ব্যবসা
ডিএসইর আরও ১৩ ব্রোকারেজ হাউজ পেল ফিক্স সার্টিফিকেশন
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) নিজস্ব অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) চালুর লক্ষ্যে এপিআই সংযোগের মাধ্যমে আরও ১৩টি ব্রোকারেজ হাউজকে ফিক্স সার্টিফিকেশন দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ডিএসই ট্রেনিং একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে এসব সার্টিফিকেশন দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ফিক্স সার্টিফিকেশন তুলে দেন ডিএসই'র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। বলেন, ‘যে ১৩টি ব্রোকারেজ হাউজ ফিক্স সার্টিফিকেশন গ্রহণ করেছে, তাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে যেসব ব্রোকারেজ হাউজ এখনও সার্টিফিকেশনের আওতায় আসতে পারেনি, তাদের সহযোগিতা করার জন্য ডিএসই কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। চলমান পরিবর্তনগুলো বাজারকে ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নিচ্ছে।’
যেসব ব্রোকারেজ হাউজ সার্টিফিকেশন পেল
এপেক্স ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইবিএল সিকিউরিটিজ পিএলসি, গ্রীনডেল্টা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড, ইসলামি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ওয়ান সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এসবিএসি ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড, স্মার্ট শেয়ার অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুর রহমান। বক্তব্য দেন ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাহমাত পাশা। সমাপনী বক্তব্য দেন ডিএসইর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আসিফুর রহমান।
এছাড়া ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, রিচার্ড ডি রোজারিও, আইসিটি ডিভিশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক এএনএম হাসানুল করিম, প্রোডাক্ট অ্যান্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়েরসহ ডিএসই ও বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএসইর এপিআই উদ্যোগ
ডিএসই ২০২০ সাল থেকে এপিআই-ভিত্তিক ব্রোকার হাউজ অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (BHOMS) চালুর উদ্যোগ নেয়। এরপর থেকে ৬৫টি ব্রোকারেজ হাউজ নাসডাক ম্যাচিং ইঞ্জিনে সংযোগ নিয়ে নিজস্ব ওএমএসের মাধ্যমে লেনদেনের আবেদন করেছে। আজকের ১৩টিসহ মোট ৩৯টি ব্রোকারেজ হাউজ ফিক্স সার্টিফিকেশন পেয়েছে। এর মধ্যে ২২টি হাউজ ইতোমধ্যেই নিজস্ব ওএমএস চালু করেছে।
২৫০ দিন আগে
প্রাইজবন্ড কি? কোথা থেকে কিনবেন ও ভাঙাবেন? কেনার সুবিধা-অসুবিধা
আর্থ-সামাজিক জীবনধারায় প্রাইজবন্ড একটি পরিচিত নাম। এটি অনেকের কাছে সঞ্চয়ের নিরাপদ মাধ্যম এবং একই সঙ্গে ভাগ্য পরীক্ষা করার এক দারুণ সুযোগ। বিনিয়োগ, উপহার কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের কাছে এটি এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তাই প্রাইজবন্ড কেনা ও ভাঙানোর নিয়ম, এর সুবিধা ও অসুবিধা, প্রাইজবন্ডের লটারী ও পুরুষ্কার সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা জরুরি। চলুন, প্রাইজবন্ডের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
প্রাইজবন্ড কি
বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের একটি বিশেষ বিনিয়োগ প্রকল্প প্রাইজবন্ড। এখানে বিনিয়োগকারী যেকোনও সময় বিনিয়োগ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে বন্ড ফেরত দিয়ে মূলধন তুলে নিতে পারেন। তবে এই প্রকল্প থেকে সরাসরি কোনও মুনাফা বা সুদ দেওয়া হয় না।
প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময় অন্তর লটারির মতো ‘ড্র’ অনুষ্ঠিত হয়। সেই ড্র-এর মাধ্যমে বিজয়ীরা বিভিন্ন মূল্যমানের পুরস্কার পান। সাধারণত বছরে চারবার ড্র আয়োজন করা হয়, এবং তার দিনক্ষণও নির্দিষ্ট- ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই, এবং ৩১ অক্টোবর। এই তারিখগুলোর কোনওটি সরকারি ছুটির দিনে পড়লে সেই ড্র পরবর্তী কার্যদিবসে অনুষ্ঠিত হয়।
