খেলাধুলা
বিপিএল ২০২৫ টি২০ ক্রিকেটের প্রথম সারির প্রতিদ্বন্দ্বীরা
তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলছে বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) ২০২৫ আসর। ঘরোয়া টি২০ ক্রিকেট উৎসবের মারদাঙ্গা উদ্দীপনায় ভাসছে সারা দেশ। ৭ দলের মোট ৪৬টি খেলার মধ্যে ফেজ-১, ফেজ-২, ও ফেজ-৩ সহ ৩২টি ম্যাচ শেষ। ফেজ-৪-এর ১০টি ম্যাচে কারা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তা-ও নির্ধারণ হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ২০ ওভারের ব্যাটে-বলের যুদ্ধে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে কারা, চলুন তা দেখে নেওয়া যাক।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ২০২৫ আসরে শীর্ষ ৫ ব্যাট্সম্যান
.
টেবিল: বিপিএল-এর ১১-তম আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রানের বিচারে সেরা ৫ ব্যাট্সম্যান
ক্রমিক
ব্যাট্সম্যান
দল
মোট রান
ম্যাচ
এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান
সেঞ্চুরি
হাফ সেঞ্চুরি
১
তানজিদ হাসান তামিম
ঢাকা ক্যাপিটাল্স
৪২০
১০
১০৮
১
৩
২
মোহাম্মদ এনামুল হক বিজয়
দুর্বার রাজশাহী
৩৭৯
১০
১০০
১
২
৩
লিটন দাস
ঢাকা ক্যাপিটাল্স
৩৪৮
৯
১২৫
১
২
৪
জাকির হাসান
সিলেট স্ট্রাইকার্স
৩৪২
৯
৭৫
-
৩
৫
গ্রাহাম ক্লার্ক
চিটাগাং কিংস
৩৩৫
৮
১০১
১
১
সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করে প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। ঢাকা ক্যাপিটাল্সের এই দুর্দান্ত খেলোয়াড়ের ১০ ম্যাচে সংগ্রহ মোট ৪২০ রান। এর মধ্যে রয়েছে ১টি সেঞ্চুরি ও ৩টি হাফ সেঞ্চুরি। তারা খেলা ম্যাচগুলোর মধ্যে সর্বসেরা হচ্ছে ১০৮ রানের ইনিংসটি।
১০ ম্যাচে সর্বমোট ৩৭৯ রান নিয়ে তালিকার ২ নাম্বারে আছেন দুর্বার রাজশাহীর মোহাম্মদ এনামুল হক বিজয়। তার ব্যাট থেকে এসেছে ২টি হাফ সেঞ্চুরি ও ১ টি সেঞ্চুরি, যেখানে সেঞ্চুরির ইনিংসটি ছিলো তার সেরা পারফরমেন্স।
আরো পড়ুন: ‘বাদ পড়ার পর’ জ্বলে উঠলেন লিটন, রেকর্ড বই এলোমেলো
বিপিএল ২০২৫-এ এ পর্যন্ত এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের (১২৫) স্কোরের অধিকারী ঢাকা ক্যাপিটাল্সের লিটন দাস। কিন্তু ৯ ম্যাচে সংগৃহীত রানের হিসেবে তার অবস্থান নেমে এসেছে ৩ নাম্বারে। সেঞ্চুরির ইনিংস ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোতে তার ২টি হাফ সেঞ্চুরি আছে।
চতুর্থ ব্যাট্সম্যানের নাম জাকির হাসান, এ পর্যন্ত যার সংগ্রহ ৯টি ম্যাচে মোট ৩৪২ রান। তার দখলে কোনও সেঞ্চুরি নেই, তবে ৩টি হাফ সেঞ্চুরি ও ৭৫ রানের স্কোর।
তালিকার সবশেষে রয়েছেন ইংলিশ ব্যাট্সম্যান গ্রাহাম ক্লার্ক। ৮ ম্যাচে ১টি হাফ সেঞ্চুরি ও ১ টি সেঞ্চুরি সহ তিনি মোট ৩৩৫ রান নিয়েছেন। সেঞ্চুরির (১০১ রান) ইনিংসটিই এখন পর্যন্ত তার সেরা পারফরমেন্স।
১১-তম বিপিএল আসরে আসরে শীর্ষ ৫ বোলার
.
