বাংলাদেশ
এতিম শিশুদের ভরণপোষণ তহবিল গঠন করবে সরকার
সরকার দরিদ্র এতিম শিশুদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভরণপোষণ তহবিল গঠন করবে। একই সঙ্গে ‘পিতা মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’-এর দুর্বলতা দূর করা ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন। ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রায় আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা খাতের আওতা সম্প্রসারণ, মূল্যস্ফীতির নিরিখে ভাতার হার বৃদ্ধি, উপকারভোগী নির্বাচন থেকে শুরু করে ভাতা বিতরণ পর্যন্ত কার্যক্রমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এটিকে আধুনিক ও টেকসই করা হবে। অধিকন্তু, সমাজের অবহেলিত গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, আমাদের সরকার বেসরকারি খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পেনশনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় করতে ‘পেনশন ফান্ড’ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং মোট অর্থের ৩০ শতাংশ এককালীন গ্র্যাচুয়িটি হিসেবে প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এছাড়াও সরকার হতদরিদ্র এতিম শিশুদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভরণপোষণ তহবিল গঠন এবং ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’-এর দুর্বলতা দূর করা ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
৮ দিন আগে
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ, যেসব প্রতিশ্রুতি দিল সরকার
একটি স্বাস্থ্যবান জাতি গঠনকে টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পূর্বশর্ত উল্লেখ করে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক সংস্কার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জিডিপির ১ দশমিক ০১ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে স্বাস্থ্য খাতে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও উপকরণ ক্রয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন হয়নি। ফলে দেশের হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে, সাধারণ মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ায় মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের স্বাস্থ্যনীতির মূল লক্ষ্য হবে সর্বজনীন ও ন্যায়সঙ্গত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, চিকিৎসাকেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় রূপান্তর, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, পুষ্টি ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও চিকিৎসা শিল্পের বিকাশ ঘটানো।
সরকার স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ ধাপে ধাপে বাড়িয়ে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় প্রত্যেক নাগরিককে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করে আধুনিক ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়া হবে।
জটিল রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা সহজলভ্য ও সুশৃঙ্খল করতে প্রতিটি জেলা হাসপাতাল এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে সমন্বিতভাবে পূর্ণাঙ্গ ‘সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মা, নবজাতক, শিশু ও প্রজননস্বাস্থ্যসেবা এবং ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থা থাকবে। অন্যদিকে, সার্জারিসহ জটিল ও বিশেষায়িত চিকিৎসা জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে কেন্দ্রীভূত করা হবে, যেখানে করোনারি কেয়ার ও কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটের মতো সুবিধাও থাকবে।
রোগী পরিবহনের দুর্ভোগ কমাতে ‘জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক’ গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি সমন্বিত, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচি প্রণয়নে কাজ করছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের খর্বাকৃতির সমস্যা মোকাবিলায় বহুমুখী ও বহু-খাতভিত্তিক জাতীয় কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে।
ওষুধশিল্পের বিকাশে অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) শিল্পপার্কসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, গবেষণা, বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। এলডিসি উত্তররণের পরিপ্রেক্ষিতে ওষুধশিল্পের ধারাবাহিক উন্নয়ন, উদ্ভাবন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে আর্থিক প্রণোদনা ও সহায়ক নীতিগত সুবিধা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশব্যাপী একটি আধুনিক ও টেকসই ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
হামের প্রাদুর্ভাব প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, টিকা সংগ্রহ ও টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে অতীতের অবহেলা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে দেশে হামের বিস্তার ঘটেছে এবং শিশু মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই প্রায় শতভাগ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের কার্যক্রম সম্পন্ন করছে।
চিকিৎসাশিক্ষার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ইন্টিগ্রেটেড মডুলার পদ্ধতি, আধুনিক ক্লিনিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিকিৎসা জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করে নতুন দক্ষতাভিত্তিক এমবিবিএস কারিকুলাম চালু করা হবে।
জনবল সংকট নিরসনে অবিলম্বে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি খাতে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। দেশব্যাপী মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন করে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার ৮০ শতাংশ নারী হবে।
শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চার মাস মেয়াদি ‘জেনারেল কেয়ারগিভার’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর কথাও ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মেডিকেল ডিভাইস শিল্পকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পখাত হিসেবে উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সীমিত আয়ের মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের বোঝা কমানো, মানসম্মত ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রতিষ্ঠাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা ছিল জিডিপির শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ।
৮ দিন আগে
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যবদল ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় এই সংক্রান্ত ঘোষণা দেন তিনি। গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রায় আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সমন্বিত ও সার্বিক পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সেচ, বন্যা ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন রোধ, ভূমি পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, লবণাক্ততা প্রতিরোধ ইত্যাদি বিষয়ে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে; যেমন: সরকার দেশজুড়ে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ব্যাপক খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৬ হাজার ৫৯৮ কিলোমিটার খাল খননের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩০৯ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ ও মেরামত এবং ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, ৪৮৪ কিলোমিটার নদ-নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি ও ডুবোচর অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নদী পুনরুদ্ধার কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি বিভাগে অন্তত একটি নদী বা জলাশয় দখলমুক্ত ও পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ধলেশ্বরী, লৌহজং, আলাইকুড়ি, মগড়া, সালতা, সুতাং, বাঁকখালী, বারনই নদী পুনরুদ্ধার এবং পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। হাওড়-বাওর অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন এবং উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা নিরসন করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ৭ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে; চারটি বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলা সুবিধা ভোগ করবে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
