রাজনীতি
সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন বিল-২০২৬ পাস
সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত কোনো ব্যক্তি বা সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করে বিদ্যমান আইনকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় সংসদে এ বিল পাস হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর স্থলাভিষিক্ত হবে।
নতুন বিলে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৮ ও ২০ ধারায় উল্লেখযোগ্য সংশোধনী আনা হয়েছে। এর ফলে সরকারের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মাধ্যমে কোনো সংগঠনের কেবল অস্তিত্বই নয়, বরং তার সম্পূর্ণ কার্যক্রম ও অনলাইন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
সংশোধিত ১৮ ধারা অনুযায়ী, কোনো সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলভুক্ত করার পাশাপাশি ওই সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সুষ্পষ্ট ক্ষমতা সরকারের থাকবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, কার্যকর শাস্তি নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মোকাবিলার জন্য ২০০৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনটি প্রণীত হয়েছিল। এই আইনে যৌক্তিক কারণে সন্ত্রাসবাদে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তাকে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তফসিলভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
তবে বিদ্যমান আইনে সংশ্লিষ্ট সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সুষ্পষ্ট কোনো বিধান ছিল না। এই ফাঁক পূরণ করে আইনটিকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। এর আগে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২০২৫ সালের ১১ মে ধারা ১৮ ও ২০ সংশোধনের লক্ষ্যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।
নতুন বিধান অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি, প্রকাশনা এবং মুদ্রণ সামগ্রী বিতরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া গণমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সব ধরনের অপপ্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ সত্তাগুলো কোনো ধরনের র্যালি, সভা, সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন বা জনসমক্ষে বক্তব্য দিতে পারবে না।
বিলে একটি ‘রদ ও হেফাজত’ ধারাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ রদ হয়ে যাবে, তবে ওই অধ্যাদেশের অধীনে গৃহীত সব কার্যক্রম নতুন আইনের অধীনে বৈধ বলে গণ্য হবে।
২৭ দিন আগে
ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড: প্রধানমন্ত্রী
‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে গত ১০ মার্চ দেশের ১৩টি জেলা এবং ৩টি সিটি করপোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।
নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) নির্বাচনি এলাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামীতে দেশের প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। আশা করছি সংসদ সদস্যের নির্বাচনি এলাকার দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্যদের ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে শিগগিরই তাদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
এদিন মাইক্রোফোনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৩০ মিনিট বিলম্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বেলা ১১টার দিকে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য চারটি প্রশ্ন তালিকাভুক্ত ছিল।
২৭ দিন আগে
শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য, ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে ৪৩টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সরকার বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য সেলিম রেজার (সিরাজগঞ্জ-১) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার তার নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা খাতের ৪৩টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে জাতির জন্য শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ মনে করে। একটি মানসম্মত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। নির্বাচনি ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে চলতি অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এটি সব উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
আজও মাইক বিভ্রাটের কারণে আধা ঘণ্টা দেরিতে বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর এবং মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্পিকার।
এমপি সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমমানের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে।
ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে ১ হাজার ৫০০টি প্রতিষ্ঠানে (মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়) ফ্রি ওয়াইফাই সংযোগ এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা এডু-আইডি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনি ইশতেহারে মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকারও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় কারিগরি স্কুল ও কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসায় বিনামূল্যে ওয়াইফাই চালু করা হবে। এছাড়া মাদ্রাসায় স্মার্ট ক্লাসরুম চালু, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, আইসিটি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল আগামী ৬ মাসের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ও ফ্ল্যাটার দিয়ে ডিজাইনিং, পাইথন প্রোগ্রামিং এবং এআইভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে সরকার।
