রাজনীতি
ধর্ম নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে নয়, দেশ পরিচালিত হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে। যৌক্তিক সংস্কার শেষে এ দেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনা করবে।’
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকালে জয়পুরহাট সার্কিট হাউস মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন প্রসঙ্গে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশকে তারা নরকে পরিণত করেছিল। ক্ষমতার শেষ দিন পর্যন্ত তারা মানুষ খুন করেছে। এসব গণহত্যার বিচার আমরা চাই। এদেশে প্রত্যেকটি গণহত্যার বিচার হতে হবে। আমরা সরকারকে বলি—অগ্রাধিকার-ভিত্তিতে গণহত্যার বিচার করুন, শহিদদের আত্মা শান্তি পাবে, আহতরা একটু শান্তি খুঁজে পাবে, ১৮ কোটি মজলুম মানুষ খুশি হবে।
আরও পড়ুন: ৭ খাতে সংস্কার ছাড়া নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না: জামায়াত সেক্রেটারি
তিনি বলেন, ‘তারা এক মাসের ভেতরে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ খুন করল। যেনতেনভাবে আমাদের ক্ষমতায় বসানোর জন্য তারা জীবন দেয় নাই। তারা জীবন দিয়েছে একটা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে। তারা একটা মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চায়, একটা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চায়। বাংলাদেশে আবার দুঃশাসন না যেন আসে—তা তারা দেখতে চায়। এ জন্য অবশ্যই একটা অর্থবহ নির্বাচনের দিকে যেতে হবে জাতিকে।’
সেই নির্বাচন করতে হলে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করতে হবে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘সেজন্য জামায়াতে ইসলামী এই (অন্তর্বর্তী) সরকারকে ৫ তারিখেই বলে দিয়েছে—প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনের জন্য আমরা যৌক্তিক সময় দিতে চাই, তাড়াহুড়ো করে আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না, আবার কেউ তাড়াহুড়ো করে ক্ষমতায় যাক তা-ও আমরা চাই না। আমরা চাই একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আল্লাহ তা’আলা যাদের সুযোগ দেবেন, জনগণ যাদের ভালবাসবে ও সমর্থন দেবে, তারা যেন বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়।’
জয়পুরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. ফজলুর রহমান সাঈদের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সরকারি সেক্রেটারি জেনারেল ও বগুড়া অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরার সদস্য অধ্যাপক মাওলানা আব্দুর রহিম ও অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: ‘বৈষম্যহীন, দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত জামায়াত থামবে না’
অন্যান্যের মধ্যে বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক, সিরাজগঞ্জ জেলা আমির শাহিনুর আলম, দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক,জয়পুরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া মন্ডল, সহকারী সেক্রেটারি হাসিবুল আলম লিটন, অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ, প্রকৌশলী আব্দুল বাতেনসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
৬৩৫ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের সঙ্গে ফখরুলের বৈঠক
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় তারা দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) জ্যাকবসনের বাসভবনে বৈঠকটি সকাল ১০টায় শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে।
এ সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।
পরে শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের বলেন, তারা তার আমন্ত্রণে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে নাস্তা করতে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, 'নতুন মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন এবং এই বৈঠকটি সেই আলোচনার অংশ ছিল।
বৈঠকে শামা বলেন, ‘দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূত এসব বিষয়ে বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করেছেন।’
আরও পড়ুন: ৩১ দফা বাস্তবায়নেই হবে জুলুম-নির্যাতনের প্রতিশোধ: তারেক রহমান
৬৩৬ দিন আগে
৩১ দফা বাস্তবায়নেই হবে জুলুম-নির্যাতনের প্রতিশোধ: তারেক রহমান
৩১ দফা পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সব জুলুম-নির্যাতনের প্রতিশোধ হবে বলে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ গ্রহণ করা যাবে না। আমরা বাংলাদেশের মানুষের জন্য ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সব প্রতিশোধ নেব। আমি মনে করি, ৩১ দফার বাস্তবায়নই বড় প্রতিশোধ। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় দল বিএনপি। এজন্য আমাদের দায়িত্ব অন্য দলগুলোর চেয়েও বেশি।’
