রাজনীতি
‘বৈষম্যবিরোধী’ বা ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ের এখন আর অস্তিত্ব নেই
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আত্মপ্রকাশের পর ‘বৈষম্যবিরোধী’ বা ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ের এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (৭ মার্চ) বিকালে রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ টাওয়ারে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সমন্বয়ক পরিচয়ে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজির নানা অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন আর আগের জায়গায় নেই। সেখান থেকে একটি ছাত্র সংগঠন তৈরি হয়েছে।’
তার ভাষ্যে, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে একটি রাজনৈতিক দল তৈরি হয়েছে বলে ‘বৈষম্যবিরোধী’ বা ‘সমন্বয়ক’ বলে যে পরিচয়টা, সেটা এখন আর এক্সিস্ট করে না সেই অর্থে।”
“ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ থাকবে, যদি কেউ ‘বৈষম্যবিরোধী’ বা ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্ম করে, তাহলে তারা তাদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।”
আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চায় এনসিপি
এনসিপির কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন রাজনৈতিক নিবন্ধনের শর্তাবলী নিয়ে মনযোগী হচ্ছি। তৃণমূলে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছি। রোজার পর পুরোদমে শুরু করব। আমরা নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করছি। জোট গঠনের বা নির্বাচনের প্রার্থীর বিষয়ে আমাদের অবস্থান ব্যক্ত করতে আরও সময় লাগবে।’
এ সময় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, প্রধান সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীসহ দলটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
৫৯৯ দিন আগে
নির্বাচনের আগে বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চায় এনসিপি
যেকোনো নির্বাচনে যাওয়ার আগে দৃশ্যমান বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন দেখতে চান বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘শুধু নির্বাচনই নাগরিক পার্টির এই মুহূর্তে একমাত্র দাবি নয়, তার আগে আমরা দৃশ্যমান বিচার কার্যক্রম দেখতে চাই।’
শুক্রবার (৭ মার্চ) বিকালে রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ টাওয়ারে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য নাগরিক পার্টির প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা বলেছি, সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণপরিষদ নির্বাচন দেখতে চাই। শুধু নির্বাচনই নাগরিক পার্টির এই মুহূর্তে একমাত্র দাবি নয়, তার আগে আমরা দৃশ্যমান বিচার কার্যক্রম দেখতে চাই।’
‘ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে জুলাই সনদ সই হওয়ার কথা, জনগণ দেখতে পাবে কোন রাজনৈতিক দল সংস্কারের পক্ষে আছে, কোন দল বিপক্ষে আছে—এই জুলাই সনদ আমরা নির্বাচনের আগে কার্যকর দেখতে চাই। ছাত্রদের পক্ষ থেকে জুলাই ঘোষণাপত্রের যে দাবি উঠেছিল, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা সেটার বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’
সারা দেশে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, জনপরিসরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার যেন কঠোর অবস্থান নেয়। নারী নিপীড়নকারীদের যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের আওতায় আনা হয়।’
আরও পড়ুন: ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠায় ‘গণপরিষদ’ নির্বাচনের জন্য লড়াই করুন: নাহিদ
এ সময় আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থায় রয়টার্সে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘আমি রয়টার্সকে বলেছি, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নির্বাচন কঠিন হবে। তাদের বলি নাই নির্বাচন হবে না।’
‘আমি বলেছিলাম, এখন যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশ যে রকম নাজুক অবস্থায় আছে, এরকম নাজুক অবস্থায় নির্বাচন করাটা অনেক কঠিন হবে। এই পুলিশ প্রশাসনের সুষ্ঠু নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের নেই। তাদের সক্ষমতা পরীক্ষা হয়নি দীর্ঘদিন ধরে। সে জায়গায় আমরা বলেছি, আমাদের অবশ্যই নির্বাচনের আগে যে পুলিশিং ব্যবস্থা আছে, আইনশৃঙ্খলার যে পরিস্থিতি আছে, সেটা অবশ্যই উন্নত করতে হবে। এজন্য সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকে, সামাজিক শক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে, সহযোগিতা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘রয়টার্সের ইন্টারভিউতে কিছু মিসকোট হয়েছে। আমি বলেছিলাম যে, আমাদের আর্থিক বিষয়ে সমাজের যে সচ্ছল মানুষ বা শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছেন, তারা মূলত আমাদের সহযোগিতা করে। আমরা একটা ক্রাউড ফান্ডিংয়ের দিকে যাচ্ছি। অনলাইন ও অফলাইন-কেন্দ্রিক। ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে কার্যালয় স্থাপনসহ ইলেকশন ফান্ডিং রিচ করব। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এটা নিয়ে ভুল তথ্য এসেছে। এটা সংশোধনের জন্য অনুরোধ থাকবে।’
