বিশ্ব
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি ট্রাম্পের আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মিত্র দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধ জাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি বন্দর এলাকা থেকে মানুষকে সরে যেতে বলেছে।
আরব আমিরাতের দুটি বন্দর খালি করার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো তেহরান প্রকাশ্যে প্রতিবেশী দেশের যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন নয় এমন সম্পদের বিরুদ্ধে হুমকি দিল।
তেহরান অভিযোগ করেছে, ইরানের খার্গ দ্বীপে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর, ডক ও গোপন আস্তানা ব্যবহার করছে। খার্গ দ্বীপে ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান টার্মিনাল রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি তেহরান। আরব আমিরাতের যেসব এলাকায় মার্কিন বাহিনী আশ্রয় নিয়েছে, সেসব জায়গা থেকে মানুষকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
অন্যদিকে, লেবাননে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। সেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
আমিরাতের ভূমি ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, খার্গ দ্বীপ এবং আবু মুসা দ্বীপে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি স্থান ব্যবহার করেছে। স্থান দুটির একটি হচ্ছে রাস আল-খাইমাহ এবং আরেকটি দুবাইয়ের খুব কাছাকাছি একটি এলাকা।
এই হামলাকে বিপজ্জনক বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, ইরান কোনো জনবহুল এলাকায় আক্রমণ না করার চেষ্টা করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের এই দাবির বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য নেই।
অপরদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তবে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এখনো এসব হামলার প্রতিবাদে যুক্তি ও সংযমকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তারা এখনও চলমান সংঘাতে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ধৈর্য ধরছে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধের মধ্যে ইরান প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। তবে তারা বলেছে, এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনা। যদিও কিছু ক্ষেত্রে বেসামরিক অবকাঠামো, যেমন: বিমানবন্দর ও তেলক্ষেত্রে আঘাত হানার ঘটনা দেখা গেছে।
এদিকে আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি কেবল তেহরান ও তাদের মিত্রদের জন্যই বন্ধ থাকবে যারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান ট্রাম্পের
স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) ট্রাম্প বলেন, বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় তিনি আশা করছেন যে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশ হরমুজ প্রণালিকে খোলা ও নিরাপদ রাখতে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। এর জবাবে ব্রিটেন জানিয়েছে, নৌযান চলাচল নিরাপদ রাখতে তারা মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি প্রতিবেশী দেশগুলোকে বিদেশি আগ্রাসনকারীদের তাদের দেশ থেকে বের করে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের ওই আহ্বানকে ‘ভিক্ষা চাওয়া’ বলে অভিহিত করেছেন।
শনিবার ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তেল অবকাঠামোর ওপর হামলা হয়, তবে তারা ওইসব অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলা চালাতে দুবার ভাববে না।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপে হওয়া হামলায় তেল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে তাদের দাবি, এই হামলাগুলো একটি বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনা, একটি নৌঘাঁটি, বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার এবং একটি অফশোর তেল কোম্পানির হেলিকপ্টার হ্যাঙ্গারকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।
সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরানের বিরুদ্ধে চালানো অভিযানে সহায়তা করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে বিমানে থাকা ৬ জন সেনা নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিহতরা হলেন— মেজর জন এ ক্লিনার (৩৩), ক্যাপ্টেন আরিয়ানা জি সাভিনো (৩১), টেক সার্জেন্ট অ্যাশলি বি প্রুইট (৩৪), ক্যাপ্টেন সেথ আর কোভাল (৩৮), ক্যাপ্টেন কার্টিস জে অ্যাংস্ট (৩০) এবং টেক সার্জেন্ট টাইলার এইচ সিমন্স (২৮)।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম ইরাকে দুই বিমানের এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর এই বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটে। অবশ্য ‘মিত্রশক্তির নিয়ন্ত্রিত’ আকাশসীমায় ঘটা এই দুর্ঘটনায় অন্য বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে আরেকটি হামলা
এদিকে, শনিবার বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্সের ভেতরে হেলিপ্যাডে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি।