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ, যশোর ও নড়াইল জেলা বিএনপি আয়োজিত ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীর্ষক কর্মশালায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেওয়া বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা স্থানীয় জোহান ড্রিম ভ্যালি মিলনায়তনে কর্মশালায় অংশ নেন।
আরও পড়ুন: তারেক রহমানের চার মামলা বাতিলের রায় বহাল
তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপির ৩১ দফা কেবল দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। ৩১ দফার মাধ্যমে দেশের মানুষের শুভ পরিবর্তন ঘটাতে চাই, যেটি মানুষ প্রত্যাশা করে। এজন্য জনগণের আস্থা ধরে রাখার জন্য নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তাই আমাদের ভাবনায় শুধুই জনগণ, জনগণ ও জনগণ। শুধু তাই নয়, এই ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা সব জুলুম-নির্যাতনের প্রতিশোধ নেব।’
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের আমলে ১৬ বছরে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা খুন-গুম, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। দেশ ও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জনগণের একটি বিশাল অংশ বিশ্বাস করে—আগামীতে দেশের যদি ভালো কিছু হয়, সেটা বিএনপিকে দিয়েই হবে।’
‘শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ গঠনে নিজেই মাঠঘাটে হেঁটে হেঁটে কাজ করেছেন। আমরা শহিদ জিয়ার সেই নীতি নিয়ে কাজ করতে চাই।’
আগামী নির্বাচনে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে হলে বিএনপির সব নেতা-কর্মীকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে জানিয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘সামনের পথ মোটেও মসৃণ নয়। পলাতক স্বৈরাচার চুরি, দুর্নীতি, লুটপাট করে সব সাফ করে দিয়ে গেছে। বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন, পুলিশসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ভেঙেচুরে ধ্বংস করে দিয়েছে। আগামীতে যে দল দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাবে তাদের অনেক কষ্ট করতে হবে।’
‘দেশের মানুষ যদি আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, এই কষ্টকে আমরা হাসিমুখে সহজ করে নিতে পারব, যদি আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি। বড় দল হিসেবে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে যেমন ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, তেমনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একসঙ্গে সংগ্রাম করা, নির্যাতন, জেল, জুলুম সহ্য করা রাজনৈতিক দলগুলোকেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
৩১ দফার মাধ্যমে দেশের শুভ পরিবর্তন ঘটাতে হবে। কোনো জাদু বা ম্যাজিকের মাধ্যমে এই পরিবর্তন হবে না মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই পরিবর্তনের জন্য বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে প্রস্তুত হতে হবে, মন-মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।’
দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। দেশের ভিতরে ও বাইরে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না। কারণ, বিএনপি জনগণের দল। নিজেদের জনগণের আস্থায় নিয়ে যেতে হবে। নিজেদের শুধরাতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘হাসিনা সরকারের প্রশ্রয়ে কিছু মানুষ ঋণের নামে ব্যাংকগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। বর্তমান সরকার কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। বড় চ্যালেঞ্জ জনগণ ও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করা। আমরা বিশ্বাস করি, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরাতে সরকার কাজ করবে। আমরাও এটা নিয়ে কাজ করব।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে প্রতিটি পরিবারে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড দেব। যে কার্ডের মাধ্যমে দেশে উৎপাদিত পণ্য প্রতিটি পরিবারের মাঝে যেন পৌঁছে দিতে পারি।’
আরও পড়ুন: ৩১ দফা শুধু বিএনপির নয়, এটা সব দলের: তারেক রহমান
‘আমাদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ নারী। নারীদের সুরক্ষার জন্য দলীয়ভাবে আমরা সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘পলাতক স্বৈরাচার ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। এর পেছনে পার্শ্ববর্তী একটি দেশের স্বার্থ জড়িত ছিল। আমরা স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক কমিটির আয়োজনে কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু।
এছাড়া ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নুর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মোরশেদ হাসান খান, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ব্যারিস্টার মীর মো. হেলাল উদ্দিন, মো. আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ফারজানা শারমিন পুতুল, বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, ঝিনাইদহ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৬৩৬ দিন আগে
