রাজনীতি
অন্য কোনো নামে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না: তথ্য উপদেষ্টা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অন্য কোনো নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রবীণ আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ গঠন হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সফট বা হার্ড আওয়ামী লীগ না। আমি আগেও বলেছি, এই নির্বাচনে (স্থানীয় সরকার নির্বাচন) বিএনপিও তো নাই, আছে কি? স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কি বিএনপি আছে? জামায়াত, এনসিপি আছে? নেই। এক সময় ছিল, মানে যে আইনটা মাঝখানে পরিবর্তিত হয়েছিল আওয়ামী লীগের সময়, সেখানে একটা নির্বাচনে দল ছিল, সেটা হচ্ছে চেয়ারম্যান বা মেয়র। তখনও কিন্তু মেম্বার এবং কমিশনার নির্বাচনে কোনো দল অংশগ্রহণ করত না। এখন এটা তুলে দেওয়া হয়েছে, মানে আমরা আগের জায়গায় চলে গেছি।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত কেউই অংশগ্রহণ করছে না। এটা হলো একদম নিশ্চিত কথা। আর দ্বিতীয় কথাটি হচ্ছে, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের একটা আলাপ মাঝে মাঝে কোথাও কোথাও দেখা যায়, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কর্মসূচি যত দিন নিষিদ্ধ আছে, তত দিন সে যে নামেই হোক না কেন, রিফাইন্ড হোক বা অন্য কোনো নতুন আওয়ামী লীগ, তৃণমূল আওয়ামী লীগ—যাই বলি না কেন, কোনো নামেই আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। এই জিনিসটা আমাদের বুঝতে পারতে হবে।’
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা সন্ত্রাস দমন অধ্যাদেশকে বর্তমান সরকার আইনে পরিণত করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তার মানে সরকারের অবস্থান হচ্ছে, সরকার মনে করে আদালত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি হবে না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দলটির কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকা উচিত। আমি আগের দিনই বলেছিলাম, এটা আসলে আদালতের এখতিয়ার।
৩৪ দিন আগে
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি: মির্জা ফখরুল
পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ শেখ মো. রেজাউল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি চালু করে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং সর্বোচ্চসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে এ পদ্ধতির আওতায় আনার জন্য নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।
গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল করিমের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই মুহূর্তে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বেতন বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা সরকারের কাছে নেই।
তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের অধীন নির্বাচিত কোনো জেলার সংসদ সদস্যগণ উক্ত জেলার পরিষদের উপদেষ্টা হবেন এবং তার পরিষদের কার্যাবলি সম্পাদনে পরামর্শ প্রদান করবেন।
৩৪ দিন আগে
পাচার হওয়া অর্থ ও অপরাধীদের ফেরাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চান বিরোধী দলীয় নেতা
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ এবং এ অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, পাচার হওয়া অর্থের মাত্র এক-নবমাংশ উদ্ধার করা গেলেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
শফিকুর রহমান বলেন, গত ১৫ বছরে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। কিন্তু সেই অর্থ কীভাবে ফেরত আনা হবে, সে বিষয়ে বাজেটে কোনো দিকনির্দেশনা নেই।
তিনি বলেন, ‘বাজেট ঘাটতি খুব বেশি নয়। পাচারকৃত অর্থের নয় ভাগের এক ভাগও যদি আগামী অর্থবছরে ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে আমাদের কোনো বাজেট–ঘাটতি থাকবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্পদের সঙ্গে কালপ্রিটদেরও (অপরাধী) ফিরিয়ে আনতে হবে। সম্পদ এল, আর কালপ্রিটরা থেকে গেল, তাহলে সঠিক শিক্ষা হবে না।’ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করে দ্রুততম সময়ে অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের আমীর বলেন, সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, সবার চিন্তাধারা এক হওয়া সম্ভব নয়। সবার চিন্তা একই রকম হলে এত লোকের বক্তৃতা বা এত সময় খরচের প্রয়োজন হতো না, দুই পক্ষ থেকে একজন করে কথা বললেই চলত। আমরা জনগণের ভালোবাসা এবং ভোটে নির্বাচিত হয়ে মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এই সংসদে আসার সুযোগ পেয়েছি। তাই প্রত্যেকেই নিজের বিবেক, মহান আল্লাহ এবং প্রিয় জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।
