বাংলাদেশ
ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে ইসিকে চিঠি দেব: প্রধান উপদেষ্টা
আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে নির্বাচন কমিশনকে সরকার চিঠি দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের আগে আমাদের অত্যাবশ্যকীয় কয়েকটি কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ। আমরা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই সনদ ঘোষণা করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের তিনটি দায়িত্ব ছিল- সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। সে লক্ষ্যে আমরা বেশ কয়েকটি সংস্কার কমিশন গঠন করেছিলাম। কমিশনগুলো বাস্তবায়ন যোগ্য বহু সুপারিশ পেশ করেছে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক খাত, বিচার ব্যবস্থা ও জনপ্রশাসনে গতিশীলতা আসবে; স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। দুর্নীতি, অনিয়ম ও হয়রানি হ্রাস পাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও জোট স্বতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে, তারা তাদের মতামত দিয়েছেন। কমিশনের পক্ষ থেকে ১৯টি মৌলিক সংস্কারের বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে। সংস্কারের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ একটি ঐতিহাসিক অর্জন। আমরা আশা করছি এই ঐকমত্যের ভিত্তিতে অচিরেই রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে সই করবে এবং এর বাস্তবায়নেও ঐকমত্যে পৌঁছাবে।
পড়ুন: জুলাই ঘোষণাপত্র: চব্বিশের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানকে ‘রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও সক্ষমতা, নাগরিক অধিকারের সত্যিকারের বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সামর্থ্যের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে এমনভাবে মেরামত করতে হবে যাতে কখনো কোথাও ফ্যাসিবাদের লক্ষণ পাওয়া গেলেই সেটিকে যেন তাৎক্ষণিকভাবে সেখানেই নিমূর্ল করা যায়।
জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় বিচারকাজ দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলছে বলে জানান ড. ইউনূস।
জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে ইউনূস বলেন, আমরা প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার আয়োজন নিশ্চিত করতে চাই। দেশের বিধ্বস্ত অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এছাড়া নারী ভোটারদের ভোটদান সারাদেশে নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে নাগরিকরা ভোট দিতে পারেনি। এবার অনেক ভোটার থাকবেন যারা বিগত ১৫ বছর আগে থেকেই জীবনে একবারও ভোট দিতে পারেনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের ইতিহাসে বড় সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনার পেছনে ছিল ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন। ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কোনো দল যদি গায়ের জোরে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসে তার চূড়ান্ত পরিণতি কী তা জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা সতর্ক করে বলে, একটা গোষ্ঠী নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে দেশের বাহিরে বসে এবং ভেতরে থেকে নানা অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সফলভাবে আয়োজন করা গেলে অপশক্তির পরাজয় চূড়ান্ত হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত পরামর্শ নিয়ে সমস্যা সমাধানে একটি অ্যাপ প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ড. ইউনূস সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির কথাও উল্লেখ করে বলেন, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হলেও নজরদারির মাধ্যমে তা এড়ানো গেছে। এটিকে বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। মূল্যস্ফীত ডিসেম্বরের মধ্যে ৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, গত অর্থবছরে দেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেকর্ড তিন হাজার ৩৩ কোটি ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। রপ্তানি আয় প্রায় ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে ১১ মাসে ৪০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক পাওনা ও সুদ পরিশোধ করেছে সরকার। আর সরকারের উদ্যোগের ফলে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে।
তিনি বলেন, ১৬ বছরে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সরকার নামকরা বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে আরো কিছু ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, বর্তমান সরকার চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বন্দরকে আধুনিকভাবে গড়ে তোলা গেলে তা শুধু বাংলাদেশের অর্থনীতিতেই ভূমিকা রাখবে না, নেপাল, ভূটানসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে, বলেন তিনি।
প্রবাসীদের ভিসা জটিলতা নিয়ে তিনি বলেন, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে আমরা গভীরভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আরব আমিরাত পুনরায় ভিসা চালু করেছে। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রথমবারের মতো মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা চালু করেছে। অন্যান্য দেশের সঙ্গেও ভিসা জটিলতা কীভাবে কমিয়ে আনা যায় এ নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আগামী এক বছরে জাপানে এক লাখ বাংলাদেশি তরুণদের পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, চলতি বছর সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে প্রায় ৮৭ হাজার বাংলাদেশি সুষ্ঠুভাবে হজ পালন করতে পেরেছেন।