৩১ দফা শুধু বিএনপির নয়, এটা সব দলের: তারেক রহমান
৩১ দফা শুধু বিএনপির নয়, এটা সব দলের জন্য বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ জাতীয়তাবাদী দলের ওপর আস্থা রাখতে চাচ্ছে। মানুষের এই আস্থা কেউ নষ্ট করলে, তাকে দলে রাখা সম্ভব হবে না।’
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বাগেরহাট শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বিএনপির রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি বিষয়ক বিভাগীয় কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘সমাজে ভালো-খারাপ দুই ধরনের মানুষই আছে। যে খারাপ, তার সঙ্গে আমরা সম্পর্ক রাখতে চাই না।’
৩১ দফা জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে হলে, দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে—রাজনৈতিক অধিকার ও সব শ্রেণির মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার। আর এসব অধিকার বাস্তবায়নে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করছে বিএনপি। ফলে জনগণের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।’
৬৩৭ দিন আগে
১০ দফায় ঐকমত্যে বিএনপি-ইসলামী আন্দোলন
প্রয়োজনীয় 'ন্যূনতম' সংস্কার সম্পন্ন করে স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ ১০ দফা সিদ্ধান্তে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মো. রেজাউল করিম ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আজ রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
আরও পড়ুন: ফখরুলের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আরেকটা ১/১১ সরকার গঠনের ইঙ্গিত: নাহিদ
দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর সঙ্গে নিয়ে বৈঠকটি করেন মির্জা ফখরুল।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ইমতিয়াজ আলম প্রমুখ।
এর আগে গত ২১ জানুয়ারি বরিশালের চরমোনাই দরবার শরীফে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ও আমির সৈয়দ মো.রেজাউল করিম বৈঠক করেন।
আরও পড়ুন: ১/১১ পুনরাবৃত্তির অভিযোগের ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি মির্জা আব্বাসের
৬৩৯ দিন আগে
৬ দিনের রিমান্ডে সাবেক এমপি নদভী
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হওয়ার পৃথক তিনটি মামলায় চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
একইসঙ্গে নদভীকে ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনের আরেক মামলায় পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার দেখান আদালত।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নদভীকে আদালতে হাজির করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রসিকিউশন শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) এ. এ. এম হুমায়ুন কবীর বলেন, চান্দগাঁও থানার দুটি হত্যা মামলায় নদভীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একটিতে ৭ দিন এবং আরেকটিতে ৫ দিন রিমান্ড আবেদন করা হয়। এ ছাড়া ডবলমুরিং থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক মামলায় দুদিন করে মোট ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে আবু রেজা নদভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রিমান্ড মঞ্জুরের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রাম জেলা ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে সাবেক এমপি আবু রেজা নদভীকে।
৬৪০ দিন আগে
৭ খাতে সংস্কার ছাড়া নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না: জামায়াত সেক্রেটারি
সংস্কার ছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য পুলিশ, প্রশাসন, জুডিশিয়ালসহ ৬/৭টা ডিপার্টমেন্টের (খাত) সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। নাহলে আবার ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর (নির্বাচনের) মতো হবে।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দীর্ঘ ১৮ বছর পর অনুষ্ঠিত জামায়াতের এ কর্মী সম্মেলনে জেলার ৭ উপজেলা থেকে সকাল থেকেই দলে দলে নেতাকর্মীরা হাজির হয়।
সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমাদেরই লাভ। তাই আমরা বলি, বাংলাদেশের মানুষও চায়—একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন। আগে নির্বাচনের জন্য ন্যূনতম সংস্কার প্রয়োজন, তা শেষ করুন। সংস্কার শেষ করে ছয় মাস পরে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করুন, তাতে যতটুকু সময় লাগে।’
‘একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গত ১৫ বছর আমরা যদি অপেক্ষা করতে পারি, তাহলে আরেকটা ভালো নির্বাচনের জন্য দুই-চার মাস আগে হলো বা পরে হলো—তা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। নির্বাচনটি নিরপেক্ষ হবে কি না, সেটাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ততটুকু সময় দিতে জামায়াতে ইসলামী রাজি আছে।’