সব বিক্রিত বন্ড একসঙ্গে ড্র-এর আওতায় আসে না। নির্দিষ্ট ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখের কমপক্ষে দুই মাস আগে যে বন্ড বিক্রি হয়েছে, শুধুমাত্র সেগুলোই ড্র-এর অন্তর্ভুক্ত হয়। অর্থাৎ, কোনও বন্ড কেনার পর অন্তত দুই মাস অতিক্রম না হলে সেটি লটারিতে অংশ নিতে পারবে না।
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে নগদায়ন বা পুনরায় চালু করার উপায়
ড্র অনুষ্ঠিত হয় সরকার অনুমোদিত স্থানে। এর আয়োজন ও পরিচালনায়ও থাকে সরকার কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি। ড্র-এর নিয়ম একক ও সাধারণ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়, যেখানে প্রত্যেক সিরিজের জন্য একই নম্বর প্রযোজ্য হয়। বাজারে শুধুমাত্র চলমান প্রাইজবন্ড সিরিজগুলো ড্র-এর অংশ হয়।
প্রাইজবন্ড কেন কিনবেন: এর সুবিধা কি
অনেকেই প্রাইজবন্ডকে লটারির সঙ্গে তুলনা করেন। কিন্তু এ দুয়ের মাঝে রয়েছে সুক্ষ্ম পার্থক্য। লটারিতে একবার ড্র শেষ হয়ে গেলে সেই টিকিটের কোনও মূল্য থাকে না। টিকিটে জিততে না পারলে পুরো টাকাই হারাতে হয়। কিন্তু প্রাইজবন্ডে বিষয়টি ভিন্ন। একটি ড্র শেষ হয়ে গেলেও বন্ডের মেয়াদ শেষ হয় না। পরবর্তী ড্র’তেও সেটি অংশ নিতে পারে। তাই একবার বন্ড কিনলে তা দিয়ে একাধিকবার ড্র’তে অংশ নেয়ার সুযোগ থাকে।
প্রাইজবন্ডের আরেকটি দিক হলো- এতে কোনও মাসিক সুদ বা লভ্যাংশ নেই। কারণ প্রাইজবন্ড বিক্রির মাধ্যমে সরকার আসলে জনগণের কাছ থেকে সরাসরি ঋণ সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে গ্রাহক বন্ড ফেরত দিলে সরকার সেই ঋণ শোধ করে। অর্থাৎ এটি সুদভিত্তিক সঞ্চয় নয়, বরং একটি নিরাপদ বিনিয়োগ যা আবার যেকোনও সময় ভাঙানো যায়।
যে কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে সরাসরি নগদ অর্থ উপহার দেওয়া অনেক ক্ষেত্রেই বিব্রতকর। সেখানে প্রাইজবন্ড একটি উৎকৃষ্ট উপায়। যেমন- বিয়েতে উপহার হিসেবে প্রাইজবন্ড দিলে নবদম্পতি চাইলে তা সঙ্গে সঙ্গে ভাঙাতে পারেন। আবার চাইলে তারা বহু বছর রেখে দিয়ে ভবিষ্যতের ড্র-তে ভাগ্য পরীক্ষা করতে পারেন। এতে এক ধরনের স্বাধীনতা থাকে।
আরো পড়ুন: জুলাই ২০২৫ থেকে পরিবার সঞ্চয়পত্রে নতুন মুনাফার হার: বাংলাদেশের জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের পুনঃনির্ধারিত রিটার্ন রেট
শুধু বিয়েতেই নয়, জন্মদিন, শিশুর মুখে ভাত কিংবা অন্য যেকোনও পারিবারিক অনুষ্ঠানে প্রাইজবন্ড অর্থবহ উপহার হতে পারে। এর মাধ্যমে উপহারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভবিষ্যতে বাড়তি সম্ভাবনারও সুযোগ পান। তাই এটি বিনিয়োগ, সঞ্চয় এবং উপহার- সবক্ষেত্রেই একটি কার্যকর বিকল্প।
প্রাইজবন্ডের পুরষ্কার
একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো পদ্ধতিতে প্রাইজবন্ডের পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে। এটি পূর্বনির্ধারিত এবং প্রতিটি সিরিজের জন্য একইভাবে প্রযোজ্য। কোন স্তরের পুরস্কারের জন্য প্রতিটি সিরিজ থেকে কতজন বিজয়ী হবেন- তা পুরস্কার ঘোষণার সময় স্পষ্টভাবে জানানো হয়।
প্রথম পুরস্কারের জন্য ৬ লাখ টাকা নির্ধারিত। ড্র-এর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট নম্বর বাছাই করা হয়। তবে প্রতিটি সিরিজে সেই একই নম্বরের বন্ডধারী একজন করে এই পুরস্কার পান। বর্তমানে ৮২টি সিরিজ চালু রয়েছে। ফলে একটি নম্বর নির্বাচিত হলে মোট ৮২ জন প্রথম পুরস্কার পান।
একই নিয়মে দ্বিতীয় পুরস্কারের পরিমাণ ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এখানেও প্রতিটি সিরিজ থেকে একজন করে বিজয়ী নির্বাচিত হন। অর্থাৎ মোট ৮২ জন এই পুরস্কার পাবেন।
আরো পড়ুন: ই-রিটার্ন: অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন যেভাবে
তৃতীয় পুরস্কারের জন্য প্রতিটি সিরিজ থেকে দুটি করে নম্বর নির্বাচন করা হয়। পুরস্কারের পরিমাণ এক লাখ টাকা। তাই মোট বিজয়ীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬৪ জন।
চতুর্থ পুরস্কারের ক্ষেত্রে প্রতিটি সিরিজ থেকে দুটি করে নম্বর বাছাই করা হয়। এখানে পুরস্কারের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা। তাই মোট বিজয়ী হন ১৬৪ জন।
