বিশ্ব
যুক্তরাষ্ট্রে উৎসবে বন্দুক হামলায় অন্তত ১২ জন গুলিবিদ্ধ
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়োতে একটি জনাকীর্ণ উৎসবের কাছে ভয়াবহ এক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (৬ জুন) লাইভ মিউজিক ও বাড়ি পরিদর্শনের বার্ষিক আয়োজন ‘ওল্ড ওয়েস্ট এন্ড ফেস্টিভ্যালের’ কাছাকাছি এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
গুলির শব্দে উৎসবমুখর পরিবেশ মুহূর্তেই আতঙ্কে রূপ নেয়; কেউ কেউ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন, আবার অনেকে আহতদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন।
ঘটনার বেশ কয়েক ঘণ্টা পরও কোনো সন্দেহভাজনকে আটক করা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় টলেডো পুলিশের ডেপুটি চিফ জো হেফার্নান। সেই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে কোনো ছবি বা ভিডিও থাকলে, তা তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে দিয়ে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
হেফার্নান জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে, অন্তত দুজন ব্যক্তি গুলি ছুড়েছেন। তারা সম্ভবত একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছিলেন।
আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। ভুক্তভোগীদের বয়স ১৪ থেকে ৬১ বছরের মধ্যে, তবে তাদের বেশিরভাগেরই বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের কাছাকাছি বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ওহাইয়োর গভর্নর মাইক ডিওয়াইন বলেছেন, ‘আজ রাতে টলেডোর পরিস্থিতি নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গ্রীষ্মকালীন উৎসবগুলো পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য একটি নিরাপদ স্থান হওয়া উচিত, যেখানে কোনো সহিংসতার ভয় থাকবে না।’
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলির শব্দ শুনে মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করছেন। আরেক ভিডিওতে জরুরি বিভাগের কর্মীদের আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে দেখা যায়।
ফায়ার চিফ অ্যালিসন আর্মস্ট্রং জানান, রাস্তা বন্ধ থাকা এবং উৎসব ছেড়ে ঘরে ফিরে যাওয়া মানুষের গাড়ির ভিড়ের কারণে শুরুর দিকে হাসপাতালে পৌঁছানো বেশ কষ্টকর ছিল। তবে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা এক ঘণ্টার মধ্যেই সব রোগীকে ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন।
কেভিন বেরি নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বন্ধুদের সঙ্গে উৎসবস্থলের একটি উদ্যানে বসে গান শুনছিলেন। ঠিক তখনই তিনি বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শুনতে পান বলে জানান।
তার ভাষ্যে, ‘গুলির শব্দ শোনামাত্রই সবাই মাটিতে শুয়ে পড়েন। এরপর যখন মাথা তুলে তাকাই, তখন দেখি যে আমার থেকে ৫০ ফুটেরও কম দূরত্বে একটি বন্দুক মাটিতে ছুড়ে ফেলা হচ্ছে। উৎসবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে উপস্থিত হন।’
নৌবাহিনীতে কাজের অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কারও সাহায্যের প্রয়োজন আছে কি না, তা দেখতে এগিয়ে যান বেরি। সে সময় তিনি অন্তত পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তারা উদ্যান এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন।’
টলেডোর ঐতিহাসিক জেলায় অনুষ্ঠিত ‘ওল্ড ওয়েস্ট এন্ড ফেস্টিভ্যাল’ মূলত দুই দিনব্যাপী একটি উৎসব। যেখানে লাইভ মিউজিক, খাবারের দোকান, ঘর সাজানোর প্রদর্শনী ও কেনাকাটার ব্যবস্থা থাকে। বেরি এটিকে ‘টলেডোর গ্রীষ্মকালীন উৎসব মৌসুমের আনুষ্ঠানিক সূচনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
শহরের নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক জর্জ ক্রাল জানিয়েছেন, উৎসবটি সপ্তাহের বাকি সময় চালু রাখা হবে কিনা, তা নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, এটি টলেডোর অন্যতম একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এমন একটি ঘটনা পুরো আয়োজনটি নষ্ট করে দিল।
১২ দিন আগে
যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলের হামলা, লেবাননে ২ সেনা কর্মকর্তাসহ নিহত ৯
নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর কয়েক দিনের মাথায় দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে লেবাননের সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, একজন ক্যাপ্টেন এবং অপর এক সেনাসদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবানিজ সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
শনিবার (৬ জুন) নাবাতিয়েহ ও মারজাইউন শহরের মধ্যবর্তী সড়কে একটি গাড়িতে চালানো বিমান হামলায় ওই দেশটির সেনাবাহিনীর ওই তিন সদস্য নিহত হন। সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি।
এদিকে, দক্ষিণাঞ্চলের সাকসাকিয়াহ গ্রামে পৃথক আরেকটি বিমান হামলায় ছয়জন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি।
দেশটির সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘লেবানন, আমাদের জনগণ ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অব্যাহত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পুনরাবৃত্ত আগ্রাসন আমাদের সংকল্প, বিশ্বাস ও দৃঢ়তাকে আরও শক্তিশালী করছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং দখলকৃত লেবানিজ ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে চলমান সব প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করাই এসব হামলার উদ্দেশ্য।