তিনি বলেন, ‘সংস্কার ও নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করুন। যৌক্তিক সময় যতটুকু লাগবে জামায়াতে ইসলামী তা দেবে। তবে নির্বাচনের আগে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করতে হবে; জনগণ তা দেখতে চায়।’
এ সময় বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘কেউ কেউ অস্থির হয়ে গেছে; বলে—সংস্কারের কোনো দরকার নাই। সংস্কার হলো একটি চলমান প্রক্রিয়া। সংস্কার ও নির্বাচন একসঙ্গে হবে।’
‘এ কথার মধ্যে আমরা অন্য গন্ধ পাই। এটা আমি আর মামুর নির্বাচনের মতো, তোমরাও কেটেকুটে বাক্স ভরতে চাও। আমরা জামায়াত ইসলামী। আমাদের কাছে টাকাও নেই, মাস্তানও নেই। আমরা ব্যালট কাটতে পারব না, কেন্দ্রও দখল করতে পারব না।’
আরও পড়ুন: সংস্কার ও নির্বাচনের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই: ফখরুল
তিনি বলেন, ‘দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছেই, নতুন করে আমরা দেখতে পাচ্ছি জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। কেউ কেউ আবার আওয়ামী ভাষায় কথা বলছে। ফ্যাসিবাদের লোকেরা যে ভাষায় আমাদের সমালোচনা করত, নির্মূল করতে চাইত, ওনাদের মুখে এখন সেই ফ্যাসিবাদের গন্ধ পাওয়া যায়।’
‘আমরা বলি, খবরদার! এই পথ সর্বনাশা পথ। ফ্যাসিবাদী যুগের অবসান হয়েছে। এখন একটি জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে আসুন অনৈক্য, বিভেদ, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, কোনো ভূমিকায় না গিয়ে আগস্টের মূল চেতনা ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যকে ধারণ করে আমরা একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে যাই।’
ভোলা জেলা জামায়াতের আমির মাস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলাল, বরিশাল মহানগরীর আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও চট্রগ্রাম জেলার আমির আবু জাফর মো. ওবায়দুল্লাহ, বরিশাল অঞ্চল টিমের সদস্য একেএম ফখরুদ্দিন খান রাজি, কেন্দ্রীয় গবেষণা সেলের সদস্য ও সাবেক জেলা আমির মাওলানা ফজলুল করিম, সাবেক জেলা আমির অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল, ভোলা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হারুন অর রশিদ, ভোলা সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল হোসাইন, চরফ্যাশন উপজেলার আমির অধ্যক্ষ মীর শরীফ, ভোলা পৌর সেক্রেটারী মাওলানা আতাউর রহমান প্রমুখ।
৬৪১ দিন আগে
ক্লিনিক ছেড়ে তারেকের বাসায় গেলেন খালেদা জিয়া
বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতা নিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, স্থানীয় শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সময় রাত সাড়ে ৯টায় (বাংলাদেশ সময় ৩টা ৩০ মিনিট) তার ছুটির কাগজপত্র হস্তান্তর করা হয়।
পরে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন তার বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় গিয়েছেন।
ডা. জাহিদ বলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) ক্লিনিক থেকে ছুটি পেয়েছেন এবং বর্তমানে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় আছেন।’
খালেদা জিয়া অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডি এবং অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে তারেক রহমানের বাসায় তার চিকিৎসা চালিয়ে যাবেন।
জাহিদ বলেন, খালেদা জিয়ার লন্ডনে যাওয়া বাংলাদেশি চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন।
অধ্যাপক কেনেডির নেতৃত্বাধীন লন্ডন ক্লিনিকের মেডিকেল বোর্ড হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার আগে খালেদা জিয়ার সব শারিরীক পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা করেছেন।
লিভার সিরোসিস, কিডনি ও হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসে ভুগতে থাকা ৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী বাড়িতে কঠোর চিকিৎসা পদ্ধতি মেনে চলবেন।
আরও পড়ুন: সন্ধ্যায় লন্ডন ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র পাচ্ছেন খালেদা জিয়া
খালেদা জিয়া হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে বাসায় নিয়ে যান। এসময় তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান গাড়িরে সামনের সিটে বসা ছিলেন।
বাসায় পৌঁছালে তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমান এবং তাদের মা সৈয়দা শামিলা রহমান তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
গত ৮ জানুয়ারি কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পরপরই খালেদা জিয়াকে লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
তখন থেকে তিনি লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।
আরও পড়ুন: ১/১১ পুনরাবৃত্তির অভিযোগের ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি মির্জা আব্বাসের
