রাজনীতি
ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের বুকে চেপে বসেছিল: মির্জা ফখরুল
দেশে গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। এ নির্বাচনেই মুক্ত হবে গণতন্ত্র। বিগত অবৈধ ফ্যাসিস্ট সরকার একটা পাথরের মতো আমাদের বুকে চেপে বসেছিল।’
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ক্রীড়াঙ্গন বলেন, সংস্কৃতি বলেন, ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে গণতন্ত্র প্রয়োজন। আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচনই হচ্ছে একমাত্র পথ।’
‘গত ১৫ বছর আমরা ভয়ঙ্কর সময় পার করেছি। বিগত অবৈধ ফ্যাসিস্ট সরকার একটা পাথরের মতো আমাদের বুকে ছিল। তারা দানবের মতো দেশের সব প্রতিষ্ঠানসহ আমাদের খেলার মাঠগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমাদের ফুটবল-ক্রিকেটসহ ক্রীড়াঙ্গন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে ধ্বংস করে দিয়েছে।’
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত বছর ছাত্র-জনতার হাত ধরে ভূমিকম্প হয়ে গেল। তাদের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন একটি বাংলাদেশের সৃষ্টি। একটি রাজনৈতিক দল আজ সারা দেশে ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করছে।’
আরও পড়ুন: আগে জাতীয়, পরে স্থানীয় নির্বাচন: মির্জা ফখরুল
এসময় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ভাইস-চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কমিটির পল্লী ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিন, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বিরসহ জেলা-উপজেলার নেতৃবৃন্দ ও ক্রীড়া প্রেমিরা উপস্থিত ছিলেন।
দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার ক্রীড়াঙ্গনকে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করেছিল। ফলে ক্রীড়াঙ্গন ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা ক্রীড়াঙ্গনকে দলীয়মুক্ত করতে চাই। আর তাই আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিক নির্দেশনায় এ ব্যাপারে কাজ করছি।’
৬১৯ দিন আগে
ইউনূস সরকার নির্বাচন দিতে গড়িমসি করছে: রিজভী
জাতীয় নির্বাচন হওয়ার আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি দূরভিসন্ধিমূলক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ইউনূস সরকার নির্বাচন দিতে গড়িমসি করছে।’
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে বিভিন্ন জেলার বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা নিয়ে ওঁৎ পেতে আছে। দ্রুত জাতীয় নির্বাচন দিয়ে সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে হবে।
জাতি এখন অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। এ সময়ে ইউনূস সরকার নির্বাচন দিতে গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: হাসিনা পাসপোর্ট ছাড়া ভারতে বসে দেশের বিরুদ্ধে উসকানি দিচ্ছেন: রিজভী
রিজভী বলেন, যে গণতন্ত্রের জন্য এতো জীবন গেলো, সেই গণতন্ত্র ফেরাতে ভোটের জন্য চূড়ান্ত ডেডলাইন দিতে হবে এই সরকারকে।
তার আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত সেরে নেওয়ার কথা বলেন রিজভী আহমেদ।
৬১৯ দিন আগে
আগে জাতীয়, পরে স্থানীয় নির্বাচন: মির্জা ফখরুল
জাতীয় নির্বাচন সবার আগে, তারপরই স্থানীয় নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপি নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে বলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে প্রধান উপদেষ্টার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম সভায় বসেছিলেন কমিশনের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এতে তিনি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেছেন। সংস্কার প্রতিবেদনগুলো নিয়ে আলোচনার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। এতে দলগুলো কমিশনগুলোর সঙ্গে কথা বলবে, এরপর একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।’
আরও পড়ুন: কিছু মানুষ ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল
তিনি বলেন, ‘এটিই ছিল আজকের (বৈঠকের) মূল কথা ও প্রাথমিক আলোচনা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্নভাবে কথা বলেছেন। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারের জন্য ঐকমত্য তৈরি হবে; সেটার ওপর ভিত্তি করে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটিই আমাদের প্রত্যাশা।’
জাতীয় নাকি স্থানীয় নির্বাচন—কোনটি আপনারা আগে চাচ্ছেন, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি, জাতীয় নির্বাচন সবার আগে হতে হবে, তারপরে স্থানীয় (সরকার) নির্বাচন।’
৬১৯ দিন আগে
সংস্কারে ঐকমত্যে পৌঁছানোর পর নির্বাচন হোক: জামায়াত
প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছানোর পরই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে মত দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এ কথা বলেছেন।
বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে জামায়াত কোনো প্রস্তাব দিয়েছে কিনা—জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, যে সংস্কার প্রয়োজন, সে বিষয়ে সবাই ঐকমত্য হলে যথাশীঘ্র সম্ভব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে তারা জাতীয় নির্বাচন করবেন। আমরা দেখছি, কীভাবে সেটা এগিয়ে যায়।’
