বিশ্ব
মার্কিন উপদেষ্টাকে গাজার ক্ষুধার্ত শিশুদের ছবি দেখালেন তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট
সম্প্রতি তিউনিসিয়া সফরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরব, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা বিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা মাসাদ বুলোস। এ সময় তাকে গাজা উপত্যকার ক্ষুধার্ত শিশুদের ছবি দেখিয়েছেন তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদ। এর মাধ্যমে গাজা উপত্যকার ভয়াবহ পরিস্থিতিকে তিনি গোটা মানবজাতিকে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ জুলাই) লিবিয়ায় তার প্রথম সরকারি সফর শুরু করেন মাসাদ। ওই উদ্দেশ্যে বর্তমানে তিউনিসিয়ায় অবস্থান করছেন তিনি। সেখানে দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ওই ছবি দেখানো হয়। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তিউনিসিয়ান সংবাদমাধ্যম কার্থেজের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, দেশটির রাজধানী তিউনিসের কার্থেজ প্রাসাদে উপদেষ্টা মাসাদকে ওই ছবি দেখান প্রেসিডেন্ট সাইদ। এ নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করে ওই সংবাদমাধ্যমটি।
ভিডিওতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের উপদেষ্টা বুলোসকে প্রেসিডেন্ট বলছেন, ‘এখন আমি আপনার সঙ্গে এবং আপনার উদ্দেশে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলব, যা আমাদের এবং সমগ্র বিশ্বকে উদ্বেগে ফেলেছে।’
অধিকৃত ফিলিস্তিনে একটি শিশু ধুলোবালি খাচ্ছে আর কাঁদছে—এমন একটি ছবি দেখিয়ে সাইদ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আপনি এই ছবিগুলোর বিষয়ে ভালো করেই জানেন। অনেকগুলো ছবির মধ্যে এটি একটি। একবিংশ শতাব্দীতে এসে সে বালি খায়, কারণ সে আর কিছুই খেতে পায়নি।’
এরপর হাড্ডিসার আরেকটি শিশুর ছবি দেখিয়ে সাইদ বলেন, ‘এই শিশুটি প্রায় মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে, কারণ সে কিছু খেতে পায়নি।’
সাইদ ট্রাম্পের উপদেষ্টাকে আরও বেশ কয়েকটি ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘এটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এটা সমগ্র মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।’
এ সময় মার্কিন উপদেষ্টাকে নীরবে মাথা নেড়ে এসব শুনতে দেখা যায়। এদিকে, বুধবার শতাধিক মানবাধিকার সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, গাজা উপত্যকায় একটি ‘গণ দুর্ভিক্ষ’ ছড়িয়ে পড়ছে। কারণ চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরুর দিকে গাজায় সব ধরনের মানবিক সহায়তা বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল।
এরপর মে মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনের আওতায় (জিএইচএফ) ত্রাণ দেওয়া শুরু হয়। যা ২০ লাখ গাজাবাসীর জন্য খুবই অপ্রতুল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মার্চে মানবিক সহায়তা বন্ধের পর থেকে শতাধিক ফিলিস্তিনি ক্ষুধায় প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ৮০ জনই শিশু। এর মধ্যে গত সোমবার অপুষ্টিতে ভুগে ১৫টি শিশু মারা গেছে।
তাছাড়া, জিএইচএফ-এর পরিচালিত ত্রাণকেন্দ্র থেকে খাবার আনতে গিয়ে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য মিডল ইস্ট আই।
আরও পড়ুন: ‘গাজায় বোমার চেয়ে বিধ্বংসী হয়ে উঠেছে ক্ষুধা’
২৮৫ দিন আগে
রাশিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত: ৪৯ ক্রু-যাত্রীর সবার নিহতের শঙ্কা
রাশিয়ায় ক্রু ও যাত্রীসহ ৪৯ আরোহীকে নিয়ে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে বিমানে থাকা সকল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্থানীয় জরুরি পরিষেবা বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) জানিয়েছে দেশটির সুদূর প্রাচ্যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার জরুরি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমানটি যে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য উড্ডয়ন করেছিল, তার দক্ষিণে একটি পাহাড়ের কাছে বিমানটির একটি জ্বলন্ত অংশ খুঁজে পেয়েছে তারা।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত দুর্ঘটনার একটি ছবিতে দেখা যায়, বনের মধ্যে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে।