এনসিপির কার্যক্রম বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ বলেন, আমরা এখন রাজনৈতিক নিবন্ধনের শর্তাবলী নিয়ে মনযোগী হচ্ছি। তৃণমূলে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছি। রোজার পর পুরোদমে শুরু করবো। আমরা নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করছি। জোট গঠনের বা নির্বাচনের প্রার্থীর বিষয়ে আমাদের অবস্থান ব্যক্ত করতে আরও সময় লাগবে।
আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ
তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচনের সময়ের চেয়ে প্রেক্ষাপটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা আমাদের জায়গা থেকে দাবি জানাচ্ছি। জুলাই সনদ আর জুলাই ঘোষণাপত্র আলাদা জিনিস। ঘোষণাপত্রের দাবি আরও আগে উঠেছিল ছাত্রদের পক্ষ থেকে। আর জুলাই সনদ প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করছিলেন যে, সংস্কারের ঐকমত্যের ওপর একটা চার্টার তৈরি হবে যেখানে বাংলাদেশের রূপরেখা ও সংস্কারের কী কী এখন করব, কী কী ভবিষ্যতে করব— এসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের কাছে কমিটমেন্ট দিতে হবে। সেটাকে আমরা বলছি জুলাই সনদ।’
‘পরিবর্তন ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা থেকে মানুষ গণঅভ্যুত্থানে এসেছিল। এই দুইটা পূরণ করতে হবে। সেটা আমি বলেছি যে, আমরা যেন ভুলে না যাই বিচার; সংস্কারের মধ্য দিয়ে যেন আমরা নির্বাচনের দিকে যাই।’
এর আগে, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন জানান, আগামী ১০ মার্চ রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহিদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের নিয়ে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করবে দলটি।
তারপর ১১ মার্চ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ইফতার মাহফিলের পরিকল্পনার কথাও জানান আখতার।
এ সময় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলম, প্রধান সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৫৯৯ দিন আগে
নারী নির্যাতনসহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি কঠোর হস্তে দমন করুন: সরকারকে বিএনপি
দেশে নারীদের হেনস্থা ও নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে সব নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি কঠোর হস্তে দমন করার ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। এক বিবৃতিতে নানা ধরনের হয়রানিসহ নারীর প্রতি সহিংসতায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (৭ মার্চ) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ নিন্দাজ্ঞাপন করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতিসহ সব ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের পাশাপাশি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। শিক্ষাক্ষেত্রেও নারীরা যে, অগ্রগামিতা দেখাচ্ছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দেশের ন্যায় বিদেশেও নারীরা প্রশসংনীয় ভূমিকা রেখে দেশের সম্মান বৃদ্ধি করছে।’
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী, ‘শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার নারীদের হেনস্থা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ষণ ও নির্যাতন করে নারীদের হত্যা করা হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে।’
‘আওয়ামী সরকার নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি এবং বিচারহীনতার কারণে নির্যাতনকারীরা আরও উৎসাহিত ও বেপরোয়া হয়েছে, যা বর্তমানেও চলমান।।’
আরও পড়ুন: নির্বাচনি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন: তারেক রহমান
এসব ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘রাস্তাঘাটে ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে নারীদের বিভিন্নভাবে হেনস্থা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের প্রবণতা বিপজ্জনক। এই সব ঘটনা ঘটিয়ে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে।’
এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক বলেন, ‘নারীদের সম্মান রক্ষা ও নারী স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, যা নারীদের সংবিধান-স্বীকৃত অধিকার। নারী নির্যাতনসহ দেশের সার্বিক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ এখন চরম উদ্বিগ্ন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও বিরোধিতা করছি এবং একই সঙ্গে সবাইকে সচেতনভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকারকে নারী নির্যাতনসহ সব নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি কঠোর হস্তে দমন করে দেশে ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
৬০০ দিন আগে
অন্তর্বর্তী সরকারই তত্ত্বাবধায়ক সরকার: রিজভী
অন্তর্বর্তী সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আখ্যা দিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচন কমিশন যদি সঠিকভাবে কাজ করে, তবে ডিসেম্বর কেন জুন-জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব।
শুক্রবার (৭ মার্চ) রাজশাহীতে জুলাই-আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও আইনশৃংখলা বাহিনীর গুলিতে নগরীর ভূবন মোহন পার্কে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এ অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
নির্বাচন করতে এতো সময় লাগবে কেন, প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, ‘এ নির্বাচন ১৫ বছর শেখ হাসিনা আটকে রেখেছিল। ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেননি। ভোটাররা যাওয়ার আগে তাদের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। দিনের ভোট রাতে হয়েছে। আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা, আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সবগুলো পা দিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে ধংস করে দেওয়া হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সজিব করতে হবে; প্রণবন্ত করতে হবে।
এগুলোর জন্য এতো গড়িমসি কেন প্রশ্ন তুলেন রুহল কবীর রেজভী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি সঠিকভাবে কাজ করে, তবে ডিসেম্বর কেন জুনের মধ্যেই নির্বাচন সম্ভব; জুলাইয়েই নির্বাচন করা সম্ভব। কারণ, দেড় যুগ ধরে জনগণ ভোট দিতে পারেন না। আর এটা নিয়ে গড়িমসি করা হলে জনগণের মধ্যে তো সন্দেহ জাগবে এই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি।আরও পড়ুন: আবারও ফ্যাসিবাদের উত্থান হলে একুশের চেতনাই তা রুখবে: রিজভী
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকারই তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ফলে এ সরকার সুন্দর নির্বাচন করতে পারবে। নির্বাচন নিয়ে গড়িমসি গ্রহণযোগ্য নয়।
রিজভী বলেন, পুলিশ যাতে কোনো দলের পক্ষপাতিত্ব করতে না পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাতে সরকারের বাহিনী হয়ে জনগণের ওপর অত্যাচার করতে না পারে; সেই সংস্কারগুলো করতে কতক্ষণ সময় লাগে? সেই আইনগুলো করুন। আর এই আইন করতে তো নির্বাচিত সরকার দরকার। নির্বাচিত সরকার না হলে কি করে এটা সম্ভাব? এ জন্য আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরকার।
‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুম্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
৬০০ দিন আগে
ইসি এনআইডি সেবা নিয়ন্ত্রণে রাখার পক্ষে: সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাছির উদ্দিন বলেছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাবেন।
তিনি বলেন, 'আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আমরা দৃঢ়ভাবে আমাদের মতামত জানাব। যেখানে মতামতের প্রয়োজন হবে, আমরা মতামত দেব। আমাদের পুরো কমিশন এটাই চায়।’
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তর কক্ষের সামনে ইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসি এ কথা বলেন।
জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন সেবাসহ বেশ কিছু নাগরিক সেবাকে 'সিভিল রেজিস্ট্রেশন কমিশন' নামে একটি একক সংস্থার অধীনে আনার জন্য বর্তমান সরকার নতুন করে আইন প্রণয়নের যে উদ্যোগ নিয়েছে তার প্রতিবাদে আন্দোলন করছিল ইসি কর্মীরা।
আগামী ১২ মার্চের মধ্যে এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ চান তারা। আর তা না নিলে নতুন কর্মসূচিতে যাওয়ার জন্য সাত দিনের আল্টিমেটামও দিয়েছেন তারা।
নাসির উদ্দিন বলেন, সরকার নির্বাচন কমিশন থেকে এনআইডি কার্যক্রম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করেছে বলে তিনি শোনেননি, বরং আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'আমরা সরকারকে লিখিতভাবে জানাবো, নির্বাচন কমিশনের অধীনে এটি রাখতে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে সরকারকে অবহিত করব।
