রাজনীতি
সচিবালয়ে আগুন গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ: রিজভী
সচিবালয়ে আগুন গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ঢাকতে এই অগ্নিসংযোগ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ফাইল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রংপুরের মিঠাপুকুরে নিহত ফায়ার ফাইটার সোহানুর জামান নয়নের কবর জিয়ারত শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, আগুনে চার-পাঁচটা মন্ত্রণালয়ের ফাইল ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এটা গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের অংশ।
তিনি বলেন, বিগত সরকার মানুষের টাকা যেভাবে আত্মসাৎ করেছে তা ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও তাদের নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫০ মিলিয়ন ডলার পাচারের ঘটনায় সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। এটাতো কেবল মাত্র একটি ঘটনা।
এমন অনেক ঘটনা আছে সেগুলো চাপা দেওয়ার জন্য নয়তলা ভবনে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান রিজভী।
আরও পড়ুন: দেশে কিংস পার্টি গঠনের চেষ্টা চলছে: রিজভী
রিজভী আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের একজন মুখ্যসচিব অনেক টাকা পাচার করেছে। যে ফাইলগুলো পুড়ে গেছে সেখানে তার ফাইলগুলো ছিল। সচিবালয়ের এই আগুনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে গেছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, পরাজিত স্বৈরাচারের দোসররা এখনও অনেক জায়গায় আছে। আমলাতন্ত্র, পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন জায়গায় তারা আছে। সবাইতো এখনও পরিবর্তন হয়নি। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তারা ঘাপটি মেরে আছে। কোথায় কী ধরনের নাশকতা ও চক্রান্ত হচ্ছে তার কোনো ঠিক নেই।
হাসিনার পক্ষে ভারত ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, গোটা পৃথিবীর সমস্ত দেশ ও রাষ্ট্রনায়করা স্বৈরাচারের পতন ও নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রত্যেকের প্রতি তারা সংহতি জানিয়েছেন। কিন্তু একটি দেশ সংহতি জানাতে দ্বিধা করছে। সে দেশটি হলো পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। তারা শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। তারা সংখ্যালঘু নির্যাতনের নতুন বয়ান তৈরি করছে, যাতে শেখ হাসিনার অপকর্মগুলোকে ঢাকা যায়।
বিএনপির এই নেতা বলেন, দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে আবু সাঈদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। পরে জীবন দিয়েছে নয়ন। সেও রংপুরের ছেলে। সেদিনের আগুন নেভানোর জন্য যুদ্ধ করে জীবন দিয়েছেন তিনি। দেশের চলমান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলনের অন্যতম শহীদ নয়ন। স্বৈরাচারের দোসরদের বিভিন্ন ধরনের চক্রান্ত ঠেকাতে গিয়ে জীবন দিচ্ছেন তার মতো ছেলেরা। শুধু একটি শোক জানিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না।
এসময় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: নির্বাচন বিলম্বিত করলে জনগণ বিভ্রান্ত হতে পারে: রিজভী
৫৮৩ দিন আগে
অনির্বাচিত সরকার বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা উচিৎ নয়: ফখরুল
অবিলম্বে নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি অনির্বাচিত সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ‘সংস্কার করতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা বাংলাদেশের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা। নির্বাচিত সরকার থাকলে এসব সমস্যা অনেকাংশে লাঘব হবে।’
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একাংশ এ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট থাকায় একটি নির্বাচিত সরকার কার্যকরভাবে সমস্যা মোকাবিলায় তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। ‘এটা আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে। আমরাও সংস্কারের পক্ষে। তবে আমরাও মনে করি, অনির্বাচিত সরকারের বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।’
ফখরুল বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
আরও পড়ুন: দেশে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক চর্চাই হয়নি: ফখরুল
বিএনপির এই নেতা আশ্বস্ত করে বলেন, তার দল এখনো অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পূর্ণ সমর্থন করে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাফল্যের আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ করে এর সাফল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে তারা প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন বিএনিপির এই নেতা।
