রাজনীতি
রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা নিয়ে বিএনপির উঠান বৈঠক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি-ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি কর্মসূচি নিয়ে তারেক রহমানের নির্দেশে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় উঠান বৈঠক হয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর (শনিবার) উপজেলার ৭ নম্বর মুছাপুর ইউনিয়নে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শুরু হয়। ওইদিন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রমজান সারেংয়ের বাড়িতে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এসব বৈঠকে দেশ গঠনে বিএনপির আগামী দিনের কর্মসূচি এবং দলের নেতৃত্বে কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে তার একটি চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে।
একইসঙ্গে বিএনপির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক সমন্বয়ক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ উপজেলার শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র করেন।
সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচিতে অন্তত ৩০টি স্থানে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয় বলে স্থানীয় নেতারা জানান।
আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে শরিকদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক
বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ বলেন, ‘তারেক রহমানের নির্দেশে প্রান্তিক জনগণকে বিএনপির কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত ও জনমত গঠনের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। গ্রামের সাধারণ মানুষের বাড়ির উঠানে গিয়ে এই বৈঠক করা হচ্ছে। এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীও অংশ নিচ্ছেন।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উঠান বৈঠকের কার্যক্রম অন্যান্য নির্বাচনি এলাকায়ও শুরু হবে।
৫৭৬ দিন আগে
যশোরে নির্বাচনি প্রস্তুতি জামায়াতের, প্রার্থী চূড়ান্ত!
জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ না হলেও যশোরে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী। আসন্ন নির্বাচনে লড়তে রাজনৈতিক কৌশল ও কর্মপন্থা ধরে এগিয়ে যাচ্ছে দলটির নেতাকর্মীরা। এরইমধ্যে জেলার ৬টি আসনে প্রার্থী তালিকা করেছে দলটি। তবে এটি প্রাথমিক তালিকা, পরে পরিস্থিতি বুঝে প্রার্থী তালিকায় রদবদল হতে পারে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানে সক্রিয় রয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর জেলা পর্যায়ের নেতা ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে দলটির সাংগঠনিক তৎপরতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। অবশ্য দলটির নেতারা বলেছেন, প্রার্থীদের যে তালিকা করা হয়েছে, তা প্রাথমিক। চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলে সেটি পরিবর্তনও হতে পারে। জোটগত নির্বাচনের সম্ভাব্যতা তৈরি হলে শরিকদের বিষয়টিও বিবেচিত হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
জামায়াতের যশোর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেছেন, ‘আমরা নির্বাচনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি। জেলার ছয়টি আসনের সবকটিতেই আমাদের সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই হয়ে গেছে।’
নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জামায়াত যাদের নির্ধারণ করেছেন, তারা হলেন— যশোর-১ (শার্শা) আসনে মাওলানা আজিজুর রহমান। তিনি এরআগেও নির্বাচন করেছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ আফিল উদ্দিনের কাছে মাত্র পাঁচ হাজার ভোটে হেরেছিলেন। দিনবদল হওয়ায় ফের আজিজুর রহমানের ওপর ভরসা করছে জামায়াত।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের প্রার্থী মাওলানা আরশাদুল আলম। তিনি ঝিকরগাছা গাজীর দরগাহ মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক।
আরও পড়ুন: আ. লীগ সাড়ে ১৫ বছর দেশের পরিবর্তে নিজেদেরকে সাজিয়েছে: জামায়াত আমির
