনের মতো সচিবালয়ে কর্মচারীদের বিক্ষোভ
‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রত্যাহারের দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো আজও সচিবালয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (২৭ মে) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের পাশে বাদামতলায় জড়ো হয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।
সচিবালয়ে কর্মচারীদের আন্দোলন কর্মসূচির মধ্যে আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের এই প্রাণকেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের সচিবালয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত।
বিক্ষোভে অংশ না নেওয়া অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে অনেকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। ‘অবৈধ কালো আইন মানা হবে না’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন কর্মচারীরা।
বিক্ষোভ মিছিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘অবৈধ কালো আইন, বাতিল কর করতে হবে’, ‘কর্মচারী মানে না, অবৈধ কালে আইন’, ‘মানি না মানবো না, অবৈধ কাল আইন’, ‘এক হও লড়াই কর, ১৮ লাখ কর্মচারী’, ‘সচিবালয়ের কর্মচারী, এক হও এক হও’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’- এ ধরনের বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: অধ্যাদেশ সংশোধনের আশ্বাসে এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার
অধ্যাদেশে যা আছে
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের চারটি বিষয়কে অপরাধের আওতাভুক্ত করা হয়। সেগুলো হলো, সরকারি কর্মচারী যদি এমন কোনো কাজে লিপ্ত হন, যা অনানুগত্যের শামিল বা যা অন্য যেকোনো সরকারি কর্মচারীর মধ্যে অনানুগত্য সৃষ্টি করে বা শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধার সৃষ্টি করে, অন্যান্য কর্মচারীর সঙ্গে সমবেতভাবে বা এককভাবে ছুটি ছাড়া বা কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া নিজ কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকেন বা বিরত থাকেন বা কর্তব্য সম্পাদনে ব্যর্থ হন, অন্য যেকোনো কর্মচারীকে তার কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকতে বা বিরত থাকতে বা তার কর্তব্য পালন না করার জন্য উসকানি দেন বা প্ররোচিত করেন এবং যেকোনো সরকারি কর্মচারীকে তাঁর কর্মে উপস্থিত হতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধাগ্রস্ত করেন, তাহলে তিনি অসদাচরণের দায়ে দণ্ডিত হবেন।
অধ্যাদেশে এসব অপরাধের শাস্তি হিসেবে বলা হয়েছে, দোষী কর্মচারীকে নিম্নপদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া, চাকরি থেকে অপসারণ বা চাকরি থেকে বরখাস্ত করার দণ্ড দেওয়া যাবে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। আর অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হলে কেন দণ্ড আরোপ করা হবে না, সে বিষয়ে আরও সাত কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। তার ভিত্তিতে দণ্ড আরোপ করা যাবে।
আরও পড়ুন: অধ্যাদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সচিবালয়ে কাজে ফিরবেন না কর্মচারীরা
এভাবে দণ্ড আরোপ করা হলে দোষী কর্মচারী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতির দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করা যাবে।
বর্তমানে দেশে ১৫ লাখের মতো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। আইন অনুযায়ী সবাই কর্মচারী।
৩৯১ দিন আগে
পুঁজিবাজারে প্রথম ঘণ্টার লেনদেন চলছে সূচকের উত্থানে
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে প্রথম ঘণ্টার লেনদেন চলছে সূচকের উত্থানে। এই সময়ে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রথম ঘণ্টার লেনদেনে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২০ পয়েন্ট। বাকি দুটি সূচকের মধ্যে শরিয়াভিত্তিক সূচক ডিএসইএস বেড়েছে ৬ পয়েন্ট এবং বাছাইকৃত ব্লু-চিপ শেয়ারের সূচক ডিএস৩০ বেড়েছে ২ পয়েন্ট।
ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২১১টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৭৯টির কমেছে এবং ৭৮টির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয় দিনেও পতনের মুখে পুঁজিবাজার
প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ কোটি টাকার বেশি।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক বেড়েছে ১১ পয়েন্ট।
সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৮১টি কোম্পানির মধ্যে ৪১টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৩২টির কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিএসইতে প্রথম ঘণ্টায় মোট লেনদেন ছাড়িয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
৩৯১ দিন আগে
ইশরাকের শপথ প্রশ্নে আদালতের রায়ের অপেক্ষায় স্থানীয় সরকার বিভাগ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথ পাঠ আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
মঙ্গলবার (২৭ মে) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আইন অধিশাখা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২২ মে হাইকোর্টে করা একটি রিট খারিজ হওয়ার পর ইশরাকের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে ২৫ মে ইশরাক নিজেই হাইকোর্টে তার আইনজীবীর মাধ্যমে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন।
এর পরদিন (২৬ মে) এক নাগরিকের পক্ষে ২২ মের খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করা হয়। এতে বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: ইশরাককে মেয়র ঘোষণার গেজেট স্থগিতের আপিল শুনানি মঙ্গলবার
এ অবস্থায়, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ইশরাক হোসেনের শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ অপেক্ষমাণ থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সই করেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন।
৩৯১ দিন আগে