সবচেয়ে বেশি বিজয়ী নির্ধারিত হয় পঞ্চম পুরস্কারের ক্ষেত্রে। প্রতিটি সিরিজ থেকে ৪০টি নম্বর নির্বাচন করা হয়। পুরস্কারের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা। ফলে মোট ৩ হাজার ২৮০ জন বিজয়ী হন।
সব মিলিয়ে প্রতি ড্র-তে মোট ৩ হাজার ৭৭২টি পুরস্কার দেওয়া হয়।
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাংক পরিবর্তন করে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের উপায়
প্রাইজবন্ড কোথা থেকে কিনবেন
সরকারের নির্দিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাইজবন্ড কেনা বা ভাঙানোর কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করে থাকে। ময়মনসিংহ শাখা ব্যতীত বাংলাদেশ ব্যাংকের সব কার্যালয়ে প্রাইজবন্ড পাওয়া যায়।
এছাড়াও যে প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বন্ড কেনা যায়, সেগুলো হলো:
- শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলো বাদে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক- জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনস্থ সঞ্চয় ব্যুরো অফিস- ডাকঘর
ক্রেতাকে শুধু নগদ অর্থ নিয়ে উপস্থিত হতে হয়। আলাদা কোনও আবেদনপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
পুরস্কারের অর্থ পাওয়ার জন্য আবেদনের নির্ধারিত নিয়ম রয়েছে। বিজয়ীকে মূল প্রাইজবন্ডসহ ফর্ম পিবি-২৩ সঠিকভাবে পূরণ করতে হয়। অতঃপর তা বাংলাদেশ ব্যাংকের যে কোনও কার্যালয় (ময়মনসিংহ বাদে) সহ উপরোল্লিখিত যেকোনও প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হয়। সাধারণত আবেদন করার তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে পুরস্কারের টাকা প্রদান করা হয়। প্রাপকের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি সেই অর্থ জমা হয়। একইভাবে এসব কার্যালয় থেকে প্রাইজবন্ড ভাঙানোও যায়।
আরো পড়ুন: পুরনো স্বর্ণ বিক্রির সময় যে কারণে দাম কেটে রাখা হয়
প্রাইজবন্ডের নেতিবাচক দিক
সুবিধার পাশাপাশি প্রাইজবন্ডের কিছু সীমাবদ্ধতা ও অসুবিধাও রয়েছে। সেগুলো হলোঃ
- প্রাইজবন্ডের ড্র-তে জেতার সম্ভাবনা খুবই কম। বিনিয়োগ করে পুরস্কার পাওয়া সম্পূর্ণ ভাগ্যের উপর নির্ভরশীল।এটি আসলে কোনও দ্রুত লাভের উপায় নয়। স্বল্পমেয়াদি মুনাফার আশায় প্রাইজবন্ড কিনলে হতাশা আসতে পারে।বছরান্তে প্রাইজবন্ডের যে লভ্যাংশ দেওয়া হয় তার হার মাত্র ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক ডিপোজিটের তুলনায় এটি অনেক কম।- লভ্যাংশের হার এমনিতেই কম, তার উপর পুরস্কারের অর্থের উপর আয়কর দিতে হয়। আয়কর আইন ২০২৩-এর ১১৮ ধারা অনুযায়ী পুরস্কারের অর্থের উপর আরোপিত উৎসে কর ২০ শতাংশ।- নকল টাকা শনাক্তে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও নকল প্রাইজবন্ড ধরা অত্যন্ত কঠিন। এতে ক্রেতারা প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।- পুরস্কার তুলতে গেলে অনেক কাগজপত্র জমা দিতে হয়। সঠিকভাবে ফরম পূরণ করা এবং গেজেটেড অফিসার দ্বারা সত্যায়ন করা বাধ্যতামূলক। এতে সময় বেশি লাগে এবং ভোগান্তিও পোহাতে হয়।- সময়ের সাথে সাথে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে ১০০ টাকা মূল্যের প্রাইজবন্ডের প্রকৃত মূল্য আগের তুলনায় অনেক হ্রাস পেয়েছে। দশ বছর আগে ১০০ টাকায় যে পরিমাণ জিনিস কেনা যেত, এখন একই টাকায় তা সম্ভব নয়।
আরো পড়ুন: বাংলাদেশ সরকারের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করার পদ্ধতি
প্রাইজবন্ড লটারীর ফলাফল জানার উপায়
প্রাইজবন্ডের ড্র–এর ফলাফল চেক করার জন্য রয়েছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট। এখানে প্রতিটি ড্র–এর বিজয়ীর সিরিজ ও নাম্বারের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এছাড়া প্রাইজবন্ড সংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব একটি পোর্টাল রয়েছে- https://prizebond.ird.gov.bd/। এই সাইটে প্রাইজবন্ডের নাম্বার এবং সিরিজ লিখে আপনি সহজেই চেক করতে পারবেন যে আপনি প্রাইজবন্ড লটারী জিতেছেন কি না।
পরিশিষ্ট
