বিশ্ব
চীনে ঝড়ে প্রাণহানি বেড়ে ৩৯, ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘বাভি’
দক্ষিণ চীনে ক্রান্তীয় ঝড় ‘মেসাক’-এর প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনও ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে এর মধ্যেই ‘বাভি’ নামে আরেকটি টাইফুন আঘাত হানার পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। নতুন ঝড়ের আঙ্কায় তাইওয়ান ও চীনের পূর্ব উপকূলে সতর্কতা ও প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
নানিং শহরের ভাইস মেয়র ডিং ওয়েই এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই ঝড়ে নানিংয়ের পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকায় বাঁধ ভেঙে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ২৬ জন মারা গেছেন। তিনি বলেন, গুয়াংসি অঞ্চলে এখনও ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে মৃতের সংখ্যা ৬ জন ছিল বলে জানিয়েছিল দক্ষিণ চীনের কর্তৃপক্ষ।
মেসাকের প্রভাবে গত শনিবার থেকে গুয়াংসিতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে একাধিক জলাধারের বাঁধ ভেঙে যায়। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর সেখান থেকে নেমে আসা প্রবল পানির তোড়ে বিভিন্ন শহর ও জনপদ প্লাবিত হয়েছে। বহু মানুষ কয়েক দিন ধরে নিজেদের বাড়ি ও বিভিন্ন ভবনে আটকা পড়ে ছিলেন।
১১০ দিন আগে
ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে বড় অস্ত্রচুক্তি উন্মোচন করবে ন্যাটো
প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ন্যাটো। এ লক্ষ্যে জোটটি শত শত কোটি ডলারের নতুন অস্ত্রচুক্তি ও সামরিক প্রকল্প ঘোষণা করবে। এর মাধ্যমে ন্যাটো ট্রাম্পকে দেখাতে চায়, সংগঠনটির সদস্য দেশগুলো শুধু প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না, বাস্তবেও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি ও ন্যাটোর নজরদারি সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবারের সম্মেলনে গুরুত্ব পাবে।
সম্মেলনে ‘বিগ রিভিল’ নামের অনুষ্ঠানে ন্যাটোর কয়েকজন নেতার প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নতুন একাধিক চুক্তি ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তবে এসব চুক্তির বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে হবে।
ট্রাম্প এর আগে ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও নেতৃত্ব ছাড়া ন্যাটো কার্যকরভাবে চলতে পারবে না।
এদিকে, সম্মেলনের আগের দিন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের নতুন চুক্তি ঘোষণা করব, যা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে।’
এর কয়েক সপ্তাহ আগে ন্যাটোতে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেছিলেন রুটে। সে সময় তিনি ‘দ্য ট্রাম্প ট্রিলিয়ন’ শিরোনামের একটি চার্ট উপস্থাপন করেন। সেখানে দেখানো হয়, ২০১৭ সাল থেকে ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো ও কানাডা প্রতিরক্ষা খাতে মোট ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।
তবে তাতেও সন্তুষ্ট হননি ট্রাম্প। সে সময় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ন্যাটোর কয়েকটি সদস্য দেশ অংশ না নেওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তাদের অর্থ আমাদের দরকার নেই। আমাদের কিছুই দরকার নেই। আমি শুধু বিশ্বস্ততা চাই।’
নতুন নজরদারি বিমানবহর কেনার পরিকল্পনা
ন্যাটোর চুড়ান্ত চুক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, তাদের পুরোনো নজরদারি বিমান বদলে নতুন বিমান কেনার পরিকল্পনা। এসব চুক্তির বেশিরভাগই সম্মেলনের আগেই প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া কিছু চুক্তিতে ইতোমধ্যে সইও হয়েছে।
ন্যাটো একটি জোট হিসেবে নিজস্ব কোনো অস্ত্রের মালিক নয়। অস্ত্রগুলো ৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের মালিকানাধীন। তবে সংগঠনটির প্রায় ৫০ বছর পুরোনো এডব্লিউএসি নজরদারি বিমান ও কিছু আধুনিক নজরদারি ড্রোন রয়েছে।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে কয়েকটি প্রকল্পের অর্থায়ন হবে। এই কর্মসূচির আওতায় পুঁজিবাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৭০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হবে।
রুটে জানান, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, অর্থনৈতিক শক্তিকে আমরা সামরিক সক্ষমতায় রূপ দিতে পারছি। প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই এই অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।’
সম্মেলনটি তুরস্কের আঙ্কারায় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের বিশাল প্রাসাদ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি সেখানে তুর্কি প্রেসিডেন্টের জন্য কিছু ‘উপহার’ নিয়ে যেতে পারেন।