জরুরি পরিষেবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে রাশিয়ার ইন্টারফ্যাক্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, স্থানটিতে প্রাথমিক বিমান পরিদর্শনে দেখা গেছে যে কেউ বেঁচে নেই। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ওই এলাকায় আবহাওয়া খারাপ ছিল।
দূরপ্রাচ্যের পরিবহন প্রসিকিউটরের অফিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলটি টিন্ডা থেকে ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত।
একটি অনলাইন বিবৃতিতে অফিসটি জানিয়েছে, বিমানটি অবতরণের চেষ্টা করার সময় দ্বিতীয়বারের মতো চেষ্টা করেছিল। এসময় বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এর আগে রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের আমুর এলাকা থেকে একটি যাত্রীবাহী বিমান নিখোঁজ হয়। বিমানটিতে ছয়জন ক্রুসহ ৪৯ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। আঞ্চলিক গভর্নরের বরাতে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এমন খবর দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ক্রুসহ ৪৯ যাত্রী নিয়ে রুশ বিমান নিখোঁজ
স্থানীয় জরুরি সেবা বিষয়কমন্ত্রী বলেন, সাইবেরিয়াভিত্তিক আনগারা নামের একটি এয়ারলাইন বিমানটি পরিচালন করতো। এটির নাম এএন-২৪। কিন্তু আমুরের তিয়ান্দা শহরের আসার সময় এটি রাডারের পর্দা থেকে হারিয়ে যায়।
চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চল আমুরের গভর্নর ভাসিলি অর্লভ বলেন, বিমানটিতে ৪৩ যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে পাঁচটি শিশুও রয়েছে। এছাড়াও ছয় ক্রু সদস্য ছিলেন আকাশযানটিতে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বিমানটির খোঁজে প্রয়োজনীয় সব বাহিনী নিয়োগ করাসহ যন্ত্রপাতিও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়।
জরুরি সেবা বিভাগের বরাতে রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, খাবারোভস্ক-ব্লাগোভেশচেনস্ক-তিয়ান্দা রুটে একটি এএন-২৪ যাত্রীবাহিনী বিমান উড়ছিল।
কিন্তু চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই নিরাপত্তা তল্লাশি অতিক্রম করতে এটি ব্যর্থ হয়।
২৮৫ দিন আগে
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ব্রিটেনের প্রতি লন্ডনের মেয়রের আহ্বান
ফিলিস্তিনকে অবিলম্বে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ব্রিটেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। যা ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকটের মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।
বুধবার (২৩ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সাদিক খান গাজা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ‘গাজায় বর্তমানে ক্ষুধার্ত শিশুরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খাবার খুঁজছে। এদিকে, খাবারের সন্ধানে বের হওয়া মানুষদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করছে ইসরায়েলি সেনারা।’
পোস্টে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়—যার মধ্যে আমাদের সরকারও রয়েছে—ইসরায়েলি সরকারকে এই নৃশংস ও অযৌক্তিক হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে এবং জরুরি মানবিক সহায়তা ঢুকতে দেওয়ার বিষয়ে আরও কঠোর চাপ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এমন ন্যাক্কারজনক হত্যাযজ্ঞ কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত করার সুযোগ নেই।’
লন্ডনের মেয়র বলেন, ‘যুক্তরাজ্যকে অবিলম্বে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে হবে। যদি ফিলিস্তিন নামে কোনও রাষ্ট্রই না থাকে, তাহলে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের কোনো ভিত্তি নেই।’
পড়ুন: ‘গাজায় বোমার চেয়ে বিধ্বংসী হয়ে উঠেছে ক্ষুধা’
সাদিক খানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের নেতৃত্বে নিজ দল লেবার পার্টির ভেতর থেকেই চাপ বাড়ছে। দলটির একাধিক সিনিয়র মন্ত্রী ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াতে এবং বেসামরিক প্রাণহানি ঠেকাতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও একই সুরে বলেন, ‘আমাদের ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। ইসরায়েল যে আত্মরক্ষার কথা বলে, সে বৈধ আত্মরক্ষার সীমা বহু আগেই ছাড়িয়ে গেছে।’
এদিকে, ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস, সেভ দ্য চিলড্রেন, অক্সফামসহ ১১১টি মানবিক সংস্থা এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ক্ষুধাস্ত্র’ ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।’
