রাজনীতি
বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বের কাছে মিথ্যাচার করছে ভারত: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ভারত ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন করতে বাংলাদেশ সম্পর্কে মিথ্যাচার করে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
শনিবার (৭ ডিসেম্বর) জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, 'প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও অনেক গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব- বিশেষ করে যারা নিজেদের সততার সঙ্গে আপস করেন- তারা স্বৈরাচারী শাসকের (শেখ হাসিনা) পলায়নে কান্নাকাটি করছেন।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং হিন্দুদের হত্যা করা হচ্ছে- এমন মিথ্যা প্রচার করে তারা বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রযুক্তির এই যুগে তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।’
'আমরা বিএনপি পরিবারের' আয়োজনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনে আহত রোগীদের দেখতে যান রিজভী।
তিনি বলেন, ভারত যে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে তাতে এমন ধারণা পাওয়া যায় যে, সহিংস খুনি ও রক্তপিপাসুরা প্রতিবেশী দেশটিতে আধিপত্য বিস্তার করছে।
শেখ হাসিনাকে ভারত নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য ব্যবহার করায় ভারত তার জন্য মায়া কান্না করছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা।
রিজভী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার অপকর্মের জন্য ইসকন থেকে বহিষ্কৃত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে। ‘মনে হচ্ছে দিল্লি থেকে ভারতের একেবারে প্রত্যন্ত প্রান্ত পর্যন্ত তার জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতি হতে পারে না।’
অঢেল রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশকে নতজানু করার ক্ষমতা কারও নেই। ‘প্রচ্ছন্ন হুমকি বা ভয়ভীতি দেখিয়ে এই বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা যাবে না ‘
আরও পড়ুন: ভারত আধিপত্য বিস্তারে সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করছে: রিজভী
তিনি ভারতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা এবং সম্প্রতি আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
বিএনপি নেতা বলেন, ‘তারা (ভারতীয়রা) এতদূর এগিয়েছে যে, আমাদের স্বাধীন প্রিয় মাতৃভূমির পতাকা ছিঁড়ে ফেলেছে। ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী তারা আমাদের কূটনীতিক কর্মকর্তাদের গায়ে হাত তুলে ভয়ংকর ও গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ করেছে।’
নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর শেখ হাসিনা যে নিষ্ঠুরতা ও সহিংসতা চালিয়েছেন তা স্বীকার করতে ব্যর্থ হওয়ায় ভারতের সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বার্ন ইউনিটে যে দৃশ্য দেখেছি তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমি বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরেছি, অনেক কিছু দেখেছি, কিন্তু আজ (শনিবার) যে নিষ্ঠুরতা দেখলাম তার সঙ্গে কোনো কিছুরই তুলনা হয় না। এটা এতটাই হৃদয়বিদারক ছিল যে আমার চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছিল। মনে হচ্ছিল যেন কোনো হরর ফিল্মের দৃশ্য দেখছি। এর দায় কে নেবে? এই মানুষগুলো কীভাবে বেঁচে থাকবে?’