টেবিল: বিপিএল-২০২৫-এ ফেজ-৪ শুরুর পূর্বে সর্বোচ্চ উইকেট বিবেচনায় শীর্ষস্থানীয় ৫ বোলার
ক্রমিক
বোলার
দল
উইকেট
ম্যাচ
ইনিংস/ওভার
এক ইনিংসে সেরা বোলিং
১
তাসকিন আহমেদ
দুর্বার রাজশাহী
২২
১০
৩২.২
৭/১৯
২
আকিফ জাভেদ
রংপুর রাইডার্স
১৫
৭
২৬.৫
৪/৩২
৩
আবু হায়দার রনি
খুলনা টাইগার্স
১৫
৮
৩০.৫
৪/৪৪
৪
খুশদিল শাহ
রংপুর রাইডার্স
১৪
৯
২৪
৩/১৮
৫
আলিস আল ইসলাম
চিটাগাং কিংস
১২
৮
৩১
৩/১৭
১০টি ম্যাচে ৩৮ ওভার ২ বল করে ২২টি উইকেট নিয়ে এখন অব্দি টুর্নামেন্টের সেরা বোলারের আসনে রয়েছে তাসকিন আহমেদ। দুর্বার রাজশাহীর এই পেসারের সেরা স্কোর ১৯ রানে ৭ উইকেট।
আরো পড়ুন: আবারও পরীক্ষায় ফেল, সাকিবের বোলিং নিষেধাজ্ঞা বহালই থাকছে
রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলা পাকিস্তানি ক্রিকেটার আকিফ জাভেদ আছেন দ্বিতীয় অবস্থানে। মাত্র ৭ ম্যাচে ২৬ ওভার ৫ বল করে তিনি উইকেট নিয়েছেন মোট ১৫টি। তার উল্লেখযোগ্য পারফরমেন্স হচ্ছে ৩২ রানের বিপরীতে ৪টি উইকেট।
আকিফ জাভেদের সমসংখ্যক উইকেট নিলেও তার তুলনায় একটি বেশি ম্যাচ খেলার কারণে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন আবু হায়দার রনি। ৮ ম্যাচে তিনি বল করেছেন ৩০ ওভার ৫টি, যেখানে তার সেরা বোলিং ছিলো ৪৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট সংগ্রহ।
চতুর্থ অবস্থানে থাকা বোলার পাকিস্তানের খুশদিল শাহ, যিনি খেলছেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে। ৯ ম্যাচে ২৪ ওভার বলের বিনিময়ে তার অর্জন সব মিলিয়ে ১৪ উইকেট। তন্মধ্যে এক ইনিংসে তার সর্বোচ্চ স্কোর ৩ উইকেটের বিপরীতে ১৮ রান প্রদান।
তালিকার ৫-এ আছেন চিটাগাং কিংসের আলিস আল ইসলাম। ৮টি ম্যাচে ৩১ ওভারের মধ্যে তার উল্লেখযোগ্য বোলিং স্কোর ১৭ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট। আর সব ম্যাচ মিলিয়ে সংগ্রহ করেছেন ১২টি উইকেট।
২০২৫ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ শ্রেষ্ঠ ৪ দল
.
টেবিল: ১১-তম বিপিএল আসরে ফেজ-৪ শুরুর পূর্বে পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে থাকা ৪টি দল
ক্রমিক
দল
ম্যাচ
জয়
পরাজয়
পয়েন্ট
নেট রান রেট
১
রংপুর রাইডার্স
৯
৮
১
১৬
১.২২৩
২
ফরচুন বরিশাল
৮
৬
২
১২
০.৯৯৩
৩
চিটাগাং কিংস
৯
৫
৪
১০
১.০৪৫
৪
খুলনা টাইগার্স
৯
৪
৫
৮
-০.১৪৮
বিপিএল-২০২৫ টুর্নামেন্টে সবথেকে এগিয়ে থাকা দলটি হচ্ছে রংপুর রাইডার্স। ৯টি ম্যাচের শুধু ১টি ছাড়া বাকি সবগুলোতে জয় নিয়ে দলটির সংগ্রহ ১৬ পয়েন্ট। সাথে আসরের সর্বোচ্চ নেট রান রেট ১.২২৩।
আরো পড়ুন: সাকিব-লিটনকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাংলাদেশ দল ঘোষণা
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দল ফরচুন বরিশাল ৮ ম্যাচের মাত্র ২টিতে হেরে সবগুলোতে জয় পেয়েছে। দলটির সংগৃহীত পয়েন্ট ১২ এবং নেট রানের অনুপাত ০.৯৯৩।
৯টি ম্যাচের ৪টিতে পরাজয় ও ৫টিতে জয় পেয়ে তালিকার ৩ নাম্বারে রয়েছে চিটাগাং কিংস। ১০ পয়েন্ট অধিকারী এই দলটির নেট রান রেট ১.০৪৫।
সবশেষে রয়েছে খুলনা টাইগার্স, যারা ৯ ম্যাচের ৪টিতে জয় পেয়ে সংগ্রহ করেছে ৮ পয়েন্ট। ৫ ম্যাচ পরাজয়ের কারণে দলের নেট রানের অনুপাত দাড়িয়েছে -০.১৪৮।
পরিশিষ্ট
বিপিএল ২০২৫-এ এখন পর্যন্ত শীর্ষ অবস্থানে থাকা ব্যাট্সম্যানরা হচ্ছেন তানজিদ হাসান তামিম, মোহাম্মদ এনামুল হক বিজয়, লিটন দাস, জাকির হাসান, এবং গ্রাহাম ক্লার্ক। আসরের সর্বোচ্চ উইকেটধারী বোলারদের মধ্যে রয়েছেন তাসকিন আহমেদ, আকিফ জাভেদ, আবু হায়দার রনি, খুশদিল শাহ, এবং আলিস আল ইসলাম। ব্যাট ও বলের পারফরমেন্স নির্বিশেষে সামগ্রিক ভাবে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা দলগুলো হলো- রংপুর রাইডার্স, ফরচুন বরিশাল, চিটাগাং কিংস, এবং খুলনা টাইগার্স।
আরো পড়ুন: পিএসএলের ড্রাফটে বাংলাদেশের ৩ ক্রিকেটার
৪৬৬ দিন আগে
বড় জয়ে সেরা আটে থাকার আশা বাঁচিয়ে রাখল রিয়াল
নতুন ফরমেটের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চলতি আসরের প্রথম ছয় ম্যাচের তিনটি হেরে খাদের কিনারায় চলে গিয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। কোচ কার্লো আনচেলত্তি তো বলেই দিয়েছিলেন যে সেরা আট নয়, প্লে-অফে টিকে থাকার লক্ষ্যে খেলবে রিয়াল মাদ্রিদ।
তবে সেরা আটে থেকে সরাসরি শেষ ষোলোর টিকিট পাওয়ার আশা কাগজে-কলমে টিকিয়ে রাখতে সপ্তম ম্যাচটি শুধু জিতলেই হতো না রিয়ালের, বড় ব্যবধানে জয়ের প্রয়োজন ছিল দলটির। আর সেটিই করে সেই আশা বাঁচিয়ে রেখেছে আনচেলত্তির শিষ্যরা।
সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে বুধবার রাতে রেডবুল জালৎসবুর্গের বিপক্ষে ৫-১ গোলের জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
এদিন প্রথমার্ধে রদ্রিগোর জোড়া গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করেন ভিনিসিয়ুসও। মাঝে একটি গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
আরও পড়ুন: দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে সিটিকে বাদ পড়ার শঙ্কায় ফেলে জিতল পিএসজি
দারুণ এই জয়ে সাত ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে ছয় ধাপ এগিয়ে ১৬তম স্থানে উঠেছে ১৫ বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা। সমান পয়েন্ট নিয়ে তাদের ওপরে জার্মানির দুই ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও বায়ার্ন মিউনিখ।
সরাসরি শেষ ষোলোর টিকিট আদায় করতে অনেক জটিল হিসাব-নিকাশ সামনে রেখে আগামী মঙ্গলবার লিগ পর্বের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে ফরাসি ক্লাব ব্রেস্তের বিপক্ষে মাঠে নামবে রিয়াল মাদ্রিদ।
খুব বড় নাম না হলেও চলতি মৌসুমে বায়ের লেভারকুজেনের বিপক্ষে ড্র ও বার্সেলোনাকে হারিয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১৩তম স্থানে থাকা দলটির আত্মবিশ্বাস রয়েছে তুঙ্গে। সেরা আটে জায়গা করে নিতে তাই এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুসদের মোটেও ছেড়ে কথা বলবে না তারা।
অপরদিকে, সাত ম্যাচের মাত্র একটি জিতে অস্ট্রিয়ান ক্লাব জালৎসবুর্গের পরের ধাপে ওঠার আশা আগেই শেষ হয়ে গেছে। আগামী বুধবার আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে তারা।
আরও পড়ুন: বায়ার্নকে হারিয়ে ফেয়েনুর্ডের চমক
দিনের অপর ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছে ডাচ ক্লাব ফেয়েনুর্ড। এছাড়া পিএসজির বিপক্ষে ২-০ এগিয়ে গিয়েও ৪-২ গোলে হেরেছে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে ইন্টার মিলান ও এসি মিলান। আর দিনামো জাগরেবকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে টেবিলের তিনে উঠে গেছে মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল।
৪৬৮ দিন আগে
বায়ার্নকে হারিয়ে ফেয়েনুর্ডের চমক
ম্যাচজুড়ে ৮০ শতাংশ সময় বলের দখল রেখে ৩০টি শট নিয়েও গোলের দেখা পেল না বায়ার্ন মিউনিখ। অপরদিকে, আটটি শট নিয়ে তিনবার বল জালে পাঠিয়ে দারুণ এক জয় তুলে নিল ডাচ ক্লাব ফেয়েনুর্ড।
বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সপ্তম রাউন্ডের ম্যাচে শক্তিশালী বায়ার্ন মিউনিখকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ফেয়েনুর্ড।
দলটির হয়ে মেক্সিকান ফরোয়ার্ড সান্তিয়াগো হিমেনেস জোড়া গোল করেন, আর তৃতীয় গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন জাপান ফরোয়ার্ড আয়াসে উয়েদা।
পুরো ম্যাচে স্বাগতিকদের ওপর ছড়ি ঘোরালেও শুরু থেকে কিছুটা এলোমেলো খেলতে থাকে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। এই সুযোগে বায়ার্নকে চমকে দিয়ে ২১তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন হিমেনেস।
নিজেদের অর্ধ থেকে খেইস স্মালের উঁড়ন্ত পাস নামিয়ে নিয়ে দুর্দান্ত এক শটে জাল খুঁজে নেন ২৩ বছর বয়সী মেক্সিকান ফরোয়ার্ড।
আরও পড়ুন: দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে সিটিকে বাদ পড়ার শঙ্কায় ফেলে জিতল পিএসজি
এরপর সমতায় ফিরতে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে বায়ার্ন। বারবার আক্রমণে উঠে প্রতিপক্ষের রক্ষণ তটস্থ করে রাখে তারা। তবে লো-ব্লক ডিফেন্সে ব্যবধান ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে ফেয়েনুর্ডের খেলোয়াড়রা।
এরই ধাবাহিকতায় প্রথমার্ধের যোগ করা নবম মিনিটে প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি দিয়ে বসেন বায়ার্নের পর্তুগিজ লেফট ব্যাক রাফায়েল গেরেইরো। এরপর স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বিরতিতে যায় হিমেনেস অ্যান্ড কোং।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আরও আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে মিউনিখের দলটি। একের পর এক আক্রমণ আর শটে প্রতিপক্ষকে একেবারে কোণঠাসা করে রাখে তারা, কিন্তু ফেয়েনুর্ডের জমাট রক্ষণ ভেঙে কোনোভাবেই লক্ষ্যভেদ করতে পারছিলেন না হ্যারি কেইন- জামাল মুসিয়ালারা। সেইসঙ্গে গোলপোস্টে অসাধারণ পারফর্ম করেন ডাচদের গোলরক্ষক জাস্টিন বাইলোভ।
