রাজনীতি
ছলচাতুরী বাদ দিয়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করুন: সরকারকে বিএনপি
কোনো ধরনের ছলচাতুরীর আশ্রয় না নিয়ে অবিলম্বে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের সুস্পষ্ট রূপরেখা দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, যারা সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানকে 'দ্বিতীয় স্বাধীনতা' হিসেবে আখ্যায়িত করেন তারা প্রকৃতপক্ষে দেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার বিরোধী।
তিনি বলেন, ‘কোনো প্রকার কুটকৌশল বা ছলচাতুরী ছাড়াই কবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা জাতিকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন। জাতি নির্বাচনের তারিখ জানতে চায়। আপনি যদি জাতিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখেন তবে তাদের অলস বসে থাকা এবং আপনার প্রহসন দেখার কোনো কারণ নেই।’
আরও পড়ুন: দুর্নীতি মামলায় মির্জা আব্বাসসহ ৫ জন খালাস
বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের পরিস্থিতি বর্তমানে অস্পষ্ট এবং আগামী দিনগুলোতে এটি আরও জটিল হতে পারে। ‘এই প্রতিকূল সময়ে আমরা বিশ্বাস করতে চাই, বর্তমান সরকার জাতিকে আশার আলো দেখাবে। কিন্তু আমি তাদের অনুরোধ করব, এমন কিছু করবেন না, যাতে জাতি আপনাদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে।’
তিনি বলেন, আমাদের দল যখন নির্বাচন নিয়ে কথা বলছে, তখন সরকারের ভেতরেই কেউ একজন বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে গেছে। ‘এর জবাবে আমরা যদি বলি আপনি নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন না, কারণ আপনি ক্ষমতায় থাকার জন্য মরিয়া।’
মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র ও মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার জন্য সংগ্রাম করছে। তিনি বলেন, ‘যারা বলছেন আমরা ক্ষমতায় ফিরতে মরিয়া, তারা ভুল করছেন। বাস্তবে আমরা মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই করছি।
মুক্তিযোদ্ধা মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সাবুর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আজকের বাংলাদেশ' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ও প্রজন্ম একাডেমি।
সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে সরকারের উপদেষ্টাদের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের সমালোচনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘এসব সংস্কার বাস্তবায়নে কত সময় লাগবে সে বিষয়ে আপনারা পরিষ্কার করে কিছু বলছেন না। বাস্তবে আমরা সংস্কারের কোনো লক্ষণ দেখছি না। নির্বাচন নিয়েও আপনারা স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না।’
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, সরকারের ভেতরের লোকজনও সংবিধান সংশোধন ও সংবিধান পরিবর্তন নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের আপনি কে? সংসদ ছাড়া কি সংবিধান পরিবর্তন হবে? আপনাদের মনে রাখতে হবে, সংবিধান কোনো রুক্ষ খসড়া নয় যে আপনি নিজের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করতে পারেন ‘
মির্জা আব্বাস বলেন, সরকার গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনের মতামত নেওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যোগ না দিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা কিছু ব্যক্তি এখন দেশে ফিরে উচ্চস্বরে কথা বলছেন। ‘তারা সংবিধান পরিবর্তনের কথাও বলছেন।’
নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে সরকার নিজের অবস্থান স্পষ্ট না করায় দেশে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ শান্তি চায়, ত্রাণ চায়। যথেষ্ট হয়েছে- আমাদের শান্তি দিন, আমাদের স্বস্তি ফিরিয়ে দিন। আপনারা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এসেছেন, কিন্তু এখন কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা ছাড়াই সংস্কারের কথা বলছেন। আপনারা কী করতে চান তা জনগণকে স্পষ্টভাবে বলুন। জাতিকে অন্ধকারে রেখে আমরা আপনাদের যা খুশি তাই করতে দেব না।’
অহেতুক বিলম্ব না করে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পদক্ষেপ নিতে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলেও আব্বাস আশা প্রকাশ করেন। আব্বাস বলেন, ‘দেশের মানুষ অতীতে একটি অনির্বাচিত সরকারকে মেনে নেয়নি, ভবিষ্যতেও নেবে না।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, তাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কেন দেশে ফিরতে পারছেন না তা বোধগম্য নয়। ‘আমরা বুঝতে পারছি না, কেন তার মামলা বা আমাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। অধ্যাদেশের মাধ্যমে এসব মামলা প্রত্যাহার করা যায়, কিন্তু আপনারা এটা করছেন না।’
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে ধাবিত করার অপচেষ্টা করছে সরকার: মির্জা আব্বাস
৫৪৬ দিন আগে
জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করবে এমন সংস্কার চায় বিএনপি: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি এমন রাষ্ট্রীয় সংস্কার চায়, যা দেশের কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
