বাংলাদেশ
সাহসী শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরীর নামে চালু হবে জাতীয় পুরস্কার
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে শিক্ষার্থীকে বাঁচানো সাহসী শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরীর নামে জাতীয়ভাবে একটি পুরস্কার চালু করবে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক: স্বল্প মেয়াদে ১৬ সুপারিশ বাস্তবায়ন, বাস্তবায়নাধীন ৮৫
তিনি বলেন, 'মাইলস্টোন ট্রাজেডি নিয়ে আবার আলোচনা হয়েছে। সেখানে যারা মারা গেছেন, বিশেষ করে দুজন টিচার ও একজন আয়া, তাদের বিশেষ কি সম্মাননা দেওয়া যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সামনে আপনারা এটার সিদ্ধান্তটা জানতে পারবেন।'
প্রেস সচিব বলেন, 'মাহেরীন চৌধুরী বীরত্ব ও সাহস দেখিয়েছেন ওনার স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে। তিনি নিজের জীবনকে আত্মদান করেছেন। উনার নামে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটা জাতীয় পুরস্কার ঘোষণা করবে খুব শিগগিরই। এই পুরস্কারের নাম হবে মেহরিন চৌধুরী অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং সার্ভিসেস। এটা শুধু শিক্ষকদের দেওয়া হবে।'
৪৪৭ দিন আগে
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক: স্বল্প মেয়াদে ১৬ সুপারিশ বাস্তবায়ন, বাস্তবায়নাধীন ৮৫
বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের স্বল্প মেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য ১২১টি সুপারিশের মধ্যে ১৬টি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং ৮৫টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অগ্রগতির বিষয়ে জানানো হয়।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, 'প্রধান উপদেষ্টা মোট ১১টি সংস্কার কমিশন করেছিলেন। ইতোমধ্যে কমিশনগুলো প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এ সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশের মধ্যে যেগুলো আশু বাস্তবায়ন করা দরকার, সেটার ওপরে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—সেটার আজকে একটু আপডেট নেওয়া হয়েছে।'
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে সচিবালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শুরু
প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্থার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে আইন উপদেষ্টা ১২১টি সুপারিশ আশু বাস্তবায়নযোগ্য চিহ্নিত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠান। আজকে সেটার আপডেট নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, 'এগুলোর মধ্যে মোট ১৬টি সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ৮৫টি সুপারিশ বাস্তবায়নাধীন। ১০টি সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়ন হচ্ছে। আর দশটি বাস্তবায়নযোগ্য কিনা—সেটা এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে।'
৪৪৭ দিন আগে
সুষ্ঠু নির্বাচনই এখন প্রধান কাজ: প্রধান উপদেষ্টা
একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করাই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাজ করে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের শুরুতে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ‘সভার শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন যে ৫ আগস্ট আমার প্রথম অধ্যায় শেষ হয়েছে। আজ থেকে দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয়েছে। এখন আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।’
আগামী নির্বাচন ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টা আরও দুটি চলমান বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন—সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং চলমান বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা। শফিকুল আলম বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. আলী রীয়াজ শিগগিরই এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংস্কার কর্মসূচির হালনাগাদ তথ্য জানাবেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম চলমান বিচারসংক্রান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে থাকবেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, সরকার পুলিশ সদর দপ্তরকে স্বচ্ছভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে এবং নিয়মিত পরিসংখ্যানসহ হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করতে বলেছে।
‘পুলিশ সদর দপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় না,’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন প্রেস সচিব।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর পুরোপুরি স্বচ্ছভাবে কাজ করছে এবং তারা প্রতি মাসে অপরাধ পরিসংখ্যান প্রকাশ করছে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব জুলাই মাসের পরিসংখ্যান দেখে নিতে।
‘প্রশাসন ভেঙে পড়েছে—এমন দাবিও ঠিক নয়, বরং প্রশাসন সচল না থাকলে বিগত মাসগুলোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব হতো না।’
