বাংলাদেশ
পুঁজিবাজার: তৃতীয় দিনে সূচকের উত্থান, বেড়েছে লেনদেন
পুঁজিবাজারে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ঢাকা-চট্টগ্রামের বাজারে সবকটি সূচকের উত্থান হয়েছে, বেড়েছে লেনদেন এবং বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সারাদিনের লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২২ পয়েন্ট। বাকি দুই সূচক শরীয়া ভিত্তিক ডিএসইএস ৭ এবং বাছাইকৃত কোম্পানির ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ বেড়েছে ৮ পয়েন্ট।
লেনদেনে অংশ নেয়া ৪০১ কোম্পানির মধ্যে ২৩৬ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ৯২ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৭৩ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
এ, বি এবং জেড— তিন ক্যাটাগরিতেই দাম বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির। বিশেষ করে লভ্যাংশ দেয়া ভালো কোম্পানির এ ক্যাটাগরির ২২৩ কোম্পানির মধ্যে ১৪৩ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ৪৩ এবং অপরিবর্তিত আছে ৩৭ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ডিএসই ব্লক মার্কেটে ৫০ কোম্পানির ৩৬ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে। লাভেলো সর্বোচ্চ ১৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে।
সারাদিনে ডিএসইতে ৩৭২ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গতদিন ছিল ২৭৬ কোটি টাকা।১০ শতাংশ দাম বেড়ে ডিএসইতে শীর্ষে ইন্দো বাংলা ফার্মাসিটিক্যালস এবং ৭.৬৯ শতাংশ দাম কমে তলানিতে জিএসপি ফাইন্যান্স।
আরও পড়ুন: নতুন বাজেট সংস্কারহীন ও পুরনো ধাঁচের: সেমিনারে বক্তারা
চট্টগ্রামেও উত্থান
ঢাকার মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের উত্থান হয়েছে, সার্বিক সূচক বেড়েছে ৫৬ পয়েন্ট। লেনদেন হওয়া ১৯৭ কোম্পানির মধ্যে ১২৫ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ৪৫ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ২৭ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইতে মোট ২৯ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গত কার্যদিবসে ছিল ১১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
১০ শতাংশ দাম বেড়ে সিএসইতে শীর্ষে রংপুর ফাউন্ড্রি এবং ৯ শতাংশের ওপর দর হারিয়ে তলানিতে ইস্টার্ন ইনস্যুরেন্স।
৪০৫ দিন আগে
নগর ভবনে ইসরাক সমর্থকদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৮
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে বিএনপি নেতা প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন সমর্থকদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে, শ্রমিক দলের উভয় পক্ষের ৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুরে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। এরপরেই তারা নগরভবন এলাকা ছেড়েছেন বলে জানা গেছে। আহতরা হলেন, ডিএসসিসির শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্য মনির হোসেন (৪৫), মহিদুল ইসলাম (৩৫), জসিম (৩২), জুয়েল (৪০), কাইয়ুম (৪০), জনি (৩৬), দিদার (৪২) ও রাসেল (৪২)।
আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে শপথ পড়ানোর দাবিতে টানা ৩৯ দিন নগর ভবনে তালা দিয়ে রেখেছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নেতা আরিফ চৌধুরী ও তার অনুসারীরা। এ ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়ে তালা খুলে দিতে নির্দেশ দেন ইশরাক।
পরে সোমবার (২৩ জুন) নগর ভবনের তালা খুলে দেন আরিফ চৌধুরীরা। কিন্তু প্রশাসক ও প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তাদের কক্ষগুলোতে তারা তালা লাগিয়ে রাখেন। ওই কর্মকর্তারা যাতে অফিসে ঢুকতে না পারেন সেজন্য সারাদিন নগর ভবনে মহড়া দেন আরিফ চৌধুরী। ফলে গতকাল তাদের কেউ অফিস করতে পারেননি।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা ভালো থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আজ মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকাল ৯টার পর নগর ভবনে অবস্থান নেন আরিফ চৌধুরী ও তার অনুসারীরা। এ সময় তারা ইশরাক হোসেনকে মেয়র পদে শপথ পড়ানো ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।
এমন সময়, তাদের ধাওয়া করেন শ্রমিক দলের অন্য পক্ষের নেতা আরিফুজ্জামান প্রিন্সের অনুসারীরা। তখন তাদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে নগর ভবন থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান আরিফ চৌধুরী। এ সময় তার সঙ্গে ইশরাক সমর্থক বহিরাগত ব্যক্তিরাও ছিলেন।
