রাজনীতি
যথাসময়ে নির্বাচন দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে ফখরুলের প্রশ্ন
অযথা সময় নষ্ট না করে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটিটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে যে ছাত্ররা একসময় নেতৃত্ব দিয়েছেন, এখন নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় তারাই ফ্যাসিস্টদের জায়গা করে দিচ্ছে।’
এ সময়ে সরকারে বসে সরকারের সব সুযোগ–সুবিধা নিয়ে দল গঠন করলে তা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার তিনি। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘তা না হলে জনগণের যে আস্থা আপনাদের ওপর আছে, সেই আস্থা আপনাদের ওপর আর থাকবে না।’
আরও পড়ুন: দ্রুত সময়ে নির্বাচন দিয়ে জনগণের হাতে ক্ষমতা তুলে দিন: মির্জা ফখরুল
সরকারের এক উপদেষ্টাকে ইঙ্গিত করে এ প্রসঙ্গে ফখরুল আরও বলেন, ‘তখন তিনি বলেছিলেন আমি নাকি এক–এগারোর দিকে নজর দিচ্ছি। আমরা এক–এগারোর ভুক্তভোগী। এক–এগারো যারা তৈরি করেছে তারা টিকতে পারেনি মানুষের কাছে। আবারও হুঁশিয়ার করে বলে দিতে চাই যদি আবার কেউ সেই এক–এগারোর কথা চিন্তা করেন, গণতন্ত্রকে বিসর্জন দিয়ে সেই একদলীয় শাসন ফ্যাসিস্ট সরকারের দিকে যেতে চান, তাহলে কখনোই জনগণ তা মেনে নেবে না।’
নতুন যেকোনো রাজনৈতিক দলকে বিএনপি স্বাগত জানাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ছাত্রসংগঠন ইতিমধ্যে করেছেন, আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। যখনই দল তৈরি করবেন, স্বাগত জানাব। তার অর্থ এই নয় যে আপনারা সরকারে বসে সরকারের সব সুযোগ–সুবিধা নিয়ে আপনারা আপনাদের দল গঠন করবেন। সেটা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।’
দেশ একটি ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে গণতান্ত্রিক শাসনে যাওয়ার জন্য একেবারে তৈরি হয়ে আছে বলে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘গোটা দেশের মানুষ এখন সেটাই চায়, তারা যাতে অতি দ্রুত একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে যেতে পারে। এখন পর্যন্ত সাত মাসে সেই জায়গায় যেতে পারিনি। আমরা দেখছি, নতুন সরকার অন্তর্বর্তী সরকার আমরা তাদের সমর্থন দিয়েছি, তারা চেষ্টা করছেন অতি দ্রুত কিছু কাজ শেষ করে এই নির্বাচনের দিকে যাওয়ার। কিন্তু এরই মধ্যে কতগুলো সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে মানুষের মধ্যে।’
আরও পড়ুন: সরকারে থাকার খায়েশ থাকলে নির্বাচনে আসুন: উপদেষ্টাদের উদ্দেশে ফখরুল
সেই সন্দেহটা হচ্ছে যে আদৌ নির্বাচন নিয়ে এরা আন্তরিক কি না বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘কারণ আছে এই সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ার। তার মধ্যে গতকাল স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের লোকেরা যদি কেউ মাফ চেয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চায়, তারা অংশ নিতে পারবে।’
আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ছাত্রদলের ইমেজ (ভাবমূর্তি) নষ্ট করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কুয়েটে কে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাকে চিহ্নিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রদল ‘গুপ্ত’ রাজনীতির অবসান চায়। এই রাজনীতি আর চলবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বৈষম্যবিরোধী নামধারী ‘গুপ্ত’ সংগঠনের এক নেতার নির্দেশে কুয়েটে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
৬১৬ দিন আগে
সরকারে থাকার খায়েশ থাকলে নির্বাচনে আসুন: উপদেষ্টাদের উদ্দেশে ফখরুল
সরকারে থাকার খায়েশ থাকলে পদত্যাগ করে নির্বাচনে আসতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে যশোর শহরের টাউনহল ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যদি সরকারে থাকার খায়েশ জাগে, তাহলে পদত্যাগ করুন। এরপর নির্বাচনে আসুন। সরকারের বাইরে গিয়ে নতুন দল করুন, আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু সরকারে থেকে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।’
‘আগে জাতীয় নির্বাচন দিন, তারপর স্থানীয় সরকার নির্বাচন। কোনোভাবেই আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপি মেনে নেবে না,’ বলেন তিনি।
