রাজনীতি
ক্রীড়াঙ্গনে ‘অরাজনৈতিক ঐক্য’ দরকার: মির্জা ফখরুল
ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ ক্রীড়াঙ্গনকেও দলীয়করণ করেছিল বলে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের নতুন যে যাত্রা শুরু হয়েছে, সেখানে ক্রীড়াঙ্গনে যেটা দরকার সেটা হচ্ছে একটা অরাজনৈতিক ঐক্য এবং মেধার চর্চা। সেই সুযোগে সবচেয়ে ভালো খেলোয়াড় বেরিয়ে আসে।
শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) বিকালে মিরপুর পল্লবীর সিটি ক্লাব ফুটবল মাঠে জিয়া আন্তঃথানা ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫-এ উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট কায়দায় বাংলাদেশ শাসন করে সব প্রতিষ্ঠানকে নষ্ট করে দিয়েছে, ক্রীড়াঙ্গন তার একটা বড় উদাহরণ। এই ক্রীড়াঙ্গনকে কোনো দিন এর আগে কখনোই দলীয়করণ করা হয়নি। তারা এটাকেও দলীয়করণ করেছিল। যার ফলে আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখেছি, যেসব ভালো ও ট্যালেন্টেড খেলোয়াড়রা ছিল তারা বাংলাদেশে সুযোগ পায়নি।’
খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের মন হয় উদার, মাদক নির্মূলসহ সামাজিক কাজে তাদের ভূমিকা অনেক বড়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যও এটি— মাদকপথ পরিহার করে যুব ও তরুণ সমাজ খেলাধুলায় মনোযোগী হবে।’
আরও পড়ুন: জামায়াতের কিছু বক্তব্যে কষ্ট লাগে: নজরুল ইসলাম খান
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি যেটুকু বুঝতে পারি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তরুণ, যুবকদেরকে রাজনীতির সাথে ক্রীড়াঙ্গনে, খেলাধুলায় পরিচালনা করা। তিনি যে বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন সেখানে ‘সত্যিকার অর্থেই একটা অগ্রসর, সমৃদ্ধ একটা বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চান। সেখানে তরুণদের ভূমিকাকেই সবচেয়ে বড় মনে করেন।’
ক্রীড়াঙ্গনে জিয়া পরিবারের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে আরাফাত রহমান কোকোর বড় ভূমিকা ছিল। দেশের ক্রিকেটে যে উৎকর্ষতা সাধিত হয়েছে তার ভিত্তি কোকোর হাত ধরেই হয়েছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক ও টুর্নামেন্ট প্রধান আহ্বায়ক আক্তার হোসেন, টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মো. জাহেদ পারভেজ চৌধুরী প্রমুখ।
৫৭০ দিন আগে
জামায়াতের কিছু বক্তব্যে কষ্ট লাগে: নজরুল ইসলাম খান
জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির তেমন কোনো দূরত্ব নেই বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তবে জামায়াতের কর্মকাণ্ড ও কিছু বক্তব্যে বিএনপি মর্মাহত বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক শেষে নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির দূরত্বের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এমন কোনো দূরত্বের কিছু নাই। তারাও (জামায়াত) গণতন্ত্র চায়, নির্বাচন চায়। তারাও মানুষের অধিকারের কথা বলে, আমরাও বলি। কিন্তু যদি কেউ কখনও বলে যে তারাই শুধু দেশপ্রেমিক, তাহলে তো আমাদের কষ্ট লাগবেই। কথাটা ঠিক না। আমরা সবাই দেশপ্রেমিক।’
‘আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। তারপর যদি বলেন, শুধু আপনি দেশপ্রেমিক, আপনার আরেক বন্ধু দেশপ্রেমিক, তাহলে আমাকে বাদ দিলেন না আপনি! এটা তো কষ্ট লাগার কথা। আমরা আশা করব, এরকম কথা কেউ না বলুক।’
জামায়াতের সাথে বিএনপি বৈঠক করবে কিনা জানতে চাইলে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে আমরা যুগপৎ আন্দোলনে ছিলাম না, আমরা জোটে ছিলাম। যুগপৎ আন্দোলনে আমাদের আর জামায়াতের সব কর্মসূচি একরকম ছিল না। কিন্তু তারা আন্দোলনে ছিল। আমরা আশা করব, আগামী দিনে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সবাই আমরা থাকব, তারাও থাকবে।’