ওই দূতাবাস কমপ্লেক্সটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই এই স্থাপনাটি ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ছোড়া রকেট ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে।
এ ঘটনার পরপর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আবারও ইরাকে থাকা মার্কিন নাগরিকদের তাৎক্ষণিকভাবে দেশটি ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট না থাকায় তাদের স্থলপথে ইরাক ছাড়তে বলা হয়েছে।
তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরান এবং ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, স্বার্থ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রাখবে।
১৪১ দিন আগে
নেপালে পাহাড়ি সড়ক থেকে বাস খাদে পড়ে ৭ ভারতীয় তীর্থযাত্রী নিহত
নেপালের মধ্যাঞ্চলে ভারতীয় তীর্থযাত্রী বহনকারী একটি যাত্রীবাহী বাস পাহাড়ি সড়ক থেকে ছিটকে খাদে পড়ে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
শনিবার (১৪ মার্চ) দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার পশ্চিমে শহিদ লাখান গ্রামের কাছে মহাসড়ক থেকে মন্দিরে যাওয়ার একটি সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সাতজনই ভারতীয় তীর্থযাত্রী। বাসে থাকা আরও সাতজন ভারতীয় তীর্থযাত্রী আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আহত অন্য দুজন হলেন নেপালি বাসচালক ও তার সহকারী।
নেপালের জনপ্রিয় হিন্দু ধর্মীয় তীর্থস্থান মনোকামনা মন্দির দর্শন শেষে ফেরার পথে ছিলেন তীর্থযাত্রীরা। ভক্তদের বিশ্বাস, ওই মন্দিরে গেলে দেবী তাদের মনোবাসনা পূরণ করেন।
পুলিশ জানায়, বাসটি ঢালু পথে নামার সময় একটি বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে এবং প্রায় ১৫০ মিটার নিচে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে একটি খাদে গিয়ে পড়ে।
ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নেপালে প্রায়ই বাস দুর্ঘটনা ঘটে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বাগমতি প্রদেশের ধাদিং জেলার পৃথ্বী মহাসড়কে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও অন্তত ২৬ জন আহত হন।
কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে ধাদিংয়ের বেনিঘাট রোরাং গ্রামীণ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌরাউন্ডির কাছে চিনাধারা এলাকায় পৌঁছে মহাসড়ক থেকে খাদে পড়ে যায়। এরপর সেটি খাদের তলদেশে ত্রিশুলী নদীতে গিয়ে পড়ে।
১৪১ দিন আগে
মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের ফি ৮০ শতাংশ কমিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করার জন্য যে ফি দিতে হয়, তার প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। চূড়ান্ত বিধিতে বিদ্যমান ফি ২ হাজার ৩৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪৫০ ডলার করা হয়েছে।
বহু বছর ধরে নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে ইচ্ছুক আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৪ মার্চ) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত একটি চূড়ান্ত বিধিতে এই ফি কমানো হয়। শুক্রবার থেকেই নতুন ফি কার্যকর হয়েছে।
২০২৩ সালে এ ফি কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এতদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন এই ফি ২০১০ সালে যখন প্রথমবার নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেই সময়কার সমান পর্যায়ে ফিরে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা একটি জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আবেদনকারীদের একাধিক লিখিত ও মৌখিক ঘোষণার মাধ্যমে পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার কর্মকর্তাকে নিশ্চিত করতে হয় যে তারা এই সিদ্ধান্তের পরিণতি সম্পর্কে অবগত। এরপর তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের শপথ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করে পররাষ্ট্র দপ্তর।
২০১৫ সালে নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে আগ্রহীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রশাসনিক ব্যয় মেটানোর যুক্তিতে ফি ৪৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৫০ ডলার করা হয়েছিল। বিশেষ করে বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন কর প্রতিবেদন বিধির কারণে অনেকেই নাগরিকত্ব ত্যাগে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
ফি এত বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ফ্রান্সভিত্তিক ‘অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাক্সিডেন্টাল আমেরিকানস’-সহ বিভিন্ন সংগঠন তীব্র বিরোধিতা করে। সংগঠনটি মূলত এমন ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়ার কারণে মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, কিন্তু বিদেশেই বসবাস করছেন।
সংগঠনটি ফি আরোপের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একাধিক মামলা করে, যার মধ্যে একটি মামলায় এখনো দাবি করা হচ্ছে যে নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য কোনো ফি থাকা উচিত নয়।