লন্ডন থেকে এক সমাবেশে ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, জাতি এখনও এক সংকটময় সময় পার করছে, কারণ ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী সরকারের অশুভ প্রেতাত্মারা এখনও দেশের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছে।
তারেক বলেন, 'আমরা অনেকেই এখন সংস্কারের কথা শুনি, অনেকে বিভিন্ন সংস্কারের কথা বলছেন। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন এবং এই দেশকে বদলে দিতে বিএনপিই প্রথম সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল।’
তিনি বলেন, আমাদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০১৭ সালে বিএনপির ভিশন-২০৩০ সনদ ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হাইকোর্টে বাতিল
তারেক রহমান বলেন, পরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যুগপৎ আন্দোলনে যোগ দেওয়া গণতান্ত্রিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জন্য ৩১ দফা রূপরেখা দিয়ে বিএনপি ২০২৩ সালেও সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিল।
তিনি বলেন, ‘এসব সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য কী? এটা কি শুধুই সংবিধানের কয়েক লাইন পরিবর্তনের জন্য? অবশ্যই, দেশ পরিচালনায় পরিবর্তিত সময় এবং বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি মনে করি, দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা এবং দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সংস্কার হওয়া উচিত।’
একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বিএনপির এই নেতা মনে করেন, সংবিধানের শুধু কয়েকটি লাইন পরিবর্তন করাই সংস্কার নয়।
বিএনপির প্রয়াত মন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) যশোর টাউন হল মাঠে এ সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রস্তাবে সুস্পষ্টভাবে দেশের গুণগত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে এবং জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমের রূপরেখা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি এক বাক্যে সংস্কারের কথা বলছি, যা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবে, বেকারদের কর্মসংস্থান আনবে, নারীর স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করবে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, আমাদের সন্তানদের উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করবে এবং জনগণকে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবে।’
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পরও দেশ এখনো সংকটময় সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও তার প্রধান দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তাদের প্রেতাত্মারা রয়ে গেছে সমাজে, প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায়। সেখান থেকে এখনো নানা ষড়যন্ত্রের বীজ বপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি এটাকে ক্রান্তিলিক সময় বলছি।’
বিশেষ করে জাতির এই দুঃসময়ে তরিকুল ইসলামের মতো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অনুপস্থিতির অনুভূতিও ব্যক্ত করেন তারেক।
তারেক বলেন, ‘তরিকুল ইসলামের মতো এখন যদি কেউ বেঁচে থাকতেন, তাহলে তিনি আমাকে মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিতে পারতেন, যা দেশ ও দল উভয়ের কল্যাণে অবদান রাখত।’
আরও পড়ুন: সাংবিধানিক বিষয়ে তাড়াহুড়ো করা উচিৎ নয়: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তারেক
৫৪৬ দিন আগে
বসুরহাটে লিফলেট বিতরণ করে দ্রুত নির্বাচন চাইলেন বিএনপি নেতা আবেদ
বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার পক্ষে লিফলেট বিতরণ করে দ্রুত সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সহ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সম্পাদক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ।
সোমবার (৪ নভেম্বর) নোয়াখালীর বসুরহাট বাজারে লিফলেট বিতরণ করে তিনি এই দাবি জানান।
আরও পড়ুন: রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে জনগণের ভূমিকা চায় বিএনপি
এসময় তিনি বলেন, সরকারকে অবশ্যই দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এখনই নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিএনপির সবচেয়ে বেশি নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। গত ১৫ বছরেও গণতন্ত্রের জন্য বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রাণ দিয়েছে। হামলা-মামলা ও নির্যাতিত হয়েছেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে বিদায় করতে বিএনপির অবদানই সবচেয়ে বেশি।
বসুরহাটের এই সংসদীয় আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতার লিফলেট বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুর আলম সিকদার, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান রিপন। বসুরহাট পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আবদুল মতিন লিটন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহ-সভাপতি মমিনুল হক ও শওকত হোসেন ছগীর প্রমুখ।