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডনে যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল, উনি এয়ারপোর্ট থেকে সোজা সেখানেই ভর্তি হয়েছেন এবং সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন। আল্লাহর মেহেরবানিতে তার চিকিৎসা ভালোভাবেই হচ্ছে। আমরা সবাই দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।’
গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সেলিমা রহমানও অংশ নেন। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বে সমমনা জোটের আরও কয়েক নেতা এই বৈঠকে অংশ নেন।
৫৭০ দিন আগে
তরুণ প্রজন্মের প্রতি ঐক্যের ডাক সারজিসের
নতুন বাংলাদেশ গড়তে দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মূখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, আগামীর নতুন বাংলাদেশে আমরা তরুণ প্রজন্ম যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারি, তাহলে কোনো অপশক্তি আমাদের আটকে রাখতে পারবে না।
শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে ভোলা সরকারি স্কুল-সংলগ্ন ইলিশা ফোয়ারা মোড়ে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস বলেন, ‘আজকে যখন আমরা চিন্তা করছি—অভ্যুত্থানে যে গতিকে সামনে রেখে আমরা রক্ত দিয়েছি, জীবন দিয়েছি, যে স্বপ্নগুলো আমরা এখনও ধারণ করি, বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্নগুলো দেখি, সে স্বপ্নগুলো একটি ঘোষণাপত্রে লিখিত আকারে থাকা প্রয়োজন। কিন্তু কোন কথাগুলো তাতে থাকা প্রয়োজন, তা যেন কয়েকজনের কথায় না হয়; সেগুলো যেন বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলার ও থানার প্রতিটি শ্রেণির মানুষের কথা হয়।’
তিনি বলেন, ‘এই অভ্যুত্থানে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে, হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে স্বৈরাচারী খুনি হাসিনাকে দেশছাড়া করেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধ্যভাবে এ দেশের ফ্যাসিস্টবিরোধী সব দলের, মতের, ধর্মের, বয়সের ও শ্রেণির মানুষ একসাথে লড়াই করেছি। তাই এটা আমাদের দ্বায়বদ্ধতা। এ দেশের প্রত্যেকটি প্রান্তে গিয়ে সেই জেলার সাধারণ মানুষের কথা শোনা এবং সে অনুযায়ী আগামীর বাংলাদেশের কাজগুলো করা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’
এই সমন্বয়ক বলেন, ‘বাংলাদেশের যে জায়গাগুলোতে এখনো দালালি ও চাঁদাবাজি হয়, হোক সেটা কেউ পোশাক পরে করুক, কেউ সাধারণ পোশাকে করুক, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সক্রিয় হওয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি।’
‘আমার এই ভোলার সহযোদ্ধা ভাইরা আমাদের বলেছেন, যারা আমার জসিম ভাইসহ অসংখ্য ভাইকে রক্তাক্ত করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। ওই সময়ের যে এসপি, তার সঙ্গে থাকা অফিসার, কনস্টেবলরা আমার ভাইদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে, তাদের শাস্তি যেন শুধু বদলি না হয়। এই অভ্যুত্থানে যারা রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে, তাদের যেন স্বীকৃতি দেওয়া হয়।’
এ সময় তিনি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘যে ভোলায় গ্যাস উৎপাদন হয়, সেখানকার মানুষ কেন গ্যাস পাবে না? যে ভোলা থেকে একজন রোগী লঞ্চ স্পিডবোটে ফেরিতে যেতে গিয়ে মরতে হয়, সেখানে কেন মেডিকেল কলেজ হবে না?’
‘৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ করে যদি পদ্মা সেতু হয়, ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করে পদ্মা সেতুর পাশে একইসঙ্গে রেল যোগাযোগ হয়, তাহলে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করে কেন বরিশাল থেকে ভোলা একটি সংযোগ সেতু হবে না?’
