বিশ্ব
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জবাবে ১০ মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের পাল্টা নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এক পদক্ষেপের জবাবে ১০টি মার্কিন সামরিক-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। এর আগে কয়েকটি শীর্ষ চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে বাদ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় সোমবার (২২ জুন) চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি প্রতিষ্ঠানে চীনের ‘ডুয়াল ইউজ’ পণ্য রপ্তানি না করতে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ডুয়াল ইউজ বলতে এমন পণ্যকে বোঝায়, যা সামরিক ও বেসামরিক দুই ধরনের কাজেই ব্যবহার করা যায়।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা চীনের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথাকথিত ‘চীনের সামরিক প্রতিষ্ঠানের তালিকার অন্যায্য সম্প্রসারণের’ জবাবে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বৃহৎ চীন-বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দ্য এশিয়া গ্রুপের পার্টনার জর্জ চেন বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রতি চীনের প্রতিক্রিয়া। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠান বা মার্কিন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো চীনে ব্যবসা করতে পারবে না।
অন্যদিকে, চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় আলাদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সরকারি সংস্থাগুলোকে ৪৬টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের পণ্য কেনা থেকে নিষিদ্ধ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে লকহিড মার্টিন, রেথিয়ন এবং জেনারেল ডায়নামিকসের একাধিক ইউনিট। তবে ওই বিবৃতিতে নিষেধাজ্ঞার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
এ মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আলিবাবা ও বাইডুসহ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত বলে নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত করে। এই তালিকাভুক্তির ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চুক্তি পাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে। তবে বাইডু জানায়, এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামরিক প্রতিষ্ঠান বলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তখন জানিয়েছিল, গত মে মাসে চীনে ট্রাম্পের সফরের সময় শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞা সে সময় হওয়া ঐকমতের পরিপন্থি।
সোমবারের ঘোষণায় মন্ত্রণালয় আরও জানায়, তৃতীয় দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি চীন থেকে এসব নিষিদ্ধ মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘ডুয়াল ইউজ’ পণ্য স্থানান্তর করতে পারবে না। পাশাপাশি বলা হয়েছে, যেসব পণ্য বাস্তবিকভাবে প্রয়োজনীয়, সেগুলো অনুমোদনের জন্য চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের কাছে আবেদন করতে পারবে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো: ক্যালিফোর্নিয়ার সিমি ভ্যালির এভিওএক্স, সাউথ সল্ট লেকের রেড ক্যাট হোল্ডিংস এবং টিল ড্রোনস, স্প্রিংভিলের আইএমএসএআর, ব্রিস্টল, রোড আইল্যান্ডের জাইয়া রোবোটিকস, কলোরাডোর ব্রুমফিল্ডের ব্যাল অ্যারোস্পেস অ্যান্ড টেকনোলজিস, উইসকনসিনের ওশকশ ডিফেন্স, ভার্জিনিয়ার নরফোকের এল৩হ্যারিস মেরিটাইম সার্ভিসেস, লাস ভেগাসের এমপি ম্যাটেরিয়ালস এবং ওকলাহোমার স্টিলওয়াটারের ইউএসএ রেয়ার আর্থ।
১২৭ দিন আগে
লেবার পার্টির নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস, পদত্যাগ করতে পারেন কিয়ার স্টারমার
যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টির ভেতরে বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিগগিরই তার পদত্যাগ করতে পারেন বলে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে, দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বিশেষ নির্বাচনে জয় পেয়ে পার্লামেন্টে প্রবেশ করায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
স্টারমার যদি পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তাহলে গত এক দশকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিদায়ের ঘোষণা দেওয়া ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে একজন হবেন তিনি।
গত সপ্তাহে বিশেষ নির্বাচনে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বিজয় লাভ করেন। এরপর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পুরো সপ্তাহ ধরে চিন্তাভাবনা করেন স্টারমার। ওই নির্বাচনে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর লক্ষ্য নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (২২ জুন) বার্নহ্যামের পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে স্টারমারের কার্যালয় পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল রবিবার বলেন, ‘স্টারমার বর্তমানে তার সামনে থাকা রাজনৈতিক বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে ভাবার জন্য সময় নিচ্ছেন।’
স্টারমার সরে দাঁড়ালে বার্নহ্যাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতৃত্ব পাবেন না কি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়বেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে, গত মাসে স্টারমারের নেতৃত্বের প্রতিবাদে স্বাস্থ্যসচিবের পদ থেকে সরে দাাঁড়ন ওয়েস স্ট্রিটিং। তিনি জানিয়েছিলেন, নেতৃত্বের নির্বাচন হলে তিনিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
