রাজনীতি
আগে স্থানীয়, সংস্কার শেষে পরে জাতীয় নির্বাচন: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি না থাকায় জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর উপযুক্ত সংস্কার নিশ্চিত করার পরই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজার সড়কে চাঁদপুর জেলা জামায়াত আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার নিশ্চিত করার পরই আমরা জাতীয় নির্বাচন চাই। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হওয়া উচিত, যাতে কারও ভোট নষ্ট না হয় এবং প্রতিটি ভোটের মূল্য থাকে।’
আরও পড়ুন: বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক বিভেদকে কবর দিন: জামায়াত আমির
এ সময় নির্বাচনকে কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘যারা চাঁদাবাজি করেন, তাদের বলছি— আল্লাহ ভিক্ষাকে হালাল করেছেন, কিন্তু চাঁদাবাজিকে হারাম করেছেন। তাই চাঁদাবাজি না করে ভিক্ষা করাও উত্তম। অথবা আপনারা যদি আমাদের কাছে সহযোগিতা চান, আমরা আপনাদের সহায়তা করতে প্রস্তুত, কিন্তু আল্লাহর ওয়াস্তে চাঁদাবাজি করবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যারা বিভিন্ন গাড়ীতে চাঁদাবাজি করেন, এ চাঁদাবাজির টাকা ১৮ কোটি মানুষের পকেট থেকে যায়। ভিক্ষুকের পকেট থেকেও যায়। সুতরাং চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। নইলে আবারও ৫ আগস্ট আসবে, আপনাদের দশাও তাদের মতো হবে।’
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মাসুদুল ইসলাম বুলবুল এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি এটিএম মাসুদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল উদ্দিন, সাবেক জেলা আমির মাওলানা আবদুর রহিম পাটওয়ারী ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।
আরও বক্তব্য দেন জেলার সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবুল হোসাইন, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, মুহাদ্দিস আবু নসর আশরাফী, শহর জামাতের আমির অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান খান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রমুখ।
আরও পড়ুন: ৫৩ বছরের হওয়া সব খুনের বিচার হতে হবে: জামায়াত আমির
এদিন পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার সূচনা করেন সদর উপজেলা আমির মাওলানা আফসার উদ্দিন মিয়াজী। পথসভায় দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাসহ হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
৬১২ দিন আগে
রাজপথে যাদের দেখা যায়নি, তারাই এখন সংস্কারের কথা বলছে: তারেক
এখন অনেকেই সংস্কারের কথা বলছেন, অথচ বিগত সময়ে তাদের রাজপথে পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘একমাত্র বিএনপি স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দেশ পুনর্গঠনের কথা বলেছে এবং ৩১ দফা ঘোষণা করেছে। বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে সবার আগে দেশ পুনর্গঠন করবে।’
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জেলা বিএনপির সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘গত ১৬ বছর ধরে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে বিএনপিসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দলের নেতা-কর্মীদের খুন, গুম ও লুটতরাজ করে। তখন নানা ধরনের নির্যাতনের মুখে বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিক দল রাজপথে থেকে লড়াই করেছে।’
‘এখন যারা বড় বড় কথা বলছে, তারা তখন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মাঠে ছিল না। এখন অনেকেই সংস্কারের কথা বলছেন, অথচ বিগত সময়ে তাদের রাজপথে পাওয়া যায়নি।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির মূল লক্ষ্য ভেঙে পড়া রাষ্ট্র-কাঠামো মেরামত করা। কৃষকের উৎপাদন, নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন করাও আমাদের লক্ষ্য। জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব করবে।’
এ সময় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের জনগনের সমর্থন নেই—এমন কোনো কাজ বিএনপি করে না। বিভ্রান্ত হয়ে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়া নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাই বিএনপির বিরুদ্ধে কারও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না।’
দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ পুনর্গঠনে দ্রুততম সময়ে স্বচ্ছ নির্বাচন দেওয়া জরুরি বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: গণহত্যার বিচারের জন্য হাসিনাকে ফেরত দিতে ভারতের প্রতি বিএনপির আহ্বান
তারেক রহমান বলেন, ‘যে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা বিগত ১৭টি বছর আন্দোলন করেছি, সেই স্বৈরাচার আজ পলাতক। তবে তারা বিভিন্নভাবে মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে; ষড়যন্ত্রকারীরা কিন্তু বসে নেই! বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার অসিলায় বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তারা তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তাদের এই লক্ষ্য আমরা হাসিল করতে দিতে পারি না। দেশের মানুষকে যদি রক্ষা করতে হয়, সর্বোপরি বাংলাদেশকে যদি রক্ষা করতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। আমরা বসব, আলোচনা করব। এক আলোচনায় শেষ না হলে আবার আলোচনায় বসব। আলোচনার মাধ্যমেই আমরা সমস্যার সমাধার খুঁজে বের করব। আমাদের অনেক কাজ; দেশকে পুনর্গঠনের কাজ। দেশের সামনে আমরা রাষ্ট্র-কাঠামো পুনর্গঠনের ৩১ দফা রূপরেখা দিয়েছি। সেটির মধ্যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থা কীভাবে করব—তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া আছে। এই দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও কৃষির জন্য আমরা কী কী করতে চাই, তার কথাও উল্লেখ করা আছে। সমগ্র দেশকে পুনর্গঠন করার জন্য আমরা কী করতে চাই, সেই কথাগুলো বলা আছে।’
যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিএনপি চেরায়পারসনের উপদেষ্টা আমন উল্লাহ আমান।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী টি এস আইয়ূব, আবুল হোসেন আজাদ, সাবিরা নাজমুল মুন্নী, কেশবপুর পৌর বিএনপি সভাপতি আব্দুস সামাদ বিশ্বাস, যশোর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জারুল হক খোকন, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রাশিদা রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পি প্রমুখ।
৬১৩ দিন আগে
দুই ঘণ্টার চেষ্টায় খিলগাঁওয়ের আগুন নিয়ন্ত্রণে
রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার তালতলা চৌরাস্তার পাশে গ্যারেজ পট্টিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।
পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে তাদের তিনটি ইউনিটের সঙ্গে আরও পাঁচটি ইউনিট যোগ দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের (এফএসসিডি) প্রধান কার্যালয়ের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। এখন উদ্ধার কাজ চলছে।আরও পড়ুন: রাজধানীর খিলগাঁওয়ে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৮ ইউনিট
এরআগে তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পরে তাদের সঙ্গে আরও পাঁচটি ইউনিট যোগ দেয়।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, খিলগাঁও থানার পেছনই এই গ্যারেজ পট্টি। সেখানে পাশাপাশি অনেকগুলো গাড়ির গ্যারেজ রয়েছে।
তবে, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও হতাহতের কোনো খবর জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা। এদিকে আগুনের কারণে তালতলা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক দূর থেকে আগুনের শিখা দেখা গেছে। ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ হয়ে যায়।
গাড়ির গ্যারেজে আগুন ছড়ানোর পর সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
৬১৩ দিন আগে
শহিদ মিনারে বিএনপির ‘অপকর্মের ভিডিও করায়’ সাংবাদিককে মারধর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা জাতীয় নাগরিক কমিটির দুই সদস্যকে ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যা দিয়ে পেটানোর ভিডিও ধারণকালে সাংবাদিকের ওপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় নাসিরনগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে এম বশির উদ্দিন তুহিনের দিকে আঙুল তুলেছেন গুরুতর আহত ওই সাংবাদিক।