এর আগে রবিবার কবিরহাটের বিভিন্ন স্পটেও সাধারণ জনগণের মাঝে লিফলেট ও শনিবার কবিরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে ১৫০ কৃষক পরিবারের মাঝে বীজ ধান বিতরণ করেন।
এসময় কবির হাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, যুগ্ন আহ্বায়ক আরাফাত রহমান হাসান, কবিরহাট পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব বেলায়েত হোসেন খোকনসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় মুছাপুর ইউনিয়ন আয়োজিত দলের অফিস উদ্বোধন করেন বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ। পরে সেখানে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
আরও পড়ুন: পতিত ফ্যাসিস্টদের ফিরতে দেবেন না: বিএনপি
৫৪৭ দিন আগে
রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে জনগণের ভূমিকা চায় বিএনপি
আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠার মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, স্বচ্ছ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে কাকে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করা হবে তা চূড়ান্তভাবে জনগণই নির্ধারণ করবে।
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সোমবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা ফোরামের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
গয়েশ্বর বলেন, গণতন্ত্রকে যারা ধ্বংস করেছে তাদের জন্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এক ধরনের প্রতিশোধ হিসেবে কাজ করবে।
‘আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপিকে কেন নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে? প্রশ্ন তুললেন গয়েশ্বর।
আরও পড়ুন: পতিত ফ্যাসিস্টদের ফিরতে দেবেন না: বিএনপি
বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ও বিএনপি উভয়েই চায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্রুত জাতীয় নির্বাচন করুক।
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে কাকে প্রত্যাখ্যান করা হবে আর কাকে গ্রহণ করা হবে তা জনগণই ঠিক করবে। তাই অবিবেচনাপ্রসূত কোনো সিদ্ধান্ত দেশের জন্য কল্যাণ বা শান্তি বয়ে আনবে না।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর বলেন, ১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় অসৎ উদ্দেশ্যের কারণে 'সংস্কার' শব্দটি কলঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জন্য ব্যাপক সমর্থন থাকলেও একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে বা বিরাজনীতিকরণকে উৎসাহিত করে ক্ষমতা সংহত করার প্রচেষ্টা জাতির স্বার্থ রক্ষা করবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা নিষিদ্ধ হওয়ার যোগ্য, তারা কার্যত নিজেদের নিষিদ্ধ করেছে এবং দেশ থেকে চলে গেছে। এখন তাদের ব্যানার বা স্লোগান দেওয়ার কেউ নেই।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া উচিত নয়। ‘আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সেই প্রতিশোধ (আওয়ামী লীগের) নেওয়ার উপায়।
আইন অবমাননার দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তার পতনের পর তিনি কীভাবে আইন মানবেন? আইনকে ভয় না পেলে তিনি দেশ ছাড়তেন না, তিনি জেলেই থাকতেন।’
আরও পড়ুন: যেকোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিপক্ষে বিএনপি: ফখরুল
৫৪৭ দিন আগে
কেউ যেন মাইনাস-২ ফর্মুলার কথা না ভাবে: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, মাইনাস টু ফর্মুলা নিয়ে কেউ যেন আবার চিন্তা না করে। অথবা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিএনপিকে বাদ দিয়ে কোনো ষড়যন্ত্রে যেন লিপ্ত না হন।
স্মরণসভায় তিনি আরও বলেন, ২০০৭ সালে ১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় বিরাজনীতিকরণে এবং মাইনাস-টু ফর্মুলা বাস্তবায়নের ব্যর্থ চেষ্টা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘সেই পথ অনুসরণ করার কথা চিন্তাও করা উচিত নয়। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপিকে কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করবেন না, কারণ বাংলাদেশের জনগণ কখনোই তা মেনে নেবে না।’
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপিকে নানাভাবে ভাঙার চেষ্টা করেছিল কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে, ভবিষ্যতেও পারবে না।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস: বিএনপির ১০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
কারো নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টা অপ্রত্যাশিত ও অযাচিত মন্তব্য করে বলেছেন, রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় যেতে অস্থির। ‘এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। তার মতো কোনো ব্যক্তি এ ধরনের মন্তব্য করবেন তা আমরা আশা করি না।’
বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
এর আগে শনিবার সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, 'ব্যাংকে টাকা নেই। রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন এবং আমরাও আমাদের কাজে ফিরতে চাই।’