প্রধান উপদেষ্টা তার মঙ্গলবারের টেলিভিশন ভাষণে বলেন, জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া দৃঢ় গতিতে এগোচ্ছে। বিচার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক শুনানি পর্বও শুরু হয়েছে। ইতিহাসের ভয়াবহ গণহত্যায় জড়িতদের এ দেশের মাটিতেই বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া ও এর ফলাফল ধাপে ধাপে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ন্যায়বিচারের পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ এবং জনগণের চোখের সামনে দৃশ্যমান রাখা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় বুধবার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠিয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির রমজানের আগেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বলেছে।
এই চিঠির মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সরকারের অনুরোধের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত মানের ‘অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর’ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানান।
এই পদক্ষেপটি এসেছে অধ্যাপক ইউনুসের ৫ আগস্ট ‘গণঅভ্যুত্থান দিবসে’ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের পরদিন। ওই ভাষণে তিনি বলেন, সরকার নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ জানাবে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন আয়োজনের যাবতীয় প্রস্তুতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা অবিলম্বে শুরু করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি এমন একটি নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যা বিগত ১৫ বছরে ভোট দিতে না পারা নাগরিকদের জন্য একটি আনন্দময় ও উৎসবমুখর দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি নির্বাচন কমিশনকে আশ্বাস দেন, সরকার নির্বাচনের প্রত্যাশিত ‘সুষ্ঠু, অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর’ আয়োজনের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।
৪৪৭ দিন আগে
অর্থ পাচারের মামলায় ১০ বছরের সাজা থেকে জি কে শামীম খালাস
অর্থ পাচারের মামলায় ১০ বছরের সাজা থেকে আলোচিত ঠিকাদার ও সাবেক যুবলীগ নেতা জি কে শামীমকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি করে বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মবিন ও বিচারপতি জাবিদ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এ রায় দেন।
আদালতে জি কে শামীমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হেমায়েত উল্লাহ।
এর আগে ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই অর্থ পাচার আইনের মামলায় আলোচিত ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন অধস্তন আদালত। এ ছাড়া তার সাত দেহরক্ষীকে চার বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজা ছাড়াও তাদের ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮১৪ টাকা জরিমানা করা হয়। ৬০ দিনের মধ্যে এ জরিমানা পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত এক বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছিলেন, ‘অস্ত্রবাজ, টেন্ডারবাজ ও অর্থ পাচারকারীদের কোনো আদর্শ নেই। তারা কোনো আদর্শ লালন করে না। তবে আদর্শকে ব্যবহার করে রাতারাতি অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করে এবং দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়। তারা দেশ ও জাতির শত্রু। দেশের চলমান উন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থে তাদের সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে।’
পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন জি কে শামীম। আজ সেই আপিলের ওপর রায় দেন হাইকোর্ট। এর আগে, ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।
আরও পড়ুন: জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ: জি কে শামীম ও তার মায়ের বিচার শুরু
২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর র্যাব-১–এর নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান গুলশান থানায় অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলাটি করেন। ২০২০ সালের ৪ আগস্ট সিআইডির ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াডের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ আটজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। ওই বছরের ১০ নভেম্বর বিচার শুরু হয়।
গত ১৫ জুন আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২৫ জুন রায়ের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন রায় না দিয়ে ১৭ জুলাই (গতকাল) দিন ধার্য করেন আদালত।
২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিকেতনে জি কে শামীমের বাড়ি ও অফিসে র্যাব অভিযান চালিয়ে আটটি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, ১ কোটি ৮১ লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা এবং মদ জব্দ করে।
৪৪৭ দিন আগে
সাবেক বেরোবি ভিসি ড. কলিমউল্লাহ গ্রেপ্তার
