ব্যবসা
এক ধাক্কায় স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ১৮৯০ টাকা
টানা দুই দফা কমার পর এবার দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। ভরিতে ১ হাজার ৮৯০ টাকা বেড়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭২ হাজার ১২৬ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, বুধবার (২ জুলাই) থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে।
স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাজুস।
নতুন দাম অনুযায়ী, এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭২ হাজার ১২৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৪ হাজার ২৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
এর আগে, সবশেষ গত ২৮ জুন দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ৬২৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭০ হাজার ২৩৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।
৩০৮ দিন আগে
জুলাই ২০২৫ থেকে পরিবার সঞ্চয়পত্রে নতুন মুনাফার হার: বাংলাদেশের জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের পুনঃনির্ধারিত রিটার্ন রেট
বছরের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনে জারি হলো দেশের জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের নতুন এক সংস্করণ। এ অনুসারে নতুন মুনাফার হারের ভিত্তিতে প্রচলিত সবগুলো সঞ্চয়পত্রে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবতর্ন। এর আওতায় জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রও অন্তর্ভূক্ত। বার্ষিক হারের সাথে সাথে আমূল বদলেছে সর্বমোট অর্থপ্রাপ্তির। এটি মেয়াদান্ত ও মেয়াদপূর্তির পূর্ব নগদায়ন উভয় ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে। চলুন, পরিবার সঞ্চয়পত্রের পুনঃনির্ধারিত মুনাফা ব্যবস্থার সম্বন্ধে জেনে নেওয়া যাক।
জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়কালের জন্য পরিবার সঞ্চয়পত্রে নির্ধারিত রিটার্ন রেট
পূর্ববর্তী বিনিয়োগ থেকে শুরু করে এক বা একাধিক স্কিমের যাবতীয় বিনিয়োগে রিটার্ন রেট প্রযোজ্য হবে দুটি বিনিয়োগসীমা অনুযায়ী:
১) ৭ লাখ ৫০ হাজার (৭,৫০,০০০) টাকা বা তার কম
২) ৭ লাখ ৫০ হাজার (৭,৫০,০০০) টাকার অধিক
৫ বছর মেয়াদী এই স্কিমে মেয়াদপূর্তি এবং নগদায়নে ধার্যকৃত মুনাফার নতুন হার নিম্নরূপঃ
টেবিল: জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়কালের জন্য পরিবার সঞ্চয়পত্রে বিভিন্ন বিনিয়োগ বাবদ প্রাপ্য মুনাফা
সময়
বিনিয়োগ
৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত
বিনিয়োগ
৭ লাখ ৫০ হাজার ১ টাকা হতে তদূর্ধ্ব
মুনাফার হার (%)
১ম বছরান্তে
৯.৮১
৯.৭২
২য় বছরান্তে
১০.২৯
১০.১৯
৩য় বছরান্তে
১০.৮০
১০.৭০
৪র্থ বছরান্তে
১১.৩৫
১১.২৩
৫ম বছরান্তে/ মেয়াদপূর্তিতে
১১.৯৩
১১.৮০
.