তুরস্কের কাছে যুদ্ধবিমান বিক্রির বিরোধিতা নেতানিয়াহুর
অন্যদিকে, সোমবার ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এরদোয়ান ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চান।
তুরস্ক ও ইসরায়েলের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই তিক্ত। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধ নিয়ে এরদোয়ান প্রায়ই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে আসছেন।
এর আগে ২০১৯ সালে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ন্যাটো সম্মেলনের তার আঙ্কারা সফরের আগেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, খুব শিগগিরই তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি শুরু হতে পারে।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি হলে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হবে। সেই ভারসাম্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।’
এদিকে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী শত শত মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে রয়েছে এফ-৩৫, এফ-১৬ এবং এফ-১৫।
১১২ দিন আগে
বেলুচিস্তানে পুলিশ পোস্টে জঙ্গি হামলা, ৯ পুলিশ সদস্য নিহত
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে একটি পুলিশ পোস্টে রাতভর জঙ্গিদের হামলায় অন্তত ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ১৫ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে বেলুচিস্তানের জিয়ারাত জেলার একটি প্রত্যন্ত এলাকায় একটি পুলিশ পোস্টে জঙ্গিদের একটি দল হামলা চালায়। এতে নিরাপত্তা বাহিনী ও হামলাকারীদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে হামলাটি জিয়ারাত জেলার একটি দুর্গম এলাকায় ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে তারা আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
এদিকে, বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানিয়েছেন, হামলার সময় জঙ্গিরা ৮ পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সবাইকে উদ্ধার করতে পেরেছে।
তিনি জানান, এ হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর পরিচালিত ক্লিয়ারেন্স অভিযানে ১৫ জঙ্গি নিহত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এ ধরনের যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার দায় কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে এর পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহের শেষে পাকিস্তানের উপকূলীয় শহর জিওয়ানির একটি নিরাপত্তা চোকিতে আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছিল বিএলএ। তবে পাকিস্তান সরকার এখনো সেই দাবি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।
তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, গত সপ্তাহের শেষে কোয়েটা শহরের উপকণ্ঠে সশস্ত্র গোষ্ঠী বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছিল। এরপর থেকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা কোয়েটার কাছে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তারা তাদের জীবন রক্ষায় নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
এদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সর্বশেষ এ হামলার জন্য ভারতের সমর্থনপুষ্ট জঙ্গিদের দায়ী করেছেন। তবে তিনি এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অন্যদিকে, ভারত বরাবরই বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বা পাকিস্তানি তালেবানকে সমর্থন দেওয়ার এ অভিযোগকে অস্বীকার করে আসছে।
একই বক্তব্যে নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মহসিন নকভি। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘এ ধরনের হামলা পাকিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করতে পারবে না।’
এদিকে, পাকিস্তানি তালেবান গোষ্ঠী, যারা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামে পরিচিত, তারাও বেলুচিস্তানে শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে। জঙ্গি সংগঠনটি এর আগেও ওই এলাকায় একাধিক হামলা চালিয়েছে।
আয়তনে সবচেয়ে বড় হলেও পাকিস্তানে সবচেয়ে কম জনবহুল প্রদেশ হলো বেলুচিস্তান। দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রদেশটি বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ এবং পাকিস্তানি তালেবানের হামলার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিএলএকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংগঠনটি বেলুচিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক মানুষের ওপর বহু হামলা চালিয়েছে।
