বিশ্ব
সুইজারল্যান্ডে বাসে আগুন লেগে নিহত ৬
পশ্চিম সুইজারল্যান্ডে একটি বাসে আগুন লেগে কমপক্ষে ৬ জন নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে দেশটির রাজধানী বার্ন থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ফ্রিবুর্গ কান্টনের কেরজেরসের কেন্দ্রস্থলে (যা ফরাসি ভাষায় শিয়েট্রেস নামে পরিচিত) এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় ৩ জনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন উদ্ধারকর্মীও রয়েছেন।
তবে ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলক কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক ব্যক্তি নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বাসটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সেই সঙ্গে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখছেন বলে জানাচ্ছেন একজন স্থানীয় বাসিন্দা।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার শিকার বাসটি মূলত কেরজেরস থেকে ১৭ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ডুডিঙ্গেন পৌরসভা থেকে আসছিল।
একটি এক্স পোস্টে সুইস প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন বলেছেন, ‘এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আমি সত্যিই হতবাক এবং ব্যাথিত।’
এর আগেও বছরের শুরুর দিকে সুইজারল্যান্ডের একটি স্কি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৪১ জন নিহত হয়েছিল।
৫৫ দিন আগে
লেবাননে বিতর্কিত সাদা ফসফরাস ব্যবহার করে ইসরায়েলের হামলার অভিযোগ
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে বিতর্কিত অগ্নিসংযোগকারী রাসায়নিক ‘সাদা ফসফরাস’ ব্যবহার করে অবৈধভাবে গোলাবর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইট ওয়াচ।
সোমবার (৯ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ অভিযোগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
লেবাননের সাতটি ছবির ভৌগলিক অবস্থান যাচাইয়ের মাধ্যমে হিউম্যান রাইট ওয়াচ জানিয়েছে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর গ্রামে কামানের মাধ্যমে সাদা ফসফরাস নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরপরই ঘটনাটি ঘটায়।
মানবাধিকার সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ঘটনার সময় এলাকায় কোনো বাসিন্দা ছিলেন কি না বা কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা তারা ভালোভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে এর আগে তারা বলেছিল, সাদা ফসফরাস তারা ধোঁয়ার আড়াল তৈরির জন্য ব্যবহার করেছে; সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যে নয়।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাস ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। এই রাসায়নিক পদার্থটি অত্যন্ত উত্তপ্ত অবস্থায় নিক্ষেপ করা হলে ভবনে আগুন লাগাতে পারে এবং মানুষের শরীর দগ্ধ হয়ে হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। এমনকি পোড়া ক্ষত সামান্য থাকলেও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা সংক্রমণ, বিকলাঙ্গ হওয়া বা শ্বাসযন্ত্রের জটিলতার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
হিউম্যান রাইট ওয়াচের লেবানন-বিষয়ক গবেষক রামজি কাইস বলেন, ‘আবাসিক এলাকার ওপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অবৈধভাবে সাদা ফসফরাস ব্যবহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।’
হিউম্যান রাইট ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর মতো সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এক বছরেরও বেশি আগে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে শেষ যুদ্ধে দক্ষিণ লেবাননে অনেক সাধারণ মানুষ উপস্থিত থাকা অবস্থায়ও একাধিকবার এই ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছিল।
৫৭ দিন আগে
দুর্নীতি মামলায় কাঠগড়ায় ইস্তাম্বুলের মেয়র, হতে পারে ২০০০ বছরের জেল
তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলু ও তার ৪০২ জন সহযোগী বড় ধরনের দুর্নীতি মামলার বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিরোধী এই নেতার বিরুদ্ধে ১৪২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে বিরোদী দলকে দমনের রাজনৈতিক চেষ্টা বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
স্থানীয় সময় সোমবার (৯ মার্চ) দেশটির আদালতে এই বিচারকার্য অনুষ্ঠিত হয়।
ইমামোগলু প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ২৩ বছরের শাসনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। গত বছরের মার্চে তাকে আটক করার পরও কারাগারে থাকা অবস্থাতেই ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের জন্য প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) তাকে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।
দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত ৪০২ জন আসামির অধিকাংশই ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির কর্মী। ২০১৯ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইমামোগলু। এই আসামিদের মধ্যে অনেকেই সিএইচপির কর্মকর্তা। এছাড়া তাদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন।
গত বছরের ১৯ মার্চ ইমামোগলুকে গ্রেপ্তার করার পর তুরস্কে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে সড়ক বিক্ষোভ শুরু হয়। গত দশ বছরের মধ্যে এটিই ছিল দেশটিতে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ আন্দোলন।
ইমামোগলুর বিরুদ্ধে মোট ১৪২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি হলো ২০১৫ সাল থেকে ‘ইমামোগলু ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন ফর প্রফিট’ নামে একটি সংগঠন গঠন করার অভিযোগ। ওই সময় তিনি ইস্তাম্বুলের বেইলিকদুজু জেলার মেয়র ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের করা ৩ হাজার ৯০০ পৃষ্ঠার ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা শুধুমাত্র দরপত্র কারসাজি ও ঘুষের মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেননি। পাশাপাশি তারা সিএইচপির ভেতরে ইমামোগলুর রাজনৈতিক উত্থানকে অর্থায়ন করেছে, যা শেষ পর্যন্ত তাকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার পথে নিয়ে গিয়েছে।
যদি এসব অপরাধে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তার ২ হাজার বছরেরও বেশি কারাদণ্ড হতে পারে।
শুক্রবার একটি পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধে ইমামোগলু বলেন, সোমবারের এই বিচার তুরস্কের ইতিহাসে গণতন্ত্র রক্ষায় সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি। এটি জনগণের ইচ্ছাকে অবদমিত করার একটি প্রচেষ্টা।’
ইমামোগলুর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ইমামোগলু ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন ফর প্রফিট’ নামের ওই সংগঠনের মামলা। এসব মামলায় তিনি কারাদণ্ডের পাশাপাশি রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধও হতে পারেন। অন্যান্য অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসবাদ, গুপ্তচরবৃত্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ে তার জাল ডিপ্লোমা ডিগ্রি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অপমান করার অভিযোগ।
তবে সরকারের সমালোচকদের মতে, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে বিচারিক অভিযান চালাচ্ছে সরকার। এতে সিএইচপির নির্বাচিত প্রার্থীরা, বিশেষ করে অন্যান্য বড় শহরের মেয়ররা সন্ত্রাসবাদ ও দুর্নীতির অভিযোগের মুখে পড়েছেন।
২০২৩ সালে কংগ্রেসে নিয়মভঙ্গের অভিযোগে সিএইচপির শীর্ষ নেতৃত্বও আইনি চাপের মধ্যে রয়েছে।
ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির বিরুদ্ধে হওয়া এই মামলার পরিসর এবং এর দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ নতুন একটি আদালত ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালত ভবনটি ইস্তাম্বুলের পশ্চিমে সিলিভ্রি কারাগার কমপ্লেক্সে নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে ইমামোগলুসহ অনেক আসামি বন্দি রয়েছেন।
নতুন আদালত ভবনটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মামলায় সংশ্লিষ্টদের কারাগারে বিদ্যমান একটি আদালতকক্ষে গাদাগাদি করে শুনানিতে অংশ নিতে হবে।
সিএইচপি সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এটি তুলে ধরতে ইমামোগলুর সমর্থক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইস্তাম্বুলের চিফ প্রসিকিউটরের ভূমিকা।
ইমামোগলুর সমর্থকদের মতে, আকিন গুরলেক ২০২৪ সালের শেষ দিকে ইস্তাম্বুলের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান। তার আগে তিনি উপবিচারমন্ত্রী ছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি সিএইচপি নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু করেন। পরে গত মাসে তিনি আবার সরকারে ফিরে গিয়ে বিচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
সমালোচকরা আরও বলছেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে গোপন সাক্ষী ব্যবহার করা হচ্ছে, যাদের পরিচয় প্রতিরক্ষা আইনজীবীদের কাছেও গোপন রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আসামিদের দিয়ে সহ-আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ানো হচ্ছে, যা ন্যায়বিচারের অধিকার লঙ্ঘন করে বলে দাবি করছেন তারা।
তবে দেশটির সরকার বলছে, তুরস্কের বিচার বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক বেঞ্জামিন ওয়ার্ড বলেন, ‘গত এক বছরে সিএইচপির বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোকে আমরা ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে দেখছি।’
তিনি বলেন, ‘এই মামলাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সরকার ইমামোগলুকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছেন। এজন্য রাষ্ট্রপক্ষ তার দলের দুর্নাম করার চেষ্টা করছে। এর ফলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
৫৭ দিন আগে
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী
ইসারয়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। আর এতে করে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে লাগামহীনভাবে।
সোমবার (৯ মার্চ) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছে গেছে। এতে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারেও বড় ধাক্কা লেগেছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দিনের শুরুতে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ দশমিক ৫০ ডলারে উঠে যায়। পরে অবশ্য তা কমে দাঁড়ায় ১০৭ দশমিক ৮০ ডলারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হালকা ও স্বল্প সালফারযুক্ত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ব্যারেলপ্রতি ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলারে উঠলেও পরে কমে ১০৩ ডলারে নেমে আসে।
যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে বেসামরিক স্থাপনাতেও। বাহরাইন অভিযোগ করেছে, ইরান তাদের একটি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে, যা পানীয় জল সরবরাহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ইসরায়েলের রাতভর হামলার পর তেহরানের তেলের ডিপোগুলোতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পারস্য উপসাগর থেকে তেল ও গ্যাস উৎপাদন এবং পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো এতে জড়িয়ে পড়ায় তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে।
তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি–৭-এর কিছু সদস্য বাজারের চাপ কমাতে কৌশলগত তেলের মজুদ ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশিত হলেও এখনও অবশ্য তা নিশ্চিত নয়। তবে খবরটি প্রকাশের পর তেলের দাম কিছুটা কমে আসে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির কৌশলগত তেল মজুদ ব্যবহার করার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে এবং শিগগিরই দাম কমে আসবে।
স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়, যা বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় কার্যত ওই প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের উত্তরে অবস্থিত এই প্রণালি দিয়ে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।
এদিকে, রপ্তানির সুযোগ কমে যাওয়ায় তেল উৎপাদক দেশগুলোর মজুদ ট্যাংক দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ফলে ইরাক, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশ তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রও তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যা সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়ায় জ্বালানির মূল্যও বাড়ছে, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে অন্যান্য শিল্পে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এশিয়ার দেশগুলো এতে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এর আগে, সর্বশেষ ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পর ব্রেন্ট ও মার্কিন ক্রুড তেলের দাম এ ধরনের উচ্চতায় উঠেছিল।
জ্বালানির উচ্চমূল্য সাধারণত মূল্যস্ফীতি বাড়ায়, যা পরিবার-পর্যায়ে বাজেটের ওপর চাপ ফেলে। এতে করে ভোক্তা খরচ কমিয়ে দেয়, আর এর ফলে দেশের অর্থনীতিতের বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সোমবার টোকিওর প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই–২২৫ সূচক ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। অন্য বাজারগুলোরও অবস্থাও ছিল দুর্বল। যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার বাজারও ১ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি নিচে নেমে যায়।
শুক্রবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যায় এবং ডাও জোন্স সূচক একপর্যায়ে ৯৪৫ পয়েন্ট পর্যন্ত পড়ার পর প্রায় ৪৫০ পয়েন্ট কমে লেনদেন শেষ হয়। নাসডাক কম্পোজিট সূচক কমে ১ দশমিক ৬ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত গ্যাসোলিনের দাম রবিবার গ্যালনপ্রতি ৩ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ৪৭ সেন্ট বেশি বলে জানিয়েছে এএএ মোটর ক্লাব। একই সময়ে ডিজেলের দাম ছিল গ্যালনপ্রতি প্রায় ৪ দশমিক ৬০ ডলার, যা এক সপ্তাহে প্রায় ৮৩ সেন্ট বেড়েছে।
মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে বলেন, খুব বেশি সময় লাগবে না, গ্যাসোলিনের দাম আবার গ্যালনপ্রতি ৩ ডলারের নিচে নেমে আসবে।
তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে সময়ের হিসাব বলা কঠিন, তবে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতেও এটি কয়েক সপ্তাহের ব্যাপার মাত্র; কয়েক মাসের নয়।’
তবে বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীদের মতে, তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকে, তাহলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবিবার ভোরে তেহরানের তেল ডিপো ও একটি পেট্রোলিয়াম স্থানান্তর টার্মিনালে ইসরায়েলের হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি, ওই ডিপোগুলো ইরানের সেনাবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছিল।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের প্রভাব তেল শিল্পে আরও বিস্তৃত হতে পারে।