জেলার ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত যশোর-৩। জেলা সদরের এ আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী সরকারি এমএম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের। আসনে দলের প্রয়াত নেতা মাস্টার নুরুন্নবীকে প্রথমে প্রার্থী ভাবা হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর আব্দুল কাদেরকেই প্রার্থী করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সাবেক ছাত্রনেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হিসেবে আব্দুল কাদেরের পরিচিতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া, অভয়নগর ও বসুন্দিয়া) আসনের প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রসুল নিজে। যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। তিনি একজন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। সুবক্তা হিসেবে দলীয় পরিসরের বাইরেও তার পরিচিতি আছে।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলী। তিনি ১৯৯৬ সালেও এই আসন থেকে দলের প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু সেই বছর তিনি ভালো ফলাফল করতে পারেননি। অধ্যাপক মোক্তার আলী কেশবপুর কলেজের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক।
অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেছেন, ‘সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। অংশ নিচ্ছেন সামাজিক কর্মসূচিসহ নানা অনুষ্ঠানেও। আমরা এসব প্রার্থীকে সম্ভাব্য বলছি। শেষ পর্যন্ত তাদের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ বা বেশি জনপ্রিয় কোনো নেতাকেও প্রার্থী করা হতে পারে।’
আরও পড়ুন: ‘ক্ষমতায় যাওয়া নয়, সুশাসন কায়েম করাই জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশ্য’
দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টিকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। এক্ষেত্রে জেলার নেতারা বলেছেন, ‘ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে একটা নির্বাচনী ঐক্য করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে দল। সেক্ষেত্রে জোট হলে জাতির বৃহত্তর স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করে জামায়াত সর্বোচ্চ ছাড় দিতেও প্রস্তুত।’
দীর্ঘদিন ধরে যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় বন্ধ করে রেখেছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়।
এর পরপরই জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সেই কার্যালয় পুনরুদ্ধার করেন। এখন সেখানেই দলীয় কার্যক্রম চলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই যশোরে সাংগঠনিক পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করছে জামায়াত। এদিকে, সদর থেকে শুরু করে জেলার সর্বত্রই দলটি যেভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাতে জামায়াত নির্বাচনী রাজনীতি করছে বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
এরইমধ্যে জেলা সদরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলীয় কার্যালয় খোলা হয়েছে। উপজেলা, ইউনিয়ন ও তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতেও কার্যালয় খোলা হয়েছে। মূল দলের পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কার্যালয় প্রতিদিন নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সরব থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জামায়াত, তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও দায়িত্বশীলরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ছোট ছোট গ্রুপে মানুষকে উপস্থিত করে আলোচনা করছেন। বিভিন্ন দিবসে বা আয়োজনে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সেবায় নানা সহায়তা দিচ্ছেন। যোগ দিচ্ছেন বিয়ে, বৌ-ভাত, আকিকা, খাতনাসহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠানেও। জামায়াতের নারী সদস্যরাও এসব কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান যশোরে একটি কর্মী সম্মেলনেও যোগ দিয়েছিলেন। রাজনীতি সচেতনদের ধারণা, সম্মেলনটি ছিল জামায়াতের নির্বাচনী শো-ডাউন। কারণ, সম্মেলনটিকে কেন্দ্র করে জেলা জামায়াত কয়েকদিন থেকেই স্থানীয় রাজনীতির পুরো ফোকাস দলের দিকে রাখতে নানা কার্যক্রমও পরিচালনা করে। যশোর ঈদগাহে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনটি কার্যত জনসভায় রূপ নেয়। সেদিন ঈদগাহ ও এর আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছিল।
আরও পড়ুন: আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগের কপালে নাই: জামায়াত আমীর
৫৭৬ দিন আগে
আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগের কপালে নাই: জামায়াত আমীর
বাংলাদেশের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আর ফিরে আসার সুযোগ নাই জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কেউ কেউ প্রশ্ন করে, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার ফিরবে কি না। যারা এদেশের মানুষকে ভালোবাসে না, সম্মান দেয় না, দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি আমানত- এ কথা যারা বিশ্বাস করে না, তাদের কপালে নির্বাচন নাই।’
তিনি বলেছেন, ‘এরা তিনটি নির্বাচন করেছে জুলুম করে। যারা নির্বাচনে বিশ্বাস করে না, তাদের আবার কিসের নির্বাচন?’