ডিএসসিসির শ্রমিকদলের নেতারা জানান, আগে শ্রমিকদলের দুটি পক্ষই বিএনপি নেতা ইশরাকের অনুসারী ছিলেন। কিন্তু ইশরাকের শপথ কেন্দ্র করে আরিফুজ্জামান প্রিন্স একটু দূরেই থাকছেন। তিনি নগর ভবনে তালা দিয়ে নাগরিকদের ভোগান্তির বিরোধিতা করেন।
জানা যায়, নগর ভবনে শ্রমিক দলের দুই পক্ষের দুটি কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে আরিফুজ্জামান প্রিন্সের কমিটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর রয়েছে। তিনি এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
বর্তমানে নগর ভবনের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা যায়।
৪০৫ দিন আগে
খুলনায় এসআইকে মারপিট করে পুলিশে দিল বিএনপির নেতাকর্মীরা
খুলনায় সুশান্ত দাশ নামে পুলিশের এক উপপরিদর্শককে মারধর করে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকাল সোয়া ৪টায় নগরীর ইস্টার্ন গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি বর্তমানে খানজাহান আলী থানায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ অভ্যুত্থানের পরে এসআই সুশান্তের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেন ভুক্তভোগীরা।
পড়ুন: মানিকগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় দাড়ি টেনে গালাগাল ও মারধরের অভিযোগ
স্থানীয়রা জানান, ইস্টার্ন গেট এলাকায় বিএনপির একটি কর্মসূচি ছিল। এ সময় সিএনজি চালিত থ্রি-হুইলারে করে যাচ্ছিলেন এস আই সুশান্ত। থ্রি-হুইলারটি ইস্টার্ন গেটের সামনে দাড়িয়ে যাত্রী ওঠানোর সময় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী সুশান্তকে গাড়ি থেকে বের করে মারপিট করে। পরে বিএনপির সিনিয়র নেতারা তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দেন।
খুলনার খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, নিরাপত্তার জন্য এস আই সুশান্তকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। শরীরে তেমন আঘাত লাগেনি, শুধু গায়ের টি-শার্ট ছিড়ে গেছে।
৪০৫ দিন আগে
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা ভালো থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
নির্বাচনের সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকবে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, দেশের সব বাহিনীর প্রধানরা আজকে নিশ্চিত করেছেন যে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকবে। নির্বাচন করতে যত ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দরকার হবে নির্বাচন কমিশনের, সেটা আমরা দেব। নির্বাচন কমিশন জাতিকে একটা ভালো নির্বাচন উপহার দেবে, এটাই আমরা সবাই আশা করি।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে ‘আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা’ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকাটা শুধু বাহিনীর ওপর নির্ভর করে না। যারা নির্বাচনে অংশ নেন, তাদের ওপরও কিন্তু নির্ভর করে। সেটা আপনারাও তাদের বলবেন।
দিনের ভোট যখন রাতে হয়, সেই সময়ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল, কিন্তু তারা কেন পদক্ষেপ নেয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সে সময় তো আপনারাও মাঠে ছিলেন, কোনো কিছু বলেননি।
সামনের নির্বাচনে রাতে ভোট যেন না হয়, পুলিশ কি সেটা নিশ্চিত করবে এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এটা শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ পোলিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার এদেরও কিন্তু একটা ভূমিকা থাকে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ জুলাই
তিনি বলেন, যেহেতু পুরো নির্বাচন নির্ভর করে নির্বাচন কমিশনের ওপর। দেশের সব বাহিনী কিন্তু তখন তাদের অধীনে কাজ করে। নির্বাচন কমিশন জাতিকে একটা ভালো নির্বাচন উপহার দেবে— এটাই আমরা সবাই আশা করি। নির্বাচন করতে যত ধরনের সাহায্য সহযোগিতা দরকার হবে নির্বাচন কমিশনের, সেটা আমরা দেব।
‘আজকের মিটিংয়ে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করাসহ বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন কোন এরিয়াগুলোতে সমস্যা হতে পারে, সে বিষয়ে মাথায় রেখে আমরা কাজ করবো,’ যোগ করেন তিনি।
আওয়ামীলীগের ব্যপারে তিনি বলেন, ‘আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তারা কোনো কার্যক্রম করতে পারেনি। দলটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে।’তিনি সাবেক নির্বাচন কমিশনকে মব জাস্টিস বিষয়ে বলেন, ‘মবে জড়িতদের ফুটেজ দেখে আইনের আওতায় আনা হবে। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ জড়িত থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পূর্বে মবে যারা জড়িত, এমন কতজনকে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সংখ্যা বলতে পারছি না, তবে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’