গাড়িতে হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তারা জানিয়েছে, ঘটনাটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তবে তাদের দাবি, কফার তিবনিত গ্রামের কাছে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের দিকে হামলার জন্য হিজবুল্লাহ ওই এলাকা থেকে গোলাবর্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন ‘নির্দিষ্ট তথ্য’ পাওয়ার পর গাড়িটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় হামলা চালানো হয়।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযান হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়, লেবাননের সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এ হামলাকে ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটনে চলমান আলোচনার মাধ্যমে ইসরায়েলি হামলা বন্ধে লেবানন চেষ্টা চালিয়ে গেলেও দক্ষিণাঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো এই উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে।
তবে হিজবুল্লাহ দেশটিকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির সরকার। সরকারের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগে সংগঠনটিকে নিরস্ত্র করারও চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়নি।
শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিরোধিতার জন্য ইরানের সমালোচনা করেন। তারা বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় তেহরানের ‘দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে লেবাননকে ব্যবহার করা উচিত নয়।
এর জবাবে আজ শনিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আউনের বক্তব্য শুনলে মনে হবে ইরান লেবাননের এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড দখল করেছে, দেশটির এক-চতুর্থাংশ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং প্রতিদিন সেখানে বোমা হামলা।’
লেবাননের প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘লেবানন যদি সত্যিই ইরানের দর-কষাকষির হাতিয়ার হতো, তাহলে বহু আগেই একটি চুক্তি হয়ে যেত। লেবাননকে প্রকৃত শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করুন।’
গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালানোর মাধ্যমে বর্তমান যুদ্ধের সূচনা হয়। এর দুই দিন আগে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছিল। এরপর ইসরায়েল লেবাননে স্থল অভিযান চালায় এবং ব্যাপক হামলা শুরু করে, যার ফলে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বর্তমানে ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, যা ১৯৮২ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত চলা দখলদারত্বের অবসানের পর সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে লেবাননে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সংঘাতে অন্তত ২৯ জন ইসরায়েলি সেনা ও তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
১৩ দিন আগে
৩৯ দেশের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি আদালতে বাতিল
৩৯টি দেশের অভিবাসীদের ওপর প্রভাব ফেলা ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অভিবাসন নীতি বাতিল করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক। ওই নীতির ফলে বহু দেশের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ মে) এক শুনানিতে প্রধান জেলা বিচারক জন ম্যাককনেল জুনিয়র ওই নীতিটি বাতিল করে রায় দেন।
রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অগণিত অভিবাসীদের জীবনকে ‘অনির্দিষ্ট আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে’ ফেলে দিয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) আইন উপেক্ষা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রায়ে বিচারক বলেন, ইউএসসিআইএস এমন আইনি ও নিয়ন্ত্রক ক্ষমতার দাবি করেছে, যা তাদের নেই। পাশাপাশি তারা প্রয়োজনীয় যৌক্তিক ব্যাখ্যা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আবেদনকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করেনি। জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে সংস্থাটি এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা প্রকৃতপক্ষে অভিবাসীবিরোধী মনোভাবকে আড়াল করে।
তিনি বলেন, আইনের ভাষায় ইউএসসিআইএসের এসব পদক্ষেপ বেআইনি, খামখেয়ালি ও অযৌক্তিক।
তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস)।
