রাজনীতি
জ্বালানির মূল্য সহনীয় রাখতে পরিকল্পনা প্রণয়নের সুপারিশ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির
জনগণের জন্য জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উপস্থাপনের জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও মূল্য সমন্বয়ের কারণ, মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার উপায় এবং মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসির ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সংকটকালীন ও পরবর্তীতে একই থাকার পরও শুধু জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ফলে কীভাবে সংকটের অবসান হয়েছে, সে বিষয়ে বৈঠকে বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এ সময় দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণে প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরবর্তী বৈঠকে কমিটিকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে জনগণের জন্য জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশ নেন।
এ সময় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব, বিপিসির কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
২৯ দিন আগে
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে পাঁচ দলের ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পাঁচটি রাজনৈতিক দলের ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম যাচাই-বাছাই শেষে মনোনয়নপত্রগুলো বৈধ ঘোষণা করেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ্ মাসুদ, ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. আব্দুল আলীম নিজামী ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, পাঁচটি রাজনৈতিক দলের ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন এবং তারা সবাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। আজ (মঙ্গলবার) তফসিল অনুযায়ী যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ ছিল।
এ সময় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকটি দলের প্রার্থী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবার প্রতি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ আগামী ৭ অক্টোবর। এরপর ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে তিনি ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
২৯ দিন আগে
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে এখন পর্যন্ত ছয়জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া আসনটির উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তার ছোট ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন। এছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদও মনোনয়ন দাখিল করেছেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন মির্জা ফয়সল আমিন। এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে দুপুর দেড়টার দিকে মনোনয়ন দাখিল করেন ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। এ সময় তার সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
পয়গাম আলী জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে দুজন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। সব কিছু ঠিক থাকলে প্রার্থী হিসাবে মির্জা ফয়সল আমিনই চূড়ান্ত হবেন।
মনোনয়ন দাখিল করা বাকি চার প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামি ও বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির হোসেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক।
কামরুল ইসলাম বলন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সবার সহযোগিতা কামনা করছি। সবাই মিলে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই।’
মনোনয়নপত্র দাখিলের পর মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ভোটারা আমাকেই নির্বাচিত করবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি কাজ করতে চান। নির্বাচনে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অন্যদিকে ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, ‘বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে তিনজন আবেদন করেছিলেন। পরে দল থেকে দুজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাদের একজন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন ও অন্যজন আমি।’
জামায়াতের দেলোয়ার হোসেন জানান, গ্রামে তিনি ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছেন। বর্তমানে বিএনপির কার্যকলাপ মানুষ ভালো চোখে দেখছে না। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উচ্চমূল্য, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, দুর্নীতি, চুরি, ডাকাতি দেখে ভোটাররা আর বিএনপিকে ভোট দেবে না। তাই জয়লাভের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। জামায়াতে ইসলামের কর্মীরা আগে থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ৬ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৮ অক্টোবর। এরপর ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আসনটি ঠাকুরগাঁও সদর, নব গঠিত রুহিয়া ও ভূল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত। আর এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন।
এর আগে চলতি বছরের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দেলোয়ার হোসেন। ওই নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী দেলোয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল ৯৭ হাজার ৮১৯।
৩০ দিন আগে
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের মনের কথা প্রতিফলিত হয়েছে: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের মনের কথা প্রতিফলিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, তারেক রহমানের বক্তব্যকে আমি অভিনন্দন জানাই, আমি ধন্যবাদ জানাই। তিনি সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের অন্তরের কথা প্রতিধ্বনি করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংস্থা জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সেশনে।
তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের তিন প্রজন্মের যে ধারাবাহিকতা, সেটার তারেক রহমান প্রতিনিধি, তিন নম্বর প্রতিনিধি। তার বাবা ১৯৮০ সালে বক্তৃতা করেছেন, তার মা ১৯৯২ সালে বক্তৃতা করেছেন। আজকে তাদেরই জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান সেখানে বক্তব্য রেখেছেন।’
রিজভী বলেন, ‘বক্তব্য কী? বক্তব্য অন্য কিছু নয়, বলেছেন—অস্ত্রের বদলে, মারণাস্ত্রের বদলে, পরিবর্তনের হাতিয়ার হোক যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা আর মানবতা।
‘অসাধারণ বক্তব্য সেখানে দিয়েছেন। বলেছেন, প্রত্যেকটি দেশের সাথে প্রত্যেকটি দেশের সমমর্যাদার... সমমর্যাদার সাথে শ্রদ্ধাশীল সম্পর্ক থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা। এটা সারা বিশ্বের দাবি।
রিজভী আরও বলেন, ‘তিনি বাংলাদেশের মুসলিম... রোহিঙ্গা, যারা এখানে আজকে রিফিউজি হিসেবে আছেন, তাদের মর্যাদার ভিত্তিতে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়াও আরও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ নানাবিধ বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন তারেক রহমান।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘সারা বিশ্বের মানুষ শান্তি চায়, যুদ্ধ চায় না। যুদ্ধ হলে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, খাদ্য পণ্যের দাম বাড়ে, জ্বালানির দাম বাড়ে, গ্যাসের দাম বাড়ে। বিদ্যুৎ থাকে না, মিল-কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়, মানুষ বেকার হয়।’
তিনি বলেন, ‘বন্ধুরা আমার, কোনো ভয় পাবেন না, ঝড় আসুক, বাতাস আসুক। আমরা আজকে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে, আজকে যারা আগুন দিয়ে, গাড়ি পুড়িয়ে বাংলাদেশের যে এখানে এই গণতন্ত্রের যে ধারাকে যারা বন্ধ করতে চাচ্ছে, বন্ধুরা আমার, তার বিরুদ্ধেই জাতীয়তাবাদী ওলামা দল সেলিম রেজা, আবুল হোসেনের নেতৃত্বে এই প্রতিবাদ সমাবেশ এবং মিছিলের আয়োজন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে কোনো পাতানো নির্বাচন নয়, কোনো মিডনাইট নির্বাচন নয়, আমড়া কাঠের নির্বাচন নয়; অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বহুদিনের প্রত্যাশিত জনগণের ভোটে তারেক রহমানের সরকার, বিএনপির জোট সরকার ক্ষমতায়।’
রিজভী বলেন, ‘আমরা মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য, সামাজিক সুরক্ষার জন্য বিএনপির সরকার কাজ করছে। বন্ধুরা আমার, জাতীয়তাবাদী ওলামা দল সেই সরকারেরই একটি অংশ।
‘কাজেই বন্ধুরা আমার, এই দেশে দেশবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তির, তাদের কোনো অবস্থান নাই।’
তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে উপনিবেশ করতে চায়, যারা বাংলাদেশকে একটি তাবেদার রাষ্ট্র করতে চায়, জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এবং বিএনপি এর বিরুদ্ধে রাস্তায় রাস্তায়, মোড়ে মোড়ে, পথের প্রান্তরে কঠিন ব্যারিকেড গড়ে তুলবে।’
৩৩ দিন আগে
জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর কথা ভাবছে ইসি
স্কুলগুলোর বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু করা কঠিন হবে, তাই আগামী জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ভোটগ্রহণের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ তথ্য জানান।
ইসি আনোয়ারুল বলেন, ‘সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা হয়। সেটি বিবেচনায় নিয়ে আমরা তফসিল নির্ধারণ করব। ডিসেম্বরের মধ্যে এসব পরীক্ষা শেষ হলে ইনশাআল্লাহ জানুয়ারির দিকে নির্বাচন আয়োজন করতে পারব।’
এর আগে চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি), যার প্রথম ধাপে ১২ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল।
এরপর গত ১৭ সেপ্টেম্বর এ পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে কমিশন। সেখানে সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ইউপি নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না।
সভার পর নির্বাচন কমিশন জানায়, স্থানীয় নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করার আগে আরও আলোচনা করা হবে।
এদিকে সরকারের চাপে ইসি সম্ভাব্য নির্বাচনের তারিখ থেকে সরে এসেছে—এমন অভিযোগ নাকচ করেছেন ইসি আনোয়ারুল।
তিনি বলেন, ‘অনেকে অনেক কথা বলবে। কিন্তু আপনাদের কাছে কি মনে হয়েছে যে ইসি কারও চাপে এ পর্যন্ত কোনো কাজ করছে? নির্বাচন কমিশন বাস্তবতাবিবর্জিত কোনো কাজ করে না, আইনের বাইরে যায় না, সংবিধানের বাইরে যায় না। সংবিধান, আইন ও বাস্তবতা বিবেচনায় আমরা কাজ করি।’
এছাড়া নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা সমীচীন নয় বলেও জানান আনোয়ারুল ইসলাম।
সেই সঙ্গে তিনি বলেন, স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয় এবং শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে জন্য নভেম্বর-ডিসেম্বরের পর ইউপি নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করছে কমিশন।
৩৪ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীকে অশোভন ভাষায় আক্রমণ করছে বিরোধীরা: রিজভী
বিরোধী দলের কিছু নেতা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অশোভন ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলগুলোর রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল প্রধানমন্ত্রীকে অশোভন ভাষায় আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এ সভার আয়োজন করে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১১ দলীয় জোট বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরোধিতা করছে। তবে সরকার বারবার স্পষ্ট করেছে, বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচি পালন, কথা বলা ও সরকারের কঠোর সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে।
