বাংলাদেশ
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি ৪, আক্রান্ত ১১২৭
দেশে আজ রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১২৭টি শিশু।
রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৬০টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯২টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৬৫২টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৭৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১০৫২। এই সময়ে ৯৭৩টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৮৯টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৮৫ হাজার ৯৫১, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৩২৩। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৭০ হাজার ৫৭৯ রোগী, যাদের মধ্যে ৬৬ হাজার ৮৪১ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
৫ দিন আগে
বিমানকে সুনামের জায়গায় নিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য: বিমানমন্ত্রী
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, দীর্ঘদিনের সমস্যা দুই-তিন মাসের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। বিমানের যেসব জটিলতা আছে, সেগুলো থেকে যেন আমরা দ্রুত বের হয়ে আসতে পারি, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। বিমানকে সুনামের জায়গায় নিয়ে যাওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের হরিজন পল্লি পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও রক্তদান কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা প্রবাসী আছে, তারা যেন আরও সুযোগ-সুবিধা পায়, সেটা আমার মূল কাজ। সেই কাজটাই করার চেষ্টা করছি। বিগত সময়ে বিমানবন্দরে যে অবস্থা ছিল, তার চেয়ে এখন অবস্থা অনেকটাই ভালো আছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের সুনাম নষ্ট করার জন্য কিছু অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমাদের এই প্রতিষ্ঠানের মূল কাজটাই হচ্ছে প্রবাসী ভাইবোনদের নিয়ে। আমার প্রবাসী ভাইবোনরা যেন ভালো থাকে এবং তারা দেশের মাটিতে পা দিয়ে যেন বুঝতে পারে যে আমি আমার নিজের দেশে এসেছি।’
এ সময় হরিজন ও রবিদাস সম্প্রদায়ের লোকদের নানা সমস্যার সমাধানে আশ্বাস দেন এবং তাদের সন্তানরা যেন ভালো চাকরি পায় সে ব্যাপারেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) জেলা শাখার আয়োজিত এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. আইভি ফেরদৌস, ড্যাবের জেলা সভাপতি ডা. বদরুল আলম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ডা. জিয়াউর রহমানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
৬ দিন আগে
সৃজনশীল শিল্প বাংলাদেশের ‘সফট পাওয়ার’ বৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, জাতীয় পরিচিতি ও সফট পাওয়ারের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলি নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
শনিবার (১৩ জুন) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’-এর ‘থিম্যাটিক থ্রি: দ্য নিউ স্টেজ—গভর্নমেন্ট পলিসি, এআই, ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড স্পোর্ট’ শীর্ষক সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক হিসাবের ওপর নির্ভর করে না, বরং একটি দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়, মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংগীত, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, ঐতিহ্য ও সৃজনশীল শিল্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী সৃজনশীল শিল্প এখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের অন্যতম প্রধান খাত। বাংলাদেশ তার সাংস্কৃতিক সম্পদকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে।
তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদার ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্প, সাংস্কৃতিক পর্যটন ও যৌথ উদ্যোগে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব মো. আমিনুল হক এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) রেহান আসিফ আসাদ।
এ ছাড়াও, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, অর্থনীতিবিদ এবং সৃজনশীল ও ক্রীড়া খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
শিক্ষাব্যবস্থাকে মালয়েশিয়া-অস্ট্রেলিয়ার মানে উন্নীত করার কাজ চলছে: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। ইতোমধ্যে আমরা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছি। দেশের এ বিশাল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে এবং আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবন ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আমরা আগে যে ধরনের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা গ্রহণ করেছি, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা সেটির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মূলত ইনোভেশন, স্টার্টআপ এবং প্রজেক্ট বেইজড। শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান বাজেটে এ খাতে বরাদ্দও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান রাসেল। প্রদর্শনীতে ৬ কলেজসহ উপজেলার মোট ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।
শিক্ষার্থীরা এখানে তাদের উদ্ভাবনী চিন্তার মোট ২৯টি প্রজেক্ট উপস্থাপন করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন ক্যাটিগরিতে বিজয়ী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়।