গত বছর দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর হামলার ঘটনার পর প্রণীত ওই নীতির আওতায় আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯টি দেশের অভিবাসীদের আশ্রয়, কাজের অনুমতি, গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কার্যত স্থগিত রাখা হয়েছিল।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সংগঠন ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ডের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্কাই পেরিম্যান বলেন, ‘এই রায় একটি মৌলিক নীতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে—ফেডারেল সরকার আইনি অভিবাসন পথ বন্ধ করতে পারে না বা মানুষ কোথা থেকে এসেছে তার ভিত্তিতে বৈষম্য করতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘এসব অবৈধ নীতি দেশজুড়ে পরিবার, কর্মী, আশ্রয়প্রার্থী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তারা প্রত্যেকে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়েছিলেন; কাজ করতে পারছিলেন না, আইনি সুরক্ষা পাচ্ছিলেন না এবং নিজেদের জীবন নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতেও পারছিলেন না।’
ইউএসসিআইএস যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত আবেদন অনুমোদনের দায়িত্বে রয়েছে। সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ব্যক্তিদের আশ্রয় আবেদনও মঞ্জুর করে থাকে। তবে সীমান্তে আটক ব্যক্তিদের আশ্রয় আবেদনের বিষয়ে অভিবাসন বিচারকেরা সিদ্ধান্ত দেন। ফলে বর্তমান রায় তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শেভ দালাল-ধেইনি বলেন, এই রায়ের ফলে শুধু মামলার বাদীরা নন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলোর ইউএসসিআইএসে বিচারাধীন সব আবেদনকারী উপকৃত হবেন।
তিনি বলেন, ‘আইনি অভিবাসনের পথগুলো যেন খোলা থাকে এবং ইউএসসিআইএস যেন কংগ্রেসের দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী আবেদনগুলো নিষ্পত্তির দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে, তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিজয়।’
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও অভিবাসনের মানদণ্ড কঠোর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্য অন্যায্য ভ্রমণ ও অভিবাসন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের ছুটির মধ্যে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সেনাকে গুলি করার ঘটনায় একজন আফগান নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তারা এই নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়াবে।
মামলাটি খারিজ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে একটি আবেদন করা হয়েছিল। সরকার তাদের আবেদনে যুক্তি দিয়েছিল, অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে কংগ্রেস নির্বাহী শাখাকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে। এর মধ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং বিভিন্ন সুবিধা প্রদান বা প্রত্যাহারের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে দেয়।
রায়ের পর অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের সভাপতি জামাল আবদি বলেন, ‘এই রায় একটি শক্তিশালী নজির স্থাপন করল যে প্রশাসন কংগ্রেসের তৈরি করা আইনকে উপেক্ষা করতে পারে না এবং ডিক্রি জারির মাধ্যমে জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন সুবিধাগুলোকে খামখেয়ালিভাবে বন্ধ করতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘সৌভাগ্যবশত এটি এখনও আইনের দেশ এবং যারা আমেরিকার মূল্যবোধকে ধারণ করেন, তাদের এই ধরনের বৈষম্যমূলক ও স্বেচ্ছাচারী নীতিকে চ্যালেঞ্জ করার এবং প্রতিহত করার অধিকার রয়েছে।’
আফগান পুনর্বাসন সহায়তা জোট আফগানইভ্যাকের (#AfghanEvac) প্রধান ও মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য শন ভ্যানডাইভার বলেন, ‘টি আইনের শাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো আফগান মিত্রসহ অন্যান্য অভিবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয়।’
ভ্যানডাইভার বলেন, ‘এই সপ্তাহেই ডালাস ও ফোর্ট ওর্থে আমরা এমন মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, যারা কাজের অনুমতি নবায়নে বিলম্বের কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় ছিলেন। অনেক পরিবার তাদের শিক্ষা, ভ্রমণ এবং বাড়ি কেনার পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল, কারণ তারা জানত না যে তাদের আবেদন কবে নিষ্পত্তি হবে। এমনকি নাগরিকত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অনেকের আবেদনও কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিল।’
১৩ দিন আগে
তাইওয়ান সফরের করায় নিউজিল্যান্ডের ৪ আইনপ্রণেতার ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
তাইওয়ান সফর করায় নিউজিল্যান্ডের চার আইনপ্রণেতার ওপর এক বছরের জন্য চীন, হংকং ও ম্যাকাওয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে চীন। একইসঙ্গে তাইওয়ান সফরের জন্য চীনের কাছে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতাদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পাঠানো এক বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ওয়েলিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস। পরে সংসদীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বার্তাটি নিউজিল্যান্ডের চার আইনপ্রণেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
