রাজনীতি
শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে বিএনপি
দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আগামী শনিবার রাতে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
জানতে চাইলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান আজ (বৃহস্পতিবার) ইউএনবিকে জানান, শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে শুনেছেন।
সর্বশেষ গত ১ আগস্ট রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছিল। সরকার গঠনের পর এটি হবে স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত ১৫ আগস্ট চারজন নতুন সদস্যকে জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে বিএনপি। নতুন সদস্যদের নিয়ে এবার প্রথম বৈঠক হবে।
নতুন সদস্যরা হলেন রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিহউল্লাহ।
৪৭ দিন আগে
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে সরেজমিন পরিদর্শনের সুপারিশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেও বিগত সরকারের সময় বৈষম্যের কারণে এমপিও সুবিধা থেকে বঞ্চিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাবোর্ডসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব অভিযোগ তদন্তে সংসদীয় কমিটির সরেজমিন পরিদর্শনের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া এমপিওভুক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার পরও বিগত সরকারের সময়ে বৈষম্যের শিকার হয়ে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সেগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে এমপিওভুক্তির বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে জ্ঞানভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও নৈতিকতাসম্পন্ন জাতি গঠনের লক্ষ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। শিক্ষা খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কমিটি আরও জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২৫ হাজার অবসরভোগী শিক্ষকের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে এবং এ বছর বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে।
কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া, মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, মো. জাহান্দার আলী মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মো. মুজিবুর রহমান ও আতিকুর রহমান মুজাহিদ অংশ নেন। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪৭ দিন আগে
এসআরবি বিল পাস, বিলুপ্ত র্যাব
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। এর ফলে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠনের পথ তৈরি হলো।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের তীব্র বিরোধিতার মধ্যেই জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিলটি পাস হয়।
২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ থেকে র্যাব-সংক্রান্ত বিধানগুলো বাদ দিয়ে এসআরবি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে এ বিলে। ওই অধ্যাদেশের ভিত্তিতেই র্যাব গঠনের আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছিল। সংশোধিত ওই অধ্যাদেশের অধীনে ২০০৪ সালে র্যাব গঠিত হয়। তার পর থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গুমের অভিযোগসহ বিভিন্ন সমালোচনার মুখে পড়ে বাহিনীটি।
এখন সরকার ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে এসআরবি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) জন্য পৃথক আইন প্রণয়ন করছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর সংসদে এসআরবি বিলটি উত্থাপন করা হয়। ওই সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিলটি উত্থাপনের বিরোধিতা করে বলেন, নতুন নামে কার্যত র্যাবকেই পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সংসদীয় কমিটিতে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময়ও তারা আটটি বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি দ্রুত বিবেচনার জন্য সংসদে তোলেন। কিন্তু বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর পাশাপাশি পাসের আগে জনমত নেওয়ার দাবি জানান।
আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন, মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, নুরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এস কে মুজিবুর রহমান ইকবাল।
বিলে পুলিশের অধীনে এসআরবি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মকর্তা, সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীকে প্রেষণে নিয়োগ বা পদায়নের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করা হবে।
এসআরবির সদস্যদের পদমর্যাদার কাঠামো, নিয়োগপ্রক্রিয়া ও চাকরির শর্তাবলি বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। ইউনিটটির নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও নির্ধারিত পোশাক থাকবে।
এছাড়া এসআরবির মহাপরিচালক হবেন কর্মরত কোনো পুলিশ কর্মকর্তা, যার পদমর্যাদা অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) নিচে হবে না।