ফখরুল বলেন, রাজনীতিবিদরা শুধু ক্ষমতায় ফেরার আকাঙ্ক্ষাই করেন না, তারা বাংলাদেশকে শেখ হাসিনার কবল থেকে মুক্ত করতে জীবন উৎসর্গ করেছেন, নিপীড়ন ও নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
তিনি বলেন, তারা জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দ্রুত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পক্ষে পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ সরকার নির্বাচন যত দীর্ঘায়িত করবে, হাসিনা ও তার দোসরদের পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি হবে।
তিনি বলেন, 'আমি আবারও বলতে চাই, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরি করুন। আপনাদের সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আমরা আপনাদের সহযোগিতা করছি। এখন, আপনাদের আমাদের সহযোগিতা করা উচিত। আমরা ক্ষমতায় ফেরার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছি বলে দাবি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবেন না।’
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির লক্ষ্য আবার ক্ষমতায় আসা, তার নেতাকর্মীরা দেশ পরিচালনা ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করে।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীরা কীভাবে নির্যাতন সয়েছেন এবং জীবন উৎসর্গ করেছেন তা বর্ণনা করে ফখরুল বলেন, বিএনপির অপরিসীম ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না।
দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে বা দলের সমালোচনা হতে পারে এমন কোনো কর্মকাণ্ডে না জড়াতে বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ‘কাউকে এটা করতে দেবেন না। এটা মাথায় রাখুন।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলেও বাংলাদেশ এখনও সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
তিনি বলেন, 'আমরা এক ভয়ংকর দানবের খপ্পর থেকে মুক্ত হয়েছি, কিন্তু স্বস্তি নেই, কারণ মনে হচ্ছে জনগণের সরকার এখনও প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় আমরা এখনও আটকা পড়েছি।
ফখরুল বলেন, তারা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো একজন সম্মানিত ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন দিয়েছেন, যারা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সরকারের তত্ত্বাবধান করবে।
তিনি বলেন, 'আমাদের ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) তাকে সব সময় শ্রদ্ধা করেন এবং আমরাও তাকে শ্রদ্ধা করি। সারা বিশ্ব আপনাকে (ইউনূস) সম্মান করে। বিশ্বব্যাপী আপনার বিশাল খ্যাতি রয়েছে এবং এটি বজায় রাখা এখন আপনার প্রধান দায়িত্ব। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দায়িত্ব আপনাদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে, যার অর্থ একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত সংসদ ও সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।’
ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে বিদেশে সরকারি অর্থ লুটপাট ও পাচার করে দেশ ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। বাংলাদেশের মানুষের মনোবলের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে এবং এখন ব্যাংক থেকে শুরু করে অন্যান্য অফিস পর্যন্ত চোর সর্বত্র।
তিনি দেশের মুক্তিযুদ্ধ, জাতিগঠন ও বিএনপিকে শক্তিশালী করতে সাদেক হোসেন খোকার অবদানের কথা স্মরণ করেন।
ফখরুল বলেন, খোকা এমন একজন রাজনীতিবিদের চেতনার মূর্ত প্রতীক, যিনি তার কর্মীদের সঙ্গে সত্যিকার অর্থেই বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহজবোধ্য।
বিএনপির এই নেতা বলেন, জাতীয় ও রাজনৈতিক সংকটে খোকার মতো ক্যারিশম্যাটিক নেতার অভাব তারা অনুভব করেন।
আরও পড়ুন: পতিত ফ্যাসিস্টদের ফিরতে দেবেন না: বিএনপি
যেকোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিপক্ষে বিএনপি: ফখরুল
৫৪৮ দিন আগে
পতিত ফ্যাসিস্টদের ফিরতে দেবেন না: বিএনপি
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রুখে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেনকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে আদালতের দেওয়া রায়ে প্রমাণিত হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনে কারচুপি ও জালিয়াতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ছাত্রদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্টদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছি। জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না এবং এটি চিরতরে নির্মূল করা হবে বলে প্রত্যাশা করছে জাতি।’
আগামীতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আরও পড়ুন: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিন মঞ্জুর
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ায় ডা. শাহাদাতকে বিএনপি ও শীর্ষ দুই নেতার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান মির্জা ফখরুল।
তিনি দাবি করেন, চসিক নির্বাচনে ড. শাহাদাত জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও আওয়ামী লীগ অন্যায়ভাবে সেই বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিল।