পরিবার সঞ্চয়পত্রে মুলধনের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৫০ হাজার (৭,৫০,০০০ বা তার নিচে) টাকা হলে মাসিক মুনাফা হবে ১১.৯৩ শতাংশ (১১.৯৩%)। তবে পরিমাণ সাড়ে ৭ লক্ষাধিক হলে (৭,৫০,০০১ বা তার বেশি), লাভের হার ১১.৮০ শতাংশে কমে আসবে।
মেয়াদপূর্তির আগেই নগদায়ন করা হলে উপরোক্ত টেবিলে উল্লিখিত বার্ষিক হারে মুনাফা প্রযোজ্য হবে। এক্ষেত্রে অনুর্ধ্ব ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার সঞ্চয়পত্র নগদায়নে, প্রথম বছরে মাসিক মুনাফা হবে ৯.৮১ শতাংশ। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বছরে এই পরিমাণ দাড়াবে যথাক্রমে ১০.২৯ শতাংশ, ১০.৮০ শতাংশ এবং ১১.৩৫ শতাংশে।
অন্যদিকে, ক্রয়কৃত সঞ্চয়পত্রের মূল্য সাড়ে ৭ লক্ষাধিক হলে অগ্রিম নগদায়নে প্রথম বছরের লাভ পাওয়া যাবে ৯.৭২ শতাংশ। দ্বিতীয় বছরে রিটার্ন আসবে ১০.১৯ শতাংশ। তৃতীয় ও চতুর্থ বছরে ধার্য হবে যথাক্রমে ১০.৭০ শতাংশ ও ১১.২৩ শতাংশ।
আরো পড়ুন: বাংলাদেশে গুগল পে-এর যাত্রা শুরু: গুগলের ডিজিটাল পেমেন্ট কেন ও কিভাবে ব্যবহার করবেন
জুলাই ২০২৫ থেকে কার্যকর পরিবার সঞ্চয়পত্রের রিটার্ন রেট কাদের জন্য
নতুন এই হারে মুনাফা কেবল তারাই পাবেন, যারা ১ জুলাই, ২০২৫ তারিখ বা তার পর থেকে পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনবেন। এই তারিখের আগের বিনিয়োগগুলো পূর্ববর্তী শর্তাবলি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
সরকারি এই আদেশ কার্যকর হওয়ার ছয় মাস পরে মুনাফার হার পুনঃনির্ধারিত হবে। তবে এর মাঝে বিনিয়োগকারীরা উপরোক্ত টেবিল অনুযায়ী পুরো মেয়াদের জন্যই নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন। সুতরাং, প্রাথমিকভাবে জারি করা হার বিনিয়োগের পুরো সময়কাল জুড়ে অপরিবর্তিত থাকবে।
সারসংক্ষেপ
বাংলাদেশের জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের নতুন সংস্করণে জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়কালের জন্য পরিবার সঞ্চয়পত্রে মেয়াদান্তের সর্বাধিক মুনাফা ১১.৯৩ শতাংশ। এই হারটি ধার্য হবে অনুর্ধ্ব ৭,৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগকারীদের জন্য। ৭,৫০,০০০ টাকার বেশি বিনিয়োগে সর্বোচ্চ মুনাফার হার হবে ১১.৮০ শতাংশ। যারা ১ জুলাই, ২০২৫ তারিখ বা তার পর থেকে পরিবার সঞ্চয় স্কিমের গ্রাহক হবেন, কেবল তাদের জন্য এই রিটার্ন কাঠামোটি প্রযোজ্য।
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে নগদায়ন বা পুনরায় চালু করার উপায়
৩০৮ দিন আগে
এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ
সামগ্রিকভাবে পোশাক আমদানি কমালেও গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বস্ত্র ও পোশাক বিষয়ক সরকারি দপ্তর ওটেক্সার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫৪০ কোটি ডলার। সেখানে ২০২৪ সালে ৭৩৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। অর্থাৎ এই এক দশকে দেশটিতে পোশাক রপ্তানিতে ৩৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির ধারা ইতিবাচক থাকলেও করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে রপ্তানি ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে যায়। ২০১৯ সালে যেখানে রপ্তানি ছিল ৫৯২ কোটি ডলার, ২০২০ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৫২২ কোটিতে।
তবে ২০২০ সালে পোশাক রপ্তানির পালে ফের হাওয়া লাগে। ওই সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪০ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক আমদানি বৃদ্ধির হারকেও (২৩.৭২ শতাংশ) ছাড়িয়ে যায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানির পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৫১৬ কোটি ডলার, ২০২৪ সালে যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৯২৬ কোটি ডলারে। অর্থাৎ, এক দশক পর দেশটির পোশাক আমদানি কমেছে বছরে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির হার স্থির থাকলেও করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালে বড় ধরনের ধাক্কা খায় যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি খাত। ২০১৯ সালে দেশটি ৮ হাজার ৩৭০ কোটি ডলার মূল্যের পোশাক আমদানি করলেও পরের বছর তা নেমে আসে ৬ হাজার ৪০৬ কোটিতে, এক বছরের ব্যবধানে যা ২৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম।