বিল অনুযায়ী, র্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংক স্থিতি, দায়-দায়িত্ব, চুক্তি, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার, নথিপত্র ও অন্যান্য দলিল এসআরবির কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নতুন আইনের অধীনে বিধি প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত ২০০৫ সালের বিধির আওতায় র্যাব-সংক্রান্ত বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম ও আদালতের কার্যক্রম বহাল থাকবে।
এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও সম্পত্তি জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হবে। ইউনিটটির অধীনে হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখারও বিধান রয়েছে।
এছাড়া নাগরিকদের অভিযোগ ও ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। ইউনিটটির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ও গুমের ঘটনায় কথিত সম্পৃক্ততার কারণে মানুষ এখনও র্যাবকে ভয় পায়।
যথাযথ পরামর্শ ছাড়াই মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে বিলটি পাসের সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানান।
বিরোধীদলীয় এই সংসদ সদস্য আরও প্রশ্ন করেন, প্রস্তাবিত অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটির কাছে অভিযোগগুলোর যথাযথ প্রতিকার দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকবে কি না। তিনি কমিটির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের একজন সাবেক বিচারপতিকে রাখার প্রস্তাবও দেন।
তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কোথায় রাখা হবে, বিলটিতে তা স্পষ্ট করা হয়নি। এসআরবির সব স্থাপনা ও কার্যালয় গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করারও দাবি জানান তিনি।
নাজিবুর রহমান ২০১৪ সালের নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ওই ঘটনার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া র্যাব বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, পরে খালেদা জিয়া র্যাবকে ‘ক্যানসার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন এবং ২০২৪ সালে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে র্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিল। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক ব্যবস্থা, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও র্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিল।
তার মতে, র্যাবের জনবল, কার্যালয়, ক্ষমতা, নথিপত্র, সম্পদ, চুক্তি ও দায়-দায়িত্ব এসআরবির কাছে হস্তান্তরের অর্থ হলো ‘শুধু সাইনবোর্ড পরিবর্তন করা হচ্ছে’।
শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে র্যাব বিলুপ্ত করার দাবি ছিল। তবে একই ধরনের আরেকটি বাহিনী গঠনের দাবি কেউ করেনি।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত আইনে র্যাবের সদস্য, সুযোগ-সুবিধা, লজিস্টিকস ও জনবল বহাল রেখে শুধু নাম পরিবর্তনের বিষয়টি দেখা যাচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নেতা সরকারকে বিলটি প্রত্যাহার করে প্রথমে এ ধরনের একটি বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা কেন রয়েছে, তা নির্ধারণের আহ্বান জানান।
বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করা বিএনপির অঙ্গীকার ছিল। বিলটি বিলম্বিত করার অর্থ হবে র্যাবের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা।
তিনি আরও বলেন, সংসদীয় কমিটিতে বিলটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে জনমত দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও এটি রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ইউনিটের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় অভিযোগের বিষয়গুলো অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি দেখবে।
তিনি আরও বলেন, আইনটি পাস হওয়ার পর র্যাব বিলুপ্ত হবে এবং এরপর এসআরবি নামে নতুন একটি ব্যাটালিয়ন গঠন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে র্যাবের কাছে থাকা সম্পদ ও সরঞ্জাম কোথাও না কোথাও হস্তান্তর করতেই হবে, কারণ এগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। নতুন সংস্থার কাছে এসব হস্তান্তর করা হলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নতুন করে কেনাকাটা করতে হবে না বলেও জানান তিনি।
এপিবিএন বিলও পাস
এসআরবি বিল পাসের পর জাতীয় সংসদ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬-ও পাস করেছে। এর মাধ্যমে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।
বিলে পুলিশের অধীনে এপিবিএন ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, পার্বত্য ব্যাটালিয়ন, বিমানবন্দর ব্যাটালিয়ন ও সরকার নির্ধারিত অন্য যেকোনো ব্যাটালিয়ন থাকবে।
প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রযোজ্য অন্যান্য আইনের অধীনে থেকে তারা কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, সম্পত্তি জব্দ ও গ্রেপ্তারও করতে পারবে।
এছাড়া উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া এপিবিএনের সদস্যদের সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম বা সংবাদপত্রে কোনো তথ্য বা নথি প্রকাশ করা কিংবা প্রকাশে সহায়তা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো ও জনমত নেওয়ার বিষয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে এপিবিএন বিল পাস হয়।