এর আগে সোমবার (৩ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে 'নাগরিক নিবন্ধন (কমিশন) অধ্যাদেশ, ২০২৫' এর খসড়া পর্যালোচনা করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের বৈঠকে ইসি সচিবালয়ের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।
২০২৩ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম নির্বাচন কমিশন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে স্থানান্তরের জন্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০২৩ প্রণয়ন করে।
কিন্তু জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আইনটি বাতিলের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, তিনি শুনেছেন সরকার হয়তো এক জায়গা থেকে সব ধরনের সেবা দেওয়ার কথা ভাবছে, কিন্তু এনআইডি সেবা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে থাকবে।
নাসির উদ্দিন বলেন, এনআইডি ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমের একটি অংশ এবং ইসি কর্মকর্তারা ১৭ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে সারা দেশে এনআইডি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। ‘সরকার অবশ্যই সব বিষয় বিবেচনায় নেবে। তথ্যের ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি থাকতে পারে। কমিশনের লিখিত মতামত পাওয়ার পর এই ঘাটতি আর অবশ্যই থাকবে না।’
তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার এবং সবার সম্মতির ভিত্তিতে তারা কাজ করছেন।
সিইসি বলেন, 'আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নই। আমি নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিত্ব করছি... আমি ইসির পক্ষ থেকে কথা বলতে পারি। সরকারের সামনে একটা অবস্থান তৈরি করতে পারি। আমরা একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সরকার আইন করলে আমাদের আইন মানতে হবে। তবে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আমরা জরুরি ভিত্তিতে আমাদের মতামত তুলে ধরব।’
ইসি কর্মকর্তাদের উদ্বেগ ও কর্মসূচি সম্পর্কে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচন কমিশন থেকে এনআইডি কার্যক্রম যাতে স্থানান্তরিত না হয়, সে বিষয়ে কমিশন সব ধরনের উদ্যোগ নেবে।
তিনি বলেন, ইসির এখতিয়ার থেকে এনআইডি কার্যক্রম চলে গেলে নির্বাচন হুমকির মুখে পড়বে। তিনি বলেন, 'আমরা আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি স্মারকলিপি (সিইসি বরাবর) জমা দিয়েছি।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, এর আগেও একাধিকবার ইসি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এনআইডি সেবা সরানোর চেষ্টা হয়েছে। গতবার এনআইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে স্থানান্তরের চেষ্টা থাকলেও এবার তা নতুন কমিশনের অধীনে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, 'আমরা মনে করি, কোনো না কোনো উদ্দেশ্যেই এসব করা হচ্ছে। আমরা সমিতির পক্ষ থেকে একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছি।’
ইসি কর্তৃপক্ষের অধীনে ১৭-১৮ বছর ধরে এনআইডি কার্যক্রমে কোনো সমস্যা হয়নি উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, 'আজ আমরা মনে করি, এমন কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি যে, এনআইডি ইসি থেকে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে হবে।’
মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা সময় দিয়ে কমিশনকে অবহিত করেছি এবং আগামী বুধবারের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি আশা করছি। অন্যথায় ১৩ মার্চ বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ইসি সচিবালয়সহ সারাদেশের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন করবেন। এরপরও যদি আমাদের দাবি মানা না হয়, তাহলে আমরা কর্মবিরতিসহ আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।’
৬০১ দিন আগে
সারা বিশ্বের সঙ্গে একই দিনে রোজা-ঈদ করা যায় কি না, বিবেচনার অনুরোধ তারেক রহমানের
সারা বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন করা যায় কি না, সে বিষয়ে দেশের আলেম-ওলামাদের ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রবিবার (২ মার্চ) রাজধানীর ইস্কাটনে অবস্থিত লেডিস ক্লাবে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি আহ্বান জানান।
লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘রমজান আমাদেরকে শেখায় সংযম হতে। কীভাবে ধৈর্যশীল হতে হবে। কীভাবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। একই সঙ্গে আল্লাহর যা যা সৃষ্টি আছে, সবকিছুর পাশে আমাদের দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। আল্লাহর সৃষ্টিকে যত্ন নেওয়ার শিক্ষা দেয় রমজান।’
