যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এশীয় নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায়ের দাবি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু বিশ্ব অর্থনীতির জন্যই নয়, আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ নৌ চলাচলের নীতির জন্য বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করবে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২২ জুলাই) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক বৈঠকের শুরুতে রুবিও এ মন্তব্য করেন।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এর প্রভাব নিয়ে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দিকে থাকলেও রুবিও আসিয়ান নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা সব সময় আসিয়ানের সঙ্গে আছি।’
তিনি বলেন, ‘যদি আমরা মধ্যপ্রাচ্যে জলপথে টোল নেওয়ার নজির তৈরি করি, যেখানে কোনো রাষ্ট্র একটি আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ন্ত্রণ করবে, সেখানে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল নেবে এবং কেউ সেই টোল না দিলে তাদের জাহাজ হামলার শিকার হবে, তাহলে এমন সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি উদাহরণ তৈরি করবে। পরে বিশ্বের অন্য অঞ্চলগুলোতেও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’
এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই বৈঠকে অংশ নিতে ম্যানিলায় অবস্থান করছেন। বুধবার ব্রিটেনের সদ্য নিয়োগ পাওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড. মিলিব্যান্ডও ম্যানিলায় পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে তার দপ্তর।
আসিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি রুবিও যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপানকে নিয়ে গঠিত চারদেশীয় জোট ‘কোয়াড’-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে প্রযুক্তি, মানবিক সহায়তা, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তাসহ দেশগুলোর বিভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে কোয়াডভুক্ত দেশগুলো একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। এতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগে তারা নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
যৌথ বিবৃতিতে কোয়াড নেতারা জানান, তারা এ বিষয়ে একমত যে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ভিত্তি।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রুবিও বলেন, ‘কোয়াড আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ বছরের শেষের দিকে আমরা আবারও বৈঠকে বসব।’
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে ফিলিপাইনের মতো ছোট দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে ফিলিপাইন এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো মিত্র।
দক্ষিণ চীন সাগরের এ আঞ্চলিক বিরোধে তাইওয়ানের পাশাপাশি আসিয়ানভুক্ত ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই জড়িত। মঙ্গলবার ম্যানিলায় শুরু হওয়া তিন দিনের বৈঠকের আলোচ্যসূচির অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল এসব আঞ্চলিক বিরোধ।
পরে রুবিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ওই বৈঠকে আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ও ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কহার কমানোর বাণিজ্য চুক্তির মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পিগট বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ও মন্ত্রী জয়শঙ্কর অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তিটি দ্রুত চূড়ান্ত করার গুরুত্বের বিষয়ে একমত হয়েছেন। চুক্তিটি এখন প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে।’
ম্যানিলা উপসাগর-সংলগ্ন কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের ফাঁকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গেও রুবিওর পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।