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে নাটোর নবাব সিরাজ-উদ দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত কর্মীসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাটোর জেলা জামায়াতের আমীর ড. মীর নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতি জরুরি সংস্কারগুলো শেষ করে নির্বাচন দিয়ে যে যার জায়গায় ফিরে যান। জনগণ যাদের পছন্দ করবে, তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর দফায় দফায় যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই আমানতের খেয়ানত করেছে। কমবেশি সবাই এদেশের মানুষদের কষ্ট দিয়েছে। গত ১৫ বছরে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে একটার পর একটা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা।’
জামায়াত আমীর বলেন, ‘আমরা বিদেশি বন্ধু চাই, প্রভু না। আমরা পিন্ডির (রাওয়ালপিন্ডি বা পাকিস্তান) হাত থেকে মুক্ত হয়েছি অন্য কারো হাতে যাওয়ার জন্য না।’
‘যুদ্ধ এখনও শেষে হয়নি। দেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।’
পরে বিকালে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক সুধী সমাবেশে তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ পৌনে ২ কোটি ভুয়া ভোটার তৈরি করেছে। এজন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার আগে শেষ করতে হবে, যাতে কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে সংস্কার হারিয়ে না যায়।’
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমীর বলেন, ‘জামায়াত সংখ্যানুপাতিক সংসদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে যোগ্য সংসদ তৈরি হবে। নাচ, গান, হাসি, ঠাট্টা আর মূর্খের সংসদ হবে না।’
আগামীতে একটি আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন এই নেতা।
৫৭৭ দিন আগে
আমরা সবাই গণতন্ত্রের কথা বলি,কিন্তু চর্চা করি না: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা সবাই গণতন্ত্রের কথা বলি, কিন্তু গণতন্ত্র চর্চা করি না। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি, বরং দিনের পর দিন এখানে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে বিরোধে লিপ্ত হয়েছি।… তবে নেতিবাচক চিন্তা করলে হবে না। সহনশীলতার মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্র চর্চা করে এগিয়ে যেতে পারলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে দিনাজপুর সরকারি কলেজ মাঠে অর্থনীতি বিভাগের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ শাসনামলের কথা উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কী করুণ সময় গেছে দেখুন! আমরা ভোট দিতে পারিনি। আমাদের বিশ্বাস, এখানে যারা বসে আছে, ভোট কী জিনিস তারা দেখতে পায়নি। ১৫ বছর গেছে তারা ভোট দিতে পারেনি। এ কেমন গণতন্ত্রের কথা, স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের কথা, যেখানে মানুষ প্রতি বছর একটা সুযোগ পায় তার অধিকারটি প্রয়োগ করার, সেই সুযোগটি হারিয়েছে?’
আরও পড়ুন: অনির্বাচিত সরকার বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা উচিৎ নয়: ফখরুল
দেশের রাজনৈতিক নেতাদের ব্যর্থতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদিও স্বাধীনতার পরে একটা অবস্থা তৈরি হয়েছিল, ক্রিয়েটিভ (সৃজনশীল) কিছু করা যেত। আজকে আমরা যারা রাজনীতি করছি, আমাদের ব্যর্থতা— ৫৩ বছরেও বাংলাদেশকে একটা সুখী, শান্তিময়, প্রেমময়, ভালোবাসাময় দেশ হিসেবে গড়তে পারলাম না।’
‘আমরা রাজনীতি নিয়ে সংকীর্ণতায় ভুগি। আমরা নৈতিকতার সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে গেছি। আমাদের গর্ব করে বলার কথা যে আমরা গর্বিত জাতি। কিছুদিন আগেও আমরা সেটা বলতে পারিনি।’
তবে নতুন করে আবার সেই আশা জেগে উঠেছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আবার একটা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। সেই স্বপ্নটি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন একটা সুখী, সুন্দর, প্রেমময়, গণতান্ত্রিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশকে নির্মাণ করার আমরা চেষ্টা করেছি। আমরা ৭১ সালের যুদ্ধে ছিলাম, এরপর গণতান্ত্রিক যুদ্ধেও ছিলাম।’
স্বৈরাচার পতনে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ছেলেরা জীবন দিয়েছে, রাজনৈতিক কর্মীরা জীবন দিয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক কর্মীরা দীর্ঘদিন অস্বাভাবিক-অমানবিক নির্যাতন সহ্য করেছে। ৮০০ নেতা কর্মীকে গুম করা হয়েছে। ৬০ লাখেরও অধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বিনাবিচারে হত্যা করা হয়েছে। এই একটা অবস্থা আমরা পার হয়েছি।’