বর্তমানে ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে, যার বেশিরভাগই চীনে যায়। যুদ্ধের কারণে এ রপ্তানি ব্যাহত হলে চীনকে অন্য উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করতে হতে পারে, যা বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তেলের মতো না হলেও যুদ্ধের মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বেড়েছে। রবিবার রাত পর্যন্ত প্রতি ১ হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৩৩ ডলার, যা শুক্রবারের সমাপনী দামের (৩ দশমিক ১৯ ডলার) তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। গত সপ্তাহে এ দাম প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছিল।
৫৭ দিন আগে
মোজতবা খামেনিই হলেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর ঠিক এক সপ্তাহ পর তারই ছেলে মোজতবা খামেনিকে তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত করেছে ইরান।
মোজতবা খামেনিকে এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে হবে।
স্থানীয় সময় রবিবার (৮ মার্চ) ৫৬ বছর বয়সী মোজতবাকে ধর্মীয় নেতারা তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করেন। ইরানের প্রভাবশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতারা নতুন নেতার নাম ঘোষণার পরপরই তার প্রতি আনুগত্য ও সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরানের নিরাপত্তা কৌশল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি নতুন সর্বোচ্চ নেতার নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে অনুসরণ করা একটি ধর্মীয় ও জাতীয় দায়িত্ব।
মোজতবা খামেনি কখনও কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি বা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হননি। তবে গত কয়েক দশক ধরে তিনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং আইআরজিসির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবাকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে ইরানের শাসনব্যবস্থায় কট্টরপন্থি অংশটিই ক্ষমতা ধরে রেখেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক আলি হাশেম মোজতবাকে তার বাবার দ্বাররক্ষক হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইস্যুতে তিনি তার বাবার অবস্থানই বজায় রাখেন। তাই আমরা একজন আপসহীন নেতাকেই প্রত্যাশা করছি, কোনো নমনীয়তা নয়।
তিনি বলেন, যদি এই যুদ্ধ শেষ হয় এবং তিনি তখনও বেঁচে থাকেন এবং তিনি দেশ পরিচালনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হন, তাহলে ইরানের জন্য নতুন পথ খুঁজে বের করার বিশাল সম্ভাবনা থাকবে।
আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের পাবলিক পলিসি ফেলো রামি খুরি বলেন, মোজতবার নিয়োগ ইরানের অবিচ্ছিন্নতা নির্দেশ করছে, তবে নতুন নেতা যুদ্ধ শেষ করার জন্য আলোচনার চেষ্টা করেন কি না সেটি দেখার বিষয়।
তিনি বলেন, যেকোনো দিকেই দেখ, এটি প্রতিরোধের একটি পদক্ষেপ। ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বলছে, ‘তোমরা আমাদের ব্যবস্থা ধ্বংস করতে চেয়েছিলে? দেখ, যাকে হত্যা করেছ, তার চেয়েও কট্টর একজনকে আমরা নেতা বানিয়েছি।’
সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনকারী অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য হায়দারি আলেকাসির বলেন, প্রয়াত খামেনির পরামর্শ ছিল, ইরানের শীর্ষ নেতা এমন হওয়া উচিত যাকে শত্রু ঘৃণা করবে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে বলেন, এমনকি ‘মহা শয়তান’ (যুক্তরাষ্ট্র) তার নাম উল্লেখ করেছে (যেখানে ট্রাম্প বলেছিলেন মোজতবা তার কাছে গ্রহণযোগ্য নন)।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার আবারও ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া ইরানের পরবর্তী নেতা বেশিদিন টিকবে না।
তবে ইরানের কর্মকর্তারা এই হস্তক্ষেপকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, শুধুমাত্র ইরানিরা তাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারবেন।
ট্রাম্পের এই অবস্থান মোজতবাকে মনোনীত করার সিদ্ধান্তে আরও ক্ষোভ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘এপস্টাইন গ্যাং’ নেতা নির্ধারণ করবে না
৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস রবিবার জানায়, আমেরিকা ও ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর নৃশংস আগ্রাসন সত্ত্বেও তারা নতুন নেতা নির্বাচনে এক মুহূর্তও দ্বিধা করেনি। তারা জানায়, ইমাম খোমেনি ও শহিদ খামেনির পথই বেছে নেওয়া হয়েছে এবং মোজতবা খামেনির নাম অব্যাহত থাকবে।
এর আগে, গত শুক্রবার ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের দাবির পাল্টা সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরানের ভাগ্য কেবল গর্বিত ইরানি জাতি নির্ধারণ করবে, এপস্টাইন গ্যাং নয়। ( জেফরি এপস্টাইন ছিলেন একজন দণ্ডিত যৌন অপরাধী, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সম্পর্ক ছিল)।