পড়ুন: জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগই হবে আগামী বাংলাদেশের নির্মাণরেখা: প্রধান উপদেষ্টা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্যাম্পাসে পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আর কখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন কোনো রাজনীতি দ্বারা কলুষিত হতে দেব না, যা পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করে। পার্বত্য চট্টগ্রামের কমপক্ষে ১০০টি স্কুলে এ বছরের মধ্যেই ই-লার্নিং চালু হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া স্কুলগুলোতে মেয়েদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের পড়াশোনার উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের জন্য সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৭৭৫টি পরিবারে ১০০ কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র ও মাসিক ভাতা বাবদ ব্যাংক চেক দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আহত ১৩ হাজার ৮০০ জন জুলাই যোদ্ধাকে তিনটি ক্যাটাগরিতে নগদ টাকা ও চেক বাবদ মোট ১৫৩ কোটি ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, ৭৮ জন অতি গুরুতর আহত জুলাইযোদ্ধাকে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরুস্ক এবং রাশিয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারকাজ হাতে নিয়েছে।বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ-সহ যেসকল কাজ এ সরকার স্বল্প সময়ের মধ্যে করে যেতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চার অন্যতম প্রধান শর্ত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। অতীতেমুক্ত সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রথম এবং সবচাইতে বড় বাধা হিসেবে কাজ করেছে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকার এসব বাধা অপসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য সাংবাদিকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ইতোমধ্যেই প্রেস কাউন্সিল পুনর্গঠন করেছে। সরকার সাইবার নিরাপত্তা আইনটি বাতিল করেছে। নতুন যে আইন প্রণীত হয়েছে তাতে আগের আইনের নিবর্তনমূলক ৯টি ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত বছর মানুষের প্রতিবাদকে স্তব্ধ করে দিতে ফ্যাসিবাদী সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিল, যাতে গোপনে তারা দমন-নিপীড়ন, হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশে প্রথমবারের মতো ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
গত একবছরে সরকার জুলাইয়ের দাবি পূরণের চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। জাতিকে বিভক্ত না হতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকায় পরিদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে সকল নাগরিকদের ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রথম বড় পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার আহ্বানও জানান ড. ইউনূস।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের শুরুতে ২৪’র গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। শহীদ ও আহতদের অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। এছাড়া মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বিমান বিধ্বস্তের প্রাণ হারানো শিশু-শিক্ষকদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি দেশ-বিদেশের চিকিৎসক যারা চিকিৎসায় এগিয়েছে এসেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমরা অনেক দূর পথ অতিক্রম করে এসেছি। আমাদের জাতীয় জীবনে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে, অর্থনীতিতে গতিশীলতা এসেছে, সংকট দূর হয়েছে।
৪৪৮ দিন আগে
প্রবল স্রোতে পাটুরিয়ার লঞ্চঘাট ভেঙ্গে পড়েছে, দুর্ভোগে যাত্রীরা
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে পদ্মার প্রবল স্রোতে নদীতে ভেঙ্গে পড়েছে পাটুরিয়ার লঞ্চঘাট। এতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়েন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় যাতায়াতকারী লঞ্চ যাত্রীরা।
লঞ্চঘাটের সুপারভাইজার পান্না লাল জানান, পদ্মায় প্রবল স্রোতে কয়েকদিন ধরে লঞ্চঘাট এলাকায় লঞ্চ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছিল। হঠাৎই আজ মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে তীব্র স্রোত আঘাত হানে লঞ্চঘাটে। এতে জেটির খুঁটির নিচের মাটি সরে যায়। একটি জেটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে নদীতে। অপর জেটিও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে। দুই ঘণ্টা পর বিকাল ৫টার দিকে অপর জেটিও সম্পুর্ণভাবে ভেঙ্গে নদীতে পড়ে যায়। এতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুর্ভোগে পড়েন পারাপার হতে আসা যাত্রীরা। বাধ্য হয়ে ওইসব যাত্রীরা এখন ফেরিতে পারাপার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এ সমস্যা দেখা দিলেও কর্তৃপক্ষ আগাম কোনো প্রস্তুতি নেয় না। এবারও যথাসময়ে ব্যবস্থা না নেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
পড়ুন: ভাঙন ঝুঁকিতে দৌলতদিয়ার সবগুলো ফেরিঘাট
বিআইডব্লিউটিএর আরিচা নদী বন্দরের উপপরিচালক মো. সেলিম শেখ বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা জানার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। ইতোমধ্যে আমাদের একটি টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। যেহেতু এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, তাই যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে লঞ্চঘাটকে আমরা আমাদের রিজার্ভ দুই নম্বর ফেরিঘাটে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে বর্ষা মৌসুম চলায় ভেঙে যাওয়া জেটিগুলো তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করা সম্ভব নয়। আপাতত সেগুলো উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা হবে। বর্ষা শেষে উপযোগী পরিবেশ তৈরি হলে জেটিগুলো স্থায়ীভাবে মেরামত করে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করা হবে।’