নিউজিল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, তাইওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে অতীতে অন্যান্য দেশের আইনপ্রণেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। তবে নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধে এই প্রথম চীন এমন পদক্ষেপ নিল। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে চীন নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে চীন।
এদিকে, নিউজিল্যান্ডের চার আইনপ্রণেতার মধ্যে দুজন এপিকে জানিয়েছে, তারা চীনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্য দুইজনের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, তারা এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে চীনের সঙ্গে কথা বলবে।
এ বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সের এক মুখপাত্র জানান, চীন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া আইনপ্রণেতারা গত মে মাসে তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেই সফর করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা কয়েক দশক ধরেই এ ধরনের সফর করে আসছেন।
চীনের দাবি, তাইপেইয়ের নিজস্বভাবে কোনো ধরনের বিদেশি সম্পর্ক পরিচালনার কোনো অধিকার নেই। এছাড়া বিদেশি আইনপ্রণেতাদের তাইওয়ান সফরকে চীনের সার্বভৌমত্বের প্রতি বাধা হিসেবে দেখছে তারা।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সের মুখপাত্র জানান, ‘ওয়ান চায়না’ নীতির আওতায় তাইওয়ানকে চীনের একটি প্রদেশ হিসেবে দাবি করা হয়। নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতার ওই সফর ‘ওয়ান চায়না’ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। এছাড়া তাইওয়ান সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, এমন ১২টি দেশের মধ্যে নিউজিল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত নয়।
এপি জানিয়েছে, ওয়েলিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টারি সার্ভিসে একটি বার্তা পাঠায়। ওই বার্তার মাধ্যমে তাইওয়ানে সফর করা চার আইনপ্রণেতাকে এক বছরের জন্য চীন, ম্যাকাও ও হংকংয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধের বিষয়টি জানানো হয়। নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টারি সার্ভিস থেকে এই বার্তাটি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতাদের একটি ইমেইলে পাঠানো হয়।
চীনা দূতাবাসের বার্তায় আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতারা যদি তাইওয়ান সফরের জন্য চীনের কাছে ক্ষমা চান, তাহলে তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার চীনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানান, নিউজিল্যান্ডসহ যেসব দেশের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, অনেকদিন ধরেই সেসব দেশের আইনপ্রণেতাদের তাইওয়ান সফরের বিরোধিতা করে আসছে চীন। এই ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়। নিউজিল্যান্ডের এ বিষয়ে বিস্মিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এদিকে, নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র জানান, বিষয়টি নিয়ে বেইজিং ও ওয়েলিংটনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিউজিল্যান্ডের কর্মকর্তারা চীনের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তারা চীন সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ জানাবেন।
তিনি আরও জানান, বিদেশ সফরে নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা কোন অঞ্চলে ভ্রমণ করবেন, সে সিদ্ধান্ততা তারা স্বাধীনভাবে নিয়ে থাকেন। এসব সফরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
লিবার্টারিয়ান অ্যাক্ট পার্টির আইনপ্রণেতা লরা ম্যাকক্লুর জানান, চীনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার এই দাবি স্পষ্টতই অপমানজনক। তিনি কোনোভাবেই ক্ষমা চাইবেন না।
অন্যদিকে, মধ্য-বামপন্থি লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা ডানকান ওয়েব জানান, নিউজিল্যান্ড গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়। এ কারণে যদি আমাকে এক বছরের জন্য চীনে প্রবেশ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে সেই মূল্য দিতেও আমি প্রস্তুত।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিউজিল্যান্ড ও চীনের সম্পর্ক ইতিবাচক ছিল। চীন বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। এছাড়া নিউজিল্যান্ডই প্রথম চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছিল।
অপরদিকে, নিউজিল্যান্ডের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের ওপর চীনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তাদের সরকারও উদ্বেগ প্রকাশ করবে। এ বিষয়ে বেইজিং এবং ক্যানবেরায় চীনা মিশনের সঙ্গে কথা বলবে অস্ট্রেলিয়া।
বৃহস্পতিবার ক্যানবেরায় সিনেট কমিটির এক বৈঠকে ওয়ং জানান, নিউজিল্যান্ড যে অবস্থান নিয়েছে, অস্ট্রেলিয়াও তার সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্যদের মতো নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারাও সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নিতে পারেন।
এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আইনপ্রণেতাদের ওপর ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।’
১৫ দিন আগে
পারমাণবিক অস্ত্রের জ্বালানি উৎপাদনের কারখানা উন্মোচন করল উত্তর কোরিয়া