৪৮ দিন আগে
আইন অনুযায়ী যোগ্য যে কেউ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন: প্রতিমন্ত্রী
দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় আইন অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা যেকোনো বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠক করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হলে বিএনপির অবস্থান কী হবে, এমন প্রশ্নে মীর শাহে আলম বলেন, ‘এখানে তো আওয়ামী লীগ হিসেবে নির্বাচন করছে না। দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগই নেই। কারণ দলীয় মনোনয়নও থাকছে না, দলীয় প্রতীকও থাকছে না।’
তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে দল-সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। উপজেলা বিএনপি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে একজন সমর্থিত প্রার্থী ঠিক করে দিতে পারে। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকেও স্থানীয় বিএনপিকে সব ইউনিয়নে একক সমর্থিত প্রার্থী রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি কোনো আলাদা অবস্থান নেবে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভূমিকা থাকবে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা।
তিনি বলেন, ‘দলীয়ভাবে নির্বাচন হচ্ছে না। বৈধ প্রার্থী হিসেবে যারা নির্বাচন করবে, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং তারা যাতে সঠিকভাবে প্রচার প্রচারণা চালাতে পারে, সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন সহযোগিতা করবে।’
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের বার্তা কী, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের মেসেজ ক্লিয়ার। যেহেতু এটা দলীয় নির্বাচন না, এই নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে যাদের যোগ্যতা আছে আইন অনুযায়ী সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবে।’
৪৮ দিন আগে
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন ২৯ অক্টোবর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার তিন সপ্তাহর মাথায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর এ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে জ্যেষ্ঠ ইসি সচিব আখতার আহমেদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৭ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর।
প্রতীক বরাদ্দ ৮ অক্টোবর এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ অক্টোবর।
গত ২০ অগাস্ট জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির এ প্রার্থী পরদিন শপথ নিলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়।
৪৮ দিন আগে
সংসদে আরও একটি কমিটি গঠন, পুনর্গঠিত দুটি
অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে এ পর্যন্ত গঠিত সংসদীয় কমিটির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬টিতে।
হবিগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়াকে সভাপতি করে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এই কমিটি গঠন করা হয়।
এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয় ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত দুটি বিদ্যমান সংসদীয় কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়েছে। এতে দুটি কমিটির কয়েকজন সদস্যের পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এদিন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি একটি কমিটি গঠন ও বিদ্যমান দুটি কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেন। পরে সংসদে কণ্ঠভোটে তার প্রস্তাবগুলো পাস হয়।
জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ৩৯টি ও বিষয়ভিত্তিক কমিটি ১১টি। তবে এই ৫০টি সংসদীয় কমিটির মধ্যে এ পর্যন্ত ৪৬টি গঠন করা হয়েছে।
৪৮ দিন আগে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ না থামলে জ্বালানি সংকট নিরসন সম্ভব নয়: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে দেশের জ্বালানি সংকট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব নয়। তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘গ্যাসের সংকট আছে, জ্বালানির সংকট আছে। এই সংকট তো আন্তর্জাতিক সংকট। একক কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে এই মুহূর্তে এ সংকট নিরসন করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমেরিকা এবং ইরানের যুদ্ধ থামে।’
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর দিয়ে তেল পরিবহনের বড় একটি পথ রয়েছে। সেখানে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস আনার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্যাস আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্যাসবাহী কার্গো আসছে।
তিনি বলেন, মহেশখালীর গভীর সমুদ্রের টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। ত্রুটি মেরামতের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