করোনা-পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মন্দা এতটাই গভীর ছিল যে, ২০২৪ সালেও তারা ২০১৫ সালের আমদানির স্তরে ফিরে যেতে পারেনি।
ওটেক্সার প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক মন্দার সময় দেশটির ভোক্তারা তাদের ব্যয় কমিয়ে দেয়, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে পোশাক খাতে।
যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা পোশাক বাজারের ৯৫ শতাংশ আমদানিনির্ভর। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলের আগে থেকে আরোপিত উচ্চ শুল্কহার (গড়ে ১৮.৫ শতাংশ), ক্রমবর্ধমান পরিবহন খরচ ও পোশাকের স্বল্প বিপণন আয়ুর মতো বিষয়গুলো সরবরাহ ব্যবস্থায় সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
এতসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের শিল্পের সক্ষমতারই প্রমাণ দেয়।
৩০৯ দিন আগে
ঢাকা-চট্টগ্রামে সূচকের পতন, দাম কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির
সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে সূচকের পতন হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারে, দাম কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির, কমেছে লেনদেন।
সারাদিনের লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১ পয়েন্ট।
বাকি দুই সূচক শরীয়া ভিত্তিক ডিএসইএস এবং বাছাইকৃত কোম্পানির ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ অবস্থান করছে নেতিবাচকের ঘরে।
লেনদেনে অংশ নেয়া ৪০০ কোম্পানির মধ্যে ১৩০ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ২০৫ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৬৫ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
এ, বি এবং জেড- তিন ক্যাটাগরিতেই দাম কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির। বিশেষ করে লভ্যাংশ দেয়া ভালো কোম্পানির এ ক্যাটাগরির ২১৯ কোম্পানির মধ্যে ৭২ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ১১৮ এবং অপরিবর্তিত আছে ২৯ কোম্পানির শেয়ারের দাম।আরও পড়ুন: দুই শেয়ারবাজারেই দরপতন, ডিএসইর সূচকে কমেছে ৩৫ পয়েন্ট
ডিএসই ব্লক মার্কেটে ৩৬ কোম্পানির ২০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে। লাভেলো সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে।
সারাদিনে ডিএসইতে ৪৬৪ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গতদিন ছিল ৪৯৪ কোটি টাকা।
৯.৭৫ শতাংশ দাম বেড়ে ডিএসইতে শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক এবং ৭.৫৮ শতাংশ দাম কমে তলানিতে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি।
চট্টগ্রামেও পতন
ঢাকার মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের পতন হয়েছে, সার্বিক সূচক কমেছে ৪১ পয়েন্ট। লেনদেন হওয়া ২২৯ কোম্পানির মধ্যে ৮৪ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ১০৫ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৪০ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইতে মোট ২৫ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গত কার্যদিবসে ছিল ৩৫ কোটি টাকা।
৯.৯৭ শতাংশ দাম বেড়ে ঢাকার মতো সিএসইতেও শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক এবং ৯ শতাংশ দর হারিয়ে তলানিতে উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।
৩০৯ দিন আগে
সূচকের পতনে লেনদেন চলছে পুঁজিবাজারে
সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে দেশের দুই শেয়ারবাজার—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। দিনের শুরুতেই আজ বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যায়।
লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৯ পয়েন্ট কমেছে। শরিয়াভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ৫ পয়েন্ট এবং বাছাইকৃত ব্লুচিপ কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ কমেছে ৯ পয়েন্ট।
