রাজনীতি
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার পরিকল্পনা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
ইরান এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিনের (নরসিংদী-৫) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশের শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য পেশাভিত্তিক চাহিদা নিরূপণ করতে বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে স্থানীয় লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সার্বিয়া, গ্রিস, উত্তর মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল এবং রাশিয়াসহ নতুন দেশগুলোতে বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে কর্মী নিয়োগকারী দেশগুলোতে উচ্চ পর্যায়ের সফরের আয়োজন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, থাইল্যান্ডে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে দেশটির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় দেশটিতে জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে জাপানি ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ৫৩টি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জাপানি, রুশ, আরবি, জার্মান এবং ইতালীয় ভাষার প্রশিক্ষক নিয়োগের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ভাষার ৪১ জন প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশের পেশাজীবীরা মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে চলে যাওয়ায় সেখানে বাংলাদেশি ডাক্তার, ব্যাংকার, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করতে মিশনগুলোকে বলা হয়েছে।
তিনি জানান, ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসায় ঋণের সীমা জামানত ছাড়াই ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশফেরত কর্মীদের পুনরায় প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যাতে তারা আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আবারও বিদেশে যেতে পারেন। এছাড়া তাদের আগের শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতাকে স্বীকৃতি দিয়ে সার্টিফিকেট প্রদান করা হচ্ছে।
২০ দিন আগে
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) মার্কিন ডলার তহবিল চেয়েছেন। এই অর্থ সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংসদ সচিবালয়ের অফিস থেকে ‘এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেক) প্লাস অনলাইন সামিটে’ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ সহায়তা চান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান এই সম্মেলনের সম্মিলিত আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকা উচিত। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ তার জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহের চেষ্টা করছে। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই আহ্বানে দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিশ্ব সম্প্রদায়ের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এবং অভিন্ন ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। কোনো রাষ্ট্রই, তা আকারে যত বড় বা শক্তিশালীই হোক না কেন, বিচ্ছিন্নভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না। আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে সহায়তা করতে এশিয়ার দেশগুলোর একটি সমন্বিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি সংকট ইতোমধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে আমরা একগুচ্ছ স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা নিয়েছি। গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে— সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সীমা কমানো, জরুরি আমদানি এবং উৎসের বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, এবং জ্বালানির মজুদ রোধে ‘ফুয়েল অ্যাপের’ মতো উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি রেশন ও খুচরা বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ আনা।
এই সংকটের ব্যাপকতা ও পরিণতি ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেওয়া এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নিরলস কাজ করেছে। আজ আমাদের কষ্টার্জিত সেই অর্জনগুলো বিপন্ন এবং তা স্থবির হয়ে যাওয়ার বাস্তব হুমকির মুখে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একা এই ঝুঁকির সম্মুখীন নয় এবং কোনো দেশের একার পক্ষে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভবও নয়। তিনি বলেন, এই মুহূর্তটি চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে একটি চূড়ান্ত ও সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপের দাবি রাখে; বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে এর মারাত্মক অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব থেকে রক্ষা করতে হবে।
সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলন আয়োজনের জন্য তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা ভার্চুয়ালি এই সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
ভারত, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, তিমুর-লেস্তে, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, কম্বোডিয়া এবং ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিরা এই অনলাইন সম্মেলনে অংশ নেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে যোগ দেন।
২০ দিন আগে
২০২৪-এর আগস্ট থেকে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে মোট ৪৮১ অমুক্তিযোদ্ধার নাম: সংসদে মন্ত্রী