নিত্যপণ্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনা, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা ও ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত বন্ধের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন: ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের বুকে চেপে বসেছিল: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যশোরের নওয়াপাড়ায় বন্ধ হওয়া কলকারখানা চালু ও ভবদহের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
বিএনপি জনগণের দল আখ্যায়িত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিএনপিকে ভাঙার বহু চেষ্টা করে সফল হতে পারেনি। এ কারণে গত ১৭ বছর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে বিএনপি। তার চূড়ান্ত বিজয় ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান। বর্তমান সরকার সংস্কারের যে কথা বলছে, বিগত ২০১৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া সেই একই কথা বলেছিলেন।’
‘এটি নতুন কোনো বিষয় না। তারপরও ভোটের জন্য যতটুকু সংস্কার দরকার, ততটুকু করে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। আমরা আশাবাদী, ইউনূস সরকার দ্রুত জাতীয় নির্বাচন দেবে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে ফ্যাসিবাদের দোসররা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। এটি দেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’
নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সবাই ভালো আছি—বলতে পারলে খুব ভালো লাগত, কিন্তু আমরা সবাই ভালো নেই। চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও আমরা এখনও নিরাপদ নই। হাসিনার আমলে বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। কয়েক হাজার নেতা-কর্মী খুন ও ৭ শতাধিক গুমের শিকার হয়েছেন। যশোর জেলার অন্তত ৮৪ নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।’
৬১৬ দিন আগে
রাজধানীতে যুবদলের পদবঞ্ছিতের বিক্ষোভ
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নবগঠিত কমিটির পদবঞ্ছিত নেতাকর্মীরা রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী বিক্ষোভ মিছিল করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশ করেন তারা। এসময়ে তারা অবিলম্বে যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানান। এ দাবিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরাবর স্মারকলিপি দেন পদবঞ্ছিতরা।
তাদের অভিযোগ, অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাদের কমিটিতে রাখা হয়নি। অযোগ্য ও ব্যক্তিগত পছন্দের নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মিছিলে অংশ নিয়েছেন, দক্ষিণ যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আরটি মামুন, আসিফুর রহমান বিপ্লব, মো. জিন্নাহ, জাকির হোসেন বাবু, আতাউর রহমান, সাবেক সদস্য ইমরান খান ইমন, আলমগীর হোসেন প্রমুখ।
আরও পড়ুন: জাবিতে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল
সম্প্রতি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল কমিটি গঠন করা হয়। এতে অনেক ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পদবঞ্চিতরা বলেন, দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন তার অনুগতদের দিয়ে কমিটি করেছে। নয়নের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের পর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক দখলের অভিযোগ আছে। তার উপস্থিতিতে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে ভাংচুরও করা হয়।
৬১৬ দিন আগে
আমাদের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি: জামায়াত আমির
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের অবিলম্বে মুক্তি ও দলটির নিবন্ধন ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি।’
সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় রাজধানীর পল্টন মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন। পল্টন থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে দিয়ে গিয়ে শাহবাগ প্রদক্ষিণ করে যমুনার সামনে দিয়ে আবার পল্টনে এসে শেষ হয়।
‘বিনাদোষে ১২-১৩ বছর তিনি কারাগারের নির্যাতন ভোগ করছেন। আর ১৩টি মিনিট তিনি জেলের ভেতরে থাকুক; সেটা আমরা চাই না। আমরা ভদ্র কিন্তু বোকা নই। আমাদের ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভাববেন না, বলেন ডা. শফিক।
জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অনতিবিলম্বে ফিরিয়ে দেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, জালেম সরকার যা করেছে; আপনারাও কি তাই করবেন? এজন্য কি ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে?