তিনি বলেন, ‘একজন মুসলমান হিসেবে একটি প্রশ্নই আমার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। খ্রিস্টান সম্প্রদায় সারা বিশ্বে তাদের বড়দিন একই দিনে একসঙ্গে পালন করে। এখানে উপস্থিত ওলামা-মাশায়েখগণকে অনুরোধ করব, সারা দেশে আরও অনেক জ্ঞানী ওলামা মাশায়েখ রয়েছেন, সবাই মিলে চিন্তা করে দেখতে পারি কি না যে, বাংলাদেশের মানুষ সারা বিশ্বের মানুষের সঙ্গে একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন করতে পারি কি না! বিজ্ঞানের যুগে এটি করা সম্ভব কি না, কোনো উপায় বের করা যায় কি না! এই বিষয়টি আপনাদের চিন্তা করার জন্য অনুরোধ করব।’
এ সময় তিনি দেশের শান্তি কামনা এবং দেশবাসীর জন্য দোয়া চান। মাতৃভূমিকে যেন আল্লাহ ভালো রাখেন, সবাইকে সেই দোয়া করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর প্রতি দোয়া কামনা করেন।
আরও পড়ুন: প্রথম রোজা: রাজধানীর মোড়ে মোড়ে ইফতারের পসরা
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে কিছু লোক ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এই বিভেদ দিয়ে শুধু বিএনপিকে ধ্বংস নয়, একটি ফাটল সৃষ্টি করে (তারা) দেশকে ধ্বংস করবে, যার সুযোগ নেবে বিদেশি অপশক্তি।’
তিনি বলেন, ‘সেকেন্ডে রিপাবলিক কী—আমি বুঝি নাই! অর্থাৎ একটা উছিলা করে জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। আপনাদের মতো দেখতে (ওলামাদের মত) কিছু লোক আগুনে বাতাস দিতে চেষ্টা করছে।’
ইফতার মাহফিলে ফার্মগেট ইসলামি মিশন মাদ্রাসা ও শান্তিনগর বাজার জাতীয় মুসলিম মাদ্রাসার প্রায় ৭০-৮০টি এতিম শিশু ও শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাউদ্দিন আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, দলটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল বারী ড্যানি, অমলেন্দু অপু, জন গোমেজ, জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু, ইসলামি চিন্তাবিদ মওলানা ওয়ালী উল্লাহ, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ মসজিদের খতিব মুফতি মহিউদ্দিন, মিরসরাই দরবার শরীফের সুফি আব্দুল মোমেন নাছেরী, জাতীয়তাবাদী ওলামাদলের আহ্বায়ক কাজী সেলিম রেজা, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মওলানা কাজী মোহাম্মদ আবুল হোসেন প্রমুখ।
৬০৪ দিন আগে
কারসাজির চিন্তা বাদ দিয়ে মানতে হবে নিবার্চনী আচরণবিধি: সিইসি
কারসাজির চিন্তা বাদ দিয়ে আচরণবিধি মেনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এ বিষয়ে দলগুলোর থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি নেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।
রবিবার (২ মার্চ) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত জাতীয় ভোটার দিবসের আলোচনায় এসব কথা বলেন সিইসি।
ভোটে কারসাজি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা, কেউ এ ধরনের উদ্যোগ নেবেন না; কেউ এ ধরনের চেষ্টা করবেন না। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে ১৮ কোটি মানুষের পাশে আছি।’
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি একটা কথা বলতে চাই, আমরা সব সময় ভুলে যাই, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে, ভোট সন্ত্রাস করে আপাত দৃষ্টিতে জেতা যায়। কিন্তু আখেরে নিজের জন্য, দলের জন্য, দেশের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে, আখেরে টেকা যায় না।’
আরও পড়ুন: এমন জোয়ার সৃষ্টি হবে, যেখানে ভোট ছাড়া কোনো চিন্তা থাকবে না: সিইসি
এ ছাড়াও, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে নির্বাচনী আইনবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি নেওয়ার পক্ষে মত দেন নাসির উদ্দিন। এতে আইনকানুন মানায় চাপ তৈরি হবে না বলে মনে করেন সিইসি।
তিনি বলেন, ‘লিখিতভাবে যদি এরকম একটা ঐকমত্য নেওয়া হয় আচরণবিধি মানার জন্য, এতে একটা দলীয় চাপ থাকবে। তাহলে আমাদের কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে বলে মনে করি।‘
দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে সব দলের মধ্যেই ঐকমত্য রয়েছে। এক সময় দেশের স্বার্থে তারা একমত হবে বলে আশা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সিইসি বলেন, এ দেশের মানুষ এখন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। যদি কোনো কারণে এটা বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে জুলাইয়ের আন্দেলনে যারা আহত বা নিহত হয়েছেন তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। সেটা কোনোভাবেই হতে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: আমরা কোনো রাজনীতিতে ঢুকতে চাই না: সিইসি