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে এ পর্যন্ত ২০ মাসে ৪৮১ জন অমুক্তিযোদ্ধার সরকারি স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের করা লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
আহমেদ আযম খান বলেন, গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮৪২টি অমুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা বাতিল করার চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে।
তিনি জানান, অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনেক অমুক্তিযোদ্ধা ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে ভারতের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। যাচাইবাছাই শেষে তাদের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সরকারি পর্যালোচনা অনুযায়ী গেজেটভুক্ত প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ১ লাখেরও বেশি ভুয়া হতে পারেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জানান, যখন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তখন কাউন্সিলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি উপকমিটি তদন্ত ও শুনানি পরিচালনা করে। যদি কোনো ব্যক্তি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত না হন, তবে তার গেজেট মর্যাদা বাতিলের সুপারিশ করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে জামুকা এ পর্যন্ত ১০৩টি সভা করেছে এবং সর্বমোট ৬ হাজার ৪৬৫ জন ব্যক্তির গেজেট মর্যাদা বাতিলের সুপারিশ করেছে।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের (নোয়াখালী-১) অপর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এমআইএস-এ (ব্যবস্থাপনা তথ্য পদ্ধতি) সংরক্ষিত সমন্বিত তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।
এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়া বিভিন্ন ভাতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধা মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা, বছরে ১০ হাজার টাকা করে দুটি উৎসব ভাতা, ২ হাজার টাকা বৈশাখী ভাতা এবং জীবিত মুক্তিযোদ্ধারা ৫ হাজার টাকা বিজয় দিবস ভাতা পেয়ে থাকেন। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে সরকারের বিবেচনায় নেই বলে জানান তিনি।
২০ দিন আগে
১ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ (পিইডিপি-৫) শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় আরও অধিক সংখ্যক শিক্ষককে ইংরেজি ভাষায় প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমান সরকারের ইশতেহারে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাদানের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে চলমান ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)’-এর আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষক ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
চলমান সংসদ অধিবেশন বিরতির পর আজ (বুধবার) সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে পুনরায় শুরু হয়েছে। দিনের কার্যসূচির শুরুতেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এরপর সংসদ সদস্যরা তাদের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।
২০ দিন আগে
স্বল্প সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তিকরণ সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ’ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য রাখেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ববর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশগুলো নিষ্পত্তির আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও শবে বরাতের দীর্ঘ ছুটির কারণে কার্যদিবস কম থাকলেও সংসদ সচিবালয়, আইন মন্ত্রণালয়, বিজি প্রেস ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিনরাত পরিশ্রমে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে।
সময়ের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিধি মোতাবেক জাতীয় সংসদের স্পিকারের বিশেষ এখতিয়ারে বিলগুলো উত্থাপন ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, স্থায়ী কমিটিগুলো এখনও গঠিত না হওয়ায় একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’র মাধ্যমে এই ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা হয়েছে।
কমিটির সুপারিশ ও পাসের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, ৯৮টি অধ্যাদেশ অবিকল অবস্থায় সর্বসম্মতিক্রমে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অবশিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংশোধিত আকারে অথবা রহিত ও হেফাজতকরণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বিল সংখ্যা নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার প্রশ্ন ও ভুল বোঝাবুঝির জবাবে মন্ত্রী বলেন, আইনমন্ত্রী ফ্লোরে জবাব দিয়েছেন যে ৯১টার মধ্যেই কিন্তু বাকি ১৭টা অন্তর্ভুক্ত। কারণ কোনো কোনো অধ্যাদেশ জারি হওয়ার ১৫-২০ দিন, এক মাস, দুই মাস পরে দ্বিতীয় সংশোধনী আনা হয়েছে, কোথাও কোথাও তৃতীয় সংশোধনীও আনা হয়েছে। মূলত অধ্যাদেশ একটাই। যখন বিল আকারে উত্থাপন করা হয় জাতীয় সংসদে, সব অধ্যাদেশগুলোকে এক করে একটা বিল আকারেই উত্থাপন করা হয়েছে। এটা হয়তো বিরোধী দলীয় নেতা খেয়াল করেননি।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর' বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উদার। কিউরেটর নিয়োগ ও পদত্যাগ-সংক্রান্ত বিধিগুলো আরও স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার সুযোগ রয়েছে।