২৭ দিন আগে
আগামী মাস থেকে জ্বালানির দাম বাড়ানোর চিন্তায় সরকার
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে চলমান সংকটে প্রয়োজনে আগামী মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নতুন করে সমন্বয়ের চিন্তাভাবনা করবে সরকার।
জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলামের এক জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে করা প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য একটি আইন আছে। সে আইন অনুসারে আমরা প্রতি মাসে দামের সমন্বয় করি। গত মাসে সমন্বয় করে দাম বাড়াইনি। আগামী মাসে আমরা দামের ওপর কাজ করছি। কাজ করে যদি সমন্বয় করে দেখা যায়, দাম বৃদ্ধি করা এখনই প্রয়োজন, তাহলে আমরা আলোচনা করে মন্ত্রিসভায় নিয়ে মূল্যবৃদ্ধির কথা চিন্তা করব।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের বিধিনিষেধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি তেলের প্রিমিয়াম এবং ফ্রেইট রেটে (জাহাজ ভাড়া) অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।
বর্তমান মজুদের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ টন ডিজেল মজুদ আছে, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার টন ডিজেল আসবে। অকটেনের মজুদ আছে ১০ হাজার ৫০০ টন এবং ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে আরও ৭১ হাজার ৫৪৩ টন। পেট্রোলের মজুদ বর্তমানে ১৬ হাজার টন এবং এপ্রিলের শেষ নাগাদ আরও ৩৬ হাজার টন দেশে পৌঁছাবে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। পাকিস্তান ৫০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কা রেশনিং ও কর্মঘণ্টা কমিয়েছে। ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপালও জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হলেও দেশের শিল্প কার্যক্রম, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে সরকার এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। কৃষকদের ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনগুলোকে কৃষক কার্ড ইস্যু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ রোধে সরকার সব জেলা প্রশাসনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র থেকে উপজাত হিসেবে প্রাপ্ত কনডেনসেট ব্যবহার করে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদন করা হচ্ছে।
অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযানের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪২টি অভিযানে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা হয়েছে। এ মামলায় ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযানে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত তেলের মধ্যে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ১৫৭ লিটার ডিজেল, ৩৬ হাজার ৪০৫ লিটার অকটেন এবং ৭৮ হাজার ৮৯৪ লিটার পেট্রোল রয়েছে।
এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী।
২৮ দিন আগে
হজযাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার: ধর্মমন্ত্রী
চলতি হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত, স্বাস্থ্যসেবা, ইমিগ্রেশন এবং প্রাক-যাত্রা সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদে ঢাকা-১৮ আসন থেকে নির্বাচিত সরকারি দলের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে হজ ক্যাম্পের সামনে আন্ডারপাস নির্মাণের কাজ চলায় হজ ক্যাম্প থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি ডেডিকেটেড ট্রাফিক রুট প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, হজযাত্রী, তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং হজ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাওলা রেলগেট ও সিভিল এভিয়েশন কমিউনিটি সেন্টারের নবনির্মিত রাস্তা দিয়ে হজ ক্যাম্পে প্রবেশ করবেন এবং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে বের হবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, একমুখী যানচলাচল ব্যবস্থার কারণে হজযাত্রীবাহী বাসগুলো নির্ধারিত কার্গো টার্মিনাল রোড দিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশ করবে।
স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে হজ ক্যাম্পের ভেতরে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবাসহ একটি সুসজ্জিত মেডিকেল সেন্টার চালু থাকবে। সেখানে মোট ১৯ জন চিকিৎসক, ১২ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, ১৪ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং ৪ জন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া জরুরি অসুস্থ রোগীদের স্থানান্তরের জন্য সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে।
ইমিগ্রেশন সুবিধার বিষয়ে কায়কোবাদ জানান, হজযাত্রীদের বোর্ডিং ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া হজ ক্যাম্পেই সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া সৌদি সরকারের সহায়তায় ‘মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ’-এর অধীনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই সৌদি ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হচ্ছে, যার ফলে সৌদি আরবে পৌঁছে হজযাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে না।
প্রাক-যাত্রা সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বোর্ডিং ও ইমিগ্রেশনের আগেই লাগেজ ট্যাগিং সম্পন্ন করা হয় যা হজযাত্রীদের ভ্রমণকে ঝামেলামুক্ত করে। বাংলাদেশ বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি যারা ‘মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ’-এর অধীনে এই বিশেষ সুবিধা উপভোগ করছে।