ফখরুল বলেন, তারাও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সফল করতে চান এবং এর সাফল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় অনুরোধ দ্রুত নির্বাচনের আয়োজন করার। অন্যথায় চলমান সংকট, সমস্যা, নাশকতা, সীমান্ত ইস্যু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।’
তিনি বলেন, সংস্কার কোনো নতুন ধারণা নয়, বরং একটি চলমান প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, 'আপনারা (সরকার) সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকটি কমিশন গঠন করেছেন, তারা কাজ করছে, ভাল। কিন্তু এসব কমিশন কাদের সঙ্গে কাজ করছে? তারা কিছু পন্ডিতকে নিয়ে এসেছেন... আমরা তাদের ভালো করে চিনি এবং সম্মান করি। তবে একই সঙ্গে জনগণ কী চায় তা বোঝার জন্য তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে।’
আরও পড়ুন: সচিবালয়ের অগ্নিকাণ্ডে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চান মির্জা ফখরুল
৫৮৩ দিন আগে
১৭ বছরে ভোটার হওয়া নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের সমালোচনায় বিএনপি
ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর হওয়া উচিত- প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের এমন প্রস্তাবে আপত্তি তুলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার এমন পরামর্শ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ভোটার হওয়ার ন্যূনতম বয়স ১৭ বছর হওয়া উচিত। এর অর্থ, এখন তাহলে আবার নতুন করে ভোটার তালিকা করতে হবে।’
‘আপনি প্রধান উপদেষ্টা, প্রথমেই বলে দিচ্ছেন, ভোটারের বয়স ১৭ হলে ভালো হয়। আপনি যখন বলছেন, তখন নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এটা ইলেকশন কমিশনের কাজ, তাদের ওপর ছেড়ে দিন।’
প্রধান উপদেষ্টার মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এভাবে না বলে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়টি আনা উচিত ছিল, এটি ভালো হতো। তাহলে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি হতো না। মানুষের মনে এখন বেশি করে আশঙ্কা তৈরি হবে, এটা করতে গিয়ে আরও সময় যাবে, কালক্ষেপণ হবে। মানুষের মনে ধারণা তৈরি হচ্ছে, আমার না। তাদের মনে ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে, কেন যেন এই সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করছে।’
‘(ভোটার হওয়ার ন্যূনতম বয়স) ১৮ বছর তো আছে, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। যদি কমাতে চান, সেটি ইলেকশন কমিশন প্রস্তাব করুক। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলেন।’
আরও পড়ুন: পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ আমাদের নেই: অধ্যাপক ইউনূস
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংস্কার কোনো নতুন ধারণা নয়, কেউ যদি দাবি করে আমরা (এখন যারা সংস্কার নিয়ে কথা বলছেন) সংস্কার দফা নিয়ে আসছি, এটি ভুল। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। সেজন্য তো নির্বাচন বন্ধ হয়ে থাকতে পারে না।। দিনের পর দিন একটি অনির্বাচিত সরকারের হাতে দেশ চালাতে দিতে পারি না।’
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার করে দ্রুত একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।’
৫৮৩ দিন আগে
দেশে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক চর্চাই হয়নি: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপি শুরু থেকেই সংস্কারের পক্ষে। দুর্ভাগ্যজনক, কেউ কেউ বলছে বিএনপি সংস্কার চায় না, নির্বাচন চায়। এই কথাটা সঠিক না। আমরা বার বার বলছি- একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যেসব সংস্কার প্রয়োজন তা বিএনপি চায়।’
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ আয়োজিত ‘ঐক্য কোন পথে’ শীর্ষক এক জাতীয় সংলাপে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যাওয়ার জন্য নির্বাচন একটি প্রধান ফটক। আমরা সব সময় গণতান্ত্রিক সংস্কারের পক্ষে। তার জন্য আমরা কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করব। একইসঙ্গে আমরা মনে করি জনগণকে বাদ দিয়ে কোনো কিছু চাপিয়ে করা যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান সমস্যাটা হলো, এ দেশে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক চর্চাই হয়নি। এ সংস্কৃতিই গড়ে ওঠেনি।’