এতদিন দেশের মানুষ ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত ছিলো উল্লেখ করে তিনি জনগণের সেই অধিকার ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। এ কারণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করতে অবিরত কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
একটা সুস্থ সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করাই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একমাত্র এজেন্ডা বলে অভিমত দেন সিইসি। এরপরে সিইসি উপস্থিত নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করার ওয়াদা নেন।
ইসি সচিব আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে সংস্থাটির অতিরিক্ত সচিব, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক, নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকসহ সকল পর্যায়ে কর্মকর্তা, কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
৬০৫ দিন আগে
গণতন্ত্র এখনো বিপদমুক্ত নয়: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত হলেও বাংলাদেশে গণতন্ত্র এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বন্দর নগরী চট্টগ্রামের জে এম সেন হলে জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক বলেন, ‘স্বৈরাচার চলে গেলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দুর্বল করার নানা অপচেষ্টা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ছাড়া গণতন্ত্র ঝুঁকিমুক্ত হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর ধরে সনাতনীরা রাজনৈতিকভাবে শোষিত হয়ে আসছে। কিন্তু, এখন তারা এটা বুঝতে পেরেছে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আগামীতে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বিএনপি কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাৎ হোসেন এবং বিভিন্ন মঠ ও মন্দিরের অন্যান্য সন্ন্যাসী ও পুরোহিতরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: নির্বাচনি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন: তারেক রহমান
৬০৬ দিন আগে
জাতীয় নাগরিক পার্টির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রতিনিধি দল
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির সমন্বয়ে নবগঠিত রাজনৈতিক দল 'জাতীয় নাগরিক পার্টি'র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বিএনপির দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টার কিছু পরে তারা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান।
আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আরও দুজনকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়।
এর আগে উপস্থিত হয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (বিএলডিপি) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান শেখ সালাহউদ্দিন সালু প্রমুখ।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি, পিপলস রাইটস পার্টির (পিআরপি) চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম, বিকল্পধারা বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক শাহ আহমেদ বাদল প্রমুখ।
আরও পড়ুন: ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠায় ‘গণপরিষদ’ নির্বাচনের জন্য লড়াই করুন: নাহিদ
৬০৬ দিন আগে
‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠায় ‘গণপরিষদ’ নির্বাচনের জন্য লড়াই করুন: নাহিদ
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন আমাদের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষ্য।
তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনীতি এবং রাষ্ট্র বিনির্মাণ করব।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মানিক মিয়া এভিনিউয়ে দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে আমাদেরকে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠার সকল সম্ভাবনার অবসান ঘটাতে হবে।
আরও পড়ুন: জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ: মানিক মিয়া এভিনিউ স্লোগানে মুখরিত
নতুন দলের সদ্য দায়িত্ব গ্রহণকারী নাহিদ বলেন, ‘আমরা মনে করি, ২৪’র জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিক (দ্বিতীয় বারের মতো প্রজাতন্ত্র) প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের সূচনা করেছে।
নবগঠিত দলের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় নাগরিক পার্টি-জেএনপি হবে একটি গণতান্ত্রিক, সমতাভিত্তিক ও জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী একটি রাজনৈতিক দল।
নাহিদ বলেন, ২০২৪‘র জুলাই ছাত্র-জনতার বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমে এক অভূতপূর্ব গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়েছে। কিন্তু, আমাদেরকে স্মরণ রাখতে হবে— হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে অর্জিত এই নতুন স্বাধীনতা কেবল একটি সরকার পতন করে আরেকটি সরকার বসানোর জন্যই ঘটেনি।