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর আগে এমন নৃশংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন। ‘এই হত্যাযজ্ঞের জন্য দায়ী যারা – মন্ত্রী থেকে শুরু করে আমাদের জনগণকে হত্যা, আমাদের ভাইদের পঙ্গু করে দেওয়া এবং এই জঘন্য অপরাধ করার সঙ্গে জড়িত সকলকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
আরও পড়ুন: নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা করুন: সরকারকে ড. মোশাররফ
৫১৪ দিন আগে
নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা করুন: সরকারকে ড. মোশাররফ
নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, 'রাষ্ট্রীয় সংস্কারের আড়ালে' অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্ষমতায় থাকা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
শনিবার (৭ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মোশররফ বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অঙ্গীকার ছিল বৈষম্যবিরোধী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, কিন্তু সংস্কারের নামে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্ষমতায় থাকা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।’
ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) 'স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নির্বাচনের বিকল্প নেই' শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত নির্বাচন ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়া সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া। ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা রয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নেও তাদের অঙ্গীকার রয়েছে।’
আরও পড়ুন: ভারত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে: ড. খন্দকার মোশাররফ
বিএনপি নেতা বলেন, ‘এসব সংস্কার দ্রুত করা দরকার। কোনো একটি সরকার একবারে সুর্নিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করে সমস্ত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারে না। এ প্রক্রিয়া এখনই শুরু করতে হবে এবং আগামী নির্বাচিত সরকার এটা অব্যাহত রাখবে।’
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
তিনি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সমালোচনা করেন।
সংস্কারের নামে সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে থাকলে ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীলতা বাড়বে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণকে সুস্পষ্ট নির্বাচনি রোডম্যাপের মাধ্যমে নির্বাচনের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। তবেই সকল ষড়যন্ত্রমূলক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করা যাবে।’
আরও পড়ুন: ভারত আধিপত্য বিস্তারে সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করছে: রিজভী
৫১৪ দিন আগে
জনগণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেবে: ঢাকা জেলা যুবদল সভাপতি
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণ ব্যর্থ করে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলা যুবদল সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ।
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে ঢাকার ধামরাইয়ের গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন আয়োজিত গাংগুটিয়া ইউনিয়নের হাতকুরা মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ভারত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে: ড. খন্দকার মোশাররফ
ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, ভারত সাম্প্রদায়িকতার ধোঁয়া তুলে বাংলাদেশে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু এতে কাজ হবে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দেশ। বরং ভারতের অহংকার, আগ্রাসন ও শোষণনীতির কারণে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি তৈমুর রহমান তুলা মিয়ার সভাপতিত্ব এবং আব্দুল হামিদ ও আনিসুর রহমান সোহাগের পরিচালনায় বক্তব্য দেন এম এ জলিল, খন্দকার আইয়ুব, আতিকুর রহমান মিলন, সাবিনা ইয়াসিন, ইবাদুল হক জাহিদ, আলতাব হোসেন আলতু, আনোয়ার কবির, আনিসুর রহমান, মোকলেসুর রহমান প্রমুখ।
আরও পড়ুন: ছাত্র-জনতার অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা করবে যুবদল: মঈন খান
৫১৫ দিন আগে
ভারত আধিপত্য বিস্তারে সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করছে: রিজভী
ভারত উপমহাদেশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অজুহাত হিসেবে সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করতে কট্টরপন্থী হিন্দু গোষ্ঠীগুলোকে উসকানি দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দিয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, 'আপনারা সাম্প্রদায়িকতাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ভারতকে বিভক্ত করেছেন। আর এখন আপনারা ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে বিদ্যমান গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকেও ধ্বংস করছেন।’
বিএনপি নেতা বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আপনারা উগ্র হিন্দুদের উসকে দিয়ে উপমহাদেশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ঘৃণ্য ও বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ভারতের সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও পাকিস্তানের। ‘বাংলাদেশও আপনাদের সঙ্গে নেই। এটি হয়েছে আপনাদের ঔদ্ধত্য ও শোষণমূলক মনোভাবের কারণে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ, ৩০ লাখ মানুষের আত্মত্যাগ ও ২ লাখ নারীর সম্ভ্রম হারানোর মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
তিনি বলেন,‘ আপনারা ১৮-১৯ কোটি মানুষের এই দেশকে কি শুধু চোখ রাঙ্গিয়ে মিথ্যা প্রচার করে, আমাদের ভয় দেখিয়ে দমন করতে পারবেন? আপনাদের কী এমন হয়েছে যে, আপনারা হঠাৎ করে মরিয়া হয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছেন?'