রিজভী বলেন, জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার প্রয়োজনে আরও ভর্তুকি দিয়ে গ্যাস ও জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা করছে। এ জন্য আরও ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
দেশের মূল্যস্ফীতি কমেছে দাবি করে তিনি বলেন, আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে। বর্ষা শেষে শরৎকালে সাধারণত খাদ্যপণ্য, শাকসবজি, চাল-ডাল ও লবণের দাম বাড়লেও সরকারের বাজার হস্তক্ষেপের কারণে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম তেমন বাড়েনি।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। মানুষের সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যের মধ্যে ইতোমধ্যে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সরকার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে রিজভী বলেন, কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন সেখানে বাংলাদেশের শ্রমিকরা যেতে পারবেন।
‘একটি জাতির কর্মসংস্থান যদি সামগ্রিকভাবে নিশ্চিত হয়, তাহলে সেই জাতি চূড়ান্ত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যায়’ মন্তব্য করে এক্ষেত্রে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন রিজভী।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পরিবারের নারী অভিভাবককে দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের সার্বিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নারীরা হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন। ফলে তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া পরিবারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রিজভী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেটি বিএ ও বিএ (অনার্স) পর্যন্ত অবৈতনিক করার ঘোষণা দিয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীরা যদি ক্ষমতায়িত না হয়, নারীর ক্ষমতায়ন যদি না হয়, তাহলে সভ্যতা সম্পূর্ণ হয় না—এই দর্শনকে মাথায় রেখেই শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৪৮ বছর আগে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই দর্শনকে ধারণ করেই জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এগিয়ে এসেছে এবং তারা সামনের দিকে অগ্রসর হবে।
রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল দেশের অন্যতম শক্তিশালী নারী সংগঠন। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংগঠনটি প্রতিবাদ করেছে এবং নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, মতপ্রকাশের কারণে রাতে নারীদের গ্রেপ্তার করা হলে কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীরা সংশ্লিষ্ট পরিবারের পাশে ছুটে গেছেন। খাদিজা, মিতু, নুসরাত, রূপাসহ অসংখ্য নারী নির্যাতনের ঘটনায় সংগঠনটি রাজপথে প্রতিবাদ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ সময় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় উল্লাস প্রকাশকারীদের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, যারা নারীদের ওপর হামলা চালায় এবং এ ঘটনায় উল্লাস করে, তারা ‘কাপুরুষ’ ও ‘বর্বর’।
তিনি বলেন, ‘যে মহিলা জুলাই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান রেখেছেন, তার ওপর আঘাত করা—এটা সবচেয়ে ঘৃণ্য, নিকৃষ্টতম কাপুরুষোচিত কাজ।’
ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানান রিজভী। তিনি বলেন, সংসদেও সব দল মিলে এ ঘটনার প্রতিবাদ করেছে।
৪৯ দিন আগে
চক্রান্তকারীরা আমাদের ধর্মীয় সম্প্রীতি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, যুগ যুগ ধরে চলে আসা বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের অটুট বন্ধন ভেঙে দিতে নানা ধরনের শক্তি ও চক্রান্তকারীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই সম্প্রীতির বন্ধন কোনোভাবেই নষ্ট হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘আমাদের এই মৃত্তিকার গভীরে আছে আমাদের সম্প্রীতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, আমাদের ভ্রাতৃত্ব। আমরা একে অপরের সঙ্গে আদান-প্রদানের মাধ্যমে প্রত্যেকেই একটি জাতিসত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘নানা ধরনের শক্তি এবং নানা ধরনের চক্রান্তকারীরা আমাদের এই অটুট বন্ধন, ভ্রাতৃত্বের অটুট বন্ধন ও মেলবন্ধনকে ধ্বংস করার জন্য, এটাকে ভেঙে দেওয়ার জন্য নানা প্রচেষ্টা চালায়।’
তবে এসব ষড়যন্ত্রের মধ্যেও দেশের মানুষ সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ রয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর মানুষ একসঙ্গে কাজ করে এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সম্প্রীতি রক্ষা করে।
তিনি বলেন, ‘আমরা একে অপরের পূজা-পার্বণে, ঈদ-মিলাদুন্নবীতে প্রত্যেকেই অংশগ্রহণ করি এবং প্রত্যেকেই সেই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করি।’
এই সম্প্রীতির অটুট বন্ধন যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘এটা একসঙ্গে সেই বন্ধন চর্চিত হবে, লালিত হবে এবং এই কারণেই আমাদের যে জাতীয় দর্শন—বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, সেইটাই আমাদের ধারণ করায়।’