সর্বসাকূল্যে, প্রাইজবন্ড কি, কোথা থেকে কিনবেন, কেন কিনবেন, এবং এর সুবিধা-অসুবিধাগুলো সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হলো। বিনিয়োগের পাশাপাশি ভাগ্য পরীক্ষার এক আকর্ষণীয় সুযোগ এই প্রাইজবন্ড। এটি সহজে কেনা যায়, যেকোনও সময় ভাঙানো যায় এবং বছরে চারবার এ থেকে পুরস্কার প্রাপ্তির সুযোগ থাকে। তবে এর ড্র-তে জেতার অনিশ্চয়তা, স্বল্প লভ্যাংশ বা কর কর্তনের বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা উচিত। সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা দুটোর প্রতিই গুরুত্বারোপ সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সহায়তা করবে।
আরো পড়ুন: ডলার এনডোর্সমেন্ট কী, কীভাবে করবেন
২৫৩ দিন আগে
বেনাপোল দিয়ে চাল আমদানি শুরু, কেজিতে দাম কমবে ৫-৭ টাকা
চার মাস পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৩১৫ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। এতে দেশের খোলা বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম ৫ থেকে ৭ টাকা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভারতীয় চালবোঝাই ৯টি ট্রাক বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল সর্বশেষ এ বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়।
আমদানিকারকরা জানান, দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার ভারত থেকে মোটা চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। চাল আমদানিতে দেশের বাজারে চালের দাম কমে আসবে।
বেনাপোলের চাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হাজী মুসা করিম অ্যান্ড সন্স’র স্বত্বাধিকারী আব্দুস সামাদ বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার ভারত থেকে ৯টি ট্রাকে ৩১৫ মেট্রিক টন মোটা চাল আমদানি করেছি।
চালের এই চালান রাতেই বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। চাল ছাড়করণের জন্য বেনাপোল কাস্টমস হাউসে বিল অব এন্ট্রি জমা দেওয়া হয়েছে। পেট্রাপোল বন্দরে আরও চালবোঝাই ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দিতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের ২৩ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করার শেষ সময় ছিল। সারা দেশের মতো বেনাপোল স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা চাল আমদানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। আমরা বেনাপোল স্থলবন্দরের বেশ কয়েকজন আমদানিকারক চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছি। আমদানির অনুমতিপত্র বা আইপি পাওয়ার পর অনেকে এলসি খুলেছেন যার বিপরীতে বৃহস্পতিবার বন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। আমদানির অনুমতিপ্রাপ্ত আরও আমদানিকারকরা পর্যায়ক্রমে এলসি খুলছেন। ফলে আগামী রবিবার থেকে চাল আমদানি বাড়তে পারে।
চাল আমদানির ফলে দেশের বাজারে চালের দাম কমে আসবে। কেজি প্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা দাম কমে যাবে। ভালো মানের চিকন জাতের চাল ৬৭ থেকে শুরু করে ৭০ টাকার মধ্যে থাকবে। মোটা স্বর্ণা জাতের চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকার মধ্যে থাকবে।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ সভাপতি আমিনুল হক জানান, বন্ধের পর শুরুর প্রথম দিনে ৯ ট্রাকে ৩১৫ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। আরও অনেক চালবোঝাই ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
২৫৬ দিন আগে
পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু সূচকের উত্থান দিয়ে
সূচকের উত্থান দিয়ে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসের লেনদেন শুরু হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারে, বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১৬ পয়েন্ট।
বাকি দুই সূচক শরীয়াভিত্তিক ডিএসইএস বেড়েছে ৭ এবং বাছাইকৃত কোম্পানির ব্লুচিপ সূচক ডিএস-৩০ বেড়েছে ৯ পয়েন্ট।
লেনদেনে অংশ নেয়া ২৩২টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ৭৮টির এবং অপরিবর্তিত আছে ৬৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ডিএসইতে ১৭০ কোটি টাকার ওপরে শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১৫ দিন পর পুঁজিবাজারে লেনদেন ৯৫০ কোটি টাকা ছাড়াল