ভোলায় একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনসহ জেলার গ্যাস সিন্ডিকেট করে শুধুমাত্র ব্যবসা করার জন্য রক্তচোষার মতো কেউ যাতে নিয়ে যেতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।
পথসভায় জাতীয় নাগরিক কমিটির মূখপাত্র শারমিন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কমিটির সদস্য আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, ভোলা জেলা সমন্বয়কদের মধ্যে মো. ইসরাফিল হোসেন জাবির, ইসরাত জাহান আলভিসহ জাতীয় নাগরিক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।
এর আগে, সকালে সারজিস আলম ও জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যরা ভোলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ জসিম উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তাদের সহানুভূতি জানান। এরপর তারা জসিম উদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন। পরে ভোলা বাংলা স্কুল মোড় সদর রোড ও নতুন বাজার এলাকায় ঘোষণাপত্রে ৭ দফা অন্তর্ভুক্তির দাবিতে লিফলেট বিতরণ করেন।
৫৭০ দিন আগে
খালেদার চিকিৎসায় সুবিধা দেওয়ায় কাতার ও যুক্তরাজ্যকে ধন্যবাদ দিল বিএনপি
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার সুবিধা দেওয়ায় কাতার ও যুক্তরাজ্য সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘আমরা কাতার সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার জন্য বিনা ভাড়ায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করেছে। আর লন্ডনে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় ব্রিটিশ সরকারকেও ধন্যবাদ জানাই।’
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে মিথ্যা মামলায় আদালতে দেওয়া বিবরণ সম্বলিত 'রাজবন্দীর জবানবন্দি' নামের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
মুক্তি পাওয়ার পর তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লন্ডনে যান এবং হাজার হাজার মানুষ তাকে বিদায় জানায়। লন্ডন যাওয়ার পথে তিনি কোনো বাধার সম্মুখীন হননি বলেও জানিয়েছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের দ্য লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে মঙ্গলবার রাতে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ৭ বছর পর মা-ছেলের আবেগঘন পুনর্মিলন
হিথ্রো বিমানবন্দরে বড় ছেলে তারেক রহমান তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান নিয়ে মাকে অভ্যর্থনা জানান।
এর আগে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মোহাম্মদ হযরত আলী খান বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়ছার এম আহমদসহ অনেক নেতাকর্মী বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
২০২১ সালের শেষ দিকে খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস ধরা পড়ার পর থেকেই তার চিকিৎসকরা বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
তার অবস্থার তীব্রতা সত্ত্বেও, দুটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আইনি বাধার কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে চিকিৎসার জন্য ভ্রমণের অনুমতি দেয়নি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের একদিন পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের আদেশে খালেদা জিয়াকে পুরোপুরি মুক্তি দেওয়া হয়।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস এবং তার কিডনি, ফুসফুস, হার্ট এবং চোখের জটিলতাসহ একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন।
আরও পড়ুন: জাতিকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টা রুখতে ঐক্য জরুরি: ফখরুল
৫৭১ দিন আগে
জাতিকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টা রুখতে ঐক্য জরুরি: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশকে রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্য অপরিহার্য হলেও একটি মহল জাতিকে বিভক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, 'আমি সবাইকে বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'দেশকে বাঁচাতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঐক্য।’
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে 'রাজবন্দীর জবানবন্দি' বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।
বইটিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার 'মিথ্যা' মামলায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দী সম্পর্কে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
ফখরুল বলেন, সংস্কার অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু এসব সংস্কারের পেছনে চালিকাশক্তি হিসেবে নির্বাচিত সংসদ ও সরকার থাকতে হবে। ‘এটি ছাড়া আমরা কখনোই সংস্কারকে বৈধতা দিতে পারব না। আমি এখন এ নিয়ে বিতর্কে জড়াতে চাই না।’
আরও পড়ুন: ৭ বছর পর মা-ছেলের আবেগঘন পুনর্মিলন
তিনি বলেন, 'আমি দেশের সকল গণতন্ত্রকামী ও স্বাধীনতাকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। বিভক্ত হবেন না। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, কিছু মানুষ দেশ ও দেশের মানুষকে বিভক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিকে বিভক্ত করার উদ্দেশে কিছু লোক উসকানিমূলক বক্তব্যও দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং দেশে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি নেতা।
আরও পড়ুন: লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন খালেদা জিয়া
৫৭১ দিন আগে
লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন খালেদা জিয়া
উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে যুক্তরাজ্যের বিশেষায়িত হাসপাতাল লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের সদস্য আল মামুন জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টার দিকে তাকে হাসপাতালটিতে ভর্তি করা হয়।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও মেডিকেল রিপোর্ট পর্যালোচনা করে হাসপাতালটির চিকিৎসকরা পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে থাকা এই চিকিৎসক।
বিএনপির শীর্ষ এই নেতাকে হাসপাতালে ভর্তির সময় বাংলাদেশি চিকিৎসক ও তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ৭ বছর পর মা-ছেলের আবেগঘন পুনর্মিলন
এর আগে, বাংলাদেশ সময় বুধবার দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বেগম জিয়াকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মায়ের দেখা পেয়ে এগিয়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন ছেলে তারেক ও পুত্রবধূ জুবাইদা। একে অপরের দেখা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা ও ছেলে উভয়েই।
কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা ত্যাগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়া।
এরপর স্থানীয় সময় সকালে লন্ডন পৌঁছালে তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনকে শুভেচ্ছা জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মোহাম্মদ হযরত আলী খানসহ যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদসহ দলটির অনেক নেতাকর্মী।
হাইকমিশনারের পাশাপাশি তারাও বিএনপির এই শীর্ষ নেতাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
৫৭২ দিন আগে
৭ বছর পর মা-ছেলের আবেগঘন পুনর্মিলন
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অসংখ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অবশেষে বিদেশে চিকিৎসার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য। উন্নত চিকিৎসার নিতে বুধবার লন্ডনে পৌঁছেছেন তিনি। এর ফলে দীর্ঘদিন পর বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছে তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানের দেওয়া তথ্য অনুসারে, বুধবার (৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বেগম জিয়াকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মায়ের দেখা পেয়ে এগিয়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন ছেলে তারেক ও পুত্রবধূ জুবাইদা। একে অপরের দেখা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা ও ছেলে উভয়েই।
আরও পড়ুন: লন্ডন পৌঁছেছেন খালেদা জিয়া
৫৭২ দিন আগে
হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোকে জনগণ ইতিবাচকভাবে নেয়নি: রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনার মতো একজন খুনির জন্য ভারতের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের জনগণ ইতিবাচকভাবে নেয়নি।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহিদ শাহরিয়ার খান আনাসের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়ানো ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তবে এর পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে কিনা তা আমরা জানি না।’
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের সময় নিহত গেন্ডারিয়া আদর্শ স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র আনাসের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন রিজভীসহ ‘আমরা বিএনপি পরিবার’এর সদস্যরা।
ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশকে বুঝতে হবে শেখ হাসিনা শিশু, কিশোর, যুবসমাজ, রিকশাচালক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের হত্যাকারী।’
‘একটি গণতান্ত্রিক দেশ কীভাবে ওই খুনিকে আশ্রয় দিতে পারে, তার ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পারে? বাংলাদেশের মানুষ এটাকে ইতিবাচকভাবে নেয়নি।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘বাংলাদেশিদের দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ ও অর্জন বুঝতে না পেরে ভারত তার আধিপত্য ও আগ্রাসী মনোভাব প্রদর্শন করছে। তারা রক্তের বিনিময়ে আমাদের অর্জিত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ন করার জন্য এটা করছে।’
আরও পড়ুন: নির্বাচন হলে ক্ষমতায় আসবে বিএনপি: আব্দুস সালাম
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিসার মেয়াদ ভারত সরকার বাড়িয়েছে বলে সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে খবরে প্রকাশিত হয়।
গত ২৩ ডিসেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি নোট ভারবালের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানোর পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
৭৭ বছর বয়সী শেখ হাসিনা গত বছরের আগস্টে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ভারতে অবস্থান করছেন।
আরও পড়ুন: লন্ডনে পৌঁছেছেন খালেদা জিয়া
৫৭২ দিন আগে
লন্ডন পৌঁছেছেন খালেদা জিয়া
উন্নত চিকিৎসার জন্য কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে লন্ডন পৌঁছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। লন্ডনের দ্য লন্ডন ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান ইউএনবিকে জানান, বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।
কাতার রাজপরিবারের এয়ারবাস এ৩১৯ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে মঙ্গলবার রাত ১১টা ৪৬ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন ৭৯ বছর বয়সী ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার হযরত আলী খান খালেদা জিয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
এর আগে, উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যেতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান খালেদা জিয়া। রাত ৮টা ১২ মিনিটে গুলশানে তার বাসভবন ফিরোজা থেকে রওনা দেন এই রাজনীতিবিদ।