বাজেট অধিবেশনকে বছরের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সেশন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এর ভিত্তির ওপরই পুরো বছরটি কেমন যাবে তা নির্ভরশীল এবং সব সদস্য সেই দায়িত্ববোধ থেকেই বক্তব্য দিয়েছেন।
এ সময় তিনি প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্বদানকারী জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী এবং স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আবদুর রবের অবদানের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি ৯০-এর গণআন্দোলন, ২৮ অক্টোবর, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর এবং সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহিদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
নিজের দলকে একটি ‘কষ্টে ভোগা দল’ হিসেবে বর্ণনা করে শফিকুর রহমান বলেন, তাদের বুক থেকে এক এক করে ১১ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ১২ নম্বর জন হিসেবে কেবল তিনিই এখন জীবিত আছেন। ড. শফিকুর রহমান ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সব শহিদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী এবং ফ্যাসিবাদী আমলের ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান।
পিলখানায় বীর সেনাদের নির্মম হত্যাকাণ্ডকে জাতির সূর্য-বীর্যের জায়গায় আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তাদের শাহাদত কবুলের জন্য দোয়া করেন। সীমাহীন ত্যাগের মধ্য দিয়ে গঠিত এই সংসদকে ‘মজলুমের পার্লামেন্ট’ আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদ এমন কোনও আচরণ করবে না যা মজলুম দেশবাসীকে আঘাত করে, বরং এটি জাতিকে স্বপ্ন দেখাবে, ঐক্যবদ্ধ করবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।
তোষামোদের নয়, দায়িত্ব পালনের জায়গা
স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতা আপনার আছে; আমার নেই। এখানে আরও কয়েকজন আছেন যারা অতীতেও ছিলেন। আমরা বেশিরভাগই নবীন, আর নবীনদের অধিকার থাকে প্রবীণদের কাছ থেকে শেখার। কিন্তু আমরা মন্দটা শিখতে চাই না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শিখতে চাই ভালোটা। অতীতে এই সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিকে তোষামোদ করার জন্য গান হয়েছে, কবিতা হয়েছে, স্বপ্নবিলাস হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে এই সংসদে এটা হওয়া উচিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা তোষামোদের জায়গা নয়, এটা দায়িত্ব পালনের জায়গা। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জায়গা। দায়িত্ব পালন করা জায়গা। অনেক সময় ব্যক্তিকে খুশি করতে গিয়ে অন্যকে আমরা বেশি করে আঘাত করি। আমি প্রথম দিন অনুরোধ করেছিলাম, অতীতের ব্যাড কালচারকে (খারাপ সংস্কৃতি) আমরা চর্চা না করি; এই সংসদে দাঁড়িয়ে চরিত্র হনন যেন না হয়।’
বিরোধী দলের বক্তব্য ‘কুচি কুচি করে কাটার যন্ত্র’ ফেলে দেওয়ার আহ্বান
সংসদে বিরোধী দলের ওপর বারবার আক্রমণের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা চমৎকার টেনডেন্সি (প্রবণতা) আমি লক্ষ করেছি—সরকারি দলের প্রায় সব বক্তা বিরোধী দলের বক্তব্য কুচি কুচি করে কাটার পরে বলেন, এগুলো ছাড়েন। আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা দেশটা চালাই। ওই কুচি কুচি করার যন্ত্রটা আসুন আমরা ফেলে দিই। আমরা একটা বিউটিফুল, ওয়ানডারফুল কম্বিনেশন নিয়ে চলি।’
৩৫ দিন আগে
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোসহ বাজেটের বেশকিছু বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটের কয়েকটি বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহারের জন্য অর্থমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার সংশোধনীর প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সামনে তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নরমালি দাবিটা বিরোধী দল থেকে হয়ে থাকে। আমি আপাতত ফিজিক্যালি না হলেও মানসিকভাবে ওনাদের পাশে গিয়ে কথা বলতে চাই।’
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে ৪ লাখ এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই সীমা যথাক্রমে ৪ লাখ, সাড়ে ৪ লাখ এবং ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখেন সংসদ নেতা।
স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগের তথ্য প্রদর্শনসংক্রান্ত বিধান নিয়ে জনমনে ‘প্রশ্ন ও উদ্বেগ’ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জমি প্রকৃত মূল্যে নিবন্ধন না হওয়ার কারণে করদাতাদের হয়রানি কমাতেই এ বিধান আনা হয়েছিল। তবে অনেকেই এটিকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাই প্রস্তাবিত এই বিধান প্রত্যাহার করার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