৪৪৮ দিন আগে
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত
পাকিস্তানের ইসলামাবাদের বাংলাদেশ হাইকমিশনে আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, ২০২৫ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টায় ইসলামাবাদের ডিপ্লোমেটিক এনক্লেভে নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান মিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
এ সময় মিশনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য ও স্থানীয় পাকিস্তানি নাগরিকসহ চার শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
পরে দূতালয়ের সম্মেলনকক্ষে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে উপজীব্য করে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
পরে মিশনের কর্মকর্তা ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা আলোচনায় অংশ নেন। আলোচকগণ জুলাই পুনর্জাগরণে ছাত্র-জনতার সাহসী ভূমিকার স্মৃতিচারণ করেন। আলোচকরা বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানান।
পড়ুন: জুলাই ঘোষণাপত্র: চব্বিশের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানকে ‘রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে’
হাইকমিশনার রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানকে বৈষম্যমুক্ত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আলোচনা শেষে ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শীদ ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
হাইকমিশনার অতিথিদের সাথে নিয়ে দূতালয়ে স্থাপিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে ঘুরে দেখেন।
৪৪৯ দিন আগে
ভারত থেকে বাংলাদেশি যুবকের নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি
জীবিকার তাগিদে প্রায় তিন বছর আগে ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার রুহিয়া মানিকখাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. মিঠুন (২২) পাড়ি জমান পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। সবই ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু মিঠুনকে জিম্মি করে অমানুষিক নির্যাতনের ভিডিও আজ মঙ্গলবার ( ৫ আগস্ট) সকালে পাঠিয়ে তাদের পরিবারের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।
অপহরণকারীরা নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন তারা।
ভারতে জিম্মিদশায় পড়া যুবক মিঠুনের বাবা আব্দুর রউফ বলেন, ‘মিঠুন কয়েক বছর ধরে ভারতের পাঞ্জাবের একটি ইটভাটায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।
গত কয়েক দিন হলো মিঠুনের সঙ্গে তাদের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ ছিল না। আজ মঙ্গলবার সকালে একটি ভারতীয় নম্বর থেকে ফোন আসে। ২ লাখ টাকা না দিলে তারা মিঠুনকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এত টাকা কোথায় পাব জানি না। আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম বলেন, অপহরণকারীরা বাংলায় কথা বলছে। তার মানে তারা বাংলাদেশি। অপহরণকারীরা ২ লাখ মুক্তিপণের টাকা দাবি করেছে। তবে পরিবারগুলোর পক্ষে টাকা পরিশোধের সামর্থ না থাকায় তাদের জীবন এখন হুমকির মুখে। সরকার যেন দ্রুত উদ্ধারের পদক্ষেপ নেয় এই আহ্বান জানাই আমরা।
পড়ুন: লিবিয়ায় প্রবাসীকে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি, ফেনীতে গ্রেপ্তার ৩
মিঠুনের মা আয়েশা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘যেভাবেই হোক আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনুন। তিনি আরও জানান, ভিডিওটিতে মিঠুনকে চরমভাবে ভীতসন্ত্রস্ত দেখাচ্ছিল। অপহরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা হরিপুর উপজেলারই বাসিন্দা এবং তারা ভারতের কাশ্মীর অংশে কাজ করতেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
অপহৃত মিঠুনকে উদ্ধারের স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা।
হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, ‘বিষয়টি প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। অভিযোগ দিলে আমরা বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখব, এতে বাংলাদেশের কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
৪৪৯ দিন আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঢাবিতে সাদা দলের শিক্ষকদের র্যালি
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ‘ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনের অবসান এবং স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পলায়নের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক র্যালি করেছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’। আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা স্মরণ করেছেন শহীদদের ত্যাগ, তুলে ধরেছেন আন্দোলনের অর্জন এবং পুনরায় অঙ্গীকার করেছেন একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের নির্মাণের।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে র্যালিটি শুরু করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে সেটি রাজু ভাস্কর্য ঘুরে ভিসি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে, জুলাই অভ্যুত্থান ও মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুর্ঘটনায় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সমাবেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ.বি.