তিনি বলেন, এই জাতিসত্তার একটি দার্শনিক রূপ দিয়েছেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান—‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। এই দর্শনের কাঠামোর মধ্যে প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায় এবং বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মানুষের সমান জায়গা রয়েছে।
তার ভাষ্য, ‘প্রত্যেকেরই এখানে আসন পেতে পারে। প্রত্যেকেরই এখানে জায়গা আছে। প্রত্যেকেই নিজে গর্বভরে বলতে পারে যে আমরা বাংলাদেশি। এই গর্বভরে বলার যে দার্শনিক তত্ত্বটা, সেটা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যুগ যুগ ধরে, হাজার বছর ধরে একই সমাজে, একই গ্রামে, একই মহল্লায় বসবাস করেছি।’
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বেও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অনেকে দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। তবে তারা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং বিএনপিতে গোটা জাতির নেতৃত্ব দেন। ‘তাদের হয়তো একটা ধর্মীয় পরিচয় আছে, এটা বড় বিষয় নয়।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, দলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কীর্তিমান সংগঠক, সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, দীর্ঘদিনের রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন। ‘তো এই সব মিলিয়ে আমাদের এই চমৎকার ফুলের ডালিটা, আমরা এটাকে রক্ষা করব।’
হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, প্রত্যেকটি উপাসনালয়ে মানুষ আত্মিক মুক্তির জন্য যায়। এসব দেবালয় ও উপাসনালয় যাতে সমৃদ্ধ ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হয় এবং পূজারি ও ভক্তরা সেখানে গিয়ে সুন্দরভাবে প্রার্থনা ও আরাধনা করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই ট্রাস্ট কাজ করবে।
তিনি বলেন, ট্রাস্টের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তি। তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ভালোভাবে দেখবেন, পর্যালোচনা করবেন এবং পরিচালনা করবেন—এই উদ্দেশ্যেই ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে।
রিজভী বলেন, ‘সেই লক্ষ্যে যে তিনটি সম্প্রদায়ের ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে, আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে কামনা করি, এই ট্রাস্ট স্ব স্ব সম্প্রদায়ের প্রত্যেকটি বিষয়, তাদের নিজস্ব যে সমস্ত করণীয় আছে, সে করণীয়গুলো তারা করবেন, তারা সেটি দেখবেন এবং সেটিকে পূর্ণতা দান করার জন্য সচেষ্ট থাকবেন।’
তিনি আবারও বলেন, দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের এই বন্ধন কোনো চক্রান্তেই ভেঙে দেওয়া সম্ভব নয় এবং তা যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে।
৫০ দিন আগে
আরও ৪ সংসদীয় কমিটি গঠন
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আরও চারটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে এ পর্যন্ত গঠিত সংসদীয় কমিটির সংখ্যা দাঁড়াল ৪০টিতে।
নবগঠিত চারটি কমিটি হলো—কার্যপ্রণালি বিধি-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি, সরকারের প্রতিশ্রুতি-সম্পর্কিত কমিটি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং পিটিশন কমিটি।
কার্যপ্রণালি বিধি-সম্পর্কিত কমিটি ও পিটিশন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে। অন্যদিকে সরকারের প্রতিশ্রুতি-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে (নোয়াখালী-১) এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিএনপির সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশাকে (বগুড়া-৬)।
প্রথম তিনটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। আর পিটিশন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
পরে সংসদে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবগুলো পাস হয়।
জাতীয় সংসদে ৫০টি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩৯টি স্থায়ী কমিটি ও বিষয়ভিত্তিক ১১টি কমিটি রয়েছে।
এ পর্যন্ত ৪০টি সংসদীয় কমিটি গঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩১টি স্থায়ী কমিটি ও বিষয়ভিত্তিক ৯টি কমিটি রয়েছে।
৫০ দিন আগে
সরকার ৩ চাকার বৈদ্যুতিক যান নিয়ন্ত্রণে আনবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইকসহ আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ তিন চাকার বৈদ্যুতিক যানকে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু (সংরক্ষিত নারী আসন-৪) কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেওয়া নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তুলনামূলক কম ভাড়া, সহজলভ্যতা ও স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের সুবিধার কারণে গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও এ ধরনের তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান শহর ও গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, এ খাত চালক, মালিক, গ্যারেজ মালিক ও শ্রমিক, ব্যাটারি ও খুচরা যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী, চার্জিং সেবা প্রদানকারী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে একটি বড় অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থান নেটওয়ার্কও তৈরি করেছে।
