বাংলাদেশ
অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ফেরদৌসি শাহরিয়ার মারা গেছেন
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারের অষ্টাদশ ব্যাচের কর্মকর্তা ফেরদৌসি শাহরিয়ার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে যোগদান করেন। কর্মজীবনে ব্যাংকক, রোম, ম্যানচেস্টার ও ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, তিন সন্তান এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ফেরদৌসি শাহরিয়ারের মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।
৫ দিন আগে
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও জনকল্যাণে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর
উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে জনস্বার্থ, জবাবদিহি, দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, জনগণের জীবনমানের বাস্তব উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। তাই জনপ্রিয়তার জন্য নয়, মানুষের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিশ্চিত করবে—এমন প্রকল্পকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চলমান ও এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত নতুন প্রকল্প পর্যালোচনা-সংক্রান্ত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
সভার শুরুতে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সার্বিক চিত্র, চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়নের অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাসের সম্ভাব্য ক্ষেত্র তুলে ধরা হয়।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু দৃশ্যমান অবকাঠামো নয়, মানুষের জীবনমানের ওপর প্রকৃত প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে। আগামী পাঁচ, ১০ কিংবা ৫০ বছর পর দেশের উন্নয়ন কোথায় দেখতে চাই, সেই দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি সামনে রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রকল্প প্রণয়নে আরও সতর্কতা, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি চলমান প্রকল্প সংশোধন, পুনর্বিন্যাস কিংবা সমজাতীয় প্রকল্পের সঙ্গে একীভূত (মার্জ) করে বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ জনগণের কষ্টার্জিত সম্পদ। তাই প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ানুবর্তিতা, গুণগত মান, ব্যয় দক্ষতা এবং জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও আন্তরিকতা, দক্ষতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। এই খাতে টেকসই ও যুগোপযোগী প্রকল্প গ্রহণ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে।
প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিই টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যা আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে সহায়ক হবে। এ ক্ষেত্রে নারী উন্নয়ন ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি এসব কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প পুনর্বিন্যাস ও সংশোধনের মাধ্যমে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার এবং কর্মপরিকল্পনার প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয় ঘটাতে হবে। প্রকল্পগুলোকে বিষয়ভিত্তিক ক্লাস্টারে অন্তর্ভুক্ত করলে পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মসূচির ভিত্তিতে মূল্যায়ন, তদারকি ও ফলাফল পরিমাপ সহজ হবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন খাতে বহু সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে। তাই অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদার করে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামের মানুষকে মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলেই প্রকৃত অর্থে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে।
তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ও গুণগত মান আরও উন্নত করতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি আধুনিক প্রকল্প পরিচালক নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহা. শওকত রশীদ চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের বিভিন্ন বিভাগের সদস্য, স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব ও উপসচিবসহ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অধীনস্থ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
আমদানিকৃত চালানে ৫৪০ কেজি অতিরিক্ত পণ্য, শুল্ক-জরিমানাসহ ১৯ লক্ষাধিক টাকা আদায়
চট্টগ্রামে আমদানিকৃত একটি পণ্যচালানে ঘোষণার চেয়ে ৫৪০ কেজি ৪১০ গ্রাম বেশি পণ্য পাওয়ায় অতিরিক্ত শুল্ক-কর, অর্থদণ্ড ও বিমোচন জরিমানাসহ মোট ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ টাকা ৫৭ পয়সা আদায় করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
বুধবার (২৯ জুলাই) এক বার্তায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় চট্টগ্রাম রেইনবো করপোরেশনের (Rainbow Corporation) আমদানিকৃত একটি পণ্যচালান কায়িক পরীক্ষণ করে।
সি-১১৩৮৭০৬ নম্বরের, গত ৫ জুলাইয়ের বিল অব এন্ট্রির আওতায় আমদানি করা চালানটিতে আমদানিকারক ৬ হাজার ৭০৪ কেচি ৫৬০ গ্রাম চকলেট ঘোষণা করলেও পরীক্ষায় ৭ হাজার ১৩২ কেজি ২৫০ গ্রাম পণ্য পাওয়া যায়। এছাড়া ২ হাজার ৫৭২ কেজি ১৬০ গ্রাম ওয়েফার ঘোষণা করা হলেও প্রকৃত ওজন পাওয়া যায় ২ হাজার ৬৮৪ কেজি ৮৮০ গ্রাম।