মোজতবা খামেনি কুম শহরের রক্ষণশীল ধর্মগুরুদের তত্ত্বাবধানে পড়াশোনা করেছেন এবং হুজ্জাতুল ইসলাম (মধ্যম পর্যায়ের ধর্মগুরু) মর্যাদা অর্জন করেছেন।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির স্থলাভিষিক্ত হয়ে ৩৭ বছর ধরে ইরানের নেতৃত্বদানকারী আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইতোমধ্যেই খামেনির যেকোনো বিকল্পকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ কেবল তখনই শেষ হতে পারে, যখন ইরানের সামরিক বাহিনী এবং নেতাদের নিশ্চিহ্ন করা হবে।
এবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নতুন নেতা আমাদের কাছ থেকে যদি অনুমোদন না পান, তাহলে তিনি বেশিদিন টিকতে পারবেন না।
শুক্রবার ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবিকে উপহাস করেন।
অন্ধকার আকাশ
ইরানে যখন নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছিল, তখন তেহরানের আকাশ ছিল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। ইসরায়েলি হামলায় রাজধানীর উপকণ্ঠের পাঁচটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগার ফলে পুরো শহর বিষাক্ত ধোঁয়ায় ভরে যায়।
যুদ্ধের নবম দিনে আইআরজিসি দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ড্রোন ও ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের কাছে অন্তত ছয় মাসের সরঞ্জাম মজুত রয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেন, ইরান এ পর্যন্ত কেবল প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের মিসাইল ব্যবহার করেছে, তবে সামনে আমরা আরও উন্নত ও দূরপাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র ব্যবহার করব।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি নাকচ করেননি এবং তিনি যুদ্ধ জয়ের দাবি করে যাচ্ছেন।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত থামার কোনো সহজ পথ নেই। এটি আরও মাসখানেক বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে।
৫৭ দিন আগে
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আরও ১২ জন নিহত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এরই মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আরও ১২ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (৮ মার্চ) ভোরে দেশটির রাজধানী বৈরুতে ও দক্ষিণ লেবাননে আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের লেবানন শাখার কমান্ডারদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধের পরবর্তী ধাপের জন্য অনেক চমক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এদিকে, একঝাঁক মিসাইল ও ড্রোন কুয়েতে আঘাত হানলে দেশটির দুই সীমান্তরক্ষী নিহত হয়েছেন।
শনিবার তেহরানে একটি তেল শোধনাগারেও হামলা চালায় ইসরায়েল। এক ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের আকাশে আগুনের লেলিহান শিখা উড়ছে। এটিই প্রথম কোনো বেসামরিক শিল্প প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানে কমপক্ষে ১ হাজার ২৩০ জন, লেবাননে ৩০০ জনেরও বেশি এবং ইসরায়েলে প্রায় ১০-১২ জন মানুষ নিহত হয়েছেন।
ইরানের এফ-১৪ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে হামলা
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রবিবার জানিয়েছে, তারা প্রাক-বিপ্লবী যুগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা ইরানের একঝাঁক যুদ্ধবিমানের ওপর হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দক্ষিণে ইসফাহান বিমানবন্দরে থাকা এফ-১৪ বিমানগুলো ছিল ইরানি বিমান বাহিনীর প্রধান স্তম্ভ। তবে বিমানগুলো ধ্বংস হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেনি ইসরায়েল। এছাড়া তারা রাডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলার দাবিও করেছে।
বাহরাইনে হামলায় আহত ৩, পানি শোধন প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রবিবার সকালে বাহরাইনের মুহারাগ শহরের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের ওপর ইরানের মিসাইল হামলায় ৩ জন আহত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ড্রোন হামলায় তাদের একটি লবণাক্ত পানি শোধন প্ল্যান্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৫৮ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি: ভ্রমণ বিপর্যয়ে দিশেহারা হজযাত্রীরা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট ভ্রমণ বিপর্যয়ে বিপাকে পড়েছেন ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়া হজযাত্রীরা। ইতোমধ্যে অনেক যাত্রী সেখানে আটকা পড়েছেন এবং ঘরে ফেরার বিকল্প পথ খুঁজছেন। আবার অনেককে তাদের পরিকল্পিত সফর পুরোপুরি বাতিল করতে হয়েছে।
ওমরাহ সম্পন্নকারী অনেকের মনেই ইসলামের পবিত্র স্থান দর্শনের অভিজ্ঞতার ওপর বিষাদের ছায়া ফেলেছে যুদ্ধ পরিস্থিতি।
ইন্দোনেশিয়ার হজ ও ওমরাহবিষয়ক উপমন্ত্রী দাহনিল আনজার সিমানজুন্তাকের মতে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৮৬০ জনেরও বেশি ইন্দোনেশীয় ওমরাহযাত্রী সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন।