১১৩ দিন আগে
সুদানে ছয় মাসে ৩ শতাধিক শিশু হতাহত: ইউনিসেফ
সুদানের চলমান যুদ্ধে গত ছয় মাসে ৩ শতাধিক শিশু নিহত বা আহত হয়েছে, যার বেশিরভাগই ড্রোন হামলার শিকার বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে যুদ্ধ চলছে।
ইউনিসেফ জানায়, বর্তমানে করদোফান, দারফুর ও ব্লু নাইল অঙ্গরাজ্যগুলোতে সংঘাত সবচেয়ে তীব্র। এসব এলাকায় মোট হতাহতের প্রায় ৬০ শতাংশ ঘটছে ড্রোন হামলার কারণে।
উত্তর করদোফানের কৌশলগত শহর এল-ওবেইদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের লড়াইয়ের মধ্যে সম্ভাব্য নৃশংসতা নিয়ে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) জেনেভায় জাতিসংঘ-সমর্থিত মানবাধিকার পরিষদ পাঁচটি ইউরোপীয় দেশের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব ভোট ছাড়াই অনুমোদন করে। এতে এল-ওবেইদ এবং আশপাশের এলাকায় আরএসএফ ও তাদের মিত্রদের সহিংসতা বৃদ্ধির নিন্দা জানানো হয়।
প্রস্তাবে সুদান থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোকে আরও বেশি সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে যুদ্ধে ‘সব ধরনের বহিরাগত হস্তক্ষেপের’ নিন্দা জানানো হয়।
সংঘাতে সুদানে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত, প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দেশটির বহু এলাকা দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে তিন কোটির বেশি মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণে স্কুল, বাজার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং পানি সরবরাহকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অনেক এলাকায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বেসামরিক মানুষ প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায় জীবনযাপন করছে।
সুদানে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, ‘শিশুরা অবিরাম সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও বঞ্চনার এক নির্মম চক্রের মধ্যে আটকে পড়েছে।’
এমন পরিস্থিতিতে সংঘাতের সব পক্ষের প্রতি বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখা, নিরাপদ, দ্রুত ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করা এবং শিশুদের ক্ষতি থেকে রক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
১১৩ দিন আগে
ইউক্রেনে ফের রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১৮
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে এ হামলা চালানো হয়।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই অবশ্য রাজধানীতে রাশিয়ার আরেকটি বড় ধরনের হামলা হতে পারে সতর্ক করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, এ হামলায় কিয়েভের একাধিক আবাসিক বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে জীবিত কাউকে খুঁজে পেতে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো এক টেলিগ্রাম পোস্টে বলেন, রাশিয়া আবাসিক ভবনগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এসব ভবনে মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাত। এখানে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করত।
তিনি জানান, পোদিলস্কি জেলায় একটি আবাসিক ভবনের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এছাড়া দারনিৎসিয়া জেলায় কয়েকটি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, এ হামলায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে। দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দে পুরো কিয়েভ শহর কেঁপে উঠেছিল। এ সময় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেক মানুষ মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।
গত সপ্তাহে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে। তার কয়েক দিনের পরেই আবারও সোমবার এই হামলা করল রাশিয়া।
গত রবিবার গভীর রাতে টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ইউক্রেনে আরও বেশি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের কাছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা কঠিন হবে। এতে রাশিয়া আরও হামলা চালাতে উৎসাহিত হবে। এর ফলে চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে।
১১৩ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় কারাগারে ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ২৫
শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর উপকণ্ঠে একটি কারাগারের ভেতরে ভয়াবহ সংঘর্ষে হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন নিহত এবং শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বন্দি ও কারারক্ষী উভয়ই রয়েছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) কলম্বো থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে নেগোম্বোর কারাগারে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, যা আজ সোমবারও অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম ও পুলিশের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে।
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল হিরু জানিয়েছে, সংঘর্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ১০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
পুলিশের মুখপাত্র চন্দনা হেরাথ কারাগারের ভেতরে সংঘর্ষ এবং হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংঘর্ষের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এলাকার প্রধান সরকারি হাসপাতালের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কারাগারের সংঘর্ষে আহত শতাধিক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আহতদের আঘাতের ধরন সম্পর্কে তিনিও কোনো তথ্য দেননি।
শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলো দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ধারণক্ষমতা সংকটে ভুগছে। দেশটির কারা ব্যবস্থার মোট ধারণক্ষমতা ১০ হাজার হলেও বর্তমানে সেখানে ৩৯ হাজারের বেশি বন্দি রয়েছেন।
১১৪ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে সৈকতে ভেসে এল রহস্যময় বস্তু
অস্ট্রেলিয়ার উত্তর কুইন্সল্যান্ডের সৈকতে রহস্যজনকভাবে ভেসে এসেছে ৬টি বড় আকৃতির গোলাকার বস্তু। প্রাথমিকভাবে এগুলোকে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ বা ‘স্পেস বল’ বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এগুলো রকেটের জ্বালানি ব্যবস্থার অংশ হতে পারে এবং এর ভেতরে অত্যন্ত বিষাক্ত রকেট জ্বালানি অবশিষ্টাংশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এ নিয়ে স্থানীয় জনগণের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি স্থানীয় সময় রবিবার (৫ জুলাই) জানিয়েছে, রহস্যময় এসব বস্তু কোথা থেকে এসেছে, তা শনাক্তে তারা কাজ করছে। এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, বস্তুগুলোতে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, টাউনসভিলের ফরেস্ট বিচ এলাকায় সৈকতে ভেসে আসা বস্তুগুলো দেখতে বড় আকৃতির ধাতব গোলকের মতো।
রবিবার কুইন্সল্যান্ড ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, সৈকত থেকে মোট ৬টি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি নিরাপদে ড্রামের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আর ষষ্ঠ বস্তুটিকে নিরাপদে রাখার কাজ চলছে।
অন্যদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলেরও কমতি নেই। ‘ফরেস্ট বিচ টেকঅ্যাওয়ে’ নামে একটি স্থানীয় খাবারের দোকান ‘স্পেস জাঙ্ক স্ন্যাক বক্স’ নামে নতুন একটি খাবার বিক্রি শুরু করেছে। দোকানের সামনে থাকা একটি বোর্ডে মজার ছলে লেখা হয়েছে, ‘এই খাবার সৈকতে ভেসে আসা রহস্যময় বস্তু না, তাই নিশ্চিন্তে চিনে খেতে পারবেন।’
এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, সৈকতে রহস্যময় এসব বস্তু নিয়ে স্থানীয় জনগণের জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই। এ বিষয়ে পুলিশও কোনো তদন্ত করছে না।
ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে উত্তর কুইন্সল্যান্ডে এমন আরও ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসতে পারে। তবে এতে সেখানের জনসাধারণের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। তারপরও স্থানীয়দের অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির পরামর্শ ও তথ্য অনুসরণ করা উচিত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোর প্রকৃতি ও উৎস এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ এবং ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে কাজ করা অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বস্তুগুলোকে প্রাথমিকভাবে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ বলেই মনে করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংস্থাটি উত্তর কুইন্সল্যান্ডের ফরেস্ট বিচে পাওয়া সন্দেহভাজন মহাকাশের ধ্বংসাবশেষের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে তারা এসব বস্তুর প্রকৃতি ও উৎস শনাক্তে কাজ করছে।