একুশের প্রথম প্রহরে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নাসিরনগর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
বেধড়ক মারধরের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দৈনিক কালবেলা ও এনটিভির নাসিরনগর উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। হামলায় তার মুখ, মাথাসহ শরীরে বিভিন্ন অংশ জখম হয়েছে।
আহত আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, শহিদ দিবদের সংবাদ সংগ্রহ করতে তিনি গতরাতে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে যান। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা জাতীয় নাগরিক কমিটির দুই সদস্যকে ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যা দিয়ে পেটাতে থাকেন। ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে বশির উদ্দিন ও তার সমর্থকরা তার দিকে তেড়ে আসেন।
তিনি বলেন, ‘এ সময় বশির আমার মোবাইল কেড়ে নিয়ে প্রথমে রড দিয়ে আঘাত করে। পরে তার ভাতিজারাসহ অন্যান্য বিএনপিকর্মীরা রড, চাপাতি নিয়ে আমার ওপর উপর্যুপরি হামলা চালায়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।’
বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত বশির উদ্দিন তুহিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তা দুঃখজনক।’
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খাইরুল আলম বলেন, ‘যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে খবর পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আরও পড়ুন: বেনাপোলে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫
অপরদিকে, জেলার বিজয়নগর উপজেলায় শহিদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মো. বিল্লাল মিয়া ও জীবন আলী নামে দলটির দুই কর্মী আহত হয়েছেন।
পরে তাদের বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ এ বিষয়ে জানায়, রাতে শহিদ মিনারে ফুল দেওয়ার সময় মহসিন ও শাহ আলম গ্রুপ একসঙ্গে ফুল দিতে গেলে বাদানুবাদ থেকে এই সংঘর্ষ ঘটে।
বিজয়নগর থানার ওসি রওশন আলী বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
৬১৩ দিন আগে
আবারও ফ্যাসিবাদের উত্থান হলে একুশের চেতনাই তা রুখবে: রিজভী
একুশের চেতনা কোনোদিন ম্লান হবে না জানিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘যদি আবারও কোনো ফ্যাসিজমের উত্থান ঘটে, কোনো ধরনের ডিক্টেটরের উত্থান ঘটে, তাহলে একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের দামাল ছেলেদের, এদেশের জনগণকে আবারও রাজপথে লড়াইয়ে নামতে উদ্বুদ্ধ করবে।’
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, ‘আমরা মনে করি যে- ৫২’র একুশে ফেব্রুয়ারি যুগ যুগ ধরে আমাদের কাছে এমন একটি চেতনা, এমন একটি বৈপ্লবিক আদর্শ যা আমাদেরকে উদ্ধুদ্ধ করে, যেটাকে কখনোই ধ্বংস করা যায় না, কখনও ম্লান করা যায় না। যুগ যুগ ধরে পৃথিবী মানুষ এবং আমাদের সমাজ-সংসার যতদিন থাকবে, ততদিন একুশ আমাদের সাহস যোগাবে এবং লড়াই করতে উদ্ধুব্ধ করবে।’
তিনি বলেন, ‘একুশ মানে অধিকারের সংগ্রাম, একুশ মানে সাংস্কৃতিক সংগ্রামও। এটি ছিল জাতীয় স্বাধীনতার প্রথম সোপান, এই ভাষা আন্দোলনের সোপান পেরিয়ে আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে গেছি স্বাধীনতার যুদ্ধের দিকে। আমাদের মহা অর্জন—স্বাধীনতা লাভ করেছি।’
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘যখনই আমরা স্বৈরাচারের কবলের মধ্যে পড়েছি, যখন দেশে গণতন্ত্রহারা মানুষ বন্দিশালার মধ্যে বাস করেছে, তখন ৫২ আমাদের উদ্ধুব্ধ করেছে, আমাদের প্রেরণা জাগরিত করেছে— কীভাবে আমরা এই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, অত্যাচারির বিরুদ্ধে লড়াই করব।’
‘একুশের প্রেরণাতে আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর সংগ্রাম করেছি, অনেক নেতা-কর্মীকে গুম করা হয়েছে, ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। তাদের রক্তাক্ত পথ পেরিয়ে চূড়ান্ত যে আন্দোলন, ছাত্র-জনতার যে বিপ্লব, তার মধ্য দিয়ে সেই ভয়ংকর নিপীড়ক এবং রক্তপিপাসু স্বৈরাচার, ভয়ংকর দুর্নীতিবাজ সরকার তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।’