বায়ার্নের আক্রমণের হলকা সামলে ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে গিয়ে দলটির সমতায় ফেরার আশাও শেষ করে দেন উয়েদা। আন্তোনি মিলাম্বোর কাছ থেকে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় ঠিকানা খুঁজে নেন এই জাপানি ফরোয়ার্ড।
আরও পড়ুন: ভাগ্যের পালাবদলের রাতে ৯ গোলের থ্রিলারে শেষ হাসি বার্সেলোনার
এই জয়ে সাত ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট (৪ জয়, ১ ড্র) নিয়ে টেবিলের ১১তম স্থানে উঠে এসেছে ফেয়েনুর্ড। সেইসঙ্গে বাঁচিয়ে রেখেছে প্লে-অফ এড়িয়ে সরাসরি শেষ আট নিশ্চিতের আশা। অপরদিকে, ম্যাচটি হেরে ১২ পয়েন্ট নিয়ে ১৫ নম্বরে নেমে গেছে বায়ার্ন মিউনিখ।
লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামী বুধার ফরাসি ক্লাব লিলের মোকাবিলা করবে ফেয়েনুর্ড, আর স্লোভাকিয়ার ক্লাব স্লোভান ব্রাতিস্লাভার বিপক্ষে মাঠে নামবে ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা।
দিনের অপর ম্যাচে পিএসজির বিপক্ষে ২-০ এগিয়ে গিয়েও ৪-২ গোলে হেরেছে ম্যানচেস্টার সিটি। এছাড়া প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান, এসি মিলান ও আর্সেনাল।
৪৬৮ দিন আগে
দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে সিটিকে বাদ পড়ার শঙ্কায় ফেলে জিতল পিএসজি
মাঠে কিংবা ব্যক্তিজীবনে, পেপ গার্দিওলার কঠিন সময় যেন শেষ হয়েও হচ্ছে না। টানা হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে কয়েকদিন আগেই সুসময়ে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল তার দল। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে এসে ফের খেই হারিয়ে ফেলল ম্যানচেস্টার সিটি।
বুধবার (২২ জানুয়ারি) রাতে প্যারিসের পার্ক দে প্রান্সে পিএসজির বিপক্ষে ২ গোলে এগিয়ে গিয়েও ফের নিদারুণ এক হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সিটিকে। অপরদিকে, ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও ৪-২ গোলের দারুণ এক জয় তুলে মাঠ ছেড়েছে লুইস এনরিকের শিষ্যরা।
ম্যাড়মেড়ে গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে জমে ওঠে ম্যাচ। সবগুলো গোল হয়েছে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেই।
অসাধারণ সব খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ হয়েও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চলতি আসরের শুরু থেকে ভুগতে থাকায় লিগ পর্ব থেকেই পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকে রয়েছে দুই দল। ফলে বাদ পড়ার শঙ্কা এড়িয়ে প্লে-অফে খেলার সম্ভাবনা বাড়াতে এই ম্যাচটি জয়ের বিকল্প ছিল না উভয় দলেরই। তাছাড়া, দুই কোচই এক সময়কার সতীর্থ এবং নিজেদের অধীনে বার্সেলোনাকে ট্রেবল জেতানোয় পিএসজি-সিটি ম্যাচটি নিয়ে ফুটবলভক্তদের মধ্যে ছিল বাড়তি উত্তেজনা।
আরও পড়ুন: নাটকীয় বেনফিকা-বার্সা ম্যাচে হলো যেসব রেকর্ড
দুই কোচের খেলোয়াড়ি দর্শন প্রায় একই হলেও বল দখলের লড়াইয়ে এদিন সিটিকে টেক্কা দেয় পিএসজি। প্রথমার্ধে উভয় দলের খেলায় তেমন গতি না থাকলেও একটি গোল করে বসে পিএসজি, তবে অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই ভোল পাল্টে ফেলে ম্যানচেস্টার সিটি। বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারলেও যখনই বল পাচ্ছিলেন, তখনই আক্রমণে উঠে গোলের সুযোগ খুঁজছিলেন হালান্ড-ফোডেনরা।
এরই ধারাবাকিতায় ম্যাচের ৫০ ও ৫৩তম মিনিটে যথাক্রমে জ্যাক গ্রিলিশ ও আর্লিং হালান্ডের দুই গোলে চকিতে ম্যাচ জয়ের দাবিদার বনে যায় সিটি।
এরপর ঘুরে দাঁড়াতে বেশিক্ষণ লাগেনি পিএসজির। সিটির মতোই ৫৬ ও ৬০তম মিনিটে চকিতে দুই গোল করে দলকে সমতায় ফেরান উসমান দেম্বেলে ও ব্রাদলে বারকোলা।
এরপর থেকে ম্যানচেস্টারের দলটির ওপর ছড়ি ঘোরানো শুরু হয় এনরিকের শিষ্যদের। একের পর এক পরিকল্পিত আক্রমণে সিটির রক্ষণভাগ কাঁপিয়ে দেয় তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৭৮তম মিনিটে প্রথমবার দলকে লিড এনে দেন পিএসজির পর্তুগিজ মিডফিল্ডার জোইয়াও নেভেস। মাঝে দেম্বেলের আরও একটি গোল অফসাইডে বাতিলে হলে যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে সিটির কফিনে শেষ পেরকটি ঠুকে দেন আরেক পর্তুগিজ গন্সালো রামোস।
আরও পড়ুন: বায়ার্নকে হারিয়ে ফেয়েনুর্ডের চমক
এই জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফে খেলাদের তালিকায় ঢুকে পড়েছে পিএসজি। তাদের অবস্থান এখন ২২তম। আর এই ম্যাচে কোনো পয়েন্ট না পাওয়ায় ৮ পয়েন্ট নিয়ে বাদ পড়াদের তালিকায় নেমে গেছে গেছে পেপ গার্দিওলার দল। তাদের অবস্থান এখন প্লে-অফে খেলার সর্বেশেষ অবস্থান থেকে ঠিক নিচে, টেবিলের ২৫ নম্বরে।
লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামী বুধবার ২০তম স্থানে থাকা ক্লাব ব্রুজের মোকাবিলা করবে সিটি। প্লে-অফের আশা বাঁচাতে ওই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই তাদের সামনে। পিএসজির শেষ ম্যাচও একই দিন। প্লে-অফ নিশ্চিত করতে ২৪তম স্থানে থাকা স্টুটগার্টের বিপক্ষে জিততে হবে তাদেরও।
দিনের অপর ম্যাচে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান, এসি মিলান ও আর্সেনাল। তবে ফেয়েনুর্ডের কাছে ৩-০ গোলে হেরে গেছে বায়ার্ন মিউনিখ।
৪৬৮ দিন আগে
নাটকীয় বেনফিকা-বার্সা ম্যাচে হলো যেসব রেকর্ড
ফুটবলপাড়ায় গতরাতের পাগলাটে ম্যাচের রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। বার্সেলোনা সমর্থকদের অনেকে এখনও স্বপ্নের মধ্যে ডুবে আছেন। এর মাঝে চলুন দেখে নেই, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ওই ম্যাচটি কতগুলো রেকর্ডে নাম তুলল।
বেনফিকাকে ৫-৪ গোলে হারানোর রাতে জোড়া গোল করেন রাফিনিয়া। এর মাধ্যমে চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার গোলসংখ্যা বেড়ে হলো ৮টি। এর ফলে চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে বসেছেন তিনি। ৯ গোল করে তালিকার শীর্ষে তারই সতীর্থ রবের্ট লেভানডোভস্কি। তিনিও ম্যাচটিতে পেয়েছেন জোড়া গোলের দেখা।
গোল করায় দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও গোলে অবদান রাখার তালিকায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড। আট গোলের পাশাপাশি তিনটি অ্যাসিস্টের কল্যাণে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চলতি আসরে মোট ১১ গোলে অবদান রেখেছেন তিনি।
রাফিনিয়ার প্রথম গোলটি ছিল ডি-বক্সের বাইরে থেকে হেডারে করা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় গোল। সেটিও দেখা গেল এক যুগ পর। সবশেষ ২০০৩ সালে আয়াক্সের বিপক্ষে বক্সের বাইরে থেকে হেডারে লক্ষ্যভেদ করেন ক্লাব ব্রুজের নরওয়ে স্ট্রাইকার রুনে লাঙ্গে।
আরও পড়ুন: ভাগ্যের পালাবদলের রাতে ৯ গোলের থ্রিলারে শেষ হাসি বার্সেলোনার
গতরাতে পেনাল্টি থেকে জোড়া গোল আদায় করে নতুন উচ্চতায় উঠেছেন রবের্ট লেভানডোভস্কি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে পেনাল্টি থেকে গোল করায় লিওনেল মেসিকে (১৮) ছাড়িয়ে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড স্পর্শ করেছেন এই পোলিশ। স্পট কিক থেকে গোল করার রেকর্ডে ১৯ গোল নিয়ে রোনালদোর সঙ্গে এখন যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন লেভা। সামনের ম্যাচগুলোতে পেনাল্টি গোলে রূপান্তর করতে পারলেই সবাইকে ছাড়িয়ে যাবেন তিনি।
ইউরোপীয় এই প্রতিযোগিতার নাম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ করার পর থেকে মাত্র পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েও ম্যাচ হেরেছেন ভাঙ্গেলিস পাভলিদিস।
২০০৩ সালে সর্বপ্রথম এমন দুর্ভাগ্যজনক কীর্তি গড়েন ব্রাজিল কিংকদন্তি রোনালদো নাজারিও। সে বছর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে হ্যাটট্রিক করেও রিয়াল মাদ্রিদকে ম্যাচ জেতাতে ব্যর্থ হন তিনি; ৪-৩ গোলে ম্যাচটিতে জয় পায় ইউনাইটেড। এরপর ২০১০ সালে সান সিরোতে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেও টটেনহ্যামকে জেতাতে পারেননি গ্যারেথ বেল; ওই ম্যচটিও ৪-৩ গোলে শেষ হয়। ২০২০ সালে তুরস্কের মিডফিল্ডার ইরফান কাভেচি ইস্তানবুল বাসাকসেহিরের জার্সিতে হ্যাটট্রিক করেন, তবুও লাইপসিগের কাছে ৪-৩ গোলে হারে তার দল। পরের বছর কপাল পোড়ে ক্রিস্তোফার এনকুঙ্কুর। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ক্লাব ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক পেলেও লাইপসিগ ম্যাচটি হারে ৬-৩ ব্যবধানে। এ মৌসুমে সেইসব অভাগাদের দলে নাম লেখালেন পাভলিদিস।
ম্যাচ হারলেও গতরাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ইতিহাসের তৃতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক (৩০ মিনিট) করেছেন এই গ্রিক ফরোয়ার্ড। এই তালিকায়ও শীর্ষে রয়েছেন লেভানডোভস্কি। ২০২২ সালে রেডবুল জালৎসবুর্গের বিপক্ষে ৭-১ গোলে বায়ার্নের জয়ের ম্যাচে মাত্র ২৩ মিনিটে হ্যাটট্রিক করেন এই স্ট্রাইকার। এছাড়া ১৯৯৬ সালে এসি মিলানের হয়ে ২৪ মিনিটে নরওয়ের ক্লাব রোজেনবর্গের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ইতালিয়ান স্ট্রাইকার মার্কো সিমোনে।