বিএনপি নেতা বলেন, ৫ আগস্টের আগে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি ঘৃণ্য সরকার ক্ষমতায় ছিল। যে সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার জন্য শিশুদের হত্যা করতে দ্বিধা করেনি।
আরও পড়ুন: ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বান রিজভীর
রিজভী আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষদের চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দিতে দ্বিধা করেনি তারা। তারা ক্রসফায়ারের মাধ্যমে নদী ও খালের পাড়ে মানুষ হত্যা করত। সেই হাসিনা সরকার আপনাদের এত প্রিয় ছিল কেন? কারণ, আপনাদের উসকানিতে শেখ হাসিনা এদেশে যা খুশি তাই করেছেন।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ, ৩০ লাখ মানুষের আত্মত্যাগ ও ২ লাখ নারীর সম্ভ্রম হারানোর মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
১৮-১৯ কোটি মানুষের এই দেশকে কি শুধু চোখ কুঁচকে মিথ্যা প্রচার করে আমাদের ভয় দেখিয়ে দমন করতে পারবেন? আপনার কী এমন হয়েছে যে আপনি হঠাৎ করে মরিয়া হয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছেন?'
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আগে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি ঘৃণ্য সরকার ক্ষমতায় ছিল, যে সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার জন্য শিশুদের হত্যা করতে দ্বিধা করেনি।
গণতন্ত্রকে ভালোবাসে এমন মানুষদের চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দিতে দ্বিধা করেনি তারা। তারা ক্রসফায়ারের মাধ্যমে নদী ও খালের পাড়ে মানুষ হত্যা করত। সেই হাসিনা সরকার আপনার এত প্রিয় ছিল কেন? কারণ, আপনাদের উস্কানিতে শেখ হাসিনা এদেশে যা খুশি তাই করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ভারত হয়তো ভাবতে পারে পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও সয়াবিন তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশের জনগণ বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে।
তিনি বলেন, ‘ভুলে গেলে চলবে না, বাংলাদেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রমী এবং তারা নিজেরাই পেঁয়াজ, রসুন ও আদা উৎপাদন করতে জানে। আপনি মনে করেন আপনারাই পৃথিবীর একমাত্র দেশ। এমন কি আর কোনো দেশ নেই যেখান থেকে আমরা পেঁয়াজ, রসুন, তেল আমদানি করতে পারি?’
তিনি ভারতকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, ভারত ৫ থেকে ৬ বছর গবাদি পশু রপ্তানি বন্ধ রাখার পর বাংলাদেশের জনগণ এক ঈদে প্রতিটি গ্রামে গরু ও ছাগলের খামার গড়ে তুলেছে এবং ১ কোটি ২০ লাখ গরু জবাই করেছে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় কলকাতার নিউমার্কেটসহ সেখানকার হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য এলাকার দোকানদাররা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অস্থির হয়ে উঠবে ভেবে আপনারা ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ খুশি। প্রয়োজনে তারা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা অন্য কোনো দেশে যাবেন। মানুষ ভারতের মতো দেশে যেতে চায় না, যারা আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে।’
চট্টগ্রাম ভারতের অংশ ছিল বলে দাবি করায় ইন্ডিয়ান রিপাবলিক বাংলা টিভির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, একসময় মুসলিম নবাবদের শাসিত বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার মতো এলাকারও মালিকানা দাবি করবে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: ভারতে কূটনৈতিক মিশনে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার আহ্বান রিজভীর
৫১৫ দিন আগে
ভারত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে: ড. খন্দকার মোশাররফ
ভারত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি ঐক্যবদ্ধ মানুষের বিরুদ্ধে কোনো দেশই ষড়যন্ত্রে সফল হবে না।
তিনি বলেন, 'ভারত এবং এখানে থাকা কিছু হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য এখন কী ধরনের সমস্যা তৈরি করছে এবং সারা বিশ্বে আমাদের বদনাম করছে, আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে? তাদের একমাত্র লক্ষ্য এখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা এবং এই সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করা।’