নির্বাচনে কারচুপির ফলাফল পাল্টে দিয়ে ড. শাহাদাতকে যথাযোগ্য বিজয়ী ঘোষণা করায় আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ফখরুল।
আদালতের রায় মেনে নিয়ে ডা. শাহাদাতকে দায়িত্ব দেওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
এর আগে রবিবার সকালে চসিকের মেয়র হিসেবে শপথ নেন ডা. শাহাদাত হোসেন।
সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে তাকে শপথ করান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ।
শপথ গ্রহণের পর ডা. শাহাদাত ফখরুলসহ দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এর আগে গত ১ অক্টোবর চসিক নির্বাচন সংক্রান্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ড. শাহাদাত হোসেনকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা দেন চট্টগ্রামের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ খায়রুল আমিন।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী প্রাথমিকভাবে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয় এবং বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট পান।
তবে গত ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন ড. শাহাদাতকে বিজয়ী ঘোষণা করে ওই রাতেই গেজেট প্রকাশ করে।
আরও পড়ুন: মির্জা ফখরুল জামিন আবেদন আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তির নির্দেশ বহাল
৫৪৮ দিন আগে
যেকোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিপক্ষে বিএনপি: ফখরুল
যেকোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে মত দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার আমরা কে? দেশের জনগণই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’
জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ করতে একটি মহলের দাবির বিষয়ে সাংবাদিকদের বক্তব্য জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যেটি কোনো ইস্যুই নয়, সেটিকে নতুন করে ইস্যু বানানো হলো ষড়যন্ত্রের অংশ।
বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার এবং দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ব্র্যাক সেন্টার ইনে এক স্মরণসভায় যোগ দেন তিনি।
ফখরুল বলেন, একজন দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের মানুষ হিসেবে সাবিহ উদ্দিন আহমেদ দেশের মানুষের কাছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
তিনি বলেন, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ সারাজীবন দেশের মানুষ ও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করে গেছেন।
ফখরুল আরও বলেন, ক্রীড়ানুরাগী সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ছিলেন শক্তিশালী একজন মানুষ। বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত দেখতে পারলে তিনি খুশি হতেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামসহ আরও অনেকে।
৫৪৯ দিন আগে
প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে হবে
‘সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে অংশ নিয়ে আলোচকরা বলেছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। দুর্নীতি অনিয়ম দূর করে জনবান্ধব উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের তাগিদ দেন তারা।
শনিবার (২ নভেম্বর) ‘সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে অংশ নিয়ে আলোচকরা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম ও চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সেমিনার আয়োজন করে।
সেমিনারে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলওয়ে মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব
বিএসআরএসফ’র সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের সঞ্চালনায় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন- বিএসআরএফ সভাপতি ফসিহ উদ্দীন মাহতাব।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন- নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আতিকুর রহমান।
এসময় উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, ভবিষ্যৎ এ প্রকল্প গ্রহণ করার আগে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা হবে। কোনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। জনবান্ধব প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। দুর্নীতি কমিয়ে উন্নয়নকে জনগণের প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছি।
উপদেষ্টা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতেই এ সরকার কাজ করছে। বিশাল ঋণের বোঝা রেখে গেছে এ সরকারের ওপর। যা অন্তবর্তী সরকারের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতির অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলেছি। আমরা দুর্নীতি যতটা সম্ভব কমিয়ে সংস্কার করব।
তিনি বলেন, হাজার কোটি টাকা খরচ করে একটি প্রকল্প সম্পন্ন হয়। এটা ব্যক্তিগত টাকা নয়, জনগণের টাকা। এটা মাথায় রাখা উচিত। এ সরকারের কাছে জনপ্রত্যাশা আকাশচুম্বী। সবাই ভাবেন আমাদের কাছে জাদুর কাঠি আছে। আসলে কিছু নেই আমাদের কাছে। ব্যাংকে টাকা নেই। রাজনীতিবিদরা উসখুস করছেন কবে ক্ষমতায় আসবেন। আমরাও চাই নিজেদের কাজে ফিরে যাই।