করের আওতা বাড়াতে ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন ও সম্পত্তি নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবেও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলে এ প্রস্তাবও প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান সরকারপ্রধান।
৩৫ দিন আগে
যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এটিকে ‘দেশের পানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে’ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সংসদ নেতা বলেন, নদী, খাল ও সেচ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় পানি। সংসদ সদস্যরা নিয়মিত পদ্মা ও তিস্তা নদী নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি।
সারা বছর কৃষির জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা হবে। যেন পুরো শুষ্ক মৌসুম এবং বছরের অন্যান্য সময় কৃষি ও প্রয়োজনীয় খাতে সেই পানি সরবরাহ করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তঃনদী সংযোগের অভাবে বাংলাদেশ ভুগছে। এর ফলে অনেক নদীর নাব্যতা হারিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সেচ ও পানির সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি এমন এলাকা পরিদর্শন করেছি, যেখানে বর্ষায় চারদিকে পানি থাকলেও অল্প দূরের কৃষকরা পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারেন না। তবে এই সমস্যা সমাধানে দেশব্যাপী নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, পানি প্রবাহ, সেচব্যবস্থা এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা যাতে উন্নত করা যায়, এ লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি চলছে। গত তিন মাসে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন করা হয়েছে।
কৃষকদের জন্য সরকারের সহায়তার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের অন্যতম প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ এবং তার সুদ মওকুফ করা। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা এবং অন্তত ১০টি অতিরিক্ত সেবা পাবেন।
তার ভাষ্য, ‘আমরা কৃষকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি।’
যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সেবার পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা সহজলভ্য করতে এবং বিদেশে তাদের ভোগান্তি কমাতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট এ অধিবেশনে প্রথমে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন।
৩৫ দিন আগে
সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বস্তির কথা ভেবে ‘জীবনবান্ধব’ বাজেট করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ নামে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এমন একটি বাজেট আমরা উপস্থাপন করতে চেষ্টা করেছি, যাতে করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ কিছুটা হলেও যাতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে।
সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টাদশ দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আজ সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতেই বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা তারেক রহমান বক্তৃতা করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে বাজেট উপস্থাপন করছি, এই বাজেটকে আমি একটি নামকরণ দিতে চাই। সেটি হচ্ছে জীবনবান্ধব বাজেট।’
এবার সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পরে নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি দাবি করে তারেক রহমান বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় যেসব জিনিস আছে, এরকম ৬১টি পণ্যের ওপর বলা যায় সম্পূর্ণভাবে আগে যা ট্যাক্স ছিল, সেগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা অতীতে খেয়াল করেছি যে বাজেট উপস্থাপনের আগে এবং পরে অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়া বেড়ে যেত। তবে আল্লাহর রহমতে এ বছর আমরা সেরকম কোনো দৃশ্য দেখিনি। একটি রাজনৈতিক সরকার হিসেবে আমরা মনে করি, আমাদের জনগণের প্রতি যে দায়িত্ব, তার একটু হলেও আমরা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি; কিছুটা হলেও জনগণকে স্বস্তি দিতে পেরেছি।
সংসদ নেতা বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ার পর আমরা বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করেছি। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, কোথাও ঐকমত্য হয়েছে, কোথাও মতভেদ হয়েছে। কিন্তু তারপরও আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা দেশের মানুষের সামনে একটি আশার আলো তুলে ধরতে পেরেছি।