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
স্বৈরাচার দিবসের পতন উপলক্ষে ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের (আপসু) বিএনপিপন্থী ছাত্রনেতারা এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে জনগণের আস্থা অর্জন করুন: বিএনপি কর্মীদের প্রতি নজরুল
তিনি বলেন, সামরিক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ ক্যু করে ক্ষমতা দখলের অবসান হয়েছিল।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ বলেন, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায় মাত্র কী তিন মাস ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছে? স্বাধীনতার পর থেকে তারা এখানে অত্যন্ত সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে।’
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার আহ্বানও জানান বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা জিয়াউর রহমান এই সমস্যার সমাধান করেছেন এই বলে যে, এখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান বলে কিছু নেই। সবাই বাংলাদেশি ও বাংলাদেশের নাগরিক। তাহলে আমরা কেন এখানে এমন বিভাজন সৃষ্টি করব এবং এটা সহ্য করব।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বারবার সরকার পরিবর্তন করেছে। ‘তাই এদেশের মানুষকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তাদের সরকার কী হবে, কীভাবে তারা দেশ চালাবে।’
তিনি বলেন, শান্তি বজায় রাখতে এবং দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে সকল ধর্ম নির্বিশেষে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, 'আমাদের ১৮ কোটি মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে তারা যে দেশেই থাকুক না কেন, আমাদের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল করতে পারবে না।’
তিনি বলেন, বিগত সরকার যেভাবে রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। বর্তমান সরকার সেগুলো সংস্কার করতে বদ্ধপরিকর।
দ্রুত নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার ও নির্বাচনি রোডম্যাপ প্রণয়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান খন্দকার মোশাররফ।
আরও পড়ুন: আ. লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করলেন রিজভী
৫১৫ দিন আগে
ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বান রিজভীর
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননা এবং আগরতলায় সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে ‘ভারতীয় পণ্য বর্জনের’ আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'যারা আমাদের দেশের পতাকা ছিঁড়ে... আমরা তাদের (ভারতীয়) পণ্য বর্জন করব।’
ভারতীয় পণ্য বর্জন ও বাংলাদেশি পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করতে 'দেশীয় পণ্য কিনুন, ধন্য হোন' ব্যানারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশি মা-বোনদের আর ভারত থেকে শাড়ি, সাবান, টুথপেস্ট বা অন্য কিছু কেনা উচিত নয়।
বাংলাদেশ পেঁয়াজ উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'সুতরাং আমরা তাদের (ভারত) ওপর নির্ভরশীল হব না। আমরা ভারতীয় পণ্য বর্জন করব।’
আরও পড়ুন: কলকাতায় ড. ইউনূসের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো-জাতীয় পতাকার অবমাননার নিন্দা বাংলাদেশের
ভারতীয় শাড়িতে আগুন
অনুষ্ঠানে রিজভী তার স্ত্রীর একটি ভারতীয় শাড়ি ছুড়ে মারেন। ভারতবিরোধী স্লোগানের দিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘টাঙ্গাইলের শাড়ি, রাজশাহীর সিল্কের শাড়ি কিংবা কুমিল্লার খদ্দর পরব।’
তবে বাংলাদেশের পতাকায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করলেও ভারতের পতাকার অবমাননা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানান বিএনপির এ নেতা।
রিজভী বলেন, ‘আমরা ভারতের পতাকার অপমান করব না। আমরা আরেকটি স্বাধীন দেশের মর্যাদা খাটো করব না। আমরা কোনো জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অসম্মান করব না।’
