বাংলাদেশ
ঢাকার চারপাশের নৌপথে বেসরকারি ওয়াটার বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানী ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করে ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নগরবাসীর যাতায়াত আরও সহজ করতে আগ্রহী বেসরকারি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব বিবেচনা করে নৌপথে তাদের ওয়াটার বাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিশেষ সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকার চারপাশের নৌপথ চালু-সংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করার পাশাপাশি নদীর দূষণ প্রতিরোধ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীর নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নদীতীরের পরিবেশ উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি নদীর চারপাশে নির্মিত ওয়াকওয়ের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর নির্দেশনাও দেন, যাতে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি নদীতীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।
সভা শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে ঢাকার চক্রাকার নৌপথে ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, আশুলিয়া থেকে সদরঘাট হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত নদীপথের একটি অংশ যাত্রীবান্ধব হলেও অন্য অংশে এখনও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সড়কপথে যেখানে মানুষ দেড় থেকে দুই ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সেখানে নদীপথে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগলে যাত্রীদের আগ্রহ কমে যায়। ফলে যাত্রী সংকট তৈরি হয়।
তিনি বলেন, এর আগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ওয়াটার বাস পরিচালনা করলেও যাত্রী স্বল্পতা, নদী দূষণ এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত ১০ বছরে সংস্থাটির প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়। ফলে সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়।
শেখ রবিউল আলম বলেন, এবার কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওয়াটার বাস পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের লক্ষ্য শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও বিনোদনের সম্ভাবনাও কাজে লাগানো।
হাতিরঝিলের ওয়াটার বাসের সঙ্গে এ প্রকল্পের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, হাতিরঝিলে অল্প দূরত্বে যাত্রীর চাপ বেশি এবং চলাচলেও তেমন কোনো বাধা নেই। কিন্তু দীর্ঘ রুটে যখন সড়কপথে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়, তখন নদীপথে যাত্রী আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
১ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ প্রাণহানি, আক্রান্ত ১১৩৭
দেশে আজ রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩৭টি শিশু।
রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৪৮টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৬টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮৪৪টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১১৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২২। এই সময়ে ৯৪৬টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৮৬টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৩, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ২৯৫। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৬২০ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজার ২৮৩ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
১ দিন আগে
পুলিশ কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশ কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করবে না, বরং পুলিশকে হতে হবে জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু ও নিরাপত্তার প্রতীক। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ দলীয় প্রভাবমুক্ত করে একটি আধুনিক, দক্ষ ও মানবিক সেবামুখী সংস্থায় রূপান্তর করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
রবিবার (২ আগস্ট) সকালে রাজশাহী জেলার সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমিতে ‘২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে চরম দলীয়করণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ বাহিনীর মনোবল পুনর্গঠনে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বাহিনীর পেশাদারত্ব ফিরিয়ে আনতে সততা ও শৃঙ্খলার ভিত্তিতে পুরস্কার ও তিরস্কারের নীতি কঠোরভাবে চালু করা হয়েছে। সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের জন্য যেমন পুরস্কৃত করা হচ্ছে, তেমনি অপরাধ বা শৃঙ্খলাভঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজকের এই আনন্দঘন মুহূর্তটি তাদের জীবনে অনেক আগেই আসার কথা ছিল। বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর যাবৎ যে সীমাহীন বঞ্চনা ও অমানবিক যন্ত্রণা তারা সহ্য করেছেন, তা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর ন্যায্য অধিকার ও পদমর্যাদা ফিরে পাওয়ায় তিনি সকল কর্মকর্তাকে শুভেচ্ছা জানান।
নবীন এএসপি প্রবেশনারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা দেশের এক ঐতিহাসিক রূপান্তরকালে পেশাগত জীবনে পদার্পণ করছেন। আইনের চোখে রাজপথের কর্মী থেকে প্রান্তিক কৃষক—সকলেই সমান। সেবা নিতে এসে কেউ যেন কোনো প্রকার বৈষম্যের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সদা সতর্ক থাকতে হবে। চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও সমন্বিত নেতৃত্বই বাহিনীর মূল শক্তি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ তদন্তে নবীন কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ কারিগরি জ্ঞান অর্জন করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে, তাই সকল পুলিশ সদস্যদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ প্রথম পর্যায়ের সদস্যরা তাদের দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন পেশায় অর্জিত জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
১ দিন আগে
প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদানের তারিখ পরিবর্তন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর শূন্য পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের যোগদান তারিখ ২৯ অক্টোবর পরিবর্তন করে আগামী ১ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে এবং যোগদানের পরদিন তাদের পদায়ন করা হবে।