সূচকের উত্থান হয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই), সার্বিক সূচক বেড়েছে ৩২ পয়েন্ট।
লেনদেনে অংশ নেয়া ৪৪টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২৪টি কোম্পানির, কমেছে ১৩টির এবং অপরিবর্তিত আছে ৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
প্রথম ৩০ মিনিটে সিএসইতে ২৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
২৫৯ দিন আগে
সাড়ে ৪ মাস পর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু
দীর্ঘ চার মাস ২০ দিন বন্ধ থাকার পর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আবারও পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে।
রবিবার (১৭ আগষ্ট) সন্ধ্যায় সাতটি ট্রাকে মোট ২০২ টন পেঁয়াজ ভোমরা বন্দরে প্রবেশ করেছে। সোমবার (১৮ আগষ্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভোমরা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রেবতী কুমার বিশ্বাসের মালিকানাধীন মেসার্স অয়ন ট্রেডার্স এসব পেঁয়াজ আমদানি করেছে। আর ছাড়কারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে মোশাররফ ট্রেডার্স। যার স্বত্বাধিকারী জিএম আমীর হামজা।
তিনি আরও বলেন, ভারতের ঘেজাডাঙ্গা স্থলবন্দরে আরও কয়েকটি ট্রাক পেঁয়াজ ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে।
পড়ুন: ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানীতে আইপি নীতি পূর্নবিবেচনার দাবি আমদানিকদের
ভোমরা কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. শওকত হোসেন বলেন, রবিবার সন্ধ্যা নাগাদ ৭টি গাড়িতে ২০২ টন ভারতীয় পেঁয়াজ ভোমরা বন্দরে প্রবেশ করেছে। চলতি বছরের ২৭ মার্চ এ বন্দর দিয়ে সর্বশেষ পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল।
এতে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ভোমরা স্থলবন্দর হয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির দ্বার উন্মুক্ত হলো।
২৬০ দিন আগে
১৫ দিন পর পুঁজিবাজারে লেনদেন ৯৫০ কোটি টাকা ছাড়াল
১৫ দিনের উত্থান-পতনের মিশ্রধারা শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন ছাড়িয়েছে ৯৫০ কোটি টাকা, বেড়েছে সূচক এবং বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সোমবার (১৮ আগস্ট) সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ডিএসইতে প্রধান সূচক বেড়েছে ১৮ পয়েন্ট। বাকি দুই সূচক শরীয়াভিত্তিক ডিএসইসি ১১ এবং বাছাইকৃত কোম্পানির ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ বেড়েছে ৫ পয়েন্ট।
লেনদেনে অংশ নেয়া ৪০০ কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২২৪ কোম্পানির, কমেছে ৯৪ এবং অপরিবর্তিত আছে ৬৪ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ক্যাটাগরির হিসাবে এ, বি এবং জেড— সবকয়টি ক্যাটাগরিতে বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম।সর্বোচ্চ লভ্যাংশ দেয়া এ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ২২১ কোম্পানির মধ্যে ১৩১ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৬২ এবং অপরিবর্তিত আছে ২৮ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ব্লক মার্কেটে ৪১ কোম্পানির ১৩ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে। সর্বোচ্চ ২ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে পূবালি ব্যাংক।
সূচক এবং বেশিরভাগ কোম্পানির দরবৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেন। সারাদিনে ডিএসইতে ৯৭৫ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, গতদিন যা ছিল ৮০১ কোটি টাকা।
৯ শতাংশের ওপর দাম বেড়ে ডিএসইতে শীর্ষে সোনালি পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস এবং ৫ শতাংশের ওপর দর কমে তলানিতে আইসিবি ইমপ্লোয়িস প্রভিডেন্ট মিউচুয়াল ফান্ড।
পড়ুন: সূচকের বড় উত্থান ঢাকা-চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারে
চট্টগ্রামেও উত্থান
