ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে এসেছেন। আপনাদের প্রাণের একটি আকুতি আছে। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এটা নিয়ে যাবেন এবং দলের যে পার্লামেন্টারি বোর্ড, সেই বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে।
রিজভী বলেন, আন্দোলনে আপনাদের ভূমিকা, বিগত ১৬-১৭ বছরের আন্দোলনে ভূমিকা, আপনাদের দক্ষতা এবং পার্লামেন্টে কথা বলার দক্ষতা এবং অন্যান্য সমস্ত যে যোগ্যতা থাকা দরকার, সবগুলো বিবেচনা করেই দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম বা পার্লামেন্টারি বোর্ড তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।
পার্লামেন্টারি বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেবে, তা সবাইকে মানার আহ্বান জানিয়ে এ বিএনপি নেতা বলেন, এটা (মনোনয়ন) আমি পেলাম না এবং ও পেল বলে এক ধরনের পরিবেশ তৈরি করা, বিশ্রি পরিবেশ তৈরি করা, এইটা করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আপনারা এই দলের জন্য অনেক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেছেন, অনেক বেদনা আপনাদের পোহাতে হয়েছে। সুতরাং দলীয় সিদ্ধান্ত আপনারা সবাই মান্য করবেন, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
তিনি জানান, আজ শুক্রবার থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হবে, চলবে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যেই তা জমা দিতে হবে।
ফরম সংগ্রহের জন্য সকাল থেকেই কয়েকশ নারী নেত্রী দলীয় কার্যালয়ে ভিড় জমান। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা। এ সময় উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রথম মনোনয়ন ফরমটি জেরিন দেলোয়ার হোসেনের হাতে তুলে দেন রিজভী। দ্বিতীয় ফরমটি তুলে দেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদের স্ত্রী ফাতেমা আসাদের হাতে।
এর আগে, গত বুধবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। সেখানে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ মে।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২১ এপ্রিল, বাছাই ২২-২৩ এপ্রিল এবং আপিল দায়েরের শেষ তারিখ ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭-২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। ১২ মে সংসদ সদস্যদের ভোটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনগুলো ৩০০টি সাধারণ আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার মাধ্যমে পূরণ করা হয়। যদি কোনো আসনে একের অধিক প্রার্থী থাকে তবেই সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে দলগুলো সাধারণত তাদের জন্য বরাদ্দকৃত আসনের সমান সংখ্যক প্রার্থী মনোনীত করে বলে ভোটের প্রয়োজন পড়ে না।
ইসির তথ্যমতে, ৩০০ আসনের আনুপাতিক হারে বিএনপি ও তার মিত্ররা ৩৬টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তার জোটসঙ্গীরা ১৩টি এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা ১টি আসন পাবেন।
আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।