‘বাংলাদেশ একটা অত্যন্ত জটিল রাজনৈতিক সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। আজকে যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে- ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন। জাতিগতভাবে আমাদের দুর্ভাগ্য যে আজকে স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের আলোচনা করতে হচ্ছে। খুব ভালো হতো, যদি আমরা প্রথম থেকেই এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে সামনে এগুতে পারতাম।’
আরও পড়ুন: সচিবালয়ের অগ্নিকাণ্ডে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চান মির্জা ফখরুল
বক্তব্যের একপর্যায়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘খুব জরুরি কথা, আমরা যেন একাত্তরকে কখনও ভুলে না যাই। একাত্তরের পর থেকে গণতন্ত্রের জন্য ধারাবাহিক যে লড়াই-সংগ্রাম, সেই সংগ্রামের প্রত্যেককে আমাদের মনে রাখা দরকার। সেই লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে, ছাত্রদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আজকে আমরা এই জায়গায় এসে পৌঁছেছি।’
সংবিধান সংস্কার কমিটির প্রধান ড. আলী রিয়াজের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘রিয়াজ বলেছেন তার কাছে এক লাখের বেশি প্রস্তাব এসেছে। শুনেছি, এ প্রস্তাবগুলো তৈরি করে তারা সরকারের হাতে তুলে দেবেন, সরকার তারপর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসবে।
‘উনারাই (রিয়াজরা) যদি প্রথমে পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর সঙ্গে বসতেন, সেটা আরও ভালো হতো। আমার কাছে মনে হয়। তারা গভর্মেন্টের সঙ্গে বসবেন, আরও আলোচনা হবে। আমার কাছে মনে হয়, যত সময় বাড়বে, তত আমাদের সমস্যা বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘আসল প্রবলেম তো অন্য জায়গায়। এগুলো বাস্তবায়ন করবেন কাদের দিয়ে? প্রশাসন, গভর্মেন্ট মেশিনারি, এগুলো তো এখনও ফ্যাসিবাদের মধ্যে আছে। এতটুকুও পরিবর্তন হয়নি। একটা ফাইলও নড়ে না। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ফাইল কোথায় আটকে আছে দেখবেন? ওখানেই আটকে আছে। এই বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে আমাদেরকে লড়তে হবে।’
মাইন্ডসেট একটা বড় জিনিস এমন মন্তব্য করে তিনি ড. মোহাম্মদ ইউনূসের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, উনি একটা বক্তব্য দিয়েছেন খুব ভালো লেগেছে যে একটা বন্দোবস্ত তো ছিল, টাকা দেবো কাজ করিয়ে নেবো। ভালো সমস্যা নেই। এখন তো আপনি অন্য সিস্টেমে যাচ্ছেন। সেই মাইন্ড সেটটা তো তৈরি করতে হবে। ওই মাইন্ড সেটের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র চর্চা করতে হবে। ভুল-ত্রুটি হবে কিন্তু ওর মধ্য দিয়েই ডেমোক্রেটিক সিস্টেমকে এগিয়ে নিতে হবে। সামনের দিকে নিয়ে যেতে হবে।’
আরও পড়ুন: সীমান্ত হত্যা কখনোই মেনে নেওয়ার নয়: মির্জা ফখরুল
৫৮৪ দিন আগে
১৩ বছর পর শনিবার দেশে ফিরছেন কায়কোবাদ
দীর্ঘ ১৩ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে সৌদি আরব থেকে একটি ফ্লাইটে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার।
কায়কোবাদের দেশে ফেরার খবরে খুশি মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে দলটির হাজারো নেতাকর্মী।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা
মুরাদনগর বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, এই বিএনপি নেতাকে স্বাগত জানাতে কুমিল্লা, মুরাদনগর উপজেলা বিএনপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র-জনতা, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশাজীবীসহ বিভিন্ন ধর্মের লোকজন প্রস্তুত হচ্ছেন। পাশাপাশি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামে গ্রামে গরু জবাই করে ভুরিভোজের আয়োজন করা হচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, কায়কোবাদকে স্বাগত জানাতে মুরাদনগর থেকে ৪০০ বাস ও ২০০০ মাইক্রোবাস প্রস্তুত রয়েছে। এই হিসাবের বাইরে আরও অনেক গাড়ি বিমানবন্দরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহি উদ্দিন অঞ্জন বলেন, ‘দীর্ঘ ১৩ বছর দেশের বাইরে থাকা মুরাদনগরের এই নেতা দেশে ফিরছেন। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে মুরাদনগরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ বইছে। দলমত র্নিবিশেষে সব শ্রেণিপেশার মানুষ এরই মধ্যে তাকে স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি শেষ করেছে।’
৫৮৪ দিন আগে
শার্শায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে বোমা হামলা, দোকান ভাঙচুর ও কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন তিনজন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাগআঁচড়া বাজারে ময়ূরী সিনেমা হলের সামনে দু’দফায় সংঘর্ষ হয়।