আরও পড়ুন: পুঁজিবাজারে চতুর্থ দিনে সূচকের উত্থান, বেড়েছে লেনদেন
এ সময় ডিএসইতে ৭৭টি কোম্পানির দর বেড়েছে, বিপরীতে দর কমেছে ২৪৪টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৫টি কোম্পানির শেয়ারদর। প্রথম ঘণ্টায় ঢাকার বাজারে ১৬০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক সূচক ৩৮ পয়েন্ট কমেছে।
সিএসইতে প্রথম ঘণ্টায় লেনদেনে অংশ নেওয়া ১২৪টি কোম্পানির মধ্যে ৪০টির দর বেড়েছে, ৬৪টির কমেছে এবং ২০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। দিনের শুরুতে সেখানে মোট লেনদেন ছাড়িয়েছে ১৩ কোটি টাকা।
৩০৯ দিন আগে
এক সপ্তাহের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম কমল ৪২৯২ টাকা
দেশের বাজারে আরেক দফা কমেছে স্বর্ণের দাম। চার দিন আগে ভরিতে ১ হাজার ৬৬৮ টাকা দাম কমার পর এবার ভরিতে ২ হাজার ৬২৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭০ হাজার ২৩৬ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস।
শনিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। রোববার থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।
এতে করে দুই দফায় সপ্তাহের ব্যবধানে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে কমলো ৪ হাজার ২৯২ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
পড়ুন: ১০ দিনের ব্যবধানে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭০ হাজার ২৩৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬২ হাজার ৫০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৩৯ হাজার ২৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১৫ হাজার ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে বলে জানিয়েছে বাজুস।
এর আগে, সবশেষ গত ২৪ জুন দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেসময় ভরিতে ১ হাজার ৬৬৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭২ হাজার ৮৬০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।
এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৪০ বার দেশের বাজারে সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ২৬ বার, আর কমেছে মাত্র ১৪ বার।
৩১১ দিন আগে
বাংলাদেশে গুগল পে-এর যাত্রা শুরু: গুগলের ডিজিটাল পেমেন্ট কেন ও কিভাবে ব্যবহার করবেন
সমূহ সম্ভাবনার প্রত্যাশা নিয়ে দেশে চালু হলো গুগল পে। ২৪ জুন মঙ্গলবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে প্রযুক্তিগত সেবাটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ডক্টর আহসান এইচ মনসুর। ভিসা ও মাস্টারকার্ডের সহযোগিতায় প্রথমবারের মত গুগলের সেবাটি পরিচালনা করবে সিটি ব্যাংক পিএলসি। চলুন, গুগলের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাটির সুবিধা ও ব্যবহার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
গুগল পে কি
বিশ্ব নন্দিত টেক জায়ান্ট গুগলের স্পর্শবিহীন লেনদেন ব্যবস্থার নাম গুগল পে। লেনদেনে ব্যবহারযোগ্য কার্ডের যাবতীয় তথ্যাদি সংরক্ষণের জন্য গুগলের রয়েছে একটি ডিজিটাল মানিব্যাগ। এটি গুগল ওয়ালেট নামে পরিচিত। এই ওয়ালেটে কার্ড সংযুক্ত করে গুগল পে-এর মাধ্যমে দ্রুত ও নিরাপদ উপায়ে লেনদেন করা যায়। এর জন্য সাথে প্লাস্টিক কার্ড বহনের প্রয়োজন পড়ে না; একটি স্মার্টফোন আর নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগই যথেষ্ট। এভাবে ঘরে বসে কিংবা বাইরে চলাচলে সর্বাবস্থানে যে কোনও সময় সব ধরনের আর্থিক লেনদেন করা সম্ভব।
আরো পড়ুন: ই-রিটার্ন: অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন যেভাবে
গুগল পে’র সুবিধাসমূহ