পারমাণবিক বোমার জ্বালানি উৎপাদনের একটি নতুন কারখানা উন্মোচন করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উন তার দেশের পারমাণবিক শক্তি ‘জ্যামিতিক হারে’ বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ মে) কারখানাটি উন্মোচন করা হয়।
যদিও কিছু বিশেষজ্ঞ এখনও প্রশ্ন তুলছেন যে উত্তর কোরিয়ার কাছে সত্যিই কার্যকর পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র আছে কিনা যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম, তবে এই পারমাণবিক কারখানার প্রকাশ ইঙ্গিত দেয় যে কিম তার দেশকে একটি পারমাণবিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেই সঙ্গে তিনি তার পারমাণবিক কার্যক্রমকে আলোচনার টেবিলে তুলে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা রাখেন না।
দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, গতকাল (বুধবার) স্থানটি পরিদর্শনের পর কিম বলেন, তিনি এবং শীর্ষ কর্মকর্তারা ‘রাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তি জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধির উচ্চাভিলাষী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছেন।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকেন্দ্র হতে পারে কারখানাটি
কেসিএনএ জানিয়েছে, কারখানাটিতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তবে এর অবস্থানসহ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ এই স্থানটিকে একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে জানিয়েছে, তারা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে।
কেসিএনএ প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, কিম রূপালি রঙের নলের সারিতে ভরা সংকীর্ণ পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন, যেটিকে একটি সেন্ট্রিফিউজ কক্ষ বলে মনে হচ্ছে। আরেকটি ছবিতে তাকে একটি সভাকক্ষে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়, যেখানে টেবিলে একটি শঙ্কু আকৃতির বস্তুর ঝাপসা ছবিসহ নকশা ছড়ানো রয়েছে। তবে ওই নকশাটি কোনো ওয়ারহেডের নকশা কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কথা প্রকাশ করল উত্তর কোরিয়া। ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়া আরেকটি গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের ছবি প্রকাশ করেছিল। ২০১০ সালে দেশটির প্রধান পারমাণবিক কমপ্লেক্স ইয়ংবিওনে আমেরিকান গবেষকদের সামনে একটি কেন্দ্র প্রদর্শন করা হয়েছিল।
গত সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রী চুং ডং-ইয়ং আইনপ্রণেতাদের জানান, উত্তর কোরিয়া ইয়ংবিওন কমপ্লেক্সসহ মোট চারটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র পরিচালনা করছে এবং প্রতিদিনই সেখানে কার্যক্রম চলছে।
পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি
কারখানা পরিদর্শনকালে কিম বলেন, ‘সবচেয়ে হিংস্র শত্রু যারা (যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া), তাদের মোকাবিলায় গুণগত ও পরিমাণগতভাবে দেশের পারমাণবিক প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
কিম বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ তার দেশের ‘অপরিবর্তনীয়’ অবস্থান। তিনি দাবি করেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক উপকরণ উৎপাদন সক্ষমতা পাঁচ বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কিম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের স্বীকৃতি চান, যাতে তিনি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিম শেষ পর্যন্ত আংশিক পারমাণবিক সক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ছাড় আদায়ের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় জোর দেবেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বারবার কিমের সঙ্গে পুনরায় কূটনীতি সম্পর্ক শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে উত্তর কোরিয়ার নেতা জানিয়েছেন, আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের দাবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে সরে আসতে হবে।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন
২০১৯ সালে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রথম দফা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে কিম ব্যাপক অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বারবার অস্ত্রভান্ডার ‘জ্যামিতিক হারে’ বিস্তারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এর ফলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে এখন সম্ভবত এমন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা মার্কিন মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ এখনও বলছেন, উত্তর কোরিয়া সর্বশেষ প্রযুক্তিগত বাধাগুলো অতিক্রম করেছে কি না তা প্রমাণিত হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় ওয়ারহেড অক্ষত রাখা এবং মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড স্থাপনের প্রযুক্তি।
২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছিলেন, উত্তর কোরিয়া ২০ থেকে ৬০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ এখন মনে করেন, দেশটির অস্ত্রভান্ডারে শতাধিক ওয়ারহেড রয়েছে।