সংগঠনটির সভাপতি ফাবিয়েন লেহাগ্রে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি স্বীকার করে যে মৌলিক এই অধিকারটি সবার জন্য সহজলভ্য হওয়া জরুরি। ছয় বছরের নিরলস আইনি লড়াই ও প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য এসেছে।’
আদালতে সংগঠনটি জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ফি কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পরও অন্তত ৮ হাজার ৭৫৫ জন মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য পূর্ণ ২ হাজার ৩৫০ ডলার ফি পরিশোধ করেছেন। তবে মোট কতজন মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করার জন্য যে ফি দিতে হয়, তার প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। চূড়ান্ত বিধিতে বিদ্যমান ফি ২ হাজার ৩৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪৫০ ডলার করা হয়েছে।
বহু বছর ধরে নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে ইচ্ছুক আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৪ মার্চ) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত একটি চূড়ান্ত বিধিতে এই ফি কমানো হয়। শুক্রবার থেকেই নতুন ফি কার্যকর হয়েছে।
২০২৩ সালে এ ফি কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এতদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন এই ফি ২০১০ সালে যখন প্রথমবার নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেই সময়কার সমান পর্যায়ে ফিরে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা একটি জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আবেদনকারীদের একাধিক লিখিত ও মৌখিক ঘোষণার মাধ্যমে পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার কর্মকর্তাকে নিশ্চিত করতে হয় যে তারা এই সিদ্ধান্তের পরিণতি সম্পর্কে অবগত। এরপর তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের শপথ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করে পররাষ্ট্র দপ্তর।
২০১৫ সালে নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে আগ্রহীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রশাসনিক ব্যয় মেটানোর যুক্তিতে ফি ৪৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৫০ ডলার করা হয়েছিল। বিশেষ করে বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন কর প্রতিবেদন বিধির কারণে অনেকেই নাগরিকত্ব ত্যাগে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
ফি এত বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ফ্রান্সভিত্তিক ‘অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাক্সিডেন্টাল আমেরিকানস’-সহ বিভিন্ন সংগঠন তীব্র বিরোধিতা করে। সংগঠনটি মূলত এমন ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়ার কারণে মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, কিন্তু বিদেশেই বসবাস করছেন।
সংগঠনটি ফি আরোপের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একাধিক মামলা করে, যার মধ্যে একটি মামলায় এখনো দাবি করা হচ্ছে যে নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য কোনো ফি থাকা উচিত নয়।
সংগঠনটির সভাপতি ফাবিয়েন লেহাগ্রে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি স্বীকার করে যে মৌলিক এই অধিকারটি সবার জন্য সহজলভ্য হওয়া জরুরি। ছয় বছরের নিরলস আইনি লড়াই ও প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য এসেছে।’
আদালতে সংগঠনটি জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ফি কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পরও অন্তত ৮ হাজার ৭৫৫ জন মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য পূর্ণ ২ হাজার ৩৫০ ডলার ফি পরিশোধ করেছেন। তবে মোট কতজন মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
১৪২ দিন আগে
মোজতবা খামেনি সম্ভবত জীবিত, তবে গুরুতর আহত: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্ভবত এখনো জীবিত আছেন, তবে সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হামলার সময় খামেনি আহত হয়ে থাকতে পারেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রায়ান কিলমিডকে ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি, তিনি জীবিত আছেন। আমার মনে হয় তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন, তবে কোনো না কোনোভাবে তিনি সম্ভবত বেঁচে আছেন।
গত বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রচার করার পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম বার্তা।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে সাইপ্রাসে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। ওই হামলায় তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন।
রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য মার্কিন গণমাধ্যমের আগের সেই প্রতিবেদনগুলোরই প্রতিধ্বনি, যেখানে বলা হয়েছিল, হামলায় মোজতবা খামেনি জখম হয়েছেন।
১৪৩ দিন আগে
লেবাননে ইসরাইলের বিমান হামলায় নিহত ৮, বাস্তুচ্যুত বহু মানুষ