বিগত কয়েক মাস ধরেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তার নেতৃত্বে লেবার পার্টি বড় ধরনের নির্বাচনি বিজয় পেলেও এরপর থেকে সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। ফলে লেবার পার্টির দলীয় আইনপ্রণেতারা পরিস্থিতি পরিবর্তনে চাপ বাড়াতে থাকেন।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, দুর্বল জনসেবা খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট কমানোসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে স্টারমার সাফল্য দেখাতে পারেননি। এছাড়া কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তও তার জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল জেফ্রি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
একদিকে লেবার পার্টি গ্রিন পার্টির কাছে উদারপন্থি ভোটার হারাচ্ছে, অন্যদিকে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকে জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে থাকায় নতুন সংকটে পড়েছে দলটি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসার আগেই স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে স্টারমারের ব্যর্থতাই তাকে সম্ভাব্য বিদায়ের পথে নিয়ে এসেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। তিনি দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যর্থ হয়েছেন: অভিবাসন এবং জ্বালানি। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।’
তবে ট্রাম্প গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখে এ মন্তব্য করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। গত সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে কোনো কথপোকথনও হয়নি।
ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিকে ট্রাম্প ও স্টারমারের সম্পর্ক ভালো থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা খারাপ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল। যুক্তরাজ্য ইরান যুদ্ধে অংশ নেয়নি।
তবে দেশের ভেতরে নানা সমালোচনার মুখে পড়লেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্টারমার প্রশংসা পেয়েছেন। বিশেষ করে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের লড়াইয়ে ইউরোপীয় সমর্থন জোরদারে ভূমিকা রাখা এবং ইরান সংঘাত থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কমানোর প্রচেষ্টার জন্য তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
অন্যদিকে, লেবার পার্টির বেশিরভাগ আইনপ্রণেতা বার্নহ্যামের পক্ষে থাকলেও কেউ কেউ মনে করেন, স্টারমারের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। লন্ডনের আইনপ্রণেতা নিল কয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘পরিকল্পিতভাবে একজন নেতাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং এ নিয়ে তৈরি হওয়া গণমাধ্যমের উন্মাদনা আসলেই হতাশাজনক।’
তিনি আরও লেখেন, পরবর্তী নেতা যদি ট্রাম্প, ইরান, ইউক্রেন, পুতিন, মাস্ক, গণমাধ্যমের পক্ষপাত বা অ্যালগরিদমের প্রভাব রাতারাতি বদলাতে না পারেন, তাহলে তার বিরুদ্ধেও একইভাবে সমালোচনা শুরু হবে।’
১২৭ দিন আগে
ইরান- যুক্তরাষ্ট্র উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষ, কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে
ইরান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চেয়ে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আজ সোমবার শেষ হয়েছে। তবে উভয় পক্ষ লেবাননে চলমান সংঘাত মোকাবিলায় একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনে সম্মত হওয়ায় এ বিষয়ে সপ্তাহজুড়েই কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে।
মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সেলে লেবানন সরকারও অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এটি ‘লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করবে’।
তবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ থামাতে এই উদ্যোগ যথেষ্ট হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। লেবাননের কিছু এলাকা দখল করে রাখা ইসরায়েল বলেছে, উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালানো জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানের স্বাধীনতা তারা বজায় রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরান মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছে।
আলোচনাগুলো ইরান যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে শুরু হওয়া ৬০ দিনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে লেবাননের সংঘাত এখনও অন্যতম বড় অমীমাংসিত ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।
এদিকে, ইরান দাবি করেছে যে তারা আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
উত্তেজনাপূর্ণ সূচনা
রবিবার সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই এক দফা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিয়ে এবং ইরানের প্রেসিডেন্টকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিলে তেহরান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘লেবাননে ইরানকে তাদের মোটা অঙ্কের অর্থপুষ্ট প্রক্সিদের (সহযোগী গোষ্ঠী) মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তারা যদি তা না করে, তবে আমরা গত সপ্তাহের মতো আবারও ইরানে খুব জোরালো আঘাত হানব, তবে এবার আঘাত হবে আরও মারাত্মক।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের জন্য ইরানকে আলোচনায় ধরে রাখার প্রচেষ্টাকে জটিল করে তোলে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এক্সে লেখেন, ‘তাদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ভিন্নভাবে জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তারা কথা বলতে পারে, কিন্তু কাজ করি আমরা।’