- গুগলের এই পেমেন্ট সিস্টেমে রয়েছে উন্নত এনক্রিপশন প্রযুক্তি। এটি গ্রাহকের তথ্যের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কোনও রকম ডাটা হ্যাক বা তথ্য চুরির আশঙ্কা নেই।- নগদ অর্থ বা কার্ড বহনের ক্ষেত্রে প্রায় সময় তা ছিনতাইয়ের ভয় থাকে। এছাড়া অসাবধানতায় হারিয়ে যাওয়ারও ভয় থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনও কাগুজে টাকা বা প্লাস্টিক কার্ড বহনের প্রয়োজন নেই বিধায় সেগুলো হারানোরও ভয় নেই।- দেশে ও বিদেশে পস বা পিওএস (পয়েন্ট অব সেল) টার্মিনালে অর্থ পরিশোধের জন্য শুধুমাত্র অ্যান্ড্রয়েড ফোন স্পর্শ করলেই হবে। তবে পস টার্মিনালটি অবশ্যই এনএফসি (নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন) সমর্থিত হতে হবে।এই সেবা গ্রহণের জন্য গুগলকে কোনও ফি দিতে হবে না।- লেনদেনের মাধ্যম যেহেতু সম্পূর্ণ ডিজিটাল, তাই এর জন্য ব্যাংকে যাওয়ার দরকার নেই।- চিরাচরিত ব্যাংকিং ট্রান্সফার সিস্টেমগুলোর তুলনায় গুগল পে’তে ফান্ড ট্রান্সফার অধিক দ্রুত গতির।- গুগল পে’র আওতার মধ্যে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের মত যাবতীয় ইউটিলিটি বিল এবং মোবাইল রিচার্জ অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।- এতে আছে বিভিন্ন উপলক্ষে ক্যাশব্যাক এবং ব্যবহারের উপর রিওয়ার্ড পয়েন্টের সুবিধা। এই পয়েন্টগুলো সেবার ব্যবহারকে আরও লাভজনক করে তোলে।- গুগল পে’র কিউআর কোড ফিচারটি ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায়ীদের লেনদেনকে আরও সুবিধাজনক করে তুলবে। একদিকে গ্রাহকদের কাছ থেকে সহজে ও দ্রুত পেমেন্ট নেওয়া যাবে, অন্যদিকে হিসাবে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হওয়ার আশঙ্কা কমবে।
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে নগদায়ন বা পুনরায় চালু করার উপায়
গুগল পে-এর ব্যবহার পদ্ধতি
- প্রথমে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগল প্লে থেকে গুগল পে অ্যাপটি ইন্স্টল করে নিতে হবে।- এরপর অ্যাপ ওপেন করে গুগল অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করতে হবে।- অতঃপর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের তথ্যাদি নির্ভুলভাবে সংযুক্ত করতে হবে।- সবশেষে কাজ হচ্ছে একটি গোপন পিন এবং বায়োমেট্রিক সুরক্ষা সেট করা।- এভাবে সেটাপ সংক্রান্ত ধাপগুলো সম্পন্ন হলে সিস্টেমটি লেনদেনের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। কম সময়ে লেনদেনের জন্য কিউআর কোড সেট করে নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া এর জন্য ফোন নাম্বারও ব্যবহার করা যায়।
শেষাংশ
বাংলাদেশে গুগল পে-এর এই যাত্রা দেশের ভবিষ্যতমুখী আর্থিক পরিমণ্ডল গঠনে এক বিশাল পদক্ষেপ। প্রযুক্তির এই সূচনালগ্নে প্রথম দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর সাথে রয়েছে সিটি ব্যাংক। পরবর্তীতে অন্যান্য ব্যাংক যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আরও প্রসারিত ও সহজলভ্য হবে গুগল পে। সর্বসাকূল্যে, এই নিরাপদ, দ্রুত গতি, ও ঝামেলাবিহীন লেনদেন ব্যবস্থায় রচিত হলো উন্নত জীবনধারায় মাইলফলক।
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাংক পরিবর্তন করে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের উপায়
৩১৫ দিন আগে
পুঁজিবাজারে চতুর্থ দিনে সূচকের উত্থান, বেড়েছে লেনদেন
পুঁজিবাজারে চতুর্থ কার্যদিবসে ঢাকা-চট্টগ্রামের বাজারে সবকটি সূচকের উত্থান হয়েছে, বেড়েছে লেনদেন এবং বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সারাদিনের লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৩৭ পয়েন্ট। বাকি দুই সূচক শরীয়া ভিত্তিক ডিএসইএস ৮ এবং বাছাইকৃত কোম্পানির ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ বেড়েছে ১৭ পয়েন্ট।
লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৬ কোম্পানির মধ্যে ২০২ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ১১২ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৮২ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
এ, বি এবং জেড- তিন ক্যাটাগরিতেই দাম বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির। বিশেষ করে লভ্যাংশ দেয়া ভালো কোম্পানির এ ক্যাটাগরির ২১৬ কোম্পানির মধ্যে ১৩২ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ৪১ এবং অপরিবর্তিত আছে ৪৩ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ডিএসই ব্লক মার্কেটে ২৭ কোম্পানির ৩৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে। লাভেলো সর্বোচ্চ ২১ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে।