গুলশানের বাসা থেকে বিমানবন্দরের পথে পুরোটা সময় নেতাকর্মীদের বিদায়ী শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়ে রাত ১০টা ৫১ মিনিটে আট নম্বর গেট দিয়ে তার মোটর শোভাযাত্রা বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
দলীয় সূত্র জানায়, এর আগে চেয়ারপারসনের অফিসের কর্মীরা তার ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রেখেছেন।
পথে পথে হাজারো নেতাকর্মীর ভিড় পেরিয়ে বিমানবন্দরে যেতে তার দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। তাকে বিদায় জানাতে গুলশান, কাকলী ও বিমানবন্দর সড়কে হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মী জড়ো হন। লন্ডনে যাওয়ার আগে তাকে এক নজর দেখার জন্য সন্ধ্যায় বহু লোক তার বাসার সামনে আসেন।
ফিরোজায় খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতিমা, প্রয়াত ভাই সাঈদ ইস্কান্দারের সহধর্মিনী নাসরিন ইস্কান্দারসহ আত্মীয়-স্বজনরা তাকে বিদায় জানান।
আরও পড়ুন: বিমানবন্দরের পথে খালেদা জিয়া
দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিয়ে যেতে গত কয়েক বছর থেকে চেষ্টা চালাচ্ছেন তার পরিবারের সদস্যরা ও বিএনপি। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে বিদেশ গিয়ে তার চিকিৎসা নেওয়ার পথ খুলে যায়।
লন্ডনে গিয়ে সরাসরি একটি ক্লিনিকে ভর্তি হবেন তিনি। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে যাবেন চিকিৎসার জন্য।
সঙ্গে যারা গেছেন
লন্ডন যাত্রায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে আছেন তার ছোট পুত্রবধূ সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি। এ ছাড়াও আছেন চারজন চিকিৎসক ও প্যারামেডিক্স।
বিএনপি চেয়ারপারসনের মেডিকেল বোর্ডের ছয়জন সদস্যও যাবেন তার সঙ্গে। চিকিৎসকরা হলেন— মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক এফএম সিদ্দিক, অধ্যাপক নরুদ্দিন আহমেদ, ডা. জাফর ইকবাল, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন ও ডা. মোহাম্মদ আল মামুন।
এছাড়া চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল ও খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ ব্যক্তিগত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও তার সঙ্গে গিয়েছেন।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিতে সর্বাধুনিক চিকিৎসা সুবিধার যন্ত্রপাতি ও ল্যাবরেটরিও রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন খালেদা জিয়া
৫৭২ দিন আগে
লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশে উড়াল দিয়েছে কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি টারমাক থেকে উড়োজাহাজটি রানওয়ের দিকে এগোতে থাকে। কয়েক মিনিটের মধ্যে উড়াল দেয় সেটি।বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ম্যাডামকে নিয়ে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যাত্রা শুরু করেছে। আপনাদের মাধ্যমে দেশেবাসীর কাছে ম্যাডামের জন্য দোয়া চাই।’সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সাড়ে ১১টায় হিথরো বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। মাঝখানে কাতারের রাজধানী দোহায় তিনি এক ঘণ্টা বিরতি নেবেন। হিথরো বিমানবন্দরেও তাকে ভিআইপি প্রটোকল দেওয়া হবে।এরআগে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যেতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান খালেদা জিয়া। রাত ৮টা ১২ মিনিটে গুলশানে তার বাসভবন ফিরোজা থেকে রওনা দেন ৭৯ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ।গুলশানের বাসা থেকে বিমানবন্দরের পথে পুরোটা সময় নেতাকর্মীদের বিদায়ী শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়ে রাত ১০টা ৫১ মিনিটে আট নম্বর গেট দিয়ে তার মোটর শোভাযাত্রা বিমানবন্দরে পৌঁছায়।দলীয় সূত্র জানায়, এরআগে চেয়ারপারসনের অফিসের কর্মীরা তার ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রেখেছেন।পথে পথে হাজারো নেতাকর্মীর ভিড় পেরিযে বিমানবন্দরে যেতে তার দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। তাকে বিদায় জানাতে গুলশান, কাকলী ও বিমানবন্দর সড়কে হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মী জড়ো হয়েছেন। লন্ডনে যাওয়ার আগে তাকে এক নজর দেখার জন্য সন্ধ্যায় বহু লোক তার বাসার সামনে এসেছেন।ফিরোজায় খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতিমা, প্রয়াত ভাই সাঈদ ইস্কান্দারের সহধর্মিনী নাসরিন ইস্কান্দারসহ আত্মীয়-স্বজনরা বিদায় জানান। দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিয়ে যেতে গত কয়েক বছর থেকে চেষ্টা চালাচ্ছেন তার পরিবারের সদস্যরা ও বিএনপি।ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে বিদেশ গিয়ে তার চিকিৎসা নেওয়ার পথ খুলে যায়।লন্ডনে গিয়ে সরাসরি একটি ক্লিনিকে ভর্তি হবেন তিনি। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে যাবেন চিকিৎসার জন্য।সঙ্গে যারা যাচ্ছেনলন্ডন যাত্রায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে আছেন তার পুত্রবধূ ছোট ছেলে আরফাত রহমানের স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি। এছাড়াও আছেন চারজন চিকিৎসক ও প্যারামেডিক্স।বিএনপি চেয়ারপারসনের মেডিকেল বোর্ডের ছয়জন সদস্যও যাবেন তার সঙ্গে। চিকিৎসকরা হলেন, মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক এফএম সিদ্দিক, অধ্যাপক নরুদ্দিন আহমেদ, ডা. জাফর ইকবাল, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন ও ডা. মোহাম্মদ আল মামুন।এছাড়া চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল ও খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ ব্যক্তিগত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।বিমানটিতে সর্বাধুনিক চিকিৎসা সুবিধার যন্ত্রপাতি ও ল্যাবরেটরিও রয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
৫৭৩ দিন আগে