আরও পড়ুন: কেমন বাংলাদেশ চাই, ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে তা নির্ধারিত হবে: প্রেস সচিব
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে দেশের সব রাজনৈতিক দলের বৈঠক হয়েছে। সংস্কার বাস্তবায়নে বিভিন্ন দল ও অংশীজনের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করা হবে, সে বিষয়ে কথা হয়েছে।’
ডা. তাহের বলেন, ‘সব ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে জামায়াতে ইসলামী স্বাগত জানাবে। সংস্কার কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলো আসার পর যথাশীঘ্র যাতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সেই প্রস্তুতি গ্রহণ করার কথা বলেছি। আলোচনার মূল ছিল এটিই। আর তারা সংস্কার প্রস্তাবের বই দেওয়ার পর সেটা পর্যালোচনা করে জামায়াতে ইসলামী ও সরকারের সঙ্গে আলাদা মতবিনিময় হবে। সেখানে আমরা আমাদের মূল সিদ্ধান্ত জানাব।’
এ সময়ে দলটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ উপস্থিত ছিলেন।
৬১৯ দিন আগে
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন: রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক শনিবার
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শনিবার। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এতে কথা বক্তব্য রাখবেন।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর এমন তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।আরও পড়ুন:দুবাইয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস
কমিশনের সদস্য সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রিয়াজ, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন, নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান বিচারপতি এমদাদুল হক এবং দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান বৈঠকে অংশ নেবেন।
এই কমিশনের মেয়াদ ছয় মাস। কমিশন নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশের কার্যক্রমসহ, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন বিষয়ে সংস্কারের জন্য গঠিত কমিশনগুলোর সুপারিশ বিবেচনা ও গ্রহণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য গঠনের জন্য রাজনৈতিক দল ও শক্তিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপের সুপারিশ করবে।
এই কমিশনের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। কমিশনের কার্যালয় সরকার নির্ধারিত হবে বলেও জানানো হয়েছে।
৬২০ দিন আগে
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতান্ত্রিক নীতি অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ বা আসন্ন নির্বাচনে একেবারে নিষিদ্ধ করা হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত নেবে দেশের জনগণ।
তিনি বলেন, 'আমি আগেও বলেছি, জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা বারবার বলেছি, আমরা উদার গণতান্ত্রিক দল। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রের নীতি ও অনুশীলনে বিশ্বাস করি এবং সেগুলো মেনে চলি। অতীতেও আমরা তাই করেছি।’
বৃহস্পতিবার(১৩ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা থেকে বিরত থাকতে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের অনুরোধের বিষয়ে এক সাংবাদিকের দৃষ্টি আকর্ষণের পর বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।
এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যানের সঙ্গে বৈঠক বৈঠক করেন বিএনপি নেতারা।
তিনি বলেন, তাদের দল বিশ্বাস করে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করা হবে, কে কাজ করতে পারবে বা কে পারবে না, তা ঠিক করার দায়িত্ব তাদের নয়। ‘জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। জনগণই নির্ধারণ করবে কোন দল থাকবে, কোন দল থাকবে না, কোন দল নির্বাচনে অংশ নেবে আর কোনটি নির্বাচন করবে না।’
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করাকে বিএনপি সমর্থন করে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমরা আগেই বলেছি, জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা পক্ষে না বিপক্ষে, সেটা বড় কথা নয়... এটা জনগণের ব্যাপার, আমাদের নয়।’
এর আগে বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বিগত সরকার, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো সহিংস ও পরিকল্পিতভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিল।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আপত্তি নেই, সংস্কার আগে হতে হবে: জামায়াত
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিক্ষোভ দমনে সরাসরি জড়িত সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অভ্যন্তরীণ অন্যান্য সূত্রের বরাত দিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে, কীভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বড় আকারের ধারাবাহিক অভিযানের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধান করেছেন। সেসময় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যা করেছে বা নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করেছে।
তবে বহুদলীয় গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ না করার সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর।
আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নয়
ফখরুল বলেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব প্রবর্তনের তীব্র বিরোধী।