ফাওজুল কবির বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দুর্নীতি, গ্যাস বিদ্যুতের দাম নিয়ে ক্ষুদ্ধ মানুষ। আমরা এখানে একটা কাজ করেছি, দুর্নীতির কাঠামো ভেঙে দিয়েছি। বিইআরসির আগের কাজ ফিরিয়ে দিয়েছি। ঢাকা মেট্রোতে সাবেক সচিব হতে হবে বলে যে বিধান ছিল, সে নিয়ম বাদ দিয়েছি। যার অভিজ্ঞতা আছে তিনিই এখানে কাজ করতে পারবেন। আবার পাওয়ার গ্রিডে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এভাবে আমরা কাঠামোগত পরিবর্তন করতে শুরু করেছি।
আলোচনায় অংশ নেন মো. সারদার শাহদাত আলী, ড. মো. শামসুল হক, ড. শর্মিন্দ নীলর্মি, ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, মেহেদী এইচ ইমন, উমামা ফাতেমা ও মো. মাহিন সরকার।
আরও পড়ুন: সাফজয়ী ফুটবলারদের দাবিগুলো লিখে জানাতে বললেন প্রধান উপদেষ্টা
আগামী ২ বছরে সরকারি খাতে ৫ লাখ কর্মসংস্থান হবে: উপদেষ্টা আসিফ
৫৪৯ দিন আগে
জাতীয় পার্টির শনিবারের সমাবেশ স্থগিত
কাকরাইলে ডিএমপির সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করায় কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আজকের সমাবেশ স্থগিত করেছে জাতীয় পার্টি।
শুক্রবার(১ নভেম্বর) রাতে জাপা প্রধানের প্রেস সচিব খন্দকার দেলোয়ার জালালীর সই করা এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে জাতীয় পার্টি জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ শনিবার কাকরাইল ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করায় জাতীয় পার্টি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
এর আগে শুক্রবার সকালে জাপা চেয়াম্যান জানান, হামলার পরও আগামীকাল পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ পরিকল্পনা অনুযায়ী হবে। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই রাজধানীর কাকরাইল ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করে ডিএমপি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেলমেট পরা ও লাঠিসোঁটা হাতে একদল ব্যক্তি মূল ফটক দিয়ে জাপা কার্যালয়ে প্রবেশ করে। স্লোগান দিতে দিতে তারা ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং এরপর ভবনের সামনের অংশ ও ভেতরের কয়েকটি কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: আমরা মরতে চাই, দেখি কত লোক মারতে পারে: জিএম কাদের
৫৪৯ দিন আগে
দ্বিতীয় স্বাধীনতা ধরে রাখতে এই সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে: জয়নাল আবদিন ফারুক
দ্বিতীয় স্বাধীনতা ধরে রাখতে হলে এই সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা জয়নাল আবদিন ফারুক।
তিনি বলেন, ‘শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমদের আত্মত্যাগে দ্বিতীয় স্বাধীনতা এসেছে। এই স্বাধীনতা ধরে রাখতে হলে এই সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। দেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই।’
শুক্রবার (১ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় ঝিনাইদহ শিশু একাডেমি কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এক স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: নির্বাচিত সরকার এখন সময়ের দাবি: বিএনপি
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মন্ডলীর সাবেক সদস্য ও ঝিনাইদহ-২ আসনের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভাটির আয়োজন করা হয়।
ফারুক বলেন, ‘বিএনপি দিনের ভোট রাতে চায় না। বিএনপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন চায় না। বিএনপি ও তারেক রহমান চায়, আমার ভোট আমি দেব ‘
তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দমন করতে শেখ হাসিনা আয়নাঘর বানিয়েছিলেন। যে ব্যক্তি বলত, শেখ হাসিনা পালায় না, আজ গণআন্দোলনের তোপের মুখে তিনি পালিয়েছেন।’
জয়নাল আবদিন ফারুক আরও বলেন, ১৯৭১ সালে শেখ মুজিব যেভাবে ইয়াহিয়ার সঙ্গে আঁতাত করে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন, সেইভাবে শেখ হাসিনা ডলার ভর্তি ব্যাগ নিয়ে ভারতে পালিয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে আওয়ামী লীগ লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছিল দাবি করে ফারুক বলেন, ‘শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা জনগণের ভোটের ওপর বিশ্বাস করে না। তারা দেশের কোটি কোটি ডলার বিদেশে পাচার করেছে। ব্যাংক লুট করেছে।’
অধ্যাপক ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু এখনও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। পলাতক আওয়ামী লীগের নেতারা হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ড. ইউনূসের এই সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।’
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আইনজীবী আব্দুল আলিমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোমিনুর রহমান, মসিউর রহমানের সহধর্মীনী মাহবুবা রহমান শিখা, ড্যাবের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মো. ইব্রাহীম রহমান বাবু।
আরও পড়ুন: জনগণ অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকবে না: বিএনপি
৫৫০ দিন আগে