আরও পড়ুন: ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি বিএনপির শ্রদ্ধা
এ সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রিজভী বলেন, ‘এখন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (রয়েছে)। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে একটি অবাধ নির্বাচন করা। তার সঙ্গে আরও কিছু আনুষঙ্গিক কাজ আছে; বিভিন্ন সংস্কার আছে। যেটা প্রয়োজনীয় সংস্কার, সেটা যে সময় আছে সেই সময়ে করা সম্ভব। কিন্তু জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে, যে দেশের জনগণ ও তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে আজকে যাদের ১৮ বছর, একুশ বছর বয়স—তারা কেউ ভোট দিতে পারেনি, ভোট কী তারা জানে না। কারণ (গত) ১৭ বছর ভোট হয়েছে আপনার চতুষ্পদ জন্তু দিয়ে; ভোটকেন্দ্রে দিনের ভোট রাতে করেছে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য নির্বাচন কমিশন ধ্বংস করেছে, ভোট ধ্বংস করেছে। এগুলো থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি করার জন্যই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। এটা সরকারের দায়িত্ব।’
জাতীয় নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে স্থানীয় সরকার না পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন— এই বিতর্কে আমার মনে হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অংশগ্রহণ করা উচিত নয়। বরং এই সরকারকে প্রথমেই জনগণের ক্ষমতা জনগণকে ফিরিয়ে দিতে হবে। জনগণ তাদের নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে যে সরকার গঠন করবে তারাই নির্ধারণ করবে যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বা অন্যান্য নির্বাচন কখন হবে।’
‘আপনারা দেখেছেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মহিউদ্দিন চৌধুরী জিতেছে, সিলেট সিটি নির্বাচনে বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান জিতেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশনে মোহাম্মদ হানিফ জিতেছে। বিএনপির সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করায় বিরোধীরা জিতেছে, কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সেটা হয়নি।’
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে ছড়ানো তথ্য সঠিক নয় জানিয়ে রিজভী আরও বলেন, ‘আমাদের কিছু কিছু নেতা বা কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখছেন যে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি হবেন— এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে। কিন্তু এটা আমাদের দল বিএনপির অবস্থান নয়— এই কথাটা আপনাদের সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলাম।’
এর আগে ভোর সাড়ে ৬টায় রাজধানীর নিউ মার্কেটের কাছে বলাকা সিনেমা হলের সামনে থেকে রিজভীর নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিশাল প্রভাতফেরি আজিমপুর কবরস্থানে যায়। সেখানে ভাষা শহিদের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং ফাতেহা পাঠ করে বিএনপির প্রভাতফেরিটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আসে। এ সময় দলটির নেতা-কর্মীদের কালো ব্যাজ ধারণ করতে দেখা যায়। এরপর রিজভীর নেতৃত্বে শহিদ মিনারের বেদিতে বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা।
এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, মীর সরাফত আলী সপু, আমিনুল হক, ইশরাক হোসেন, মোনায়েম মুন্না, নুরুল ইসলাম নয়নসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
৬১৪ দিন আগে
ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি বিএনপির শ্রদ্ধা
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিএনপি।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
দলটির নেতাকর্মীরা কালো ব্যাধ পড়ে সকাল সাড়ে ৬টায় নীলক্ষেতের বলাকা সিনেমা হলের সামনে জড়ো হয়। তারা প্রথমে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা।
আরও পড়ুন: পিলখানায় হত্যার দায়ে হাসিনার ৫৭ বার ফাঁসি হবে: আমান উল্লাহ
এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি আমিনুল হক, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি উপলক্ষে ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন করে বিএনপি।