তিনি বলেন, জনগণ বরং রাষ্ট্রের আস্টেপিস্টে জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আকাঙ্খা থেকে এই অভ্যুত্থানে সাড়া দিয়েছিল— যেন জনগণের অধিকারভিত্তিক এবং মর্যাদাভিত্তিক একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়। সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিচ্ছি।
নাহিদ বলেন, আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিক-এ জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ভেঙে পড়া রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় গড়ে তোলা ও তাদের গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষা করা হবে আমাদের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার। এর মধ্যে দিয়ে কেবল আমরা একটি পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে আবির্ভুত হতে পারব।
তিনি বলেন, আমরা এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ চাই, যেখানে সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বিভেদের বদলে ঐক্য, প্রতিশোধের বদলে ন্যায়বিচার এবং পরিবারতন্ত্রের বদলে মেধা ও যোগ্যতার মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা হবে। আমাদের রাজনীতিতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান হবে না।
নাহিদ বলেন, আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিক-এ সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে মূলধারায় তুলে আনা হবে। রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিককে সমান গুরুত্ব প্রদান ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। আমরা একটি ন্যায্যতা ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় আমাদের সংকল্প আবারও পুনর্ব্যক্ত করতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ২৪’র জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধেই বিজয় নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণেরও শপথ। চলুন আমরা একসঙ্গে হাত হাত রেখে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি— যেখানে প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনি হবে, সেখানে ন্যায় প্রতিষ্ঠা মানুষের অধিকারের সংগ্রামই রাজনীতির অন্যতম লক্ষ্য, সেখানে সাম্য ও মানবিক মর্যাদা হবে রাষ্ট্রের ভিত্তি। এখনই হবে নতুন স্বপ্ন দেখার নতুন পথ চলার এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার।
নাহিদ বলেন, আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিক অধরা কোনো স্বপ্ন নয়, এটিই আমাদের আজকের দিনের সামনের বাংলাদেশের প্রতিজ্ঞা।
এর আগে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক কমিটি(জেএনসি) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের(এডিএসএম) নেতারা একত্রিত হয়ে নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক ও আখতার হোসেনকে সদস্য সচিব করে দল গঠন করেন।
অনুষ্ঠানে দলের একটি আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়, যা সারা দেশ থেকে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটায়।
আরও পড়ুন: নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ: মানিক মিয়া এভিনিউয়ে অনুষ্ঠান শুরু
সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদিবকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং তাসনিম জারা ও নাহিদা সারোয়ারকে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব করা হয়।
এছাড়া হাসনাত আবদুল্লাহকে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক এবং সারজিস আলমকে উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পেয়েছেন নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়কের দায়িত্ব পেয়েছেন আবদুল হান্নান মাসুদ।
আজ বিকল ৪টা ২০ মিনিটে পবিত্র কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের সম্মানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় শাহাদাত বরণকারী শহীদ ইসমাইল হোসেন রাব্বীর বোন মীম আক্তার আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নাম ঘোষণা করেন।
পরে সদস্য সচিব আখতার হোসেন আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করেন। কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্যান্য শূন্য পদের নেতাদের নাম শিগগিরই ঘোষণা করা হবে বলে জানান আখতার হোসেন।
এর আগে সামান্তা শারমিন, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, নুসরাত তাবাসসুম, আবদুল হান্নান মাসউদসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা বক্তব্য দেন।
আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ
৬০৬ দিন আগে