তদারকি ব্যবস্থার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে হজ ক্যাম্পে একটি ২৪/৭ কন্ট্রোল রুম বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের যাতায়াত ও ভ্রমণ ‘লাব্বাইক’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ট্র্যাক করা হবে। এছাড়া মন্ত্রী ও সচিবের নেতৃত্বে একাধিক মনিটরিং টিম নিয়মিত হজ ক্যাম্প ও বিমানবন্দরের সেবা পরিদর্শন করবেন।
তিনি আরও জানান, হজযাত্রীদের অভিযোগ ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য একটি ২৪ ঘণ্টা কল সেন্টার (১৬১৩৬) চালু থাকবে।
২৮ দিন আগে
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ১২ মে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ভোটের তফসিল আগামী ৮ এপ্রিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন আর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
রবিবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে একাদশ কমিশন সভা শেষে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরুদ্দিনের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইসি সচিব বলেন, ‘৮ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করা হবে। ভোট হবে ১২ মে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া, বাছাই এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় তফসিল ঘোষণার সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।’
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, ভোটে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে সংসদে নারী আসন বণ্টন করা হয়। সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোট দিয়ে থাকেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়া ভোট স্থগিত করা হয়েছিল। এছাড়া বগুড়া-৬ আসন তারেক রহমান ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন হবে। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনে আইনি জটিলতায় থাকায় ফল প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। আগামী ৯ এপ্রিল শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আসন পেয়েছে ২০৯টি। এছাড়া দলটির শরিক গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসন পেয়েছে।
অপরদিকে, ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে জামায়াতে ইসলামী বসেছে বিরোধী দলে। ভোটে তাদের জোটের শরিক এনসিপি ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি ও খেলাফত মজলিস পেয়েছে একটি আসন।
দুই জোটের বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন পেয়েছে একটি। বাকি ৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
ভোটের পরদিন (১৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনের ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, ভোটে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে সংসদে নারী আসন বণ্টন করা হয়। সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংসদে প্রনিধিত্বকারী দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোট করার বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দল ও জোটগতভাবে সংরক্ষিত আসনসংখ্যা চূড়ান্ত করার পর তফসিল হবে।
প্রাথমিক বন্টন অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৬, জামায়াত জোট ১৩ ও স্বতন্ত্র জোট ১ টি আসনে পেতে পারে।
২৯ দিন আগে
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করে সংসদে বিল পাস
সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে একটি বিল পাস হয়েছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এ প্রস্তাবটি বিল আকারে পাস হয়। এটি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পাস হওয়া প্রথম বিল।
‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ শীর্ষক এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
বিলের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবি এবং বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান বয়সসীমা দুই বছর বাড়িয়ে ৩২ বছর করা হয়েছে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, অপরিবর্তিত উচ্চতর বয়সসীমায় যেসব পদের নিয়োগ বিধিমালায় বয়সসীমা ইতোপূর্বে ৩২ বছরের বেশি (যেমন: ৩৫, ৪০ বা ৪৫ বছর) নির্ধারিত আছে, সেক্ষেত্রে আগের উচ্চতর বয়সসীমাটিই বহাল থাকবে। অর্থাৎ, এই আইনের ফলে কারও সুযোগ কমবে না।
প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের বয়সসীমা বাড়ানোর ফলে চাকরিপ্রার্থীদের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, শিক্ষিত বেকার যুবকদের দেশ গড়ার কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার পথ সুগম হবে এবং সর্বোপরি দেশের বেকার সমস্যার সমাধান হবে। বয়সসীমা বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত শ্রমবাজার এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) ইতোমধ্যে বিসিএসের সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর রেখে সার্কুলার জারি করেছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাই উক্ত অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করা প্রয়োজন।
৩০ দিন আগে
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি
গণসংহতি আন্দোলনের ‘প্রধান সমন্বয়কারী’র পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দলটির নেতারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাজধানীর হাতিরপুলে অবস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুর ১২টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী সমন্বয়ক আবুল হাসান রুবেল জানান, দেওয়ান আব্দুর রশীদ নীলুকে দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়ক করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দলের বিশেষ সাংগঠনিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত নীলু এ দায়িত্ব পালন করবেন।