লেবাননের বৈরুতে রামেত আল বাইদা উপকূলে বিমান হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৩১ জন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইসরায়েল এ হামলা চালায় বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পাম-লাইনড সমুদ্র তীরে কয়েকটি জানালা ভাঙা গাড়ি, কতিপয় অ্যাম্বুলেন্স এবং বেশ কিছু মানুষ বিধস্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন।
ওই এলাকাটিতে সৈকত থাকায় ঘনবসতি রয়েছে। ইসরায়েলি হামলার ফলে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইসরায়েলের আরবি ভাষার সামরিক মুখপাত্র আভিচায় আদরাইয়ের মতে, বৃহস্পতিবার সারা রাত লেবাননজুড়ে ‘হিজবুল্লাহর সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা’ শুরু করেছে ইসরায়েল।
তিনি বলেন, ইসরায়েলি সৈন্যরা প্রায় ডজনখানেক রকেট উৎক্ষেপণ স্থান ধ্বংসসহ বেশ কয়েকজন হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করেছে। তারা ইসরায়েলে রকেট হামলার গোপন তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছিল।
আদরাইয়ি আরও বলেন, বৈরুতের দক্ষিণ দিকে ‘সন্ত্রাসীদের সদর দপ্তর’ হিসেবে ব্যবহৃত কুখ্যাত ১০টি ভবনেও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে।
১৪৪ দিন আগে
আহত হওয়ার গুঞ্জনের মধ্যে ‘নিরাপদে আছেন’ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা
ইরানে চলমান যুদ্ধের মধ্যে আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি নিরাপদে এবং সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন ইরান সরকারের এক উপদেষ্টা।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসেফ পেজেশকিয়ান তার ইনস্টাগ্রামে অনুসারীদের উদ্দেশে বলেন, তিনি মুজতবা খামেনির বিষয়ে জানতে বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরে সেখান থেকে তিনি নিশ্চিত হন যে মুজতবা খামেনির কোনো শারিরীক ক্ষতি হয়নি।
এর আগে, দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনিকে রমজান যুদ্ধের একজন আহত প্রবীণ যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে সেখানে তার আঘাতের বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য বলা হয়নি।
১৪৫ দিন আগে
আঞ্চলিক দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়, আলোচনায় ফেরার আহ্বান কাতারের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফি বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলো ইরানের শত্রু না। এভাবে হামলা চলতে থাকলে কাতার ও ওমান আর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে না।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ বিন আল-খুলাইফি বলেছেন, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর যে হামলা চালাচ্ছে, তা কারও জন্যই কোনো উপকার বয়ে আনবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো বোমা হামলার জবাবে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানিনির্ভর আঞ্চলিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এ পরিস্থিতি নিয়ে কাতার অত্যন্ত উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন আল-খুলাইফি। তিনি বলেন, বিশেষ করে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার ঘটনাগুলো নিয়ে কাতারের মানুষ গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন যে পরিস্থিতিতে দাড়িয়ে আছি, তা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা বিশ্বাস করি, একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের পথ হলো আবার আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা।’
দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাতারের সার্বভৌমত্বকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে—এমন অযৌক্তিক ও উস্কানিমূলক হামলাকে দোহা কঠোর ভাষায় নিন্দা জানায়। এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের সুরক্ষার জন্য সবধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেবে কাতার।
আল-খুলাইফি বলেন, এই সংঘাতের একটি বৈশ্বিক সমাধান প্রয়োজন, যাতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে। কারণ চলমান সংঘাতের কারণে সেখানে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরান কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে, যারা অতীতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। এছাড়া এই দেশগুলো পূর্বে ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করেছে। তবে হামলা চলতে থাকলে কোনো দেশই আর চুপ করে বসে থাকবে না বলেও জানান তিনি।
আল-খুলাইফি জানান, কয়েক দিন আগে ইরানের সঙ্গে ফোনালাপে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল তানি তেহরানকে এই বিষয়গুলোই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। সে সময় তিনি ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে আল-খুলাইফি বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলো ইরানে শত্রু নয়। কিন্তু ইরান এই বিষয়টি বুঝতে পারছে না।’