ঢাকার মতোই উত্থান হয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই), সার্বিক সূচক বেড়েছে ৬১ পয়েন্ট।সূচকের উত্থানের পাশাপাশি দাম বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির। লেনদেন হওয়া ২০৮ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১২৮, কমেছে ৫৪ এবং অপরিবর্তিত আছে ২৬ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সারাদিনে ১৮ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে সিএসইতে, যা গতদিন ছিল ১৩ কোটি টাকা।
১০ শতাংশ দাম বেড়ে সিএসইতে শীর্ষে এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং ৯ শতাংশ দাম কমে তলানিতে পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।
২৬০ দিন আগে
সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে এলো আরও ৬৬0 মেট্রিকটন ভারতীয় পেঁয়াজ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে আবারো ভারত থেকে দেশে এলো পেঁয়াজ।
রবিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় ২৩টি ট্রাকে ৬৬০ মেট্রিকটন পেঁয়াজ বন্দরে প্রবেশ করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দর পরিচালনায় নিয়োজিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক(অপারেশন) কামাল হোসেন।
তিনি জানান, সরকার পেঁয়াজ আমদানীর অনুমতি দেয়ায় গত বৃহস্পতিবার(১৪ আগষ্ট) থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। ওই দিন সন্ধ্যায় ৪টি ট্রাকে ১০০ মেট্রিকটন ভারতীয় পেঁয়াজ বন্দরে প্রবেশ করে।
দীর্ঘ প্রায় ৮ মাস পর এই বন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানী শুরু হয়েছে।
পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে গত মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) পেঁয়াজ আমদানির ঘোষণা দিয়েছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
২৬১ দিন আগে
ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানীতে আইপি নীতি পূর্নবিবেচনার দাবি আমদানিকদের
দেশের বাজারে পেঁয়াজের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে আমদানির ক্ষেত্রে বর্তমান আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানী ও রপ্তানীকারক গ্রুপ।
রবিবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানী-রপ্তানীকারক গ্রুপের এক সভা থেকে এই দাবি জানানো হয়।
এ সময় আমদানি-রপ্তানিকারকরা জানান, সম্প্রতি সরকার এই বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানীর জন্য সীমিত পরিমাণে কয়েকজনকে আইপি দিয়েছে। যার পরিমাণ ৩০ মেট্রিক টন ও ৫০ মেট্রিক টন। অথচ ভারত থেকে প্রতিটি ট্রাক সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আসে। ফলে ৩০ মেট্রিক টনের আইপি দিলে এলসি, শুল্ক, সিএন্ডএফসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাবে। এর প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়বে এবং দাম অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।
তারা আরও বলেন, আগের মতো উন্মুক্তভাবে আইপি দেওয়া হলে আমদানিকারকরা সবাই সুবিধা পাবেন। এতে সময় ও খরচ সাশ্রয় হবে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।
অন্যদিকে সীমিত আইপি বরাদ্দ অব্যাহত থাকলে অরাজকতা তৈরি হবে। কেউ আইপি পাবে, কেউ পাবে না। ফলে বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হবে এবং ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।
পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে গত মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) পেঁয়াজ আমদানির ঘোষণা দিয়েছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
এরপর গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চারটি ট্রাক ১০০ টন পেঁয়াজ নিয়ে দেশে প্রবেশ করে।
২৬১ দিন আগে
সূচকের বড় উত্থান ঢাকা-চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারে
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচকের বড় উত্থান হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারে। বেড়েছে লেনদেন এবং বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সারাদিনের লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক বেড়েছে ৫১ পয়েন্ট। বাকি দুই সূচক—শরিয়াভিত্তিক ডিএসইএস ৯ পয়েন্ট এবং বাছাইকৃত কোম্পানির ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ বেড়েছে ২২ পয়েন্ট।
লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৮ কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২০৫ কোম্পানির, কমেছে ১৩৫ এবং অপরিবর্তিত আছে ৫৮ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ক্যাটাগরির হিসাবে এ এবং বি ক্যাটাগরিতে বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম, কমেছে জেড ক্যাটাগরিতে।
সর্বোচ্চ লভ্যাংশ দেওয়া এ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ২২০ কোম্পানির মধ্যে ১২২ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৭৮ এবং অপরিবর্তিত আছে ২০ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ব্লক মার্কেটে ৩২ কোম্পানির ১৬ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে। সর্বোচ্চ ৩ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে ফাইন ফুডস।
সূচক এবং বেশিরভাগ কোম্পানির দরবৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেন। সারাদিনে ডিএসইতে ৮০১ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, গতদিন যা ছিল ৭০৩ কোটি টাকা।
৯ শতাংশের ওপর দাম বেড়ে ডিএসইতে শীর্ষে দেশ গার্মেন্টস এবং ৬ শতাংশের ওপর দর কমে তলানিতে ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।
পড়ুন: সপ্তাহজুড়ে পতনে পুঁজিবাজারে মূলধন কমলো ৩,৩৯৬ কোটি টাকা
চট্টগ্রামেও উত্থান
ঢাকার মতোই উত্থান হয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। সার্বিক সূচক বেড়েছে ১২৪ পয়েন্ট।
সূচকের উত্থানের পাশাপাশি দাম বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির। লেনদেন হওয়া ১৭৩ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৮৮, কমেছে ৬৪ এবং অপরিবর্তিত আছে ২১ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সারাদিনে ১৩ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে সিএসইতে, যা গতদিন ছিল ৪ কোটি টাকা।
৯ শতাংশ দাম বেড়ে সিএসইতে শীর্ষে বিকন ফার্মাসিটিক্যালস এবং ৯ শতাংশ দাম কমে তলানিতে এডভেন্ট ফার্মা লিমিটেড।
২৬১ দিন আগে
সপ্তাহজুড়ে পতনে পুঁজিবাজারে মূলধন কমলো ৩,৩৯৬ কোটি টাকা
সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের লেনদেনে চারদিনই পতন হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই); বাজার মূলধন কমেছে ৩,৩৯৬ কোটি টাকা।
ডিএসই'র সাপ্তাহিক পুঁজিবাজারের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৭ লাখ ১৫ হাজার ৭৯ কোটি টাকার মূলধন নিয়ে সপ্তাহ শুরু হলেও বৃহস্পতিবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকায়।
পাঁচ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে মোট মূলধন কমেছে ৩,৩৯৬ কোটি ১৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
মূলধন হ্রাসের পাশাপাশি সাপ্তাহিক গড় লেনদেনেও ভাটা পড়েছে। ৯০০ কোটি টাকার ঘরে থাকা গড় লেনদেন কমে ৬০০ কোটি টাকার ঘরে নেমেছে। এক সপ্তাহ ব্যবধানে মোট লেনদেন কমেছে ২৪ শতাংশ।
ঢাকার বাজারে সারা সপ্তাহের লেনদেনে সব সূচক কমেছে; প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৫৭ পয়েন্ট, বাছাইকৃত কোম্পানির ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ কমেছে ২৩ পয়েন্ট এবং শরীয়াভিত্তিক ডিএসইএস কমেছে ৭ পয়েন্ট।
সাপ্তাহিক লেনদেনে ডিএসইতে দাম কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির; ৯৯ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ২৭৪ কোম্পানির এবং ২৩ কোম্পানির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
খাতভিত্তিক শেয়ার
ডিএসই'র তালিকাভুক্ত কোম্পানির ২১ খাতে দাম বেড়েছে মাত্র পাঁচটিতে, বাকি সব খাতে শেয়ারের দাম নিম্নমুখী।
বিশেষ করে বিনিয়োগকারীদের পছন্দের ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে রীতিমতো ধস নেমেছে। ব্যাংক খাতে শেয়ারের দাম কমেছে ৫৫ শতাংশ, লেনদেন কমেছে ৫২ শতাংশ। তালিকাভুক্ত ৩৬ ব্যাংকের মধ্যে ২৮ ব্যাংকের শেয়ারের দাম কমেছে।