এছাড়া সারা দেশে বিএনপির বিভিন্ন শাখাও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে দলটি।
মাতৃভাষার জন্য বাঙালি জাতির সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে ফেব্রুয়ারি একই সঙ্গে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
আরও পড়ুন: অনতিবিলম্বে জাতীয় নির্বাচন দিন, সরকারকে ফখরুল
৬১৪ দিন আগে
অনতিবিলম্বে জাতীয় নির্বাচন দিন, সরকারকে ফখরুল
অনিশ্চয়তা দূর করে অনতিবিলম্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, 'আমরা দ্রুত নির্বাচন চাই, আমরা একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ দেখতে চাই।‘
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লার লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায় এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুস্পষ্ট নির্বাচনী রোডম্যাপের আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
আরও পড়ুন: সালাহউদ্দিন ছাড়া সব উপদেষ্টা অপদার্থ: নওগাঁয় মিনু
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে।’
রাষ্ট্রীয় সংস্কারে দলের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগের অংশ হিসেবে লাকসাম স্টেডিয়ামে এ সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম।
এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) মো. আনোয়ারুল আজিম উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: পিলখানায় হত্যার দায়ে হাসিনার ৫৭ বার ফাঁসি হবে: আমান উল্লাহ
৬১৪ দিন আগে
আজহারের মুক্তি দাবি: কারাবরণের ঘোষণা জামায়াত আমিরের
কারান্তরীণ দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে স্বেচ্ছায় কারাবরণের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নিষ্ঠুর জুলুমের শিকার মজলুম জননেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি এখনও বন্দী রয়েছেন। একে একে সকল জাতীয় নেতা মুক্তি পেলেও তিনি বৈষম্য ও জুলুমের শিকার হয়ে বন্দী জীবনের কঠিন বোঝা বহন করে চলেছেন। তাকে কারাগারে রেখে বাইরে অবস্থান করা আমার পক্ষে আর একেবারেই সম্ভব নয়। আমরা সরকারকে যথেষ্ট সময় দিয়েছি।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আপত্তি নেই, সংস্কার আগে হতে হবে: জামায়াত
তিনি আরও বলেন, এই জুলুমের প্রতিবাদ এবং এটিএম আজহারুল ইসলাম এর মুক্তির দাবিতে আমি নিজে গ্রেপ্তার হওয়ার জন্য আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত প্রাঙ্গণে হাজির থাকব।
তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি। সময় মতো তাকে যথাস্থানে পাওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করা হয় ওই ফেসবুক পোস্টে।
উল্লেখ্য, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে আজ রিভিউ শুনানির কথা ছিল। আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় মামলাটি শুনানির জন্য ৯ নম্বরে ছিল। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর তৎকালীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: আমাদের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি: জামায়াত আমির
৬১৪ দিন আগে
পিলখানায় হত্যার দায়ে হাসিনার ৫৭ বার ফাঁসি হবে: আমান উল্লাহ
ষোল বছর আন্দোলন করে জনগণের অধিকার রক্ষা করা হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'দীর্ঘ ষোল বছর আমরা আন্দোলন করে জনগণের অধিকার রক্ষা করেছি। সবশেষে ছাত্র-জনতার মাধ্যমে দেশ স্বেরাচারমুক্ত হয়েছে। তবে আমাদের সামনে কঠিন সময় আসছে, আর এই কঠিন সময়ে আমাদের সবাইকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আয়োজনে টাউন ফুটবল মাঠে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমান বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে এসে আপনাদের নেতৃত্ব দেবেন, আর নির্বাচন করবেন। দেশ যাবে কোন পথে, তার ফয়সালা হবে রাজপথে। বাংলাদেশের মানুষ দেশকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনামুক্ত করেছে। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য কমানোর দাবিও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান ৩১ দফায় আমাদের সামনে একটি সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দুইবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।