রবিবার (২ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব জনাব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান করবেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে।
যোগদানের পরদিন পদায়ন এবং পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
১ দিন আগে
বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ে বৈঠক করেছেন।
রবিবার (২ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পণ্য আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, নৌপরিবহন যোগাযোগ জোরদার, এলএনজি আমদানি ও পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ বৈঠকে বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও সীমান্ত যোগাযোগসংক্রান্ত যেসব বিষয় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও অর্থবহ ও গতিশীল করতে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।’
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করা গেলে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও জনগণ উপকৃত হবেন। প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে সীমিত বা অস্থায়ী পরিসরে সীমান্ত বাণিজ্য চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।’
বৈঠকে কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় হয়। ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ এবং বিজনেস-টু-বিজনেস (বি২বি) কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাপ্ত তালিকার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিরাপত্তা ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ পক্ষ দ্রুত প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
উভয় পক্ষ দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা ও যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বাংলাদেশে পরবর্তী যৌথ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা এবং এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সরাসরি নৌ যোগাযোগ চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে উভয় পক্ষ মত প্রকাশ করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সংযোগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর মিয়াত লুইন উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
রাজধানীর কলাবাগানে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী-শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগ
রাজধানীর কলাবাগান থানার কাঠালবাগান এলাকায় কথা কাটাকাটির জেরে রাত্রি (২০) ও ফিরোজা বেগম (৩৫) নামে দুই নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শিপন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে কাঠালবাগান আলামিন মসজিদের পাশে পাঁচতলা ভবনের একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত অবস্থায় মা ফিরোজা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন এবং মেয়ে রাত্রি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক জানান, আজ (রবিবার) সকাল ৯টার দিকে কলাবাগান থানার আলামিন মসজিদের ৫২ নাম্বার বাসার পঞ্চম তলায় স্ত্রী রাত্রির সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় শিপনের। পরবর্তীতে শাশুড়ি ফিরোজা বেগম মেয়ের পক্ষ নিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাশুড়িকে এবং স্ত্রীকে আঘাত করেন শিপন। এতে ঘটনাস্থলেই রাত্রি নিহত হন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, রাত্রির সঙ্গে শিপনের ডিভোর্স হয়ে গিয়েছিল এরপরও তারা একইসঙ্গে থাকত বলে জেনেছি।
হত্যাকারী শিপন থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১ দিন আগে
প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে অক্টোবরে
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের যোগদান প্রক্রিয়া আগামী অক্টোবর মাসে শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শনিবার (১ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত এক জরুরি ভার্চুয়াল সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকের জন্য সুপারিশ করা ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষকের যোগদানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। তদন্ত ও প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রিতার কারণে তা বিলম্বিত হয়েছে। আশা করি, আসন্ন ৩০শে অক্টোবরের মধ্যে তাদের যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
২ দিন আগে
অর্থনীতির ইতিবাচক পরিবর্তনে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
শনিবার (১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রায় চার ঘণ্টা ধরে এই সভা হয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। তবে আমরা একসঙ্গে কাজ করলে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরকার যেমন উপলব্ধি করছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও তা অনুধাবন করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ বিষয়ে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই স্বীকার করছি যে অনেক সমস্যা আছে। সরকার নিশ্চয়ই এতটুকু প্রমাণ করতে পেরেছে যে, আমরা চেষ্টা করছি। সরকারের বয়স এখনও ছয় মাস হয়নি। এর মধ্যেই আমরা কয়েক দফা বৈঠক করেছি। প্রথমে আপনাদের সঙ্গে বসেছি, পরে ফোরামের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। সেক্টরভিত্তিক সমস্যাগুলো নিয়েও আমরা কাজ করছি।’
আগের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেগুলোর অনেকগুলোরই সমাধান হয়েছে। আজকের বৈঠকেও নতুন কিছু সমস্যার কথা উঠে এসেছে। সেগুলো নিয়েও সরকার কাজ করবে।
আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান সরকারপ্রধান। এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘আমরা যত বেশি বসতে পারব, তত বেশি আপনাদের (ব্যবসায়ী) সমস্যাগুলো জানতে পারব এবং সেগুলোর সমাধান করতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান বেরিয়ে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে খোলামেলা আলোচনা হলে কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়। এ ধরনের সংলাপ অব্যাহত থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ, নীতিগত সহায়তা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তারা চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সভায় জানানো হয়, আগের বৈঠকে আলোচিত ২৮টি সমস্যার মধ্যে ২১টির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি সাতটি বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ সময় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার রূপরেখাও তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেয় সরকার।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও বিপণনব্যবস্থায় আধুনিকতা আনতে হবে: বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী
টাঙ্গাইলে তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের উদ্বোধন এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের আধুনিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং তাঁতপণ্যের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
শনিবার (১ আগস্ট) টাঙ্গাইলে তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবনির্মিত কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নবনির্মিত তাঁত প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার শুধু একটি ভবন বা অবকাঠামো নয়; এটি দক্ষ তাঁতী, কারিগর ও উদ্যোক্তা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে তাঁতীদের আধুনিক প্রযুক্তি, পরিবর্তিত ফ্যাশন, নতুন নকশা, পণ্যের গুণগত মান, বাজার বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল বিপণন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর প্রশিক্ষণার্থীদের শুধু সনদ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তাদের দক্ষতা অনুযায়ী টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, স্পিনিং মিল ও সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হবে।
মো. শরীফুল আলম বলেন, টাঙ্গাইলের শাড়ি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, গর্ব ও আবেগের প্রতীক। টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পণ্যের নকশা, মান, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনব্যবস্থায় আধুনিকতা আনতে হবে। ‘এক গ্রাম, এক পণ্য-ফিরিয়ে আনব হারানো ঐতিহ্য’ ধারণাকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের শাড়িসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্য পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জামদানি, টাঙ্গাইলের শাড়ি, বেনারসি, রেশম ও দেশের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্য বাংলাদেশের পরিচয় বহন করছে। এসব পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ই-কমার্স ব্যবহারে তাঁতীদের দক্ষ করে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে রপ্তানিমুখী তাঁত, বস্ত্র, পাট ও জিআই পণ্য প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁতপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে স্থলবন্দর ব্যবহারে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রং, সুতা ও অন্যান্য কাঁচামাল আমদানির সুবিধা যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের পরিবর্তে প্রকৃত তাঁতীরা সরাসরি পান, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তাঁতীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা, সহজ ঋণ, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
টাঙ্গাইলের দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কটন মিল পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়ে মো. শরীফুল আলম বলেন, মিলটি একসময় এ অঞ্চলের হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মিলটি পরিদর্শন করেছেন। বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত মিলটি চালু করে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্প এ অঞ্চলের মানুষের জীবন, জীবিকা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে তাঁতীরা আধুনিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে উৎপাদিত পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য বাড়াতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁতীদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামাল সংগ্রহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্প আরও শক্তিশালী হবে। এ শিল্পের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এ মসময় অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
প্রাথমিকে ক্রীড়া শিক্ষায় মার্শাল আর্ট অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে তুলতে ক্রীড়া শিক্ষার পাশাপাশি মার্শাল আর্টও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যেই সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করছে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে বাধ্যতামূলক ক্রীড়া শিক্ষার অংশ হিসেবে মার্শাল আর্টকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে রাজধানীর বিজয় সরণিতে র্যাংগস ভবনে বাংলাদেশ কিয়োকুশিন কারাতে সংস্থা আয়োজিত ‘ব্ল্যাক বেল্ট প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মার্শাল আর্ট কেবল আত্মরক্ষার কৌশল নয়, এটি একজন মানুষকে শৃঙ্খলাবোধ, আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও ইতিবাচক মানসিকতা অর্জনে সহায়তা করে। একজন শিক্ষার্থী যখন নিজের ওপর আস্থা অর্জন করে, তখন সে সহিংসতা ও সংঘাত এড়িয়ে চলতে শেখে এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলা ও মার্শাল আর্টের প্রসার অপরিহার্য। তাই কারাতে সংগঠনগুলোকে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের কারাতে চর্চার স্মৃতিচারণ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ১৯৯১ সালে কিয়োকুশিন কারাতে প্রশিক্ষণ শুরু করার মধ্য দিয়ে তার এই যাত্রা শুরু হয়। সেই সময়ের অনুশীলন, সহপাঠীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং বিভিন্ন ব্রেকিং ও কারাতে প্রদর্শনীর স্মৃতি আজও তাকে অনুপ্রাণিত করে। বর্তমান প্রজন্মের কারাতেকাদের পরিবেশনা দেখে তার তিন দশকেরও বেশি সময় আগের স্মৃতি ফিরে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং আত্মরক্ষার সক্ষমতা গড়ে তুলতে মার্শাল আর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে একটি সুস্থ, দক্ষ ও মানবিক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ব্ল্যাক বেল্ট অর্জনকারী কারাতেকাদের মাঝে ব্ল্যাক বেল্ট প্রদান করেন। এ সময় তিনি বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।
২ দিন আগে