তিনি জানান, আটকা পড়া যাত্রীদের হোটেল এবং ফ্লাইটের বাড়তি খরচের বোঝা কমাতে সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। এছাড়া নিরাপত্তার খাতিরে আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে তাদের ওমরাহ যাত্রা এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইচসান মার্শা একে একটি জরুরি মানবিক ও লজিস্টিক সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আর্থিক ও মানসিক ধকল
সৌদি আরবে আটকা পড়া জানিরাহ ফারিস নামের এক ওমরাহযাত্রী ইন্দোনেশিয়ার আইনিউজ টিভিকে জানান, তার ফেরার ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে এবং তার নতুন ফ্লাইট আগামী ১২ মার্চ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আটকা পড়া যাত্রী, বিশেষ করে যাদের এই বিলম্বের কারণে বাড়তি খরচ বহনের সামর্থ্য নেই, তাদের সাহায্য করার জন্য ইন্দোনেশিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জানিরাহ বলেন, সবার পক্ষে হোটেলে অতিরিক্ত থাকার খরচ মেটানো সম্ভব নয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মানসিক যন্ত্রণা। আমি খুব হতাশ, কারণ আমার সন্তানরা আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতি বছর, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে লাখ লাখ মানুষ ওমরাহ করতে সৌদি আরব যান।
জেদ্দায় মালয়েশিয়ার কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ জারাইফ রাজা আব্দুল কাদির গত মঙ্গলবার দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা বারনামাকে জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার প্রায় ১ হাজার ৬০০ ওমরাহযাত্রী সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন। তিনি জানান, যাত্রীরা ভালো আছেন। তার কার্যালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি ২৪ ঘণ্টার অপারেশন রুম খুলেছে।
রবিবার পর্যন্ত সৌদি আরবের জেদ্দা এবং মদিনা থেকে অস্থায়ীভাবে যাত্রী ফেরত পরিষেবা পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস।
এদিকে, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আটকা পড়া নাগরিক ও ওমরাহযাত্রীদের সরিয়ে নিতে কূটনৈতিক মিশন, আঞ্চলিক সরকার এবং এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলো ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার যাত্রীদের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে কাজ করে যা বর্তমানে এই যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত।
আকস্মিক পরিবর্তন ও পরিবারের পুনর্মিলন
৪৪ বছর বয়সী মিসরের নাগরিক মাগেদ খোলাইফ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (যেদিন যুদ্ধ শুরু হয়) সৌদি আরব থেকে কুয়েতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার ফ্লাইট বাতিল হয়ে কয়েক দিন পিছিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ওমরাহর আধ্যাত্মিক ও আনন্দময় পরিবেশ থেকে এটি ছিল এক আকস্মিক ও নেতিবাচক পরিবর্তন।
স্ত্রী ও শাশুড়িসহ আটকা পড়া খোলাইফ কুয়েতে থাকা সন্তানদের কাছে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কুয়েত থেকে পরিচিতদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, সেখানে সাইরেন এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। খোলাইফ বলেন, ‘সবাই খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল।’
পরে তিনি সড়কপথে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর মঙ্গলবার কুয়েতে পৌঁছালে পরিবারের সঙ্গে এক আবেগঘন পুনর্মিলন ঘটে তার। তিনি বলেন, ‘সন্তানদের চোখের সামনে দেখা এবং বুকে জড়িয়ে ধরার পর যতক্ষণ আমরা একসঙ্গে আছি, আর কী ঘটবে তা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না।’
কঠিন সিদ্ধান্ত ও সফর বাতিল
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী জাভেদ খিজের জানান, তিনি তার পরিবারের ওমরাহ সফর বাতিল করেছেন। তুরস্ক ও কাতার হয়ে সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল তাদের।
তিনি বলেন, আমরা খবর দেখে বুঝতে পারছিলাম যে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। সিদ্ধান্তটি (সফর বাতিল) কঠিন ছিল। কে জানে আগামী রমজানে আমি বেঁচে থাকব কি না? কোনো নিশ্চয়তা নেই।
ধর্মীয় আচারে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সপরিবারে ওমরাহ করতে আসা ৫২ বছর বয়সী মজিদ মুঘল বলেন, আমরা পবিত্র ভূমিতে (সৌদি আরব) আসাকে আল্লাহর ডাক হিসেবে গণ্য করি। রমজান মাসে আসাটা অনেক সওয়াবের কাজ। তবে যুদ্ধ শুরু হবে জানলে আসতেন না বলে জানান তিনি।
মুঘল জানান, সৌদি আরবে আসার পথে তারা হামলার খবর পান। অন্য রুটের অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়লেও তাদের ফ্লাইটটি স্বাভাবিকভাবেই অবতরণ করেছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিক আছে, আলহামদুলিল্লাহ। এখানে কোনো সমস্যা নেই। রমজানের কারণে প্রচুর ভিড়, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও স্বাভাবিক দেখছি এবং আমরা অনিরাপদ বোধ করছি না।