আরও পড়ুন: ধ্রুপদী ফুটবলের রাতে গৌরবময় সময়ে ফেরার ইঙ্গিত বার্সেলোনার
চার গোল হজম করেও ইউরোপের এই এলিট লিগের ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় দল হিসেবে গতরাতে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছে বার্সেলোনা। এর আগে ২০০৪ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে টটেনহ্যামকে একই স্কোরলাইনে হারিয়ে রেকর্ড গড়ে আর্সেনাল।
তবে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এই প্রথম কোনো ম্যাচ জিতল বার্সেলোনা।
এছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রে (অন্তত ১০ ম্যাচ) এখন সবার উপরে হান্সি ফ্লিক। বায়ার্ন মিউনিখ ও বার্সেলোনা মিলিয়ে ২৪ ম্যাচ খেলেছে তার দল, যার ২১টিই জিতেছেন তিনি; এছাড়া ড্র করেছেন একটি ও হেরেছেন মাত্র দুটি ম্যাচ। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এখন পর্যন্ত ৮৮ শতাংশ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড এই জার্মান কোচের।
৪৬৮ দিন আগে
ভাগ্যের পালাবদলের রাতে ৯ গোলের থ্রিলারে শেষ হাসি বার্সেলোনার
খ্যাতিমান কোনো নাট্যকার বা সিনেমার গল্পলেখককেও যেন হারিয়ে দিল বেনফিকা-বার্সেলোনা ম্যাচ। একের পর এক দৃশ্যপট পরিবর্তন, বারবার ভাগ্যদেবীর রসিকতা, ২ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর জানুয়ারির শীতে বৃষ্টির হানা, ব্যবধান কমিয়ে ফের ২ গোলে পিছিয়ে পড়া এবং একেবারে শেষ মুহূর্তে হারতে গিয়েও অকল্পনীয়ভাবে জিতে যাওয়া— বিশ্বের দুর্দান্ত সব থ্রিলার গল্পের চেয়ে কোনো অংশেই কম কিছু ছিল না। এসবের জেরে পুরোটা সময় আনন্দে টইটম্বুর থেকে ম্যাচশেষে গোমড়া মুখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বেনফিকার সমর্থকদের। ‘অবিচার করা হয়েছে’ ভেবে রাতের ঘুম তাদের হবে কি না, বলা মুশকিল।
পর্তুগালের দা লুস স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সপ্তম রাউন্ডের ম্যাচে স্বাগতিকদের ৫-৪ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা।
এর ফলে সাত ম্যাচে ৬ জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই টেবিলের চূড়ায় থাকা লিভারপুলের সঙ্গে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা।
ভানগেলিস পাভলিদিসের প্রথমার্ধের হ্যাটট্রিকের পর দ্বিতীয়ার্ধে রোনালদ আরাউহোর আত্মঘাতী গোল, সব মিলিয়ে চার গোল করে বেনফিকা। অপরদিকে, দুই অর্ধে পেনাল্টি থেকে দুই গোল করেন রবের্ট লেভানডোভস্কি এবং এরিক গার্সিয়ার একটি ও রাফিনিয়ার জোড়া গোলে জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।
এদিন খেলা শুরুর পরপরই বেনফিকার দুর্দান্ত একটি আক্রমণে গোল খেয়ে বসে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে সতীর্থের কাছ থেকে আসা উড়ন্ত পাস ধরে বাঁ পাশ দিয়ে এগিয়ে গিয়ে প্রতিপক্ষের বক্সের মধ্যে ক্রস দেন আলভারো কারেরাস। অসাধারণ ভলিতে প্রথম স্পর্শেই তা থেকে সমর্থকদের উল্লাসের উপলক্ষ এনে দেন পাভলিদিস।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয়ার্ধের চরম নাটকীয়তা শেষে ডর্টমুন্ড বধ বার্সেলোনার
গোল খাওয়ার পর আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা শুরু করে বার্সেলোনা, অপরদিকে বেনফিকাও সফরকারীদের ছেড়ে কথা বলার মনোভাব দেখায় না। ফলে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে উত্তেজনার পারদ চড়ে খেলায়।
এরই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ত্রয়োদশ মিনিটে পেনাল্টি থেকে পাওয়া গোলে সমতায় ফেরে কাতালান জায়ান্টরা। বেনফিকার বক্সের মধ্যে বল নিয়ে ঢোকার পর আলেহান্দ্রো বালদের শট প্রতিহত করতে গিয়ে তার পায়ে পাড়া দিয়ে বসেন দলটির পর্তুগিজ ডিফেন্ডার তমাস আরাউহো।
শুরুতে বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা আবেদন করেনি, রেফারিও গুরুত্ব দেনটি বিষয়টিতে। তবে কিছুক্ষণ পর ভিএআর বক্স থেকে রেফারিকে রিভিউ দেখার কথা জানানো হয়। এরপর টাচলাইন মনিটর থেকে রিভিউ দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি, আর নিখুঁত স্পট কিকে দলকে সমতায় ফেরান লেভানডোভস্কি।
৪৬৯ দিন আগে
গোল উৎসব করে শীর্ষে উঠল রিয়াল মাদ্রিদ
স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে বিধ্বস্ত হয়ে যেন হুঁশ ফিরেছে রিয়াল মাদ্রিদের। ওই ম্যাচের পর থেকে দুর্দান্ত পারফর্ম করে চলেছে লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা।
গত বৃহস্পতিবার কোপা দেল রের শেষ ষোলোর ম্যাচে সেল্তা ভিগোকে বিধ্বস্ত করার পর এবার লা লিগায় লাস পালমাসের ওপরও রোলারকোস্টার চালিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