৮ দিন আগে
ইভি, সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাপক কর-শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব
দেশে বিদ্যুৎচালিত যানবাহন (ইভি), সেমিকন্ডাক্টর, কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস এবং কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ব্যাপক শুল্ক-কর অব্যাহতি ও রেয়াতি সুবিধার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশকালে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর পরিবহনের বিকল্প হিসেবে দেশে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদন এবং ইভির যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে তৈরিতে উৎসাহ দিতে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠান চার চাকা ও তিন চাকা বৈদ্যুতিক যানবাহনের বডি তৈরি, ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং ও সংযোজনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উচ্চ মূল্য সংযোজন করবে, তাদের উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ৩ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক ছাড়া সব ধরনের শুল্ক ও কর মওকুফ করা হবে।
অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠান যন্ত্রাংশ সংযোজন ও পেইন্টিংয়ের মাধ্যমে তুলনামূলক কম মূল্য সংযোজন করবে, তাদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক ছাড়া অন্যান্য সব শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাক উৎপাদনকারী শিল্পের জন্যও বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। এসব শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে ৫ শতাংশ ভ্যাট ছাড়া অন্য সব ধরনের শুল্ক ও কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইভি শিল্পের জন্য প্রস্তাবিত সব রেয়াতি সুবিধা ৩০ জুন ২০৩১ পর্যন্ত বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে।
দেশীয় ই-বাইক উৎপাদন ও সংযোজন শিল্পকে উৎসাহিত করতে শুধু উৎপাদনকারী ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান নয়, স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ উৎপাদনে নিয়োজিত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স খাতের বিকাশে মোবাইল ফোন, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন, এটিএম ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধা ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
একইভাবে কম্পিউটার, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধাও ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ ডিজাইন, টেস্টিং ও প্যাকেজিং শিল্পে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ খাতে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানিতে ১ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক ছাড়া রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর এবং অগ্রিম কর ৩০ জুন ২০৩১ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব পদক্ষেপ দেশের প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করবে, নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে এবং উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
৮ দিন আগে
৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল
রাজধানীর বড় মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ২৭ মে হাসপাতালে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৪ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ‘লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না’ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং ৭ জুন বিকেল ৫টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সময় বৃদ্ধির আবেদন করলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৯ জুন বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ৯ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে জবাব ও ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক বিবেচিত হয়নি। ফলে দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
তবে অর্ডিন্যান্সের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, গতকাল (বুধবার) ছয় শিশুর মৃত্যু নিয়ে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
গত ২৭ মে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারের আদ–দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানাতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক শেখ মহিউদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ জন্য তাকে ৭ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে এই নোটিশ দেওয়া হয়।
গত শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৮ দিন আগে
মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ৬০ নিত্যপণ্যে কমছে কর
দেশের প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর হ্রাসের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁপে, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, ডালসহ মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ উৎসে কর কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশকালে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছিল। গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নেওয়া এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাধারণ জনগণকে স্বস্তি দিতে স্বাস্থ্য খাতেও কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য আমদানিকৃত ১৫টি পণ্যের অগ্রিম আয়করের হার ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারের সরবরাহে বিদ্যমান উচ্চ উৎসে করের কারণে এ খাত এখনও অনেকাংশে অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে রয়ে গেছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসাটিকে আনুষ্ঠানিক খাতে এনে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যে স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইলেকট্রিক বাস, ট্রাক ও ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন আমদানির ক্ষেত্রে উৎসে করের ৫ শতাংশ হার সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে কম্পিউটার প্রিন্টার, পোর্টেবল অটোমেটিক ডাটা প্রসেসিং মেশিন, ফ্ল্যাশ মেমোরি ও কম্পিউটার মনিটর আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম করের হার ৫ শতাংশ ও ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ এবং রিফাইনারি কর্তৃক জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের হার ১.৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