তবে এ খাতের দ্রুত ও অনেকাংশে অনিয়ন্ত্রিত সম্প্রসারণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, যানজট, পরিবেশদূষণ, জনস্বাস্থ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক যানবাহন একই সময়ে চার্জ দেওয়ায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
মন্ত্রী এসব যানবাহনে ব্যবহৃত লিড-অ্যাসিড ব্যাটারি অনিরাপদভাবে ব্যবহার এবং নিয়ম না মেনে পুনর্ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এই বিপুল চাহিদার বিপরীতে দেশে বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। অন্যদিকে শুধু ঢাকাতেই অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে ৪৮ হাজারের বেশি। তিনি বলেন, এর ফলে অনুমোদনহীনভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সরকার বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
নিবন্ধনহীন যানবাহন, অপ্রশিক্ষিত চালক, ত্রুটিপূর্ণ নকশা, দুর্বল ব্রেক ও আলোকব্যবস্থা, অতিরিক্ত গতি এবং মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তার উল্লেখ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৯১১ জন নিহত ও ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ ছিল ব্যাটারিচালিত রিকশা।
রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে পরিচালিত রিকশার গ্যারেজের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) যৌথ অভিযানও পরিচালনা করছে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অটোরিকশাকে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হলে অনুমোদিত ও বৈধ অটোরিকশাকে নম্বর প্লেট দেওয়ার মাধ্যমে লাইসেন্সিং ব্যবস্থার আওতায় আনা, কিউআর কোডের মাধ্যমে চালকদের নিবন্ধন শনাক্ত করা এবং ধাপে ধাপে চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, সম্ভাব্য নির্দেশনার আলোকে অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া, রুট নির্ধারণ, চালক ও তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং আইন প্রয়োগ করা হবে। এসব পদক্ষেপ রাজধানীর যানজট কমাতে, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।
যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে রাজধানীর ১৭টি ট্রাফিক সিগন্যালে বর্তমানে ৫০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা চালু রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে এসব ক্যামেরা ইতিবাচক ফল দিয়েছে। রমনা ও তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের আওতায় আরও ২০০টি এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া ঢাকার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়েও ধীরে ধীরে আরও এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
রেহানা আক্তার রানু তার নোটিশে বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এআইভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপনের পর, বিশেষ করে রাজধানীর সড়কে ধীরে ধীরে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। লাল বাতি অমান্য করা, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লেন পরিবর্তন ও গতিসীমা অতিক্রমের মতো আইন লঙ্ঘনের ঘটনা কমেছে। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো এখনও নিয়ম না মেনে বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, এসব যানবাহনে নম্বর প্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরা সেগুলো শনাক্ত করতে পারলেও জরিমানা করা সম্ভব হয় না।
তিনি আরও বলেন, এসব বেপরোয়া যান নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই। অন্তত প্রধান সড়কগুলো থেকে এসব রিকশা সরিয়ে নিতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অটোরিকশার নকশার ত্রুটি দূর করে নম্বর প্লেট সংযোজন, চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ও লাইসেন্স দেওয়াসহ সবকিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আনার ওপর জোর দেন তিনি।
বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা এ খাতের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল পুরোপুরি বন্ধ না করে সরকারকে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা উচিত বলেও মনে করেন রানু। তিনি বলেন, জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা না করে তাদের যানবাহন জব্দ করে ফেলে দেওয়া এবং পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা ঠিক নয়।
জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারকেও শর্ত হিসেবে রাখা হবে এবং নিবন্ধন নম্বরের সঙ্গে যুক্ত ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে সংযোগ নিয়ে অবৈধ চার্জিং স্টেশন পরিচালনার কারণে রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে এবং এর সঙ্গে দুর্নীতিও জড়িত। যারা এসব অবৈধ চার্জিং কার্যক্রম পরিচালনা ও ব্যবহার করছে, তাদের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের কিছু কর্মকর্তাও এর সঙ্গে জড়িত বলেও মন্ত্রী অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, বেকারত্ব যাতে না বাড়ে, কর্মসংস্থান যাতে ব্যাহত না হয়, পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে, যানবাহনে শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি হয়—সরকার সব দিক বিবেচনায় রাখবে।
৫০ দিন আগে