প্রজেক্ট প্রদর্শন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, দ্বিতীয় স্থান রহিমানগর বিএবি উচ্চ বিদ্যালয় ও তৃতীয় স্থান গুলবাহার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিজয়ী লাভ করে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু নাছির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাওকাত হোসেন সুমন, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশরাফ, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম, শিক্ষক, সুধী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) ডুলহাজারার মালুম ঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে জনসাধারণের প্রতি তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশের সকলের কাছে অনুরোধ করব, আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, আপনার সন্তান যেন একটি সুন্দর পরিবেশে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে, এই বিষয়টি মাথায় রেখে আজকে থেকে প্রত্যেকে দয়া করে যার যেখানে সম্ভব সেখানে একটি করে বৃক্ষের চারা রোপণ করবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এই বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে পারি, তাহলে এতটুকু আমরা ধারণা করতে পারি যে, আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঠিকভাবে বুক ভরে পরিষ্কার শ্বাস নিতে পারবে।
‘আসুন, আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিশ্চয়তা দিই, একটি পরিষ্কার একটি দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়তে পারি যেখানে আমাদের প্রজন্ম পরিষ্কার পরিবেশে বাস করবে।’
নির্বাচনের আগে বিএনপির দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি যেগুলো দিয়েছিলাম, তার মধ্যে একটি প্রতিশ্রুতি ছিল যে আমরা যদি আল্লাহর রহমতে সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে আমরা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করব। আমাদের লক্ষ্য থাকবে বছরে অন্তত ৫ কোটি গাছ লাগানো। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চার রোপণ করব আমরা।
জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা যদি সকলে মিলে চেষ্টা করি, তাহলে আগামী দিনে বাংলাদেশের বাতাসকে আমরা অনেক মুক্ত, পরিষ্কার, বিশুদ্ধ একটি বাতাসে আমরা রূপান্তর করতে পারব।’
৬ দিন আগে
২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
পরিবেশ সুরক্ষা জোরদার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে কক্সবাজারের পিএমখালীর ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা ১১ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।
জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল-ক্ষমতায় এলে সারাদেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে।
কক্সবাজারের মালুমঘাটে এই কর্মসূচির উদ্বোধনের মাধ্যমে সরকার তাদের আরেকটি নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করল।
পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরে এই বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
প্রথম ধাপে দেশের ৪৯টি জেলার ১৪৯টি উপজেলায় দেড় কোটি চারা রোপণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং পরিবেশ সচিব রায়হান কাওছার প্রমুখ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। এরপর ঢাকার কড়াইল বস্তিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ এবং সিলেটে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি’ উদ্বোধনের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় পাইলটিং প্রকল্প শুরু করে সরকার। একই সঙ্গে সরকার ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য সম্মানী ও স্পোর্টস কার্ড প্রদান কর্মসূচিরও সূচনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার প্রথম কক্সবাজার সফর। সফরসূচি অনুযায়ী, পাতলী খালের খনন উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে এক পথসভায় বক্তব্য দেন। পরে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহিদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেরও কথা রয়েছে।
বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত এলাকা পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে হোটেল লং বিচের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।
সব কর্মসূচি শেষে রাত প্রায় ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিন পর এমন উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার।
৬ দিন আগে
অস্থিতিশীলতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাজেটের বিরোধিতা করছে বিরোধী দল: প্রধানমন্ত্রী
দেশে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, তাদের (বিরোধী দল) লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়; তাদের উদ্দেশ্য একটাই, দেশের মধ্যে একটি অস্থিতিশীতা-অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী পাতলীখাল আনুষ্ঠানিক পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, আলহামদুলিল্লাহ, এইবার বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোন জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়নি। কারণ চাল, ডাল, তেল, নুন সব প্রয়োজনীয় যে জিনিসপত্রগুলো আছে তার ওপর যে সকল ট্যাক্স ছিল, বর্তমান সরকার এই দুইদিন আগের বাজেটে ৬০টি পণ্যের উপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে, যাতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম না বাড়ে। এর উদ্দেশ্য লক্ষ্য একটাই. দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল বলছে যে এই বাজেট তারা মানে না, এই গণবিরোধ বাজেট তারা মানে না। আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যেই বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যেই বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?’
