বাংলাদেশ
সংসদের চেয়ে রাজপথকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয়: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জাতীয় সংসদই রাজনৈতিক বিতর্ক, মতবিনিময় ও সমস্যার সমাধানের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। সংসদের পরিবর্তে রাজপথকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয়।
তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা যখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চা করতে চাই এবং জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতির ধারায় এগিয়ে নিতে চাই, তখন দেখা যায় কেউ কেউ সংসদের চেয়ে রাজপথকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে।
শনিবার (১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন এবং বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ষড়যন্ত্রের গভীরতা সম্পর্কে সচেতন। তবে দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে তারা উত্তেজনা নয়, বরং গঠনমূলক সমাধানেই বিশ্বাসী।
তিনি বলেন, আমরা বুঝি বলেই দায়িত্বশীল আচরণ করি, অভিভাবকের ভাষায় কথা বলি। প্রতিক্রিয়াশীল ও উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং একটি স্বাধীন, স্বনির্ভর ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই আন্দোলনের পর্ব শেষ হয়েছে। এখন দেশ গঠনের সময়।
তিনি বলেন, এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব দেশ গড়া। যারা সমস্যা তৈরি করবে, তাদের সঙ্গে প্রথমে গঠনমূলকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে রাষ্ট্র, দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হবে না।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র ও আন্দোলনের ইতিহাস জানতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। এই আন্দোলনের ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের বাস্তব চিত্র তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে।
তিনি বলেন, এই প্রদর্শনী অতীতের নির্মমতা স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে যেন দেশে আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ১৬ বছরের আন্দোলন, শোষণ, নিপীড়ন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তিনি শহিদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল শিক্ষা হলো জনগণের ঐক্য। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হবে। একই সঙ্গে মব কালচার, সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে তিনি এসব প্রতিরোধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ এবং সাংবাদিক-সংস্কৃতিকর্মীদের মানবতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসীন বলেন, ফটোসাংবাদিকরা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন। অথচ তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন অনেক সময় করা হয় না, যা দুঃখজনক।
তিনি বলেন, ফটোসাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাদের মূল্যায়ন করা উচিত। এ সময় ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিএনপির প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে আহত ফটোসাংবাদিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা একক গোষ্ঠীর অর্জন নয়, এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কেউ কেউ জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করে বিভাজন সৃষ্টি করছেন, যা আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্যাতনের শিকার হলেও তা নিয়ে কখনও রাজনৈতিক প্রচারণা করেননি।
রুমন আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক এবং ফটোসাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আন্দোলনের সময় সাংবাদিকরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই নেতাকর্মীদের সহায়তা করেছেন। তিনি সবাইকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনের আহ্বান জানান এবং ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ও বিএনপি পরিবারের নেতাকর্মীদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল, বিপিজেএর সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, সহ-সভাপতি মশিউর রহমান সুমনসহ সংগঠনের সদস্যরা।
২ দিন আগে
রবিবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরছে খুবি শিক্ষার্থীরা
প্রায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলন, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার পর অবশেষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।
তিন দফা দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করায় আগামী রবিবার (২ আগস্ট) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালুর আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন। একইসঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এরপর প্রশাসনের ধারাবাহিক পদক্ষেপ ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিন দফা দাবির বিষয়ে সন্তোষজনক অগ্রগতি বিবেচনায় আগামী রবিবার (২ আগস্ট) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল করার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
তবে একই সঙ্গে তারা জানিয়েছেন, তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে থাকবেন। ভবিষ্যতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের গড়িমসি বা অসহযোগিতামূলক আচরণ পরিলক্ষিত হলে পুনরায় কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাদমান রহমান বলেন, ‘আমাদের টার্ম পরীক্ষা আন্দোলনের কারণে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হোক। তবে একই সঙ্গে আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন যেহেতু ইতোমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে, তাই আমরা ক্লাসে ফিরছি। আশা করি বাকি সিদ্ধান্তগুলোরও দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং যেসব বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে, সেগুলোও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এগিয়ে চলছে।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা স্বস্তি প্রকাশ করছি। প্রশাসনের লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ, জবাবদিহিমূলক এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। এজন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ ধারাবাহিকভাবে নেওয়া হবে এবং আগামীকাল থেকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে।