আমান আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা পিলখানায় যে ৫৭জন সেনা কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন। এ হত্যার দায়ে শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীদের ৫৭ বার ফাঁসি হবে। আমাদের আইন-আদালত এবং জনগণ হাসিনাসহ তার দোসর কাউকেই রেহাই দেবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে। হাজার হাজার ছাত্র হত্যার শিকার হয়েছেন। আর এসব হত্যার দায়ে শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীদের কঠিন বিচার চাই।’
জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুন্ডু। আর সঞ্চলনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।
আরও পড়ুন: সালাহউদ্দিন ছাড়া সব উপদেষ্টা অপদার্থ: নওগাঁয় মিনু
৬১৪ দিন আগে
সালাহউদ্দিন ছাড়া সব উপদেষ্টা অপদার্থ: নওগাঁয় মিনু
বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সাবেক সংসদ ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, আজ কৃষক সার কিনতে পারছে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা। সবকিছু সাধারণ মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার বাইরে। অথচ আপনি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছেন না। কাজেই উপদেষ্টা ডক্টর সালাহউদ্দিন ছাড়া আপনার সব উপদেষ্টারা অপদার্থ।’
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নওগাঁ জেলা শহরের নওযোয়ান মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেন তিনি।আরও পড়ুন: বগুড়ায় বিএনপি নেতার হামলায় যুবদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, অবনতিশীল আইন-শৃঙখলা পরিস্থিতির উন্নতির, দ্রুত গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে উত্তরণের নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে এবং রাষ্ট্রে পতিত ফ্যাসিবাদের নানা চক্রান্তের অপচেষ্টা মোকাবেলাসহ বিভিন্ন জনদাবিতে নওগাঁ জেলা বিএনপি এ জনসভার আয়োজন করে।
নওগাঁ জেলাবাসীর উদ্দেশ্যে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘নওগাঁ হল সেই মাটি, যেখানে গত ১৭ বছর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করেছে। নওগাঁর মাটি বিএনপির ঘাঁটি, তারেক রহমানের ঘাঁটি। এই নওগাঁর মাটিতে ম্যাডাম খালেদা জিয়া ৫ দিন থেকে রাজনীতির খোঁজ নিয়েছেন। সেই জন্য আমি গর্ববোধ করি, আমার মা এখানে এসেছিলেন। তাই নওগাঁর এ সমাবেশ বাংলাদেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে। তারেক রহমানের দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।’
বাংলাদেশের মাটিতে খুনি হাসিনার কোনোদিন স্থান হবে না জানিয়ে মিনু অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা আপনাদের সমর্থন দিয়েছিলাম। কিন্তু আপনারা জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ৩৩ জনকে ওএসডি করেছেন। আপনারা তিন হাজার ৩০০জনকে ওএসডি করুন।’
অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের উদ্দেশ্যে মিনু আরো বলেন, ‘প্রফেসর ইউনুস আপনি যখন নোবেল বিজয়ী হয়ে এ দেশে এসেছিলেন, তখন আপনার কি হয়েছিল নিশ্চয়ই মনে আছে? কিন্তু ম্যাডাম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা আপনাকে পুষ্পস্তবক দিয়েছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘ছয় মাস আগেও আপনার দেশ-বিদেশে সুনাম ছিল। কিন্তু এখন আপনার এই সুনাম আছে কিনা; যাচাই করে দেখবেন। আপনি ছয় মাস আগে যে জায়গায় ছিলেন এখন আর সে জায়গায় নেই আপনি।’আরও পড়ুন: গণহত্যার বিচারের জন্য হাসিনাকে ফেরত দিতে ভারতের প্রতি বিএনপির আহ্বান
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর সভাপতিত্বে সদস্য সচিব বায়েজিদ হোসেন পলাশের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটি সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব এ এইচ এম ওবায়দুর রহমান চন্দন। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সমবায় সম্পাদক নজমুল হক সনি, নওগাঁ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম টুকু, এসএম রেজাউল ইসলাম রেজু, আমিনুল হক বেলাল, মামুনুর রহমান রিপন, শফিউল আজম রানা প্রমুখ।
৬১৫ দিন আগে