৬ দিন আগে
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি ৫, আক্রান্ত ৭৯৬
দেশে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৭৯৬টি শিশু।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৫৬টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯২টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৬৪৮টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৬৩টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৭৩৩। এই সময়ে ৬৭২টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫৭৭টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৮৪ হাজার ৮৯৯, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ২৪৮। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৬৯ হাজার ৬০৬ রোগী, যাদের মধ্যে ৬৫ হাজার ৮৫২ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
৬ দিন আগে
মে মাসে ৬১৩ সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ৬২২ প্রাণ: যাত্রী কল্যাণ সমিতি
গত মে মাসে দেশে ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৫২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে রেলপথে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত, ১৫ জন আহত এবং সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে মে মাসে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৬৭৬টি দুর্ঘটনায় ৬৭১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৯৬ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত ও ২১৯ জন আহত হয়েছেন। মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ০৫ শতাংশ, নিহতের ৩৭ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং আহতের ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
বিভাগভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১৮০টি দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত ও ৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ২৭টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন।
সংগঠনটির দাবি, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ছয়জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৩৯ জন চালক, ১২১ জন পথচারী, ১১৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, আটজন শিক্ষক, ৯৩ জন নারী, ৬৮ জন শিশু, দুজন চিকিৎসক, তিনজন সাংবাদিক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন আইনজীবী এবং তিনজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় পাওয়া গেছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন পুলিশ সদস্য, দুইজন বিজিবি সদস্য, একজন চিকিৎসক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১৩৬ জন চালক, ১১০ জন পথচারী, ৬৯ জন নারী, ৫৯ জন শিশু, ৭৩ জন শিক্ষার্থী, ৪৯ জন পরিবহন শ্রমিক, আটজন শিক্ষক, একজন আইনজীবী এবং তিনজন রাজনৈতিক কর্মী।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুর্ঘটনায় জড়িত ৯৭৫টি যানবাহনের মধ্যে ২৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩ দশমিক ১০ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বাস, ১২ দশমিক ৯৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ নছিমন, করিমন, মাহিন্দ্রা, ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ কার, জিপ ও মাইক্রোবাস।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৪২ দশমিক ০৮ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২ দশমিক ৩০ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কার ঘটনা, ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ অন্যান্য কারণে, শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ ওড়না চাকায় পেঁচিয়ে এবং শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।
স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৪৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৬৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ ফিডার সড়কে ঘটেছে। এছাড়া ৫ দশমিক ২২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঢাকা মহানগরে, শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরে এবং শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল, সড়ক চিহ্ন ও পর্যাপ্ত আলোর অভাব, মিডিয়ান না থাকা, নির্মাণগত ত্রুটি, উল্টো পথে যান চলাচল, চাঁদাবাজি, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেপরোয়া গতি এবং বৃষ্টির কারণে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটি দুর্ঘটনা কমাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনা, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ, মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও পথচারী সুবিধা নিশ্চিতকরণ, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষা, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবহন খাতে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধের সুপারিশ করেছে।
৬ দিন আগে
প্রশাসনিক সংস্কার, দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে: অর্থমন্ত্রী
ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চাপ ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ (শুক্রবার) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি কোনো স্বল্পমেয়াদী সমস্যা নয়। এটি গত কয়েক বছরের পুঞ্জীভূত চাপ, বৈশ্বিক সংঘাত, আমদানির উচ্চ খরচ এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার সম্মিলিত ফল।
তিনি উল্লেখ করেন, গত তিন বছর ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন বাহ্যিক কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে, ঋণখেলাপি, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকগুলোতে যে মূলধন সংকট তৈরি হয়েছে, তা তহবিলের খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমির খসরু বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ ধরনের বাহ্যিক মূল্যস্ফীতির চাপের ওপর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। তবে, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ, প্রশাসনিক সংস্কার ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ব্যবসার খরচ কমিয়ে সরকার দেশের ভেতরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে পারে।
অর্থমন্ত্রীর মতে, দীর্ঘমেয়াদী অনুমোদন প্রক্রিয়া, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ঋণের উচ্চ সুদ, বন্দরে অদক্ষতা এবং কর ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়।