সারাদিনে ডিএসইতে ৩২৭ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গতদিন ছিল ৩১৩ কোটি টাকা।
১০ শতাংশ দাম বেড়ে ডিএসইতে শীর্ষে সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এবং ৫.৪০ শতাংশ দাম কমে তলানিতে ফার্স্ট ফাইন্যান্স।
আরও পড়ুন: পুঁজিবাজার: সপ্তাহজুড়ে চলল সূচক, লেনদেন ও শেয়ারের মূল্যপতন
চট্টগ্রামেও উত্থান
ঢাকার মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের উত্থান হয়েছে, সার্বিক সূচক বেড়েছে ২৩ পয়েন্ট।
লেনদেন হওয়া ১৯৩ কোম্পানির মধ্যে ৭৪ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ৭৭ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৪২ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইতে মোট ২৬ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গত কার্যদিবসে ছিল ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা।
১০ শতাংশ দাম বেড়ে সিএসইতে শীর্ষে ট্রাস্ট ব্যাংক এবং ৯ শতাংশের ওপর দর হারিয়ে তলানিতে বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেক্ট্রনিক্স।
৩২১ দিন আগে
বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী শ্রীলঙ্কার উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেশটির মন্ত্রীর
শ্রীলঙ্কার শিল্প ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী সুনীল হন্দুন্নেত্তি জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী শ্রীলঙ্কার উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে তাদের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা শ্রীলঙ্কায় বিনিয়োগ করতে চাইলে তাদের সর্বোচ্চ নীতি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
শ্রীলঙ্কা সফররত ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মঙ্গলবার (১৭ জুন) সিলন চেম্বার অব কমার্সের বাণিজ্য আলোচনা সভায় সুনীল বলেন, শুধু বাণিজ্যিক সুবিধা নয়, আঞ্চলিক অগ্রগতির স্বার্থ অর্জনে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে প্রচুর সম্ভবনা থাকলেও তা কাজে লাগানো যায়নি। দুই দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য টেক্সটাইল, ঔষধ, জাহাজ নির্মাণ এবং ডিজিটাল পরিষেবা প্রভৃতি খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।
সুনীল হন্দুন্নেত্তি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শ্রীলঙ্কার সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে নানাবিধ সুবিধা দিচ্ছে। শ্রীলঙ্কায় বাণিজ্য কাঠামোর সহজীকরণ, লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতা কমাতে দেশটি একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়ক হবে।
পড়ুন: ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলে কোনো সমস্যা হবে না: বাণিজ্য উপদেষ্টা
এছাড়াও তিনি দুদেশের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর মধ্যকার কার্যকর সংযোগ স্থাপনের উপর জোর দেন, যার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে সিলন চেম্বারের চেয়ারম্যান ডুমিন্ডা হুলানগামুয়া বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে শ্রীলঙ্কার অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কিন্তু সার্কভুক্ত দেশ দুটোর মধ্যে বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান পারস্পরিক বাণিজ্যের প্রকৃত সম্ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায় না। এখনই সময় পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির। বাংলাদেশের বেসরকারিখাতকে অত্যন্ত ব্যবসাবান্ধব ও সহনশীল। শ্রীলঙ্কা সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