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, ‘ক্ষুধার্ত বেসামরিক মানুষদের গুলি করে হত্যা করার দৃশ্য দেখে আমি হতভম্ব, বেদনায় ভারাক্রান্ত।’ সম্প্রতি তিনি জানান, যুক্তরাজ্য দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিশ্চিত করতে ভূমিকা পালন করবে।
২৮৫ দিন আগে
ক্রুসহ ৪৯ যাত্রী নিয়ে রুশ বিমান নিখোঁজ
রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের আমুর এলাকা থেকে একটি যাত্রীবাহী বিমান নিখোঁজ হয়েছে। বিমানটিতে ছয়জন ক্রুসহ ৪৯ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। আঞ্চলিক গভর্নরের বরাতে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এমন খবর দিয়েছে।
স্থানীয় জরুরি সেবা বিষয়কমন্ত্রী বলেন, সাইবেরিয়াভিত্তিক আনগারা নামের একটি এয়ারলাইন বিমানটি পরিচালন করতো। এটির নাম এএন-২৪। কিন্তু আমুরের তিয়ান্দা শহরের আসার সময় এটি রাডারের পর্দা থেকে হারিয়ে যায়।
চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চল আমুরের গভর্নর ভাসিলি অর্লভ বলেন, বিমানটিতে ৪৩ যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে পাঁচটি শিশুও রয়েছে। এছাড়াও ছয় ক্রু সদস্য ছিলেন আকাশযানটিতে।
পড়ুন: ‘গাজায় বোমার চেয়ে বিধ্বংসী হয়ে উঠেছে ক্ষুধা’
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বিমানটির খোঁজে প্রয়োজনীয় সব বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। যন্ত্রপাতিও প্রস্তুত রয়েছে।
জরুরি সেবা বিভাগের বরাতে রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, খাবারোভস্ক-ব্লাগোভেশচেনস্ক-তিয়ান্দা রুটে একটি এএন-২৪ যাত্রীবাহিনী বিমান উড়ছিল।
কিন্তু চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই নিরাপত্তা তল্লাশি অতিক্রম করতে এটি ব্যর্থ হয়েছে। বিমানটির সঙ্গে এখন কোনো যোগাযোগ নেই।
২৮৫ দিন আগে
বনে আগুন লাগানোর অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ায় গ্রেপ্তার ৪৪
ইন্দোনেশিয়ায় বনে আগুন লাগানোর অভিযোগে ৪৪ জনকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা থেকে দেশের নাগরিকদের বিরত রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন ও জলাভূমিতে আগুনের ধোঁয়ায় ইন্দোনেশিয়ার ছাড়াও সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া ও দক্ষিণ থাইল্যান্ডের কিছু অংশে আচ্ছন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে বুধবার (২৪ জুলাই) ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো এক বিবৃতিতে জানান, ‘শুধু খরা নয়, বনে আগুন লাগার জন্য মানুষও দায়ী। আশা করছি, এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ভবিষ্যতে আগুন লাগানো থেকে মানুষকে বিরত রাখবে।’
তিনি বলেন, ‘চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করতে অনেক ক্ষেত্রেই কৃষক বা জমির মালিকরা অবৈধভাবে বনে আগুন লাগিয়ে দেন।’
মানবসৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড বন্ধে সরকারি অভিযানে অংশগ্রহণ এবং জমি পরিষ্কারের সময় কেউ আগুন লাগালে কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পড়ুন: ‘ফিলিস্তিনপন্থি’ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
এর আগে, মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ইন্দোনেশিয়ার রিও প্রদেশের রাজধানী পিকানবারোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসামিদের হাতকড়া পরানো অবস্থায় উপস্থাপন করা হয়। তাদের মধ্যে একজন নারীও ছিলেন।
গ্রেপ্তাররা ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশ সুরক্ষা আইনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
সম্প্রতি, রিও প্রদেশের রোকান হিলির ও রোকান হুলু জেলা প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়ায় দৃষ্টিসীমা এক কিলোমিটারেরও নিচে নেমে যায়। এই দুই জেলার অনেক এলাকা এখনও ঘন ধোঁয়ার চাদরে ঢাকা রয়েছে।
সরকার এর মধ্যে সেখানে কৃত্রিম বৃষ্টি সৃষ্টির জন্য ক্লাউড সিডিং শুরু করেছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম ২৫ জুলাই পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
২০১৯ সালেও বনে অগ্নিসংযোগে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ।