৬৪১ দিন আগে
১/১১ পুনরাবৃত্তির অভিযোগের ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি মির্জা আব্বাসের
বিএনপি আরেকটি ১/১১ ধাঁচের সরকারের ভিত্তি তৈরির অভিযোগের মাধ্যমে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলটির সিনিয়র নেতা মির্জা আব্বাস।
শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
আব্বাস বলেন, ‘কোনো কোনো মহল তাদের নির্বিচারে বক্তব্য দিয়ে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা অব্যাহত রাখলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে না।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
মির্জা আব্বাস বলেন, 'আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিএনপিকে ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন— তাদের পরিণতি ভালো হবে না।’
আরও পড়ুন: গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়া সংস্কারের সুযোগ নেই: খসরু
বিএনপি ১/১১-এর মতো আরেকটি সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করায় তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০০৭ সালে ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বিএনপি।
তিনি বলেন, ‘১/১১ নয়, আপনারা যদি ৫ আগস্টের পরও বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে— এমন বক্তব্য দিতে থাকেন, তাহলে দেশে কখনো গণতন্ত্র ফিরে আসবে না। আমি বলতে চাই, বিভেদ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করুন’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এ ধরনের সরকার যদি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে নির্বাচনের সময় সত্যিকারের নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন দেখা দেবে।
পরে রাতে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য মূলত ২০০৭ সালে আরেকটি ১/১১-এর মতো সরকার গঠনের ইঙ্গিত দেয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্বাস বলেন, অনেকে এখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে এবং বিভিন্ন উপায়ে বিএনপি সম্পর্কে নানা মন্তব্য করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো কোনো নেতা হয়তো তাদের ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে কিছু কথা বলেছেন। সম্প্রতি আমি অনেককে নানাভাবে কথা বলতে দেখেছি। কেউ কেউ বলছেন, বিএনপি ১/১১-এর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। আমি তাদের বলতে চাই, ২০০৭ সালে ১/১১-এর ভয়াবহ পরিণতিতে বিএনপির চেয়ে বেশি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।’
মির্জা আব্বাস বলেন, ১/১১-এর ষড়যন্ত্র থেকে বিএনপির সাধারণ সদস্য থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতা বেগম খালেদা জিয়া পর্যন্ত কোনো নেতাকর্মী রেহাই পাননি।
আরও পড়ুন: ফখরুলের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আরেকটা ১/১১ সরকার গঠনের ইঙ্গিত: নাহিদ
কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, একটি দল ক্ষমতার লোভে পাগল হয়ে গেছে বলে ডিম ফোটার আগেই মুরগির বাচ্চা গণনা শুরু করেছে।
আব্বাস বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল হঠাৎ করে এমনভাবে কথা বলতে শুরু করেছে, যা তাকে শিশুদের আজেবাজে কথা বলার কথা মনে করিয়ে দেয়।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কিছু লোক ও দল এমন আচরণ করছে যেন আওয়ামী লীগের একটি দল বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের শিবিরের দিকে বিএনপিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
মির্জা আব্বাস আরও বলেন, যারা বিএনপিকে আওয়ামী লীগের দিকে ঠেলে দিতে চায়— আয়নায় নিজেদের দেখা উচিত তাদের। নিজেদেরকে নিয়ে ভাবা উচিত এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা কীভাবে রাজপথে সংগ্রাম করেছে, অকাল মৃত্যু, হত্যা, গুম, কারাবাসসহ নানা ধরনের নির্যাতন সহ্য করেছে সে কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আরও পড়ুন: স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও ফ্যাসিবাদ-সহযোগীর মিলনে গণতন্ত্র পরিপুষ্ট হবে না: দুদু
আব্বাস বলেন, ‘তারা (মহলটি) এখন আমাদের অন্য শিবিরে ঠেলে দিতে চায়। উদ্দেশ্য কী? আপনি কি আমাদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত করতে চান? এসব নিয়ে কখনো ভাববেন না। কারণ, আমাদের দলের নেতা-কর্মীরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী।’
তিনি বলেন, অনেকে দাবি করেন, বিএনপি শুধু নির্বাচনের দিকেই নজর দিচ্ছে। ‘তবে আমরা শুধু নির্বাচনের দিকে নজর দিচ্ছি না। বিদেশ থেকে আসা কিছু ব্লগার দেশ চালানোর চেষ্টা করে। তারা এমনভাবে কথা বলছেন— যেন তারা যা বলছে, তা বাংলাদেশে বাস্তবে পরিণত হবে। দয়া করে আপনাদের বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবেন না। দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করুন ‘