এম. ওবাইদুল ইসলাম বলেন, গত বছর ৫ আগস্ট দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসনের পর শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের আন্দোলনের মুখে পালাতে বাধ্য হয়েছিল। সেদিন কারফিউ উপেক্ষা করে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। এর পেছনে রয়েছে জুলাই আন্দোলন ও গত ১৬ বছরের শহীদদের রক্ত, নিপীড়ন ও গুম-খুনের ইতিহাস। তাই বিজয়ের দিন হিসেবে উদযাপনের পাশাপাশি স্মরণ করছি আন্দোলনের শহীদদের। আমাদের আনন্দের মাঝেই রয়েছে তাদের ত্যাগের ইতিহাস।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের বিজয় ছিল অভ্যন্তরীণ এক ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে, যেখানে সরকার নিজ দেশের জনগণের ওপরই দমন চালিয়েছে। এই নিন্দনীয় দমননীতির দ্রুত বিচার আমরা দাবি করছি। বিচার বিলম্ব মানেই অন্যায়কে উৎসাহ দেওয়া, সমাজে অন্যায়কে স্থায়ী করে তোলা।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই দিনটিকে আমরা শুধু বিজয় নয়, গণতন্ত্র ও জনগণের শক্তির প্রতীক হিসেবেও স্মরণ করি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে ১৪শ’ শহীদ ও ৩০ হাজার আহতের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। আমরা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম একটি বৈষম্যহীন ও ইনক্লুসিভ বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে। আমরা আশা করছি এখন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ পাবো। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের মালিকানা চলে গিয়েছিল অল্প কয়েকজন মানুষের হাতে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা চাই, ২০২৪ সালের আন্দোলনেও যেন একই ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।
৪৪৯ দিন আগে
জুলাই ঘোষণাপত্র: চব্বিশের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানকে ‘রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে’
চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে ‘রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি’ দেওয়ার ঘোষণা সম্বলিত জুলাই ঘোষণাপত্র ঘোষণা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকালে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। পরে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর জুলাই আন্দোলন নিয়ে একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
পরে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষনেতাদের সঙ্গে নিয়ে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
জুলাই ঘোষণাপত্র-
১। যেহেতু উপনিবেশ বিরোধী লড়াইয়ের সুদীর্ঘকালের ধারাবাহিকতায় এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং নির্বিচার গণহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল;
২। যেহেতু, বাংলাদেশের আপামর জনগণ দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বিবৃত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে;
৩। যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন পদ্ধতি, এর কাঠামোগত দুর্বলতা ও অপপ্রয়োগের ফলে স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্ষুণ্ণ করেছিল;
৪। যেহেতু স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার মূলমন্ত্র গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে বাকশালের নামে সাংবিধানিকভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে এবং মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে, যার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশে সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে একদলীয় বাকশাল পদ্ধতির পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রবর্তনের পথ সুগম হয়।
৫। যেহেতু আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ছাত্র-জনতার অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৯১ইং সনে পুনরায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
৬। যেহেতু, দেশী-বিদেশি চক্রান্তে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ১/১১ -এর ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একচ্ছত্র ক্ষমতা, আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা হয়।
৭। যেহেতু, গত দীর্ঘ ষোল বছরের ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক এবং গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে এবং একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অতি উগ্র বাসনা চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে সংবিধানের অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক পরিবর্তন করা হয় এবং যার ফলে একদলীয় একচ্ছত্র ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।
৮। যেহেতু, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন, গুম-খুন, আইন-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং একদলীয় স্বার্থে সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধ্বংস করে।
৯। যেহেতু, হাসিনা সরকারের আমলে তারই নেতৃত্বে একটি চরম গণবিরোধী, একনায়কতান্ত্রিক, ও মানবাধিকার হরণকারী শক্তি বাংলাদেশকে একটি ফ্যাসিবাদী, মাফিয়া এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রের রূপ দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।
পড়ুন: জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস
১০। যেহেতু, তথাকথিত উন্নয়নের নামে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী নেতৃত্বে সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে বিগত পতিত দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ ও এর অমিত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং এর পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য ও জলবায়ুকে বিপন্ন করে।