প্রতি বছরই শুকনো মৌসুমে সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে এমন অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে থাকে। এর ফলে, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার কিছু অংশেও ঘন ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। ধোঁয়ার জন্য প্রায়ই প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাইতে হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রটিকে।
২৮৫ দিন আগে
‘গাজায় বোমার চেয়ে বিধ্বংসী হয়ে উঠেছে ক্ষুধা’
ইসরায়েলি আগ্রাসনে ক্ষুধার রাজ্যে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকায় খাবার না পেয়ে আরও অন্তত ১০ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে মধ্য গাজা থেকে সাংবাদিক তারেক আবু আজ্জুম বলেছেন, ‘এখানে ক্ষুধা বোমার চেয়ে বিধ্বংসী হয়ে দাড়িঁয়েছে। বাসিন্দারা এখন পর্যাপ্ত খাবারের আশা করেন না। তারা যেকোনো খাদ্যবস্তুর জন্যই আশায় বুক বাঁধছেন।’
কাতারভিত্তিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এই প্রতিবেদক বলেন, ‘ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সৃষ্ট দুর্ভিক্ষের ফলে এখানকার মানুষ ধীরে ধীরে যন্ত্রণাদায়ক পাশবিক মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ছে।’
২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১১১ জন ফিলিস্তিনি খাদ্য সংকটে মারা গেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে বলে জানিয়েছেন গাজার স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
বুধবার (২৩ জুলাই) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ ত্রাণপ্রত্যাশীসহ অন্তত ১০০ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য মতে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২১টি শিশু অপুষ্টিতে ভুগে মারা গেছে। মার্চ থেকে মে পর্যন্ত প্রায় ৮০ দিন তারা ত্রাণ সরবরাহ করতে পারেনি। এর ফলেই অপুষ্টিতে মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে। সংস্থাটি জানায়, গাজায় খাদ্য সরবরাহ পুনরায় চালু হলেও তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়।
মার্সি কর্পস, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল, রিফিউজি ইন্টারন্যাশনালসহ ১১১টি মানবিক সংস্থা এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ক্ষুধাস্ত্র’ ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে বলা হয়, উপত্যকায় ‘গণঅনাহার’ ছড়িয়ে পড়ছে। অথচ হাজার হাজার টন খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী গাজা সীমান্তের কাছেই ফেলে রাখা হয়েছে। সেখানে সাহায্য সংস্থাগুলোর কার্যক্রমকেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।
পড়ুন: ‘ফিলিস্তিনপন্থি’ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
গত মার্চে ইসরায়েল গাজায় ত্রাণ সহায়তা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত ২৬ মে থেকে ইসরায়েলের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচটি) নামে নতুন ত্রাণ বিতরণ কাঠামো চালু হয়েছে।
গাজায় চলমান চরম মানবিক সংকটের মধ্যে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েল গাজায় খাদ্য সরবরাহ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, যেখানে সীমান্তে ত্রাণবাহী ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকলেও তা বিতরণের সুযোগ নেই।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির পরিচালক রস স্মিথ বলেন, ‘মে মাস থেকে ত্রাণ সাহায্য বিতরণকেন্দ্রে গুলিতে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ডব্লিউএইচওর ফিলিস্তিন প্রতিনিধি রিক পিপারকর্ন বলেন, ‘ত্রাণ নিতে আসা ব্যক্তিদের ওপর বারবার হামলার ফলে গাজায় অবশিষ্ট কয়েকটি হাসপাতাল ‘বৃহৎ ট্রমা ওয়ার্ডে’ পরিণত হয়েছে।
তিনি জানান, খাদ্যাভাব এতটাই প্রকট যে শিক্ষক, সাংবাদিক, এমনকি স্বাস্থ্যকর্মীরাও স্বাভাবিক কাজ করতে পারছেন না।
গাজার আল-শিফা হাসপাতালের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী চিকিৎসক নূর শরাফ বলেন, ‘মানুষ কয়েকদিন ধরে কিছু খেতে পায়নি। অনেক সময় ডাক্তাররাও না খেয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।’
এদিকে গাজা সিটিসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র হামলা অব্যাহত। সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি সাংবাদিক— ফটোজার্নালিস্ট তামের আল-জা’আনিন ও সম্পাদক ওয়ালা আল-জাবারিকে হত্যা করা হয়েছে।
এর ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা বেড়ে ২৩১-এ দাঁড়িয়েছে।