ভারতীয়রা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ মাথা নত করতে পারে না।
তিনি বলেন, 'প্রয়োজন হলে আমরা দিনে একবেলা খাব। তারপরও আমরা মাথা নত করব না।’
চিকিৎসা ভিসায় ভারতে যাওয়া বাংলাদেশি রোগীদের সম্পর্কে ভারতীয় সাংবাদিক ও চিকিৎসকদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ভারতে বিনামূল্যে চিকিৎসা করতে যায় না।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে লোকজন সেখানে ডলার খরচ করে। এখন কলকাতার নিউমার্কেট বন্ধ, দোকানপাট বন্ধ, আর কোনো ক্রেতা নেই।’ বাংলাদেশিরা সবসময় ডলার দিয়ে পণ্য ও সেবা কিনতে সেখানে যায়।
ভারতের হাসিনা প্রীতি
রিজভী বলেন, 'তারা (ভারত) নিষ্ঠুর হাসিনাকে পছন্দ করে, বাংলাদেশের মানুষকে নয়। তারা চায় না বাংলাদেশ বাঁচুক।’
তিনি বলেন, ভারত আজ বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ধরনের উসকানি দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কোনো উসকানিতে পা দেবে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য এতটাই দৃঢ় যে, কেউ তা ভাঙতে পারবে না।
এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবা বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
৫১৬ দিন আগে
ভারতে কূটনৈতিক মিশনে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার আহ্বান রিজভীর
ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর সহায়তা নিতে অন্তর্বতী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, উগ্রবাদীরা ভারতের বিজেপির উসকানিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের নিস্ক্রিয় উপস্থিতিতে আগরতলার কুঞ্জবনে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা, জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে আগুন, পতাকার খুঁটি ভাঙচুর ও সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রসঙ্গ টেনে মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাইকমিশনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি বলেন, এই অবস্থায় অন্তর্বতী সরকারের উচিত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীর সহায়তা চাওয়া। মানুষদের নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া।
রিজভী বলেন, আগরতলায় কূটনৈতিক মিশনে এহেন নজিরবিহীন হামলা ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোম্যাটিক রিলেশন, ১৯৬১ -এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ভারত সরকার হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও, অতীতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের আগ্রাসী হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে, যা আরও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে বলে জানান তিনি।
রিজভী বলেন, ‘ভারতের হিন্দুদের বলব, আপনাদের বন্ধুত্ব তো হাসিনার সঙ্গে। সেই বন্ধুত্ব রক্ষায় বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে যে শত্রুতায় নেমেছেন, সেটা সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়। হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে আপনাদের বন্ধু হাসিনা আপনাদের কাছে আশ্রয় পেয়েছে। তাকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন।’
তিনি বরেন, মনে রাখবেন, বাংলাদেশ লাখো প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে, দিল্লীর দাসত্ব করতে নয়। বরং যে সেবাদাসী হতে চেয়েছিলেন, সেই দাসী এখন আপনাদের পদতলে।
বিএপির এই নেতা আরও বলেন, ক্ষমতা হারিয়ে শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি পাগল হয়ে গেছে বিজেপি সরকার ও উগ্রবাদীরা। মরিয়া হয়ে প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। মমতা ব্যানার্জি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী পাঠাতে বলছে।
রিজভী বলেন, ‘ভারতেই তো বাংলাদেশের মিশনগুলো অরক্ষিত। মিশনের একজনকে আমরা ভিডিওতে ভাইরাল হতে দেখেছি, কি বেদম প্রহার করা হচ্ছে! তারপরেও মমতা ব্যানার্জি বলবেন, বাংলাদেশে শান্তিরক্ষী বাহিনী দরকার না ভারতে শান্তিরক্ষী বাহিনী দরকার?’