২ দিন আগে
বিনিয়োগ আকর্ষণে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত করা এবং বেসরকারি খাতের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, জ্বালানি নিরাপত্তা, কর সংস্কার, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজ করার নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
বৈঠকে দেশের প্রথম সারির শিল্পগোষ্ঠীর উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
মাহ্দী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের মতামত ও সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার কারণে বাণিজ্য, শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে সরকার গত পাঁচ মাসে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের জন্য ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি জানান, ব্যবসায়ীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরলে তিনি সেগুলো বিস্তারিতভাবে শুনেছেন এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বৈঠকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি দূর করা, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর কাঠামো সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন এবং বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।
২ দিন আগে
বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগামী সপ্তাহে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন শীর্ষ নির্বাহী ও ব্যবসায়ী নেতা বাংলাদেশ সফরে আসছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
শনিবার (১ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
মাহ্দী আমিন জানান, সফররত মার্কিন প্রতিনিধিদল বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। তাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথা জানানো হয়েছে। তারা মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে এবং গত প্রায় পাঁচ মাসে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।
মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও গভীর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে এবং এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কীভাবে নীতিগত সহায়তা দেওয়া যায়, সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, রপ্তানি ও আমদানি বাড়ানোর উপায় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও বেশি মার্কিন বিনিয়োগ নিশ্চিত করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন ব্যবসায়ী নেতা বা প্রথম সারির কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসবেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) ইতিবাচকভাবে সংশোধিত হওয়াও বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশটি থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের আশা করছে সরকার, যা দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক হবে।
মাহ্দী আরও বলেন, বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরও সংবাদমাধ্যমকে একই ধরনের ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতের মতোই বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে পাশে থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যে আস্থা প্রকাশ করেছে, তা ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো অর্থনৈতিক জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে এদিন কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, দুই দেশের বিদ্যমান বহুমাত্রিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
২ দিন আগে
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার উপমহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস ঢাকায়
চার দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অপারেশন্স বিষয়ক উপমহাপরিচালক (ডিডিজি-ও) উগোচি ড্যানিয়েলস।
শনিবার (১ আগস্ট) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য আইওএমের আঞ্চলিক পরিচালক ইওরি কাতো, বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক এবং বাংলাদেশে আইওএমের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্ড।
এক বার্তায় আইওএম জানায়, সফরকালে ড্যানিয়েলস বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং আইওএমের সহায়তাপ্রাপ্ত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
সফরকালে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন বিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তি (জিসিএম) বাস্তবায়নে বাংলাদেশের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০ উদ্বোধন, কক্সবাজার ও মাদারীপুর সফর এবং অভিবাসন সুশাসন, জলবায়ুজনিত অভিবাসন, শ্রম অভিবাসন, সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা বিষয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কথা রয়েছে তার।
২ দিন আগে
দায়িত্ব নিলেন বিজিএমইএর নতুন মহাসচিব ড. সাহেদুল
দেশের তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নতুন মহাসচিব হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মেজর জেনারেল (অব.) ড. মো. সাহেদুল ইসলাম।
শনিবার (১ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিএমইএ এ তথ্য জানায়।
বিজিএমইএর নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন মহাসচিব তার মেধা, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং নতুন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর মেজর জেনারেল ড. সাহেদুল ইসলাম (অব.) বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএতে যোগ দিতে পেরে তিনি আনন্দিত।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা, পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে তিনি বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদ ও সব উদ্যোক্তার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিজিএমইএর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সামরিক নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে ৩৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মেজর জেনারেল (অব.) ড. সাহেদুল ইসলাম ওয়াশিংটন ডিসিতে ডিফেন্স অ্যাটাশে হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘লিজিওন অব মেরিট’ পদকে ভূষিত হন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘শ্রমিকদের দক্ষতা পর্যালোচনা ও উন্নয়ন’ বিষয়ে পিএইচডি, এমফিল ও এমবিএ এবং ভারতের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ইন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) ডিন, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে ট্রেজারার ও অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