এর মধ্যে আল-জা’আনিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফটোজার্নালিস্ট হিসেবে কাজ করতেন এবং ওয়ালা আল-জাবারি বিভিন্ন সংবাদপত্রে সম্পাদকীয়র দায়িত্বে ছিলেন।
পড়ুন: খাবার নিতে গিয়ে নিহত আরও ৯৩ ফিলিস্তিনি, ‘বর্বরতা’ বন্ধের আহ্বান পোপের
এমন পরিস্থিতিতে, গাজা যুদ্ধবিরতি ও বন্দিমুক্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে ইউরোপের পথে রওনা হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তিনি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ও বন্দিমুক্তি আলোচনার বিষয়ে আলোচনা করবেন।
কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি ও অন্তত ৫০ বন্দির মুক্তি নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দিচ্ছে। তবে মার্চে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভেঙে দেওয়ার পর থেকে এ নিয়ে কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।
২৮৫ দিন আগে
‘ফিলিস্তিনপন্থি’ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
গত বসন্তে গাজা যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার, প্রবেশন ও ডিগ্রি বাতিলসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ জুলাই) এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা আটটি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গঠিত গ্রুপ ‘আইভি লীগের’ একটি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পরই গাজা যুদ্ধ নিয়ে ক্যাম্পাসে হওয়া আন্দোলন প্রতিহত করতে না পারার অজুহাতে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৪০০ বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল তহবিল স্থগিত করে প্রশাসন।
সম্প্রতি এই তহবিল ফেরাতে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে কলাম্বিয়া প্রশাসন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শৃঙ্খলাবিষয়ক প্রক্রিয়া পুনর্গঠন ও ইহুদিবিদ্বেষের নতুন সংজ্ঞা গ্রহণকরাসহ প্রশাসনের বেশ কয়েকটি দাবিতে সম্মতি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, ‘একটি সমৃদ্ধ অ্যাকাডেমিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পরস্পরের প্রতি এবং প্রতিষ্ঠানের মৌলিক কাজ, নীতিমালা ও নিয়মকানুনের প্রতি সম্মান থাকা আবশ্যক। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানো বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও নিয়মের লঙ্ঘন, এবং এমন লঙ্ঘনের জন্য অবশ্যই পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিচারিক বোর্ডের মাধ্যমে আরোপিত শাস্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রবেশন, ডিগ্রি বাতিলসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনি অ্যাক্টিভিস্ট আটক: যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন
তবে যেসব শিক্ষার্থীদের এই শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এর আগে মে মাসে তারা জানিয়েছিল, অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১৮০ জন কর্মী ছাঁটাই করবে এই বিশ্ববিদ্যালয়। একইসঙ্গে গবেষণার পরিসরও সীমিত করবে।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের একটি অধিকার-সংগঠন থেকে জানানো হয়েছে, আন্দোলনে অংশ নেওয়ার দায়ে প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থীকে ১-৩ বছরের জন্য বহিষ্কার বা তাদের স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আগের যেকোনো আন্দোলনের শাস্তির নজিরকে ছাড়িয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসতে হলে তাদের ক্ষমা চাইতে হবে, নাহলে তাদের স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের মুখে পড়তে হবে। তবে অনেকেই এটি করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন বলে মনে করছে তারা।
এর আগে, গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে সংঘঠিত বিক্ষোভে জড়িত থাকার কারণে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী মাহমুদ খলিলকে গ্রেপ্তার করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মকর্তারা। বিষয়টি নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়।
এরপর তাকে অবৈধভাবে বন্দি, বিদ্বেষপূর্ণভাবে মামলা ও ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মাহমুদ।