এই পরিবারটি যুদ্ধের কথা ভুলে এখন রোজা, নামাজ এবং ধর্মীয় আচারে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে খবর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য। দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনদের বারবার আশ্বস্ত করতে হচ্ছে যে, তারা ভালো আছেন।
সবশেষে তাদের মনে বাড়ি ফেরা নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। মুঘল বলেন, ফ্লাইটগুলো চালু আছে কি না, নিশ্চিত হতে আমরা প্রতিদিন ফ্লাইটের খুঁটিনাটি যাচাই করছি। আমার সন্তানদের স্কুলে ফিরতে হবে; আমাকেও কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।
৫৯ দিন আগে
মার্কিন বাহিনীকে হামলায় ইরানকে তথ্য দিয়েছে রাশিয়া!
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলায় ইরানকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে রাশিয়া। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে অবগত এমন দুইজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা বলেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলা এবং এর বিপরীতে মার্কিন সামরিক ঘাটি ও মিত্রদের ওপর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাঝে রাশিয়া এ তথ্য দিয়ে ইরানকে নির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নিতে বলছে কি না—এমন কোনো প্রমাণ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখনও পায়নি।
তবুও, এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে মস্কোর জড়িত থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তেহরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এমন গুটিকয়েক দেশের মধ্যে রাশিয়া অন্যতম। অন্যদিকে, পারমাণবিক কর্মসূচি চালু রাখা, হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথি বিদ্রোহীদের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের কারণে ইরান বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে ক্রীড়াবিদদের বেতন-সংক্রান্ত একটি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এ প্রসঙ্গ তোলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাংবাদিককে তিরস্কার করেন।
ফক্স নিউজের সাংবাদিক পিটার ডুসিকে তিনি বলেন, আমি আপনাকে অনেক সম্মান করি, আপনি সব সময় আমার প্রতি খুব সদয় ছিলেন। কিন্তু এই সময়ে এই প্রশ্নটি বোকামিপূর্ণ নয় কি? আমরা এখন অন্য বিষয় নিয়ে কথা বলছি।
হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদনগুলোকে গুরুত্ব না দিলেও রাশিয়া যে এ অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করছে, তা অস্বীকার করেননি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরানে আমাদের সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে এটি স্পষ্টতই কোনো পার্থক্য আনছে না, কারণ আমরা তাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিচ্ছি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শুক্রবার সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে কি না, সে বিষয়সহ যুক্তরাষ্ট্র সবকিছুর ওপর নজর রাখছে এবং আমাদের যুদ্ধ পরিকল্পনায় তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, আমেরিকার জনগণ আশ্বস্ত থাকতে পারেন যে, তাদের কমান্ডার-ইন-চিফ (প্রেসিডেন্ট) ভালো করেই জানেন, কে কার সঙ্গে কথা বলছে। জনসম্মুখে হোক বা গোপনে, অনুচিত যেকোনো কিছুকেই কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার সহায়তার বিষয়ে ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন কি না বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে লেভিট কিছু বলতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, ইরানকে কোনো সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো অনুরোধ আসেনি।
শুক্রবার তিনি বলেন, আমরা ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছি এবং অবশ্যই তা চলবে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর মস্কো কোনো সামরিক বা গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তার কারণে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এর আগে, বাইডেন প্রশাসন দাবি করেছিল যে, ইরান রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করছে এবং রাশিয়ায় ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপনে সহায়তা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রথম প্রকাশ করেছিল মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে এই তথ্য প্রকাশ ট্রাম্পের বিশ্বাসকে টলিয়ে দিয়েছে কি না যে, পুতিন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো শান্তি চুক্তি করতে সক্ষম, লিভিট বলেন, আমি মনে করি রাষ্ট্রপতি বলবেন যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে শান্তি এখনও অর্জনযোগ্য একটি লক্ষ্য।
অপরদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা ইরানের শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগাতে চাইছে। তেহরান ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে যে ড্রোন দিচ্ছে, এখন সেগুলোই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান এবং কুয়েতের সঙ্গে কথা বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলগা স্টেফানিশিনা বলেন, ইউক্রেন জানে কীভাবে শাহেদ ড্রোনের হামলা থেকে রক্ষা পেতে হয়। আমাদের অংশীদারদের প্রয়োজনে আমরা সবসময় সাহায্য করতে প্রস্তুত।
এদিকে, ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। জেলেনস্কির সঙ্গে তার সম্পর্কও উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি প্রায়ই ইউক্রেনকে রাশিয়ার দাবি মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন; এর মধ্যে রয়েছে এখনও ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড মস্কোকে ছেড়ে দেওয়া।
অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের ফলে মার্কিন অস্ত্রের মজুদ কমে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে পেন্টাগন প্রশ্নের মুখে থাকায় ট্রাম্প এই সপ্তাহে অভিযোগ করেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের উচ্চমানের অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। ফলে তিনি মার্কিন অস্ত্রের মজুদ পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
৫৯ দিন আগে
ইরানে যুদ্ধ সম্প্রসারণে ট্রাম্পকে সিনেটের সমর্থন
মার্কিন সিনেটে ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযান বন্ধের উদ্দেশ্যে আনা ‘যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব’ রিপাবলিকানরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) আনা প্রস্তাবটি ৪৭-৫৩ ভোটে পরাজিত হয়। এর ফলাফল মূলত দলীয় মেরুকরণ অনুযায়ীই এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল তার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন।
এ আইনটির লক্ষ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পরবর্তী মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা। প্রস্তাবের সমর্থকরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব বজায় রাখা জরুরি; বিশেষ করে যখন কোনো স্পষ্ট যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা তীব্রতর হচ্ছে।
এই ভোটাভুটির ফলে আইনপ্রণেতারা এমন একটি সংঘাতের বিষয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানালেন, যা মার্কিন সেনা সদস্যদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে এবং যার সুদূরপ্রসারী বৈশ্বিক পরিণতি রয়েছে।
রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের প্রস্তাব বৃহস্পতিবার সকালে ভোটের জন্য ওঠার কথা রয়েছে, তবে সেখানেও এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
সিনেটের এই সিদ্ধান্তটি যুদ্ধ বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিভাজনকেই প্রতিফলিত করে। সমালোচকরা যেখানে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করছেন, সেখানে সমর্থকরা প্রশাসনের পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে রক্ষা করছেন।
৬১ দিন আগে
ইকুয়েডরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু
লাতিন আমেরিকায় মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন ইকুয়েডরের সঙ্গে যৌথভাবে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তাদের এ অভিযানের লক্ষ্য চিহ্নিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইকুয়েডরীয় এবং মার্কিন বাহিনী ৩ মার্চ থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেছে। জেনারেল ফ্রান্সিস ডনোভান এ পদক্ষেপকে মাদক-সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আঞ্চলিক অঙ্গীকারের একটি নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে হেলিকপ্টার উড্ডয়ন এবং আকাশপথ থেকে নজরদারির দৃশ্য দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ অভিযান বর্তমানে ইকুয়েডরের সেনাদের জন্য কেবল লজিস্টিক এবং গোয়েন্দা সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, এ অঞ্চলজুড়ে সহিংসতার জন্য দায়ী অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে দুই দেশ নির্ণায়ক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মাক্রিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধান মাদক কার্টেলগুলোকে ক্রমবর্ধমানভাবে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করছেন এবং একটি সামরিক কৌশল গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে সন্দেহভাজন চোরাচালানকারী জলযানগুলোতে বিমান হামলার মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত।
তবে সমালোচকদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ আইন প্রয়োগ এবং যুদ্ধাবস্থার মধ্যকার পার্থক্যকে অস্পষ্ট করে দিচ্ছে, যা বেসামরিক হতাহত এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া যুক্তরাষ্ট্রের এ সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি একে মাদক পাচার এবং অবৈধ খনির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি নতুন পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
৬১ দিন আগে