এ বিষয়ে ফ্লিন্ডার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশ প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং মহাকাশের আবর্জনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক অ্যালিস গোরম্যান সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও পর্যালোচনা বলেন, ‘বস্তুগুলোতে আগুনে পোড়া বা দগ্ধ হওয়ার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘এতে ধারণা করা যায়, এগুলো কোনো রকেট উৎক্ষেপণের প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপের অংশ হতে পারে, যা পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। রকেটের বাকি অংশ পেলোড বহন করে মহাকাশে চলে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বস্তুগুলো রকেটের জ্বালানি ব্যবস্থার অংশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। এগুলো টাইটানিয়াম সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি চাপযুক্ত জ্বালানি সংরক্ষণ পাত্র, যার গলনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বস্তুকে আসলে ‘স্পেস বল’ বলা হয় এবং উৎক্ষেপণের বহু বছর পরও এগুলো খুঁজে পাওয়া যায়। সম্ভবত এর আগে এ ধরনের বস্তু সমুদ্রপৃষ্ঠে পড়ে থাকার দৃশ্য কেউ দেখেনি।’
তবে গোরম্যান সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘বস্তুগুলো মহাকাশ শিল্পের অংশ নাও হতে পারে। এগুলো সামুদ্রিক কোনো উৎস থেকেও আসতে পারে।’
তবে তিনি জানান, ‘যদি এগুলো সত্যিই ‘স্পেস বল’ হয়, তাহলে এর ভেতরে অত্যন্ত বিষাক্ত রকেট জ্বালানি হাইড্রাজিনের কিছু অবশিষ্টাংশ থাকতে পারে।
তিনি ধারণা করে বলেন, ‘এগুলো রাশিয়ার ফ্রেগাট রকেটের অংশও হতে পারে। কারণ ওইসব রকেটের জ্বালানিতেও একই ধরনের চাপযুক্ত জ্বালানি পাত্র ব্যবহার করা হয়।’
গোরম্যান বলেন, ‘১৯৮০ এর দশকের মার্কিন বিজ্ঞানভিত্তিক কৌতুক চলচ্চিত্র ‘স্পেসবলস’এর সঙ্গে এই বস্তুগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। ‘স্পেস বল’ হলো মহাকাশে রকেট নিক্ষেপের পর সবচেয়ে বেশি পাওয়া ধ্বংসাবশেষগুলোর একটি। এর আগেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এগুলো পাওয়া গেছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে সচল উপগ্রহ, অচল যন্ত্রাংশ ও রকেট উৎক্ষেপণের পরিত্যক্ত র ৩০ হাজারেরও বেশি মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ ঘুরে বেড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘মহাকাশের আবর্জনা বেশিরভাগ সময় সমুদ্রের ওপর দিয়েই পৃথিবীতে ফিরে আসে। তবে অস্ট্রেলিয়া বিশাল স্থলভাগ হওয়ায় এখানে প্রায়ই মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশে উৎক্ষেপণের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় উপজাত হিসেবে মহাকাশের আবর্জনার সমস্যাও বাড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে মহাকাশে যে পরিমাণ উৎক্ষেপণ হয়েছে, তা মানব ইতিহাসের আগের সব উৎক্ষেপণের মোট সংখ্যার চেয়েও বেশি। ফলে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসছে।’
১১৪ দিন আগে
ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেনতারা এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির ভাইয়েরা প্রকাশ্যে অংশ নিয়েছেন। জানাজা অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা স্থগিত রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের প্রকাশ্যে দেখা যাবে—এটি শুরুতে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কারণ, যুদ্ধের শুরুতেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চালানো বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনি, তার পরিবারের সদস্য এবং আরও কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হন। এর আগে যুদ্ধ চলাকালে যেসব নেতাদের প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছেল, তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল।
তবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এখনও প্রকাশ্যে আসেননি। ধারণা করা হচ্ছে, যে বিমান হামলায় তার বাবাকে হত্যা করা হেয়েছিল, একই বিমান হামলায় তিনিও আহত হয়েছিলেন। তারপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। ইসরায়েল তাকেও হত্যারও হুমকি দিয়েছে।
এসবের মধ্যেই তিনি ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি তার নেতৃত্বাধীন শীর্ষ কর্মকর্তারা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। কারণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
জানাজায় অংশ নেওয়া ৪২ বছর বয়সী নার্স জিবা নাদেরি জানান, দেশের বিষয়ে মোজতবা খামেনি যা নির্দেশ দেবেন, ইরানের সেটিই অনুসরণ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিশোধের আহ্বান শুনেছি। কিন্তু আমাদের করণীয় কী, তা আমাদের নেতাই ঠিক করে দেবেন। আমরা তার নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য।’
জানাজায় দোয়া ও প্রতিশোধের আহ্বান