তিনি বলেন, ‘আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি। আমরা কোনো ধরণের আনুপাতিক নির্বাচনকে সমর্থন করব না। কারণ, দেশের জনগণ এতে অভ্যস্ত নয়। এ ধরনের প্রশ্ন ওঠাও উচিত নয়।’
ফখরুল বলেন, তারা জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেরও বিপক্ষে। ‘আমরা এর সঙ্গে পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করছি। এটা দেশকে আরও ভঙ্গুর রাজনৈতিক অবস্থানে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, তারা বিশ্বাস করেন, যত দ্রুত জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তত তাড়াতাড়ি রাজনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। এর ফলে বাংলাদেশের জনগণ আরও স্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাবে। স্থিতিশীলতা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে জাতীয় নির্বাচন জরুরি।
মির্জা ফখরুল বলেন, 'বর্তমানে প্রশাসন গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন। একবার সুশাসন পুনপ্রতিষ্ঠিত হলে— আপনি দেখতে পাবেন যে অর্থনীতির উন্নতি হবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিস্থিতিও উন্নত হবে। ... বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজগুলো এখনো ঠিকমতো চালু হয়নি। সেসব ব্যবস্থা ঠিক করা হবে। নির্বাচিত সরকার না থাকলে এসব বিষয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এই মুহূর্তে আমরা সম্পূর্ণ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে আছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কী করবে— তা নিয়ে তিনি অনিশ্চিত।
ফখরুল বলেন, সরকার চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করছেন বলে সরকারপ্রধান তাদের জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: গণহত্যার বিচারের জন্য হাসিনাকে ফেরত দিতে ভারতের প্রতি বিএনপির আহ্বান
৬২২ দিন আগে
গণহত্যার বিচারের জন্য হাসিনাকে ফেরত দিতে ভারতের প্রতি বিএনপির আহ্বান
জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় গণহত্যায় শেখ হাসিনার জড়িত থাকার বিষয়টি যথার্থই উঠে এসেছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিতে ভারতের কাছে দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যানের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবি জানান।
তিনি বলেন, 'আমি জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিকে তাদের প্রতিবেদনের জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। প্রতিবেদনে সঠিকভাবে বলা হয়েছে যে, ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
তিনি বলেন, তার নির্দেশেই গণহত্যা, সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণতন্ত্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘের সুপারিশ বাস্তবায়নে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেব: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ফখরুল বলেন, 'এটা প্রমাণ হয়েছে যে, হাসিনা একজন ফ্যাসিস্ট। তিনি এদেশের মানুষকে নির্যাতন, নীপিড়ন ও হত্যা করেছেন। আমরা আজ ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তাকে (শেখ হাসিনা) ও তার সহযোগীদের অবিলম্বে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে এবং তাকে বিচারের জন্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
জাতিসংঘের প্রতিবেদনের মাধ্যমে ঘটে যাওয়া ঘটনার সত্য উদঘাটিত হওয়ায় তিনি দলের পক্ষ থেকে স্বস্তি প্রকাশ করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সমস্যা হচ্ছে জাতিসংঘ যখন কথা বলে, আমরা সবাই তা বিশ্বাস করি। কিন্তু আমরা রাজনৈতিক দলগুলো যখন এটা বলি, তখন অনেকেই বিশ্বাস করতে নারাজ। যাই হোক, আমি জাতিসংঘের দলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা এখানে এসেছিল এবং প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।’
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) বুধবার(১২ ফেব্রুয়ারি) 'বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের বিক্ষোভ সম্পর্কিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতন' শীর্ষক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আপত্তি নেই, সংস্কার আগে হতে হবে: জামায়াত
৬২২ দিন আগে
নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আপত্তি নেই, সংস্কার আগে হতে হবে: জামায়াত
আগামী জাতীয় নির্বাচন কবে হবে; তা নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘তবে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার আগে হতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তারিখ নিয়ে তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। তবে নির্বাচন সংক্রান্ত সংস্কার আগে হতে হবে।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জনগণের আকাঙ্ক্ষা স্থানীয় নির্বাচন আগে হোক; আমরা সেটাকে সমর্থন করি।’ নির্বাচন সংস্কার বিষয়ে জামায়াত একটি লিখিত প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন জামায়াত সেক্রেটারি।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, আনুপাতিক হারে (পিআর) নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৯১ অনুচ্ছেদের (এ) ধারা পুনর্বহাল, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইনে নিবন্ধনের শর্তগুলো শিথিল করা।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা প্রস্তাব করেছি যে আরপিওর ৯১ অনুচ্ছেদের (এ) ধারা পুনর্বহাল করতে, যাতে নির্বাচন কমিশন কোনো নির্বাচন আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ বাতিল করার ক্ষমতা পায়।