তিনি বলেন, বাজারে পুলিশ, নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বা সরকারি কর্মকর্তা মোতায়েন করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এটি সঠিক নীতি এবং দক্ষ প্রশাসনের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।
বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
খসরু বলেন, সরকার ব্যবসার সহজীকরণ, অপ্রয়োজনীয় নিয়মকানুন হ্রাস এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বৃহত্তর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেবে। এছাড়া বন্দর, লজিস্টিকস এবং ক্রয় প্রক্রিয়ার সংস্কারও খরচ কমাতে সাহায্য করবে।
দীর্ঘমেয়াদী ক্রয় পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাজারের ধাক্কা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের জ্বালানি, খাদ্য ও সারের কৌশলগত মজুত বজায় রাখা উচিত। জ্বালানি আমদানির বিষয়ে অতীতের স্পট মার্কেট নির্ভরতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভালো দাম পেতে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির দিকে এগোতে চায়।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিষয়ে খসরু বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর বড় ধরনের কোনো সমন্বয় না হওয়ায়, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের সঙ্গে সঙ্গতি রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।
তিনি বলেন, মানুষ যখন আর্থিক সংকটে পড়ে, তখন দুর্নীতির প্রবণতা বাড়ে। বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই চাপ কমবে এবং সরকারি কর্মচারীদের উন্নত জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত হবে।
বাজেটের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। তরুণ ও শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগ মানেই কর্মসংস্থান। আমাদের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে চাকরির চাহিদা তৈরি করা।
খসরু বলেন, এই বাজেট প্রচলিত ধারা থেকে একটি বড় পরিবর্তন এবং এটি পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন।
অভ্যন্তরীণ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকারি ঋণের কারণে অনেক সময় বেসরকারি খাতের ঋণ পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়। চলতি অর্থবছরে স্থানীয় ব্যাংক থেকে পরিকল্পিত ঋণ গ্রহণের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কমানো হয়েছে এবং আগামী বছরগুলোতেও এই ধারা বজায় থাকবে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বাজেটের বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, নিম্নআয়ের এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তার লক্ষ্যেই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের সহায়তা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার মতো কর্মসূচিগুলোর উদ্দেশ্য হলো মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং তাদের আরও ভালো কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করা।
অর্থমন্ত্রী সরকারের প্রস্তাবিত ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন, যার লক্ষ্য কারুশিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের মূলধারার অর্থনীতিতে একীভূত করা। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পী, তাঁতি, কুমার, সংগীতশিল্পী এবং অন্যান্য সৃজনশীল কর্মীদের অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, ডিজাইন সহায়তা এবং বাজারের সুযোগ দেওয়া হবে, যারা এতদিন আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, সৃজনশীল কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক জেলা, পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এবং ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার কর্মসূচিসহ এই সৃজনশীল অর্থনীতি উদ্যোগ চালু করতে সরকার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতাকে অর্থনৈতিক রূপ দেওয়া, যাতে শিল্পী ও কারুশিল্পীরা তাদের জীবিকার উন্নতি করতে পারেন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারেন।
খসরু আরও জানান, সম্পত্তি লেনদেনের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ বন্ধ করতে সরকার পুরানো মৌজা জমির মূল্যায়ন হার পর্যালোচনা করছে, যা প্রায়ই বাজার মূল্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে। মৌজা রেট সংশোধন করে প্রকৃত বাজার মূল্যের কাছাকাছি আনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে এর জন্য দেশব্যাপী জরিপ প্রয়োজন এবং বাজেটের আগে এটি সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল না।
বাস্তবায়নের বিষয়ে আশঙ্কার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংস্কার কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স এবং একটি অনলাইন অভিযোগ প্ল্যাটফর্ম গঠন করবে।
তিনি বলেন, কোনো কাজে বিলম্ব বা অনিয়ম হলে কেউ জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকবে না। আমরা বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে, প্রারম্ভিক বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এই বাজেটকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট হিসেবে বর্ণনা করেন, যা নতুন সরকার গঠনের পর দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই বাজেট সুবিধাভোগী অর্থনৈতিক মডেল থেকে সরে এসে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রীকরণ’ নিশ্চিত করতে চায়।
মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে যা প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়, আর্থিক অব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যার ফলে বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের সরকারি ব্যয় এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো চারটি মূল মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে: অর্থের সঠিক মূল্য (ভ্যালু ফর মানি), বিনিয়োগের রিটার্ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত টেকসই স্থায়িত্ব (এনভায়রনমেন্টাল কনসিডারেশন)।
আমির খসরু বলেন, ‘আমাদের বাজেট চিন্তায় ছিল বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষকে নিয়ে আসার। তাদের জীবনযাত্রার মান তাদের ভবিষ্যৎ সবসময় বাজেটে প্রতিফলিত হয় না। এবারের বাজেটে আমরা চেষ্টা করেছি সবাইকে আনার। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে কোনো শ্রেণি, পেশা, ধর্ম, বর্ণের কেউ এই বাজেটের আওতার বাইরে আছে বলে আমি মনে করি না।’
৭ দিন আগে