ট্রাম্প গত ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউসে ফিরেই অঙ্গীকার করেছিলেন, গত বছর কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনিপন্থি প্রতিবাদী আন্দোলনে জড়িত কিছু বিদেশি শিক্ষার্থীকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেবেন। এই আন্দোলনকে তিনি ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে অভিহিত করেন।
আরও পড়ুন: আমি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বন্দি: মাহমুদ খলিল
ট্রাম্পের মতে, গাজার ক্ষমতায় থাকা ‘সন্ত্রাসী সংগঠন হামাসকে’ সমর্থন করে ওই শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অধিকার হারিয়েছেন।
তবে ট্রাম্পের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনে জড়িত শিক্ষার্থীরা। তারা জানিয়েছেন, তারা কেবল যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। এমনকি তাদের সঙ্গে কিছু ইহুদি শিক্ষার্থী ও তাদের কয়েকটি সংগঠনও ছিল।
২৮৬ দিন আগে
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করতে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন মোদি
একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ জুলাই) থেকে এ সফর শুরু করবেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি হবে তার চতুর্থ যুক্তরাজ্য সফর।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারত সরকারের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সফরকালে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করবেন মোদি। এরপর রাজা চার্লসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্য বেরিয়ে যাওয়ার পর এটি হবে তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চুক্তি। অপরদিকে, এশিয়ার বাইরে ভারতের সঙ্গে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।
ভারতীয় অর্থনীতিবিদ সঞ্জয়া বারু মনে করেন, যুক্তরাজ্য ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে—তাই আরও গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এই চুক্তি-সংক্রান্ত আলোচনায় যুক্তরাজ্যে অস্থায়ীভাবে কাজ করতে যাওয়া ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ওয়ার্ক ভিসা, পেশাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি ও জাতীয় বীমা অবদানের ছাড়পত্রের মতো দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বিষয়ে ছাড় আদায় করতে সক্ষম হয়েছে ভারত।
তবে চুক্তি কার্যকর হতে হলে দুই দেশের পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরের মাঝামাঝি থেকে এটি কার্যকর হতে পারে।
চুক্তির আওতায় রত্ন, টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য, চামড়া, তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ ভারতের ৯৯ শতাংশ রপ্তানিপণ্যে যুক্তরাজ্যে শূন্য শুল্ক কার্যকর হবে। এর বিনিময়ে ভারত যুক্তরাজ্যের ৯০ শতাংশ রপ্তানিপণ্যে ধাপে ধাপে শুল্ক হ্রাস করবে।
স্কচ হুইস্কির ওপর শুল্ক ১৫০ শতাংশ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ৭৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে এবং ১০ বছরের মধ্যে তা আরও কমে ৪০ শতাংশে নেমে আসবে। এছাড়া শতভাগ শুল্কের আওতায় থাকা ব্রিটিশ গাড়ির ওপর শুল্ক কোটা অনুযায়ী ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, বিমানযন্ত্রাংশ এবং ইলেকট্রনিক্সে শুল্ক ছাড়।
আরও পড়ুন: মার্কিন পণ্যে পাল্টা ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ব্রাজিলের
তবে এই চুক্তির আওতায় ভারতের কৃষিখাত, আর্থিক ও আইনি পরিষেবা খাত অন্তর্ভুক্ত হয়নি। কারণ এসব বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনো অমীমাংসিত।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবিত কার্বন কর—যেটি ‘কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম’ নামে পরিচিত—তাও চুক্তির আওতা থেকে বাদ পড়েছে।
এ বিষয়ে দিল্লিভিত্তিক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের প্রধান অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, কার্বন কর এখনো আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে আছে। এটি ভারতের রপ্তানিকারকদের জন্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুবিধাগুলো পুরোপুরি নিঃশেষ করে দিতে পারে।
২৮৬ দিন আগে
খাবার নিতে গিয়ে নিহত আরও ৯৩ ফিলিস্তিনি, ‘বর্বরতা’ বন্ধের আহ্বান পোপের