৪০৫ দিন আগে
দর্শনায় ট্রেন স্টপেজের দাবিতে রেলপথ অবরোধ
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রেলস্টেশনে ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও খুলনাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে রেলপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুর ২টার দিকে দর্শনা রেলস্টেশনে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন থামিয়ে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। প্রায় দুই ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ঢাকা-খুলনা রুটে চলাচলকারী অধিকাংশ ট্রেন দিনের বেলায় দর্শনায় থামলেও রাতের বেলায় সুন্দরবন ও চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি যাত্রাবিরতি করে না। এতে বিশেষ করে রোগী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। বহুদিন ধরে দাবি জানানো হলেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র ও দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদ তিতুমীর। তবে আন্দোলনকারীরা তাদের আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করলে তারা ফিরে যান।
পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাত দিনের মধ্যে ট্রেন স্টপেজের দাবির বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ স্থগিত করেন আন্দোলনকারীরা। এরপর পুনরায় চালু হয় রেল চলাচল।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর অনিক বলেন, ‘দর্শনা একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলবন্দর, আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ও সীমান্ত অঞ্চল। প্রতিদিন এখান দিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। অথচ সুন্দরবন ও চিত্রা এক্সপ্রেস এখানে না থামায় মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অবিলম্বে এই দুই ট্রেনের স্টপেজ নিশ্চিত করতে হবে। আর তা না হলে আমরা আমরণ অনশনসহ কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।’
৪০৫ দিন আগে
ডেঙ্গু: ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৩৯৪, চলতি সপ্তাহে মৃত্যু ৩
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের হার বেড়েই চলেছে। সোমবার (২৩ জুন) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কারো মৃত্যু হয়নি। আর এই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩৯৪ জন। আর চলতি সপ্তাহের এই কয়েকদিনে রোগটিতে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের ঘটনা ঘটে। এ সময়ের মধ্যে বিভাগটিতে আক্রান্ত হয় সর্বোচ্চ ১৫৭ জন।
বিজ্ঞপ্তি থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভর্তি হয়েছেন ৩৯৪ জন। নতুন আক্রান্তের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯২ জন। আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩০২ জন।
পড়ুন: ডেঙ্গু আক্রান্তের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে আরও ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৯২
বিজ্ঞপ্তি থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, চলতি বছর আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫০ শতাংশ পুরুষ এবং ৫০ শতাংশ নারী।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৮ হাজার ৫৪৪ জন। এর মধ্যে ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ নারী।
৪০৫ দিন আগে
মানিকগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় দাড়ি টেনে গালাগাল ও মারধরের অভিযোগ
চাঁদা না দেওয়ায় দাড়ি ধরে টানাটানি ও অশালীন ভাষায় গালাগালসহ মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নাসিম ভূঁইয়া নামের এক ব্যক্তি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
সোমবার (২৩ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানিক কম্পিউটার নামের দোকনের ভেতরে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আলী আজম মানিক (৩৩) এ ঘটনার পর পরই ঘিওর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। তবে অভিযোগ দেওয়ার ১৬ ঘণ্টা পার হলেও অভিযুক্ত নাসিমকে এখনও আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নাসিম ভূঁইয়া প্রায়ই ভুক্তভোগী আলী আজম মানিকের দোকানে বিভিন্ন কাজ নিয়ে আসতো। তবে কাজ শেষে ঠিকমত টাকা দিতো না। পাওনা টাকা চাইলেই নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়াসহ চাঁদা দাবি করে। কিন্তু চাঁদা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে ব্যবসা করতে দেবে না বলেও হুমকি দেয়।