তবে পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে লেখেন, ‘পাকিস্তান ও কাতারের নিরলস মধ্যস্থতা লেবানন যুদ্ধের অবসানে বড় ধরনের অগ্রগতি এনে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, আলোচনার প্রথম ‘বাস্তব পরীক্ষা’ হবে ডি-কনফ্লিকশন সেল লেবাননের সংঘর্ষ বন্ধ করতে পারে কি না।
কারিগরি আলোচনা চলবে
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্য স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতা কালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকটি প্রায় ৮০ মিনিট ধরে চলে।
বৈঠক শেষে পাকিস্তান ও কাতার জানায়, পুরো সপ্তাহজুড়ে সুইজারল্যান্ডে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে। এসব আলোচনা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের পথ সুগম করতে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যেই অনুষ্ঠিত হবে।
১২৮ দিন আগে
কাতারের গ্যাস রপ্তানি টার্মিনালে বিস্ফোরণ, আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮
ইরানের হামলার পর পুনরায় কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা চলাকালে কাতারের প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি টার্মিনালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫৪ জন আহত এবং আরও অন্তত ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২১ জুন) রাতে কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
কাতার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ। এ বিস্ফোরণ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
এর আগে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের কারণে ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল কাতার।
যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে ইরান প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করায় কাতার রপ্তানি টার্মিনাল পুনরায় চালুর কাজ শুরু করে। গতকাল রাতে সেই কাজ চলাকালে বারজান গ্যাস সরবরাহ স্থাপনায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি।
বিস্ফোরণের পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। শুরুতে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, অল্প কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনেক বেশি হতাহতের তথ্য প্রকাশ করে।
বারজান প্ল্যান্টের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ছিল প্রায় ১৪০ কোটি ঘনফুট। কাতার মূলত স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আরব উপদ্বীপের মরু অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো পরিচালনায় এই গ্যাস ব্যবহার করত।
প্ল্যান্টটির প্রায় পুরো মালিকানাই কাতারের, তবে এর একটি ছোট অংশের মালিক যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
গত মার্চে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাস লাফানে আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ইরানি হামলার কারণে তার আগেই সেখানে উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল কাতার।
১২৮ দিন আগে
ইরানের পরমাণু আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে অন্তর্বর্তী চুক্তিকে এগিয়ে নেওয়া এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে ইরানি নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আজ রবিবার সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই আলোচনার লক্ষ্য হলো দুই দেশের একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
গত সপ্তাহে আলোচনা শেষে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ আলোচকরা ৬০ দিনের মধ্যে চুড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। আলোচনাটি বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে এই ৬০ দিনের সময়সীমার শুরুতেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ, লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করার পথ ফের বন্ধ হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড অবশ্য ইরানের দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে। মার্কিন বাহিনী বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জলপথে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করছে। এ বিষয়ে ভ্যান্স বলেন, গত দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে।
ভ্যান্স প্রথমে স্থানীয় সময় শুক্রবার লুসার্নের কাছে বুর্গেনস্টক রিসোর্টে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার যাত্রা বিলম্বিত হয়। একই সময়ে ইরানি কর্মকর্তারাও আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন।
পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির আলোচকদের সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর খবর প্রচারের পর পরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফ্রান্সের উদ্দেশে রওনা হন ভ্যান্স।
ইরানের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তেল খাতের কর্মকর্তারা।