ডুমিন্ডা বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের শ্রীলঙ্কার সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে, বিশেষ করে পর্যটন এবং লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই'র সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, সার্কভুক্ত দুদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এখনও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। তবে দুদেশের বেসরকারিখাতের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যেতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের লজিস্টিক অবকাঠামো, পর্যটন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে শ্রীলঙ্কার উদ্যোক্তাবৃন্দ এগিয়ে আসতে পারে।
পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ঔষধ, তৈরি পোষাক, পাদুকা, ইলেকট্রনিক্স, পাটজাত পণ্য আমদানির জন্য শ্রীলংকার উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান ডিসিসিআই সভাপতি।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে দুদেশের মধ্যকার অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) দ্রুততার সঙ্গে স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাসকীন। এছাড়াও সমুদ্র অর্থনীতি, গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ এবং বন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহায়তা বাংলাদেশের এখাতে দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান ডিসিসিআই সভাপতি।
৩২২ দিন আগে
একটি সাংবাদিক ফোরামের জন্যই ১৫ লাখ টাকা, প্রশ্নের মুখে বিএসইসি
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুঁজিবাজারে একটি নির্দিষ্ট ফোরামের সাংবাদিকদের জন্য ১৫ লাখ টাকার ‘বিএসইসি ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিজম এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস অ্যান্ড ফেলোশিপ প্রোগ্রাম’ চালু করেছে।
তবে সর্বজনীন সুবিধা না দিয়ে একটি নির্দিষ্ট ফোরামের সাংবাদিকদের এ সুযোগ দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (১৬ জুন) কমিশন জানায়, পুঁজিবাজারের ওপর স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য এবং গবেষণামূলক সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করতে এই অ্যাওয়ার্ডস-ফেলোশিপের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের ১৬ জুন থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত অ্যাওয়ার্ডস এবং ফেলোশিপের জন্য আবেদনের আহ্বান জানিয়েছে বিএসইসি।
এই প্রোগ্রামের এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডে তিন ক্যাটাগরিতে (প্রিন্ট, অনলাইন, ইলেকট্রনিক) তিনজন সাংবাদিককে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা করে মোট সাত লাখ ৫০ হাজার টাকার নগদ অর্থ ও একটি ক্রেস্ট দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিএসইসি।
এছাড়া ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিজম ফেলোশিপের আওতায় পাঁচ লাখ টাকা ও দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা সমমূল্যের পৃথক দুটি ফেলোশিপের ঘোষণা দিয়েছে কমিশন।
কমিশন জানায়, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিএসইসি পুঁজিবাজার বিষয়ক সাংবাদিকতায় দায়িত্বশীলতা, নৈতিকতা ও সততাকে উৎসাহিত করতে চায়, যা দেশের পুঁজিবাজার ও সর্বোপরি অর্থনীতির গতিশীলতাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।
এই ফেলোশিপ সাংবাদিকদের বৈশ্বিক আর্থিক বাজার সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধির সুযোগ প্রদান করবে, তাদের বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং নৈতিক সাংবাদিকতার মানদণ্ড নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে জানায় কমিশন।
তবে বিএসইসির অ্যাওয়ার্ডস ও ফেলোশিপের যোগ্যতায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট একটি সাংবাদিক ফোরামের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, শুধু যারা সেই ফোরামের নিয়মিত সদস্য তারাই আবেদন করতে পারবেন।আরও পড়ুন: সরকার পুঁজিবাজার উন্নয়নে আন্তরিক: বিএসইসি চেয়ারম্যান
একটি নির্দিষ্ট ফোরামের সাংবাদিকদের জন্য এ ধরনের সুযোগ দেওয়ায় বিএসইসির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। ফোরামের বাইরের সাংবাদিকরা বলছেন, এ ধরণের সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক এবং নীতিবিরুদ্ধ।