‘আজ নতুন একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে; কিন্তু কেন জানি না আমরা সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারছি না। আমি সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আবেদন জানাব যে, আমরা উঠে দাঁড়াই, আমাদের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে দাঁড়িয়ে সুস্পষ্ট সত্য সুন্দর একটা পথ নির্ধারণ করি। যে স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, সেই স্বপ্নকে আমরা বাস্তবায়িত করি। নতুন বাংলাদেশ গড়ে আমাদের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে এসে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
আরও পড়ুন: দেশে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক চর্চাই হয়নি: ফখরুল
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘আজকে দুঃখ হয়, একটা টেলিভিশন চ্যানেলে একটা কর্মসূচি হচ্ছে জেন জি। একটা কর্মসূচি হচ্ছে- তারা সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তরুণ ছাত্রদের দেশ সম্পর্কে মতামত নিচ্ছে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ সম্পর্কে মতামত নিচ্ছে, আমি দেখলাম এত অমিত সম্ভাবনাময় ছেলেমেয়েরা। তারা অত্যন্ত দেশপ্রেম নিয়ে কথা পরিবর্তনের কথা বলছে; অনেকে আমাকে অভিভূত করেছে তারা সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ নির্মাণ করবার একটা পথও তারা দেখাতে পারে।’
‘এই জায়গাগুলো আমাদের ধরতে হবে। নেতিবাচক চিন্তা করলে হবে না। আমাদের পরস্পরকে সহনশীলতার মধ্যে দিয়ে আনতে হবে, সম্মান করতে হবে। আমি যে রাজনৈতিক চিন্তাই করি না কেন; দেশপ্রেম যদি আমার থাকে, দেশের প্রতি ভালোবাসা যদি থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই আজকে যে সুযোগ এসেছে, সেই সুযোগের যেন সদ্ব্যবহার আমরা করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের দেশের সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে। সেই হিসাবে গত ১৫ বছরে প্রায় ২৮০ বিলিয়নের উপরে পাচার হয়েছে। এরা কারা? এরা তো এ দেশেরই মানুষ!’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এ সময় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তোমাদের সামনে অনেক বড় দায়িত্ব আছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন খুব সংকটের সামনে, বিপর্যয়ের সামনে। ফ্যাসিবাদী সরকার ১৫ বছরে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই অর্থনীতিকে সচল করার জন্য যে নীতি নির্ধারণ করা দরকার, তোমাদের মধ্য থেকেই অনেকে বেরিয়ে আসবে; পলিসি মেকার তৈরি হবে; অর্থনীতিবিদ তৈরি হবে, যারা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সঠিক খাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করতে সক্ষম হবে। এটাই আমার প্রত্যাশা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অনেক বয়স হয়েছে। আমরা এখন যাওয়ার পথে। আমরা এখন এই বয়সে দেখতে চাই— বাংলাদেশটা সত্যিকার অর্থে প্রেমময় ভালোবাসার দেশ হয়েছে।’
দিনাজপুর সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জাহেদা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম আল আব্দুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আ ন ম গোলাম রব্বানী, দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল জব্বার ও যশোর এমএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক তসলিম উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে দিনাজপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আইয়ুব আলী, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জর হোসেন দুলাল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুরাদ আহমেদ, আইনজীবী আব্দুস সাঈদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৫৭৭ দিন আগে
বিদ্যুৎ খাতে ১৫ বছরে সম্পাদিত সব চুক্তি প্রকাশের আহ্বান বিএনপির
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সম্পাদিত সব চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, 'আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে গত ১৫ বছরে বিদ্যুৎ খাতে সই করা প্রতিটি চুক্তি প্রকাশ করার আহ্বান জানাচ্ছি। তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) সরকারি ক্রয়ের সব নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। এই চুক্তিগুলো তাদের নিজস্ব পছন্দ অনুসারে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে করে বন্ধ দরপত্রের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছিল। এসব তথ্য জানার অধিকার জনগণের রয়েছে।’
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বক্তব্য দেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, জাতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি দেখতে চায়।
তিনি বলেন, 'তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) কীভাবে এই চুক্তিগুলো করেছে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম কাজ হলো এই চুক্তিগুলো প্রকাশ করা।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুৎ খাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বাংলাদেশের জনগণকে শোষণ করেছে, একই সঙ্গে জনগণের পকেট কেটেছে।