অপরদিকে, সুইজারল্যান্ডে ভ্যান্সের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তারা ইতোমধ্যে সেখানে পৌঁছে যুদ্ধ অবসানের বিষয়গুলো পর্যালোচনা শুরু করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই আলোচনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও অংশ নিচ্ছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শাহবাজ শরিফ ইরান, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন। বৈঠকে তিনি সংলাপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির প্রতিষ্ঠার চ্ষ্টো করবেন।
ভ্যান্স ও তার স্ত্রী উষা ভ্যান্স স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে লুসার্নের বাইরে এমেন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান। সেখান থেকে ভ্যান্স জানান, তিনি সুইজারল্যান্ডে এক বা দুই দিন থাকবেন। মূলত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
এদিকে, ট্রাম্প ও ভ্যান্স নিজ দলের একটি অংশের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থিরা এই চুক্তিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে তুলনা করছেন। রিপাবলিকানরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ওই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যকরভাবে বন্ধ করতে পারেনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ফলে ইরান অবিলম্বে অবাধে তেল বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জব্দ থাকা ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ব্যবহারের পথও উন্মুক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি, চুক্তিতে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে ইরানকে তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে হবে।
প্রসঙ্গত, যেসব পারমাণবিক স্থাপনায় ইরান ইউরেনিয়াম মজুত করে রেখেছিল, গত গ্রীষ্মে সেসব স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৬০ দিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো ধরনের প্রবেশমূল্য ছাড়াই চলাচল করতে পারবে। তবে ভবিষ্যতে ইরান প্রবেশমূল্য আরোপ করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
অন্যদিকে, স্থানীয় সময় শনিবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ৬০ দিনের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন না হলে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ করবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সেবার বিনিময়ে এবার থেকে অর্থ নেওয়া হবে।
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের মৌসুম শুরুর আগে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এর মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ববাজারকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, এই যুদ্ধ তেলের দামে সাময়িক সময়ের জন্য প্রভাব ফেলেছে।
হোয়াইট হাউস চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পরই তেলের বাজারে দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমে যায়। স্থানীয় সময় আজ (রবিবার) সন্ধ্যায় বাজার খোলার পর বিনিয়োগকারীরা আলোচনার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে পরিস্থিতিকে এখনও কিছুটা জটিল রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তির সঙ্গে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর কোনো পক্ষই জড়িত নয়।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত তার বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান করবে। অপরদিকে, হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েল লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা হামলা বন্ধ করবে না।
১২৮ দিন আগে
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত: যুক্তরাষ্ট্র
ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা ।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৪টা থেকে (১৪:০০ জিএমটি) এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, চুক্তি লঙ্ঘন হলে বা প্রয়োজন দেখা দিলে যেকোনো মুহূর্তে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানায়, গত রাতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হন। অন্যদিকে, এই লড়াইয়ে নিজেদের চার সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইসরায়েল।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতির খবর সামনে এল।
তেহরান ও ওয়াশিংটন গত কয়েক মাসের আলোচনায় মধ্যে যে ১৪ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে, সে বিষয়ে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে লুসার্ন শহরে তাদের মধ্যে চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সঙ্গে জড়িত যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং সমগ্র অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে আনা।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, প্রথম শর্তেই সমগ্র অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া এই চুক্তি লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাতে সব পক্ষকে আহ্বান করা হয়েছে।
১৪ দফার এই রূপরেখায় বেশ কিছু বড় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরান যাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে তার নিশ্চয়তা দেওয়া, ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাবিত পুনর্গঠন কর্মসূচি এবং শেষ পর্যন্ত তেহরানের ওপর থেকে সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।
মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে স্পষ্ট করেছিলেন যে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতি ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হলেও, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এই চুক্তির কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে আত্মরক্ষার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ইসরায়েলের থাকবে।
এই যুদ্ধবিরতির ফলে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বৃহত্তর এই আঞ্চলিক চুক্তির দীর্ঘমেয়াদী বাস্তবায়ন এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানের ভবিষ্যৎ কী হবে—তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।
১৩০ দিন আগে
জি-৭ সম্মেলনের প্রথম দিনে ইউক্রেন ও ইরান পরিস্থিতিতে গুরুত্বারোপ
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের প্রথম দিনে ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন বিশ্বনেতারা। সেখানে তারা রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। পাশাপাশি ইরান-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক চুক্তি, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের প্রভাবও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এবারের জি-৭ সম্মেলন ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁয়ে শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ জুন) গভীর রাতে সম্মেলনে পৌঁছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, আপাতত ইরান বিষয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে, আমরা এখন ইউক্রেনের পরিস্থিতির ওপর মনোযোগ দেব।
সম্মেলনে মাক্রোঁ জানান, তিনি ট্রাম্পকে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে এবং রাশিয়ার ওপর আরও চাপ বাড়াতে রাজি করানোর চেষ্টা করবেন। তার মতে, চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসানে একটি শান্তিচুক্তি জরুরি।
ট্রাম্প আরও জানান, রবিবার তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করেছেন। ফ্রান্সের আমন্ত্রণে জেলেনস্কিও সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়েও জি-৭ নেতাদের একটি একটি কর্মঅধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হবে। এই আলোচনায় মিসর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
অপরদিকে, জি-৭ সম্মেলনে সম্মেলনে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে ট্রাম্প সাড়ে তিন মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তির ঘোষণা দেন।
জি-৭ (গ্রুপ অব সেভেন) হলো বিশ্বের ৭টি উন্নত ও প্রভাবশালী অর্থনীতির দেশের একটি জোট। এই জোটের সদস্য দেশগুলো হলো: ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং যুক্তরাজ্য।
বৈশ্বিক অর্থনীতি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি সংকট, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সমন্বয়ের জন্য এসব দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা বছরে একবার বৈঠক করে নীতিগত সমন্বয়ের চেষ্টা করেন।
এবারের সম্মেলনে অতিথি দেশ হিসেবে অংশ নিচ্ছে ব্রাজিল, মিসর, ভারত, কেনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, ইউক্রেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যের
এদিকে, নৗপথে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য যে ছায়া বহর (শ্যাডো ফ্লিট) ব্যবহার করে, সম্মেলনের মধ্যেই সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার সম্প্রতি কেনা কয়েকটি জাহাজও রয়েছে। এসব জাহাজ নিষেধাজ্ঞার অমান্য করে আর্কটিক এলএনজি ২ প্রকল্প থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ৬০০টিরও বেশি শ্যাডো ফ্লিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
গত সপ্তাহের শেষে ইংলিশ চ্যানেলে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার একটি শ্যাডো ফ্লিট জাহাজ জব্দ করেছে ব্রিটিশ বাহিনী।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশনিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সেখানে তিনি রাশিয়ার ওপর এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার তার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
১৩৩ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসিতে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প
ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি প্রদেশে আজ মঙ্গলবার ৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ভূমিকম্পে বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পালু শহর থেকে ৪৩ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে। এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।
রাজধানী পালু ও আশপাশের এলাকায় মূল ভূমিকম্পের পর আরও কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পরাঘাতটির মাত্রা ছিল ৫.২।
ভূমিকম্পের পর সুনামি সৃষ্টি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় দেশটির উপকূলীয় এলাকাগুলোর বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যান।
তবে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই। যদিও সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, আরও কিছু সময় পরাঘাত অনুভূত হতে পারে।