২০২৩ সালে উত্তর কোরিয়া এক ধরনের ব্যাটেলফিল্ড পারমাণবিক ওয়ারহেড উন্মোচন করে। সে সময় বিশ্লেষকদের কেউ কেউ অনুমান করেছিলেন যে এটি নতুন পারমাণবিক পরীক্ষার আগাম ইঙ্গিত হতে পারে। তবে তা নিয়ে উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা চালায়নি।
১৫ দিন আগে
গাজায় রাতভর ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৯
গাজায় রাতভর চালানো একাধিক ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশি আলোচনায় রয়েছে। এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজায় অন্তত চারটি পৃথক হামলায় ওই নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে, গত সপ্তাহে ইসরায়েল হামাসের এক শীর্ষ সামরিক নেতাকে হত্যা করে। তার দুই সপ্তাহ আগে আরেকটি হামলায় তার পূর্বসূরিও নিহত হন।
গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সংঘাত চলে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে এই সংঘাত বন্ধের চেষ্টা করা হয়েছিল। এর ফলে তীব্র লড়াই অনেকটাই কমে এসেছে। তবুও নাজুক এই যুদ্ধবিরতির মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই গাজায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনা ঘটছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে বারবার হামলা চালিয়েছে। সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকার কাছে অবস্থান করা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে তারা প্রায়ই গুলি চালায়। এতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৩৬ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
হামাস পরিচালিত সরকারের এই মন্ত্রণালয়ের তথ্যকে সাধারণত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা নির্ভরযোগ্য বলে মনে করেন। তবে মন্ত্রণালয়টি নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক ও কতজন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন, সে বিষয়ে কোনো পৃথক কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
অন্যদিকে, গাজায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের সেনাদের জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি তৈরি করে। তার জবাবেই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি সেনাদের এসব হামলা চালাতে হয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ৪ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত হন। সে সময় ২৫১ জন ইসরায়েলি নাগরিককে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস। এ ঘটনার জবাবে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে।
১৫ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অন্তত ১২ জন নিহত
শ্রীলঙ্কার পশ্চিমাঞ্চলে একটি বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮ জন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩ মে) ভোরে শ্রীলঙ্কার পশ্চিমাঞ্চলে আঙ্গুরুওয়াতোটা শহরে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে শহরটির পুলিশ আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশের মুখপাত্র ফ্রেডরিক উটলার জানান, ওই আশ্রমে মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও থাকতেন। ঘটনার পর ৫১ জন বাসিন্দাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা সন্দেহে বৃদ্ধাশ্রমটির পরিচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আগুনে ভবনটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছাই হয়ে গেছে। ভবনের কাছাকাছি মৃতদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘হিরু’ প্রচারিত দৃশ্যে দেখা গেছে, ফায়ার সার্ভিস কর্মী, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা একযোগে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। উদ্ধারকৃতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশ ও সেনাসদস্যরা বাসে উঠতে সাহায্য করছিলেন।
১৫ দিন আগে
পর্যটকদের লাগামহীন আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে ভিসা নিয়ম কড়াকড়ি করছে থাইল্যান্ড
ব্যাংককের খাওসান রোড, শহরটির অন্যতম ব্যস্ত এক এলাকা, যা মূলত ব্যাকপ্যাকারদের (কম খরচে ভ্রমণকারী) কাছে ভীষণ জনপ্রিয়। পড়ন্ত বিকেলে দেখা যায়, পানশালার কর্মীরা পথচারীদের নানা অফার দিয়ে ভেতরে ডাকার চেষ্টা করছেন। চারদিকে গাঁজার গন্ধ, শহরটিতে যা এখন বেশ সহজলভ্য। রাস্তার পাশের বিক্রেতারা নকল ট্যাটু, ফ্লিপ-ফ্লপ থেকে শুরু করে ফলের জুসসহ নানা পসরা সাজিয়ে বসেছেন।
কয়েক দশক ধরেই এই রাস্তা এবং এর কোলাহলপূর্ণ রাতের জীবন বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করে আসছে। তবে থাইল্যান্ডের সাধারণ মানুষ এখন এসব উৎসবপ্রেমী দর্শনার্থীর লাগামহীন আচরণে ক্রমশ বিরক্ত হয়ে উঠছেন।
থাই ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেল ‘থাই’ড আপ উইথ মিনি’র পরিচালক মিনির ভাষ্যে, অনেকে মনে করেন থাইল্যান্ড একটি ‘খেলার মাঠ’, এখানে যা খুশি করা যায়।
ভিসা নিয়মে কড়াকড়ি