তিনি বলেন, ‘সবাই বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করে, সবাই এই ক্ষতির শিকার। প্রকৃতপক্ষে তারা ক্ষমতাকে ব্যবসা খাতে পরিণত করেছে। তারা বুঝতে পেরেছিল কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই এ খাত থেকে দ্রুত অর্থ উপার্জন করা যাবে, কারণ বিদ্যুৎ একটা 'বাতাসের' মতো—এটা দেখা যায় না।’
টুকু বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে টুকু বলেন, 'বিদ্যুৎ খাতে গত ১৫ বছরে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জের আড়ালে লুটপাট হয়েছে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা।’
তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুৎ খাত থেকে বিভিন্নভাবে জনগণের অর্থ পাচার করেছে, যার মধ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু না থাকলেও অর্থ পরিশোধ করাও রয়েছে।
সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'যেসব কোম্পানিতে ক্যাপাসিটি চার্জ নেওয়া হয়, সেগুলোর বেশির ভাগই মেশিনে ত্রুটি ছিল। এসব ত্রুটিপূর্ণ মেশিন থেকে এসব কোম্পানি অর্থ উপার্জন করত।’
ক্যাপাসিটি চার্জ পাওয়া শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের তালিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, সামিট গ্রুপ ১০ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা, এগ্রো ইন্টারন্যাশনাল ৭ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা, আল্ট্রা পাওয়ার হোল্ডিংস ৭ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা, ইউনাইটেড গ্রুপ ৬ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা এবং আরপিসিপিএল ৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা পেয়েছে।
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির নামে গত ৯ বছরে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ১১ হাজার ১১৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট করা হয়েছে।
টুকু দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের যে উন্নয়ন হয়েছে, তা টেকসই নয় এবং যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে।
শেখ হাসিনা ও তার পরিবার রাশিয়ার সহায়তায় বাস্তবায়িত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে ৫০ কোটি ডলার লুটপাট করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে স্বৈরাচারের কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না: তারেক রহমান
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের একটি সিন্ডিকেট স্মার্ট মিটার প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে।
টুকুর অভিযোগ, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর মালিকানাধীন একটি কোম্পানি একটি সিন্ডিকেটসহ এলএনজি প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন।
বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের দল ক্ষমতায় ফিরলে বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি ও অনিয়ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবেন এবং সে অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।
আরও পড়ুন: বৈদেশিক মুদ্রা সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ, আশঙ্কা বিএনপির
৫৭৮ দিন আগে
বৈদেশিক মুদ্রা সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ, আশঙ্কা বিএনপির
আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের ফলে বিপুল ঋণের বোঝার কারণে ২০২৭ সালের পর বাংলাদেশ মারাত্মক বৈদেশিক মুদ্রা সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। এই চাপটি দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।’
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, আওয়ামী লীগ বিদ্যুৎ খাতে জাদুকরি বিভ্রম সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের কাছ থেকে দুর্নীতিকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, ‘সরকার বৈদেশিক মুদ্রায় বিদ্যুৎ খাতের ঋণ পরিশোধ করছে। ফলে ২০২৭ সালের পর দেশে বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকট দেখা দেবে।’
আরও পড়ুন: সচিবালয়ে আগুন গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ: রিজভী
টুকু সতর্ক করে বলেন, বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট সমস্যা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে, যা বিনিয়োগের পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং জনগণ এর জন্য আওয়ামী লীগ সরকারকে দোষারোপ করছে।’
আরও পড়ুন: শুধু ভারত নয়, দুয়েকটি রাজনৈতিক দলও ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে: রিজভী
আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে করা চুক্তির বিস্তারিত জনসম্মুখে প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে।’
তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে আওয়ামী লীগের দুর্নীতি, চুরি, লুটপাটসহ অন্যান্য অপকর্মের চাপা পড়ে যাচ্ছে।