আট বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার পালু শহর বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও সুনামিতে বিধ্বস্ত হয়েছিল। এবারের ভূমিকম্পের প্রবল কম্পনে সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী পালু ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে পালু শহর ও আশপাশের এলাকার মানুষ দ্রুত খোলা স্থানে আশ্রয় নেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি হাসপাতাল রোগীদের বাইরে সরিয়ে নেয়। রোগীদের মধ্যে অনেকের শরীরে তখনও স্যালাইনের নল লাগানো ছিল।
ভূমিকম্প-কবলিত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ছবিতে দেখা যায়, এ ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি স্থাপ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও আংশিকভাবে ছাদ ধসে পড়েছে, কোথাও দেওয়াল ভেঙে গেছে। এছাড়া রাস্তাজুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কেউ হতাহত হয়েছেন কি না এবং কত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, এসব তথ্য এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পালুর একটি চার তারকা হোটেলের মহাব্যবস্থাপক এফেন্দি নাতালি বলেন, ‘আমরা হোটেলের সব অতিথিকে সরিয়ে নিয়েছি। এমনকি যারা নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন তাদেরও বের করে আনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের পর সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। ভয় পাওয়াটা এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক। বর্তমানে সবাই নিরাপদ আছেন।’
তিনি আরও জানান, ভূমিকম্পে হোটেলটিতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পালুর বাসিন্দা মুখতার আহমাদ জানান, ‘এবারের ভূমিকম্পের কম্পন ছিল খুবই শক্তিশালী। আগের ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনও আমাদের মনে রয়েছে। তাই পরাঘাতের আশঙ্কায় আমরা বাইরে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটির ভূখণ্ডের নিচ দিয়ে বেশ কয়েকটি সক্রিয় ফল্টলাইন চলে গেছে। ফলে সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।
সুলাওয়েসির অনেক বাসিন্দা এখনও ২০১৮ সালের সেই ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। ওই ভূমিকম্পে পালু শহর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ভূমিকম্পের পরপরই ৩ মিটার উঁচু সুনামি আঘাত হেনেছিল। এছাড়া সে বছর ‘লিকুইফ্যাকশন’ নামে একটি বিরল ভূতাত্ত্বিক ঘটনা ঘটেছিল। এর ফলে সুলাওয়েসি অঞ্চলে মাটি নরম হয়ে ধসে পড়েছিল, যা পুরো এলাকাকে গ্রাস করে।
সেই দুর্যোগে সুলাওয়েসিতে ৪ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। মাটিধসের ঘটনায় পুরো এলাকা মাটির নিচে তলিয়ে যাওয়ার সময় অনেক মানুষ মাটির নিচে চাপা পড়েছিলেন।
এর আগে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সুলাওয়েসি দ্বীপের মামুজু শহরের কাছে ৬.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে অন্তত ১০০ জন নিহত হন। পরাঘাতের আতঙ্কে তখন হাজার হাজার মানুষ কয়েক দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছিলেন।
১৩৩ দিন আগে
যুদ্ধ অবসানের পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, তবে রয়ে গেছে বড় চ্যালেঞ্জ
দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুদ্ধ অবসান এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং চুক্তি বাস্তবায়নের অনিশ্চয়তাসহ বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে।
সোমবার (১৫ জুন) ঘোষিত এই সমঝোতার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার জেনেভায় আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকবে।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরানি হামলার কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং এর প্রভাব খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়ে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এটি বন্ধ হয়ে যাওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রণালি খুললেও সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
লেবানন ইস্যুই সবচেয়ে বড় বাধা
চুক্তির সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা লেবাননের পরিস্থিতি। যুদ্ধের পক্ষভুক্ত হলেও ইসরায়েল এই সমঝোতার অংশ নয়।
সোমবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্পষ্ট করে বলেছেন, লেবাননে দখল করা এলাকা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানের জবাবে ইরান হামলা চালালে ‘প্রচণ্ড শক্তি’ দিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডেভিড মেনসারও জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির মোকাবিলা অব্যাহত রাখবে ইসরায়েল।
এ অবস্থান সমঝোতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কারণ, ইরান শুরু থেকেই বলে আসছে যে যুদ্ধ অবসানের যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননের সংঘাতও বন্ধ হতে হবে।
এদিকে, চুক্তি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সময় মাত্র ৬০ দিন
চুক্তির আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ও পারমাণবিক কর্মসূচি।
সমঝোতা অনুযায়ী, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মাত্র ৬০ দিনের সময় পাওয়া যাবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আশঙ্কা, এই কর্মসূচি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যুর সমাধান সহজ হবে না। কারণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে ২০১৫ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে বিশ্বশক্তিগুলোর কয়েক বছর সময় লেগেছিল।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন, যা পরবর্তী উত্তেজনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত সমঝোতা কার্যকর নয়