১১। যেহেতু শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের জনগণ গত প্রায় ষোল বছর যাবত নিরন্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়;
১২। যেহেতু বাংলাদেশে বিদেশী রাষ্ট্রের অন্যায় প্রভুত্ব, শোষণ ও খবরদারিত্বের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে বহিঃশক্তির তাবেদার আওয়ামী লীগ সরকার নিষ্ঠুর শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন করে।
১৩। যেহেতু অবৈধভাবে ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন) এদেশের মানুষকে ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করে। ১৪। যেহেতু, আওয়ামী লীগ আমলে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয় এবং সরকারী চাকুরীতে একচেটিয়া দলীয় নিয়োগ ও কোটাভিত্তিক বৈষম্যের কারণে ছাত্র, চাকুরী প্রত্যাশী ও নাগরিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম হয়;
১৫। যেহেতু বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ওপর চরম নিপীড়নের ফলে দীর্ঘদিন ধরে জনরোষের সৃষ্টি হয় এবং জনগণ সকল বৈধ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই চালিয়ে যায়।
১৬। যেহেতু, সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিলোপ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ব্যাপক দমন-পীড়ন, বর্বর অত্যাচার ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যার ফলে সারা দেশে দল-মত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণবিক্ষোভ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
১৭। যেহেতু ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে অদম্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ যোগদান করে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বাহিনী রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে, অগনিত মানুষ পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করে এবং আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যগণ জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াইকে সমর্থন প্রদান করে।
১৮। যেহেতু, অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের পতন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জনগণ অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে, পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্ট ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ পরিচালনা করে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনরত সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র-জনতা তথা সর্বস্তরের সকল শ্রেণী, পেশার আপামর জনসাধারণের তীব্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
১৯। যেহেতু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট মোকাবেলায় গণঅভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে ব্যক্ত জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রত্যয় ও প্রয়োগ রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে যুক্তিসঙ্গত, বৈধ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত;
২০। যেহেতু জনগণের দাবি অনুযায়ী এরপর অবৈধ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের মতামতের আলোকে সাংবিধানিকভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে একটি অন্তর্বতীকালীন সরকার গঠন করা হয়।
২১। যেহেতু, বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের ফ্যাসিবাদবিরোধী তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়।
পড়ুন: মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে জুলাই ঘোষণাপত্র অনুষ্ঠানে অংশ নেবে বিএনপি
২২। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ সুশাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিদ্যমান সংবিধান ও সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক সংস্কার সাধনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।
২৩। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ বিগত ষোল বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম কালে এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক সংঘটিত গুম-খুন, হত্যা, গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধ ও সকল ধরনের নির্যাতন, নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধসমূহের দ্রুত উপযুক্ত বিচারের দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।
২৪। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গনঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।
২৫। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসঙ্গত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।
২৬। সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে যে একটি পরিবেশ ও জলবায়ু সহিষ্ণু অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষিত হবে। এবং ২৭। বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।
২৮। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রনয়ণ করা হলো।
অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, এবি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর,গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, ইসলামিক দলগুলোর নেতারাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষণাপত্র পাঠ অনুষ্ঠানের আগে বেলা ১১টা থেকে সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ধারাবাহিকভাবে অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো পরিবেশনা করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশেষ ড্রোন শো এবং রাত ৮টা থেকে আর্টসেল পরিবেশনা রয়েছে।