সান্তিয়াগো বের্নাবেউতে রবিবার (১৯ জানুয়ারি) লিগের ২০তম রাউন্ডের ম্যাচে পালমাসকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
এটুকু বললে বোধহয় ‘গোলউৎসব’ শব্দটির যথার্থতা প্রকাশ পেল না। ম্যাচে রিয়ালের আরও তিনটি গোল অফসাইডে কাটা পড়ে, যার একটি ছিল পরিষ্কার বৈধ গোল।
এদিন রেফারি ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজানোর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই গোল পেয়ে যায় লাস পালমাস। ম্যাচের ২৮ সেকেন্ডের মাথায় সান্দ্রো রামিরেসের পাঠানো ক্রস নিখুঁত নৈপুণ্যে জালে জড়িয়ে দেন ফাবিও সিলভা।
এটি যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দ্বিতীয় দ্রুততম গোল খাওয়ার রেকর্ড রিয়ালের।
২০১১ সালে লস ব্লাঙ্কোসদের বিপক্ষে দ্রুততম গোলের রেকর্ডটি গড়েন রায়ো ভায়েকানোর মিগেল ‘মিচু’ পেরেস। শেষ পর্যন্ত ওই ম্যাচটিও বড় ব্যবধানে জিতে নিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ৬-২ গোলের সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। এছাড়া করিম বেনজেমা দুটি ও গন্সালো হিগুয়েন অপর গোলটি করেন।
আরও পড়ুন: পাঁচ বছরেও গেতাফের মাঠে জিততে পারল না বার্সেলোনা
৪৭১ দিন আগে
পাঁচ বছরেও গেতাফের মাঠে জিততে পারল না বার্সেলোনা
এস্তাদিও কলিসেউম আলফনসো পেরেসে; বার্সেলোনার কাছে গত কয়েক বছর ধরেই এক দুঃস্বপ্নময় স্থান। সবশেষ ২০১৯ সালে এই মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরেছিলেন তৎকালীন বার্সা বস এর্নেস্তো ভালভের্দে। এরপর কেটে গেছে চারটি বছর।
এর মাঝে রোনাল্ড কুমান পারেননি, শাভি এরনান্দেসও কলিসিউম থেকে জয় নিয়ে ফিরতে পারেননি। এমনকি, গোল করা তো দূরের ব্যাপার, স্টেডিয়ামটিতে গত চার মৌসুমে গোলই করতে পারেনি বার্সেলোনা। এর মাঝে সবগুলো ম্যাচ গোলশুন্য ড্র করলেও হেরেছে একটিতে। এবার হান্সি ফ্লিকের অধীনে গোল করার অভিশাপ ভাঙলেও জয় নিয়ে ফিরতে পারল না কাতালানরা। পঞ্চম বছরে এসেও জয়বঞ্চিত থেকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ফ্লিকের শিষ্যদের।
লা লিগার ২০তম রাউন্ডের ম্যাচে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে স্বাগতিকদের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে বার্সেলোনা।
বার্সাকে প্রথমে গোল এনে দেন জুল কুন্দে। এরপর গেতাফেকে সমতায় ফেরান মাউরো আরামবারি।
আরও পড়ুন: বেতিসকেও ৫ গোল দিয়ে কোপা দেল রের কোয়ার্টারে বার্সেলোনা
এদিন গেতাফেকে চেপে ধরে ম্যাচের নবম মিনিটেই গোল আদায় করে নেয় বার্সেলোনা। বক্সের বেশ বাইরে থেকে গেতাফের বক্সে ঢুকতে থাকা কুন্দেকে চমৎকার একটি ক্রস উড়িয়ে দেন পেদ্রি। এরপর গোলরক্ষক বল ঠেকালেও আটকাতে ব্যর্থ হন, আর গোলমুখে বল পেয়েই তা জালে জড়িয়ে দেন কুন্দে।
এর ফলে স্প্যানিশ ফুটবল ক্যারিয়ারে প্রথমবার টানা দুই ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন এই ফরাসি ফুলব্যাক। কোপা দেল রের ম্যাচে গত বুধবার বেতিসের বিপক্ষেও গোল করেছিলেন তিনি। তার আগের ম্যাচে সুপার কাপের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে ৫-২ গোলে হারানোর রাতে একটি অ্যাসিস্ট করেন কুন্দে। তাই সবশেষ তিন ম্যাচে তিনটি গোলে অবদান রাখলেন তিনি।
৪৭২ দিন আগে
বার্সেলোনা ছাড়ার কারণ ও ক্যারিয়ারের গল্প বললেন নেইমার
২০১৭ সালের ২ আগস্ট, বার্সেলোনাভক্তদের হৃদয়ে আজও দিনটি অমলিন হয়ে আছে। সেদিন লিওনেল মেসির উত্তসূরি হিসেবে যাকে ভাবা হচ্ছিল, সেই নেইমারই ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা দেন। তারপর থেকে গুঞ্জন ছিল বিশ্বসেরা ফুটবলার হতেই মেসির ছায়া থেকে বের হতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে এত বছর পর সেইসব গুঞ্জনে জল ঢেলেছেন এই ব্রাজিলীয় তারকা।
সম্প্রতি ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোমারিওর একটি পডকাস্টে বার্সেলোনা ও পিএসজিতে থাকাকালে নিজের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন নেইমার। ওই আলাপচারিতায় উঠে আসে তার বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গটি।
২০১৭ সালে ঠিক কী হয়েছিল, মেসি তোমার (পিএসজিতে) চলে যাওয়ার বিষয়টি কীভাবে নিয়েছিল?— রোমারিওর এমন প্রশ্নের উত্তরে ব্রাজিলিয়ান প্রিন্স বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, বিশ্বসেরা ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছায় আমি বার্সেলোনা ছাড়িনি।’