‘আমাদের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। যুদ্ধ চলমান। রাজপথে জীবন দেওয়ার জন্য আমাদের হাজার হাজার ছাত্র-জনতা প্রস্তুত। সব ষড়যন্ত্র তারা ব্যর্থ করে দিয়েছেন।’
সমাবেশ ঘিরে পল্টন মোড়, বায়তুল মোকাররম, নাইটিঙ্গেল মোড়, কাকরাইল, জিরো পয়েন্ট ও প্রেসক্লাব এলাকায় লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: বর্তমান পরিস্থিতি মোটেই সমর্থন করি না: জামায়াত আমির
সমাবেশে ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আমরা আশা করেছিলাম বৈষম্য বিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলন, স্বৈরাচারী সরকারে পতন পরবর্তীতে সব ধরনের বৈষম্য ও অবিচার জুলুমের অবসান ঘটবে। কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছি সেটা ঘটেনি। সব রাজনৈতিক কারাবন্দির মুক্তি পেলেও মজলুম জননেতা আজহারুল ইসলাম মুক্তি পাননি। এট কেন হচ্ছে আমরা জানি না, ঠিক কী অজানা কারণে আজহারকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে শিবিরের সেক্রেটারি বলেন, আমাদের চোখের ভাষা, হৃদয়ের ভাষা বুঝুন। মজলুম নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মুক্তি দিন। নইলে রাজপথেই সমাধান।
৬১৭ দিন আগে
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত আসবে: আসিফ মাহমুদ
জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে কিনা; খুব দ্রুতই সে বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। নিরাপরাধ আওয়ামী লীগ নেতারা ক্ষমা চেয়ে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় ও শেষ দিনের ষষ্ঠ অধিবেশনে শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন উপদেষ্টা। স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ অধিবেশন হয়।
জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়া প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এটা (স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে জনপ্রতিনিধি না থাকা) আমাদের প্রত্যেকদিনের সমস্যা, আমাদের অফিসাররা অধিকাংশই অতিরিক্ত দায়িত্বে বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের সংস্থায় কাজ করছেন। তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শুনতে হচ্ছে স্যার প্রশাসক দেন, নির্বাচন দেন।'
আরও পড়ুন: দ্রুত সময়ে নির্বাচন দিয়ে জনগণের হাতে ক্ষমতা তুলে দিন: মির্জা ফখরুল
তিনি বলেন, ‘সম্মেলনে যে বিভাগীয় কমিশনাররা এসেছেন, তারা কোনো না কোনো সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বে রয়েছেন। জেলা প্রশাসকদের জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একজন অফিসারের পক্ষে একসঙ্গে কয়েকটি দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কঠিন। এ কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার মাধ্যমে প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নিয়ে আসা উচিত বলে মত তিনি।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে হয়নি। তবে খুব দ্রুতই একটি সিদ্ধান্ত আসবে। জনপ্রতিনিধি নির্বাচন কিংবা প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের সংস্থাগুলো পরিচালনা করা হবে।
জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে ভালো হয় কিনা—সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি অবশ্যই ভালো হয়। উই হ্যাভ টু রান কান্ট্রি। দেখা যায় একটি ভালো জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে স্থানীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে পালন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারে।’
আরও পড়ুন: সংস্কারের কথা বলে নির্বাচন পেছানো যাবে না: ডা. ফরহাদ
স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষ নাগরিক সেবা বঞ্চিত হচ্ছে উল্লেখ করে স্থানীয় নির্বাচন আগে হওয়া প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি। তবে তার ব্যক্তিগত চিন্তা নয় বরং সরকারের পক্ষ থেকেই সিদ্ধান্ত আসবে বলেও নিশ্চিত করেন আসিফ মাহমুদ।
নিরাপরাধ আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার রিপোর্টে আওয়ামী লীগ যে গণহত্যা ঘটিয়েছে তা উঠে এসেছে। তাদের অপরাধ এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, তথ্য প্রমাণও রয়েছে। তাই আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে অভিহিত করে হিটলার ও মুসোলিনির পরিণতির দিকে ইঙ্গিত করেন।
এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিক্ষিপ্তভাবে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান সুস্পষ্ট করেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, যারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সময়ে বিগত ফ্যাসিবাদের সময় জনগণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমে জড়িত ছিল, তাদের অধিকাংশই বর্তমানে পলাতক অবস্থায় রয়েছে। গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা আছে বিধায় তারা পলাতক অথবা জেলখানায় রয়েছে।উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামে এর বক্তব্যের পুর্নব্যক্ত করে বলেন, আওয়ামী লীগ যেসব নেতারা কোনো প্রকার অন্যায় অপরাধ কিংবা গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত নয়; তারা ক্ষমা চেয়ে নির্বাচনে আসতে পারবেন।
৬১৭ দিন আগে
তথ্য ফাঁস ঠেকাতে এনআইডি ভেরিফিকেশনে নতুন সিদ্ধান্ত ইসির
তৃতীয় পক্ষের কাছে তথ্য ফাঁস বন্ধ করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই সেবা দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ডাটা সার্ভার থেকে আর কোনো নাগরিকের তথ্য সরাসরি সরবরাহ করবে না কর্তৃপক্ষ।
তিনি বলেন, “যখন তারা (সংস্থাগুলো) তথ্য দেবে, তখন আমরা তাদের বলব যে, এটি 'মিল আছে' বা 'মেলেনি' এক কথায়, 'হ্যাঁ' বা 'না'। এনআইডি ভেরিফিকেশন সেবা পেতে তাদের কোনো সমস্যা হবে না।”
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এনআইডি মহাপরিচালক তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, বর্তমানে মোট ১৮২টি প্রতিষ্ঠান ইসির ডাটা সার্ভার থেকে এনআইডি ভেরিফিকেশন সেবা গ্রহণ করছে। ২০১৪ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো যাচাইয়ের জন্য তাদের কাছে থেকে কিছু তথ্য পেতে পারে।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘যেহেতু আমরা এনআইডির তথ্য ফাঁসের কিছু প্রমাণ পেয়েছি, তাই আমরা সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছি।’
আরও পড়ুন: এনআইডির তথ্য বেহাত, কম্পিউটার কাউন্সিলের সঙ্গে ইসির চুক্তি বাতিল
তথ্য ফাঁস রোধে করণীয় নির্ধারণে গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন ও এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিনিময় সভার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অধিদপ্তর বলেছে, 'তথ্য ফাঁসের প্রেক্ষাপটে মূল্যবান (এনআইডি) তথ্য আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখতে আমরা ৬৪টি ব্যাংক, সরকারি সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাদাভাবে মতবিনিময় সভায় বসেছিলাম।’
তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে এনআইডির তথ্য সুরক্ষার জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর সিস্টেম পরীক্ষা করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি টিমও গঠন করা হবে।
তবে তিনি বলেন, এখন প্রতিষ্ঠানগুলো যাচাই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ছবি দেখতে পারবে।
আজ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে হুমায়ুন কবির বলেন, বৈঠকে এনআইডি সেবাপ্রার্থীদের ঝুলে থাকা আবেদন নিষ্পত্তির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, এর আগে তারা বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে তিন মাসের মধ্যে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ঝুলে থাকা আবেদন নিষ্পত্তির ঘোষণা দিয়েছিল। তাই এই কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতেই বৈঠকটি হয়।
তিনি বলেন, আমি মনে করি প্রায় ৫০ শতাংশ ঝুলন্ত আবেদনের নিষ্পত্তি ইতোমধ্যে করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের কাজে নিজের সন্তুষ্টির কথাও জানান এনআইডি মহাপরিচালক।
আরও পড়ুন: এনআইডির তথ্য ফাঁস: ৫ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তথ্যের প্রমাণ পেয়েছে ইসি
৬১৭ দিন আগে
সংস্কারের কথা বলে নির্বাচন পেছানো যাবে না: ডা. ফরহাদ
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেছেন, সংস্কারের কথা বলে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর নিকৃষ্ট শাসক শেখ হাসিনা। তাই তাদের রাজনীতি করার সুযোগ নেই। অন্তর্বর্তী সরকারকে বলব দ্রুত নির্বাচন দিন।’
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে শরীয়তপুর পৌরসভা মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অতীতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া সংস্কার করেছেন। আর ভবিষ্যতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংস্কার হবে।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী মামলা-হামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।’
আরও পড়ুন: জনগণের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধিত্ব ছাড়া রাষ্ট্রের সংস্কার সফল হবে না: তারেক
তিনি বলেন, ‘আগামী দিনেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমাদের বিজয় হবে। আর জনগণের ভোটের মাধ্যমেই বিএনপি ক্ষমতায় আসবে।’
জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান কিরন এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি একেএম নাসির উদ্দীন কালুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, সদস্য মহিউদ্দিন আহমেদ জিন্টু, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. পারভেজ রেজা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।
৬১৭ দিন আগে
জনগণের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধিত্ব ছাড়া রাষ্ট্রের সংস্কার সফল হবে না: তারেক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধিদের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব না দেওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ সফল হবে না।
তিনি বলেন, ‘যারা মনে করেন নির্বাচনের আগে সংস্কার হওয়া উচিত, তাদের বুঝতে হবে যে, এই সংস্কারগুলো সফল হতে জনগণের সঙ্গে সত্যিকার অর্থে সংযুক্ত লোকদের প্রয়োজন। তাদের ছাড়া কোনো সংস্কার সম্ভব হবে না।’
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে বলেন তিনি।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নির্বাচন পেছানো হলে তা দেশ ও সরকার উভয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রগুলো আরও গভীর হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত ফটো সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা দিতে 'আমরা বিএনপি পরিবার' এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের নামে প্রতারণা করেছে বিগত সরকার: তারেক রহমান
তারেক বলেন, রাজনীতিবিদরাই দুই বছর আগে সংস্কার প্রস্তাবগুলো জাতির সামনে উপস্থাপন করেছিলেন, অন্য কেউ নয়।
বিএনপি নেতা বলেন, 'দেশে যদি সত্যিকারের সংস্কার করতে হয়, তাহলে প্রকৃত রাজনীতিবিদদের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’
তিনি বলেন, কার্যকরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য রাজনীতিবিদদের অবশ্যই পেশাদার, বুদ্ধিজীবী এবং নাগরিক সমাজের সদস্যদের কাছ থেকে পরামর্শ ও মতামত চাইতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘সেই পরামর্শগুলোর ওপর ভিত্তি করেই আমরা ধীরে ধীরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধিদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব না দেওয়া হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো সংস্কারই কোনোভাবেই পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে না।’
তারেক আরও বলেন, জনগণের সঙ্গে যাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা আছে, তারাই তাদের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে পারে ও জনগণের ইচ্ছার আলোকে দেশকে এগিয়ে নিতে পারে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ চায় তাদের মৌলিক অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করেই বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।
তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক মুক্তি ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য রাজনৈতিক স্বাধীনতা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে ভোটাধিকার ও ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।‘
বিএনপির এই নেতা বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া রাতারাতি দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তাদের দলসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক ও সমমনোভাবাপন্ন দলগুলো আড়াই বছর আগে দেশকে ঢেলে সাজানোর জন্য ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছিল।
বিএনপি নেতা ব্যাখ্যা করে বলেন, তারা দেশ পুনর্গঠন এবং এর ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুদ্ধারের জন্য একটি সঠিক দিকনির্দেশনা ও কৌশলের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন। ‘এজন্য আমরা ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ৩১ দফা প্রস্তাবে তারা রাষ্ট্রকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি দেশের মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনার রূপরেখাও দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: সংস্কারের নামে বেশি সময়ক্ষেপণ না করার আহ্বান তারেক রহমানের
তারেক রহমান বলেন, জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে প্রায় ৮০ জন ফটোসাংবাদিক আহত ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
আহত সাংবাদিকদের সাধ্যমতো পাশে থাকার আশ্বাস দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
৬১৭ দিন আগে
দ্রুত সময়ে নির্বাচন দিয়ে জনগণের হাতে ক্ষমতা তুলে দিন: মির্জা ফখরুল
গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে জনগণের হাতে ক্ষমতা তুলে দিন।