এক প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর ৩০০ আসনে প্রার্থিতা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।’
আরও পড়ুন: নো ইলেকশন উইদাউট রিফর্ম: জামায়াত
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন, চার নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবদুর রহমানেল মাসুদ, তাহমিদা আহমদ ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং ইসি সচিব আখতার আহমেদও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
২০১৩ সালে নিবন্ধন বাতিলের পর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এটি জামায়াতের প্রথম কোনো বৈঠক হয়েছে। এর আগে দলটির নিবন্ধন থাকা অবস্থায় বার্ষিক অডিট রিপোর্ট দিতে ইসি সচিবালয়ে গিয়েছিলেন জামায়াত প্রতিনিধিরা।
বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনে এসেছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনারদের সাথে কথা বলব। আমাদের বক্তব্য তাদেরকে জানাব। পরে গণমাধ্যমের সাথেও আমরা কথা বলব।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদসহ ছয়জনের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, নো ইলেকশন, উইদাউট রিফর্ম।’ অর্থাৎ সংস্কার ছাড়া নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে না ইসলামপন্থি এই রাজনৈতিক দলটি।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু করতে যতটুকু সংস্কার দরকার, তা করতে হবে।’
৬২২ দিন আগে
নো ইলেকশন উইদাউট রিফর্ম: জামায়াত
সংস্কার ছাড়া নির্বাচন আয়োজনে সমর্থন করবে না বলে জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর এমন মন্তব্য করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদসহ ছয়জনের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, নো ইলেকশন, উইদাউট রিফর্ম।’ অর্থাৎ সংস্কার ছাড়া নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে না ইসলামপন্থি এই রাজনৈতিক দলটি।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু করতে যতটুকু সংস্কার দরকার, তা করতে হবে।’
আরও পড়ুন: দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন, চার নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবদুর রহমানেল মাসুদ, তাহমিদা আহমদ ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং ইসি সচিব আখতার আহমেদও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
২০১৩ সালে নিবন্ধন বাতিলের পর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এটি জামায়াতের প্রথম কোনো বৈঠক হয়েছে। এর আগে দলটির নিবন্ধন থাকা অবস্থায় বার্ষিক অডিট রিপোর্ট দিতে ইসি সচিবালয়ে গিয়েছিলেন জামায়াত প্রতিনিধিরা।
বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনে এসেছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনারদের সাথে কথা বলব। আমাদের বক্তব্য তাদেরকে জানাব। পরে গণমাধ্যমের সাথেও আমরা কথা বলব।’
৬২২ দিন আগে
জনজীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিতে নির্বাচন অপরিহার্য: মেজর হাফিজ
বিএনপির সিনিয়র নেতা হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনা করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে খুলনা জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন
হাফিজ বলেন, 'কার্যকরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং জনজীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য।’
আরও পড়ুন: জনগণের ভাষা আপনারা নন, বুঝি আমরা: অন্তর্বর্তী সরকারকে গয়েশ্বর
বিএনপি নেতা আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনের এখতিয়ার কেবল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরই রয়েছে। ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই কেবল দেশে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে পারে।’
তাই এ বছরের মধ্যেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানান তিনি।
যে গণতন্ত্রের জন্য ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই গণতন্ত্রের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সেই গণতন্ত্রের জায়গায় একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজের জীবনের ঝুঁকি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন হয়ে যে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন— তা বাস্তবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি সাম্য, সামাজিক মর্যাদা এবং মানবি মর্যাদার জন্য লড়াইয়ে তার দলের প্রতিশ্রুতির উপরও জোর দেন।
আগামী অক্টোবরের মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলার বিচার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সাবেক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আশাবাদী; জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে হাজার হাজার মায়ের দুর্ভোগের জন্য দায়ীদের কোনো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র যেন রক্ষা করতে না পারে।’
আরও পড়ুন: হাসিনা পাসপোর্ট ছাড়া ভারতে বসে দেশের বিরুদ্ধে উসকানি দিচ্ছেন: রিজভী
৬২২ দিন আগে