আরও পড়ুন: বিএনপি প্রত্যাশা করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি ভারত সম্মান দেখাবে
একই সঙ্গে কাশ্মীর, আসাম ও মনিপুরেও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানো প্রয়োজন বলে মনে করেন রিজভী।
মমতার উদ্দেশে তিনি বলেন, আগে নিজের দেশ সামলান। শান্তিরক্ষী বাহিনী আপনার দেশ ভারতে মোতায়েন করেন। বিশেষ করে কাশ্মীর, আসাম ও মনিপুরে। নরেন্দ্র মোদির এক দশকের শাসনামলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু মুসলিমদের অধিকার ক্রমশ কমে আসছে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) মুসলিমবিরোধী বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, ভারতে একমাত্র মুসলিম অধ্যুষিত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা বাতিল করেছে মোদি সরকার। অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের স্থানে নির্মিত হয়েছে রামমন্দির। একাধিক রাজ্যে গরুর মাংস বিক্রি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মুছে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে মুঘল আমলের বিভিন্ন নাম ও স্মৃতিচিহ্ন।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগসমূহ তদন্ত করতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান রিজভী।
‘ভারতের পরিকল্পনা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল রাখা’
রিজভী বলেন, ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর অসংখ্য নির্মমতার ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত… সেসব নিয়ে দেশটির কোনো সংকোচ বা অনুশোচনা নেই। কিন্তু বাংলাদেশে তাদের মাষ্টার প্ল্যানের পরিস্থিতিতে তারা অযাচিত উদ্বেগ-উগ্রতা প্রকাশ করছে। সেই পরিস্থিতি কিছুই না … দুই একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু ভারতের মাস্টার প্ল্যানের অংশ হচ্ছে, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করো, বাংলাদেশ যাতে সঠিক ভাবে চলতে না পারে… এটাই হচ্ছে তাদের আন্তর্জাতিক মাস্টার প্ল্যান এবং এখানে বাইরের একটি দেশ এর মধ্যে জড়িত বলে বাংলাদেশের জনগণ মনে করে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে অবৈধ কর্মে লিপ্ত থাকার অপরাধে ইসকন থেকে বহিষ্কারের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, চিন্ময়কে রাষ্ট্রদ্রোহীর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে হিন্দুত্ববাদী ভারত। রাষ্ট্র হিসেবে ভারত কি শিশুর ওপর অত্যাচারকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়? এটা তো বড় প্রশ্ন দেশের মানুষের? চিন্ময়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ইসকনই করেছে।
‘দেশের সকল সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান’
রিজভী বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত। কিন্তু শত্রুতা করতে চাইলে সেটা বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রিয় জনগণ মেনে নেবে না। আপনাদের প্রতি অনুরোধ… নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়াবেন না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান যারাই নিরাপত্তাহীন মনে করেন তারা সরকারকে জানান সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু ভারতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লাভ নেই। জন্মভূমির প্রতি অনুগত থাকুন। এই মৃত্তিকায় যদি আপনার জন্ম হয় এই মৃত্তিকার প্রতি এই মাটির প্রতি আপনি ভালোবাসা প্রকাশ করুন। বিজেপি ভারতকে ধর্মীয় উগ্রবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। বাংলাদেশ ভারতের মতো উগ্রবাদী কোনো ধর্মীয় রাষ্ট্র নয়। বাংলাদেশ ভারতকে বন্ধুরাষ্ট্র ভেবে কত কিছু দিয়েছে। কিন্তু ভারত সীমান্তে রক্ত, লাশ আর আগ্রাসন ছাড়া কিছু দেয়নি।
‘বাংলাদেশে অস্থিরতার অপচেষ্টা বিজেপির প্রত্যক্ষ মদদে’
রিজভী বলেন,‘দুঃখের বিষয় হলো কিছু ধর্মীয় উগ্রবাদী ক্ষুদ্র গোষ্ঠী ভারতের চরম সাম্প্রদায়িক সংগঠন বিজেপির প্রত্যক্ষ মদদে-উসকানিতে বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান এই উগ্রবাদীদের নিয়ন্ত্রণ করুন। ভারতের সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের কোনো শত্রুতা নেই। কিন্তু চরম উগ্রবাদী বিজেপি যদি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে চায়, তাহলে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক প্রতিটা মানুষ এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব-সম্মান আত্মমর্যাদা রক্ষায় রুখে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ কখনোই মাথা নোয়াবে না।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে জনগণের আস্থা অর্জন করুন: বিএনপি কর্মীদের প্রতি নজরুল
৫১৮ দিন আগে
আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে হামলার প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ
ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার নিন্দা এবং ‘বাংলাদেশ বিরোধী উসকানির’ প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বিকালে ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে এই বিক্ষোভ ও মিছিল করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