গাজায় ত্রাণকেন্দ্রে খাবার নিতে গিয়ে ইসরায়েলি হামলায় আরও ৯৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি মধ্য গাজা থেকে নতুন করে ফিলিস্তিনিদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল, যেখানে বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। ইসরায়েলের এসব কার্যকলাপকে ‘বর্বরতা’ ও ‘নির্বিচারে ক্ষমতার প্রয়োগ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ।
স্থানীয় সময় রবিবার (২০ জুলাই) গাজার উত্তরের জিকিম সীমান্ত দিয়ে জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের সময় সেগুলোর জন্য অপেক্ষারত মানুষের ওপর ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
দ্য গার্ডিয়ানকে গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, গাজার দক্ষিণের রাফাহ শহরের কাছাকাছি একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের কাছে আরও ৯ জন গুলিতে নিহত হয়েছেন। একইভাবে খান ইউনিসে আরেকটি ত্রাণকেন্দ্রের কাছে আরও ৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন ইসরায়েলি হামলায়।
এদিকে, ত্রাণকেন্দ্রের কাছে চালানো হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হুমকি মনে করে উত্তর গাজায় জড়ো হওয়া মানুষের ওপর গুলি ছুড়েছে তারা। তবে নিহতের যে সংখ্যা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তা তাদের প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
গাজার আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া জানান, রবিবার সকাল থেকে তারা ৪৮টি লাশ ও ১৫০ জন আহত ফিলিস্তিনিকে এই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। জিকিম সীমান্ত থেকে এসব হতাহতদের আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মানবিক সহায়তা নিতে আসা মানুষের ওপর যেকোনো ধরনের হামলা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।
গাজায় বর্বরতা বন্ধের আহ্বান পোপের
ইসরায়েলের সর্বশেষ হামলার খবর প্রকাশের আগেই অবিলম্বে গাজা যুদ্ধের বর্বরতা বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ। রোমের ক্যাসেল গানদলফোতে অ্যাঞ্জেলাস প্রার্থনার শেষে তিনি এসব বলেন।
এ সময় গাজার একমাত্র ক্যাথলিক গির্জায় ইসরায়েলের চালানো হামলা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
পোপ বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই হামলা গাজার বেসামরিক জনগণ ও তাদের প্রার্থনাস্থলের ওপর চালানো হামলার একটি নতুন সংযোজন মাত্র।’
এ সময় মানবাধিকার আইন মেনে চলার পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা, সামগ্রিকভাবে শাস্তি দেওয়া বন্ধ করা, নির্বিচারে বলপ্রয়োগ ও জোরপূর্বক জনগণকে উচ্ছেদ করার মতো কার্যকলাপ বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ইসরায়েলে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয়ের (ওসিএইচএ) প্রধান জোনাথন হুইটলের আবাসনের অনুমতিপত্র (রেসিডেন্সি পারমিট) বাতিল করেছে তেল আবিব। জোনাথন গাজার মানবিক পরিস্থিতি বারবার নিন্দা জানিয়েছিলেন।
জোনাথন কোনো প্রমাণ ছাড়াই গাজা যুদ্ধ নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার।
মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে দিশেহারা ফিলিস্তিনিরা
নতুন করে মধ্য গাজার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অসহায় মানুষগুলো। ওই এলাকায় বহু বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাছাড়া সেখানকার খুব কম স্থানই রয়েছে যেখানে স্থল অভিযান চালায়নি ইসরায়েল। এ ছাড়া, ওই এলাকাগুলোতে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলো ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করে থাকে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের তিনটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এরপরই সেখান থেকে পালাতে শুরু করেছেন বাসিন্দারা।
এক স্থানীয় বলেন, ‘তারা (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) লিফলেট ছুড়ে আমাদের সরে যেতে বলেছেন। কিন্তু আমরা জানি না কোথায় যাব, আমাদের জন্য কোনো আশ্রয় বা কিছুই নেই।’
এই নির্দেশ গাজা উপত্যকার মানুষগুলোর জীবন রক্ষায় যে সামান্য নাজুক কিছু অবলম্বন এখনো টিকে আছে, তার ওপর আরও একটি ভয়াবহ আঘাত বলে মন্তব্য করেছে ওসিএইচএ।
এদিকে, গাজায় খাদ্যসংকট ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ থাকার পরও তা গাজাবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে পারছে না বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনিদের জন্য কাজ করা সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ। ইসরায়েল ১০ লাখ শিশুসহ গাজার বেসামরিক মানুষদের ‘অনাহারে মারছে’ বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।