দুদকের মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রতারণা, জালিয়াতি করে সরকারের চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ১৮ জুন ড. কলিমউল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
ওই মামলার অন্য আসামিরা ছিলেন—বেরোবির সাবেক উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদার মো. আবদুস সালাম বাচ্চু ও এম এম হাবিবুর রহমান।
এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ওই বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি উপেক্ষা করে নকশা পরিবর্তন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া ৩০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের চুক্তি সম্পাদন, ঠিকাদারের রানিং বিল থেকে কেটে রাখা নিরাপত্তা জামানতকে এফডিআর হিসেবে ব্যাংকে জমা এবং ওই এফডিআর লিয়েনে রেখে ঠিকাদারকে লোন দেওয়ার জন্য ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ অনুমোদন তথা গ্যারান্টর হয়ে সরকারের ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। গতকাল দুদক মহাপরিচালক ও মুখপাত্র মো. আক্তার হোসেন এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
আরও বলা হয়, ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিতে অগ্রিম অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা না থাকার পরও ঠিকাদারকে আর্থিক সহযোগিতার কারণ দেখিয়ে ব্যাংক গ্যারান্টি গ্রহণ করে অগ্রিম বিল প্রদান করা হয়েছে। অগ্রিম হিসেবে দেওয়া বিল সমন্বয়ের আগেই বিলের বিপরীতে প্রদত্ত ব্যাংক গ্যারান্টিগুলো অবমুক্ত করা হয়। প্রথম পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত ড্রইং বা ডিজাইন না মেনে সরকারি খাতে ক্রয় পদ্ধতির বিধি বহির্ভূতভাবে দ্বিতীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া, অস্বাভাবিক হারে মূল্য দাখিল বা ফ্রন্ট লোডিং থাকা সত্ত্বেও পিপিআর-২০০৮ এর বিধান অনুযায়ী দরপত্র মূল্যায়ন সম্পন্ন না করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
৪৪৭ দিন আগে
শেষ কার্যদিবসে ঢাকা-চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারে লেনদেন চলছে পতনে
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন চলছে ঢাকা-চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারে, দাম কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির।
লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৪১ পয়েন্ট।
বাকি দুই সূচক শরীয়াভিত্তিক ডিএসইএস কমেছে ৮ এবং বাছাইকৃত কোম্পানির ব্লুচিপ সূচক ডিএস-৩০ কমেছে ২২ পয়েন্ট।
১০৯ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ২১৯ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৬৭ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম দুই বাজারেই সূচকের পতন
ঢাকার বাজারে ৪৪০ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
একইভাবে পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন চলছে চট্টগ্রামে, সার্বিক সূচক কমেছে ১০৯ পয়েন্ট।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া ১৭১ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৫২ কোম্পানির, কমেছে ৯৯ এবং অপরিবর্তিত আছে ২০ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইতে দিনের প্রথম দুই ঘণ্টায় ৩ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
৪৪৭ দিন আগে
আটাবে প্রশাসক নিয়োগের প্রতিবাদে সাধারণ সদস্যদের মানববন্ধন
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশে (আটাব) প্রশাসক নিয়োগের প্রতিবাদে এবং নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর কাকরাইলে আটাব কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো অ্যাসোসিয়েশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে কার্যকর ফল আসেনি। বরং দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসক নিযুক্ত থাকলে অ্যাসোসিয়েশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় এবং সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। আটাবে আগে কখনো প্রশাসক নিয়োগ হয়নি এবং সাধারণ সদস্যরা তা চান না।
তাদের দাবি, নির্বাচিত কমিটির অধীনেই আটাবের কার্যক্রম পরিচালিত হোক।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে প্রশাসক প্রত্যাহার করতে হবে।
আরও পড়ুন: ফ্লাইট এক্সপার্টের প্রতারণায় ট্রাভেল এজেন্টদের ক্ষোভ, হস্তক্ষেপ দাবি আটাবের
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, যাত্রীর নাম ও পাসপোর্ট ছাড়াই এয়ার টিকিট ব্লক করে একটি সিন্ডিকেট তা কালোবাজারে বিক্রি করছে। তারা টিকিটের দাম দ্বিগুণ-তিনগুণ বাড়িয়ে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু জিএসএ এবং হাতে গোনা কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি জড়িত। সরকারের জারি করা পরিপত্র অমান্য করেও এরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
তারা আরও বলেন, অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (ওটিএ) পরিচালনায় এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। ফলে কিছু ওটিএ প্রতিষ্ঠান যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত ওটিএ নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান আটাব সদস্যরা।