দলটির সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আহমাদ বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ চাই। আমাদের ১৫ কোটি মানুষের শক্তিশালী ৩০ কোটি হাত সাম্যের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই এই হামলার তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা সীমান্তে বাংলাদেশিদের নির্যাতনের খবর পেয়েছি। তারা সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে। আমরা ভারতের পক্ষ থেকে এই ধরনের আচরণ সহ্য করব না ‘
আরও পড়ুন: জনগণকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান তারেক রহমানের
সংগঠনটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি ইমতিয়াজ আলম বলেন, 'শুধু ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়। ভারতীয় মন্ত্রীদের আত্মমূল্যায়ন করতে হবে। মুসলিম, খ্রিস্টান, হিন্দু সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।’
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভারত ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিচ্ছে। ভারতের গণমাধ্যমগুলো সহিংসতায় ইন্ধন জোগাচ্ছে। তারা বাংলাদেশে সংঘাতকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও জানান তারা।
ভারত প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে ভারতের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বিক্ষোভ মিছিলটি বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে বিজয় নগর পানির ট্যাংক এলাকা হয়ে পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে গত ২ ডিসেম্বর ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে হামলা চালায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সমর্থকরা।
আরও পড়ুন: ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব
৫১৮ দিন আগে
বিএনপি প্রত্যাশা করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি ভারত সম্মান দেখাবে
আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আশা করেছিলাম ভারতীয়রা নতুন বাংলাদেশের নাগরিকদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান দেখাবে।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, ভারতীয়রা নতুন বাংলাদেশের নাগরিকদের গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান দেখাবে এবং ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী নেতাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে তাদের বিচারে সহায়তা করবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ভারতের উত্তর আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে উগ্রবাদীদের হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, 'হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি নামের ওই সংগঠনের সদস্যরা সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে হামলা পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সহকারী হাইকমিশনের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর বাংলাদেশের পতাকা নামিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া ও ভাঙচুর করা জেনেভা কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ভারত সরকার ও ভারতীয় জনগণের প্রতি আমাদের অনুরোধ জানাবো, ‘আপনাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কৌশল হিসাবে বাংলাদেশে-ঘৃণার ব্যবহার- উভয় দেশের সম্পর্কে দীর্ঘস্থায়ী টানাপোড়েন সৃষ্টি করবে।’
আরও পড়ুন: জনগণকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান তারেক রহমানের
৫১৮ দিন আগে
জনগণকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান তারেক রহমানের
দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং কোনো ধরনের উসকানিতে না পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাটাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।
ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আমার দেশের জনগণকে সর্বোচ্চ সংযম দেখাতে এবং কোনো উসকানির শিকার না হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, কিন্তু আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের দেশ ছিলাম ও থাকব। এদেশে জাতি, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত।
আরও পড়ুন: আগামী নির্বাচন হবে যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে কঠিন: তারেক রহমান
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ভারতীয় কিছু মহল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে উসকানিমূলক মন্তব্য ও রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে। ভুল তথ্যের এসব প্রচারণা বাংলাদেশবিরোধী মনোভাবকে উসকে দিচ্ছে।
আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে সর্বশেষ হামলা এসব বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের ফল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি প্রতিবেশীদের মধ্যে শুধু বিরোধ ও বিভেদই সৃষ্টি করে।
তারেক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, প্রায় ২০ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হলে, তা কোনো দেশের স্বার্থে আসবে না।
তিনি আরও বলেন, কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বাইরে গিয়ে ঠিক কী কারণে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হলেন, তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে কী ঘটছে এবং কেন বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা অপরিহার্য- তা বস্তুনিষ্ঠভাবে বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
৫১৮ দিন আগে