বার্তায় বলা হয়েছে, পরীক্ষায় চালানটিতে ঘোষিত ওজনের তুলনায় মোট ৫৪০ কেজি ৪১০ গ্রাম বেশি পণ্য পাওয়া যায়, যা ঘোষিত নিট ওজনের প্রায় ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি।
এ ঘটনায় বিচারাদেশের মাধ্যমে অতিরিক্ত শুল্ক-কর বাবদ ৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ টাকা ৫৭ পয়সা, অর্থদণ্ড হিসেবে ১০ লাখ টাকা এবং বিমোচন জরিমানা হিসেবে ১ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। ফলে মোট অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ টাকা ৫৭ পয়সা।
চট্টগ্রামে আমদানিকৃত একটি পণ্যচালানে ঘোষণার চেয়ে ৫৪০ কেজি ৪১০ গ্রাম বেশি পণ্য পাওয়ায় অতিরিক্ত শুল্ক-কর, অর্থদণ্ড ও বিমোচন জরিমানাসহ মোট ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ টাকা ৫৭ পয়সা আদায় করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
বুধবার (২৯ জুলাই) এক বার্তায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় চট্টগ্রাম রেইনবো করপোরেশনের (Rainbow Corporation) আমদানিকৃত একটি পণ্যচালান কায়িক পরীক্ষণ করে।
সি-১১৩৮৭০৬ নম্বরের, গত ৫ জুলাইয়ের বিল অব এন্ট্রির আওতায় আমদানি করা চালানটিতে আমদানিকারক ৬ হাজার ৭০৪ কেচি ৫৬০ গ্রাম চকলেট ঘোষণা করলেও পরীক্ষায় ৭ হাজার ১৩২ কেজি ২৫০ গ্রাম পণ্য পাওয়া যায়। এছাড়া ২ হাজার ৫৭২ কেজি ১৬০ গ্রাম ওয়েফার ঘোষণা করা হলেও প্রকৃত ওজন পাওয়া যায় ২ হাজার ৬৮৪ কেজি ৮৮০ গ্রাম।
বার্তায় বলা হয়েছে, পরীক্ষায় চালানটিতে ঘোষিত ওজনের তুলনায় মোট ৫৪০ কেজি ৪১০ গ্রাম বেশি পণ্য পাওয়া যায়, যা ঘোষিত নিট ওজনের প্রায় ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি।
এ ঘটনায় বিচারাদেশের মাধ্যমে অতিরিক্ত শুল্ক-কর বাবদ ৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ টাকা ৫৭ পয়সা, অর্থদণ্ড হিসেবে ১০ লাখ টাকা এবং বিমোচন জরিমানা হিসেবে ১ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। ফলে মোট অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ টাকা ৫৭ পয়সা।
৫ দিন আগে
তিন জেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৬ জন নিহত
গাইবান্ধা, নওগাঁ ও ময়মনসিংহে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক দিনে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের দাড়াপাড়া গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুইজন নিহত হন বলে নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার।
নিহতরা হলেন: হরিরামপুর পাথারেপাড়া গ্রামের আইবুদ্দির ছেলে মওলা (৩৫) এবং দাড়াপাড়া গ্রামের বছির উদ্দীনের ছেলে আজিমুদ্দীন (৬০)।
স্থানীয়রা জানান, সকালে দাড়াপাড়া এলাকায় একটি নারকেল গাছ কাটার সময় সেটি বিদ্যুতের সঞ্চালণ লাইনের ওপর পড়ে তার ছিঁড়ে যায়। পরে গাছটি সরানোর চেষ্টাকালে মওলা ও আজিমুদ্দীন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই মওলা নিহত হন। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় আজিমুদ্দীনকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
এদিকে, আজ দুপুরে নওগাঁর পোরশা উপজেলায় কাতকইল গ্রামের বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন: কাতকইল (বিলপাড়া) গ্রামের শফিউদ্দিনের ছেলে মাহাবুর হোসেন এবং একই গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল আজিজ।
নিহত আব্দুল আজিজের প্রতিবেশী বড় ভাই তোফায়েল আহমেদ জানান, সকালে বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে পানি শুকিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তারা। এরপর পানি শুকিয়ে সকাল ১০টার দিকে মাছ ধরে তারা বাড়িতে ফেরেন। পরে দুপুর ১টার দিকে আবারও তারা বিলে মাছ ধরার জন্য যান। সেখানে তারা আগে থেকে বৈদ্যুতিক মোটর চালু করে রেখে এসেছিলেন। এরমধ্যে কোনো একসময় মোটরের তারে লিকেজ হয়ে বিদ্যুৎ পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পরবর্তী সময়ে পানিতে নামতেই প্রথমে মাহাবুর হোসেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে যান। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আব্দুল আজিজও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন।
পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, আজ দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দাইপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন: জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তাড়াইল এলাকার রতন মিয়ার ছেলে জিসান (১৮) এবং ত্রিশাল উপজেলার বিরামপুর ভাটিপাড়া এলাকার মৃত ইব্রাহিমের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (২২)।
ঘটনাস্থলে কর্মরত ঠিকাদার হাসান জানান, ‘একটি চারতলা ভবনের ছাদে রডের কাজ শেষ হওয়ার পর কিছু রড নিচে নামানোর প্রয়োজন হয়। শ্রমিকরা সিঁড়ি ব্যবহার না করে ছাদের পাশ দিয়ে রড নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় লম্বা একটি রড ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইনের সংস্পর্শে চলে আসে। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদে থাকা দুই শ্রমিক নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।’
ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘আহত দুইজনকে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়। মরদেহ পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের কাছে জানতে পারি, ভবনের নির্মাণকাজ করার সময় বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে তারা নিচে পড়ে যান।’
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
৫ দিন আগে
এমন কোনো সমস্যা নেই যা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না: ভারতীয় হাইকমিশনার
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আরও অগ্রগতি হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। সৌজন্য সাক্ষাতে সৌজন্যমূলক আলোচনা হয়। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না, এমন কোনো সমস্যা নেই। শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষ এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণ।’
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের সময় ঘনিয়ে আসার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে দুই দেশেরই একটি করে ওয়ার্কিং গ্রুপ রয়েছে। তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। আমি আগেও বলেছি, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না—এমন কোনো সমস্যা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হলে বিষয়গুলো আরও এগোবে বলে আমি আশা করি। ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের কাজ করবে এবং যা দুই দেশের জনগণের জন্য উপকারী, সেটিই বাস্তবায়িত হবে। আমি সবকিছু ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি।’
৫ দিন আগে
মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় বোন হারানো সেই তাহসিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দিকে দুহাত বাড়িয়ে দেওয়া এক কিশোরের হাসিমাখা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে জানা যায়, ছবির সেই কিশোর তাহসিন আব্দুল্লাহ, ২০২৫ সালের মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বড় বোনকে হারিয়ে যে হাসতে ভুলে গিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছবিটির পেছনের বেদনাদায়ক গল্প জানার পর তাহসিন ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৯ জুলাই) বাবা নাজমুল হককে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে তাহসিন।
বর্তমানে সপ্তম শ্রেণিতে পড়া তাহসিনের পরিবারে নার্সারিতে পড়ুয়া আরও একটি ছোট বোন রয়েছে।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের লেখাপড়া, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ব্যক্তিগত আগ্রহ সম্পর্কে খোঁজ নেন। জবাবে তাহসিন জানায়, বড় হয়ে সে একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায়। পাশাপাশি এমন কিছু করতে চায়, যার মাধ্যমে মানুষের উপকার হবে এবং মানুষ আকৃষ্ট হবে।
৫ দিন আগে
নিয়ম না মানলে নার্সিং ও মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী
যত্রতত্র গড়ে ওঠা নার্সিং ও মেডিকেল কলেজগুলো সরকারি নিয়ম মানতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশের নার্সিং শিক্ষার মানোন্নয়নে ফিলিপাইনের সহযোগিতা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।
তিনি জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের যৌথ উদ্যোগে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় ফিলিপাইন থেকে প্রশিক্ষক এনে দেশের নার্সিং শিক্ষক ও ফ্যাকাল্টিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, চার বছর মেয়াদি মানসম্মত কোর্স চালুর পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষ আধুনিকায়ন এবং আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হবে। এর ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দক্ষ জনশক্তি বিদেশে রপ্তানির সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়া সরকারি হাসপাতালে শূন্য পদের বিপরীতে শিগগিরই নার্স ও মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী।
৫ দিন আগে
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ প্রাণহানি, আক্রান্ত ১,০৭৫
দেশে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও রোগটির উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৫টি শিশু।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ গেছে একটি শিশুর।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৩৫টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৬টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮৩১টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৭৯টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৯৬। এই সময়ে ৯২৬টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৬৩টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৪০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৭৩৯। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৯ হাজার ৩৬৬ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৫ হাজার ১৯৮ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
৫ দিন আগে
জুলাই নিয়ে অপতৎপরতা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে বিএনপি: সেতুমন্ত্রী