মানববন্ধনে আটাব সদস্যদের পক্ষ থেকে, বিগত সরকারের সময়ে গড়ে ওঠা টিকিট সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা জুম্মন চৌধুরী ও সবুজ মুন্সীর গ্রেপ্তার এবং তাদের এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের দাবি তোলা হয়। বিমান মন্ত্রণালয়কে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আটাব সাধারণ সদস্যদের প্রধান সমন্বয়ক শাহ আলম কবির। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আটাব সদস্য শরীফুল আলম দিপু, মোশাররফ হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, নুরুল আলম, মাহমুদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, সুমন, ফয়সাল করিম জনি, ইমাম হোসেন, আনোয়ার হোসেন, মোজাফ্ফর হোসেন ও জসিম হোসেন প্রমুখ।
৪৪৭ দিন আগে
হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশের বড় পরীক্ষা হবে আগামী নির্বাচন: কুগেলম্যান
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে, তখন ‘শেখ হাসিনা-পরবর্তী’ বাংলাদেশকে একটি বড় ধরনের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান।
মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসি-র সাউথ এশিয়া ব্রিফে এক লেখায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘদিন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন থেকে বঞ্চিত হয়েছে, আর আগামী বছরের নির্বাচন হবে হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশের জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস ঘোষণা করেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পরের দিন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো এক চিঠিতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে অনুরোধ জানানো হয়।
এই চিঠির মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনের প্রতি সরকারের অনুরোধের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমদের কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিঞা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত মানসম্পন্ন একটি ‘অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর’ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হয়েছে মঙ্গলবার। এদিন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গেল বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে চলে গেছেন।
কুগেলম্যান লেখেন, ‘ছাত্র-নেতৃত্বাধীন কয়েক সপ্তাহব্যাপী আন্দোলনের পর হাসিনার পদত্যাগের খবর আসে। তার কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর দমন-পীড়ন চালায়, যাতে প্রাণ হারান ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি।’
তিনি বলেন, হাসিনার বিদায়ের ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব পড়েছে এমন এক দেশে, যেটি টানা ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের শাসনে ছিল।
আরও পড়ুন: ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে বাণিজ্যের চোখে দেখে ওয়াশিংটন: কুগেলম্যান
আজ বাংলাদেশের মানুষ সাধারণভাবে আগের চেয়ে বেশি সুখী ও স্বাধীন, তবে কুগেলম্যানের ভাষায়, ‘বিপ্লব-পরবর্তী মধুচন্দ্রিমা এখন অনেকটাই অতীত।’
নোবেলজয়ী অধ্যাপক ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থনীতি স্থিতিশীল করা ও আইনশৃঙ্খলা জোরদারে সংগ্রাম করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও লেখেন, ‘এদিকে, ফরেন পলিসিতে সালিল ত্রিপাঠি লিখেছেন, দেশে প্রতিশোধপরায়ণ রাজনৈতিক চক্র এখনো অব্যাহত রয়েছে।’
আন্দোলনের সময় নেতৃত্ব দেওয়া অনেকেই, যারা পরে অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দিয়েছিলেন, চলতি বছরের শুরুতে পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। কুগেলম্যান লেখেন, তারা এখনো হাসিনার পতনের পর দেওয়া উচ্চাভিলাষী কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সচেষ্ট।
‘তবে অগ্রগতি থমকে আছে, এবং এতে অনেক বাংলাদেশি হতাশ’, বলেন তিনি।
মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে অধ্যাপক ইউনুস বলেন, ‘নির্বাচন সামনে। আপনি যদি নিজের নির্বাচনী এলাকার বাইরে থাকেন, এখন থেকেই নিয়মিত যাতায়াত শুরু করুন। যোগ্যতম প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নিজেকে প্রস্তুত করুন।’
তিনি বলেন, ‘ভোট দেওয়ার সময় যেন তাদের মুখ চোখের সামনে ভেসে ওঠে, যাদের তাজা রক্ত আমাদের এই পবিত্র অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে।’
অধ্যাপক ইউনুস বলেন, ফেব্রুয়ারি বেশি দূরে নয়। প্রস্তুতির দিনগুলো দ্রুত পেরিয়ে যাবে, আর খুব শিগগিরই আসবে ভোটের দিন।
আরও পড়ুন: অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্বের সমস্যার মুখে পড়তে হবে পরবর্তী সরকারকে: কুগেলম্যান
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার পর এবার সবাই ভোট দেবেন, কেউ পেছনে পড়ে থাকবেন না।
‘চলুন সবাই গর্ব করে বলি: নতুন বাংলাদেশ গড়ার যাত্রায় আমি ভোট দিয়েছি। আর এই ভোটেই দেশ সেই পথে এগিয়ে গেছে’, বলেন অধ্যাপক ইউনুস।
প্রধান উপদেষ্টা দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানান, ‘চলুন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে প্রথম বড় পরীক্ষাটি আমরা সবাই মিলে সফলভাবে উতরে যাই।’