আগামী অধিবেশনে এটি আরও আলোচনা ও সংশোধনের মাধ্যমে পুনরায় উপস্থাপন করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও আইসিটি আইন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমি নিজে গুমের শিকার। আমরা চাই না, তাড়াহুড়ো করে কোনো ত্রুটিপূর্ণ আইন পাস হোক, যাতে অপরাধীরা আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যায়। কিছু অসঙ্গতি দূর করে সকল অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই আইনগুলোকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা হবে যাতে ভুক্তভোগীদের জন্য সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
তিনি আরও বলেন, সংসদীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী বিরোধী দল বিধি মোতাবেক ওয়াকআউট করতেই পারে। তবে সংসদের বাইরে গিয়ে অসত্য তথ্য বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হলে তা জাতির সামনে পরিষ্কার করা সরকারের দায়িত্ব।
তিনি উল্লেখ করেন, স্পিকার বিরোধী দলীয় সদস্যদের নজিরবিহীনভাবে দীর্ঘ সময় কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন এবং তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তিগুলোও রিপোর্টে হুবহু সংরক্ষণ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ওয়াকআউট করা যৌক্তিক হয়নি বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
২৩ দিন আগে
শপথ নিলেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য
শপথ নিয়েছেন বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা এবং মাহমুদুল হাসান রুবেল।
রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় সংসদের নিজ কার্যালয়ে তাদের শপথ পাঠ করান স্পিকার মেজার (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
শপথগ্রহণের পর দুই সংসদ সদস্য শপথ নিবন্ধনে সই করেন এবং স্পিকারের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিসহ অন্যান্য হুইপ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওস সময় ৩০০টির মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়।
বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, তারেক রহমান আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় বগুড়া-৬ আসন শূন্য হয়। ফলে সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই দুই আসনে গত ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
২৩ দিন আগে
যুবদল নেতা নয়নের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের বিরোদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
গত বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর বেইলী রোডে ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সহসভাপতি বায়েজিদ হোসাইনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন এ বিক্ষোভে অংশ নেন।
এ সময় রবিউল ইসলাম নয়নকে কটাক্ষ করে ‘নয়নের চামড়া, তুলে নেব আমরা’ স্লোগান দেন তারা।
২৫ দিন আগে
স্থায়ী আইনে রূপ নিল ৯১ অধ্যাদেশ, আজই পাস হলো ২৪টি
জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা মোট ৯১টি অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে পরিণত করতে বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে আজকের অধিবেশনে ২৪টি বিল পাস হয়।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’, ‘সাইবার নিরাপত্তা বিল, ২০২৬’, ‘জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ এবং ‘জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’সহ মোট ২৪টি বিল পাস হয়।
এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপ দিতে ৬৭টি বিল পাস করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৫ এপ্রিল ২টি, ৬ এপ্রিল ৭টি, ৭ এপ্রিল ১৪টি, ৮ এপ্রিল ১৩টি এবং ৯ এপ্রিল ৩১টি বিল পাস হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি ৯৮টি বিলকে তাদের মূল আকারে এবং ১৫টি বিল সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল। এই ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি গত ২ এপ্রিল সংসদে তাদের প্রতিবেদন পেশ করে।
বাকি ২০টি অধ্যাদেশের মধ্যে বিশেষ কমিটি ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করে এবং ১৬টি নতুন বিল শক্তিশালী আকারে পুনরায় ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে মোট ৯১টি বিল সংসদে পাস করে অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে পরিণত করা হয়।
আজ (শুক্রবার) পাস হওয়া ২৪টি বিলের মধ্যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’সহ কয়েকটি বাদে বাকি সবগুলোই সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। কারণ এসব বিলের ধারার ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে কোনো আলোচনার প্রয়োজন পড়েনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন এবং পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পাস হওয়া ২৪টি বিলের মধ্যে রয়েছে— নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) বিল, জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন বিল এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিল।
অন্যান্য বিলের মধ্যে রয়েছে— আমানত সুরক্ষা বিল, আবগারি ও লবণ বিল, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, অর্থ (অর্থবছর ২০২৫-২৬) বিল, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) বিল এবং জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল।
বাকি বিলগুলো হলো— সাইবার নিরাপত্তা বিল, মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬।
২৫ দিন আগে
শেরপুর ও বগুড়া নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগে রাজধানীতে জামায়াতের বিক্ষোভ