প্রতাক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তির অনুসারী বাগআঁচড়ার ইসমাইলের ছেলে যুবদলের বহিষ্কৃত কর্মী মাসুদ ও সাতমাইল এলাকার কপিল উদ্দীনের ছেলে যুবদল কর্মী বাবর আলীর মধ্যে বিরোধ চলছিল।
মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে এই বিরোধ চলছিল। এর জেরে মাসুদের নেতৃত্বে বাবুকে বাগআঁচড়া বাজারে মারপিট করা হয়।
পরে বাবুর পক্ষের নেতাকর্মীরা খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ময়ূরী সিনেমা হলের সামনে এসে মাসুদের বাবা ইসমাইলের দোকান ভাঙচুর করে। কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলে যায়।
ওই ঘটনার সূত্র ধরে আজ শুক্রবার সকালে আবারও মোটরসাইকেল বহর নিয়ে মাসুদের বাড়িতে হামলা চালায় তারা।
এসময় তারা কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং চাইনিজ কুড়াল দিয়ে দুটি মোটরসাইকেল কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বাবু জানান, বুধবার রাতে মাসুদ তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাকে মারধর করে ২০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
পরে ঘটনাটি তাদের নেতাকর্মীদের জানালে তারা মাসুদের বাড়ির সামনে গিয়েছিলেন রাতে ও সকালে তারা (মাসুদেরা) নিজেরা বোমা মেরে ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে তাদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
মাসুদ জানায়, বাবুর পক্ষের নেতাকর্মীরা রাত ১২টার দিকে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ময়ূরী সিনেমা হলের সামনে এসে আমার বাবা ইসমাইলের দোকান ভাঙচুর করেছে। কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলে যায়।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির আব্বাস জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কোনো অভিযোগ বা মামলা হলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
৫৮৫ দিন আগে
কুকুরের লাশই প্রমাণ করে সচিবালয়ের আগুন একটি ষড়যন্ত্র: সারজিস
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘সচিবালয়ের আগুন শুধুমাত্র আমাদের দুই সহযোদ্ধা আসিফ মাহমুদ ও নাহিদ ইসলামের রুমে লাগানো হয়েছে। সেখানে কুকুরের লাশই প্রমাণ করে এটি ষড়যন্ত্র।’
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকালে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের হলরুমে জাতীয় নাগরিক কমিটির ‘ঠাকুরগাঁও রাইজিং’ প্রোগ্রামে এসব কথা বলেন তিনি।
সারজিস বলেন, ‘সচিবালয়ের আমলারাই খুনি হাসিনাকে বসিয়ে রেখেছিল। গণ অভ্যুত্থানের আগে কিছু আমলা নামক দাস ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় খুনি হাসিনার পক্ষে স্লোগান দিয়েছে। খুনি হাসিনার পোষ্য আমলারা আজও সচিবালয়ে চাকরি করছে। তারা চাকরি করলে সচিবালয় কীভাবে নিরাপদ থাকবে? হয় সাদা নয়তো কালা। তাদের চেয়ারে বসিয়ে রাখলে তাদের কাছ থেকে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পাওয়া সম্ভব না। সে কারণে এখন অপকর্ম হচ্ছে, দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানকে পুঁজি করে মামলা-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে মানুষকে জিম্মি করা হচ্ছে। মামলায় নাম দেওয়ার সময় টাকা, আবার মামলা থেকে নাম কাটার সময়ও টাকা নেওয়া হচ্ছে। বড় বড় ব্যবসায়ীদের বাসায় ডেকে নিয়ে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। এসবের জন্য এত মানুষ শহিদ হয়নি।’
আরও পড়ুন: সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ড: কমিটিকে ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ
জাতীয় নাগরিক কমিটি নিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দল নয়, একটি রাজনৈতিক শক্তি। সকলে অনুভব করে নতুন কিছু দরকার। বাংলাদেশের লিডারশিপগুলোকে (নেতৃত্ব) ধ্বংস করা হয়েছে। আগামীতে ডিমান্ড (চাহিদা) অনুযায়ী দক্ষ নেতৃত্ব তৈরির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে নাগরিক কমিটি। এসব নেতৃত্ব আগীমার বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।’
উপযুক্ত সংস্কার শেষ হওয়ার পরে নির্বাচন উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, ‘গণ অভ্যুত্থানের আগে যদি বলা হতো- দুই-তিন বছর সংস্কারের জন্য সময় দিতে হবে, তাহলে শুধু রাজনৈতিক দল নয়, একজন সাধারণ মানুষকেও দ্বিমত করতে পাওয়া যেত না। আবার নির্বাচনের সময়কে দীর্ঘ করে দেশকে নাজুক পরিস্থিতিতেও নিয়ে যাওয়া যাবে না।’