ফখরুল বলেন, ‘এ কারণে তারা (আওয়ামী লীগ) অভ্যন্তরীণ সুবিধা পাচ্ছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের বারবার কথা বলতে হবে। তা না হলে জনগণ আস্তে আস্তে আওয়ামী লীগের দুর্নীতি ও অপকর্ম এবং কীভাবে দেশকে ধ্বংস করেছে তা ভুলে যাবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের দল ক্ষমতায় গেলে বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি ও অনিয়ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবে এবং সে অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
আরও পড়ুন: মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে স্বৈরাচারের কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না: তারেক রহমান
৫৭৮ দিন আগে
নারীর তুলনায় পুরুষ ভোটার বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ
নতুন করে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫২ জন। খসড়া হালনাগাদ তালিকা প্রকাশে এ তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এবারের হালনাগাদে নারীদের তুলনায় পুরুষ ভোটার প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে বলেই দেখা গেছে। এবার মহিলার তুলনায় পুরুষ ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪২ জন বেশি ভোটার হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (০২ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
ইসি জানায়, গত বছরের ২ মার্চ মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ১৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিল ৬ কোটি ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৭ জন এবং মহিলা ভোটার ছিল ৫ কোটি ৯৭ লাখ ০৪ হাজার ৬৪১ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটার ছিল ৯৩২ জন।
গত ২০২৪ সালের হালনাগাদে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মোট ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫১৬ জন এবং মহিলা ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৪ জন ও হিজড়া ৬২ জন।
এর ফলে আজকে পর্যন্ত মোট ভোটার দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৫১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজাট ১০৩ জন এবং মহিলা ৬ কোটি ০৩ লাখ ৫২ হাজার ৪১৫ জন ও হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৯৯৪ জন। মোট ভোটার বৃদ্ধির হার ১.৫০ শতাংশ বলে জানিয়েছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, দাবি আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে আগামী ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই সময়ের মধ্যে কারো কোনো দাবি বা আপত্তি থাকলে তা জানাতে পারবেন। দাবি আপত্তি জানানোর শেষ সময় ১৭ জানুয়ারি।
আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হতে পারে। সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী, দেশে ভোটার রয়েছে ১২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ১৬০ জন।
৫৭৯ দিন আগে
ছাত্রশিবিরের সভাপতি নির্বাচিত জাহিদুল, সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২০২৫ সালের জন্য কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাহিদুল ইসলাম। আর সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত হয়েছেন নুরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে এই কমিটি গঠন করা হয়।
নির্বাচন অধিবেশন বেলা ৩টায় অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রশিবিরের সহকারি নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সেলিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের সমাপনি সেশনে নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতির নাম ঘোষণা করেন। নাম ঘোষণার পর নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান ছাত্রশিবিরের প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
আরও পড়ুন:ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে হামলার নিন্দা ইসলামী ছাত্রশিবিরের
এর আগে ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ রাত ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে অনলাইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
আর ছাত্রশিবিরের সংবিধান অনুযায়ী নব নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি ২০২৪ সেশনের জন্য কার্যকরী পরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করে নুরুল ইসলামকে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মনোনয়ন দেন।
নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি এর পূর্বে যথাক্রমে সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক, কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক, কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় বিতর্ক সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এইচআরএম বিভাগে এমবিএ অধ্যয়ন করছেন।