গতকাল রাতে জরুরি কিছু কাজ নিয়ে তার দোকানে যান নাসিম। তবে অন্য একজন কাস্টমারের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাকে অপেক্ষা করতে বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে যান এবং ভুক্তভোগীর দাড়ি ধরে টানা হেচড়া করে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ মারধর করে নাসিম। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীকে মেরে হাত পা ভেঙ্গে দেওয়াসহ ব্যবসা করতে দেবে না বলেও হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় অভিযুক্ত নাসিম। এ ঘটনার পরে ভুক্তভোগী ঘটনার দিনে রাতেই ঘিওর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
পড়ুন: এস আলম গ্রুপকে ভুয়া ঋণ: ইসলামী ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
অভিযোগ পাওয়ার পরে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হবে বলে জানায় পুলিশ।
ঘিওর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান খান কুদরত বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি, তবে নাসিম আমাদের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তাকে কখনও কোনো মিটিং বা মিছিল করতে দেখিনি।
এ বিষয়ে জানতে ভুক্তভোগী আলী আজম মানিকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘ওনি (অভিযুক্ত) নাসিম আমার দোকানে প্রায়ই বিভিন্ন কাজ নিয়ে আসতো। আমি তার কাজগুলো করেও দেই। কিন্তু কাজ শেষ করে ঠিকমত কাজের টাকা দিতো না। আমি তার কাছে পাওনা টাকা চাইলেও আমাকে হুমকি দিতো, আমাকে ব্যবসা করতে দেবে না। গতকাল রাতে জমির খারিজের কাজ করতে দোকানে আসে। দোকানে অন্য কাস্টমার থাকায় তাকে অপেক্ষা করতে বলি। এর পরই তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান এবং আমার দাড়ি ধরে টানা-হেচড়া করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। আমি থানায় অভিযোগ করেছি এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করি।
এ বিষয়ে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
৪০৫ দিন আগে
ডিএনএ পরীক্ষা করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করল সিআইডি
পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে খুন করে লাশ ডোবায় ফেলে দিয়েছিল খুনিরা। দুজনের নাম পরিচয় জানা গেলেও বাকিরা ছিল অজ্ঞাত। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটের তৎপরতায় বের হয়ে এলো অজ্ঞাতনামা খুনির পরিচয়।
এরপর সিআইডির এলআইসি শাখার পরিশীলিত তথ্য বিশ্লেষণে শনাক্ত হলো তার অবস্থান। এভাবে পুলিশের জালে ধরা পড়লো অজ্ঞাতনামা খুনি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন, বরগুনার আমতলী থানার ঘাটখালী গ্রামের আলী মাদবরের ছেলে সেলিম মাদবর ওরফে রফিক (৪৯)।
সোমবার (২৩ জুন) সিআইডি এলআইসি শাখার একটি একটি টিম ডিএমপির ডেমরা ধানাধীন সারুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, টোল উত্তোলন নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি পৌরসভাধীন নান্দিকাঠি গ্রামস্থ লাইফকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ২০০ গজ পূর্বে পাকা রাস্তার উপর ভিকটিম ইমরান হাওলাদারকে (৩২) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ পার্শ্ববর্তী কচুরিপানা ভর্তি ডোবার পানিতে ফেলে দেয় খনিরা।
তাদের হামলায় গুরুতর আহত হন নিহত ইমরানের স্ত্রী ফাহিমা বেগম। পরে দুজনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে নলছিটি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই সিআইডি’র ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন আলামত জব্দ করে। সেসব আলামত ঢাকায় সিআইডির সদর দফতরের ডিএনএ ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখানে আলামত পরীক্ষা করে অজ্ঞাতনামা একজনের ডিএনএন পান বিশেষজ্ঞরা। পরে ডিএনএ প্রোফাইল ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে জানা যায় তার নাম রফিক। পরে ঢাকার ডেমরার সারুলিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: দখলদার ও খুনিদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে: মুফতি ফয়জুল করীম
৪০৫ দিন আগে
ইডেন ছাত্রীর মামলায় গায়ক নোবেলের জামিন
ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীকে বাসাবাড়িতে আটকে রেখে জোর করে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত। মঙ্গলবার (২৪ জুন) ঢাকার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব শুনানি শেষে এক হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার আইনজীবী মো. খলিলুর রহমান জামিনের আবেদন করেন। এদিন বিচারক নোবেলের উপস্থিতিতে জামিন শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। আজ নোবেল ও ভিকটিমের উপস্থিতিতে জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। নোবেল জামিন পেলে ভিকটিমের আপত্তি নেই বলে আদালতে জানান। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার আসামি নোবেল গত ২০ মে থেকে জেল হাজতে আটক আছেন। যেহেতু বাদী ও আসামির মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ায় মামলাটি দায়ের করেছেন। বাদী ও আসামির মধ্যে শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি অঙ্গীকারনামা দিয়ে স্বীকার করেছেন। বাদীর জিম্মায় আসামি জামিন পেলে বাদীর কোনো আপত্তি নেই। আসামি জামিন পাওয়ার পর বিবাহ রেজিস্ট্রি করে নিবেন।
এর আগে ১৮ জুন উভয়ের সম্মতি সাপেক্ষে তাদের বিয়ে সম্পাদন করে আদালতকে অবগত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় কারা কর্তৃপক্ষকে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে নোবেলের আইনজীবী একটি আবেদন করেন।
এর আগে গত ১৯ মে রাত ২টার দিকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা থেকে নোবেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক এক শিক্ষার্থীকে বাসাবাড়িতে আটকে রেখে জোর করে ধর্ষণের অভিযোগে রাজধানীর ডেমরা থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। পরদিন ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া উদ্দিন আহমেদ তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজে অধ্যায়নরত ছিল। ২০১৮ সালে আসামি নোবেলের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাদীর পরিচয় হয়। নোবেল বাদীর সাথে মোবাইল ফোনে প্রায় সময় কথা-বার্তা বলতো। একপর্যায়ে ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর মোহাম্মদপুরে বাদীর সাথে দেখা করে বাদীকে আসামি নোবেল তার স্টুডিও দেখানোর কথা বলে ডেমরা থানা এলাকায় নোবেলের নিজ বাসায় নিয়ে আসে।
নোবেলের বাসায় আসার পর বাদী বাসা থেকে চলে যাওয়ার কথা বললে আসামির সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরো ২ থেকে ৩ জন আসামির সহায়তায় বাদীকে বাসার একটি কক্ষে আটক করে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ভিডিও তার মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে। বাদী আসামির কথা মতো আসামির বাসায় না থাকলে তার মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিবে মর্মে হুমকি দেয়।
বাদী আসামি নোবেলের ভয়ে কাউকে কোনো কিছু বলার সাহস পাননি। নোবেল তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরো ২ থেকে ৩ জন বিবাদীর সহায়তায় বাদীকে সিঁড়ি দিয়ে চুলের মুটি ধরে টানা হেঁচড়া করে অপর একটি কক্ষে আটক করে রাখে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বাদীর পিতা-মাতা বাদীকে চিনতে পারে। বাদীর পিতা-মাতা বাদীকে খোঁজাখুঁজি করা অবস্থায় জাতীয় জরুরি সেবায় গেল ১৯ মে কল দিলে ডেমরা থানা পুলিশের সহায়তায় ভুক্তভোগী বাদী আসামি নোবেলের বাসা থেকে বের হয়ে আসে।
আরও পড়ুন: নারী নির্যাতন মামলায় গ্রেপ্তার সঙ্গীতশিল্পী নোবেল
৪০৫ দিন আগে
শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ জুলাই
গত জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন আগামী ১ জুলাই ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে এ মামলার দুই পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।
শুনানিকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগে, এই মামলার পলাতক দুই আসামিকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশের পর আজ (মঙ্গলবার) অগ্রগতি শুনানির জন্য ধার্য করা হয়।
এর আগে, গত ১ জুন এ মামলার অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে এই মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অপর আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে এই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। পাশাপাশি ১৬ জুন তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির ও মামলার পরবর্তী আদেশের দিন নির্ধারণ করা হয়।
আরও পড়ুন: সংবাদপত্রে শেখ হাসিনার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ
পরে ১৬ জুন অপর দুই আসামি পলাতক থাকায় ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারি করতে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে ২৪ জুন এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ধার্য করেন।
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দাখিল করা হয়।