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ৯৭ বছর বয়সী শিয়া আলেম আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি প্রয়াত খামেনি এবং তার পরিবারের নিহত সদস্যদের জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন খামেনির ছেলে মাসউদ, মেইসাম ও মোস্তাফা। তাদের সবাইকে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম প্রকাশ্যে দেখা গেছে। এছাড়া, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান জেনারেল আহমদ বাহিদিকেও জনতার মধ্যে দেখা যায়।
যুদ্ধ শুরুর পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো তার ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাংবাদিকরা তাকে কালো বেসবল ক্যাপ পরে সাধারণ পোশাকধারী নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দেখতে পান।
এছাড়া ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতির মধ্যেই গ্র্যান্ড মোসাল্লাজুড়ে টাঙানো পোস্টার ও দেয়াললেখায় ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার আহ্বান জানানো হয়।
জানাজার অনুষ্ঠান শুরুর আগে সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকা কবি মোহাম্মদ রাসুলি জনতার মধ্যে স্লোগান তোলেন, ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ ও ‘ইসরায়েলের মৃত্যু হোক’।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাসুলি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য মানুষটি এখনও কেন বেঁচে আছে?’ এ কথা শুনে উপস্থিত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়ে। এরপর রাসুলি যখন বলেন, ‘পৃথিবী এখন আর ট্রাম্পের জন্য নিরাপদ জায়গা নয়’, তখন জনতা আরও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। খামেনির জানাজার এই আয়োজনেই ইরানে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কেউ ট্রাম্পের প্রণনাশ নিয়ে সরাসরি হুমকি দিল।
১১৪ দিন আগে
ইরানে খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শুরু
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে আজ শনিবার থেকে কয়েক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানে শত শত হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে। শোকাহত জনতা বুক চাপড়ে শোক প্রকাশের পাশাপাশি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের স্লোগান দিচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে এক বিমান হামলায় নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী খামেনি। তার মৃত্যু ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নেতৃত্বকে আরও সুসংহত করার সুযোগ এনে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এমন সময়ে এই শোকানুষ্ঠান শুরু হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজের প্রভাবকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল আবারও হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কাও পুরোপুরি কাটেনি।
অনুষ্ঠানস্থল থেকে ইরানের প্রধান আলোচক কাজেম গারিবাবাদি ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যৌথ টহলের সম্ভাবনা নিয়ে তাদের মন্তব্য উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
১১৬ দিন আগে
কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত অন্তত ১৩
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৮৬ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোর পর্যন্ত চলা এ হামলার পর উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
একই সঙ্গে দেশটির সরকার মিত্র দেশগুলোর প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ব্যালিস্টিক, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে চালানো এ হামলায় শহরের বিভিন্ন ভবন ও বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার প্রথম সতর্কবার্তা জারির পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের আহ্বানে সেখানের বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মেট্রো স্টেশনে চলে যান।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, হামলায় কিয়েভে ১৩ জন নিহত ও ৮৬ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, এ ঘটনায় শহরের অন্তত ৩০টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে, যার বেশিরভাগই আবাসিক ভবন ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহর ক্লিমেঙ্কো জানান, শহরজুড়ে অন্তত ২০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, হামলার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ৫০০ জন কর্মী এবং ১০০টি বিশেষায়িত যান মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হেলিকপ্টারও রয়েছে।
১১৮ দিন আগে