বাংলাদেশ
পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে সংস্কারকাজ চলছে: অর্থমন্ত্রী
দেশের অভ্যন্তরীণ মূলধন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার কাজ চলছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-২ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পুঁজিবাজারের উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এর কার্যকর অবদান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্বীকার করেন যে বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজার দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
বাজারের বিকাশ ও সম্প্রসারণে সহায়ক বেশ কয়েকটি আর্থিক পণ্য এখনও পুরোপুরি বিকশিত হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংস্কার কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী জানান, বাজার তদারকি ও কার্যকারিতা বাড়াতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। সংস্থাটির সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কমিশনে অভিজ্ঞ ও দক্ষ পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও চলমান সংস্কার কার্যক্রমের ফলে আগামী দিনে পুঁজিবাজারে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং এর মাধ্যমে জনগণের সঞ্চয়কে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে রূপান্তরের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।
অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পুঁজিবাজারকে একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য অর্থায়নের উৎস হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
১০ দিন আগে
একনেকে ২,২৬৬.৪১ কোটি টাকার ৮ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ মঙ্গলবার ২,২৬৬.৪১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে।
সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, অনুমোদিত প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২,২২৯.১৩ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭.২৮ কোটি টাকা জোগানো হবে।
অনুমোদিত আটটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটি নতুন, তিনটি সংশোধিত এবং দুটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, এই প্রকল্পগুলো মূলত পানিসম্পদ, পরিবহন অবকাঠামো, জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং বিদ্যুৎ খাতের অন্তর্ভুক্ত।
অনুমোদিত প্রধান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘বরিশাল সেচ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন’ এবং ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টৈটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ইদমানি) আঞ্চলিক মহাসড়ক’ যথাযথ মান্ন্নেয়ন ও প্রসস্তকরণ প্রকল্প।
এছাড়া, ঠাকুরগাঁওসহ ৩৩টি জেলার সার্কিট হাউস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিফট স্থাপন এবং স্বাস্থ্য খাতের অধীনে ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যমান গ্রিড সাবস্টেশন ও ট্রান্সমিশন লাইন সম্প্রসারণের প্রথম সংশোধিত প্রকল্পটিও একনেকে পাস হয়।
অন্যান্য অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে—ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়), মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও তথ্য পদ্ধতি (মেমিস) সহায়তা প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন এবং সারা দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন।
এদিকে, ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও ছয়টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সভাকে অবহিত করা হয়, যা আগেই পরিকল্পনা মন্ত্রী অনুমোদন করেছিলেন।
এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে—৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সেবা (সংশোধিত), ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যান্ত্রিক পার্কিং সুবিধা, ডাক সেবা সম্প্রসারণ, ঢাকা সেনানিবাসে এমইএস ট্রেনিং সেলের অবকাঠামো উন্নয়ন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ উদ্যোগ (দ্বিতীয় পর্যায়) এবং খুলনার পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন (সংশোধিত) প্রকল্প।
একনেক সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন
১০ দিন আগে
সীমান্তে পুশ-ইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, বাংলাদেশকে চাপে রাখতে নয়: তথ্য উপদেষ্টা
সীমান্তে ভারতের পুশ-ইনের বিষয়টি বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এটি তারা বাংলাদেশকে চাপে রাখতে করছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশ-ইনের বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশে যেটা করার চেষ্টা করছে, আমরা নিশ্চয়ই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন লক্ষ করেছি। সেখানে নির্বাচনে একটা ইস্যু ছিল এটা। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যাপার, যেটার খানিকটা চাপ আমাদের ওপরে আসছে। আমি মনে করি না যে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো একটা চাপ তৈরির জন্য ভারতীয় সরকার এটা করছে। পশ্চিমবঙ্গে যে নতুন সরকার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের নির্বাচনের এক ধরনের প্রতিশ্রুতি ছিল এটা।’
তিনি বলেন, ‘তাদের (পশ্চিমবঙ্গ সরকার) একটা রাজনীতি আছে, সেটারই এক ধরনের বহিঃপ্রকাশ এটা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে নতুন যে সরকার আসছে তার সঙ্গে ভারতের সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে যখন কথাবার্তা বলেছে, আমার নিজেরও কিছু কথাবার্তা হয়েছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূস সরকারের সঙ্গে যে ধরনের পরিস্থিতি ছিল, সেটা থেকে তারা বেরিয়ে আসতে চান। সেটটা দুই দেশই চায়। সেজন্য আমি মনে করি যে সংকটটা প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, এটার একটা সমাধান দ্রুত হবে।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই তারা ইনটেনশনালি (ইচ্ছাকৃতভাবে) বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বা বাংলাদেশকে চাপে রাখতে চাইছেন এরকম আমি মনে করি না।’
১০ দিন আগে
বাজেট-পূর্ব একনেক বৈঠকে উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার মাত্র দুই দিন আগে আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সকাল ১০টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক শুরু হয় এবং দুপুর সোয়া ১টায় তা শেষ হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবগণ বৈঠকে অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন এবং সেগুলোর ওপর আলোচনা করেন।
আগামী ১১ জুন সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করার কথা রয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর।