৪৪৭ দিন আগে
প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে সচিবালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শুরু
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শুরু হয়েছে। দ্বিতীয়বারের মতো এ বৈঠকে অংশ নিতে সচিবালয়ে গিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস। বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সাড়ে ১০টার দিকে সচিবালয়ের নবনির্মিত এক নম্বর ভবনের পঞ্চম তলায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। তার আগে সকাল ৯ টা ২৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা সচিবালয়ের প্রবেশ করেন।
আজ সকালে সচিবালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, প্রধান উপদেষ্টার আগমনকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ে কয়েক স্তরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এক নম্বর গেট ছাড়া অন্য কোনো গেট দিয়ে গাড়ি প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এক নম্বর গেটে সোয়াত সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
এ ছাড়া সচিবালয়ের ভেতরে ও বাইরে বিজিবি, র্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে তৎপর দেখা গেছে। সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া আর কাউকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সচিবালয়ে প্রবেশের স্টিকার ছাড়া কোনো গাড়িও প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সচিবালয় বিটে কাজ করা সাংবাদিকদেরও সকাল ১১টা পর্যন্ত সচিবালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি গোষ্ঠী উন্মুখ: প্রধান উপদেষ্টা
সকাল থেকেই এক নম্বর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া অন্যদের এ ভবনের আশপাশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ভবনটি ঘিরে মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য। নতুন নির্মিত এক নম্বর ভবনের সামনে বসানো হয়েছে আর্চওয়ে।
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত বছরের ২০ নভেম্বর সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের ত্রয়োদশ তলায় মন্ত্রিসভা কক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মুহাম্মদ ইউনূস। তারপর দ্বিতীয়বারের মতো তিনি সচিবালয়ে গিয়েছেন। তবে নতুন ভবনে এটিই প্রথম উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক।
গত বছরের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর প্রধান উপদেষ্টার রাষ্ট্রীয় বাসভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক হতো। সরকার পতনের দিন ক্ষতিগ্রস্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংস্কার করে সেটিকেই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। তারপর থেকে নিয়মিতভাবে সেখানেই উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক হচ্ছে।
৪৪৭ দিন আগে
যশোরে থানায় অনধিকার প্রবেশ ও হুমকির অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
যশোরের কেশবপুর থানায় অনধিকার প্রবেশ, কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাকে হুমকি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন পেশাজীবী পরিষদের কেশবপুর উপজেলা সভাপতি ও আইনজীবী অজিয়ার রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (৬ আগস্ট) সকালে যশোর শহর থেকে তাকে আটক করা হয়। কেশবপুর পৌর জামায়াতের আমির জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, অজিয়ার রহমান জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত। তিনি ছাত্রশিবিরের যশোর জেলা পূর্ব শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন।
জানা যায়, কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মকলেসুর রহমান বাদী হয়ে গত রবিবার অজিয়ারের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। এরপর বুধবার সকালে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
এসআই মকলেসুর জানান, অজিয়ারের চাচাতো ভাই শহিদুল ইসলামের নামে একটি মামলা দায়ের করা হয়, যা নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হন। এ কারণে তিনি থানায় প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় হুমকি ও পুলিশি কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ঘটনাটির একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অজিয়ার রহমান থানায় উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে অপমান করছেন। ভিডিওতে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি আওয়ামী লীগের লোকের মতো আচরণ করছেন। জবাবে কর্মকর্তা বলেন, আমি কেন রাজনীতি করব?
এ বিষয়ে জামায়াত নেতাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না জানানো হলেও কেশবপুর পৌর জামায়াতের আমির জাকির হোসেন বলেছেন, থানায় গিয়ে হুমকি দেওয়া ঠিক হয়নি, এটি তার (অজিয়ার রহমানের) ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রক্রিয়া অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪৪৭ দিন আগে