‘গণঅভ্যুত্থানের এখনও ৫ মাসও পার হয়নি। তাদের (সরকারকে) স্ট্যান্ডার্ড সংস্কারের সময় ও সুযোগ দিতে হবে, যাতে তারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারে। তা না হলে এই সুযোগ খুনি হাসিনা কাজে লাগিয়ে পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে।’
৫৮৫ দিন আগে
দেশে কিংস পার্টি গঠনের চেষ্টা চলছে: রিজভী
রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে দেশে রাজকীয় দল বা কিংস পার্টি গঠনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ’২২ ডিসেম্বর : রক্তাক্ত মতিহার ও রিজভী আহমেদ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, ‘আপনারা কোন পথে যেতে চান? আমরা শুনছি যে, একটি রাজকীয় দল করার নাকি চেষ্টা করা হচ্ছে, কিংস পার্টি যেটাকে বলা হয়। ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দিনরা যে চেষ্টা করেছেন, শেখ হাসিনা গোয়েন্দাদের দিয়ে যে কাজ করেছেন, এখনও তো আমরা সেটি শুনছি।’
‘আমরা শুনছি যে গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষজনকে বলছে- অমুক অমুক লোকের সঙ্গে আপনারা যোগাযোগ করুন। এটা তো করতে পারে না। এটা হলে তো মানুষের যে এত আত্মদান, সেটা করত না।’
তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতি যদি আবার ফিরে আসে যে, কারা কারা নির্বাচিত হবেন, কারা কোন রাজনৈতিক দল করবেন- রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যদি এটি নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আর কি সার্থকতা থাকল?’
‘শেখ হাসিনাও একই কাজ করেছেন। উনি তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে বিরোধী দলের লোকজনকে ধমক দিতেন; চেষ্টা করাতেন বিএনপি থেকে তাদের যেন সরিয়ে দেওয়া যায়, তারা যেন আরেকটি রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারে, তারা যেন বিএনপিকে ভাঙে। এই কাজটাই তো ১৬/১৭ বছর শেখ হাসিনা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দিয়ে করিয়েছেন। এখন আবার আমরা শুনছি, গোয়েন্দা সংস্থার লোকরা নাকি একটি রাজনৈতিক দল গঠনের জন্য, কাউকে কাউকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছে। এই ঘটনা কিন্তু এদেশের মানুষ মেনে নেবে না।’
আরও পড়ুন: উপদেষ্টারা আমাদের প্রতিপক্ষ হওয়ার যোগ্যও নন: নজরুল ইসলাম খান
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ। যে মানুষ যে রাজনৈতিক দলকে পছন্দ করে, তাকে তারা ভোট দেবে। যে মানুষ যে রাজনৈতিক দল গঠন করতে চায়, তারা সেভাবে রাজনৈতিক দল গঠন করবে। এখানে কোনো নির্দেশনা, কোনো হুমকি, রাষ্ট্রের কোনো খবরদারি থাকবে না- এটিই হচ্ছে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজ, এটিই প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।’
‘সেটি না করে ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দিনের মতো, এরশাদের মতো এবং শেখ হাসিনার মতো একই কালচার, একই সংস্কৃতির যদি পুনরাবৃত্তি হয় তাহলে তো মানুষ মনে করবে আরেকটি ফ্যাসিবাদ তৈরির প্রচেষ্টা চলছে। এটি হতে দেওয়া যায় না।’
সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডে রিজভীর উদ্বেগ
সচিবালয়ে আগুন লাগার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এ সময় এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘চারদিকে বিভিন্ন ঘটনায় আমরা শঙ্কিত, আমরা ভয়ার্ত। এ ভয় ব্যক্তিগত নয়, ভয় রাষ্ট্র নিয়ে। আমরা এর আগেও দেখেছি, কোনো সচিব বা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদ এলেই সচিবালয়ের নথি গায়েব হয়ে যায়, সেখানে আগুন ধরে যায়।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের কিছু নথিপত্র চাওয়াতেই সচিবালয়ে আগুন লেগেছে। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে, জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’
‘রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের’ এ আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
সংগঠনটির সভাপতি অ্যাডভোকেট বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মল্লিক মো. মোকাম্মেল কবীরের সঞ্চালনায় হাবিবুর রহমান হাবিব, মীর সরাফত আলী সপু, সৈয়দ শাহীন শওকত, ওবায়দুর রহমান চন্দন, রমেশ দত্ত বক্তব্য দেন।
৫৮৫ দিন আগে
সচিবালয়ের অগ্নিকাণ্ডে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চান মির্জা ফখরুল
সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সচিবালয়ের মতো স্পর্শকাতর ভবনে ভয়াবহ আগুন এবং আগুনে একজনের মৃত্যু ও ২/৩ জন আহত হওয়ার ঘটনায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সচিবালয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে ভস্মীভূত হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়া অস্বাভাবিক নয়।
সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির জোর দাবি জানান মির্জা ফখরুল। পাশাপাশি নিহতের পরিবারসহ আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: সচিবালয়ের আগুন নিয়ন্ত্রণে, নিহত ১
বুধবার দিবাগত রাতে সচিবালয়ে আগুন লাগে। রাত ১টা ৫২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। প্রথমে সচিবালয়ে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটটি আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে আগুনের তীব্রতা বেড়ে গেলে একে একে ১৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজে যোগ দেয়। প্রায় ৬ ঘণ্টা পর সকাল ৮টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিনির্বাপণের কাজে পানির লাইন দিতে গিয়ে সচিবালয়ের সামনের রাস্তায় ট্রাক চাপায় আহন হন মো. সোহানুর জামান নয়ন নামে একজন ফায়ার ফাইটার। পরে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
আগুনে ৭ নম্বর ভবনের ষষ্ঠ থেকে নবম তলা পর্যন্ত চারটি তলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত তলাগুলোতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ উল্লেখযোগ্য।
৫৮৫ দিন আগে
উপদেষ্টারা আমাদের প্রতিপক্ষ হওয়ার যোগ্যও নন: নজরুল ইসলাম খান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বর্তমান সরকারের উপদেষ্টারা প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়ে প্রতিপক্ষের মতো কথা বলছেন। আমরা তাদের প্রতিপক্ষ মনে করি না; তারা আমাদের প্রতিপক্ষ হওয়ার যোগ্যও নন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স-স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘রক্তাক্ত মতিহার ও রিজভী আহমেদ’ ২২ ডিসেম্বর ৮৪ স্মরণে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টাদের উদ্দেশে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘তাদের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্কে কমেন্ট (মন্তব্য) করার কী দরকার। তারা কি প্রতিপক্ষ হবে? আমরা তো তাদের প্রতিপক্ষ মনে করি না! তারা আমাদের প্রতিপক্ষ হওয়ার যোগ্যও নন। আমরা রাজনীতি করি, তারা তো রাজনীতিই করে না; তাহলে প্রতিপক্ষ হবে কীভাবে? আমরা ইলেকশন করব, তারা কি আমাদের বিরোধী ইলেকশন করবে? তারা তো আমাদের প্রতিপক্ষ নন!’
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে তো আমরাই প্রতিষ্ঠা করেছি, নাকি? তারা তো জোর করে ক্ষমতা দখল করেনি। আমরা এই দেশের মানুষ, আন্দোলনের মধ্যে যারা ছিলাম, আমরা সবাই মিলে তাদের প্রতিষ্ঠা করেছি। তাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা কী?’
‘জনগণের কল্যাণে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন। যারা দোষ করেছেন, অপরাধ করেছেন, খুন করেছেন, দুর্নীতি করেছেন, তাদের বিচারের চেষ্টা করবেন। যতটা পারেন করবেন। আর যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই-সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রের জন্য ক্ষেত্রটি তৈরি করে একটি নির্বাচন দেবেন।’
আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ইঙ্গিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিএনপির
গত ৫৩ বছরে রাজনীতিবিদরা দেশের জন্য কিছুই করেননি- পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান দুর্ভিক্ষ কবলিত জাতির জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করেছিলেন। বাংলাদেশের মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য গার্মেন্টস শিল্প করেছিলেন। প্রবাসে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সমুদ্রের মাছ শিকারের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং বিদেশে মাছ রপ্তানি করেছিলেন। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন করেছিলেন। কৃষি সম্প্রসারণের জন্য খাল কেটেছিলেন। এসব কি উন্নয়ন নয়?’
‘খালেদা জিয়া শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্যের ব্যবস্থা করে লেখাপড়ার প্রসার করেন, মেয়েদের বৃত্তির ব্যবস্থা করেছিলেন। আজ যারা সমালোচনা করেন তারা অন্তত এরকম একটা কাজ করুন- (এমন কিছু) করার পর সমালোচনা করুন।’
এই নেতা বলেন, ‘যার সামর্থ্য কম, সে নিজের অক্ষমতা ঢাকার জন্য সমালোচনাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। মিথ্যা সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।’
রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স-স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, কৃষক দল সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, রুনেসার সম্পাদক মল্লিক মো. মোকাম্মেল কবীর প্রমুখ।
৫৮৫ দিন আগে