৩১ দিন আগে
মির্জা আব্বাসকে কেবিনে স্থানান্তর
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নিউরোসার্জিক্যাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ১৯ দিন চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর কেবিনে স্থানান্তর করা হয় তাকে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। আজ সকালে আমি ভাবির (মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস) সঙ্গে কথা বলেছি। ধীরে ধীরে উনার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। আজই তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কেবিনেই চিকিৎসকরা উনাকে উন্নত ফিজিওথেরাপি দেবেন। যেহেতু ব্রেইনের জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছে, সেজন্য চিকিৎকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে উনার চিকিৎসা চলছে, চালিয়ে যেতে হবে। পুরোপুরি সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন মির্জা আব্বাসের পরিবারের সদস্যরা।
গত ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এর আগে, ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে মির্জা আব্বাসকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসার জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় নিউরোলজিস্টদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তখন তার মস্তিষ্কে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য অস্ত্রোপচারের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গত ১৫ মার্চ তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
৩২ দিন আগে
বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘সত্যকে মিথ্যা বানাতে দক্ষ’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। অন্যদিকে ‘মিথ্যা’ শব্দটিকে অসংসদীয় আখ্যা দিয়ে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে তা বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সপ্তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেন।
অধিবেশনে সভাপতিত্বে করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমরা কালকে চলে যাওয়ার পরে আমাকে ভালোবেসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটা কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে আমি একটি অসত্য কথা এখানে বলে গেছি। আমি এটা জানতে পারলাম।
তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, আসলে আল্লাহ তা’আলা তাকে অপূর্ব দক্ষতা দিয়েছেন। জাস্ট বোতল পরিবর্তন করে মেটেরিয়াল ঠিক রেখে তিনি সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে চমৎকারভাবে পরিবেশন করতে পারেন। এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানোর জন্যই আমি আজ দাঁড়িয়েছি।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ সময় হস্তক্ষেপ করে উল্লেখ করেন যে, পয়েন্ট অব অর্ডার বর্তমান বিষয় নিয়ে হওয়া উচিত, অতীতের কার্যবিবরণী নিয়ে নয়। তিনি বলেন, এই বিষয়টি গতকালই মীমাংসা হয়ে গেছে। এটি নতুন করে তোলার প্রয়োজন নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাব না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আরও বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা যদি গতকাল সংসদে উপস্থিত থাকতেন, তবে তখনই তাকে উত্তর দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ফ্লোর নিয়ে ডা. রহমানের শব্দচয়নের প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বিরোধীদলীয় নেতা দুটি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন। সেটা হচ্ছে ‘মিথ্যা’। এটা অসত্য বললে আমি আপত্তি করতাম না। আমি অনুরোধ করব, এটি এক্সপাঞ্জ করা হোক।
মন্ত্রী তার আগের দিনের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, তার কালকের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম বিরোধীদলীয় নেতা এখানে একটা অসত্য বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। রুল ৬২ অনুসারে বিরোধীদলীয় নেতাদের ওয়াকআউট করার অনেক পরে একজন বেসরকারি সদস্যের মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। সেটি আগে পঠিত বা উত্থাপিত হওয়া অসম্ভব। তাই আমি বলেছিলাম ওনার গতকালের বক্তব্য অসত্য ছিল।
জবাবে ডা. রহমান যুক্তি দেখান, বিভ্রান্তিটা এখানে। একই প্রস্তাব একজন স্বতন্ত্র সদস্য এনেছিলেন, যা গতকাল ভিন্ন নামে এসেছে। বিষয়বস্তু একই ছিল কিন্তু শুধু নাম বদলে গেছে। আমি আগেরটি জানতাম বলেই বলেছি, এখানে কোনও ভুল তথ্য দেইনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘মিথ্যা’ শব্দটি বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানালেও স্পিকার তাৎক্ষণিক কোনো রুলিং দেননি। বাংলাদেশের সংসদীয় রীতি অনুযায়ী ‘মিথ্যা’ শব্দের পরিবর্তে সাধারণত ‘অসত্য’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
এই উত্তেজনা মূলত গত ২৯ মার্চের একটি ঘটনা থেকে শুরু হয়। তখন বিরোধীদলীয় নেতা সংবিধান সংস্কার কাউন্সিলের বৈঠক নিয়ে একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়ে আরেকটি প্রস্তাব আনেন। সেই প্রস্তাবগুলো যখন মুলতবি ছিল, তখন গতকাল (বুধবার) সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের একই সনদ বাস্তবায়নের নতুন একটি মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করেন স্পিকার।
বিরোধী দল গত বুধবার সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে অভিযোগ করেছিল যে, সরকারের অনুকূলে তাদের মূল প্রস্তাবগুলো চেপে রাখা হচ্ছে। নতুন গৃহীত প্রস্তাবের ওপর আগামী রবিবার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
৩৩ দিন আগে