এর আগে, গত ১৮ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) আগামী অর্থবছরের জন্য ৩,০৮,৯২৪.৮৩ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করে।
তারও আগে, গত ১২ মে ৩৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পসহ নয়টি বড় প্রকল্প অনুমোদন করেছিল একনেক।
১০ দিন আগে
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় আপিল বিভাগে স্থগিত
অধস্তন আদালতের জন্য সুপ্রিম কোর্টের অধীনে তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনে মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন নির্ধারণ করেছেন আদালত। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকবে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন। অপর আপিলকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী কারিশমা জাহান শুনানি করেন।
এর আগে, সাত আইনজীবীর করা এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ওই রায় দেন। রায়ে বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
রায়ে সংবিধান ও আইনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা জড়িত থাকায় আপিলের জন্য সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। ফলে সরাসরি আপিল করার সুযোগ তৈরি হয়।
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ৭ এপ্রিল প্রকাশিত হয়। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম চলমান রাখতে স্থিতাবস্থা ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইনের বিধানগুলোর কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে আবেদনসহ গত ২০ এপ্রিল আপিল করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
আর হাইকোর্টের রায় বাতিল চেয়ে গত ২১ মে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এই আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়েও আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেদিন চেম্বার আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আপিল ৯ জুন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন। এ ছাড়া ১১৬ অনুচ্ছেদের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম আরেকটি আপিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল ও আবেদনের সঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার ও আইনজীবী আহসানুল করিমের করা পৃথক আপিল একসঙ্গে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় ৪ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন।
আইনজীবীরা জানান, হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম চলমান রাখতে স্থিতাবস্থা ও সচিবালয় রহিতকরণ আইনের বিধান স্থগিত চেয়ে বদিউল আলম মজুমদারের করা আবেদনের ওপর আজ শুনানি হয়।
পরে বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী কারিশমা জাহান সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। আপিল শুনানির জন্য ১৬ জুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। এই সময়ের মধ্যে বিবাদীপক্ষকে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলা হয়েছে। স্থগিতাবস্থা ও স্থগিতাদেশ চেয়ে তাদের করা আবেদনটি নথিতে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ, ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী রিটটি করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার-কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল-নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তা প্রয়োগ করে থাকেন।
রিটকারীদের আইনজীবীর মতে, ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে।
একই অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। মূলত রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।
১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের এ দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।
১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এবং ‘সুপ্রিমকোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে’ শব্দগুলো সন্নিবেশিত করা হয়।
এরপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইন অসাংবিধানিক মর্মে ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধন আইন, ২০১১-এর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান একই বিধানটি প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে এ বিধানটিই বিদ্যমান রয়েছে। হাইকোর্ট রিটের চূড়ান্ত শুনানি করে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য রায় দেন।
১০ দিন আগে
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি ৩, আক্রান্ত ১০৩৪
দেশে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৪টি শিশু।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৩৯টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯২টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৬৩১টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৫৪টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৮০। এই সময়ে ৯৩৩টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ১৪টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৮১ হাজার ৮৪, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৮৩৩। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৬৬ হাজার ১৭০ রোগী, যাদের মধ্যে ৬২ হাজার ২৯২ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
১০ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে একনেকের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম অংশ নিয়েছেন।
বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা উপস্থাপন ও আলোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে সহায়তা করার লক্ষ্যে এই বৈঠকে বিভিন্ন খাতের বেশ কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদন করা হতে পারে ।
১০ দিন আগে
২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে ২০২৭ সালের হজযাত্রী নিবন্ধন
২০২৭ সালের (হিজরি ১৪৪৮ সন) হজের রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে হজযাত্রী নিবন্ধন কার্যক্রম এবং ৮ নভেম্বর স্বাক্ষরিত হবে দ্বিপাক্ষিক হজচুক্তি।
রবিবার (৭ জুন) মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখা থেকে এ রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৯ মে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের জেদ্দায় এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমের সময়সূচি ঘোষণা করে এবং বিভিন্ন দেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রীদের নিকট তা হস্তান্তর করে।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ তার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজের রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।