সেই অভিযোগের তদন্ত শুরু হয় গত বছর ১৪ অক্টোবর। ছয় মাস ২৮ দিনে তদন্ত শেষ করে গত ১২ মে শেখ হাসিনাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যা ও হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও সরাসরি নির্দেশ দেওয়াসহ মোট পাঁচটি অভিযোগ আনেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে তার (শেখ হাসিনার) বিরুদ্ধে মূলত ৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে। জুলাই গণহত্যার ঘটনায় সব হত্যাকাণ্ডের সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি শেখ হাসিনার। তিনি এ গণহত্যা ও হত্যার উসকানিদাতা, প্ররোচনাদাতা ও সরাসরি নির্দেশদাতা। এ বিষয়ে তার বহু কল রেকর্ড, অডিও-ভিডিও পাওয়া গেছে।’
৫টি অভিযোগের মধ্যে প্রথম অভিযোগটি হচ্ছে— গত বছরের ১৪ জুলাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের উসকানি দিয়েছেন ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। যেখানে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা, রাজাকারের নাতিপুতি এসব বলেছিলেন। এসব বলার মাধ্যমে তাদের (আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের) বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ৫ অভিযোগ আমলে নিল ট্রাইব্যুনাল
এ ছাড়া, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ অর্থাৎ সহযোগী বাহিনী হিসেবে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের (আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের) হত্যা করে, আহত করে, অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে।
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় যে অভিযোগটি করা হয়েছে সেটা হচ্ছে— সরাসরি নির্দেশ। তদন্তে শেখ হাসিনার কিছু টেলিফোন কনভারসেশন (বার্তালাপ) জব্দ করা হয়েছে। সেখানে তিনি বারবার সুস্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি রাষ্ট্রীয় সব বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন হেলিকপ্টার, ড্রোন, এপিসিসহ মরণাস্ত্র ব্যবহার করে নিরস্ত্র, নিরীহ আন্দোলনকারী সিভিলিয়ান (নাগরিক), যারা দেশে একটা ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে রত ছিল, তাদেরকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন ও নির্মূল করার জন্য।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘এছাড়া বাকি ৩টি অভিযোগ সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে, যেখানে শেখ হাসিনার নির্দেশের প্রেক্ষিতে অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছে। কিভাবে মানুষকে মারা হয়েছে, নৃশংসতাগুলো করা হয়েছে সে ব্যাপারে সুনিদিষ্ট ঘটনাকেন্দ্রিক ওই ৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টে যত লোক মারা গেছেন, যত লোক আহত হয়েছেন প্রত্যেকটার ব্যাপারে তার (সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে চার্জ রয়েছে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘প্রতিবেদনে এসেছে প্রায় দেড় হাজার লোককে হত্যা করা হয়েছে, ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে গুলি করে আহত করা হয়েছে, নারীদের ওপর বিশেষভাবে সহিংসতা চালানো হয়েছিল, লাশ একত্রিত করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, আহতদের হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, পোস্টমর্টেম করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, ডাক্তারদের চিকিৎসা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল।’
শেখ হাসিনার বিষয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে তিনি নিজে গিয়ে বলেছিলেন, এসব ভর্তি রোগীকে যাতে চিকিৎসা দেওয়া না হয়। রোগীরা যখন যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলেন, তাদের সেই সুযোগও দেওয়া হয়নি। যাতে পচে গেলে কেটে ফেলতে হয়, সেরকম নির্দেশ দিয়েছিলেন ‘
বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের ওপর দায় চাপানোর জন্য বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় নিজেদের লোকদের দিয়ে অগ্নিসংযোগের নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।’
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরের শাসনের অবসান হয়। এরপর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী পাঁচ অভিযোগ
সে সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রথম মামলাটি (মিস কেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে এ মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকেও (গণ-অভ্যুত্থানের সময় আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন) আসামি করা হয়।
৪০৫ দিন আগে