বিএনপিকে দোষারোপ না করে দেশ গড়তে তাদের প্রজ্ঞা ও বুদ্ধি কাজে লাগাতে ব্লগারদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি নেতা।
মির্জা আব্বাস বলেন, অনেকেই দাবি করছেন— বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা নতুন দল গঠন করায়, বিএনপি ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘যারা এসব কথা বলেন, তারা জাতির শত্রু। নতুন দল গঠন হবে কি হবে না, তা নির্ভর করছে যারা দল গঠনের চেষ্টা করছেন তাদের ওপর। নতুন দল গঠিত হলে বিএনপির ভূমিকা দেখতে পাবেন। নতুন দল গঠিত হলে আমরা তাকে স্বাগত জানাই।’
বিএনপি নেতা বলেন, যারা দল গঠন করবেন তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনা করবেন। তবে তাদের ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না করার আহ্বান জানান তিনি।
নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আরাফাত রহমান কোকোর দশম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এ উপলক্ষে সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বনানীতে আরাফাত রহমান কোকোর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন দলের নেতাকর্মীরা।
আরও পড়ুন: সন্ধ্যায় লন্ডন ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র পাচ্ছেন খালেদা জিয়া
৬৪১ দিন আগে
সন্ধ্যায় লন্ডন ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র পাচ্ছেন খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় তার ছেলে তারেক রহমানের বাসায় যাবেন। ধারণা করা হচ্ছে যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিক থেকে ছাড়া পাবেন খালেদা জিয়া।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে (লন্ডন সময়) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘যদি সবকিছু ঠিকঠাক হয় এবং রিপোর্টগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী আসে ... ইনশাল্লাহ ম্যাডামের (খালেদা) হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার চিকিৎসকরা এখনও ছাড়পত্র দিতে পারেননি, কারণ আজ কিছু অতিরিক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে ... আজ সন্ধ্যায় তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।’
জাহিদ বলেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও বিএনপি চেয়ারপারসন অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডি ও জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে থাকবেন, কারণ তারা মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে পরামর্শক্রমে তার চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করছেন।
তিনি বলেন, 'যুক্তরাজ্যের মেডিকেল প্রটোকল অনুসরণ করে তাকে (খালেদা জিয়া) চিকিৎসা দেওয়া হবে।’
গত ৮ জানুয়ারি কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পরপরই খালেদা জিয়াকে লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
৭৯ বছর বয়সী বিএনপি চেয়ারপারসন লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসের জটিলতাসহ একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন।
তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. জাহিদ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন মোটামুটি এখন অনেক ভালো বোধ করছেন, তবে লিভার প্রতিস্থাপনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, লিভার প্রতিস্থাপনের বিষয়ে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্যান্য স্বাস্থ্য জটিলতার পাশাপাশি তার বয়স এবং তার লিভারের রোগের তীব্রতা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
কারাগারে থাকাকালীন তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান এই চিকিৎসক।
আরও পড়ুন: ফখরুলের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আরেকটা ১/১১ সরকার গঠনের ইঙ্গিত: নাহিদ
তাকে আরও আগে বিদেশে নিয়ে আসা হলে হয়তো তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতেন। চিকিৎসকরা বলছেন, আগে ব্যবস্থা নিলে ভিন্ন ফল পাওয়া যেত।
জাহিদ বলেন, লন্ডন ক্লিনিকের চিকিৎসক এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা ওষুধের মাধ্যমে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মূলত একমত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, কিছু পরীক্ষার ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি এবং কিছু নমুনা আরও বিশ্লেষণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। ‘এসব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তার ভবিষ্যতে চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তারেক রহমানের বাসায় অবস্থানকালে মেডিকেল বোর্ড তার স্বাস্থ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিকল্পনা সমন্বয় করবে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ খালেদা জিয়া ও তার পরিবার।
আরও পড়ুন: স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও ফ্যাসিবাদ-সহযোগীর মিলনে গণতন্ত্র পরিপুষ্ট হবে না: দুদু
৬৪২ দিন আগে