‘বার্সায় আমার শেষ সপ্তাহে মেসি নিজেই আমাকে ডেকে বলেছিল— কেন চলে যাচ্ছ? কারণটি যদি এমন হয় যে, তুমি বিশ্বের সেরা ফুটবলার হবে, তাহলে আমিই তোমাকে বিশ্বসেরা বানাব।’
‘আমি মেসিকে বলেছিলাম যে, বিষয়টি তা নয়। এটি ব্যক্তিগত এবং তোমাকে নিয়ে আমার মধ্যে এমন কোনোকিছু নেই।’
পিএসজির বিরাট অঙ্কের আর্থিক প্রস্তাব যে অনেকটাই প্রভাবিত করেছিল, তা স্বীকার করে নেইমার বলেন, ‘ওদের প্রস্তাবটি বার্সেলোনায় আমি যা উপার্জন করতাম, তার চেয়ে অনেক বড় ছিল।’
‘তাছাড়া নতুন দলে (পিএসজিতে) বেশ কয়েকজন ব্রাজিলীয় ফুটবলার ছিল। সেখানে আগে থেকেই থিয়াগো সিলভা ছিল। দানি আলভেস মাত্রই যোগ দিয়েছে তখন, আর মার্কিনিয়োস ও লুকাস (মৌরা) আমার বন্ধু। আমি ওদের সঙ্গে খেলতে চেয়েছিলাম।’
‘নিজেকে বলেছিলাম, আমার চারপাশে কিছু ব্রাজিলীয় (ফুটবলার) চাই। বার্সায় এখন আর কোনো ব্রাজিলীয় নেই।’
নেইমারের কথায়, ‘মেসিকে আমি আরও বলেছিলাম— আমি যাচ্ছি, একটা চান্স নিয়েই দেখি। তবে বিশ্বসেরা হতে আমি তাকে (মেসি) ছেড়েছি, কথাটা ঠিক নয়।’
৪৭৩ দিন আগে
বেতিসকেও ৫ গোল দিয়ে কোপা দেল রের কোয়ার্টারে বার্সেলোনা
স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে গত রবিবার রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে যেখানে শেষ করেছিল বার্সেলোনা, কোপা দেল রের ম্যাচে বেতিসের বিপক্ষে যেন সেখান থেকেই শুরু করল তারা। আর কাতালানদের পারফরম্যান্সের আগুনে রিয়ালের মতো পুড়ে ছাই হলো মানুয়েল পেল্লেগ্রিনির শিষ্যরা।
বার্সেলোনার অলিম্পিক স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে কোপা দেল রের শেষ ষোলোর ম্যাচে রিয়াল বেতিসকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। ফলে টানা দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ৫ গোল পাঠাল দলটি।
এদিন বার্সেলোনার হয়ে গোলের দেখা পেয়েছেন পৃথক পাঁচ ফুটবলার— গাভি, জুল কুন্দে, রাফিনিয়া, ফেররান তোরেস ও লামিন ইয়ামাল। অন্যদিকে, পেনাল্টি থেকে বেতিসের একমাত্র গোলটি করেন বার্সা থেকে ধারে খেলা ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড ভিতর রকে।
সুপার কাপ এল ক্লাসিকোর পর এদিন আরও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন লামিন ইয়ামাল। ম্যাচসেরার পুরস্কারও তাই উঠেছে তার হাতেই।
আরও পড়ুন: রিয়ালকে ৫ গোল দিয়ে সুপার কাপ জিতল ১০ জনের বার্সেলোনা
গাভির গোলে ম্যাচের শুরুতেই এদিন এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। তৃতীয় মিনিটে মাঝমাঠ থেকে দানি অলমোকে দারুণ একটি পাস বাড়ান পেদ্রি, বক্সের সামান্য বাইরে থেকে ভেতরে ঢুকতে থাকা গাভিকে ডিফেন্সচেরা পাস দেন সম্প্রতি নিবন্ধন জটিলতায় পড়া এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, আর তা থেকে গোল করে দলকে লিড এনে দেন ২০ বছর বয়সী গাভি।
তিন মিডফিল্ডারের নৈপুণ্যে গোল পেয়ে আরও আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে বার্সেলোনা। অষ্টম মিনিটে জুল কুন্দের বক্সের মধ্যে পাঠানো বল ধরে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে শট নেন অলমো। তবে অসাধারণ দক্ষতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে তা ঠেকিয়ে দেন বেতিস গোলরক্ষক ফ্রান ভিয়েইতেস।
আক্রমণের মালা গাঁথার একপর্যায়ে অলমোর আরও একটি শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। ২০তম মিনিটে নেওয়া ওই শটটি ফিরে এলে তা পেয়ে যান রাফিনিয়া, কিন্তু তিনিও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন।
তবে এর সাত মিনিট পর দুর্দান্ত বার্সেলোনাকে আর আটকে রাখতে পারেনি বেতিসের ডিফেন্ডাররা। এবারও গোলের কারিগর সেই পেদ্রি।
মাঝমাঠের কিছুটা সামনে থেকে এগোতে থাকা কুন্দের উদ্দেশে পাস দেন পেদ্রি, তবে তা না ধরে ডামি দিয়ে দ্রুত বক্সে ঢুকে পড়েন এই উইংব্যাক। আর পেছনে থাকা লামিন ইয়ামাল প্রথম ছোঁয়াতেই দারুণ এক ফ্লিকে কুন্দের কাছে পাঠিয়ে দেন বল। তা নামিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন ২৬ বছর বয়সী ফরাসি ডিফেন্ডার।
এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা চার মিনিটের প্রথম মিনিটে ভালো একটি সুযোগ তৈরি করে বেতিস। তবে সেই শটটি দিক পরিবর্তন করলেও বিপরীত দিকে পড়তে পড়তে হাত উঁচু করে কোনোরকমে তা ফিরিয়ে দেন বার্সেলোনা গোলরক্ষক ইনিয়াকি পেনিয়া।
শেষ মিনিটে লামিন-কুন্দে যুগলবন্দীতে আরও একটি গোল পায় বার্সেলোনা, তবে ভিএআর রিভিউতে অফসাইড ধরা পড়লে ব্যবধান ২-০ রেখেই বিরতিতে যায় সদ্য স্প্যানিশ সুপার কাপ চ্যাম্পিয়নরা।
৪৭৫ দিন আগে