২ দিন আগে
সাংহাইভিত্তিক ডব্লিউএআইসিওতে পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেবে বাংলাদেশ
চীনের সাংহাইভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনে (ডব্লিউএআইসিও) প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষক (অবজারভার) হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।
শনিবার (১ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চলতি বছরের ১৬ জুলাই গঠিত সাংহাইভিত্তিক আন্তঃসরকারি এই সংস্থাটির ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা, বৈশ্বিক ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বৈশ্বিক উন্নয়নের জন্য উন্মুক্ত, ন্যায্য ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তোলা এবং এআই প্রযুক্তি যেন মানবকল্যাণে নিরাপদ ও উপকারীভাবে ব্যবহৃত হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এগিয়ে নেওয়া।
গত ১৬ জুলাই সাংহাইয়ে ২৯টি দেশ ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএআইসিও) প্রতিষ্ঠার চুক্তিতে সই করে।
চীনের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া কাজাখস্তান, লাওস, পাকিস্তান, রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ ২৯টি দেশের প্রতিনিধিরা চুক্তিতে সই করে তাদের দেশকে ডব্লিউএআইসিওর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী, সংস্থাটি জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালা সমুন্নত রাখবে এবং ব্যাপক পরামর্শ, যৌথ অবদান ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করবে।
এআই যেন নিরাপদ, ন্যায্য ও মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক সুশাসন জোরদার করার পাশাপাশি এ প্রযুক্তির স্বাস্থ্যকর ও সুশৃঙ্খল বিকাশে কাজ করাই হবে সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য।
২ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ প্রাণহানি, আক্রান্ত ৮৭২
দেশে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৮৭২টি শিশু।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৪৪টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৬টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮৪০টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১২১টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৭৫১। এই সময়ে ৬৮৭টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫৩৮টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৬১, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ১৮০। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৬৭৪ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৭ হাজার ৩৯৭ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
২ দিন আগে
মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটে উদ্ধার হওয়া বস্তু বোম্ব নয়, আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান ডিএমপির
রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমাসদৃশ দুটি পরিত্যক্ত বস্তু পাওয়া যাওয়ার ঘটনায় সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও সেগুলোতে কোনো বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার (১ আগস্ট) মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের পশ্চিম পাশে লিফটের কাছে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগে বোমাসদৃশ বস্তু থাকার কথা জানায় ডিএমপি। একই সময়ে ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের কাছেও একটি সন্দেহজনক বস্তা পাওয়া যাওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
এরপর দুপুর ১টা ১০ মিনিটে মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ করে দিয়ে স্থানটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ডিএমপি জানায়, খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনে প্রথম ঘটনায় বোমাসদৃশ বস্তু থাকার সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সন্দেহজনক ব্যাগটি এক্স-রে করে। এতে ভেতরে কৌটাসদৃশ একটি বস্তু দেখা গেলে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
পরে ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে জর্দার একটি কৌটা ও পান ছিল। কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর বস্তু পাওয়া যায়নি।
ফার্মগেটের ঘটনার বিষয়ে ডিএমপি জানিয়েছে, তেজগাঁও থানাধীন ফার্মগেট এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বস্তাকে ঘিরে বোমা সন্দেহের সৃষ্টি হলে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হ্যান্ড এন্ট্রির মাধ্যমে বস্তাটি পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, বস্তার ভেতরে কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু নেই।
ডিএমপি নগরবাসীকে গুজব বা বিভ্রান্তিতে আতঙ্কিত না হয়ে সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
২ দিন আগে
অন্তর্বাসের মধ্যে ক্যাপসুলসদৃশ স্বর্ণ, শাহ আমানতে ভারতীয় যাত্রী আটক
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিনব কৌশলে স্বর্ণ চোরাচালানের একটি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এ ঘটনায় প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ক্যাপসুলসদৃশ স্বর্ণসহ এক ভারতীয় যাত্রীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়।
সিআইআইডি জানায়, আজ সকাল ৬টা ৫৮ মিনিটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রামে পৌঁছান থামিম আনসারি নামের এক ভারতীয় নাগরিক। তিনি বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার পর সিআইআইডির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের একটি দল তাকে শনাক্ত করে। পরে দেহ তল্লাশি চালিয়ে তার অন্তর্বাসের (আন্ডারওয়্যার) ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ক্যাপসুলসদৃশ স্বর্ণজাত পদার্থ উদ্ধার করা হয়।
২ দিন আগে