জুলাইকে ঘিরে যেকোনো অপতৎপরতা বিএনপি রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, সেতু, রেল ও নৌমন্ত্রী এবং ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ‘জুলাইয়ের চেতনা ও অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করা হবে।’
বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকা কলেজের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ আ ন ম নজীর উদ্দিন খান খুররম অডিটোরিয়ামে কলেজ শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শাশ্বত জুলাই’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, জুলাই আমাদের নতুন করে শাণিত হতে, সংশোধিত হতে এবং সমৃদ্ধ জাতি হতে শিখিয়েছে। একই সঙ্গে একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন নিশ্চিত হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে। এ আন্দোলন ছাত্ররাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের শিক্ষা দিয়েছে এবং সেই পরিবর্তন বাধ্যতামূলকভাবে এসেছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এবং আগামী দিনের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সূতিকাগার হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার শিক্ষা দিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের পতন নিশ্চিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের সরকারও নিশ্চিত হয়েছে। এখন বাকি রয়েছে রাষ্ট্র ও জনগণকে আরও সমৃদ্ধ, মানসম্পন্ন ও শাণিত করা। জনগণের নির্বাচিত সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে এবং সেই সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান।
ঢাকা কলেজ তার নির্বাচনি এলাকার অন্তর্ভুক্ত উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার বিশেষ দায়বদ্ধতা রয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা কলেজ শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা, অবকাঠামো, আবাসন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার উন্নয়নে আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা কলেজের সুনাম ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
ঢাকা কলেজের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন দপ্তর, পরিদপ্তর, অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগে ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা দায়িত্ব পালন করছেন। একসময় সারা দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়া ছিল একটি স্বপ্ন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনা সভার আগে শেখ রবিউল আলম ঢাকা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক, কলেজের অধ্যক্ষ, সাবেক শিক্ষক, সাবেক ছাত্রনেতা, ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
ভারতে পালানোর সময় যশোর থেকে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনসহ গ্রেপ্তার ৪
ভারতে পালানোর প্রস্তুতিকালে চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারও জব্দ করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত ৯টি দল তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড (২৫) চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানা এলাকার ৭ নম্বর কাঞ্চনগর ইউনিয়নের কাঞ্চনগর গুরামিয়া হাজী চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা।
গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন: আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), তিনি ঢাকার শ্যামপুর থানার পোস্তাগোলা এলাকার জুরাইনের পরি মোল্লারবাগের বাসিন্দা; মো. শামিম (২৮), তিনি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ও বর্তমানে ঢাকার মতিঝিল থানার আর কে মিশন রোড এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন এবং মো. সাফায়েত হোসেন (২৮), তিনি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার সাহারপাড় এলাকার বাসিন্দা, তবে বর্তমানে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার গোলাপবাগ পুলিশ কোয়াটারের পেছনে বসবাস করেন।
তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ডেভিড ইমন তার সহযোগীদের নিয়ে যশোর হয়ে ভরতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর তদন্ত এগিয়ে নেয়া যায়।
যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মিরাজুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের রিকুইজিশনের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঝিকরগাছা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, আজ সকাল ১০টার দিকে চারজনকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের চট্টগ্রামে নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পান। পুলিশের দাবি, তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, হাটহাজারী ও রাউজান এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা না দেওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় ডেভিড ইমনকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করে তাকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও সংগঠিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত যশোরে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তিনি ও তার সহযোগীরা গ্রেপ্তার হন।
৫ দিন আগে