শেরপুর-৩ আসনে জাতীয় নির্বাচন ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট ডাকাতির অভিযোগে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির আমলের প্রথম নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা আওয়ামী লীগকেও হার মানিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করে জাতির সঙ্গে তামাশা করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি এ নির্বাচনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের ফলাফল বাতিলের দাবি জানান।
গণভোট প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছে, গণভোট জয়যুক্ত হলে তারা অক্ষরে অক্ষরে মানবে। কিন্তু সরকার গঠন করে তারা গণভোটের আদেশ বাতিল করছে। বিএনপির এই দ্বিচারিতা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহিদদের রক্তের সঙ্গেও চরম বেইমানি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা যদি গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণের রায় মেনে নিতে না পারেন, তবে তাদের সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হবে, তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়নি। তারা যদি গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে থাকেন, তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তারা সংসদ সদস্য হিসেবে যেভাবে শপথ নিয়েছেন, একইভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করতেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপি যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল, ৫ কোটি জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করে বিএনপির সেই নোট অব ডিসেন্ট বাতিল করে দিয়েছে। এজন্য বিএনপি ৭০ শতাংশ জনগণের রায় উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে। বিএনপি জুলাই সনদের বিপক্ষে গিয়ে হাসিনার তৈরি কালো আইন বহাল রাখতে কাজ করছে।
বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে বিএনপিকেই চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের পরিচালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমান, মহানগরী দক্ষিণের অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসান, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, সহকারী অফিস সেক্রেটারি মুজিবুর রহমানসহ মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা।
সমাবেশ শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পল্টন মোড়-বিজয়নগর গোলচত্বর গিয়ে শেষ হয়। এ সময় হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী ভোট ডাকাতি ও প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবি জানান।
২৫ দিন আগে
সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে এসেছেন। আপনাদের প্রাণের একটি আকুতি আছে। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এটা নিয়ে যাবেন এবং দলের যে পার্লামেন্টারি বোর্ড, সেই বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে।
রিজভী বলেন, আন্দোলনে আপনাদের ভূমিকা, বিগত ১৬-১৭ বছরের আন্দোলনে ভূমিকা, আপনাদের দক্ষতা এবং পার্লামেন্টে কথা বলার দক্ষতা এবং অন্যান্য সমস্ত যে যোগ্যতা থাকা দরকার, সবগুলো বিবেচনা করেই দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম বা পার্লামেন্টারি বোর্ড তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।
পার্লামেন্টারি বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেবে, তা সবাইকে মানার আহ্বান জানিয়ে এ বিএনপি নেতা বলেন, এটা (মনোনয়ন) আমি পেলাম না এবং ও পেল বলে এক ধরনের পরিবেশ তৈরি করা, বিশ্রি পরিবেশ তৈরি করা, এইটা করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আপনারা এই দলের জন্য অনেক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেছেন, অনেক বেদনা আপনাদের পোহাতে হয়েছে। সুতরাং দলীয় সিদ্ধান্ত আপনারা সবাই মান্য করবেন, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
তিনি জানান, আজ শুক্রবার থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হবে, চলবে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যেই তা জমা দিতে হবে।
ফরম সংগ্রহের জন্য সকাল থেকেই কয়েকশ নারী নেত্রী দলীয় কার্যালয়ে ভিড় জমান। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা। এ সময় উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রথম মনোনয়ন ফরমটি জেরিন দেলোয়ার হোসেনের হাতে তুলে দেন রিজভী। দ্বিতীয় ফরমটি তুলে দেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদের স্ত্রী ফাতেমা আসাদের হাতে।
এর আগে, গত বুধবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। সেখানে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ মে।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২১ এপ্রিল, বাছাই ২২-২৩ এপ্রিল এবং আপিল দায়েরের শেষ তারিখ ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭-২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। ১২ মে সংসদ সদস্যদের ভোটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনগুলো ৩০০টি সাধারণ আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার মাধ্যমে পূরণ করা হয়। যদি কোনো আসনে একের অধিক প্রার্থী থাকে তবেই সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে দলগুলো সাধারণত তাদের জন্য বরাদ্দকৃত আসনের সমান সংখ্যক প্রার্থী মনোনীত করে বলে ভোটের প্রয়োজন পড়ে না।
ইসির তথ্যমতে, ৩০০ আসনের আনুপাতিক হারে বিএনপি ও তার মিত্ররা ৩৬টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তার জোটসঙ্গীরা ১৩টি এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা ১টি আসন পাবেন।
আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
২৫ দিন আগে