নব মনোনীত সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম ইতিপূর্বে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক, কেন্দ্রীয় প্লানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক, কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এইচআরএম বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।
আরও পড়ুন: বিগত সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসে ক্যাম্পাসগুলোকে অস্ত্রাগারে পরিণত করেছিল: ডা. শফিকুর রহমান
৫৮০ দিন আগে
মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে স্বৈরাচারের কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না: তারেক রহমান
পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা দেশের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থেকে নানা ষড়যন্ত্র করলেও মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তা সফল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার এ দেশ থেকে পালিয়ে গেলেও তাদের প্রেতাত্মারা দেশের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে আছে। তারা বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তাদের কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না।’
২০১৩ সালে র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন বিএনপি নেতা গোলাম রব্বানীর পরিবারকে নর্ব-নির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর উপলক্ষে সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) আমরা বিএনপি পরিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাচুর্য়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, হাসিনা সরকার পালিয়ে যাওয়ার এক সপ্তাহ আগেও প্রায় ২ হাজার মানুষকে হত্যা ও ৩০ হাজারের মতো মানুষকে জখম করেছে। তারা বিভিন্নভাবে বহু মানুষকে নির্যাতনও করেছে বলে জানান তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, নীলফামারীর এই গোলাম রব্বানী মানুষের অধিকারের কথা বলেছিল বলেই স্বৈরাচারেরা তাকে হত্যা করছে।
তিনি আরও বলেন, গোলাম রব্বানীর মতো বহু মানুষকে তাদের মতের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে স্বৈরাচার হাসিনা সরকার হত্যা করেছে।
এছাড়া যারা ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত হয়েছে এবং যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে তাদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারেরা দেশকে ধ্বংস করে গিয়েছে। তাই তাদের পতন হয়েছে। তাদের জন্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এখনও নানা ধরণের সমস্যা রয়েছে। এই সব সমস্যাগুলো দূর করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সমস্যার সমাধান করতে হলে কাউকে থাকতে হবে। যারা আপনাদের সমস্যার কথাগুলো তুলে ধরতে পারবেন। এছাড়া সমস্যার কথাগুলো যেখানে পৌঁছার দরকার ঠিক সে পযর্ন্ত পৌঁছাতে পারে এই ব্যবস্থাটাই নিশ্চিত করতে চাওয়ায় স্বৈরাচারীরা তাদের হত্যা করেছে।
তিনি বলেন, আমরা এমন একটা বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই- যেখানে কৃষক, মজুর থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষ কথা বলতে পারে। যাদের হত্যা করা হয়েছে তারা সেটাই করতে চেয়েছিল। তাদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। তাদের কথা শুনতে চায়নি। এই কারণে তারা হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে। আজ সময় এসেছে। পরিবর্তিত হয়েছে অবস্থা।
তারেক বলেন, বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন মতামত রয়েছে। আমরা সেই মতামতগুলো আলোচনা করব। দিন শেষে যে মতামতের ওপর সবচেয়ে বেশি সমর্থন থাকবে সেই মতামতের ভিক্তিতে আমরা দেশকে গড়ে তুলব।
তিনি আরও বলেন, আমরা সকলে এসঙ্গে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। আমাদের বিভিন্ন দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্ত আমাদের সজাগ থাকতে হবে, সেই মতপার্থক্য যাতে এমন পর্যায় না পৌঁছায় যেখানে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
দেশ সামনে এগিয়ে যাওয়া বাধাগ্রস্ত হবে এমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব যাতে না হয় এ ব্যাপারে আমাদের সর্তক থাকতে হবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সুযোগ পেলে ৩১ দফা বাস্তবায়ন করবে বিএনপি: তারেক
তিনি বলেন বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সরকার একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। সেই প্রক্রিয়াটি হলো গণতান্তিক উপায় নির্বাচন প্রক্রিয়া। বাংলাদেশকে যদি এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তাহলে অবশ্যই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে হবে। এতে করে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হবে। প্রকৃত অর্থে জনগণের ভোটে যারা বেরিয়ে আসবে, সেই মানুষগুলো কাজ করবে।