৩৫ দিন আগে
‘সবকিছু দলের সঙ্গে একীভূত করেন কেন’, আদ্-দ্বীন প্রসঙ্গে জামায়াতকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, অক্সিজেনের অভাব ও চরম অবহেলার কারণেই আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এ সময় হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধী দল জামায়াত ইসলামীর সমালোচনার কড়া জবাব দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ছয়টা শিশু যখন হাত-পা বাইরে বের করে বাঁচার জন্য কাঁদছিল, সেই হাইপারক্যাপনিয়ায় কর্তৃপক্ষ এসি বন্ধ করে দিয়েছে; ঘরে জানালা নেই, কোনো অক্সিজেন নেই। ১৬-১৭ জন মানুষ, মায়েরা কাঁদছেন, ছোটাছুটি করছেন; একজন চিকিৎসকও আসেননি। সেই বাচ্চাগুলো ছটফট করতে করতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের জন্য মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।
বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা কোভিড টাইমে ইউনাইটেড হসপিটালে ও বার্ন ইউনিটে আগুনের ঘটনার কথা বলেছেন। আমি তাদের সঙ্গে একমত; ওগুলো ছিল দুর্ঘটনা, বিদ্যুতের কারণে। কিন্তু আদ্-দ্বীনে যে ঘটনা ঘটেছে, আপনারা কেউ সেখানে যাননি। আজকে সংসদে কথা বলেন।’
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর হাসপাতালের মালিক দেখতে পর্যন্ত যাননি। কিন্তু তিনি নিজে পরের দিনই সেখানে গিয়েছেন এবং চিকিৎসকেরা তার কাছে অবহেলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আজকে অনেক সংসদ সদস্য বলেছেন, ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় তারা ডায়ালাইসিস করান। সত্য। কিন্তু মাথাব্যথায় কি মাথা কেটে ফেলা যায়? না, কাটা যায় না। আমরা লাইসেন্স স্থগিত করেছি, হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিইনি।’
বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রতিটি জিনিসকে কেন নিজেদের দলীয় আদর্শের সঙ্গে একীভূত করেন? দলীয় আদর্শ দিয়ে দেশের বিরোধিতা করা যায় না, যা করেছিলেন ১৯৭১ সালে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি অবশ্যই আমার দেশের দিকে দেখব। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী, আমি অবশ্যই আমার দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের ভালো দেখব। বাচ্চাগুলো মারা যাবে বিনা চিকিৎসায়, আমি ডাক্তারের কথা শুনেছি, আমি পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি।’
হাসপাতালের ভেতরের চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যেখানে হাসপাতালের অনুমতি নেওয়া হয়েছে, সেই ছয়তলার মধ্যে একটা বেকারি কারখানা করা হয়েছে। গন্ধে ঢোকা যায় না। এমন স্তূপ, প্লাস্টিকের বর্জ্য যে আগুন লাগলে কোনো রোগী বা অভিভাবক বাঁচতে পারবেন না। মালিকের অবহেলার কারণে, তার একগুঁয়েমির কারণে পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন করে তার স্ত্রীকে চিফ এক্সিকিউটিভ করা হয়েছে।
এই অবস্থায় সরকার বসে থাকতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সব হাসপাতালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চাই। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে দেশের ১৮ কোটি মানুষ। মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের মূল্য সরকারকে দেখতে হবে।’
৩৬ দিন আগে
শিক্ষার্থীদের যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে ওঠার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
শিক্ষার্থীদের যোগ্য, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়ায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের সম্মানে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
গণসাক্ষরতা অভিযানের সহযোগী সংস্থা ‘সুরভী’র মাধ্যমে অংশ নেওয়া সুবিধাবঞ্চিত ২১ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। এছাড়া কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আইন বিভাগের ২৯ জন শিক্ষার্থী এবং তেজগাঁও কলেজ ডিবেটিং সোসাইটির ১৬ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
৩৬ দিন আগে
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং না হলে ১০৮টি আসন পেত জামায়াত: গোলাম পরওয়ার
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেছেন, বিএনপি ও তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর কারণে জামায়াত ভোটে প্রত্যাশিত ফল পায়নি। এ ধরনের প্রভাব না থাকলে দলটি ১০৮টি আসন পেত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের’ দাবিতে আয়োজিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে আয়োজিত এ সমাবেশের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য, ময়মনসিংহ বিভাগ।
সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে মিলে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের হারিয়েছে। তা না হলে আমরা ১০৮টি আসন নিয়ে সংসদে যেতাম। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, রাজনৈতিক সংঘাত, দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বার্থে আমরা নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি।
তিনি বলেন, আজ গণভোটের রায় কার্যকর না করলে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চলবে। যদি বিএনপি সেই বিপদজনক পথে হাঁটে এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ৭০ ভাগ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করে, তাহলে যে পথে শেখ হাসিনা গেছেন, সেই পথেই তারেক রহমান যাবেন।
এ সময় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকুন। আমরা মানুষের অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরব ইনশাল্লাহ।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেন, কৃষক কার্ড আর ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে দেশের ৭০ ভাগ মানুষের ভোটের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চাইলে যে পথে শেখ হাসিনা গেছেন, সেই পথেই তারেক রহমান যাবেন।
তিনি বলেন, গণভোটে দেশের ৭০ ভাগ মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। আমরা তার শান্তিপূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। বর্তমান সরকার যদি তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, আর যদি বিএনপি ও তারেক রহমান পাকিস্তানি স্বৈরশাসক ও ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার মতো জনগণের ভোটাধিকার হরণের পথে হাঁটে, তাহলে তাদেরও ভিন্ন পরিণতি হবে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঞা বলেন, দেশ পরিচালনায় বিএনপি বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। গণহত্যার বিষয়ে তাদের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। তেল, বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি চীন ও মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে দেশের জন্য কী নিয়ে এসেছেন, তা দেশের মানুষকে জানাতে পারছেন না।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ১১ দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
৩৭ দিন আগে
ভারতের দালালি করলে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর চীনে হতো না: রাশেদ খান
ভারত আমাদের প্রতিবেশী, বন্ধু রাষ্ট্র হতে পারে, কিন্তু তাদের কোনোরকম দাদাগিরি এদেশের জনগণ বরদাশত করবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খান।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
রাশেদ খান বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, গত ১৮ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে ভারতের একটি ‘করদরাজ্য’ হিসেবে পরিচালনা করেছিল। আর এই অতি-নির্ভরশীলতার কারণেই বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগতভাবে চীনের মতো উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারেনি।
বর্তমানে বিএনপির বিরুদ্ধে ওঠা ভারতের দালালির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, ‘যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে যে বিএনপি ভারতের দালালি করছে, তারা আজ ভুল প্রমাণিত। বিএনপি যদি সত্যিই ভারতের দালালি করত, তবে সরকার প্রধানের প্রথম সফর ভারতে হতো, চীনে নয়। বিএনপি কোনো দেশের দালালি করে না—না ভারতের, না পাকিস্তানের।’
শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতার পাকিস্তান সফর ও লাল গালিচা সংবর্ধনা পাওয়ার বিষয়টি টেনে তিনি বলেন, আজ শিবিরের নেতারা পাকিস্তান থেকে সংবর্ধনা নিয়ে এসে বিএনপিকে ভারতের দালাল বলছেন। তাহলে দেশের মানুষ কি ধরে নেবে আপনারা পাকিস্তানের দালাল?
বিজিবির প্রশংসা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিজিবি সীমান্তে আগের চেয়ে অনেক বেশি সাহস ফিরে পেয়েছে। পুশ-ইন ইস্যুসহ যেকোনো পরিস্থিতিতে এখন সীমান্তে চোখে চোখ রেখে জবাব দেওয়া হচ্ছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন এই নেতা। জামায়াত নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘যারা টানা ১৭ বছর নিজেদের দলীয় কার্যালয়ের তালাই খুলতে পারেননি, তারা আজ সরকার পতনের বড় বড় হুমকি দিচ্ছেন!’
পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহর দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেওয়া চ্যালেঞ্জের জবাবে রাশেদ খান প্রশ্ন তোলে বলেন, ‘হাসনাত আবদুল্লাহ সংসদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন। কিন্তু এই সরকারের আমলে তিনি নিজের এলাকার জন্য সমস্ত সরকারি বরাদ্দ নিয়ে গেছেন—এটা কি দুর্নীতি নয়?’
৩৭ দিন আগে