রিসাইকেলড পণ্য ও রিসাইক্লিং কাঁচামালের ওপর করহার ৩ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে কমানোর পাশাপাশি বিটিআরসি কর্তৃক প্রাপ্ত রেভিনিউ শেয়ার, লাইসেন্স ফি বা চার্জের ওপর প্রযোজ্য ২০ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা খাতে উৎসে কর কর্তনের হারও ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
শিল্পখাতের উৎপাদন ব্যয় কমাতে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে অগ্রিম করের সাধারণ হার ৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে যন্ত্রপাতি ভাড়া বাবদ অনিবাসী করদাতাকে প্রদেয় অর্থের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ১৫ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশে কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে বিমা খাতে রি-ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম বাবদ ব্যয় কমাতে অনিবাসী করদাতাকে পরিশোধিত বিমা প্রিমিয়ামের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে হ্রাস এবং শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগ ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিদেশি ঋণের সুদের ওপর উৎসে করের হার ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নগদ প্রবাহ বাড়াবে, ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাবে এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করবে। এর ফলে শিল্প ও ব্যবসায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
৮ দিন আগে
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় যাবে ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেট থেকে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় যাবে মোট ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় এই ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রয় আগমী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছেন তিনি।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে এ বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ বা ৪ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা বেশি।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। তবে বছর শেষে সংশোধিত বাজেটে তা কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকায়। সেই তুলনায় আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে ৪ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
এর আগে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রকৃত হিসাব অনুযায়ী, এই খাতে খরচের পরিমাণ ছিল ৬৯ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। ফলে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে সরকারি বেতন-ভাতা খাতে বার্ষিক খরচ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ১২ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ কর্মকর্তাদের বেতন খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ৯৪৭ কোটি টাকা।
একই সঙ্গে, প্রতিষ্ঠান কর্মচারীদের বেতন বাবদ বরাদ্দ বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ২৯ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। এই উপখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে ১ হাজার ৫০১ কোটি টাকা।
বরাবরের মতোই বরাদ্দের সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় হবে ভাতাদি খাতে। এই খাতে নতুন বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ৪২ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। এই খাতে এককভাবে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ছে। সব মিলিয়ে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ভাতাদি মিলিয়ে মোট বেতন-ভাতা খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং সরকারি চাকরিতে নতুন জনবল নিয়োগের ধারাবাহিকতায় প্রতি বছরই এই খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হচ্ছে। বাজেট দলিলের সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারের মোট প্রস্তাবিত আবর্তক ব্যয় ৫ লাখ ৫১ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১৬ দশমিক ২ শতাংশ অর্থই ব্যয় হবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতাদি পরিশোধে।
৮ দিন আগে
রাষ্ট্রীয় মিল-কারখানার ইজারাদারদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে কমিটি গঠন
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মিল-কারখানার ইজারাগ্রহীতা এবং সরকারি জমিতে বেসরকারি উদ্যোগে স্থাপিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গত ৭ জুন একটি কমিটি গঠন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থ বিভাগের সচিব।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, কমিটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মিল-কারখানার ইজারাগ্রহীতা ও সরকারি জমিতে বেসরকারি উদ্যোগে স্থাপিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণপ্রাপ্তি সহজীকরণে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করবে।
এছাড়া, সরকারি জমিতে বেসরকারি উদ্যোগে গৃহীত কোনো প্রকল্প সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে উপযোগী (ফিজিবল) হলে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) এবং বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডকে (বিআইএফএফএল) ঋণ প্রদানের নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়েও কমিটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে।
কমিটি প্রয়োজন হলে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত (কো-অপ্ট) করতে পারবে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
৮ দিন আগে
রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে শপিংমল ও দোকানপাট
দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট আগামীকাল ১২ জুন (শুক্রবার) থেকে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে গত ১ জুন থেকে শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টার পরিবর্তে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২ জুন থেকে এসব প্রতিষ্ঠান বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।
নতুন এই সময়সীমা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান এবং অনুষ্ঠিতব্য সব ধরনের মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। তবে খাবারের দোকান, হাসপাতাল ও ওষুধের দোকান জরুরি সেবার অন্তর্ভুক্ত থাকায় এই নির্দেশনার আওতার বাইরে থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, সব বিলবোর্ডের বাতি রাত ৯টার মধ্যে আবশ্যিকভাবে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রাত ৯টার মধ্যে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
৮ দিন আগে
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি ৩, আক্রান্ত ১২৪২
দেশে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৪২টি শিশু।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৫০টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯২টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৬৪২টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৩২টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১১০। এই সময়ে ১ হাজার ৫৭টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ১৪৮টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৮৩ হাজার ১৩৯, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৫৯। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৬৮ হাজার ৫৬ রোগী, যাদের মধ্যে ৬৪ হাজার ২৯৩ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
৮ দিন আগে