রোডম্যাপ অনুসারে, চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে হজযাত্রী নিবন্ধন কার্যক্রম এবং ৮ নভেম্বর স্বাক্ষরিত হবে দ্বিপাক্ষিক হজচুক্তি। ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজ ভিসা ইস্যু শুরু হবে এবং ৮ এপ্রিল শুরু হবে হজ ফ্লাইট। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৫ মে (৯ জিলহজ্ব) অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের হজ।
এছাড়া, সৌদি প্রান্তের খরচের অর্থ নুসুক মাসার প্লাটফর্মের ই-ওয়ালেটে সরাসরি স্থানান্তর কার্যক্রম চলবে এ বছরের ১৫ জুলাই থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। নুসুক মাসারের মাধ্যমে সামগ্রিক সেবা প্যাকেজ (তাঁবু, সার্ভিস প্যাকেজ, মক্কা ও মদিনায় হোটেল, ক্যাটারিং ও পরিবহন সেবা) গ্রহণের নিমিত্ত চুক্তি স্বাক্ষর শুরু হবে চলতি বছরের ২৯ জুলাই এবং তা শেষ হবে ২৩ জানুয়ারি।
হজযাত্রীদের ডাটা নুসুক মাসার সিস্টেমে আপলোড করতে হবে ১৪ আগস্ট হতে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে। হজযাত্রী পরিবহনকারী এয়ারলাইন্সের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর ও নুসুক মাসারে ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন করতে হবে চলতি বছরের ২৯ জুলাই হতে ৮ নভেম্বরের মধ্যে।
ঘোষিত এ রোডম্যাপ অনুযায়ী হজের কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।
১১ দিন আগে
ঢাকার পানি সংকট কাটাতে সুখবর দিলেন মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঢাকার ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মেটাতে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে মেঘনা নদীর পানি পরিশোধন করে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে সরবরাহ করা হবে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে ঢাকা ওয়াসার প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্বপুরে নির্মাণাধীন দৈনিক ৫০ কোটি লিটার সক্ষমতার পানি শোধনাগার (ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এতদিন ঢাকা শহরের জন্য আমরা মূলত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করতাম। অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে পানির স্তর প্রায় এক হাজার মিটার পর্যন্ত নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, যা একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। সেই সংকট মোকাবিলায় মেঘনা নদীর পানি পরিশোধন করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে সরবরাহ করা হবে।
তিনি জানান, প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এর কাজ সম্পন্ন হবে বলে সরকার আশা করছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। একই ধরনের আরও একটি প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেটি বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত আরও ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে। দুটি প্রকল্প মিলিয়ে প্রতিদিন ১০০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি ঢাকার দুই সিটিতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
এর আগে, সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি প্রকল্প-সংক্রান্ত এক সভায় অংশ নেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।
১১ দিন আগে
পলাতক বা শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পলাতক বা শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অনুকম্পা দেখানো হবে না। ইতোমধ্যে আলোচিত কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী একাধিক বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাম্প্রতিক দেশব্যাপী তিনটি সাড়া জাগানো ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের প্রশংসনীয় অবদান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান সরকার ‘শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন’ এবং ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতিতে গভীরভাবে বিশ্বাসী। এই নীতির আলোকে নৈতিক মনোবল বৃদ্ধির মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে আরও সেবামুখী ও জনবান্ধব করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভালো কাজের স্বীকৃতি ও মন্দ কাজের জন্য তিরস্কারের এই প্রক্রিয়া পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে আরও বেশি কর্তব্যপরায়ণ, আন্তরিক ও ন্যায়নিষ্ঠ হতে অনুপ্রাণিত করবে।
তিনি বলেন, অতীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন সচরাচর দেখা যায়নি। সাধারণত রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স বা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের বার্ষিক অনুষ্ঠানে এ ধরনের পদক বা ব্যাজ প্রদান করা হয়ে থাকে। তবে মাঠপর্যায়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের তাৎক্ষণিক মনোবল বৃদ্ধি এবং নৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের আইনানুগ ব্যবস্থা বজায় রাখা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ৫ই আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার সফল হয়েছে। পুলিশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জনবান্ধব এবং জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
বিগত ২০২৪ ও ২০২৫ সালের অপরাধ চিত্রের তুলনামূলক পরিসংখ্যান উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং প্রতিটি ক্যাটাগরিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে।
বিগত সময়ে পলাতক থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্টভাবে জানান, পলাতক বা শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অনুকম্পা দেখানো হবে না। ইতোমধ্যে আলোচিত কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী একাধিক বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একইসঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্ট বা দণ্ডবিধির অধীনে মামলা রয়েছে, তারা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে বিচারের সম্মুখীন হবেন। অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রী তিনটি বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ ঘটনায় সর্বমোট ১৫ জন পুলিশ সদস্যের হাতে সনদ ও আর্থিক পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যেককে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয় এবং ৩ জন নৌ পুলিশ সদস্যকে আইজি ব্যাজ প্রদান করা হয়।
পুরস্কারের আওতায় আসা ঘটনা তিনটি হলো যথাক্রমে পল্লবী থানার রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নৌ পুলিশের বীরত্ব এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ক্লু-লেস কিশোরী হত্যাকাণ্ড।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ-সহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১১ দিন আগে