অন্যদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে দাম কমেছে ৫৩ শতাংশ, লেনদেন কমেছে ৫১ শতাংশ। তালিকাভুক্ত ২৩ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম কমেছে ১৯ প্রতিষ্ঠানের।
বীমাখাতে সাধারণ বীমা এবং জীবন বীমার দাম কমেছে যথাক্রমে ৩২ এবং ৭ শতাংশ।
পতনের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে চামড়াশিল্প খাতে, দর বেড়েছে ১৪৭ শতাংশ। ভালো অবস্থানে আছে পাটখাত, দাম বেড়েছে ১৩৬ শতাংশ। এছাড়া উত্থান হয়েছে পর্যটন খাত, কাগজ ও প্রিন্টিং এবং করপোরেট বন্ডে।
উত্থানে শীর্ষ কোম্পানি
ডিএসইতে উত্থানের ধারায় শীর্ষে আছে জেড ক্যাটাগরির কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির রিটার্ন বেড়েছে ৩৬ শতাংশ। ৭১ টাকায় লেনদেন শুরু করে শেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৭ টাকা।
পড়ুন: এলডিসি থেকে উত্তরণ ছয় বছর পেছানোর দাবি ব্যবসায়ীদের
দরবৃদ্ধির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক, রিটার্ন বেড়েছে ২০ শতাংশ। সপ্তাহব্যাপী কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ১০ টাকা।
বেক্সিমকোর পরেই শীর্ষ তালিকায় আছে ডোমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস, রিটার্ন বেড়েছে ১৯ শতাংশ। আরেক কোম্পানি ওরিয়ন ইনফিউশনের রিটার্ন বেড়েছে ১৮ শতাংশ; ৩৮৮ টাকা প্রতি শেয়ারের দাম বেড়ে হয়েছে ৪৫৯ টাকা।
উত্থানের শীর্ষ তালিকায় আছে সামাতা লেদার কমপ্লেক্স, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক, ইয়াকিন পলিমার লিমিটেড, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ এবং আনোয়ার গ্যালভানাইজিং লিমিটেড।
পতনে শীর্ষ কোম্পানি
ঢাকার বাজারে ১৪ শতাংশ রিটার্ন কমে পতনের শীর্ষে আছে এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড। ১২ শতাংশ রিটার্ন কমে দ্বিতীয় অবস্থানে এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড।
দাম কমেছে সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের শেয়ারের; ১১ শতাংশ কম রিটার্ন এসেছে গত সপ্তাহে। গত ৬ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লাভ (ইপিএস) কমেছে ৪ শতাংশ।
পতনের শীর্ষ তালিকায় আছে ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস, রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, নূরানি ডাইং অ্যান্ড সোয়েটার, উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস এবং এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড।
চট্টগ্রামেও পতন
ঢাকার মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) পতন হয়েছে সব সূচকের; দাম কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির।
সারা সপ্তাহের লেনদেন সিএসইর সার্বিক সূচক (সিএএসপিআই) কমেছে ২২১ পয়েন্ট। শরীয়াভিত্তিক সূচক সিএসআই কমেছে ১১ পয়েন্ট এবং বাছাইকৃত কোম্পানির সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসই-৫০ কমেছে যথাক্রমে ২০০ এবং ২১ পয়েন্ট।
সারা সপ্তাহে সিএসইতে মোট ৩১৩ কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে; দাম কমেছে বেশিরভাগের। ৮৮ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ২০৯ কোম্পানির এবং ১৬ কোম্পানির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এবং দরবৃদ্ধিতেও শীর্ষে আছে ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড। গত সপ্তাহে ওরিয়নের প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ২১ শতাংশ।
সিএসইতে দর পতনের শীর্ষে আছে এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড; সপ্তাহব্যাপী দাম কমেছে ২৩ শতাংশ।
এদিকে, টানা এক সপ্তাহ পতন হলেও বাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেড়েছে। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের হিসাব অনুযায়ী, এক সপ্তাহে নতুন বেনিফিসিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে ৯৩৯টি।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উত্থান-পতনের সাম্যবস্থা রক্ষা করা সম্ভব হলে বাজারে বড় বিনিয়োগ আসবে। এছাড়া ভালো কোম্পানির নতুন আইপিও আসতে শুরু করলে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে।
২৬২ দিন আগে