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছেন। পরে তিনি স্পষ্ট করেন, শুক্রবার আনুষ্ঠানিক চুক্তি সইয়ের আগে এসব কার্যকর হবে না।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদিও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্বাক্ষরের আগে ইরানও চুক্তির কোনো অংশ বাস্তবায়ন করবে না।
চুক্তি সইয়ের আগে এ সপ্তাহে কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বনেতাদের সতর্ক আশাবাদ
মধ্যপ্রাচ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টিকারী এই যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউরোপ, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা।
তবে অনেকেই এখনও সতর্ক। লুক্সেমবার্গের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভিয়ার বেটেল বলেন, ‘শুক্রবার পর্যন্ত এখনও অনেক সময় বাকি।’
ফলে যুদ্ধ অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত চুক্তি সই এবং তা বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনও পুরোপুরি মসৃণ নয়।
১৩৪ দিন আগে
রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রীয় ব্যয় এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী জাকার্তায় বিক্ষোভে করেছে শত শত শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, সরকারের বিভিন্ন নীতি দেশটিকে দেউলিয়ার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
সরকারের অপচয়মূলক ব্যয় বন্ধের দাবিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১২ জুন) শিক্ষার্থীরা জাকার্তার বিভিন্ন সড়কে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকালে দুর্নীতির অভিযোগে সমালোচিত বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণের ‘ফ্রি মিল’ কর্মসূচি বাতিলের দাবি জানান তারা। ওই কর্মসূচি নিয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় জ্বালানির দাম বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্তে মধ্যবিত্তরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সরকারের কথিত অব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েক মাস ধরে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে অসন্তোষ বাড়ছে। এরই মধ্যে সম্প্রতি দেশটির মুদ্রার মানও কমে গেছে।
বিক্ষোভ থেকে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাকি বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ছে, আমাদের জীবনযাপনের ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে কেন ভয় পান? সরকার বলে, সংবিধানে বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, অথচ বাস্তবে সেটি মানা হয় না।’
এরই মধ্যে বিক্ষোভের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা জাকার্তার সুপরিচিত হোটেল ইন্দোনেশিয়া রাউন্ডঅ্যাবাউটের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করছে।
বিবিসি ইন্দোনেশিয়ার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পরে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলি ব্যারিকেড ভেঙে করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে এ বিক্ষোভে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়াও বিক্ষোভকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হ্যাশট্যাগ মেনুজুইন্দোনেশিয়াব্যাংকরাপ্ট’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন, যার অর্থ ‘দেউলিয়া হওয়ার পথে ইন্দোনেশিয়া’।
এর ফলে গত বছরের আগস্টে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হলো। সে সময় এক ডেলিভারি রাইডারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অভিজাত শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জণগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।
এর আগে, চলতি সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি পার্তামিনা বহুল ব্যবহৃত দুটি জ্বালানির দাম ৩০ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে। পার্তামাক্স নামে পরিচিত এসব জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন স্থিতিশীল ছিল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বর্তমানে প্রাবোও সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি, বিশেষ করে ‘ফ্রি মিল’ কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
ফ্রি মিলস কর্মসূচি প্রাবোও সরকারর রাজনৈতিক ইশতেহারের কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
প্রতি বছর প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এই কর্মসূচির লক্ষ্য শিশুদের অপুষ্টি দূর করা, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করা। সরকারি কর্মকর্তারা এটিকে ‘ইন্দোনেশিয়ার ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিনা বলেন, ‘শুরু থেকে এই কর্মসূচির ব্যাপারে জণগণের স্পষ্ট ধারণা ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘ফ্রি মিল কর্মসূচির খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া এ কর্মসূচিতে সংশ্ষ্টিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। জনগণ দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচিতে বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার বহুদিন দরে সেই দাবি উপেক্ষা করে আসছে।’
এদিকে, গত সপ্তাহে গণহারে খাদ্যে বিষক্রিয়া ও দুর্নীতির অভিযোগের পর ফ্রি মিল কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার প্রধানকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো।
১৩৫ দিন আগে