আতিথেয়তার জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাতি থাকা সত্ত্বেও থাইল্যান্ড সরকার এবার একটি সীমারেখা টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত মাসে দেশটির সরকার ঘোষণা দিয়েছে যে তারা ভিসা নিয়মে কড়াকড়ি আরোপ করবে। এর আওতায় ৯০টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত অবস্থানের মেয়াদ ৬০ দিন থেকে কমিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ দিন করা হবে। তবে নতুন এই নিয়ম ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সরকারের এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের অনেক সাধারণ মানুষ। পর্যটকদের অসদাচরণে তারা রীতিমতো অতিষ্ঠ। রেস্তোরাঁর বিল না দেওয়া, রাস্তায় মদ্যপ অবস্থায় মারামারি কিংবা টুকটুকের ভেতর বিদেশি যুগলদের যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার মতো খবর ও ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে।
এমনকি স্থানীয়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রমাণও মিলেছে ভিডিওতে। একটি ঘটনায় দেখা যায়, এক বিদেশি পর্যটক রাস্তার পাশের এক খাবার বিক্রেতার দিকে নাকের সর্দি ছুড়ে দিচ্ছেন।
মিনি বলেন, ‘থাইল্যান্ডের নাগরিকরা এসব আচরণে এতটাই বিরক্ত যে ইতোমধ্যে তারা এসবের জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছেন। তারা এখন বুঝতে শুরু করেছেন যে, আমরা এ ধরনের আচরণ চাই না। এটি এখানে বসবাসরত সাধারণ মানুষের জন্য মোটেও সুখকর নয়।’
১৫ দিন আগে
ফের যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, অনিশ্চয়তায় যুদ্ধবিরতি আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একটি ট্যাঙ্কার অচল করার পাশাপাশি ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানও কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে চলমান প্রচেষ্টা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানে প্রবেশের সময় একটি টাঙ্কারকে লক্ষ্য করে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজটি তাদের আরোপিত অবরোধ অমান্য করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। পরে মার্কিন বাহিনী আরও জানায়, তারা ইরানের পাল্টা হামলা প্রতিহত করতে ইরানের কেশম দ্বীপের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালিয়েছে।
এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, কেশমে হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এ দাবি অস্বীকার করেছে।
সেন্টকম জানায়, মঙ্গলবার দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। বতসোয়ানার পতাকাবাহী খালি ট্যাঙ্কারবাহী এমটি লেক্সি জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে ইরানের খার্গ দ্বীপের দিকে যাচ্ছিল। যাওয়ার সময় জাহাজটি ২৪ ঘণ্টা ধরে দেওয়া একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করছিল। এরপর একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে জাহাজটির ইঞ্জিন অচল করে দেওয়া হয়। খার্গ দ্বীপটি হরমুজ প্রণালির উত্তরে কুয়েতের কাছাকাছি অবস্থিত।
এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে পেরেছে। একইসঙ্গে কুয়েত তাদের জনগণকে হামলা প্রতিহত করার সময় পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ, ধারালো বা অজ্ঞাত কোনো বস্তুর কাছে না যেতে সতর্ক করে দেয়। প্রায় একই সময়ে বাহরাইনেও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শোনা যায়।
সেন্টকম জানায়, কুয়েতের দিকে ছোড়া ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাহরাইনের দিকে লক্ষ্য করে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করে।
পরে সেন্টকম জানায়, কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। সেটিও প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।
মার্কিন বাহিনী আরও জানায়, তারা তিনটি একমুখী হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি, ড্রোনগুলো ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। আঞ্চলিক জলসীমায় বৈধভাবে চলাচলরত বেসামরিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোনগুলো ছোড়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
এদিকে, মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনেও হামলা চালিয়েছে।
সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক অগ্রগতির স্থবিরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর প্রথমবারের মতো সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটিতে উপস্থিত হয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার রুবিও দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা এখন নাগালের মধ্যে রয়েছে। তিনি জানান, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনায় সম্মত হয়েছে, যেগুলো নিয়ে এক মাস আগেও তারা আলোচনা করতে রাজি ছিল না।
তবে রুবিওর এই মন্তব্য ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা স্থগিত করবে। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সব ফ্রন্টেই কার্যকর, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন মানে সব ফ্রন্টেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা। এর যেকোনো পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী থাকবে।’