বিরোধী দল আয়োজিত দুটি লংমার্চ কোনো বাধা ছাড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে বিরোধী দলগুলোকে তাদের কর্মসূচি পালন ও কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘তারা কথা বলুক। এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমাদের আপত্তি অন্য জায়গায়।’
রিজভীর মতে, গণতন্ত্রের অর্থ এই নয় যে কেউ যা ইচ্ছা তাই বলতে পারবে। তিনি বলেন, ‘যা বলবেন, সত্য বলবেন।’
তিনি আরও বলেন, বিরোধীরা সংকট নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে পদত্যাগ করবেন, সে বিষয়ে এক-দুই দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।
রিজভী বলেন, কিন্তু যখন সেটা ‘তুই-তুকারি’তে চলে আসে, তখন সেটা ফ্যাসিবাদের সংস্কৃতি।
প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে সম্বোধন করা নিয়ে এক বিরোধী নেতার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করা তার মতে ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ের সংস্কৃতির’ মতো।
তিনি আরও বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ও খালেদা জিয়াকে একই ধরনের ভাষায় সম্বোধন করতেন।
রিজভী জানান, এ ধরনের ভাষা নিয়ে তার সঙ্গে সাধারণ মানুষও গভীরভাবে বিরক্ত ও কঠোরভাবে সমালোচনামুখর ছিলেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোতে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি দেখতে পাওয়ায় বিএনপিকে এর জবাব দিতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের উত্তর দিতেই হবে। তবে সেই উত্তর অবশ্যই আমাদের বিরুদ্ধে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, সেই ভাষায় নয়। বরং মার্জিতভাবে কঠোর ও দৃঢ় ভাষায় কথা বলেছি।’
তিনি আরও বলেন, কঠোর সমালোচনা করলে, সেখানেও মার্জিত শব্দ ব্যবহার করা যায় এবং বিএনপি সেটিই করার চেষ্টা করছে।
এছাড়া শুধু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষা নয়, ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেও কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐক্য বা বোঝাপড়া থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ ফিরে এলে ‘গণতন্ত্রের কথা বাদই দিলাম, রাষ্ট্রই তো থাকবে না।’
৩৪ দিন আগে
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার-রিমান্ডে নেওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের
বাস ও ট্রেনে অগ্নিসংযোগ এবং সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি জানান।
সম্প্রতি এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দেওয়া একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, পাটওয়ারী দাবি করেছেন, তাদের দাবি মেনে নেওয়া হলে আর ককটেল বিস্ফোরণ হবে না।
এ সময় তিনি দাবি করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাস-ট্রেনে অগ্নিসংযোগে জড়িতদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে।
রাশেদ খান বলেন, ‘তিনি (নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী) এ কথা বলেছেন। তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাস-ট্রেনে অগ্নিসংযোগের সঙ্গে কারা জড়িত, সেই সত্য বেরিয়ে আসবে।’
সভায় বিরোধী দলগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, দেশে অরাজকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, সাত মাসের একটি সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চের নামে ‘পিকনিক স্টাইলে’ ছবি ও ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে দেওয়া হচ্ছে। ‘একদিকে জামায়াত ও এনসিপি লংমার্চের কর্মসূচি দিচ্ছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মাঠে নেমে অরাজকতা তৈরি করছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন জানান, বর্তমান বিএনপি সরকারকে একই সঙ্গে দুটি ভিন্নমুখী রাজনৈতিক শক্তিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যাদের একটিকে তিনি ‘হঠকারী’ এবং অন্যটিকে ‘ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
এর আগে গতকাল (সোমবার) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীতে এনসিপির মিছিল শেষে বক্তব্য দেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
১১ দলীয় জোট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সোচ্চার নয়—বিএনপি নেতাদের এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পাটওয়ারী বলেন, তারা রাজপথে মূল আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারসহ তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা রাজপথে রয়েছেন।
ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‘সরকার আমাদের প্রধান তিনটি দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর কোনো ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের সব ধরনের সুযোগ ও অপতৎপরতা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে তাদের কর্মী-সমর্থকদের পক্ষে রাজধানীতে নাশকতা বা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর কোনো সুযোগ থাকবে না।
৩৬ দিন আগে
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে তাদের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সংসদীয় সহযোগিতা, চীনা বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি, অবকাঠামো ও আঞ্চলিক যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতের সময় স্পিকারের হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে চীন দেশের উন্নয়নে ব্যাপক সহযোগিতা করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে প্রথম উদ্যোগ নেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নে অবদান রাখেন।
১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, সেই সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন ও অর্থ পাচারের কারণে দেশের জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন স্পিকার।
এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চান তিনি। এ সংকটের কারণে বাংলাদেশকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও জানান স্পিকার।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। মেগাপ্রকল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশে মাঝারি ও ছোট প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগও বাড়ছে।
বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের একটি উৎপাদনভিত্তিক কেন্দ্রে পরিণত করতে চীন সহযোগিতা করতে চায় বলেও জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন লজিস্টিক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর স্থাপন, রোহিঙ্গা সংকট ও জ্বালানি বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
৩৬ দিন আগে
জ্বালানির দাম বাড়ায় জনজীবন আরও দুর্বিষহ হবে: জামায়াত
জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে এমনিতেই দেশের মানুষ দিশেহারা। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। সংসারের ব্যয় মেটাতে মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনজীবনে নতুন সংকট তৈরি করবে এবং মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব শুধু মোটরযান ব্যবহারকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। জ্বালানি পরিবহন ও উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান উপাদান হওয়ায় এর দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদন ব্যয়, পণ্য পরিবহন ব্যয়, কলকারখানার উৎপাদন ব্যয় ও ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাড়বে।
জামায়াত নেতা বলেন, ‘ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এর বোঝা বহন করতে হবে সাধারণ জনগণকেই।’
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আগে সরকারের উচিত ছিল জনগণের ক্রয়ক্ষমতা, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির আয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা।
‘আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার দায় সরাসরি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই জনকল্যাণমূলক নীতি হতে পারে না,’ বলেন জামায়াতের এই নেতা।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আগে সরকারকে বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজা, ব্যয় কমানো, অপচয় ও অনিয়ম বন্ধ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অনিয়ম বন্ধ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুধু মূল্য বাড়িয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর আর্থিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়বে বলেও সতর্ক করেন জামায়াত নেতা।
তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে বারবার মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকারকে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।
৩৭ দিন আগে
ক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর: মাহ্দী আমিন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরকে ‘আড়ম্বর অনুষ্ঠান নয়, মানুষের জন্য কাজ’ এবং ‘ক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যেতে এক দিন, ফিরতে এক দিন। মাঝের মাত্র চার দিন। এক মুহূর্তও নষ্ট না করে, এই চার দিনেই একের পর এক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি এবং বাংলাদেশের স্বার্থে কূটনৈতিক ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে মাত্র ছয় দিনের সফর।
তিনি বলেন, সফরের আনুষ্ঠানিক সফরসঙ্গী ৩৫ জন। এর মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ১৫ জন। রয়েছেন নিরাপত্তা, মিডিয়া ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত অত্যাবশ্যকীয় ব্যক্তিরা।
‘আড়ম্বর অনুষ্ঠান নয়; মানুষের জন্য কাজ। ক্ষমতা প্রদর্শন নয়; বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা’ উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, এই সফর একই সঙ্গে পৃথিবীর ইতিহাসেও একটি বিশেষ মুহূর্ত।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর তাদের সন্তান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দাঁড়াবেন জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে। একই পরিবারের তৃতীয় প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বলবেন বাংলাদেশের মানুষের কথা, দেশের স্বার্থ, সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের আরও একটি অনন্য দিক রয়েছে উল্লেখ করে তার কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, ঠিক সেই জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির আসনে থাকবেন তারই সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘ দুই দশকের অনিঃশেষ ত্যাগ-সংগ্রাম ও আন্দোলন-গণঅভ্যূথান পেরিয়ে, গণতান্ত্রিক সরকার আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে। বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কণ্ঠ নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের দরবারে।
‘এটি শুধু একটি বিদেশ সফর নয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি শুধু জাতিসংঘে দেশকে তুলে ধরা নয়; এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার আন্তর্জাতিক বহিঃপ্রকাশ। এটি আবেগ, অনুভূতি ও আদর্শের ঐতিহ্য। এটি বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের সূচনা।
৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পাঁচ দিনের সফরে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বৈষম্য, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক কূটনীতি নিয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
তুরস্ক এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার পর প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন।
ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতির পর স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে তার জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা। সফরকালে তিনি হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন।
সফরের প্রধান আকর্ষণ হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন। তার বাংলায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
৩৭ দিন আগে