৪৪৯ দিন আগে
জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস
জুলাই অভ্যত্থানের এক বছরপূর্তির দিনে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। এতে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৫টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। পরে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর জুলাই আন্দোলন নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, এবি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, গণসংহিত আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী প্রমুখ।
৪৪৯ দিন আগে
মিঠামইনে ডিবি হারুনের ফুপা আ. লীগ নেতা ওমর ফারুক গ্রেপ্তার
কিশোরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলার ঘটনায় সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের ফুপা ও আওয়ামী লীগ নেতা ওমর ফারুককে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৪ আগস্ট) ৮টার দিকে ওমর ফারুক চৌধুরীকে তার মিঠামইন সদর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে মিঠা মইন পুলিশ।
সূত্র জানায়, গত বছর কিশোরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলার ঘটনায়, চলতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ওমর ফারুক চৌধুরী।
আরও পড়ুন: হিন্দুপল্লিতে হামলার উসকানি: গ্রেপ্তার সাংবাদিক ৩ দিনের রিমান্ডে
সোমবার(৪ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে গ্রেপ্তার করে তাকে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওমর ফারুক চৌধুরী মিঠামইন সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের ফুপা।
এই সত্যতা নিশ্চিত করেন মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবীর।
৪৪৯ দিন আগে
ফেনীতে বিএনপির গণঅভ্যুত্থান দিবসের র্যালিতে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৭
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিজয় র্যালিতে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে দাগনভূঞা পৌর শহরের জিরোপয়েন্টে এ হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপি গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এ বিজয় র্যালির আয়োজন করে। শান্তিপূর্ণ র্যালিটি চৌমুহনী রোড থেকে দাগনভূঞা পৌর শহরের জিরো পয়েন্টে পৌঁছালো সেখানে পূর্ব থেকে ওঁৎপেতে থাকা দলের অন্য একটি পক্ষ মিছিলে অতর্কিত হামলা করে নেতাকর্মীদের মোবাইল ছিনিয়ে নেয় ও তাদের মারধর করে।
পড়ুন: জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগই হবে আগামী বাংলাদেশের নির্মাণরেখা: প্রধান উপদেষ্টা
এসময় পিছন থেকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলায় উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি জাহানারা বেগম, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইমুন হক রাজীব, সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম মানিক, ইঞ্জিনিয়ার সোহেল ও সরোয়ারসহ প্রায় ১২ জন নেতাকর্মী আহত হন।
দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেনের অভিযোগ, হামলায় অংশ নিয়েছেন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইফুর রহমান স্বপন, আবুল হাশেম বাহাদুর ও ছাত্রদল থেকে বহিস্কৃত ফটিক। বিশৃঙ্খলা এড়াতে তাদের হামলার কোনো প্রতিবাদ না করিনি, বলেন তিনি।
আকবর আরও বলেন, আজকের বিজয় র্যালিতে হামলার ঘটনা একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। বিএনপিকে সাধারণ মানুষের কাছে বিতর্কিত করতে এই ষড়যন্ত্রকারীরা আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীদের উপর হামলা করেছে। তাদের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবো না। এ ষড়যন্ত্রে পা দিয়ে আমরা কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাই না। আমরা ধৈর্য্যধারণ করছি, আরও করে যাবো।
বিএনপির বিজয় র্যালিতে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইফুর রহমান স্বপন বলেন, আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে জিরোপয়েন্টে রক্তদান কর্মসূচি পালন করছি। এসময় তারা মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় মিছিল থেকে তাদের কিছু নেতাকর্মী আমাদের কটাক্ষ করে মন্তব্য করে। তখন আমাদের সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে আমরা তা নিবৃত্ত করি। আমাদের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে এ অভিযোগটি সত্য নয়। বরং তাদের হামলায় আমাদের বেলাল, সিফাত, মিলনসহ ৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, বিএনপির বিজয় র্যালিকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে পুলিশ তাৎক্ষণিক তা নিবৃত্ত করে। এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।
৪৪৯ দিন আগে
ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ৩১৯
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আর এ সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩১৯ জন রোগী।
সোমবার (৪ আগস্ট) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এসব মৃত্যু হয়েছে বলে আজ (মঙ্গলবার) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
নতুন করে আক্রান্তের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৯ জন। আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ২৩০ জন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছর আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ নারী।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু: দেশে আরও দুইজনের মৃত্যু
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২২ হাজার ৩৮৪ জন। এর মধ্যে ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ এবং ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ নারী।
৪৪৯ দিন আগে