বিএনপি নেতা বলেন, এখন সময় হচ্ছে দেশ গড়ার। দেশকে যদি গড়তে হয়, দলমত নির্বিশেষে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি তাহলে দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।
এ সময় বক্তব্য দেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দীন বকুল, জেলা বিএনপির সভাপতি আলমগীর সরকার, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম প্রমুখ।
৫৮১ দিন আগে
শুধু ভারত নয়, দুয়েকটি রাজনৈতিক দলও ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে: রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ৫ আগস্টের পর একটি রাজনৈতিক দলের আত্মসাৎ দেখেছে জনগণ। কারা পায়ের রগ কাটে তাদের চেনে জনগণ। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে একাত্তরের বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দল।
রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয়তাবাদী রিকশা-ভ্যান-অটো শ্রমিক দলের পক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এসব কথা বলেন রিজভী।
রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে যারা ব্যাংক লুট করেছে, ব্যাংক আত্মসাৎ করেছে, এস আলমদের উত্তরসূরি হিসেবে ৫ আগস্টের পর আমরা দেখেছি- ইসলামী ব্যাংক কীভাবে গ্রাস করে নিল একটি রাজনৈতিক দলের অনুসারীরা। ৫ আগস্টের পরেরদিনই ইসলামী ব্যাংকগুলো কী করে দখল করে নিল, এটি জনগণ দেখেছে।’
জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পাড়া-মহল্লায়, জেলায় জেলায় অনেক টার্মিনাল দখল, সিএনজি স্ট্যান্ড দখল, টেন্ডার ভাগাভাগির মধ্যে আপনাদের লোকরা কি জড়িত নেই? আমি সেই রাজনৈতিক দলটিকে বলতে চাই, নীরবে-নিভৃতে সব অপকর্মের সঙ্গে আপনারা জড়িত। শেখ হাসিনার ব্যাংক আত্মসাতের পর, ৫ আগস্টের পর আপনাদের আত্মসাৎও জনগণ দেখেছে।’
‘আমরা হাসিনার আমলে দেখেছি চাপাতি লিগ, হেলমেট লিগ, বন্দুক লিগ, ক্ষুর লিগ; আবার জনগণ তো এটিও জানে- ক্ষুর পার্টি এবং পায়ের রগ কাটা পার্টি। কারা পায়ের রগ কাটে তাদের চেনে জনগণ।’
দলটির উদ্দেশে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আপনাদের একাত্তরের অর্জন কী? আপনারা একাত্তরের বিরোধিতা করেছেন।’
‘জিয়ারউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। এই গৌরব- একাত্তরের গৌরব, নব্বইয়ের গৌরব বিএনপির। কারণ সেদিনও আপনারা শেখ হাসিনার সঙ্গে আতাত করে এরশাদের নির্বাচনে গিয়েছিলেন। এটিও জনগণ দেখেছে। তবে ৮৬’র নির্বাচনে বিএনপি যায়নি। কারণ আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, স্বৈরাচারের অধীনে কোনো নির্বাচন করব না।’
তিনি বলেন, ‘মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন, যারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে ও ভয়ঙ্কর শেখ হাসিনার স্বৈরাচার কায়েমের জন্য এসেছিল, সেদিনও আপনারা নির্বাচনে যেতে বাধ্য করেছিলেন। এটিও জনগণ জানে এবং দেখেছে।’
‘আপনারা তো ইসলাম নিয়ে রাজনীতি করেন। ইসলাম মানে কি বারবার মুনাফেকি করা? ইসলামের মর্মবাণী হচ্ছে, তুমি যে অঙ্গীকার কর, তা রক্ষা করবে। বিএনপি সেই ঐতিহ্যের পতাকা ধারণ করে, যার মধ্যে আছে, জনগণের কাছ থেকে বিন্দুমাত্র পশ্চাদপসরণ না করা। ৭১ থেকে (২০২৪ সালের) ৫ আগস্ট পর্যন্ত গণতন্ত্রের প্রশ্নে কখনও মাথা নিচু করেনি বিএনপি।’
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চান, শেখ হাসিনার প্রতিটি গুম-খুনের দোসর হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত।… এরপরও আপনারা বলেন, শেখ হাসিনার সব মাফ করে দেবেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করবেন। এর মধ্যে দিয়েই তো প্রমাণিত হয় যে আপনারা ন্যায়-নীতির পরোয়া করেন না, রাজনীতির নামে ধান্ধাবাজি করেন।’
দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিচারের প্রসঙ্গ টেনে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আপনার দলের প্রধান নেতাদের যারা জুডিশিয়াল প্রক্রিয়ার নামে জুডিশিয়াল কিলিং করল, তাদের আপনার মাফ করে দেবেন বলছেন। তাহলে ইসলামের যে মর্মবাণী- অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ কর, সেটি তো আপনাদের মধ্যে নাই।… অর্থাৎ আপনারা আপনাদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করছেন।’
‘পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেই শুধু অপতথ্য, অপপ্রচার ও (বিএনপির ওপর) কলঙ্ক লেপনের চেষ্টা হচ্ছে না, ভেতর থেকেও অনেকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মতো রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাচ্ছে।’
নতুন বছরে বিএনপির প্রত্যাশা কী- সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘যার জন্য ১৫-১৬ বছরের সংগ্রাম, আগামী বছর সেই গণতন্ত্র ফিরে আসবে; এদেশের ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে, তারা দেশের প্রকৃত বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে আসবে- এটিই বিএনপির প্রত্যাশা।’
৫৮২ দিন আগে