তিনি বলেন, দেশে যে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে নির্বাচন দিলে তা আর হবে না। আমরা লড়াই করতে চাই লড়াই করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার তিস্তা বাঁচাও অবস্থান কর্মসূচির জনতার সমাবেশে এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের আগামী দিনের কান্ডারি দেশনায়ক তারেক রহমান গণতান্তিক সরকারের জন্য মানুষকে সংগঠিত করে যাচ্ছেন। আমরা নির্বাচন দিয়ে আমাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে চাই—যারা আমাদের কথা সংসদে বলবে।’
তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আপনি নিরপেক্ষ। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিরপেক্ষ থাকলে হবে না, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আপনার পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা আমাদের পায়ের উপর দাঁড়াতে চাই। আমাদের ন্যায্য হিসাব আমরা বুঝে নিতে চাই। বন্ধুত্ব থাকবে তিস্তার ন্যায্য হিস্যার ক্ষেত্রে কোনো বন্ধুত্ব নেই। এ আন্দোলন মানুষের বেঁচে থাকার আন্দোলন। লড়াই ছাড়া কিছু পাওয়া যায় না আমরা লড়াই করে তিস্তা ন্যায্য হিস্যা বাস্তবায়ন করতে চাই।
বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, কেন্দ্রীয় ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সংগীত শিল্পী বেবী নাজনীন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
'জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ -স্লোগানে অবস্থান কর্মসূচি পালনে নদী পাড়ে দলে দলে দেশের ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তিস্তা নদীর ১১টি পয়েন্টে এক যোগে টানা ৪৮ ঘণ্টার ওই অবস্থান কর্মসূচিতে ৫ জেলার কয়েক লাখ মানুষ জমায়েত হয়েছেন।
সোমবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তা রেলসেতু ও তিস্তা সড়ক সেতুর মধ্যস্থানে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে নারী পুরুষ দলে দলে এসে অবস্থান নিচ্ছেন। ১১টি পয়েন্টের তাবু গেড়ে ভেতরে মানুষ বিছানা পেতে অবস্থান নিয়েছে। সেখানে লক্ষাধিক মানুষের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশাল বিশাল প্যান্ডেল ও শতাধিক তাবু টানানো হয়েছে। দুপুর গড়িয়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয় তিস্তা নদী পাড়।
অবস্থান কর্মসূচি সফল করতে নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নদী পাড়ের গুরুত্বপূর্ণ ১১টি স্থানে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। শেষদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি এসব মঞ্চে দিনভর থাকবে তিস্তা পাড়ের মানুষের সুখ দুঃখের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, ভাওয়াইয়া গানের আসর, ঘুড়ি উৎসবসহ নানান গ্রামীণ খেলাধুলা। এভাবে টানা ৪৮ ঘণ্টা তিস্তা নদীর তীরেই অবস্থান করবেন রংপুরের ৫টি জেলার কয়েক লাখ মানুষ।
সমাবেশের বিভিন্ন স্পটগুলোতে পৃথক পৃথকভাবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন— বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ, গণসংহতির সভাপতি জুনায়েদ সাকি।
৬১৮ দিন আগে
নির্বাচনের নামে প্রতারণা করেছে বিগত সরকার: তারেক রহমান
বিগত সরকার নির্বাচনের নামে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘তারা নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।’
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নড়াইলে জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত পালিয়ে যাওয়া সরকার বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধবংস করে দিয়েছে। অর্থনীতি, স্বাস্থ্য শিক্ষা, নির্বাচন ব্যবস্থা অর্থনীতি সবকিছু ধবংস করছে।
সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানুল্লাহ আমান। এ সময় তিনি বলেন ‘আগামীতে দেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে।’
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, সহসভাপতি ছিলেন জুলফিকার আলি মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন শাহরিয়ার রিজভী জর্জ।
আরও পড়ুন: সংস্কারের নামে বেশি সময়ক্ষেপণ না করার আহ্বান তারেক রহমানের
এছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতাসহ জেলার বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা সম্মেলনে অংশ নেন।
জেলা বিএনপির আয়োজনে নড়াইল সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে সম্মেলনের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে কাউন্সিলররা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচন করার কথা রয়েছে। নড়াইল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
৬১৮ দিন আগে