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় নতুন সমঝোতা হওয়ার পরও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। অথচ, ওই সমঝোতার উদ্দেশ্য ছিল লেবাননে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে আরও শক্তিশালী করা।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সোমবার জানান, তিনি বৈরুতে ইসরায়েলের একটি সম্ভাব্য হামলা ঠেকিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। গোলাগুলি বন্ধ করতে তারা সবাই সম্মত হয়েছে।
তবে এর পরদিনই লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশেটির দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত ৩০টি ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়েছে।
লেবাননের সাইদা শহরের কাছে একটি ইসরায়েলি হামলার পর উদ্ধারকারীরা একই পরিবারের ছয় সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও এক নারী ছিলেন।
এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাবাতিয়েহর বাসিন্দাদের নতুন করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর ওই এলাকায় তারা হামলা চালিয়েছিল। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি জাহাজ অচল করেছে। তার মধ্যে এমটি লেক্সি হলো ষষ্ঠ জাহাজ।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, এ পর্যন্ত তারা ১২২টি জাহাজকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ বাতিল করতে সক্ষম হয়েছে।
এর আগে, গত সপ্তাহের শেষে মার্কিন বাহিনী ইরানের রাডার ও ড্রোন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান কুয়েতে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়।
১৬ দিন আগে
২০৪২ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ৮৭ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য যুক্তরাজ্যের
বিশ্বজুড়ে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ থাকা সত্ত্বেও ‘নেট জিরো’ (কার্বন নিরপেক্ষতা) লক্ষ্যে অটল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে যুক্তরাজ্য। এ লক্ষ্যে আগামী দেড় দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধিকারী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ১৯৯০ সালের তুলনায় শতকরা ৮৭ ভাগ হ্রাস করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ মে) এসব কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
২০০৮ সালে প্রণীত একটি আইন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন শূন্যে নামিয়ে আনার (নেট জিরো) একটি আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে যুক্তরাজ্যের। ওই আইন অনুসারে, সরকারকে একটি কঠোর সময়সূচি মেনে ভবিষ্যতের জন্য প্রতি ৫ বছর মেয়াদি বাজেটে কার্বন নির্গমন হ্রাসের সীমা নির্ধারণ করতে হয়।
দেশটির জ্বালানি সচিব এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, সরকার তাদের স্বাধীন জলবায়ু পরিবর্তন কমিটির পরামর্শ গ্রহণ করবে। এর সঙ্গে ২০৩৮ থেকে ২০৪২ সাল পর্যন্ত পরবর্তী বাজেটের জন্য ৮৭ শতাংশ কার্বন হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে অগ্রসর হলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মতো পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানির মূল্যস্ফীতির ধাক্কা থেকে রক্ষা পাবে যুক্তরাজ্য।
মিলিব্যান্ড বলেন, ‘চলতি দশকে ব্রিটেন যখন দ্বিতীয়বারের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির সংকটের মুখে পড়ছে, তখন পরিবার ও ব্যবসার আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো আমাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা নিজস্ব পরিচ্ছন্ন জ্বালানি শক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া।’
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই লক্ষ্যমাত্রা যুক্তরাজ্যকে ২০৫০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’ অর্জন করতে সাহায্য করবে। তবে লক্ষ্যটি কীভাবে অর্জিত হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা এই ঘোষণায় প্রকাশ করা হয়নি।
ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের ভূ-বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মার্টিন সিগার্ট বলেন, ‘আমি মনে করি ২০৫০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’ অর্জনের মাইলফলক হিসেবে এটি অত্যন্ত ভালো খবর। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের একটি সুসংগত ও সমন্বিত পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন একটি স্বাধীন ‘ডেলিভারি বোর্ড’। এই বোর্ডের কাজ হবে সরকার, রাজনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন কমিটি থেকে মুক্ত থেকে এটি বাস্তবায়নের উদ্দ্যেশে কাজ করা।
এদিকে, দেশটির বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি এবং রিফর্ম ইউকে যুক্তি দেখাচ্ছে যে, সরকারের উচিত নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা শিথিল করা এবং আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর ব্রিটেনের নির্ভরতা কমাতে উত্তর সাগর থেকে আরও বেশি তেল ও গ্যাস উত্তোলন করা।
এই বিষয়ে সরকারের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে কনজারভেটিভ পার্টির জ্বালানি বিষয়ক মুখপাত্র ক্লেয়ার কুটিনহো বলেন, ‘এই নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা আমাদের আরও দুর্বল ও দরিদ্র করে তুলবে এবং সবার জ্বালানি বিল কমানোর পরিবর্তে আরও বাড়িয়ে দেবে।’
১৬ দিন আগে