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি টিভি চ্যানেল ডিবিসির ডেপুটি চিফ রিপোর্টার মোস্তফা মাহবুব বলেন, ‘যদি নির্দিষ্ট সাংবাদিক ফোরামের সঙ্গে যৌথভাবে কমিশন এ আয়োজন করে থাকে, তাহলে দোষের কিছু নেই। কিন্তু যদি কমিশন নিজে থেকে উদ্যোগ নেয় তাহলে এটি সঠিক নয়।’
যদিও কমিশনের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যৌথ সমন্বয়ের কোনো কথা উল্লেখ নেই এবং পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, কমিশনের উদ্যোগে সাংবাদিকদের জন্য এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে কমিশন বেশ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় এ অ্যাওয়ার্ড এবং ফেলোশিপ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মাহবুব বলেন, ‘যদি একটি নির্দিষ্ট ফোরামের জন্য এ সুবিধা হয়ে থাকে, তাহলে রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার কোনো মানে হয় না। আবার ফেলোশিপের যোগ্যতা এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট ফোরামের সদস্য নাম্বার থাকার বাধ্যবাধকতার মধ্যেও সাংঘর্ষিকতা আছে।’
বিএসইসির ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, তিন বছর ধরে পুঁজিবাজার নিয়ে রিপোর্টিং করছে সরকারের এমন নিবন্ধিত ও বাংলাদেশি মালিকানাধীন সংবাদপত্র বা অনলাইন সংবাদমাধ্যম বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা অ্যাওয়ার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে ফেলোশিপের সুবিধা শুধু ফোরামের সদস্যদের মধ্য থেকেই দেওয়া হবে।
কিন্তু অ্যাওয়ার্ডস এবং ফেলোশিপের জন্য নেই কোনো আলাদা আবেদন প্রক্রিয়া, আবেদন করতে গেলে লাগছে ফোরামটির সদস্য নম্বর।
এ প্রসঙ্গে আরেক বেসরকারি চ্যানেল সময় মিডিয়া লিমিটেডের বিজনেস ডেস্ক কোওর্ডিনেটর কামরুল সবুজ বলেন, ‘এ ধরনের অসঙ্গতিপূর্ণ অ্যাওয়ার্ড এবং ফেলোশিপ বন্ধ করে দেওয়া উচিত। যে অ্যাওয়ার্ড এবং ফেলোশিপ নির্দিষ্ট কিছু সাংবাদিকদের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো দূরভিসন্ধিমূলক।’
অ্যাওয়ার্ড এবং ফেলোশিপের পুরো ব্যাপারটি নিয়ে ফোরামের বেশ কয়েকজন সদস্যও বিব্রত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফোরামের সদস্য এক সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, ‘যদি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ পুঁজিবাজার রিপোর্টিং-এর জন্য এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় এবং ফেলোশিপের উদ্দেশ্য যদি থাকে পুঁজিবাজার বিষয়ে সাংবাদিকদের আরও দক্ষ করা, তাহলে ফোরামের মধ্যে সীমাবদ্ধ না করে এ সুযোগ সর্বজনীন করা উচিত ছিল কমিশনের।’
পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে সদুত্তর দিতে পারেনি কমিশন। বিএসইসির মুখপাত্র এবং পরিচালক আবুল কালাম বলেন, ‘এভাবেই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে এবং সেই নীতিমালার আলোকেই অ্যাওয়ার্ড-ফেলোশিপের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
কমিশনের এ সিদ্ধান্তকে ভালো চোখে দেখছেন না পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরাও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক পদের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সাংবাদিকদের অ্যাওয়ার্ড-ফেলোশিপের নামে উৎকোচ দেওয়ার চেষ্টা করছেন কমিশন। শিবলী কমিশন পুঁজিবাজারকে ধ্বংস করে দিয়েছে। কিন্তু তাদের সময়ও এরকম অসামঞ্জস্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি, যা বর্তমান কমিশন নিয়েছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের এক সদস্য জানান, ‘বর্তমান কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠী নেগেটিভ ক্যাম্পেইন করে আসছে। হয়তো সেই গোষ্ঠীটিকে আটকাতেই আরেক গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন তিনি।’
তবে এসব না করে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের উত্তর মিডিয়ার সামনে নিজেরই দেয়া উচিত বলে মনে করেন টাস্কফোর্সের এ সদস্য।
৩২৩ দিন আগে