তিনি আরও জানান, কাতার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে সহযোগী কূটনীতিকদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের পথ সব সময় খোলা রয়েছে। আমরা সবসময় শান্তির পথকে উৎসাহিত করি এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাত সমাধানের পক্ষে থাকি।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি যে এই যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত দেশগুলো একটি সমাধানের পথ খুঁজে পাবে, সামরিক অভিযান বন্ধ করবে এবং তারা আবার আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে।’
১৪৫ দিন আগে
সুইজারল্যান্ডে বাসে আগুন লেগে নিহত ৬
পশ্চিম সুইজারল্যান্ডে একটি বাসে আগুন লেগে কমপক্ষে ৬ জন নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে দেশটির রাজধানী বার্ন থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ফ্রিবুর্গ কান্টনের কেরজেরসের কেন্দ্রস্থলে (যা ফরাসি ভাষায় শিয়েট্রেস নামে পরিচিত) এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় ৩ জনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন উদ্ধারকর্মীও রয়েছেন।
তবে ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলক কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক ব্যক্তি নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বাসটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সেই সঙ্গে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখছেন বলে জানাচ্ছেন একজন স্থানীয় বাসিন্দা।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার শিকার বাসটি মূলত কেরজেরস থেকে ১৭ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ডুডিঙ্গেন পৌরসভা থেকে আসছিল।
একটি এক্স পোস্টে সুইস প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন বলেছেন, ‘এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আমি সত্যিই হতবাক এবং ব্যাথিত।’
এর আগেও বছরের শুরুর দিকে সুইজারল্যান্ডের একটি স্কি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৪১ জন নিহত হয়েছিল।
১৪৫ দিন আগে
লেবাননে বিতর্কিত সাদা ফসফরাস ব্যবহার করে ইসরায়েলের হামলার অভিযোগ
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে বিতর্কিত অগ্নিসংযোগকারী রাসায়নিক ‘সাদা ফসফরাস’ ব্যবহার করে অবৈধভাবে গোলাবর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইট ওয়াচ।
সোমবার (৯ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ অভিযোগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
লেবাননের সাতটি ছবির ভৌগলিক অবস্থান যাচাইয়ের মাধ্যমে হিউম্যান রাইট ওয়াচ জানিয়েছে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর গ্রামে কামানের মাধ্যমে সাদা ফসফরাস নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরপরই ঘটনাটি ঘটায়।
মানবাধিকার সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ঘটনার সময় এলাকায় কোনো বাসিন্দা ছিলেন কি না বা কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা তারা ভালোভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে এর আগে তারা বলেছিল, সাদা ফসফরাস তারা ধোঁয়ার আড়াল তৈরির জন্য ব্যবহার করেছে; সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যে নয়।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাস ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। এই রাসায়নিক পদার্থটি অত্যন্ত উত্তপ্ত অবস্থায় নিক্ষেপ করা হলে ভবনে আগুন লাগাতে পারে এবং মানুষের শরীর দগ্ধ হয়ে হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। এমনকি পোড়া ক্ষত সামান্য থাকলেও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা সংক্রমণ, বিকলাঙ্গ হওয়া বা শ্বাসযন্ত্রের জটিলতার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
হিউম্যান রাইট ওয়াচের লেবানন-বিষয়ক গবেষক রামজি কাইস বলেন, ‘আবাসিক এলাকার ওপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অবৈধভাবে সাদা ফসফরাস ব্যবহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।’
হিউম্যান রাইট ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর মতো সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এক বছরেরও বেশি আগে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে শেষ যুদ্ধে দক্ষিণ লেবাননে অনেক সাধারণ মানুষ উপস্থিত থাকা অবস্থায়ও একাধিকবার এই ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছিল।
১৪৭ দিন আগে
দুর্নীতি মামলায় কাঠগড়ায় ইস্তাম্বুলের মেয়র, হতে পারে ২০০০ বছরের জেল
তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলু ও তার ৪০২ জন সহযোগী বড় ধরনের দুর্নীতি মামলার বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিরোধী এই নেতার বিরুদ্ধে ১৪২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে বিরোদী দলকে দমনের রাজনৈতিক চেষ্টা বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
স্থানীয় সময় সোমবার (৯ মার্চ) দেশটির আদালতে এই বিচারকার্য অনুষ্ঠিত হয়।
ইমামোগলু প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ২৩ বছরের শাসনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। গত বছরের মার্চে তাকে আটক করার পরও কারাগারে থাকা অবস্থাতেই ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের জন্য প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) তাকে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।
দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত ৪০২ জন আসামির অধিকাংশই ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির কর্মী। ২০১৯ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইমামোগলু। এই আসামিদের মধ্যে অনেকেই সিএইচপির কর্মকর্তা। এছাড়া তাদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন।
গত বছরের ১৯ মার্চ ইমামোগলুকে গ্রেপ্তার করার পর তুরস্কে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে সড়ক বিক্ষোভ শুরু হয়। গত দশ বছরের মধ্যে এটিই ছিল দেশটিতে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ আন্দোলন।
ইমামোগলুর বিরুদ্ধে মোট ১৪২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি হলো ২০১৫ সাল থেকে ‘ইমামোগলু ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন ফর প্রফিট’ নামে একটি সংগঠন গঠন করার অভিযোগ। ওই সময় তিনি ইস্তাম্বুলের বেইলিকদুজু জেলার মেয়র ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের করা ৩ হাজার ৯০০ পৃষ্ঠার ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা শুধুমাত্র দরপত্র কারসাজি ও ঘুষের মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেননি। পাশাপাশি তারা সিএইচপির ভেতরে ইমামোগলুর রাজনৈতিক উত্থানকে অর্থায়ন করেছে, যা শেষ পর্যন্ত তাকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার পথে নিয়ে গিয়েছে।
যদি এসব অপরাধে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তার ২ হাজার বছরেরও বেশি কারাদণ্ড হতে পারে।
শুক্রবার একটি পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধে ইমামোগলু বলেন, সোমবারের এই বিচার তুরস্কের ইতিহাসে গণতন্ত্র রক্ষায় সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি। এটি জনগণের ইচ্ছাকে অবদমিত করার একটি প্রচেষ্টা।’
ইমামোগলুর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ইমামোগলু ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন ফর প্রফিট’ নামের ওই সংগঠনের মামলা। এসব মামলায় তিনি কারাদণ্ডের পাশাপাশি রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধও হতে পারেন। অন্যান্য অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসবাদ, গুপ্তচরবৃত্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ে তার জাল ডিপ্লোমা ডিগ্রি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অপমান করার অভিযোগ।
তবে সরকারের সমালোচকদের মতে, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে বিচারিক অভিযান চালাচ্ছে সরকার। এতে সিএইচপির নির্বাচিত প্রার্থীরা, বিশেষ করে অন্যান্য বড় শহরের মেয়ররা সন্ত্রাসবাদ ও দুর্নীতির অভিযোগের মুখে পড়েছেন।
২০২৩ সালে কংগ্রেসে নিয়মভঙ্গের অভিযোগে সিএইচপির শীর্ষ নেতৃত্বও আইনি চাপের মধ্যে রয়েছে।
ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির বিরুদ্ধে হওয়া এই মামলার পরিসর এবং এর দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ নতুন একটি আদালত ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালত ভবনটি ইস্তাম্বুলের পশ্চিমে সিলিভ্রি কারাগার কমপ্লেক্সে নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে ইমামোগলুসহ অনেক আসামি বন্দি রয়েছেন।
নতুন আদালত ভবনটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মামলায় সংশ্লিষ্টদের কারাগারে বিদ্যমান একটি আদালতকক্ষে গাদাগাদি করে শুনানিতে অংশ নিতে হবে।
সিএইচপি সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এটি তুলে ধরতে ইমামোগলুর সমর্থক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইস্তাম্বুলের চিফ প্রসিকিউটরের ভূমিকা।
ইমামোগলুর সমর্থকদের মতে, আকিন গুরলেক ২০২৪ সালের শেষ দিকে ইস্তাম্বুলের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান। তার আগে তিনি উপবিচারমন্ত্রী ছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি সিএইচপি নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু করেন। পরে গত মাসে তিনি আবার সরকারে ফিরে গিয়ে বিচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
সমালোচকরা আরও বলছেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে গোপন সাক্ষী ব্যবহার করা হচ্ছে, যাদের পরিচয় প্রতিরক্ষা আইনজীবীদের কাছেও গোপন রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আসামিদের দিয়ে সহ-আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ানো হচ্ছে, যা ন্যায়বিচারের অধিকার লঙ্ঘন করে বলে দাবি করছেন তারা।
তবে দেশটির সরকার বলছে, তুরস্কের বিচার বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক বেঞ্জামিন ওয়ার্ড বলেন, ‘গত এক বছরে সিএইচপির বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোকে আমরা ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে দেখছি।’
তিনি বলেন, ‘এই মামলাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সরকার ইমামোগলুকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছেন। এজন্য রাষ্ট্রপক্ষ তার দলের দুর্নাম করার চেষ্টা করছে। এর ফলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
১৪৭ দিন আগে