এসব অসহায় মানুষকে সহায়তা করতে অবরোধ তুলে নিয়ে ইউএনআরডব্লিউএ-কে গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গাজায় এই সংস্থাটির প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় ইসরায়েল। যদিও এই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ তারা দেখায়নি।এই সংস্থাটিই ছিল গাজায় প্রধান ত্রাণ বিতরণকারী এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ মৌলিক সেবার অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। ইসরায়েলের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে সংস্থাটি।
তবে ইউএনআরডব্লিউএ’র ওপর থেকে এখনো নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়নি ইসরায়েল। পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় চালু করেছে গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)।
মে থেকে চালু হওয়া এই জিএইচএফ-এর ত্রাণকেন্দ্র থেকে খাবার নিতে গিয়ে এরই মধ্যে আট শতাধিক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
২৮৮ দিন আগে
মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় এবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। নিউইয়র্ক সফর শেষে আগামী ২৫ জুলাই ওয়াশিংটনে রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
পাকিস্তানের সংবাদমাদ্যম দ্য ডন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে নজিরবিহীন লাঞ্চের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে এই প্রথম মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠক হতে যাচ্ছে।
যেখানে ২০১৬ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তানের এই ধরনের শীর্ষপর্যায়ের সংযোগ বন্ধ ছিল, সেখানে এই বৈঠক কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২০ জুলাই) পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিউউয়র্ক পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের চলমান সভাপতিত্বের আওতায় পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রমে অংশ নেবেন। এরপর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন যাবেন ইসহাক দার।
নিউ ইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্বকালীন ‘বহুপাক্ষিকতা ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার’ ওপর একটি উন্মুক্ত উচ্চপর্যায়ের বিতর্ক সভার সভাপতিত্ব করবেন তিনি।
এ ছাড়া, নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও ফিলিস্তিন প্রশ্ন নিয়ে ত্রৈমাসিক উন্মুক্ত বিতর্ক সভারও সভাপতিত্ব করবেন ইসহাক দার।
তাছাড়া জাতিসংঘ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হবে, সেখানেও তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্রিফিংয়ের সভাপতিত্ব করবেন। এরপর ফিলিস্তিন প্রশ্নের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও দ্বিরাষ্ট্রীয় নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে অনুষ্ঠেয় উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনেও অংশ নেবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তবে তার এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার পর দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সংলাপ পুনরায় শুরু করার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই বৈঠক।
এর আগে, মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে ওয়াশিংটনে সাক্ষাৎ করেছিলেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব। বৈঠকে বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য ও শুল্ক চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে আলোচনা ‘খুবই গঠনমূলক’ ছিল এবং এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে বাণিজ্যের বাইরেও বিস্তৃত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী আওরঙ্গজেব।
তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান-মার্কিন সম্পর্ককে পরবর্তী স্তরে নিতে হলে বিনিয়োগই হবে মূল চাবিকাঠি। আমরা মনে করি খনিজসম্পদ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সম্ভব।’
আরও পড়ুন: সুইস রাষ্ট্রদূতের প্রাতরাশের বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
২৮৮ দিন আগে